জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত ৩৬ জনের মধ্যে মানসুরা আক্তার সর্বকনিষ্ঠ। ৩১ বছর ৭ মাস বয়সী এই ছাত্রদল নেত্রীর কোনো আয় নেই। মানসুরা স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তবে তিনি এখনো শিক্ষার্থী।

সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হিসেবে মানসুরা আক্তার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, সেখান তিনি এ তথ্য উল্লেখ করেছেন। তাঁর কোনো আয় না থাকলেও হলফনামায় থাকা সর্বশেষ আয়কর রিটার্নের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর তিন লাখ টাকার সম্পদ আছে।

হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মানসুরা আক্তারের অস্থাবর সম্পদ আছে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার। এর মধ্যে ২৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস পণ্য ও ৯৭ হাজার টাকার আসবাব আছে। এ ছাড়া মানসুরা ৬ শতাংশ অকৃষি জমির (স্থাবর সম্পদ) মালিক। তবে হলফনামায় এই জমির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।

মানসুরা আক্তার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ‘মানসুরা আলম’ নামে বেশি পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১২–১৩ শিক্ষাবর্ষের এই ছাত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্মুখসারিতে ছিলেন। একাধিকবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন মানসুরা। তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানেও সক্রিয় ছিলেন।

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রদলের প্রার্থী ছিলেন। একসময় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসের পরিচিতমুখ থেকে এবার সংসদে গিয়ে সারা দেশের মানুষের সামনে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন মানসুরা আক্তার।

মানসুরা আক্তার

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উদ্ভাবক, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের প্রতিভার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সরকার একটি আধুনিক, সহজ ও কার্যকর সেবা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অনলাইন নিবন্ধন, দ্রুত সেবা প্রদান, আইনি সুরক্ষা জোরদার এবং নকল পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামীকাল উদযাপিত হতে যাওয়া ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ এ বছরও বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেশের দ্রুত অগ্রগতির জন্য। মেধাস্বত্ব দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘মেধাস্বত্ব ও ক্রীড়া : প্রস্তুত হও, শুরু করো, উদ্ভাবন করো’। এ প্রতিপাদ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী দেশের তরুণদের মেধাশক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ‘মেধাস্বত্ব সুরক্ষা’ যেকোনো নতুন ধারণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মপ্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করে। একইসঙ্গে ক্রীড়াপ্রযুক্তি, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, ক্রীড়াপণ্যের ব্র্যান্ডিং, সম্প্রচার শিল্প, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং উদ্যোক্তা বিকাশে এর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, এটা বেশ আনন্দের বিষয় যে, বাংলাদেশ আজ তারুণ্যের শক্তিতে ভরপুর। আমি মনে করি— তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প, গবেষণা, স্টার্টআপ এবং সৃজনশীল অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের এই সময়ে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে সচেতন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক বাজারে জামদানি, ইলিশসহ দেশীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পণ্যের মর্যাদা সংরক্ষণ অবস্থান সুদৃঢ় করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবসের প্রতিপাদ্যে এবার যৌক্তিকভাবে ক্রীড়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া এখন শুধু বিনোদনের ক্ষেত্র নয়; এটি সম্ভাবনাময় পেশা, সামাজিক শক্তি এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক খাত।

তিনি বলেন, জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ভাতা ও স্পোর্টস কার্ড চালুর মাধ্যমে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশব্যাপী নতুন প্রতিভা অন্বেষণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াভিত্তিক শিল্প, ক্রীড়াপণ্য উৎপাদন, ব্র্যান্ডিং, স্পোর্টস মিডিয়া, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। 

তিনি বলেন, এ ধরনের অর্থনীতির কারণে দেশের সম্পদ অলিগার্কদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে কিছু লোকের হাতে বিপুল অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে, সেটিকে পুনরুজ্জীবিত করা যেকোনো সরকারের জন্যই কঠিন কাজ। 

তবে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দারিদ্র্যের হার ধীরে ধীরে কমছে। তবে অনেক ব্যবসায়ী এখনো কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধেও সমস্যায় পড়ছেন। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

আগামী বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধু ঘরে ঘরে বিএ, এমএ ডিগ্রি অর্জন করলেই হবে না, বাস্তবমুখী দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ জন্য ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার টাকা ছাপিয়ে ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে- এ ধারণা সঠিক নয়। ভুল তথ্যের কারণে দেশের ক্রেডিট রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া একটি নিয়মিত বিষয়। তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের ব্যাংক ঋণ ছিল ১৭ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা, যা ২২ এপ্রিল কমে ১১ হাজার ৭২২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

সভায় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইআরএফ-এর পক্ষ থেকে ২১ দফা বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি দৌলত আকতার মালা। 

এসময় সংগঠনের সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, অর্থসম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা প্রস্তাবনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

অর্থসচিব বলেন, পণ্য রপ্তানি না করে প্রণোদনা নেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। এক্রুয়াল ভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে, তবে এটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। পাশাপাশি জিডিপি-কর অনুপাত বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে জোর দেওয়া হয়েছে। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদের কাজ চলছে।

 

আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের বাসযাত্রীদের জন্য নতুন নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর রুটে পুনর্নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জ্বালানি তেল ডিজেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ এপ্রিল বাসভাড়া সমন্বয় করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তবে ওই দিন ভাড়ার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় দূরপাল্লার বাসে ভাড়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিআরটিএর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর রুটে পুনর্নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের পর দূরপাল্লার বাসভাড়ার নতুন তালিকায় দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের ভাড়া তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকা (সায়েদাবাদ)-চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৫২ টাকা। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯০০ টাকা ও ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সায়েদাবাদ-সিলেট রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৫৮০ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৭৪০ টাকা। সায়েদাবাদ-বরিশাল রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪৬৪ টাকা, আর ৪০ আসনের বাসে ৫৯২ টাকা। সায়েদাবাদ-খুলনা রুটে ৫১ আসনের বাসভাড়া ৫৪১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসভাড়া ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সবচেয়ে দীর্ঘ রুট সায়েদাবাদ-টেকনাফে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১ হাজার ৪৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গাবতলী রুট:

ঢাকা (গাবতলী)-পঞ্চগড় রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১ হাজার ৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ২৮১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-রংপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৫১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯১১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-দিনাজপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯৭৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ২৪১ টাকা।

ঢাকা (গাবতলী)-ঝিনাইদহ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৫০১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৬৩৯ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-রাজশাহী রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯৯১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-মেহেরপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৬ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯৮১ টাকা।

মহাখালী রুট:

ঢাকা (মহাখালী)-ময়মনসিংহ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ২৯৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৩৭৫ টাকা। ঢাকা (মহাখালী)-জামালপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৩৮৬ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৪৯২ টাকা।

ঢাকা (মহাখালী)-শেরপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪২১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৩৭ টাকা। ঢাকা (মহাখালী)-কিশোরগঞ্জ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪০১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাতে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা করা হয়।

এরপর ২৩ এপ্রিল ভাড়া সমন্বয় করে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা করা হয়। আন্তজেলায় ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকায় মিনিবাসে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ন্যূনতম ভাড়া বাসে ১০ টাকা ও মিনিবাসে ৮ টাকা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

 

প্রায় ১৫ ঘণ্টা উৎপাদনে থাকার পর আবার বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট।

বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

আগে বুধবার রাত ১০টা ৩ মিনিটে কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসায় বয়লারের পাইপ ফেটে যায় এবং কুলিং ফ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফেরে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার যান্ত্রিক ত্রুটিতে সেটি বন্ধ হয়ে গেল।

কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। বয়লারের বাষ্প ঠান্ডা হতে সময় লাগবে। সব মিলিয়ে মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগতে পারে।

ঘন ঘন লোডশেডিং

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আট জেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে বলে জানান একাধিক বাসিন্দা। মন্মথপুর ইউনিয়নের রাজাবাসর গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, দুই ঘণ্টার মধ্যে গড়ে এক ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। গত চার দিন ধরে এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। বর্তমানে শহরে দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া হচ্ছে, আর ভোল্টেজ ওঠানামা করছে অন্তত ১৫ বার।

এদিকে লোডশেডিংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাতে পড়তে বসলে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান একাধিক পরীক্ষার্থী। তাঁরা বাধ্য হয়ে মোমবাতি বা চার্জার লাইটের ওপর নির্ভর করছেন। তবে গরমের কারণে পড়ায় মন দিতে পারছেন না।

পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা এসএসসি পরীক্ষার্থী আরিফ রহমান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের যে হিসাব দিচ্ছে, বাস্তবতার সঙ্গে এর মিল নেই; এটি কেবল কাগুজে হিসাব। বাস্তবে লোডশেডিং আরও বেশি হচ্ছে।

সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন বলেন, দুপুরের পর থেকেই প্রতি এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এতে মিল-কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত এ ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৮৭ জন।

শনিবার(২৫ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আর ১৭ হাজার ৮১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২টি শিশু মারা গেছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ২০৯টি শিশু।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আবহাওয়া নিয়ে একটি পোস্ট দেখা যাচ্ছে। পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ‘উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে… ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, কোনো ব্যক্তি যেন বাইরে (খোলা আকাশের নিচে) না যান, কারণ আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।…নিচে দেওয়া হয়েছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিম্নলিখিত বিষয়ে সতর্ক করছে।’

পোস্টের শেষে লেখা রয়েছে অনুগ্রহ করে এই তথ্যটি শেয়ার করুন, কারণ অন্যরাও হয়তো এটি জানেন না এবং প্রথমবারের মতো পড়ছেন।

That's Vogue By Sabrin নামে একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, ১৯ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছে, মন্তব্য প্রায় এক হাজার এবং ৮ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে।

পেজটির ফলোয়ারের সংখ্যা এক লাখ ৮১ হাজার। পেজটি নারীদের পোশাক বিক্রি নিয়ে কনটেন্ট বানায়। আবহাওয়া–সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে পেজটির অ্যাডমিন সাবরিন সুলতানা বলেন, বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেল থেকে পাওয়া এই পোস্ট তিনি অন্যদের সতর্ক করতে শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, ফেসবুকে অনেকেই আবহাওয়া নিয়ে এই পোস্ট দিয়েছেন।

 

আবহাওয়াবিষয়ক পোস্টটি সত্য নয় বলে তাঁকে জানায় প্রথম আলোর ফ্যাক্ট চেক বিভাগ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক বছর ধরে কাজ করছেন, যদি তিনি ভুল তথ্য ফেসবুক পেজে পোস্ট করে থাকেন তাহলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে।

যে টিভি চ্যানেলটির কথা তিনি বলেছেন ফ্যাক্ট চেক করে দেখা গেছে চ্যানেলটি এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি।

Hater chowa-হাতের ছোঁয়া নামে আরেকটি পেজের ফলোয়ারের সংখ্যা তিন লাখ ৩১ হাজার। নারীদের পোশাক ও জীবনযাপন–বিষয়ক কনটেন্ট বানানো হয় এই পেজে। আবহাওয়া নিয়ে ভুয়া পোস্ট নিয়ে পেজটির অ্যাডমিন বশিরুল আলম তপন বলেন, শুধু তাঁরা নন বড় বড় পেজগুলো এটি পোস্ট করেছে। তিনি বলেন, ‘মডারেটর দিয়েছে তাই পোস্ট করা হয়েছে। পোস্ট যদি ভুয়া হয় তাহলে তাদের ভুল হয়েছে।’

 

আবহাওয়ার এই সতর্কবার্তার পোস্ট নিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অধিদপ্তর বলেছে, এটি পুরোপুরি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর। আসলে, ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’ নামে বাংলাদেশে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানই নেই। ফলে এই নামে প্রচারিত সতর্কবার্তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

 

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম এই বার্তাকে ‘সর্বৈব ভুয়া, মিথ্যা ও ক্ষতিকর’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কোনো রেকর্ড নেই এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে এমন তাপমাত্রা হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।’ এ ধরনের গুজব ছড়ানো জনমনে অযথা আতঙ্ক তৈরি করে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার বদলে কিছুটা কমতে পারে।

ভুয়া সতর্কবার্তাটিতে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হতে পারে, গাড়িতে বিভিন্ন জিনিস না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সাপ-বিছা বেরিয়ে আসার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব তথ্যের বেশির ভাগই অতিরঞ্জিত এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন।

মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা এসব বার্তা ছড়িয়েছে তাঁদের চিহ্নিত করা উচিত এবং দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এ ধরনের তথ্য ছড়ানো খুবই ক্ষতিকর। যে সময়ে ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রার কথা বলা হচ্ছে, সেই সময়ে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক জনগণকে এমন ভুয়া বার্তা শেয়ার না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদের (যিনি সামী, আবু বক্কর ও আবু মোহাম্মদ নামেও পরিচিত) সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কর্মকাণ্ড দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য বা স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ বা ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও তারা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র এবং মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • জুলাই শহীদ পরিবারের পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধারাও পাবেন সহায়তা।
  • নিম্ন আদালত থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা।
  • বাদী ও আসামি—উভয় অবস্থাতেই সহায়তা পাওয়ার সুযোগ।
  • দরিদ্র, নারী-শিশু, শ্রমিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী আগেই সুবিধার আওতায় ছিল।

ঢাকা

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিও এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এক অনুষ্ঠানে তাঁরা এনসিপিতে যোগ দেন। ‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

ফেরসামিন বিদেশে থাকায় অনুষ্ঠানে সশরীর উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যরা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন। নাম ঘোষণার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নাহিদ ইসলাম।

এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বেলা সোয়া তিনটার দিকে আইডিইবিতে এসে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এনসিপির নেতা-কর্মীরা তাঁদের স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসেন।

এর কিছুক্ষণ পর নেতা-কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন ইসহাক সরকার। এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘পুরান ঢাকার ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জুলাই যোদ্ধা ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘দুর্দিনের ইসহাক ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘এনসিপি-জনতা, গড়ে তোলো একতা’ ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন।

বেলা সাড়ে তিনটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। মঞ্চে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। প্রথমে বক্তব্য দেন এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার। বক্তব্য দেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী তারেক আহম্মেদ আদেল।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পর বক্তব্য দেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এনসিপিতে যোগদানকারীদের নাম ঘোষণা করে নাহিদ বলেন, ‘এনসিপিতে কেন্দ্রীয়ভাবে যোগ দিচ্ছেন ফেরসামিন হক ইকবাল। তিনি বিদেশে আছেন। তিনি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি। বরিশালের কৃতী সন্তান হিসেবে তিনি এনসিপিতে কাজ করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ নুরুজ্জামান কাফিকে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে এনসিপিতে স্বাগত। জুলাইয়ের সহযোদ্ধা মহিউদ্দিন রনিকেও স্বাগত জানাই। আমরা সবাই এনসিপিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।’

ইসহাক সরকারকে এ আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ইসহাক সরকারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ছাত্রদল, যুবদলে তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ছিল। তিনি আমাদের সহযোদ্ধা। তিনি আগে বিরোধী রাজনীতি করেছেন, এখনো বিরোধী রাজনীতিই করবেন।’

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘ইসহাক সরকার আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। ইসহাক সরকার সব সুযোগ-সুবিধাকে একদিকে ঠেলে দিয়ে জনগণ ও তরুণদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। ইসহাক সরকারের সঙ্গে তাঁর অসংখ্য অনুসারী এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাঁদেরও স্বাগত জানাই।’

এরপর ইসহাক সরকারসহ এনসিপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের একে একে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নাহিদ ইসলাম। পরে তিনি ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে আইডিইবি থেকে চলে যান। এরপর সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের নেতা মাকসুদুর রহমান সোহেলও এনসিপিতে যোগ দেন। এনসিপির অন্য নেতারা তাঁকেও ফুল দিয়ে বরণ করেন।

ইসহাক সরকারসহ সদ্য এনসিপিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরা এরপর তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, শীর্ষস্থানীয় নেতা সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এর আগে ১৯ এপ্রিল আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৪ জন নেতা এনসিপিতে যোগ দেন। অবশ্য ওই ৪৪ জনের অধিকাংশই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আপ বাংলাদেশের নেতা-কর্মী।

ছুটির দিনে ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেলের জন্য লম্বা লাইন আজ শুক্রবার অনেকটাই ছোট। গত কয়েক দিনের তুলনায় লাইনের দৈর্ঘ্য কমে এসেছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে রমনা ফিলিং স্টেশনে কথা হয় মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ারের চালক মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। তেল নেওয়া শেষে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত শনিবার ১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ৫০০ টাকার তেল পেয়েছিলাম। কিন্তু আজ মাত্র ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে ১ হাজার টাকার তেল পেলাম। আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে, লাইন এত কমে যাবে কল্পনাও করিনি।’

মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লাইন দেখে চালকেরা বলছেন এটি অবিশ্বাস্য। তাঁরা কল্পনাও করেনি এত দ্রুত তেলের এই লাইন কমতে পারে।

আজ রাজধানীর শাহবাগ ও মৎস্য ভবন মোড়ের ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। হঠাৎ লাইন কেন এত কমে গেছে বলে মনে করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে চালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দাম বাড়ানোর জন্য নাটক হইছে, আমার যত সম্ভব মনে হয়। দাম বাড়ার পর হঠাৎ এখন কেন কমে গেল লাইন? সরকার চাইলে আগে থেকে সবকিছু ঠিক করতে পারত।’

তেলের জন্য লাইন একবারে কম। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রমনা ফিলিং স্টেশনে
তেলের জন্য লাইন একবারে কম। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রমনা ফিলিং স্টেশনে
 

এই ফিলিং স্টেশনে ২০ মিনিটের ভেতরে তেল পেলেন বলে জানান প্রাইভেট কারের চালক ওমায়ের রহমান। তিনি জানান, অন্যান্য দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে গেছে তেল নিতে। আজকে এত অল্প সময়ে তেল নিতে পারবেন, তা ভাবেননি। দাম বাড়ার কারণে তেলের লাইন কমে গেছে বলে জানান এই চালক।

গত শুক্রবার এই রমনা ফিলিং স্টেশনে আজকের মতো একই সময়ে ৪২২টি মোটরসাইকেল ও ৩৫৮টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় দেখা গিয়েছিল। আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ৭২টি মোটরসাইকেল ও ২৫টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় দেখা গেছে।

পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনেও তেলের লাইন ছোট দেখা গেছে। গত শুক্রবার এই ফিলিং স্টেশনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৫১৮টি মোটরসাইকেল ও ৪৯৩টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গিয়েছিল। সেখানে আজ বেলা ১১টার দিকে মাত্র ১১২টি মোটরসাইকেল ও ৪২টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।

এই ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় মোটরসাইকেলচালক সাব্বির মিলনকে। তিনি জানান, গত শুক্রবার তেলের জন্য ৬ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করেছিলেন। আজ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ১০ মিনিট। তবে এখনো তেল পাননি। তাঁর সামনে ৬০ থেকে ৭০টি মোটরসাইকেল আছে। আশা করছেন এক ঘণ্টার ভেতরে তেল পেয়ে যাবেন।

লাইনের দৈর্ঘ্য অনেকটাই কমে গেছে। বেলা ১১টার দিকে পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশন থেকে তোলা
লাইনের দৈর্ঘ্য অনেকটাই কমে গেছে। বেলা ১১টার দিকে পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশন থেকে তোলা
 

ফুয়েল পাস ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়া ও তেলের দাম বাড়ার কারণে লাইন কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন এই মোটরসাইকেলচালক। তিনি বলেন, ‘ফুয়েল পাস ছাড়া তেল না দেওয়ার ফলে লাইন অনেকটা কমেছে। এ ছাড়া দাম বাড়ার কারণে আগের মতো অনেকে আর নিতে আসেন না। ফলে এই ভিড়টা কমে গেছে। আশা করি আরও কমে যাবে।’

প্রাইভেট কারের চালক মানিক মিয়া বলেন, ‘আজ লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। দেড় ঘণ্টার ভেতরে তেল পেলাম। আগে ১ হাজার ৫০০ টাকার তেল পেলেও আজকে ২ হাজার তেল পেয়েছি। সরকার আগে থেকে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিলে আমাদের এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না।’

সরকার সরবরাহ বাড়ালে তেলের জন্য লাইন আরও কমে যাবে মনে করেন মোটরসাইকেলচালক হাসিবুল আজম। তিনি জানান, এত দিন যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে ভোগান্তি হয়েছে। সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এ রকম ভোগান্তি সবাইকে পোহাতে হতো না।

বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের মধ্যে এবার দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা হয়েছে। গত রোববার থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এবং আন্তজেলা বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৭৭ শিশু।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ৪৭ শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয় ৭৯৫ জন শিশু। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭০২ শিশু। মৃত্যু হয়েছে ১৬ শিশুর। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৭৭ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৩৫টি শিশু।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এক-দুজন করে হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি হতে শুরু করে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড আছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা চলছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় আরও নতুন ৪৭ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে কোনো শিশু মারা যায়নি।