অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও লোকসভার সদস্য মহুয়া মৈত্র বলেছেন, জিডিপিসহ পরিকাঠামোগত দিক থেকে ভারতের তুলনায় অনেকাংশেই ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি দেশটির একটি ইংরেজি গণমাধ্যমকে ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে সঞ্চালক অন্য দেশ থেকে ভারতে আসা মানুষদের তথা অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মহুয়াকে প্রশ্ন করেন। সেই প্রশ্নের উত্তরেই এ কথা বলেন তিনি। পৃথিবীর সবাই ভারতে আসতে চায়— এমন ভাবনা চিন্তা থেকে বের হয়ে আসার জন্য নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিও আহ্বান জানান পশ্চিমবঙ্গের এ নেত্রী।

সঞ্চালক যখন বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন সঞ্চালকের উদ্দেশে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, কোথায় সেই ব্যাপক অনুপ্রবেশ? কারা ভারতে আসছে? কেনইবা কেউ ভারতে আসবে? আমি নিজে সীমান্তবর্তী এলাকার সংসদ সদস্য। আপনি বলুন তো, এখনকার বাংলাদেশি্রা কেন ভারতে থাকতে চাইবে?

মহুয়া বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর, যার অপরপ্রান্তেই বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলা। জিডিপি, স্বাস্থ্য ও মানব উন্নয়ন সূচকসহ অনেক দিকেই বাংলাদেশ এখন ভারতের চেয়ে ভালো করছে। দয়া করে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে বোঝান, পৃথিবীর সবাই ভারতে আসতে মরিয়া— এমন ভাবনা থেকে যেন বেরিয়ে আসেন তারা।

মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেট স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ জুলাই) ক্যালিফোর্নিয়ার নেভাল এয়ার স্টেশন লিমোর-এর কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে।

দেশটির নৌবাহিনীর প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩০মিনিটের দিকে ঘটে এবং পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন রয়েছে।

বিমানটি স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রন VF-125 ‘রাফ রেইডার্স’-এর অধীনে ছিল। এই স্কোয়াড্রনটি একটি ফ্লিট রিপ্লেসমেন্ট স্কোয়াড্রন (এফআরএস), যার মূল দায়িত্ব হলো নতুন পাইলট ও এয়ারক্রু প্রশিক্ষণ দেয়া।

নেভাল এয়ার স্টেশন লিমোর ফ্রেসনো শহর থেকে প্রায় ৪০ মাইল (৬৪ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে জেটটি বিধ্বস্ত হয়।

এটি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি প্রধান বিমান ঘাঁটি, যেখানে বহু এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট ও এফ-৩৫সি মডেলের যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।

নৌবাহিনী এখন ব্ল্যাক বক্স ও অন্যান্য ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টেকনিক্যাল গ্লিচ এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে আরও সময় লাগবে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিধ্বস্ত এলাকা নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। কোনো স্থাপনা বা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলের মধ্যে এফ-৩৫-এর সুরক্ষা প্রোটোকল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে, যেহেতু এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে একটি।

সূত্র: সিএনএন নিউজ।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে চলমান যুদ্ধে গাজা উপত্যকায় ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এমনটি জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুসারে, মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ১১৩ জন নিহত হয়েছেন। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০,০৩৪।

এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে, স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ক্রমাবনতির মধ্যে গাজায় গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন বলে জানিয়েছে একটি শীর্ষস্থানীয় সাহায্য সংস্থা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস (এমএপি) স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) জানায়, তাদের স্থানীয় সহযোগী সংস্থা আর্দ আল ইনসান দ্বারা স্ক্রিনিং করা গর্ভবতী মায়েদের ৪৪% ‘তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং তাদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন’।

সূত্র: সিএনএন নিউজ।

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগাম গত এপ্রিলে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিককে গুলি করে হত্যার সঙ্গে জড়িত তিন জঙ্গিকে হত্যা করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী—স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) সংসদে এ দাবি করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

তিনি বলেন, ‘অপারেশন মহাদেব’ নামের এক অভিযানে শ্রীনগরের কাছে দাচিগামের পাহাড়ি বন সংরক্ষণ এলাকায় ওই তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

শাহ দাবি করেন, নিহতরা পাকিস্তানের নাগরিক—যদিও ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভবিষ্যৎ হামলার আশঙ্কায় সেই সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে কয়েক দিনের ক্ষণস্থায়ী সেনা সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বহু মানুষ নিহত হন, যা সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত হয়, পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

ভয়াবহ হামলা ও তদন্ত

২২ এপ্রিল পেহেলগামেগুলি চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন হিন্দু পর্যটক। তাদের পরিবারের সামনেই ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। এক স্থানীয় মুসলিম ঘোড়াচালক, যিনি সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন, তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, হামলার আগে স্থানীয় দুই ব্যক্তি এই তিনজনকে আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের গ্রেফতারের পর বলা হয়, তিন জঙ্গিই পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়্যবার (এলইটি) সদস্য।

সংসদে শাহের বক্তব্য

স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে শাহ জানান, তাদের নাম সুলেমান শাহ, আফগান ও জিবরান। শাহ বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে একটি মার্কিন ‘এম-৯’ রাইফেল এবং দুটি কালাসনিকভ (একে-৪৭) উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর ব্যালিস্টিক পরীক্ষা চণ্ডীগড়ের কেন্দ্রীয় ফরেনসিক ল্যাবে করা হয় এবং নিশ্চিত হয়া গেছে যে এগুলো দিয়েই নিরীহ নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছিল।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে রিপোর্টের কাগজ দেখিয়ে বলেন, ‘ছয়জন বিজ্ঞানী ক্রস-চেক করেছেন। ভিডিও কলে তারা আমাকে জানিয়েছেন, এই গুলিগুলোই ১০০% নিশ্চিতভাবে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।’

তবে এই অভিযান নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং পাকিস্তানও ভারত সরকারের দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

সমালোচনা ও প্রশ্ন

বিরোধী দল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য গৌরব গগৈ প্রশ্ন তোলেন, কেন ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও এত দেরিতে হামলাকারীদের খোঁজ পাওয়া গেল। তিনি বলেন, ‘এই হামলার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে দায় নিতে হবে।’

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, ‘হামলার সময় সেখানে কেন কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিল না?’

তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের নিরাপত্তা কি প্রধানমন্ত্রীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নয়?’

জবাবে শাহ বলেন, হামলার পরই তদন্ত জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে তুলে দেয়া হয় এবং সীমান্তে কড়া নজরদারি বসানো হয়েছিল যাতে কেউ দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে।

তবে বিরোধীদের অনেকেই সরকারের জবাবে সন্তুষ্ট নন এবং কাশ্মীরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ‘গুরুতর ঘাটতির’ অভিযোগ তুলছেন।

সূত্র: বিবিসি নিউজ।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

সিউলের নতুন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের আন্ত:কোরীয় সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার মধ্যে এ অবস্থান জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার মাধ্যমে সোমবার (২৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের পিয়ংইয়ংয়ের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেন।

উত্তেজনাপূর্ণ আন্ত:কোরীয় সীমান্তে লাউডস্পিকার প্রচারণা বন্ধের মতো পদক্ষেপগুলোকেও তিনি ‘যা শুরুই করা উচিত ছিল না, তার একটি প্রত্যাবর্তনমাত্র’ বলে আখ্যায়িত করেন।

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)-এর মাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া যদি মনে করে যে কয়েকটি আবেগপ্রবণ কথার মাধ্যমে পূর্বের সব সিদ্ধান্ত বদলে ফেলা যাবে, তাহলে এটি তাদের একটি মারাত্মক ভুল হিসাব।’

এছাড়াও, গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং কিম জং উনকে অক্টোবরে সিউলে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করলে কিম ইয়ো জং লি প্রশাসনের এই অবস্থাকে “দিবাস্বপ্ন” বলে অভিহিত করেন।

কিম আরও বলেন, লি প্রশাসনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিরাপত্তা জোটের প্রতি ‘অন্ধ বিশ্বাস’ এবং পিয়ংইয়ংয়ের সাথে ‘বিরোধিতা করার চেষ্টা’ ইয়ুন সুক-ইয়োলের রক্ষণশীল সরকারের নীতির থেকে আলাদা নয়।

কিম ইয়ো জং স্পষ্ট করে বলেন, ‘সিউল যেই নীতিই গ্রহণ করুক বা যে প্রস্তাবই দিক না কেন, আমরা এতে আগ্রহী নই। দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আমাদের দেখা করার কোনো কারণ বা আলোচনার কোনো বিষয়ই নেই।’

গত মাসে, ইয়ুন সুক-ইয়োলের সংক্ষিপ্ত সামরিক শাসন জারির পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া লি জে-মিয়ং বিভক্ত কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধের পর থেকে দুই কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

লি জে-মিয়ংয়ের বামপন্থী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও এর পূর্বসূরিরা ঐতিহ্যগতভাবে উত্তর কোরিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষপাতী, যা ইয়ুন সুক-ইয়োলের রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টি ও তার পূর্বসূরিদের অবস্থানের বিপরীত।

গত মাসের শুরুতে, দক্ষিণ কোরিয়া জানায় যে তারা ছয়জন উত্তর কোরিয়াকে ফেরত পাঠিয়েছে, যাদের নৌকা চলতি বছরের শুরুতে সমুদ্রসীমা পেরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার জলসীমায় প্রবেশ করেছিল।

সূত্র: আল জাজিরা।

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) স্থানীয় সময় রোববার (২৭ জুলাই) ঘোষণা করেছে যে নাহাল ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের তিন সৈন্যকে যুদ্ধের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গাজায় ফিরে যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে ‘অনুগত্য হারানো’র অভিযোগ আনা হয়।

সৈন্যরা তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ‘গভীর আত্মিক সংকট’ (deep internal crisis)-এর কথা উল্লেখ করেছে।

কান পাবলিক ব্রডকাস্টার প্রথম এই ঘটনার কথা জানায়, যা পরে আইডিএফ নিশ্চিত করে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নাহাল ব্রিগেডের ৯৩১তম ব্যাটালিয়নের চার সদস্য গাজায় ফেরত যেতে অস্বীকার করায় তাদের যুদ্ধ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে তিনজনকে ৭ থেকে ১২ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, চতুর্থ সদস্যের বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

সৈন্যরা তাদের কমান্ডারদের জানিয়েছিল যে, গাজায় ফিরে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, তারা যখন এই সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাদের চিকিৎসার পরিবর্তে কারাগারে পাঠানো হয়।

একজন সৈন্যের মা কানকে বলেন, ‘তাদের অনেক সহযোদ্ধা যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন, তারা ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছেন এবং মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। এসব কিছু তাদের আত্মায় দগদগে দাগ রেখে গেছে।’

আইডিএফের প্রতিক্রিয়া

আইডিএফ জানিয়েছে যে, নাহাল ব্রিগেডের এই তিন সৈন্য গাজায় যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, সৈন্যরা একজন মানসিক স্বাস্থ্য কর্মীর সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিল, যিনি তাদের যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য ‘সক্ষম’ বলে রায় দিয়েছিলেন। তবে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় তাদের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আইডিএফ বলেছে, ‘এই বিষয়টি সংবেদনশীলতার সাথে এবং নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করা হয়েছে এবং যুদ্ধের সময় আনুগত্য হারানোকে গুরুতরভাবে নেয়া হয়।’

সেনাবাহিনীতে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ ও অনাগ্রহের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেনাসদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনাও বেড়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে চার সৈন্য (একজন রিজার্ভ সদস্যসহ) আত্মহত্যার সন্দেহে মারা গেছেন, যা এ বছরের মোট আত্মহত্যার সংখ্যা ১৯-এ পৌঁছে দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।

ইউরোপের সকল পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার, স্কটল্যান্ডে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লিয়েনের সাথে বৈঠক হয় ট্রাম্পের।

দীর্ঘ আলোচনার পর ইইউর পণ্যে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ নির্ধারনের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ইউরোপের সকল পণ্যে ৩০ শতাংশ শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

চুক্তি অনুযায়ী, ইইউ পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে, যা ট্রাম্পের পূর্বের ৩০% হুমকির অর্ধেক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা, ২৭ সদস্যের এই ব্লক যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শূন্য শুল্কে তাদের বাজার উন্মুক্ত করবে।

ভন ডের লেনও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি উভয় মিত্রের জন্য স্থিতিশীলতা আনবে, যারা সম্মিলিতভাবে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের অংশীদার।

কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড যুদ্ধবিরতি আলোচনায় রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৬ জুলাই) ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, শিগগিরই সাক্ষাৎ করবেন দুই দেশের নেতারা।

এছাড়াও গতকাল উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপ করেন ট্রাম্প। সীমান্তে সংঘাত বন্ধ না হলে কোনো পক্ষের সাথেই বাণিজ্য চুক্তি করবেন না বলে হুমকি দেন তিনি। এরপরই আসে এমন ঘোষণা।

এদিকে মধ্যস্থতার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচি। বলেন, তার দেশ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে রাজি। কম্বোডিয়ার তরফ থেকেও একইরকম আন্তরিকতা দেখতে চান বলেও জানান।

উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে ১৩ বছরে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে তিনদিনে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ।

দীর্ঘ ৪১ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন লেবাননের আলোচিত ফিলিস্তিনপন্হি বিপ্লবী যোদ্ধা জর্জ ইব্রাহীম আব্দুল্লাহ। ফ্রান্সে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি কূটনীতিককে হত্যার অভিযোগে তাকে জেলে পাঠিয়েছিল ফরাসি পুলিশ। জীবদ্দশায় আর কখনও ফ্রান্সে প্রবেশ না করার শর্তে মুক্তি দেয়া হয় তাকে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বৈরুতের রাফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় জর্জ ইব্রাহীমকে বহনকারী বিমানটি।

দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জর্জ। ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী কেফায়া পড়ে বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি।

জর্জ ইব্রাহীম বলেন, শত্রুদের প্রতিহতে আমরা জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। জীবনের শেষ পর্যন্ত শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। ইসরায়েলের অস্তিত্ব কিছুদিনের মাঝেই হারিয়ে যাবে। ওরা শেষ অধ্যায়ে পা দিয়েছে।

১৯৮৪ সালে ফ্রান্সের লিওন শহর থেকে আটক হন জর্জ ইব্রাহীম। প্যারিসে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা চার্লস রবার্ট রে এবং ইসরায়েলি কূটনীতিক ইয়াকোভ বারসিমানটোভকে হত্যার অভিযোগে তাকে আটক করে ফরাসি পুলিশ।

জর্জ ইব্রাহীম আব্দুল্লাহ ১৯৫১ সালে লেবাননের উত্তরাঞ্চলীয় কোবাইয়াত শহরে একটি খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান ফ্রান্সে। টুলুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিষয়ে পড়ার সময়ই বামপন্হি ও বিপ্লবী চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হন জর্জ ইব্রাহীম। এই বিশ্বাসই তার রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তি।

লেবাননে ৭০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন জর্জ ইব্রাহীম। যোগ দেন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন- জেনারেল কমান্ড’ নামের সংগঠনে। উপনিবেশবাদ বিরোধী ও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রতি সমর্থনে অনুপ্রাণিত হয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেন সাহসী এই বিপ্লবী যোদ্ধা। এরফলে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রোষানলে পড়েন তিনি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৪১ বছর কারাবাসের পর প্রিয় নেতাকে বরণ করতে বৈরুতের রাফিক হারিরি বিমান বন্দরে জড়ো হয়েছিল শত শত মানুষ। এসময় ভক্ত-অনুসারীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন জর্জ।

তৃতীয় দিনের মতো সংঘাতে জড়িয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দুই দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া।

শনিবার ভোরে, থাইল্যান্ডের ত্রাত প্রদেশে হামলা চালায় নমপেন, তবে তা প্রতিহত করে ব্যাংকক। এর আগে অন্যদিকে, দেশ দুটির মধ্যে দুই দিন ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষের পর, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে কাম্বোডিয়া।

জাতিসংঘে নিযুক্ত কাম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত চিয়া কেও বলেন, শর্তহীনভাবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে তার দেশ; এবং এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় নমপেন। এখনও এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি থাইল্যান্ড। এর আগে কাম্বোডিয়া সীমান্তবর্তী আটটি জেলায় সামরিক আইন জারি করে দেশটি।

সংঘাতের জেরে আলোচনায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সামরিক সক্ষমতা। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের র‍্যাঙ্কিং বলছে, কম্বোডিয়ার চেয়ে সামরিক শক্তিতে যোজন যোজন এগিয়ে থাইল্যান্ড। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহিনীও ব্যাংককের। তাদের ভাণ্ডারে রয়েছে ২৮টি এফ- সিক্সটিন ফাইটার জেট। অথচ নমপেনের কাছে নেই কোনো যুদ্ধবিমানই। প্রতিবছর সামরিক খাতে কম্বোডিয়ার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ খরচ করে থাইল্যান্ড।

দু’দেশের সংঘাতের জেরে নতুন উত্তেজনা এশিয়ায়। আরও একটি যুদ্ধের শঙ্কায় বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দু’দেশের মধ্যে সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে?

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের র‍্যাঙ্কিংয়ের তথ্যমতে, সামরিক শক্তিতে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাইল্যান্ড। দেশটির অবস্থান ২৫তম স্থানে, বিপরীতে কম্বোডিয়ার অবস্থান ৯৫।

লন্ডন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটিজিক স্টাডিসের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে সামরিক খাতে ৫৭৩ কোটি ডলার খরচ করেছে ব্যাংকক। আর এই খাতে নমপেনের বাজেট ছিল ১৩০ কোটি ডলার। কম্বোডিয়ার সামরিক বাহিনীতে মোট সদস্য ১ লাখ ২০ হাজারের কিছু বেশি। আর থাইল্যান্ডের সামরিক সদস্য সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।

এশিয়ার শক্তিশালী দেশগুলোর তালিকার অন্যতম থাইল্যান্ডের আর্টিলারি এবং আর্মার্ড ডিভিশন। দেশটির সমরভাণ্ডারে রয়েছে ৪০০ ট্যাঙ্ক, ২০০ সাঁজোয়া যান এবং ২ হাজার ৬০০ কামান। অন্যদিকে কম্বোডিয়ায় ট্যাংক রয়েছে ২শ আর কামানের সংখ্যা এর দ্বিগুন।

এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী বিমান বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হয় থাইল্যান্ডের বিমান বাহিনীকে। দেশটির কাছে ২৮টি এফ-সিক্সটিন ও ১১টি সুইডিশ গ্রিপেন যুদ্ধবিমানসহ শতাধিক সামরিক বিমান রয়েছে। তার বিপরীতে একেবারেই দুর্বল কম্বোডিয়ার বিমান বাহিনী। দেশটির কাছে নেই কোনো যুদ্ধবিমান। রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবহন বিমান এবং সামরিক হেলিকপ্টার।

প্রসঙ্গত, সেনা ও আকাশপথের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীও বেশ শক্তিশালী। একটি বিমানবাহী রণতরী, সাতটি ফ্রিগেট ও ৬৮টি টহল জাহাজ রয়েছে তাদের কাছে। কম্বোডিয়ার কাছে আছে ১৩টি টহল জাহাজ।

দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ধর্মস্থালা প্রায় আটশো বছর ধরে পরিচিত তীর্থস্থান হিসেবে। প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার পূণ্যার্থী এই শহরে ভিড় জমায়। ধর্মাস্থালায় অবস্থিত আলোচিত ভগবান মঞ্জুনাথের মন্দির নিয়ে এক অভিযোগের জেরে শুরু হয়েছে তোলপাড়। এমনকি গণকবর থাকার সন্দেহে আলোচিত এই ইস্যুর খবর ও তথ্য প্রচারেও এসেছে নিষেধাজ্ঞা।

স্পর্শকাতর হওয়ায় ধর্মাস্থালার এই মামলা সংক্রান্ত ৮ হাজার ৮ শ’ অনলাইন পোস্ট, ফেসবুক ও ইউটিউব কন্টেন্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন ব্যাঙ্গালুরুর একটি আদালত। বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সংবাদ প্রচারেও। যা নিয়েও ক্ষোভ ছড়িয়েছে ভারতজুড়ে। এরইমধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে একটি ইউটিউব চ্যানেল। এদিকে, ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ জুলাই। ধর্মস্থালায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন দাবি করে দলিত সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালীদের নির্যাতনের শিকার শতাধিক নারী ও শিশুর মরদেহ তিনি মন্দির চত্বরে মাটিচাপা দিয়েছেন। দেহগুলোতে নৃশংসতার স্পষ্ট চিহ্ন ছিল বলেও অভিযোগ তার। সেখান থেকে কয়েকটি কঙ্কালও উদ্ধার হয়েছে। এরইমধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। আদালত তার নাম প্রকাশ করেনি।

এমন বিস্ফোরক অভিযোগের পর ভারতজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এতদিন পর কেন এই বিতর্ক উঠেছে সে প্রশ্ন। যদিও জবানবন্দী দাতার দাবি, ২০১৪ সালে পরিবারসহ ধর্মস্থালা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অপরাধবোধ থেকেই দিচ্ছেন সাক্ষ্য।

আইনজীবী উমাপাথি এস বলেন, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় চলমান তদন্ত অসন্তোষজনক। সরকারের উচিত ছিল মামলাটি তদারকি করার জন্য একজন বিশিষ্ট এবং অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা। এটি একটি বা দুটি মৃত্যু বা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গণধর্ষণ, গণহত্যা এবং গণকবরের মতো গুরুতর বিষয় রয়েছে।

সাবেক ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জবানবন্দীর পর, ২০০৩ সালে ধর্মাস্থালায় নিখোঁজ হওয়া এক শিক্ষার্থীর পরিবার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, তোপের মুখে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কর্ণাটক রাজ্য সরকার।