পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর এবং ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর চত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক এবং ছাত্র অধিকারের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবু নাঈম বলেন, গতকাল রাতে ডাকুয়া এলাকায় হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকেরা ঘোড়া প্রতীকের মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে তাঁদের ট্রাক প্রতীকের স্থানীয় কয়েকজন সমর্থক দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘোড়া প্রতীকের লোকজন তাঁদের সংখ্যায় কম দেখে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মারধর শুরু করেন। এতে ট্রাক প্রতীকের সমর্থক মো. আলতাফ প্যাদা (৪০), মো. ফিরোজ খান (৩৫), মো. মাহাতাব খানসহ (৩৭) সাত থেকে আটজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসান মামুনের সমর্থক মো. মারুফ (২৩) বলেন, গতকাল রাতে ডাকুয়া নির্বাচনী কার্যালয় থেকে তাঁরা ঘোড়া প্রতীকের স্লোগান দিয়ে মিছিল করে নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তায় নেমেছিলেন। এ সময় ট্রাক প্রতীকের সমর্থকেরা তাঁদের পথরোধ করে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর শুরু করেন। এই হামলায় সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে জায়েদ মাহমুদ সাআদ (২৩) ও মো. ওয়াজিব হাওলাদারকে (২৪) গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, গতকাল রাতে ডাকুয়া এলাকায় নুর ও মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আপাতত কোনো ঝামেলা নেই।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার পথে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।

জামায়াতের নেতাদের দাবি, জনসভা থেকে ফেরার পথেই বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে জামায়াতের কর্মী রবিউল হোসেন, জাকারিয়া রাসেল, রাসেল ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের নেতা রিফাত সানি আহত হন।

অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের দাবি, কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা হাটবাইর গ্রামে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা করেন। এর জেরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী, তাঁর গাড়িচালক মামুনসহ তিনজন আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের আমিরের জনসভা শেষে দলটির নেতা-কর্মীরা পিকআপে করে এলাকায় ফিরছিলেন। হাটবাইর এলাকায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উভয় পক্ষের আহত ব্যক্তিদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচনী জনসভা শেষে আমাদের নেতা-কর্মীরা পিকআপে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। হাটবাইর এলাকায় বিএনপি নেতা মিজান খান, গাজী ইয়াছিনসহ অন্তত ২০ জন আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। তাঁরা আমাদের নেতা-কর্মীদের দেখে উসকানিমূলক বিভিন্ন কথাবার্তা বলেন। আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় আমাদের চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপির নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

আহত বিএনপি নেতা সোলেমান চৌধুরী বলেন, দুপুরে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা জনসভা থেকে ফেরার পথে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মিজানের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেন। এ সময় নারীদেরও মারধর করা হয়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এগিয়ে যান। তখন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এ সময় তিনিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর তারাই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।’

চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানা উল্লাহ বলেন, হাটবাইর এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব জাতিগোষ্ঠী নিয়ে অর্ন্তভুক্তিমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর এমনটাই জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিকেলে ময়মনসিংহে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে এ কথা জানান তিনি। বলেন, পাহাড় বা সমতলে সবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিএনপিতে সব কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশ শুধু বাঙালির নয় বরং বৈধভাবে বসবাসকারী সকল জাতিগোষ্ঠীর। সকল জাতিগোষ্ঠী নিয়ে অন্তবর্তীমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর। পাহাড় বা সমতলে সবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিএনপির সকল কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য কীভাবে সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করবে।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতা চায়। পাহাড়ি – সমতলের উন্নয়নে ৩১ দফা রূপরেখা দেয়া হয়েছে।

কালো পোশাকের র‍্যাবকে আর দেখা যাবে না। পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটকে ডাকাও হবে নতুন নামে। কারণ, র‍্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) নাম বদলে হচ্ছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। নাম ও পোশাকের পাশাপাশি এই বাহিনীর কার্যক্রমেও সংস্কার আনা হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, র‍্যাব পুনর্গঠনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজের সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ সুপারিশ করেছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, খুব শিগগির এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। প্রজ্ঞাপন জারি হলে এ বাহিনী ‘নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে’ কাজ শুরু করবে।

বিএনপি–জামায়াত জোট সরকার আমলে দুই দশক আগে সন্ত্রাস দমনে পুলিশের বিশেষ ইউনিট হিসেবে র‍্যাব গঠন করা হয়। এই ‘এলিট ফোর্সে’ পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি যুক্ত করা হয় সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, বিজিবিসহ অন্য বাহিনীগুলোর সদস্যদেরও।

র‍্যাবের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই ইউনিটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রথম অপারেশনাল দায়িত্ব পালন শুরু হয় ওই বছরের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ওই বছরের ২১ জুন থেকে র‍্যাব পূর্ণাঙ্গভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য সমালোচিত হতে থাকে র‍্যাব। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছিল। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার বিলুপ্তির পথে না গিয়ে এই বাহিনীর নাম ও পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল। অন্তর্বর্তী সরকার এর আগে পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনও করেছে।

৭ হাজার ৭৩১টি অস্ত্র উদ্ধার

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও জানানো হয়।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলী হায়দার সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সশস্ত্র বাহিনী ১৯৯টি অস্ত্র ও ১ হাজার ৯৭২টি গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৮০৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও র‍্যাবের খোয়া যাওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৪ হাজার ৪৩২টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কারা কর্তৃপক্ষের হারিয়ে যাওয়া ৬৫টি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলী হায়দার সিদ্দিকী জানান, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৬ হাজার ২২৩ জন সদস্য এখন মোতায়েন রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, আইজিপি বাহারুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সীমিত রেখে সব শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

  • আইন কার্যকর হওয়ার তিন বা পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার, সহায়ক পুস্তক, প্রাইভেট টিউশন স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া নেবে।

ঢাকা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১৫০ কিলোমিটার। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (ইএমএসসি) এবং ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-ও একই তথ্য প্রদান করেছে।

ভূমিকম্পটি মৃদু হওয়ায় এবং গভীরতা বেশি থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

গত কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হচ্ছে, যা নিয়ে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যশোরে একটি শিল্প আছে। সেটি হলো ফুল চাষ। গার্মেন্টেসের জামাকাপড় যেমন এক্সপোর্ট হয়, তেমনি আমরা ফুল বিদেশে এক্সপোর্ট (রফতানি) করতে চাই।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এরআগে তিনি খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি যশোরে এসে জনসভায় যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার বিএনপি প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দেন। তাদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান তারেক রহমান।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বলেছেন, ‘নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে একটি রাজনৈতিক দল উঠেপড়ে লেগেছে।

বক্তৃতায় নাম উল্লেখ না করে জামায়াত আমিরের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন। দেশের মানুষ যখন আন্দোলন শুরু করেছেন, তারা বাঁচার জন্য এখন বলছেন, তার অ্যাকাউন্ট নাকি হ্যাকড। প্রশাসনের লোকজন বলেছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। ওই রাজনৈতিক দল মিথ্যা কথা বলছে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান আরও বলেন, যারা দেশের মানুষের কাছে মিথ্যা কথা বলে, তারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। এটাই তাদের চরিত্র। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। 

তারেক রহমান বলেন, তাদের ভূমিকার কারণে একাত্তর সালে লাখ লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোমের মিয়া। এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জামিনের বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে বীভৎসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় গত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

মেয়াদের শেষ সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটার আলোচনা এবং কিছু ক্ষেত্রে চুক্তি করছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়টিকে চলমান প্রক্রিয়ার অংশ বলেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করতে যান। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো নিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকেরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটা চলমান প্রক্রিয়া।’

পরবর্তী সরকার এগুলো এগিয়ে না নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতির কী হবে, সে প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, এটি অনুমাননির্ভর প্রশ্ন।

সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে। কোনো দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন না—এমন সমালোচনার জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, দুনিয়ার সব দেশে বিমান নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলো ছিল, রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাই হত্যার বিচার ও জাতীয় নির্বাচন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ড্রোন কারখানা তৈরি নিয়ে চীনের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে চুক্তি, পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনা, চীন থেকে জে-১০ সি যুদ্ধবিমান কেনা, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরো ফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনা, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার, ৬৫০ কোটি টাকায় যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো কাজগুলো হাতে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

সরকার যদি মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইফতেখারুজ্জামান এ মন্তব্য করেন। ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মব সন্ত্রাস যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সেটি অন্য সবকিছুর মতো নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে সরকারেরও দায় আছে। সরকার শুরু থেকে মব সহিংসতা প্রতিরোধে তৎপরতা দেখাতে পারেনি।

মবের উৎপত্তি নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশে মব সহিংসতা শুরু হয়েছে সরকারের ভেতর থেকে। দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রথম মবের উৎপত্তি হয়েছিল। সরকারের বাইরের শক্তি যারা এখন মব করছে, তারা ক্ষমতায়িত হয়েছে সচিবালয়ে মব সৃষ্টির পরে। এর ফলে সরকারের নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর একটি হত্যাকাণ্ডও হবে না—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, আর যেন নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা না হয়। তবে সহিংসতার ঝুঁকি শুধু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত নয়, এর পরবর্তী কয়েক দিনও থাকতে পারে। সরকার এই ঝুঁকির বিষয়টি ভালোভাবেই জানে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ও সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

অবশ্য বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনী ইতিহাসের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান জুলাই-পরবর্তী জবাবদিহির প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢালাওভাবে মামলায় জড়িয়ে সাংবাদিকদের আটক রাখা হয়েছে। পেশাগত অবস্থান অপব্যবহারের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া কতটুকু বিচার আর কতটুকু প্রতিশোধ—সে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধী, কর্তৃত্ববাদের দোসরদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা কতটুকু সম্ভব ও গ্রহণযোগ্য হবে, সে প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।

প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির মতো অপরাধের প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ন্যায়সংগত ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনীতিবিদ ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। তারা তাদের স্বার্থ বজায় রাখতে চায়। এ কারণে ঐকমত্য কমিশনে জনগণের কাছে জবাবদিহি সরকারব্যবস্থার জন্য যে পদ্ধতিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি ছিল।

নোট অব ডিসেন্টের মৌলিক কনসেপ্ট ধারণ করলে আপত্তি থাকলেও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য বা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটিই বাস্তবায়িত হবে বলে মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার রীতি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত আছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটি হবে কি না, সেটি দেখার বিষয়। গণভোটের রায় ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গেলে সে ক্ষেত্রে যারা সরকারে যাবে, তাদের সদিচ্ছার ওপর সংস্কার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।

সরকারের সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ ও গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে সমালোচনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, মিডিয়া বিশেষভাবে সরকার কর্তৃক উপেক্ষিত হয়েছে এবং মিডিয়ার প্রতি নতুন করে ঝুঁকি সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভেতরের ও বাইরের শক্তি কাজ করেছে। বাইরের শক্তিকে সরকারই অতিক্ষমতায়িত করেছে।

গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরাপদে কাজ করুক—এ চিন্তাভাবনা অন্তর্বর্তী সরকার ধারণ করেছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, দুটি মিডিয়া কমিশন লোকদেখানো পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয়।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচারক নিয়োগ কমিটি, স্বাধীন বিচার বিভাগ সচিবালয়ের মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সচিবালয় কতটুকু কার্যকর হবে, তার জবাব পরবর্তী সরকারকে দিতে হবে। এ ছাড়া বিচারব্যবস্থার ভেতরে দলীয়করণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

গণতান্ত্রিক সংস্কার সফল করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স পোস্টে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে থাকা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ুমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহীদ মিনারে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রুতি রাজ চৌধুরী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা যে বৈষম্যহীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা আজ হুমকির মুখে। একটি দল নিজেদের নামের সঙ্গে ইসলাম ব্যবহার করে নারীদের নিয়েই কটূক্তি করছে। আবার তার কোনো দায় নিচ্ছে না। ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা নারীদের অপমান করে, তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচন করতে হবে।’

শাখা ছাত্রদলের সহছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে কর্মজীবী মা-বোনেরাই দেশ চালিয়ে নিচ্ছেন। সেখানে তাঁদের নিয়ে এমন কটূক্তি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ইসলামে নারীর সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে, অথচ তারা সেই নারীদেরই অপমান করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

মার্কেটিং বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ‘নারী অঙ্গন’-এর সংগঠক সুমাইয়া শিকদার বলেন, ‘আমরা আইডি হ্যাকের বিষয়টি বিশ্বাস করি না। এর আগেও বিভিন্ন সময় নারীদের কটাক্ষ করা হয়েছে। এত দ্রুত হ্যাক হয়ে আবার আইডি ফিরে আসা কীভাবে সম্ভব? তারা কি বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়? রাষ্ট্রের কাছে কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো আইন নেই? আমরা জামায়াত নেতার এসব বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। রাষ্ট্রের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা হল সংসদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক তাসফিয়া তাবাসসুম, নারী অঙ্গনের সংগঠক জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, নারী হেনস্তাকারীদের ঠাঁই নাই’, ‘মোল্লাতন্ত্রের বিষদাঁত, ভেঙে দাও’সহ নানা স্লোগান দেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের অবমাননাকর পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মধ্যেই গত শনিবার রাতে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দলটি। জামায়াতের দাবি, দলীয় আমির শফিকুর রহমানের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডল হ্যাক করে পোস্টটি করা হয়েছে। ওই পোস্ট বা কনটেন্ট জামায়াতের আমিরের কোনো বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। একই সময়ে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় জামায়াত।

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববির বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মামলার রায় আজ সোমবার।

দুই মামলাতেই শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৪ জন আসামি। তাঁদের ছাড়াও আজমিনার বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির তালিকায় আরও ৩ জন এবং রাদওয়ানের বিরুদ্ধে করা মামলায় আরও ৩ জন রয়েছেন।

গত ১৩ ও ১৮ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক রবিউল আলম পৃথক এই দুই মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন।

মামলা দুটির অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও তা গোপন করেছেন। এর ফলে প্লট বরাদ্দে আইন, বিধি, নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতি লঙ্ঘন হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রভাবিত করেছেন। মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ১০ কাঠা করে প্লট তাঁদের নামে বরাদ্দ দেন।

দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা দুটির সব সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত বিভিন্ন মাধ্যমে আসামিদের হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেও তাঁরা পলাতক (একজন গ্রেপ্তার) ছিলেন। আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই।’

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। মামলায় টিউলিপ, শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ৩১ জুলাই ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ১৩ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় এ বছরের ৫ জানুয়ারি। মামলায় মোট ৩১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৩ জানুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন।

এ মামলায় আজমিনা ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। তাঁদের মধ্যে কেবল খুরশীদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

রাদওয়ানের বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতির মামলা

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা, শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৩১ জুলাই ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ১৩ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। মামলায় মোট ২৮ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয় গত ১৮ জানুয়ারি। এরপর রায় ঘোষণার তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন আদালত। মামলার ১৮ আসামির মধ্যে খুরশীদ আলম কারাগারে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন শেখ হাসিনা, টিউলিপ, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ ও পরিচালক শেখ শহিনুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে কেবল খুরশীদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

এর আগে ঢাকার পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এক মামলায় শেখ রেহানাকে ৭ ও টিউলিপকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।