বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শুক্রবার (১৯ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের গুরুত্বারোপ করে তিনি নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও গভীর উদ্বেগ জানান। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়ে তাদের দ্রুত নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে অবশেষে চাকরি খোয়াতে হলো ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে। তাকে সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সর্বশেষ তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

এর আগে গত ১৬ জুন এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি সত্য হলেও তখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তার দুদিনের মাথায় আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

তারও আগে ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁই স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ করার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী বিভিন্ন সময় (দিন ও রাতে) চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের জুন মাসে সাভারের বোট ক্লাবের ঘটনার পর চিত্রনায়িকা পরীমণি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছিলেন। মামলা দায়েরের পরদিন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ডিবির গুলশান বিভাগের তৎকালীন এডিসি গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় এই অভিনেত্রীর। এরপর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাসা যাওয়া-আসা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরীমণি সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে গিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন, যার সিসিটিভি ফুটেজ পরে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। 

২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাতে পরীমণি গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিষয় স্বীকার করেছিলেন। সেই অসদাচরণের দায়েই অবশেষে চাকরি খোয়াতে হলো এই পুলিশ কর্মকর্তাকে।

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় একটি পোশাক তৈরি কারখানায় পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ড্রেসম্যান লিমিটেড নামের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর কারখানার সরবরাহ করা পানি পান করেন শ্রমিকেরা। কিছুক্ষণ পর তাঁদের মধ্যে অনেকের বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। একপর্যায়ে অসুস্থ শ্রমিকদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠায়।

অসুস্থ কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, কারখানার পানিতে দুর্গন্ধ ছিল। পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ বোধ করেন। ধীরে ধীরে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ড্রেসম্যান লিমিটেডের কারখানার এজিএম (প্রশাসন) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৪০-৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত সোমবারে টানা বৃষ্টির পর আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শ্রমিকেরা পানিতে ডুবে যাওয়া কলের পানি পান করেন এবং আজ সকালে কাজে এসে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারখানার পানিতে কোনো সমস্যা আমরা পাইনি।’

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, পানি পান করে কিছু শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাঁরা অসুস্থ হয়েছেন, তাঁরা এখন পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

ঢাকা

বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভীর হোসেনকে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

পাশাপাশি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকারকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারহানা আফরোজ জেমিকে ঝিনাইদহের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে এবং চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে নড়াইল সদর সার্কেলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

একই প্রজ্ঞাপনে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সায়েম ইউসুফকে পুলিশ সদর দপ্তরে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার পহন চাকমাকে নওগাঁর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মশিয়ার রহমানকে রাঙামাটির ১৮ এপিবিএনে এবং সাতক্ষীরার তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ নূরুল্লাহকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার ফারহান-উল-ইমামকে ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম মাহবুবুল আলমকে সিআইডিতে, র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার মো. জিয়া লতিফুল ইসলামকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার শেখ মো. আব্দুর রাজ্জাককে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

 

রেলপথকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে দেশের প্রধান প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল উন্নয়নে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বুধবার(১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে প্রধান প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। 

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সড়ক সুরক্ষিত রাখতে এবং ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকার চারপাশে যানজট কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও প্রসারে প্রধানমন্ত্রী জানান, যমুনা নদীতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে ২৪টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের সব রেলপথকে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে, যাতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হয়। এ ছাড়া রেলের সক্ষমতা ও সেবার মান বাড়াতে আগামী বছরগুলোতে আন্তনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি সংসদকে জানান।

 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের রাথরুম দেখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সকালে
 
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের রাথরুম দেখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সকালে
 

কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল হঠাৎ পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতালে কিছু অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও পরিদর্শনে যান।

আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত জেলার দুটি বড় হাসপাতালে তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জেনারেল হাসপাতালে দুই ঘণ্টা থেকে সেখানে বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাঘর ও রোগীর সেবা বিষয়ে খোঁজখবর নেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

সড়কপথে সকাল ছয়টার দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ঢোকেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার পর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে এক ঘণ্টা অবস্থানের পর বেলা ১টার দিকে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার উদ্দেশে তিনি রওনা দেন। দুটি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের বিষয়ে প্রশাসন থেকে চিকিৎসা কর্মকর্তারা কেউ-ই অবগত ছিলেন না।

সরেজমিন দেখা যায়, ঠিক সকাল ১০টায় মন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে যান। তিনি হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের ডিজিটাল হাজিরা ও রেজিস্ট্রার খাতার হাজিরার তথ্য জানতে চান। এসব তথ্য থেকে কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সদের অনুপস্থিতি দেখতে পেয়ে সে বিষয়ে জানতে চান। কেউ কেউ মৌখিক ছুটি নিয়েছেন জানালে মন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ককে বলেন, ‘মৌখিক ছুটি নেওয়ার কোনো বিধান নাই।’

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী মেডিসিন (পুরুষ) ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। রোগীদের বিছানার কাভার উঁচু করে সেখানে ছারপোকা আছে কি না, তা নিজে দেখেন। পাশে মেডিসিন (নারী) ওয়ার্ডে গিয়ে সরাসরি রোগীদের ব্যবহৃত ওয়াশরুম পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখতে পান, সেখানে এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী পরিষ্কারের কাজ করছেন। এ সময় মন্ত্রী তাঁকে বলতে থাকেন, ‘এই রাখো আমারে দেইখা শুরু করলা পরিষ্কার, রাখো।’

এ ছাড়া রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত হতে থাকা খাবারের বিষয়ে খোঁজখবর নেন মন্ত্রী। রান্নাঘর অপরিচ্ছন্ন দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কুকুর–বিড়ালে কামড় দেওয়া রোগীদের টিকা দেওয়ার স্থানে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা আছে এবং বিনা মূল্যে এসব টিকা দেওয়া হয় জানিয়ে উপস্থিত রোগীদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ টাকা চাইলে জানাবেন।’

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এখানে আসা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সারা দেশের জেলা হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে হাসপাতালের উন্নয়নে কোনো কাজ হয়নি। কাজ করলে জবাবদিহি আছে, এটা মানুষ ভুলে গিয়েছিল। জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার অভাব ছিল বলেই স্বাস্থ্য খাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা রাতের অন্ধকারে ভোট নিয়েছে। তাদের ভোটের দরকার পড়ে নাই, জনগণের কাছে যাওয়ার দরকার পড়ে নাই। এ জন্য তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না।’

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
 

জেনারেল হাসপাতালের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে ময়লা পেয়েছি, বাথরুম আমি আসার পর পরিষ্কার করেছে। তাও তো করেছে। বিছানাগুলো দেখলাম, ছারপোকা পাইনি। আগে কী ছিল জানি না। জনগণের চাপ ও চিকিৎসকের সংখ্যা হিসাবে ভালো পেয়েছি। চিকিৎসক ও নার্স উপস্থিতি ভালো। কয়েকজন দেরিতে ছিল, তাদের সতর্ক করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার ভেতর হাসপাতালের নালা পরিষ্কারের কথা বলা হয়েছে।’

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এসে আগামী তিন মাসের ভেতর কুষ্টিয়া মেডিকেল (মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) চালু করব। যত যন্ত্রপাতি আছে চালু করব, ফার্নিচার কেনা হচ্ছে, দরপত্র হয়ে গেছে। লোকবল দেওয়া হবে। এটা চালু হলে জেনারেল হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।’

মন্ত্রী জানান, প্রতি হাসপাতালে আধুনিক মানের তিন থেকে পাঁচটা অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। চারটা হেলিকপ্টার আনা হচ্ছে, মুমূর্ষু রোগীদের ঢাকাসহ কাছের হাসপাতালে যাতে দ্রুত নেওয়া যায়। চিকিৎসকের সংখ্যা জনগণের চেয়ে কম। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগ হবে। জুলাই থেকে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে যাচ্ছি, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ থাকবেন নারী।

আর্থিক লুটপাটের জন্য বিগত সরকারের সময় অনেক হাসপাতালে যেখানে যন্ত্রপাতি দরকার নেই, সেখানে কিনে ফেলে রেখেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেগুলোতে জং ধরেছে, ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। টাকা খেয়েছে। জনবল নাই, কিনে ফেলে রেখেছে। আমাদের আমলে এটা হবে না। আমরা ভালো যন্ত্র দিব, জনবল দিব, রক্ষণাবেক্ষণ করব।’

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রমুখ।

ফ্যামিলি কার্ডের তৃতীয় ধাপের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িবহর শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছায়।

এ কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।

এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বুধবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। আকাশপথে সিলেট পৌঁছানোর পর তিনি বাসে করে শ্রীমঙ্গলে পৌঁছান বেলা ১টার পর। তিনি ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের মঞ্চে পৌঁছানোর পর জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠান শেষে দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন সরকারপ্রধান। সেখানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।

সেখান থেকে বিকেলে দুসাই রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে এক সভায় যোগ দেবেন।

সভা শেষে সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত বাসে চড়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে রওয়ানা হন তারেক রহমান। বিমানবন্দর সড়ক থেকে শহরের ভেতরে এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে উচ্ছ্বসিত হাজারো নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান।

এমন সময় বিমানবন্দর সড়কের পাশের চা বাগান এলাকায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। চৌকিদেখি এলাকায় সবুজ চা বাগানের পাশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যাওয়ার সময় গাড়িতে ফুলের মালা ও পাপড়ি ছিটিয়ে দেন লাক্কাতুড়া ও মালনীছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা।

চা শ্রমিকদের পরেই সেখানে দাঁড়িয়ে সরকার প্রধানকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা।

চৌকিদেখি পয়েন্টে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান ৪, ৫, ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবকদল-কৃষকদলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন সিলেট মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি জিয়াউল গনি আরিফিন জিল্লুর, সাদিকুর রহমান সাদিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদার ও মাহবুবুল হক চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব।

এছাড়াও সিলেট নগরোর আরও তিনটি পয়েন্টে সরকার প্রধানকে স্বাগত জানান বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। বিএনপি’র নেতা-কর্মী ছাড়াও সিলেটের সাধারণ মানুষ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হাত নেড়ে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে সবার অভিবাদন গ্রহণ করেন।

সিলেট থেকে সেখান থেকে সড়ক পথে যাত্রা করে বেলা একটায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

 

সাড়ে তিন বছর আগে চট্টগ্রাম নগরে ৫ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় আসামি মো. আবিরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বেলা একটার দিকে ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন বলেন, আদালত আসামিকে হত্যার জন্য ফাঁসির আদেশ এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লাশ গুম করার অপরাধে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি হাজির ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম ও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে উঠে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির। ২৫ নভেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর শিশুটির মরদেহ ছয় টুকরা করে বস্তাবন্দী করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মুস্তাফিজুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মো. আবির ও তাঁর ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর বন্ধুকে আসামি করা হয়। শিশু আদালতে ওই কিশোরের বিচার চলছে।

বাদী ও আয়াতের বাবা সোহেল রানা রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘রায়ের আদেশে খুশি। আসামির ফাঁসির আদেশ যাতে দ্রুত কার্যকর হয়। নইলে আসামিরা উৎসাহিত হবে।’

সরেজমিন দেখা যায়, আয়াত হত্যা মামলার রায়কে ঘিরে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় গণমাধ্যমকর্মীও আয়াতের স্বজনদের ভিড়। আসামির ফাঁসি দাবি করে ব্যানার নিয়ে দাঁড়ান স্বজনেরা।

, ঢাকা

বাংলাদেশের সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে তাঁর একসময়ের সহযোগীরাই ধরিয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি। সূত্রটি বলছে, বেনজীরের সঙ্গে তাঁর সহযোগীদের কারও কারও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। দ্বন্দ্বের কারণ ব্যবসা ও লেনদেন।

দুবাইয়ের ওই সূত্রটি আরও বলছে, একটি বিপণিবিতান বা শপিং মল থেকে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পেছনে সক্রিয় ব্যক্তিরা দুবাই পুলিশকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও বেনজীরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ব্যবহার করেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ১২ জুন দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন। দেশটির সরকার ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ খবর দেন। তিনি বলেন, বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে তাঁর গ্রেপ্তার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অনুরোধপত্র পাঠাতে হবে।

দুর্নীতির অনুসন্ধানের মুখে ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবার দেশ ছেড়েছিলেন বেনজীর আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল। দুবাইয়ের সূত্রটি বলছে, শহরটিতে বেনজীরের আবাসন খাত ও সোনার ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে।

সূত্রটি আরও বলছে, সপ্তাহ দুয়েক আগে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আসেন। এ সুযোগে তাঁর সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকা ব্যক্তিরা সক্রিয় হন এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশের বিষয়টিকে সামনে রেখে দুবাই পুলিশের মাধ্যমে তাঁকে গ্রেপ্তার করাতে সক্ষম হন।

বেনজীর আহমেদ পুলিশে থাকার সময়ই দুবাইয়ের আবাসন ও সোনার ব্যবসায় ‘পাচার করা টাকা’ লগ্নি করেন বলে দাবি করেছে ওই সূত্র। সূত্রটি আরও বলেছে, দুবাইয়ে পাচার করা টাকা বিনিয়োগ করা সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অথবা সেখানে আগে থেকে বিনিয়োগ আছে, এমন বাংলাদেশিদের সহযোগিতার দরকার হয়। হতে পারে, বেনজীর যাঁদের সহযোগিতা নিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গেই তাঁর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

বেনজীর আহমেদকে কোথা থেকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুবাই পুলিশ এবং বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুবাই পুলিশকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার ই-মেইল করা হয়। তবে আজ মঙ্গলবার রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উত্তর পাওয়া যায়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের খবরটি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে। আরব নিউজও এ খবর এএফপির বরাতে প্রকাশ করে।

এদিকে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে ‘রেড নোটিশের’ তালিকায় এখন ৫৯ বাংলাদেশির নাম আছে। তাঁদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা মামলার আসামি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডিত ও নানা মামলার পলাতক আসামিরা আছেন। রেড নোটিশের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে আসামিদের ফিরিয়ে আনার নজির খুব বেশি নয়।

বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, শুধু রেড নোটিশের কারণে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটা তিনি মনে করেন না। তাঁরও ধারণা, এর নেপথ্যে কেউ আছে।

অনুরোধপত্র স্বরাষ্ট্রে

এদিকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার একটি অনুরোধপত্র চূড়ান্ত করে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অনুরোধপত্র তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলার তথ্যপ্রমাণসহ একটি অনুরোধপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। পরে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (২০১০-১৫) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালকের (২০১৫-২০) দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তাঁকে আইজিপি করা হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন।

বেনজীর আহমেদের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।

২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাব ও এর সাত সাবেক ও তৎকালীন কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নাম ছিল। তখন তিনি আইজিপি ছিলেন। ২০২২ সালে অবসর নেন বেনজীর। তখন তাঁকে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি।

নবনিযুক্ত বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বাণিজ্যসচিবের পরিচয় অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, নবনিযুক্ত সচিবের শক্তিশালী একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার করবে। তিনি বলেন, দক্ষ নেতৃত্ব, সমন্বিত টিমওয়ার্ক এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে অংশগ্রহণের জন্য এফটিএ টিমকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি নতুন দক্ষ জনবল ও বিশেষায়িত দক্ষতা সংযোজন করা হবে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে এফটিএর আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে আরও বড় ও দক্ষ টিম গঠন করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং ইইউর বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাও এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে দেখিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সবার প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারা তাঁদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পান। কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে যোগ্য ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে হবে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আশা প্রকাশ করেন, নতুন সচিবের নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং ফলাফলমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

নবনিযুক্ত বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাণিজ্যসচিব আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে জোর দেন। তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প, শ্রম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব আন্তমন্ত্রণালয় বিষয় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর হতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে মিশনগুলোর কর্মদক্ষতা নিয়মিত মূল্যায়নে জোর দেন তিনি।