রাঙামাটিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসীত) এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে গুলিতে আহত হয়েছেন তাঁর দুই বোন। আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ছয়টার দিকে সদর উপজেলার কুতুকছড়ি ইউনিয়নের কুতুকছড়ি উপরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম ধর্মশিং চাকমা (৩৯)। তিনি কুতুকছড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ধনঞ্জয় চাকমার ছেলে। ইউপিডিএফের (প্রসীত) যুব সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন ধর্মশিং।

আহত দুজন হলেন ধর্মশিংয়ের দুই বোন ভাগ্যশোভা চাকমা (৩১) ও কৃপাসোনা চাকমা (৪৫)। তাঁদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈকত আকবর বলেন, ‘ভাগ্যশোভা চাকমা ও কৃপা সোনা চাকমা নামের দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের দুজনের হাতে গুলি লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।’

জানতে চাইলে রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন সকাল ১০টার দিকে বলেন, গোলাগুলিতে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন শুরু করতে প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স পেল রূপপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এর ফলে উৎপাদন শুরু করতে আর কোনো বাধা নেই। এ মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হতে পারে। এর মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. কবীর হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আজ বৃহস্পতিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কমিশনিং লাইসেন্স ও উৎপাদন কাজ শুরুর অনুমোদন দিয়েছে।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। পাবনার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

রূপপুর সূত্র বলছে, চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করাতে এক মাস সময় লাগে। এরপর কিছু কিছু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। একই সঙ্গে চলবে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এতে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে আগামী জুলাইয়ে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি প্রবেশের পর অন্তত ছয় মাস ধরে পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে। এ সময় ধাপে ধাপে পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক অনুমতি নিতে হবে। এতে সেপ্টেম্বরের আগে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর তেমন সম্ভাবনা নেই।

নতুন দুটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৬ জুলাইকে পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে, এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না। এছাড়া, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

এসময় সরকার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

এর আগে, সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ অন্যান্য সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

ছবির ফ্রেমটা বাঁধাই করে রাখার মতোই। একসঙ্গে জাতীয় দলের এত অধিনায়ক কি এর আগে দেখা গেছে কোথাও? উত্তরটা খুঁজে পাওয়া কঠিনই হবে বোধ হয়। আজ এমনই একটা উপলক্ষ এসেছিল বিসিবির এক আয়োজনের কারণে।

সোনারগাঁ হোটেলে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস্ কার্ড’ তুলে দিয়েছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। আজীবন মেয়াদের এই কার্ড দিয়ে এখন বিসিবির যেকোনো ধরনের ইভেন্টেই ঢুকতে পারবেন তারা। সাবেক অধিনায়কদের জন্য স্বাস্থ্য বিমারও ব্যবস্থা করবে বিসিবি।

এই কার্ডের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করে তামিম বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত এখানে যাঁরা যাঁরা আছেন অধিনায়ক, সবার মধ্যেই একটা ইনসিকিউরিটি কাজ করত যে যদি আমি মাঠে যাই, যদি আমাকে না চেনে, যদি আমাকে থামায়, ইজ্জত–সম্মান থাকবে কি না। এটা আমারও হয়েছে কোনো না কোনো সময়।’

এই দ্বিধাটুকু কাটাতেই এবার অধিনায়কদের জন্য ক্যাপ্টেনস কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তামিম। তিনি নিজেও সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কার্ড নিয়েছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরার হাত থেকে।

এই কার্ড দিয়ে এখন থেকে জাতীয় দলের বর্তমান ক্রিকেটারদের মতোই বিসিবির মেডিকেল বিভাগের চিকিৎসা পাবেন সাবেক অধিনায়করা। প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার জন্যও সাহায্য করবে বিসিবি।

আকরাম খানের ক্যাপ্টেনস কার্ড
আকরাম খানের ক্যাপ্টেনস কার্ড
 

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের অধিনায়ক শামীম কবির মারা গেছেন। এর বাইরে এখন পর্যন্ত পুরুষ দলে তিন সংস্করণ মিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ২৬ জন। নারী ক্রিকেটে সবমিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ৬ জন, তাদের মধ্যে শুধু রুমানা আহমেদই উপস্থিত ছিলেন আজ।বাংলাদেশ নারী দলে তিনি ছাড়াও অধিনায়ক ছিলেন তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা ও ফাহিমা খাতুন।

পুরুষ ক্রিকেটারদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান, সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা ছিলেন না আজকের অনুষ্ঠানে। গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি হয়েছে। আগের বোর্ডে থাকা তিন অধিনায়ক আমিনুল, ফারুক আহমেদ ও খালেদ মাসুদও আসেননি আজ।

ছেলেদের দলের বাকি ২০ অধিনায়ক রকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন, মিনহাজুল আবেদীন, আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ, হাবিবুল বাশার, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, লিটন দাস, নুরুল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, নাজমুল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলী ক্যাপ্টেনস কার্ড নিয়েছেন।

তিন অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা, রকিবুল হক ও হাবিবুল বাশার
তিন অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা, রকিবুল হক ও হাবিবুল বাশার
 

তবে সাবেক অধিনায়কদের সবাইকেই এই অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তামিম। সবাইকে অবশ্য নয়, সাবেক সভাপতি আমিনুলকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েও পারেননি, ‘আমি বুলবুল ভাইকে কল করেছি, ওনাকে মেসেজ পাঠিয়েছি, তারপর বুঝতে পারলাম আমিও ব্লকড্।’

তবে যাঁরা এখনও কার্ড নেননি, তাঁরা চাইলে যেকোনো সময় এসেই তা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তামিম, ‘যখনই আপনারা পারেন, যখনই আপনারা দেশে আসবেন, প্লিজ কার্ডটা গ্রহণ করবেন। এটা সবসময় আপনাদের জন্য বিসিবিতে থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপনাদের অবদান অনেক। আমি রাজনীতি বা বিসিবিতে সম্প্রতি যা হয়েছে, তা নিয়ে বলতে চাই না। আমরা সবাই ক্রিকেটার এবং একে–অন্যকে সম্মান করি।’

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ বছর পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রথমেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কারটি গ্রহন করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি ‘দাদু’র পদক গ্রহণ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য।

খালেদা জিয়াসহ মরণোত্তর এই সন্মাননা পেয়েছেন সাতজন। এরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান।

মেজর জলিলের পক্ষে তার কণ্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকৗ, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে তার স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে তার হুমায়ারা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে তার কন্যা তাবাসুম শাহনাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজ সেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার নেন।

অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে তার পুত্র হারুনুর রশীদ এবং একেএম হানিফ, জোবেরা রহমান, সাইদুল হক, মোহাম্মদ আবদুল বাকী, এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল মুকিত মজমুদার প্রত্যেকে নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেন।

এ বছর যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে তা হলো, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা বিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে।

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আদনান কবির, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, এসওএস শিশু পল্লীর ন্যাশনাল ডাইরেক্টর ড. এনামুল হক এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র প্যারামেডিক বিউটি রানী সাহা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেন।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আঠারো ক্যারেটের ৫০ গ্রামের একটি স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, তিন লাখ টাকা ও একটা সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। 

 

সমাজসেবায় গৌরবোজ্জ্বল কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার স্বামী মনসুর হেলাল।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই পদক প্রদান করা হয়।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালীন একটি প্রশিক্ষণ বিমান ভবনে আছড়ে পড়লে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।

ওই রাতেই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়ার এই কৃতি সন্তানকে তার অসামান্য ত্যাগের জন্য সমাজসেবা বা জনসেবা ক্ষেত্রে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়া হয়।

 

চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় এক কলেজছাত্রকে অপহরণের পর নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে বাকলিয়া এক্সেস রোড থেকে বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে অটোরিকশায় তোলার দৃশ্য ধরা পড়ে।

একপর্যায়ে দুর্বৃত্তদের কবল থেকে ছুটে পালিয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেয় সাজিদ। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে ভবনটির অষ্টম তলায় উঠে যায় সে। তবে দুর্বৃত্তরাও তাকে অনুসরণ করে সেখানে পৌঁছে যায়। পরে সাজিদকে মারধর করে লিফ্‌ট বসানোর জন্য রাখা ফাঁকা গর্তে ফেলে দেয় তারা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে এখনও রক্তের দাগ দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে চকবাজার থানা পুলিশ তদন্তে নামে। এসআই মেহেদী হাসান সৈকতের নেতৃত্বে একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ভবনটির কেয়ারটেকার এনামুল হকসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে এনায়েত উল্লাহ ও আয়মন চিহ্নিত সন্ত্রাসী বলে দাবি পুলিশের।

চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। নিহত সাজিদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ায়। সে পরিবারের সঙ্গে বাকলিয়া ডিসি রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকতো। 

স্বজনদের দাবি, ফারদিন হাসান নামে এক বন্ধু তাকে ফোন করে তাকে ডেকে নিয়েছিল।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন গ্রেডে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ খালি রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। এসব শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় মুখস্থ নির্ভর সিলেবাস বাদ দিয়ে ‘দক্ষতাভিত্তিক’ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকারের অনুমতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এসব তথ্য উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে সরকারি শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে, প্রথম শ্রেণিতে (১ম-৯ম গ্রেড) ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ; দ্বিতীয় শ্রেণিতে (১০ম-১২তম গ্রেড) ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ; ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ; ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি আছে। এছাড়া, অন্যান্য ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য বর্তমানে।

আবদুল বারী জানান, ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি তদারকির জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা ও দক্ষতাই হবে নিয়োগ ও পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা ভিত্তিক নিয়োগ হচ্ছে। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

এমপি হারুন-অর-রশিদের এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল বারী জানান, বিসিএস পরীক্ষায় মুখস্থ নির্ভরতা কমাতে সিলেবাস পরিবর্তনের কাজ চলছে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পর্যালোচনা করছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর জ্ঞান ও মনোভাব যাচাইয়ে ‘যোগ্যতা-ভিত্তিক সাক্ষাৎকার’ চালু এবং এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এছাড়া, এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসনে ১২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৯ জনকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জনকে ওএসডি করা হয়েছিল। এছাড়া, গত সরকারের সময় নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিষয়ে দুদক ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে।

 

সারাদেশে হামের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে এবং এর উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে দেওয়া নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলয়া হয়, মৃত ৮ জনের মধ্যে ২ জন সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চের পর থেকে দেশে হাম পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৪ জন। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭২ জনে। এছাড়া গত এক মাসে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৫ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ৩৫২ জন।

হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ হাজার ১২৯ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৪৯৬ জন। তবে এখনো বিশাল সংখ্যক রোগী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে লিজা আক্তার (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার চরমুকুন্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত লিজা আক্তার উপজেলার পূর্ব কলাদী এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বকাউলের মেয়ে। সে চরমুকুন্দি এলাকার ‘মতলব দারুল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা’র অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল চারটায় ক্লাস শেষে লিজা আক্তার কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে সড়কের এক পাশ দিয়ে হেঁটে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরছিল। উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকায় পৌঁছালে সেখানকার বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামানের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবন থেকে আচমকা একাধিক ইট তার মাথায় পড়ে। এতে সে রক্তাক্ত জখম হয় এবং সড়কে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারায়। পরে তার সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাজীব কিশোর বণিক বলেন, আহত ওই ছাত্রীর কপাল ও মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সিটিস্ক্যান করানোর জন্য তার পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিটিস্ক্যান না করা পর্যন্ত তাকে আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। হাসপাতালে সে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে থানায় এখনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জ্বালানি সংকটের কারণে সারাদেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ২০২৬ সালের সদস্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ১৯ মে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সূচি বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বার কাউন্সিল জানিয়েছে, বর্তমানে দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সাধারণ আসনের ৭টি এবং আঞ্চলিক আসনের ৭টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী আইনজীবীদের পক্ষে দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ দেশের বিভিন্ন জেলা বার সমিতির পক্ষ থেকে নির্বাচন স্থগিতের জন্য আবেদন ও অনুরোধ জানানো হয়। এসব বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে নির্ধারিত ১৯ মে'র নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

এর আগে, গত ২ এপ্রিল বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ১৯ মে নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারিই বলে দিচ্ছে প্রকট আকার ধারণ করেছে সংকট। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোর থেকেই পেট্রোল পাম্পগুলোতে বরাবরের মতোই দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিভিন্ন যানের চালক-মালিকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন জ্বালানি পাওয়ার আশায়।

জ্বালানি নিতে আসা অনেকেই দাবি করলেন, আগের রাতে পাম্প বন্ধ থাকায় তেল নিতে পারেননি তারা। তাই রাতভর পাম্পের সামনে অপেক্ষা করে সকালে সিরিয়ালের প্রথম দিকে থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতেও মিলছে না নিশ্চয়তা।

তেল সরবরাহ নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। যান চালকদের অভিযোগ, সকাল হলেই ‘ভিআইপি সিরিয়াল’ নামে আলাদা একটি লাইন তৈরি হয়। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষরা। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি, কোথায় কখন কতোটুকু তেল সরবরাহ করা হচ্ছে– এ সংক্রান্ত তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ গাড়ির সারি ফলে সড়কে দেখা দিচ্ছে যানজট। রোদ-গরম আর যানবাহনের শব্দে শরীর-মন যেন অতিষ্ঠ অপেক্ষারত চালকদের।