• Colors: Green Color

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইও করতে পারেনি বাংলাদেশ। হারের ব্যবধানটা ১২৮ রানের। এরপরও এই ম্যাচটি আলোচিত হয়ে থাকবে সালমান আগার বিতর্কিত রানআউটের কারণে।

তাঁকে ওভাবে রানআউট করে মেহেদী হাসান মিরাজ ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ আচরণ করেছেন কি না, বিতর্ক সেটা নিয়ে। এ নিয়ে ক্রিকেট–বিশ্বই এখন দুই ভাগে বিভক্ত। বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার লিটন দাস বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

ঘটনার একটি অংশ লিটন নিজেও। সালমান আউট হওয়ার পর লিটনের সঙ্গে তাঁকে তর্কে জড়াতে দেখা গেছে। তখন উইকেটে সালমানের সঙ্গী মোহাম্মদ রিজওয়ান পরিস্থিতি শান্ত করেছেন। পুরো ঘটনা কাছ থেকে দেখা লিটন মিরাজের পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন।

ম্যাচ শেষে সম্প্রচারক টিভি চ্যানেলকে লিটন বলেন, ‘প্রথমত, এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি। এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিয়মে আছে আউট, এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ নষ্ট হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। যে যার ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে আউট।’

কেউই জানতাম না বৃষ্টি আসবে, রান রেট এত বেশি করে দেবে। ৫০ ওভারের খেলা হলে অন্য কিছু হলেও হতে পারত।
লিটন দাস

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদও মিরাজের পক্ষেই কথা বলেছেন। পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘মিরাজ ভেবেছে তাকে রানআউট করবে। সে নিশ্চিত ছিল না সালমান কী করছে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না মিরাজ কোনো ভুল করেছে।’

যা ঘটেছিল

ইনিংসের ৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলে রিজওয়ানের শটে বল যায় বোলার মিরাজের দিকে। বোলার মিরাজ সেটি পা দিয়ে আটকান। এ সময় নন–স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যান সালমান ক্রিজের বাইরে ছিলেন। বলটি তাঁদের দুজনের পায়ের কাছেই ছিল। সালমান বলটি মিরাজের হাতে দিতে একটু ঝুঁকেছিলেন।

তবে সালমান বল ধরার আগেই মিরাজ বল নিয়ে স্টাম্পে মারেন এবং রানআউটের আবেদন করেন। মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে গেলে দেখা যায়, সালমান ক্রিজের বাইরে ছিলেন।

তবে মিরাজ যেভাবে সালমানকে রানআউট করেছেন, সেটা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি সালমান। আউট হয়ে গ্লাভস-হেলমেট ছুড়ে ফেলে সে কারণেই ক্ষোভ ঝেড়েছেন।

এভাবেই ক্ষোভ ঝেড়েছেন সালমান
এভাবেই ক্ষোভ ঝেড়েছেন সালমান
 

এমন ম্যাচে বাংলাদেশ অবশ্য লড়াইও করতে পারেনি। বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে মাত্র ১১৪ রানে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জয়ের জন্য ৩২ ওভারে ২৪৩ রান করতে হতো বাংলাদেশকে। লিটন মনে করছেন, ৫০ ওভারের খেলা হলে অন্য কিছুও হতে পারত।

তাঁর ভাষায়, ‘উইকেট খুবই ভালো ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য। এই উইকেটে ওদেরকে ২৭৪ রানে আটকে রাখা ভালো দিক ছিল। শুরুতেই উইকেট না হারালে পরিস্থিতি অন্য রকম হতো। কিন্তু ক্রিকেটে অনেক কিছু আপনার হাতে থাকবে না। কেউই জানতাম না বৃষ্টি আসবে, রান রেট এত বেশি করে দেবে। ৫০ ওভারের খেলা হলে অন্য কিছু হলেও হতে পারত।’

এক ফ্রেমে মিরাজ ও লিটন
এক ফ্রেমে মিরাজ ও লিটন

বাংলাদেশ ১৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়েছিল। ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান করার পর নেমেছে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির কারণে প্রায় ২ ঘণ্টা ১৩ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।

ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেডে দল পেয়েছেন বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। আজ লন্ডনে ২০২৬ আসরের নিলামে তাঁকে ১ লাখ পাউন্ডে কিনেছে বার্মিংহাম ফিনিক্স। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি।

টি–টুয়েন্টি হিসেবে স্বীকৃত ১০০ বলের খেলার দ্য হানড্রেডে এবারই প্রথম খেলবেন মোস্তাফিজ।

দ্য হানড্রেড নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় মোস্তাফিজসহ বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড় ছিলেন। অন্যজন রিশাদ হোসেন। তবে স্পিনারদের টায়ান ওয়ানে থাকা এই ক্রিকেটার দল পাননি।

৩০ বছর বয়সী মোস্তাফিজকে ভিত্তিমূল্যেই পেয়েছে বার্মিংহাম। দ্য হানড্রেডের জন্য খেলোয়াড় কিনতে সেন্ট্রাল লন্ডনের পিকাডিলি লাইটসের নিলামে অংশ নেয় মোট ৮টি ফ্র্যাঞ্চাইজি।

বার্মিংহাম দলে মোস্তাফিজ খেলবেন ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল, ক্রিস উড, পাকিস্তানের উসমান তারিক ও দক্ষিণ আফ্রিকার ডোনোভান ফেরেইরার সঙ্গে।

আগামী ২১ জুলাই শুরু হবে দ্য হানড্রেডের পঞ্চম আসর।

ক্যাচ ধরলে ম্যাচ জেতা যায়—কথাটা বারবারই আসে ক্রিকেটে।

কিন্তু আসলে তা কেমন? কাল টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচটাকেই দেখিয়ে দেওয়া যেতে পারে উদাহরণ হিসেবে। সঞ্জু স্যামসনের সহজ একটা ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক; ভারতের অক্ষর প্যাটেল দুটি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছেন পরে। এই তিন ঘটনাই আসলে মুম্বাইয়ে ম্যাচের গল্পটা লিখে দিয়েছে। তাতে বৃথা গেছে জ্যাকব বেথেলের অবিশ্বাস্য এক সেঞ্চুরির ইনিংস।

পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমেও যে শেষ দুই ওভার পর্যন্তও জয়ের সম্ভাবনাটা টিকিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড, তা আসলে শুধু বেথেলের ৪৮ বলে ১০৫ রানের ইনিংসের সৌজন্যেই। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে ম্যাচটা হারতে হয়েছে ৭ রানে। ৮ মার্চের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।

ম্যাচের ভাগ্য আসলে লেখা হয়ে গিয়েছিল প্রথম ইনিংসেই। ১৫ রানে হ্যারি ব্রুক সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার পর সঞ্জু স্যামসন এমন ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুর তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন, যা ভারতের সংগ্রহটাকে নিয়ে গিয়েছিল ৭ উইকেটে ২৫৩ রানে। সেটি তাড়া করতে বহু রেকর্ডই নতুন করে লিখতে হতো ইংল্যান্ডকে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে কখনো এত রান তাড়ার ঘটনাই যে নেই।

তবু লড়াইটা ভালোভাবেই টিকিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড। পুরো ইংল্যান্ড না বলে আসলে বেথেলের কথা বলাই ভালো। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যাটিংয়ে এসে পুরোটা সময়ই রান তোলার গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়েছেন; দুর্দান্ত সব শটে মেরেছেন চার–ছক্কা।

আড়াই শ পেরিয়ে যাওয়া রান করতে ভারত এক শ পেরিয়েছিল ৮.৩ ওভারে, বেথেলের কল্যাণে তাদের চেয়ে ২ বল আগেই তা করে ফেলে ইংল্যান্ড। কিছুক্ষণ পর ১৯ বলে ফিফটিও পেয়ে যান বেথেল।
উইল জ্যাকস তাঁর সঙ্গী হওয়ার পর থেকে সম্ভাবনাটা আরও বেড়েছিল ইংল্যান্ডের। দুজনের ৩৯ বলে ৭৭ রানের জুটি জয়ের স্বপ্নটাকে নিয়ে আসে কাছে। কিন্তু এই জুটি ভেঙেছে অক্ষরের দুর্দান্ত এক ক্যাচে।

ব্যাট হাতে ভারতের জয়ের নায়ক হয়েছেন স্যামসন
ব্যাট হাতে ভারতের জয়ের নায়ক হয়েছেন স্যামসন, এএফপি

অবশ্য স্কোরকার্ড দেখলে একটু বিভ্রান্তই হওয়ার কথা। কারণ, ক্যাচটা লেখা আছে শিবম দুবের নামে!
তবে ক্যাচটা আসলে একরকম অক্ষরেরই। অনেকটুকু দৌড়ে এসে বাউন্ডারির ঠিক সামনে থেকে বলটা ধরে তিনিই তুলে দিয়েছিলেন দুবের হাতে। এর আগে পাওয়ারপ্লের সময় ব্রুকের ক্যাচটা তিনি নিয়েছিলেন ৩০ গজের বৃত্ত থেকে দৌড়ে প্রায় বাউন্ডারির কাছে গিয়ে।

এমন অবিশ্বাস্য ক্যাচ আর ভারতের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা ভালোভাবেই টিকে ছিল। শেষ ৩ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৪৫ রান। কিন্তু যশপ্রীত বুমরা ১৮তম ওভারে এসে দিলেন কেবল ৬ রান। ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা অনেকটাই শেষ হয়ে যায় তখন। যেটুকু ছিল, সেটা কেবল অঙ্কের হিসাবেই। এতে ভূমিকা ছিল স্যাম কারেনেরও। ১৪ বলে খেলে তিনি করেন মাত্র ১৮ রান। বেথেলের ১০৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসটাও তাই জয়ের দেখা পেল না।

ব্যাট হাতে ভারতের জয়ের নায়ক খুঁজতে গেলে সঞ্জু স্যামসনের নামটাই আসবে। ১৫ রানে ব্রুক সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার পর ৪২ বলে ৮৯ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে শিবম দুবে, তিলক বর্মা আর হার্দিক পান্ডিয়াদের ঝড় ভারতের রানটা নিয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বেথেল বুকে কাঁপন ধরালেও সেই রানই শেষ পর্যন্ত ভারতকে নিয়ে গেছে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের চতুর্থ ফাইনালে।

ছক্কার রেকর্ড

৩৪
ভারত–ইংল্যান্ড ম্যাচে ছক্কা হয়েছে ৩৪টি। বিশ্বকাপে এটাই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।

অবিশ্বাস্য ম্যাচ

৪৯৯
ভারত ২৫৩, ইংল্যান্ড ২৪৬—৪৯৯। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের ম্যাচ, সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
২৩: ২১ , মার্চ ০৫

অবিশ্বাস্য বেথেল, তবু...

২২ বছর বয়সী বেথেল মুম্বাইয়ে দেখালেন কেন তাঁকে স্পেশাল ট্যালেন্ট বলা হয়। করলেন ৪৫ বলে সেঞ্চুরি। তবে এটিও যথেষ্ট হলো না। শেষ পর্যন্ত জিতেছে ভারত।২৫৩ রান তাড়ায় ইংল্যান্ড থেমেছে ২৪৬ রানে।

১৮ ওভার পর্যন্ত ম্যাচে ভালোভাবেই ছিল ইংল্যান্ড। শেষ ২ ওভারে তাদের লাগত ৩৯ রান। এই ২ ওভার করেছেন হার্দিক পান্ডিয়া ও শিবম দুবে। তবে পান্ডিয়া ১৯তম ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়েছেন। কারেনের ১৪ বলে ১৮ রানের ইনিংসটাও ইংল্যান্ডকে পিছিয়ে দিয়েছে।

রোববার বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত: ২০ ওভারে ২৫৩/৭ (স্যামসন ৮৯, দুবে ৪৩, কিষান ৩৯; জ্যাকস ২/৪০, রশিদ ২/৪১)। ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৪৬/ ৭ (বেথেল ১০৫, জ্যাকস ৩৫; পান্ডিয়া ২/৩৮, বুমরা ১/৩৩)। ফল: ভারত ৭ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: সঞ্জু স্যামসন।

ব্যাট হাতে অনবদ্য এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তিন অঙ্কের মাইলফলক স্পর্শ করলেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরির নাগাল পাননি টপ অর্ডার ব্যাটার শারমিন আক্তার।

অধিনায়কের সেঞ্চুরিতে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর করেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে টাইগ্রেসদের সংগ্রহ ২৭১ রান।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে টস হেরে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। ম্যাচে ফিফটির দেখা পেয়েছেন ওপেনার ফারজানা হক পিংকিও। মূলত এই তিন ব্যাটারের ইনিংসে ভর করেই নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। 

ইনিংসের শুরুতে দলীয় ১৫ রানেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিম। এরপর শারমিনের সঙ্গে ১০৪ রানের জুটি গড়েন ফারজানা। দলীয় ১১৯ রানে ফারজানার বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। ৮২ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৫৩ রান তোলেন ফারজানা। এরপর জ্যোতির সঙ্গে ১৫২ রানের বড় জুটি গড়েন শারমিন। যেখানে জ্যোতি সেঞ্চুরি পেলেও ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন শারমিন। ৮০ বলে ১৫ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় জ্যোতি ফেরেন ১০১ রান করে। তার বিদায়ে বাংলাদেশ থামে ২৭১ রানে।

থাইল্যান্ডের হয়ে মায়া, পুত্তাংয়ু ও কামছম্পু নেন একটি করে উইকেট।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব