তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ জানান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। হাকান ফিদানও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তিনি বলেন, তার এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ।

এ লক্ষ্যে উভয়পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বার্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া, দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অংশগ্রহণে একটি পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠন করা হবে।

দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি যৌথ সমন্বয় কাঠামো গঠনের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। এতে উভয় দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত থাকবেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যু, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বিনিয়োগ, যৌথ উত্পাদন এবং সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) সংসদীয় সভা চলছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে এ সভা শুরু হয়। 

সংসদীয় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সভায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন বলে জানা যায়।

রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং আসন্ন অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। বিকেল ৩টায় এই অধিবেশন শুরু হবে। 

এদিকে বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে শনিবার থেকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

 

  • বর্তমানে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে।
  • সাড়ে তিন মিনিট পরপর একটি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা আছে ডিএমটিসিএলের।

আগামীকাল রোববার থেকে মেট্রোরেলের চলাচল রাতে উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট করে বাড়বে। এ সিদ্ধান্তের ফলে রাতে মতিঝিল থেকে উত্তরার পথে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে সাড়ে ১০টায়। এখন মতিঝিল থেকে শেষ ট্রেন ছাড়ে ১০টা ১০ মিনিটে। আর উত্তরা থেকে রাতে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে ৯টা ৫০মিনিটে। এখন ছাড়ে রাত সাড়ে ৯টায়।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতে সময় বাড়ানোর লক্ষ্যে গত এক মাস পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। আগামীকাল যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। তবে শুরুতে বাড়তি ২০ মিনিটে মেট্রোরেল একটি ট্রিপ দেবে। অর্থাৎ একটি ট্রেন মতিঝিলমুখী এবং অন্যটি উত্তরামুখী চলাচল করবে। ফলে এক ট্রেনের সঙ্গে অন্য ট্রেনের মাঝখানে বিরতি থাকবে ১০ মিনিটের।

ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির সূত্র বলছে, রাতে মতিঝিল থেকে ১১টায় সর্বশেষ ট্রেন চালানোর একটা পরিকল্পনা ছিল। অন্যদিকে উত্তরা থেকে শেষ ট্রেন ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল ১০টার পরে। কিন্তু একসঙ্গে এত সময় বাড়ালে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তাই আগামীকাল থেকে উভয় দিকে ২০ মিনিট করে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে উভয় দিক থেকে রাতে আরও আধা ঘণ্টা মেট্রোরেলের চলাচল বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

বর্তমানে প্রতিদিন সকালে সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে। আর মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। সকালে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মতিঝিল থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত সাড়ে ১০টায়। আর উত্তরা থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে ৯টা ৫০ মিনিটে।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে দুই দিক থেকেই মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল থেকে রাতে উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট বাড়তি চলাচল করবে। আরও সময় বাড়ানো হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে।

গত বছরের অক্টোবরে মেট্রোরেল চলাচলের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় সকালে মেট্রোরেল আধা ঘণ্টা আগে চালু করা হয়। রাতে শেষ ট্রেনের সময় আধঘণ্টা বাড়ানো হয়। বর্তমানে সারা দিনে ২৯৭ বার (ট্রিপ) মেট্রোরেল চলাচল করে। এখন রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়লে ট্রিপের সংখ্যাও বাড়বে।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে চালানোর জন্য এখন ২৪ সেট ট্রেন আছে। প্রতি সেটে ছয়টি কোচ। বর্তমানে পিক আওয়ারে ১২ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক চলাচল করে। ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, বাড়তি সময়ে চালালে এবং ট্রিপের সংখ্যা বাড়ালে ১৪ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক ব্যবহার করা হবে।

ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, সাড়ে তিন মিনিট পরপর একটি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা আছে। এ ছাড়া সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে বলে প্রকল্প নেওয়ার সময় প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল। কিন্তু লোকবলের অভাবে পর্যায়ক্রমে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহন করার কথা। বর্তমানে মেট্রোরেলে দিনে গড়ে সোয়া চার লাখের মতো যাত্রী যাতায়াত করেন। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বর্ধিত অংশ আগামী বছর চালু হতে পারে। তখন প্রতিদিনের যাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে উন্নীত হওয়ার কথা।

ঢাকায় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। শুরুতে চলাচল করত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। পর্যায়ক্রমে স্টেশনের সংখ্যা বাড়ে। মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয় ২০২৩ সালের শেষ দিনে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই কর্মচারীদের জন্য একটি বড় সুখবরের আভাস মিলেছে। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার একটি প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দের চাপটি বিবেচনায় নিয়ে এই কাঠামো একবারে নয়, বরং মোট তিন ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক সংস্থানের পরিকল্পনা রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের পাশাপাশি একধরনের তীব্র প্রচ্ছন্ন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

কর্মচারীদের একাংশের দাবি, নতুন বেতন কাঠামো সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই গণমাধ্যমনির্ভর। অর্থ মন্ত্রণালয়, পে কমিশন কিংবা নীতিনির্ধারণী মহলের শীর্ষ স্তর থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি।

প্রস্তাবিত মহা-পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মচারীদের মূল বেতনের একটি বিশাল অংশ, যা সম্ভাব্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, তা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি মূল বেতনটুকু সমন্বয় করা হবে। আর শেষ বা তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য সব ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় এনে পূর্ণতা দেওয়া হবে।

নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান বর্তমানের ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার জোরালো প্রস্তাব করা হয়েছে। 

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ এসেছে। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেডভেদে কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন করে যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টি এখন টেবিলের মূল আলোচনায় রয়েছে।

নতুন পে-স্কেলের এই সুফল শুধু বর্তমানের সক্রিয় চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী প্রবীণ মানুষও এর আওতাভুক্ত হতে যাচ্ছেন। এর ফলে বিশেষ করে যারা অত্যন্ত স্বল্প পরিমাণ পেনশন পান, তাদের আর্থিক নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

এদিকে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে এবং কতটুকু যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের একটি বিশেষ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি এখন নিরলস কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও নীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী, প্রবীণ পেনশনভোগী এবং মাঠপর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক ও জীবনযাত্রার মানের একটি দৃশ্যমান উন্নতি ঘটতে যাচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বিদ্যুতেও যে পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, তারপরও আগামী বাজেটে ৪১ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হবে। 

শনিবার (৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিইআরসি প্রাথমিকভাবে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ায়। তবে সরকার আপিল করার পর আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহক (০-৫০ ইউনিট) এবং প্রথম ধাপের গ্রাহক (৫১-৭৫ ইউনিট) শ্রেণির বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর হয়নি। ফলে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহক আগের হারেই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে সরকার পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়ালেও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। কারণ গণপরিবহন, পণ্যবাহী ট্রাক ও কৃষিখাতে ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি চাপ কমাতে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের প্রতি বৈষম্য দূর, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাঁদের অধিকার ও ক্ষমতায়ন জোরদারে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক জাতীয় টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনুকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, ক্রীড়াঙ্গনে নারী প্রতিভার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নারীর অংশগ্রহণ, বিকাশ ও উন্নয়নকল্পে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাঁচ সদস্যের এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সারওয়াত সিরাজ (শুক্লা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব উম্মে ইসরাত।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, কমিটি নারী ক্রীড়াবিদদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা, অংশগ্রহণ ও বিকাশে কৌশল প্রণয়ন করবে। পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, তৃণমূলের সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা, স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিতকরণ এবং নারী ক্রীড়ায় বিনিয়োগের ঘাটতি দূর করতে সুপারিশ দেবে।

এ ছাড়া নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য সম-আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ক্রীড়াঙ্গনে বৈষম্য দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও কাজ করবে কমিটি।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কমিটি প্রতি দুই মাস অন্তর তাদের কার্যক্রম ও অগ্রগতির প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে। প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এই কমিটি।

বাংলাদেশে সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিসংখ্যান নির্ভর ও নাম সর্বস্ব বাজেট দেখতে চায়না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)— এমনটাই জানিয়েছেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শুক্রবার (৫ জুন) দলীয় কার্যালয়ে 'বাংলাদেশ টু পয়েন্ট ও : সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি' শিরোনামে ছায়াবাজেট প্রকাশ করে এনসিপি।

এতে ১২টি খাতে ৭১ টি প্রস্তাব তুলে ধরে বাজেটের আকার ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা করার কথা জানায় দলটি। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকার যে অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, তা মূলত লুটপাটনির্ভর এবং ক্যাপাসিটি চার্জনির্ভর।

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামি ব্যাংকে যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।

এসময়, বাজেটের প্রতিটি টাকার সুফল যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়—  সেই আশাও জানান তিনি।

 

লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নওগাঁ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৬০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশ ইন) করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে তাঁরা প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে এসব ব্যক্তি বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখা ও নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় বিএসএফ অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) ১০টি পৃথক অপচেষ্টা ঠেকানো হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৯০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা হয় বলে জানিয়েছিল বিজিবি।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ, শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত এসব চেষ্টাকে রুখে দেওয়ার দাবি করেছে বিজিবি।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশের এসব চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সীমান্তগুলোতে বিজিবি ও বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে আছে। আজ সকালে ওই ব্যক্তিদের লাগেজসহ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়।

লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আদিতমারী উপজেলার দীঘলটারী ও দুর্গাপুর সীমান্তের ৯২৫ ও ৯২৭/৭-এস নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি টের পান বিজিবি সদস্যরা। পরে হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে সতর্ক করা হলে তাঁদের ভারতীয় অংশে সরে যেতে দেখা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ওই ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে ভারতীয় রানীনগর-৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। তবে এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়ন সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ—এমন অভিযোগ করেছে বিজিবি। শুক্রবার ভোরে তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়খাতা কোম্পানির টহল দল স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তাঁদের অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই ১১ জন শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ঝালাঙ্গী (পকেট) সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ আরও ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি। শুক্রবার ভোরে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করেন। এ ঘটনায়ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তানভীর আহমেদ বলেন, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম সীমান্তে ২১ জনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদিতমারী সীমান্তে ১২ জনের অনুপ্রবেশচেষ্টার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

লালমনিরহাট জেলার একাধিক সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা এবং তা প্রতিহত করার বিষয়টি বিজিবির রংপুর সেক্টরও পৃথক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি–প্রধানপাড়া গ্রামের সীমান্ত দিয়ে নারী–শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে কঠোর নজরদারির কারণে তাঁরা প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ওই ১০ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। এ সময় দুই পাশে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি–প্রধানপাড়া গ্রামের সীমান্ত দিয়ে নারী–শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি–প্রধানপাড়া গ্রামের সীমান্ত দিয়ে নারী–শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ,ছবি: সংগৃহীত
 

কোনো দেশই সীমান্তে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় শূন্যরেখার খোলা আকাশের নিচে ফসলি জমিতে ওই ১০ জনকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ পুরুষ, দুই নারী ও তিন শিশু আছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বড়বাড়ি–প্রধানপাড়া সীমান্তে বিজিবির বড়বাড়ি ও বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসএফের সঙ্গে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ওই ১০ জন বাংলাদেশের নাগরিক বলে বিএসএফ দাবি করেছে। তবে তাঁরা বাংলাদেশি কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য আমরা তাঁদের গ্রহণ করছি না। তা ছাড়া এভাবে ঠেলে পাঠানো তো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না।’

নওগাঁ

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী-পুরুষ, শিশুসহ ১৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএএফ। বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি তাঁরা। আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, হাপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ভারতের ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। সংবাদ পাওয়ার পর হাপানিয়া সীমান্তচৌকির (বিওপি) বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। বর্তমানে ১৭ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরে ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওই ১৭ জনসহ অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাঁদেরকে ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশ ব্যাক) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান করছেন। বিএসএফ তাঁদের ফেরত নেয়নি। খোলা আকাশের নিচে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারী বৃষ্টিতে তাঁরা ভিজেছেন, পর্যাপ্ত খাবারও পাচ্ছেন না।

স্থানীয় বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি খুলনার কয়রায়। তাঁরা দুই বছর আগে ভারতে গিয়েছিলেন। কয়রা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাঠিয়েছেন। সীমান্তের শূন্যরেখার ১০০ গজ দূর থেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএসএফের পক্ষ থেকে তাঁদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। তাঁদের মধ্যে একজন বয়স্ক নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানো হয়। বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁদের ঠেলে পাঠান। ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ শিশু রয়েছে। তবে বিজিবির প্রতিরোধের মুখে তাঁরা বাংলাদেশে আসতে পারেননি। এর পর থেকেই তাঁরা নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ওই ২৮ জন সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তাঁরা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে নো ম্যান্স ল্যান্ডের ভারতীয় অংশের ৫০ গজ ভেতরে রয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই পতাকা বৈঠকে বিএসএফ ২৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর কথা স্বীকার করে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলেও বিজিবিকে আশ্বস্ত করেন বিএসএফের কর্মকর্তারা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে আর কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবির রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল কামাল হোসেন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার পাশাপাশি তা বিস্তৃত পরিসরে উন্নীত করতে আগ্রহী তুরস্ক। দৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে বিশেষ করে প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে আঙ্কারা। তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে এসব কথা বলেন হাকান ফিদান।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এতে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন নেওয়া হয়নি। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা পাঠ করেন। এরপর তাঁরা সংবাদ সম্মেলনস্থল ছেড়ে যান।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে সিউল থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি আজ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তাঁর সম্মানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যহ্নভোজ শেষে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে দুপুরে কক্সবাজার গেছেন। রাতে তিনি ঢাকায় ফিরবেন। আগামীকাল শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। শনিবার তাঁর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

সমঝোতা স্মারক সই

আজ দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর তুরস্ক ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। এর আওতায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রত্নসম্পদ রক্ষা, জাদুঘর ব্যবস্থাপনা, মহাফেজখানার নথি ও গ্রন্থাগার সামগ্রী সংরক্ষণ, ডিজিটাইজেশন এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হলো।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় দেশ ইউনেসকোর ১৯৭০ সালের কনভেনশনের আলোকে সাংস্কৃতিক সম্পদের অবৈধ আমদানি, রপ্তানি ও মালিকানা হস্তান্তর প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস এবং সাংস্কৃতিক সম্পদের তালিকাভুক্তি ও নথিবদ্ধকরণে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। এ চুক্তি দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

* ঢাকায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
* প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে জোর
* সাংস্কৃতিক সহযোগিতার এমওইউ সই

দুই ধাপের বৈঠক

গত মার্চে আঙ্কারায় বৈঠকের তিন মাসের মাথায় ঢাকায় বৈঠকে বসলেন খলিলুর রহমান ও হাকান ফিদান। প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে নির্ধারিত কোনো আলোচ্যসূচি ছিল না। আলোচনার শুরুতে প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর বাংলাদেশ ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একান্তে প্রায় ৩০ মিনিট কথা বলেন।

বৈঠকে নির্ধারিত কোনো আলোচ্যসূচি না থাকলেও দুই দেশের সম্পর্কের নানা বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তবে এর অর্থ একা চলা নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই নীতির মূল কথা। বাংলাদেশ বন্ধু ও অংশীদার চায়, কোনো প্রভু নয়।

তিনি জানান, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর একটি ছিল তুরস্কের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা। দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে তুর্কি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি শুধু তাঁদের জন্যই পৃথক এই অঞ্চলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, জাহাজনির্মাণ, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের তুর্কি বিনিয়োগ আসবে।

প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধি

হাকান ফিদান বলেন, ‘আমরা বিস্তৃত পরিসরে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার এবং দৃঢ় ভিত্তির ওপর এটিকে আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি।’

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার সম্ভাব্য উদ্যোগগুলো খুঁজে দেখছেন বলে জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষাশিল্পে, আমাদের সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি,’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বৈঠকে দুই দেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে অভিন্ন অবস্থান ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানান হাকান ফিদান।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবিক সহযোগিতা

অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতেও তুরস্কের আধুনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন বা উন্নয়নে তুরস্ককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

খলিলুর রহমান জানান, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি তুরস্কে বসবাস করছেন, যাঁদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। সরকারের আশা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়লে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি পাবে।

রোহিঙ্গা সংকটে পাশে থাকার আশ্বাস

রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংহতি ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য আমরা নিবিড় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি, আমরা তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলকভাবে নিজের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের সমর্থনও অব্যাহত রাখব।’

হাকান ফিদান বলেন, ‘নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি জোরদার করার লক্ষ্যে আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকে সুদৃঢ় করতে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখব।’

বিশ্বশান্তিতে বিশেষ গুরুত্ব

আঞ্চলিক সংঘাতগুলো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বৈশ্বিক গতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সেগুলো বৃহত্তর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা গভীর উদ্বেগের কারণ।

হাকান ফিদান বলেন, ‘ইরানের যুদ্ধ আমাদের অঞ্চলের বাইরেও সমগ্র বিশ্বকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় অর্জিত অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি, এই আলোচনা বাস্তব ফলাফল বয়ে আনবে এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি স্থাপন করবে।’

আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধ-পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিরোধ কেবল সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করা যায়—এই উপলব্ধির আলোকে আমরা আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।

হাকান ফিদান বলেন, ‘আমরা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গেই নয়, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গেও পরামর্শ অব্যাহত রাখছি। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী করার জন্য পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে আমরা অত্যন্ত মূল্য দিই এবং সক্রিয়ভাবে সেই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য যৌথ অঙ্গীকার প্রদর্শন করতে হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ঠেলে পাঠানো ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান করছেন। বিএসএফ তাঁদের ফেরত নেয়নি। খোলা আকাশের নিচে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারী বৃষ্টিতে তাঁরা ভিজেছেন, এমনকি পর্যাপ্ত খাবারও পাচ্ছেন না।

এ তথ্য নিশ্চিত করে বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি খুলনার কয়রায়। তাঁরা দুই বছর আগে ভারতে গিয়েছিলেন। কয়রা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাঠিয়েছেন। সীমান্তের শূন্যরেখার ১০০ গজ দূর থেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএসএফের পক্ষ থেকে তাঁদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। তাঁদের মধ্যে বয়স্ক এক নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এর আগে গত বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সীমান্তের ২০৩/৬–আর পিলার–সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানো হয়। বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁদের ঠেলে পাঠান। ২৮ জনের মধ্যে ১২ পুরুষ, ১০ নারী ও ৬ শিশু রয়েছে। তবে বিজিবির প্রতিরোধের মুখে তাঁরা বাংলাদেশে আসতে পারেননি। এর পর থেকেই তাঁরা নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই। ওই ২৮ জন সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তাঁরা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে নো ম্যান্স ল্যান্ডের ভারতীয় অংশের ৫০ গজ ভেতরে রয়েছেন। এর আগে গতকাল বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই পতাকা বৈঠকে বিএসএফ ২৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর কথা স্বীকার করে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলেও বিজিবিকে আশ্বস্ত করেন বিএসএফের কর্মকর্তারা। কিন্তু পরবর্তী সময় বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে আর কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ঘটনার পর গতকাল বিকেলে বিজিবির রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল কামাল হোসেন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের প্রধান বাজার ফকির মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ৯৫টি দোকান পুড়ে গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাজারের দক্ষিণ পাশে আগুন লাগে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বাজারের দক্ষিণ পাশে ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীদের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে দোকানগুলোতে থাকা দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ৮০টি কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ ছাড়া পাশের জাকের পার্টির কার্যালয়সহ আরও ১৫টি ফল, জুতা, প্রসাধনী ও বইয়ের দোকান পুড়ে গেছে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে পোড়া দোকানের সামনে বসে কিছু ব্যবসায়ী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। চারদিকে আগুনে পোড়া টিন, ছাই আর ধ্বংসস্তূপ। কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অবশিষ্ট মালামাল খুঁজছেন।

ভূরুঙ্গামারী ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি টুটুল মিয়া বলেন, ‘এখানকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। ঈদ উপলক্ষে অনেকেই নতুন করে মালামাল তুলেছিলেন। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা এখন নিঃস্ব। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।’

অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া দোকান। শুক্রবার সকালে ভূরুঙ্গামারীর ফকির মার্কেটে
অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া দোকান। শুক্রবার সকালে ভূরুঙ্গামারীর ফকির মার্কেটে
 

নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্যমতে ৯৫টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বিকেলে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় তাঁদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত ব্যক্তিরা সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মো. রাব্বিলের ছেলে আবদুল্লাহ; শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আবদুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণ পাড়ার ফিটু আলী ছেলে মো. মেসবাউল এবং নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম ও গোসাইপুর গ্রামের মো. শফিউলের ছেলে হাসান আলী (লালু)।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান বলেন, শিবগঞ্জের তিনজনই মারা গেছেন বাড়িসংলগ্ন আমবাগানে। ঝড়বৃষ্টির মধ্যে বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে মারা যান তাঁরা।
ওই তিন পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

এদিকে সদর থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, সদর উপজেলার আতাহারে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে গরু আনতে যায় আবদুল্লাহ (১৭)। এ সময় বজ্রপাতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় মানুষেরা তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বজ্রপাতে গরুটিও মারা যায়।

নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, উপজেলার লাহপাড়ায় মাঠে ঘাস কেটে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার সময়  সুমিয়ারা বেগম বজ্রপাতে মারা যান। এ ছাড়া গোসাইপুর গ্রামের হাসান আলী নামের এক তরুণ আম বাগানে বজ্রপাতে মারা গেছেন।