• Colors: Blue Color

লেবানন থেকে ছোড়া রকেটের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে উত্তর ইসরায়েলের দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ শনিবার এ হামলা হয়েছে।

ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১২’ জানিয়েছে, মেতুলা শহর লক্ষ্য করে প্রায় ১০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু রকেট আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি রকেটগুলো খোলা জায়গায় পড়েছে। হামলার সময় উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি অঞ্চল জুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইসরায়েলের ইয়েদিয়ত আহরোনোত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রকেটের টুকরো ও ধ্বংসাবশেষের আঘাতের ফলে মেতুলার একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে, লেবানন থেকে ছোড়া রকেটের আঘাতে সাফেদ শহরের আরেকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডের ঈদের জামাতে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেখানে তিনি সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানান। আজ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে রাজ্যের সবচেয়ে বড় জামাত হয়েছে রেড রোডে।

মমতা ঈদের শুভেচ্ছা বিলানোর পর রেড রোডে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনকে মাথায় রেখে মমতা আরও বলেন, ‘এই রাজ্যে সংশোধিত নিবিড় ভোটার তালিকা (এসআইআর) প্রণয়নের নামে আপনাদের নাম কাটা হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এর জন্য আপনাদের পক্ষে আমার লড়াই জারি থাকবে।’

মমতা কটাক্ষ করে আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদিজি হলেন ভারতের সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী।’ মমতা হুমকির সুরে বলেন, বাংলাকে যে টার্গেট করবে, সে জাহান্নামে যাবে। তাই মমতা এই রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার প্রতি আবেদন জানান। বলেন, ‘আমি ভারতীয়দের নিয়েই গর্বিত।’
প্রতিবছর কলকাতার ধর্মতলার রেড রোডে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আজ সকাল থেকে ছিল ঝিরঝিরে বৃষ্টি। তবে তাতে নামাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। এসেছেন দলে দলে মুসল্লি। দেখা গেছে মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার। একবারে শিশু থেকে প্রবীণেরা ছিলেন। সবাই কোলাকুলি করেছেন।

কলকাতার রেড রোডের ঈদের জামাতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা
কলকাতার রেড রোডের ঈদের জামাতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা, ছবি: ভাস্কর মুখার্জী

নামাজ শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেই সঙ্গে রাজ্য ও দেশের উন্নয়ন ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার আবেদন জানান। মমতা বলেন, ‘এসআইআরে অনেকের নাম কাটা গেছে। আমি তাই নিয়ে লড়াই করছি। আদালতে গিয়েছি। সবার জন্য আমার এই লড়াই জারি থাকবে।’ মমতা জোরের সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের অধিকার মোদিজিকে কেড়ে নিতে দেব না।’ মমতা কটাক্ষ করে এ কথাও বলেন, ‘উনি যখন সৌদি আরব বা দুবাই গিয়ে হাত মেলান, তখন মনে পড়ে না হিন্দু-মুসলমানের কথা? দেশে এলেই নাম কাটার কথা মনে পড়ে?’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেড রোডের ঈদের জামাতে গিয়ে বক্তব্য দেন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেড রোডের ঈদের জামাতে গিয়ে বক্তব্য দেনছবি: ভাস্কর মুখার্জী

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মানবতার জন্য আমাদের সবার একজোট হতে হবে। সাম্প্রদায়িক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে। এই বাংলায় শান্তির বাতাবরণ তৈরি করতে হবে।’

বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি— এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার জেরে সৃষ্ট অস্থিরতাকে তিনি এই নজিরবিহীন সংকটের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে সরকারগুলোকে আরও সরব হতে হবে। একই দিনে প্রকাশিত আইইএর এক প্রতিবেদনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি পর্যায়ে জ্বালানির চাহিদা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের গতিসীমা কমানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঘরে বসে কাজ (হোম অফিস) চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফাতিহ বিরোল বলেন, বর্তমান সংকটের ব্যাপ্তি রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর সৃষ্ট গ্যাস সংকট কিংবা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও অনেক বড়— যার প্রেক্ষাপটেই আইইএ গঠিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এই সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া। তবে জ্বালানি অবকাঠামোর যে ক্ষতি হয়েছে, তা আগের অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় (কয়েক মাস) লেগে যেতে পারে।

আইইএ প্রধানের মতে, এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটের সবচেয়ে বড় অভিঘাতের মুখে পড়তে পারে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

 

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়িনি নিহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার আইআরজিসির পক্ষ থেকে নায়িনি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, আজ ভোরে এ হামলা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি নায়িনি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করে।

এদিকে ইরানের মেহর নিউজের বরাতে একই খবর জানিয়ে ‘তুর্কি টুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত হওয়ার আগে এক বিবৃতিতে জেনারেল নায়িনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছিলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হামলা সত্ত্বেও তেহরান এখনো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সক্ষম।

যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করে নায়িনি বলেছিলেন, এ লড়াই চলবে। ইরানের জনগণের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে এই জেনারেল বলেন, ‘জনগণ চায়, শত্রু পুরোপুরি নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ চলুক।’ যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে যখন যুদ্ধের কালো ছায়া পুরোপুরি সরে যাবে, তখনই এ যুদ্ধের অবসান ঘটা উচিত।’

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইতিমধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় আরও রয়েছেন, আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি ও গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও মধ্যপ্রাচ্যে (ইরানে) মার্কিন সেনা মোতায়েন করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। যদি পাঠাতামও, তবে নিশ্চিতভাবেই আমি আপনাদের তা জানাতাম না। কিন্তু আমি সেনা পাঠাচ্ছি না।’

ইরানের অস্ত্র কর্মসূচি নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র কতদূর পর্যন্ত যাবে, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলার মধ্যে ট্রাম্পের এ মন্তব্য এল।

গত গ্রীষ্মে এক সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো পারমাণবিক সরঞ্জাম চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং সেগুলো জব্দ করার বিষয় আলোচনায় রয়েছে।

এ ধরনের কোনো অভিযান চালাতে হলে ইরানে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।

তথ্যসূত্র: টাইম

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব