সেঁজুতি সাহা: অবশ্যই। ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় জিনোমিক সার্ভেইল্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, পরবর্তী মহামারি আবারও কোনো শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস থেকেই আসতে পারে। কোভিডের সময় দ্রুত জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে পেরেছিল বলেই বিশ্ব বুঝতে পেরেছিল এটি সার্স-কোভ-২।
বাংলাদেশেও যদি নিয়মিতভাবে হাসপাতাল ও কমিউনিটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিকোয়েন্সিং করা যায়, তাহলে আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারব কোন ভাইরাস ছড়াচ্ছে, কোনটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, কতটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এর জন্য প্রথমেই দরকার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব, চিকিৎসক, রিপোর্টিং সিস্টেম—সবকিছুকে যুক্ত করতে হবে। যুক্তরাজ্যে যেভাবে কোনো ল্যাবে টাইফয়েড জীবাণু শনাক্ত হলেই সেটি সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় কিছু জিনমিক্স ল্যাবে পাঠানো হয় সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য, আমাদেরও সে ধরনের ব্যবস্থা দরকার।
আমরা টাইফয়েড সৃষ্টিকারী জীবাণু সালমোনেলা টাইফির জিনোম সিকোয়েন্সিং স্টাডিগুলোর একটি করেছি বাংলাদেশে বসে। এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা নীতিনির্ধারকদের দেখাতে পেরেছি জীবাণুগুলো কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক–প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, কী ধরনের মিউটেশন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এখনো বাংলাদেশের অনেক টাইফয়েড রোগী ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু যদি এমন সময় আসে, যখন এসব অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না, তখন সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করে ইনজেকশন দিতে হবে। সেটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা আগেভাগেই সেই ঝুঁকি বুঝতে পারছি। সত্যি বলতে, কেউ বিশ্বাস করত না বাংলাদেশে বসে আমরা এটা করতে পারব। বিদেশি ল্যাব বা সহকর্মীদের অনেকেই বলতেন, স্যাম্পল পাঠিয়ে দাও, আমরা কম খরচে করে দেব। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, স্যাম্পল বাইরে পাঠাব না। দেশে বসেই করব। খরচ বেশি হবে, কষ্ট বেশি হবে, তবু নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তুলব।
আজ এই স্বীকৃতি আসলে শুধু আমার নয়, এটা বাংলাদেশের। এটা আমাদের প্রতিষ্ঠানের। কারণ, একসময় কেউ আমাদের বিশ্বাস করেনি, কিন্তু এখন বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে—আমরাও পারি।
বাংলাদেশেও যদি নিয়মিতভাবে হাসপাতাল ও কমিউনিটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিকোয়েন্সিং করা যায়, তাহলে আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারব কোন ভাইরাস ছড়াচ্ছে, কোনটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, কতটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।