ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারকারী সন্দেহে নৌযানে মার্কিন হামলায় নিহত ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পাঁচ মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে এই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত হয়। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছেন।

হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪ জন ভুক্তভোগীর কারও পরিচয় আদৌ শনাক্ত করেছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের পরিবারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর মাত্র তিনজনের নাম সামনে এসেছিল।

গত বছর ভেনেজুয়েলার কাছে সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর সময় থেকে এসব হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এই হামলাগুলোকে যৌক্তিক প্রমাণের চেষ্টা করে আসছে। তাদের দাবি, যাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারকারী ‘মাদক-সন্ত্রাসী’।

তবে ‘লাতিন আমেরিকান সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম’ বা ক্লিপের নেতৃত্বে ২০ জন সাংবাদিকের একটি যৌথ প্রচেষ্টায় চলতি সপ্তাহে নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মাদক পাচারে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ক্লিপের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের সবাই—এমনকি যাঁরা মাদক পাচারে কিছুটা জড়িত থাকতে পারেন—লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের চরম দারিদ্র্যপীড়িত সম্প্রদায়ের মানুষ।

ক্লিপের পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা মারিয়া তেরেসা রন্দেরোস বলেন, মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব হামলা হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি সত্ত্বেও বাস্তবে যা ঘটছে, তা হলো চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে বাস করা এবং পরিবারকে সহায়তার জন্য যেকোনো কাজ করতে বাধ্য হওয়া যুবকেরা লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।

মারিয়া আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পাবলো এসকোবার বা হোয়াকিন ‘এল চাপ’ গুজমানকে (মাদক সম্রাট) খতম করছে না।

এই অনুসন্ধান অন্যান্য প্রতিবেদন এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের এই সিদ্ধান্তকেও জোরালো করেছে যে এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ কমাতে পারেনি; বরং সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় অবহেলার কারণে আগে থেকেই ভেঙে পড়া ও দুর্বল হয়ে পড়া সম্প্রদায়গুলোকে আরও ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

মারিয়া বলেন, এমন কিছু সম্প্রদায় রয়েছে, যেখানে মানুষ বোমা হামলার আতঙ্কে বেশ কয়েক সপ্তাহ মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিল। আর মাছ ধরা বন্ধ রাখলে সেখানকার মানুষকে অনাহারে থাকতে হয়।

ওই পুরুষেরা বৈধ নাকি অবৈধ কাজ করছিলেন সেটি বড় নয়, বড় বিষয় হলো চরম দরিদ্র এই পরিবারগুলোর শিশুরা এমন একজন মানুষকে হারিয়েছে, যিনি ঘরে খাবার নিয়ে আসতেন
মারিয়া তেরেসা রন্দেরোস, পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা, লাতিন আমেরিকান সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম

ক্লিপের পরিচালক বলেন, অনুসন্ধানের মূল প্রাপ্তিটি হলো ভুক্তভোগীদের বড় অংশের নাম ও পরিচয় সামনে নিয়ে আসা, যাতে দেখানো যায় যে তাঁরাও রক্তমাংসের মানুষ ছিলেন। যদিও তাঁদের ব্যাপক একটি অংশ এখনো অজ্ঞাতনামা রয়ে গেছেন।

যুক্তরাজ্যের বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘এয়ারওয়ারস’ এবং কলম্বিয়ার ‘এল ভেইন্তে’র সহায়তায় কলম্বিয়ার (কাসামাকোন্দো, ভেরদাদ আবিয়ের্তা ও ৩৬০-গ্রাদোস ডট কো), ভেনেজুয়েলার (আলিয়ানজা রেবেলদে ইনভেস্তিগা) এবং ‘ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো গার্ডিয়ান’-এর সাংবাদিক, গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মী গোষ্ঠীগুলো যৌথভাবে এই অনুসন্ধান চালিয়েছে।

মারিয়া জানান, স্বজন, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভয়ের মধ্যে থাকায় অনুসন্ধানটি করা ছিল ‘খুবই কঠিন’। তিনি আরও বলেন, ‘দাপ্তরিক সরকারি সূত্রগুলো, সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়—কেউই কথা বলতে চায়নি। কারণ, সবাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া এবং প্রতিশোধের শিকার হওয়ার ভয়ে আছে।

এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ১৬ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে আটজন ভেনেজুয়েলার নাগরিক। তাঁরা হলেন হুয়ান কার্লোস ফুয়েন্তেস (৪৩), লুইস রামন আমুন্দারাইন (৩৬), এদুয়ার্দ হিদালগো (৪৬), দুশাক মিলোভচিচ (২৪) এবং রবার্ট সানচেজ, জেসুস কারেনিও, এদুয়ার্দো জাইমে ও লুইস আলি মার্তিনেজ (এই চারজনের বয়স জানা যায়নি)। তিনজন কলম্বিয়ার নাগরিক—আলেহান্দ্রো আন্দ্রেস কারানজা মেদিনা (৪২) এবং রোনাল্ড আররেগোসেস ও আদ্রিয়ান লুবো (এ দুজনের বয়স জানা যায়নি)। ইকুয়েডরের দুই নাগরিক হলেন পেদ্রো রামন হোলগুইন (৪০) ও কার্লোস ম্যানুয়েল রদ্রিগেজ সলোরজানো (৩৪)। ত্রিনিদাদের দুই নাগরিক হলেন চ্যাড জোসেফ (২৬) ও ঋষি সামারু (বয়স জানা যায়নি)। আরেকজন হলেন সেন্ট লুসিয়ার রিকি জোসেফ (বয়স জানা যায়নি)।

আমুন্দারাইন এবং ফুয়েন্তেস ভেনেজুয়েলার গুইরিয়া অঞ্চলের গাড়িচালক ছিলেন। গাড়ি ধোয়ার কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে তাঁরা পারিয়া উপসাগর পার হয়ে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে যান। কয়েক দিন পর তাঁদের আরও দুজনের সঙ্গে একটি ছোট নৌকায় ভ্রমণের কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ৩ অক্টোবর নৌকাটিতে বোমাবর্ষণ করা হয়।

কয়েকটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ছিলেন মৎস্যজীবী। তাঁদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি। যেমন কলম্বিয়ার একজন ও ত্রিনিদাদের সেই দুই নাগরিক, যাঁদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এমনকি যাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরাও মূলত চরম দারিদ্র্যের হাত থেকে বাঁচতে জীবনধারণের উপায় হিসেবে মাদক পরিবহনের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
 

এ দুজনের বিধবা স্ত্রীরা ক্লিপকে বলেছেন, তাঁদের স্বামীদের কেউই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে ক্লিপের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সব লক্ষণ ইঙ্গিত করে যে তাঁরা একটি ‘রান’ করতে যাচ্ছিলেন। ‘রান’ শব্দটি অবৈধ মালামাল পরিবহন বোঝাতে স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।

এরপরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে, সেটি হলো নৌযানটি ত্রিনিদাদ ও টোবাগো থেকে ভেনেজুয়েলার দিকে যাচ্ছিল। মারিয়া বলেন, ‘সাধারণত নৌযানগুলো দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর দিকে মাদক নিয়ে যায়, এর উল্টোটা নয়।’

কয়েকটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ছিলেন মৎস্যজীবী। তাঁদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেমন কলম্বিয়ার একজন ও ত্রিনিদাদের সেই দুই নাগরিক, যাঁদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এমনকি যাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরাও মূলত চরম দারিদ্র্যের হাত থেকে বাঁচতে জীবনধারণের উপায় হিসেবে মাদক পরিবহনের পথ বেছে নিয়েছিলেন।

বিমান হামলা শুরুর পর গত আট মাসে নিহত ১৯৪ জনের কেউ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডের একজন মুখপাত্র বলেন, সব হামলাই ছিল ‘পরিকল্পিত, আইনসম্মত ও নির্ভুল’, যা ‘মাদক-সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের’ লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযান এবং তথ্য সরবরাহকারী গোয়েন্দাদের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

মারিয়া বলেন, নিহত সবাই যদি মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িতও থাকেন, তারপরও কোকেন পাচারের শাস্তি তো মৃত্যুদণ্ড নয়। তাই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁদের হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক আইনজীবী ব্রায়ান ফিনুকেন বলেছেন, এসব নৌযানে হামলা ট্রাম্পের মাদকবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ কোনো অভিযান নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি অংশত একটি সামরিক প্রদর্শনী ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন বীরত্বপূর্ণ কিছু করছে—এমন মোহ তৈরি করা।’

বিভিন্ন সংস্থা, দেশ এবং জাতিসংঘ এসব হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছে। যদিও এ ধরনের হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ব্রায়ান সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জনগণ এবং মার্কিন রাজনীতিকদের কাছে এসব হত্যাকাণ্ড ‘স্বাভাবিক’ হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। কিংবা চলমান ইরান যুদ্ধের মতো ট্রাম্প প্রশাসনের নানামুখী সামরিক হঠকারিতার আড়ালে এগুলো ‘নিছক সামান্য ঘটনা’ মনে হতে পারে।

এদিকে ক্লিপের পরিচালক বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের মূল্য দিতে হচ্ছে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোকেই। তিনি বলেন, ‘ওই পুরুষেরা বৈধ নাকি অবৈধ কাজ করছিলেন সেটি বড় নয়, বড় বিষয় হলো চরম দরিদ্র এই পরিবারগুলোর শিশুরা এমন একজন মানুষকে হারিয়েছে, যিনি ঘরে খাবার নিয়ে আসতেন।’

দ্য গার্ডিয়ান

বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে তিউনিসিয়া। কোচ সাব্রি লামুশির এই স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন নরউইচ সিটির মিডফিল্ডার আনিস বিন সিলমানে এবং ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান এলুমি। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি নিয়ে এবার বড় স্বপ্ন দেখছে ‘কার্থেজ ইগল’রা।

আজ বিকেলে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করে। আগামী মাসে মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসছে বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘এফ’-এ তিউনিসিয়ার সঙ্গী জাপান, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন।

তিউনিসিয়া তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন। মেক্সিকোর মনটেরি স্টেডিয়ামে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ সুইডেন। একই ভেন্যুতে ২১ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে লামুশির শিষ্যরা।

এবারের দলে বড় চমক রায়ান এলুমি। ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গল্পটা বেশ নাটকীয়। গত জানুয়ারিতে কানাডার হয়ে গুয়াতেমালার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল তাঁর। তবে ম্যাচটি ‘বি’ লেভেলের হওয়ায় ‘অফিশিয়াল সিনিয়র ম্যাচ’ ছিল না। এলুমি পরে নিজের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে তিউনিসিয়াকেই বেছে নেন। গত মার্চ উইন্ডোতে তিউনিসিয়ার হয়ে অভিষেকেই কোচ সাব্রি লামুশির নজর কাড়েন এলুমি। ক্লাব ফুটবলে ভ্যাঙ্কুভারের হয়ে ২৪ ম্যাচে দুটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট আছে তাঁর ঝুলিতে।

কোচ লামুশি মূলত ইউরোপীয় লিগগুলোতে খেলা প্রতিভাবান তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের মিশেলে এই দল সাজিয়েছেন। মাঝমাঠের দায়িত্ব থাকছে সিলমানে, হানিবাল মেজবরি ও এলিয়েস সখিরিদের কাঁধে। রক্ষণে ভরসা জোগাবেন ডিলান ব্রন ও ওমর রিকিকরা।

তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলকিপার: আয়মেন দাহমেন, সাবরি বিন হাসিন ও মুহিব আল-শামিখ।
ডিফেন্ডার: মোন্তাসার তালবি, ডিলান ব্রন, ওমর রিকিক, ইয়ান ভ্যালেরি, আলি আবদি, মোয়াতাজ নাফাতি, রায়েদ শেখাউই ও আদম আরুস।
মিডফিল্ডার: এলিয়েস সখিরি, হানিবাল মেজবরি, আমিন বিন হামিদা, আনিস বিন সিলমানে, মোহামেদ হাজ মাহমুদ, রানি খেদিরা ও মোর্তাদা বিন উনাস।
ফরোয়ার্ড: এলিয়েস আচৌরি, ইসমাইল গারবি, এলিয়েস সাদ, সেবাস্তিয়ান তুনেক্তি, ফিরাস চাউয়াত, খলিল আইয়ারি, হাজেম মেস্তৌরি ও রায়ান এলুমি।

নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, মৌলভীবাজারের এসপি রিয়াজুল ইসলাম জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে ১৬ মের (শনিবার) মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে ৯ মে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের পৃথক দুই আদেশে ফেনী ও পঞ্চগড়ের দুই এসপিকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁরা হলেন ফেনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

উল্লেখ্য, ৫ মে দেশের ১২ জেলার পুলিশ সুপার পদে রদবদল আনা হয়। বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে তিনজনকেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।

সিলেটের বিছানাকান্দিতে গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে তলিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শান্ত বণিক নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ৫ ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

শুক্রবার (১৫ মে) ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে বিছানাকান্দিতে ভ্রমণে গিয়েছিলেন শান্ত। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকায় শান্তসহ তিন সহপাঠী একসঙ্গে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের টানে শান্ত তলিয়ে যান। বাকি দুজন নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শান্ত নিখোঁজ থাকেন।

শান্ত বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার পর উদ্ধারকাজে কিছুটা বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন শান্তর সহপাঠীরা। পিএমই বিভাগের ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী সোহেল রানা জানান, শান্ত নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ফায়ার সার্ভিস বা প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। স্থানীয় ডুবুরিরা নিজ দায়িত্বে প্রথম উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিছানাকান্দি টুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনাস্থলটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন হওয়ায় এবং সিলেট থেকে ডুবুরি দল পৌঁছাতে সময় লাগায় উদ্ধার অভিযান শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে চেষ্টা করলেও শুরুতে সফল হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন অধিকারী শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী হওয়ায় তাকে দ্রুত স্থানীয় ডুবুরি দিয়ে উদ্ধারের ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে শান্ত বণিকের মরদেহ উদ্ধার করে।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, কুইক রেসপন্স টিম গঠন, হটলাইন চালু, সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আলোর ব্যবস্থা করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম এসব সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি রাতে আবাসিক হলে ফেরার পথে এক নারী শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগত এক দুষ্কৃতকারী টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় ১৪টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন। নিরাপত্তাঘাটতির অভিযোগ পেলেই এই দল দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য ভাতাও দেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত অভিযোগ জানানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি হটলাইন নম্বর চালুর সিদ্ধান্তও নিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে বহিরাগতদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে লগবুকে নাম-ঠিকানা ও প্রবেশের উদ্দেশ্য লিখে ঢুকতে হবে। ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হবে। তাঁরা দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কাছে পাস দেখিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন বিভিন্ন ভবনে কর্মরত নির্মাণশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্মাণশ্রমিক ও কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দোকানকর্মীদের তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সব ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেটে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মসজিদ ফটক, প্রান্তিক ফটক ও গেরুয়া ফটকে অতিরিক্ত প্রহরী মোতায়েন করা হবে। এক মাসের মধ্যে নতুন পুরুষ ও নারী নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া আরও ১০০ জন নতুন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশপথের ত্রুটি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। আলবেরুনী হলের টিনশেড এক্সটেনশন ভবন অবিলম্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হবে। একই সঙ্গে বুলিং, সাইবার বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১২ মে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন রাস্তা থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। পরদিন দুপুরে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিন রাতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি জানান। তাঁরা আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দেন। কিন্তু আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আবার আন্দোলনে নামেন এবং প্রক্টরিয়াল টিমকে পদত্যাগের দাবি জানান। আজ শুক্রবার রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চামড়া শিল্পের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে তিনি একাধিকবার বৈঠক করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আল্লাহর তৌফিক থাকলে বাংলাদেশে চামড়া শিল্প একটি বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়কারী খাতে পরিণত হবে।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া শিল্পের যে দুর্বলতাগুলো রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মাত্র আড়াই মাসে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না। এ বিষয়ে একটু সময় দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই শিল্পকে সত্যিকারের সম্ভাবনাময় খাতে রূপান্তর করতে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। এই সাময়িক ও জরুরি সময়ে যেন এক পিস চামড়াও নষ্ট না হয়, সেজন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এটি শুধু একটি শিল্প নয়, বরং আমাদের জাতীয় সম্পদ। সচেতনভাবে কোনো সম্পদ নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ এতে দেশের অর্থনীতি ও সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 
 

রাজধানীতে হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাম্প্রতিক নীতিমালাকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলছে, পরিকল্পনাহীন ও অপরিণামদর্শীভাবে ফুটপাত ও সড়কে হকার বসার সুযোগ করে দিলে নগরজীবনে আরও বড় বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।

আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খানের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, হকার সমস্যা শুধু ঢাকার নয়; দেশের প্রায় সব নগর এলাকাতেই এটি পথচারীদের চলাচল, নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে নয়, সারা দেশের নগর এলাকার জন্য সমন্বিত হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিন ধরেই নগর এলাকায় হকার নীতিমালার প্রয়োজন ছিল। তবে নীতিমালা প্রণয়নের পর যথাযথ পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণ ছাড়াই যেভাবে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেও দাগ টেনে হকার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্ময়কর। এতে অল্প সময়ের জন্য তৈরি হওয়া পথচারীদের স্বস্তি আবারও হারিয়ে গেছে।

আইপিডি বলছে, ফুটপাত ও সড়ক নাগরিকদের চলাচলের জন্য। সেখানে বাধা সৃষ্টি করে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত লাইসেন্স, কর ও ফি দিয়ে ব্যবসা করা দোকান ও মার্কেটের ব্যবসায়ীদের, অনেক ক্ষেত্রে হকারদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হচ্ছে।

নীতিমালায় পথচারীদের জন্য ন্যূনতম ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। একে ‘অপ্রতুল’ মনে করছে আইপিডি। সংস্থাটির ভাষ্য, আন্তর্জাতিক ও আধুনিক নগর-পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী বড় শহরের আবাসিক এলাকায় ৮ থেকে ১০ ফুট এবং বাণিজ্যিক এলাকায় ১০ থেকে ১৬ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় এই প্রশস্ততা হওয়া উচিত ২০ থেকে ৪০ ফুট।

এ ছাড়া নতুন নীতিমালায় মেট্রোস্টেশন, বাসস্টপ বা গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরত্বে হকার বসার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইপিডি বলছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সাধারণত এসব স্থানের অন্তত ১৫০ ফুটের মধ্যে হকার বসতে দেওয়া হয় না।

তবে নীতিমালার কিছু দিককে ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেছে আইপিডি। বিশেষ করে হলিডে মার্কেট, নৈশকালীন মার্কেট ও হকারমুক্ত এলাকা ঘোষণার বিষয়গুলোকে তারা ভালো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি প্রান্তিক হকারদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়টিও ইতিবাচক বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তবে হকারদের লাইসেন্স ও পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণের বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা না থাকা এবং এলাকাভিত্তিক হকারদের তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা না থাকাকে বড় ঘাটতি হিসেবে দেখছে আইপিডি। এ ছাড়া হকার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নাগরিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইপিডির দাবি, বর্তমানে যেভাবে ফুটপাত দখল করে হকাররা ব্যবসা করছেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। প্রকৃত হতদরিদ্র হকারদের চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে অবৈধ দখলকে পুনর্বাসনের নামে বৈধতা দেওয়া ঠিক হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু পুনর্বাসন নয়, দারিদ্র্য বিমোচনের দৃষ্টিকোণ থেকেও ভাবতে হবে। পাশাপাশি হকার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইপিডি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, এ জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন।

জামালপুর ও নেত্রকোনায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলায় একজন, মাদারগঞ্জ উপজেলায় একজন ও নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় একজন মারা যান। আজ শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

জামালপুর

বজ্রপাতে জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের পশ্চিম আরংহাটি গ্রামের কৃষক ফারুক আহামেদের (৩৭) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টির সময় নিজ বাড়ির উঠান থেকে খড় তোলার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় কাছাকাছি থাকা তাঁর বাবা আফসার আলী আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি গ্রামের মজনু মিয়া (২৫) বজ্রপাতে মারা যান। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশক্তির সদস্য ছিলেন।

পরিবার জানায়, দুপুরে বৃষ্টির সময় বাড়ির উঠানে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন মজনু মিয়া। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, ‘বজ্রপাতে মাদারগঞ্জের একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জলাশয় থেকে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এনামুল হক (২৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মাসকা হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেলা তিনটার দিকে এনামুল মাসকা হাওরে মাছ ধরতে যান। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতে তাঁর শরীর ঝলসে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে কার্যালয়ের লোকজনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বিধি অনুযায়ী মারা যাওয়া যুবকের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বজ্রপাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একটি সভায় বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মিজানুর রহমান। আলাউদ্দিন নামে যুবদলের কর্মী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওই মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ। আলাউদ্দিন হাজীনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে হাজীনগর ইউপির উন্মুক্ত বাজেট সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেন। তাৎক্ষণিকভাবে ভুলবশত স্লোগান দিয়ে ফেলেছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদলের কর্মী পরিচয় দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সভাস্থলের মাইকে সবার সামনে আবার ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন এই স্লোগান দেওয়া যে কারও জন্য বিপজ্জনক। গতকাল সভায় মুখ ফসকে জয় বাংলা বলার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকার করি। এরপরও সবার সামনে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে আলাউদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করেন। যদিও যুবদলের কোনো পদে থাকার প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, ‘মিজানুর রহমান বক্তব্যের একপর্যায়ে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দেন। সঙ্গে সঙ্গে আমিসহ কয়েকজন প্রতিবাদ করি। সবাই যখন উত্তেজিত হয়ে যায়, তখন বিষয়টি অন্যভাবে চলে যায়। পরে মিজানুর রহমান মাইকে সবার কাছে ক্ষমা চান। এখানে আমাকে একাই দায়ী করা হচ্ছে।’

যোগাযোগ করলে হাজীনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন,‎ আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপি কিংবা যুবদল নেতা দাবি করলেও বাস্তবে তাঁর কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। তিনি রাজনৈতিক সুবিধা নিতে বিএনপির নাম ব্যবহার করেছেন। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে “জয় বাংলা” স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হেনস্তা করা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দিয়েছি। যদিও পরবর্তী সময়ে এই স্লোগানের অপব্যবহার করে বিতর্কিত করে ফেলা হয়েছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ক্ষমতা সীমিত’ হওয়ায় এবং ‘রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের’ অভাবের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ওই সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, তাঁদের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটে। ফলে নতুন সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দিতেই বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অনেকে জানতে চান দেড় বছরে সরকার কী করেছে? কিন্তু বাস্তবতা হলো, ‘এক দিনে সব পরিবর্তন হয় না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক সালেহউদ্দিন আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের ৩৬৫ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দৃশ্যমান সব পরিবর্তন না এলেও অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে ভিত্তিগত কিছু সংস্কার হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। প্রথমে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম।’

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্ট্রেন্থ (শক্তি) ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না।’ ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার, রাজস্ব প্রশাসনসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা ছিল উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (মজুত) কমে গিয়েছিল, চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক ছিল। এসব সূচকে এখন কিছুটা স্থিতি এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেকেই পরিবর্তন দেখতে চান, কিন্তু অর্থনীতির গভীর সংকট রাতারাতি সমাধান করা যায় না। তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি এমন ছিল যে আগে অর্থনীতিকে ‘খাদের কিনারা’ থেকে ফেরাতে হয়েছে।

আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে  
আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে
 

ব্যাংক খাত নিয়ে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল আইনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আইন সংস্কার ছাড়া শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, খারাপ আইন রেখে ভালো ফল আশা করা যায় না।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কিছু ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের অর্থসহায়তা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কাজও সহজ নয়। তবে এখন প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কারণে আগের তুলনায় কম সময়ে অর্থ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি খাতেও সুশাসনের অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। বলেন, জবাবদিহির সংস্কৃতি দুর্বল হওয়ায় বিভিন্ন খাতে অপচয় ও অদক্ষতা তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দুই বছরের প্রকল্প ১০–১২ বছর চলে, পাঁচ বছরের প্রকল্প শেষ হতে ২০ বছরও লাগে।

বক্তব্যে দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত অতিথিরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে
আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত অতিথিরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে
 

রপ্তানি খাত নিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হলেও অনেক শিল্প এখনো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারেনি। ‘ইনফ্যান্ট ইন্ডাস্ট্রি’ হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া হলেও সেই খাতগুলো এখনো পুরোপুরি পরিণত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক শুল্ক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের সম্ভাবনা এখনো অনেক উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সুশাসন, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একই অবস্থা থেকে শুরু করেও দেশ দুটি অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশও চাইলে তা পারে।

সমাবর্তনে ডিগ্রি পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে। তাই দক্ষতা, জ্ঞান ও কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে  
আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে
 

‘সৎ উদ্দেশ্য থাকলে পরিবর্তন অনিবার্য’

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আর এই পরিবর্তনের সময়ে নতুন প্রজন্মকে শুধু দক্ষ হলেই হবে না, নৈতিক নেতৃত্বও দিতে হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন হয়েছে, তা দেখিয়েছে—স্পষ্ট দৃষ্টি ও সৎ উদ্দেশ্য থাকলে পরিবর্তন অনিবার্য।

আইবিএর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে হবে সততা, মানবিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষ দিয়ে। কর্মজীবনে নানা ‘শর্টকাটের’ সুযোগ এলেও সঠিক পথ থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই সময়ে আজীবন শেখার মানসিকতা ধরে রাখার তাগিদ দেন উপাচার্য। তিনি বলেন, পৃথিবীতে ভালো ব্যবস্থাপকের অভাব নেই, অভাব মানবিক নেতৃত্বের।

আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ইফতেখারুল আমিন।

সমাবর্তনে ১১৬ জন শিক্ষার্থীকে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), ১২৬ জনকে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ, ১২২ জনকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রাম–ইএমবিএ) এবং একজন শিক্ষার্থীকে ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এ বছর অসাধারণ একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য ২৬ জন শিক্ষার্থী ‘ডিরেক্টরস অনার লিস্টে’ স্থান পান। এ ছাড়া দুজন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

পরীক্ষামূলকভাবে চালুর অনুমতি দেওয়া ফারাক্কা বাঁধ এখনো চালু থাকায় সেটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আগামীকাল ১৬ মে 'ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস' উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, ভারতে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার শুরু করা হয়। যার ফলে বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকায় পানিসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

'জীববৈচিত্র ও পরিবেশগত মানকে বিবেচনা না করে এবং প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ভারতকে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই বাঁধ অব্যাহতভাবে এখন পর্যন্ত চালু থাকায় সেটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে এ দেশের জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত'— যোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এই বঞ্চনা ও দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জনদুর্দশার আশঙ্কায় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী জনগণকে সাথে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল করে ভারত সরকারের নিকট প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আনেন। তখন থেকে ব্যাপক মানববিপর্যয় সৃষ্টিকারী ফারাক্কা বাঁধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে।

বিএনপি মহাসচিবের মতে, আজও ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্থ করে একতরফা নিজেদের অনুকুলে পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ নিষ্ফলা উষর ভূমি হয়ে উঠার আলামত ইতোমধ্যেই ফুটে উঠেছে।

তাই ন্যায্য পাওনা আদায়ের সংগ্রামে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে জনগণের ঐতিহাসিক মিছিল অকুতোভয় সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়েছিল বলে বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি।

এ কারণে প্রতি বছর ১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস' যেকোনো অধিকার আদায়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী।

 

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ৮ শিশুর।

এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৯২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১১ শিশুর শরীরে।

আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হাম শনাক্ত হয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর দুজন ঢাকা বিভাগের আর একজন করে রয়েছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে। হামের উপসর্গ নিয়ে মাা যাওয়া আট শিশুর তিনজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন চট্টগ্রাম বিভাগের আর একজন করে রয়েছে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৭৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৭৪ শিশু। মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশুর। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ১৭৬ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ৩৬ হাজার ৫৫ শিশু।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৭ হাজার ৪১৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।