পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষ হলো আজ রোববার। আগামীকাল সোমবার থেকে খুলছে সরকারি অফিস-আদালত। একই সঙ্গে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানও খুলবে। খুলবে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই ছুটি শেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে কর্মস্থলে ফিরছেন মানুষ।

পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ত্যাগের মহিমায় ২৮ মে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি ছিল। ছুটি শেষে আগামীকাল থেকে আবারও কর্মচঞ্চল হবে অফিস-আদালত। যদিও নির্ধারিত ছুটির বাইরেও অনেকেই আরও একাধিক দিন অতিরিক্ত ছুটি নেন। ফলে অফিস খুললেও প্রথম দু-এক দিন ছুটির আমেজই থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, এ সপ্তাহজুড়ে একধরনের ছুটির আমেজ থাকবে। সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহের রোববার থেকে পুরোদমে প্রাণ ফিরবে অফিস-আদালত।

এদিকে ঈদের ছুটি শেষ করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে লোকজন কর্মস্থলে ফিরছেন। এ কারণে বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশন এলাকায় যানবাহনের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। আজ দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ দেখা গেছে।

কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে শর্ত অনুযায়ী ইজারাদারেরা নির্ধারিত সময়ে কাজ না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শর্তভঙ্গকারী ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালোতালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে হাটের জামানতের অঙ্ক উল্লেখযোগ্যহারে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার নগর ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম কোরবানির পশুর হাট ও বর্জ্য অপসারণের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন।

দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলেন, ইজারাদারেরা শর্ত অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ না করায় ভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশন নিজ দায়িত্বে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে, যা সামগ্রিক কার্যক্রমকে কিছুটা শ্লথ ও চ্যালেঞ্জিং করেছিল। জনভোগান্তি তৈরিকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহার পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্যের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ঈদের দিন থেকে গতকাল শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন।

ডিএসসিসির হিসাবে, ঈদের প্রথম দিন ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিন ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিন ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তিন দিনে মোট অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৮৬ টন। এই কর্মযজ্ঞে ডিএসসিসির নিজস্ব কর্মী, পিসিএসপিসহ মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠপর্যায়ে দিনরাত কাজ করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে ৩৮২টি বিশেষ যান–যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া গত তিন দিনে ডিএসসিসি নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয় বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।

ডিএসসিসি এলাকার কোথাও কোনো বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। সংবাদ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ওই বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে জানানো হয়।

কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতার বিষয়টিও তুলে ধরেছে ডিএসসিসি। সংস্থাটি জানায়, ঈদের আগে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি, টিভিসি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন বা ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়।

ইজারাদারদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ

তবে কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে ইজারাদারদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। ডিএসসিসি জানায়, শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ইজারাদারদের বর্জ্য অপসারণ করার কথা থাকলেও তাঁরা তা করেননি। ফলে জনভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশনকে নিজ দায়িত্বে হাটের বর্জ্য সরাতে হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, কোরবানির কার্যক্রম শেষ হলেও ডিএসসিসির তদারকি দল মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে। ডিএসসিসি এলাকার কোথাও কোনো বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। সংবাদ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ওই বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে জানানো হয়।

টানা তিন দিন কোরবানি, যত্রতত্র চামড়া ফেলে রাখা এবং মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী অংশের তীব্র যানজটের কারণে কিছু সাময়িক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ জন্য তিনি নগরবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রশাসক বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। নাগরিক সেবায় কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

খুলনায় নানি ও দুই নাতিকে হত্যার ঘটনায় নিহত দুই শিশুর সৎবাবা ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। আজ রোববার নিহত দুই শিশুর বাবা মাসুম ব্যাপারী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে সাক্ষী করা হয়েছে।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, সাংসারিক মনোমালিন্যের কারণে প্রায় চার বছর আগে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে ফাতেমা বেগম ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে বিয়ে করেন। তবে শাশুড়ি বেবি বেগম ওই বিয়ে মেনে নিতে না পারায় তাঁদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। বেবি বেগম রফিকুলকে বাসায় আসতেও নিষেধ করতেন। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে বেবি বেগমকে গলা কেটে এবং দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২৯ মে রাত ১টা থেকে ৩০ মে ভোর ৫টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহযোগিতায় রফিকুল ইসলাম তিনজনকে হত্যা করে পালিয়ে যান। রফিকুল ইসলামের বাড়ি খুলনা নগরের দৌলতপুর থানার মানিকতলা এলাকায়।

এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেবি বেগম (৫৫), তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৩) ও মুস্তাকিমের (৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বাসার একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে। প্রথমে বেবি বেগম ও শামীমের লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন মুস্তাকিমকে নিখোঁজ মনে করা হচ্ছিল। পরে কক্ষের একটি ওয়ার্ডরোবের তালা ভেঙে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গোয়েন্দা (ডিবি) ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, নিহত শামীম ও মুস্তাকিম ফাতেমা বেগমের প্রথম পক্ষের সন্তান। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে একটি বিধ্বস্ত অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছে। দেশের সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে, এ সময়টা হেসেখেলে চললে দেশের অনেক ক্ষতি হবে। জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেভাবেই চলার চেষ্টা করছে। মানুষ তাদের কাছেই প্রত্যাশা করে, যাদের কাছে কিছু পেতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রোববার (৩১ মে) ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারপ্রধান বলেছেন, জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন স্থানে নিয়ে গিয়েছেন, তাতে মানুষ জিয়া ও বাংলাদেশকে এক রকম মনে করতো। কঠোর পরিশ্রম, সততার মাধ্যমে দেশে অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমানের সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।

তবে দেশে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। বিষয়গুলো কীভাবে শিশুদের মাঝে তৈরি করা যায় তা নিয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আনোয়ার হোসেন নামের জাতীয় শ্রমিক শক্তির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেনকে আজ রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক অঙ্গসংগঠন শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক। তিনি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে রায়পুর শহরে বিক্ষোভ করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে আজ দুপুরে রায়পুর থানায় মামলা করেন সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা মামলায় আনোয়ার হোসেনসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় আনোয়ারের দুই ভাই ইমন হোসেন ও রুবেল হোসেন এবং দীপু নামে আরও একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আনোয়ার তাঁর ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করেন। এসব ঘটনার কারণ জানতে চাইলে আনোয়ার ও তাঁর সহযোগীরা বাদীসহ অন্যদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে উপজেলার সোনাপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে আনোয়ারকে আটক করে স্থানীয় লোকজন পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এনসিপির লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন দাবি করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা আনোয়ারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। পরে তাঁকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা নিন্দনীয়।

মামলার বাদী রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছিল। এর কারণ জানতে চাইলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করেছি। তবে আনোয়ারের বাড়িতে হামলা বা ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয়।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি বেকারির সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে জমাট পানিও দেখতে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘ওই জমাট পানি এবং রুটির কারখানা থেকে এমন কোনো পদার্থ বা গ্যাস নির্গত হচ্ছে কি না, যা নবজাতকদের সহ্য ক্ষমতার বাইরে, তা পরীক্ষা করা হবে।’

আজ শনিবার বিকেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমেই হাসপাতালটির পাঁচতলায় নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) যান, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কলেজ ভবনের আটতলায় থাকা একটি বেকারি পরিদর্শন করেন। শেষে দ্বিতীয় তলায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে যান। সেখানে ছয় নবজাতক ভর্তি অবস্থায় গত বুধবার মারা যায়। ওয়ার্ডটি পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশে আরেকটি ভবন আছে। আট-দশ গজ দূরে। যেটি একটি সেতু দ্বারা হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত। ভবনটির আট বা নয়তলায় একটি বেকারি রয়েছে। বেকারিতে দুটি ইলেকট্রিক ওভেন রয়েছে। পরিদর্শনের সময় তিনি সেখানে কোনো বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পাননি, একজন মেকানিক্যাল সহকারীকে পেয়েছেন। সেখানে অনেক ময়লা-আবর্জনাও দেখেছেন। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী, শিক্ষার্থী ও স্বজনদের উপস্থিতি থাকে, সেখানে এমন অবস্থা থাকা উচিত হয়নি বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রুটির কারখানা থেকে কোনো ধরনের গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করেছে কি না, সেটিও আমরা খতিয়ে দেখছি। আমাদের বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি পরীক্ষা করছেন। আরও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হবে। আগামীকালই (রোববার) তাঁরা কারখানাটি পরিদর্শন করবেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন শেষে বেকারি প্রসঙ্গে হাসপাতালটির পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বেকারিটা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় থাকা পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে অনেক দূরে। এটা কলেজ ভবনের আটতলায় অবস্থিত। বেকারিতে ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করা হয়। কোনো গ্যাস সেখানে নেই, সবকিছু মেশিনে তৈরি করা হয়। তবে বেকারিতে একটু পানি জমে ছিল। যদিও ওই পানি বেকারিতে ব্যবহার করা হয় না।

তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন

বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক থেকে তিন দিন বয়সের ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। কী কারণে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনা তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আজ কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ৩ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।

প্রাণ হারানো এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান বুধবার রাতে রাজধানীর রমনা থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।

৩ জুন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সকালে তদন্ত কমিটির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তাঁরা এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য মারা যাওয়া নবজাতকদের মায়েদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। মায়েরা অনেকেই দূরে আছেন। তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে। আরও দু-তিন দিন সময় লাগবে সব মায়ের সঙ্গে দেখা করতে।’

ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নবজাতকদের অভিভাবকেরা এতে সম্মতি দেননি। সিআইডিসহ সংশ্লিষ্টরা তাঁদের রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নবজাতকের মৃত্যুতে শোকাহত মা-বাবার মানসিক অবস্থা বিবেচনায় বিষয়টি সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়াও পরিবেশগত একটা প্রতিবেদন দিতে পারব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, তদন্ত কমিটির তিন সদস্যের পাশাপাশি পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী, নবজাতক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককেও যুক্ত করা হয়েছে। কারিগরিসহ সব বিষয়ে প্রতিবেদনে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কর্মীদের ধাওয়ার মুখে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাচ্ছেন সাংবাদিকেরা। আজ শনিবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কর্মীদের ধাওয়ার মুখে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাচ্ছেন সাংবাদিকেরা। আজ শনিবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে, ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকদের ধাওয়া

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরপরই হাসপাতালের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান।

পরে হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বেকারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলগালা করে দিয়ে গেছেন। এখন আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব নয়।

এরপরও গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালটির নিচতলায় অবস্থান করে বেকারিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা এসে উপস্থিত হন। তাঁদের উপস্থিতিতেই গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে হাসপাতাল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। মারধরও করা হয়। এতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূইয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছে ছাত্রদল। 

শনিবার (৩০ মে) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূইয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। একইসাথে উক্ত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো। সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শনিবার এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। 

উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শনিবার (৩০ মে) সকালে বাবার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল টিমের সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভুঁইয়াসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীর দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলকের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শনিবার (৩০ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বাংলাদেশের রূপান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক’ শিরোনামে এক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র লেখেন, ‘এর মধ্যে যেকোনো একটি অর্জন থাকলেই নির্দ্বিধায় একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সফল বলা যায়। আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক, যার জীবনে গৌরবের এসব মহিমান্বিত পালক একত্রে বিদ্যমান। আমার জানা মতে, বিশ্ব ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যে, একজন নেতা নিজ দেশের জন্য বহুমাত্রিক ভূমিকা রেখে এভাবে পরিণত হয়েছেন সমগ্র জাতির সত্তা ও অস্তিত্বের অংশে; তথা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীকে।’

বাংলাদেশের রূপান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক নিয়ে মাহদী আমিনের ফেসবুকের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

১. বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, যার আহ্বানে শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ।

২. মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, এবং অসামান্য বীরত্বের জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত।

৩. সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মহানায়ক এবং ইতিহাসের সফলতম সেনাপ্রধান।

৪. দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

৫. বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সুমহান আদর্শের প্রবক্তা, যা নিশ্চিত করে প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ, মত, পথ ও বিশ্বাসের মানুষ এবং সমতল ও পাহাড়ের প্রতিটি বাংলাদেশির সমান অধিকার ও স্বাধীনতা।

৬. বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভিন্ন মতের অধিকার স্থাপক।

৭. গণআকাঙ্ক্ষার আলোকে সংবিধানের সংশোধন ও ইসলামী মূল্যবোধের ধারক।

৮. মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রবর্তক।

৯. রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের পথিকৃৎ এবং দেশজুড়ে ইপিজেড ও বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনাকারী।

১০. মধ্যপ্রাচ্যে ও অন্যান্য দেশে জনশক্তি রপ্তানির পথিকৃৎ, যার ফলে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত প্রবাসীদের রেমিটেন্স আজও দেশের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি।

১১. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার ভিত্তি নির্মাণ এবং তৃণমূলের উন্নয়নের রূপকার।

১২. গ্রাম সরকার ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা উদ্যোগের প্রবর্তক।

১৩. ঐতিহাসিক খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জনক।

১৪. গণশিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির প্রবর্তক এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে সবার জন্য সহজলভ্য করার কারিগর।

১৫. নারী ও যুবকদের জন্য দুইটি পৃথক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।

১৬. শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও নতুন কুঁড়ির প্রবক্তা।

১৭. দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য সার্কের প্রতিষ্ঠাতা।

১৮. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের কারিগর।

১৯. পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বহির্বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের রূপকার, ইরান-ইরাক যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী, ফিলিস্তিনি জাতি নির্মাণে আল-কুদস কমিটির সদস্য।

২০. নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ভেঙে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তে শক্তিশালী অবস্থান ও পানির হিস্যা বুঝে নেওয়াসহ বহু সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণকারী।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন লেখেন, ‘এসব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের সাফল্যের গৌরব নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, উন্নয়ন, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করার কালজয়ী ইতিহাস। তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্ম, পরিকল্পনা, চিন্তা ও নেতৃত্ব আজও কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে এবং তার হাত ধরেই বদলে গেছে পুরো দেশ ও জাতির কাঠামো। আর ঠিক সেই আদর্শ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতাই আজ বহন করছেন জনগণের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যেমনটি করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লা–৪ আসনের (দেবীদ্বার) এই সংসদ সদস্য বলেছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে টাকার কথা বলেছেন, সেটি উপজেলার জন্য বাজেট বরাদ্দ। সে টাকা তাঁকে দেওয়া হয়নি।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ওই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মোস্তাক মিয়া বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের পদে রয়েছেন

জেলা পরিষদ প্রশাসকের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জেলা পরিষদের প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তিনি সেটি দ্বারা উপজেলার জন্য বাজেট নেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার জন্য বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বাজেট তো কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে।’

দেবীদ্বার উপজেলাকে কোন কোন খাতে, কোন কাজে টাকা দেওয়া, সে তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে আছে জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘উপজেলাও সে টাকা কোন খাতে কত টাকা, কোথায় খরচ করেছে, সে হিসাব আছে। তারা সেটি প্রকাশ করুক।’

উপজেলার উন্নয়নের জন্য সবকিছু করতে রাজি আছেন জানিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার উপজেলার মানুষের জন্য কোথাও যদি কোনো কিছু ভিক্ষা চাইতে হয়, সেটি নিয়েও আমার আপত্তি নাই। কারণ, আমি তো আমার জন্য চাচ্ছি না। আমি মানুষের জন্য চাচ্ছি।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলাকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে, টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উনি বলেছেন, রাজস্ব খাত থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি তো রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ।’

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আদর্শ নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি, এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিতে চাই, সমাজে যার যার অবস্থান থেকে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াবো। 

পাশাপাশি, মানবিকতা-সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 

এরপর, যাত্রাবাড়ীতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে আমরা তাঁর আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। শুধু রাজনৈতিক দল বা সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে একজন অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে ধীরে ধীরে দেশের চেহারা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব। 

এর আগে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং খিলগাঁও এলাকায় খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

 

রাঙামাটির সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে কাপ্তাই হ্রদে গোসল করতে নেমে নবদ্বীপ বড়ুয়া (১৭) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ নবদ্বীপ বড়ুয়ার বাড়ি খাগড়াছড়ির তেঁতুলতলা এলাকায়।

বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমর কুমার চাকমা বলেন, সাত-আটজন বন্ধু মিলে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে কাপ্তাই হ্রদে ঘুরতে বের হয়েছিল নবদ্বীপ। একপর্যায়ে তারা হ্রদে গোসল করতে নামে। এ সময় নবদ্বীপ পানিতে তলিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক নিউটন দাস বলেন, খবর পেয়ে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

তবে বেলা সোয়া দুইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নবদ্বীপকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা