কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে একদল ডাকাত জড়ো হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তানজিম সারোয়ার নির্জনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।

এসময় লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার একজন ডাকাতকে আটক করলে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে অন্য ডাকাতরা। একপর্যায়ে লেফটেন্যান্ট নির্জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তারা।  গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। 

 

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরীর বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার সঙ্গে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

আজ বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। ডিএমপির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম ‘মিট দ্য প্রেস’।

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন। এক সাংবাদিক বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু ডিএমপির বিষয় নয়। এর সঙ্গে সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তি চালুর পর যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ না করে, তাহলে এই উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে কি না।

জবাবে ডিএমপির কমিশনার বলেন, ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে থাকা সিসিটিভির সঙ্গে এআই যুক্ত করে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এটি ডিএমপির নিজস্ব উদ্যোগ। ঢাকা শহরের ভৌত অবকাঠামো, জনসংখ্যা, যানবাহনের চাপ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে এটি চালু করা হবে।

অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, যেখানে সমন্বয় প্রয়োজন, সেখানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। বর্তমানে এ সহযোগিতা ভালো রয়েছে।

অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ডিএমপির কমিশনার বলেন, আগে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। তবে বর্তমান সরকারের সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে যুক্ত রাখা হচ্ছে।

আরেক সাংবাদিক বলেন, রাজধানীতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চলাচলকারী যানবাহনের অন্যতম ব্যাটারিচালিত রিকশা। কিন্তু এগুলোর বেশির ভাগের কোনো নিবন্ধন নম্বর নেই। আইনগত অনুমোদনও নেই। ফলে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। বৈধ যানবাহন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে এআই ক্যামেরা নম্বর প্লেট শনাক্ত করে মামলা দিতে পারে। কিন্তু যেসব ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনো নম্বর প্লেটই নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে কীভাবে মামলা দেওয়া হবে?

জবাবে ডিএমপির কমিশনার বলেন, অন্যান্য মহানগরের সঙ্গে ঢাকার তুলনা করা কঠিন। কারণ, রাজধানীতে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। ব্যাটারিচালিত রিকশার বর্তমান পরিস্থিতি এক দিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে এসব যানবাহনের বিস্তার ঘটেছে। বিগত সরকারের সময়ে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে কেন্দ্র করে একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। গত ১৫ বছরে এসব যানবাহনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৪৮টি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪১টি ব্যাটারি জব্দ, ৩ হাজার ৫১৮টি যান ডাম্পিং এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিট জব্দ ও ব্যাটারির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শুধু পুলিশের পক্ষে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য পুলিশ, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের চাপ, সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা ও যানজটের পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রশীদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমান কপোরেশন এমপ্লয়িজ (সার্ভিস) রেগুলেশনস ১৯৭৯–এর অনুচ্ছেদ ৫৮–এ ক্ষমতাবলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার সকালে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মিজানুর রশীদকে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে বিকেল গড়াতেই সেই আদেশ রহস্যজনকভাবে বাতিল করা হয়েছে। গতকাল এই ঘটনা ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) খন্দকার বাকী উদ্দিন আহম্মদের সই করা এক আদেশে মিজানুর রশীদকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। এই খবর প্রকাশের পর বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

তবে কয়েক ঘণ্টা না যেতেই পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় নেয়। বিকেলে একই বিভাগ থেকে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পদোন্নতি ও পদায়নের আগের আদেশটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়। কী কারণে এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো, তা নিয়ে বিমানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে।

বিমানের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পান, তবে বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৪ মার্চ মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) পদে থাকাকালে তাঁকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিনই তাঁকে আবার প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও দেওয়া হয়, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চ পদ।

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার বলেন, এখনো আসামিকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর–১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের সাত নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগারে পাওয়া যায়। শিশুটির শরীরের মূল অংশটি পাওয়া যায় খাটের নিচ থেকে।

পুলিশ জানায়, সোহেল রানা ওই কক্ষে দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার পর তিনি শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, শিশুটির নিখোঁজের এক ঘণ্টার মধ্যেই পাশের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে হত্যা করা হয় আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে। ৯৯৯ নম্বরে সংবাদ পেয়ে বেলা ১১টার পর শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তাঁর বাবার নাম আবদুল হান্নান মোল্লা। তিনি একটি রিকুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। মায়ের নাম পারভীন আক্তার। তাঁদের দুই মেয়ের মধ্যে রামিসা ছোট। বড় মেয়ে রাইসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে পল্লবীর মিরপুর–১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের সাত নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে বসবাস করছে। শিশুটির লাশ পাওয়া যায় পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে।

রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, ছবি: সংগৃহীত
 

এর আগে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার আজ বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটিকে হত্যায় পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের ভাড়াটে সোহেল রানাকেই মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি পেশায় রিকশার মেকানিক। তাঁর কক্ষ থেকেই রক্তমাখা কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শিশুটির পরিবার যা জানাল

আজ দুপুরের পর পল্লবীর ওই বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। ভিড় ঠেলে বাসায় ঢুকতেই দেখা যায়, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। রামিসাদের বাসায় স্বজনদের ভিড়। একটি কক্ষে রামিসার মা–বাবা বাক্‌রুদ্ধ হয়ে বসে ছিলেন।

রামিসার চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসার সঙ্গে রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা। হঠাৎই রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর মা পারভীন ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে দেখেন, রামিসার পায়ের একটি জুতা পড়ে আছে। তখন পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে বন্ধ দরজাটি তখন খোলা হচ্ছিল না। অনেক সময় ধরে নক করা হলেও দরজা খোলা হয়নি। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রামিসার লাশ পায়।

ঢাকা

সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সমন্বিত রেগুলেশনের জন্য দেশে একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ নিয়ে জুনের মধ্যে পরামর্শক কমিটি গঠন করে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন,  সমন্বিত রেগুলেশনের মধ্যে রাখতে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন তিনি। নির্বাচনী ইশতেহারে ও বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচিতেও এটি বলা হয়েছে। তারা সেই লক্ষ্যে এগোতে চান। অগ্রগতি হচ্ছে, সব অংশীজনই এখন এই লক্ষ্যের সঙ্গে যৌথ যাত্রার মধ্যে আছেন। 

তিনি আরও বলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জুন মাসের মধ্যে পরামর্শক কমিটি গঠন করে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আশা করছেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সরকারের কাছে এই প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব হবে।

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এক দিন পর তিনি জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলায় পরিকল্পিত নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

তবে ইরানিরা সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলো ও বিশ্ব অর্থনীতির কাছ থেকে এর চরম মূল্য আদায় করতে দ্বিধা করবে না।

ইরান কী আশঙ্কা করছে

চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’–এর ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজি বলেন, চলতি বছরের প্রথম দফার যুদ্ধে ইরানিরা প্রায় তিন মাসের একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

নতুন করে যেকোনো লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যাতে শত্রুকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশও বদলে দেওয়া যায়।

হামিদরেজা আজিজি, ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স

এর ফলে ইসরায়েল ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রেখেছিল বলে মনে করেন আজিজি।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বিপরীতে এবার যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরানি নেতারা ধারণা করছেন যে এ লড়াই হবে ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র’। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত ও ভারী হামলাও চালানো হতে পারে। আজিজি ইরানের সরকারঘনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বা নিরাপত্তাকাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রকাশ্য মন্তব্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।

এবার যেভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে ইরান

হামিদরেজা আজিজি বলেন, নতুন করে যেকোনো লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যাতে শত্রুকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশও বদলে দেওয়া যায়। এর ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর তীব্র হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দরগুলোয় আঘাত হানা হলো বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এবং ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়গুলোর একটি। যদি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক ব্যাপক হয়, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এ যুদ্ধে আরও অনেক বেশি জড়িয়ে পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক নেতাই এ পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শিল্প অঞ্চলে বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখছেন বিদেশি শ্রমিকেরা। ৩ মার্চ ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শিল্প অঞ্চলে বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখছেন বিদেশি শ্রমিকেরা। ৩ মার্চ ২০২৬, ছবি: রয়টার্স
 

সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে ইরানের ওপর হামলায় সাহায্য করেছে, এমন মনোভাব থেকে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানি কর্মকর্তা ও সরকারঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকেরা তীব্র আমিরাতবিরোধী হুমকি ও বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ইরানের ওপর গোপনে হামলা চালিয়েছিল।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকদের একজন মেহেদি খারাতিয়ান। গত মাসে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই আমিরাতকে উটে চড়ার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং আমরা তা করতে পারি। প্রয়োজন হলে আমরা আবুধাবি দখল করব।’

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ এক ই–মেইলে বলেছেন, বক্তব্যগুলো যতই অতিরঞ্জিত হোক না কেন, এগুলো ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে’।

সম্ভাব্য সৌদি-ইরান অনাক্রমণ চুক্তির (নন-অ্যাগ্রেশন প্যাক্ট) খবরগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অবাস্তব’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন আলফোনেহ। তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী বড় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার এই হুমকিই এখনো ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে সংযত রাখার হাতে গোনা কয়েকটি নিয়ামকের একটি।

ইরান বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।

ইরানের হাতে আর কী কী ‘কার্ড’ আছে

ইরান বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।

গত দফার লড়াইয়ে ইরানিরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছে। হামিদরেজা আজিজি বলেন, যদি ইরান সরকার মনে করে, এ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সংকটের মুখে পড়েছে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটির পরিবর্তে দুটি সামুদ্রিক ফ্রন্টে মনোযোগ দিতে বাধ্য করতে চাইতে পারে।

মেহেদি খারাতিয়ান গত মাসে পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে ইরান বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল সীমিত করে এর পাল্টা জবাব দেবে।

এটা করা হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে এ কৌশল শেষ পর্যন্ত জটিল জায়গায় গিয়ে ঠেকতে পারে।

আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে হুতি মিলিশিয়ারা ইরানকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে। তবে গত দফার লড়াইয়ে তারা বেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। বিশ্লেষকেরা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, গোষ্ঠীটি তাদের ফুরিয়ে আসতে থাকা সামরিক মজুত থেকে ঠিক কতটুকু ব্যবহারের সামর্থ্য রাখে, সেই হিসাব-নিকাশ করছে।

নিউইয়র্ক টাইমস

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকার লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত বগা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এসে বিএনপির সমর্থকদের অবরোধের মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়কের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিট তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন।

এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মিছিলে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আজ মঙ্গলবার বেলা একটা থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মন্ত্রী সভাস্থলে না গিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন। ফেরি পার হয়ে চরগরবদি এলাকায় একটি মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম (মাসুদ) মন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য বগা ফেরিঘাট এলাকায় একটি সভামঞ্চ করেন। ওই সভামঞ্চের ব্যানারে কারও কোনো ছবি ছিল না। প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ছিল মন্ত্রীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম ছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর। সভাপতি হিসেবে নাম ছিল পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের।

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সংসদ সদস্য শফিকুল মন্ত্রীকে এগিয়ে আনার জন্য নদীর পশ্চিম তীরে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেলা একটার দিকে ফেরিতে মন্ত্রীকে নিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকার সভামঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন। ওই সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা সভামঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকার প্রতিবাদে মন্ত্রীকে ঘিরে মিছিল করতে থাকেন।

সড়কের মধ্যে মিছিলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রীর সফর সঙ্গীরা। একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকেরা পাল্টাপাল্টি মিছিল করতে থাকলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ থাকার পর মন্ত্রী সভামঞ্চে না গিয়ে ফেরি পার হয়ে ওপারে চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন।

আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও শফিকুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি প্রমুখ।

মন্ত্রী রবিউল আলম বক্তব্যে জানান, বগা সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর লেখা বাউফলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিরা বিনতে মাহামুদের চিঠি এবং টেলিভিশনে শিশুটির প্রচারিত সাক্ষাৎকার প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে বগা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রবিউল আলম বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বগা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শিশু আদিরার হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন মন্ত্রী।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম–আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (ঝুরন) বলেন, ‘ক্ষমতায় বিএনপি সরকার। আর সরকার প্রধান তারেক জিয়া। সেখানে ব্যানারে তারেক জিয়ার নাম থাকবে না, সেই অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী যেতে পারে না। এ কারণে সাধারণ কর্মী সমর্থকদের প্রতিবাদ ও অবরোধের মুখে সভা মঞ্চে সেতু মন্ত্রী যেতে পারেননি।’

লিবিয়ার বেনগাজী ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা ১৭০ জন স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনেচ্ছুক বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৫টায় বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। 

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে, লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সক্রিয় সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালালের খপ্পরে পড়ে পাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহৃত হন এবং ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান। অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে ভুক্তভোগীদের এই দুর্বিষহ ও তিক্ত অভিজ্ঞতা নিজ নিজ এলাকায় সকলের সাথে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেক বাংলাদেশিকে পথখরচা, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনো আটকে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তারা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টার্মিনাল উদ্বোধনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১৬ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ ধরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় টার্মিনাল এক, টার্মিনাল দুই, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল, ভিআইপি টার্মিনাল এবং পার্কিং এলাকাও রয়েছে। এতে যাত্রীরা এসব স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা নিতে পারছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে এরইমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলছে।

তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‌‘ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ, পদক বিতরণ ও পাসিং আউট প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। সেজন্য জনগুরুত্ব বিবেচনায় ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গতি, সেবা ও ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য যেকোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনা ও সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ জনগণের জান-মাল রক্ষায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা এখন নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন অগ্নিদুর্ঘটনাসহ যেকোনো দুর্যোগে তাদের পেশাদারি মনোভাব, সাহস, ত্যাগ ও সেবামূলক কার্যক্রম জাতির আস্থা অর্জন করেছে। সকল দুর্যোগে বিপদে পড়া মানুষের পাশে প্রথম ছুটে যাওয়া ‘স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত’ এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের কাছে একটি গর্বের বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ বাহিনীর সেবা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া এই বাহিনীর ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন।

মন্ত্রী বলেন, এছাড়া প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের জন্যও আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এরইমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম গত ১ মে থেকে চালু করা হয়েছে। আমরা আশা করি, পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
 
তিনি বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যদের অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রস্তাব বিবেচনাধীন। এ বাহিনীর সদস্যদের আবাসনের সমস্যা দূরীকরণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে ২টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। মিরপুরে তাদের সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজও চলমান। এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ ভাতা হিসেবে ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’ এবং ফ্রেশ মানির বিষয়ে চাহিদা রয়েছে। তা আমরা পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো। এর মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আত্মাহুতি দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন। সর্বশেষ টঙ্গীর কেমিক্যাল অগ্নিদুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৩ জন কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ২০২৫ সালে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিনির্বাপণ করে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করেছে; ৭ হাজার ৮১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ২৬৬ জন আহত ও ১ হাজার ৩৮ জন নিহত উদ্ধার করেছে; অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন করেছে ১০ হাজার। ৪৮০ জন; সচেতনতা বৃদ্ধিতে ১৪ হাজার ৯৮৭টি গণসংযোগ, ২ হাজার ৭৮টি ভবন সার্ভে, ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করেছে; নতুন কমিউনিটি ভলান্টিয়ার তৈরি করেছে ১০৩৯ জনকে এবং ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৬৫ জনকে অগ্নিনিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে; যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এছাড়া ২০২৫ সালে অপারেশনাল দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বাহিনীর ৩ জন সদস্য নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের এই বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আজকের অনুষ্ঠানে পদক প্রদান করা হয়েছে। যারা পদক পেয়েছেন আমি তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।