হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের পর ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য সুখবর। চোট কাটিয়ে অবশেষে মাঠে ফিরছেন ব্রাজিলের মূল তারকা নেইমার। বুধবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁকে পাওয়া যাবে, জানিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিই।

নেইমার গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি। তাঁকে ছাড়া মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র করা ব্রাজিল আজ হাইতিকে হারিয়েছে। হাইতি ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেন আনচেলত্তি।

সেখানে তিনি বলেন, ‘নেইমার আগামীকাল একা অনুশীলন করবে। এরপর সোমবার দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য তাকে পাওয়া যাবে।’

চোটপ্রবণ নেইমার সর্বশেষ ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ১৭ মে। তখন তাঁর ক্লাব সান্তোসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নেইমারের পেশি সামান্য ফুলে গেছে। এই চোটে পড়ার পরও নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়।

অনুশীলনে নেইমার
অনুশীলনে নেইমারএএফপি

এক সপ্তাহ পর নেইমার জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেন। তখন ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেইমারের পেশির চোট গ্রেড-২ পর্যায়ের। তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি সেরে উঠবেন। সেই সময়সীমা ১৭ জুন শেষ হয়েছে।

এর আগে নেইমার চোটের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খুব বেশি ম্যাচেও খেলতে পারেননি। তবে যখনই খেলেছেন, দারুণ প্রভাব দেখিয়েছেন। মাত্র ৪ ম্যাচে মাঠে নেমে ২টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৩টি গোল। নেইমারের কাছে ব্রাজিল নিশ্চয়ই এমন কিছুই চাইবে!

হাইতিকে হারানোর পর ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে ব্রাজিল। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মরক্কো। দিনের অন্য ম্যাচে মরক্কো ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে স্কটিশরা।

গ্রুপের শীর্ষ স্থান ধরে রাখার লক্ষ্য জানিয়ে ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে পরের পর্বে যাওয়াটা পরের দিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা স্কটল্যান্ড ম্যাচের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে চাই। স্কটল্যান্ডের নিজস্ব কিছু শক্তি আছে, যা আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। আজ তারা মরক্কোর বিপক্ষেও সমস্যা তৈরি করেছিল। তাই আমাদের এই ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, শান্ত থাকতে হবে এবং নিজেদের উন্নতির জন্য কাজ করে যেতে হবে।’

পদ্মা ব্যারাজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে, খুব শীঘ্রই তিস্তা মহাপরিকল্পনাও একনেকে পাস করানো হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আজ শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার গড্ডিমারীতে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা ব্যারাজের গেস্টহাউস মিলনায়তনে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সঙ্গে এই মতবিনিময় করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি সেখানে বলেন, ‘এটার (তিস্তা মহাপরিকল্পনা) গুরুত্ব শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, সারা বাংলাদেশের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নির্বাচনের আগে ওই যে জাগো বাহে (তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন) আন্দোলনে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ জাতির সামনে কমিটমেন্ট (ওয়াদা) করেছেন। এবং ইনশা–আল্লাহ ওই কমিটমেন্টের ধারাবাহিকতায় আজকে আমাদের এখানে আসা।’

মতবিনিময় সভায় লালমনিরহাট-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই” সংগঠনের ব্যানারে সামাজিক আন্দোলন করছি। এখন কিছু মানুষ তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আন্দোলন করছে, আমরা এত দিন ধরে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন করছি, তখন তাদের চেহারা দেখা যায়নি, তারা এখন তিস্তা মহাপরিকল্পনা একনেক সম্ভাবনা দেখে ক্রেডিট নিতে চায়। তারা এত দিন কোথায় ছিল, আমরা যখন তিস্তা চরে আন্দোলন করছিলাম। যা–ই হোক, সেটা তাদের ব্যাপার।’

আসাদুল হাবিব আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ১২–১৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এটার জন্য বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জিওবি ফান্ড থেকে আমরা করতে পারব।’

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল প্রমুখ। এ সময় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালীর চাটখিলে সরকারি খাস জায়গা দখল করে ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসিটিভিতে গড়ে ওঠা বিলাসবহুল মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আস্তানা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগের পর অবশেষে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ পদক্ষেপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্থাপনাটি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে স্থাপনাটি বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেদে পল্লির সাধারণ ঝুপড়ি ঘরের আড়ালে ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী দীর্ঘদিন ধরে একটি বিলাসবহুল আস্তানা পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত। দিন-রাত বহিরাগতদের আনাগোনায় এলাকার সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং স্থানীয় যুবসমাজ নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

গত রোববার বিকেলে চাটখিল থানা পুলিশ প্রথম দফায় ওই আস্তানায় অভিযান চালায়। অভিযানে একটি এসির রিমোট, নজরদারির কাজে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মাদক ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাতটি মাদক মামলার আসামি এবং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ববিতা আক্তার সুমাইয়া পালিয়ে যান। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে তার মেয়ে ও ভাগনিকে আটক করে পুলিশ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে ওই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। একই স্থানের ওপর দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চারলেন সড়ক নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। অবৈধ দখল, মাদক ব্যবসা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। প্রশাসনের এ পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ববিতা আক্তার সুমাইয়াসহ এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। চার লেন সড়কের উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্ন করতে এবং এলাকাকে সামাজিক অপরাধমুক্ত রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

 

‘যখন সিএনজি অটোরিকশায় তুলে ফেলে, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। তখন সেখানে জড়ো হওয়া ১০০ থেকে ১২০ জনের মতো সমর্থক ভাইয়ারা (লোকজন) না থাকলে ঘটনাটি অন্য রকম হতো। বিশেষ করে তাঁদের ধন্যবাদ দিতে চাই। পুলিশ যখন আমাকে খুলশী থানায় নিয়ে যায়, তখন তাদের অনুরোধ করি। ভাইয়ারা রাতে লালখান বাজার থেকে খুলশী থানায়ও আসেন আমার সঙ্গে। অন্য কিছু ট্রাই করতে পারেনি।’

চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় আজ শনিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত শুক্রবার রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে নাঈম বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। অন্তত ১০ জন মানুষের উপকার হবে। আমি সাদাসিধে জীবনযাপন করি। ঘটনার দিন পুলিশ সিএনজিতে (অটোরিকশা) আমার জিনিসপত্র তল্লাশি করেনি। তারা চাইলে করতে দিতাম। সিএনজিতে যখন তোলা হয়, আমি জানতাম না আমার গলা চেপে ধরবে। তখন আমি ভয় পেয়ে গেছি। পরে থানায় আমার সঙ্গে থাকা পিন পর্যন্ত তাদের দেখিয়েছি।’

নাঈম বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভাই ফোন দেওয়ায় কাজ হয়েছে। তিনি যখন ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন আমি কথা বলতে চাইলে ওসি আমাকে আঙুল দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন।’

নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত উল্লেখ করে সাংবাদিকদের নাঈম বলেন, ‘আমি একটু একা থাকতে চাইছি।’

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নাঈম হাসানের বাবা মাহবুবুল আলম। আজ বিকেলে বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায়
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নাঈম হাসানের বাবা মাহবুবুল আলম। আজ বিকেলে বহদ্দারহাটের ফরিদার পাড়া এলাকায়
 

ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নাঈমকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাঈম হাসান শুক্রবার রাতে থানায় সাংবাদিকদের জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।

এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। এর আগে শুক্রবার রাতেই তাঁদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

মারধরের অভিযোগে এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সিএমপি। আজ শনিবার দুপুরে নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

ঢাকা

নবম উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া: ৩৬.৪ ওভারে ১৫৬/৯

জয়ের খুব কাছে বাংলাদেশ। নাথান এলিসকে আউট করেছেন মোস্তাফিজ। তাতে অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছে নবম উইকেট। দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন মোসাদ্দেক।

আবার বাউন্সার, আবার উইকেট

অস্ট্রেলিয়া: ৩২.২ ওভারে ১৪০/৮

নাহিদ রানার বাউন্সারে এবার আউট হলেন বার্টলেট। ঘণ্টায় ১৪৮.৫ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে বার্টলেট আউট হয়েছেন ১ রান করে। ৮ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার।

এই নাহিদ রানাকে থামাবেন কে?

বেচার লিয়াম স্কট আর কীই বা করবেন! নাহিদ রানার ১৪৬ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে আসা বাউন্সারে গালিতে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন অভিষিক্ত স্কট।

এখন পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা। নিয়মিত বোলিং করছেন ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে। কোনোটির গতি ছাড়িয়েছে ১৫০ এর মাইলফলকও।

বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। নামমাত্র খরচে বিটিভি খেলা দেখাবে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বক্তব্য দেন।

এই খেলা দেখানো নিয়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং বাংলাদেশের নীতিমালার আলোকে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা (ভ্যাট, আয়করসহ মোট মূল্য দাঁড়াবে ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা)।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের জন্য আনন্দের বিষয় হলো এই টাকা বিটিভিকে পরিশোধ করতে হবে না। আমরা টেলকো, স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে নীতিমালা অনুযায়ী অ্যাডভারটাইজমেন্ট (বিজ্ঞাপন) এবং রাইটস (স্বত্ব) বিক্রি করে প্রায় সব টাকা উঠিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। নামমাত্র খরচে বিটিভি খেলা দেখাবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তখন ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে এক অদ্ভুত গোলকধাঁধা তৈরি করা হয়েছিল। ফিফা থেকে স্বত্ব কিনে নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করে। এটি ছিল জনগণের করের টাকার ওপর আরেকটি বড় আঘাতের চেষ্টা। কিন্তু তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে জনগণের অর্থের অপচয় বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ফলে সেই অযৌক্তিক ক্রয় প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় আমরা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে যুক্ত করি। দিনের পর দিন ম্যারাথন মিটিং, জটিল আলোচনা এবং দর–কষাকষির মধ্য দিয়ে আমরা একটি জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এটি স্বৈরাচারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সততা এবং জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার এক বিশাল বিজয়। সব জটিলতা, কুচক্রী মহলের প্রতিবন্ধকতা এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী মানুষের প্রিয় ঘর—বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) আগামী ফুটবল বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচারের অধিকার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।’

অতীতের এই খেলা দেখানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে বিটিভি খেলা দেখিয়েছিল। সেই ধোঁয়াশাপূর্ণ চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে আজ দেশের মানুষের মনে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

১১ জুন পর্দা উঠছে বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের। গত রোববার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ফিফা থেকে সরাসরি সম্প্রচারস্বত্ব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। জানা যায়, ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখানোর সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার। ফিফা থেকে কোনো দরপত্র ছাড়া অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য এ স্বত্ব কেনা হচ্ছে।

এবার বসছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এটি ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। উত্তর আমেরিকার কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র—এ তিন দেশের ১৬টি শহরে যৌথভাবে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন রোববার (৭ জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে রাজশাহী অঞ্চল থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। তবে নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই পদত্যাগ করেছেন তিনি।

সোমবার (৮ জুন) বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন সীমান্ত। চিঠিতে ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণ উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির পুত্র।

পদত্যাগপত্রে সীমান্ত বলেছেন, বিসিবি নির্বাচনে রাজশাহী অঞ্চল থেকে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তার পিতা সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বর্তমানে পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত রয়েছে। এ কারণে বিসিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না।

আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিবেচনায় পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য বিসিবি সভাপতির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাজশাহী অঞ্চল থেকে একক প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হন মীর সীমান্ত। তবে নির্বাচনের আগেই পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন না করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার একদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন তিনি।

 

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানকে ঘিরে দুই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর নানা বক্তব্যে প্রায়ই সরগরম হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। যদিও এগুলো নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেন না শাকিব খান। দুই সন্তানকে সময় দেওয়া এবং বাবার দায়িত্ব বেশ ভালোভাবেই পালন করতে দেখা যায় ‘তুফান’ নায়ককে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে সন্তান বীরকে নিয়ে ঘুরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সেখান থেকেই নিজেদের আনন্দের মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বুবলী। সেসব ছবি নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলে অপু-বুবলীর ভক্তদের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর বেশ প্রাণবন্ত শবনম বুবলী। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রাজধানীর এক হোটেলে নববধূর সাজে হাজির হন নায়িকা। সেখানেই নিজের গোপন বিয়ে আর সংসারের গল্প বলেন একেবারে সহজভাবে। আগে কখনো এতটা স্বাভাবিকভাবে শাকিব খান ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে বলতে দেখা যায়নি এই নায়িকাকে।

শবনম বুবলী। ফেসবুক থেকে
শবনম বুবলী। ফেসবুক থেকে
 

শ্বশুরবাড়ি আর শাশুড়ি প্রসঙ্গে বুবলী জানান, তিনি রান্না করতে ভালোবাসেন। নিজ বাড়ির মতো শ্বশুরবাড়িতেও শাশুড়ি তাঁকে বাচ্চার মতোই দেখেন। নায়িকা বলেন, ‘রান্নাঘরে গেলেই মা (শাশুড়ি) বলেন, থাক, যত দিন আমি আছি আমিই দেখি। তিনি আমাকে মেয়ের মতোই ভালোবাসেন।’ এদিক থেকে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন শবনম বুবলী।

বিয়ে প্রসঙ্গে বুবলী বলেছেন, যেহেতু তারকা, তাই তাঁদের বিয়েতেও গোপনীয়তা বজায় ছিল। হয়েছে ঘরোয়া আয়োজনে। তবে সবকিছুই মনের মতো হয়েছে। বিয়ের সাজও ছিমছাম ছিল। বুবলীর সাজ দেখে তাঁকে নাকি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন শাকিব খান। বিয়েতে শাকিব–বুবলীর পছন্দের খাবার মাছ-সবজি ছিল। পাশাপাশি পাতে উঠেছে বিয়েবাড়ির খাবারও।

নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ে ফ্যাসিবাদী শাসন, শোষণ শুধু দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারী কেড়ে নেয়নি বরং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতন শিক্ষা ব্যবস্থাকেও প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত করে দিয়েছিল। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। আমরা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব, ইনশাআল্লাহ।

রোববার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইতিহাসের প্রতিটি মাঠে যেসব সাহসী মানুষ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে হবে। আর সেজন্য আমাদের একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষায়-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে না পারলে আগামী দিনে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, দেশের আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ, সারাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি। এইসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কম-বেশি ৪০ লাখের মতন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ইতোমধ্যে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন পর্যায়ক্রমিকভাবে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সমস্যা সংকট এবং প্রতিবন্ধকতা নিরশন এবং শহর কিংবা গ্রামের যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী, তাদের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অবাধ প্রসার ও ব্যবহার বর্তমানে মানুষের জন্য নানামুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অটোমেশন এবং এআই চালিত প্রযুক্তির কারণে হয়ত অনেক পুরোনো পেশায় কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে কিংবা অবলুপ্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ নতুন নতুন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়ত সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় সার্টিফিকেশন সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমানে দক্ষতা ভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

তারেক রহমান বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন্সিক সায়েন্স প্রোগ্রামিং ডিজিটাল এন্টারপ্রেনরশিপ ডিজিটাল কমিউনিকেশন কগনিটিভ এম্পাওয়ারমেন্ট প্রেজেন্টেশন স্কিল লিডারশিপ এবং ফাইনান্সিয়াল লিটারেসির মতন সফট স্কিলের বিষয়গুলো ছাড়া শিক্ষা কারিকুলাম মনে হয় পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠতে পারে না। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, মেটেরিয়াল সায়েন্স ন্যানোটেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং কিংবা জেনারেশনস টেকনোলজি আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে উদাসীন থাকলে কর্মে সাফল্য অর্জন অসম্ভব হতে পারে। এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চস্তর পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে বাস্তব ভিত্তিক বহুমুখী কর্মমুখী এবং প্রযুক্তি নির্ভর করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, গবেষণা উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই সময়ে শিক্ষা কারিকুলামের পরিমার্জন এবং সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি উপলব্ধি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে শ্রম উপযোগী আধুনিক এবং বাস্তমুখী করার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আজকের এই অনুষ্ঠান তারই বাস্তব প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়; বরং বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভরশীল রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিমূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তি নির্ভর এবং কর্মমুখী করতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই চলমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি। তবে, আমাদের সামনে যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বসে আছে, তাদেরকে যখন পাই এ বিষয়টি আমি চেষ্টা করি উল্লেখ করতে যে, একজন মানবিক মানুষ হয়ে উঠার জন্য নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি নির্ভরতা দক্ষতা এবং মডেনাইজেশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা এবং মানবিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ— এই বিষয়গুলোর প্রতি আরও অধিক গুরুত্ব দিবেন; যত্নশীল থাকবেন।

তারেক রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অনেককে বেকার থাকতে হয় দুঃখজনকভাবে। এর কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করেন সর্বোচ্চ অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট অর্জন করলেও ব্যবহারিক, প্রায়োগিক কিংবা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ। সুতরাং পরিস্থিতি বিবেচনা করে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে এপ্রেন্টিসশিপ ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিয়া বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চায় বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থী অবস্থাতে কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে, শিক্ষাজীবন শেষে তাকে হয়ত বেকার থাকতে হবে না, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এছাড়া, সরকার ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করারও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া মালিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে, অনেক আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে একজন শিক্ষার্থী চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে বরং নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে এন্টারপ্রেনার হিসেবে আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।