কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, টহল দেওয়ার সময় ইরান ওই হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। ইরানের এই হামলার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গত রোববার রাত থেকে পরদিন সোমবার সকাল পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়।
ট্রাম্প রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনী আমাকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে টহল দেওয়ার সময় ইরানিরা আমাদের একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। হেলিকপ্টারটিতে দুজন পাইলট ছিলেন, তাঁরা নিরাপদ ও অক্ষত আছেন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘যা–ই হোক না কেন, এই হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এখন অপরিহার্য।’
ট্রাম্পের এই পোস্টের আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে জানানো হয়েছিল, ওমান উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন বাহিনী দুই পাইলটকেই উদ্ধার করেছে।
এদিকে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছেন, নির্দেশ পেলে ইরানে আবারও জোরালো হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে।
হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে মঙ্গলবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা চমৎকার একটি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি। এ চুক্তি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না।’ চুক্তি সই হওয়ার দুই–তিন দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। এর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়ে থাকে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই উত্তেজনার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম পক্ষ। তাই যেকোনো উপায়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে এসেছে। ‘অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ’ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা চালানো বন্ধের কথা জানিয়েছে। গতকাল সোমবার হামলা বন্ধের এ তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের সঙ্গে লড়াই বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে ‘শক্তি দিয়ে’ জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘বর্তমানে এই ফ্রন্টের (ইরান) যুদ্ধ বন্ধ রয়েছে। কারণ, তেহরানের ‘‘সন্ত্রাসী’’ সরকার আঘাত পাওয়ার পর আমাদের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করেছে। সেই ‘‘সন্ত্রাসী’’ সরকার যদি আবারও আমাদের ওপর হামলা চালানোর ভুল করে, তবে আমরা শক্তি দিয়ে তার জবাব দেব।’
সম্প্রতি ইসরায়েলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও এর জবাবে ইরানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের পাল্টা হামলা ছিল গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরাসরি সংঘাত। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা, যা এ উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।গতকাল তেহরানও আপাতত হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে ইসরায়েল যদি আবার ইরানে বা লেবাননে হামলা চালায়, তবে এর জবাব দেওয়া হবে বলে জানায় দেশটি।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
দুই মাস পর ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় গত রোববার দিবাগত রাতে। গতকাল সকালেও তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নতুন হামলার আশঙ্কা, লেবানন ইস্যুতে অনড় ইরান ও ইসরায়েল
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে হওয়া এ সমঝোতা খুবই ভঙ্গুর। যেকোনো মুহূর্তে একাধিক বিরোধপূর্ণ উৎস থেকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধের শর্তে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল ইরান। তবে ইরানের এ ধারাবাহিক প্রচেষ্টা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
গতকাল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ইসলামপন্থী সশস্ত্র আন্দোলন যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তবে বৈরুতেও আঘাত করা হবে।
কাৎজ আরও বলেন, ‘লেবানন ও ইরানকে এক সুতোয় বেঁধে ইসরায়েলে হামলার যেকোনো ইরানি চেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যেমনটা রোববার দেওয়া হয়েছে।’
হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে। এর জের ধরেই রোববার ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ইরান।

এদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল বলেন, তেহরান এ ‘বারবার (যুদ্ধবিরতি) লঙ্ঘন’ সহ্য করবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যতক্ষণ না আপনাদের মধ্যে আস্থা তৈরির প্রকৃত সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের জবাব একই রকম থাকবে।’
চুক্তির জন্য ইসরায়েলকে ট্রাম্পের চাপ, নতুন করে রকেট হামলা হিজবুল্লাহর
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির পরিবেশ তৈরি করতে লেবাননে হামলা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত সপ্তাহে এক ফোনালাপে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তীব্র ভাষায় তিরস্কারও করেন।
অ্যাক্সিওস গতকাল জানিয়েছে, ট্রাম্প নিজেই নেতানিয়াহুকে আবারও ধমক দেওয়ার দাবি করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমি বলেছি, বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম), সাবধান হওয়া ভালো, অন্যথায় খুব শিগগিরই তুমি একা হয়ে পড়বে।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষের দিকে একটি নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। হিজবুল্লাহর হামলা চালানোর সক্ষমতা ধ্বংস করার অভিযান যেন অব্যাহত রাখা হয়, সে জন্য নিজের দেশের ভেতরেও চাপের মধ্যে রয়েছেন তিনি।
এরই মধ্যে গতকাল উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর নতুন করে রকেট হামলার খবর পাওয়া গেছে। কয়েক দশক ধরে এ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে আসছে ইরান। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের কাছে ইসরায়েলও একটি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপি
আপাতত হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে ইসরায়েল যদি আবার ইরানে বা লেবাননে হামলা চালায়, তাহলে এর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বাহিনীর চলমান অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হলো।’ পাশাপাশি বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যদি ইরান ও লেবাননে হামলা চালাতে থাকে তেহরান ‘আগের চেয়ে আরও কঠোর এবং শক্তিশালী’ জবাব দেবে।
সূত্র: বিবিসি
ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় তিনি এই বৈঠক ডাকবেন বলে একাধিক ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এক বেনামী সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বৈঠকটি হবে সীমিত পরিসরে। এতে অল্পসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অংশ নেবেন।

ইরানে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা ইসরায়েলের নেভাতিম ও তেল নোফ বিমানঘাঁটি নিশানা করে হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, কিছু আগেই এসব হামলা চালানো হয়।
আইআরজিসি বলছে, ইরানের তিনটি অঞ্চলে রাডার স্থাপনায় ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
টানা দুই দশকের সরকারি বিনিয়োগের ফলে তুরস্ক এখন ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো যখন নতুন করে অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে এবং নিরাপত্তা জোটগুলো পুনর্গঠিত হচ্ছে, তখন এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক।
এই তুরস্ক একসময় অস্ত্রের জন্য নির্ভরশীল ছিল বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর। এখন তারা উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রায় ৪০টি এবং ইউরোপেরও কিছু দেশে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ক্রেতাদের দৃষ্টিতে, তুরস্কের অস্ত্র তুলনামূলক সস্তা, দ্রুত হাতে পাওয়া যায় এবং সহজেই ব্যবহার করা যায়।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউরোপীয় সরকারগুলো তাদের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত নির্ভরতা নতুন করে মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি কতটা টেকসই, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ন্যাটোর অনেক মিত্রদেশ তুরস্ককে এখন কেবল এই সামরিক জোটের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের একটি শক্তিশালী সামরিক দুর্গ হিসেবেই দেখছে না; বরং দেশটিকে সামরিকশিল্পের সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করছে।
আগামী মাসে তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্য নেতারা অংশ নেবেন। আঙ্কারা আশা করছে, এর ফলে পশ্চিমা বাজারে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাদের অস্ত্র বিক্রি ও যৌথ উৎপাদন প্রসারিত হবে।
এ ক্ষেত্রে তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু কাঠামোগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে কেবল নির্দিষ্ট সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত প্রতিরক্ষা উদ্যোগ এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক বিরোধের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক বাধা।
বাণিজ্য পরিসংখ্যান নিয়ে রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে তুরস্কের সমরাস্ত্র রপ্তানি তিন গুণের বেশি বেড়ে গত বছর এক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত আধুনিক সশস্ত্র ড্রোনও রয়েছে। এই সময়ে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি প্রায় চার গুণ বেড়ে ৫৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
এই প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষাশিল্প কতটা পরিপক্ব হয়েছে। ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাইকার ও টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরকা ডিফেন্স ও কাইলের মতো ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সাফল্যের অংশীদার।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ সরবরাহব্যবস্থা এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র তৈরির কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। যেখানে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সীমাবদ্ধতা ও বিপণন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার মতো জটিলতা রয়েছে।

যুদ্ধের হুমকি ও সুযোগ
তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। এই খাত থেকে আসা আয়ের মাধ্যমে তারা দেশের ঋণ শোধ করতে ও আরও উন্নয়নমূলক কাজের তহবিল জোগাড় করতে চায়।
উত্তরে ইউক্রেন এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইরান—এই দুই বড় সংঘাতের মাঝে দেশটির অবস্থান। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের ইঞ্জিনের অভাবের কারণে তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যবসা ও প্রযুক্তি চুক্তির মাধ্যমে তারা এই ঘাটতি মেটাতে পারে।
হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো চান কাসাপোলু বলেন, আধুনিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে ড্রোন রপ্তানি করে তুরস্কের প্রতিরক্ষাশিল্প ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ অর্জন করেছে।
কাসাপোলু আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধ শুধু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; বরং শিল্পের সক্ষমতা ও স্থায়িত্বেরও প্রয়োজন আছে। আর এই জায়গায় তুরস্ক বেশ আস্থা অর্জন করেছে।

নজরে ন্যাটো সম্মেলন
বিশ্বে ব্যবহৃত সশস্ত্র ড্রোনের ৬৫ শতাংশই সরবরাহ করে তুরস্ক। পাশাপাশি তারা গোলাবারুদ রপ্তানিতেও অন্যতম শীর্ষ দেশ।
এ ছাড়া তারা যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরি, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং সাঁজোয়া যান তৈরি করছে বা তৈরির পরিকল্পনা করছে। ইন্দোনেশিয়া গত বছর জানিয়েছে, তারা তুরস্ক থেকে ৪৮টি যুদ্ধবিমান কিনবে, যেগুলো তৈরির কাজ এখনো চলছে।
তবে তুরস্কের এই বড় লক্ষ্যের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক ও সুনামের ঝুঁকিও রয়েছে।
গত মাসে ইস্তাম্বুলের এক প্রদর্শনীতে তুরস্ক নিজেদের তৈরি একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মডেল দেখিয়েছে। এর প্রচারণামূলক ভিডিওতে দেখানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর আমেরিকার দিকে ছোড়া হচ্ছে। এটি নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেছেন।
তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিরক্ষা খাতই হবে আলোচনার প্রধান বিষয়।
ন্যাটোপ্রধান মার্ক রাটে বলেছেন, এই সম্মেলনে প্রতিরক্ষাশিল্প নিয়ে যে সংলাপের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা হবে ন্যাটোর ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে সমন্বিত আয়োজন।

ইউরোপীয় বাধা
ন্যাটোর মিত্রদেশগুলোকে নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি করে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি জার্মানি থেকে হাজার হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপে তুরস্কের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী রয়েছে তুরস্কের।
গত এপ্রিলে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি একটি আহ্বান জানান তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার। তিনি বলেন, ইউরোপের যেসব নিরাপত্তা চুক্তিতে তুরস্কের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের ন্যাটো সদস্যদের রাখা হয়নি, সেসব চুক্তি বাতিল করা উচিত। তাঁর মতে, এ ধরনের নীতি ইউরোপের নিরাপত্তা ও সক্ষমতার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে সেনা কমালে যতটা ক্ষতি, এই নীতি তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করবে বলে মনে করেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ (সেফ)’ কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে একপ্রকার বাদই দেওয়া হয়েছে। যদিও আঞ্চলিক নীতি নিয়ে বিরোধের জেরে কিছু দেশের সরকার তুরস্ককে এড়িয়ে চলছে। তুরস্কের প্রধান বিরোধী দলের ওপর আইনি দমন–পীড়নসহ গণতন্ত্রের অবনতি নিয়ে দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।
এত কিছুর পরও পোল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল ও রোমানিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তি করেছে তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে ইতালির ‘পিয়াজ্জো অ্যারোস্পেস’ অধিগ্রহণ করেছে তুরস্কের ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার। এ ছাড়া ড্রোন উৎপাদনের জন্য ইতালীয় কোম্পানি লিওনার্দোর সঙ্গেও তারা অংশীদারত্ব গড়েছে।

বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয়ের হিড়িক
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলার। এই সময়ে শুধু ইউরোপেই সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৭৫ শতাংশ।
একই সময়ে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে নিজেদের অর্থায়নে চলা প্রকল্পের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা। দেশটিতে এ ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা এখন ১ হাজার ৪০০টির বেশি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আরদা মেভলুতোলু মনে করেন, রাজনৈতিক বাধাগুলো সামলানো গেলে ইউরোপের সঙ্গে তুরস্কের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। সে ধরনের গভীর সহযোগিতার পরিবেশ এখন তৈরি হয়েছে।
মেভলুতোলু বলেন, ইউরোপের এখন এমন সমাধান দরকার, যা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। তবে এই সহযোগিতাকে একটি স্বাভাবিক ধারায় এগিয়ে নিতে হলে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তাঁর মতে, তুরস্ক এখন ইউরোপ এবং ন্যাটো—উভয়ের সঙ্গেই নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন ও জোরদারের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
রয়টার্স
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আজ রোববার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভুটানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনাখার ১৫ কিলোমিটার পশ্চিম উত্তর–পশ্চিমে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্প হয়। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪৩২ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
রংপুর, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, নীলফামারী, সৈয়দপুর, বগুড়া, শেরপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা।
এই ভূম্পিকম্পের প্রভাবে ভারত, নেপাল ও চীনেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে অ্যানড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো জং। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি আজ রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) ওই বিবৃতি প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, ‘পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অবস্থান নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করবে না।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বরাবরই দাবি করে আসছে, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে।
২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে।
দেশটির যোগাযোগ ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত কিম ইয়ো জংয়ের এ মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, তাঁর মন্তব্যটি এসেছে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগমুহূর্তে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সি চিন পিং আগামীকাল সোমবার উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। তাঁর এ সফর মঙ্গলবার শেষ হবে।
চীন উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা উত্তর কোরিয়ার জন্য বেইজিংয়ের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বছর এটিই হবে সি চিন পিংয়ের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। গত মাসে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টানা বৈঠক করেছেন।
এএফপি
সৌরভ কুশওয়াহা, বয়স মোটে ১৭ বছর। এক কাপড়েই বড় ভাইয়ের সঙ্গে ট্রেনে চেপেছিলেন এই কিশোর। ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে, গন্তব্য রাজধানী দিল্লি।
গতকাল শনিবার ভোরে দুই ভাই নয়াদিল্লি পৌঁছান। এরপর ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিতে থাকেন। আর থাকেন অপেক্ষায়, কখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। দেশটির ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষায় নানা অসংগতি এই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেই ক্ষোভ অপ্রত্যাশিতভাবে রূপ নিয়েছে একটি অপ্রথাগত রাজনৈতিক দলে। সেটি হলো—‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। মূলত ঠাট্টা-বিদ্রূপ আর ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে এ দলটির জন্ম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর দীপকের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রথমে তরুণদের এই ক্ষোভকেই আন্দোলনের শক্তিতে রূপান্তরের চেষ্টা করে। দলটি রাজধানী নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে ‘সব তেলাপোকাকে’ একত্র হওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের প্রধান দাবি, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
গত মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। তিনি দেশের একদল বেকার তরুণকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, যা অনেকের কাছেই অপমানজনক ঠেকেছিল।
এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি লেখেন, ‘যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে জড়ো হয়, তাহলে কী হবে?’
তাঁর এই মন্তব্য অল্প সময়ের মধ্যেই ইন্টারনেটে আলোড়ন তোলে। সেখান থেকেই জন্ম ককরোচ জনতা পার্টির। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামকে ব্যঙ্গ করে এই নামকরণ।
দীপকের ব্যঙ্গাত্মক এ উদ্যোগটি দ্রুতই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা ২০১৪ সাল থেকে ভারতে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির অনুসারীর প্রায় দ্বিগুণ।
কিন্তু মজা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন নিছক মজায় নেই। দীপকে এবং গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে জড়ো হওয়া শত শত মানুষ আন্দোলনে নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
আমি প্রথমে মজা করেই তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসরণ করেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই হয়তো আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে পারব।
বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে দাঁড়িয়ে দীপকে বলেন, ‘মোদি সরকারের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার—শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে হবে। তা না হলে আমরা এখান থেকে যাব না।’
শিক্ষার্থী সৌরভ কুশওয়াহাও এই আন্দোলনের অংশ হয়ে উঠেছেন। মধ্যপ্রদেশের এ শিক্ষার্থী সম্প্রতি ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) পরিচালিত দ্বাদশ শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তরপত্রে ডিজিটাল মূল্যায়নসহ বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়।
কুশওয়াহা এখনো নিশ্চিত নন যে তিনি উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করতে পারবেন কি না। কিন্তু তাঁর আরও বড় ক্ষোভ সেই সরকারের প্রতি, ‘যারা ক্ষমতায় এসেছে জনগণের ভোটে, অথচ এখন সেই জনগণের সমস্যার প্রতিই উদাসীন।’
স্কুল বোর্ডের এই বিতর্কের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে স্নাতক পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা এখন প্রায় প্রতিবছরই ঘটে, কিন্তু এর জন্য রাজনৈতিকভাবে কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর দীপকের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রথমে তরুণদের এই ক্ষোভকেই আন্দোলনের শক্তিতে রূপান্তরের চেষ্টা করেন।
দলটি রাজধানী নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে ‘সব তেলাপোকাকে’ একত্র হওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের প্রধান দাবি, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কুশওয়াহা বলেন, ‘আমি প্রথমে মজা করেই তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসরণ করেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই হয়তো আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে পারব।’
যদি সেটি ঘটে, তাহলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে ঘটা এ ধরনের প্রথম ঘটনা।
ভারতের জেন–জি প্রজন্মের বেশির ভাগই বড় হয়েছে শুধু মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শাসন দেখে। সমালোচকদের দাবি, ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকার ক্রমাগত ভিন্নমত দমন করেছে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সূচকে ভারতের অবস্থানেরও অবনতি হয়েছে।
আমি স্কুল শেষ করতে পারিনি। কিন্তু লাখো শিক্ষার্থী আছে, যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ওই অপরাধী মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করাটা আমাদের দায়িত্ব।
অভিজিৎ দীপকের আগমন
যুক্তরাষ্ট্রের শীতল আবহাওয়ার পরিবেশ থেকে সবে দেশে ফেরা অভিজিতের গায়ে ছিল কালো জিপ-আপ হুডি, মাথায় ক্যাপ।
চারপাশে অসংখ্য ক্যামেরা তাঁকে ঘিরে ধরেছিল। ভিড় ঠেলে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে দীপকে জনতার দিকে ইশারা করতেই চারদিক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। নয়াদিল্লির প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘামে ভিজে একপর্যায়ে তিনি হুডিটিও খুলে ফেলেন।
প্রথম বক্তব্যেই দীপকে আগের রাতের উদ্বেগপূর্ণ বিমানযাত্রার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁর পরিবার আশঙ্কা করছিল, দিল্লিতে নামার পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
‘কিন্তু এই ভয় শুধু আমার মায়ের নয়’—এ কথা বলতেই জনতা সমস্বরে চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘লজ্জা! লজ্জা!’
দীপকে এরপর বলেন, ‘এ দেশের প্রতিটি মা–ই ভয় পান যে তাঁর সন্তান যদি রাজনীতি নিয়ে কথা বলে, যদি সরকারের সমালোচনা করে, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।’
গত কয়েক বছরে মোদি সরকারের আমলে বেশ কয়েকজন মানবাধিকারকর্মী ও ছাত্রনেতাকে বন্দী করা হয়েছে। বিরোধী দল ও সরকারের সমালোচকদের অভিযোগ, এটি দেশকে ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, দেশের আইন ও সংবিধান মেনেই তারা কাজ করেছে।
৩০ বছর বয়সী দীপকে মাত্র দুই বছর আগে জনসংযোগ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। অথচ এখন হঠাৎ করেই নিজেকে একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতৃত্বে দেখতে পাচ্ছেন। গত মাসে আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তাঁর উদ্যোগ যে বিপুল সাড়া পেয়েছে, সেটির প্রতি তিনি একধরনের দায়িত্ববোধ অনুভব করেন।
প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত হয়ে একসময় দীপকে মাইক্রোফোন অন্য একজনের হাতে তুলে দেন। তিনি দেয়ালে হেলান দিয়ে পানি পান করেন এবং হাতে থাকা বোতলের বাকি অংশ জনতার দিকে ছুড়ে দেন।
ভিড়ের মধ্য থেকে এক তরুণ চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘অভিজিৎ, আমরা তোমাকে ভালোবাসি!’
অনেক বিক্ষোভকারী তেলাপোকার মুখোশ পরে এসেছিলেন। কারও হাতে ছিল গোলাপ, কারও হাতে ফুলের তোড়া। আবার অনেকে বইও সঙ্গে এনেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীপকের দল তাঁদের এমনটাই করতে বলেছিল।
পরে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের নীল জার্সি পরে আবার বক্তব্য দেন দীপকে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা মনে করেন ভারতের তরুণেরা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয়, তাঁরা এখানে এসে এই দৃশ্য দেখে যান।’
এরপর আরও দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যাঁরা ভাবছেন আমরা শুধু স্লোগান দিয়ে চলে যাব, আমি তাঁদের বলছি—আমরা তেলাপোকা। আর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব।’

‘রাস্তায় নামতেই হবে’
অভিজিৎ দীপকেকে ভালোভাবে দেখার জন্য একটি গাছে উঠে বসেন ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আফতাব। দিল্লির উপকণ্ঠের একটি স্যাটেলাইট শহরে তাঁর বসবাস।
আফতাব বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর পক্ষে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য মুদি পণ্য সরবরাহের কাজ করেন। তাঁর কোনো সামাজিক নিরাপত্তা–সুবিধাও নেই।
তেলাপোকার মুখোশ পরে থাকা আফতাব আল–জাজিরাকে বলেন, ‘একদিন কাজ না করলে হয়তো রাতের খাবারের অর্থও জুটবে না। তারপরও আমি এখানে আসতে চেয়েছি।’
আফতাব আরও বলেন, ‘আমি স্কুল শেষ করতে পারিনি। কিন্তু লাখো শিক্ষার্থী আছে, যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ওই অপরাধী মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করাটা আমাদের দায়িত্ব।’
বিক্ষোভস্থল থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন শিবানি নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বড় মেয়ে এই বিক্ষোভে ছিল। তবে এতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে জানান শিবানি। সরকারি আক্রোশের আশঙ্কায় তিনি নিজের পুরো নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
শিবানি বলেন, ‘এই ছেলেমেয়েরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একজন অভিভাবক হিসেবে আমিও উদ্বিগ্ন।’
এরপর তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘একটা সময় তো আসে, যখন মানুষের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না, তাই না?’
আল–জাজিরা
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নকভি ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন। তেহরান পৌঁছানোর পর সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দর মোমেনি তাঁকে স্বাগত জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, তিনি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের একটি ‘বিশেষ চিঠি’ নিয়ে তেহরান গেছেন। এ চিঠি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনির কাছে পৌঁছে দেবেন তিনি।
তেহরানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মহসিন নকভি আরও বলেন, এই বিশেষ চিঠির পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি বার্তাও তিনি ইরানি নেতার কাছে হস্তান্তর করবেন।
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক দিন পর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে হামলা চালাল ইসরায়েল।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় তাদের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ক্যাপ্টেন ও এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের খারদালি–নাবাতিয়েহ সড়কে একটি সামরিক যানে হামলা হলে তাঁরা নিহত হন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গতকাল শনিবার ‘সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে’ হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে চলাচলের জন্য ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী বলেছে, ইসরায়েলের ইচ্ছাকৃত, বারবার চালানো এমন নৃশংস আগ্রাসনের ধারাবাহিকতার লক্ষ্য হলো কোনো সমাধানে পৌঁছানোর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া।
হামলার নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তিনি বলেছেন, এ হামলা লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন–রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম একে তাঁর দেশ, দেশের সব জনগণের ওপর হামলা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, এটি একটি জঘন্য অপরাধ।
এক বিবৃতিতে নাওয়াফ সালাম ইসরায়েলি হামলায় নিহত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াসাম সাবরা, ক্যাপ্টেন এলি খুরি ও সেনাসদস্য হুসেইন ঘোজালের শোকসন্তপ্ত পরিবার–সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি তিনি লেবাননের সেনাবাহিনীর প্রতিও সমবেদনা জানান।
গতকাল লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের কমান্ডার জেনারেল রুডল্ফ হায়কাল পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
হায়কালের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এই আলোচনায় লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অন্যতম অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
শনিবারের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা বলেছে, এটি একটি জঘন্য অপরাধ। একই সঙ্গে তারা লেবানন সরকারের বিরুদ্ধে ‘ওয়াশিংটনে শত্রুর দাবির কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দেশকে রক্তপাতের মুখে ঠেলে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলাকে লেবানন, দেশটির সেনাবাহিনী ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ এবং আগ্রাসনের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে লেবাননের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি চায় না ইসরায়েল।
এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে আঞ্চলিক দেশগুলোও। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, জর্ডান ও কাতার।
আল–জাজিরা