হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বাবার মৃত্যুর পর শেষবারের মতো লাশ দেখতে প্যারোলে মুক্তি চেয়েছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. শাহরুখ খান; কিন্তু প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় কারাফটকে বাবার মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাহরুখের স্বজনেরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা শাহরুখের বাবা আবুল বাশার খান (৫৮) মারা যান। বটতলা টেম্পোস্ট্যান্ডে লাইনম্যানের চাকরি করতেন আবুল বাশার। এর আগে গত শুক্রবার মধ্যরাতে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ সার্কুলার রোডে নিজ বাসা থেকে পুলিশ ওয়ার্ড সভাপতি শাহরুখকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

শাহরুখের ভাই সালমান খান জানান, বাবার মৃত্যুর পর কারাগারে থাকা ছোট ভাই শাহরুখের প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করেছিলেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা তাঁদের বসিয়ে রাখা হয়। এরপর একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে বলেন, ‘আপনারা কারাগারে যান, আমরা সেখানে বলে দিচ্ছি।’

সালমান অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়ার পর সেখানকার কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে তাঁদের এ–সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরে বিকেল পৌনে চারটায় মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগারে নেওয়া হয়। চারটার দিকে মরদেহের সঙ্গে তিনজনকে কারাগারে ঢুকতে দেওয়া হয়। মরদেহ দেখার জন্য কারা অভ্যন্তরে মাত্র পাঁচ মিনিট মরদেহ থাকতে দেওয়া হয়। পরে নগরের নিউ সার্কুলার রোডের গাজীবাড়ি মসজিদে বাদ আসর শাহরুখের বাবার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের পপুলার এলাকায় সন্ধ্যায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

সালমান আরও জানান, তাঁর ছোট ভাই শাহরুখ খানকে ৫ আগস্টের পরে আটটি মামলায় আসামি করা হয়। এসব মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আরও তিনটি মামলায় আসামি করা হয়।

শাহরুখের আইনজীবী মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, শাহরুখকে প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছিল; কিন্তু আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা প্যারোলে মুক্তির আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ডিসি স্যার বলেছেন, আসামি শাহরুখের স্বজনদের কারাফটকে লাশ নিয়ে দেখা করানোর ব্যবস্থা করাতে। ডিসি স্যারের কথাটাই স্বজনদের আমি বলেছি।’

সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অসত্য’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য তুলে ধরে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকারকর্মী ইয়েন ইয়েনকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এ ধরনের চিঠি দেওয়া নাগরিকদের বৈধভাবে মতপ্রকাশে বাধা দেওয়ার শামিল। এ ছাড়া এ ঘটনা তাঁর সামাজিক মর্যাদাহানির সমার্থক। অবিলম্বে ওই চিঠি প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন ও জোবাইদা নাসরীন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বিএনডব্লিউএলএর নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, লেখক ও গবেষক ঈশিতা দস্তিদার, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী রোজিনা বেগম, মানবাধিকারকর্মী সাঈদ আহমেদ এবং কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হানা শামস আহমেদ।

নাগরিকদের ইচ্ছেমতো বাক্স্বাধীনতা রোধ করা সরকারের নীতিগত অবস্থান কি না, এমন প্রশ্ন তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, এর জবাব সরকারকেই দিতে হবে। চিঠির একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এতে বলা হয়, চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—রানী ইয়েন ইয়েন পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ‘উপজাতীয়’ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ করছেন। তর্কের খাতিরে এটি সত্য ধরে নিলেও প্রশ্ন থেকে যায়, নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলা কি অপরাধ?

শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত বা ঐক্যবদ্ধ হওয়া অথবা কাউকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলা নাগরিকের সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত রাখতে নানা উপায়ে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। ওই মহল সাধারণ নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করতেই এ ধরনের অভিযোগ এনেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গোয়েন্দা রিপোর্টের নামে সাধারণ নাগরিকদের কথা বলার অধিকার হরণের চেষ্টা কিংবা কোনো সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠরোধ এবং বঞ্চনা-বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে দমিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া দরকার।

বজ্রপাতে দেশের ৮ জেলায় ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে পটুয়াখালীতে চারজন, জামালপুরে দুইজন, বরগুনায় দুইজন, ময়মনসিংহে একজন, বাগেরহাটে একজন, রংপুরে একজন, রাজবাড়ীতে একজন রয়েছেন ও পিরোজপুরে একজন রয়েছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশের ৮ জেলায় এসব মৃত্যু হয়।

পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখি ঝড়ের সময় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গত দুই দিনে বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে সৌরভ মজুমদার (২২) বজ্রপাতে মারা যান। দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিন (২৮) নিহত হন। এরপর দুপুর ২টার দিকে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং একই সময়ে শান্তিপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় খালেক হাওলাদার (৫৫) বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এছাড়াও রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিনে অন্তত ৫০টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কলাপাড়া থানার (ওসি) ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুর: জামালপুরের ইসলামপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে শামীম মিয়া (৩৫) ও রাস্তার কাজ করার সময় সাগর ইসলাম (১৮) নামে এক শ্রমিক মারা যান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি গ্রামে ও সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম মিয়া একই এলাকার হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে এবং নিহত সাগর ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া গ্রামের মো. স্বাধীনের ছেলে।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ূম গাজী বলেন, বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চলমান।

বরগুনা: বরগুনায় পৃথক দুটি বজ্রপাতের ঘটনায় আল-আমীন নামে এক জেলে ও নূরজামাল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আল-আমীন পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার বাসিন্দা এবং নূরজামাল আমতলী উপজেলার পূজাখোলা নামক এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরের দিকে পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলায় বজ্রপাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পাথারঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক এবং আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীতে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবারের সদস্যদের নিকট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। সকালে বাড়ির অদূরে রাংসা নদীতে মাছ ধরতে যান তিনি। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাট: বাগেরহাটে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলের দিকে সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামের মাঠে গরু আনতে গেলে  বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। রবিন হাওলাদার সরকারডাঙ্গা গ্রামের জগদীশ হাওলাদারের ছেলে।

বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সরকারডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

রংপুর: রংপুরের তারাগঞ্জে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে ওই গৃহবধূ রান্না করার জন্য বাড়ির পাশে খড়ি সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, বজ্রপাতে গৃহবধূর মুত্যুর খবর শুনে নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৭টার দিকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মজ্জৎকোল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুমন ওই গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে।

সুমনের বন্ধু মফিজুল ইসলাম রুবেল জানান, সকাল পৌনে ৭টার দিকে তিনি সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে কিছু বাজার আনতে যাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় এবং সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেয়ে সাফিয়ার নাক ও কান দিয়ে সামান্য রক্ত বের হলেও বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে যাচ্ছে।

পিরোজপুর: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় হাঁস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে আয়েশা আক্তার (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনসাধারণকে সুরক্ষা দিতে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে এসব পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।


Pause

Mute
Remaining Time -13:33

Close Player
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে টেকসই উন্নয়নের সমঅংশীদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গরিব অসচ্ছল, সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের সাধনের লক্ষ্যে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রম; গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন পুষ্টি এবং শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি; মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি; নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের লক্ষ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশন পরিচালনা ইত্যাদি।

তিনি আরও বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন আইন এবং বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্প লাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসূচিতে প্রসবপূর্ব এবং প্রসব পরবর্তী সেবা অন্তর্ভুক্ত করা, টিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

Copied from: https://rtvonline.com/

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ দাবি করে তা সংসদে তোলার আহ্বান করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ধারা রয়েছে বলে তখন আপত্তি উঠেছিল। সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এটি বাতিলও করতে পারে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২৪তম অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি তোলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা সংসদকে বলেন, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে আমাদের সঙ্গে আমেরিকার যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সে বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তার মধ্যে দুই দেশের আমদানি রফতনির ঘাটতি, বাংলাদেশের কৃষি ও জ্বালানিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতি সংস্কারের মতো উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো মার্কিন রাষ্ট্রদূত তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী- বাংলাদেশ থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রফতানি করি, তার তুলনায় আমেরিকা থেকে আমদানি কম। এই ভারসাম্যহীনতার কারণেই বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই চুক্তিটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তার দাবি অনুযায়ী, তখন দেশের বিভিন্ন সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংক থেকে বলা হয়েছিল, একটি অন্তর্বর্তী সরকার এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করতে পারে না এবং এতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু ধারা থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই বলেছিলেন নির্বাচনের পর একটি নির্বাচিত সরকার এসে এই চুক্তি করা উচিত ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি স্বাক্ষর করে।

রুমিন ফারহানা আরও উল্লেখ করেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কিছু প্রতিযোগিতামূলক নীতি ও বাণিজ্যিক শর্ত রয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার উত্থাপিত বিষয়টি গ্রহণ করেননি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় স্পিকার বলেন, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী পয়েন্ট অব অর্ডার শুধুমাত্র চলমান সংসদীয় কার্যক্রম বা সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়েই প্রযোজ্য। এ প্রসঙ্গে তিনি ৩০১ বিধির উল্লেখ করে জানান, এটি একটি নতুন নীতিগত বিষয় হওয়ায় পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে উত্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

এরপর এক মিনিট সময় চেয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এই চুক্তিটি যদি সরকার চায়, তাহলে তা বাতিল করা সম্ভব। তাই চুক্তিটি সংসদে আনা হোক।

জবাবে স্পিকার পুনরায় জানান, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।

 

ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন এক সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বার্তায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ভিসা ব্যবহার দেশটির শর্তের লঙ্ঘন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে দেওয়া হয়েছে এ বার্তা।

পোস্টে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি শুধুমাত্র সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন, তাহলে তা ভিসার শর্তের পরিপন্থী। এ ধরনের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা যদি মনে করেন ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।

দূতাবাস আরও জানায়, এ ধরনের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত নয়। তাই ভিসা আবেদনকারীদের সঠিক উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া, ভুল তথ্য প্রদান বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে দূতাবাস।

 

রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বহুমাত্রিক পরিকল্পনার কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার সংসদের অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান।

বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী লিখিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) উন্মুক্ত মিডিয়ান জিরো সয়েল-সবুজে আবৃত করা হচ্ছে। সিটির আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষোরপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশ (মিরপুর ১২ নম্বর থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (আবদুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত) নিচের খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা শহরের পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকার বায়দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস এবং ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমণকারী যানবাহন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণসামগ্রী দ্বারা বায়ূদূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা শহরের বায়ূদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকে অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাগুলো বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঢাকার আশপাশে ইটভাটা নিষিদ্ধ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীর বায়ূদূষণ কমানোর লক্ষ্যে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে। এই এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের নদী–খাল–জলাশয় দূষণরোধে তরল বর্জ্য নির্গমণকারী প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪৮টি ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে। স্থাপিত ইটিপি রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) ক্যামেরা স্থাপন চলমান।

ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস ও প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তুলতে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, এসব কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সংসদ সদস্য আবুল কালামের সম্পূরক প্রশ্নে রাজধানীমুখী মানুষের স্রোত কমানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের সব সুযোগ-সুবিধা, চাকরি-বাকরি, চিকিৎসা, পড়ালেখাসহ সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে। এটা এক দিন-দুই দিন না, এটি বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে। সারা দেশকে ঘিরে সুবিধাগুলো গড়ে তোলা হয়নি। সে কারণে স্বাভাবিকভাবে সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকামুখী হয়ে থাকে। সেটি কর্মসংস্থানের সুবিধার জন্য হোক, সন্তানদের লেখাপড়ার জন্যই হোক, আর পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যই হোক।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে আছে দেশের সব অংশে পর্যায়ক্রমিকভাবে মৌলিক সুবিধা গড়ে তোলা। বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ করছে। একই সঙ্গে চেষ্টা করছে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাসেবা গড়ে তুলতে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লেখাপড়ার জন্য ধীরে ধীরে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়া। এসব সুবিধা যদি গড়ে তোলা যায়, তাহলে মানুষ ঢাকা শহরে আসার জন্য কম উৎসাহিত হবে। ধীরে ধীরে ঢাকার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।

‘বাইপাসকে বাইপাস করার জন্য আরেকটা বাইপাস দরকার’

ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ময়মনসিংহের শহরের পরিধি বেড়েছে। আপনি যে বাইপাসের কথা বললেন, আমার নিজ জেলায় (বগুড়া) একটি বাইপাস আছে, যেটি শহরকে বাইপাস করে চলে গেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সে বাইপাসের দুই পাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এখন মনে হচ্ছে, বাইপাসকে বাইপাস করার জন্য আরেকটা বাইপাস দরকার। হয়তোবা ময়মনসিংহ রেলস্টেশন শহর থেকে অন্যদিকে নেওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের দেশ আয়তনে ছোট। অনেকগুলো বিষয় চিন্তা করতে হয়। জমি নষ্ট করবেন কি না, অর্থ ব্যয় করবেন কি না, সবকিছু বিবেচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। সব শহরের জন্যই বড় পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

 

দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল থেকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আর এই বৃষ্টির কারণে দেশের পাঁচ জেলায় বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ জেলার মধ্যে ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা শুরু হয়ে গেছে। বাকি তিন জেলায় বন্যা হতে পারে, কারণ এসব জেলার নদ–নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে এখন যে বৃষ্টি আছে তা আরও অন্তত পাঁচ দিন থাকতে পারে বলে বৃষ্টির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া আজ বুধবার সকালে বলেন, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জন্যই এ অবস্থা।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল মঙ্গলবার পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়।

গতকাল রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাজধানীতে আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ১৬১ মিলিমিটার। এ ছাড়া ভোলায় বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ মিলিমিটার, ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক আজ প্রথম আলোকে বলেন, এ বৃষ্টি যে কোনো এলাকায় একটানা হবে তা নয়। থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে। বৃষ্টি চলতে পারে আগামী ৪ মে পর্যন্ত।

চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সূত্র। এসব নদী হলো ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু বাদ দিয়ে বাকি তিন নদীই নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এর বাইরে সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া। তিনি বলেন, এসব নদী আকারে ছোট। তাই ভারী বৃষ্টি হলে এভাবে পানি বেড়ে যায়।

বৃষ্টি কমে গেলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই প্রকৌশলী।

বাংলাদেশ সরকার পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ব্যক্তিদের ২৫ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের জুন থেকে এসব সম্পদ জব্দ করেছে বলে ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক জানিয়েছেন।

তবে জব্দ হওয়া এসব অর্থ যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হতে হবে উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেছেন, ‘আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করতে হলে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণের প্রয়োজন হয়ে থাকে।’

আজ মঙ্গলবার ডিক্যাব টক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন হাইকমিশনার সারাহ কুক। দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে ডিক্যাব টকের আয়োজন করে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব)। ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, ‘গত ১৮ মাস থেকে দুই বছর ধরে সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছি। আমরা এ ক্ষেত্রে আরও কাজ করতে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা নিয়ে কথা বলতে পারি না। সেগুলোর সব কটিতেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এটি আমাদের জন্য একটি উচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।’

সম্পদ জব্দের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন বজায় রাখার প্রতি যুক্তরাজ্যের দৃঢ় অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন সারাহ কুক। অবৈধ অর্থের প্রবাহ বন্ধে কী করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

সারাহ কুক বলেন, ‘এটি এমন কিছু নয়, যা রাতারাতি ঘটে যেতে পারে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জব্দ হওয়া অর্থ ফেরাতে হবে।’ এ ধরনের আর্থিক অপরাধ দমনে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাজ্য এই গ্রীষ্মে লন্ডনে একটি ইলিসিট ফিন্যান্স সামিট (অবৈধ অর্থায়ন শীর্ষক সম্মেলন) আয়োজন করবে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, স্পষ্টতই বাংলাদেশে এখন একটি সংসদ রয়েছে এবং একটি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ সদস্যদেরই দায়িত্ব হলো সংসদে একত্র হয়ে বিতর্ক ও আলোচনা করা। সংস্কারগুলো ও জুলাই সনদকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম কর্মপন্থা নির্ধারণের দায়িত্ব সংসদ সদস্যদের। এটি জাতীয় সংসদে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে। এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো বিষয় নয়।

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে সংস্কারের দৃঢ় সমর্থক বলে উল্লেখ করেন সারাহ কুক। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এমন কয়েকটি ক্ষেত্র ইতিমধ্যে তুলে ধরেছি, যেখানে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি এবং এখন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে পারি তা নিয়ে আলোচনা করছি। অর্থনৈতিক সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমরা কীভাবে একত্রে কাজ করতে পারি, সে বিষয়েও কথা বলেছি।’

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের অংশীদারত্বের অনেক ক্ষেত্র রয়েছে উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, ‘আমরা সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাই, কীভাবে এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গভীর করতে পারি, সেদিকেও নজর দিতে চাই।’

মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে সংস্কার নিয়ে বর্তমান সংসদের ভূমিকার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন বিষয়ে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। আমরা এমন সংস্কারের সমর্থক, যা দেশে সুশাসন, মানবাধিকার ও স্থিতিশীলতা উন্নত করে। আপনি যে নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, তা সংসদের বিষয়। এখন একটি কার্যকর সংসদ রয়েছে। সুতরাং কোন সংস্কার এবং কোন আইন ও অধ্যাদেশগুলো এগিয়ে যাবে, তা নির্ধারণ করা সংসদের কাজ।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গণতন্ত্রের গতিপথ কোন দিকে যাচ্ছে, সে প্রশ্নের জবাবে সারাহ কুক বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব রয়েছে। আমরা বিগত সময়ে গণতান্ত্রিক সংস্কারে একসঙ্গে কাজ করেছি। যুক্তরাজ্য নির্বাচন কমিশনকে সমর্থন করেছে এবং আরও অন্যান্য কাজের ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারে সমর্থন দিচ্ছি। সুতরাং এ ক্ষেত্রগুলোতে আমরা ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’

অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, ‘আমরা কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে অনেক কাজ করছি, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিডার সঙ্গে কাজ করছি। কিন্তু অবশ্যই, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী যা ঘটছে তার দ্বারাও প্রভাবিত। সুতরাং এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ। এ কারণেই আমরা এই কঠিন অর্থনৈতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই।’

দু্ই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে কি না জানতে চাইলে সারাহ কুক বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। আমরা একটি সমীক্ষা জাহাজ হস্তান্তরের জন্য দুই দেশের সরকার চুক্তি সই করেছে। আমরা ভবিষ্যৎ সামরিক নেতৃত্ব গঠনে প্রশিক্ষণে সহায়তা করার জন্যও একসঙ্গে কাজ করছি।’

মানবাধিকার ও মব সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্নে সারাহ কুক বলেন, বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য সম্প্রতি মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের বৈশ্বিক সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এটিও মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকারের একটি অত্যন্ত জোরালো সংকেত।

‘সুতরাং আমি আশা করি, এটি প্রমাণ করে যে আমরা এ বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দিই এবং আমাদের কাজের অংশ হিসেবে আমরা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলা চালিয়ে যাব। আর বাংলাদেশের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে যে আইনের শাসনের ওপর মনোযোগ দেওয়াই তাদের ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য এবং এটি অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,’ বলেন তিনি।

এয়ারবাস কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ চুক্তি সই করেছিল। এ নিয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যকার চুক্তি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারত্বকে উন্নত বা শক্তিশালী করা। একটি আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে বাংলাদেশের। যুক্তরাজ্য সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তাই আমরা চুক্তিটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছি।’

নাচের ছন্দে, গানের সুরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশ। বুধবার, ২৯ এপ্রিল বিশ্ব নৃত্য দিবস। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে শুরু হয়েছে দুই দিনের নৃত্যানুষ্ঠান। এই আয়োজনে দেশের এক শটির বেশি নৃত্য সংগঠনের ছয় শতাধিক শিল্পী অংশ নিচ্ছেন।

এবার বিশ্ব নৃত্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ঐক্য, সৃজনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তি’। শিল্পকলা একাডেমি ছাড়াও বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা ও নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশনও বিশ্ব নৃত্য দিবস উপলক্ষে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় একাডেমির নৃত্যশালা ভবনের সামনে থেকে নৃত্যশিল্পীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমির দুই দিনের নৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক (তথ্য সম্প্রচার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়) উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মুখ্য আলোচক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্য গবেষক ও নৃত্য পরিচালক আমানুল হক। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিসচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। ধন্যবাদ জানান একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

প্রধান অতিথি জাহেদুর রহমান বলেন, নাচের সাংস্কৃতিক গুরুত্বের পাশাপাশি শারীরিক উপযোগিতাও রয়েছে। এখন শিশুরা অধিকাংশ সময় পড়ালেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এসব নিয়ে শারীরিকভাবে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন করে। এতে তাদের নানা রকমের শারীরিক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। নাচের চর্চার প্রসার ঘটলে তাদের জন্য এটি স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

মুখ্য আলোচক আমানুল হক আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে সাধারণত নৃত্য দিবস তেমন বড় পরিসরে পালন করা হয় না। শিল্পকলা একাডেমির এই উদ্‌যাপন ভালো লাগছে। এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা সমবেত নৃত্য ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রথম দিনের নৃত্য পরিবেশনার পালা। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন ফিফা চাকমা। এরপর বেনজির সালামের পরিচালনায় ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায়...’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যছন্দের শিল্পীরা। কবিরুল ইসলাম রতনের পরিচালনায় নৃত্য ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। আরিফ হোসেনের নির্দেশনায় ‘মাস্তকালান্দার’ ও ‘মন আমার দেহঘড়ি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন সাত্ত্বিক শিল্পাশ্রমের শিল্পীরা।

‘তোমায় আমি পাইতে পারি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যায়তনের শিল্পীরা, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন নাজমুল হক। সমসাময়িক নৃত্য ‘চেঞ্জিং ড্রিমস’ পরিবেশন করে সাধনা, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন সাব্বির আহমেদ খান। সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় ‘এসো প্রিয় মন রাঙায়ে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে ছান্দসিক। মুনমুন আহমেদের পরিচালনায় ‘জাপানি ও রাশিয়ান লোকনৃত্য’ পরিবেশন করেন রেওয়াজ পারফরমারস স্কুলের শিল্পীরা।

প্রথম দিন আরও নৃত্য পরিবেশন করে নূপুরধ্বনি, গুরুকুল কালচারাল সেন্টার, কাথ্যাকিয়া দ্য সেন্টার অব আর্টস, অঞ্জলি নৃত্যাঙ্গন একাডেমি, নৃত্যকল্প, আকৃতি নৃত্যদল, কালারস অব হিল, ঝংকার ললিতকলা একাডেমি, ধ্রুপদি নৃত্যালয়, নাইম খান ড্যান্স কোম্পানি, নান্দনিক নৃত্য সংগঠন, জিনিয়া নৃত্যকলা একাডেমি, ভঙ্গিমা ড্যান্স থিয়েটার, দেব ড্যান্স একাডেমিসহ বিভিন্ন নৃত্য সংগঠনের শিল্পীরা।

আজকের অনুষ্ঠান: আজ বুধবার সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল ৫টায়। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সমাপনী দিনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ২৩টি দলের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করবেন।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে স্কোরলাইন ১–১; আর তিন মিনিট পরই রেফারির শেষ বাঁশি বাজবে। ঠিক তখনই যেন ম্যাজিক নিয়ে হাজির বাংলাদেশের আইরিন আক্তার। ৫৭ ও ৫৮ মিনিটে দুই গোল করে বাংলাদেশকে নিয়ে গেলেন এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের ফাইনালে। ম্যাচটা বাংলাদেশ জিতেছে ৩–১ গোলে। বাংলাদেশের তিনটি গোলই আইরিনের।

বাছাইপর্বের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ সন্ধা সাতটায় ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে চায়নিজ তাইপে। এ ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে আগামীকাল ফাইনাল খেলবেন বাংলাদেশের মেয়েরা।

প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। গত রোববার হংকং চায়নাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস হকিতে খেলা নিশ্চিত করে তারা। আজ পেয়ে গেল বাছাইপর্বের ফাইনালের টিকিটটাও।

বাংলাদেশ নারী হকি দলের এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ছেলেদের দল এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত চারবার ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দুবার।

প্রথমবার অংশ নিয়েই এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা
প্রথমবার অংশ নিয়েই এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা, ভিডিও থেকে নেওয়া

জাকার্তার জিবিকে হকি মাঠে আজ প্রথম তিন কোয়ার্টারে বাংলাদেশকে বেশ ভুগিয়েছে সিঙ্গাপুর। যদিও বিশ্ব হকির র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩৬ নম্বরে থাকা দলটির বিপক্ষে দশম মিনিটেই আইরিন আক্তারের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এর দুই মিনিট পরই পেনাল্টি কর্নার থেকে দলকে সমতায় ফেরান সিঙ্গাপুরের চিয়া চেরি।

গোল হজমের পর কিছুটা সতর্ক হয়েই আক্রমণ করে বাংলাদেশের মেয়েরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশও একটি পেনাল্টি কর্নার পায়, কিন্তু নাদিরা সেটিকে গোলে রূপ দিতে পারেননি। ১–১ সমতায় শেষ হয় দ্বিতীয় কোয়ার্টার।

প্রথম তিন কোয়ার্টারে বাংলাদেশকে ভোগালেও হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর
প্রথম তিন কোয়ার্টারে বাংলাদেশকে ভোগালেও হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর, ভিডিও থেকে নেওয়া

তৃতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশের আক্রমণগুলো সিঙ্গাপুরের গোলমুখেই ঘুরপাক খেয়েছে। ৪২ মিনিটে বাংলাদেশ দ্বিতীয় পেনাল্টি কর্নার পেলেও অধিনায়ক অর্পিতা পাল গোল করতে পারেননি। ৪৫ মিনিটে শারিকার দারুণ হিট থামিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার ইলিয়া।

১–১ সমতা নিয়ে শুরু চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টারে দুই দলই গোল পেতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়। ৪৭ ও ৪৮ মিনিটে দুটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও বল জালে জড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে দেরিতে হলেও ম্যাচে ফেরে জাহিদ হোসেনের দল। ৫৭ মিনিটে কনা আক্তারের পাস থেকে ফিল্ড গোল করেন আইরিন। এক মিনিট পর আইরিন নিজের হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন আরেকটি ফিল্ড গোলে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহিউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪৫, নন-পুলিশ পদ ৮ হাজার ৪৭টি এবং নন-পুলিশ আউটসোর্সিং পদ ২ হাজার ৭৬২টি। নতুন করে ১৪ হাজার ৫০০ পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে এএসপি পদ ৫০০, এসআই (নিরস্ত্র) ৪ হাজার এবং ১০ হাজার কনস্টেবল।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২ হাজার ৭০৩টি কনস্টেবলের শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া, সরাসরি ২ হাজার এএসআই নিয়োগ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সারাদেশে ৪৬৪টি হত্যা মামলা এবং ৬৬৬টি ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। হত্যা মামলায় ৬০৪ জন ও ধর্ষণ মামলায় ৫৩০ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যা মামলায় ১১ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৭১ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দায়ী সব আসামির কঠোর সাজা নিশ্চিত করার জন্য মামলাগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যথাযথ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে মামলাগুলোতে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।