ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ সংসদ সদস্য গতকাল রোববার নয়াদিল্লিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, তাঁরা এবার লোকসভায় আলাদা আসন নিয়ে বসতে চান। তবে তৃণমূল বা নতুন তৃণমূলের নাম নিয়ে বসা যে সম্ভব হবে না, সেই ইঙ্গিত পাওয়ার পর বিদ্রোহী এই ২০ সংসদ সদস্য নতুন একটি অখ্যাত আঞ্চলিক দলে যোগ দিয়েছেন। ওই দলটির নাম ভারতের জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল বা এনসিপিআই।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই ২০ সংসদ সদস্য অখ্যাত দলটিতে যোগদানের ফলে কার্যত দলটি ভেঙে গেল।

এই এনসিপিআই দলটি প্রথম গঠন করেন অনিকেত দে ও শিউলি কুন্ডু। হাওড়ার সাকরইল থেকে তাঁরা এই দল গঠন করেন। প্রথম এটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তী সময় এই এনজিওকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করা হয়।

দলটির নেতা হন উত্তীয় কুন্ডু ও শিউলি কুন্ডু। ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই দলটিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এই দল থেকে সাতজনকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। তাদের দলীয় প্রতীক হচ্ছে কলম। ওই নির্বাচনে সাত প্রার্থীর কেউ জয়ী হতে পারেননি। জয় পাওয়া তো দূরের কথা, ভোটও পেয়েছেন হাতে গোনা কিছু। ওই সাত প্রার্থীর মধ্যে সর্বাধিক ভোট পেয়েছিলেন কৈলা বিধানসভা আসনের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলী। পেয়েছিলেন ২৮৬ ভোট।

তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা স্পিকার ওম বিড়লার হাতে আলাদা বসার সুযোগ চেয়ে করা আবেদন তুলে দেন। ১৪ জুন ২০২৬, নয়াদিল্লি
তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা স্পিকার ওম বিড়লার হাতে আলাদা বসার সুযোগ চেয়ে করা আবেদন তুলে দেন। ১৪ জুন ২০২৬, নয়াদিল্লি, ছবি: এএনআই
 

অবশেষে আইনগত নানা দিক খতিয়ে ও ঝুঁকি এড়াতে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা এনসিপিআই দলে নিজেদের অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়েছেন। মিশে গেছেন এনসিপিআইয়ের সঙ্গে। আর লোকসভায় ২০ জন সংসদ সদস্য পেয়ে দেশের অখ্যাত এক রাজনৈতিক দল এখন দেশে পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের পরাজয় হয়। রাজ্য বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জয়ী হয় ৮০ আসনে। অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে জয়ী হয়। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বিধানসভায় তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের ভেতরে অস্থিরতা দেখা দেয়। অধিকাংশ বিধায়ক ও সংসদ সদস্যরা এই পরাজয়ের জন্য দায়ী করেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দুর্নীতিরও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে দলের অনেক বিরুদ্ধে।

দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে প্রস্তাব দেন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম। স্পিকারের কাছে লেখা অভিষেকের চিঠিতে ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৭০ জনের স্বাক্ষরসহ আবেদন করা হয় স্পিকারের কাছে। তবে বিদ্রোহী শিবির থেকে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী নেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে ৭০ জনের স্বাক্ষরসহ স্পিকারের কাছে অভিষেকের করা আবেদনে অনেকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব