মাগুরায় সদ্য যোগদান করা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

ঢাকায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হবে বলে মাগুরা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) রাতে জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার চিকিৎসার জন্য মাগুরা সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবিরের নেতৃত্বে এবং মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকিরের তত্ত্বাবধানে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সোমবার (১৫ জুন) বিকালে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির বলেন, শরীরে এসিডিটির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পাশাপাশি কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

 

জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলে আর নেই। সুপার হিট টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘কুমকুম ভাগ্য’-এর এই অভিনেত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২২ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ রোববার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।

মুম্বাইয়ের নালাসোপারায় অবস্থিত নিজের বাড়িতে সঞ্চিতা উগলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, সঞ্চিতা পূর্ব নালাসোপারা আচোলে গ্রামে মা–বাবা ও বোনের সঙ্গে থাকতেন। রোববার সন্ধ্যায় বাড়িতে একা থাকার সময় তিনি শাড়ির সাহায্যে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে স্থানীয় তুলিঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ একটি অ্যাকসিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট (এডিআর) নথিভুক্ত করেছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়নি।

অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলে
অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলেঅভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সঞ্চিতার মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। এদিকে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

সবচেয়ে চমকে দেওয়া বিষয় হলো সঞ্চিতার শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্ট। মৃত্যুর মাত্র ১৯ ঘণ্টা আগে তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তাঁকে হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। ভিডিওটি দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে অভিনেত্রী এমন চরম পদক্ষেপ নিতে পারেন। ভিডিওতে সঞ্চিতাকে হাতে ক্যামেরা ধরে থাকতে দেখা যায়। তার মুখের হাসির আড়ালে কী যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পোস্টটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘ম্যায় নাচুঁ, তু নাচা।’
ইনস্টাগ্রামে সঞ্চিতার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার। তাঁর অ্যাকাউন্ট দেখলে বোঝা যায়, তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও নির্ভার স্বভাবের মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত ও সহকর্মীরা অশ্রুসিক্ত বিদায় জানাচ্ছেন অভিনেত্রীকে।
সঞ্চিতা ‘সাজন ঘর’, ‘কুমকুম ভাগ্য’, ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’ ও ‘দিলওয়ালি দুলহা লে জায়েগি’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন। ‘কুমকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিকে দিয়া ট্যান্ডন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিতি পান। ভিকি কৌশল অভিনীত ‘ছাভা’ ছবিতে তিনি কাজ করেছিলেন। সেখানে তিনি তারাবাই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলে
অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলেঅভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

২০২০ সালের ঠিক এই দিনে, অর্থাৎ ১৪ জুন বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুও হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে। দুজনের মৃত্যুর তারিখ এক হওয়ায় অনেক নেটিজেন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—উভয় মাধ্যমেই নিজের অভিনয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন সঞ্চিতা। সঞ্চিতাকে হারিয়ে তাঁর পরিবার ভেঙে পড়েছে। কেউ কল্পনাও করেননি, ক্যারিয়ারের উত্থানের সময়ে তিনি এভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে—এই প্রশ্ন রেখে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, কেউ বলছেন, এ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে, কেউ বলছেন পারবে না। কেউ বলছেন, দলীয় প্রতীকে হবে না বলে ‘ক্লিন ইমেজের’ যাঁরা আছেন, তাঁরা অংশ নিতে পারবেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ বিষয়গুলো পরিষ্কার করলে সবার বুঝতে সুবিধা হতো। স্থানীয় পর্যায়ে যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁদের জন্য সুবিধা হতো।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। তবে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, সে প্রশ্নে কিছু বলেননি তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ইতিমধ্যে প্রতিটি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই দলীয়ভাবে মনোনীত। অথচ এই গণতন্ত্রের জন্য ২০১৪ থেকে আরম্ভ করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বাংলাদেশের মানুষ লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার চার মাসের মতো ক্ষমতায় এসেছে, এরপরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কিছু জানতে পারিনি।

স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের পুরো শাসনব্যবস্থা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের অধীনে জেলাগুলো শাসিত হচ্ছে। এটা সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।’

পরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি আশ্বস্ত করতে পারি যে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই সিদ্ধান্তে আমরা যথাযসময়ে নির্বাচন করতে পারব।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ সোমবার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৪ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে ধানমন্ডিতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ফারহান ফাইয়াজ শহীদ হয়। সেদিন (২০২৪ সালের ১৮ জুলাই) ছাত্রলীগ–যুবলীগের নেতা–কর্মীরা এমনভাবে গুলি করছিল যে পুলিশ সদস্যরাও এভাবে গুলি করে না। ছাত্রলীগ–যুবলীগের নেতা–কর্মীদের কাছে এত গুলি কীভাবে আসল?’

মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।

নানক, তাপসসহ এই মামলার ২৪ আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল সিদ্দিক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ ও ৩২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান–নুর–ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর ৩৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজীব, জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস (ব্যক্তিগত সহকারী) মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ হৃদয়, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইমান ওয়াসেক, ধানমন্ডি থানা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহাদ হোসেন সোহাগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ৩৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সেন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আক্রমণকারী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা জহির উদ্দিন আহম্মেদ, অস্ত্রধারী ‘হেলমেট বাহিনীর সদস্য’ মো. ইউনুছ এবং সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদের সহযোগী মো. রুবেল হোসেন।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আন্দোলনকারী ফারহান ফাইয়াজ, মো. মাহিন মিয়া ও মো. রনিকে হত্যা এবং পরদিন ১৯ জুলাই আল শাহরিয়ার হোসেন, মো. রাজু আহমেদ, মাহামুদুর রহমান সৈকত, মো. ইসমাইল, মো. জসিম উদ্দিন ও জোবায়েদ হোসেন ইমনকে হত্যার ঘটনায় এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

রোববার (১৪ জুন) রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল বলেন, আনোয়ারা থানার চেনামতি এলাকায় সংঘটিত মা-মেয়ে হত্যা মামলার আসামি রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়াকে রোববার রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আজ বেলা সাড়ে ১১টার সময় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে, গত ১৩ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন একই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে পিয়াস বড়ুয়া, সে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া দাবি করেছিলেন, প্রতিবেশী রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই লেনদেনসংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে এসে হামলার ঘটনা ঘটানো হতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। মৃত্যুর আগে তার স্ত্রীও তেজু বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান।

রোববার (১৪ জুন) সরকারি সফরে সেখানে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা দীর্ঘক্ষণ কথা বলায় একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে সফর বাতিল করে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তথ্য উপদেষ্টা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে উপদেষ্টা নিজেই পাসপোর্ট ফেরত চান এবং পরবর্তী ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নেন।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে সসম্মানে দেশটিতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও আত্মসম্মান ও প্রটোকল বজায় রাখতে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন ডা. জাহেদুর রহমান।

উদ্ভূত এই পরিস্থিতির পর তিনি আর দিল্লিতে অবস্থান করেননি। যত দ্রুত সম্ভব ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত আরও দুটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপির সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে সভাপতি করে অর্থ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে সভাপতি করে আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ রোববার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমতিক্রমে তাঁর পক্ষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম পৃথকভাবে কমিটি দুটি গঠনের প্রস্তাব করেন। পরে প্রস্তাব দুটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। দুটি কমিটিতেই সদস্য হিসেবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দুজন এবং এনসিপির একজন করে সংসদ সদস্য আছেন। অন্য সদস্যরা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির।

এর আগে ১০ জুন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ নিয়ে চলতি সংসদে তিনটি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হলো।

অর্থের সংসদীয় কমিটিতে যাঁরা

অর্থ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে।

এই কমিটির সদস্যরা হলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মো. নূরুল ইসলাম (বরগুনা-২), মীর শাহে আলম (বগুড়া-২), মো. জালাল উদ্দিন (চাঁদপুর-২), মঈনুল ইসলাম খান (মানিকগঞ্জ-২), মো. শাহাদাত হোসেন (লক্ষ্মীপুর-১), জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম খান (ঢাকা-১২), সৈয়দ জয়নুল আবদীন (ঢাকা-৪) এবং কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)।

আইনের সংসদীয় কমিটির সদস্য যাঁরা

আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থকে।

এই কমিটির সদস্যরা হলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন (নোয়াখালী-১), মুহাম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য শাকিলা ফারজানা, মো. মনজুরুল ইসলাম (দিনাজপুর-১), মো. হাসান রাজীব প্রধান (লালমনিরহাট-১), জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (পাবনা-১) ও আল ফারুক আবদুল লতিফ (নীলফামারী-২) এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন (রংপুর-৪)।

শিক্ষার সুযোগ অনগ্রসর এলাকার জনসাধারণের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেলে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ তৈরি হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান।

জেলা পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’–এর ঢাকা জেলার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জুবাইদা রহমান।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ রোববার রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে এ প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ঢাকার মোট ৩৭টি দল অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, দ্বিতীয় হয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং তৃতীয় হয়েছে হলি ক্রস কলেজ। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জুবাইদা রহমান।

কেবল ঢাকা নয়, আজ সারা দেশেই জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেশের প্রান্তিক এলাকার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান বলেন, তারপরও কিন্তু শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নেওয়া থামায়নি। হয়তো তাদের মধ্যেই কেউ হবে বাংলাদেশের নাম বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল করা ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী।

জুবাইদা রহমান বলেন, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার শিক্ষার অধিকার রয়েছে। শিক্ষার সুযোগকে অনগ্রসর এলাকার জনসাধারণের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেলে প্রতিভা অন্বেষণ ও উপযুক্ত সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ করা যাবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জুবাইদা রহমান বলেন, অসাধারণ সাফল্য যেন তোমাদের জীবনকে আলোকিত করে, সেই আলোর আলোকচ্ছটায় আগামীর বাংলাদেশ যেন বিশ্বে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো প্রতীয়মান হয়।

স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’–এর ঢাকা জেলার অনুষ্ঠানে প্রতিযোগী দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ধারণা নেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। আজ রোববার রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে
স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’–এর ঢাকা জেলার অনুষ্ঠানে প্রতিযোগী দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ধারণা নেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। আজ রোববার রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে
 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘আমরা আর চাই না সেই পুরোনো দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।...আমরা সৃজনশীল লেখাপড়া আনব, আমরা বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা করব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, সারা দেশে এ প্রতিযোগিতায় ৬৪ জেলা থেকে ১২ হাজার দল অংশ নিয়েছে। এতে অংশ নেন প্রায় ৩৬ হাজার ছাত্রছাত্রী এবং প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষক।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বেশি সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা দক্ষ ও যোগ্য হয়।

ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিএএফ শাহীন কলেজের ছাত্রী আয়াত সিমরান ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র মো. শাফায়েত বিশ্বাস। অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী এবং সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক খুঁজে বের করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের উদ্যোগে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী এই উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ প্রতিযোগিতা ঘিরে উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞান প্রকল্প ও স্টার্টআপ ধারণার প্রদর্শনী যেন পরিণত হয়েছে তরুণ মেধার এক প্রাণবন্ত উৎসবে।

তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। তাতে প্রতিটি উপজেলা থেকে সেরা একটি দল এবং মহানগর এলাকার শিক্ষা থানা থেকে সেরা দুটি দল আজ জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। একেকটি দল গঠিত হয় তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষকের সমন্বয়ে।

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান আজ রোববার ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’–এর ঢাকা জেলার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান আজ রোববার ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’–এর ঢাকা জেলার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়
 
অতিথি ও আয়োজকদের সঙ্গে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা। ১৪ জুন
অতিথি ও আয়োজকদের সঙ্গে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা। ১৪ জুন
 

সারা দেশে জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতা থেকে বাছাই করা হচ্ছে সেরা ১০০টি দল। তাদের নিয়ে ২৮ জুন রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়া দলগুলো তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করবে। সেখান থেকে নির্বাচিত হবে সেরা ১০টি দল। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা পাবে ২০ হাজার টাকা ও সনদ। আর বিজয়ী শিক্ষকেরা পাবে ৩০ হাজার টাকা ও সনদ।

দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বিচার চলছে। বাকি পাঁচটি মামলার তদন্ত চলমান।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দুদকের উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম।

দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ১২ জুন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সরকার।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা রয়েছে উল্লেখ করে আকতারুল ইসলাম বলেন, এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং সেই মামলার বিচার চলছে। বাকি পাঁচটি মামলার তদন্ত চলমান। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আকতারুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার পরও বেনজীর আহমেদ জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক বেসরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত বছর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়।

মামলাগুলোর তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বিভিন্ন জেলায় শত শত বিঘা জমি, কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন আদালত। পরে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার আশা করছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুতই তাঁকে বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে সরকার নতুন একটি বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থা চালু করছে। নতুন নীতিমালার আওতায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। যারা নির্দিষ্ট সময় অন্তর বসে বদলির আবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে। পরে তার ভিত্তিতে বদলি করা হবে।

এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি উপজেলা পর্যায়ের আবেদন যাচাই–বাছাই করবে এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলির আদেশ জারি করবেন। একইভাবে জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের কমিটি থাকবে, যারা সংশ্লিষ্ট বদলির আবেদন যাচাই–বাছাই করে বদলির ব্যবস্থা করবে। সিটি করপোরেশন, বিভাগীয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই–বাছাই ও নিষ্পত্তি–বিষয়ক কমিটিতে যথাক্রমে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর), বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক সভাপতি থাকবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, অতীতে শিক্ষক বদলি একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সিটি পুলিশ। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। 

ইন্টারপোলের সহায়তায় সাবেক এই আইজিপিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রোববার (১৪ জুন) নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, গত ১২ জুন পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা হয়। ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ সময় তাকে বিদেশে অবস্থানরত উল্লেখ করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেফতার করে।

২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। তবে, সেদিন তিনি কোন দেশে গিয়েছিলেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। এরপর থেকে লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন সাবেক এ আইজিপি। 

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিলে আইজিপির দায়িত্ব পান। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ এই পদে বহাল ছিলেন তিনি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় র‌্যাবের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এই বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

দুর্নীতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটিকে পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব। পাশাপাশি এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

বেনজীর আহমেদকে ১২ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শিগগির তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। ওই রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়।

১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই–মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয় বলেও মন্ত্রী জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠাতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাবে। এনসিবি (পুলিশ সদর দপ্তরের একটি শাখা যারা ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে) আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবে। অতি দ্রুতই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।