ঢাকা

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবউদ্দিন। তিনি এক বাণীতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের অসামান্য অবদানকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেছেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ইতিহাসে জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় নাম।

রাষ্ট্রপতি মনে করেন, জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অনঢ় অবস্থান, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা ও জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ঊষালগ্নে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তার এই আহ্বান ও স্বাধীনতার ঘোষণা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রফতানি প্রবৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তিনি বহুমুখী পরিকল্পনা ও যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন জানিয়ে বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দেশ পরিচালনায় তিনি স্বল্প সময় পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন, যা আজও এক সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

 

আজ শনিবার (৩০ মে) বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নিহত হন তিনি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং ব্রিগেড ফোর্স 'জেড ফোর্স'- এর অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য পান 'বীর উত্তম' খেতাব। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। 

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি হন তিনি। 

বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন জিয়াউর রহমান। তার শাসনামলে বাংলাদেশের কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে খালকাটা কর্মসূচির মাধ্যমে। তিনি বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রফতানির সূচনা করেন। এছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।

আজ শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করবে বিএনপি। এরপর বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এছাড়া, বিকেল ৩টায় দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করবে দলটি। 

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। এখানে মুহূর্তের মধ্যেই একজন রাজনীতিক বা যেকোনো ব্যক্তির চরিত্রহনন করা সম্ভব হচ্ছে।’
 
শুক্রবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
এ সময় সাংবাদিকতাকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা, এর চেয়ে সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা আর আছে বলে আমার জানা নেই। সমাজ ও রাষ্ট্রের সত্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।’
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সঠিক সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিগত সরকারের আমলে কমপক্ষে ৫০০ জন সাংবাদিক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। দেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন না।
 
বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে আলোকপাত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই আজ মুক্ত সাংবাদিকতা হুমকির মুখে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে অনেক সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আর বাংলাদেশে বাস্তবতা আরও কঠিন। এখানে সত্য সংবাদ প্রকাশের পর তা যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বার্থে আঘাত হানে, তবেই ওই সাংবাদিকের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও জুলুম।
 
উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের সাংবাদিকতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে এমন অনেক কিংবদন্তি সাংবাদিক ছিলেন, যারা লেখনীর পাশাপাশি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের বড় বড় দায়িত্ব পালন করেছেন। 
 
সাংবাদিকদের নিজেদের ভেতরের সব বিভেদ ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি থাকলে শোষকদের সুবিধা হয়। নিজেদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
 
মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অপসাংবাদিকতা একটি রাষ্ট্রকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।’
 
প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠুর সঞ্চালনায় এবং সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, প্রবীণ সাংবাদিক ফজলে ইমাম বুলবুল, হারুন উর রশিদ, জয়নাল আবেদীন বাবুল, আপেল মাহমুদ, মোবারক হোসেন ও মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
 
এর আগে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা উদ্বোধন করেন।

মৌলভীবাজারে তেলবাহী ওয়াগনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল স্টেশনের মাঝামাঝি লাউয়াছড়া বনের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

শ্রীমঙ্গল স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন জানান, সিলেট থেকে চট্টগাম যাওয়ার পথে একটি ওয়াগনের চারটি চাকা লাইচ্যুত হয়। তবে ওয়াগনটিতে কোন তেল ছিলো না।

তিনি আরও জানান, লাইনচ্যুত ওয়াগন উদ্ধারে কাজ করছে রেল বিভাগ। উদ্ধারের জন্য হাইড্রোলিক টুলভ্যান নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলেও জানান তিনি।

কোরবানির ঈদের বর্জ্য এবং ময়লা সময়মতো অপসারণ না করে রাস্তায় ফেলে রাখার দায়ে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

[caption id="attachment_275159" align="alignnone" width="935"] গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ পরিস্থিতি দেখেছেন তিনি, ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সৌজন্যে[/caption]

শাস্তিপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) জোন-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জোন-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।

উল্লেখ্য, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিজেই পর্যবেক্ষণ করতে বের হন। সেসময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রীণরোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ও আগের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় পড়ে থাকায় তিনি তাৎক্ষনিক এই ব্যবস্থ্যা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

কোরবানির ঈদের বর্জ্য এবং ময়লা সময়মতো অপসারণ না করে রাস্তায় ফেলে রাখার দায়ে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। 

শাস্তিপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) জোন-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জোন-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।

উল্লেখ্য, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিজেই পর্যবেক্ষণ করতে বের হন। সেসময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রীণরোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ও আগের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় পড়ে থাকায় তিনি তাৎক্ষনিক এই ব্যবস্থ্যা গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

ঢাকা

পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও পশু কোরবানি করছেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে কোরবানি দিতে দেখা যায়।

দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়া কয়েকজন বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই প্রধান লক্ষ্য।  গরিব-দুঃখীদের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে চান তারা। মূলত, ঈদুল আজহার প্রথমদিন সময় ও সুযোগের অভাবে যে-সব পশু কোরবানি করা যায়নি, আজ শুক্রবার সেসব কোরবানি করা হচ্ছে। অনেকেই সন্তানের আকিকার জন্য নির্ধারিত পশুটিও আজ কোরবানি করবেন। 

এদিকে, কোরবানির পর নিজ উদ্যোগেই বর্জ্য অপসারণ করছেন সবাই। ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জায়গার পাশাপাশি রাজধানীর অলিগলি-রাজপথ, বাড়ির গ্যারেজ কিংবা ফুটপাতেও পশু কোরবানি হয়েছে। 

 

ঈদের দিন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে পড়ে আছে চার চাকার লেগুনাটি। সামনের অংশ ভেঙে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কাচের টুকরা। আহতদের লেগুনার ভেতর থেকে বের করে আনছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় লোকজন জানান, পটিয়াগামী একটি লেগুনার সঙ্গে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী ঈগল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনাস্থলে থাকা কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পরিতোষ দাশ বলেন, দুর্ঘটনার পর বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। তবে দুই গাড়ির চালকই পালিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ঈদের দিন জাতীয় চিড়িয়াখানা অনেকটাই ফাঁকা। এরপরও যাঁরা চিড়িয়াখানায় এসেছেন, একবারের জন্য হলেও ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে ‘এল-০৭’ খাঁচার সামনে আসছেন। ফলে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যান্য খাঁচার সামনে দর্শনার্থী কম থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ভিড় লেগেই থাকছে।

খাঁচার সামনে এই মহিষের একটি পরিচয়ও ঝুলিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তাতে লেখা, ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’। সেখানে ইংরেজিতে ‘অ্যালবিনো বাফেলো’ও লেখা আছে।

বাবা, মা ও বোনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখছিলেন শিক্ষার্থী আজমিরা আক্তার। রূপনগর থেকে আসা আজমিরা বলেন, খবরে জেনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখার জন্যই তাঁরা এসেছেন। আজমিরা বলেন, ‘মোবাইলে যেমন দেখেছি, বাস্তবেও মহিষটি তেমন। ট্রাম্পের মতো লাগে তো।’

রাজধানীর মিরপুর ২ নম্বর এলাকা থেকে স্ত্রী, ছেলে ও ভাগনেকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষটি দেখছিলেন মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে তাঁরা চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন। তাঁরা আগে থেকেই জানেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করার পর মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করে করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বের করেছেন। তিনিও মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে অ্যালবিনো মহিষটির কিছুটা মিল আছে।

অ্যালবিনো মহিষটির খাঁচার সামনে একদল ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যকেও পাওয়া গেল। সেখানে ছিলেন ঢাকা অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু ব্রত মল্লিক। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষের খাঁচার সামনে দর্শনার্থী যেহেতু বেশি, তাঁদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গতকাল রাত ১১টার সময় আনা হয়েছে। আজ সকাল থেকে মহিষটির খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড়। এটা একটা নতুন প্রাণী, এ কারণে ভিড়।

যখন গাড়ি থেকে নামানো হয়, তখন দেখা যায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ গায়ে সম্ভবত আঁচড় লেগেছে উল্লেখ করে কিউরেটর বলেন, সেই আঁচড় খুব ছোট। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে।

অ্যালবিনো জাতের এ মহিষের চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। মহিষটি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় জিয়াউদ্দিন মৃধার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে লালন–পালন করা হচ্ছিল। জিয়া উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মহিষটির ‘অসাধারণ চুল’ দেখে তাঁর ভাই এর নাম রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামানুসারে।

চিড়িয়াখানায় যাওয়া দর্শনার্থীরা আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’–এর খাঁচার সামনে ঢুঁ মারছেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় চিড়িয়াখানা, মিরপুর, ঢাকা
চিড়িয়াখানায় যাওয়া দর্শনার্থীরা আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’–এর খাঁচার সামনে ঢুঁ মারছেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় চিড়িয়াখানা, মিরপুর, ঢাকা, ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
 

মে মাসজুড়ে ঢাকার কাছের মানুষ ট্রাম্পকে দেখতে দলে দলে ছুটে যান জিয়া উদ্দিনের খামারে। মহিষটি নিয়ে ১২ মে খবর প্রকাশ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর মাথায় ঢেউখেলানো গোলাপি রঙের চুলের মহিষটি নিয়ে দেশীয় সংবাদমাধ্যম ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা হয়। মহিষের ভিডিও প্রচার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম।

জিয়া উদ্দিন মহিষটি বিক্রি করেছিলেন কেরানীগঞ্জের জিনজিরার মনিরুজ্জামানের কাছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের খামার থেকে মহিষটি কেরানীগঞ্জে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন মনিরুজ্জামান। সে সময় খামারে লালগালিচা বিছিয়ে, রঙিন ধোঁয়া উড়িয়ে ও রাজকীয় সাজে মহিষটিকে বিদায় জানানো হয়।

ঈদের আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে মহিষটিকে মনিরুজ্জামানের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়।

মুষলধারে বৃষ্টি, কাদাপানি আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার মুসল্লি। রেওয়াজ অনুযায়ী, বন্দুকের ফাঁকা গুলির শব্দে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হয় জামাত।

এবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। নামাজে ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।

আজ ভোর থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। এর মধ্যেই দলে দলে মুসল্লি মাঠে আসতে থাকেন। কেউ ছাতা, কেউ পলিথিন, আবার কেউ জায়নামাজ মাথায় দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে অবস্থান নেন।

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা। কাদামাখা মাঠেও তাঁদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশপথে প্রত্যেক মুসল্লির দেহতল্লাশি করা হয়। নামাজ চলাকালে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে অনেকে পলিথিন বিছিয়ে, কেউ আবার কাদাপানিতেই সেজদা দিয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বৃষ্টিতে ভিজেই মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন।

ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় সাধারণত শোলাকিয়ায় মুসল্লির সংখ্যা কিছুটা কম হয়। কারণ, এ ঈদে পশু কোরবানির প্রস্তুতি ও ব্যস্ততা থাকে। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করে আসছেন এমন অনেক মুসল্লি এবারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা
বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা

করিমগঞ্জ উপজেলার সাঁতারপুর এলাকার রইছ উদ্দিন বলেন, তিনি টানা ৫৫ বছর শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করছেন। এবারের ঈদে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও নামাজ আদায় করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তবে ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় মুসল্লির সংখ্যা কম হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশপাশের এলাকার মানুষকে শোলাকিয়ায় নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করা গেলে মাঠ আরও বেশি মুসল্লিতে পূর্ণ হবে।

জামাতে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনেরা। পরে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ ময়দান।

ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল থেকেই মাঠে বিজিবি, র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ও বোমা ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পুরো মাঠ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধায় চালু করা হয় দুটি বিশেষ ট্রেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায় করেছেন। এ জন্য তিনি আগত মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান।

জনশ্রুতি আছে, ১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দ থেকেই পরবর্তী সময়ে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। তবে এ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। আরেকটি মতে, মোগল আমলে এ অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ‘শ লাখ’ বা এক কোটি টাকা। সেখান থেকেই কালের পরিক্রমায় ‘শোলাকিয়া’ নামের প্রচলন।