গতকাল সোমবার চলতি জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। আর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। কেবল তা–ই নয়, দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহও হতে পারে।

জুনের মাঝামাঝি সময়েই দেশে বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ় শুরু হবে। বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি ঝরে এ মাসে, ৪৫৯ মিলিমিটার। আর জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়, ৫২৩ মিলিমিটার। এবার সেখানে জুনে বৃষ্টি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

চলতি মাসে একাধিক লঘুচাপের সম্ভাবনাও আছে। এর মধ্যে একটি আবার মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

এদিকে, গত এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে দেশে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিল বা দেশের সবচেয়ে গরমের মাসে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। এপ্রিলের এ বৃষ্টিতে বিশেষ করে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট হয়ে যায়।

 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এসময় সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে মামলায় অভিযুক্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়।

ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের এজলাসে এ সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। তিনি এ সময় ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এছাড়া, আজ আরও কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।

এর আগে গতকাল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৮ জন সাক্ষী রয়েছেন।

 

ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়। সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় তাঁর পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় পরিচালনা, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ও রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি অন্যতম।

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে আমার বর্তমান পদ (মন্ত্রী) থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।’

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল তাঁর অনুসারী-সমর্থকেরা রাঙামাটি শহরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের দাবি, চাপ প্রয়োগের কারণে মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দীপেন দেওয়ান শারীরিকভাবে অসুস্থ নন।’

মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কর্তৃত্ব, রাঙামাটি জেলা বিএনপির রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ ঘিরে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করে থাকতে পারেন—গতকাল দিনভর এমন আলোচনা বেশি ছিল। তবে সরকার-সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করে পদত্যাগের কারণ জানা যায়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অস্বস্তিতে ছিলেন। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এই মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া। এই মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য এলাকার বাইরে থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ এই প্রথম এবং বিষয়টি নিয়ে পাহাড়িদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল। তাঁরা মনে করেন, এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরই প্রাপ্য। তবে এসব আলোচনার বিষয়ে গতকাল দীপেন দেওয়ানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে দূরত্ব ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তুলে ধরছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন গতকাল রাতে বলেন, ‘দীপেন চাচার সঙ্গে আমার কোনো দূরত্ব নেই। আমাদের দুজনের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আমার আব্বা (সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন) যখন জুডিশিয়ারিতে ছিলেন, তখন তিনি সহকর্মী ছিলেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনো দূরত্ব ছিল না। পদত্যাগের বিষয়টি জানতে পেরে আমি উনাকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু উনাকে পাওয়া যায়নি। তবে উনি অসুস্থ ছিলেন শুনেছি। কেন পদত্যাগ করেছেন, বুঝতে পারছি না।’

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের আরেকটি কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে—তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদের পুনর্গঠনে মতভিন্নতা। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে দ্রুততার সঙ্গে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সময়ক্ষেপণ করছিলেন।

অন্য একটি সূত্রের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দীপেন দেওয়ান তাঁর মতো করে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন। সেটি পারেননি। মন্ত্রী তাঁর স্বজনদের কাউকে বসানোর চেষ্টা করছেন, এমন আলোচনাও আছে।

দীপেন দেওয়ানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি আন্তরিক ছিলেন। চুক্তি সম্পাদনকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে সরকারের আলোচনারও পক্ষে ছিলেন তিনি। জেএসএসের প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোচনা হোক, সেটাও তিনি চেয়েছিলেন বলে সম্প্রতি প্রথম আলোর একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের স্নাতকোত্তর দীপেন দেওয়ান জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। কিন্তু দলের নেতৃত্ব নিয়ে ‘পাহাড়ি’, ‘অপাহাড়ি’ দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ২০১৬ সালে দীপেনকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক করা হয়। এর পর থেকে জেলার রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান। নির্বাচনে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হয়েছিলেন দীপেন দেওয়ান। তাঁর বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

 

পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল বিকেলে রাঙামাটিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রতিবাদ সভা করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ। শহরের কাঁঠালতলী দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি হয়।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ বিএনপির রাজনীতি, পাহাড়ের রাজনীতি এবং পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকর।

কাউখালী উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য সাজামং মারমা দাবি করেন, দীপের দেওয়ান পদত্যাগপত্রে যে কারণ দেখিয়েছেন, তা সঠিক নয়। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে মন্ত্রিত্ব চালানোর মতো সক্ষম। তিনি চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর সব মিলিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৮ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৪ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন। এর বাইরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা আছেন। নতুন করে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হবে বলে কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। সরকার গঠনের পর এত কম সময়ের মধ্যে কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা দেশে বিরল।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে ভারতে ফিরছেন। ৬ জুন তিনি দেশে ফিরছেন এনইইট বা ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে। আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই এই কথা জানিয়েছেন।

অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলছেন তাঁরা। এবার আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, সংবিধান মেনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ময়দানে নেমে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছেন তাঁরা। সেই উদ্দেশ্যেই অভিজিৎ দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। ৩০ বছর বয়সী এই তরুণ পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক করেছেন। তাঁর মা-বাবা ভারতের মহারাষ্ট্রে বসবাস করেন। ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে তাঁদের বাসভবনের বাইরে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সিজেপির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে আজ অভিজিৎ বলেন, ‘আমাদের সবার একজোট হওয়ার সময় এসেছে। সংবিধান মেনে শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করব আমরা। সংঘবদ্ধ হয়ে আমরা জোরাল দাবি তুললে তারা তা শুনতে বাধ্য হবে।’

ভিডিও বার্তায় সিজেপির নেতা বলেন, ‘আগামী শনিবার (৬ জুন) সকালে আমি দিল্লি আসব, ঠিক করেছি। আপনারা অনুগ্রহ করে দিল্লি বিমানবন্দরেই মিলিত হোন। সবাই মিলে আমরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাব। যন্তর-মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করার অনুমতি চাইব।’

 

নিট বা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্ট একমাত্র সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা দেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে। এই পরীক্ষারই প্রশ্নপত্র সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। অকুল পাথারে পড়েছেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী।

এ ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো দাবি উঠেছে। বিরোধীরা দাবি তুলেছেন। ককরোচ বা তেলাপোকা পার্টিও। সিজেপির দাবিতে আট লাখ মানুষ সম্মতি দিয়েছেন, তা সত্ত্বেও শিক্ষামন্ত্রী দায় গ্রহণ করেননি। ককরোচ বা তেলাপোকারা তাই ঠিক করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছেড়ে বেরিয়ে পথে নেমে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শামিল হবেন।

এই কথাই অভিজিৎ বলেছেন তাঁর ভিডিও বার্তায়। বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে বহু শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। লাখ লাখ ছাত্রের পরিশ্রম বৃথা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সই করেছেন আট লাখ ককরোচ বা তেলাপোকা। কোটি কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের দাবি সমর্থনও করেছেন। মহারাষ্ট্র, লক্ষ্ণৌ, জয়পুরসহ বহু স্থানে মানুষ বিক্ষোভও দেখাচ্ছেন।’

অভিজিৎ বলেন, মানুষ প্রতিবাদে সরব থাকলেও সরকার নির্বিকার। বিভিন্ন পরীক্ষার এক কোটি ছাত্রছাত্রীর জীবন আজ কৌতুকে পরিণত। শিক্ষার্থীরা তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কাউকে এর দায় নিতে হবে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে দেশের তরুণ সমাজের একাংশের প্রতি বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, এক শ্রেণির তরুণ রয়েছেন, যাঁরা কোথাও কিছুই করতে পারেননি। কোনো পেশায় জায়গা করে নিতে পারেননি। কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেননি। তাঁদের কেউ সাংবাদিক হয়েছেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকে গেছেন, কেউ আইন পেশায়, কেউ বা তথ্য জানার অধিকার আন্দোলনের কর্মী। প্রধান বিচারপতি এই তরুণদের ‘পরজীবী ও তেলাপোকা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

এই মন্তব্যের পরই অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্ম দেন ককরোচ জনতা পার্টির। ব্যঙ্গাত্মকধর্মী কণ্ঠস্বর হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠে এক অভূতপূর্ব আন্দোলন। কয়েক দিনের মধ্যেই সিজেপির ‘এক্স’ হ্যান্ডলে সদস্যসংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা হয় দুই কোটি। দিকে দিকে গড়ে ওঠে তেলাপোকাদের ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন। তৈরি হতে থাকে হাজার হাজার মিম।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই সামাজিক আন্দোলনের পেছনে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী জর্জ সোরসের হাত দেখতে পাচ্ছে। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনের লক্ষ্য হলো ভারত সরকারের বিরোধিতা করা। সরকারকে দুর্বল করে তোলা। সেই জন্য জনমত সংগ্রহ করা। আধুনিক প্রজন্মকে সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলা।

গত সপ্তাহে সিজেপির ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দেওয়া হয়। অভিজিৎ দীপকে ও ভারতে বসবাসকারী তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। অভিজিৎ নিজেই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, দেশে ফিরলে সম্ভবত তাঁর স্থান হবে তিহার জেল। তবুও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সরেজমিন সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। এখন দেখার, ৬ জুন দিল্লি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হয় কি না।

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরে বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন দুই নারী।

ভুক্তভোগীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ছিনতাইকারী চাপাতি দিয়ে তাঁদের (দুই নারী) ভয় দেখায়। তাঁদের সঙ্গে থাকা লাগেজসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে নেয়।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায়। পুলিশ বলছে, ছিনতাইয়ে জড়িত এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁকে ধরার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রিকশা থেকে নেমে দুই নারী বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের পাশে রিকশাচালক দাঁড়িয়ে। হঠাৎ চাপাতি হাতে এক ব্যক্তি সেখানে আসেন। তাঁর পরনে লুঙ্গি, গায়ে কালো গেঞ্জি, মাথায় ক্যাপ। চাপাতি হাতে থাকা এই ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজনকে দেখা যায়। চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে দুই নারীর সঙ্গে থাকা লাগেজ, ব্যাগসহ জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেন তাঁরা।

মোহাম্মদপুর থানা–পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুজ্জামান রাকিব বলেন, ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুসারে, তাঁরা ঠাকুরগাঁও থেকে বাসে করে এসে ঢাকার শ্যামলীতে নামেন। পরে রিকশা করে বাসায় যান। বাসার সামনে তাঁরা ছিনতাইয়ের শিকার হন।

পুলিশের পরিদর্শক রাকিবুজ্জামান রাকিব বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আমরা শনাক্ত করেছি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা আমরা চালাচ্ছি।’

দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর পরিবারের একাধিক সূত্র মৃত্যুর খবরটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন আজ বিকেল চারটায় বলেন, তোফায়েল আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।

পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রেখে দেশজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। মিছিলের একাধিক ভিডিও আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকালে সংগঠনের ওমরগণি এমইএস কলেজ শাখার নেতা-কর্মীরা মিছিলটি করেছেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নগরের নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অপর পাশ থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জিইসি মোড়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা’, ‘শেখ হাসিনা আসবে’সহ নানা স্লোগান দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মিছিলে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল—‘এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ’। মিছিলটি দুই নম্বর গেটের আশপাশ থেকে শুরু হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। তবে ঘটনার ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।’

এদিকে আজ সকাল আটটার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পিএবি সড়কের চাতরী চৌমুহনী এলাকায়ও মিছিল করেছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ওই মিছিলের ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে তিনি পদ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।

৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।

প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হন দীপেন দেওয়ান। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

 ২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে দীপেন দেওয়ান বিএনপিতে যোগ দেন। ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে। এতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। খবর বিবিসি ও আলজাজিরা'র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে ড্রোন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাডার এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ড্রোনে হামলা করা হয়। এসব ড্রোন আঞ্চলিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করছিল। হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তবে ঘাঁটিটির অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

আইআরজিসির দাবি, উপসাগরের সিররি দ্বীপে তাদের যোগাযোগ টাওয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এ আঘাত হানা হয়। ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের পদক্ষেপ আবার নিলে তাদের প্রতিক্রিয়া হবে ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন’।

এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। তবে হামলার উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এর আগে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনও স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি স্থায়ী চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আট বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

এর মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সকাল পৌনে আটটার দিকে প্রিজন ভ্যানে আসামিদের আদালতে আনা হয়।

বেলা ১১টার কিছু আগে পুলিশের কড়া পাহারায় সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১১টা ৬ মিনিটে আদালতে হাজির করা হয় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্নাকে।

অভিযোগপত্রে বলা হয় , সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যায় সহায়তা করার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ওই ফ্ল্যাটের শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর ওই দিনই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২০ মে বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং দল ও সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে।

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আট বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

আজ সোমবার সকাল পৌনে আটটার দিকে প্রিজন ভ্যানে তাঁদের আদালতে আনা হয়। সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে নারী হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

আজ আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে। মহানগর দায়রা জজ আদালতের ইনচার্জ রিপন মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামিদের হাজতখানায় নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই আদালতে তোলা হবে।

গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ওই ফ্ল্যাটের শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর ওই দিনই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২০ মে বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং দল ও সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে।