খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় গাছ থেকে আম পাড়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মিতশু ত্রিপুরা (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার নয় মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিতশু ত্রিপুরা ওই এলাকার সুপেন ত্রিপুরার ছেলে। উপজেলার নয় মাইল জুনিয়র স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে।

নয় মাইল জুনিয়র স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপু ত্রিপুরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে বের হয় মিতশু। সন্ধ্যায় বিনয় ত্রিপুরা নামে তার এক বন্ধুসহ বাড়িতে ফিরছিল। ফেরার পথে দুজন একটি গাছে উঠে আম পাড়ার চেষ্টা করে। এ সময় গাছের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি তারে দুজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দুজনকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিতশু ত্রিপুরাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, দীঘিনালা থেকে সন্ধ্যায় মিতশু ত্রিপুরাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

সংসদ সদস্যরা (এমপি) আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সংসদের ৩০০ জন সদস্য যদি সিদ্ধান্ত নেন যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস পাবে না। কিন্তু তাঁরাই যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা অসম্ভব। আমরা চাই চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।’

আজ মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে শাহ আলী পাইকারি কাঁচাবাজার পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথাগুলো বলেন শফিকুর রহমান।

শাহ আলী বাজার পরিদর্শনে গিয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, এই যে একটা বিশাল আড়ত-মার্কেট আছে, এখানে যে দোকানগুলো আছে, এখানেও দখলদারি আছে। এখানেও নীরব চাঁদাবাজি আছে; কিন্তু মুখ ফুটে কেউ কথা বলতে চায় না। সবার মুখ চেপে রাখা হয়েছে।

চাঁদাবাজ কারা—এটি সবাই জানে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কারা করে এই চাঁদাবাজি? আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ করে না। এখানেই আমাদের সাথে চলাফেরা করে, ওঠাবসা করে, বসবাস করে, এই লোকেরা এগুলো করে। তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি।’

নিত্যপণ্যের ‘বাজার সিন্ডিকেট’ ভাঙতে সংসদে এবং বাইরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে যেটা বিশ্বাস করি, জায়গায় জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজির কারণে এখানে যাঁরা ব্যবসায়ী আছেন; তাঁরাও কিন্তু ভালো ব্যবসা করতে পারছেন না। আমরা যাঁরা ভোক্তা আছি, আমরা ন্যায্যমূল্যে আমাদের পণ্যগুলো পাই না। কৃষক তাঁর উৎপাদিত মূল্যের ন্যায্যমূল্য পান না। মাঝখানে অন্যদের পেটে ঢুকে যায়। আমরা ওটা ভাঙতে চাই। কোন দিন ভাঙতে পারব আল্লাহ ভালো জানেন, কিন্তু আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে, এই লড়াই চলবে।’

বাজার সিন্ডিকেট না ভাঙা পর্যন্ত জামায়াত থামবে না উল্লেখ করে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা থামব না। আমাদের আওয়াজ, আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের দাবি সংসদের ভেতরে এবং বাইরে সব জায়গায় অব্যাহত থাকবে। এই দেশটা আমরা সবাই মিলেই ভালো করতে পারব। একা কেউ পারবে না, একা কোনো দলও পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার।’

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ তাদের দুর্দশার কথা বলতে চান কি না, তা জামায়াতের আমির জানতে চান। এ সময় একজন ব্যবসায়ী বলেন, সরকার ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে দোকান-ঘর বরাদ্দ দিয়েছে। তবে যাঁরা বরাদ্দ পেয়েছেন, তাঁরা দোকানভেদে সেগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে ভাড়া দেন ৬০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা মাসিক চুক্তিতে।

আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তন হলেও আগের নিয়মেই রাজনীতিবিদেরা দোকান ভাড়া নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে সেটি বেশি দামে ভাড়া দেন বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী। এ ছাড়া চাঁদাবাজি ও মাদক সমস্যার কথাও জানান তিনি।

এ সময় সেই ব্যবসায়ী সত্য কথা বলার কারণে কোনো বিপদে পড়লে জামায়াত তাঁর পাশে থাকবে বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনার কোনো সমস্যা হলে আমরা আপনার পাশে থাকব।’

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সরকারের প্রতি কোনো পরামর্শ আছে কি না, গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলে জামায়াতের আমির বলেন, সংসদ অধিবেশনের সর্বশেষ বক্তব্যে জনগণের দুঃখ-কষ্টের কথা তিনি তুলে ধরেছেন। তাঁর বেশির ভাগ কথা জাতীয় জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব বিষয় নিয়ে তাঁরা মাঠে নামবেন, জনগণকে সংগঠিত করবেন এবং একটা সময়ের ব্যবধানে এই যন্ত্রণা থেকে জনগণকে মুক্ত করবেন।

এ সময় জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান), ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধভাবে বালু তোলার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ। রাবার বুলেট ছোড়েন আনসার সদস্যরা। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার একপর্যায়ে অভিযান বন্ধ করে চলে আসতে হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম, ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত চার আনসার সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন (৩৮), নুর মোহাম্মদ (২৫), নুর মোহাম্মদ (৩৩) ও খোরশেদ আলম (৩৭)। এ ছাড়া ইউএনও কার্যালয়ের কর্মচারী আবদুল ওহাব জুয়েল (৩০), গাড়িচালক কামাল উদ্দিন (৪০), উপজেলা পরিষদের কর্মচারী মো. হারুন (৪৫), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী জয়নাল আবেদীন (৪২), পৌরসভার কর্মচারী সিহাব উদ্দিন (২৬), গ্রামবাসী নুর হোসেন (১৯), সুমন ত্রিপুরা (২২), আজাদ (২৫) ও আবুল হাসান (৩০) আহত হয়েছেন।

আহত চার গ্রামবাসী জানান, তাঁরা রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় কয়েক ব্যক্তি অভিযানে বাধা দেন। একপর্যায়ে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজেসহ ১১ জন আহত হন।

কাজী শামীম আরও বলেন, ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্থানে পাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল।

রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, শতাধিক নারী-পুরুষ একত্র হয়ে হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচটি ফাঁকা গুলি এবং আনসার সদস্যরা পাঁচটি রাবার বুলেট ছোড়েন।

তবে আহত গ্রামবাসী মো. দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেনের অভিযোগ, প্রশাসনের লোকজন কৃষকদের সেচকাজে ব্যবহৃত খালের পাড়ে রাখা চারটি পাম্প মেশিন ভাঙচুর করেন। এতে গ্রামবাসী বাধা দিলে তাঁদের ওপর গুলি ছোড়া হয়।

এলাকার কৃষক মো. ফারুক অভিযোগ করেন, অভিযানে তাঁর একটি সেচপাম্প ভেঙে ফেলা হয়েছে। একইভাবে কিবরিয়া ও বশর নামের আরও দুই কৃষকের সেচপাম্পও ভাঙচুর করা হয়েছে।

তবে কৃষকদের সেচপাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও কাজী শামীম।

বিদেশে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও বিনিয়োগসংক্রান্ত নথিতে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কিউআর কোড সংযুক্ত করতে হবে। এসব নথির সত্যতা দ্রুত ও সহজে যাচাই নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নতুন এই নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১২ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিপিডি-১) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। 

সার্কুলারে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদনের সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারে নানা ধরনের ব্যাংক নথি জমা দিতে হয়। তবে তাৎক্ষণিক যাচাইয়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো প্রায়ই জটিলতায় পড়ছে। এতে ভিসা প্রক্রিয়ায় বাড়তি সময় লাগছে এবং প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট নথি ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে সব ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে দূতাবাসগুলো সহজেই নথির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, নথিতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলে গ্রাহকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৃশ্যমান হবে। এর মধ্যে থাকবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, হিসাবধারীর নাম, স্টেটমেন্টের শুরুর ও শেষের স্থিতি এবং নথি তৈরির সুনির্দিষ্ট তারিখ। ব্যাংকগুলোকে এই সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কিউআর কোডের মাধ্যমে প্রদর্শিত তথ্যগুলো অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে এবং যাচাইযোগ্য অবস্থায় রাখতে হবে। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সাইবার নিরাপত্তা ও গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব বিধি মেনে চলতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করেছে। এর ফলে বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দোকান, বিপণিবিতান খোলা রাখার সময় বাড়াল সরকার। আজ মঙ্গলবার থেকে রাতে ৩ ঘণ্টা বাড়তি সময় খোলা রাখা যাবে। ফলে সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে দোকান–বিপণিবিতান। তবে কোনো আলোকসজ্জা ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না।

আজ রাত সোয়া ৯টায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সময় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, শপিং মল, মার্কেট ও দোকানসমূহ সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি কার্যকর করতে সব বিভাগীয় কমিশনার ও দেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা জারির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

৪ মে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল দোকান মালিক সমিতি। আসন্ন ঈদুল আজহার আগপর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানায় তারা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। পাল্টা হামলা করে ইরানও। তারপর যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ২ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানো হয়। একই সঙ্গে দোকানপাট ও শপিং মল (বিপণিবিতান) সন্ধ্যায় ছয়টায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়, যা পরদিন কার্যকর হয়। যদিও পরে দোকান ব্যবসায়ী সমিতির অনুরোধে সে সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়।

পাবনার রূপপুরে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো শেষ হয়েছে আজ মঙ্গলবার। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি চূড়ান্ত ধাপ। ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী ঠিকাদার সংস্থার পক্ষ থেকে আজ পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি প্রবেশ করানো হয়েছে। বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি বলেন, এই কাজে প্রাথমিক কোর লোডিং কর্মসূচি, পরিচালনাগত বিধিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে চুল্লিপাত্রের ওপরের অংশ স্থাপন ও প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে। এরপর সব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে অসংখ্যবার পরীক্ষা করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুব শিগগির চুল্লিপাত্রকে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নেওয়ার পর ধাপে ধাপে এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রক্রিয়াগুলো প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু ও পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনার পথ প্রশস্ত করবে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

মৃত্যুদণ্ড এড়াতে ২৬ বছর ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার একটি হত্যা মামলার এক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে র‍্যাবের সহযোগিতায় তাঁকে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কালাম মিয়া (৪৬)। তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলার চরলক্ষীয়া গ্রামের মৃত শামসুদ্দীনের ছেলে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ২৬ বছর ধরে পলাতক থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এটিকে পাকুন্দিয়া থানার পুলিশের বড় অর্জন বলে দাবি করেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে একই গ্রামের সমবয়সী সোহেল মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন কালাম। এ ঘটনায় সোহেলের বাবা জসীম উদ্দিন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে ২০১০ সালে আদালত ওই মামলায় কালামকে মৃত্যুদণ্ড দেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে কালামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকুন্দিয়া থানা-পুলিশ র‍্যাবের সহযোগিতায় গতকাল রাত তিনটার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

খায়রুল হকের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুলসহ এ জামিন দেন।

এর আগে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় আপিল বিভাগ গত ২৮ এপ্রিল খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন।

দুই মামলায় আজ জামিন হওয়ায় খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আপাতত আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মামলা দুটির একটির এজাহারে খায়রুল হকের নাম নেই। পাঁচ মামলায় জামিনের পর তাঁকে এই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে রুল দিয়ে খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন।’

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর তথ্যমতে, পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই দুই মামলায় অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে গত রোববার হাইকোর্টে জামিন চেয়ে পৃথক আবেদন করেন খায়রুল হক, যা শুনানির জন্য আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ওঠে।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সাঈদ আহমেদ রাজা, আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন, মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমদাদুল হানিফ।

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। একই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এই পাঁচ মামলার মধ্যে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা পৃথক চার মামলায় হাইকোর্ট গত ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন। দুদকের করা অপর মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১১ মার্চ জামিন পান তিনি।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। আবেদনগুলো গত ৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন।

এর ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ গত ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) ও আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল আছে।

‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ বাতিল নয়, পর্যালোচনার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহের উর রহমান। তিনি বলেছেন, চুক্তির দ্বিতীয় সুযোগ অনুযায়ী পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘নেগোসিয়েশনে’ যেতে চান।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড—এআরটি) সই হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে। এ নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া চলছে।

আজকের সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ চুক্তির বিষয়ে করা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জাহের উর রহমান বলেন, ‘এই চুক্তি যদি দেখেন, দেখবেন বাতিল করার অপশন (সুযোগ) আছে। এক নম্বর, ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বাতিল করে দেওয়া যাবে। দুই নম্বর হচ্ছে, এই চুক্তির মধ্যে আরেকটি কন্ডিশন (শর্ত) আছে। দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্তে পরিবর্তন করতে পারে। আমি আমার জায়গা থেকে মনে করি যে অন্তত পরে যে অপশনটা বললাম, পর্যালোচনা করা। আগে আমাদের সরকারি পর্যালোচনা করা।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘...প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি এই ইস্যুতে (বিষয়ে) কথা বলেছি। আমরা সরকারের মধ্যেও এই চুক্তিটা নিয়ে কিছু পর্যালোচনা এবং চুক্তি এটা খুবই শক্তিশালী চুক্তি এবং এটা বাতিল করে দেওয়ার ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) কী হতে পারে, নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারি, কোন প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটা স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটাও আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু ওই যে বললাম, ওই সুযোগটা তো আমরা নিতে পারি যে এই চুক্তি রিকনসিডার (পুনর্বিবেচনা) করা কিছু কিছু জায়গায়। যে যে জায়গাগুলোকে আমরা বেশি সমস্যাজনক মনে করি, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে মনে করছি, সেগুলো নিয়ে আমরা আগে আমাদের প্রাথমিক বিবেচনা করব। আমি আশা করি যে আমরা সে রকম একটা নেগোসিয়েশনে (দর–কষাকষি) তাদের সঙ্গে যেতে চাই। বাতিল করাটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফে যে সংকট আছে, সেটা আবার চলে আসার সম্ভাবনা আছে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন।

ইরান যুদ্ধ তৃতীয় মাসে গড়িয়েছে। এ যুদ্ধ চীনের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা কীভাবে কাজ করে, চীন এই যুদ্ধ থেকে তা শিখতে পারে। স্মরণে রাখা ভালো—যেকোনো যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে প্রতিপক্ষের ভূমিকাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

পারস্য উপসাগর এবং এর আশপাশে গত দুই মাসের লড়াই থেকে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে কী কী ধারণা পাওয়া যেতে পারে—তা নিয়ে চীন, তাইওয়ান এবং অন্যান্য অঞ্চলের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে সিএনএন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চীনের নিজেদের শক্তি সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করা ঠিক হবে না। দেশটির উচিত, নিজেদের অভিজ্ঞতার অভাবকে গুরুত্বসহকারে নেওয়া এবং এই সংঘাতের ফলাফলকে ছোট করে না দেখা।

আগামী দিনে কোনো যুদ্ধে নিজেদের অপরাজেয় রাখতে চীনকে প্রতিরক্ষার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
ফু কিয়ানশাও, সাবেক কর্নেল, চীনের বিমানবাহিনী

চীনের বিমানবাহিনীর সাবেক কর্নেল ফু কিয়ানশাও সিএনএনকে বলেন, এই লড়াই থেকে এ পর্যন্ত তাঁর প্রধান উপলব্ধি হলো—পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যেন তাদের প্রতিরক্ষার কথা ভুলে না যায়। প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পেরেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থাকে কীভাবে ফাঁকি দেওয়ার পথ খুঁজে বের করেছে ইরান, তা জানা দরকার।

ফু আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধে নিজেদের অপরাজেয় রাখতে আমাদের প্রতিরক্ষার দিকের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

গত কয়েক বছরে পিপলস লিবারেশন আর্মি তাদের হামলা চালানোর সক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়েছে। তারা নিজেদের অস্ত্রভান্ডারে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল–সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র (যুক্তরাষ্ট্রের) ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

চীনের লুয়াং-৩ শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস চুং-হুনের (ডিডিজি-৯৩) কাছ দিয়ে চলে যাচ্ছে। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের ডেক থেকে তোলা। তাইওয়ান প্রণালিতে। ৩ জুন ২০২৩
চীনের লুয়াং-৩ শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস চুং-হুনের (ডিডিজি-৯৩) কাছ দিয়ে চলে যাচ্ছে। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের ডেক থেকে তোলা। তাইওয়ান প্রণালিতে। ৩ জুন ২০২৩ফাইল ছবি: রয়টার্স

ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাংক আরইউএসআইয়ের তথ্যমতে, চীন তাদের বিমানবাহিনীতে দ্রুত পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার যুক্ত করছে। দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী স্ট্রাইক মোডে কাজ করার জন্য তারা প্রায় ১ হাজার জে-২০ জেট মোতায়েন করবে। এসব যুদ্ধবিমান অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫–এর সমতুল্য। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বা বি-২১–এর মতো দূরপাল্লার স্টেলথ বোমারু বিমান তৈরির কাজও চালাচ্ছে চীন।

দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী স্ট্রাইক মোডে কাজ করার জন্য চীন প্রায় ১ হাজার জে-২০ জেট মোতায়েন করবে। এসব যুদ্ধবিমান অনেকটা আমেরিকার এফ-৩৫–এর সমতুল্য।

তবে চীনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সস্তা শাহেদ ড্রোন ও স্বল্পমূল্যের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো তুলনামূলক আদিম বা সাধারণ প্রযুক্তি দিয়ে পারস্য উপসাগরে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানে এফ-৩৫ এবং বি-২–এর মতো যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি বি-১, বি-৫২ ও এফ-১৫–এর মতো যুদ্ধবিমান থেকে সস্তা ও কম উন্নত গাইডেড গোলাবারুদও ফেলা হয়েছে। এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার থেকে শুরু করে নৌযান ও সেতু—সবকিছু ধ্বংস করা হয়েছে।

চীনের সাবেক কর্নেল ফু কিয়ানশাও মনে করেন, বেইজিংকে অবশ্যই এই মিশ্র কৌশলের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানঘাঁটি ও বন্দরগুলোকে এ ধরনের আক্রমণ ও অভিযান থেকে কার্যকরভাবে রক্ষার জন্য আরও গভীরভাবে কাজ করতে হবে।’

তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের যৌথ সামরিক অভিযানে দূরপাল্লার রকেট ও ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
চিহ চুং, সহযোগী গবেষক, ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চ
 

তাইওয়ান প্রণালির পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্ভাব্য সংঘাতের কথা উঠলে তাইওয়ানকে প্রায় সময় সেই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হয়।

স্বশাসিত গণতন্ত্রিক তাইওয়ান দ্বীপকে নিজের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ‘একীভূত’ করার শপথ নিয়েছে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। এখন পর্যন্ত তারা কখনো তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণ করেনি। চীনের নেতা সি চিন পিং এই লক্ষ্য অর্জনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

তাইওয়ানের বিশ্লেষকেরা চীনের সক্ষমতা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখেন। তাঁদের মতে, চীন এমন এক সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছে, যা একদিকে উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন নির্ভুল অস্ত্রের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ। অন্যদিকে কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন দিয়ে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ইরানের মতো পারদর্শী।

তাইওয়ানের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চের সহযোগী গবেষক চিহ চুং সিএনএনকে বলেন, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের যৌথ সামরিক অভিযানে দূরপাল্লার রকেট ও ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কিন্তু তাইওয়ান প্রণালির সম্ভাব্য যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য এসব সামরিক সক্ষমতাই কি যথেষ্ট?

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও নৌযানের দৃশ্য। ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে। ১ মে ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও নৌযানের দৃশ্য। ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে। ১ মে ২০২৬,ছবি: রয়টার্স
 

বিশ্লেষকদের মতে, চীন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ড্রোন প্রস্তুতকারক। তাদের উৎপাদিত ড্রোন বা মানুষবিহীন অস্ত্রব্যবস্থার সংখ্যা বিস্ময়কর।

বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়ার অন দ্য রকস’–এ ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বেসামরিক নির্মাতারা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে তাদের কারখানাগুলোকে পুনর্গঠিত করে বছরে যুদ্ধোপযোগী ১০০ কোটি ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রাখে।

কেউ কেউ সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান এই বিশাল পরিসরে চীনের হামলা মোকাবিলা করার জন্য এখনো প্রস্তুত নয়। সরকারি নজরদারি সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর বর্তমান ড্রোন-প্রতিরোধব্যবস্থা ‘অকার্যকর’। এ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর জন্য ‘বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি’ তৈরি করছে।

চীনের বেসামরিক নির্মাতারা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে তাদের কারখানাগুলোকে পুনর্গঠিত করে বছরে যুদ্ধোপযোগী ১০০ কোটি ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রাখে।
 

বসে নেই তাইওয়ান

তবে তাইওয়ানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা ড্রোন-প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তাইওয়ানের শীর্ষ ড্রোন নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান থান্ডার টাইগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিন সু ড্রোনের ব্যাপক উৎপাদনসক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শত্রুকে মোকাবিলা করতে আমাদের দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে ড্রোন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রও শিক্ষা নিচ্ছে

উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রও শিক্ষা নিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কোনো সংঘাত শুরু হলে ওয়াশিংটন নিজেকে আক্রমণকারীর চেয়ে রক্ষণকারীর ভূমিকায় বেশি দেখতে চাইবে। এমন একটি ধারণা ক্রমশ বাড়ছে।

গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের এক শুনানিতে মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো বলেন, ড্রোন হামলাকারী পক্ষের জন্য যুদ্ধ অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

তাইওয়ান নিয়ে যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি কী হতে পারে? এ ক্ষেত্রে তাইওয়ান বা যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন ব্যবহার করে চীনের সেই সব জাহাজ বা বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যেসব জাহাজ বা বিমান লাখ লাখ পিএলএ সেনা নিয়ে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করবে। প্রতিটি জাহাজ বা বিমান এবং তার ভেতরে থাকা সেনাদের মূল্য সেই সব ড্রোনের তুলনায় অনেক বেশি, যা তাদের ধ্বংস করতে সক্ষম।

ইরান যুদ্ধে এই ‘প্রতিরোধক ফ্যাক্টর’ বা ডিটারেন্স স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে। ইরানের অসম যুদ্ধের কৌশলে সতর্ক হয়ে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে খুব কম জাহাজ পাঠিয়েছে।

অ্যাডমিরাল পাপারো তাইওয়ান প্রণালির আকাশ, জলপথ ও সমুদ্রের তলদেশ হাজার হাজার ড্রোন দিয়ে ভরে ফেলার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিশ্চয় চীনের চোখ এড়ায়নি। এর মূল লক্ষ্য হবে চীনা বাহিনীকে আটকে দেওয়া, যাতে করে পিএলএর সেনাদের জন্য তাইওয়ান অভিমুখে জলপথ পাড়ি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে কারিকুলাম নতুন করে সাজানো সময়ের দাবি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো হচ্ছে। পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় জোর দিতে হবে। 

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে কারিকুলাম নতুন করে সাজানো সময়ের দাবি। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইনোভেশন গ্র্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, উদ্ভাবনে এগিয়ে না গেলে প্রতিযোগিতারপূর্ণ বিশ্বে টিকে থাকা যাবে না।

তারেক রহমান বলেন, সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন কিছু করা সম্ভব। মেধা পাচার রোধ করে মেধা লালন করে দেশ গড়তে চায় সরকার।

এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পরে নতুন বাংলাদেশ গড়তে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষার কার্যকর বাস্তবায়তে সরকার আন্তরিক বলেও জানান তিনি।

 

বাংলাদেশের স্বনামধন্য অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্যাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের মর্যাদাপূর্ণ ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি, জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং জনস্বাস্থ্য গবেষণায় অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার গ্রহণ করবেন তিনি। সেঁজুতি সাহা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উপনির্বাহী পরিচালক। বাংলাদেশের টিকাব্যবস্থা, জিনোম গবেষণা, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ, মহামারির প্রস্তুতি ও দেশে টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মোস্তফা ইউসুফ

প্রশ্নঃ ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ কী, কারা এ স্বীকৃতি পায়?

সেঁজুতি সাহা: স্যাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট অনেক বছর ধরে একটি ‘গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড’ দেয়, যেটাকে অনেকটা লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড বলা যায়। অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী এই সম্মাননা পেয়েছেন। তবে ২০২০ সাল থেকে তারা আরেকটি পুরস্কার দিচ্ছে, সেটি হলো ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’। ৪০ বছরের নিচের বিজ্ঞানীরা এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

আমি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বৈঠকে ছিলাম। হঠাৎ স্যাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহীর ফোন আসে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বোর্ড কোনো দ্বিধা ছাড়াই পুরস্কারের জন্য আমার নাম চূড়ান্ত করেছে। স্যাবিন মূলত ভ্যাকসিন ও ভ্যাকসিনেশন নিয়ে কাজ করা মানুষদের স্বীকৃতি দেয়। কেউ গবেষণায় কাজ করেছেন, কেউ হয়তো টিকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন—এই পুরো ক্ষেত্রের অবদানের জন্যই পুরস্কারগুলো দেওয়া হয়।

প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে টাইফয়েড কনজুগেট টিকা দেওয়া। এক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কোটি শিশুকে টিকা দিতে পেরেছি। এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমাদের ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) ব্যবস্থার। স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠপর্যায়ের কর্মী, স্কুলশিক্ষক—অনেকে দিনরাত কাজ করেছেন।

প্রশ্নঃ আপনাকে কোন কাজের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?

সেঁজুতি সাহা: মূলত টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন নিয়ে ল্যাবে গবেষণার জন্য। গত বছরের ১২ অক্টোবর বাংলাদেশে একটি বড় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল
প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে টাইফয়েড কনজুগেট টিকা দেওয়া। এক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কোটি শিশুকে টিকা দিতে পেরেছি। এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমাদের ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) ব্যবস্থার। স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠপর্যায়ের কর্মী, স্কুলশিক্ষক—অনেকে দিনরাত কাজ করেছেন। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীও ছিল। আমার কাজটা ছিল তার আগের ধাপে। কোনো টিকা দেশে আনতে হলে তো প্রমাণ লাগবে কেন সেটি দরকার, কী ধরনের ঝুঁকি আছে, অর্থায়নের যৌক্তিকতা কী। সেই উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করাই ছিল আমাদের কাজ।

আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হই যে ওই মিউটেশনই অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধ তৈরি করছে। পরে বাংলাদেশে ফলাফল যাচাই করা হয় এবং বিশ্বের প্রথম অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী জিনোমের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ থেকে।
প্রশ্নঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে আপনার কাজ কীভাবে শুরু হয়েছিল?

সেঁজুতি সাহা: যদিও সিএইচআরএফ অনেক আগে থেকে টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব নিয়ে গবেষণা করে আসছে, আমরা ২০১৬ সালে টাইফয়েড জিনমিক্স নিয়ে কাজ শুরু করি। তখন অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী কিছু টাইফয়েড কেস দেখতে পাই। এটা খুবই উদ্বেগজনক ছিল। কারণ, এই অ্যান্টিবায়োটিকটি সাধারণভাবে বহুল ব্যবহৃত। এর আগে বিশ্বের কোথাও এ ধরনের প্রতিরোধের রিপোর্ট ছিল না।

আমরা জিনোম সিকোয়েন্সিং করে কিছু নির্দিষ্ট মিউটেশন খুঁজে পাই। পরে আমরা আরেকটি ল্যাবরেটরি ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে সেই মিউটেশন প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করি। বাংলাদেশে তখন সেই সক্ষমতা ছিল না, তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় সহকর্মীদের ল্যাবে কাজটি করা হয়। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হই যে ওই মিউটেশনই অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধ তৈরি করছে। পরে বাংলাদেশে ফলাফল যাচাই করা হয় এবং বিশ্বের প্রথম অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী জিনোমের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ থেকে।

একটা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস কেমন আচরণ করবে, কোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে, কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—সবকিছুর উত্তর তার ডিএনএর মধ্যে আছে। মানুষের চুলের রং, উচ্চতা বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন ডিএনএ নির্ধারণ করে, একইভাবে জীবাণুর বৈশিষ্ট্যও তার ডিএনএ নির্ধারণ করে।
প্রশ্নঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

সেঁজুতি সাহা: একটা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস কেমন আচরণ করবে, কোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে, কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—সবকিছুর উত্তর তার ডিএনএর মধ্যে আছে। মানুষের চুলের রং, উচ্চতা বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন ডিএনএ নির্ধারণ করে, একইভাবে জীবাণুর বৈশিষ্ট্যও তার ডিএনএ নির্ধারণ করে।

আমরা যখন জিনোম সিকোয়েন্সিং করি, তখন বুঝতে পারি কোন জিন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ তৈরি করছে, কোন পরিবর্তনের কারণে জীবাণু আরও সংক্রামক হচ্ছে বা কোন অংশকে লক্ষ্য করে ভ্যাকসিন তৈরি করা যেতে পারে।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কি জিনোমভিত্তিক রোগ নজরদারিব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি?

সেঁজুতি সাহা: অবশ্যই। ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় জিনোমিক সার্ভেইল্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, পরবর্তী মহামারি আবারও কোনো শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস থেকেই আসতে পারে। কোভিডের সময় দ্রুত জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে পেরেছিল বলেই বিশ্ব বুঝতে পেরেছিল এটি সার্স-কোভ-২

বাংলাদেশেও যদি নিয়মিতভাবে হাসপাতাল ও কমিউনিটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিকোয়েন্সিং করা যায়, তাহলে আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারব কোন ভাইরাস ছড়াচ্ছে, কোনটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, কতটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এর জন্য প্রথমেই দরকার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব, চিকিৎসক, রিপোর্টিং সিস্টেম—সবকিছুকে যুক্ত করতে হবে। যুক্তরাজ্যে যেভাবে কোনো ল্যাবে টাইফয়েড জীবাণু শনাক্ত হলেই সেটি সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় কিছু জিনমিক্স ল্যাবে পাঠানো হয় সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য, আমাদেরও সে ধরনের ব্যবস্থা দরকার।

আমরা টাইফয়েড সৃষ্টিকারী জীবাণু সালমোনেলা টাইফির জিনোম সিকোয়েন্সিং স্টাডিগুলোর একটি করেছি বাংলাদেশে বসে। এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা নীতিনির্ধারকদের দেখাতে পেরেছি জীবাণুগুলো কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক–প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, কী ধরনের মিউটেশন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এখনো বাংলাদেশের অনেক টাইফয়েড রোগী ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু যদি এমন সময় আসে, যখন এসব অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না, তখন সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করে ইনজেকশন দিতে হবে। সেটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা আগেভাগেই সেই ঝুঁকি বুঝতে পারছি। সত্যি বলতে, কেউ বিশ্বাস করত না বাংলাদেশে বসে আমরা এটা করতে পারব। বিদেশি ল্যাব বা সহকর্মীদের অনেকেই বলতেন, স্যাম্পল পাঠিয়ে দাও, আমরা কম খরচে করে দেব। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, স্যাম্পল বাইরে পাঠাব না। দেশে বসেই করব। খরচ বেশি হবে, কষ্ট বেশি হবে, তবু নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তুলব।

আজ এই স্বীকৃতি আসলে শুধু আমার নয়, এটা বাংলাদেশের। এটা আমাদের প্রতিষ্ঠানের। কারণ, একসময় কেউ আমাদের বিশ্বাস করেনি, কিন্তু এখন বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে—আমরাও পারি।

বাংলাদেশেও যদি নিয়মিতভাবে হাসপাতাল ও কমিউনিটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিকোয়েন্সিং করা যায়, তাহলে আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারব কোন ভাইরাস ছড়াচ্ছে, কোনটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, কতটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রশ্নঃ সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সেঁজুতি সাহা: আপনাকেও ধন্যবাদ।