• Colors: Blue Color

ওয়াশিংটন ও দুবাই

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা হবে। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিবৃতি দেওয়ার অল্প সময় আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ লেবাননে আবারও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ঘোষণা দেয়। লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানে হওয়া সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা দেশটির পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সহিংসতা অবসানের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।

দুই নেতা ২৩ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় আলোচনা নিয়েও কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘বৈঠকগুলোতে দুটি সার্বভৌম সরকার স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করবে।’

গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রথম দফার সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩ সালের পর ওই প্রথম দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বৈঠকে বসেন।

ওই বৈঠক এবং জুনে অনুষ্ঠিত পরবর্তী দফার আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন দুই দেশই সংঘর্ষে বিরতির ঘোষণা দিয়েছে। তবে এসব আলোচনায় হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে অর্থবহ কোনো অগ্রগতি অর্জন করার কাজটি কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত আছে। সর্বশেষ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে লেবাননের সরকার যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি রোডম্যাপের অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

লেবাননের সরকারও দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে জুন মাসে হওয়া একটি চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরে সরে যাওয়ার কথা বলা হলেও সেখানে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে, তাতে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তবে চলমান সংঘর্ষ সে সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরলভাবে ইসরায়েলের সমালোচনা করেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল স্থায়ী যুদ্ধের পরিবেশ বজায় রাখতে চায়।

আল–জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি–পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড সফর করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি চলছে।

আজ শুক্রবার এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘এ আলোচনার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে রওনা হচ্ছেন না।’

মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব কারিগরি আলোচনা শুরু করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’

উল্লেখ্য, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা ছিল আজ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে কোনো আভাস না দিয়ে এক দিন আগেই গত বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময়) স্মারকে সই করা হয়।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, এ আলোচনার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) রাতে রওনা হচ্ছেন না।

ফ্রান্স থেকে ভার্চ্যুয়ালি স্মারকে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তেহরান থেকে সই করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

পরে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ জানিয়ে দেন, শুক্রবার (আজ) জেনেভায় প্রাথমিক চুক্তি (সমঝোতা স্মারক) সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে না। তবে এদিন চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

এ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল পর্বতের শীর্ষে অবস্থিত একটি অবকাশকেন্দ্রে। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা থাকার কথা। আলোচনা চলার কথা ৬০ দিন। সেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও জব্দ করা অর্থ ছাড় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

লেবাননে যদি ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইরান চুক্তি থেকে সরে যেতে পারে। ইসরায়েলকে সামলে রাখার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই পড়ে।
—মোস্তাফা কোসচেশম, তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক

তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ২০১৫ সালে চুক্তি করতে প্রায় দুই বছর লেগেছিল। তাই এবারের আলোচনার ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকেরা। তাঁর ভাষ্য, ইরান যত দিন ‘ঠিকঠাক আচরণ’ করবে, এ সময়সীমা নিয়ে তিনি ভাববেন না।

বুধবার সই হওয়া এ স্মারককে ‘ঐতিহাসিক’ বলেছে ইরান। দেশটি ইতিবাচক থাকলেও শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিক দিয়ে। স্মারকে সই করার পরই হুমকি আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে। সমঝোতার শর্ত মেনে না চললে ইরানে হামলা করা হবে বলে জানান তিনি। আর সমঝোতা স্মারকের বিপরীতে গিয়ে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

শঙ্কা থাকলেও ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সবচেয়ে বড় ঘটনা। যুদ্ধে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এর ধাক্কা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ওপর পড়েছে।

যদিও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতি ভালো হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সমঝোতা অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু জাহাজ পারাপারের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের পতাকাবাহী একটি জাহাজ রয়েছে। ইরানের ১১টি জাহাজও দেশটির বন্দর ছেড়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়েছে। এদিন প্রতি ব্যারেল তেলের দামও কমে ৭৯ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

এ পরিস্থিতিতে চুক্তি টেকসই করার বড় দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের বলে মনে করেন তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তাফা কোসচেশম। তাঁর শঙ্কাও ইসরায়েলকে নিয়ে।

আল–জাজিরাকে এই অধ্যাপক বলেন, লেবাননে যদি ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইরান চুক্তি থেকে সরে যেতে পারে। ইসরায়েলকে সামলে রাখার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই পড়ে।

এএফপি, আল–জাজিরা
বিবিসি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, এই চুক্তির বিষয়ে তাঁর ভিন্ন মত রয়েছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘মরিয়া হয়েই’ এই চুক্তিতে সই করেছেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী’ এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অবরোধ কার্যকরের মার্কিন তৎপরতা বন্ধ হলো।

এ বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেন, শুরুতে তিনি এই চুক্তির পক্ষে ছিলেন না। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের পর তিনি এতে সম্মতি দেন।

এই চুক্তিতে বেশ কিছু বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া।

চুক্তির পক্ষে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, চুক্তির শর্তগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত ইরান কোনো অর্থ পাবে না বা নিষেধাজ্ঞা থেকেও ছাড় পাবে না।

সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ অনুযায়ী, ইরান এখনই কোনো সুবিধা পাবে না। এর আগে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা ‘পুরোপুরি নিয়ম মেনে চলবে এবং নিজেদের আচরণ বদলাবে’। এই প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে—ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে আর কোনো অর্থ দেওয়া চলবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি
 

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে পরবর্তী ৬০ দিন আরও আলোচনা চলবে। ‘কারিগরি আলোচনার’ জন্য তিনি শিগগিরই সুইজারল্যান্ডে যেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন।

তবে তিনি কবে যাবেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি। ভ্যান্স বলেন, ইরান ‘খুব একটা সহজ দেশ নয়’। তাই এই সফরটি ঠিক কবে হবে, তা তাঁরা বোঝার চেষ্টা করছেন।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা ছিল। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান বিবিসিকে জানিয়েছে যে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। কারণ, চুক্তিটি ইতিমধ্যে দূর থেকেই সই হয়ে গেছে।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে বৈঠকে বসবেন।

ইরানের সংবাদমাধ্যমে খামেনির একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, যেসব কর্মকর্তা এই চুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁরা ‘আন্তরিক উদ্বেগ ও সদিচ্ছা’ থেকেই এ পর্যন্ত এসেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প এটি বাস্তবায়নের জন্য ‘মরিয়া হয়ে সব ধরনের প্রভাব খাটিয়েছেন’।

বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে খামেনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর ‘ভিন্ন মত’ রয়েছে। ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘সরাসরি আলোচনা’ হতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা ‘শত্রুর অবস্থান মেনে নিচ্ছেন’।

এই চুক্তির বিষয়ে এবারই প্রথম মুখ খুললেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন তাঁর বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপরই মূলত আঞ্চলিক যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। বাবার মৃত্যুর পর মার্চ মাসে দায়িত্ব নেন মোজতবা খামেনি। এর পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

ওমানের মুসান্দাম থেকে দেখা হরমুজ প্রণালির জাহাজ। ১৫ জুন ২০২৬
ওমানের মুসান্দাম থেকে দেখা হরমুজ প্রণালির জাহাজ। ১৫ জুন ২০২৬, ছবি: রয়টার্স
 

খামেনির বিবৃতির সরাসরি কোনো জবাব দেননি ট্রাম্প। তবে সামাজিক যোাগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহসহ ‘সব ফ্রন্টে’ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তিনি আরও আশা করেন যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি ধরে রাখবে।

চুক্তি সই হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটন তাঁদের সঙ্গে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়িয়েছিল।

ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই চুক্তির সমালোচনা করার পরই নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করলেন।

এর জবাবে ভ্যান্স বলেছেন, যাঁরা চুক্তির সমালোচনা করছেন, তাঁদের ‘জেগে ওঠা উচিত এবং বাস্তবতা বোঝা উচিত’। তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তবে পুরো বিশ্বে টিকে থাকা আমার একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে এভাবে আক্রমণ করতাম না।’

জি–৭ সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৭ জুন ২০২৬, ফ্রান্স
জি–৭ সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৭ জুন ২০২৬, ফ্রান্স, ছবি: এএফপি
 

ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার ঠিক কারা চুক্তির সমালোচনা করেছেন, তা ভ্যান্স সরাসরি জানাননি। তবে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নাম উল্লেখ করেছেন।

ভ্যান্স বলেন, ‘তাঁদের প্রতি আমার প্রশ্ন হলো—আপনাদের আসল প্রস্তাবটা কী? আপনারা মাত্র ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। জাতীয় নিরাপত্তার সব সমস্যা শুধু মানুষ মেরেই সমাধান করা যায় না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

যুদ্ধবিরতি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি ১৪টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে ‘সব ফ্রন্টে’ সংঘাতের অবসান, অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া ইরানের ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (৩০ হাজার কোটি ডলার) একটি তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তবে এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অর্থ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির ঘোষণা আসার পরও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার লেবাননে হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের এই সংঘাত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চেয়ে আলাদা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তির শর্তগুলো মানতে রাজি হয়নি হিজবুল্লাহ।

বিবিসি

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব