জুলাই গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ জুলাই আন্দোলনে আহতরা সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

রোববার (৩ আগস্ট) সকালে সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। বিটিভিতে তা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষ্যগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়নি।

এর আগে, রোববার সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ‘রাজসাক্ষী’ হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

সূচনা বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিগত আমলে গুম-খুনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছিল। দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের জন্য এমন একটি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা দরকার, যেখানে খুনের রাজনীতি বন্ধ হবে। শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার হওয়া মানেই ন্যায় বিচার বঞ্চিত হওয়া নয়।

গত ১০ জুলাই জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক রয়েছেন।

মানুষের জীবনে বন্ধু এক অদৃশ্য আশ্রয়। যে আশ্রয়ে না বলা কথাগুলোও বুকে গাঁথা থাকে, যে পাশে দাঁড়ায় কোনো শর্ত ছাড়াই।

বন্ধুত্ব মানে চোখের চাহনিতে, হালকা এক হাসিতে কিংবা নিঃশব্দে কাঁধে হাত রাখার সেই ভরসা— যা শব্দ ছাড়াও অনুভব করা যায়। সেই বন্ধুগুলোর সাথে হয়তো নিয়মিত দেখা হয় না, আড্ডার ধরনও হয়তো বদলে গেছে, তবু বছরের এই একটা দিন ফিরে আসে পুরোনো বিকেলগুলোকে মনে করিয়ে দিতে… আজ সেই বন্ধুত্বের জয়গান গাওয়ার দিন।

বন্ধুত্ব উদযাপনের সূচনা আধুনিককালে হলেও, মানুষের হৃদয়ে এর শেকড় অনেক গভীরে। এক শতাব্দী আগেও ‘বন্ধু দিবস’ নামে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। ১৯৩০-এর দশকে মার্কিন উদ্যোক্তা জয়েস ক্লাইড হল প্রথম ‘বন্ধু দিবস’ পালনের ধারণা আনেন। পরে ১৯৫৮ সালে প্যারাগুয়ের চিকিৎসক র‍্যামন আর্তেমিও ব্রাচো এই দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে পালনের প্রস্তাব দেন। আর জাতিসংঘ ২০১১ সালে ৩০ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস’ ঘোষণা করে।

তবে বাংলাদেশ ও ভারতসহ অনেক দেশেই আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সামাজিকমাধ্যমে এদিন ভরে ওঠে অনুভবের ঝরায়। দেখা যায় ছবির ক্যারোসেল, পুরোনো আড্ডার স্মৃতি অথবা ‘তোকে মনে পড়ে’ বার্তা।

বন্ধু মানে এমন কেউ, যার সঙ্গে কোনো মুখোশ পরে কথা বলতে হয় না। ‘ভালো আছিস?’ বলা লাগে না, কারণ চোখের দৃষ্টিতেই সব বলা হয়ে যায়। বন্ধু মানে চায়ের দোকানে বিকেলের হালকা বাতাস, ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কর্নার, নদীর পাড়ের নিশ্চুপ হাঁটাচলা কিংবা কোনো সন্ধ্যায় নিঃশব্দে পাশে বসে থাকা।

এই দিনে কেউ কেউ ফোন করে পুরোনো বন্ধুদের, কেউ খুঁজে নেয় সেই পুরোনো আড্ডার জায়গাগুলো। কেউ হয়তো লিখে ফেলে একটি চিঠি—প্রিয় বন্ধুর উদ্দেশে, যা কখনো বলা হয়নি মুখে।

বন্ধুত্বের মানে সময়ের সঙ্গে বদলায় না, শুধু রূপ নেয়। স্কুলের বেঞ্চ থেকে কর্মস্থলের করিডোর— বন্ধুত্ব থাকে, রয়ে যায় অন্তরের গভীরে। আজ সেই সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। আজ বন্ধুত্বের জয়গান গাওয়ার দিন। সবাইকে বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা।

শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে গুম-খুন-চাদাবাজি ও টাকা পাচারের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছিলো বিগত সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী মামলার সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (৩ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালের সামনে সূচনা বক্তব্য শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দেন অ্যাটর্নি জেনারেল একথা বলেন।

সূচনা বক্তব্য শুরুর আগে ট্রাইব্যুনালের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ব্যক্তি নয় অপরাধই মূখ্য। ব্যক্তি যেই হোক সে অপরাধ করলে তার বিচার করার জন্য আমরা সংকল্পবদ্ধ। যে কারণে আমরা বিচার চাই। আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। পৃথিবীর ইতিহাসে শেখ হাসিনার মত কোনো স্বৈরাচারের জন্ম হয়নি। তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী স্বৈরাচার। 

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কোনো স্বৈরাচারকে মিথ্যার ওপর পিএইচডি করতে হলে শেখ হাসিনার কাছে শিখতে হবে। পৃথিবীর সব স্বৈরশাসকের যদি কোনো সমিতি করা হয়, শেখ হাসিনা হবেন তার সভাপতি। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে স্বৈরাচার ও তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তি আমরা চাই। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই বিচার একটি মানদণ্ড হয়ে থাকবে। আমরা চাই শেখ হাসিবার বিরুদ্ধে যাতে কোনো ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ এর মাধ্যমে বিচার না হয়।

এসময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বিচার পরিচালিত হবে। বলেন, শেখ হাসিনার বিচার অতীতের হিসাব মেটানো নয়, এটি বিচার ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপনের একটি প্রক্রিয়া। আজ ‘রাজসাক্ষী’ হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আনা হয় ট্রাইব্যুনালে। সাক্ষ্য দিচ্ছেন জুলাই আন্দোলনের আহতরা।

রাজধানীতে ছাত্রদল ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বইলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী।

রোববার (৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অনলাইনে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু সমাবেশ ঘিরে কোনো হুমকি নেই। পুরো এলাকায় পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বস্তিসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এ সময় নগরবাসীকে গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের আহ্বানও জানান তিনি।

শহীদ মিনারে জনসমাবেশ থেকে নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ইশতেহারে ২৪টি দফা থাকবে বলে জানিয়েছে দলটি। যেখানে এনসিপির পক্ষ থেকে রূপরেখা এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি আজকের এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে সারদেশে জুলাই পদযাত্রার সমাপ্তিও ঘোষণা করতে যাচ্ছে এনসিপি।

আজ রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হবে এই সমাবেশ। ঠিক এক বছর আগে একই জায়গা থেকে এক দফা ঘোষণা করেছিলেন নাহিদ ইসলাম। যিনি এখন এনসিপির আহ্বায়ক।

ইশতেহারে যে বিষয়গুলো থাকতে পারে তার মূল বিষয় হলো, বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধান। এই তিনটি হলো তাদের প্রধান প্রত্যাশা। যদিও পুরো জুলাই মাসজুড়ে সারাদেশে এনসিপির যে পদযাত্রা হয়েছে, সেখানে তারা এসব বিষয়ের কথাই বলে এসেছেন।

বিচারের ক্ষেত্রে- জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার দেখতে চায় এনসিপি। জুলাই গণোহত্যার যেসব মামলার বিচার প্রক্রীয়াধীন রয়েছে সেসবের রায় এবং এই সরকারের সময়েই রায় কার্যকর দেখতে চান তারা।

আর সংস্কারের যে বিষয়টি রয়েছে, ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের মাধ্যমে যে জুলাই সনদ প্রনয়ণ করা হবে তার আইনগত ভিত্তি চান তারা। জুলাই সনদের ভিত্তিতে পরবর্তী নির্বাচন চাইবে এনসিপি। নির্বাচিন সংসদের হাতে সংস্কার কার্যক্রম ছেড়ে না দিয়ে বরং জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংসদ বা গণপরিষদ গঠিত করতে হবে এমন দাবি তাদের। এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই জুলাই সনদ কার্যকর করার বিষয়ের মতো বেশ কিছু প্রস্তাবনা আসতে পারে আজকের সমাবেশ থেকে।

প্রস্তাবনায় আরও একটি বিষয় থাকতে পারে- তরুণরা যেই চেতনা থেকে জুলাই অভ্যুত্থান করেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানোর পর তরুণদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিলো এনসিপির মতে, তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা এই অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়ন করতে পারেনি এই সংক্রান্ত প্রস্তাবনা পেশ করবেন এবং পরবর্তী বাংলাদেশে এসবের আইনী ভিত্তি চাইবেন তারা।

তবে শুরুতে যে বিষয়টি ছিল যে, জুলাই ঘোষণাপত্রের ঘোষণা নিজ থেকেই করতে চেয়েছিল এনসিপি। তবে সরকার যেহেতু ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় এটি প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন তাই এই সমাবেশের নাম দেয়া হয়েছে নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার।

রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে এরইমধ্যে যোগ দিয়েছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

রোববার (৩ আগস্ট) দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে ছাত্রদলের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর ইউনিট।

সমাবেশের জন্য শাহবাগ মোড়ে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আরও বক্তব্য দেবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটাই ছাত্রদলের প্রথম বড় কোনো গণজমায়েত। তবে এবারের সমাবেশে দেখা যাবে না চিরাচরিত মিছিল, ব্যানার আর ফেস্টুনের ভিড়। সমাবেশ উপলক্ষে ইতোমধ্যেই নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছে ছাত্রদল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন বা প্ল্যাকার্ড না আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগের জন্য সংগঠনটি আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছে।সমাবেশের কারণে রাজধানীতে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।

মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কনভেনশন সেন্টার ভাড়া নিয়ে রাজধানীর ভাটারায় একটি আবাসিক এলাকায় সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়ো হয়েছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের। এর রহস্য উদঘাটন এবং এর পেছনে জড়িতদের বের করতে ‘গুরুত্ব দিয়ে’ তদন্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ কথা জানান।

জুলাই অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের বর্ষপূর্তিতে আগস্টকেন্দ্রিক কোনও ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই ভাটারা থানা এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে ‘গোপন বৈঠক’ করায় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের অন্তত ২২ জনকে গ্রেফতার করার কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছে পুলিশ। বৈঠকটিতে মেজর সাদিকুল হক নামের এক সেনা কর্মকর্তারও অংশ নেয়ার অভিযোগ উঠলে তাকে হেফাজতে নেয় সেনাবাহিনী। তার বিষয়ে তদন্ত চলমান বলে জানিয়েছে সেনাসদর।

বলা হচ্ছে, দেশজুড়ে ব্যাপক নাশকতার ছক কষতে ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

এদিকে, ঢাকার গুলশানে সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির মামলায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক জানে আলম অপুকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সে তথ্যও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওয়ারী থেকে অপুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত ছয়জনকেই ধরা হলো।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, বাংলাদেশের মাটিতে শেখ হাসিনা যেভাবে গত ১৫ বছর অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে শাসন করে দেশকে ধ্বংস করেছেন, তাকে আর রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হবে না। যত ষড়যন্ত্র আর চক্রান্তই করা হোক না কেন, যতই ভার্চুয়ালি মিটিং করুক না কেন—দেশের মানুষ আর শেখ হাসিনাকে পুনরায় সুযোগ দেবে না।

আজ শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের মোমিনপুর কলেজ মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দুলু বলেন, যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন করে দেশকে ফ্যাসিজম থেকে মুক্ত করেছেন, সেভাবেই সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মাটিতে আর কখনও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। সবাইকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ওপেন হার্ট সার্জারি হবে আগামীকাল শনিবার সকাল ৭টায়। আজ শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তার ওপেন হার্ট সার্জারি করবে।

এদিকে আমিরের সুস্থতার জন্য দেশ-বিদেশের সকলের কাছে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশে অংশ নেয়ার সময় ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, গরমের কারণেই তিনি অসুস্থ হয়েছেন। পরে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে তার হৃদপিণ্ডে পাঁচটি ব্লক ধরা পড়ে। শুরুতে রিং পরানোর পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে ওপেন হার্ট সার্জারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

শেখ হাসিনা যেন আর দেশে ফিরে আসতে না পারেন এবং আর কাউকে হত্যা করতে না পারেন, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার (১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে সমাবেশে’ তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে পারলে ফ্যাসিবাদ থেকে পরিপূর্ণভাবে মুক্তি মিলবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে যুদ্ধ ও লড়াই শুরু হয়েছে। অনেকেই অনেক কথা বলছেন, সেদিকে কান দেবেন না। এ লড়াইয়ে কাজ করে যেতে হবে।

আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত মার্কিন ট্যারিফ কমিয়ে আনায় অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে আমেরিকা দেশের ওপর ট্যারিফ আরোপ করেছিল। আমাদের পণ্যের ওপর শুল্ক বসিয়েছিল। কিন্তু উপদেষ্টারা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সেই ট্যারিফ ৩৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন।

তিনি আরও বলেন, যারা ব্যাংক লুট, চাঁদাবাজি করছে—তাদের বিষয়ে কোনো আপস করবে না বিএনপি। এমনকি জনভোগান্তি লাঘবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বানও জানান মির্জা ফখরুল।

আগামী নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে তিনশ আসনেই প্রার্থী দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর। শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও মঞ্জুরি কমিশন ভবনে জুলাইয়ের বীর জনতার স্মরণে গণসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি

তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে চাঁদাবাজি চলছে। নির্বাচন নিয়ে তাড়া নেই। নির্বাচনের সময় নির্বাচন হবে। আগে সংস্কার করতে হবে। অনেকের চেহারা ১১ মাসে পরিস্কার হয়েছে। ১৬ বছর কি করেছেন? আপসহীন নেতারা তখন শেখ হাসিনার কাছে স্যারেন্ডার করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর অনেকের পেটের বদল হয়েছে, অফিসের বদল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে গণঅধিকারের পক্ষ থেকে তিনশ আসনেই প্রার্থী দেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা আধিপত্যবাদ জারি রাখতে চায় তারা নানা সংস্কারে রাজি নয়। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অনেকে দলের মধ্যেও ফ্যাসিবাদি চরিত্র দেখা যাচ্ছে। তাদেরও প্রতিহত করা হবে। কয়েকদিন পরপর কয়েকজন লোক নিয়ে সড়ক বন্ধ করা হয়। এসব করে মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে।

নুর আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগে জুলাই সনদ দিতে হবে। মানসিকতা, চরিত্র, রাজনীতি পরিবর্তন না হলে জুলাই চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ঝিনাইদহ জেলার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ঝিনাইদহ সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’–এর নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ সভাপতি ও দেশ রুপান্তরের জ্যেষ্ঠ সহ সম্পাদক শাহনাজ বেগম পলি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ মিলনায়তনে সংগঠনের সাধারণ সভায় সদস্যদের প্রস্তাব ও সমর্থনের ভিত্তিতে এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

‎দুই বছর মেয়াদি নতুন এ আংশিক কমিটিতে দৈনিক কালবেলার মো. কবির হোসেন সহ সভাপতি, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের মো. জিয়াউর রহমান যুগ্ম সম্পাদক, কালবেলার শাহনেওয়াজ খান সুমন সাংগঠনিক সম্পাদক, দেশ রুপান্তরের মো. মাসুম বিল্লাহ কোষাধ্যক্ষ, এখন টিভির মো. রুবেল পারভেজ দপ্তর সম্পাদক, খবরের কাগজের ফারহানা তাহের তিথি নারী সম্পাদক ও বাংলাদেশ মনিটরের জাহিদ হোসেন বিপ্লব কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন। সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হবে।

সাধারণ সভার শুরুতে সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি কাজী আবদুল হান্নান পদত্যাগ করলে সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম এ সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুন্সী আবদুল মান্নান, খায়রুল আলম বকুল ও সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

পারস্পরিক সম্পর্ক, পেশাগত উৎকর্ষ ও নিজ এলাকার মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে।