বানিজ্য

  • Colors: Orange Color

গুগলের অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাইবার অপারাধীরা প্রায় ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান গার্ডিও। নতুন এই কৌশলকে ‘অ্যাকাউন্টডাম্পলিং’ নামে অভিহিত করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভিয়েতনামভিত্তিক একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ চালিয়ে আসছে এবং হ্যাক করা অ্যাকাউন্টগুলো অবৈধভাবে অনলাইনে বিক্রি করছে।

গার্ডিওর নিরাপত্তা গবেষক শেকড চেন বলেন, এটি কোনো এককালীন ফিশিং কৌশল নয়, এটি একটি ধারাবাহিক ও ক্রমবিবর্তিত অপরাধ। এতে রিয়েল-টাইম অপারেটর প্যানেল, উন্নত কৌশল এবং একটি সুসংগঠিত বাণিজ্যিক কাঠামো রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দখল করে তা বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার ইতিহাস যুক্ত থাকে, সেগুলোর চাহিদা অবৈধ বাজারে তুলনামূলক বেশি। এই আক্রমণের শুরু হয় লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং ই–মেইলের মাধ্যমে। মূলত ফেসবুকের বিজনেস অ্যাকাউন্টধারীদের উদ্দেশে পাঠানো এসব ই–মেইলে মেটার সাপোর্ট বিভাগের পরিচয় ব্যবহার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টে সমস্যা আছে এবং দ্রুত আবেদন না করলে অ্যাকাউন্টটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। গুগল অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্মের ‘নোরিপ্লাই’ ঠিকানা থেকে ই–মেইল পাঠানোর কারণে সাধারণ স্প্যাম ফিল্টার এগুলো শনাক্ত করতে পারছে না। পরে তাদের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নেওয়া হয়, যেখানে লগইন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গার্ডিও এই অভিযানে ব্যবহৃত চারটি প্রধান কৌশল চিহ্নিত করেছে। প্রথমত, নেটলিফাইয়ে হোস্ট করা ভুয়া ফেসবুক সাপোর্ট পেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্মতারিখ, ফোন নম্বর এবং পরিচয়পত্রের ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব তথ্য সাইবার অপরাধীদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পাঠানো হয়। দ্বিতীয়ত, ‘ব্লু ব্যাজ’ যাচাইয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের ভেরসেলে হোস্ট করা ভুয়া নিরাপত্তা যাচাই পেজে নেওয়া হয়। সেখানে নকল ক্যাপচা যাচাইয়ের পর ব্যবহারকারীদের ফিশিং পেজে পাঠিয়ে যোগাযোগের তথ্য, ব্যবসায়িক তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কোড সংগ্রহ করা হয়। তৃতীয়ত, গুগল ড্রাইভে রাখা পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই পিডিএফগুলো ‘ক্যানভা’ ব্যবহার করে তৈরি করা। এর মাধ্যমে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ব্রাউজারের স্ক্রিনশটও হাতিয়ে নেওয়া হয়।। চতুর্থত, হোয়াটসঅ্যাপ, মেটা, অ্যাপল বা কোকা-কোলার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে প্রথমে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করে পরে তাঁদের হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে নেওয়া হয়।

গার্ডিওর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম তিনটি কৌশলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কানাডা, ফিলিপাইন, ভারত, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর বাসিন্দা। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারিয়েছেন।

সূত্র: দ্য হ্যাকার নিউজ

ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডের নতুন হালনাগাদ উন্মুক্ত করেছে গুগল। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে অনলাইনে তথ্য অনুসন্ধান ও কেনাকাটার সময় ব্যবহারকারীদের বারবার ট্যাব পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। ফলে ব্যবহারকারীরা বর্তমানের তুলনায় দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

গুগল জানিয়েছে, ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডে যুক্ত নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের একই সঙ্গে ওয়েবসাইট ব্রাউজিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণের সুযোগ দেবে। নতুন হালনাগাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হচ্ছে ‘স্প্লিট-স্ক্রিন’ সুবিধা। সুবিধাটি চালুর ফলে এআই মোডে কোনো লিংকে ক্লিক করলে সেটি আলাদা ট্যাবে না খুলে একই পর্দায় এআই উইন্ডোর পাশেই দেখা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীদের আগের পাতায় ফিরে যেতে বা বারবার ট্যাব পরিবর্তন করতে হবে না।

নতুন হালনাগাদে ‘মাল্টি-মোডাল’ অনুসন্ধান সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাঁদের খোলা ট্যাব, ছবি বা পিডিএফ ফাইল থেকে তথ্য নিয়ে একসঙ্গে অনুসন্ধান করতে পারবেন। এর পাশাপাশি সার্চ বক্সে থাকা নতুন ‘প্লাস’মেনুতে ক্লিক করে ব্যবহারকারীরা সাম্প্রতিক ট্যাব, ছবি বা ফাইল নির্বাচন করে সেগুলোকে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুক্ত করতে পারবেন। ফলে ব্যবহারকারীরা একাধিক উৎস থেকে তথ্য একত্রিত করে জটিল অনুসন্ধান সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন।

গুগলের দাবি, ক্রোম ব্রাউজারের নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের তথ্য খোঁজা ও বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াকে আরও সাবলীল করে তুলবে। এতে ব্যবহারকারীরা একই কাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন তথ্য তুলনা করতে পারবেন, নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রশ্ন করার পাশাপাশি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফেরার সময় তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থায় ক্ষয় দেখা দিয়েছিল। এবার আর্টেমিস–২ অভিযানের সময়ও সেই উদ্বেগ ছিল। তবে সব উদ্বেগ পেছনে ফেলে আর্টেমিস–২ অভিযানের নভোচারীরা আজ শনিবার সকালে নিরাপদে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করেছেন।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় অল্প সময়ের জন্য হিউস্টনে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে নভোচারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এ সময় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে পরে অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ামাত্রই নিয়ন্ত্রণকক্ষে স্বস্তি ফিরে আসে। মহাকাশযান থেকে পাওয়া তাঁর কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করে, নভোচারীরা নিরাপদে পৃথিবীর পথে ফিরছেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষকে ওয়াইজম্যান বলেন, ‘হিউস্টন, যোগাযোগ ঠিক আছে। আমরা আপনাদের স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছি।’

এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তিন মার্কিন ও একজন কানাডীয় নভোচারী। তাঁরা হলেন—ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার, জেরেমি হ্যানসেন ও রিড ওয়াইজম্যান। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল—ভবিষ্যতে একটি বেজ স্থাপনসহ চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

এটি ছিল গত পাঁচ দশকের বেশি সময় পর প্রথম চাঁদের চারপাশে মানুষের ঘুরে আসার অভিযান।

মহাকাশযানের গতি ও তাপ

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় মহাকাশযানটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার গতিতে চলছিল। এর তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ অবস্থায় এটির গতি ছিল শব্দের গতির ৩০ গুণের বেশি এবং তাপমাত্রা সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় অর্ধেক।

ওরিয়ন ক্যাপসুলটি যখন প্রচণ্ড তাপের কারণে উত্তপ্ত লাল প্লাজমায় ঢেকে গেল, তখন হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। প্রায় ছয় মিনিট ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময়টাতে সবকিছু নির্ভর করছিল জীবনরক্ষাকারী হিট শিল্ড বা তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর।

একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগব্যবস্থায় রিড ওয়াইজম্যানের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সফল পুনঃপ্রবেশ নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণকক্ষে করতালির শব্দ শোনা যায়। সেখানে নভোচারীদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

[caption id="attachment_271481" align="alignnone" width="850"] নভোচারীদের নিয়ে ওরিয়ন ক্যাপসুল প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করছেছবি: নাসা[/caption]

২০২২ সালে আর্টেমিস–১ অভিযানের সময় অপ্রত্যাশিতভাবে নভোযানের তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবারের অভিযানে ঝুঁকি কমাতে পুনঃপ্রবেশের জন্য অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত একটি পথ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বৈচিত্র্যময় এক নভোচারী দল

আর্টেমিস–২ অভিযানে বেশ কিছু রেকর্ড হয়েছে। নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অমার্কিন হিসেবে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার রেকর্ড গড়েন। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে নাসার অ্যাপোলো অভিযানগুলোতে কেবল শ্বেতাঙ্গ মার্কিন পুরুষদের নিয়েই নভোচারী দল গঠন করা হয়েছিল।

আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছেন। ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো–১৩ অভিযানের চেয়েও দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছেন তাঁরা।

এনডিটিভি

পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় মানুষের ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী।

নভোচারীরা যখন ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চাঁদের পেছন দিকে যায়, তখন পৃথিবীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরবর্তী সময়ে ওই অংশ ঘুরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে তাঁদের আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

আর্টেমিস–২ অভিযানের চারজন নভোচারী গতকাল সোমবার যখন চাঁদের পেছন দিকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় পৌঁছান, তখন পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল। এর আগে পৃথিবী থেকে এত দূরে কোনো মানুষ ভ্রমণ করেননি। এর মধ্য দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে আর্টেমিস–২ অভিযান।

আগের রেকর্ডটি প্রায় ৫৬ বছর আগের। আল–জাজিরার খবর বলছে, ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো–১৩ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছিলেন। ওই সময় তাঁরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে গিয়েছিলেন।

১ এপ্রিল  ‘আর্টেমিস-২’ অভিযানে চার নভোচারী কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চড়ে এ ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন। সর্বশেষ চাঁদে নভোচারী গিয়েছিল ১৯৭২ সালে। ওই সময় অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এবার প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হলেন।

নাসার আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী
নাসার আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী, ছবি: নাসার সৌজন্যে
 

এই চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন।  

চাঁদের পেছন দিক থেকে ফিরে নাসার নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার পর ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, ‘পৃথিবী থেকে আবারও শব্দ শুনতে পাওয়াটা খুবই আনন্দের।’

নভোচারীরা সেখানে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর্টেমিস–২ অভিযানে থাকা ওরিয়ন নভোযানের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘আমরা যেন কল্পবিজ্ঞানের জগতে চলে গিয়েছিলাম। খুবই অপার্থিব লেগেছে।’

তাঁদের এ নতুন রেকর্ড ভবিষ্যতে মানুষ ভেঙে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন আর্টেমিস–২–এর নভোচারীরা।

আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। ১০ দিনের অভিযানে তাঁরা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরবেন। ১৯৭২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণ করছেন।

মনুষ্যবাহী এই পরীক্ষামূলক যাত্রার মূল লক্ষ্য চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করা। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে আবারও নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বিবিসি আল–জাজিরা

ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের নভোচারীরা সোমবার (৬ এপ্রিল) চাঁদের অদৃশ্য বা দূরবর্তী পাশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা পৃথিবী থেকে এমন এক দূরত্বে পৌঁছাবেন, যেখানে এর আগে কোনো মানুষ কখনও যায়নি।

নাসা জানিয়েছে, বুধবার উৎক্ষেপণের পর থেকে মিশনটি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তিনজন মার্কিন নভোচারী ও একজন কানাডীয় নভোচারী নিয়ে গঠিত এই দলটি বর্তমানে চাঁদের অভিকর্ষ বলয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সোমবারের মধ্যেই তারা মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের নতুন রেকর্ড গড়বে।

মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, পৃথিবী এখন বেশ ছোট দেখাচ্ছে, আর চাঁদ ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানুষ আবার চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। প্রায় ৫৪ বছর পর মানব মহাকাশ অভিযানে এটি নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সফল যাত্রার মাঝেও একটি বিব্রতকর সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওরায়ন মহাকাশযানের টয়লেট ঠিকমতো কাজ করছে না। উৎক্ষেপণের পর থেকেই এটি বারবার বিকল হয়ে পড়েছে। আপাতত নভোচারীদের বিকল্প ইউরিন সংগ্রহ ব্যাগ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। প্রকৌশলীদের ধারণা, বরফ জমে নিষ্কাশন লাইনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

নাসার ওরায়ন কর্মসূচির উপব্যবস্থাপক ডেবি কর্থ বলেন, মহাকাশে টয়লেট ব্যবস্থা সব সময়ই একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, বাথরুম থেকে দুর্গন্ধের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে নভোচারীদের মনোবল বেশ চাঙা রয়েছে। মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানান, মহাকাশ থেকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়েছেন।

নাসা ইতোমধ্যে চাঁদের বিখ্যাত ওরিয়েন্টালে বেসিনের ছবি প্রকাশ করেছে, যেটিকে অনেকেই চাঁদের “গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন” বলে থাকেন। এই বিশাল গহ্বরটি মানুষের চোখে এত স্পষ্টভাবে এই প্রথম ধরা পড়েছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ওরায়ন মহাকাশযান চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এই মিশনটি ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ নামানোর বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। নাসার লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে সেখানে নভোচারী অবতরণ করানো। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

ঢাকা

Page 1 of 3

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব