ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।  

তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করে। সে কারণে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে বলে সরকার মনে করে।

সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় ভারতের সঙ্গে চলমান বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। 
তিনি জানান, গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ নবায়নের সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানিবণ্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।  

ভারতের ভিসা ইস্যু প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের সফরে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি জানান। 

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিগগির ট্যুরিস্টসহ সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। এতে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে।

 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭ আসনে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে মাত্র ৫৯টি আসনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস।

মোট আসনের মধ্যে ১৪৮টি আসন পেলেন সরকার গঠন করতে পারবে বিজয়ী দল। ফলে স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।

সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ভারতের নির্বাচন কমিশন এই তথ্য ঘোষণা করেছে।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয় পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছিল, তারা গত তিনবারের মতো এবারও বিপুল ব্যবধানে জয় পাবে। তবে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেখা যাচ্ছে বিজেপিকেই বেশিরভাগ মানুষ ভোট দিয়েছেন।

এতে মমতার ১৫ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। এদিকে নিজের আসন ভবানীপুরেও হেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বশেষ ১৮তম রাউন্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী এই আসনে ভোট পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭৮২।

অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৭৮৫ ভোট। মমতার চেয়ে ১১ হাজার ৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

আরেকটি আসন নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করা পবিত্র করকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এই কৌশল কার্যত ব্যর্থ হয়ে গেল। কারণ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ১০ হাজারের বেশি। যদিও নন্দীগ্রাম নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ‘নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতছে!’

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে লড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে হারতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। শেষ হাসি হাসেন শুভেন্দুই। প্রায় ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে জয় ছিনিয়ে আনেন লোকসভার সাবেক এই সাংসদ।

সেই ফল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়। পাঁচ বছর পরে আরও একটি বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়ে গেলেও হাইকোর্টে সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।

 

চলতি বছরই ছাদনাতলায় বসতে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি! দীর্ঘদিনের চর্চিত প্রেমিক ও অভিনয়প্রশিক্ষক রচিত সিংয়ের সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখবেন। কবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন এই চর্চিত প্রেমিক যুগল?

চলতি বছরের অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের মধ্যেই বিয়ের পরিকল্পনা করছেন হুমা ও রচিত। ইতিমধ্যেই নাকি বিয়ের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন হুমা-রচিত! তারকাদের বিয়ে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনার কথা আলাদা করে বলার অপেক্ষাই রাখে না। ভেন্যু থেকে মেনু—পুরোটাই থাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সেলিব্রিটিদের ডেস্টিনেশন ওয়েডিং, বিয়ের সাজসজ্জা, হাই প্রোফাইল অতিথিদের জন্য খাবারের তালিকায় কী কী পদের বন্দোবস্ত করা হলো, তা জানতে মুখিয়ে থাকেন সাধারণ মানুষ। হুমা কুরেশির ক্ষেত্রেও যে তার ব্যতিক্রম হবে না, তা বলাই বাহুল্য।

সংগীতশিল্পী আকাসা সিং সাম্প্রতিক অতীতে রচিতকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘হুমা-ই তো তোমার জীবনের এক চিলতে স্বর্গ। দুজনের সঙ্গে একটা দারুণ রাত কাটালাম।’ রচিতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের।
ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়েই মুম্বাইয়ে হবে বিয়ের অনুষ্ঠান। এরপর ইন্ডাস্ট্রির সতীর্থদের জন্য একটি জমকালো রিসেপশন পার্টির আয়োজন করা হবে।

হুমা কুরেশি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
হুমা কুরেশি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

হুমা ও রচিতের সম্পর্কের গুঞ্জন ‘থাম্মা’র স্ক্রিনিংয়ের সময় যুগল উপস্থিতি থেকে। এ ছাড়া কাছের বন্ধু সোনাক্ষী সিনহার বিয়েতেও রংমিলান্তি গোলাপি পোশাকে সবার নজর কেড়েছিলেন হুমা আর রচিত। সম্পর্ক নিয়ে যতই জল ঘোলা হোক না কেন, একটি শব্দও খরচ করেননি তাঁরা। ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে হুমা কুরেশি তাঁর দীর্ঘদিনের চর্চিত প্রেমিক ও অভিনয়প্রশিক্ষক রচিত সিংহের সঙ্গে বাগ্‌দান সেরে ফেলেছেন।
আংটি বদলের গুঞ্জনের সূত্রপাত সংগীতশিল্পী আকাসা সিংয়ের একটি পোস্ট। রচিতকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘হুমা-ই তো তোমার জীবনের এক চিলতে স্বর্গ। দুজনের সঙ্গে একটা দারুণ রাত কাটালাম।’

রচিতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের। এ রকম বেশ কিছু ঘটনা থেকেই হুমা-রচিতের প্রেমের গুঞ্জন আরও জোড়ালো হয়। রচিত সিং অনেক তারকার অভিনয়প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছেন আলিয়া ভাট, রণবীর সিং ও ভিকি কৌশল।

বলিউড হাঙ্গামা অবলম্বনে

রচিত ও মাহিন। এক্স থেকে
রচিত ও মাহিন। এক্স থেকে

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আজ শনিবার (২ মে) সিলেট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফর ঘিরে নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি, নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন তিনি।

সকাল ১১টায় চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করবেন। বিকেল ৩টায় জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ উদ্বোধন এবং বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন। সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সিলেটে সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও চলছে প্রস্তুতি। বিভিন্ন মোড়ে তোরণ নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজও চলছে।

সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদারে বাড়ানো হয়েছে টহল, বসানো হচ্ছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, সফরকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনও বলছে, সব প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। বিভিন্ন কর্মসূচি ও মিছিলের মাধ্যমে তারা স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দলটির নেতারা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে সিলেটের যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও সার্বিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

প্রথম সফরকে ঘিরে সিলেটে এখন প্রশাসনিক তৎপরতা, রাজনৈতিক আলোচনা আর উন্নয়নের প্রত্যাশায় তৈরি হয়েছে নতুন পরিবেশ। এখন সবার নজর, এই সফর কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনে।

রাজধানীর বারিধারায় গির্জায় ঢুকে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে গির্জার পরিচালকের হাত-পা ও মুখ বেঁধে আড়াই লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ‘ডি মাজেন্ড গির্জার’ সীমানাপ্রাচীর টপকে ও গ্রিল কেটে ওই লুটের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির চরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, ১টি পাসপোর্ট, ১টি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ গ্রিল কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু (৩৬), মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান (৩৭) ও আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির (৩৮)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদক ও অনলাইন জুয়ায় চরমভাবে আসক্ত। জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তাঁরা এই দস্যুতার পরিকল্পনা করেন।

আজ শুক্রবার ভাটারা থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ।

যেভাবে ঘটনা ঘটে

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপকমিশনার তানভীর আহমেদ বলেন, ঘটনাটি গত ২৮ এপ্রিলের (মঙ্গলবার)। সেদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় দুজন দুষ্কৃতকারী ডি মাজেন্ড গির্জার দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে প্রথমে গির্জার কর্মচারীদের কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে তারা গির্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গোমেজের অফিস রুমের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ফাদারের হাত-পা ও মুখ বেঁধে অফিস রুমের আলমারি খুলে আড়াই লাখ টাকা, একটি পাসপোর্ট ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুট করে। পরে আরেকজন দুষ্কৃতকারীর সহযোগিতায় দেয়াল টপকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে তাঁরা পালিয়ে যান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ। আজ শুক্রবার ভাটারা থানায় 
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ। আজ শুক্রবার ভাটারা থানায়, ছবি: পুলিশের সৌজন্যে
 

তদন্ত ও অভিযান

ঘটনার পর ভাটারা থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা দস্যুতার অভিযোগে একটি মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। তাতে গির্জার পাশে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পুলিশ ঢাকার বিভিন্ন গ্যারেজের কয়েক হাজার রিকশা ও চালকের তথ্য যাচাই করে রিকশাচালক আক্তার হোসেন ওরফে মনাকে শনাক্ত করে। প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ও দস্যুতায় ব্যবহৃত রিকশাটি উদ্ধার করা হয়। আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির দুর্গম চরাঞ্চল থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ রাজধানীর খিলক্ষেতের আমতলা থেকে এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে লুণ্ঠিত আরও ১ লাখ টাকা, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত তাঁরা

পুলিশ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনই মাদক ও অনলাইন জুয়ায় চরমভাবে আসক্ত। জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতে তাঁরা এই দস্যুতার পরিকল্পনা করেন। গ্রেপ্তার আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে। মিজানের বিরুদ্ধে কুমিল্লার লালমাই থানায় দস্যুতার মামলা এবং আক্তারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় মাদকের মামলা রয়েছে। এই চক্রে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা তানভীর বলেন, সম্প্রতি ইস্টার সানডে গেছে, তাঁরা ভেবেছিলেন অনেক টাকাপয়সা আছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা মুগদা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে আসেন। রিকশাচালক তাঁদের সহযোগী, তিনি বাইরে থেকে পাহারা দিচ্ছিলেন। আর বাকি দুজন ভেতরে ঢুকে ফাদারকে বেঁধে রেখে টাকাপয়সা, এমনকি পাসপোর্টও নিয়ে যান।

বিকেলে যোগাযোগ করা হলে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গির্জা লুটের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের পর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

শুক্রবার (১ মে) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, আজ বৃষ্টির ভাইকে ফ্লোরিডা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ফোন করে নিশ্চিত করা হয়েছে, উদ্ধারকৃত দ্বিতীয় মরদেহটি বৃষ্টির। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ২ মে বাংলাদেশে পাঠানো হবে, দুবাই হয়ে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে ৪ মে।

প্রসঙ্গত, লিমন ও বৃষ্টি দুজনই ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

আজ যে রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হয়ে উঠেছে, তার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ যে রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি, তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারা সমুন্নত রেখে শ্রমিকদের একাধিক সমাবেশে শ্রমিক সমাজের সঙ্গে একাত্ব ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ত্রিপক্ষীয় শ্রম নীতি ও সংস্কার শ্রমকল্যাণের ভিত্তিতে ভিত্তিকেই শক্তিশালী করেছে। ১৯৭৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যসহ ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের নতুন যুগের সূচনা করে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘শ্রম আইন ২০০৬’ প্রণয়ন ও শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ শ্রমিকের অধিকার কর্মসংস্থান ও কল্যাণের ভিতকে আরও বিস্তৃত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশের আপামর শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ন্যায্য অধিকার রক্ষা শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য সুস্বাস্থ্য নিরাপদ ও নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানাবিধি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকরাই দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। দেশের শিল্প কল কারখানা, কৃষি, পরিবহন, গৃহকর্ম নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম, আমাদের সমাজ, অর্থনীতি, সভ্যতা ও উন্নয়নকে বেগবান ও সমৃদ্ধ করছে। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বিশাল রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের যে আয় হয় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এটাই আমাদের অর্থনীতির প্রাণশক্তি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুসারে শ্রমিকদের কল্যাণে ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার সবগুলোই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ বন্ধ চিনিকল রেশম পাট ও শিল্প কল কারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছয়টি পাঠকল চালু করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

মালিক-শ্রমিকদের উদ্দেশে এরপর তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিক পারস্পরিক আস্থা সম্পর্ক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকশই শিল্প উন্নয়ন ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শ্রম খাতে শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখা ও শ্রমিক মালিক এর অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমকে উৎসাহ দিতে এই সরকার সচেষ্ট।

 

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শ্রমিক সমাবেশ শুরু হয়েছে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (১ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ আয়োজন শুরু হয়। এর আগে মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে নেতাকর্মীদের একত্রিত করা হয়।

সমাবেশ উপলক্ষে দুপুর ১টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিট থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। পুরুষের পাশাপাশি শ্রমিক দলের এ আয়োজনে যোগ দিয়েছেন কর্মজীবী নারীরাও।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন এবং সমাবেশের সার্বিক নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ডিবি সদস্যসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে৷ রাখা হয়েছে জরুরি অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও।

বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার হোসেইন।

 

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন ডাকসু নেতা যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এই হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

ঘটনার পর এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে উদ্ধার করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে নেওয়া হয়। থানার সামনে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীসহ বিক্ষুব্ধ একদল লোক অবস্থান নেন।

ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এই হামলা হয়
ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এই হামলা হয়
 

এ বি জুবায়ের ডাকসুর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) সমাজসেবা সম্পাদক এবং মুসাদ্দিক ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা করেছেন।

এস এম ফরহাদের এ অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এ বি জুবায়েরসহ ছাত্রশক্তি ও শিবিরের নেতা–কর্মীরা থানায় আসলে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ও বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের মারধরের চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।’

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ডাকসুর নেতা এ বি জুবায়েরের ওপর হামলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ডাকসুর নেতা এ বি জুবায়েরের ওপর হামলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

কেন এই ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা এস এম ফরহাদ বলেছেন, ‘ঈশান চৌধুরী নামে ছাত্রলীগের একটি আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এর পরে অরণ্য আবির নামে একটি আইডি থেকে পোস্টটি ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ দেয় বলে প্রচার করা হয়। বিষয়টি মাহমুদ নিজের আইডি থেকে ক্লিয়ার করে।’

এরপরও ছাত্রদল তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিল অভিযোগ করে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘মাহমুদ শাহবাগ থানায় ডিজি করতে গেলে তাকে এক ঘণ্টার বেশি সময় বসিয়ে রেখে জিডি নেওয়া হয়নি। এখানে ছাত্রদলের লোকজন বহিরাগতদের নিয়ে মাহমুদকে থানায় আক্রমণ করতে যায়। তখন বিষয়টি সমাধানের জন্য এ বি জুবায়ের, মুসাদ্দিকসহ কয়েকজন থানায় গেলে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ছাত্রদলের একজন নেতা বলেন, ‘আমরা জাইমা রহমানকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর প্রতিবাদে শাহবাগ থানায় আসি। এসে যে এই ফটোকার্ড ছড়িয়েছে, তাকে থানায় জিডি করতে দেখতে পাই। তখন আমরা পুলিশকে বলি তাকে হেফাজতে নিতে। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা থানা থেকে বের হওয়ার সময় ডাকসুর কয়েকজন নেতা উসকানিমূলক কথা বলতে বলতে থানায় প্রবেশ করার চেষ্টা করে। সে সময় এই মারধরের ঘটনা ঘটে।’

হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষায় এ বি জুবায়েরের সামনে এসে দাঁড়ান ছাত্রদলের নেতা নাহিদুজ্জামান শিপন
হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষায় এ বি জুবায়েরের সামনে এসে দাঁড়ান ছাত্রদলের নেতা নাহিদুজ্জামান শিপন, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাত পৌনে ৯টায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম শাহবাগ থানায় উপস্থিত হন। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের সভাপতি ও পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম এ বি জুবায়েরসহ বাকিদের শাহবাগ থানা জামে মসজিদের ফটক দিয়ে বের করে নিয়ে যান।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার এবং ওই আমলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের ১১টি মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ  কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে গঠিত আন্তসংস্থা টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ১১টি অগ্রাধিকারভুক্ত মামলা হচ্ছে—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; এস আলম গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; বেক্সিমকো গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; সিকদার গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; বসুন্ধরা গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; নাসা গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; ওরিয়ন গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; নাবিল গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; এইচ বি এম ইকবাল, তাঁর পরিবার ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং সামিট গ্রুপ ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচার করা অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ সম্পাদন ও বিনিময়–প্রক্রিয়ার জন্য ওই সব দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে।

নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে এক হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে। এ সময়ে ২০ লাখ জনকে ফ্রিল্যান্সার কার্ড দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সাড়ে সাত হাজার কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।