মুষলধারে বৃষ্টি, কাদাপানি আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার মুসল্লি। রেওয়াজ অনুযায়ী, বন্দুকের ফাঁকা গুলির শব্দে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হয় জামাত।

এবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। নামাজে ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।

আজ ভোর থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। এর মধ্যেই দলে দলে মুসল্লি মাঠে আসতে থাকেন। কেউ ছাতা, কেউ পলিথিন, আবার কেউ জায়নামাজ মাথায় দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে অবস্থান নেন।

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা। কাদামাখা মাঠেও তাঁদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশপথে প্রত্যেক মুসল্লির দেহতল্লাশি করা হয়। নামাজ চলাকালে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে অনেকে পলিথিন বিছিয়ে, কেউ আবার কাদাপানিতেই সেজদা দিয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বৃষ্টিতে ভিজেই মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন।

ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় সাধারণত শোলাকিয়ায় মুসল্লির সংখ্যা কিছুটা কম হয়। কারণ, এ ঈদে পশু কোরবানির প্রস্তুতি ও ব্যস্ততা থাকে। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করে আসছেন এমন অনেক মুসল্লি এবারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা
বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা

করিমগঞ্জ উপজেলার সাঁতারপুর এলাকার রইছ উদ্দিন বলেন, তিনি টানা ৫৫ বছর শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করছেন। এবারের ঈদে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও নামাজ আদায় করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তবে ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় মুসল্লির সংখ্যা কম হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশপাশের এলাকার মানুষকে শোলাকিয়ায় নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করা গেলে মাঠ আরও বেশি মুসল্লিতে পূর্ণ হবে।

জামাতে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনেরা। পরে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ ময়দান।

ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল থেকেই মাঠে বিজিবি, র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ও বোমা ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পুরো মাঠ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধায় চালু করা হয় দুটি বিশেষ ট্রেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায় করেছেন। এ জন্য তিনি আগত মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান।

জনশ্রুতি আছে, ১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দ থেকেই পরবর্তী সময়ে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। তবে এ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। আরেকটি মতে, মোগল আমলে এ অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ‘শ লাখ’ বা এক কোটি টাকা। সেখান থেকেই কালের পরিক্রমায় ‘শোলাকিয়া’ নামের প্রচলন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বুধবার (২৭ মে) বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।   

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয় এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে কোরবানি করার এক মহিমান্বিত ও সর্বজনীন আহ্বান।

মহান আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, অবিচল আনুগত্য এবং সামাজিক সাম্যের অনুপম মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা আবারও আমাদের সামনে সমাগত বলে উল্লেখ করে তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হজরত ইবরাহিম (আ:) তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ:)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য, বিশ্বাস ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ হয়ে রয়েছে। এই মহান ঘটনা আমাদের আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়।’

কোরবানির হিস্যা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে অংশীদারিত্ব, বৈষম্য হ্রাস, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কোরবানির ঈদ গরিব মানুষের সারা বছরের আমিষ জোগানে সাহায্য করে। সার্বিক অর্থে দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করে। 

নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করা এবং কোরবানির বর্জ্য ফেলা, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। 

পবিত্র ঈদুল আজহার মহান শিক্ষাকে ধারণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভেদ নয়, সম্প্রীতি; হিংসা নয়, সৌহার্দ্য; স্বার্থপরতা নয়, উদারতা-এই চেতনা লালন করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাঁধে কাঁধ রেখে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন, দেশ ও জাতির ওপর তাঁর অশেষ রহমত বর্ষণ করুন। ঈদুল আজহা সমগ্র বিশ্বে বয়ে আনুক শান্তি, স্থিতি, সম্প্রীতি ও অশেষ কল্যাণ।’

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য বিক্রি হওয়া অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ আর কোরবানি হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ হস্তক্ষেপে এটিকে আবার খামারে নিয়ে লালন-পালন করা হবে বলে জানা গেছে।

আজ বুধবার কেরানীগঞ্জের জিনজিরার ইসলামপুর থেকে মহিষটি বিকেল সাড়ে ৫টার সময় কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে কেরানীগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সেখানে উপস্থিত হন। তিনি গরুটির মালিক মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে মহিষটি কোরবানি করা যাবে না। এটিকে আপাতত থানায় নিয়ে যেতে বলেছে।’

পরে মহিষটি সেখান থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ব্যাপারে মহিষটির মালিক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মহিষটি রোজার ঈদের ১০ দিন পরে কিনেছিলাম। তিন দিন আগে মহিষটিকে খামার থেকে বাড়িতে আনি। আজকে বিকেলে থানা থেকে লোক এসে বলেছে, এটা সরকারে নিয়ে যাবে গা। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। সরকার চেয়েছে, আমরা দিয়ে দিলাম।’

মহিষটি নেওয়ার পর কী দেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকার বলেছে, আমাদের যা দাম আছে, সে টাকা দিয়া দিবে, নইলে কুরবানীর জন্য গরু দিয়া দিবে।’

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুছ বলেন, মহিষটিকে মালিকের বাসা থেকে ফেরত আনা হয়েছে। এটি বিরল প্রজাতির প্রাণী বিধায় এটাকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় মনিরুজ্জামানের ছেলে মাহিরের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি জানান, মহিষটি নিয়ে থানায় আছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে থানায় পৌঁছে দিতে, তাঁরা সেটি করছেন।

সরকার মহিষটি দিয়ে কী করবে, জানতে পেরেছেন কি না, এমন প্রশ্নে মাহির বলেন, ‘সরকার কী করবে, এটি তাঁরা জানেন, আমাদের বলেছে থানায় পৌঁছে দিতে। আমরা থানা পর্যন্ত নিয়ে আসছি। বাকিটি তাদের (সরকারের) ব্যাপার।’

মহিষটিকে বাসায় নেওয়ার পর থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করতে থাকে বলে জানা যায়। আজ বেলা সাড়ে তিনটার সময় মনিরুজ্জামানের বাসায় গিয়ে দেখা যায় মহিষটি ঘরের ভেতরে বাঁধা। দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মহিষটিকে ঘরের ভেতরে রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন।

তবে মহিষটি থানায় নিয়ে যাওয়ার পরেও অনেক দর্শনার্থী দেখতে এসে ফিরে যেতে দেখা যায়। এমন একজন রিমা আক্তার। তিনি জানান, মোবাইলে মহিষটিকে দেখেছিলেন। আজ সরাসরি দেখার জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারেন মহিষটিকে একটু আগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অ্যালবিনো জাতের এ মহিষের চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে এর নাম রাখেন ট্রাম্প।

এরপর মহিষটি নিয়ে ১২ মে খবর প্রকাশ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর মহিষটি বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়। এরপর আন্তর্জাতিকভাবেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। এএফপি থেকে রয়টার্স প্রায় সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেই জায়গা পেয়েছে ভাইরাল এই মহিষ।

ঈদের এক দিন আগে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন পাঁচ শতাধিক যাত্রী। আজ বুধবার সকালে ভোলার মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক ‘সাঙ্গু’। প্রায় এক ঘণ্টা পর অবশেষে নিরাপদে ইলিশা ঘাটে পৌঁছায় নৌযানটি। জীবিত অবস্থায় তীরে ফিরেই অনেক যাত্রী মহান আল্লাহর দরবারে সিজদা দেন। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া ও ঝোড়োবৃষ্টি শুরু হয়। এতে উত্তাল হয়ে ওঠে মেঘনা নদী। এ সময় লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাট থেকে পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় সি-ট্রাক সাঙ্গু।

নৌযানটি ইলিশা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রবল ঝড় ও বড় বড় ঢেউয়ের কারণে পন্টুনে ভিড়তে পারেনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাঝনদীতে একটি ভার্জিং বয়ার সঙ্গে সি-ট্রাকটি নোঙর করা হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে থাকে নৌযানটি। এ সময় ঢেউয়ের পানিতে ভিজে যান যাত্রীরা। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। উৎকণ্ঠা নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন তাঁরা।

ঝড় কিছুটা কমে এলে সি-ট্রাকটি ইলিশা ঘাটে ভেড়ে। তীরে নেমেই অনেকে শুকরিয়া আদায় করেন। কেউ কেউ মাটিতে সিজদা দেন।

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝেরচরে ঝড়ে ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ বুধবার মাঝেরচর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তোলা
ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝেরচরে ঝড়ে ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ বুধবার মাঝেরচর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তোলা, ছবি: সংগৃহীত
 

ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, ‘সাঙ্গু সি-ট্রাকটি ইলিশা লঞ্চঘাটের কাছাকাছি এসে ঝড়ের কবলে পড়ে। যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আমরা ঘাট থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। সি-ট্রাকের মাস্টার ঘাটের সামনে ভার্জিং বয়ার সঙ্গে নোঙর করে নিরাপদ অবস্থানে ছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বয়ার সঙ্গে নোঙর করায় এবং ঝড়ের পরিস্থিতি দেখে যাত্রীরা আরও আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ফোন দেন। তবে ভার্জিং বয়াটি নিরাপদ ছিল। সব যাত্রী নিরাপদে তীরে ফিরেছেন।’

এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চরে অন্তত ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে জেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন বলেন, ঝড়ে ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। চাল-ডাল, বীজ ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল নষ্ট হয়েছে। ঘরের আসবাবও ভিজে গেছে। সামনে কোরবানির ঈদ, পরিবারগুলো এখন অসহায় অবস্থায় আছে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, সব ইউনিয়ন থেকে খবর আসছে। কোথাও ২০টি, কোথাও ৩০-৩৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আর মাত্র একদিন পরই মুসলিম উম্মার বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে দেশবাসী এবং বিশ্ববাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে এই শুভেচ্ছা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি এই শুভক্ষণে দেশ এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।

ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমান ঈদুল আজহা উদ্ যাপনের জন্য প্রস্তুত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ-উৎসবই নয় বরং স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আল্লাহ যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন। একইসঙ্গে আমি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কোরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তাঁর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।

 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের কর্মজীবী মানুষেরা ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনাল থেকে স্বস্তিতে লঞ্চযোগে বাড়িতে ফিরছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত যাত্রীর চাপ কম থাকলেও বিকেলের দিকে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ আজ দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা নদীবন্দরের সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখে। পরে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার লঞ্চ চলাচল শুরু হয়।

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে ৫৬টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। একই সময়ে টার্মিনালে এসে পৌঁছেছে ৭৪টি লঞ্চ।

দুপুরে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, হুলারহাট, ভান্ডারিয়া, বরগুনা, ভোলা, ইলিশা, আমতলী, চাঁদপুর, হাতিয়া, লালমোহন ও মুলাদী রুটে যাত্রীদের চাপ তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে অন্যান্য রুটে যাত্রীসংখ্যা কম ছিল। বৃষ্টি উপেক্ষা করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ পরিবার-পরিজন ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে টার্মিনালে আসছেন। এরপর নিজ নিজ লঞ্চে উঠে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রার অপেক্ষা করছেন।

মুলাদীগামী এমভি অভিযান-৫ লঞ্চের যাত্রী সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সকালে পরিবার নিয়ে সদরঘাটে এসেছি। আগের বছরের তুলনায় এবার টার্মিনালে ভিড় কম মনে হচ্ছে। এতে কিছুটা স্বস্তিতে লঞ্চে উঠতে পেরেছি। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা কষ্ট হয়েছে। আশা করছি, নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারব।’

চরফ্যাশনগামী এমভি ফারহান-৮ লঞ্চের যাত্রী সুজন বেপারী বলেন, ‘ঈদের আগে সাধারণত সদরঘাটে অনেক বেশি ভিড় থাকে। কিন্তু এবার চাপ কম থাকায় ঝামেলা ছাড়াই টার্মিনালে প্রবেশ করতে পেরেছি। পরিবার নিয়ে এসেছি, তাই ভিড় কম থাকায় স্বস্তি লাগছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় কিছুটা শঙ্কাও কাজ করছে।’

হিজলাগামী এমভি রাজহংস লঞ্চের যাত্রী কুলসুম বেগম বলেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টি হলেও বাড়িতে যাওয়ার জন্য ছোট সন্তানদের নিয়ে চলে এসেছি। টার্মিনালের পরিবেশ ভালো আছে। আল্লাহ ভরসা করে লঞ্চে উঠেছি, যেন নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারি।’

অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সংস্থার সদস্য আবুল কালাম বলেন, ঈদের আর মাত্র এক দিন বাকি। পূর্বের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এবার যাত্রী কম মনে হচ্ছে। তবে আগামীকাল বুধবার চাপ বাড়তে পারে।

নৌ–পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা বলেন, লঞ্চযাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ–পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। যাত্রীসেবায় তাঁরা সার্বক্ষণিক তৎপর আছেন।

ঈদ উদ্‌যাপনে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে নৌপথে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। বৈরী আবহাওয়াতেও আজ মঙ্গলভার বিকেলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়
ঈদ উদ্‌যাপনে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে নৌপথে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। বৈরী আবহাওয়াতেও আজ মঙ্গলভার বিকেলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়
 

বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন বলেন, নদীপথে লঞ্চযাত্রীদের সেবায় বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীবন্দরের সতর্কতা সংকেত মেনে লঞ্চ চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করতে দেওয়া হবে না। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে আজ ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর। এ সময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় এমভি ময়ূরী-১০ লঞ্চকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশরাফুল রহমান। তিনি বলেন, যেসব লঞ্চ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈদুল আযহা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় বান্দরবানে পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক নির্দেশনা জারি করেছে প্রশাসন। জারিকৃত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যটন স্পট পরিদর্শন শেষে পর্যটকদের সন্ধ্যার পূর্বেই জেলা ও উপজেলা সদর বা শহর এলাকায় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (২৫ মে) বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনুমোদনবিহীন কোনো পর্যটন স্পট বা নির্ধারিত অনুমতি ব্যতীত কোনো রুটে পর্যটকরা যাতে ভ্রমণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে ট্যুর গাইড ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ‎পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় টুরিস্ট গাইড, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো সন্দেহজনক বিষয় নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। 

প্রশাসন জানায়, জারিকৃত নির্দেশনাসমূহ অবিলম্বে কার্যকর হবে। 

 

‘মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরই আমার ওপর ডিম ছুড়ে মারা হয়। ডিম আমার চোখে এসে লাগে, আমি চোখে অন্ধকার দেখছিলাম। পাশ থেকে একজন জানাল যে ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে। এরপর তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। তারপর আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর হকি স্টিক, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা রক্ষীবাহিনীর মতো করে ঝাপিয়ে পড়ে।’ গত শুক্রবার ঝিনাইদহে হামলার শিকার হওয়ার বর্ণনা এভাবে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ বর্ণনা দেন। ‘ঝিনাইদহে বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলা ও মামলার প্রহসন’ এবং সমসাময়িক বিষয়ে দলের বক্তব্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার পর বিএনপি ও দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মীদের হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

ওই দিন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তারা একসঙ্গে আমাদের ওপর হামলা করেছে। পরে বিচারের জন্য থানায় গেলে তারা মামলা না নিয়ে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেয়। ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। মামলা নেওয়ার কথা বললেও একপর্যায়ে ওসি থানা থেকে সটকে পড়েন। একটা পর্যায়ে তারা মামলা নিতে বাধ্য হয়।’

মামলা করে থানা থেকে বের হওয়ার সময় হাজার তিনেক ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র-লাঠিসোঁটা নিয়ে থানার ফটক ভাঙা শুরু করে জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘পুলিশ তখন পেছনে পালানো শুরু করে। পরে তাদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন (সমঝোতা) করে।’

দেশে কোনো আইনের শাসন নেই, দেশে একটি জংলি শাসন চলছে বলে অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁরা সংস্কার বাস্তবায়ন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন এবং চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন উল্লেখ করে এই এনসিপি নেতা বলেন, ‘এ জন্য সরকার একটি রক্ষীবাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত আমাদের আঘাত করে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করছি, আমি, আমরা মাঠে যাব। আপনাদের শেষ অপশন আমাদের মেরে ফেলা। যদি মেরে ফেলেন, এটাও আমাদের জন্য কল্যাণকর। কিন্তু আপনারা যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না করেন, আপনাদের সঙ্গে আমরা আপস করব না। বিচারের প্রশ্নে, আওয়ামী লীগের প্রশ্নে, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস ও দুর্নীতির প্রশ্নে আমরা আপস করব না।’

সরকারকে সতর্ক করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমাদের ওপর যদি অন্যায়ভাবে হামলা-মামলা হয়, আমরা পাঁচ বছরের জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু পাঁচ বছর দেখবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারছি না। ইতিমধ্যে চায়ের দোকানে কথা চলছে। কেউ বলে এক বছর, কেউ বলে দুই বছর, কেউ বলে আড়াই বছর।...তিন মাসেই সরকার হেলছে, দুলছে।’

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারের ক্ষমতার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং পেছনে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় কোনো পক্ষ সুযোগ নেওয়ার প্রচেষ্টা চালাবে। এই অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে আমাদের কোনো চুক্তিতে তারা বাধ্য করবে। আমাদের জনগণের কাউকে হত্যা করে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করবে, যেখানে আবার গণতন্ত্র ব্যাহত হওয়ার একটি ষড়যন্ত্রের আভাস আমরা পাচ্ছি।’

সম্প্রতি ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্ত এলাকা মাদকে সয়লাব। সেখানে রাস্তায় রাস্তায় ফেনসিডিলের বোতল পড়ে থাকে। ভারত থেকে অবাধে বাংলাদেশে মাদক ঢুকছে। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন।

বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে প্যাট্রলিং ব্যবস্থা, থাকার ব্যবস্থা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নাজুক অবস্থা রয়েছে বলে মনে করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিজিবিকে শক্তিশালী করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া সরকারের উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন (প্রচারণা চালানো) করার দাবি তোলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের সঙ্গে ঈ দের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈ দের ছু টির দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছেন ঘ রমুখো মানুষ। মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকেই রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। 

সরেজমিন মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে- সকাল ৯টা পর্যন্ত সব গাড়িই সময় মতো ছেড়ে গেছে যাত্রীরাও তেমন কোনো অভিযোগ করছেন না।

আগেই টিকিট সংগ্রহ করা যাত্রীরা বলছেন, মহাখালী থেকে সময়মতোই গাড়ি ছাড়ছে। তেমন ঝক্কি-ঝামেলা নেই।

তবে, গাবতলী বাস টার্মিনালে গেলে সেখানে কিছু কিছু যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে তারা এও বলছেন, ঈ দের সময় হিসেবে এটা সহনীয়। কিন্তু সেই তুলনায় মহাখালী বাস টার্মিনালে সব কিছু স্বাভাবিক দেখা গেছে।

মহাখালীতে টার্মিনালে যারা আগে টিকিট কাটেননি, তাদের কেউ কেউ আজ টিকিট কেটে বা ড়ির উদ্দেশে যাত্রা করছেন। কিন্তু টিকিটের জন্যও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। 

টার্মিনালে কথা ময়মনসিংহগামী যাত্রী আজহারু ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে গ্রামে যাচ্ছি ঈ দ করতে। আমাদের রুটের অনেক গাড়ির টিকিট আগে করা লাগে না। এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেই টিকিট পেয়ে গেছি। এখান থেকেও নিয়মিতই বাস ছাড়ছে। সড়কে জ্যাম না পেলে হয়তো সময়মতোই বা ড়ি পৌঁছাতে পারবো।

তবে রাতে বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি গাড়ি এখনও টার্মিনালে এসে পৌঁছায়নি। সেকারণে দুয়েকটি কাউন্টারে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ মঙ্গলবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ বেলা পৌনে ১২টার দিকে এ ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল ময়মনসিংহের ভালুকা বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুবাইয়াৎ কবীর বলেন, আজ বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪। এটি স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প।  এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই।

আজকের ভূমিকম্প স্বল্পমাত্রার হলেও রাজধানীর অনেকেই এটি টের পেয়েছেন। রাজধানীর ক্রিসেট রোড থেকে এক নারী ভূমিকম্পের তথ্য জানান। হঠাৎই মাথা হালকা ঘুরে যাওয়ায় এবং মুঠোফোনে অ্যালার্ট আসায় তিনি ভূমিকম্প টের পেয়েছেন বলে জানান।

বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।  ভূমিকম্পপ্রবণ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে আছে বাংলাদেশ। তাই এ দেশে যে ভূমিকম্প মাঝেমধ্যে হবে, সেটাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, সম্প্রতি দেশের মধ্যে ভূমিকম্পের উৎপত্তির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের কম ঝুঁকির অঞ্চল হিসেবে পরিচিত দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্প বেড়ে গেছে।

নগরজীবনের ক্লান্তি, যানজট ও কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে নাড়ির টানে বা ড়ির পথে ছুটছেন মানুষ। ঈ দুল আজহা সামনে রেখে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ট্রেনে চড়ে ঢাকা ছাড়ছেন নগরবাসী। 

সরেজমিন মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে ঘ রমুখো মানুষের ঢল। প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছিল মানুষের কোলাহল, শিশুদের হাসি, ট্রেনের হুইসেল আর স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার অপেক্ষার আনন্দ। ঈ দ শুধু ধর্মীয় উ ৎসব নয়, এটি পরিবারে ফেরারও উপলক্ষ। তাই বছরের সবচেয়ে আনন্দের এই যাত্রায় কমলাপুর রেলস্টেশন যেন পরিণত হয়েছে মানুষের আবেগ, অপেক্ষা আর ভালোবাসার এক মিলনমেলায়।

স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে নানা বয়সী মানুষের ব্যস্ততা। কারও হাতে বড় ট্রাভেল ব্যাগ, কারও মাথায় পাটের বস্তা, কেউ আবার ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষায় বসে আছেন। অনেকে প্ল্যাটফর্মেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গল্প করছেন, কেউ ছবি তুলছেন। দীর্ঘ সময় পর বা ড়ি ফেরার আনন্দ যেন ক্লান্তিকেও হার মানিয়েছে।

কমলাপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছেন জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী মোহাম্মদ আল-আমিন। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে তিন দিন আগেই গ্রামের বা ড়িতে পাঠিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঢাকায় চাকরির কারণে সারা বছর পরিবারের সঙ্গে ঠিকমতো সময় কাটানো হয় না। ঈ দের সময়টুকুই সবচেয়ে আনন্দের। বাচ্চারা আগেই চলে গেছে। গতকাল অফিস ছিল। অফিস শেষ করে আমি আজ রওনা দিলাম। মা ফোন দিয়ে বারবার বলছে কখন পৌঁছাবো।

প্ল্যাটফর্মের এক পাশে বসে ছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা শারমিন আক্তার। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শ্বশুরবা ড়িতে যাবেন। তিনি বলেন, ছেলেটা ট্রেনে চড়তে খুব পছন্দ করে। ঈ দ মানেই ওর কাছে গ্রামের বা ড়ি যাওয়া। গ্রামের খোলা মাঠ, আত্মীয়স্বজন, সবকিছু মিলিয়ে আলাদা একটা আনন্দ।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ঈ দের ছু টি কম হলেও চেষ্টা করি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। এবার টিকিট পাওয়া নিয়ে একটু ভোগান্তি হয়েছে। তারপরও ট্রেনে যাওয়া স্বস্তির। রাস্তায় যানজটের ভোগান্তি নেই।

স্টেশনের বাইরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই স্টেশনে চলে এসেছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে আগেভাগে আসাই ভালো।

খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী কলেজ শিক্ষক সাইফু ল ইসলাম বলেন, ঢাকায় জীবনটা খুব যান্ত্রিক। ঈ দের সময় গ্রামের বা ড়িতে গেলে অন্যরকম শান্তি লাগে। বাবা-মায়ের সঙ্গে বসে খাওয়া, আত্মীয়দের সঙ্গে আড্ডা, এসবের জন্যই তো সারা বছর অপেক্ষা করি।

স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের সুবিধায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। টিকিট যাচাই থেকে শুরু করে যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে ওঠানামা পর্যন্ত নানা বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে তাদের।

তবে, যাত্রীদের একটি অংশের অভিযোগ, টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে এখনও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেকে কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট পাননি। তারপরও পরিবারের সঙ্গে ঈ দ করার আনন্দের কাছে এসব কষ্ট খুব বড় হয়ে ওঠেনি।

রাসেল আহমেদ নামের একজন বলেন, রোববার আমার শেষ অফিস ছিল। অনলাইনে সোমবারের টিকিট কাটার অনেক চেষ্টা করি। কিন্তু টিকিট পায়নি। তারপরও ভাগ্য ভালো আজকের টিকিট পেয়েছি। কিন্তু আমার বড় ভাই অনেক চেষ্টা করেও টিকিট পাননি। 

কামরুজ্জামান বাবু নামের আর একজন বলেন, অনেক চেষ্টা করেও অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পাইনি। অ্যাপে ঢুকতে ঢুকতেই সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে এখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাবো। দাঁড়িয়ে যেতে কষ্ট হবে, তারপরও বাড়ি যেতে পারবো সেটাই বড় কথা।

 

ভারতের গোয়ায় আজ শুরু হয়েছে মেয়েদের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের অষ্টম আসর। জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে নেপাল। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের গ্রুপসঙ্গী ভারত ১১–০ গোলে হারিয়েছে মালদ্বীপকে। আগামী বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ।

ছয় দলের এই টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামবেন মারিয়া মান্দা-ঋতুপর্ণা চাকমারা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ফেবারিট বাংলাদেশ। যদিও টানা তৃতীয়বার ট্রফি জেতার পথটা যে সহজ হবে না, তা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মনে করিয়ে দিয়েছেন নতুন অধিনায়ক মারিয়া। অবশ্য শিরোপা ধরে রাখার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী কোচ পিটার বাটলার।

বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বরাবরের মতোই বড় বাধা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। আগামী ৩১ মে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মারিয়াদের আসল পরীক্ষাটা হবে সেখানেই।