বানিজ্য

  • Colors: Orange Color

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ই–মেইল সেবা জিমেইল। ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে অফিসের কাজ—সব ক্ষেত্রেই নিয়মিত ব্যবহার করা হয় গুগলের এ সেবাটি। তবে অধিকাংশ ব্যবহারকারী জিমেইলকে শুধু ই–মেইল পাঠানো ও গ্রহণের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহার করেন। অথচ এতে রয়েছে বেশ কিছু কার্যকর সুবিধা, যেগুলো কাজে লাগালে ইনবক্স আরও গোছানো রাখা, গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও সময় সাশ্রয় করা সম্ভব। জেনে নেওয়া যাক জিমেইলের এমনই সাত সুবিধা সম্পর্কে।

১. গুরুত্বপূর্ণ ই–মেইল পরে দেখার সুযোগ

সব ই–মেইলের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় কোনো বার্তা পরে দেখার প্রয়োজন হলেও সেটি অন্য ই–মেইলের ভিড়ে হারিয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে জিমেইলে রয়েছে ‘স্নুজ’ সুবিধা। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো ই–মেইল নির্ধারিত দিন ও সময় পর্যন্ত আড়ালে রাখা যায়। সময় হলে বার্তাটি আবার ইনবক্সের শীর্ষে চলে আসে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ বা রিমাইন্ডার ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।

২. একাধিক ইনবক্সে বার্তা সাজিয়ে রাখুন

প্রতিদিন প্রচুর ই–মেইল এলে প্রয়োজনীয় বার্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জিমেইলের ‘মাল্টিপল ইনবক্স’ সুবিধা ব্যবহার করে আনরিড মেসেজ, স্টারমার্ক দেওয়া ই–মেইল, ড্রাফট মেসেজ (খসড়া) বা নিজস্ব লেবেল অনুযায়ী আলাদা বিভাগ তৈরি করা যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো সহজেই নজরে রাখা সম্ভব।

৩. গোপনীয় তথ্য পাঠাতে কনফিডেনশিয়াল মোড

সংবেদনশীল তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ নথি ই–মেইলে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়। এ জন্য জিমেইলে রয়েছে ‘কনফিডেনশিয়াল মোড’। এ সুবিধার মাধ্যমে ই–মেইলের মেয়াদ নির্ধারণ করা যায়। নির্দিষ্ট সময় পার হলে বার্তাটি আর দেখা যায় না। পাশাপাশি প্রাপকের পরিচয় নিশ্চিত করতে খুদে বার্তার মাধ্যমে পাঠানো নিরাপত্তা কোড ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।

৪. ই–মেইল অ্যালিয়াস ব্যবহারের সুবিধা

জিমেইলের কম পরিচিত কিন্তু কার্যকর একটি সুবিধা হলো ই–মেইল অ্যালিয়াস। মূল ই–মেইল ঠিকানার সঙ্গে ‘+’ চিহ্ন এবং অতিরিক্ত শব্দ যোগ করে ভিন্ন উদ্দেশ্যে আলাদা ঠিকানা ব্যবহার করা যায়। উদাহরণ হিসেবে This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it. বা This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it. ধরনের ঠিকানা ব্যবহার করা সম্ভব। এসব ঠিকানায় পাঠানো সব বার্তাই মূল ইনবক্সে আসে। তবে সেগুলো আলাদা করে শনাক্ত ও শ্রেণিবিন্যাস করা সহজ হয়।

৫. ইন্টারনেট ছাড়াও জিমেইল ব্যবহার

বিমানযাত্রা, ভ্রমণ বা দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে অনেক সময় ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতেও জিমেইল ব্যবহার করা সম্ভব। সেটিংস থেকে অফলাইন মোড চালু করলে ই–মেইল পড়া, ই–মেইল সার্চ করা এবং খসড়া বার্তা তৈরির কাজ ইন্টারনেট ছাড়াই করা যায়। পরে সংযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়।

৬. উন্নত অনুসন্ধান সুবিধায় দ্রুত বার্তা খোঁজা

অনেক বছরের ই–মেইলের ভিড়ে নির্দিষ্ট কোনো বার্তা খুঁজে বের করা সময়সাপেক্ষ হতে পারে। জিমেইলের উন্নত অনুসন্ধান সুবিধা এ কাজকে অনেক সহজ করে। প্রেরকের নাম, নির্দিষ্ট সময়সীমা, সংযুক্ত ফাইলের ধরন, ফাইলের আকার বা নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে দ্রুত অনুসন্ধান করা যায়। ফলে অনেক পুরোনো ই–মেইলও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

৭. পাঠানো ই–মেইল ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ

ভুলবশত অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যসংবলিত কোনো ই–মেইল পাঠিয়ে ফেললে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জিমেইলের ‘আনডু সেন্ড’ সুবিধা এ ধরনের সমস্যা এড়াতে সহায়তা করে। সুবিধাটি চালু থাকলে ই–মেইল পাঠানোর পর কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়, যার মধ্যে বার্তা পাঠানো বাতিল করা বা প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব। ফলে অনিচ্ছাকৃত ভুলের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

সূত্র: টেক্লুসিভ

আহসান হাবীব

সকাল সাড়ে নয়টা। প্যারিস এক্সপো পোর্ত দ্য ভার্সাইয়ের প্রধান প্রবেশপথের সামনে তখন দীর্ঘ সারি। হাতে ল্যাপটপ ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। কেউ এসেছেন বিনিয়োগের খোঁজে, কেউ নতুন প্রযুক্তি দেখতে, কেউবা বিশ্ববাজারে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে। নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে বিশাল প্রদর্শনী হলে ঢুকতেই চোখে পড়ে একের পর এক বিশাল স্ক্রিন, রোবটের চলাফেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রদর্শনী এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত আলোচনা।

মুহূর্তেই বোঝা যায়, এটি কোনো সাধারণ প্রদর্শনী নয়। এটি ভিভাটেক ২০২৬। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন, যা এ বছর (১৭-২০ জুন) উদ্‌যাপন করছে তার দশম বর্ষপূর্তি।

২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা ভিভাটেক এক দশকে প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। একসময় এটি ছিল মূলত স্টার্টআপ ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম। আজ এটি প্রযুক্তি, অর্থনীতি, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার একটি মঞ্চ।

প্রদর্শনী হলের ভেতরে ঢুকে প্রথমেই চোখে পড়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আধিপত্য। পুরো সম্মেলনটিই এই দুটি অক্ষরকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। একটি স্টলে এআই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দর্শনার্থীর ছবি থেকে নতুন প্রতিকৃতি তৈরি করছে। অন্য একটি স্টলে দেখানো হচ্ছে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসকদের রোগ শনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে। আরেক পাশে একটি হিউম্যানয়েড রোবট দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে।

 

কয়েক বছর আগেও প্রযুক্তি সম্মেলনের আলোচনায় নতুন অ্যাপ, নতুন ডিভাইস কিংবা নতুন ব্যবসায়িক ধারণা প্রাধান্য পেত। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এআই এখন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার আলোচনার কেন্দ্রে।

তাই ভিভাটেকের করিডর থেকে মূল মঞ্চ; সবখানেই একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার যুগে ইউরোপের অবস্থান কোথায়?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সম্ভবত প্রযুক্তি সম্মেলনের মঞ্চে এখন শুধু উদ্যোক্তারা নন, হাজির হচ্ছেন রাষ্ট্রনায়কেরাও।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

এবারের ভিভাটেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাঁখো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এআই, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড অবকাঠামো এবং ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি তারই প্রতিফলন।

একসময় প্রযুক্তি ছিল ব্যবসার বিষয়। এখন এটি ভূরাজনীতি এবং জাতীয় কৌশলেরও অংশ। মূল মঞ্চে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং শিল্পনেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস থেকে শুরু করে ইউরোপীয় AI খাতের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব আর্থার মেন্স—সবার বক্তব্যেই উঠে এসেছে AI-এর সম্ভাবনা, ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ। কেউ বলছেন, AI শিল্পবিপ্লবের পর মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। আবার কেউ সতর্ক করছেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতার প্রশ্নও সমান গুরুত্ব পেতে হবে।

তবে ভিভাটেকের প্রকৃত প্রাণ খুঁজতে হলে মূল মঞ্চ ছেড়ে চলে যেতে হয় স্টার্টআপ জোনে। সেখানে বড় প্রতিষ্ঠানের চাকচিক্য কম, কিন্তু স্বপ্নের পরিমাণ অনেক বেশি।

 

একটি ছোট বুথে দেখা গেল দুই তরুণ উদ্যোক্তা তাঁদের নতুন সফটওয়্যার নিয়ে আগ্রহী দর্শনার্থীদের বোঝাচ্ছেন। পাশের বুথে একটি স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের AI-ভিত্তিক সমাধান প্রদর্শন করছে। আরেক কোণে কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা একটি স্টার্টআপ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে।

অনেক উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, তাঁরা এখানে শুধু পণ্য প্রদর্শন করতে আসেননি। তাঁরা এসেছেন মানুষ খুঁজতে, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার, গ্রাহক কিংবা ভবিষ্যতের সহযোগী।

একটি হল থেকে আরেকটি হলে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায়, বিভিন্ন টেবিলে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বৈঠক চলছে। কোথাও পাঁচ মিনিটের ‘পিচ’, কোথাও আধা ঘণ্টার আলোচনা। একটি ধারণা, একটি প্রেজেন্টেশন কিংবা একটি সফল আলাপ কখনো কখনো কোটি কোটি ইউরোর বিনিয়োগের পথ খুলে দিতে পারে। তবে ভিভাটেক শুধু ব্যবসার জায়গা নয়; এটি প্রযুক্তির এক উৎসবও। রোবটের সঙ্গে ছবি তুলছে শিশুরা। তরুণেরা ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট পরে অন্য এক জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। AI-নির্ভর গেমিং প্রযুক্তি ঘিরে ভিড়। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিয়ে কৌতূহল দর্শনার্থীদের।

 

এক ফরাসি দম্পতিকে দেখা গেল তাঁদের দুই সন্তানকে নিয়ে রোবোটিকস প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন। শিশুদের একজন কেভিন। একটি রোবটের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আনন্দে লাফিয়ে ওঠে।

ভিভাটেকের আয়োজকেরা প্যারিসকে বিশ্বের প্রযুক্তি রাজধানীগুলোর অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। সিলিকন ভ্যালি, শেনজেন, বেঙ্গালুরু কিংবা সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি ইউরোপীয় উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে প্যারিসকে তুলে ধরার প্রচেষ্টার অংশ এই সম্মেলন। ফ্রান্স ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্টার্টআপ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ভিভাটেক সেই বিনিয়োগ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকেও ভিভাটেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব প্রযুক্তি খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। AI, অটোমেশন এবং ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং স্টার্টআপগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি এখন আর বিলাসিতা নয়; বরং প্রয়োজন।

ভিভাটেকের প্রদর্শনী হলগুলো ঘুরে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উত্তেজনা যেমন আছে, তেমনি আছে উদ্বেগও। এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে? ডেটার মালিকানা কার হাতে থাকবে? প্রযুক্তি কি বৈষম্য কমাবে নাকি বাড়াবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত। ভবিষ্যৎ নিয়ে যে বিতর্ক, যে প্রতিযোগিতা এবং যে স্বপ্ন—তার অনেকটাই প্যারিসের ভিভাটেকে উপস্থিত।

শাহ সুহেল আহমদ, প্যারিস, ফ্রান্স

বিভ্রাটের কবলে পড়েছে মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এর মেসেজিং সেবা মেসেঞ্জার। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই প্ল্যাটফর্ম দুটিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা।

ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, ফেসবুকে লগইন করা যাচ্ছে না, নিউজ ফিডেও নতুন পোস্ট আসছে না। একই সঙ্গে মেসেঞ্জারেও বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

ঢাকার একজন ব্যবহারকারী বলেন, ‘সন্ধ্যা সাতটার পর হঠাৎ করে দেখলাম, মেসেঞ্জার অটো লগআউট হয়ে গেল। এরপর ফেসবুকে ঢুকে দেখি পোস্ট করা যাচ্ছে না, নতুন পোস্টও আসছে না।’

বিভ্রাটের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মেটার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চুরি বা হারিয়ে যাওয়া আইফোনের তথ্য সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নিরাপত্তা–সুবিধা দিয়ে আসছে অ্যাপল। তবে আইফোন আনলক অবস্থায় চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েই যায়। এ সমস্যা সমাধানে নতুন একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে অ্যাপল। ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কেউ গোপনে ব্যবহার করলে বা আইফোনের অবস্থান হঠাৎ পরিবর্তন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইফোন লক করে দেবে প্রযুক্তিটি।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট নাইন টু ফাইভ ম্যাকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি বা ছিনতাই হওয়া আইফোনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নতুন একটি প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল। বর্তমানে আইফোনে ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রোটেকশন’সহ বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা–সুবিধা রয়েছে। নতুন প্রযুক্তিটি বিভিন্ন সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আইফোন স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, নাকি চুরি বা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে। বিশেষ করে অ্যাকসেলেরোমিটার সেন্সরের মাধ্যমে আইফোনের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত করে সম্ভাব্য চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা চিহ্নিত করে লক করে দেবে প্রযুক্তিটি। ফলে চোর বা ছিনতাইকারী আইফোনটি ব্যবহার, রিসেট বা এর ভেতরে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্য দেখার সুযোগ পাবে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের মধ্যকার দূরত্ব হঠাৎ বেড়ে গেলে সেটিকে সন্দেহজনক পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি কমাতে একাধিক তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করবে প্রযুক্তিটি। আইফোন যদি হঠাৎ পরিচিত ও বিশ্বস্ত কোনো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতা ছেড়ে অপরিচিত নেটওয়ার্কে চলে যায়, সেটিও সম্ভাব্য চুরির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও ডিভাইসটির সুরক্ষাব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হতে পারে।

নতুন এ সুবিধা কবে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি অ্যাপল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনে থাকা থেফট প্রটেকশন নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবেই প্রযুক্তিটি যুক্ত করা হবে।

সূত্র: নিউজ ১৮

মহাকাশের শূন্যতায় বা ভিনগ্রহের প্রতিকূল পরিবেশে মানুষ কি কখনো নিজেদের বংশবৃদ্ধি করতে পারবে? দীর্ঘমেয়াদি মহাজাগতিক যাত্রার প্রাক্কালে এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার এক অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ নিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের বাইরে মানুষের প্রজনন ও প্রাথমিক বিকাশের রহস্য উদ্‌ঘাটনে প্রথমবারের মতো মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়েছে মানুষের কৃত্রিম ভ্রূণের মডেল। মহাশূন্যের মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা অতিসামান্য মাধ্যাকর্ষণ এবং মহাজাগতিক বিকিরণ মানুষের বিকাশের একেবারে প্রাথমিক স্তরগুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন চীনা গবেষকেরা। এই লক্ষ্যে তাঁরা মানুষের স্টেম সেল বা কোষ থেকে তৈরি বিশেষ কিছু কাঠামো চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছেন, যা মানব ইতিহাসের প্রথম মহাকাশভিত্তিক কৃত্রিম ভ্রূণ মডেলের পরীক্ষা। নমুনাগুলো তিয়ানঝৌ-১০ নামক একটি কার্গো মহাকাশযানের মাধ্যমে গত মে মাসের শুরুর দিকে তিয়াংগং স্টেশনে পৌঁছায়। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব জুলজির বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ পরীক্ষা পরিচালনা করছেন।

মহাকাশে পাঠানো এই ভ্রূণ কিন্তু কোনো পূর্ণাঙ্গ মানবশিশু বা ভ্রূণ তৈরিতে সক্ষম নয়। বিজ্ঞানীরা এগুলোকে বলছেন কৃত্রিম ভ্রূণ মডেল, যা মানুষের স্টেম সেল থেকে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে বড় করা হয়েছে। এগুলো মূলত নিষিক্তকরণের পর থেকে ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত একটি আসল ভ্রূণ যেভাবে বাড়ে, ঠিক সেই পর্যায়কে অনুকরণ করতে পারে। এই কোষগুলো নিজে নিজেই বিন্যস্ত হতে এবং বিভাজিত হতে পারে, কিন্তু এগুলো কখনোই কোনো পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হবে না। এই সুনির্দিষ্ট পার্থক্যের কারণেই বিজ্ঞানীরা কোনো ধরনের নৈতিক বিধিনিষেধ বা আইনি জটিলতা ছাড়াই আদিম মানববিকাশের ওপর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানোর সুযোগ পেয়েছেন।

চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব জুলজির বিজ্ঞানী ইউ ল্যচিয়ান বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে মহাকাশ এবং পৃথিবীতে রাখা নমুনার বিকাশের মধ্যে তুলনা করার মাধ্যমে আমরা মহাকাশের পরিবেশে মানুষের প্রাথমিক ভ্রূণের বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলা উপাদানগুলো শনাক্ত করতে পারব। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ বসবাসের সময় মানুষ যেসব ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে। এটি কোনো আসল মানুষের ভ্রূণ নয় এবং এর কোনো ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা নেই। তবে এটি মানুষের প্রাথমিক বিকাশের ধাপগুলো অধ্যয়নের জন্য একটি চমৎকার মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।’

পৃথিবীর সব প্রাণীর বিবর্তন ঘটেছে এখানকার নির্দিষ্ট মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অধীনে। কিন্তু মহাকাশের কক্ষপথের মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা ওজনহীনতা এবং উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর বিকিরণ মানুষের শরীরের কোষের বিন্যাস, জিনের প্রকাশ কিংবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। যেহেতু মানুষ এখন মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘকাল থাকার এবং ভবিষ্যতে দূরবর্তী গ্রহে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, তাই মানবদেহে এই প্রভাবগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প প্রধান ইউ ল্যচিয়ান জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো একটি অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা, আর তা হলো মানুষ কি মহাকাশে বেঁচে থাকতে এবং প্রজনন বা বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম? মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মানুষের একদম শুরুর দিকের শারীরিক বিকাশের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা বিজ্ঞানীরা একবার পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলে এর যেকোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব বা ক্ষতি প্রতিরোধ করার উপায়গুলোও সহজেই খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

নিজেদের তৈরি একাধিক পুরোনো মডেলের আইপডসহ একটি মডেলের ম্যাকবুক ও অ্যাপল টিভি থেকে নিজেদের প্রযুক্তি সমর্থন সুবিধা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে যন্ত্রগুলোতে অ্যাপলের হালনাগাদ প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা-সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না। ফলে কারিগরি ত্রুটি হলে যন্ত্রগুলো মেরামতের সুবিধা মিলবে না। শুধু তা–ই নয়, সাইবার হামলা হুমকিতেও থাকবেন ব্যবহারকারীরা।

অ্যাপলের ‘ভিনটেজ’ ও ‘অবসোলিট’ তালিকায় যুক্ত হওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২০১৭ সালে বাজারে আসা ১৩ ইঞ্চির ম্যাকবুক এয়ার। ‘ভিনটেজ’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় পণ্যটি নষ্ট হলে অ্যাপল স্টোর বা অনুমোদিত সেবাকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ মজুত থাকা সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে কারিগরি সেবা পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে আইপ্যাড মিনি ৪–এর সব সংস্করণ এবং ৩২ গিগাবাইট সংস্করণের অ্যাপল টিভি এইচডিকে ‘অবসোলিট’ বা প্রযুক্তিগতভাবে অচল পণ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব ডিভাইসের জন্য অ্যাপল আর কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক হার্ডওয়্যার সেবা বা মেরামতসুবিধা দেবে না।

অ্যাপলের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পণ্য পাঁচ বছরের বেশি সময় বাজারে বিক্রি না হলে সেটিকে ‘ভিনটেজ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর সাত বছরের বেশি সময় ধরে বিক্রি বন্ধ থাকলে সেটি ‘অবসোলিট’ তালিকায় যুক্ত হয়।

সূত্র: ডেইলি মেইল

আহসান হাবীব

Page 1 of 5

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব