রাউজান, চট্টগ্রাম

দেশের প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে গাছের চারা রোপনের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, আমি দেশের সকলের কাছে আহ্বান জানাব আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি করে গাছ লাগান। 

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণ মুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি তাহলে এতটুকু আমরা ধারণা করতে পারি যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে। আসুন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিশ্চয়তা দেই একটি পরিষ্কার একটি দূষণ মুক্ত পরিবেশ গড়তে পারি যেখানে আমাদের প্রজন্ম পরিস্কার পরিবেশে বাস করবে।’

শনিবার (১৩ জুন) বেলা তিনটায় ডুলাহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসাধারণের প্রতি এই আহ্ববান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিলাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা যদি আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারি তাহলে আমরা দেশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি শুরু করব এবং আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত আল্লাহর রহমতে পাঁচ কোটি গাছ লাগানো। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চার রোপণ করব আমরা।’

সকলের প্রতি ফের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আসুন আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাতাসকে আমরা অনেক মুক্ত পরিষ্কার বিশুদ্ধ একটি বাতাসে রূপান্তর করতে পারব।’

সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ করে এখানে খুব সম্ভবত বিভিন্ন জেলার প্রশাসকবৃন্দ সংযুক্ত আছেন। আপনাদের সকলের কাছে আমার নির্দেশনা থাকবে যে- আপনার নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর সবুজ অভয়ারণ্য করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান ঘোষণা করছি। আমরা শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। আমরা আশা করি আমাদের ইচ্ছা আমাদের প্রত্যাশা যে আমরা আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বুক ভরে মুক্ত শ্বাস গ্রহণ করতে পারে, সেরকম একটি পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’

 

বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও উন্মুক্ত গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চায় সরকার। ‘স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও উন্নয়ন’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই তিন লক্ষ্য সামনে রেখে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন গতি আনার বার্তা দিয়েছে ঢাকা।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীতে একটি বিনিয়োগ সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়ে সরকারের এমন ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি (বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির পথনকশা)’ শীর্ষক ওই সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে মূলত বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে উদ্বোধনী অধিবেশনের পাশাপাশি তিনটি আলাদা কর্ম–অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও চ্যালেঞ্জকে নতুন সুযোগে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। তাঁর মতে, বর্তমান জ্বালানিসংকটের ব্যাপ্তি ১৯৭০-এর দশকের দুই দফা তেলসংকটের চেয়েও বড় হতে পারে, যা ১৯৮০-এর দশককে অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য উন্নয়নের একটি ‘হারানো দশক’ হিসেবে পরিণত করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

খলিলুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানিসংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থায়ন ও প্রযুক্তির এই উন্নয়নের মুখে আমাদের প্রধানমন্ত্রীরও একটি সুনির্দিষ্ট ভিশন বা রূপকল্প রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি চ্যালেঞ্জগুলোকে নতুন সুযোগে রূপান্তর করতে চান। এ ক্ষেত্রে তিনটি মূল লক্ষ্য হলো—স্থিতিশীলতা আনা, সংস্কার করা এবং উন্নয়ন সাধন করা। আমাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কূটনীতির কাজের ক্ষেত্রে তাঁর এই রূপকল্পকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে।’

খলিলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে প্রথম প্রয়োজন আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। দেশীয় ব্যবসায়ী, নাগরিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৩ জুন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৩ জুন, ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বর্তমান সরকার মাত্র ১০০ দিনের কিছু বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছে। তবে আমাদের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত সুদৃঢ়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আমরা বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর, স্থিতিশীল ও শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করতে চাই, যেখানে প্রতে৵ক নাগরিক সমৃদ্ধি ও মর্যাদার ন্যায্য অধিকার ভোগ করবে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, আমরা সব সময় নীতির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার কথা বলেছি। বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের যেকোনো দেশের বিনিয়োগকারীর কাছে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। তারা শুধু ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি; বরং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তেছে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে জোর

সম্মেলনের প্রথম কর্ম–অধিবেশনে বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন (ডানে)। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম (বাঁয়ে) সঞ্চালনা করেন। ১৩ জুন
সম্মেলনের প্রথম কর্ম–অধিবেশনে বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন (ডানে)। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম (বাঁয়ে) সঞ্চালনা করেন। ১৩ জুনছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

সম্মেলনের প্রথম কর্ম–অধিবেশনে বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঞ্চালনায় প্রথম কর্ম–অধিবেশনে বিনিয়োগ ও অর্থনীতির সঙ্গে কূটনীতির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। এ সময় তাঁরা সংযুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ও তাদের যেকোনো সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাজারে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কানেক্টিভিটি বাড়াতে কাজ করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকারের সব কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

বড় বিনিয়োগ পুঁজিবাজার থেকে

দেশের আর্থিক কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ এখন পুঁজিবাজারের মাধ্যমে আসা উচিত।

সম্মেলনের দ্বিতীয় কর্ম–অধিবেশনে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি পুঁজিবাজার থেকে মূলধন (ইকু৵ইটি) ও ঋণ সংগ্রহের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন এবং ঋণ গ্রহণ করা উচিত।’ বিদ্যমান আর্থিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে এবং অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সরকারি আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে অর্থায়নের প্রবাহে পরিবর্তন এসেছে এবং বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে ঋণের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের খরচ বাড়ছে। এমনকি যেসব বহুপক্ষীয় ঋণদাতা আগে ১ শতাংশের নিচে ঋণ দিত, তাদের সুদের হারও এখন ১ থেকে ২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।’

ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী একটি নতুন ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ব্যবসাসংক্রান্ত নিয়মকানুন সহজীকরণ বা ‘ডি-রেগুলেশন’ কার্যক্রম তদারকি করতে সরকার একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

অন্যদিকে ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে পানি ঢুকেছে এবং ক্রমান্বয়ে পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢল বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দিন আগে নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে বর্ডার রোডসহ একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।

জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি বাঁধ ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে এবং কোথাও কোথাও বাঁধের পাশে মাটি সরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, বৃষ্টিপাত কমে গেলে ঢলের পানি নেমে যাবে। এখন পর্যন্ত বাঁধ ভাঙার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক নারীকে প্রকাশ্যে পিটিয়েছেন মো. সফিক (৩৮) নামের যুবদলের স্থানীয় একজন নেতা। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মারধরের শিকার ওই নারীর স্বামী যুবদল নেতার মাছের খামারে কাজ করেন। ওই নারীর অভিযোগ করে বলেন, দুই মাস ধরে তাঁর স্বামীর বেতন বকেয়া রেখেছেন যুবদল নেতা। পবিত্র ঈদুল আজহায়ও বেতন না পাওয়ায় তাঁদের দিন কষ্টে কেটেছে। এরপর থেকে তাঁর স্বামী যুবদল নেতার খামারের কাজে যান না। এ ঘটনায় ওই যুবদল নেতা তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ওই নারী আরও বলেন, আজ সকালে বাড়ির পাশে নদীতে তাঁর স্বামী জাল বসান। অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক ওই জাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় সফিক তাঁর স্বামীকে প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তাঁর ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও তাঁর স্বামীকে মারধর শুরু করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাঁকেও পেটানো হয়। যুবদল নেতা সফিক তাঁর খামারে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে ওই নারী অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. সফিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে অভিযুক্ত সফিক স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর কাছে নারীকে পেটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে ওই নারীর স্বামী তাঁর খামারের মাছ চুরি করেন। আজ সকালে জাল নিয়ে আসার পথে ওই নারী ও তাঁর স্বামী তাঁর ওপর আক্রমণ করেন। তাঁরা তাঁর নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন।

জানতে চাইলে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও দেখে এরই মধ্যে অভিযুক্ত সফিককে ধরতে এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে তিনি শহীদের কবরের পাশে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। তিনি শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

স্থানীয় নেতাকর্মী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

এর আগে শনিবার বিকেলে ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক ঘুরে দেখে চকরিয়া মালুমঘাট এলাকায় বৃক্ষরোপণ কমসূচির শুভ উদ্বোধন শেষে পেকুয়া পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মো. ওয়াসিম চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত। তার আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

চীনে ৪ দিনের সরকারি সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন ডেপুটি স্পীকারের নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের সংসদীয় দল।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২ টায় দেশে ফেরেন তারা।
ইউনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর ইয়ুআন ওয়াং ডেপুটি স্পীকার ব‍্যারিষ্টার কায়সার কামালকে চীনের কুনমিং বিমানবন্দরে ভিআইপি প্রটোকলে বিদায় জানান। কুনমিং এর স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স যোগে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে সংসদীয় দল।
চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নরের আমন্ত্রণে ১১ জানুয়ারি কুনমিং এ আয়োজিত ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব‍্যারিষ্টার কায়সার কামাল। ৭ম চীন-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরামে আরো বক্তব্য রাখেন ইউনান প্রভিন্সের গভর্নর ওয়াং ইউরো, নেপাল ন্যাশনাল এসেম্বলির ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা কুমারী বান্দরী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরাথিশাম আদাম, শ্রীলংকার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুন হিমাচন্দ্র, সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সরওয়ার, চীনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত খলিলুর রহমান, চীনে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদুল্লাহ বিলাল কারিমি, ভূটানের শিল্প, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য মন্ত্রী কর্মা দর্জিসহ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। 
এছাড়াও ডেপুটি স্পীকার ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন। 
উল্লেখ্য, এবারের ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনে থিম কান্ট্রি বাংলাদেশের বাংলাদেশী পন্য নিয়ে ৮৪ টি প‍্যাভিলয়ন অংশ নিচ্ছে। ১৬ জুন পর্যন্ত চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং এ চলমান এবারের এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পৃথিবীর ৬৮ টি দেশ অংশগ্রহণ করছে।
সফরে ডেপুটি স্পীকার চীনের পিপলস কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান হি ওয়াই, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রদেশের সেক্রেটারি ওয়াং নিং এবং ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইয়োবোর সাথে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ডেপুটি স্পীকার কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন ও তিস্তা ব‍্যারেজ নির্মানে চীনা সহযোগিতা অব্যাহত রাখাসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, ইকোনমিক জোন, পরিবহন ব‍্যবস্থার আধুনিকায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার আহ্বান জানান। এই মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা জানিয়ে চীনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে ডেপুটি স্পীকার জানান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারও চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে অগ্রাধিকার প্রদান করবে।
চীনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিভিন্ন উন্নয়ন সেক্টরে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে তারা সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন।
ডেপুটি স্পীকারের এবারের সফরের ফলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, আধুনিক পরিবহন ব‍্যবস্থা এবং বানিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে চীনের নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব‍্যক্ত করেন।
কুনমিং আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আসার পথে আজ সকালে ডেপুটি স্পীকার ইউনান প্রদেশে চালকবিহীন ভবিষ্যৎ পরিবহন ব্যবস্থার একটি পাইলট প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
চীনের ইউনান প্রদেশের ভবিষ্যৎ পরিবহন ব্যবস্থাপনা কেবল নতুন সড়ক বা রেলপথ নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি স্মার্ট, সবুজ, নিরাপদ এবং সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা মডেল প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ইউনান ডিজিটাল ইউনান কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবহন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বিগ ডেটা এবং ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। এর আওতায় রয়েছে- রিয়েল-টাইম ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ; স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ; দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা; যাত্রীদের জন্য একীভূত তথ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম; ই-টোল ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।  
সংসদীয় দলের অন‍্য সদস‍্যগন হলেন এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন, বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব ও সংরক্ষিত স্বতন্ত্র এমপি জেসমিন সুলতানা জুঁই।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন।

আজ শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছান। সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে তিনি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।

বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে পিএমখালীতে যান প্রধানমন্ত্রী। বৃষ্টির মধ্যেই কোদাল দিয়ে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজ শুরু করেন। পরে তিনি খালের পাড়ে একটি খেজুরগাছের চারা লাগান।

পুনঃখনন উপলক্ষে খালের পাড়ে পাতলী গ্রামবাসীরা জড়ো হন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেই অপেক্ষায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছালে খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসী তাঁকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাঁরা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ বলে স্লোগান দেন।

খাল খননের সময় উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

খালের পাড়ে গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকালে
খালের পাড়ে গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকালেছবি: পিএমও

পাতলী খাল ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিএমখালীতে এসে ৪৮ বছর আগে ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল খননকাজের সূচনা করেছিলেন। সেই সময়ে রাষ্ট্রপতি খালের পারে একটি খেজুরগাছও রোপণ করেন। গাছটি এখনো আছে।

এই খাল পুনঃখননে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশলীরা।

একদিনের সফরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ৯টায় সকারপ্রধান গুলশানের বাসা থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানে কক্সবাজারে যাচ্ছেন। গুলশানের বাসা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছেন। তার সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আছেন। বৃক্ষরোপণ, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে রাতে তিনি ঢাকায় ফিরবেন। কক্সবাজার পৌঁছে সকাল সাড়ে ১০টায় পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি শুরু করবেন।

দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান এবং বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভা, সন্ধ্যায় সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখবেন তারেক রহমান। কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী নতুন উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে জেলায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রত্যাশার কথাও জানাচ্ছেন তারা।

কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর উদ্যোগ। এছাড়া পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ ব্যবহার এবং শুঁটকি শিল্প রক্ষায়ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা।

পাশাপাশি কুতুবদিয়া রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ, মহেশখালী-কক্সবাজার চ্যানেলে সেতু, মাদক চোরাচালান বন্ধ ও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার দাবিও রয়েছে স্থানীয়দের।

সরকারপ্রধানের এ সফরকে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমাবেশস্থল ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা ইতোমধ্যেই পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

বাস থেকে নেমে রিকশায় চড়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সোহেলি ইসলাম (৪২)। পাশ দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে মাথায় হেলমেট পরা দুই ছিনতাইকারী যাচ্ছিল। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি আচমকা সোহেলির হাতে প্যাঁচানো ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। একপর্যায়ে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে যান সোহেলি। এতে ভেঙে যায় ডান হাত, মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান। কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। এরপর স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন মেয়ে।

গত রোববার সকাল সোয়া ছয়টায় ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

সোহেলির বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সাহেবপাড়া এলাকায়। তিনি এসকেএফ ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার পদে চাকরি করতেন। ঢাকার ধানমন্ডির গ্রীন রোড–সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গতকাল সকালে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বিকেলে নানাবাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। সোহেলির মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া আলম। তিনি বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে স্নাতকের শিক্ষার্থী।

সোহেলির মামা সারওয়ার পারভেজ বলেন, কয়েক দিন আগে পার্বতীপুরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মেয়েসহ এসেছিলেন সোহেলি। অনুষ্ঠান শেষে গত শনিবার (৬ জুন) রাত ৯টার বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। রোববার ভোর পাঁচটায় গাবতলী এলাকায় নেমে কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর রিকশা নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট পার হয়ে ছিনতাইকারীর আক্রমণের শিকার হন।

সারওয়ার পারভেজ আরও বলেন, প্রায় দেড় দশক আগে সোহেলির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকেই তাঁর সংগ্রামী জীবনের শুরু। বছর দুয়েক আগে তাঁর বাবা মারা যান। এর দুই মাস পর মায়েরও মৃত্যু হয়। একমাত্র মেয়েটিকে একা করে এবার চলে গেলেন তিনি।

সোহেলির বোনের স্বামী তরিকুল ইসলাম বলেন, রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে সোহেলির মাথার পেছনের অংশ ফেটে যায়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। প্রথমে কেউ এগিয়ে আসছিলেন না। পরে রিকশাচালকসহ একজনের সহায়তায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কথা বলতে পারছিলেন না, শুধু গোঙাচ্ছিলেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করা হয়নি। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দীর্ঘ ২১ বছর পরে কক্সবাজারের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এ সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি যাচাই করতে সেখানে গিয়ে পৌঁছেছেন সরকারের ৬ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কক্সবাজারে পা রাখা সরকারের ৬ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হলেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

আগামী শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী কক্সবাজার সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রাজনৈতিক জনসভা এবং সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।

কক্সবাজারে পৌঁছে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে বৈঠক করছেন। বৈঠক শেষে তারা একে একে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে থাকা প্রকল্পগুলোর উদ্বোধনী স্থান, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জায়গা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির স্থান এবং রাজনৈতিক জনসভা ও সুধী সমাবেশস্থল পরিদর্শন করবেন।

 

ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দেশটির প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপু‌রে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত চেকপয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তি‌নি। এ সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন দীনেশ ত্রিবেদী।

দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিয়ে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের ২০ কোটি যদি একসঙ্গে করা হয় তাহলে ১৬০ কোটি। দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিনত হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তা বৃহৎ একটি জনশক্তিতে রুপান্তরিত হবে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকেও যুক্ত করছি। ১৬০ কোটি মানুষের জন্য যা কিছু মঙ্গলজনক, আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন; যাতে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং আমরা যা অর্জন করতে যাচ্ছি, তাতে যেন সফল হই।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হবে, অচিরে টুরিস্ট ভিসা চালু করা হবে।

গত ২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারত সরকার ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও ব্যারাকপুরের সাবেক এমএলএ বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের ১৮ তম হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০২২ সাল থেকে ঢাকায় ভারতের  হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকা প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় তার সঙ্গে তার সহধর্মিনী মৃণাল ত্রিবেদীও এসেছেন। পরে সড়কপথে দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর ধারণার কারণে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠিয়েছে ভারত সরকার।

সাধারণত ভারতের পররাষ্ট্র সার্ভিসের কর্মকর্তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হলেও দীনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে। গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তিনি চমৎকার বাংলা বলতে পারেন এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি তার গভীর বোঝাপড়া রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সুসম্পর্ক থাকা এই প্রবীণ নেতার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল আশির দশকে কংগ্রেস দলের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি জনতা দলে যোগ দেন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবার দিল্লির উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

পরবর্তী সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে আবারও সংসদ সদস্য হন এবং দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এক সময় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত হিসেবে পরিচিত হলেও ২০১৬ সালের পর থেকে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে।

সবশেষ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারাকপুর আসনে বিজেপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর তৃণমূল তাকে আবারও রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল। তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করেন এবং একই বছরের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে যোগদান করেন।