দিনাজপুর পৌরসভার টানা তিনবারের মেয়র থাকার পর নানা ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর ভাষ্য, ‘মাত্র দেড় কেজি চাল চুরিসহ নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিল। আজকে আমাকে মেয়র থেকে এমপি বানিয়েছেন। আমার অনেক দায়িত্ব। জেলার রাস্তাঘাট সংস্কারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কর্তব্যকাজ শুরু করব।’

আজ শনিবার দুপুরে দিনাজপুর শহরের ঘাষিপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহাঙ্গীর আলম।

লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটটি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। দিনাজপুরের উন্নয়নেও বাস্তবসম্মত ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে। তাঁর দাবি, শিক্ষা বোর্ড, মেডিক্যাল কলেজ, জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো বিএনপি সরকারের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জেলায় ভারী শিল্পকারখানার অভাব দূর করা, একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, মাদক প্রতিরোধ জোরদার, হাসকিং মিল আধুনিকায়ন এবং গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, টেন্ডার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি দমনের অঙ্গীকারও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, খালেকুজ্জামান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল মিলন, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আবু বক্বর সিদ্দিক, ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল ইসলাম প্রমুখ।

ময়মনসিংহ নগরের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে ছিনতাইকারী ‘কিশোর গ্যাং’–এর কবলে পড়েছিলেন। ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে একজন বেঁচে ফিরলেও গতকাল শুক্রবার রাতে অন্যজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনার পর নতুন করে ময়মনসিংহে ‘কিশোর গ্যাং’–এর অপতৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অপতৎপরতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি নাগরিক সমাজের।

মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম নুরুল্লাহ শাওন (২৬)। তিনি আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামে।

গত বুধবার বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁদের দুজনকে ঘিরে ধরে ‘যা আছে বের করতে বলে’ সাতজনের একটি কিশোর দল। নৌকাভাড়া ছাড়া কোনো টাকা নেই জানালে দুজনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নুরুল্লাহ প্রতিবাদ করলে বেদম মারতে শুরু করে। তখন দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন পিছু নেয় শাওনের এবং তিনজন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গতকাল রাতে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত নুরুল্লাহর মা সাহিদা বেগম কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোরদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তারা নগরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সবাই নগরের চর জেলখানা বিন পাড়া এলাকার বাসিন্দা। সাত কিশোরই বিন সম্প্রদায়ের। তাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

ছিনতাইকারী কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়ায় নিখোঁজের পর কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল রাত থেকেই অনেকে ফেসবুকে সমালোচনা শুরু করেন। লাশ উদ্ধারের পর গতকাল রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নগরের টাউন হল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অভিযুক্ত কিশোরদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দেন।

আনন্দ মোহন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল আহমেদ বলেন, শহরকে ছিনতাই ও মাদকমুক্ত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। হত্যায় জড়িত প্রত্যেককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

গত ৩ জানুয়ারি নগরের জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত নিলয় তালুকদারকে (১৫) ছুরিকাঘাত করে তারই সহপাঠীরা। ‘কিশোর গ্যাং’–এ যোগ না দেওয়ায় স্কুল বন্ধের দিন সহপাঠীরা বাসা থেকে স্কুলে ডেকে নিয়ে পিঠে, হাতে, কোমর ও পায়ে অন্তত সাতটি ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় ১০ জানুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন মিফতাহুল জান্নাতের বাবা। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। আসামিরা জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির ডে শিফটের শিক্ষার্থী। আর মিফতাহুল মর্নিং শিফটের শিক্ষার্থী ছিল।

মিফতাহুলের বাবা সাদেকুল ইসলাম তখন বলেছিলেন, ‘ঘটনার দিন বিকেলে আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার সহপাঠীরা। স্কুলের ভেতরে কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে। যারা ছুরিকাঘাত করে, তারা সবাই মাদকাসক্ত। আমার ছেলেকে তাদের দলে নিতে চেয়েছিল। সে যেতে রাজি না হওয়ায় ছুরিকাঘাত করা হয়। আমি এর বিচার চাই।’

স্থানীয় লোকজন জানান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে গ্যাং কালচারে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের সঙ্গেও জড়াচ্ছে। এক দল আরেক দলের সঙ্গে মারধর, ছিনতাই—এসব ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। কিন্তু এসব রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কিশোর দলটি নিজেদের এলাকায় সন্ধ্যার দিকে যারা ঘুরতে যায়, তাদের “ঠেক” দিত। তারা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে দলটিকে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা মুঠোফোনও ব্যবহার করে না। পরিবারগুলোও খুবই দরিদ্র। একজনকে ধরে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড হলে বিস্তারিত জানতে পারতাম। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সেই সুযোগ নেই। অন্যদের ধরতে পারলে হয়তো বিস্তারিত জানা যাবে, আসলে কী ঘটেছিল।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সুরতহালে নিহত শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাইনি। পানিতে পড়ে গেলে যেসব চিহ্ন থাকে, সেগুলো ছিল। আমাদের ধারণা, পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে। কিশোর দলটির প্ররোচনা রয়েছে। ছিনতাইয়ের জন্য তারা ধাওয়া না করলে এমন হতো না।’ কিশোর গ্যাং নিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা একজনের কমান্ডে চলে। যখনই এক দিকে যায়, দল বেঁধে যায়। কেউ কেউ মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। সবাই কারও শেল্টারে চলে, এমন নয়। বেশির ভাগ অপ্রাপ্তবয়স্ক। এদের খুব সফটলি হ্যান্ডল করতে হয়। আমরা এসব নিয়ে কাজ করছি।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগরের সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারী দলের দৌরাত্ম্য ও মাদক নিয়ে নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবজ্ঞা দায়ী। কঠোরভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি এ কথা বলেন।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমকে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। বিগত সরকারের সময় মোংলা বন্দর নিয়ে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি বাতিল হবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “চুক্তিগুলো আমরা স্টাডি করব। যদি দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং আমাদের জন্য সহায়ক হয়, তাহলে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে কার্যকর রাখা হবে।”

জাতীয় অর্থনীতিতে মোংলা বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সফল সামুদ্রিক বন্দরে পরিণত করা সম্ভব। বর্তমানে রেল ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলেও তা আরও আধুনিক ও গতিশীল করা প্রয়োজন। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কিছু অবকাঠামোগত সুবিধা বাস্তবায়ন করা গেলে মোংলা বন্দরকে সক্ষম ও সফল বন্দরে রূপান্তর করা সম্ভব।

আগামী ছয় মাসের মধ্যেই বন্দরের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া শহর বাইপাসের কুষ্টিয়া স্টোরের সামনে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ চারজন যাত্রী রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীবোঝাই সিএনজিটি শহরের কবুরহাট এলাকা থেকে বাইপাস হয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদেরও মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশের তৎপরতায় পরে তা স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জয়দেব বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

সারাদেশে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। আর চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে একুশে ফেব্রুয়ারির আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রক্তের বিনিময়ে শুধু বারবার আন্দোলন করলে হবে না। দেশকে সুন্দর করে গড়ার পরিকল্পনাও আমাদের থাকতে হবে। সে ধারাবাহিকতায় আমরা ক্ষমতায় আসার আগে ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের পরিকল্পনা দিয়েছি। আমাদের সকল প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে পরিষ্কার করেছি। কেননা আমরা জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে চাই। 

প্রশাসনের স্বকীয়তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রশাসনের সাথে জনগণের সম্পর্কটা পরিষ্কার না থাকলে অহেতুক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি প্রশাসনকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যে অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমাদের রক্ত দিয়ে পরিবর্তন আনতে হলো তা কোনো নতুন প্রশাসন করে নাই। এই প্রশাসনেই আছে। যারা ইচ্ছায় সেটা করেছেন তাদের অবশ্যই চিহ্নিত হতে হবে। যারা অনিচ্ছায় করেছেন তাদের কে আমি সম্মান দেই। তা না হলে আমরা আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেক চলতে পারবো না। 

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এই ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এদিনই প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অফিস শুরু করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মদিবসের শুরুতে তিনি একটি স্বর্ণচাঁপা গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। অনেককে নাম ধরে ডেকে কাছে টেনে নেন তিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে পেয়ে উপস্থিত অনেক কর্মচারীই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে।

সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি-সিডিপি'র চেয়ারম্যানের কাছে এ সম্পর্কিত চিঠি পাঠিয়েছেন।

এতে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে দেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে, এলডিসি থেকে উত্তরণ-প্রস্তুতির সময় ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।

পাশাপাশি বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণসহ আরও কিছু বিষয় পর্যালোচনার জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে সিডিপির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এলডিসি থেকে উত্তরণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায়। অতীতে কয়েকটি দেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানো বা স্থগিত হওয়ার নজির রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে। এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে সিডিপি।

প্রশ্ন:এই প্রথম এশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

‎তহুরা খাতুন: সত্যি বলতে অনেক ভালো লাগছে। চীন–কোরিয়ার মতো দলগুলো এশিয়ান কাপে অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের বিপক্ষে খেলতে পারাটাও কম কী! এমন টুর্নামেন্টে প্রথমবার আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি, এটা ভেবে আরও ভালো লাগছে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতেও পারব। আমাদের মূল লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলা, সবার সঙ্গে লড়াই করা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলে হারলেও অনেক কিছু শেখা যায়।

প্রশ্ন:টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আপনার দৃষ্টিতে প্রস্তুতি কেমন হলো?

‎তহুরা: মোটামুটি হয়েছে, তবে আরও ভালো হতে পারত। এশিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে সবাই একসঙ্গে থাকতে পারলে ভালো হতো। ঘরোয়া লিগ চলায় সেটা আর হয়নি। পুরো দল যদি আগে থেকে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় অনুশীলন করতে পারত, দলের কম্বিনেশন আরও ভালো হতো।

এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
 
প্রশ্ন:আপনি তাহলে বলছেন, এ সময় লিগ আয়োজন করাটা ঠিক হয়নি?

‎তহুরা: লিগের কারণে হয়তো ফিটনেসে ঘাটতি পড়েনি, তবু এ সময়ে লিগ আয়োজন করা একদম ঠিক হয়নি। বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশ-পাতাল তফাত। লিগ হতে হবে এমন একটা সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ব্যস্ততা কম থাকবে। আমাদের উচিত ছিল, এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে পড়ে থাকা। কিন্তু সবাইকে লিগ খেলতে হয়েছে। এত বড় টুর্নামেন্টের আগে লিগ কেন করা হলো, এ বিষয়টা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।

প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতিটা কোথায় দেখছেন?

তহুরা: দেখুন, ভারত অনেকগুলো ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছে। তারা তুরস্কেও ক্যাম্প করেছে। বড় কোনো টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে ভালো দলের বিপক্ষে বেশি বেশি ম্যাচ খেলা উচিত। আমরা যদি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে খেলতাম, হয়তো গোল খেতাম, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা মূল টুর্নামেন্টে অনেক কাজে লাগত।

প্রশ্ন:চীন–উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর প্রতিপক্ষ নিয়ে কী পরিকল্পনা?

তহুরা: চীন, কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তারা প্রতি ম্যাচেই প্রচুর গোল দেয়। যাঁরা ফুটবল সম্পর্কে জানেন, তাঁরা বুঝবেন, হুট করে এমন দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়। আমাদের চেষ্টা থাকবে মাঠে সর্বোচ্চ লড়াই করা। হার–জিত যা–ই হোক, লক্ষ্য থাকবে সম্মানজনক স্কোর করা এবং যতটা কম সম্ভব গোল খাওয়া। দু-একটা গোল পেলে সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি। আসলে তাদের বিপক্ষে তেমন কোনো আশা দেখছি না।

বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
প্রশ্ন:গোল আটকানোর জন্য রুপনা-শিউলিরা কতটা প্রস্তুত?

তহুরা: গোল আটকানোর কাজটা সহজ হবে না। চীন-কোরিয়ার সঙ্গে আমরা আগে কখনো খেলিনি। তারপরও রুপনা আমাদের সেরা গোলকিপার। অবশ্যই সে সেরা চেষ্টাটাই করবে। ডিফেন্ডাররাও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রশ্ন:‘অচেনা’ চীন-কোরিয়া সম্পর্কে কীভাবে ধারণা নিচ্ছেন?

‎তহুরা: কোচ চীন-কোরিয়ার শক্তিমত্তা ও দুর্বলতাগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। তারা কোথায় ভালো, কোন দলের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হবে—এসব নিয়ে কোচ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। এভাবে কিছুটা ধারণা পাচ্ছি।

প্রশ্ন:ভিডিওতে তাদের খেলা দেখেননি? তাহলেও তো কিছু ধারণা পেতেন...

‎তহুরা: না, তাদের খেলার ভিডিও দেখার সুযোগ হয়নি, কোচও দেখাননি। হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর দেখাবেন।

প্রশ্ন:এই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোচের কী বার্তা?

তহুরা: সেটা না-ই বলি। অনুশীলনে সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। কোচ আমাদের যেভাবে খেলার নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেভাবেই মাঠে তা কার্যকর করার চেষ্টা করব। সবাই মিলে একটা দল হিসেবে খেলতে চাই।

প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতুন
প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতু
প্রশ্ন:উজবেকিস্তানকে নিয়ে নিশ্চয়ই ভিন্ন ভাবনা আছে...

তহুরা: তারাও কিন্তু সবাইকে হারিয়েই এই টুর্নামেন্টে এসেছে। তবে বড় দুই দলের তুলনায় তাদের সঙ্গে লড়াই একটু ভালো হতে পারে। যদি আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু মাঠে দিতে পারি, তাদের বিপক্ষে ভালো কিছুর সম্ভাবনা আছে।

প্রশ্ন:এই সফরে সুইডেনপ্রবাসী আনিকাও আছেন। তাঁকে নিয়ে কতটা আশাবাদী?

‎তহুরা: ভালো, সে আমাদের সঙ্গে অনুশীলন করছে। ধীরে ধীরে সবকিছু মানিয়ে নিচ্ছে। এখন মাঠে কেমন করে, সেটা তো আর আমি বলতে পারব না।

প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন কোনো বাধা হবে?

তহুরা: মনে হয় না। আমরা সেখানে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পাব। আমাদের সঙ্গে একজন অস্ট্রেলিয়ান ফিটনেস কোচ আছেন, যিনি ট্রেনিং ও খাবারদাবার সবকিছু তদারক করছেন। এই সুবিধা আরও আগে থেকে পেলে ভালো হতো।

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে উপজেলা শ্রমিক দলের এক নেতা আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ শ্রমিক দলের নেতার নাম মেহেদী হাসান (৩২)। তিনি উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে দলটির সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বাড়ি রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্থানীয় শাহ আউলিয়া জামে মসজিদে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন মেহেদী হাসান। এ সময় মুখোশ পরে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মেহেদী হাসানকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল আলম বলেন, মেহেদীকে হত্যা করতে ৬টি গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। একটি গুলি তাঁর বুকের ডান পাশে এবং একটি গুলি পায়ে লেগেছে। আহত মেহেদীকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম আজ শনিবার ভোরে প্রথম আলোকে বলেন, মেহেদী হাসানকে কারা গুলি করেছে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাধার মুখে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) রুমিন ফারহানা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে রাত পৌনে ১২টার দিকে পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ মিনারে পৌঁছান রুমিন ফারহানা ও তার কর্মী-সমর্থকরা। শহীদ বেদির সামনে অপেক্ষারত অবস্থায় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে উত্তেজিত বিএনপি নেতাকর্মীরা রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে তিনি কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন। ফলে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারেননি।

ঘটনার প্রতিবাদে পরে রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভের সময় সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়।

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে এসে যদি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। যারা দলের পদ ব্যবহার করে হিংস্রতায় জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দলের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন সর্বস্তরের মানুষ। খালি পায়ে সারিবদ্ধভাবে ফুল নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন তাঁরা। অনেকেই পরেছেন একুশের প্রতীক সাদা–কালো পোশাক। ফুলে ফুলে ভরে গেছে শহীদ মিনারের বেদি।

[caption id="attachment_267760" align="alignnone" width="921"] ফুল হাতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে শিশুটি[/caption]

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। তা চলে সাহ্‌রির আগপর্যন্ত। সাহ্‌রি শেষে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় প্রভাতফেরিতে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন।

 
বিভিন্ন ভাষার বর্ণ হাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসেছেন তাঁরা
বিভিন্ন ভাষার বর্ণ হাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসেছেন তাঁরা

প্রভাতফেরিতে এর মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল, বাসদ (মার্ক্সবাদী), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট প্রভৃতি।

ফুলে ফুলে ভরে গেছে শহীদ মিনার। শহীদ মিনার, ২১ ফেব্রুয়ারি
ফুলে ফুলে ভরে গেছে শহীদ মিনার। শহীদ মিনার, ২১ ফেব্রুয়ারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন, সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ প্রমুখ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিভিন্ন ভাষার বর্ণ হাতে এসেছেন তাঁরা । শহীদ মিনার, ২১ ফেব্রুয়ারি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিভিন্ন ভাষার বর্ণ হাতে এসেছেন তাঁরা । শহীদ মিনার, ২১ ফেব্রুয়ারি
 

ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

রাত বারোটা বাজার এক মিনিট আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান রাষ্ট্রপতি। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পার কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। শ্রদ্ধা জানিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনারে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রদ্ধা জানান ভাষা শহীদদের প্রতি। এরপর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

এরপর ১২টা ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বেদিতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মন্ডলীগণ।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে সারাবিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।