চট্টগ্রাম নগরে ‘গোপন’ বৈঠকের সময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ নেতা–কর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আজ রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নগরের হালিশহর নয়াবাজার বিশ্ব রোড এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের চতুর্থ তলা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাবিবুর রহমান রাতে বলেন, ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের কথা জানিয়েছেন আটক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা–কর্মীরা। ওই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম নিয়ে তাঁরা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি নগরে ছাত্রলীগের ব্যানারে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও কার্যক্রম বেড়ে যায়। গত ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালি থানার পলোগ্রাউন্ড, পাঁচলাইশ থানার ওআর নিজাম রোড এবং কর্ণফুলী মার্কেট এলাকায় তিনটি পৃথক মিছিল হয়। এর আগে অনন্যা আবাসিক ও আউটার রিং রোড এলাকায় নির্জন স্থানে মিছিলের ঘটনাও ঘটে। পরে এসব মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। তারই অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক হত্যা মামলায় দিনের পর দিন জামিন না দেওয়ার সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। নতুন বাংলাদেশ পেতে এবং অবিচার বন্ধ করতে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এখন এমন অবস্থা যে একজন বিচারপতি বা বিচারকের ১০ বার চিন্তা করতে হয় যে তিনি আসলে কাউকে জামিন দেবেন কি না।’

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশনের তৃতীয় পর্বের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেছেন সারা হোসেন। ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, সংস্কার ও গণভোটবিষয়ক জাতীয় কনভেনশন’ শীর্ষক কনভেনশনে তৃতীয় পর্বের বিষয় ছিল ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার: বর্তমান ঝুঁকি ও করণীয়’।

মানবাধিকার কি শুধু আমার মতাদর্শ, দল, গোষ্ঠী, লিঙ্গ ও ধর্মের যাঁরা তাঁদের জন্য নাকি সবার জন্য—কনভেনশনে উপস্থিত এনসিপির নেতা–কর্মীসহ দর্শকদের উদ্দেশে এই প্রশ্ন করেন সারা হোসেন। যাঁরা আমার মতাদর্শ ধারণ করেন না, তাঁদের মানবাধিকারকে আমরা শ্রদ্ধা করব কি না, সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানবাধিকার হচ্ছে সর্বজনীন, অবিচ্ছেদ্য, অবিভাজনীয়। মানবাধিকার শুধু বাক্‌স্বাধীনতা নয়, জীবনের অধিকার, গুম ও নির্যাতন থেকে মুক্ত হওয়ার অধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও স্বীকৃত। প্রতিটি অধিকার সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য হওয়ার কথা। সেখানে আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ কোনো ইস্যু হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখেছি?

সারা হোসেনের আগে সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। সেই বর্ণনার কথা তুলে ধরে সারা হোসেন বলেন, তখন আটক ব্যক্তিদের অনেক দিন পর আদালতের সামনে আনা হতো। শেষ পর্যন্ত তাঁরা জামিন পেতেন। তবে সেখান থেকে তাঁদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের যাত্রার শুরু হতো, তার শেষ ছিল না। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা কী পরিস্থিতি দেখছি? জামিনই তো শুরু হয় না, জামিনই তো পাওয়া যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে, যাঁরা আপনাদের থেকে ভিন্ন মতাদর্শের, তাঁদের তো জামিন হয় না। এর সঙ্গে কি আপনারা একমত হবেন?

‘চার্জশিট তো হয়ে যাবে, তদন্ত তো শেষ হয়ে যাবে, যখন তদন্ত শেষ হলে তো প্রমাণ পাওয়া যাবে, এ জন্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না’—জুলাই অভ্যুত্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় জামিন না দেওয়ার যুক্তি হিসেবে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এ কথা বলছেন বলে উল্লেখ করেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, এগুলো বাংলাদেশের জনগণের নামে করা হচ্ছে। কারণ, রাষ্ট্রপক্ষের উকিল আমাদের উচ্চতর আদালতে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলছেন। তাঁরা বলছেন, জুলাইয়ের শহীদদের হত্যার বিচারের জন্য তাঁরা এভাবে তদন্তপ্রক্রিয়া বা বিচার চালাবেন। এটা কি আমাদের মাথা উঁচু করে?

নতুন বাংলাদেশ পেতে এবং অবিচার যাতে না হয়, সে জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল বলে উল্লেখ করে সারা হোসেন বলেন, ‘এখন এমন অবস্থা যে একজন বিচারপতি বা বিচারকের ১০ বার চিন্তা করতে হয় যে তিনি আসলে কাউকে জামিন দেবেন কি না। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সাক্ষ্য–প্রমাণ আজ অবধি দেখানো যায়নি...। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার সঠিকভাবে হোক, সেটা আমরা চাই। কিন্তু দেখছি যে তদন্তকাজ শেষ হচ্ছে না, কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ সামনে আসছে না। এটা কি সেই জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রহসন নয়? তাঁদের কথা বলে অনেকজনকে আটকে রাখা হচ্ছে, অনেকটা মনে হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে।’

সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত কেউ নির্বাচন করতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘তাঁরা নিয়মিত আদালতে আসেন, প্র্যাকটিস করেন। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে হত্যা তো দূরের কথা, কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ নেই। তাঁদের সবচেয়ে বড় অন্যায় হতে পারে, সে সময় হয়তো কেউ আওয়ামী লীগের সমর্থক বা সদস্য ছিলেন। এখন তাঁরা তো আওয়ামী লীগ হয়ে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন না, দাঁড়াচ্ছেন আইনজীবী হিসেবে। তাঁরা দাঁড়াতে পারছেন না। তাঁদের বাক্‌স্বাধীনতা কি রুদ্ধ করা হচ্ছে না?’

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এই পর্বের আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের সঞ্চালনায় এই পর্বে অন্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, জাইমা ইসলাম, এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম এবং ফ্যাক্ট চেকার ও মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ আমান বক্তব্য দেন।

নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ন্যূনতম ১৭ আসনের সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস শিক্ষার্থী পরিবহন ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে আমদানিতে কিছু শর্তসাপেক্ষে মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ বহাল রেখে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে), আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। একই সঙ্গে ৫ টন বা তার বেশি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাকের ক্ষেত্রেও এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে অটো জেনারেটেড (স্বয়ংক্রিয়) নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধে হাজিরা না দিলে থাকছে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রমও।

রোববার (৩ মে ) ভারপ্রাপ্ত ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী,  ট্রাফিক বিভাগ এখন থেকে ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ করে 'ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন' সফটওয়্যারের মাধ্যমে মালিক বা চালকের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড (স্বয়ংক্রিয়) নোটিশ রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে পাঠানো শুরু করেছে। মূলত রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। নোটিশ প্রাপ্তির পর নির্দিষ্ট জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।

নোটিশ পাওয়ার পরেও যদি কোনো মালিক বা চালক সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মতো কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংগুলোতে উন্নত সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির সফটওয়্যার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং লেফট লেন ব্লক করার মতো অপরাধগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। 

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মামলার জরিমানা পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান বা নগদ আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। 

কোনো অসাধু চক্র এ ধরনের মামলার নাম করে অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

 

ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত ৪৯ জন সদস্য শপথ নিয়েছেন। আজ রোববার রাত নয়টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাঁদের শপথ পড়ান।

সংসদ সচিবালয় জানায়, বিএনপি জোট থেকে ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামীর জোট থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে ১ জন শপথ নেন। শপথ গ্রহণ শেষে নববির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের রুমে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে, ছবি: সংসদ সচিবালয়ের সৌজন্যে
 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীসহ অন্যান্য দলের নেতারা। আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীসহ অন্যান্য দলের নেতারা। আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষেছবি: সংসদ সচিবালয়ের সৌজন্যে

প্রসঙ্গত, সংরক্ষিত নারী আসন মোট ৫০টি। এর মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি নারী আসন পেয়েছে। কিন্তু তাদের একজন এখনো নির্বাচিত হননি। তাদের প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাছাইয়ে বাতিল হয়। আর নির্ধারিত সময়ের পরে যাওয়ায় তাদের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে আদালতের নির্দেশে তার মনোনযনপত্র গ্রহণ করা হয় এবং বাছাইয়ে বৈধ হয়। তবে তাঁকে এখনো নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়নি।

অন্যদিকে মনিরা শারমিন ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করেছেন। সেটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া সবাই শিশু বলে জানা গেছে।

রোববার (৩ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর বাকি নয়জনের মৃত্যু হয়েছে হামজনিত উপসর্গে।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৪ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী: এক হাজার ১৬৬ জন; নিশ্চিত হাম রোগী: ৯৫ জন। মোট সন্দেহজনক রোগী: চল্লিশ হাজার ৪৯১ জন; মোট নিশ্চিত রোগী: পাঁচ হাজার ৩১৩ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়প্রাপ্ত পাওয়া রোগী: সাতাশ হাজার ৮১৬ জন।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকা বিভাগে তুলনামূলকভাবে বেশি মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হাম সংক্রমণ এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি থাকায় দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

গণমাধ্যমকে শক্তভাবে সরকারের বিরুদ্ধে যৌক্তিক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকে খুব স্ট্রংলি সরকারের যেকোনো ধরনের সমালোচনা, যৌক্তিক সমালোচনা কন্টিনিউ করবেন।…এই দেশে একটা দুর্দান্ত ভাইব্রান্ট মিডিয়া আবার তৈরি হবে, এটা আমি দেখতে চাই।’

তথ্য উপদেষ্টা মনে করেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের গণমাধ্যমের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো বোকামি। এ কারণে বর্তমান সরকার এমন কিছু করতে চায় না, যা গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করবে।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় জাহেদ উর রহমান এ কথা জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি নাকি বলেছি, জনগণের কল্যাণের জন্যই বেশি বেশি লোডশেডিং দিচ্ছে সরকার। একটা ফটোকার্ড আমার বন্ধুরা পাঠিয়ে বলছে, আমার মাথা কি গেল?’ এই ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার সময় তাঁকে ট্যাগ করে গালিও দেওয়া হয় বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে এ ধরনের ‘মিস ইনফরমেশন’ বা ‘ডিজইনফরমেশন’–সংবলিত ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক।

এর পাশাপাশি একটি মূলধারার গণমাধ্যম তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ‘ফেক নিউজ’ তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ফেক নিউজ’ করা অন্যায়। এর বিরুদ্ধে সরকার আইনি পথে ও ন্যায্যতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে এবং গণমাধ্যমকেও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য যেসব পদক্ষেপ আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

আলোচনায় ৫ আগস্টের পর আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানান গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, নোয়াবের (নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এই বিষয় উঠে আসে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছেন।

সাইবার বুলিং

নারীর প্রতি সাইবার সহিংসতা পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে এই সেল কাজ করবে বলে জানান তিনি।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘নারীদের প্রতি সাইবারের ক্ষেত্রে আমরা জেনুইন গ্রাউন্ডে খুবই টাফ হতে যাচ্ছি।’ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, বিটিভির বার্ষিক বাজেট ৩২০ কোটি টাকার বেশি, অথচ প্রতিষ্ঠানটি আয় করে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা। বেসরকারি গণমাধ্যমের বিকাশের এই সময়ে বিটিভি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকার বিটিভিকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যেন তা জনগণের কল্যাণে আসে।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করেছে পুলিশ। প্রতিবাদে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করেছেন। একই কারণে শাসনগাছা বাস টার্মিনাল অবরোধ করেছেন বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও শ্রমিকেরা। ওই টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা এলাকার বাসা থেকে তাঁকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা ও জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। রেজাউল কাইয়ুম কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ঠিক কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কুমিল্লার অন্যতম বৃহৎ শাসনগাছা বাস টার্মিনালের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রযেছে। রেজাউল কাইয়ুমের বাসাও শাসনগাছা বাস টার্মিনালের পাশে।

রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের প্রতিবাদে শাসনগাছা বাস টার্মিনাল অবরোধ করেছেন বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও শ্রমিকেরা। তাঁকে আটকের পর ওই টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা প্রাঙ্গণে দেখা গেছে, শতাধিক নেতা-কর্মীরা থানায় ঘেরাও করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে পরিবহনশ্রমিক। এ সময় তাঁদের ‘রেজাউল ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, ‘জেলের তালা ভাঙব, রেজাউল ভাইকে আনব’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে থানার প্রধান ফটক আটকে দেওয়া হয়েছে। বাইরে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারকে বাইরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে উত্তেজিত নেতা-কর্মীদের কেউই পুলিশের কথা শুনছেন না। তাঁরা বিএনপি নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে অটল অবস্থায় রয়েছেন। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশে রেজাউল কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে। কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে, সেটি তাঁরা ভালো বলতে পারবেন। এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। কিছু লোকজন থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করছি।’

বিষয়টি জানতে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিকও কোতোয়ালি থানার ভেতরে অবস্থান করছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের করার জন্য আটক করেছি। এ বিষয়ের বিস্তারিত পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে নগরবাউল জেমসের একটি ভিডিও। প্র্যাকটিস প্যাডে ধারণ করা ওই ভিডিওতে ছোট্ট পুত্র সন্তান জিবরান আনামকে ড্রামসের খুঁটিনাটি দেখাচ্ছিলেন জেমস। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

জেমস এর কোলে পুত্র জিবরান আনাম
জেমস এর কোলে পুত্র জিবরান আনাম,ছবি: জেমস এর সৌজন্যে
 

ভিডিওতে দেখা যায়, জেমস ছেলেকে ড্রাম স্টিক ধরা শেখাচ্ছেন। স্টিক দিয়ে ড্রাম বাজানোর টেকনিকও দেখিয়েছেন তিনি।

ছোট্ট জিবরানও আগ্রহ নিয়ে সেগুলো অনুসরণ করেছে এবং ড্রামসকে যেন খেলনার মতোই উপভোগ করছে। রকস্টারের ছেলের খেলনা তো ড্রামস–গিটারই হবে!
ভিডিওটি দেখে নেটিজেনরা বলছেন, ‘এ তো রক্তের সাথে রক্তের টান’, কেউ লিখেছেন, ‘রকের উত্তরাধিকার যেন আগেই তৈরি হয়ে গেছে।’ কেউ কেউ লিখেছেন, ‘রকস্টারের ছেলে, খেলনার মতোই দেখছে ড্রামসকে।’

নামিয়া আমিন ও জেমস
নামিয়া আমিন ও জেমস, শিল্পীর সৌজন্যে
 

গত বছরের ২২ অক্টোবর প্রথম আলোর মাধ্যমে বিয়ে ও বাবা হওয়ার খবর দেন জেমস। বাবা হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘বাবা হওয়ার অনুভূতি অসাধারণ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে সুস্থ সন্তান দান করেছেন।’

২০২৪ সালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিনকে বিয়ে করেন জেমস। বিয়ের পর নামের সঙ্গে আনাম নাম যুক্ত করেছেন নামিয়া। ২০২৫ সালের ৮ জুন নিউইয়র্কের হান্টিংটন হাসপাতালে জেমস-নামিয়া দম্পতির কোলজুড়ে আসে পুত্রসন্তান জিবরান আনাম।

২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে দেখা হয় নামিয়ার সঙ্গে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি অনুষ্ঠানে দুজনের পরিচয় হয়, আর এই পরিচয় থেকে প্রণয় ও বিয়ে। তবে এটি কোনো কনসার্ট ছিল না, এমনকি জেমস সম্পর্কে আগে থেকে তেমন কিছু জানতেনও না নামিয়া!

পরিচয়ের এক বছর পর ২০২৪ সালের ১২ জুন পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ঢাকায় তাঁদের বিয়ে হয়।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সরকার যেরকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানেই যেকোনো সময়ে জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন।

রোববার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক  সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে, সেখানে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব, সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপোস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে সেটি সামগ্রিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার ওপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি লুটপাট রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে।

বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেণ, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি, সব দেশই কমবেশি অ্যাফেক্টেড (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়েছে, বাংলাদেশও হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা যায়, সকলের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

 

আগামীকাল রোববার (৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চারদিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গুজব প্রতিরোধ, অপতথ্য বন্ধ করতে ফ্যাক্ট চেকিং সেন্টার স্থাপনসহ স্থানীয় প্রশাসনকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে ডিসিদের পাঠানো ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হবে। দিকনির্দেশনা থাকবে সরকারের পক্ষ থেকে।

বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে ডিসি সম্মেলন। সম্মেলন শেষ হবে আগামী বুধবার (৬ মে)।

সচিবালয়ে এ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে মাঠ প্রশাসনের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সারাদেশ থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। এর মধ্য থেকে সম্মেলনে আলোচনা হবে ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে– কওমি মাদরাসাকে নীতিমালার আওতায় আনা, প্রতিটি চাবাগানে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে জিপি ও এজিপি নিয়োগের প্রস্তাব।

ডিসিরা জেলা পর্যায়ে ফ্যাক্ট চেকিং সেন্টার স্থাপন, সরকারি মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠানোর সংখ্যা ২৫ ভাগ করাসহ কৃষি ও ভূমি সংক্রান্ত প্রস্তাবও দিয়েছেন।