যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই চুক্তিতে যে ১৪ বিষয় থাকছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে বিষয়গুলো সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজ সোমবার ভোররাতে দুই দেশের চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান।

এরপর ইরানের আধা সরকারি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সমঝোতা স্মারকে থাকা ১৪টি বিষয় প্রকাশ করে। সেগুলো হলো:

# লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি।

# ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি।

# ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

# ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রত্যাহার।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে ফেব্রুয়ারির পর থেকে কার্যত অচল হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির মধ্য দিয়ে এই প্রণালি আবার চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে ফেব্রুয়ারির পর থেকে কার্যত অচল হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির মধ্য দিয়ে এই প্রণালি আবার চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

# ইরানের ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া।

# যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনা দেবে, যাতে ব্যয় হবে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার।

# ইরানের তেল ও জ্বালানি পণ্যের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার অবসান।

# পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত।

# ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের।

বার্তা সংস্থা মেহরের খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ করা ইরানের তহবিলের অর্ধেক না ছাড়া, ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত যে চুক্তি হবে, সেটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে অনুমোদিত হবে।

হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন শুরু হবে

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছবি: এএফপি
 

বিশ্বের জাহাজগুলোকে ইঞ্জিন চালু করার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তেল পরিবহন চলবে।

পরে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, অন্যরা যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে তিনি সফল হয়েছেন।

‘এই মহান চুক্তি ওই পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে,’ ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ‘অনেক প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন এবং আমার আগে সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। ওই অঞ্চলের নেতারা এই প্রথম একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন, যিনি প্রকৃত শান্তি অর্জনে তাদের সহায়তা করতে পারেন।’

শুক্রবার চুক্তিতে সই হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পর এই প্রণালির উভয় পাশ দিয়ে ওই অঞ্চল ও পুরো বিশ্বের জন্য তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

চুক্তিকে ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলি ডানপন্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ঘোষণা ইসরায়েল মোটেও সহজভাবে নেবে না। এরই মধ্যে ইসরায়েলি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলোয় ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, এসব সংবাদমাধ্যম ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুগত হিসেবে পরিচিত। হঠাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমগুলোর এ অবস্থান বেশ অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। অল্প কিছুদিন আগেও জনমত জরিপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশি দেখা গিয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, রয়টার্স ফাইল ছবি
 

এখন আসল ঘটনা হচ্ছে, ইরান ইস্যুতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আর আগের মতো একই জায়গায় নেই। ট্রাম্পের এ চুক্তির ঘোষণার ফলে ইসরায়েল এখন লেবাননে বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। এমনকি ইসরায়েল লেবানন থেকে তাদের সেনা সরিয়ে নিতে পারে অথবা তাদের আগ্রাসন স্থগিত করতে পারে।

বিষয়টিই ইসরায়েলের কট্টরপন্থীদের ক্ষোভের মূল কারণ দাঁড়িয়েছে। তাঁরা একে ইসরায়েলের জন্য একটি রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বুঝতে পারছেন, এ চুক্তিকে তেহরানে বিজয় হিসেবে দেখা হবে। আর ইরানের সেই বিজয় আসলে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবেই গণ্য হবে।

বিবিসি

যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তিচুক্তির বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শুক্রবার চুক্তি সইয়ের পর বিশ্ববাণিজ্যের জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে।

যদিও আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘অবিলম্বে’ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করেছিলেন, চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতার ঘোষণার পরপরই জলপথটি খুলে দেওয়া হতে পারে।

এএফপির খবরে বলা হয়, পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে চুক্তি সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।

চুক্তির ১৪টি বিষয়ের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ও রয়েছে। বলা হয়েছে, চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে।

বৈশ্বিক জ্বালানি–বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।

ট্রাম্প গতকাল রোববার বিকেলে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর জলপথটি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে। অর্থাৎ এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে কোনো টোল দিতে হবে না।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ২৮ মিনিটের এই টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি আবার সামরিক হামলা শুরু করবেন। অথবা যুক্তরাষ্ট্র ‘মধ্যপ্রাচ্যের অভিভাবক’ হিসেবে ভূমিকা নেবে। বিনিময়ে অঞ্চলটির রাজস্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই ‘মহান চুক্তি’ পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও পাল্টা জবাব দেয়। ফলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

গত ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের আসা-যাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

বিবিসি এএফপি

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার হুমকির পরও যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিটি রোববারের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়াটি ‘কয়েক ঘণ্টা’ পিছিয়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

অ্যাক্সিওসের সঙ্গে রোববার এক ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, ‘(ইসরায়েলের আজকে হামলা) সবকিছু কিছুটা ওলটপালট করে দিয়েছে। এটি চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়াকে কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়েছে। এটি এখনই হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন থেকে আর কয়েক ঘণ্টা পর তা সম্পন্ন হওয়ার নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।’

ট্রাম্প জানান, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে যখন তাঁর উপদেষ্টারা তাঁকে ব্রিফ করতে ফোন করেন, তখন তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত হন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অ্যাক্সিওস ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটি খুবই খারাপ একটি বিষয়। আমি তা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। ঠিক যে মুহূর্তে আমাদের চুক্তিতে সই করার কথা, তার মাত্র এক ঘণ্টা আগে এ ঘটনা ঘটল।’

তবে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে হতে যাওয়া এই চুক্তি ইসরায়েলের জন্যও ভালো হবে। কারণ, এটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখবে, পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করতে বাধ্য করবে এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনের (স্ন্যাপ ইন্সপেকশন) অনুমতি দেবে।

এদিকে ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানকে লেবাননে রোববারের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা না করার জন্য অনুরোধ জানাবেন।

ইরানের কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি

বৈরুতে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে ‘কড়া জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এই হুমকি দেন।

ইব্রাহিম আজিজি বলেন, ‘বৈরুতের দাহিয়াহ এলাকায় ইসরায়েলের আজকের (রোববার) এই অপরাধ যুক্তরাষ্ট্র কতটা দুর্বল ও গ্রহণযোগ্যতাহীন তা আবারও প্রমাণ করেছে। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকে (ইসরায়েলকে) নিয়ন্ত্রণ করার পর্যন্ত ক্ষমতা রাখে না।’ তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘একটি কড়া জবাব আসছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি সইয়ের আগমুহূর্তে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। রোববার হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। হামলার পর বৈরুতের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য প্রাথমিক চুক্তিটি কবে স্বাক্ষরিত হবে, তা নিয়ে গতকাল শনিবার থেকে নতুন করে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল ইঙ্গিত দিয়েছেন, রোববারের মধ্যে ওয়াশিংটন–তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি হতে পারে। ইরান বলেছে, চুক্তির প্রায় সবকিছু চূড়ান্ত। রোববার নয়, কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে, তাতে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধের বিষয়টি চুক্তিতে থাকছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

আল–জাজিরা

নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি সইয়ের আগমুহূর্তে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। আজ রোববার হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। হামলার পর বৈরুতের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে বৈরুতে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, রোববার হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলো লক্ষ্য করে তিনটি রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলের মতে, এটি যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন।

হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের শোমেরা ও শ্লোমি এলাকার কাছাকাছি এলাকায় পড়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহেও ইসরায়েল যখন বৈরুতের শহরতলিতে হামলা চালিয়েছিল, তখন ইরান সরাসরি ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল।

হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তেহরান শুরু থেকে জোর দিয়ে বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তিটি কবে স্বাক্ষরিত হবে, তা নিয়ে গতকাল শনিবার থেকে নতুন করে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল ইঙ্গিত দিয়েছেন, আজ রোববারের মধ্যে ওয়াশিংটন–তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি হতে পারে।

সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে, তাতে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধের বিষয়টি চুক্তিতে থাকছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা শুরু করে। এর দুই দিন পর ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে। গত ৪ এপ্রিল প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দূতিয়ালিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকে।

২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির ১০ লাখের বেশি তথা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী আজ রোববার ইংলিশ চ্যানেল থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এর (ছদ্মনাম বা তৃতীয় দেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজবহর) একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মেরিন কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির কর্মকর্তারা ছয় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তেলের ট্যাংকারটি আটক করেন। ‘স্মির্টোস’ নামের ট্যাংকারটি ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ছিল। যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে এ প্রথম রুশ তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চালানো হলো।

স্থানীয় সময় আজ ভোররাতে অভিযানটি শুরু হয়। এর আগে আটলান্টিকে এ ধরনের একটি অভিযান পরিচালনার সময় যুক্তরাজ্য ফরাসি সেনাবাহিনীকে সহায়তা দিয়েছিল।

ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে ডরসেট উপকূলে সমুদ্রতীরবর্তী শহর ওয়েমাউথের কাছে নোঙর করে রাখা আছে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে ট্যাংকারটিতে পরিবেশগত বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কি না, তা আগে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে তেলবাহী ট্যাংকারটি ইংলিশ চ্যানেলে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন।
 

এখানে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে গোপনে রাশিয়ার তেল বিশ্ববাজারে পরিবহন করতে ব্যবহৃত তৃতীয় দেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজবহরকে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজবহর বলা হচ্ছে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘স্মির্টোস’–এর মতো সাত শর বেশি তেলের ট্যাংকার রয়েছে, যেগুলো রাশিয়ার তেল বহন করে। এ ‘শ্যাডো ফ্লিটে’ রাশিয়ার নিষিদ্ধঘোষিত তেলের প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিবাহিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন জাহাজবহর রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ‘শ্যাডো ফ্লিট’ রাশিয়াকে তেল বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করছে।

যুক্তরাজ্যের সরকারি যোগাযোগ সদর দপ্তরের (জিসিএইচকিউ) প্রধান বলেন, রাশিয়া যুক্তরাজ্যের অবকাঠামো ও গণতন্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে তেলবাহী ট্যাংকারটি ইংলিশ চ্যানেলে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ সফল অভিযান রাশিয়ার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা। যারা ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে, তাদের মনে করিয়ে দেওয়া যে আমরা তাদের লুকিয়ে থাকতে দেব না।কিয়ার স্টারমার, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
 

প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘এ সফল অভিযান রাশিয়ার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা। যারা ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে, তাদের মনে করিয়ে দেওয়া যে আমরা তাদের লুকিয়ে থাকতে দেব না। আমি এ অভিযানে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, বিশেষ করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের, যাঁরা বছরের ৩৬৫ দিন, ২৪ ঘণ্টা এই দেশকে নিরাপদ রাখেন।’

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মেরিটাইম এয়ার গ্রুপের উড়োজাহাজগুলো এ সামরিক অভিযানে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া রয়্যাল এয়ারফোর্সের একটি পি–৮ উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস সাদারল্যান্ড ও এইচএমএস লেডব্রি অভিযানে অংশ নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘শ্যাডো ফ্লিট’ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং এরই মধ্যে ৫০০টির বেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর প্রভাবে আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে তেল ও গ্যাস থেকে রাশিয়ার আয় ২৪ শতাংশ কমেছে।

গত মার্চে স্টারমার ঘোষণা করেছিলেন, ‘ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী এখন আমাদের জলসীমা দিয়ে অতিক্রম করা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলোতে উঠে তল্লাশি চালাতে সক্ষম।’

দ্য গার্ডিয়ান

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ইরান এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রস্তাবটির রাজনৈতিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে তেহরান।

এসব বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন একটি সূত্রের বরাতে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স আজ রোববার এ কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারণী নেতৃত্ব—উভয় স্তরে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য চুক্তির সব ধরনের প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তিটি কবে স্বাক্ষরিত হবে, তা নিয়ে গতকাল শনিবার থেকে নতুন করে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আগামী ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে’ চুক্তির শর্তাগুলো চূড়ান্ত হতে পারে।

শাহবাজের এই পোস্টের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি লিখেন, রোববারের (আজকের) মধ্যে চুক্তি ‘সই হওয়ার কথা রয়েছে’।

তবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই দাবির বিরোধিতা করে বলেছে, রোববার এই চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না। একই সঙ্গে আজ (রোববার) চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে ট্রাম্পের ‘অস্বাভাবিক জেদের’ও সমালোচনা করেছে তারা। উল্লেখ্য, আজ ১৪ জুন ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন।

সিএনএন

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে। আল্লাহর রহমতে আর আপনাদের দোয়ায় টাকার প্রতি কোনো লোভ হয়নি আমার। আমাকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি যা করবেন, পূর্ণ সমর্থন দেব। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।’

আজ শনিবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাখাওয়াত হোসেন এ কথা বলেন। এ সময় মনোহরদী পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তির মধ্যে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াতের লোকেরা বলে, এটা নাকি বে-ইনসাফ হইছে। কয়েকটা টাকা না কম নিয়া তারা (আদ্-দ্বীন হাসপাতাল) মানুষরে বোকা বানায়। ছয়টা বাচ্চাকে মেরে ফেলছে, ওরা (জামায়াত) এখন তাদের (আদ্-দ্বীন হাসপাতাল) পক্ষে নানান কথা বলে। কথা বলুক আর যাই করুক, বাতিল করছি তো করছিই। এই একটা পানিশমেন্টে সারা দেশের প্রাইভেট হাসপাতালগুলো ঠিক হয়ে যাবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি ব্যতিক্রমী সরকার চালাচ্ছি। দলমত-নির্বিশেষে আমরা সব মানুষের সেবা করতে চাই। এখন সরকারি সুবিধা পেতে আর কাউকে ঘুষ দিতে হয় না। প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।’

চিকিৎসাব্যবস্থা সহজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পাইলটিং স্কিমের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেওয়া হবে। যেখানে প্রতিটা ঘরে ঘরে আমাদের লোক যাবে। তারা গিয়ে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর যদি মনে করে হাসপাতালে নিতে হবে, তবেই একজন রোগীকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। এভাবে দেশব্যাপী সবার চিকিৎসাব্যবস্থাকে সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা চীনের সহযোগিতায় ৩ হাজার বেডের দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করতে যাচ্ছি। যেখানে শিশু ও নারীদের চিকিৎসাসেবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার (দোলন), মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বাদশা, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল হান্নান প্রমুখ।

আসামের জোরহাটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচজন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১৩ জুন) সকালে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

ভারতীয় বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টার দিকে জোরহাট বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে নিয়মিত উড্ডয়নের সময় এএন-৩২ বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। 

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।

ভারতীয় বিমান বাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো এই সদস্যদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে বাহিনী।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অবতরণের সময় বিমানটি বাহিনীর স্টেশনের ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি মূল্যায়নে দ্রুত জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়।

দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী।

ঘটনার পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘জোরহাটে বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।’

উল্লেখ্য, এএন-৩২ একটি দ্বি-ইঞ্জিনবিশিষ্ট সামরিক পরিবহন বিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান পরিবহন উড়োজাহাজ হিসেবে পরিচিত। সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মিত এই বিমানগুলো দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় পরিবহন ও সরবরাহ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে প্রায় ১০০টি এএন-৩২ বিমান রয়েছে।

কয়েক মাস আগে আসামের কার্বি আংলং জেলায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে দুই পাইলট নিহত হন। ওই বিমানটিও জোরহাট বিমান বাহিনী ঘাঁটি থেকে নিয়মিত উড্ডয়নে অংশ নিয়েছিল।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগসংবলিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষ করে ইরানে ৩০০ কোটি ডলার পাঠানোর যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে দেশটি।

এক বিবৃতিতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। ইরানের কোনো জব্দ করা তহবিল মুক্ত, স্থানান্তর বা আমিরাতের মাধ্যমে সরবরাহ করার ঘটনা ঘটেনি।

মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের দাবি পুরোপুরি অসত্য এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

একই সঙ্গে গণমাধ্যমগুলোকে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আরব আমিরাত। দেশটি বলেছে, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্রের ওপর ভরসা করতে হবে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, যাচাই না করা তথ্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রকাশ বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।