ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা ফলাফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। 

সোমবার (৪ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যেই ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশ নিজের স্বার্থ বজায় রেখে কাজ করবে। ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন বিষয়ে ছড়ানো গুজব নিয়ে কান না দিয়ে বাংলাদেশ তার লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী।

বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা সেবা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা দ্রুতই নিরসন হবে বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা সেবা পুনরায় চালু করবে ভারত। ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং আমরা আশা করছি দ্রুতই এর সুফল পাওয়া যাবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন বন্ধ করা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত পানি চুক্তিসহ অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন যে, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এই আলোচনাগুলো আরও জোরালো হবে এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর থাকবে।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং সংসদকে প্রাণবন্ত করতে নতুন নারী সংসদ সদস্যরা কাজ করবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে সরকার দলীয় জোটের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাথে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন,  নারী সদস্যরা শপথ নিয়েছেন যে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে, জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে এবং সংসদকে সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে ভূমিকা পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখবেন নতুন নারী সংসদ সদস্যরা। 

রাঙামাটিতে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে টানা দ্বিতীয়দিনের মতো বিরোধের জেরে জেলা বিএনপি কার্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। 

সোমবার (৪ মে) দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন পদবঞ্চিতরা। তারা সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে আসা ছাত্রদলের একটি গাড়িবহর নতুন কমিটির পক্ষে স্লোগান দিয়ে দলীয় কার্যালয় অতিক্রম করার সময় তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া দেন পদবঞ্চিতরা। এই খবর পৌরসভা এলাকায় অবস্থান নেওয়া নতুন কমিটির পক্ষে স্বাগত মিছিল করতে তৈরি হওয়া নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছালে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেওয়া পদবঞ্চিতদের হটিয়ে দেন, ধাওয়া খেয়ে পদবঞ্চিতরা দলীয় কার্যালয় থেকে পালিয়ে যান। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে নতুন কমিটির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে কয়েকশত নেতাকর্মী। এতে বন্ধ হয়ে যায় সড়কে সব যান চলাচল।

এরপর পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেয়। একই সময় বিএনপি কার্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীমউদ্দিন ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এখন দুইপক্ষই ফিরে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

গত শনিবার রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিতরা। তখন জেলা বিএনপির সেক্রেটারিসহ নেতারা গিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতির সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দেন। এরপর সোমবার বিকেল তিনটায় নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করার ঘোষণা দেন নতুন কমিটির পক্ষের নেতাকর্মীরা। এই খবর শুনে তাদের প্রতিহত করতে দুপুর থেকে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয় পদবঞ্চিতরা।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে পৌঁছেছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় স্বজন ও গ্রামবাসীর আহাজারিতে সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে আজ সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে জামিলের মরদেহবাহী উড়োজাহাজ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ১০টার দিকে মরদেহ বহনকারী গাড়িটি জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। আজ সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ শেষে জানাজার পর বাড়ির আঙিনায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জামিলের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামে প্রবেশ করতেই স্বজন ও গ্রামবাসী যানটির পেছনে ছুটতে থাকেন। সেটি বাড়ির আঙিনায় পৌঁছাতেই তাঁরা মরদেহটিকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন।

মরদেহবাহী গাড়িটি আঙিনায় রাখামাত্র নারী-পুরুষ সবাই সেটিকে ঘিরে ধরেন। শেষবারের মতো জামিলকে একনজর দেখার আকুলতায় ভিড় বাড়তেই থাকে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর পরিবার-পরিজন। তাঁদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জামিলের বাবা জহুরুল হক। তাঁকে ধরে ঘরের বারান্দায় রাখা চেয়ারে বসান কয়েকজন।

একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জামিলের বাবা জহুরুল হক
একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জামিলের বাবা জহুরুল হক
 

জামিলের চাচা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ছেলের নিথর দেহ বাড়িতে ফিরছে—এই কষ্ট আমরা কোথায় রাখব, কীভাবে সহ্য করব বুঝতে পারছি না। যে বা যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের ফাঁসি চাই।’

নিহত জামিল আহমেদ ওরফে লিমন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান এলাকার বাসিন্দা জহুরুল হকের ছেলে। কর্মসূত্রে জহুরুল হক দীর্ঘদিন গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বসবাস করেন। সেখানেই জামিলের বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। ছোট ভাই জোবায়ের হোসেন।

জামিল আহমেদ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তাঁদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সারাদেশ ও পুলিশবাহিনীর মধ্যে পুলিশের বিদ্যমান যে পোশাক আছে, এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না। পোশাকটা আসলে মানানসই হয়নি। সেজন্য তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টা বিবেচনা করেছি।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে সচিবালয়ে রোহিঙ্গাসহ সাম্প্রতিক ইস্যুতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করেছি, যা গ্রহণযোগ্য হবে। আগের মতোই ওপরের অংশে শার্ট থাকবে, যেটি আগে মেট্রোসহ সারাদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল, তা বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্যান্ট বা পাজামার ক্ষেত্রে খাকি রঙের পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত মতবিনিময়ের পর এটিকে একটি গ্রহণযোগ্য পোশাক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, ব্যবহারকারীকে না ধরে আগে যারা মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত এমনকি যারা বড় আকারে সীমান্ত দিয়ে হোক, ভেতর দিয়ে হোক, তাদেরকে আটক করার ব্যবস্থা করছি।

শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ই আগস্টের পরে অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং অনেক দাগি আসামি জেলখানা থেকে বেরিয়েছে, তখন লক্ষ্য করেছি। তারা জামিনে বেরিয়েছে, এটা আদালতের বিষয়। কীভাবে-কেন আদালত জামিন দিয়েছে, সেটা আদালতেরই বিবেচ্য বিষয়, আমাদের কোনো বিবেচ্য বিষয় না। শীর্ষ সন্ত্রাসী হোক আর যাই হোক পুলিশ তাদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে সফল অধিবেশন ছিল এই অধিবেশন দাবি করে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও গতিশীল। এ সংসদে সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়ন হয়েছে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে গঠনমূলক বিতর্ক হয়েছে। সরকারি ও বিরোধীদল মিলেও বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে এবং যৌথভাবে কাজ করেছে। গণতন্ত্রে মতভেদ থাকবেই, তবে সেই ভিন্নমতই সংসদীয় বিতর্কের অংশ বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জঙ্গি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার দেওয়া ভিন্ন বক্তব্যের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি যেটা বক্তব্য দিয়েছি ওটাই তো আপনারা ছাপিয়েছেন। এখানে আর বাকি তো বলার দরকার নেই। সেটা তিনি কীভাবে বলেছেন জানি না। হয়তো আপনাদের লেখার মধ্যেও মিসইন্টারপ্রেট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যেটা ডিসিপ্লিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কি বলেছে সেটাই তো শুনতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সোমবার (৪ মে) পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।

হাইকমিশনার আরও বলেন, উভয় দেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার, পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে ভারত সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

অপরদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রণয় ভার্মার অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান এবং তার নতুন দায়িত্বের জন্য শুভকামনা জানান।

এছাড়া সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করা হয় এবং নতুন সক্ষমতা ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দুবাই ও সৌদি আরবে ২০৮ জন প্রবাসীকে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে গ্রেফতার ও সাজা দিয়ে দেশে পাঠানোয় তাদের প্রত্যেককে ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না—এই বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
 
সোমবার (৪ মে) বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।
 
রিটকারী আইনজীবী বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা আরও কার্যকর করতে সরকার ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্বিচারিতা পরিহারেরও তাগিদও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদ ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন নূরুল কবীর। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিবছর ৩ মে পালিত হয় ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার।’

নূরুল কবীর বলেন, বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতান্ত্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—বিষয়টি সমাজে আরও সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নূরুল কবীর বলেন, অতীতে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো ‘দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা’র কথা বললেও বিরোধী দলে গেলে ভিন্ন অবস্থান নেয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

সম্পাদক পরিষদের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দীর্ঘ আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নূরুল কবীর বলেন, নতুন করে কমিশন বা আইন প্রণয়নের আশ্বাসের বদলে অতীতের বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে বসার আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রস্তুতি থাকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী ও সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম। সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন।

চট্টগ্রাম নগরে ‘গোপন’ বৈঠকের সময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ নেতা–কর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আজ রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নগরের হালিশহর নয়াবাজার বিশ্ব রোড এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের চতুর্থ তলা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাবিবুর রহমান রাতে বলেন, ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের কথা জানিয়েছেন আটক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা–কর্মীরা। ওই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম নিয়ে তাঁরা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি নগরে ছাত্রলীগের ব্যানারে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও কার্যক্রম বেড়ে যায়। গত ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালি থানার পলোগ্রাউন্ড, পাঁচলাইশ থানার ওআর নিজাম রোড এবং কর্ণফুলী মার্কেট এলাকায় তিনটি পৃথক মিছিল হয়। এর আগে অনন্যা আবাসিক ও আউটার রিং রোড এলাকায় নির্জন স্থানে মিছিলের ঘটনাও ঘটে। পরে এসব মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। তারই অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক হত্যা মামলায় দিনের পর দিন জামিন না দেওয়ার সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। নতুন বাংলাদেশ পেতে এবং অবিচার বন্ধ করতে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এখন এমন অবস্থা যে একজন বিচারপতি বা বিচারকের ১০ বার চিন্তা করতে হয় যে তিনি আসলে কাউকে জামিন দেবেন কি না।’

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশনের তৃতীয় পর্বের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেছেন সারা হোসেন। ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, সংস্কার ও গণভোটবিষয়ক জাতীয় কনভেনশন’ শীর্ষক কনভেনশনে তৃতীয় পর্বের বিষয় ছিল ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার: বর্তমান ঝুঁকি ও করণীয়’।

মানবাধিকার কি শুধু আমার মতাদর্শ, দল, গোষ্ঠী, লিঙ্গ ও ধর্মের যাঁরা তাঁদের জন্য নাকি সবার জন্য—কনভেনশনে উপস্থিত এনসিপির নেতা–কর্মীসহ দর্শকদের উদ্দেশে এই প্রশ্ন করেন সারা হোসেন। যাঁরা আমার মতাদর্শ ধারণ করেন না, তাঁদের মানবাধিকারকে আমরা শ্রদ্ধা করব কি না, সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানবাধিকার হচ্ছে সর্বজনীন, অবিচ্ছেদ্য, অবিভাজনীয়। মানবাধিকার শুধু বাক্‌স্বাধীনতা নয়, জীবনের অধিকার, গুম ও নির্যাতন থেকে মুক্ত হওয়ার অধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও স্বীকৃত। প্রতিটি অধিকার সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য হওয়ার কথা। সেখানে আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ কোনো ইস্যু হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখেছি?

সারা হোসেনের আগে সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। সেই বর্ণনার কথা তুলে ধরে সারা হোসেন বলেন, তখন আটক ব্যক্তিদের অনেক দিন পর আদালতের সামনে আনা হতো। শেষ পর্যন্ত তাঁরা জামিন পেতেন। তবে সেখান থেকে তাঁদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের যাত্রার শুরু হতো, তার শেষ ছিল না। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা কী পরিস্থিতি দেখছি? জামিনই তো শুরু হয় না, জামিনই তো পাওয়া যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে, যাঁরা আপনাদের থেকে ভিন্ন মতাদর্শের, তাঁদের তো জামিন হয় না। এর সঙ্গে কি আপনারা একমত হবেন?

‘চার্জশিট তো হয়ে যাবে, তদন্ত তো শেষ হয়ে যাবে, যখন তদন্ত শেষ হলে তো প্রমাণ পাওয়া যাবে, এ জন্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না’—জুলাই অভ্যুত্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় জামিন না দেওয়ার যুক্তি হিসেবে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এ কথা বলছেন বলে উল্লেখ করেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, এগুলো বাংলাদেশের জনগণের নামে করা হচ্ছে। কারণ, রাষ্ট্রপক্ষের উকিল আমাদের উচ্চতর আদালতে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলছেন। তাঁরা বলছেন, জুলাইয়ের শহীদদের হত্যার বিচারের জন্য তাঁরা এভাবে তদন্তপ্রক্রিয়া বা বিচার চালাবেন। এটা কি আমাদের মাথা উঁচু করে?

নতুন বাংলাদেশ পেতে এবং অবিচার যাতে না হয়, সে জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল বলে উল্লেখ করে সারা হোসেন বলেন, ‘এখন এমন অবস্থা যে একজন বিচারপতি বা বিচারকের ১০ বার চিন্তা করতে হয় যে তিনি আসলে কাউকে জামিন দেবেন কি না। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সাক্ষ্য–প্রমাণ আজ অবধি দেখানো যায়নি...। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার সঠিকভাবে হোক, সেটা আমরা চাই। কিন্তু দেখছি যে তদন্তকাজ শেষ হচ্ছে না, কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ সামনে আসছে না। এটা কি সেই জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রহসন নয়? তাঁদের কথা বলে অনেকজনকে আটকে রাখা হচ্ছে, অনেকটা মনে হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে।’

সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত কেউ নির্বাচন করতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘তাঁরা নিয়মিত আদালতে আসেন, প্র্যাকটিস করেন। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে হত্যা তো দূরের কথা, কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ নেই। তাঁদের সবচেয়ে বড় অন্যায় হতে পারে, সে সময় হয়তো কেউ আওয়ামী লীগের সমর্থক বা সদস্য ছিলেন। এখন তাঁরা তো আওয়ামী লীগ হয়ে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন না, দাঁড়াচ্ছেন আইনজীবী হিসেবে। তাঁরা দাঁড়াতে পারছেন না। তাঁদের বাক্‌স্বাধীনতা কি রুদ্ধ করা হচ্ছে না?’

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এই পর্বের আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের সঞ্চালনায় এই পর্বে অন্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, জাইমা ইসলাম, এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম এবং ফ্যাক্ট চেকার ও মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ আমান বক্তব্য দেন।

নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ন্যূনতম ১৭ আসনের সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস শিক্ষার্থী পরিবহন ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে আমদানিতে কিছু শর্তসাপেক্ষে মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ বহাল রেখে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে), আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। একই সঙ্গে ৫ টন বা তার বেশি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাকের ক্ষেত্রেও এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে অটো জেনারেটেড (স্বয়ংক্রিয়) নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধে হাজিরা না দিলে থাকছে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রমও।

রোববার (৩ মে ) ভারপ্রাপ্ত ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী,  ট্রাফিক বিভাগ এখন থেকে ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ করে 'ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন' সফটওয়্যারের মাধ্যমে মালিক বা চালকের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড (স্বয়ংক্রিয়) নোটিশ রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে পাঠানো শুরু করেছে। মূলত রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। নোটিশ প্রাপ্তির পর নির্দিষ্ট জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।

নোটিশ পাওয়ার পরেও যদি কোনো মালিক বা চালক সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মতো কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংগুলোতে উন্নত সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির সফটওয়্যার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং লেফট লেন ব্লক করার মতো অপরাধগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। 

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মামলার জরিমানা পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান বা নগদ আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। 

কোনো অসাধু চক্র এ ধরনের মামলার নাম করে অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।