আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দ্রুত উন্নয়ন ঘটছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কে। এ ধারাবাহিকতায় চলতি মাসেই ঢাকা সফরে আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৩ আগস্ট বাংলাদেশে পা রাখার কথা তার।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একসময় একই দেশের অংশ ছিল। কিন্তু, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিচ্ছেদের পর দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের নেতৃত্ব— বিশেষত ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে থেকেছে এবং ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত রেখেছে।

তবে, গত বছরের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের উষ্ণতা ফিরে এসেছে। পারস্পারিক বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় হয়েছে দৃশ্যমান অগ্রগতি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিলেই ঢাকা সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তবে, সেসময় ভারতের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে তার ওই সফর স্থগিত হয়ে যায়। নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৩ আগস্ট ঢাকা সফরে আসছেন পাকিস্তানের এই উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মঙ্গলবার ডন ডটকম তাকে ২৩ আগস্ট সফর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে ইসহাক দার এক কথায় জবাব দেন— ‘হ্যাঁ’।

দ্য ডন বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে তিনি ঢাকা সফর করবেন এবং এ সফরকালে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া, তার আরও কিছু কর্মসূচি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত মাসে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পারস্পরিক কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মধ্যে এক বৈঠকে এ অগ্রগতি হয়।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শ সভায় অংশ নিতে ঢাকা সফর করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালোচ। এছাড়া গত মার্চে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার যৌথ ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ বিরতির পর সরকার-থেকে-সরকার সরাসরি বাণিজ্য শুরু হয় এবং পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়। আর গত জানুয়ারিতে দুই দেশের সেনাবাহিনী ‘টেকসই অংশীদারত্ব’ বহাল রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়, যাতে বাইরের প্রভাব মোকাবিলা করা যায়।

এছাড়া ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে করাচি থেকে চট্টগ্রামে একটি কনটেইনার জাহাজ এসে পৌঁছায়। কয়েক দশকের মধ্যে সেটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সরাসরি প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল।

এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে মিসরের কায়রোতে ডি-৮ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

যুদ্ধবিরতার শর্তে ইউক্রেনের ডনেৎস্ক শহরের সম্পূর্ণ পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ চায় রাশিয়া। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) এ দাবি করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কি।

আগামী শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ইস্যুতে বৈঠকে বসবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে যুদ্ধ বন্ধে ভুখন্ড ছেড়ে দেয়ার আলোচনাই হবে মুখ্য। এমনটাই দাবি করছেন জেলেনেস্কি।

তিনি জানান, ডনেস্কের এখনো প্রায় ৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার কিয়েভের দখলে রয়েছে। যেকোনো মূল্যে তা রক্ষা করবেন তিনি। পাশাপাশি শর্ত মেনে নিলে তা ভবিষ্যতে রাশিয়া আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠবে। বর্তমানে এ অঞ্চলটিতেই দু’পক্ষের সেনাদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে।

সূত্র: বিবিসি নিউজ।

মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় আজ মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী  আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আলোচনায় কর্মীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে দুই দেশের সরকার প্রধান একমত হয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিগগিরই স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে বাংলাদেশী শ্রমিকরা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। আগামী ৬ বছরে দেশটিতে কমপক্ষে ১২ লাখেরও বেশি শ্রমকি পাঠানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে আশা করা যাচ্ছে। দুই দেশের সরকারের আলোচনায় সকল জটিলতা কেটে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বিদ্যমান আইন মেনে দেশটিতে কর্মী গেলেও উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের কারনে প্রক্রিয়াটি সমালোচনার মুখে পরে। নির্দিষ্ট সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিগত সরকার বিপুল সংখ্যক এজেন্সিকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করে। এতে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যায়। তবে কর্মীরা দেশটিতে যাওয়ার পর প্রায় সকলেই কাজ পেয়েছে এবং নিয়মিত বেতন ভাতা পাচ্ছেন। ফলে দেশটিতে যাওয়া শ্রমিকদের তেমন কোনো অভিযোগ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ এবং ২০২২-২৪ মেয়াদে অনলাইন ভিত্তিক ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে সাড়ে সাত লক্ষ বাংলাদেশী শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যান। দেশের অভ্যন্তরে রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের নেতিবাচক প্রচার-প্রচারনা, মামলা, নানান আন্দোলনের কারণে মালয়েশিয়া সরকার অনেকটা বিব্রত। তারা বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কর্মী নিতে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিল।

তারা আরঅ জানায়, দুই দেশের সরকার প্রধানের এবারের আলোচনায় শ্রমিকের সুরক্ষা এবং স্বল্প ব্যয়ে লাভজনক কাজে নিয়োগের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আগে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেই কিছু এজেন্সি আন্দোলন, মানববন্ধন করে প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত করা হতো। এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কর্মীদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তাসহ সামগ্রিক বিষয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের বিষয়ে দুইপক্ষ একমত হয়েছে ।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলেন, সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ১০ লাখেরও অধিক বাংলাদেশী কর্মী দেশটিতে কর্মরত রয়েছেন। এরইমধ্যে ভিসা পাওয়া পরও যে আট হাজার কর্মী দেশটিতে যেতে পারেননি তাদের নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি গাজা দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইসরায়েলে নজিরবিহীন বিক্ষোভ করেছে দেশটির সাধারণ মানুষ। সেইসাথে দেখা মেলে এ পর্যন্ত সর্ববৃহৎ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ। যেখান থেকে ইসরায়েলি সৈন্যদের এই যুদ্ধে না জড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় তেল আবিব এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে দশ হাজারের মতো বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। জিম্মি পরিবারের বেশিরভাগের প্রতিনিধিত্বকারী ফ্যামিলিজ ফোরাম, জেরুজালেমের তেল আবিব, দক্ষিণে শায়ার হানেগেভ জংশন এবং কিরিয়াত গাটে সমাবেশ করেছে। সেইসাথে, আরও কয়েক ডজন স্থানে ছোট ছোট সমাবেশ করেছে।

রোববার (১০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে ‘টাইমস অব ইসরায়েল’র জানায়, শনিবার সমাবেশের আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিম্মি ও নিখোঁজ পরিবারগুলোর ফোরাম নেতানিয়াহু সরকারকে একটি জিম্মি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানায়। সেইসাথে যুদ্ধ বন্ধ করে তাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে আনার দাবি উত্থাপন করে। এর কারণ হিসেবে আন্দোলনকারীরা বলে, যদি এমনটা না করা হয় তবে গাজায় বন্দী তাদের প্রিয়জনদের জীবিত ফিরে পাওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অপরদিকে বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পদক্ষেপ ইসরায়েলি বন্দীদের নিশ্চিতভাবে বিপদে ফেলবে এবং অপারেশনে যাওয়া সৈন্যদের ফিরে আসা কঠিন করে তুলবে। তবে এর থেকেও বড় যে বিষয়টি তা হল, এটা গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর করে তুলবে।

উল্লেখ্য, সামরিক বাহিনীর আপত্তি সত্ত্বেও মন্ত্রিসভা ঘনবসতিপূর্ণ ফিলিস্তিনি শহরটি দখলের সিদ্ধান্ত নেয়ার কয়েকদিন পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ক্রমেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের রাষ্ট্র আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হোয়াইট হাউসে এই চুক্তি হয়। আজ শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশনিয়ান। এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী মিত্রতা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সব ধরনের যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করার পাশাপাশি ভ্রমণ, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ ককেশিয় অঞ্চলের দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিবাদের সূচনা ৮০’র দশকের শেষের দিকে। বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান কয়েক দশক ধরে বিবাদে লিপ্ত। অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত হলেও ১৯৯৪ সালের এক যুদ্ধের পর থেকে আর্মেনিয়ার সমর্থনে জাতিগত আর্মেনীয় বাহিনী ওই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। আর্মেনিয়া নাগোর্নো কারাবাখের দখল নেয়ার পর কয়েক দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয় দুই দেশের মধ্যে। ২০২৩ সালে পুনরায় অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আজারবাইজান। শান্তিচুক্তির পাশাপাশি উভয় দেশের সাথে করিডোর ও বাণিজ্য ইস্যুতে পৃথক চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্ক নীতি এবার প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে ভারতের বাণিজ্য খাতে। দেশটির পণ্যের ওপর ৫০% শুল্কের প্রভাব, গতকাল সকালে দেশটির পুঁজি বাজারে নামায় ধস। এবার খবর, আন্তর্জাতিক রিটেল ইকমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ও ওয়ালমার্ট ভারতীয় পণ্য নেয়া বন্ধ করেছে।

ভারতীয় রফতানিকারকরা বলছেন, মার্কিন ক্রেতারা ই-মেইল ও চিঠির মাধ্যমে পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের চালান আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছে। শুল্ক আরোপের কারণে ক্রেতারা বাড়তি খরচ ভাগাভাগি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভারতীয় রপ্তানিকারকদেরই এই বোঝা বহন করতে বলেছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ট্রাম্পের আরোপ করা দ্বিগুণ শুল্কের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের রফতানি খরচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রগামী অর্ডার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে। ফলে ভারতের ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ওয়েলস্পান লিভিং, গোকালদাস এক্সপোর্টস, ইন্ডো কাউন্ট ও ট্রাইডেন্টের মতো ভারতীয় বড় বড় রফতানিকারকদের পণ্য বিক্রির ৪০ থেকে ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক।

ভারতের পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় রফতানির বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩৬.৬১ বিলিয়ন ডলারের রফতানির ২৮ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে।

বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম টেক্সটাইল রফতানিকারক ভারত আশঙ্কা করছে, এই পরিস্থিতিতে তারা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর কাছে অর্ডার হারাতে পারে, যাদের ওপর বর্তমানে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং বাকি ২৫ শতাংশ ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সাল বা এস.এন.এস.সি’র প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন আলী লারিজানি। বুধবার (৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া নিউজ এ তথ্য জানায়।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশটির সাবেক এই সংসদ স্পিকারকে শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থাটির প্রধানের দায়িত্ব সোপর্দ করেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিরাপত্তা কাউন্সিলে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দু’জন প্রতিনিধির একজন হতে যাচ্ছেন লারিজানি।

এ দায়িত্বে ইরানের জাথীয় নিরাপত্তার সকল ঝুঁকি মূল্যায়ন করে তা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন তিনি। ইরানের সাথে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের পর নিরাপত্তা সংস্থাটির কাঠামো ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয় তেহরান।

পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ বন্ধের কারণ হিসেবে আবারও নিজের উদ্যোগকেই কৃতিত্ব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার (৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেয়া পোস্টে এমনটি জানান তিনি।

এসময় ট্রাম্প দাবি করেন, তার কারণেই বন্ধ হয়েছে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। এর ব্যাত্যয় হলে দুই দেশের মধ্যেকার লড়াই পরমাণু সংঘাতে গড়াতে পারতো।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের দেয়া পোস্টের স্ক্রিনশট

বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ ইস্যুতে। মোদি প্রশাসনের দাবি পাকিস্তানের আবেদনের প্রেক্ষিতেই যুদ্ধ বন্ধ করে ভারত।

অবশ্য, ট্রাম্পের দাবির বিরুদ্ধে সরব হয় ভারতের বিরোধী দলগুলো। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তার উদ্যোগেই বন্ধ হয়েছে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মিরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হয়। সেই হামলার প্রায় ১৫ দিন পর ভারত সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে থাকা পাকিস্তানের নয়টি লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে সামরিক অভিযান চালায় ভারত। এক পর্যায়ে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয় দক্ষিণ এশিয়ার এই পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ।

আমেরিকার সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা আবারও খেলাধুলার পোশাক পরে মাঠে নামতে যাচ্ছে প্রেসিডেনশিয়াল ফিটনেস টেস্টে অংশ নিতে, যা প্রায় এক দশক আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এ পরীক্ষাটি আবার চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, প্রেসিডেনশিয়াল ফিটনেস টেস্ট এবং প্রেসিডেনশিয়াল ফিটনেস অ্যাওয়ার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে পুন:স্থাপন করা হচ্ছে। এটি একটি দারুণ ঐতিহ্য ছিল, এবং আমরা সেটি ফিরিয়ে আনছি।’

এই ফিটনেস টেস্টের সূচনা হয় ১৯৫৬ সালে প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ারের আমলে। তবে ২০১২ সালে এটি বাতিল করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘প্রেসিডেনশিয়াল ইয়ুথ ফিটনেস প্রোগ্রাম’ চালু করেন, যা ছিল একটি আধুনিক, স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক স্কুলভিত্তিক উদ্যোগ।

নতুন আদেশে প্রেসিডেন্টের স্পোর্টস, ফিটনেস ও নিউট্রিশন কাউন্সিলের কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও স্বাস্থ্যবান, সক্রিয় ও সুশৃঙ্খল করে গড়ে তোলা।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এবিসি নিউজকে জানান, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান, আগামী প্রজন্ম যেন স্বাস্থ্যবান, সবল ও সাফল্যবান হয়। এজন্য সক্রিয় জীবনযাপনের ওপর জোর দিয়ে এক নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বছরের পর বছর ধরে প্রভাব ফেলবে।’

হাভার্ড হেলথের তথ্যমতে, পুরনো ফিটনেস পরীক্ষাগুলোতে সাধারণত এক মাইল দৌড়, পুশ-আপ বা পুল-আপ, সিট-আপ, শাটল রান এবং ‘সিট অ্যান্ড রিচ’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরীক্ষায় কী কী থাকবে, তা এখনও নির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রেসলিং কিংবদন্তি ট্রিপল এইচ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) হোয়াইট হাউসে ফিটনেস সংক্রান্ত এক পরিষদের বিল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যান ১৪ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এই রেসলার। 

এই পদক্ষেপ এমন এক সময় এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ক্রীড়াক্ষেত্রে নানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে, যার মধ্যে রয়েছে নারীদের খেলায় ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ। পাশাপাশি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত হতে যাচ্ছে কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট—২০২৬ সালে ফিফা বিশ্বকাপ, ২০২৮ সালে অলিম্পিক গেমস এবং রাইডার কাপের মতো প্রতিযোগিতা।

সূত্র: এবিসি নিউজ, গার্ডিয়ান।

৭ মে, ২০২৫। স্থানীয় সময় মধ্যরাতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অপারেশন রুমের মনিটরে ভারতের আকাশসীমায় একাধিক যুদ্ধবিমানের গতিবিধি ধরা পড়ে। ভারতের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল জহির সিদ্দিকিসে সময় অপারেশন রুমের কাছেই একটি ম্যাট্রাসে অবস্থান করছিলেন।

কাশ্মীরে এক জঙ্গি হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত সরকার ওই হামলার জন্য চিরশত্রু প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি দেয়। যদিও ইসলামাবাদ সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে, এরপরও ৭ মে ভোরে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালানো হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এয়ার চিফ মার্শাল সিদ্দিকি পাকিস্তানের চীনের তৈরি ‘জে-১০সি’ যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে পাঠানোর নির্দেশ দেন। লক্ষ্য একটাই! ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমানগুলোকে প্রতিরোধ করা, যা এর আগে কখনও যুদ্ধক্ষেত্রে ভূপাতিত হয়নি।

এক শীর্ষ পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা জানান, তারা স্পষ্টভাবে রাফাল বিমানে আঘাত হানতে চেয়েছিলেন। এক ঘণ্টার এই সংঘর্ষে আনুমানিক ১১০টির মতো যুদ্ধবিমান অংশ নেয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকাশযুদ্ধ বলে মনে করা হচ্ছে।

রয়টার্স জানায়, পাকিস্তানের একটি ‘জে-১০সি’ যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া চীনা ‘পিএল-১৫’ মিসাইল একটি রাফাল জেটকে লক্ষ্যভেদ করে। এই ঘটনা সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, কারণ এটি প্রমাণ করে দেয়—সবক্ষেত্রে পশ্চিমা প্রযুক্তি চীনা অস্ত্রের তুলনায় এগিয়ে নয়।

ভারতীয় কর্মকর্তারা পরে স্বীকার করেন যে গোয়েন্দা বিশ্লেষণে গুরুতর ভুল হয়েছিল। তারা মনে করেছিলেন ‘পিএল-১৫’ মিসাইলের পাল্লা ১৫০ কিলোমিটারের মতো, অথচ বাস্তবে সেটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার বা তার বেশি—যার ফলে রাফালের পাইলটরা নিরাপদ দূরত্বে আছেন ভেবে ভুল করেছিলেন।

এই সংঘর্ষে পাকিস্তান ‘কিল চেইন’ কৌশল ব্যবহার করে, যেখানে যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান এবং স্থলভিত্তিক সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকে।

পাকিস্তানের নিজস্ব ‘ডেটা লিংক ১৭’ প্রযুক্তি চীনা ‘জে-১০সি’, সুইডিশ তৈরী নজরদারি বিমান এবং স্থলসেনার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে, যাতে রাডার বন্ধ রেখেও লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা সম্ভব হয়। ভারতের পক্ষেও এমন একটি সিস্টেম গড়ার কাজ চলছে, তবে বিভিন্ন দেশের যুদ্ধবিমান ব্যবহারের কারণে তা জটিল হয়ে পড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত রাফালে ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, তবে ফরাসি বিমান বাহিনীর প্রধান ও রাফালের নির্মাতা ডেসাল্ট অ্যাভিয়েশনের এক্সিকিউটিভদের মন্তব্য থেকে পরোক্ষভাবে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার প্রভাব পড়ে বাজারেও—ডেসাল্টের শেয়ারের দাম পড়ে যায় এবং রাফালে কেনার বিষয়ে চিন্তা করা ইন্দোনেশিয়া এখন চীনের জে-১০সি কেনার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের জন্য একটি কৌশলগত সাফল্য।

এদিকে ভারতের ডেপুটি আর্মি চিফ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে রাডার ও স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন ‘লাইভ ইনপুট’ পেয়েছিল। যদিও ইসলামাবাদ ও বেইজিং দুই দেশই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সামরিক সহযোগিতা পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অংশ, যা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়।

হাজারও নিউইয়র্কবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শেষ বিদায় নিলেন বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ অফিসার দিদারুল ইসলাম (৩৬)। বৃহস্পতিবার  (৩১ জুলাই) ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই পার্কচেষ্টারে তার জানাজায় অংশ নেন ২০ হাজার মুসলিম।

শ্রদ্ধা জানাতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ৫ হাজার সদস্য। আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন নিউইয়র্কের গভর্ণর, মেয়র ও আইনপ্রণেতাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তুলে ধরেন দিদারুলের বীরোচিত আত্মত্যাগের কথা।

পার্কচেস্টার জামে মসজিদের ইমাম ড. জাকির আহমান বলেন, বাংলাদেশি মুসলিম আমেরিকান ছিলেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমী হিসেবেই পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করাকেই দায়িত্ব ভেবেছিলেন। তার জীবন এই দেশের জন্য এবং সবার জন্য উৎসর্গ করে গেছেন।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডাম বলেন, দিদারুলের পরিবারকে সান্তনা জানানোর ভাষা নেই। একজন অভিভাবক হিসেবে অন্য অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চাই। দিদারুল ইসলাম যে সন্ত্রাসবাদ রুখতে জীবন দিয়েছেন, সেটি চিন্তাভাবনা ধারণ করতে হবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে দিদারুলকে সম্মান জানানো নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ৫ হাজার সদস্য স্যালুটের পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মাধ্যমেও গার্ড অব অনার প্রদান করে। সহকর্মীর পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ।

তিনি বলেন, চেয়ে দেখো দিদারুল। পুরো নিউইয়র্ক পুলিশ তোমার পাশে। তোমার এবং তোমার পরিবারের জন্য আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। আমরা সবসময় এই পরিবারের পাশে থাকবো।

পরে তাকে নিউ জার্সির লোরেল গ্রোভ কবরস্থানে দাফন করা হয়

এদিকে হামলার এই ঘটনায় পর আবারও সমালোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র আইন। নিউইয়র্কের মেয়রপ্রার্থী জোহরান মামদানি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র আইন যতই শক্তিশালী বলা হোক না কেনো; সেটি আসলে দুর্বল। এটা ভয়াবহ যে মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে লড়াই করা একজন ব্যক্তি এমন ধ্বংসাত্মক অস্ত্র কিনতে পেরেছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় কর্তব্যরত অবস্থায় ৩৬ বছর বয়সি পুলিশ অফিসার দিদারুল ইসলামসহ ৪ জন নিহত হন। হামলাকারী ২৭ বছরের শ্যেন ডেভন তামুরা নিজেও আত্মহত্যা করে। গান ভায়োল্যান্স আর্কাইভের তথ্য অনুসারে, এবছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৫৪টি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন শত শত মানুষ।

নিহত দিদারুল ইসলাম ৪ বছর আগে পুলিশে যোগ দেন। এর আগে তিনি স্কুল সেইফটি ও ট্রাফিক বিভাগেও কাজ করেছেন। তার বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। দিদারুলের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

গাজায় আবারও ত্রাণ সংগ্রহকারীদের ওপর বর্বরতার নজির দেখালো ইসরায়েল। অভুক্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বিচার হামলায় কমপক্ষে ৭১ জনের প্রাণ গেছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) উত্তর গাজার জিকিম ক্রসিং পয়েন্টে ত্রাণ বিতরণের খবর পেয়ে ছুটে যায় শত শত ফিলিস্তিনি। এসময় ভিড় লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। প্রাণ হারায় ৫১ জন। আহত হয় প্রায় সাড়ে ৬শ’ মানুষ।

একইভাবে হামলা হয়েছে দক্ষিণে খান ইউনিসের কাছাকাছি মোরাগ করিডোরেও। সেখানে ত্রাণ নিতে গিয়ে মারা যায় ২০ জন।

গত মে মাসের শেষে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত কর্মসূচি-জিএইচএফ চালুর পর থেকে নিয়মিতই হামলা হচ্ছে ত্রাণ সংগ্রহকারীদের ওপর। যাতে এ পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার গাজায় অনাহারে-অপুষ্টিতে ভুগে মৃত্যু হয়েছে আরও ৭ ফিলিস্তিনির।