২০২৫ সালের ২ এপ্রিল। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্বজুড়ে তার পাল্টা শুল্ক মার্কিন আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যচুক্তির পরিণতি কী হবে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেবে সরকার।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নাগাদ এ চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানিতে নানা অঙ্কে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন। কয়েক মাসের দর কষাকষির পর একেক দেশের সঙ্গে এক হার চূড়ান্ত করে ট্রাম্প প্রশাসন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি হয়, তাতে সম্পূরক শুল্ক শেষমেশ ঠেকে ১৯ শতাংশে; আর মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশে।

ডনাল্ড ট্রাম্প সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে, যা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।

আদালত বলেছে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ রায়ের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি।

এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, রায়ে ওদের পাল্টা শুল্ক দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এখন আমাদের চুক্তির ‘স্ট্যাটাসটা’ কী হবে, সে ব্যাপারে ইউএসটিআর বলেছে, ওদের যে আইন আছে— ১২২, ২৩২ কিংবা ৩০১ অনুযায়ী গড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করবে। এগুলো শেষ পর্যন্ত ২৪ তারিখ নাগাদ একটা ডিসাইসিভ আসবে, এরকমটা বলছে।

এর বিপরীতে সরকার কী করছে, তাও তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব বলেন শনিবারে আমি মেইলটা দেই নাই। মেইল দিব। আমি চিঠিটা এখনই খুব আগ্রহ, গুরুত্ব দেই নাই। কাল-পরশু, দুয়েকদিন গেলে আমি মেইল দিব।

মেইলে কী জানতে চাওয়া হবে— এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, চুক্তির ওইটাই স্পষ্ট করতে বলব; চুক্তির 'স্ট্যাটাসটা' কী হবে?

ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকা যে চুক্তি (এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি) করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কেনার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে গম, তুলা ও সয়াবিনও রয়েছে।

সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তিকে নিজের সাফল্য দাবি করলেও অনেকেই সেটির সমালোচনা করছেন। চুক্তিটি পর্যালোচনার দাবি তুলে কেউ কেউ বলছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক কঠোর। তবে 'চুক্তিটি ফেবারেবল' ছিল বলেই মনে করেন বাণিজ্য সচিব।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের কটন স্পেসিফিক যে ডিলটা ছিল, ওটা তো আমাদের জন্য প্রচণ্ড ফেভারেবল ছিল। বাকি যে জিনিসগুলো, এগুলো লোকে যত কথাই বলুক না কেন, আমরা তো ওই সময় অনেক ভালো ইয়ে (চুক্তি) করেছি।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন আমরা ইন্টারন্যাশনাল লেবার ল মানবো, ওগুলো; আমরা যে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট ইমপ্লিমেন্ট করব, এগুলো। আমরা অনেক আগে চুক্তি করে স্বীকৃতি দিয়ে আসছি। অন্য ইয়েতে (চুক্তিতে)। যেমন ডব্লিউটিওতে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি।

এ সমস্ত আমরা করেছি। ওগুলোর জন্য এখন বলা ঠিক আছে যে মূল ট্রেড ডিলটা, সেটা আমাদের জন্য 'খুব ফেভারেবল' ছিল।

 

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পেছাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি আরও বলেন, আজ থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী এ–ও বলেন, প্রথম সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক চিঠি দিতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আজ থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

রপ্তানির নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিকাঠামো এখনো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে একটি পণ্য থেকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা হবে। নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ খুবই সীমিত। নীতিগত ভুল বা দীর্ঘস্থায়ী বৈদেশিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। তাই গত কয়েক মাসে যে মন্থর পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ শুরু করেছে।

রোজার বাজার নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, রমজান মাস ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে। সেই সঙ্গে পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

পণ্য বাজারে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য দিতে চান না, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান।

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের প্রধান শর্ত হলো স্থিতিশীল পরিবেশ। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত হতে হয়, তাঁদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে যুক্তিসংগত মুনাফা পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী আকার বেশ বড় এবং প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দুই থেকে তিন বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকায় অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এই চুক্তির পর বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। তাতে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কহার ২০ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করা হলে তাতে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে না। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালে তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আজ রাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও  যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচিত এই বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামীকাল বেলা আড়াইটায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির সার্বিক দিক তুলে ধরা হবে।

এদিকে চুক্তির ফলে সার্বিকভাবে ১ শতাংশ শুল্ক কমা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কাঁচামালের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পাল্টা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য খুবই আনন্দের ও ইতিবাচক বলে মনে করছেন দেশটিতে পোশাক রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ রপ্তানিকারকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের একটি হা–মীম গ্রুপ।

চুক্তি ও তার ফলে প্রাপ্ত সুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে হা–মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবরটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। চুক্তির ফলে যে সুবিধা আমরা পেয়েছি, তা খুবই ইতিবাচক। আশা করছি, এই সুবিধা আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব। এমনিতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তুলা আমদানি করি। এখন সেটি আরও বাড়বে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কোনো পাল্টা শুল্ক বসবে না। এ জন্য আশা করছি, সুবিধাটি আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব। তাতে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে।’

আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষর হওয়া বাণিজ্যচুক্তি করতে শুরুতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা ওয়াশিংটন যাননি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীও অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি দল ওয়াশিংটন গেছে। অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সশরীর উপস্থিতিতে এই চুক্তি হয়।

চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে, তা আমরা জানি না। আমি মনে করি, এই ধরনের চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে করা মোটেই উচিত হয়নি। আমরা কিছু নতুন সুবিধা পেয়েছি, সেটিকে আমরা অর্জন হিসেবে মনে করতে পারি। কিন্তু তার বদলে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে বা বাংলাদেশকে কী কী করতে হবে, তা আমরা জানি না। ফলে এই চুক্তিতে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হলো, তা এককথায় বলা মুশকিল। এই চুক্তির দায়ভার এসে পড়বে পরবর্তী সরকারের ওপর। সেই সরকার চুক্তি শর্তগুলো পূরণে কতটুকু প্রস্তুত এবং তাদের এসব বিষয়ে বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কি না, তা–ও বড় প্রশ্ন। তাই আমি মনে করি, চুক্তির লাভ–লোকসানের হিসাব কষতে হবে চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে, তা সার্বিকভাবে পর্যালোচনার ভিত্তিতে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল দেশটিতে পণ্য রপ্তানিকারক ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

শুরুতে বাংলাদেশের জন্য এই হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আরও দর-কষাকষির পর গত বছরের ২ আগস্ট এ হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে এই পাল্টা শুল্কহার কার্যকর হয়। পাল্টা শুল্কের বাইরে আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে দেশটিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। পাল্টা শুল্কারোপের পর সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে ৬০০ কোটি ডলারের রপ্তানি করে বাংলাদেশ। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্যঘাটতি বাংলাদেশের অনুকূলে। এ ঘাটতি কমাতে এরই মধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য; উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ইত্যাদি আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ।

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে জাপানের সাথে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ বা ইপিএ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার(৬ ফেব্রুয়ারি) জাপানের রাজধানী টোকিওতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও এই সমঝোতা দলিলে সই করেন। তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের জন্য জাপানের বিশাল বাজারের দরজা পুরোপুরি উন্মুক্ত হলো। এখন থেকে তৈরি পোশাকসহ মোট ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য দেশটিতে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। বিশেষ করে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল সংক্রান্ত কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক সরাসরি জাপানে রপ্তানি করা যাবে। বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যের জন্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই ইপিএ কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়, এটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের একটি শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এবং জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তিটির ফলে পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা খাতেও অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা এবং নার্সিংসহ ১২০টি সেবা খাতে এখন থেকে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীরা কাজ করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি হবে যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বাংলাদেশের অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতের মানোন্নয়নে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। জাপানি সরাসরি বিনিয়োগ এবং উন্নত প্রযুক্তির হস্তান্তরের ফলে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বিকাশ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।

উল্লেখযোগ্য যে, ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্যচুক্তি ছাড়া এটিই বাংলাদেশের প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক চুক্তি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে। গত এক বছরে ঢাকা ও টোকিওতে মোট সাত দফা নিবিড় দর-কষাকষির পর আজ এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করল।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ফলে ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি-টানা তিন দিন শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ছুটি থাকবে।

তবে এর মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ছুটি ভোগ করার পর শ্রমিকদের দিয়ে পরবর্তীতে একদিন কাজ করাতে পারবেন কারখানা মালিকরা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা যেসব কারখানা কার্যকর করবে, তারা প্রয়োজনে পরবর্তীতে যেকোনো দিনে শ্রমিকদের দিয়ে একদিন কাজ করিয়ে সেই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে।

উল্লেখ্য, পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।

ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াল। মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স তাঁরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি এক্সএআই অধিগ্রহণ করার পর এই মাইলফলক তৈরি হয়েছে।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাবে, এই চুক্তিতে যৌথ কোম্পানির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলার। ফলে মাস্কের সম্পদ বেড়েছে ৮৪ বিলিয়ন ডলার—মোট সম্পদমূল্য বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ৮৫২ বিলিয়ন বা ৮৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

চুক্তির আগে মাস্কের হাতে স্পেসএক্সের আনুমানিক ৪২ শতাংশ মালিকানা ছিল। এই শেয়ারের মূল্য ছিল ৩৩৬ বিলিয়ন বা ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। ডিসেম্বর মাসে দেওয়া দরপত্রের ভিত্তিতে ব্যক্তিমালিকানাধীন এই রকেট কোম্পানির মোট মূল্যায়ন করা হয়েছিল ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার। একই সঙ্গে, চলতি মাসের শুরুতে একটি বেসরকারি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান হয়। এতে এক্সএআইয়ের মূল্যায়ন ধরা হয়েছিল ২৫০ বিলিয়ন বা ২৫ হাজার কোটি ডলার। সেই হিসাবে কোম্পানিটিতে ইলন মাস্কের আনুমানিক ৪৯ শতাংশ অংশীদারত্বের মূল্য দাঁড়ায় ১২২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

একীভূতকরণের পর স্পেসএক্সের মূল্যায়ন করা হয়েছে এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলার এবং এক্সএআইয়ের ২৫০ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, যৌথ কোম্পানিতে মাস্কের মালিকানা এখন প্রায় ৪৩ শতাংশ, যার মূল্য ৫৪২ বিলিয়ন বা ৫৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

ফলে স্পেসএক্স এখন মাস্কের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এ ছাড়া তাঁর কাছে টেসলার প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য আনুমানিক ১৭৮ বিলিয়ন বা ১৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। টেসলার শেয়ার অপশন আছে আরও প্রায় ১২৪ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে গদ নভেম্বর মাসে মাস্কের জন্য অনুমোদিত রেকর্ড পারিশ্রমিক প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এক বছরেরও কম সময়ে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ইলন মাস্কের দুটি কোম্পানি একীভূত হলো। গত মার্চে তিনি ঘোষণা দেন, তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি এক্সএআই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স একীভূত হয়েছে। ওই চুক্তিতে এক্সএআইয়ের মূল্যায়ন ধরা হয় ৮০ বিলিয়ন বা ৮ হাজার কোটি ডলার এবং এক্সের ৩৩ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। ২০২২ সালে ঋণ বাদ দিয়ে টুইটার অধিগ্রহণে মাস্ক যে অর্থ দিয়েছিলেন, এটা তার প্রায় সমান।

তবে এসব চুক্তিতে মাস্ক একই সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতার ভূমিকায় ছিলেন। ফলে মাস্ক ঘোষিত মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এখন সব প্রতিষ্ঠানই স্পেসএক্সের কাঠামোর মধ্যে এসেছে। সেই সঙ্গে স্পেসএক্স চলতি বছরের শেষ দিকে আইপিও ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে শিগগিরই এসব কোম্পানিকে শেয়ারবাজারের কঠোর নজরদারির মুখোমুখি হতে হবে।

এর আগে ডিসেম্বর মাসে ইলন মাস্ক ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক অর্জন করেন। বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা ইনফরমা কানেক্ট একাডেমি বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইলন মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ার এক লাখ কোটি ডলারের মালিক হতে পারেন। সেই পথেই এগোচ্ছেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণা দেন।

এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। একই দাবিতে আজ সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে ইসহাক ডিপো সংলগ্ন টোল প্লাজায় সড়ক অবরোধ করেন।

এদিকে টানা ৪ দিনের কর্মবিরতিতে বন্দর ও বেসরকারি আইসিডিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ কন্টেইনার জট। বন্দরের এমন অচলাবস্থায় পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর এলাকায় সভা সমাবেশে নিষিদ্ধ থাকার ঘোষণা থাকায় যে কোন তৎপরতা ঠেকাতে বন্দরের একাধিক প্রবেশ মুখে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করায় হ্যামস গার্মেন্টসকে বিশেষ সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) লিড প্লাটিনাম সনদে (সার্টিফিকেশনে) ১১০–এর মধ্যে ১০৮ স্কোর পেয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিজিএমইএ।

আজ শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানটি বিজিএমইএ এবং হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমানের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন, পরিচালক ফারুক হাসান, ইউএসজিবিসির কনসালট্যান্ট অনন্ত আহমেদ, ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)–এর অন্তর্বর্তী কমিটির কনভেনর এহসানুল করিম কায়সার প্রমুখ।

এ সময় বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড ইউএসজিবিসি লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেশনে যে নম্বর পেয়েছে, তা বিশ্বের যেকোনো গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর। এই সাফল্য সারা বিশ্বের কাছে মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ডের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি গ্লোবাল বেঞ্চমার্ক তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ১১০–এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা তারা সফলভাবে করেছে। কারখানার পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজতর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, জিএমইএর বর্তমান পর্ষদ যেভাবে পোশাকশিল্পের প্রতিটি অর্জনকে মূল্যায়ন করছে এবং তা বিশ্বদরবারে তুলে ধরছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। বিজিএমইএর এই সংবর্ধনা উদ্যোগ শিল্পমালিকদের টেকসই শিল্পায়নের পথে আরও সাহসী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।

বিজিএমইএর পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ লিড সার্টিফিকেশনে সর্বোচ্চ স্কোর করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙছে, যা দেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো কার্যাদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের মূল্যে এর সঠিক প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭৩টি লিড সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম এবং ১৩৯টি গোল্ড মানের। উল্লেখ্য যে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে অবস্থিত।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধির অনুমানের তুলনায় যা অনেক কম। দক্ষিণ এশিয়ায় গড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।

বুধবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদনে এডিবি এশিয়ান দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশ আগামী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে অনুমান করেছে এডিবি।

এডিবি এর আগে চলতি অর্থবছরের জন্য চার দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রাক্কলনের কথা উল্লেখ করে এডিবির পূবাভাসের এপ্রিল সংস্করণে বলা হয়েছে, এ সময়ে অর্থনীতি ধীর গতিতে প্রসারিত হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক বিক্ষোভ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে উৎপাদন খাত স্থিতিশীল হওয়ায় পরবর্তী প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ই–মেইল সেবা জিমেইল। ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে অফিসের কাজ—সব ক্ষেত্রেই নিয়মিত ব্যবহার করা হয় গুগলের এ সেবাটি। তবে অধিকাংশ ব্যবহারকারী জিমেইলকে শুধু ই–মেইল পাঠানো ও গ্রহণের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহার করেন। অথচ এতে রয়েছে বেশ কিছু কার্যকর সুবিধা, যেগুলো কাজে লাগালে ইনবক্স আরও গোছানো রাখা, গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও সময় সাশ্রয় করা সম্ভব। জেনে নেওয়া যাক জিমেইলের এমনই সাত সুবিধা সম্পর্কে।

১. গুরুত্বপূর্ণ ই–মেইল পরে দেখার সুযোগ

সব ই–মেইলের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় কোনো বার্তা পরে দেখার প্রয়োজন হলেও সেটি অন্য ই–মেইলের ভিড়ে হারিয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে জিমেইলে রয়েছে ‘স্নুজ’ সুবিধা। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো ই–মেইল নির্ধারিত দিন ও সময় পর্যন্ত আড়ালে রাখা যায়। সময় হলে বার্তাটি আবার ইনবক্সের শীর্ষে চলে আসে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ বা রিমাইন্ডার ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।

২. একাধিক ইনবক্সে বার্তা সাজিয়ে রাখুন

প্রতিদিন প্রচুর ই–মেইল এলে প্রয়োজনীয় বার্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জিমেইলের ‘মাল্টিপল ইনবক্স’ সুবিধা ব্যবহার করে আনরিড মেসেজ, স্টারমার্ক দেওয়া ই–মেইল, ড্রাফট মেসেজ (খসড়া) বা নিজস্ব লেবেল অনুযায়ী আলাদা বিভাগ তৈরি করা যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো সহজেই নজরে রাখা সম্ভব।

৩. গোপনীয় তথ্য পাঠাতে কনফিডেনশিয়াল মোড

সংবেদনশীল তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ নথি ই–মেইলে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়। এ জন্য জিমেইলে রয়েছে ‘কনফিডেনশিয়াল মোড’। এ সুবিধার মাধ্যমে ই–মেইলের মেয়াদ নির্ধারণ করা যায়। নির্দিষ্ট সময় পার হলে বার্তাটি আর দেখা যায় না। পাশাপাশি প্রাপকের পরিচয় নিশ্চিত করতে খুদে বার্তার মাধ্যমে পাঠানো নিরাপত্তা কোড ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।

৪. ই–মেইল অ্যালিয়াস ব্যবহারের সুবিধা

জিমেইলের কম পরিচিত কিন্তু কার্যকর একটি সুবিধা হলো ই–মেইল অ্যালিয়াস। মূল ই–মেইল ঠিকানার সঙ্গে ‘+’ চিহ্ন এবং অতিরিক্ত শব্দ যোগ করে ভিন্ন উদ্দেশ্যে আলাদা ঠিকানা ব্যবহার করা যায়। উদাহরণ হিসেবে This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it. বা This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it. ধরনের ঠিকানা ব্যবহার করা সম্ভব। এসব ঠিকানায় পাঠানো সব বার্তাই মূল ইনবক্সে আসে। তবে সেগুলো আলাদা করে শনাক্ত ও শ্রেণিবিন্যাস করা সহজ হয়।

৫. ইন্টারনেট ছাড়াও জিমেইল ব্যবহার

বিমানযাত্রা, ভ্রমণ বা দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে অনেক সময় ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতেও জিমেইল ব্যবহার করা সম্ভব। সেটিংস থেকে অফলাইন মোড চালু করলে ই–মেইল পড়া, ই–মেইল সার্চ করা এবং খসড়া বার্তা তৈরির কাজ ইন্টারনেট ছাড়াই করা যায়। পরে সংযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়।

৬. উন্নত অনুসন্ধান সুবিধায় দ্রুত বার্তা খোঁজা

অনেক বছরের ই–মেইলের ভিড়ে নির্দিষ্ট কোনো বার্তা খুঁজে বের করা সময়সাপেক্ষ হতে পারে। জিমেইলের উন্নত অনুসন্ধান সুবিধা এ কাজকে অনেক সহজ করে। প্রেরকের নাম, নির্দিষ্ট সময়সীমা, সংযুক্ত ফাইলের ধরন, ফাইলের আকার বা নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে দ্রুত অনুসন্ধান করা যায়। ফলে অনেক পুরোনো ই–মেইলও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

৭. পাঠানো ই–মেইল ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ

ভুলবশত অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যসংবলিত কোনো ই–মেইল পাঠিয়ে ফেললে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। জিমেইলের ‘আনডু সেন্ড’ সুবিধা এ ধরনের সমস্যা এড়াতে সহায়তা করে। সুবিধাটি চালু থাকলে ই–মেইল পাঠানোর পর কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়, যার মধ্যে বার্তা পাঠানো বাতিল করা বা প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব। ফলে অনিচ্ছাকৃত ভুলের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

সূত্র: টেক্লুসিভ

আহসান হাবীব

সকাল সাড়ে নয়টা। প্যারিস এক্সপো পোর্ত দ্য ভার্সাইয়ের প্রধান প্রবেশপথের সামনে তখন দীর্ঘ সারি। হাতে ল্যাপটপ ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। কেউ এসেছেন বিনিয়োগের খোঁজে, কেউ নতুন প্রযুক্তি দেখতে, কেউবা বিশ্ববাজারে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে। নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে বিশাল প্রদর্শনী হলে ঢুকতেই চোখে পড়ে একের পর এক বিশাল স্ক্রিন, রোবটের চলাফেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রদর্শনী এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত আলোচনা।

মুহূর্তেই বোঝা যায়, এটি কোনো সাধারণ প্রদর্শনী নয়। এটি ভিভাটেক ২০২৬। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন, যা এ বছর (১৭-২০ জুন) উদ্‌যাপন করছে তার দশম বর্ষপূর্তি।

২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা ভিভাটেক এক দশকে প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। একসময় এটি ছিল মূলত স্টার্টআপ ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম। আজ এটি প্রযুক্তি, অর্থনীতি, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার একটি মঞ্চ।

প্রদর্শনী হলের ভেতরে ঢুকে প্রথমেই চোখে পড়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আধিপত্য। পুরো সম্মেলনটিই এই দুটি অক্ষরকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। একটি স্টলে এআই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দর্শনার্থীর ছবি থেকে নতুন প্রতিকৃতি তৈরি করছে। অন্য একটি স্টলে দেখানো হচ্ছে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসকদের রোগ শনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে। আরেক পাশে একটি হিউম্যানয়েড রোবট দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে।

 

কয়েক বছর আগেও প্রযুক্তি সম্মেলনের আলোচনায় নতুন অ্যাপ, নতুন ডিভাইস কিংবা নতুন ব্যবসায়িক ধারণা প্রাধান্য পেত। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এআই এখন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার আলোচনার কেন্দ্রে।

তাই ভিভাটেকের করিডর থেকে মূল মঞ্চ; সবখানেই একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার যুগে ইউরোপের অবস্থান কোথায়?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সম্ভবত প্রযুক্তি সম্মেলনের মঞ্চে এখন শুধু উদ্যোক্তারা নন, হাজির হচ্ছেন রাষ্ট্রনায়কেরাও।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

এবারের ভিভাটেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাঁখো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এআই, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড অবকাঠামো এবং ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি তারই প্রতিফলন।

একসময় প্রযুক্তি ছিল ব্যবসার বিষয়। এখন এটি ভূরাজনীতি এবং জাতীয় কৌশলেরও অংশ। মূল মঞ্চে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং শিল্পনেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস থেকে শুরু করে ইউরোপীয় AI খাতের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব আর্থার মেন্স—সবার বক্তব্যেই উঠে এসেছে AI-এর সম্ভাবনা, ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ। কেউ বলছেন, AI শিল্পবিপ্লবের পর মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। আবার কেউ সতর্ক করছেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতার প্রশ্নও সমান গুরুত্ব পেতে হবে।

তবে ভিভাটেকের প্রকৃত প্রাণ খুঁজতে হলে মূল মঞ্চ ছেড়ে চলে যেতে হয় স্টার্টআপ জোনে। সেখানে বড় প্রতিষ্ঠানের চাকচিক্য কম, কিন্তু স্বপ্নের পরিমাণ অনেক বেশি।

 

একটি ছোট বুথে দেখা গেল দুই তরুণ উদ্যোক্তা তাঁদের নতুন সফটওয়্যার নিয়ে আগ্রহী দর্শনার্থীদের বোঝাচ্ছেন। পাশের বুথে একটি স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের AI-ভিত্তিক সমাধান প্রদর্শন করছে। আরেক কোণে কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা একটি স্টার্টআপ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে।

অনেক উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, তাঁরা এখানে শুধু পণ্য প্রদর্শন করতে আসেননি। তাঁরা এসেছেন মানুষ খুঁজতে, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার, গ্রাহক কিংবা ভবিষ্যতের সহযোগী।

একটি হল থেকে আরেকটি হলে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায়, বিভিন্ন টেবিলে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বৈঠক চলছে। কোথাও পাঁচ মিনিটের ‘পিচ’, কোথাও আধা ঘণ্টার আলোচনা। একটি ধারণা, একটি প্রেজেন্টেশন কিংবা একটি সফল আলাপ কখনো কখনো কোটি কোটি ইউরোর বিনিয়োগের পথ খুলে দিতে পারে। তবে ভিভাটেক শুধু ব্যবসার জায়গা নয়; এটি প্রযুক্তির এক উৎসবও। রোবটের সঙ্গে ছবি তুলছে শিশুরা। তরুণেরা ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট পরে অন্য এক জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। AI-নির্ভর গেমিং প্রযুক্তি ঘিরে ভিড়। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিয়ে কৌতূহল দর্শনার্থীদের।

 

এক ফরাসি দম্পতিকে দেখা গেল তাঁদের দুই সন্তানকে নিয়ে রোবোটিকস প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন। শিশুদের একজন কেভিন। একটি রোবটের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আনন্দে লাফিয়ে ওঠে।

ভিভাটেকের আয়োজকেরা প্যারিসকে বিশ্বের প্রযুক্তি রাজধানীগুলোর অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। সিলিকন ভ্যালি, শেনজেন, বেঙ্গালুরু কিংবা সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি ইউরোপীয় উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে প্যারিসকে তুলে ধরার প্রচেষ্টার অংশ এই সম্মেলন। ফ্রান্স ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্টার্টআপ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ভিভাটেক সেই বিনিয়োগ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকেও ভিভাটেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব প্রযুক্তি খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। AI, অটোমেশন এবং ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং স্টার্টআপগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি এখন আর বিলাসিতা নয়; বরং প্রয়োজন।

ভিভাটেকের প্রদর্শনী হলগুলো ঘুরে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উত্তেজনা যেমন আছে, তেমনি আছে উদ্বেগও। এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে? ডেটার মালিকানা কার হাতে থাকবে? প্রযুক্তি কি বৈষম্য কমাবে নাকি বাড়াবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত। ভবিষ্যৎ নিয়ে যে বিতর্ক, যে প্রতিযোগিতা এবং যে স্বপ্ন—তার অনেকটাই প্যারিসের ভিভাটেকে উপস্থিত।

শাহ সুহেল আহমদ, প্যারিস, ফ্রান্স

বিভ্রাটের কবলে পড়েছে মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এর মেসেজিং সেবা মেসেঞ্জার। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই প্ল্যাটফর্ম দুটিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা।

ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, ফেসবুকে লগইন করা যাচ্ছে না, নিউজ ফিডেও নতুন পোস্ট আসছে না। একই সঙ্গে মেসেঞ্জারেও বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

ঢাকার একজন ব্যবহারকারী বলেন, ‘সন্ধ্যা সাতটার পর হঠাৎ করে দেখলাম, মেসেঞ্জার অটো লগআউট হয়ে গেল। এরপর ফেসবুকে ঢুকে দেখি পোস্ট করা যাচ্ছে না, নতুন পোস্টও আসছে না।’

বিভ্রাটের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মেটার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।