জমিজমা সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ কারণে প্রচলিত আইনে বাইরে গ্রাম আদালত বা বিকল্প বিরোধ আইনের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে তিনদিনের ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পথ আলোচনা, মধ্যস্থতা বা সালিশ কিংবা সমঝোতার মাধ্যমে কার্যকর করা গেলে একদিকে আদালতে বিচারাধীন মামলার জট কমবে, অপরদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করাও সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়েই নয়, প্রতিটি জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়েই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায় সরকার। বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে মানুষের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায় বর্তমান সরকার। এজন্য সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি ওয়াদা বাস্তবায়নে মনোযোগী বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের আরও ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এবং একই সাথেচ নাগরিকদের হাতের মুঠোয় ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভূমি’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর করা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও খুব সম্ভবত তত বেশি সহজ হয়ে যায়। জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমিজমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকাংশেই লাঘব পাবে। একই সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে।

ঢাকা

বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ৫৩টি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ও হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

সোমবার (১৮ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এরমধ্যে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ২৪টি ও হাতিরঝিল থানা ২৯টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের নিকট বুঝিয়ে দিয়েছে।

ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা সূত্রে জানানো হয়, বিভিন্ন কারণে মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মোবাইল মালিকদের সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত কয়েকদিনে ২৪টি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করে।

তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়ার উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত ২৪টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে ডিএমপির হাতিরঝিল থানা সূত্রে জানানো হয়, তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের  উপস্থিতিতে গত কয়েকদিনে উদ্ধারকৃত ২৯টি ফোন প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এইসব মোবাইল ফোন বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে গিয়েছিলো এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে থানায় জিডি করা হয়েছিল। হাতিরঝিল থানা পুলিশ জিডিমূলে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনসেটগুলো দ্রুততম সময়ে ফিরে পেয়ে আনন্দিত মোবাইল ফোন মালিকরা পুলিশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রিয় মোবাইল ফোনটি ফিরে পেয়ে অনেকে এ সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

 

রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে অবস্থিত কলমিলতা বাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে কলমিলতা বাজারে আগুন লাগার খবর পায় তারা। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের মোট ১০টি ইউনিট সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

 

 

 

 

 

নিরাপত্তা ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে একটি জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। খবর বাসসের।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই কমিটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করবে। প্রয়োজনে কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ, কর্মপরিকল্পনা তৈরি, পরিস্থিতি মূল্যায়ন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, আন্তঃসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকি করবে।

প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করা, সংশোধন ও সংস্কারের সুপারিশ, বিভিন্ন সংস্থা ও অনলাইন প্লাটফর্মসমূহ নিয়মিতভাবে তদারকি, গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।

নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থাসমূহের কার্যপরিধি এবং ক্ষেত্র নির্ধারণ করবে।

এই কমিটির সহ-সভাপতি হচ্ছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে থাকছেন।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদফতরের (এনএসআই) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) মহাপরিচালক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেলের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ অব পুলিশের (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক।

এছাড়া, কমিটিকে সহায়তাকারী হিসেবে চারজন অফিসারকে হিসেবে রাখা হয়েছে— সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটের (এসএসইউ) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাছের শাখা-প্রশাখা কাটার কাজের জন্য মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেসকো রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫ এর আওতাধীন বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের নিকটবর্তী গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তন কাজের জন্য মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এ সময় বনগ্রাম ফিডারের (মোহনপুর আইসোলেটর থেকে শেষ পর্যন্ত) আওতাধীন কিসমত কুখন্ডি, কুখন্ডি, সোনারপাড়া ও বামনশিখড় (মা ভাটা) এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।

সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর।

 

দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ২৮ মে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। সোমবার (১৮ মে) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সন্ধ্যায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার তথ্য পাওয়ায় ১৯ মে থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র জিলহজ্জ মাসের গণনা শুরু হচ্ছে।

এদিকে, চাঁদ দেখা যাওয়ায় গতকাল রোববার ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। দেশটিতে আগামী ২৬ মে হবে আরাফাত দিবস এবং ২৭ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

 

সারাদেশে প্রায় ১৫০ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক স্কুল ফিডিং প্রকল্পটি চলছে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বর্তমানে ৫ প্রকার খাবার দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। তালিকায় রয়েছে, ডিম, বানরুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট। তবে অভিযোগ উঠেছে এই প্রকল্পে শিশুদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে। ১১ উপজেলায় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সপ্তাহে কলা ও ডিম-বানরুটি থেকেই লোপাট হচ্ছে ১৭ কোটি টাকা। নিম্নমানের এসব খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা।

স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে দুই দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল শিশু রাইসা মুনতাহা। সে জানায়, তার পেট ব্যথা করছিল। এছাড়াও তার ভাষ্যমতে, ওসব খাবার সব কেমিক্যাল।

রাইসার মিডডে মিল খাবারের ভয় এখনও কাটেনি। তেমনি তার মা জান্নাতুল সন্তানকে নিয়ে শঙ্কিত। তিনি বলেন, বিষাক্ত খাবার দিয়ে আমার লাভ কী? লাভ নেই। আর বাচ্চাদের যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে কী করবো? কে দেবে আমাকে বাচ্চা?

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থুপশাড়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, মিডডে মিলের বানরুটিতে ফাঙ্গাস জমেছে। এর ফলে খাবার থেকে গন্ধ বের হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক জানান, এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটে। আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একই চিত্র দেখা যায়, জেলার কালাই উপজেলার তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। বিদ্যালয়টির শিক্ষক জানান, এই রুটি খেলে পেটে ব্যথা হবে।

১২০ গ্রাম ওজনের বান রুটির দাম ধরা হয়েছে ২৪ টাকা পর্যন্ত। এমনকি ওজন ঠিক রাখতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে রুটি।

আশেপাশের আরও কয়েকটি জেলা ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রুটির ভেতরের বাতাস থেকে এক ধরনের দুর্গন্ধ বের হয়, যা খাওয়ার অযোগ্য করে তোলে। তাই শিশুরা অনেক সময়ই সেটা ফেলে দেয়।

তবে নিয়ম অনুযায়ী ডিম দিতে হবে ন্যূনতম ৬০ গ্রাম ওজনের। প্রতি পিসের দাম ১৪ টাকা পর্যন্ত। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একেকটি ডিমের ওজন ৩৫ কিংবা ৪০ গ্রামের বেশি নয়।

৬০ গ্রাম না দিয়ে কম ওজনের ডিম দেওয়া হচ্ছে, জানতে পাবনার একটি খামারে গেলে একজন জানান, ছোট ডিমে এক টাকা কম লাগে। তিনি আরও জানান, ৫৫ গ্রামের ডিমগুলো বড় ক্যাটাগরিতে পড়ে, দামও বেশি।

এসব কারণেই প্রতিদিন ২৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ জন শিক্ষার্থীর বাজেটে এক টাকা কম করেও দেওয়া হলে সারা বাংলাদেশে প্রতিদিন নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মকর্তাদের পকেটে ঢুকবে লাখ টাকা, সপ্তাহে কোটি টাকা।

শুধু কম ওজন আর দামে সস্তা নয়, ঠিকঠাক সিদ্ধ না করা আর পচা ডিম সরবরাহের অভিযোগও আছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, এই ডিম খাওয়া যায় না, তেমনি পচাও থাকে।

এদিকে, শিক্ষার্থীরা জানায়, কলার মাঝের অংশ অনেক সময় খারাপ থাকে। এ বিষয়ে এক শিক্ষক বলেন, অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, এই কলা যদি খাওয়ানো হয়, তাহলে আগে বাচ্চার কাশির ওষুধ কিনে দিতে হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এসব কলা খেতে পারছে না। তাদের ভাষ্যমতে, কলা শক্ত, এটি না পাকায় তাদের কাছে কস লাগে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গিয়ে এক স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, কলার ওজন ৯০ গ্রাম। তবে সেখানে ১০০ গ্রাম ওজনের কলা দেওয়ার কথা ছিল সরবরাহকারীদের। চুক্তি অনুযায়ী ১০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি কলার দাম সাড়ে ১০ টাকা পর্যন্ত।

দাম যাচাইয়ে উত্তরাঞ্চলের কলার অন্যতম হাট দুর্গাদহ বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একেকটি কলার দাম পড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা। এমনকি ওজনভেদেও দামের তারতম্য দেখা যায়।

কলার বাজেটে শিক্ষার্থীর জন্য প্রতি কলায় ৭ টাকা বরাদ্দ থাকলে, সেই হিসাবে প্রতি সপ্তাহে অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে প্রায় দুই কোটি টাকা ঢুকছে।

এসব নিম্নমানের কলা, রুটি, ডিম খেয়ে বিভিন্ন স্থানে অসুস্থ হয়েছেন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। তবে সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

গত ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শঙ্করবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন ২০ জন শিক্ষার্থী। তারা জানান, পাউরুটি খেয়ে পেট ব্যথা এবং বমি হয়েছিল।

শুধু রাজশাহী বিভাগের ১২ উপজেলায় পৌনে দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য কলা, রুটি, ডিম সরবরাহ করে গণউন্নয়ন সংস্থা গাক। একজন বলেন, গণনায় ধরলে ২২ হাজার ডিম আসে। এত ডিম কি চেক করে দেওয়া সম্ভব?

প্রকল্প পরিচালক বলেন, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অ্যাকশন আমাদের নিতে হবে। কারণ আসলে কোমলমতি বাচ্চাদের এই খাবারের বিষয়ে আমরা কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, উপাদানগুলো যদি ক্ষতিকর হয়, তাহলে তা শিশুদের লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর যদি তা বাসি বা পচা হয়, তবে ডায়রিয়া, জন্ডিস, হেপাটাইটিস-এ ও ই হতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে অবহিত করলে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজমেন্ট কমিটি খাবার কমিটিতে থাকবে, তারা বিষয়টি বুঝে নেবে, এমনই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, স্কুল ফিডিং প্রকল্পে আগামীতে দেশের সরকারি সব প্রাথমিকে খাবার দিতে ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে চায় সরকার।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন শেষে কে এগিয়ে

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৩ ওভারে ২০৩/৪। বাংলাদেশ ২৪৯ রানে এগিয়ে।

সিলেট টেস্টে আজ তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটি ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবত এই টেস্টে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন ছিল।

১৫৬ রানে এগিয়ে আজ তৃতীয় দিনে সকালের সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন নাজমুল ও মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটিতে উঠেছে মাত্র ৫ রান। ব্যক্তিগত ১৫ রানে খুররম শাহজাদের বলে নাজমুল আউট হওয়ার পর পঞ্চম উইকেটে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে প্রথম সেশনের খেলা শেষ করেন লিটন ও মুশফিক।

লিটন ৪৮ ও মুশফিক ৩৯ রানে অপরাজিত। আজ সকালের সেশনে ২৬.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

লিডকে আরও বড় করতে আজ সকালে সেশনে ভালো শুরুর বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের জন্য। নাজমুলের উইকেট দ্রুত হারিয়ে ধাক্কা খেলেও লিটন ও মুশফিক মিলে বড় জুটি গড়ে ঘাটতিটুকু পুষিয়ে দিয়েছেন। এখন দ্বিতীয় সেশনেও ভালো ব্যাট করতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শুরু হয়েছে। সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। 

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানসহ অন্যরা অংশ নিয়েছেন।

এনইসি’র সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

 

চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মুখোমুখি অবস্থানের পর এবার নগরের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক ও এর আশপাশে সভা-সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়ক এবং এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ-১৯৭৮-এর ৩০ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কেউ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নগরের টাইগারপাস এলাকায় ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করে এনসিপি। দলটির নেতারা জানান, টাইগার পাস এলাকায় সিটি করপোরেশনের প্রবেশ ফটকের সামনে অন্তত চারটি পিলারের গ্রাফিতির ওপর সাদা ও হলুদ রং করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) গণবিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) গণবিজ্ঞপ্তিছবি: পুলিশের সৌজন্যে

শাহাদাত হোসেন নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে এনসিপি অভিযোগ তোলার পর টাইগারপাস এলাকায় পাল্টা অবস্থান নেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় পুলিশ এসে দুই দলের মাঝামাঝি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।

এদিকে গ্রাফিতি মুছে ফেলার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি জানিয়ে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় চসিকের জনসংযোগ শাখা। এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে নগরের কোথাও জুলাইয়ের গ্রাফিতি অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

মেয়রের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো শিল্পকর্ম, শিক্ষামূলক বা সামাজিক সচেতনতামূলক গ্রাফিতি অপসারণে তাঁর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতির ক্ষেত্রে এমন নির্দেশনার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়।

ওই বক্তব্যের পরও সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। পরে চসিকের আমবাগানমুখী প্রবেশপথের সামনে সড়কে রং দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান লেখেন তাঁরা।