• বিশ্ব রেকর্ডের লক্ষ্য দিয়েও ‘একটুর আক্ষেপ’ বাংলাদেশের, পাকিস্তান বলছে ‘সবই সম্ভব’

    সিলেট টেস্টটা জিততে হলে এখন পাকিস্তানকে রেকর্ড বইয়ে ওলটপালট করতে হবে। নিজেদের ইতিহাস তো দূর, টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছরের ইতিহাসেই কখনো ৪৩৬ রান তাড়া করে জেতার ঘটনা নেই। ২০০৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বোচ্চ ৪১৮ রান করেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এ ছাড়া যে তিনবার টেস্টে চার শর বেশি রান তাড়া হয়েছে, সেগুলোর সর্বশেষ ঘটনাটিও ১৮ বছর আগের। এমন পরিস্থিতিতে বোলিং দলের নির্ভার হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ তা নয়।

    সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তাইজুল ইসলাম বললেন, ‘আরও একটু লম্বা করতে পারলে হয়তো দলের জন্য ভালো হতো। কারণ, উইকেট এখনো (ব্যাটিংয়ের জন্য) ভালো। আমরা যদি আরও কিছু জুটি গড়তে পারতাম, হয়তো ভালো হতো।’

    দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে মুশফিকুর রহিমই বাংলাদেশের লিডটা ৪০০ পার করে দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তবু শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার পর তাঁকে হতাশই দেখা গেছে। বাউন্ডারি লাইন পার করে হতাশায় হেলমেটও ছুড়ে মেরেছেন ১৩৭ রান করা মুশফিক। সেটি কি আরও কিছু রান করতে না পারার কারণে?
    তাইজুল উত্তরে বলেছেন, ‘আমরা যদি স্কোরবোর্ডে আরও ২০-৩০-৪০ রান যোগ করতে পারতাম হয়তো দলের জন্য ভালো হতো। এখানে হতাশার কিছু নেই। কারণ, সব সময় যে ১০০% (চাওয়ামতো) হবে, এমনটাও নয়।’

    মুশফিকের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটির পথে ২২ রান করেন তাইজুল ইসলাম
    মুশফিকের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটির পথে ২২ রান করেন তাইজুল ইসলাম
     

    যেহেতু বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে কিছু রান কম হয়েছে মনে করছে, চ্যালেঞ্জটা তাই বোলারদেরই বেশি। তাইজুলও তাঁদের একজন। নিজেদের ঠিকঠাক বোলিং করতে হবে, তা মনে করালেও এই বাঁহাতি স্পিনার আবার এটাও বলেছেন, কাজটা সহজ হবে না পাকিস্তানের জন্যও, ‘এটা চতুর্থ ইনিংস। উইকেট এখনো ভালো আছে। কিন্তু দিন শেষে আমাদের লক্ষ্যটা (কত) দেখতে হবে। তারা যখন (কত রানের লক্ষ্য এই) সংখ্যাটা দেখবে হয়তো মাথায় অনেক কিছু কাজ করতে পারে। উইকেট যে রকম ভালো আছে, সে রকম আমাদেরও শৃঙ্খলা মেনে বোলিং করতে হবে।’

    পাকিস্তান তাদের ইতিহাসে কখনো ৪০০–এর বেশি রান তাড়া করে জিততে পারেনি। ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭৭ রান তাড়াই তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এখন সেই রেকর্ড ভাঙতে তো হবেই, গড়তে হবে নতুন বিশ্ব রেকর্ড। আজ ২ ওভার খেলে কোনো রান হারিয়ে শূন্য রান করা পাকিস্তান কতটা আত্মবিশ্বাসী?

    এমন প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তানের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা উমর গুল যা বললেন, তাতে আশাবাদের ছাপই বেশি, ‘এখনো দুই দিন আছে, যদিও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, কিন্তু আমরা মানসিকভাবে তৈরি যে যথেষ্ট সময় হাতে আছে। আমরা যদি পুরোটা সময় ব্যাট করতে পারি, তাহলে জেতার সুযোগ আছে। আমরা ড্র করতে চাইছি না। আমরা রান তাড়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’

    সে জন্য দলের ব্যাটসম্যানদের কী করতে হবে, তা–ও বলে গেছেন এই পেস বোলিং কোচ গুল, ‘দুই–তিনটা ভালো জুটি গুরুত্বপূর্ণ। ৪৩৭ রান তাড়া করতে আপনাকে সাহসী হতে হবে আর ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে। ক্রিকেটে সবকিছুই সম্ভব, দুই দলেরই সম্ভাবনা আছে।’

  • বিশ্বকাপ জিতে ভারত কত টাকা পেল, নিউজিল্যান্ড কত

    বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের পুরস্কার শুধু ট্রফি নয়, অর্থকড়িও। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে যেমন বড় অঙ্কের টাকা পেতে যাচ্ছে ভারত। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) খালি হাতে ফেরাচ্ছে না কাউকেই।

    রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড তো বটেই, সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল, সুপার এইটে থমকে যাওয়া চার দল, এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ৮ দলের জন্যও অর্থ বরাদ্দ আছে।

    ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (১ ডলার সমান ১২১.৬৫ টাকা) মোট ১৬৪ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নদের জন্য বরাদ্দ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ শিরোপা জিতে ভারত পাচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩৬ কোটি টাকা।

    ফাইনালে ভারতের কাছে ৯৬ রানে হেরে যাওয়া নিউজিল্যান্ড পাচ্ছে ভারতের প্রায় অর্ধেক—১৬ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ১৯ কোটির টাকার কাছাকাছি। ভারত ও নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে যাদের হারিয়েছে, সেই ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা পাচ্ছে ৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার বেশি।

    ২০ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকে বিদায় নেয় ৪টি দল। জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান পাচ্ছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা সাড়ে চার কোটি টাকার বেশি করে। আর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ১২টির দলের প্রতিটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বাবদ পাচ্ছে আড়াই লাখ ডলার বা ৩ কোটির বেশি টাকা করে।

  • বিশ্বকাপ জয়ে ব্রাজিলের বুকমেকারদের হিসাবেই পিছিয়ে ব্রাজিল

    ব্রাজিলে ব্যবসা করা মূল বুকমেকার প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে, বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে চতুর্থ ফেবারিট কার্লো আনচেলত্তির দল।

    দেশটির ঘরোয়া বাজারের শীর্ষস্থানীয় সাতটি বুকমেকার প্রতিষ্ঠানের (স্পোর্টিংবেট, বেট৩৬৫, বেতানো, নোভিবেট, কেটিও, সুপারবেট এবং বেটএমজিএম) মূল্যতালিকা বিশ্লেষণ করেছে ‘ব্লগ দো রাফায়েল রেইস’। সব কটি প্রতিষ্ঠানের চোখেই শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

    অধিকাংশ বুকমেকার প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ফেবারিটের তালিকায় চতুর্থ স্থানটি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সঙ্গে ভাগাভাগি করছে ব্রাজিল। অর্থাৎ, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয়ে ফেবারিটের তালিকায় যৌথভাবে চতুর্থ। শুধু দুটি প্রতিষ্ঠান মনে করে, এবার আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা বেশি।

    ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ইউওএল’ জানিয়েছে, বুকমেকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের সম্ভাবনার অনুপাত বা ‘অডস’ ধরা হয়েছে ৯: ১। এর অর্থ, এবার বিশ্বকাপে ব্রাজিল ২৪ বছরের শিরোপাখরা কাটাতে পারলে প্রতি ১ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল বাজি ধরার বিপরীতে মিলবে ৯ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল।

    বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট দল স্পেন
    বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট দল স্পেন, উয়েফা
     

    স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের ‘অডস’ বা অনুপাত ৫.৫:১। ব্রাজিলের সাতটি বড় বুকমেকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি স্পেনকে বিশ্বকাপ জয়ে ১ নম্বর ফেবারিট হিসেবে বিবেচনা করছে। কেবল ‘স্পোর্টিংবেট’ ব্যতিক্রম। তাদের হিসাবে, এবার বিশ্বকাপে ১ নম্বর ফেবারিট ফ্রান্স।

    বুকমেকার প্রতিষ্ঠানগুলোর এই মূল্যায়নের সঙ্গে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের কিছুটা অমিল রয়েছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে এখন বিশ্বের সেরা দল ফ্রান্স (১৮৭৭.৩২ পয়েন্ট)। দ্বিতীয় স্পেন তাদের ঘাড়েই নিশ্বাস ফেলছে (১৮৭৬.৪০) এবং আর্জেন্টিনা তৃতীয় (১৮৭৪.৮১)। ব্রাজিল ১৭৬১.১৬ পয়েন্ট নিয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে। তালিকায় ৪ ও ৫ নম্বরে থাকা ইংল্যান্ড (১৮২৫.৯৭) ও পর্তুগালের (১৭৬৩.৮৩) চেয়েও পিছিয়ে ব্রাজিল।

    বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড আগেই ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি। আগামী বুধবার থেকে বিশ্বকাপের অনুশীলন করবে ব্রাজিল। তবে ইউরোপে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল এবং দক্ষিণ আমেরিকায় কোপা লিবার্তোদোরেসে গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের ম্যাচ থাকায় খেলোয়াড়েরা এখনই অনুশীলনে যোগ দিচ্ছেন না। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি হিসেবে দুটি প্রীতি ম্যাচও খেলবে ব্রাজিল।

    বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আনচেলত্তির ব্রাজিল
    বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আনচেলত্তির ব্রাজিল, সিবিএফ
     

    মারাকানা স্টেডিয়ামে আগামী রোববার রাতে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে এটাই হবে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচ। এরপর ৬ মার্চ ক্লিভল্যান্ডে মিসরের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচ খেলবে আনচেলত্তির দল।

    যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। ‘সি’ গ্রুপ থেকে ১৩ জুন মরক্বোর মুখোমুখি হয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আনচেলত্তির দল। গ্রুপে ব্রাজিলের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে।

  • বিশ্বকাপ না খেলার ঘটনা থেকে ‘মুভ অন’ করেছে বাংলাদেশ, বললেন লিটন

    সংবাদ সম্মেলনের ঢোকার সময় লিটন দাসের মুখে মুচকি হাসি, ফিরে যাওয়ার সময়ও তা–ই। মাঝে অনেক প্রশ্নের ফাঁকে এল অস্বস্তির সেই প্রসঙ্গটাও—বাংলাদেশ যে সর্বশেষ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেনি, আপনারা কি তা থেকে ‘মুভ অন’ করতে পেরেছেন?

    চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগের সংবাদ সম্মেলনে লিটনের উত্তর, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয়, মুভ অন করেছে। বিশ্বকাপের ওই সময়ে আমরা একটা টুর্নামেন্টও খেলেছি, সেখানে খেলোয়াড়েরা চেষ্টা করেছে ভালো খেলার।’

    নতুন করে তাঁরা ভালো করবেন এই আশাও জানিয়েছেন অধিনায়ক, ‘এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ, প্রতিটি ম্যাচই প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, তারা ওভাবে চিন্তা করবে এবং বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য যা যা করণীয়, যে জেতার মানসিকতা দরকার, সেটা নিয়ে মাঠে নামবে।’

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দুই বছরের জন্য অধিনায়ক ছিলেন লিটন। এবারও দুই বছরের জন্য দায়িত্বটা এসেছে তাঁর কাঁধেই।

    সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস
    সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাসশামসুল হক

    সর্বশেষ বিশ্বকাপটা হয়েছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। সেটিকে কেন্দ্র করেই দল গড়েছিলেন লিটন। ২০২৮ সালের বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। সেটির জন্যই এখন থেকে থেকে দল গোছানোর লক্ষ্য তাঁর, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপ, আমরা জানি, এটি এশিয়ায় হবে না। ওভাবে চিন্তাভাবনা করব। আর অবশ্যই যেহেতু আমাদের একটা বন্ডিং হয়েছিল খুব ভালো, সর্বশেষ বিশ্বকাপের প্রস্তুতটাও খুব ভালো ছিল। চেষ্টা করব ওখান থেকেই যেন এই দলকে ভালো করে ধরে রাখা হয়।’

    প্রথম সিরিজটা লিটন শুরু করছেন একটা চ্যালেঞ্জ দিয়েও। দুই অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নেই তাঁর দলে। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন দুই নতুন মুখ আব্দুল গাফফার ও রিপন মন্ডল।
    দুই নতুন মুখ আব্দুল গাফফার ও রিপন মন্ডল
    দুই নতুন মুখ আব্দুল গাফফার ও রিপন মন্ডল
     

    লিটন জানালেন তাদের দলে নেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতের ভাবনা থেকেই, ‘আমি চাই না যে তারা (তাসকিন ও মোস্তাফিজ) নিয়মিত ক্রিকেট খেলে চোটে পড়ে শেষ হয়ে যাক। কারণ, সামনে ওয়ানডেতে অনেক খেলা আছে, টেস্টও আছে। এসব চিন্তা করেই কিছু জিনিস বদলাচ্ছি।’

  • বিশ্বকাপ প্রস্তুতি আর্জেন্টিনা জিতল, জিতল ব্রাজিলও

    বিশ্বকাপমঞ্চে নামার আগে আজ ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। প্রতিপক্ষও ছিল বিশ্বকাপেরই এক দল—মিসর।

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে হওয়া ম্যাচটিতে আফ্রিকান দলটিকে ২–১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। গোল করেছেন ব্রুনো গিমারেস ও এনদ্রিক।

    অন্যদিকে আজই প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নামে আর্জেন্টিনা। হন্ডুরাসের বিপক্ষে ম্যাচটিতে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা জিতেছে ২–০ গোলে। লাওতারো মার্তিনেজ এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় গোল করেছেন গিলিয়ানো সিমিওনে।

    ব্রাজিলের জয়ের ম্যাচে ওয়েসলির কান্না

    মিসরের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে মাত্র ১৫ মিনিট খেলেই বাঁ কুঁচকির ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রাইটব্যাক ওয়েসলিকে। ম্যাচের পর ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, ২২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    রোমায় খেলা ওয়েসলি এবারই প্রথম বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন। চোটের কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় ডাগআউটে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সে সময় সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফের সদস্যরা তাঁকে সান্ত্বনা দেন।

    খেলা শেষে আনচেলত্তি ওয়েসলির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও স্পষ্ট করেই বলেছেন, জাতীয় দলে ‘তাঁকে প্রতিস্থাপন করার মতো খেলোয়াড় আছে।’

    মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করেছে ব্রাজিল। এর আগে পানামাকে ৬–২ গোলে হারিয়েছিল আনচেলত্তির দল।

    ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লড়াই শুরু হবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ১৯ জুন হাইতি এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

    ম্যাচের পর দর্শকের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের
    ম্যাচের পর দর্শকের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের, এএফপি

    মেসিবিহীন ম্যাচে আর্জেন্টিনার শক্তি পরীক্ষা

    টেক্সাসের কলেজ স্টেশনের কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেননি লিওনেল মেসি। অবশ্য ছোটখাটো অস্বস্তির কারণে তাঁর না খেলার আভাস আগেই ছিল।

    ম্যাচের ৩৭ মিনিটে নিকোলাস তালিয়াফিকো বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনার হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আতলেতিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড জুলিয়ানো সিমিওনে। মার্তিনেজের ব্যাকহিল পাস থেকে গোললাইনের খুব কাছ থেকে বল জালে পাঠান সিমিওনে।

    মেসি পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন
    মেসি পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন,
    এএফপি

    সিমেওনের এই গোলের পরপরই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি দলে চারটি পরিবর্তন আনেন। জিওভান্নি লো সেলসো, থিয়াগো আলমাদা, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও লাওতারো মার্তিনেজের জায়গায় নামানো হয় আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও হোসে লোপেজকে। তবে শেষ দিকে ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ফেলেননি তাঁরা।

    ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। এই গ্রুপের বাকি দুই দল অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। তবে তার আগে ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে স্কালোনির দল।

  • বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নতুন সুবিধা

    বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে নিজেদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একাধিক নতুন সুবিধা যুক্ত করেছে মেটা। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তৈরি সুবিধাগুলোর মাধ্যমে ম্যাচের সর্বশেষ ফলাফল জানা, সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও (আধেয়) কনটেন্ট দেখা যাবে। সুবিধাগুলো পর্যায়ক্রমে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার ও থ্রেডসে ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছে মেটা।

    মেটার তথ্য মতে, বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের পুরো সময় ব্যবহারকারীদের খেলার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রাখতে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান, খেলোয়াড়, জাতীয় দল, ধারাভাষ্যকার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করছে মেটা। এরই ধারাবাহিকতায় ইনস্টাগ্রাম নতুন একটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। বিভাগটিতে রিলস, স্টোরিজ, কনটেন্ট নির্মাতাদের পোস্ট, সম্প্রচারকারীদের হালনাগাদ তথ্য এবং অংশগ্রহণকারী জাতীয় দলগুলোর কনটেন্ট এক জায়গায় দেখা যাবে। ইনস্টাগ্রামের ডিরেক্ট মেসেজেও ‘গোল!’ নামের নতুন ভয়েস ইফেক্ট যুক্ত করা হয়েছে। সুবিধাটি ব্যবহার করে ভয়েস বার্তা পাঠালে চ্যাটে ফুটবলবিষয়ক বিশেষ অ্যানিমেশন দেখা যাবে।

    ফেসবুকে যুক্ত করা হয়েছে ‘ফুটবল মোড’। নিউজ ফিডের ওপর থাকা ফেসবুক লোগোতে দুবার ট্যাপ করলেই ফুটবল মোডটি সক্রিয় হবে। এরপর ব্যবহারকারীরা ফুটবল থিমের বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যবহার করার পাশাপাশি আকারে ছোট ফুটবল গেম খেলতে পারবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ‘ওয়্যার ইট’ সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে ফেসবুকে। সুবিধাটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের জাতীয় দলের জার্সি ভার্চ্যুয়ালি পরে দেখতে পারবেন। তৈরি হওয়া ছবিগুলো প্রোফাইল ছবি, স্টোরি বা সাধারণ প্রকাশনা হিসেবেও শেয়ার করা যাবে।

    মেসেঞ্জারে যুক্ত করা হয়েছে ‘লাইভ আপডেটস’। সুবিধাটির মাধ্যমে গ্রুপ চ্যাটের মধ্যেই গোল, লাল কার্ডসহ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে। এ ছাড়া ফুটবল থিমের চ্যাট ব্যাকগ্রাউন্ড ও অ্যানিমেটেড স্টিকার প্যাকও চালু করা হয়েছে মেসেঞ্জারে।

    হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে ফুটবল থিমের ভিডিও কল ইফেক্ট, নতুন স্টিকার প্যাক এবং একটি বিশেষ ফুটবল ডিরেক্টরি। এই ডিরেক্টরি থেকে ম্যাচের স্কোর, দলসংক্রান্ত তথ্য, টুর্নামেন্টের সর্বশেষ খবর এবং বিভিন্ন অফিশিয়াল চ্যানেলের কনটেন্ট দেখা যাবে।

    থ্রেডসে যুক্ত করা হয়েছে ‘লাইভ চ্যাট’। সুবিধাটি কাজে লাগিয়ে খেলা শুরুর আগে থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাৎক্ষণিক আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। সাবেক ফুটবলার সার্জিও আগুয়েরো ও ইয়ান রাইট এসব লাইভ চ্যাট সেশন আয়োজন করবেন। এ ছাড়া থ্রেডসে ফুটবলকেন্দ্রিক একটি বিশেষ কমিউনিটি চালু করা হয়েছে। সেখানে ম্যাচ–সংক্রান্ত আলোচনা, খেলোয়াড়দের কনটেন্ট ও ম্যাচ–পরবর্তী প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন পোস্ট ও লাইভ চ্যাটের মধ্যেই খেলার ফলাফলের সর্বশেষ তথ্য সরাসরি দেখতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

    নিরাপত্তায় বিশেষ নজর

    বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে অনলাইনে প্রতারণা ও অপব্যবহারের ঝুঁকি সাধারণত বেড়ে যায়। এ কারণে বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্তের ঘোষণা দিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, টিকিট জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, হয়রানি ও অন্যান্য অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন অ্যাপে নিরাপত্তাবিষয়ক সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা প্রদর্শন করা হবে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রতারণা ও অপব্যবহার থেকে নিরাপদে থাকবেন ব্যবহারকারীরা।

    সূত্র: টেকলুসিভ

    আহসান হাবীব

  • বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে ইরান

    বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপ থেকে ইরান তাদের সব ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে দলটির বেজক্যাম্প হবে মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহর। সেখান থেকে নিজেদের প্রতিটি ম্যাচের এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে ইরান ফুটবল দল। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) এই তথ্য নিশ্চিত করে।

    এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদাহর বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানকে ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে হবে এবং ম্যাচ শেষেই ফিরে যেতে হবে।

    কিন্তু হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান দলকে ম্যাচের দিনই আসতে বাধ্য করার বিষয়টি সত্য নয়। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দাবিগুলো সঠিক নয়। প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্পের উদারতায় ইরান দল ম্যাচের এক দিন আগেই ভেন্যুতে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে।’

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ
    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ, ফিফা
     

    ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র আমির মেহদি আলাভি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ফিফার নিয়ম মেনেই পুরো দল একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে যুক্তরাষ্ট্রে যাবে।’ তাঁর এই বিবৃতি প্রকাশ করে ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ। আলাভি আরও বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের এক দিন আগে দল ভেন্যু শহরে পৌঁছাবে। তবে পরের দুটি ম্যাচের ক্ষেত্রে আমরা দুই দিন আগেই ভেন্যুতে চলে যাব।’

    গত সোমবার তিজুয়ানায় দোভাষীর মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি রাষ্ট্রদূত ফেডারেশনের কিছু কর্মকর্তার ভিসা বাতিলের তীব্র সমালোচনা করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যাঁদের ভিসা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের রাতে থাকার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি বলেন, ‘তাঁদের ভিসায় এমন কোনো শর্ত নেই যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দেশ ছাড়তে হবে।’

    কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গত শুক্রবার, অর্থাৎ ইরানের প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে তাঁদের সব ফুটবলারকে ভিসা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

    ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের তথ্যমতে, দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এখনো ভিসা পাননি। মেক্সিকোতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা না পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন দলের ম্যানেজার, দুজন বিশ্লেষক, মিডিয়া পরিচালক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি।

    তিহুয়ানায় ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে ইরানের এক সমর্থক। এই হোটেলেই উঠেছে ইরান ফুটবল দল
    তিহুয়ানায় ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে ইরানের এক সমর্থক। এই হোটেলেই উঠেছে ইরান ফুটবল দলএএফপি

    বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইরান। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়াম ও ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে তারা। বিশ্বকাপে ইরানের ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বেজক্যাম্প করার কথা ছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়।

    এর আগে গত মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে কোনো আপত্তি নেই। তবে ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে’ ইরানি দলের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করাটা সমীচীন হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

  • বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রে দিনে গিয়ে দিনে ফিরতে হবে ইরান দলকে

    অনেক জল ঘোলার পর শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ভিসা পেয়েছে ইরান, কিন্তু এবার যোগ হয়েছে নতুন এক ভোগান্তি। যে ভিসায় ইরানের ফুটবলাররা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন, সেটার মেয়াদ মাত্র এক দিন। তার মানে যেদিন ম্যাচ খেলার জন্য ইরানের ফুটবলাররা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকবেন, সেদিনই তাঁদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিলেও খেলোয়াড়েরাই শুধু পেয়েছেন, পাননি ১৫ জন কর্মকর্তা। অবশ্য ইরানের বেজক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় হওয়ার কথা থাকলেও পরে তারা সেটা সরিয়ে নিয়েছে মেক্সিকোতে।

    কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি। রোববার মেক্সিকোতে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, আগের ভিসার নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ম্যাচের এক দিন আগে এবং অন্য ম্যাচগুলোর দুই দিন আগে ইরানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু পরে ভিসা দেওয়া হয়েছে কেবল এক দিনের জন্য।

    অবশ্য আগের নিয়ম নিয়েই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর এক ভিডিও বার্তায় দেশটির ফুটবল প্রধান মেহদি তাজ নিজের ক্ষোভটা গোপন করেননি, ‘বিশ্বের আর কোথায় কোনো জাতীয় দল ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে প্রবেশের অনুমতি পায়?’ এই পুরো প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, পক্ষপাত, প্রস্তুতির অভাব ও বৈষম্যের দিকে আঙুল তুলেছেন তাজ।

    মেক্সিকোতে ইরান দলকে স্বাগত জানাচ্ছে সমর্থকেরা
    মেক্সিকোতে ইরান দলকে স্বাগত জানাচ্ছে সমর্থকেরা, এএফপি
     

    এখন পর্যন্ত ফিফা ও যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানায়নি।
    এবারের বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে।

    বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরান প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্য দুটি ম্যাচ ২১ জুন বেলজিয়াম আর ২৬ জুন মিসরের বিপক্ষে। রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় ইরান দল পৌঁছেছে মেক্সিকোতে।

  • বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬: কোথায় থাকবে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও স্পেন

    ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে এই ফুটবল উৎসবে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। ভেন্যুও ছড়িয়ে আছে তিন দেশের বিশাল মানচিত্রজুড়ে। স্বাভাবিকভাবেই এই বিশাল যজ্ঞে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার নাম ‘লজিস্টিকস’। বিশেষ করে টুর্নামেন্ট চলাকালে ঘাঁটি বা ‘বেস ক্যাম্প’ কোথায় করা হবে, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করতে হচ্ছে দলগুলোকে।

    সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গাটি নিজেদের দখলে নিতে ফিফার কাছে দৌড়ঝাঁপ করছে দলগুলো। যদিও এখনো সব দলের ‘বেস ক্যাম্প’ চূড়ান্ত হয়নি, তবে অনেক বড় দলই এরই মধ্যে ঠিকানা ঠিক করে ফেলেছে।

    ‘বেস ক্যাম্প’ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলগুলো অনেক কিছু মাথায় রাখে। হোটেলের মান, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা, অনুশীলন ভেন্যুতে যাতায়াতের সহজ পথ থেকে শুরু করে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা—সবকিছুই হতে হয় নিখুঁত।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত কোন দেশগুলো তাদের ‘বেস ক্যাম্প’ চূড়ান্ত করেছে, তা জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক।

    ক্রোয়েশিয়া: আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া

    ক্রোয়েশিয়া তাদের আস্তানা গাড়ছে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আলেকজান্দ্রিয়ায়। তাদের থাকার জন্য ঠিক করা হয়েছে শহরের একটি বিলাসবহুল হোটেল। আর অনুশীলনের জন্য তারা বেছে নিয়েছে শহরের এপিসকোপাল হাইস্কুলকে। দলটির কোচ জ্লাতকো দালিচ জানিয়েছেন, অনুশীলনের সুযোগ, হোটেল এবং যাতায়াতের সুবিধা—সবকিছুর বিচারে আলেকজান্দ্রিয়াই তাদের জন্য সেরা।

    এই মাঠে অনুশীলন করবে ক্রোয়েশিয়া
    এই মাঠে অনুশীলন করবে ক্রোয়েশিয়াফিফা

    জার্মানি: উইনস্টন-সালেম, নর্থ ক্যারোলাইনা

    জার্মানরা ডেরা বাঁধছে নর্থ ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সালেমে। ওয়েইক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটি হবে তাদের মূল কেন্দ্র। এই ইউনিভার্সিটির ফুটবল–ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। ২০০৭ সালে তারা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল এবং ছয়বার সেমিফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। জার্মান ফুটবলাররা থাকবেন ‘গ্রেইলিন এস্টেট’-এ।

    স্পেন: চ্যাটানুগা, টেনেসি

    সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন বেছে নিয়েছে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের চ্যাটানুগা শহরকে। টেনেসি নদীর তীরে ১ লাখ ৯০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট শহরের এম্বেসি সুইটস হোটেলে থাকবে স্প্যানিশরা। আর তাদের প্র্যাকটিস চলবে বেলর স্কুলে। গত ক্লাব বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সিটি দলটিও এখানেই অনুশীলন করেছিল।

    ইয়ামালদের বেস ক্যাম্প টেনেসির চ্যাটানুগায়
    ইয়ামালদের বেস ক্যাম্প টেনেসির চ্যাটানুগায়এএফপি

    উরুগুয়ে: প্লেয়া দেল কারমেন, মেক্সিকো

    বিশ্বকাপের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ বেস ক্যাম্পটি সম্ভবত হতে যাচ্ছে উরুগুয়ের। পর্যটকদের স্বপ্নের গন্তব্য মেক্সিকোর প্লেয়া দেল কারমেনে থাকবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সাদা বালু আর নীল সমুদ্রের এই পর্যটনকেন্দ্রে অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন দারুণ, তেমনি এখান থেকে অন্য ভেন্যুতে যাওয়ার সময়ও কম লাগবে।

    ব্রাজিল: মরিসটাউন, নিউজার্সি

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেছে নিয়েছে একদম ঝকঝকে নতুন এক স্থাপনাকে। এমএলএস দল নিউইয়র্ক রেড বুলসের নতুন ঘাঁটি ‘রেড বুল পারফরম্যান্স সেন্টার’-এ (বিশ্বকাপের সময় যার নাম হবে কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি) অনুশীলন করবে সেলেসাওরা। নিউইয়র্ক সিটি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরের এই সেন্টারে ৮টি পূর্ণ মাপের ফুটবল মাঠ রয়েছে।

    ব্রাজিল এবার ঘাঁটি গাড়ছে নিউইয়র্কে
    ব্রাজিল এবার ঘাঁটি গাড়ছে নিউইয়র্কেছবি: রয়টার্স

    ফ্রান্স: বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস

    ২০২২ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স আস্তানা গাড়ছে ঐতিহাসিক বোস্টন শহরে। দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা থাকবেন ফোর সিজনস হোটেলে। আর বাবলসন কলেজের মাঠে চলবে তাঁদের অনুশীলন। ফ্রান্স তাদের গ্রুপের শেষ ম্যাচটি খেলবে নরওয়ের বিপক্ষে, জিলেট স্টেডিয়ামে।

    আর্জেন্টিনা: কানসাস সিটি, মিসৌরি

    মেসিরা আস্তানা বানাবেন কানসাস সিটিতে
    মেসিরা আস্তানা বানাবেন কানসাস সিটিতে, এএফপি
     

    বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আস্তানা গড়ছে কানসাস সিটিতে। তারা এমএলএস দল স্পোর্টিং কেসির প্র্যাকটিস মাঠ ব্যবহার করবে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, দূরত্বের কথা চিন্তা করলে কানসাস সিটিই টুর্নামেন্টে তাদের জন্য সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে কানসাস সিটি চিফস-এর অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে।

  • বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী আয়োজনে কেটি পেরি, লিসার সঙ্গে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশের সঞ্জয়

    যৌথভাবে এবার ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ফিফা এবার আয়োজক তিন দেশেই আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৪ জুলাই হিউস্টন ও ফিলাডেলফিয়ায় বিশেষ আয়োজনও থাকবে। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর আগে পারফর্ম করার জন্য বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ফিফা।

    বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়
    বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়, ছবি: ফেসবুক
     

    ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের পার্শ্ববর্তী সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি, ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসা। তাঁদের সঙ্গে এদিন পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়।

    খবরটি নিশ্চিত করে সঞ্জয় বলেন, ‘জীবনে এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখা থেকে আজ সেই মঞ্চের অংশ হওয়া—অবিশ্বাস্য অনুভূতি। একজন অভিবাসী সন্তান হিসেবে নিজের ঘরের স্টুডিও থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছানো সত্যিই বিশেষ কিছু।’
    সঞ্জয় আরও বলেন, ‘এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি সেই সব তরুণের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা দুই ভিন্ন সংস্কৃতির ভেতর বড় হয়েছে এবং বিশ্বাস করেছে যে তাদের কণ্ঠস্বর অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’

    সঞ্জয় ইতিমধ্যে তাঁর কাজ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস তাঁকে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত দক্ষিণ এশীয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    কেটি পেরি
    কেটি পেরি, রয়টার্স
     

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই দিনে মাঠে নামছে কানাডা। টরন্টোয় প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে তাদের ম্যাচে পারফর্ম করবেন কানাডীয় শিল্পী মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট ও আলেসিয়া কারা।

    ১১ জুন অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের মূল পর্ব। ওই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবে মেক্সিকান রক ব্যান্ড মানা, পপ তারকা আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ ও গায়িকা বেলিন্দা। দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা-গীতিকার টাইলাও থাকবেন এই আয়োজনে।

    বিভিন্ন উদ্বোধনী আয়োজনে ভাগ হয়ে পারফর্ম করবেন আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক শিল্পী। তাঁদের মধ্যে আছেন কলম্বিয়ার জে বালভিন, ব্রাজিলের আনিত্তা, ভেনেজুয়েলার ড্যানি ওশান, ফিলিস্তিনি-চিলিয়ান শিল্পী এলিয়ান্না এবং ফ্রান্সের ভেজেড্রিম।

    দর্শকদের আগেভাগে স্টেডিয়ামে আনতে ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু করার পরিকল্পনা করেছে ফিফা। মেক্সিকোর অনুষ্ঠান চলবে ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড, আর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনুষ্ঠান হবে ১৩ মিনিট করে।

  • বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল : দলীয় শক্তিতে কে কোথায় সেরা

    ঢাকা

  • বিশ্বকাপে এমবাপ্পে-রাশফোর্ডদের বুটে নকশা করে আলোচনায় জর্ডান

    বিশ্বসেরা অ্যাথলেটদের জন্য জুতায় বিশেষভাবে নকশা তৈরি করে আলোচনায় ব্রিটিশ শিল্পী জর্ডান ডসন। নিজের শোবার ঘরে বসে শুরু করা ছোট্ট উদ্যোগই তাকে পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের কাছে।

    লন্ডনের এক পাব-এ বসে সিএনএনকে নিজের কাজ দেখাচ্ছিলেন ৩১ বছর বয়সী ডসন। ব্যাগ থেকে বের করলেন একজোড়া ফুটবল বুট। বললেন, 'এগুলো ঘানার প্লেয়ার আন্তোয়ান সেমেনিওর জন্য। বিশ্বকাপে এগুলো পরবেন তিনি।'

    সাধারণ সাদা বুটকে রঙ, নকশা আর ব্যক্তিগত গল্পে ভরিয়ে তোলাই ডসনের বিশেষত্ব। তার ডিজাইন করা বুট ব্যবহার করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, মার্কাস রাশফোর্ড, এনজো ফার্নান্দেজ ও জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার মতো তারকা ফুটবলাররা।

    শৈশব থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি ঝোঁক ছিল ডসনের। স্কুলজীবনে শিল্পকলায় সময় কাটাতেন বেশি। পরে লন্ডনের চেলসি কলেজ অব আর্টসে ফাইন আর্ট নিয়ে পড়াশোনা করেন। তবে সেই ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি কাজ পাওয়া সহজ ছিল না।

    জীবিকা চালাতে লন্ডনের একটি নাইকি স্টোরে চাকরি নেন তিনি। সেখান থেকেই বাড়িতে নিয়ে আসা অতিরিক্ত জুতাকে ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। ধীরে ধীরে জুতা আর শিল্প—দুই ভালোবাসাকে একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করেন নিজস্ব স্টাইল।

    শুরুর দিকে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে কাজের প্রস্তাব দিয়েও সাড়া পাননি। তবে ২০১৮ সালে, নাইকির একটি ক্যাম্পেইনে কাজের সুযোগ পেয়ে ভাগ্য বদলে যায় তার।

    এক ব্র্যান্ড ইভেন্টে পরিচয় হয় ইংল্যান্ড ফুটবলার ডেকলান রাইসের সঙ্গে। রাইসের জন্য বিশেষ বুট ডিজাইন করার পর থেকেই একে একে আরও ফুটবলারের সঙ্গে কাজের সুযোগ আসে।

    ডসন জানান, তিনি শুধু নাম বা পতাকার ডিজাইন করেন না। বরং প্রতিটি খেলোয়াড়ের ব্যক্তিত্ব ও গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করেন বুটের নকশায়।

    বর্তমানে ফুটবলের বাইরে এনবিএ, এনএফএল ও ফর্মুলা ওয়ানের তারকাদের সঙ্গেও কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন এই শিল্পী। এরই মধ্যে রেড বুলের একটি ফর্মুলা ওয়ান গাড়ির জন্যও ডিজাইন করেছেন তিনি।

    ডসনের ভাষায়, 'আমি সবসময় বড় স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। প্রতিটি খেলাধুলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের তারকাদের জন্য কাজ করতে চাই।'

     

  • বিশ্বকাপে কুরাসাওকে ‘সেভেন আপ’ খাইয়ে বরণ জার্মানির

    বিশ্বকাপের এই এক মজা! ৪৮ দল হওয়ায় সম্ভাবনাটা আরও বেড়েছে। কুরাসাও প্রমাণ করল সেটাই।

    ২০২৩ সালের মার্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল কুরাসাও। সেই ম্যাচের আগে ক্যারিবিয়ান এই দ্বীপ দেশটির নাম জানতেন না অনেকেই। জনসংখ্যায় বিশ্বকাপের ইতিহাসেই ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এবারের টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেওয়ার পর তাদের পরিচিতিটা আরেকটু বেড়েছে। কিন্তু হিউস্টনে আজ রাতে যা ঘটল, তাতে কুরাসাওকে আসলে ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।

    কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ অভিষেকে ৭ গোল করে ছোট্ট দ্বীপ দেশটিকে আরও ভালোভাবে মনে রাখার সুযোগ করে দিল জার্মানি।

    কুরাসাওকে তাই অন্তত জার্মানদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। হিউস্টন স্টেডিয়ামে কয়েক হাজার ‘ব্লু ওয়েভ’ সমর্থক এবং দলটির বাইরে দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান সাগরের এক চিলতে ভুখন্ডে এক লাখের কিছু বেশি কুরাসাওবাসীরাও এই ম্যাচকে মনে রাখবেন জনম জনম!

    মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার একটি দেশ। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই যেখানে তাঁদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উৎসব, সেখানে একটা গোল কী করতে পারে! সেটাও যদি হয় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির জালে! কাই হাভার্টজদের সাত গোলও যেটা করতে পারেনি, কুরাসাওয়ের লিভানো কোমেনেনসিয়া সেটা করতে পেরেছেন মাত্র এক গোলেই। তেমন কিছু না আসলে, আজ থেকে ১০০ বছর পরও যখন কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপে খেলার প্রসঙ্গে উঠবে, গল্প হবে প্রথম গোলটি করেছেন কে—তখন কোমেননসিয়ার নামটা উচ্চারিত হবে। অমরত্ব আর কি!

    অনেকের মতেই, হিউস্টনের এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম ‘মিস–ম্যাচ’—অর্থাৎ দুই দলের শক্তির ব্যবধানে বড় বেশি অসমতা। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম জার্মানির সঙ্গে ৭২ ধাপের ব্যবধানে পিছিয়ে কুরাসাও—যেটা ২০১০ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়া–আইভরিকোস্ট ম্যাচের পর সবচেয়ে বড় ব্যবধান। এমন ম্যাচে জার্মানি কী করতে পারে, সেটা তো ২০০২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জালে তাঁদের ৮ গোলেই পরিস্কার। ইউলিয়ান নাগলসমানের দলটিও কুরাসাওকে ৭–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে একটি বার্তা দিয়েছে, যেটা পঞ্চম গোলের পর থেকেই বলছিলেন ধারাভাষ্যকার, ‘জার্মানি নিজেদের ফিরে পেয়েছে!’

    খবরটা বিশ্বকাপে বাকি দলগুলোকে খুশি করবে না, তা নিশ্চিত।

    জার্মানি আসলে কুরাসাওয়ের স্পর্ধার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার পথে দলটিকে গুরুত্বপূর্ণ এক পাঠও দিয়েছে। বিশ্বকাপে ছোট দল বলে তিল পরিমাণ ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। তা না হলে ২১ মিনিটে কুরাসাও সমতায় ফেরার পর জার্মানি কেন গুণে গুণে আরও ছয় গোল করবে। কারও কারও হয়তো ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালও মনে পড়েছে। সেবার জার্মানির প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিল, এবার কুরাসাও। কিন্তু স্কোরলাইন একই। বাংলাদেশে অনেক ফুটবল সমর্থকের ভাষায় , ‘সেভেন আপ।’

  • বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস চ্যাম্পিয়ন, পর্তুগালের কাছে হারবে আর্জেন্টিনা

    ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির সব ম্যাচের ফল সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে আলোচনায় আসে পল নামের অক্টোপাস। তখন তাকে বিশ্বজুড়ে একধরনের ‘অলৌকিক ভবিষ্যদ্বক্তা’ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

    এরপর জার্মান অর্থনীতিবিদ ইয়াকিম ক্লেমেন্ট একটি জটিল পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস মডেল তৈরি করেন। ২০১৪ সাল থেকে তাঁর এই মডেল বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল সঠিকভাবে অনুমান করে আসছে। এই মডেল অনুযায়ী, জুলাইয়ে বিশ্বকাপ জিততে যাচ্ছে ভার্জিল ফন ডাইক-কোডি গাকপোদের নিয়ে গড়া নেদারল্যান্ডস দল।

    শুধু জয়ী দল নয়, এই মডেল পুরো ৪৮ দলের টুর্নামেন্টের চিত্রও বিশ্লেষণ করে। এতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলকে হারাতে পারে জাপান এবং একই পর্যায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বাদ পড়তে পারে স্কটল্যান্ড। এ ধরনের নানা সম্ভাব্য ফলও এতে দেখানো হয়েছে।

    এই মডেল অনুযায়ী ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। তবে ২০০৬ সালের পর আবারও তাদের পথ আটকে দিতে পারে পর্তুগাল। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফাইনাল হতে যাচ্ছে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে। তবে এই মডেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বানী হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের আর্জেন্টিনার হেরে যাওয়া।

    জার্মান অর্থনীতিবিদ ক্লেমেন্ট নিজেকে একজন ‘নৈরাশ্যবাদী’ বলে মনে করেন এবং ১০ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তাঁর মতে, এই গবেষণার উদ্দেশ্য কখনোই কাউকে নির্দিষ্ট ফল জানিয়ে দেওয়া বা বাজিতে জেতার উপায় বের করা ছিল না। বরং তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন, ফলাফল আগেভাগে অনুমান করার চেষ্টা কতটা হাস্যকর হতে পারে।

    ক্লেমেন্ট বলেন, ‘এটা শুরু হয়েছিল অর্থনীতিবিদদের সেই অহংকার দেখানোর জন্য, যাঁরা মনে করেন, তাঁরা এমন বিষয়ও ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন, যেগুলো সম্পর্কে তাঁদের আসলে কোনো ধারণাই নেই।’

    ভবিষ্যদ্বানী মতে মেসিকে হারাবেন রোনালদো
    ভবিষ্যদ্বানী মতে মেসিকে হারাবেন রোনালদোগ্রাফিকস: প্রথম আলো

    ক্লেমেন্ট আরও যোগ করেন, ‘আর এখন এটা এমন অবস্থায় এসেছে, যেখানে কেউ যদি ভাগ্যগুণে বারবার ঠিক হয়ে যায়, মানুষ তাকে একজন “গুরু” ভাবতে শুরু করে।’ নিজের প্রথম পূর্বাভাস ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির জয় দিয়ে সত্যি হলেও তিনি ভেবেছিলেন, ২০১৮ সালে আবার হিসাব করলে সেটি হয়তো ভুল প্রমাণিত হবে এবং আগেরটা কেবলই একটি আকস্মিক ঘটনা হিসেবে ধরা পড়বে।

    কিন্তু বাস্তবে তাঁর পূর্বাভাস ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও সঠিক হয়। তিনি বলেন, ‘আমি পরপর তিনবার ঠিক হওয়ার কারণে এখন মানুষ মনে করে এই মডেলকে হারানো সম্ভব নয়, আর পরেরবারও আমাকে অবশ্যই ঠিক হতে হবে।’

    তবে সত্য হলো, বিশ্বকাপে সাফল্য কিছু ‘সিস্টেমিক’ বা কাঠামোগত কারণের ওপর আংশিকভাবে নির্ভর করে—যেমন দেশের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক শক্তি, আবহাওয়া এবং ফিফা র‍্যাঙ্কিং। তবু ক্লেমেন্ট পাঠকদের সতর্ক করে বলেন, তাঁর প্রতি চার বছর পরপর প্রকাশিত এই পূর্বাভাসকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে না দেখাই ভালো। কারণ, এসব উপাদান শুধু ফলাফলের একটি অংশ ব্যাখ্যা করতে পারে, পুরো চিত্র নয়।

    ক্লেমেন্ট আরও যোগ করেন, ‘আর এখন এটা এমন অবস্থায় এসেছে, যেখানে কেউ যদি ভাগ্যগুণে বারবার ঠিক হয়ে যায়, মানুষ তাকে একজন “গুরু” ভাবতে শুরু করে।’ নিজের প্রথম পূর্বাভাস ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির জয় দিয়ে সত্যি হলেও তিনি ভেবেছিলেন, ২০১৮ সালে আবার হিসাব করলে সেটি হয়তো ভুল প্রমাণিত হবে এবং আগেরটা কেবলই একটি আকস্মিক ঘটনা হিসেবে ধরা পড়বে।

    কিন্তু বাস্তবে তাঁর পূর্বাভাস ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও সঠিক হয়। তিনি বলেন, ‘আমি পরপর তিনবার ঠিক হওয়ার কারণে এখন মানুষ মনে করে এই মডেলকে হারানো সম্ভব নয়, আর পরেরবারও আমাকে অবশ্যই ঠিক হতে হবে।’

    জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল
    জাপানের কাছে হারবে ব্রাজিল, রয়টার্স
     

    তবে সত্য হলো, বিশ্বকাপে সাফল্য কিছু ‘সিস্টেমিক’ বা কাঠামোগত কারণের ওপর আংশিকভাবে নির্ভর করে—যেমন দেশের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক শক্তি, আবহাওয়া এবং ফিফা র‍্যাঙ্কিং। তবু ক্লেমেন্ট পাঠকদের সতর্ক করে বলেন, তাঁর প্রতি চার বছর পরপর প্রকাশিত এই পূর্বাভাসকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে না দেখাই ভালো। কারণ, এসব উপাদান শুধু ফলাফলের একটি অংশ ব্যাখ্যা করতে পারে, পুরো চিত্র নয়।

    ক্লেমেন্টের মতে, এখানে ‘বাকি ৫০ শতাংশ হলো ভাগ্য’। বিশেষ করে যখন সমান শক্তির দুটি দল মুখোমুখি হয়, তখন ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে সেদিনের ফর্ম, রেফারির একটি সিদ্ধান্ত বা ভাগ্যের ছোট কোনো ঘটনায়। যেমন, বল পোস্টে লেগে ফিরে আসবে নাকি গোল হবে—এ ধরনের বিষয়গুলোই অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। ফলে এসব ঘটনা পুরোপুরি অনিশ্চিত এবং আগে থেকে অনুমান করা প্রায় অসম্ভব।

    প্রতিবার বিশ্বকাপ সামনে এলে ক্লেমেন্টের এই মডেল তাঁর দৈনন্দিন কাজের বাইরে একধরনের স্বস্তি ও বিনোদনের জায়গা হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালে যখন বিশ্বজুড়ে এত সংকট চলছে, যুদ্ধসহ নানা অস্থিরতা চলছে, তখন এটা আমাকে ভালো অনুভূতি দিয়েছে। আশা করি, পাঠকেরাও এটা উপভোগ করবেন এবং বিশ্বের নানা দুঃসংবাদ থেকে কিছুটা হলেও মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারবেন।’

    তবে প্রতিটি সঠিক পূর্বাভাসের পর ক্লেমেন্টের ওপর প্রত্যাশার চাপও বাড়তে থাকে। তিনি এখন বিনিয়োগ ব্যাংক প্যানমুর লাইবেরামে কৌশলবিদ (স্ট্র্যাটেজিস্ট) হিসেবে কাজ করেন। অফিসে সহকর্মী অর্থনীতিবিদেরা প্রায়ই তাঁকে নানা প্রশ্ন করেন। যেমন নেদারল্যান্ডসের টটেনহাম মিডফিল্ডার জাভি সিমন্সের এসিএল ইনজুরি কীভাবে তাঁর মডেলে প্রভাব ফেলবে?

    চূড়ান্ত পর্যায়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে সব ধরনের সতর্কতা ও ব্যাখ্যা সত্ত্বেও প্রস্তুত আছেন ক্লেমেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমার কয়েকজন সহকর্মী আমার সেই নোট দেখে নেদারল্যান্ডসের ওপর বাজি ধরেছেন। আর নেদারল্যান্ডস যদি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যায়, তাহলে পরের দিন আমাকে সম্ভবত বাসা থেকে কাজ করতে হবে।’

  • বিশ্বকাপে ফুটবলাররা কী করতে পারবেন, আর কী পারবেন না

    বিশ্বকাপ ফুটবল মানে তো শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই নয়, এর বাইরেও জড়িয়ে থাকে হাজারো নিয়মকানুন। ফিফা, আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি), বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থার (ওয়াদা) কড়া নজরদারিতে থাকতে হয় ফুটবলারদের।

    চলুন দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বকাপে মাঠ ও মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের ঠিক কী কী করার স্বাধীনতা আছে, আর কোন কোন জায়গায় রয়েছে কঠোর ‘লক্ষণরেখা’।
    এই নিয়মকানুনের বেশির ভাগই অবশ্য ফুটবলের মৌলিক বিধিনিষেধ হিসেবে সব সময়ই কার্যকর।

    জার্সি খোলা বারণ

    গোল করে আনন্দে মেতে ওঠার চিরায়ত দৃশ্য এটি। কিন্তু আবেগের বশে জার্সি খুললেই সর্বনাশ, রেফারি পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করতে দ্বিধা করবেন না।

    সীমাছাড়া উদ্‌যাপন

    গোলের পর সতীর্থদের নিয়ে উল্লাস করাই যায়। তবে সময় নষ্ট করা বা গ্যালারির দর্শকদের উসকানি দেওয়ার মতো অতি উদ্‌যাপন দেখলে ফিফা কড়া শাস্তি দিতে পারে।
    গোল করার পর এমনকিছু করলেন হলুদ কার্ড দেখতে হবে
    গোল করার পর এমনকিছু করলেন হলুদ কার্ড দেখতে হবেছবি: রয়টার্স

    গয়নাগাটি নিষিদ্ধ

    মাঠে কোনো রকম গয়না পরা চলবে না। আংটি, গলার চেইন কিংবা ব্রেসলেটকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে ফিফা।

    সুরক্ষাকবচে সবুজ সংকেত

    খেলোয়াড়েরা চাইলে সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন ব্যান্ডেজ, ফেস মাস্ক বা গার্ড ব্যবহার করতে পারেন। তবে মাঠে নামার আগে দলীয় চিকিৎসক ও রেফারির অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

    গোপন বার্তা নয়

    ভেতরের গেঞ্জি বা অন্য কোনো পোশাকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত কোনো বার্তা প্রদর্শন করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে অপেক্ষা করছে বড় শাস্তি।

    রেফারির সঙ্গে কথা

    ম্যাচ চলাকালীন রেফারির সঙ্গে কথা বলা অপরাধ নয়। তবে সেই আলাপচারিতায় আক্রমণাত্মক মনোভাব, ভয় দেখানো বা গালিগালাজ থাকলে হলুদ কিংবা লাল কার্ড নিশ্চিত।
    ফাউলের শিকারের অভিনয় করলেন দেখতে হবে হলুদ কার্ড
    ফাউলের শিকারের অভিনয় করলেন দেখতে হবে হলুদ কার্ডছবি: রয়টার্স

    ডাইভিংয়ের শাস্তি

    ফাউলের শিকার হওয়ার ভান করা বা মাঠে অযথা ডাইভ দেওয়া দর্শকও পছন্দ করে না। অভিনয় করে রেফারিকে ঠকাতে গেলে উল্টো হলুদ কার্ড খেতে হবে।

    হলুদ কার্ডের বোঝা

    আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলেই বিপদ। নিয়ম অনুযায়ী, পরের ম্যাচটিতে ওই খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে দর্শকের সারিতে বসে থাকতে হবে।

    লাল কার্ডের নিয়ম

    লাল কার্ড দেখার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়তে হবে। এই নির্দেশের পরও যদি কেউ মাঠে থাকতে গড়িমসি করেন, তবে তাঁর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

    ডোপ টেস্টের কড়াকড়ি

    বিশ্বকাপজুড়ে চলে ডোপবিরোধী কঠোর নজরদারি। ম্যাচ শেষে, অনুশীলনে, এমনকি টিম হোটেলেও যেকোনো খেলোয়াড়কে আচমকা ডোপ টেস্টের জন্য ডেকে নেওয়া হতে পারে।

    পরীক্ষায় ‘না’ বলা যাবে না

    ফিফা এবং ‘ওয়াডা’র নিয়ম অনুযায়ী, ডোপ টেস্টে অস্বীকৃতি জানানো বা নমুনায় কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই। এমনটা করলে ক্যারিয়ারে নেমে আসতে পারে বড় নিষেধাজ্ঞা।

    সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার

    বিশ্বকাপ চলাকালীন ফুটবলাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন। তবে অনেক দলই তাদের খেলোয়াড়দের অনলাইনের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখে।
    অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না
    অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন এড়িয়ে যাওয়া যাবে নাএএফপি

    আপত্তিকর পোস্ট নিষিদ্ধ

    ইন্টারনেটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ধরনের আপত্তিকর, বর্ণবাদী বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি

    ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খেলোয়াড়েরা সাক্ষাৎকার দিতে পারেন এবং সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। এতে কোনো বাধা নেই।

    মিডিয়া এড়ানোর উপায় নেই

    ফিফার পূর্ব অনুমতি ছাড়া অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। কোনো খেলোয়াড় তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে।

    জার্সি বদল

    ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বদল করা ফুটবলের অন্যতম সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী এক সৌজন্য। পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের এই রীতিতে ফিফার পূর্ণ সম্মতি আছে।

    স্বাধীনতায় লাগাম

    খেলোয়াড়েরা চাইলেই যখন-তখন মনের সুখে ঘুরে বেড়াতে পারবেন না। ক্যাম্প বা হোটেল ছাড়তে হলে কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের আগাম অনুমতি লাগবেই।

    স্পনসর বিতর্ক

    ফিফার অফিশিয়াল অনুষ্ঠান বা ইন্টারভিউতে কোনো অননুমোদিত স্পনসর বা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচার চালানো যাবে না। বাণিজ্যিক নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
     হাঁটু গেড়ে বসে বর্ণবাদ বিরোধী বার্তা দিতে পারবে দলগুলো
    হাঁটু গেড়ে বসে বর্ণবাদ বিরোধী বার্তা দিতে পারবে দলগুলোএএফপি

    মাথার আঘাত

    ম্যাচ চলাকালীন কোনো খেলোয়াড় মাথায় চোট পেলে বা অচেতন হয়ে পড়লে রেফারি কিংবা ডাক্তারদের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে ওই খেলোয়াড় আর খেলতে পারবেন না।

    বর্ণবাদবিরোধী ক্যাম্পেইন

    ফিফার আয়োজনে ম্যাচ শুরুর আগে বর্ণবাদবিরোধী যেকোনো কর্মসূচিতে (যেমন হাঁটু গেড়ে বসা) অংশ নিতে পারবে দলগুলো। তবে তা হতে হবে পূর্ব অনুমোদিত।

    যাতায়াতের নিয়ম

    বিশ্বকাপ চলাকালীন হোটেল, অনুশীলন মাঠ কিংবা স্টেডিয়ামে যাতায়াতের জন্য দলগুলো কেবল ফিফার নির্ধারিত অফিশিয়াল যানবাহনই ব্যবহার করতে পারবে।
  • বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় হার

    ভারতের সবচেয়ে বড় হার

    দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত ১১১ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরেছে ৭৬ রানে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় হার এটি। এত দিন বড় হার ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে।

    ২০২২ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টে হারল ভারত। মাঝে ২২টি ম্যাচ খেলে জিতেছিল ২১টিতে, একটি ছিল বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত।

    ভারত ১১১ রানে অলআউট, দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে জয়ী

    ৮৮ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হারের ব্যবধান কমাতে ব্যাট চালিয়েছিলেন শিবম দুবে। কিছুটা সফলও হয়েছেন। তবে বেশি দূর দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। উনিশতম ওভারের চতুর্থ বলে তিনি আউট হওয়ার পর পঞ্চম বলে বুমরার উইকেটটিও হারিয়েছে ভারত। টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে ভারতের ইনিংসের সমাপ্তি টেনেছেন মার্কো ইয়ানসেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত অলআউট ১১১ রানে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৭৬ রানে।

  • বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে যে ভিডিও কাঁদাল আনচেলত্তিকে

    ফুটবলের সবচেয়ে বড় আয়োজন বিশ্বকাপ শুরু হতে আর ১০ দিনের কম সময় বাকি। এরই মধ্যে অংশগ্রহণকারী দলগুলো একত্র হয়ে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি শুরু করেছে। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও মারাকানায় পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর্ব শেষ করে উড়াল দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে। তবে যাওয়ার আগে আবেগঘন এক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

    রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কোচ ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে যাত্রা শুরুর আগে পান বিশেষ একটি বার্তা। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো প্রকাশিত এক ভিডিওতে আনচেলত্তির নাতি-নাতনিরা তাঁকে বিশ্বকাপের জন্য শুভকামনা জানায়।

    শিশুদের তখন বলতে শোনা যায়, ‘দাদু, বিশ্বকাপে শুভকামনা। আমরা তোমাকে ভালোবাসি।’ বিশ্বকাপের আবদার করে তারা তখন বলে, ‘স্পেন ও ফ্রান্সকে হারাতে হবে। আমাদের জন্য ষষ্ঠ শিরোপাটা ঘরে নিয়ে এসো।’

    নাতি-নাতনিদের এমন ভালোবাসার বার্তা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আনচেলত্তিও। চোখের জলও ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিল কোচ। ভিডিও চলাকালে চোখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। পরে সজল চোখে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, ‘পরিবারের কথা বললে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।’

     

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে নেইমারসহ পুরো দল একসঙ্গে দলীয় ছবি তুলেছেন। সবাই একই রকম জামা পরা এই ছবি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন নেইমার। আর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সবাই একসঙ্গে।’

    ‘সি’ গ্রুপ থেকে ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। ২০ জুন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হাইতি এবং ২৫ জুন শেষ ম্যাচে ব্রাজিল খেলবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। এবার আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।

  • বিশ্বকাপে সবচেয়ে দামি দল কাদের, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল কোথায়

    ফেবারিটদের তালিকায় কিছুটা পিছিয়ে থেকেই বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর বক্তব্যেই বিষয়টি পরিষ্কার, ‘আমরা তুমুল ফেবারিট দল নই।’

    ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষণা করা বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য বিশ্লেষণ করে একই চিত্র উঠে এসেছে। ‘ট্রান্সফাররুম’–এর বিশেষায়িত গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারমূল্যের হিসাবে বিশ্বকাপের দলগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ দামি স্কোয়াড ব্রাজিলের। দলবদলের বাজারে ক্লাব, এজেন্ট ও খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে প্রায় দশ বছর আগে ‘ট্রান্সফাররুম’ নামে প্রযুক্তিটি তৈরি করা হয়।

    এই সমীক্ষায় বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে—খেলোয়াড়ের বয়স, গত মৌসুমের পারফরম্যান্স, পুনর্বিক্রয় মূল্য, ভবিষ্যৎ উন্নতির সম্ভাবনা, চুক্তির বাকি সময় এবং তারা যে ক্লাবে খেলেন সেখানকার লিগের মান।

     

    এসব হিসাব-নিকাশে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স ফুটবল দল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে এবং আরও অনেক তারকার কারণে ফ্রান্সের স্কোয়াড দামে সবার ওপরে। তাদের বাজারমূল্য ১৪৬ কোটি ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার ৮৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

    এরপরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও পর্তুগাল। এই পাঁচটি দেশকে ইউরো মুদ্রার হিসেবে ‘বিলিয়নিয়ার ক্লাব’ হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ তাদের স্কোয়াডের মোট বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। এরপর ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ব্রাজিল।

     
     

    ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার মতো ইউরোপে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়, এনদ্রিক ও রায়ানের মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ এবং নেইমার, দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে ব্রাজিল দলে শক্তিশালী ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।

    ফলে ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ২৬ জন খেলোয়াড়ের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ১০ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।

    দুই বছর আগে ফিফার বর্ষসেরা হওয়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বর্তমানে ব্রাজিলের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবলার। তবে এই সমীক্ষায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে তাঁর অবস্থান দশম। ভিনির আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। তালিকায় শীর্ষ তিনে আছেন যথাক্রমে লামিনে ইয়ামাল, আর্লিং হলান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

     
     

    তবে বাজারমূল্যের এই হিসাবকে সম্ভবত খুব একটা গুরুত্ব দেবেন না ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তাঁর মতে, বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় জাতীয় দলে সেরা পাঁচ খেলোয়াড়দের মধ্যে দুজনই ব্রাজিলের।

    আনচেলত্তির ভাষায়, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে দলে এত প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। জাতীয় দলে থাকা বিশ্বের সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের মধ্যে দুজনই ব্রাজিলিয়ান।... এই দল বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারবে—এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস আছে।’

    একই তালিকায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অবস্থান দেখে কিছুটা খুশি হতে পারে ব্রাজিল ভক্তরা। ৮ নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনার স্কোয়াডের বাজারমূল্য ৭৩ কোটি ৯০ লাখ ইউরো। বেশির ভাগ খেলোয়াড় ইউরোপিয়ান শীর্ষ ক্লাবে না খেলার কারণেই মূল্য তালিকায় লিওনেল মেসিদের এমন পতন দেখা গেছে।

  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কখন, কী কী থাকছে

    ট্রফি একটি, আয়োজকও একটি দেশ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও ছিল একটিই।

    সেই ধারায় ছেদ পড়ল ২০০২ আসরে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেবারই প্রথম আয়োজক দুটি দেশ—জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া; কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধারা পাল্টাল না। শুধু সিউলেই আয়োজিত হলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান; কিন্তু এবার শুধু আয়োজকের সংখ্যাই বাড়েনি, ভেঙে ফেলা হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ধারাও।

    বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। তিনটি দেশেই হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকোয় মেক্সিকো সিটি, কানাডায় টরন্টো ও যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলস। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ত্রি–আলোর ছটায় আলোকিত হবে পৃথিবী, কিন্তু একই সময়ে নয়।

    ‘প্রাসাদের নগরী’ মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা। ২০১০ বিশ্বকাপের মতো এ ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এবারও বিশ্বকাপে প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।

    কানাডায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল রাতে। টরন্টোর টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় স্বাগতিক হয়ে কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। এই ম্যাচ দিয়েই কানাডায় পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের এবং তার আগে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

    যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে আগামীকাল রাত কাবার করে ভোর পর্যন্ত জেগে থাকতে হবে কিংবা ভোরে উঠতে হবে। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা। তার আগে ভোর সাড়ে পাঁচটায় সেখানে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

    বিশ্বকাপের জন্য সংস্কার করা হয়েছে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়াম
    বিশ্বকাপের জন্য সংস্কার করা হয়েছে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়াম, এএফপি
     

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে দুই দশক আগেও তেমন সাড়া ছিল না। ২০১০ বিশ্বকাপে শাকিরা ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গেয়ে অমরত্ব আদায় করে নেওয়ার পর থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। যদিও ’৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ডায়ানা রসের পেনাল্টি কিক বেশ সাড়া ফেলেছিল; কিন্তু কলম্বিয়ান সুরের পাখি শাকিরা ১৬ বছর আগের আসরে উদ্বোধনীতে যে মাদকতা উপহার দিয়েছিলেন, সেই মোহ আজও অনেকের ভাঙেনি।

    সেসব মোহগ্রস্ত ফুটবলপ্রেমীর জন্য সুখবর—শাকিরা এবারও আছেন। সে প্রসঙ্গে পরে আসা যাবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আলাদা তিনটি শহরে হলেও ভাবনাটা এক ও অভিন্ন। আয়োজক তিনটি দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরাই লক্ষ্য। মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেমন আদিবাসী শিল্পী, লোকজ পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী কাগজের শিল্প ‘পাপেল পিকাডো’র মাধ্যমে মেক্সিকোর সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা হবে। সেখানে এবার বিশ্বকাপে অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ (লেটস গো) গাইবেন শাকিরা, সঙ্গে থাকবেন নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়।

    পাশাপাশি এবার বিশ্বকাপে অফিশিয়াল অ্যালবামে থাকা শিল্পীদের এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার কথা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস এবং মানা। দক্ষিণ আফ্রিকান গায়ক ও গীতিকার টাইলাও মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সে জন্য প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছে মেক্সিকো সিটি। বিশ্বকাপ শুরুর দিনে ছুটি দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা এবং সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মেক্সিকোর প্রধানমন্ত্রী ক্লদিয়া শেনবাউম।

    নোরা ফাতেহি। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
    নোরা ফাতেহি। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্থায়িত্ব হতে পারে ১৬ থেকে ১৭ মিনিট। টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে সেটি ১৩ মিনিট স্থায়ী হতে পারে। টরন্টো স্টেডিয়ামে একটি ক্ষণগণনা দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। কানাডার বিভিন্ন গৌরবময় মুহূর্ত তাতে ফুটিয়ে তোলা হবে। পারফর্ম করবেন সংগীতশিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া ক্যারা, এলিয়ানা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয় (বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত), ভেজেড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্সের মতো শিল্পীরা।

    লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে থাকবে বড় পরিসরের ভিজ্যুয়াল ও আকর্ষণীয় গল্পগাথা। সেই সঙ্গে মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা এবং টাইলার মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।

    এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন মার্কো বালিচ। অলিম্পিকের বেশ কয়েকটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পেছনের কারিগর তিনি। প্রতিটি অনুষ্ঠানের আবহ ও চরিত্র ভিন্ন হলেও তিনটি আয়োজনই একটি মূল ভাবনায় একীভূত—ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক সুতায় গাঁথায় ফুটবলের যে অনন্য ক্ষমতা, সেটিই তিনটি শহরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল থিম।

  • বিশ্বকাপের টিকিটের ‘আকাশছোঁয়া’ দাম নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক শুরু হয়েছে বেশ আগে। এবার এটা গড়াল আদালত পর্যন্ত। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া  টিকিটের মূল্যকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের জোট ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বসবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি। এফএসই এবং ইউরোকনজ্যুমারস গ্রুপের সোজা কথা, টিকিটের দাম মাত্রাতিরিক্ত। তাদের অভিযোগ, টিকিট বিক্রিতে ফিফা নিজেদের একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।

    এফএসইর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইউরোকনজ্যুমারস এবং এফএসই ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ফিফা নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় সমর্থকদের ওপর বিশ্বকাপের টিকিটের অযৌক্তিক দাম, অস্বচ্ছ ও অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। ফিফার এই শর্ত কোনো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতো না।’

    ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি
    ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি, ফিফা
     

    এফএসইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম শুরু হয়েছে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা), যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি! তুলনাটা আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়, ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল মাত্র ৯৫ ইউরো।

    এমনকি ফিফার নিজস্ব দরপত্র নথিতেও গড় টিকিটের দাম ১ হাজার ৪০৮ ডলার ধরা হয়েছিল। বাস্তবে তা বহু আগেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ফিফা জানিয়েছে, প্রায় ৭০ লাখ টিকিট ছাড়া হয়েছে।
    একজন দর্শক এক ম্যাচের সর্বোচ্চ ৪টি এবং পুরো টুর্নামেন্টের ৪০টি টিকিট কিনতে পারবেন।

    উত্তর আমেরিকার আয়োজক কমিটি প্রথমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মাত্র ২১ ডলার থেকে টিকিট পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবতা এর থেকে যোজন দূরে। ক্যালিফোর্নিয়ার লেভিস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া-জর্ডান ম্যাচের মতো অপেক্ষাকৃত ‘কম গ্ল্যামারাস’ লড়াইয়ের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে ৬০ ডলারে। বড় দলগুলোর ম্যাচের টিকিটের ন্যূনতম দাম তো ২০০ ডলারের নিচে নামছেই না।

    ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো
    ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোফিফা

    আবার ৬০ ডলারের যে সস্তা টিকিটের কথা বলা হয়েছে, সেটাও শুধু বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলগুলোর সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত এবং তা প্রতিটি জাতীয় ফেডারেশনের বরাদ্দের মাত্র ১০ শতাংশ। এফএসই বলছে, ‘সাধারণের জন্য সংরক্ষিত সেই টিকিটগুলো বিক্রির আগেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।’

    সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে ফিফার নিজস্ব রিসেল বা পুনর্বিক্রয় সাইটে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ফাইনালের একটি ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দাম হাঁকা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ ডলার! মূল দাম যেখানে ছিল মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ ডলার, সেখানে পুনর্বিক্রয় বাজারে দাম বেড়েছে ৪১ গুণেরও বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় একটি টিকিটের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা!

    সূচি প্রকাশের অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    সূচি প্রকাশের অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, এএফপি
     

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই পুনর্বিক্রয় বাজারের ওপর কোনো আইনি নিয়ন্ত্রণ নেই। মেক্সিকোতে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না।

    টিকিটের এই অগ্নিমূল্য নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর যুক্তি—চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। তাঁর কথা, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অনুযায়ী তারা ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল দামের নীতি অনুসরণ করছে। অর্থাৎ ম্যাচের গুরুত্ব ও চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম বাড়বে বা কমবে।
    তবে সমর্থকদের দাবি, এই পদ্ধতির কোনো স্বচ্ছতা নেই। এফএসই বলছে, এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যাওয়ার সময় টিকিটের দাম হুট করে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে একজন সমর্থক জানতেই পারছেন না তাঁকে শেষ পর্যন্ত কত ডলার গুনতে হবে।
    সব মিলিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই উৎসব আসলে কার জন্য?

    এএফপি

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব