আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মাধ্যমিক স্তরে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে নতুন কিছু বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি কয়েকটি বইয়ে ব্যাপক পরিমার্জন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ইতিহাস বিষয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা নতুন করে যুক্ত হচ্ছে।

একই সঙ্গে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়িয়ে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ও পুরোনো বই পরিমার্জন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দময় শিক্ষা এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক নতুন বই যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণির কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষাবিষয়ক বইয়ে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যাপক পরিমার্জন করা হচ্ছে।

এনসিটিবির সূত্র আরও জানায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ে বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও নবম শ্রেণির বইয়ে তুলনামূলক বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। বিভিন্ন পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বলেন, পাঠ্যবই প্রতিবছরই কমবেশি পরিমার্জন হয়। এবার যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে পরিমার্জনের কাজটি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় সারা দেশের প্রায় ৩২০ জন শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের বইগুলো পরিমার্জন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) প্রাথমিকের বইগুলো পরিমার্জনের কাজ শুরু হবে।

এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার সে সময় বিদ্যমান নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জন শুরু করে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। পরে চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়টিও পাঠ্যসূচিতে স্থান পায়।

সরকার প্রতিবছর প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই বিনা মূল্যে দিয়ে থাকে। প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর জন্য আগামী বছর ৩০ কোটির মতো বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছরের সব পাঠ্যবই চলতি বছরের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তারা। এতে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে।

 

ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব বিষয়। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে। কোনো অঙ্গরাজ্য নয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে বাংলাদেশের।

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে লবণচাষীদের জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তে অস্থিরতার যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো সেখানকার পুরনো কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তে বেড়া দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই বেড়া নির্মাণের জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি হস্তান্তরের কথাও জানান তিনি।

এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে লবনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি লবনচাষীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে ভাবছে সরকার।

বিআরটিএর সরবরাহ করা নির্ধারিত নিবন্ধন নম্বর প্লেট ব্যবহার না করা যানবাহনের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহ থেকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

আজ সোমবার ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার–নির্ধারিত রং, নকশা ও আকারের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগানো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক যানবাহনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সরবরাহ করা নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে না। অনেকে নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ বিআরটিএর নিবন্ধন নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু রং দিয়ে গাড়ির নম্বর লিখে যানবাহন চালাচ্ছেন।

সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার–নির্ধারিত রং, নকশা ও আকারের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগানো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের অর্থ পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। এ ছাড়া অনেক যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে লাগানো আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে। এতে মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

ডিএমপি যানবাহনের মালিক ও চালকদের বিআরটিএর সরবরাহ করা নির্ধারিত নকশা, রং ও আকারের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে থাকা আরএফআইডি ট্যাগ কার্যকর আছে কি না, তা নিশ্চিত করার অনুরোধও করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী সপ্তাহ থেকে বিআরটিএর সরবরাহ করা নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএমপি।

আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে আগামী ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেছেন, এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিআরটিএ এর ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০ জন নির্বাহী হাকিমকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।

সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং অনিয়ম প্রতিরোধে রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের সব বাস টার্মিনালে বিশেষ ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং টিম গঠন করার কথা বলেন তিনি।

শেখ রবিউল আলম জানান, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদ পরবর্তী তিন দিন প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও নিয়োজিত রাখা হবে।

ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিআরটিসি ঢাকা মহানগরী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিশেষ ঈদ সার্ভিস পরিচালনা করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত স্ট্যান্ডবাই বাস প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া পিক আওয়ারে যাত্রীচাপ বিবেচনায় মেট্রোরেলের হেডওয়ে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর স্থাপন, ব্ল্যাক স্পটসমূহে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষ মেডিকেল টিম পেশাজীবী চালকদের ডোপ টেস্ট পরিচালনা করবে।

সভায় শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর অধিক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ তদারককারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনা শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব নয়। হাইওয়ে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, বিআরটিএ, এলজিআরডিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। দায় নিতে আমাদের সমস্যা নেই কিন্তু সবকিছু যে আমার একার নিয়ন্ত্রণে নয়, সেটাও বুঝতে হবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩৮৪ জন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ঈদুল ফিতরের ১১ দিনে সারা দেশে ১৭০ জন নিহত হন। এর মধ্যে হাইওয়েতে নিহত হন ৪৩ জন। মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ, ব্যাটারিচালিত যানবাহন এবং ছোট রাস্তা থেকে সরাসরি ৯০ ডিগ্রিতে মহাসড়কে ওঠা দুর্ঘটনার বড় কারণ। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এসব সংযোগপথকে ‘লেফট লেন’ পদ্ধতিতে আনার কাজ শুরু হয়েছে।

অন্যদের মধ্যে রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক-সহ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করার পরিকল্পনার কথা জানালেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি।’

আজ সোমবার সচিবালয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত এক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী পদ্মা সেতু নিয়ে এ কথা বলেন। এ সময় ঈদে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, গতবার ঈদযাত্রায় যে ব্যত্যয়গুলো হয়েছিল, এবার আরও অধিক মনোযোগী হয়ে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সেটা কীভাবে নিরসন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই আজকের সভা করা হয়েছে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘হ্যাঁ, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটা—তিনটি প্রস্তাব আছে। তার এক নম্বর প্রস্তাব আপনি যেটা বলেছেন ওই রুটে। আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি বলব আমি এই মুহূর্তে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট (ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে)। অর্থায়নের জায়গাটা নিয়ে ভাবছি, কথা বলছি। আর ধরেন অন্যান্য প্রাক্‌-প্রস্তুতি চলছে।’

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে স্থাপিত বর্তমান পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০২২ সালে এই পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হয়।

ফেনী ও পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া দুই কর্মকর্তাকে সম্প্রতি প্রত্যাহার করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

দুজন হলেন- ফেনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

সোমবার (১১ মে) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত পৃথক দুই আদেশে তাদের প্রত্যাহার করা হয়।

আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (পুলিশ সুপার ফেনী হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত) মাহবুব আলম খান ১০ মে-এর মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। আরেক আদেশে বলা হয়, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে ১০ মে-এর মধ্যে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন।

গত ৫ মে দেশের ১২ জেলার পুলিশ সুপার পদে রদবদল করা হয়।

সিএমপির উপ-কমিশনার মাহবুব আলম খান ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

দুই হত্যা মামলার এ আসামির নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে ৭ মে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটে তার নিয়োগ বাতিল, সাময়িক বরখাস্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে এ রিট করেন।

 

সততা-মেধা-দক্ষতাই পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূল নীতি হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদই কারো জন্য চিরকাল সংরক্ষিত থাকে না। পুলিশ প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু পদ নয়, বরং প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কর্মকর্তা যে পজিশনেই দায়িত্বরত থাকুন না কেন, প্রশাসনের সকল পদে কাজ করার পেশাদার মানসিকতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের প্রত্যাশা করলে তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস হয়ে যায়। নিজের চাহিদা অনুযায়ী পোস্টিং পেলে সাময়িকভাবে তুষ্ট হওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু এটি প্রফেশনালিজমের পরিপন্থী। তাই আহ্বান থাকবে, যার যেখানে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সেই কাজটি গুরুত্বসহকারে পালন করুন। তবেই আমরা একটি দক্ষ, গতিশীল এবং পেশাদার পুলিশ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারবো। 

তিনি বলেন, সারাদেশের মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপনারা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। আপনাদের ওপর অর্পিত এই দায়িত্ব যদি সফলভাবে পালনে সক্ষমতার পরিচয় দেন, তবে আমি বিশ্বাস করি একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা একধাপ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবো।

তারেক রহমান বলেন, কৌশলী ও ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ও নির্ভরতা সৃষ্টি হলে ৫ আগস্ট পরবর্তী মব ভায়োলেন্স-এর মতো সমস্যাগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। 

তিনি বলেন, গত দেড়-দুই বছরে এমন অনেক পরিস্থিতি আপনারা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের কাছে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই সরকার পুলিশ বাহিনীকে এমন এক রূপে দেখতে চায় যেখানে পুলিশ হবে সত্যিকারের জনবান্ধব এবং মানুষের আস্থার প্রতীক। সাধারণ মানুষ যেন পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের দর্পণ বা আয়না হিসেবে দেখতে পায়। সুতরাং পুলিশ প্রশাসনের সাফল্য মানেই সরকারের সফলতা। একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে আপনাদের ভূমিকা অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অপশাসনের বিরুদ্ধে কোনো আপস করতে চায় না। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়; যে বা যারা অপরাধে লিপ্ত হবে, তাদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন। কোনো ব্যক্তি বা দল আপনাদের পরিচয় নয়, বরং আপনারাই আইনের রক্ষক। আপনারা রাষ্ট্র এবং জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এরপর তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরণ বদলে যাওয়ায় পুলিশের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। এটি এখন আর শুধু শহর বা জেলার সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। একারণেই প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বহুমুখী দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের যেকোনো দেশে সরকারের সাফল্যের জন্য দক্ষ, সাহসী, সৎ ও নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূল নীতি। এই নীতি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পুলিশের দায়িত্ব যেহেতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না এবং দিন-রাত এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়, তাই পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।

তারেক রহমান এরপর বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে আপনাদের উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতে হয়, যা দায়িত্বেরই অংশ। বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। তবে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা কোনো প্রকার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ-এর প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। এ নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।

 

মঞ্চে একে একে ডেকে বসানো হলো মায়েদের। আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাঁরাই। সামনে দাঁড়িয়ে সন্তানেরা হাতে তুলে দিলেন ফুল। তারপর উচ্চারণ করলেন, ‘মা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ কারও চোখ ভিজে উঠল, কেউ সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, কেউবা মৃদু হেসে বললেন, ‘আমিও তোমাকে ভালোবাসি।’

বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে এমন আয়োজন করে প্রথম আলো রাজশাহী বন্ধুসভা। গতকাল রোববার বিকেলে নগরের একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠান। আয়োজনের শিরোনাম ছিল—‘যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক, আমি তোমায় ছাড়ব না মা।’ বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল গান, কবিতা, স্মৃতিচারণা ও মায়েদের প্রতি ভালোবাসা জানানোর নানা আয়োজন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহানের (নুরী) মায়ের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ২ মে তাঁর মা মারা যান।

স্বাগত বক্তব্যে বন্ধুসভার সভাপতি সোহান রেজা বলেন, ‘পৃথিবীর যে প্রান্তেই মা থাকুক, সব মা-ই তো বন্ধু। আমার মা, তোমার মা বলে কথা নেই—মা তো মা-ই। আল্লাহ–তায়ালা পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় নিয়ামত হিসেবে আমাদের মা-কে দিয়েছেন। যাঁদের মা এখনো বেঁচে আছেন, তাঁরা যেন তাঁদের যথাযথ সম্মান দিতে পারি।’

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ ছিল মায়েদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো। ডাকা হলো তাহামিনা আক্তারকে। সবার সামনে মাকে উদ্দেশ করে তিনি বললেন, ‘মা, আমি তোমাকে অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি।’

ফুল দিয়ে আরিফুল ইসলাম বললেন, ‘মা, আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।’ মহিমা ইসলাম বললেন, ‘মামনি, আমি তোমাকে লবণের মতো ভালোবাসি।’ পলিনা রানী সাহা মায়ের হাতে ফুল তুলে দিয়ে বলেন, ‘মা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক মা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘সন্তানদের কাছ থেকে “মা তোমাকে ভালোবাসি” কথাটা শোনা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি চাই, সব সন্তান যেন বাবা-মায়ের প্রতি এমন শ্রদ্ধাশীল থাকে।’ আরেকজন মা বলেন, ‘আমার মেয়ে আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে, আমাকে ফুল দিয়েছে, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি দোয়া করি, পৃথিবীর সব সন্তান যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।’

একজন মা বলেন, ‘আমরা ইয়াং মায়েদের সবাই ভালোবাসি। কিন্তু বৃদ্ধ মাকে অনেক সময় ভালোবাসি না। আমি সব সন্তানকে বলব, বৃদ্ধ মাকে ভালোবাসার জন্য মন তৈরি করো। মা ডাক শোনার যে কী আনন্দ, সেটা মা ছাড়া কেউ বুঝবে না।’

মা-কে নিয়ে গান পরিবেশন করেন আনোয়ার হোসেন সজল, মালিহা ফারজানা রিশিতা, ফাহিম ও সোহান রেজা। কবিতা আবৃত্তি করেন মুসলেমা সুলতানা মৌসুমি ও জাহানারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি।

আজ সোমবার বেলা ১১টার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি এ তথ্য জানান।

শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামির পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)। তিনি বলেন, সকালে সহকারী প্রক্টর তাঁকে পদত্যাগপত্র কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথা ফোনে জানিয়েছেন। তিনি একটি সভায় রয়েছেন। তাই পদত্যাগপত্রে কী কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা এখনো জানেন না বলে জানান।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে শেহরীন আমিন জানান, শিক্ষকতা জীবনের সাত বছরে কখনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। তবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদের আহ্বানে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব নিতে সম্মত হন। তিনি জানান, একজন তরুণ শিক্ষক হিসেবে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত সম্মানের।

 

শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি লেখেন, ‘গত দুটি বছর আমি সাইফুদ্দীন স্যারের কাছে থেকে শিখেছি কীভাবে একজন প্রক্টরকে অতিমানব মাত্রার ধৈর্য ধরতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি কীভাবে হাসিমুখে নির্বিকার থেকে ট্যাকেল দিতে হয়। সর্বোপরি কীভাবে নিজের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখতে হয়।’

জুলাই এবং জুলাই–পরবর্তী সময় আদৌ এই দেশে আর আসবে কি না, জানেন না বলে ওই পোস্টে লেখেন শেহরীন আমিন। তিনি লেখেন, ‘সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো প্রক্টর ও তার টিম এমন সিচুয়েশন ফেস করেনি, প্রবাব্লি করবেও না।’

গতকাল রোববার (১০ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন। চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন) ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানান।

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৮ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব পান অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ।

নাটোরে চলতি মৌসুমে গাছ থেকে আম ও লিচু সংগ্রহ এবং বাজারজাতকরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে ১৫ মে থেকে আম এবং ১৭ মে থেকে লিচু সংগ্রহ করা যাবে। আজ সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন এ তথ্য জানান।

বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ফল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনসংক্রান্ত প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, ১৫ মে থেকে গুটি, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ, আগামী ১৫ জুন থেকে ল্যাংড়া ও আম্রপালি, ২৫ জুন থেকে মোহনভোগ ও হাড়িভাঙা, ৩০ জুন থেকে ফজলি, ৫ জুলাই থেকে মল্লিকা, ১৫ জুলাই থেকে বারি-৪, ২০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১০ আগস্ট থেকে গৌড়মতি আম গাছ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

এ ছাড়া ১৭ মে থেকে মোজাফফর জাতের এবং ২৫ মে থেকে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু সংগ্রহ করা যাবে।

সভায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ফল সংগ্রহ, বিপণন ও পরিবহনে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং ক্রেতাপর্যায়ে নিরাপদ ফল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি চাষি ও ব্যবসায়ীদের আম ও লিচুতে রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, পরিপক্ব ফল সংগ্রহ ও কষজনিত পচন ঠেকাতে বোঁটাসহ আম পাড়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ফল উৎপাদনে ব্যাগিং পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নাটোরে চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর আমবাগান থেকে ৬৮ হাজার ৩১৬ টন আম এবং ৪ হাজার ৮৮৭ হেক্টর লিচুবাগান থেকে ৭ হাজার ৫৪০ টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সভায় আমচাষি, ব্যবসায়ী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে আরও ৬টি শিশু মারা গেছে। মৃত শিশুদের মধ্যে কারও হাম শনাক্ত হয়নি।

এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ৩৪১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হামের উপসর্গে ঢাকায় ৩, চট্টগ্রামে ২ ও ময়মনসিংহে ১ শিশু মারা গেছে।

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৬৫ শিশু। এ পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৪১৫ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮০ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৩১ হাজার ৯৯২ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

১৫ মার্চ থেকে দেশে ৬ হাজার ৯৩৭ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নিরাপদ পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং বিদ্যমান বিতরণব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

প্রকল্পটির নাম ‘ইমার্জেন্সি ওয়াটার সাপ্লাই ইন ঢাকা সিটি’। বর্তমানে নির্মাণাধীন বড় বড় ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার চালুর আগ পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণ ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে এটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রস্তাবিত প্রকল্পটি আগামী ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি (ঢাকা ওয়াসা)।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এরই মধ্যে সর্বশেষ বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য (সচিব) এস এম শাকিল আখতার বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, সর্বশেষ একনেক বৈঠকে ঢাকা ওয়াসাকে ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থা, পানি পুনর্ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটির তিনটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে। এগুলো হলো: ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরের বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা; দৈনিক অতিরিক্ত ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি) পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশন (স্কাডা) ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে পাম্প পরিচালনা ও পানি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করা।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে প্রায় ২ হাজার ৯৭৭ এমএলডি পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। এই পানি ঢাকা ও আশপাশের প্রায় ২ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করছে।

কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মোট পানি উৎপাদনের ৬৬ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ৩৪ শতাংশ আসে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে।

তারা আরও বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের কারণে মাথাপিছু পানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে রাজধানীর পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কের ওপর চাপও বাড়ছে। ২০২৯ সালের মধ্যে ঢাকায় পানির চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৮ এমএলডিতে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা ধীরে ধীরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে।

এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৫০০ এমএলডি সক্ষমতার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার (ফেজ-১) এবং ৪৫০ এমএলডি সক্ষমতার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩) নির্মাণাধীন রয়েছে। এগুলো যথাক্রমে ২০২৬ ও ২০২৮ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

এসব শোধনাগার চালু না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রকল্পটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে পানি উৎপাদন সচল রাখা এবং নগরবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩৬১ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন। এ ছাড়া পাম্পের কার্যকারিতা, স্বয়ংক্রিয়তা এবং পানি সরবরাহের তাৎক্ষণিক তদারকি উন্নত করতে ৪৫০টি পাম্প মোটর সেট, ৪৫০টি ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ (ভিএফডি) এবং ১২৪টি স্কাডা সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হবে।

পাশাপাশি ৬০টি গভীর নলকূপ সংস্কার এবং ২৮০টি পুনরায় সচল করা হবে। পানির মান উন্নয়নে ৪৪টি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে নির্মাণ করা হবে ২৫০টি পাম্প হাউস।

সঞ্চালন ও পরিচালনাগত নির্ভরযোগ্যতা জোরদারে প্রকল্পের আওতায় ৪৮০টি পাম্প ডেলিভারি লাইন, ২৮ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক ক্যাবল এবং ৪০ হাজার মিটার কলাম পাইপ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি অবকাঠামো ও পরিচালন সুবিধা সুরক্ষায় প্রায় ৭ হাজার ১৫০ মিটার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটির কারিগরি ও পরিচালনগত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে।

২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠকে প্রকল্প প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে কিছু পর্যবেক্ষণ মেনে চলার শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বড় পানি শোধনাগারগুলো চালু না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার পানি সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

সূত্র: বাসস