স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সারাদেশ ও পুলিশবাহিনীর মধ্যে পুলিশের বিদ্যমান যে পোশাক আছে, এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না। পোশাকটা আসলে মানানসই হয়নি। সেজন্য তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টা বিবেচনা করেছি।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে সচিবালয়ে রোহিঙ্গাসহ সাম্প্রতিক ইস্যুতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করেছি, যা গ্রহণযোগ্য হবে। আগের মতোই ওপরের অংশে শার্ট থাকবে, যেটি আগে মেট্রোসহ সারাদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল, তা বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্যান্ট বা পাজামার ক্ষেত্রে খাকি রঙের পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত মতবিনিময়ের পর এটিকে একটি গ্রহণযোগ্য পোশাক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, ব্যবহারকারীকে না ধরে আগে যারা মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত এমনকি যারা বড় আকারে সীমান্ত দিয়ে হোক, ভেতর দিয়ে হোক, তাদেরকে আটক করার ব্যবস্থা করছি।

শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ই আগস্টের পরে অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং অনেক দাগি আসামি জেলখানা থেকে বেরিয়েছে, তখন লক্ষ্য করেছি। তারা জামিনে বেরিয়েছে, এটা আদালতের বিষয়। কীভাবে-কেন আদালত জামিন দিয়েছে, সেটা আদালতেরই বিবেচ্য বিষয়, আমাদের কোনো বিবেচ্য বিষয় না। শীর্ষ সন্ত্রাসী হোক আর যাই হোক পুলিশ তাদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে সফল অধিবেশন ছিল এই অধিবেশন দাবি করে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও গতিশীল। এ সংসদে সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়ন হয়েছে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে গঠনমূলক বিতর্ক হয়েছে। সরকারি ও বিরোধীদল মিলেও বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে এবং যৌথভাবে কাজ করেছে। গণতন্ত্রে মতভেদ থাকবেই, তবে সেই ভিন্নমতই সংসদীয় বিতর্কের অংশ বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জঙ্গি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার দেওয়া ভিন্ন বক্তব্যের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি যেটা বক্তব্য দিয়েছি ওটাই তো আপনারা ছাপিয়েছেন। এখানে আর বাকি তো বলার দরকার নেই। সেটা তিনি কীভাবে বলেছেন জানি না। হয়তো আপনাদের লেখার মধ্যেও মিসইন্টারপ্রেট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যেটা ডিসিপ্লিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কি বলেছে সেটাই তো শুনতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সোমবার (৪ মে) পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।

হাইকমিশনার আরও বলেন, উভয় দেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার, পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে ভারত সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

অপরদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রণয় ভার্মার অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান এবং তার নতুন দায়িত্বের জন্য শুভকামনা জানান।

এছাড়া সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করা হয় এবং নতুন সক্ষমতা ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দুবাই ও সৌদি আরবে ২০৮ জন প্রবাসীকে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে গ্রেফতার ও সাজা দিয়ে দেশে পাঠানোয় তাদের প্রত্যেককে ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না—এই বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
 
সোমবার (৪ মে) বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।
 
রিটকারী আইনজীবী বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা আরও কার্যকর করতে সরকার ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্বিচারিতা পরিহারেরও তাগিদও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদ ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন নূরুল কবীর। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিবছর ৩ মে পালিত হয় ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার।’

নূরুল কবীর বলেন, বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতান্ত্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—বিষয়টি সমাজে আরও সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নূরুল কবীর বলেন, অতীতে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো ‘দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা’র কথা বললেও বিরোধী দলে গেলে ভিন্ন অবস্থান নেয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

সম্পাদক পরিষদের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দীর্ঘ আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নূরুল কবীর বলেন, নতুন করে কমিশন বা আইন প্রণয়নের আশ্বাসের বদলে অতীতের বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে বসার আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রস্তুতি থাকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী ও সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম। সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন।

চট্টগ্রাম নগরে ‘গোপন’ বৈঠকের সময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ নেতা–কর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আজ রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নগরের হালিশহর নয়াবাজার বিশ্ব রোড এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের চতুর্থ তলা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাবিবুর রহমান রাতে বলেন, ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের কথা জানিয়েছেন আটক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা–কর্মীরা। ওই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম নিয়ে তাঁরা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি নগরে ছাত্রলীগের ব্যানারে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও কার্যক্রম বেড়ে যায়। গত ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালি থানার পলোগ্রাউন্ড, পাঁচলাইশ থানার ওআর নিজাম রোড এবং কর্ণফুলী মার্কেট এলাকায় তিনটি পৃথক মিছিল হয়। এর আগে অনন্যা আবাসিক ও আউটার রিং রোড এলাকায় নির্জন স্থানে মিছিলের ঘটনাও ঘটে। পরে এসব মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। তারই অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক হত্যা মামলায় দিনের পর দিন জামিন না দেওয়ার সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। নতুন বাংলাদেশ পেতে এবং অবিচার বন্ধ করতে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এখন এমন অবস্থা যে একজন বিচারপতি বা বিচারকের ১০ বার চিন্তা করতে হয় যে তিনি আসলে কাউকে জামিন দেবেন কি না।’

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশনের তৃতীয় পর্বের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেছেন সারা হোসেন। ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, সংস্কার ও গণভোটবিষয়ক জাতীয় কনভেনশন’ শীর্ষক কনভেনশনে তৃতীয় পর্বের বিষয় ছিল ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার: বর্তমান ঝুঁকি ও করণীয়’।

মানবাধিকার কি শুধু আমার মতাদর্শ, দল, গোষ্ঠী, লিঙ্গ ও ধর্মের যাঁরা তাঁদের জন্য নাকি সবার জন্য—কনভেনশনে উপস্থিত এনসিপির নেতা–কর্মীসহ দর্শকদের উদ্দেশে এই প্রশ্ন করেন সারা হোসেন। যাঁরা আমার মতাদর্শ ধারণ করেন না, তাঁদের মানবাধিকারকে আমরা শ্রদ্ধা করব কি না, সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানবাধিকার হচ্ছে সর্বজনীন, অবিচ্ছেদ্য, অবিভাজনীয়। মানবাধিকার শুধু বাক্‌স্বাধীনতা নয়, জীবনের অধিকার, গুম ও নির্যাতন থেকে মুক্ত হওয়ার অধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও স্বীকৃত। প্রতিটি অধিকার সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য হওয়ার কথা। সেখানে আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ কোনো ইস্যু হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখেছি?

সারা হোসেনের আগে সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। সেই বর্ণনার কথা তুলে ধরে সারা হোসেন বলেন, তখন আটক ব্যক্তিদের অনেক দিন পর আদালতের সামনে আনা হতো। শেষ পর্যন্ত তাঁরা জামিন পেতেন। তবে সেখান থেকে তাঁদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের যাত্রার শুরু হতো, তার শেষ ছিল না। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা কী পরিস্থিতি দেখছি? জামিনই তো শুরু হয় না, জামিনই তো পাওয়া যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে, যাঁরা আপনাদের থেকে ভিন্ন মতাদর্শের, তাঁদের তো জামিন হয় না। এর সঙ্গে কি আপনারা একমত হবেন?

‘চার্জশিট তো হয়ে যাবে, তদন্ত তো শেষ হয়ে যাবে, যখন তদন্ত শেষ হলে তো প্রমাণ পাওয়া যাবে, এ জন্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না’—জুলাই অভ্যুত্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় জামিন না দেওয়ার যুক্তি হিসেবে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এ কথা বলছেন বলে উল্লেখ করেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, এগুলো বাংলাদেশের জনগণের নামে করা হচ্ছে। কারণ, রাষ্ট্রপক্ষের উকিল আমাদের উচ্চতর আদালতে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলছেন। তাঁরা বলছেন, জুলাইয়ের শহীদদের হত্যার বিচারের জন্য তাঁরা এভাবে তদন্তপ্রক্রিয়া বা বিচার চালাবেন। এটা কি আমাদের মাথা উঁচু করে?

নতুন বাংলাদেশ পেতে এবং অবিচার যাতে না হয়, সে জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল বলে উল্লেখ করে সারা হোসেন বলেন, ‘এখন এমন অবস্থা যে একজন বিচারপতি বা বিচারকের ১০ বার চিন্তা করতে হয় যে তিনি আসলে কাউকে জামিন দেবেন কি না। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সাক্ষ্য–প্রমাণ আজ অবধি দেখানো যায়নি...। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার সঠিকভাবে হোক, সেটা আমরা চাই। কিন্তু দেখছি যে তদন্তকাজ শেষ হচ্ছে না, কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ সামনে আসছে না। এটা কি সেই জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রহসন নয়? তাঁদের কথা বলে অনেকজনকে আটকে রাখা হচ্ছে, অনেকটা মনে হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে।’

সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত কেউ নির্বাচন করতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘তাঁরা নিয়মিত আদালতে আসেন, প্র্যাকটিস করেন। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে হত্যা তো দূরের কথা, কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ নেই। তাঁদের সবচেয়ে বড় অন্যায় হতে পারে, সে সময় হয়তো কেউ আওয়ামী লীগের সমর্থক বা সদস্য ছিলেন। এখন তাঁরা তো আওয়ামী লীগ হয়ে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন না, দাঁড়াচ্ছেন আইনজীবী হিসেবে। তাঁরা দাঁড়াতে পারছেন না। তাঁদের বাক্‌স্বাধীনতা কি রুদ্ধ করা হচ্ছে না?’

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এই পর্বের আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের সঞ্চালনায় এই পর্বে অন্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, জাইমা ইসলাম, এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম এবং ফ্যাক্ট চেকার ও মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ আমান বক্তব্য দেন।

নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ন্যূনতম ১৭ আসনের সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস শিক্ষার্থী পরিবহন ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে আমদানিতে কিছু শর্তসাপেক্ষে মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ বহাল রেখে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে), আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। একই সঙ্গে ৫ টন বা তার বেশি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাকের ক্ষেত্রেও এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে অটো জেনারেটেড (স্বয়ংক্রিয়) নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধে হাজিরা না দিলে থাকছে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রমও।

রোববার (৩ মে ) ভারপ্রাপ্ত ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী,  ট্রাফিক বিভাগ এখন থেকে ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ করে 'ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন' সফটওয়্যারের মাধ্যমে মালিক বা চালকের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড (স্বয়ংক্রিয়) নোটিশ রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে পাঠানো শুরু করেছে। মূলত রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। নোটিশ প্রাপ্তির পর নির্দিষ্ট জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।

নোটিশ পাওয়ার পরেও যদি কোনো মালিক বা চালক সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মতো কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংগুলোতে উন্নত সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির সফটওয়্যার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং লেফট লেন ব্লক করার মতো অপরাধগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। 

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মামলার জরিমানা পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান বা নগদ আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। 

কোনো অসাধু চক্র এ ধরনের মামলার নাম করে অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

 

ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত ৪৯ জন সদস্য শপথ নিয়েছেন। আজ রোববার রাত নয়টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাঁদের শপথ পড়ান।

সংসদ সচিবালয় জানায়, বিএনপি জোট থেকে ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামীর জোট থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে ১ জন শপথ নেন। শপথ গ্রহণ শেষে নববির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের রুমে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে, ছবি: সংসদ সচিবালয়ের সৌজন্যে
 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীসহ অন্যান্য দলের নেতারা। আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীসহ অন্যান্য দলের নেতারা। আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষেছবি: সংসদ সচিবালয়ের সৌজন্যে

প্রসঙ্গত, সংরক্ষিত নারী আসন মোট ৫০টি। এর মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি নারী আসন পেয়েছে। কিন্তু তাদের একজন এখনো নির্বাচিত হননি। তাদের প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাছাইয়ে বাতিল হয়। আর নির্ধারিত সময়ের পরে যাওয়ায় তাদের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে আদালতের নির্দেশে তার মনোনযনপত্র গ্রহণ করা হয় এবং বাছাইয়ে বৈধ হয়। তবে তাঁকে এখনো নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়নি।

অন্যদিকে মনিরা শারমিন ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করেছেন। সেটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া সবাই শিশু বলে জানা গেছে।

রোববার (৩ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর বাকি নয়জনের মৃত্যু হয়েছে হামজনিত উপসর্গে।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৪ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী: এক হাজার ১৬৬ জন; নিশ্চিত হাম রোগী: ৯৫ জন। মোট সন্দেহজনক রোগী: চল্লিশ হাজার ৪৯১ জন; মোট নিশ্চিত রোগী: পাঁচ হাজার ৩১৩ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়প্রাপ্ত পাওয়া রোগী: সাতাশ হাজার ৮১৬ জন।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকা বিভাগে তুলনামূলকভাবে বেশি মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হাম সংক্রমণ এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি থাকায় দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

গণমাধ্যমকে শক্তভাবে সরকারের বিরুদ্ধে যৌক্তিক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকে খুব স্ট্রংলি সরকারের যেকোনো ধরনের সমালোচনা, যৌক্তিক সমালোচনা কন্টিনিউ করবেন।…এই দেশে একটা দুর্দান্ত ভাইব্রান্ট মিডিয়া আবার তৈরি হবে, এটা আমি দেখতে চাই।’

তথ্য উপদেষ্টা মনে করেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের গণমাধ্যমের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো বোকামি। এ কারণে বর্তমান সরকার এমন কিছু করতে চায় না, যা গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করবে।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় জাহেদ উর রহমান এ কথা জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি নাকি বলেছি, জনগণের কল্যাণের জন্যই বেশি বেশি লোডশেডিং দিচ্ছে সরকার। একটা ফটোকার্ড আমার বন্ধুরা পাঠিয়ে বলছে, আমার মাথা কি গেল?’ এই ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার সময় তাঁকে ট্যাগ করে গালিও দেওয়া হয় বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে এ ধরনের ‘মিস ইনফরমেশন’ বা ‘ডিজইনফরমেশন’–সংবলিত ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক।

এর পাশাপাশি একটি মূলধারার গণমাধ্যম তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ‘ফেক নিউজ’ তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ফেক নিউজ’ করা অন্যায়। এর বিরুদ্ধে সরকার আইনি পথে ও ন্যায্যতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে এবং গণমাধ্যমকেও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য যেসব পদক্ষেপ আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

আলোচনায় ৫ আগস্টের পর আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানান গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, নোয়াবের (নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এই বিষয় উঠে আসে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছেন।

সাইবার বুলিং

নারীর প্রতি সাইবার সহিংসতা পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে এই সেল কাজ করবে বলে জানান তিনি।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘নারীদের প্রতি সাইবারের ক্ষেত্রে আমরা জেনুইন গ্রাউন্ডে খুবই টাফ হতে যাচ্ছি।’ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, বিটিভির বার্ষিক বাজেট ৩২০ কোটি টাকার বেশি, অথচ প্রতিষ্ঠানটি আয় করে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা। বেসরকারি গণমাধ্যমের বিকাশের এই সময়ে বিটিভি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকার বিটিভিকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যেন তা জনগণের কল্যাণে আসে।