ইরানের আকাশসীমায় ইসরায়েলের একটি যুদ্ধবিমানে আঘাত করার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ খবর জানিয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল তা অস্বীকার করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর এটি এই ধরনের তৃতীয় ঘটনা।

এর আগে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ইরানের আকাশসীমায় তাদের একটি যুদ্ধবিমান বিমান-বিধ্বংসী হামলার মুখে পড়েছিল। তাদের দাবি, বিমানটি সফলভাবে হুমকি শনাক্ত করতে পেরেছে এবং কোনো ক্ষতি ছাড়াই ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী’ অভিযান শেষ করেছে।

আইআরজিসির মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের আকাশে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানি বহনকারী (রিফুয়েলিং) উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধবিমানসহ ২০০-এর বেশি আকাশযান ধ্বংস করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মধ্যরাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের এক দিন পরই দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঈদের নামাজ আদায় শেষেই হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের পক্ষ দুটি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০-১২টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, দুই পক্ষের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা, ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সংঘর্ষে ১০-১২টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন আহত হন। পরে ভাঙ্গা থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত মেডিকেল কর্মকর্তা পলাশ সাহা জানান, সংঘর্ষে আহত ১১ জন এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ওহিদুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুই জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। বাকি ৮ জনকে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষ রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সী (৬৫) ও অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন একই গ্রামের কামরুল মিয়া (৪৫)।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে কামরুল মিয়ার সঙ্গে ইসমাইল মুন্সীর ছেলে ফুয়াদ হোসেনের কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর গ্রামের দুই পক্ষই ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দিকে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি নিশানা করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এ ঘটনা চলমান যুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং কৌশলগত ভূরাজনৈতিক প্রভাব সামনে এনেছে।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভেঙে পড়ে। অন্য ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করা হয়। এরপরও ইরানের এই হামলার প্রচেষ্টা ঝুঁকির মানচিত্র বদলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দিয়েগো গার্সিয়া যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রবাল দ্বীপ। ইরান থেকে এই দ্বীপের দূরত্ব প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। অথচ ইরান এত দিন দাবি করে আসছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার। যদি ইরান সত্যিই তাদের ঘোষিত সীমার দ্বিগুণ দূরত্বে হামলার চেষ্টা করে থাকে, তাহলে এর মানে হলো দেশটির এমন কিছু অপ্রকাশিত সক্ষমতা রয়েছে, যা বিশ্ব এখনো জানে না।

ইরান সম্ভবত এমন একটি পরীক্ষা চালিয়েছে, যা মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইআরবিএম) কাছাকাছি। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারত মহাসাগরের গভীরে, এমনকি দক্ষিণ ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। তেহরান নিজেদের হামলা চালানোর প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে শত্রুদের ধোঁয়াশায় রেখে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

এই কৌশলগত অস্পষ্টতা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ার এই বার্তা উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইসরায়েলকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে মূল্যায়ন করতে বাধ্য করবে।

কেন নিশানায় দিয়েগো গার্সিয়া

দিয়েগো গার্সিয়া সাধারণ কোনো সম্পদ নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি লজিস্টিক ও হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এ ঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বোমারু বিমান ও নজরদারি বিমানগুলো রাখা হয়।

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, এই ঘাঁটি নিশানা করে হামলা চালানো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা শত্রুর আগের ধারণার চেয়েও বেশি।

দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলার চেষ্টার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগর অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। দেশটি এই বার্তা দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘাঁটিই তাদের নাগালের বাইরে নয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দক্ষিণে সরাতে হবে, যা তাদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রছবি: আসিফ ইকবাল নায়েক নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে

প্রযুক্তিগতভাবে এই হামলায় লক্ষ্যভেদ হয়েছে কি না, তার চেয়েও রাজনৈতিকভাবে দিয়েগো গার্সিয়াকে হামলার সীমার মধ্যে দেখানোর বিষয়টিই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘এসএম-৩’ ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যদিও এর ফলাফল এখনো অস্পষ্ট। তবে ইন্টারসেপ্টরটি সফলভাবে কাজ করলেও ইরান রাজনৈতিকভাবে জয়ী হয়েছে।

বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের উচ্চ প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সম্পদ ব্যবহারে বাধ্য করেছে ইরান। আর যদি এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবে তা প্রমাণ করবে পুরোনো প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক প্ল্যাটফর্মও পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে পারে।

যুদ্ধের পরিসর বাড়াচ্ছে ইরান

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়েগো গার্সিয়াকে নিশানা করা ইরানের সমরাস্ত্রের দীর্ঘ পাল্লার সক্ষমতাকে সামনে এনেছে। ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ার বলেন, এই হামলা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের বিপরীতে ইরানের পাল্টা জবাবের গভীরতা প্রকাশ করে।

এলিজা আল–জাজিরাকে বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্র ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। আর এমনটা ঘটলে উত্তেজনার নিয়ন্ত্রণ, যা যুক্তরাষ্ট্র চায় তা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, নতুন স্থাপনা, নতুন অবস্থান এখন ঝুঁকিতে পড়ছে।’

এই সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ, ইরান কোনো প্রথাগত যুদ্ধে জেতার চেষ্টা করছে না। প্রথাগত যুদ্ধে তারা পারবেও না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি শক্তিশালী। বরং ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের সমীকরণ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

এলিজা বলেন, ‘একটি দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকে হুমকির মুখে ফেলার মাধ্যমে এই সংকেত দেওয়া হচ্ছে যে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার অর্থ হবে ক্রমাগত উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়া।’

ঢাকা

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ ময়দানে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণ ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাচীন এ ঈদ জামাতে এবার অংশ নিয়েছেন ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লি— যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সমাগম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় শুরু হয় জামাত। এতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।

নামাজ শেষে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
সকাল ৭টার আগেই কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। চার স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছাতা, লাঠিসোঁটা, দিয়াশলাই বা লাইটার নিয়ে মাঠে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

এসব বাইরে রেখে মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করতে হয়। প্রত্যেক মুসল্লিকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে মাঠে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

রেওয়াজ অনুযায়ী নামাজ শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হয়। ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং পাঁচ মিনিট আগে একটি গুলি ছোড়া হয়। এ কার্যক্রম পরিচালনা করে জেলা পুলিশ।

ভোর থেকেই নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঈদগাহ মাঠে মুসল্লিদের ঢল নামে। ঈদগাহমুখী সব রাস্তাঘাট মুসল্লিতে ভরে যায়। কয়েক ঘণ্টার জন্য শহরের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জামাত শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগেই সাত একর আয়তনের মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। অনেকে মাঠে জায়গা না পেয়ে পাশের সড়ক, ফাঁকা জায়গা, নদীর পাড় এবং আশপাশের বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন।

নারীদের জন্য শহরের সরযূবালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৃথক ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। সেখানেও বহু নারী ঈদের জামাতে অংশ নেন।

ঈদের জামাতে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

ঈদের দিন মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়। একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে এসে সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে সকাল পৌনে ৬টায় ছেড়ে সকাল সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জে পৌঁছায়। নামাজ শেষে যাত্রীদের নিয়ে আবার ফিরে যায় ট্রেন দুটি।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, মোগল আমলে এখানকার পরগনার রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল শ লাখ টাকা। মানে এক কোটি টাকা। কালের বিবর্তনে শ লাখ থেকে বর্তমান শোলাকিয়া হয়েছে। অন্য আরেকটি বিবরণে রয়েছে, ১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে ঈদগাহটি একসময় শোয়ালাকিয়া ও পরে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

 

দিয়াগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ইরান অন্তত দুটি মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যটি ধ্বংস করে দেয় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা।

ভারত মহাসাগরের ঠিক মাঝখানে বিষুবরেখার দক্ষিণে দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপের অবস্থান।

রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস ও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

মার্কিন একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন-ও দিয়াগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি এ দ্বীপকে নিজ ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ও মার্কিন বিমানবাহিনীর ভারী বোমারু বিমানের প্রধান বিমানঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দিয়াগো গার্সিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা নির্দেশ করে যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা আগের দাবির চেয়ে অনেক বেশি।

গত মাসে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান

২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএ) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সদস্যপদ স্থগিতের দাবিসহ কিছু অভিযোগ করেছিল ফিফার কাছে। বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা গতকাল জানিয়েছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো ব্যবস্থা নেবে না।

তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি রায়ে বলেছে, একাধিক ‘গুরুতর ও পদ্ধতিগত’ বৈষম্যের অভিযোগে দোষী ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। যদিও ইসরায়েল ফুটবলের ওপর বড় ধরনের শাস্তি আরোপ থেকে শেষ পর্যন্ত বিরত থেকেছে সংস্থাটি।

শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে ফিফা। এ বিষয়ে ইসরায়েলের বিপক্ষে অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ‘বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ’ এবং ‘আপত্তিকর আচরণ ও ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন’।

ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, পশ্চিম তীরের বসতি থেকে দলগুলোকে জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দিয়ে ফিফার বিধি লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল। এ নিয়ে পিএফএর সুনির্দিষ্টি অভিযোগ ছিল ‘অন্য একটি অ্যাসোসিয়েশনের (ফিলিস্তিন) ভূখণ্ডে অবস্থিত ফুটবল দলগুলোকে নিজেদের জাতীয় লিগে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দিচ্ছে’ ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)।

ইসরায়েল ফুটবলকে শুধু জরিমানাই করেছে ফিফা
ইসরায়েল ফুটবলকে শুধু জরিমানাই করেছে ফিফা, রয়টার্স
 

ফিফা এ নিয়ে বলেছে, ‘ফিফার বিধির প্রাসঙ্গিক ধারাগুলোর ব্যাখ্যার প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো অনির্ধারিত এবং আন্তর্জাতিক জন আইনের অধীনে অত্যন্ত জটিল বিষয়। তাই এ ক্ষেত্রে ফিফার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।’

গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সমাধান করা ফিফার পক্ষে সম্ভব নয়।’ তিনি বলেছিলেন, ‘তবে চলমান যুদ্ধের কারণে যাঁরা কষ্ট পাচ্ছেন, তাঁদের কথা ভেবে ফুটবল ও ফিফা বিশ্বকাপের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেতুবন্ধ গড়ে তোলা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ইসরায়েলি ফুটবল নিয়ে তদন্ত ১৮ মাস আগে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল। ফিফা জানিয়েছে, জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে’ ব্যয় করতে হবে ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোএএফপি

ফিফার বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘এই পরিকল্পনা ফিফার অনুমোদিত হতে হবে এবং একটি পূর্ণ মৌসুমজুড়ে সংস্কার, তদারকি এবং স্টেডিয়াম ও সরকারি মাধ্যমে শিক্ষামূলক প্রচারণার ওপর জোর দিতে হবে।’

বিচারকেরা আরও বলেন, ‘ফুটবল যে বৃহত্তর মানবিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়, তার প্রতি আমরা উদাসীন থাকতে পারি না। এই খেলাটি শান্তি, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকতে হবে।’

রাজধানীতে উত্তরায় ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে মুক্তা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই গৃহবধূকে স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মুক্তার স্বামী লিমন হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, তারা দক্ষিণখান ফায়দাবাদ এলাকায় ভাড়া থাকেন। তিনি নিজে পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার স্ত্রী মুক্তা গৃহিণী। সকালে তার স্ত্রী ঈদের কেনাকাটা করতে ব্যাটারিচালিত রিকশাযোগে মিরপুর পল্লবীর একটি মার্কেটে যাচ্ছিলেন। রিকশার আরেক যাত্রীর মাধ্যমে জানতে পারেন, তাদের রিকশা উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে যায়। এ সময় একটি প্রাইভেটকার থেকে হাত বাড়িয়ে তার স্ত্রীর হাতে থাকা ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান মারা হয়। এতে তার স্ত্রী রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন।

তিনি আরও জানান, পথচারী ও রিকশার অপর যাত্রী তার স্ত্রীকে প্রথমে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ওই হাসপাতালে গিয়ে তার স্ত্রীকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান তিনি। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা সেবা বিলম্বিত হওয়ায় টঙ্গী আহসানউল্লাহ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পঙ্গু হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লিমন হোসেন জানান, তার স্ত্রী মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল জলিল। দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দুজনের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, দুপুরের দিকে ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। ওই গৃহবধূর মাথা ও কপালে আঘাত রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

 

দুর্নীতি দমনে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান ও আইনি তৎপরতা জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে সংস্থাটি। বিভিন্ন আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়।

দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত এক নথিতে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত সম্পদের মোট মূল্য ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৪১০ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকা।

দুদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতের ২৯টি আদেশের মাধ্যমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হয়। এর মধ্যে ২০টি আদেশের অধীনে ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮৯১ একর জমি, ১৪টি বহুতল ভবন এবং ২৮টি ফ্ল্যাট। এছাড়া ১২টি প্লট, একটি বাড়ি, দুটি টিনসেড ঘর, একটি খেলার মাঠ, একটি স্কুল এবং দুটি দোকানও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।

জব্দকৃত অস্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ছয়টি বিলাসবহুল গাড়ি। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সম্পদগুলোর মোট বাজারমূল্য অনেক বেশি হলেও প্রদত্ত মূল্যের ভিত্তিতে এর পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৭৯২ টাকা। এসব সম্পদ এখন সরকারের জিম্মায় থাকবে এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মালিকরা এগুলো ব্যবহার বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।

স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি আর্থিকখাতেও বড় ধরনের অবরোধ (ফ্রিজ) আরোপ করেছে দুদক। আদালতের ১৫টি আদেশে মোট ১৪৪টি ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে এসব হিসাবে প্রায় ৫৯ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার ৪৬৫ টাকা স্থিতি রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, পে-অর্ডার, শেয়ার বাজারভুক্ত শেয়ার, এফডিআর, বিও হিসাব, প্রাইজবন্ড ও বীমা পলিসিসহ বিভিন্ন আর্থিক উপকরণও এই অবরোধের আওতায় এসেছে।

বিশেষ এই অভিযানে একাধিক ক্রেডিট কার্ড, এসএনডি ও সিডি হিসাব এবং একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ডিজিটাল মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে পাচার বা আড়াল করার চেষ্টা রোধে এই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করার বিষয়টি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির অংশ হিসেবে আগামী মাসগুলোতেও এই কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।

 

ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন ২৭ মার্চ প্রীতি ম্যাচে সার্বিয়ার মুখোমুখি হবে। ফিনালিসিমা ম্যাচ বাতিল হওয়ায় এর বিকল্প হিসেবে সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে স্পেন। কাতারে ফিনালিসিমা ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল স্পেনের, যা আংশিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বাতিল করা হয়।

স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাতীয় দল কঠিন ম্যাচে বলকান দলের বিরুদ্ধে খেলতে কাস্তেয়ন শহরে যাবে।’ সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ভিয়ারিয়ালের মাঠ দে লা সেরামিকা স্টেডিয়াম, যে মাঠটি এল মাদ্রিগাল নামেই বেশি পরিচিত।

দোহায় লিওনেল মেসি-হুলিয়ান আলভারেজদের আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল স্পেনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা করলে যুদ্ধ শুরু হয় এবং সে কারণে আয়োজকেরা ফিনালিসিমা ম্যাচের নতুন ভেন্যু ও তারিখ ঠিক করার চেষ্টায় ছিলেন।

সার্বিয়া ফুটবল দল
সার্বিয়া ফুটবল দলরয়টার্স

ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা প্রস্তাবিত বিকল্পগুলোর একটিও মেনে না নেওয়ায় ম্যাচটি বাতিল করা হয়। ২০২২ সালের ফিনালিসিমায় ইতালিকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হয়।

কাতারে ৩০ মার্চ মিসরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা স্পেনের। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল এখনো মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি স্পেনের অন্য কোনো ভেন্যুতে এবং নির্ধারিত তারিখের এক দিন পরে ম্যাচটি খেলতে চায়।

আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। স্পেন এবার বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট দল।

ছেলের বয়স কম, ব্যাটে তেজ বেশি, মাঠে নেমে বোলারদের তুলাধোনা করাই যেন তাঁর অভ্যাস। আর বাবার বয়স ষাট পেরোলেও ব্যাট হাতে যেন তারুণ্য। এই বাবা-ছেলে একসঙ্গে বাইশ গজে ওপেন করতে নামার পর যা ঘটালেন, তাকে শুধু ‘বিস্ময়’ বললে কম বলা হবে। পেশাদার ক্রিকেট হোক বা অপেশাদার, দুই প্রজন্মের এমন ঝোড়ো ব্যাটিং ক্রিকেট বিশ্ব আগে দেখেছে কি না সন্দেহ।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড অ্যান্ড সাবআরবান অ্যাসোসিয়েশন ক্রিকেটে গত শনিবার ঘটেছে এই অবিশ্বাস্য ঘটনা। করোম্যান্ডেল ভ্যালির হয়ে মরফেটভিল পার্কের বিপক্ষে ওপেনিং জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ৫৯০ রান তুলেছেন বাবা ড্যারেন চিক এবং তাঁর ছেলে স্যাম চিক। ৪০ ওভারের ম্যাচটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

ইনিংসের শুরুতে বাবা ড্যারেন কিছুটা আক্রমণাত্মক থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যপট বদলে দেন ছেলে স্যাম। মাত্র ৫৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর রীতিমতো রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন তিনি। সেঞ্চুরি থেকে ১৫০ রানে যেতে তাঁর লাগে মাত্র ১৭ বল। এরপর ৮৭ বলে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি, পরের ১০০ রান করেন মাত্র ২২ বলে।

ইনিংস শেষে স্যাম অপরাজিত থাকেন ৪০২ রানে। মাত্র ১৩২ বলের এই ইনিংসে তিনি ছক্কাই মেরেছেন ৪২টি, চার ৩০টি। শুধু বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ৩৮৪ রান। স্যামের স্ট্রাইক রেট ছিল ৩০০-এর ওপরে। ইনিংসের ৩২তম ওভারে ডার্সি লেনের এক ওভারে টানা ছয় ছক্কাও মারেন।

ছেলের তাণ্ডবের দিনে বাবা ড্যারেন চিকও কম যাননি। ষাটোর্ধ্বদের ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা ড্যারেন ১০৮ বলে ১৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৪০ ওভার শেষে করোমন্ডেল ভ্যালির সংগ্রহ দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৫৯০ রান। অস্ট্রেলিয়ার ফক্স স্পোর্টস লিখেছে, ৫৯০ রানের জুটি ৪০ ওভারের ম্যাচে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ।

 

বাবা-ছেলের জুটির ব্যাটিং যে কতটা দুর্দান্ত ছিল, সেটি বোঝা যাবে রান তাড়ায় নামা মরফেটভিল পার্কের ইনিংসে তাকালে। ৫৯০ রান তাড়ায় পুরো ৪০ ওভার খেলে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪৬ রান করতে পারে দলটি। করোম্যান্ডেল জেতে ৪৪৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। ব্যাটিংয়ে কয়েক ঘণ্টা তাণ্ডব চালানোর পর বাবা-ছেলে মিলে বোলিংও ওপেন করেন। ড্যারেন ১১ রান দিয়ে ১ উইকেট নিলেও স্যাম উইকেটশূন্য থাকেন।

অপেশাদার ক্রিকেটের এই স্কোরকার্ড প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন পড়ে যায়। হ্যারি হ্যারিস নামের একজন লিখেছেন, ‘স্যামের বোধ হয় কোথাও যাওয়ার তাড়া ছিল।’

ইয়াইন নামের একজন ড্যারেনের প্রসঙ্গ তুলে মজা করে লিখেছেন, ‘১০৮ বলে ১৭৫* করার পরও নিজের ছেলের কাছে তাঁকে একেবারে পাড়ার ক্রিকেটার মনে হচ্ছে।’ লেড জনসন প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিপক্ষের বোলিং নিয়ে, ‘ছেলেটি প্রতি বলে প্রায় ৪ রান করে তুলেছে। এটি কোন স্তরের বোলিং?’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ক্রিস গেইলও এই আলোচনায় শামিল হয়েছেন। বাবা-ছেলের ইনিংস নিয়ে করা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি আগুনের ইমোজি দিয়ে মন্তব্য করেন, ‘এ কী দেখছি!’