রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধপরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়ে তথ্য জানান।

কৃষি, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে নেবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি নিয়ে কাজ করছে। দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

নারীর উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা সরকার করেছে বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক পড়াশোনা ও ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি সরকার নিয়েছে বলেন রাষ্ট্রপতি। প্রতিবছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক, আইনশৃঙ্খলা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

ভাষণ শেষে তিনি সংসদ অধিবেশন ছেড়ে যান। ১৫ মার্চ পর্যন্ত সংসদ মুলতবি করা হয়।

এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। এ সময় বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’–সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি এর মধ্যে দিয়েই সংসদের অধিবেশনে ঢোকেন। তিনি স্পিকারের পাশে বসেন। সংসদে হইচই করতে থাকেন বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। এর মধ্যেই বক্তব্য শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বহুকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় এই অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে অধিবেশনে স্পিকার হিসেবে নিবাচিত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এর আগে, শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাবের সমর্থন করে বিরোধী দল। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা হয়। পরে দুজনকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো সাহাবুদ্দিন।

বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অধিবেশনের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে বাংলাদেশে আবারও গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হলো। সরকার এই সংসদকে তর্ক-বিতর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বনির্ভর করতে বিএনপি কাজ করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, নামাজের বিরতির পরে বেলা দেড়টার একটু পরেই আবারও সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। আর এই সংসদ গণতন্ত্রের প্রতীক।

অন্যদিকে, শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত দেড় দশকে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না। দেশ ও জনণের স্বার্থে সংসদকে অর্থবহ করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্য দিচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা

আর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই সংসদ ২০২৪ সালের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে থাকা সংসদ। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন। বেশিরভাগসময় ফ্যাসিজমের কবলে পড়ে সংসদ ডামি সংসদে পরিণত হয়েছে। তবে এবার স্পিকারের কাছে ,সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু হবেনা বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, এই সংসদ যেন কারও চরিত্রহননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়।

সংসদের গ্যালারিতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা

এদিন, সংসদের গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা  ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়াও সেনাপ্রধান ওয়াকার–উজ–জামান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবায়দা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানকেও।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মির্জা আব্বাসের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার ইফতারের সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস তাঁর স্বামীর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দর্শক গ্যালারিতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশন চলাকালে দর্শক সারিতে সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবায়দা রহমান এবং তাদের কন্যা জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া দর্শক গ্যালারিতে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও দেখা যায়।

অধিবেশন শুরুর পর খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। এতে সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই সংসদ ভবনে তাদের প্রবেশ করতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরে ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই অনুযায়ী ফল ঘোষণার এক মাসের মাথায় আজ বসেছে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য এই একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সংসদ সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এই প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হয়। এতে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হয়।

অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল। ডেপুটি স্পিকার পদে একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সংসদ সভাপতি।

এই প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হলে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হয়।

এর আগে, অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সভাপতি ঘোষণা করেন।

সভাপতির নাম ঘোষণার পর বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিরোধীদলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। এ অধিবেশনের শুরুতেই উত্তাপ তৈরি হতে পারে, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান–পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রশ্নে বিতর্ক ও উত্তাপ ক্রমে বাড়তে পারে।

আজ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হবে অধিবেশন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। সংসদে তাঁর বক্তব্য দেওয়া নিয়ে আপত্তি আছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির। এ বিষয় নিয়ে প্রথম বৈঠকেই উত্তাপ তৈরি হতে পারে—এমন আভাস দিয়েছেন দল দুটির একাধিক সূত্র।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে জামায়াত কী ভূমিকা নেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অনেক আলাপ-আলোচনা করেছি এ ব্যাপারে। কালকে আমাদের ভূমিকা দৃশ্যমান আপনারা দেখবেন। যেমন সূর্য উঠবে, তেমন ভাষণ শুনবেন এবং আমাদের ভূমিকাও দেখবেন।’

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান–পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রশ্নে বিতর্ক ও উত্তাপ ক্রমে বাড়তে পারে।

এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত আছে। তারা নিজেদের ভিন্নমত অনুসারে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চায়। এ বিষয়টি নিয়েও বিরোধী দল সংসদে কঠোর অবস্থান নেবে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। কার্যকর বিতর্ক, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

কারণ দশম, একাদশ ও দ্বাদশ (মেয়াদ ছিল ৬ মাস ৮ দিন)—সর্বশেষ এই তিনটি সংসদই গঠিত হয়েছিল বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। তিনটি সংসদই ছিল একতরফা। তখনকার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিরোধী দল ছিল জাতীয় পার্টি। তারা রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। তিনটি সংসদেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। কার্যকর বিতর্ক, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। এর দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন নতুন সংসদ সদস্যরা।

সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে হয়। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক মাসের মাথায় আজ বসছে প্রথম অধিবেশন।

গতকাল জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে।

চিফ হুইপ বলেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত, দায়িত্বশীল সংসদ পরিচালনা করা; সংসদকে দেশের সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু করা। তাঁরা সংসদে বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

সংস্কারের কী হবে

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। এর মধ্যে সংবিধান–সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে হয়েছিল গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা।

জামায়াত ও এনসিপি থেকে নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি এ শপথ নেয়নি। ফলে এই পরিষদ গঠিত হয়নি। এতে শুরুতেই হোঁচট খায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নেওয়া সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ।

প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানো, কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, নিম্নকক্ষের ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের গঠন, সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা; ন্যায়পাল, সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিধান সংবিধানে যুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে। এগুলো নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত আছে।

অবশ্য বিএনপি বলছে, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দ ও অক্ষর বিএনপি ধারণ করে এবং তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই প্রতিশ্রুতির বাইরেও বিএনপি যে ইশতেহার দিয়ে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করেছে, সেগুলোও বাস্তবায়ন করবে।

প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানো, কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, নিম্নকক্ষের ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের গঠন, সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা; ন্যায়পাল, সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিধান সংবিধানে যুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে। এগুলো নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত আছে।

সংসদে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি তাদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করতে পারবে। এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংসদে ও সংসদের বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দেশের ৬৯ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন উল্লেখ করে গতকাল বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে এলডি হলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটাকে অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এর পক্ষে ভূমিকা রেখে যাব এবং আমরা চাইব যে চারটি বিষয় গণভোটে দেওয়া হয়েছিল, তার সব কটি হুবহু গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হোক।’

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংসদ সদস্য—দুটি শপথই নিয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত সরকারি দল প্রথম শপথটি নেয়নি।’

অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলা হয়েছিল, সেটার ভবিষ্যৎ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা সেই শপথ নেননি। ভবিষ্যতে এটি সংবিধানে যুক্ত হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবিধান সংস্কারের পাশাপাশি কিছু আইনি সংস্কার প্রশ্নেও সংসদে উত্তাপ তৈরি হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু বিষয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে।

গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অধিকাংশই তাঁরা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে বেশ কিছু অধ্যাদেশ রয়েছে, যেগুলো আলোচনার দাবি রাখে। সরকার ও বিরোধী দল মিলে সেগুলো আলোচনা করা হবে।

প্রসঙ্গ ডেপুটি স্পিকার

জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদ হবে দ্বিকক্ষের। উচ্চকক্ষ গঠিত হবে নিম্নকক্ষের ভোটের অনুপাতে। উভয় কক্ষে একজন করে ডেপুটি স্পিকার মনোনীত হবে বিরোধী দল থেকে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি একমত হলেও উচ্চকক্ষের গঠন পদ্ধতি নিয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। অবশ্য দলটি এবারের সংসদে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ডেপুটি স্পিকার পদটি নেবে কি না, তা গতকাল পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি।

গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে বিরোধী দলের বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুলাই সনদেই আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাইছি না, আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিস মিল; পুরোটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক এবং এর ভিত্তিতে আমরা যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।’

শুরু হবে ব্যতিক্রমী

সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয় তাঁর সভাপতিত্বে। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে।

গতকাল দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলন করে প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যেহেতু বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নেই, তাই তাঁরা স্পিকারের আসনটি খালি রেখে অধিবেশন শুরু করবেন। প্রথমে একজন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করবেন। এরপর সংসদ নেতা এই সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন। কোনো একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন। এরপর ওই সদস্য (যাঁর নাম প্রস্তাব করা হবে) সভাপতিত্ব করবেন।

এরপর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। শোক প্রস্তাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং জুলাই যোদ্ধাদের সম্পর্কে আলোচনা হবে।

জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলন করে প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যেহেতু বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নেই, তাই তাঁরা স্পিকারের আসনটি খালি রেখে অধিবেশন শুরু করবেন।

চিফ হুইপ জানান, শোক প্রস্তাব গ্রহণ শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে তুলবেন আইনমন্ত্রী। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে প্রথম বৈঠকে একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হবে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি নির্ধারণ করবে কোন কোন অধ্যাদেশ বহাল থাকবে, আর কোনগুলো বাদ যাবে।

চিফ হুইপ জানান, রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠক।

সংসদে ৯ দলের প্রতিনিধিত্ব

জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট আসন ৩৫০টি। সংরক্ষিত নারী আসনে এখনো নির্বাচন হয়নি। ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি আসনে ভোট হয়। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় দুটি আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২০৯ আসন) নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ছিল বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এর মধ্যে ৬৮টি আসন পেয়েছে বিএনপির একসময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী এবং ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে এনসিপি। অন্যদিকে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। ফলে এই সংসদে দলটির কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকছে না।

এবারের সংসদ নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ মোট নয়টি দলের প্রতিনিধিত্ব থাকছে সংসদে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচিত একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আছেন সাতজন।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামীকালের (আজ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে একটা নতুন ইতিহাস রচিত হবে। দেশের মানুষ যে নতুন গণতন্ত্রের আশা করে আছে, আগামীকালের সংসদে সেই গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।

গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ থেকে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন রবিউল ইসলাম (২৫), জাকির হোসেন (৩২) ও মো. ইয়াসিন (৩৭)। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় আল হেরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার আ. সাহিদ সুপার ভিউ নামের একটি বাণিজ্যিক ভবনের সামনের বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমার হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। ওই ভবনে ব্যাংকসহ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ফুলকি চারদিকে ছিটকে পড়ে এবং ভবনের একাংশে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আগুনের শিখা দেখে আতঙ্কিত মানুষ হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আরও কয়েকজন সামান্য আহত হন। এ ঘটনার জেরে মাওনা-শ্রীপুর সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ওয়াসিম বলেন, আগুন বড় আকার ধারণ করতে পারত। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর পেছনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষণিক সচেতনতা ও সাহসী ভূমিকা কাজে লেগেছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের বিপণিবিতানগুলোর ব্যবসায়ীরা তাঁদের দোকানে থাকা নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই তাঁরা সম্মিলিতভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সক্ষম হন। দ্রুত সময়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।

স্থানীয় ইমরান হাসান বলেন, আগুন লাগার পর সেখানে প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায়। উৎসুক জনতার কারণে প্রথমে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিয়ে গাড়ি আসার ব্যবস্থা করে দেন। এতে দ্রুত নির্বাপণকাজ শুরু করা গেছে।

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা নূরুল করিম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন, তা শেষ সময় পর্যন্ত গোপন রেখেছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংসদের অধিবেশন বসছে। শেষ মুহূর্তে এসে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

স্পিকার পদে আবদুল মঈন খান ও হাফিজউদ্দিন আহমদের নাম নিয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে। দুজনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী। এর মধ্যে সাতবারের সংসদ সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমদ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঈন খান এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো দায়িত্ব পাননি। এর বাইরে গতকাল হঠাৎ সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও নানাভাবে আলোচনায় আসে।

ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। সেটা বিরোধী দল নেবে কি না, তা গতকাল পর্যন্ত স্পষ্ট করেনি তারা। ফলে ডেপুটি স্পিকারের বিষয়েও বিএনপি প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। বিরোধী দল ডেপুটি স্পিকার পদ না নিলে এই পদে কে আসছেন, তা নিয়ে কয়েকটি নাম আলোচনায় আছে।

স্পিকার পদে আবদুল মঈন খান ও হাফিজউদ্দিন আহমদের নাম নিয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে। দুজনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী। এর মধ্যে সাতবারের সংসদ সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমদ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঈন খান এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো দায়িত্ব পাননি। এর বাইরে গতকাল হঠাৎ সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও নানাভাবে আলোচনায় আসে।

যদিও গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সভা শেষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলনে সংসদের নতুন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম (মনি) এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা সংসদ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছি। সিদ্ধান্ত তিনি দেবেন। আগামীকাল আমরা জানতে পারব।’

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে কিছুদিন ধরে বেশ কয়েকজনের জনের নাম আলোচনায় এসেছে। এর আগে সংসদের চিফ হুইপসহ হুইপ নিয়োগের ক্ষেত্রেও বেশ গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়।

ডেপুটি স্পিকারের বিষয়েও বিএনপি প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। বিরোধী দল ডেপুটি স্পিকার পদ না নিলে এই পদে কে আসছেন, তা নিয়ে কয়েকটি নাম আলোচনায় আছে।

সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটিও প্রকাশ করেনি বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এতে সভাপতিত্ব করতে পারেন—এমন আলোচনা রয়েছে।

অবশ্য গতকাল চিফ হুইপ বলেছেন, আজ বৃহস্পতিবার স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত শেষে সংসদ নেতা অধিবেশনের এই সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন। কোনো একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন। তারপর ওই সদস্য (যাঁর নাম প্রস্তাব করা হবে) সভাপতিত্ব করবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদারতা দেখিয়ে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাঁরা কোনো ‘পজিটিভ রেসপন্স’ পাননি। পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের একজন উপদেষ্টার একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, দলের দায়িত্বশীল নেতারা এমন কথা বলেন, যাতে দল বিব্রত হয়। ক্ষমতায় কে কত দিন থাকবে, তা জনগণ নির্ধারণ করবে। মানুষ এ ধরনের কথা পছন্দ করে না, গ্রহণ করে না।

মন্ত্রী-এমপিদের সংযত থাকার পরামর্শ

গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় দলের চেয়ারম্যান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের (এমপি) কথাবার্তায় সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের একজন উপদেষ্টার একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, দলের দায়িত্বশীল নেতারা এমন কথা বলেন, যাতে দল বিব্রত হয়। ক্ষমতায় কে কত দিন থাকবে, তা জনগণ নির্ধারণ করবে। মানুষ এ ধরনের কথা পছন্দ করে না, গ্রহণ করে না।

প্রসঙ্গত, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক গত সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্তব্য করেন, শুধু ২০৩১ সাল নয়; ২০৪২ সালেও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী এবং দলের সংসদ সদস্যদের চলনে-বলনে মার্জিত ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে যাঁর যে দায়িত্ব, তার বাইরে যেন কেউ মন্তব্য না করেন—এ বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির নেওয়া জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সামনের দিনগুলোতে করণীয় বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে। ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।

এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়

সভায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছে। কিন্তু ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে। ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) রয়েছে। সরকার যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে, সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে।

সভায় মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিস করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন। বিশেষ করে তরুণদের সকাল নয়টার মধ্যে অফিসে যেতে হবে। অফিসে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলারও পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ট্রাফিক আইন মেনে চলেন বলে সভায় উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সংসদ অধিবেশন শুরুর পর দুই দিন (শুক্র ও শনিবার) বিরতি হবে। এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে। ওই দিন মুলতবি হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হবে।

এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।

গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। সভা শেষ হয় বেলা ১টায়। সভায় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এক পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অন্য পাশে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সংসদ অধিবেশন শুরুর পর দুই দিন (শুক্র ও শনিবার) বিরতি হবে। এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে। ওই দিন মুলতবি হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হবে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া পর্যন্ত শোভাযাত্রা আয়োজনের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার ভোরে ঢাকার জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানার পুলিশ। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের হয়ে কাজ করছিলেন অধ্যাপক জামাল উদ্দীন। আজ ভোরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগের পক্ষে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন একটি শোভাযাত্রা আয়োজনের চেষ্টা করছিলেন। তিনি শোভাযাত্রার নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা-২০২৬’। তিনি ১১ থেকে ১৬ মার্চ এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অনুমতির আবেদনও করেন। পাশাপাশি লিফলেট তৈরি করে প্রচার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের হয়ে প্রচার চালানো, শোভাযাত্রা আয়োজন প্রচলিত আইনে ফৌজদারি অপরাধ। সে জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অধ্যাপক জামাল উদ্দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের নীল দলের নেতা হিসেবে পরিচিত। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন।

বর্তমানে দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারাগারে ধুঁকছে উল্লেখ করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন, দেশের বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা, যাদের আইনের শাসন রক্ষার বিষয়ে আরও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া উচিত ছিল।

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে এ কথা বলেছেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সংলাপ হয়। সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম নামের একটি সংগঠন।

দুর্ভাগ্যবশত, ইতিহাস সাক্ষী যে পূর্ববর্তী সরকারগুলো বিরোধীদের অধিকার লঙ্ঘন করে এসেছে। আবার যখন সেই বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে, তখন তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের বিরোধীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনেই সময় ব্যয় করে।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান, চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)

সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে এই অবস্থার উত্তরণ প্রত্যাশা করেন রেহমান সোবহান। যেসব ব্যক্তি বেআইনিভাবে কারা হেফাজতে আছেন, তাঁদের সবার মানবাধিকার পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসনের কার্যকারিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য ‘লিটমাস টেস্ট’ হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

[caption id="attachment_269313" align="alignnone" width="853"] ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে[/caption]

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, দুর্ভাগ্যবশত ইতিহাস সাক্ষী যে পূর্ববর্তী সরকারগুলো বিরোধীদের অধিকার লঙ্ঘন করে এসেছে। আবার যখন সেই বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে, তখন তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের বিরোধীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনেই সময় ব্যয় করে।

সংসদ সদস্যদের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ কী হবে, সেই প্রশ্ন তুলে রেহমান সোবহান বলেন, ‘যাঁরা নিজেদের মানবাধিকারের প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরছেন, তাঁরা কত দূর নিশ্চিত করবেন যে দেশে আইনের শাসন বজায় থাকবে? আমাদের সত্যিই একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে এবং এটি মানবাধিকার রক্ষার পরিবর্তে লঙ্ঘনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না?’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস হবে, এমন আশাবাদ জানিয়ে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘কমিশন কতটা কার্যকরভাবে কাজ করবে, তা একান্তই নির্ভর করবে পূর্ববর্তী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মতো সালাহউদ্দিন আহমদও এটিকে উপেক্ষা করেন কি না তার ওপর।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। সংসদ অধিবেশনেই সরকার রাষ্ট্রপতিকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্ববায়ক নাহিদ ইসলাম। পাশাপাশি বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

বুধবার ( ১১ মার্চ) রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে দলের বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আগামীকাল ১২ই মার্চ দেশের মানুষ ও পুরো বিশ্ববাসী অপেক্ষা করে আছে নতুন সংসদ অধিবেশনের জন্য। হাজারো মানুষের রক্তের উপর দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন, গণভোট এবং এই নতুন সরকার এবং নতুন সংসদ গঠিত হয়েছে। ফলে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে শুধু প্রত্যাশা নয়, আমাদের দাবি এবং আমরা অবশ্যই সেটা আদায় করে ছাড়বো। সেটা হচ্ছে সংস্কারের দাবি, সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি, উচ্চ পক্ষের দাবি এবং নতুন বাংলাদেশের দাবি। ’

তিনি বলেন, ‘ আগামী দিন থেকে শুরু হবে সেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের যাত্রা। আমরা আশা করছি সরকার দল শপথ নিতে সম্মত হবে এবং যে পুরনো রাষ্ট্রপতি, সেই রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন শুরু করা হবে, উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ যদি এর কোন ব্যত্যয় ঘটে, আপনারা সবই দেখছেন, সবই বুঝেন, সবই জানেন। কারা এর জন্য দায়ী। কারা বাধা তৈরি করবে। আপনারা সেগুলো দেখবেন। আপনাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা যার যার জায়গা থেকে সোচ্চার হবেন। এটা কোন দল বা মতের বিষয় নয়। সংস্কার সকলের জন্যই প্রযোজ্য। ’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘ আপনারা গণভোটে সবাই 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন না? আমরা এবারের গণভোটে কিসের পক্ষে ভোট দিয়েছি? আমরা হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছি দল মত নির্বিশেষে। ফলে সেই হ্যাঁকে কার্যকর করা এই সংসদের অন্যতম দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা যাচ্ছি। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য, ঋণখেলাপিমুক্ত করার জন্য, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসকে মুক্ত করার জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি।’

ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম  আহ্বায়ক ড. আাতিক মুজাহিদ এমপি, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম,  মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) আসাদুল্লাহ আল গালিব ও জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি-জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা।

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেল আমদানি ব্যাহত হতে পারে। তাই চাহিদামতো আমদানি নিশ্চিত করতে চুক্তির বাইরে নতুন উৎস খুঁজছে সরকার। ভারত থেকেও বাড়তি জ্বালানি আমদানি করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। ভারত সরকারকে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ডিজেল সরবরাহ বাড়তে পারে।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ভারত থেকে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এখন আপত্কালীন পরিস্থিতিতে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে বলা হয়েছে। কতটুকু বাড়াতে পারে, তারা (ভারত) সিদ্ধান্ত দেবে। তারা দিলে বোঝা যাবে, কতটুকু বেড়েছে।

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। বাংলাদেশ ভারত থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ আমদানি করে। একই সঙ্গে পাইপলাইনে ও সমুদ্রপথে জাহাজে করে জ্বালানি তেল আমদানি করে। এ ছাড়া ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় দেশে। দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয় মন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে।

সৌজন্য সাক্ষাতের পর ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের চিঠি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তার সম্পর্ক আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আনতে দেশটির নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর চুক্তি করে বিপিসি। ২০২৩ সালের মার্চে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। চুক্তি অনুসারে এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল আসার কথা। এর বাইরে আরও অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন দেওয়ার কথা, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। প্রতিবার ৫ হাজার টন করে ডিজেল পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়। এ বছর গতকাল পর্যন্ত দুই ধাপে ১০ হাজার টন এসেছে।

এর বাইরে ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা ইন্ডিয়ার অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (আইওসিএল) ২০২০ সালে বিপিসির কাছে তেল সরবরাহ শুরু করে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ১ লাখ ৫ হাজার টন তেল আসার কথা। এর মধ্যে ডিজেল ২০ হাজার টন, ফার্নেস ৫০ হাজার টন, অকটেন ২৫ হাজার টন ও জেট ফুয়েল ১০ হাজার টন। সমুদ্রপথে এ জ্বালানি তেল সরবরাহ করে আইওসিএল।

বৈশ্বিক জ্বালানি–সংকটের কারণে ৮ মার্চ জ্বালানি বিভাগের কাছে ভারত থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠায় বিপিসি। এতে বলা হয়, মার্চে ৪ ধাপে ২০ হাজার এবং এপ্রিলে ৫ ধাপে ২৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব করা যেতে পারে। পরবর্তী মাসগুলোতেও একই হারে আনা যায়। এ ছাড়া দূরত্ব বিবেচনায় ভারত থেকে সমুদ্রপথে ৩০ হাজার টন করে চারটি জাহাজে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ করা যেতে পারে।