বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের এক বক্তব্যে উত্তেজনা ছড়াল সংসদে, প্রায় ১০ মিনিট অচল থাকল আইনসভার কার্যক্রম।

কোনো মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না, কোনো শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতেই পারে না, করলে এটা ডাবল অপরাধ– ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য ঘিরে দেখা দেয় উত্তেজনা।

বিরোধী দলের সদস্যরা হই চই শুরু করলে সরকারি দলের সদস্যরাও প্রতিবাদ জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাউকে নিবৃত্ত করতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে তিনি দাঁড়িয়ে যান। পরিস্থিতি শান্ত হলে স্পিকার সরকারি ও বিরেধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘সারা জাতি দেখছে। লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। সংসদ যদি বিধি মোতাবেক না চলে, তাহলে এই সংসদ আর থাকবে না।’

সদস্যদের কর্মকাণ্ডে শিশুরাও লজ্জা পাবে বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘যারা অলরেডি দাদা হয়ে গিয়েছেন, তাদের নাতিরা হয়তো এখানে গ্যালারিতে বসে দেখছে। তারা কী ভাববে এটা সম্পর্কে?’

দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। ফজলুর রহমান রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন।

মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের তুলনার বিরোধিতা করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি বলব, এই কথাটা বলাই অন্যায়। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়ার তুলনা করা।’

তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘তারা বলেছিল, কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। সেইদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এই আল বদরের বাচ্চারা, এখনও কিন্তু ফজলুর রহমান জীবিত আছে। মুক্তিযুদ্ধ হইছে, মুক্তিযুদ্ধই সত্য। ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য। আমরা সেদিন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলাম।’

ফজলুর রহমান বলেন, ‘অনেক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে ইলেকশন হইছে। সেই ইলেকশনে তারা কী করেছে? আজকে যারা আমার ডান দিকে (বিরোধী দল) বসে আছে, তারা কী করেছে? তারা যা করেছে, সেটা কল্পনা করার মতো না। সেই চক্রান্তের ভেতর দিয়ে যখন তারা প্রচার করতে শুরু করল, দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে তারা পাস করবে। আমি ফজলুর রহমান বলেছিলাম, জামায়াত জোট যদি দুই-তৃতীয়াংশ পায়, তাহলে আমি বিষ খাব। তারা কখনো যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে না, রাজনৈতিক যুদ্ধে। তাদের পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশ চায় নাই। যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার বেঁচে থাকবে, ততদিন রাজাকার এদেশে কখনো জয়লাভ করতে পারবে না।’

এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই শুরু করলে ফজলুর রহমান স্পিকারের কাছে আরও পাঁচ মিনিট সময় চান। স্পিকার তিন মিনিট সময় বাড়িয়ে দেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমার বক্তব্যের পরে বলবে, আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন, উনাকে আমি অসম্মান করি না, সব সময় মাননীয় বলে কথা বলি। কিন্তু উনার দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে “ফজা পাগলা” বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য, তারা ইসলাম... ।’

এ সময় অধিবেশন কক্ষের সবাই হেসে ওঠেন। এক পর্যায়ে ফজলুর রহমানের কাছে স্পিকার জানতে চান, ‘আপনাকে কেউ “ফজা পাগলা” এই ধরনের উক্তি করেছে? এ রকম সংসদে কেউ বলে নাই তো। আপনি কেন নিজের...’

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম, বিরোধী দলের নেতা বলেছেন, উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলাম করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না।’

এসময় ব্যাপক হইচই শুরু করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। স্পিকার তখন সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সবাইর প্রতি আহ্বান জানান।

এরপর ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি আবারও বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করছেন।’

এ বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে একযোগে হইচই ও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ পর্যায়ে ফজলুর রহমান বক্তব্য চালিয়ে যেতে চাইলে বিরোধী দলের সদস্যরা তাদের কণ্ঠ আরো চড়া করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

ফজলুর রহমান তখন বলেন, ‘আমি ওনাদের কিন্তু খারাপ কিছু বলি নাই।’

এ সময় স্পিকার ফজলুর রহমানকে বসার এবং একটু অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান।

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের সময় জামায়াত এবং তাদের মোর্চার শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশের এমপিদের দাঁড়িয়ে হইচই করতে দেখা যায়।

সরকারি দলের সদস্যরাও পাল্টা হইচই করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে সরকারদলীয় এমপিদের দাঁড়াতে ইশারা করলে অনেকেই দাঁড়িয়ে যান। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সবাইকে বসার অনুরোধ করতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সবাইকে বসার অনুরোধ করেন।

এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ), আব্দুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান মোজাহিদ নিজ আসনে বসে ছিলেন।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। পরে তিনিও বসে পড়েন।

এসময় বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইলে স্পিকার তাঁকে বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা বসুন। আমি বললে তারপর আপনি বলুন।’

পরে স্পিকার ফজলুর রহমানকে তিন মিনিট সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করার অনুরোধ করেন।

তবে বিরোধীরা হইচই করতে থাকলে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, সারা জাতি দেখছে। লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। সবাই আপনারা নির্বাচিত সদস্য, এখানে সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সদস্য। আমি প্রতিদিনই বলি যে রুলস অফ প্রসিডিউর বইটা একটু পড়েন। যদি এই সংসদ যদি বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না।’

সরকারি দলের কোনো সদস্যের বক্তব্যে আপত্তি থাকলে পরবর্তীতে বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তি খণ্ডনের পরামর্শ দেন তিনি। স্পিকার বলেন, ‘সংসদের স্পিকার যখন দাঁড়ায়, তখন এটি অবশ্যই কর্তব্য, সবাই এখানে বসে পড়বেন। আমাকে তো আপনারাই স্পিকার বানিয়েছেন। সংসদের অভিভাবকের প্রতি যদি সম্মান আপনাদের না থাকে, তাহলে জাতীয় সংসদের প্রতি মানুষের কোনো রেসপেক্ট থাকবে না আগামী দিনে।’

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যদের সুযোগ দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে টাইম বাড়িয়ে দেব। তার যুক্তি খণ্ডন করুন। তিনি যদি অসংসদীয় কোনো কথা বলে থাকেন, সেটা আমরা পরীক্ষা করে এক্সপাঞ্জ করে দেব। কিন্তু বক্তব্যের সময় তাকে ডিস্টার্ব করবে না।

এরপর আবার বক্তব্য দেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরকে পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সেই মুনীর চৌধুরী, আব্দুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার থেকে ধরে শত শত বুদ্ধিজীবীকে যারা হত্যা করেছিল, তাদের বলা হয় আল বদর। সেই আল বদর বাহিনী কারা ছিল আপনারা জানেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, প্রথম দিন কিন্তু এইখানে (সংসদে) কোনো বাতি ছিল না, আমি কিছু শুনতে পারি নাই। এই হাউজে প্রস্তাব হইছে তাদের ব্যাপারেও। তাদের ব্যাপারেও শোকপ্রস্তাব হইছে, আমি একা হইলেও এটার প্রতিবাদ করতাম। কিন্তু যেহেতু আমার দল এটা করছে, আমি চুপ কইরা ছিলাম। কথাটা খুব ক্লিয়ার । কিন্তু এই সংসদ সম্পর্কে আজকে না হলেও কালকে, কালকে না হলে পরশু, না হলে ইতিহাসে ভুল বার্তা যাবে, যদি আমরা যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে শোক প্রস্তাব করি।’

জুলাই অভ্যুত্থানরে সময় পুলিশ হত্যার বিচারের পক্ষেও মত দিয়ে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার ছিলাম, ১৬ ডিসেম্বরের পরে শত শত রাজাকার আমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আমি কাউকে হত্যা করি নাই, সবাইকে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছি। ৫ আগস্টের পরে এত থানা লুট হয়েছে, পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে, তখনতো পুলিশ যুদ্ধ করে নাই, তারা তো নিরাপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার নেতা। ৫ আগস্টের পরে এত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো কোনো আইনে দায়মুক্তি হওয়ার কথা না। পাঁচ আগস্টের পরে পুলিশ হত্যা হয়ে থাকে, থানা লুট হয়ে থাকে, সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত, দোষীদের বিচার হওয়া উচিত।’

ফজলুর রহমানের এমন বক্তব্যের সময় সরকারি দলের একাধিক সংসদ সদস্যকে বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়।

বক্তব্যের শেষ দিকে এসে জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহান কাজ করেছেন। ৭৮ জনকে ২২২ জনের সমান সমান ভাগ দিয়ে কমিটি করেছেন। সিরাজউদৌলা ও মোহাম্মদী বেগ কিন্তু এক না। মোহাম্মদী বেগ কিন্তু সিরাজউদৌলাকে হত্যা করেছে।’

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিরোধীদলীয় নেতার জবাব

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছু বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি বলে থাকি আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। বলেই তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। দুই নম্বর উনি বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে উনাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে? আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা গুরুতর অপরাধ করেছে। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন, এটা বাড়তি অপরাধ করেছে।’

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের অসংসদীয় অংশ এক্সপাঞ্জ বা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি বলেন, ‘এই সংসদকে ফাংশনাল করার জন্য বর্তমান জ্বালানি অব্যবস্থাপনা সংকট যেটাই বলি, সেই ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে এসেছিলাম, কথা বলেছি, আলোচনা হয়েছে এবং পরের দিন এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা সাথে সাথে এটা গ্রহণ করেছি। তিনি (ফজলুর রহমান) এইটাকে শেষ পর্যন্ত কনক্লুশন রাখলেন কী দিয়ে? যার মগজ যেরকম, তার কনক্লুশন সেরকম। তার মত একজন প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে, রাজনীতিবিদের কাছ থেকে আমি এই ধরনের আচরণ আশা করি না।’

পরে ফজলুর রহমান আবার বক্তব্য দিতে চাইলে স্পিকার তাঁকে ফ্লোর না দিয়ে বলেন, এখন আর তো না বললেও চলে। আমরা সংসদ উত্তপ্ত হোক এরকম চাই না।

স্পিকার আরো বলেন, ফজলুর রহমানের বক্তব্যে যদি অসংসদীয় কোনো কিছু থাকে, সেটা এক্সপাঞ্জ করা হবে। বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যেও যদি অসংসদীয় কিছু থাকে, সেটিও এক্সপাঞ্জ করা হবে।

মেয়াদ (দায়িত্ব হস্তান্তর বা পদত্যাগ) শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান উপদেষ্টা দেশের মধ্যে ছয় মাস অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) থাকবেন। তাদের ছয় মাসের জন্য ভিভিআইপি ঘোষণা করে গত ২২ এপ্রিল থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১’ এর ধারা ২(ক)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টাকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব হস্তান্তর বা পদত্যাগ করার তারিখ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছয় মাসের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করলো।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপন অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেই প্রজ্ঞাপনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। অর্থাৎ ড. ইউনূসকে ভিভিআইপি ঘোষণার প্রজ্ঞাপন বহাল থাকবে। পরবর্তীসময়ে যারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টা হবেন তাদের ক্ষেত্রে ছয় মাস মেয়াদ প্রযোজ্য হবে।

 

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হয়েছে। কড়া নিরাপত্তায় আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হলো বাংলাদেশ।

জ্বালানি প্রবেশ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটির কাজ করা হয়েছে। আজ জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিহাসের অংশ হলো। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ শুধু পাবনা নয়, দেশের অর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।’ আলোচনা শেষে অতিথিরা স্বয়ংক্রিয় সুইচ টিপে জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।

চুল্লিপাত্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বসানো হলে তা থেকে তাপ তৈরি হবে। সেই তাপে পানি থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরবে আর সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। পাবনার রূপপুরে নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হলো আজ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলছে, বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি চূড়ান্ত ধাপ। ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন শুরু হবে। আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং করার কাজ সুইচ টিপে উদ্বোধন করা হয়
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং করার কাজ সুইচ টিপে উদ্বোধন করা হয়
 

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ২টি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আসার পরই পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। জ্বালানি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় নাম ওঠায় বাংলাদেশ। আজ সেই শক্তির ব্যবহার শুরু হচ্ছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছায় পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। এরপর আসে আরও কয়েকটি চালান। বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে অক্টোবরে রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হয় জ্বালানি। এরপর এটি মজুত করে রাখা হয়েছিল রূপপুরে।

টানা বৃষ্টিতে আবারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি সড়ক। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা।

নগরের প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথা, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা গেছে প্রবর্তক মোড় এলাকায়।

দুপুরের দিকে প্রবর্তক মোড়ের বড় অংশ ডুবে যায় কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে। গতকাল সোমবার যেখানে হাঁটুপানি ছিল, আজ সেখানে পানি উঠে বুকসমান। ওই পানির ভেতর দিয়েই রিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় কথা হয় চালক মোহাম্মদ সাইফুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, খালের সংস্কারকাজ চলার কারণে কয়েক দিন ধরেই এখানে পানি জমছিল। বৃষ্টি হওয়ায় সেই পানি আরও বেড়ে গেছে। এখন চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

দোকানে ঢুকে পড়েছে পানি। তা সেচে বের করার চেষ্টায় দোকানি। আজ দুপুরে নগরের রেয়াজুদ্দিন বাজারে
দোকানে ঢুকে পড়েছে পানি। তা সেচে বের করার চেষ্টায় দোকানি। আজ দুপুরে নগরের রেয়াজুদ্দিন বাজারে
 

সরেজমিনে দেখা যায়, বদনা শাহ মাজার গেট থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক ডুবে আছে পানিতে। ওই অংশে হিজড়া খালের সম্প্রসারণকাজ চলছে। খালের মুখে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে খালের পানি উপচে সরাসরি সড়কে উঠে আসছে। পানির কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। সামান্য একটি অংশ পার হতে সময় লাগছে দীর্ঘক্ষণ। অবশ্য এ সড়ক এড়িয়ে চলছেন যানবাহনের চালকেরা।

পথচারীদের দুর্ভোগ দেখা গেছে আরও বেশি। কেউ জুতা হাতে নিয়ে ও কাপড় গুটিয়ে নেমেছেন পানিতে। কেউ আবার সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে ভারসাম্য রেখে পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী ফারুক হাসান বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই প্রবর্তকে পানি জমে যায়। আজ তো অবস্থা আরও খারাপ। অফিসে যেতে গিয়ে মনে হচ্ছে যুদ্ধ করছি।’

[caption id="attachment_272637" align="alignnone" width="852"] মুষলধারে বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটু, কোথাও বুকসমান পানি জমেছে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে। আজ দুপুরে নগরের জুবিলী রোডের তিন পুলের মাথা এলাকায়[/caption]

একই চিত্র তুলে ধরলেন কলেজছাত্রী ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে হাঁটা যাচ্ছে না। পানি এত নোংরা যে নামতেও ভয় লাগে। কিন্তু অন্য কোনো পথ নেই। বাধ্য হয়েই নামতে হচ্ছে।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফিরতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। আজ বেলা দেড়টার দিকে নগরের তিন পুলের মাথা এলাকায়
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফিরতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। আজ বেলা দেড়টার দিকে নগরের তিন পুলের মাথা এলাকায়
 

নগরের আমতলের তিন রাস্তার মাথা এলাকায়ও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও নালা উপচে পানি সড়কে উঠেছে, আবার কোথাও পানি নামার পথ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা স্থায়ী হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার যেসব আসনে কারচুপির অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সত্যতা পায়নি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষক দল, এমনটা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজ্যাবস।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন নিয়ে ইইউর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে ইভার্স ইজ্যাবস বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে সেক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ আছে। ভোট ঘিরে ৬টি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নীতি সমুন্নত রাখতে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসঙ্গে দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা) ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি বয়ে যেতে পারে। 

পাশাপাশি এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত (পুনঃ ২ নম্বর) দেখাতে বলা হয়েছে। 
 

এছাড়াও খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে একই দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এবং এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত (পুনঃ ১ নম্বর) দেখাতে বলা হয়েছে।

দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে এই শব্দটি উচ্চারিত হতো। তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতো।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু উগ্রপন্থি গ্রুপ এবং মৌলবাদী রাজনৈতিক দলও সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। তবে আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে এ ধরনের জঙ্গিবাদের প্রচলন নেই।

সম্প্রতি নিরাপত্তা এক চিঠি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে সবসময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবসে সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। 
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেপিআই (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) যেগুলো আছে, সেগুলো সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এসব স্থাপনায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এটা আগে যেমন ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

জাতীয় সংসদের দর্শক সারির গ্যালারিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠদের নামে। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে সেই সাত বীর সন্তানকে স্মরণীয় করে রাখতে এমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। একইসঙ্গে সংসদে প্রবেশের মূল ফটকের নামকরণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে।

সংসদে প্রবেশের মূল ফটক

সংসদের গ্যালারিতে বসে পুরো কার্যক্রম দেখার সুযোগ পান পাঁচধারী দর্শনার্থীরা। অনুমতি সাপেক্ষে থাকে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সুযোগও। তাই সংসদ ভবনের প্রতিটি গ্যালারি শুধু দর্শকের বসার স্থান নয়, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সাক্ষীও। এতদিন ফুল ও নদীর নামে ছিল গ্যালারিগুলো।

বীরশ্রেষ্ঠদের স্বজনরা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, আমরা এতে খুশি। অতীতের কোনো সরকার এমনভাবে বীরশ্রেষ্ঠদের মূল্যায়ন করেনি।

সংসদ গ্যালারির প্রবেশ ফটক

নতুন নামকরণ অনুযায়ী ভিআইপি গ্যালারি-১ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, ভিআইপি গ্যালারি-২ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের নামে করা হয়েছে। এই দুইটি গ্যালারি সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত। গ্যালারি-৩ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ, গ্যালারি-৪ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, গ্যালারি-৫ বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশিয়াল মোহাম্মদ রুহুল আমিন, গ্যালারি-৬ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং গ্যালারি-৭ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের নামে করা হয়েছে।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বীরশ্রেষ্ঠদের সম্মানিত করলে আমাদের কী অসুবিধা? আর জাতীয় সংসদ তাদের কারণে তৈরি, তাদের জন্য এই দেশের স্বাধীনতা। আমরা যে স্বাধীন হয়েছি, যাদের রক্তের ত্যাগের বিনিময়ে, সেই ত্যাগী মানুষগুলোকে আমরা এখানে নিয়ে আসি।’

তিনি আরও বলেন, চেতনা বিক্ষিপ্ত নয়, স্বাধীনতা বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়ার অংশ এটা। এটা সকলের জন্য প্রেরণা। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে তাদের জন্য প্রেরণা। যারা এই দেশের নাগরিক ছিলেন, যুদ্ধে যেতে পারেননি, তাদের জন্য প্রেরণা। এখানে কেউ চিরদিন থাকবে না, কিন্তু এই নাম থেকে যাবে এবং এই দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম সবাই স্মরণ করবে যে স্বাধীনতার মূল বীর সন্তান কারা।

/এসআইএন

  • জ্বালানি প্রবেশ করাতে ৩০ দিন সময় প্রয়োজন হবে।
  • পারমাণবিক বিকিরণ ঘটানো ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করতে আরও ৩৪ দিন লাগবে।
  • নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতীয় গ্রিডে শতভাগ বিদ্যুৎ পেতে প্রায় ১০ মাস লাগতে পারে।

ঢাকা

বিএনপির একজন সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যে জুলাই সনদকে ‘আননেসেসারি’ (অপ্রয়োজনীয়) বলে উল্লেখ করায় জাতীয় সংসদে কিছু সময়ের জন্য হইচই ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে এ ঘটনা ঘটে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই ‘আননেসেসারি একটি জুলাই সনদ’ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে।

বিএনপির সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় সরকার গঠন করা হয়েছে। আজকে এই সংসদে জুলাইকে ‘আননেসেসারি’ বলা হয়েছে, জুলাই সনদকে ‘আননেসেসারি’ বলা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এ সময় সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যা কিছু বলবেন স্পিকারকে অ্যাড্রেস করে বলবেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ এখানে তো বিভিন্ন দলের সদস্যবৃন্দ রিপ্রেজেন্টেড। প্রত্যেকের কি একই অনুভব হতে পারে? গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতভিন্নতা। সুতরাং এ বাক্‌স্বাধীনতার সফলতা নিয়ে বাক্‌স্বাধীনতার কারণে যে যাঁর বক্তব্য খোলাখুলিভাবে জাতীয় সংসদে প্রকাশ করতে পারেন।’

স্পিকার কথা বলার সময়ও সংসদ সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন স্পিকার বলেন, ‘যখন স্পিকার কথা বলে, অনুগ্রহ করে সবাই চুপ করে বসে থাকবেন নিজের আসনে।’

বিরোধী দলের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘সকলেরই বাক্‌স্বাধীনতা আছে এবং যদি কোনো বক্তব্য আপনাদের পছন্দ না হয়, এরপরেই তো আপনারা একজন বক্তব্য রাখবেন। তিনি এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে আপনাদের মতামত প্রচার করতে পারেন। সুন্দর ও শালীনভাবে যে যাঁর বক্তব্য জাতীয় সংসদে রাখবেন, এটাই আমরা আশা করি। অহেতুক একজন বক্তাকে কেউ ডিস্টার্ব (বিরক্ত) করবেন না। আপনার টার্ন (সময়) যখন আসবে আপনি আপনার বক্তব্য সুবিধামতোভাবে দেবেন।’

এরপর মাগরিবের নামাজের জন্য অধিবেশনে বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিমকে বিষয়টি জিজ্ঞাস করেছেন। ওই সদস্য বলেছেন, তিনি বলেছেন ‘আননেসেসারি’ বিতর্ক করা যাবে না। প্রয়োজন হলে এটি এক্সপাঞ্জ করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দেশের ৪ জেলায় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বজ্রপাতে সুনামগঞ্জে ৩ জন, নেত্রকোণায় ৩ জন, হবিগঞ্জে ২ জন ও নোয়াখালীতে ১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববারও দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জন নিহত হন।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পৃথক স্থানে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) নিহত হন।

একই সময় সদর উপজেলার হাওরের অন্য একটি স্থানে বজ্রপাতে আবু সালেহ (২২) নামের আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

এছাড়া, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় তিন কৃষক আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নেত্রকোণা

নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়।

উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরের ধান শুকাতে গিয়ে মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক বজ্রপাতে নিহত হন।

এছাড়া, উপজেলার কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম-সংলগ্ন গড়দার হাওরে মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষক নিজ জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় আব্দুস সালাম (৩৫) বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা মান।

নোয়াখালী

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে তিনি বাদাম শুকাতে দিয়েছিলেন, আর বৃষ্টি শুরু হলে সেই বাদাম আনতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার বাতিঘর বলে পরিচিত মোনঘর। বিজু পরবর্তী বিজুপুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মোনঘর । এ অনুষ্ঠানে দুইটি বইয়ের মোড়ক উন্মোষন ও একটি সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে।

মোনঘরের সদ্য অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কবি, নাট্যকার ও সাহিত্যিক ঝিমিত ঝিমিত চাকমা রচিত ‘‘হিলেহিলি ছদক’’ ছোট গল্প সমগ্র এবং বাংলা একাডেমীর একুশে পদক প্রাপ্ত অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মৃত্তিকা চাকমার অনুবাদ বই ‘‘হাজার বছরের বাংলা কবিতা’’ চাকমা ভাষায় অনুবাদ মোড়ক উন্মোষন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এড.দীপেন দেওয়ান এমপি । এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রাপ্তদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

[caption id="attachment_272558" align="alignnone" width="8064"] রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার[/caption]

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এড.দীপেন দেওয়ান এমপি । তিনি বলেন, "ছোটবেলা থেকে দেখেছেন মোনঘর প্রতিষ্ঠাতা বিমল তিষ্য মহাথের, প্রজ্ঞানন্দ মহাথের, শ্রদ্ধা তিষ্য মহাথেরগণ প্রচুর স্ট্রাগল করেছেন। তাঁদের কষ্ঠের বিনিময়ে আজকের এই মোনঘর এ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে সহযোগিতা করে যাবেন। শুধু একজন মন্ত্রী হিসেবে নয় একজন নাগরিক হিসেবে পাশে থাকবেন।"

[caption id="attachment_272559" align="alignnone" width="8064"] জাতীয় মানবাধিকারের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান[/caption]

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। এ ছাড়া আরো উপস্থিত রয়েছেন জাতীয় মানবাধিকারের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বাঞ্চিতা চাকমা, শিক্ষাবিদ অঞ্জলিকা খীসাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য বিশিষ্টজনেরা।

[caption id="attachment_272560" align="alignnone" width="8064"] সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখেন অতিথিবৃন্দ[/caption]

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, ‘‘আমাদের জাতিসত্ত্বাগুলো বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান। পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ১১টি জাতিসত্ত্বার গরীব অসহায় ছেলে মেয়েরা এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। এ প্রতিষ্ঠান হতে লেখা পড়া শিখে বড় বড় কর্মকর্তা হয়েছেন এবং এ প্রতিষ্ঠানের জন্য দিনরাত যারা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’’

তিনি আরো বলেন, বিগত সময়ে জেলা পরিষদ হতে এককোটি বরাদ্ধ দিয়ে এই মাঠটি বড় করেছেন এবং বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করেছেন। চলতি অর্থবছরে একটি গ্যালারী ও স্যানিটারী ল্যাট্রিনের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। মোনঘর প্রকাশিত দুইটি বইয়ের ৫০০কপি ক্রয় করে স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণ করবেন।

[caption id="attachment_272561" align="alignnone" width="706"] সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করছে মোনঘরের শিক্ষার্থীরা[/caption]

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোনঘর রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ অশোক কুমার চাকমা। সভাপতিত্ব করেন সভাপতি বিমল তিষ্য মহাথের। আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক মানবাধিকার সদস্য নিরুপা দেওয়ান।

এ সময় মোনঘর আবাসিক ছাত্র ছাত্রীদের দিয়ে নৃত্য ও সংগীতের সমাহারে একমনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি হতে আগত জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী জলিপ্রু মারমা সংগীত পরিবেশন করলে ছাত্র ছাত্রীরা বিপুল উচ্ছাস প্রকাশ করে। আরো সংগীত পরিবেশন করেন রাঙ্গমাটি পরিচিত মুখ জনপ্রি সংগীত শিল্পী দীপান্বিতা চাকমা ও মঙ্গল বিকাশ চাকমা।