রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে উত্তাল পুরো দেশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কঠিন শাস্তির দাবি নিয়ে আজ পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

শুক্রবার (২২ মে) বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। আজ দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।

ঘটনাস্থলে স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, তার স্বামী রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং গলা কেটে হত্যা করে। রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা কাটে।

এছাড়া যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এরপর জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। সোহেল আত্মগোপনে চলে গেলেও সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, সোহেল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে অজ্ঞাত আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন।

শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত সেখানে গেলেও তার আগেই সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে এরই মধ্যে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে এশার নামাজ শেষে তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

 

সুন্দরবনে পৃথক দুটি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।

শুক্রবার (২২ মে) কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কর্মকর্তা লে. শেখ সাদমান বিন মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে সপ্তম বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা মোট ২১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীরে প্রবেশ করলে ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। জিম্মি জেলেদের নিয়ে ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা কয়রা থানার আন্দারমানিকের টোটা, কেওড়াতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল।

এ সময় গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) ভোর ৪টায় কোস্টগার্ড স্টেশন কয়রা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা সুন্দরবনের ভেতরে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাত দয়াল বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ১০ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানার সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই দিনে বিকেল ৫টায় কোস্টগার্ড বেইস মোংলা এলাকায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে আভিযানিক দল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজসহ ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ১১ জন জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণভাবে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

 

ঢাকা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির হাট। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি এবার আড়াই হাজার বাণিজ্যিক খামারের পালন করা পশু সারা দেশের হাটগুলোতে বেচাকেনা হবে। তবে বাণিজ্যিক খামারের পশুর বড় অংশের বেচাকেনা হবে রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে। পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি চলছে।

এই ইতিবাচক রূপান্তরের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ধামর এলাকার খামারি এম এ মাকসুদ রাসেল। তাঁর ‘রাবিবা অ্যাগ্রো’ খামারে এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৪৫টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২৮টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। সর্বনিম্ন ৩ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দরে প্রতিটি গরু বিক্রি করে রাসেলের মুখে এখন সফলতার হাসি। এক থেকে তিন বছর ধরে পরম যত্নে লালন-পালন করা এই পশুগুলোর পেছনে খাবার, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের খরচ আগের চেয়ে বেশি হলেও, দিন শেষে ভালো লাভেই এগুলো বিক্রি করতে পেরেছেন বলে জানান মাকসুদ রাসেল। আট বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রাসেলের খামারে বর্তমানে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন এবং তাঁর এই উদ্যোগ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হৃষ্টপুষ্টকরণ শ্রেণিতে নিবন্ধিত বলেও জানান তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে নিবন্ধিত গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণ খামার রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। দুগ্ধ খামার রয়েছে প্রায় ৮২ হাজার। ছাগলের খামার রয়েছে প্রায় ছয় হাজার। ভেড়ার খামার রয়েছে প্রায় চার হাজার। আর মহিষের খামার রয়েছে ১৫০টি।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের পাশাপাশি বড় শিল্প গ্রুপও গবাদিপশু লালন–পালনে বিনিয়োগ করছে। যেমন নাবিল গ্রুপ এবার কোরবানির ঈদের জন্য প্রাণী প্রস্তুত করেছে। নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, এবার কোবানির হাটে তাঁরা প্রায় ২৫০টি গবাদিপশু সরবরাহ করেছেন।

বিদেশ থেকে পশু আসা বন্ধের পর থেকেই দেশে বাণিজ্যিক গবাদিপশুর খামার গড়ে উঠেছে। এতে বড় ভূমিকা রাখছে বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু পালন করা খামারগুলো।

সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, অতীতে সীমান্তঘেঁষা কিছু হাটের মাধ্যমে বিদেশি পশু প্রবেশ করায় দেশীয় খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ পরিস্থিতি বন্ধে বর্ডার এলাকায় হাট না বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ১৮ মে বলেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং স্থানীয় উৎপাদনব্যবস্থাকে টেকসই করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের খামার শাখার উপপরিচালক মো. শরিফুল হক বলেন, যাঁরা আধুনিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু লালন–পালন করছেন তাঁরা লাভবান হচ্ছেন। তাঁরা কোরবানিতে বড় অবদান রাখছেন।

ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উদ্যোক্তারা গবাদিপশু লালন–পালনে যুক্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে শরিফুল হক বলেন, দেশে এখন আধুনিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু লালন–পালন লাভজনক। ফলে অনেকের এখানে কর্মসংস্থান হচ্ছে। তা ছাড়া এখানে অনেক উপখাত তৈরি হচ্ছে, সেখানেও কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি-বদলির নামে প্রতারণার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর ডিবি পুলিশ।

শুক্রবার (২২ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতারকৃত নিলুফা সুলতানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখা-২ এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও আনিসুর রহমান শান্ত তার সহযোগী।

ডিবি জানায়, নীলুফার সুলতানা ও আনিসুর রহমান শান্ত দুজন মিলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পদোন্নতির কাজ করতেন। তাদের দুজনের মোবাইল ফোন পুলিশ জব্দ করেছে। সেগুলোর ফরেনসিক রিপোর্টের পর কতজন এখন পর্যন্ত তাদের সাথে লেনদেন করে বদলি হয়েছে সে বিষয়টি জানা যাবে।

এই ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ডিবি।

 

 

 

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাংয়ে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন সদর দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) পানছড়ি উপজেলার বাবুরাপাড়া ও করল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। 

সেনাবাহিনী জানায়, বাবুরাপাড়া ও করল্যাছড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ (মূল) ও জেএসএস (মূল) এর সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে খাগড়াছড়ি সদর সেনা জোনের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে সেনাসদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ফায়ার করে। পরে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

সেনাবাহিনী আরও জানায়, অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১টি চায়না রাইফেল, ২৭৪ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি এফসিসি এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। একইসাথে ঐ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় কোনো সেনা সদস্য হতাহত হননি।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সদর জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খাদেমুল ইসলাম জানান, জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের স্থান দেওয়া হবে না। জনসাধারণের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন গুলশান সোসাইটির সদস্যরা।

আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর গুলশান দুই নম্বর গোলচত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এমন হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটবে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব এ ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবারই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এর পেছনে বিচারের দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করেন তারা। আর এজন্যই শিশু রামিসার ওপর বর্বর নির্যাতন ও হত্যাকারীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত ও কার্যকরের দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার করা হয়।

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে বিক্ষোভ করেছে উত্তেজিত জনতা। অভিযুক্তকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে শত শত মানুষ রাস্তা অবরোধ ও পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ সময় সংঘর্ষ ও গুলিতে একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটার বিসমিল্লাহ ম্যানশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে ওই ভবনের সিঁড়িঘরে চার বছরের শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করতে বাকলিয়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তারা আসামিকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের আদলতে বিচার করার দাবি জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ সদস্যরা পিছু হটে অবস্থান নেন। উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত আটটার দিকে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ শুরু করে। তবে রাত নয়টা পর্যন্ত পুলিশ ও স্থানীয়রা মুখোমুখি অবস্থানে ছিল এবং পুলিশ আসামিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যেতে পারেনি। টিয়ার শেলের ধোঁয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শিশু নির্যাতনের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তবে জনতাকে শান্ত করে আসামিকে হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আট বছরের শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঢাকার পল্লবী এলাকায় শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রেস উইং জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ছিলেন।

স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই শিশুকে গত মঙ্গলবার পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়া নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সকালে শিশুটি বাসা থেকে বের হওয়ার পর ফুসলিয়ে তাকে পাশের ফ্ল্যাটে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ওই ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ দুজনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরেক ব্যক্তিকে আসামি করে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন তার বাবা।

সোহেল রানা গতকাল ঢাকার আদালতে এ ঘটনায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পরমাণু ইস্যু ঘিরে শক্ত অবস্থান নিয়েছে ইরান। নিজেদের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে যেতে দেবে না তারা। তেহরানের এ অবস্থান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির ক্ষেত্রে একটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদিও চুক্তির লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই জবাবের পর্যালোচনা চলছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করে। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এরপর যুদ্ধে স্থায়ীভাবে বন্ধে মাত্র একবার বৈঠকে বসেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। যদিও সেখান থেকে ইতিবাচক কিছু আসেনি। এর পর থেকে চুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব আদান–প্রদান চললেও আশার কোনো খবর শোনা যায়নি।

একটি চুক্তির ক্ষেত্রে দুই পক্ষের বিরোধগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চায় নিজেদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করুক তেহরান। এ নিয়ে ইরান সরকারের আপত্তি রয়েছে। এরই মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোতজবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যেন বিদেশে পাঠানো না হয়।

মোজতবা খামেনির এ নির্দেশের কথা রয়টার্সকে জানিয়েছে দুটি ইরানি সূত্র। তারা বলেছে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, একবার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে দিলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বড় ঝুঁকিতে পড়বে তেহরান। এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এর পরিমাণ ৪৪০ কেজির বেশি। এগুলো পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাত্রার কাছাকাছি। যুদ্ধের আগে ইরান জানিয়েছিল, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অর্ধেক বিদেশে পাঠিয়ে দিতে রাজি তারা। তবে সূত্র বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হুমকির মুখে সে সিদ্ধান্ত বদলেছে তেহরান।

এমনকি গত বুধবারও ইরানের আবার হামলা চালানো হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, একটি চুক্তি করতে ইরানের জবাবের অপেক্ষা করতে রাজি তিনি। তবে আবার হামলাও শুরু করতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, আমরা যদি সঠিক জবাব না পাই, তাহলে খুব শিগগির তা (হামলা) করা হবে। আমরা (ইরানের দিকে) যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত।’

এর আগে চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেরি বলেছেন, ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের হুমকির জবাবে রুশ গণমাধ্যমের কাছে ইরানি এক কর্মকর্তা পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে এ–ও বলেছে, তাদের কাছে এমন অস্ত্র রয়েছে, যেগুলো অত্যাধুনিক এবং আগে যুদ্ধে পরীক্ষা করা হয়নি।

তবে এমন সংঘাত যেন আর শুরু না হয়, সে জন্য তেহরানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মধ্যস্থাকারী দেশ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তাঁর লক্ষ্য হলো দুই পক্ষে মধ্যে মতবিরোধগুলো কমিয়ে আনা এবং একটি সমঝোতার পথ তৈরি করা।

রয়টার্সআল–জাজিরা

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যাংকের অটোমেটেড টোলার মেশিন  বা এটিএম বুথ নিয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি)-২ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঈদের সময় গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখতে হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন-পেমেন্ট গেটওয়ে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক এটিএম সেবা নিশ্চিত করা, এটিএম বুথে কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধান করা এবং পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি বুথে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বুথ পরিদর্শন করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে পয়েন্ট অব সেলের (পিওএস) ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক পিওএস ও কিউআর কোড সেবা নিশ্চিত করা এবং জালজালিয়াতি রোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহককে সচেতন করারও নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন-পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনের ক্ষেত্রে টু ফ্যাক্টর অথেনটিফিকেশন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। একই সঙ্গে এমএফএস সেবায় সব ব্যাংক বা তাদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেনের ব্যবস্থা ও এজেন্ট পর্যায়ে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ঈদের ছুটিকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহক হয়রানির শিকার রোধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন সহায়তা প্রদানের কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়। যে কোনো অঙ্কের লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস এলার্ট সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে।

এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক, সব মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিতে পারস্পরিক আস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাজের সমন্বয়কে বড় শর্ত বলে উল্লেখ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে পার্বত্য এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন। তিনি পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দলের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার প্রথম আলো কার্যালয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জীবিকায়নের ধরন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল যৌথভাবে আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্রথম আলো। সহযোগিতায় ছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

মন্ত্রী মনে করেন, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পর্যটন খাতকে থামিয়ে রাখা বা বিদেশি দাতা সংস্থাদের নিরুৎসাহিত করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ,বিজিবিসহ সব বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তাঁর মতে, পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার অর্জন করতে হলে এই খাতকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে। নিরাপত্তার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে দপ্তরের কাজের সমন্বয় বাড়াতে হবে।

পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে অনেক আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও দাতাদেশ কাজ করতে আগ্রহী হলেও নানা জটিলতায় সেটা হচ্ছে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এনজিও বা বিদেশি সংস্থা পার্বত্য অঞ্চলে ঢুকলে একধরনের নেতিবাচক ও সন্দেহপ্রবণ মনোভাব তৈরি হয়। এমন ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। এ ছাড়া ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচের কারণে জুমচাষিদের বিষয়গুলোও ইতিবাচকভাবে বিকশিত হতে পারছে না।

মন্ত্রীর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদগুলোকে উন্নয়নকাজে সম্পৃক্ত করার কথা। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে আঞ্চলিক পরিষদকে গুরুত্ব না দিলে কাজ হবে না। এ কাজে জেলা পরিষদগুলোকে সম্পৃক্ত করতেই হবে।

১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ। গঠিত হয় তিন জেলা পরিষদ। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতার বিবেচনায় এই তিন জেলা পরিষদকে অনেক স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ মডেল হিসেবে বিবেচনা করেন। যে চুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে, সেই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়েও আজ কথা বলেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, চুক্তি সম্পাদনকারী যে দল, তাদের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনায় বসতে হবে।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করে পাহাড়ের আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। ফলে পাহাড়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা সশস্ত্র আন্দোলনের অবসান হয়।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জীবিকায়নের ধরন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জীবিকায়নের ধরন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা

অচিরেই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ঘোষণা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের সমালোচনা ও সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে আজ দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সংস্থারর ইতিবাচক কাজের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে যথাযথ তদারকি বা ‘মনিটরিং’ না থাকায় দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অনেক ক্ষেত্রে অপচয় বা আত্মসাৎ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের স্থায়িত্বের মূলে রয়েছে ‘পারস্পরিক আস্থা’।

পার্বত্য অঞ্চলকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বা ভিন্ন কোনো নেতিবাচক আঙ্গিকে না দেখে, এর অধিকার ও স্বাধিকার রক্ষা করে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আস্থা ও সমন্বয়’—এই দুটি নীতিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এই অঞ্চল এক বিশাল এবং উজ্জ্বল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় সহযোগী সংগঠনগুলো একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানান মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

শাহীন আনাম জানান, এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিকূল পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও পানির সংকট মোকাবিলা করে জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল ২০ হাজার পরিবারকে স্বাবলম্বী করাই মূল লক্ষ্য।

শাহীন আনাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাঙা রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান। পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, ঐতিহ্য ও অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকল্প শেষেও যেন এই টেকসই উন্নয়ন বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট কাউন্সিলর এডউইন কোয়েক কোয়েক পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নে যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন, অসমতা দূরীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইইউর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন। সেখানে আরও বক্তব্য দেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদা, ডেলিগেশন অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন টু বাংলাদেশের রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মেহের নিগার ভূঁইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চঞ্চু চাকমা, রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের লাইভলিহুডস অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের চিফ বিপ্লব চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলহাস আহমেদ, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, পিআরএলসি প্রকল্পের সুবিধাভোগী কাজলী তঞ্চঙ্গ্যা, দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র সাংবাদিক জাগরণ চাকমা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রজেক্টের কো–অর্ডিরেটর নিখিল চাকমা।