‘ইশক মুর্শিদ’ তারকা দুরেফিশান কি সত্যিই বিয়ে সেরেছেন




















শহীদ কাপুর, রাশমিকা মান্দানা ও কৃতি শ্যানন অভিনীত ছবি ‘ককটেল ২’ আজ ১৯ জুন মুক্তি পেয়েছে। শুক্রবার প্রথম শো থেকেই সাড়া ফেলেছে এ সিনেমা। অবশ্য এ সিনেমার ঘোষণার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ইতিমধ্যে ছবিটির অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছে। জেনে নেওয়া যাক, মুক্তির আগেই ছবিটি কত রুপি ব্যবসা করেছে। এ ছাড়া ‘ককটেল ২’-কে ঘিরে আরও খবর ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
মুক্তির আগেই আয়
মুক্তির আগেই বক্স অফিসে ভালো আবহ তৈরি করতে শুরু করেছে ‘ককটেল ২’। অগ্রিম বুকিংয়ে এখন গতি এসেছে। ওপেনিং ডের জন্য এখন পর্যন্ত এই রোমান্টিক ছবির প্রায় ৫৭ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা ছবিটির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।
ট্রেড ওয়েবসাইট সাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ব্লক সিট বাদ দিলে ছবিটি অগ্রিম বুকিং থেকেই প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ রুপি আয় করেছে। আর ব্লক সিট যোগ করলে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লাখ রুপি। মুক্তির আগে এখনো এক দিন বাকি থাকায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেড়েছে আগ্রহ
গত রোববার ছবিটির অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছিল। তবে শুরুতে অগ্রিম বুকিংয়ের গতি কিছুটা ধীর ছিল। মুক্তির দিন যত এগিয়ে এসেছে, টিকিট বিক্রিও তত বেড়েছে। যদিও এটি এ বছরের সবচেয়ে বড় অ্যাডভান্স বুকিং নয়, তবু ছবিটি ভালো সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন সবার নজর, এই বাড়তি আগ্রহ মুক্তির দিনের আয়েও প্রতিফলিত হয় কি না।
তিন গুণ বেশি
বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ককটেল ২’-এর প্রধান তিন অভিনেতা-অভিনেত্রীর পারিশ্রমিক বাবদ মোট ৩৫ কোটি রুপি খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ কাপুর নিয়েছেন ২১ কোটি রুপি। অন্যদিকে কৃতি শ্যানন পেয়েছেন ৮ কোটি এবং রাশমিকা মান্দানা পেয়েছেন ৬ কোটি রুপি।

ছবির বাজেট
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘ককটেল ২’ ছবিটি ১৫০ কোটি রুপির বাজেটে তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ কোটি রুপি প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে ছবির প্রিন্ট ও বিজ্ঞাপন প্রচারে প্রায় ২০ কোটি রুপি খরচ হয়েছে। বাকি ৯৫ কোটি রুপি ছবির প্রোডাকশন ও পার্শ্ব অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিক বাবদ ব্যয় করা হয়েছে।
নেই বড় প্রতিদ্বন্দ্বী
‘ককটেল ২’-এর জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, ১৯ জুন এর সঙ্গে বড় কোনো বলিউড ছবি মুক্তি পায়নি। তাই কিছুটা ফাঁকা ময়দানে ইনিংস খেলতে নেমেছেন শহীদ, কৃতি ও রাশমিকা। গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায় বাপাস আউঙ্গা’ ও ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ বক্স অফিসে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। ফলে ‘ককটেল ২’ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। এ ছাড়া ‘হন্টেড ৩ডি’-ও বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। তাই দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানার ভালো সুযোগ রয়েছে ‘ককটেল ২’-এর সামনে।
‘এ’ ছাড়পত্র
‘ককটেল ২’-কে সিবিএফসি ‘এ’ ছাড়পত্র দিয়েছে। এর অর্থ, ছবিটি শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই দেখতে পারবেন। ছবিটি বেশ দীর্ঘও। এর মোট রানটাইম ১৫০ মিনিট, অর্থাৎ ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
তারকাসমৃদ্ধ সিনেমা
‘ককটেল ২’ ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন শহীদ কাপুর, কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মন্দানা। ছবিটি পরিচালনা করছেন হোমি আদাজানিয়া। তিনি ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রোমান্টিক-কমেডি ‘ককটেল’-এরও পরিচালক ছিলেন। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন, সাইফ আলী খান ও ডায়ানা পেন্টি। ‘ককটেল ২’ ছবিটি ম্যাডক ফিল্মসের ব্যানারে প্রযোজনা করছেন দিনেশ বিজন। পরিচালকের দাবি, এই সিক্যুয়েলে নতুন চরিত্রদের নিয়ে একেবারে নতুন একটি গল্প তুলে ধরা হবে। ‘ককটেল ২’ ছবির সংগীত পরিচালক হলেন প্রীতম। প্রীতমের সুরে গানগুলো এরই মধ্যে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও, বিকৃত ছবি ও নকল ডিজিটাল পরিচয়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে বড় এক ধাপ এগোলেন বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। বোম্বে হাইকোর্ট তাঁকে গুগল, মেটাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দিয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি অভয় আহুজা সম্প্রতি প্রীতি জিনতার আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি দায়েরের অনুমতি দেন। অভিনেত্রীর অভিযোগ, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর নামে ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি, মিম, চ্যাটবট চরিত্র এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়, সুনাম ও আইনি অধিকারের লঙ্ঘন।
প্রীতির পক্ষে আদালতে হাজির আইনজীবী রোহন কাদম জানান, প্রস্তাবিত মামলায় ব্যক্তিত্বের অধিকার (পারসোনালি রাইটস), কপিরাইট, নৈতিক অধিকার এবং সুনামের ক্ষতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব ভুয়া কনটেন্ট শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
আদালতে আরও বলা হয়, প্রীতি ভারতের নাগরিক এবং তাঁর পেশাগত জীবন ও সুনাম মূলত মুম্বাইকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। ফলে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রভাবও এই বিচারিক এলাকার মধ্যে পড়ে।

আবেদনের শুনানি শেষে আদালত মত দেন যে মামলাটি দায়েরের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তাই হাইকোর্টের এখতিয়ারের বাইরে থাকা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধেও মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারকাদের ডিপফেক ভিডিও ও ভুয়া ছবি তৈরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এর আগে একাধিক বলিউড তারকাও এমন অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন। প্রীতি জিনতার এই আইনি পদক্ষেপকে অনেকেই ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত পরিচয় ও সৃজনশীল অধিকারের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন।
এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর প্রীতি জিনতা আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন। তাঁকে আগামী দিনে দেখা যাবে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমায়। ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বলিউড তারকাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেও পরিচিত ওরি। পাশাপাশি একজন ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সারও। তাঁর আয় কত?—তা জানলে আপনি চমকে যেতে পারেন।
এক সাক্ষাৎকারে ওরি জানান, একটি রিল পোস্ট করার জন্য এক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৭৬ লাখ রুপি পেয়েছেন তিনি।
‘লার্ন বাই কেকে ক্রিয়েট’ পডকাস্টে আয়–রোজগার নিয়ে কথা বলেন ওরি। তিনি জানান, ব্র্যান্ড প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে আয় করেন তিনি।
মুম্বাইয়ের একটি ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম ওরির। তাঁদের পরিবারের ব্যবসা রয়েছে হোটেল, রিয়েল এস্টেট ও মদ শিল্পে। তবে ব্যবসার পথে হাঁটেননি ওরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি।

ওরিকে প্রায়ই জাহ্নবী কাপুর, খুশি কাপুর, শানায়া কাপুর ও নাইসা দেবগনের মতো তারকাসন্তানদের সঙ্গে দেখা যায়। পডকাস্টে ওরি বলেন, ‘গত মাসে শুধু একটি চুক্তি থেকেই ৭৬ লাখ রুপি আয় করেছি। সেটা ছিল একটি রিল ভিডিওর জন্য।’
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও অর্থের বিনিময়ে অংশ নেন ওরি। তাঁর ভাষ্য, তাঁকে কোনো বিয়ে, জন্মদিন, মধ্যাহ্নভোজ বা নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানাতে হলে ১৫ থেকে ২৫ লাখ রুপি পর্যন্ত খরচ করতে হয়।
রসিকতা করে ওরি বলেন, ‘১৫ থেকে ২৫ লাখ রুপি দিলে আমি আপনার সঙ্গে দুপুর বা রাতের খাবারে যোগ দেব, জন্মদিন বা বিয়েতে আসব।’
ওরি জানান, অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি শুধু উপস্থিত থাকেন না; অতিথিদের সঙ্গে কথা বলেন, ছবি তোলেন এবং তাঁর পরিচিত ‘সিগনেচার পোজ’ও দেন।
এত আয় হলেও অর্থের দেখভাল এখনো মা–বাবার হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন ওরি। এ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘আমার টাকা সামলান মা–বাবা। মনে হয় আমি কখনোই এটা বদলাতে পারব না।’
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে










সময়টা দারুণ যাচ্ছে সাবিলা নূরের। পরপর দুই ঈদে দুটি আলোচিত সিনেমার অংশ হয়েছেন—একটি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, অন্যটি ‘রকস্টার’। শাকিব খান ও শরীফুল রাজের সঙ্গে দুটি ছবি তাঁকে নিয়ে এসেছে আলোচনায়। সময়টা বেশ উপভোগ করছেন তিনি। তবে দায়িত্ব বেড়েছে বলেও জানালেন সাবিলা। অনেক কিছু শিখেছেন বলেও জানালেন।
সাবিলা বললেন, ‘কাজের প্রতি ভালোবাসা আর নিষ্ঠা সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে। এবার ঈদে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’কে দর্শক যেভাবে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তাতে তাঁদের প্রতি আমার দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে গেছে। দর্শকের এই ভালোবাসাই আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। পরিবারের সমর্থনও সব সময় আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। কাজের ব্যস্ততায় নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, আর ঠিক তখনই পরিবারের ভালোবাসা ও পাশে থাকার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি অনুভব করি। বিশেষ করে গত কয়েক ঈদে আমি উপলব্ধি করেছি, পরিবারের সাপোর্ট ও আন্তরিক ভালোবাসা ছাড়া পথচলাটা এত সহজ হতো না।’
সিনেমা নিয়ে স্বামীর পরামর্শ
‘রকস্টার’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’—দুটি সিনেমাই স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে দেখেছেন সাবিলা নূর। ‘রকস্টার’ দেখার সময় দুজনই ক্যাপ ও মাস্ক পরে সাধারণ দর্শকের ভিড়ে বসে সিনেমাটি উপভোগ করেন। এতে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় তাঁদের। তবে সিনেমা নিয়ে নেহালের একটি পরামর্শই সবচেয়ে বেশি মনে রেখেছেন সাবিলা। তিনি বলেন, ‘নেহাল আমাকে বলেছে, কোনো সিনেমার সফলতাকে যেন নিজের সফলতা মনে না করি। এটাকে সব সময় পুরো টিমের সফলতা হিসেবে দেখি।’ কথা প্রসঙ্গে সাবিলা বললেন, ‘আমিও মনে করি, একটি সিনেমার সাফল্য কখনো একজনের নয়, এর পেছনে পুরো টিমের পরিশ্রম থাকে। তাই অর্জনকে টিমের সাফল্য হিসেবেই দেখতে চাই।’

অনুপ্রেরণায় শাকিব খান
শাকিব খানকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন অভিনেত্রী সাবিলা নূর। তাঁর মতে, অভিনয়জীবনের ২৭ বছরে এসেও প্রতিটি নতুন কাজের প্রতি শাকিব খানের যে নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা, তা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য সত্যিই অনুপ্রেরণার। সাবিলা বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে শাকিব খানের কাজের প্রতি ক্ষুধা ও ডেডিকেশন তাঁকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। ‘তাণ্ডব’-এ খুব বেশি দিন একসঙ্গে কাজ না করলেও তিনি খেয়াল করেছেন, শুটিংয়ের নির্ধারিত সময়ের আগেই সেটে উপস্থিত থাকতেন শাকিব। তাঁর ভাষায়, এত বড় একজন তারকার এমন পেশাদার মনোভাব সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
‘তাণ্ডব’–এর তুলনায় ‘রকস্টার’-এ শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বেশি সময়ের। দেশ ও দেশের বাইরে সাবিলা এই ছবির শুটিং করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা সাবিলা জানান এভাবে, প্রথম দিন থেকেই তিনি শাকিব খানের কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে বিস্মিত হয়েছেন। এতটা বছর কাজের পরও কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ ও প্রস্তুতি একটুও কমেনি। প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে ভাঙার চেষ্টা তাঁকে আলাদা করেছে।
সহশিল্পী হিসেবেও শাকিব খান তাঁকে মুগ্ধ করেছেন। সাবিলা বলেন, ‘শাকিব ভাই তো মেগাস্টার, এত বড় তারকা হওয়ার পর শুটিং সেটে তিনি কখনোই তা বুঝতে দেন না। সবার সঙ্গে সহজে মিশে যান এবং এমন পরিবেশ তৈরি করেন, যেখানে সহশিল্পীরা স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে কাজ করতে পারেন।’

নতুন মিশন
সাবিলার এখনকার লক্ষ্য বড় পর্দায় ব্যস্ত হওয়া। সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন তিনি। ছোট পর্দায় আপাতত অভিনয় করতে চাইছেন না। পরপর দুটি ছবি তাঁকে আলোচনায় আনার পর এখন কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন। নতুন প্রজেক্ট নিয়ে পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। যদিও চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চান না সাবিলা। তিনি জানান, বেশ কয়েকটি গল্প শুনেছেন এবং এর মধ্যে একটি সিনেমার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেটিই হবে তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্র।
সাবিলা বলেন, ‘কয়েকটা গল্প শুনেছি। একটা গল্পের প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছে। হচ্ছে এবং হবে। এখন চিন্তাভাবনার মধ্যে আছি। আশা করছি, মাসখানেকের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।’ জুলাইয়ের শেষ দিকে নতুন ছবিটির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে। টেলিভিশন থেকে চলচ্চিত্রে সফলভাবে পথচলা শুরু করা এই অভিনেত্রী মনে করেন, এখন গল্প ও চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সে লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

দেখতে চান ঈদের অন্য ছবিও
ঈদে আটটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। মুক্তি পাওয়া নিজের ছবি ‘রকস্টার’–এর প্রচারণা ও প্রেক্ষাগৃহ পরিদর্শনে ব্যস্ত ছিলেন সাবিলা। তাই নিজের সিনেমার বাইরে মুক্তি পাওয়া অন্য ছবিগুলো এখনো দেখা হয়ে ওঠেনি তাঁর। তবে খুব শিগগির সেগুলো দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সাবিলা জানান, এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া কয়েকটি ছবির সঙ্গে তাঁর কাছের ও পছন্দের মানুষেরা যুক্ত আছেন। সে কারণেই ছবিগুলোর প্রতি তাঁর আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ‘রইদ’, ‘বনলতা সেন’ এবং ‘মালিক’—এই তিনটি ছবি আগামী দু–এক দিনের মধ্যেই দেখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
সাবিলা বললেন, ‘এসব ছবি নিয়ে চারদিকে অনেক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া শুনেছি। তাই দর্শক হিসেবে আগ্রহও বেড়েছে। কাজের ব্যস্ততা কিছুটা কমেছে। এখন যেহেতু একটু ফ্রি আছি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি ছবিগুলোও দেখে ফেলব।’
কাজের আগে ঘুরে আসা
নতুন কাজের আগে ঘুরে আসতে চান সাবিলা নূর। গন্তব্য তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস। সেখানে বাবা–মা ও বড় বোন থাকেন। জানালেন, ১ জুলাই যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে। শুরুতে নিউইয়র্কে থাকবেন ৩–৪ দিন, কারণ সেখানকার একটি উৎসবে দেখানো হবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। উৎসবে অংশ নেবেন। সাবিলা বললেন, ‘আমি ঘুরতে ভীষণ পছন্দ করি। এখন যেহেতু কাজ হাতে নিচ্ছি না, তাই নতুন কাজ শুরুর আগে পরিবারের মানুষদের সঙ্গে কাটাতে চাই। দুই সপ্তাহের বেশি সময় থাকব।’

একটা নির্দিষ্ট সময় পর বেড়াতে যেতে হয়। এতে করে পরের কাজে এনার্জি পান—জানালেন সাবিলা নূর। বললেন, ‘মালয়েশিয়ায় যখন ‘রকস্টার’ শুটিং শেষ করি, তখনো শুটিং শেষ হওয়ার পর কয়েক দিন ঘোরাঘুরি করেছি। আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল বন্ধু রাফসান সাবাব ও জেফার। দারুণ সময় কেটেছিল। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রে গেলে ঘোরাঘুরি কম হবে। বোনের বাড়িতে সময় কাটবে বেশি।’
ঢাকা