• ‘কিছু দলের প্রভাব বেশি’—আইসিসির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদায় নিয়েছে ১ মার্চ, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ মার্চ। কিন্তু তাদের পর বাদ পড়েও আগেই ভারত ছেড়েছে ইংল্যান্ড। ৫ মার্চ সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের দুই দিনের মধ্যেই, ৭ মার্চ চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন হ্যারি ব্রুকরা।

    নিজেদের পর বাদ পড়লেও ইংল্যান্ডকে আগেভাগে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করায় আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন আচরণে ‘ক্ষমতা’ দেখানো হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে অঞ্চলটির আকাশপথ ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বকাপ খেলে ফেরার যাত্রাতেও। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলতে আসা কয়েকটি দল সময়মতো দেশে ফিরতে পারেনি। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ে দল সুপার এইট থেকে বাদ পড়ার পর কয়েক দিন অপেক্ষার পর ভারত ছাড়তে পেরেছে।

    বিশ্বকাপে খেলা দলগুলোর ভ্রমণের বিষয়টি দেখভাল করে আইসিসি। ইএসপিএনক্রিইনফোর খবরে বলা হয়, আইসিসি ইংল্যান্ড দলের জন্য একটি চাটার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করায় হ্যারি ব্রুকরা শনিবার ভারত ছেড়ে গেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল যাবে ৮ মার্চ।

    ইনস্টাগ্রামে ডেভিড মিলারের ক্ষোভ
    ইনস্টাগ্রামে ডেভিড মিলারের ক্ষোভ স্ক্রিনশট

    এই পরিস্থিতিতে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান ক্রিকইনফোর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন, ‘মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইংল্যান্ড দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর বাদ পড়েও আজ রাতে চার্টার্ড ফ্লাইটে বাড়ি ফিরছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো কলকাতায় উত্তরের অপেক্ষায় বসে আছে।’

    মিলারের সেই পোস্টেই প্রতিক্রিয়া জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। মন্তব্যের ঘরেই তিনি লেখেন, ‘মিলার, যাঁরা পেছনে আছেন, তাঁরা যেন শুনতে পান, সে জন্য দয়া করে আর একটু জোরে বলুন স্যার।’

    এরপর স্যামিকে ট্যাগ করে মিলার আরও তীব্র ভাষায় আইসিসির সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘ইংল্যান্ডের জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে আইসিসির খুব একটা সময় লাগে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাত দিন ধরে চার্টার্ড ফ্লাইটের অপেক্ষায় আছে আর দক্ষিণ আফ্রিকার আজ চার দিন হলো। তবুও আমরা এখনো অপেক্ষাতেই আছি।’

    একই সুর শোনা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি ককের কণ্ঠেও। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, ‘আইসিসি, আমরা এখনো কিছুই জানতে পারিনি। অথচ ইংল্যান্ড আমাদের আগেই কোনোভাবে চলে যাচ্ছে? ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা একেবারেই অন্ধকারে পড়ে আছে! অদ্ভুত ব্যাপার যে কিছু দলের প্রভাব অন্যদের চেয়ে কত বেশি।’

    ইংল্যান্ড দলের আগেভাগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে আইসিসি
    ইংল্যান্ড দলের আগেভাগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে আইসিসি, রয়টার্স

    শুধু খেলোয়াড় ও কোচই নন, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও। তিনি এক্সে লেখেন, ‘ইংল্যান্ড বৃহস্পতিবার বিদায় নিয়েছে আর আজই চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফিরে যাচ্ছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ গত রোববার টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েও এখনো কলকাতায় আছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও একই অবস্থায়। এখানেই বোঝা যায় ক্ষমতার ভারসাম্যটা ঠিক নেই।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সব দলের প্রতি সমান আচরণ করা উচিত। আইসিসির টেবিলে আপনি বেশি শক্তিশালী বলেই আলাদা সুবিধা পাবেন, এটা হওয়া উচিত নয়।’

    আইসিসির ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ‘জীবনে কখনো প্রথম হতে পারিনি, আজ হলাম’

    মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল পা। হাতে ট্রফি, ঝলমলে আলো, ক্যামেরা আর করতালির শব্দ। তবু যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না—এটাই সত্যি! রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতার জন্য এই মুহূর্তটি শুধু একটি জয়ের নয়; বহুদিনের না পাওয়া এক স্বপ্নপূরণেরও গল্প।
    শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়। দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন করে এই প্রতিযোগিতার বিজয়ী পেল বাংলাদেশ।

    ট্রফি হাতে নেওয়ার পরপরই আবেগাপ্লুত বর্ণিতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার পা কাঁপছিল, দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। দর্শকের ভালোবাসায় এই জায়গায় এসেছি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

    প্রথম হওয়ার অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতা
    বর্ণিতার ভেতরে জমে ছিল এক দীর্ঘদিনের আক্ষেপ—কখনো প্রথম হতে না পারার। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে  তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় পড়ালেখায় ভালো ফল করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু জীবনে কখনো প্রথম হতে পারিনি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছি। সব সময়ই মনে হতো, কোথাও না কোথাও প্রথম হতে চাই। আজ সত্যিই আমি এই মঞ্চে প্রথম হতে পেরেছি।’

    জয়ের আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব
    জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেও বর্ণিতার চোখে স্পষ্ট দায়িত্ববোধ। তাঁর কাছে এই ট্রফি কেবল পুরস্কার নয়, আরও বড় কিছু। তিনি বলেন, ‘এই ট্রফিটা শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটা অনেক বড় দায়িত্ব। সবার ভালোবাসা আর সমর্থনেই আমি এখানে এসেছি। সেই ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে চাই, সামনে আরও দূর যেতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

    প্রথম আলো

    এই জয় বর্ণিতার জন্য নতুন দরজাও খুলে দিয়েছে। ট্রফির পাশাপাশি তিনি পাচ্ছেন বিলাসবহুল গাড়ি, শিহাব শাহীনের ওয়েব কনটেন্টে কাজের সুযোগ এবং সবচেয়ে বড় চমক—ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে রায়হান রাফীর পরিচালনায় একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ। এ প্রসঙ্গে বর্ণিতা বলেন, ‘রাফী স্যার শুরু থেকেই আমাদের মেন্টর ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর সিনেমা বড় পর্দায় দেখেছি দর্শক হিসেবে। এখন তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অবিশ্বাস্য। আমি সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

    প্রতিযোগিতার পথচলা
    ২০০৫ সালে শুরু হওয়া লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতা কয়েক বছর নিয়মিত চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে আয়োজনটি হয়েছিল। সাত বছর বিরতির পর গত বছর শুরু হয় এর দশম আসর।

    ট্রফি হাতে বিদুষী বর্ণিতা
    ট্রফি হাতে বিদুষী বর্ণিতা

    লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীকে ডাকা হয়। সেখান থেকে সেরা ১০ জনকে নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেল আইয়ে সম্প্রচার শুরু হয় প্রতিযোগিতাটি। এবারের আসরের মেন্টর ছিলেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচ প্রতিযোগী—আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। এর মধ্যে প্রথম রানারআপ হয়েছেন নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল এবং দ্বিতীয় রানারআপ চট্টগ্রামের আমিনা।

    শুক্রবার অনুষ্ঠানে ইউনিলিভারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ও বিজনেস ইউনিট হেড নাবিলা জাবীন খান বলেন, ‘লাক্স সুপারস্টারের গল্পগুলো সব সময়ই অনুপ্রেরণার। এটি একজন সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রা।’ সেই যাত্রার নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন রাজশাহীর বর্ণিতা।

    চ্যানেল আই অবলম্বনে

  • ‘জেল থেকে ফেরার পর পুরুষ দেখলেই শরীর ভয়ে কাঁপে’

    প্রেমিক সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই দুঃস্বপ্নের সময় কাটিয়েছেন অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। মাদক–কাণ্ডে জেল খেটেছেন, দিনের পর দিন খবরের শিরোনাম হয়েছেন। সম্প্রতি দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন রিয়া। এ উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

    সুশান্তের মৃত্যু ঘিরে বিতর্কে রিয়ার নাম জড়িয়ে পড়েছিল। বিষয়টি তাঁর অভিনয়জীবনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি অভিনেত্রী দূরে সরে গিয়েছিলেন রোল-ক্যামেরা, অ্যাকশনের জগৎ থেকে। দীর্ঘ সাত বছর পর অভিনয়জীবনে ফিরছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আজকাল তিনি ‘ট্রোল্‌ড’ না হলে মনে হয় সব আদৌ ঠিক করছেন তো! সুশান্তের মৃত্যুর পরে তাঁর জেলে যাওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় বসে দেখেছিলেন কোটি কোটি মানুষ। রিয়ার আক্ষেপ, সেইসব মানুষের মধ্যে ১ কোটি মানুষও যদি তাঁর আদালত থেকে ক্লিনচিট পাওয়ার অর্থটা বুঝত।

    রিয়া চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    রিয়া চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    যদিও জেলে যাওয়ার পর থেকে কিছু ভয় মনের মধ্যে বসে গিয়েছে রিয়ার। তিনি বলেন, ‘জেল থেকে ফেরার পর মনে হতো পৃথিবীটা বাসযোগ্য নয়, বাইরে বেরোতে ইচ্ছে করত না। দরজা খুলে কোনো পুরুষকে দেখলেই শরীর কাঁপে এখনো। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়।’

    অভিনয়ে ফেরা
    নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘ফ্যামিলি বিজনেস’–এর মাধ্যমে অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে রিয়ার; যা তাঁর ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিরে আসা প্রসঙ্গে রিয়া বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার কাছে একই সঙ্গে আবেগঘন ও অবাস্তব মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সাত বছর। ব্যাপারটা সত্যিই অদ্ভুত আর অবিশ্বাস্য লাগছে। আমি ভাবতেই পারিনি যে আবার কখনো অভিনয় করব। সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।’

    নিজের অতীত ও বর্তমানের তুলনা টেনে রিয়া আরও বলেন, ‘১৭ বছর বয়সে অভিনয়ই ছিল আমার স্বপ্ন। তারপর অনেক কিছু ঘটে গেল, কাজ বন্ধ হয়ে গেল, আর আমাকে সেই স্বপ্ন থেকে সরে আসতে হয়েছিল। এখন আমি আবার ফিরেছি, কিন্তু আমি আগের মতো নেই। আমার ক্যারিয়ারও বদলেছে। অভিনয় এখন আগের মতো একই অর্থ বহন না করলেও, অনেক দিক থেকে এর গুরুত্ব আমার কাছে আগের চেয়েও বেশি।’
    রিয়ার এই প্রত্যাবর্তনের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া বেশ ইতিবাচক। অনেকেই তাঁকে সাহস ও ভালোবাসার বার্তা দিয়ে লিখেছেন—‘তোমাকে নিয়ে গর্বিত’, ‘তুমি আরও শক্ত হয়ে ফিরেছ’, ‘নতুন শুরুতে শুভকামনা’।
    নিউজ ১৮ অবলম্বনে

  • ‘দলদল মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকটা দেখিয়েছে’

    বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেড়নেকর মনে করেন, ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও সেই সাহসটুকু ধরে রাখতে চান তিনি। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক আলাপচারিতায় নিজের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’, অভিনয়জীবনের পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

    অভিনয়জীবনের নতুন মোড়
    ছোট শহরের বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেই শুরুতে পরিচিতি পান ভূমি। ‘দম লাগা কে হ্যাঁয়সা’ ছবির সন্ধ্যা ভার্মা চরিত্র দিয়ে তাঁর অভিনয়যাত্রার শুরু। এরপর ‘বালা’, ‘আফওয়া’, ‘ভক্ষক’, ‘বাধাই দো’সহ একাধিক ছবিতে তাঁকে মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মেয়ের ভূমিকায় দেখা গেছে।

    সেদিক থেকে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’ তাঁর ক্যারিয়ারে এনেছে ভিন্নমাত্রা। ভূমি এখানে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সর্বকনিষ্ঠ প্রধান কর্মকর্তা—ক্ষমতা, চাপ ও নৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত এক জটিল চরিত্র। ভূমি বলেন, ‘এটা আমার যাত্রার স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ বলেই মনে হয়েছে। আমি সব সময় এমন গল্পের দিকে ঝুঁকেছি, যেখানে সমাজ বা মানুষের আচরণকে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু দলদল মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকটা যেভাবে দেখিয়েছে, সে ধরনের কাজ আমি আগে করিনি।’

    চরিত্রটি নিয়ে ভূমি আরও বলেন, ‘রীতা এমন একজন মানুষ, যে অমীমাংসিত ট্রমা ও নৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে নীরবতার মধ্যে বাস করে। সিরিজটির জগৎ অন্ধকার, অস্বস্তিকর এবং মানসিকভাবে খুব চ্যালেঞ্জিং। সেই অস্বস্তিই আমাকে এই প্রকল্পের প্রতি টেনেছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমি এমন চরিত্র চাই, যারা সব কথা বলে না—দর্শকের ওপর ভরসা রাখে। যে চরিত্র আমাকে স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে নিয়ে গিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। “দলদল” ঠিক সেটাই করেছে।’

    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    বদল নয়, বিবর্তন
    ভূমি জানান, এখন কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ‘প্রথমে গল্প আমাকে অনুভূতির জায়গা থেকে টানে, তারপর ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিই। এখন “সঠিক প্রকল্প” বলতে আমি বুঝি এমন কিছু, যা আমাকে চ্যালেঞ্জ করবে, একটু ভয়ও দেখাবে।’ তিনি বলেন, ‘একঘেয়ে বা আরামদায়ক চরিত্রে আর আগ্রহ নেই; বরং এমন পরিচালক ও লেখকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যাঁরা জটিলতা ও দ্ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দেন।’

    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    প্রায় এক দশকের ক্যারিয়ারের দিকে তাকিয়ে ‘বদল’ নয়, ‘বিবর্তন’ শব্দটিকেই প্রাধান্য দেন ভূমি। তাঁর ভাষায়, ‘শুরুতে ছোট শহরের সাধারণ মেয়ের চরিত্রে পরিচিতি পেলেও এখন আমি এমন নারীর গল্প বলতে চাই, যারা সামাজিক কাঠামোর ভেতরে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে লড়াই করছে।’

    ভূমি যোগ করেন, ‘চরিত্রের পরিসর বদলেছে, কিন্তু মানুষের গল্প জানার আগ্রহ একই আছে। আমার চরিত্রগুলো প্রায়ই এমন নারীদের নিয়ে, যারা সমাজ, শ্রেণি, লিঙ্গ ও নৈতিকতার কাঠামোর ভেতর নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে।’
    গণ্ডি ভাঙার ইচ্ছা

    ‘অর্থবহ সিনেমা’ও কখনো কখনো একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি তৈরি করতে পারে—এমনটাই মনে করেন ভূমি। তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে বড় বাজেটের চমকপ্রদ সিনেমা এবং গভীর, সংবেদনশীল গল্প—দুটিই পাশাপাশি এগোচ্ছে। আমি এই দুই ধারাতেই কাজ করতে চাই।’

    তবে একটি বিষয় ভূমি সব সময় ধরে রাখতে চান, ‘ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা’। তাঁর কথায়, ‘জটিল এবং সত্যনিষ্ঠ গল্প বেছে নেওয়ার সাহসটাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সব সময় এমন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা সত্যিই কিছু বলতে চান।’

    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • ‘দয়া করে বাঁচান’, দুবাইয়ে আটকে পড়া অভিনেত্রীর আকুতি

    পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে দুবাইয়ে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত হওয়ায় বলিউড অভিনেত্রী সোনাল চৌহান বর্তমানে সেখানেই আটকে পড়েছেন। নিরাপদে ভারতে ফিরতে তিনি ভারতের সরকারের সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন।

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। এর জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্ন দেখা দেয় এবং দুবাইসহ একাধিক শহরে ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এই অবস্থায় দুবাইয়ে অবস্থানরত সোনাল চৌহান ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ট্যাগ করে লেখেন, তিনি চলমান সংকটের মধ্যে দুবাইয়ে আটকে আছেন এবং দেশে ফেরার কোনো পরিষ্কার পথ নেই। নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি সরকারের দিকনির্দেশনা ও সহায়তা কামনা করেন।

    সোনাল চৌহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সোনাল চৌহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুবাইয়ে ভারতীয় দূতাবাসকেও উল্লেখ করে দ্রুত সহায়তার আবেদন জানান। তাঁর এই আবেদন সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্বোধন করে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে একাধিক বিমান বাতিল হওয়ায় আটকে পড়েছেন তিনি। নিরাপদে এবং সঠিক সময়ে নিজভূমে ফেরার কোনো আশা তিনি দেখছেন না। ‘আমাকে সাহায্য করুন, দয়া করে বাঁচান’, লিখেছেন তিনি।

    শুধু সোনাল নন, এই পরিস্থিতিতে আরও কয়েকজন ভারতীয় তারকাও উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সান্ধ, দক্ষিণি তারকা অজিত দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া দোহায় থাকা ভারতীয় বাস্কেটবল দলও যাত্রা স্থগিতের কারণে এগোতে পারছে না।

    রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ইসরায়েল ও বাহরাইনের আকাশসীমা কার্যত ফাঁকা হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইরানে হামলার কথা নিশ্চিত করার পর যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কাতারের দোহা, আবুধাবি ও দুবাইয়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • ‘প্রতিভা নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নেয়’

    অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি সম্প্রতি নির্বাক চলচ্চিত্র ‘গান্ধী টকস’-এ অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায়। ছবিতে তাঁর বিপরীতে রয়েছেন বিজয় সেতুপতি। ভারতীয় দৈনিক অমর উজালাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অদিতি জানিয়েছেন, কেন এই নির্বাক ছবি তাঁর কাছে এতটা বিশেষ। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে হিন্দি ছবিতে তুলনামূলক কম কাজ করার কারণ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

    নির্বাক ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অদিতি বলেন, ‘আমার সব সময়ই ইচ্ছা ছিল কোনো নির্বাক ছবিতে কাজ করার। যখন এই সিনেমার প্রস্তাব আসে, সত্যিই খুব খুশি হয়েছিলাম। পরিচালক কিশোর পাণ্ডুরং বেলেকর যেভাবে ছবির কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন, এ আর রাহমান যেভাবে সংগীত দিয়েছেন, সেটা দারুণ। তা ছাড়া বিজয় সেতুপতি, অরবিন্দ স্বামী ও সিদ্ধার্থ যাদবের মতো শিল্পীরা যুক্ত হয়েছেন—সব মিলিয়ে ছবিটা আমার কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমার চরিত্রটি শুধু প্রেমের আকর্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; গল্পের আবেগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

    নির্বাক ছবির চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন অদিতি। তাঁর ভাষায়, ‘একজন অভিনেতার কাছে প্রতিটি ছবিই চ্যালেঞ্জিং। তবে নির্বাক ছবির চ্যালেঞ্জ আলাদা। এখানে সংলাপ নেই, তাই শরীরী ভাষা, চোখের অভিব্যক্তি আর ভেতরের অনুভূতির প্রকাশই হয়ে ওঠে প্রধান মাধ্যম। কিছু না বলেও অনুভূতি প্রকাশ করার প্রক্রিয়াটা আমি ভীষণ উপভোগ করেছি।’

    ‘গান্ধী টকস’–এ বিজয় ও অদিতি। এক্স থেকে
    ‘গান্ধী টকস’–এ বিজয় ও অদিতি। এক্স থেকে

    নিরীক্ষাধর্মী ছবি নিয়ে দর্শকের মনোভাব প্রসঙ্গে অদিতি বলেন, ‘নির্বাক ছবি অনেক দর্শকের কাছেই নতুন অভিজ্ঞতা, তাই এর গতি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা প্রায়ই শুক্রবার মুক্তির পরই একটি ছবির ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলি। সত্যিটা হলো, এ ধরনের ছবির জন্য সময় দরকার। মন দিয়ে অনুভব করে দেখতে হয়।’
    গত চার বছরে হিন্দি ছবিতে তাঁকে তুলনামূলক কম দেখা যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অদিতি বলেন, ‘বিষয়টা খুব সহজ। ভালো কাজ পেলে তবেই আমি হিন্দি ছবি করি। যারা বাইরে থেকে বলিউডে আসে, তাদের প্রতিটি ছবিতে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করতে হয়। এটা কোনো অভিযোগ নয়, বাস্তবতা। আমাদের একসঙ্গে পাঁচটি ছবির চুক্তি হয় না। প্রতিটি নতুন কাজেই নিজেকে আবার প্রতিষ্ঠা করতে হয়। ২০১১ সাল থেকে কাজ করছি। আমার বিশ্বাস, প্রতিভা শেষ পর্যন্ত নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নেয়।’

    ভারতে বিনোদন–দুনিয়ায় কাজের সময়সীমা ও দীর্ঘ শিফট নিয়ে চলমান বিতর্কেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অদিতি। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই যন্ত্র নই। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় কাজ করা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করা স্বাভাবিক, কিন্তু তারপর কাজের মানও প্রভাবিত হয়। শিল্পীরা মন আর শরীর—দুটো দিয়েই কাজ করেন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া টানা কাজ করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।’

    অদিতির মতে, সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে সময়ের ভারসাম্য অত্যন্ত জরুরি। ‘কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। ইন্ডাস্ট্রিতে এ বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া দরকার,’ বলেন তিনি।

    অদিতি রাও হায়দারি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    অদিতি রাও হায়দারি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    নির্বাক ছবির মতো ভিন্ন ঘরানায় কাজের মাধ্যমে অদিতি আবারও জানিয়ে দিলেন, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই তিনি স্বচ্ছন্দ। এখন দেখার, দর্শক ‘গান্ধী টকস’কে কতটা সময় ও মনোযোগ দেন।

  • ‘ফল যা–ই হোক, আমরা আমাদের সেরাটাই দেব’—চীনের মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রত্যয়ী মনিকা

    সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে আগামী মঙ্গলবার ঐতিহাসিক এক ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।

    নয়বারের এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন চীনের মুখোমুখি হওয়ার আগে সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে আজ সকালে নিবিড় অনুশীলন করেছেন মারিয়া-মনিকারা। অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা জানিয়েছেন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন তাঁরা।

    অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন নিয়ে বাংলাদেশের দুবারের সাফজয়ী দলের সদস্য মনিকা বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি অনেক দিন হয়েছে। এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। এখানে ভালো অনুশীলন হচ্ছে। প্রতিদিনই আমাদের উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছে।’

    এশিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ চীন কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে দলের ভেতর কাটাছেঁড়া চলছে নিয়মিত। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রতিপক্ষকে আটকানোর কৌশল সাজাচ্ছেন কোচ পিটার বাটলার। এ প্রসঙ্গে মনিকা বলেন, ‘যেহেতু ওরা এশিয়ার মধ্যে সেরা, এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও, তো ওদের নিয়ে আমাদের প্রত্যেক দিন মিটিং হয়। ভিডিও দেখানো হয়। ওরা কোন পজিশনে কীভাবে খেলে, আমাদের কীভাবে দৌড়াতে হবে বা মাঠে কীভাবে খেলতে হবে, এগুলো মিটিংয়েও বলা হচ্ছে। আর আমরা মাঠেও সেটা নিয়ে কাজ করতেছি।’

    সিডনিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মনিকা চাকমা
    সিডনিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মনিকা চাকমা

    চীনের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ—সব বিভাগেই সমান সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন এই মিডফিল্ডার। চীনের শক্তি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘গোলকিপার থেকে স্ট্রাইকার—সবদিক দিয়ে ওরা স্ট্রং। আমাদেরও রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত সবদিক নিয়ে কাজ করা লাগছে।’

    বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে চীনের কাছে হারের ব্যবধান যত কম রাখা যায় সেই চেষ্টা করা। এক সাংবাদিক ড্র বা জয়ের লক্ষ্য থাকবে কি না, জিজ্ঞেস করলে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি মনিকা, ‘আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ফল যা–ই হোক, আমরা আমাদের সেরাটা দেব।’

    মনিকা আরও যোগ করেন, ‘আমরা আমাদের নিজেদের নিয়ে বেশি ভাবছি, কারণ, আমাদের এখানে পারফরম্যান্স করতে হবে। দেশের জন্য হোক, নিজের জন্য হোক বা ফ্যামিলির জন্য, সবার জন্যই আমরা এখানে খেলতে এসেছি। আমরা আমাদের দেশের জন্যই ভাবছি।’

    সিডনিতে চলছে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন
    সিডনিতে চলছে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন, বাফুফে
     

    মাঝমাঠ, আক্রমণভাগ আর রক্ষণভাগের ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে মনিকা জানান, বল পেলে তাঁরা অবশ্যই আক্রমণে যাবেন, আর বল হারালে দ্রুত পজিশন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন। মূল ভেন্যুতে অনুশীলনের সুযোগ না পেলেও রাগবি ও ফুটবলের ভেন্যু জুবুলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট বলে জানান।

    মঙ্গলবার সিডনির মাঠে লাল-সবুজের মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।

  • ‘বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়ার পূজার রেকর্ড নাই’

    ঢালিউডে প্রেম ও গুঞ্জন নতুন নয়, কিন্তু পূজা চেরীকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যে মন্তব্য সব নজর কেড়েছে, তা দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে হাস্য ও আলোচনার এক মিশ্রণ তৈরি করেছে। গত বুধবার ‘দম’ ছবিটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে আফরান নিশো মজার ছলে বলেন, ‘বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়ার পূজার রেকর্ড নাই।’ এ মন্তব্য শুধু উপস্থিত সাংবাদিকদেরই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও চমকে দিয়েছে।

    প্রদর্শনীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, পূজা চেরী থেকে ‘দম’ সিনেমার নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল
    প্রদর্শনীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, পূজা চেরী থেকে ‘দম’ সিনেমার নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, ছবি: চরকি
     

    রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ ছবিতে পূজা চেরী অভিনয় করেছেন আফরান নিশোর বিপরীতে। ছবির গল্পে শাহজাহান ইসলাম নূরের চরিত্রে একজন সাধারণ মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে। এই সিনেমার শুটিংয়ের কাজ বাংলাদেশের পাশাপাশি কাজাখস্তানের হাড়কাঁপানো শীতে হয়েছে। মুক্তির পর থেকে ছবিটি দর্শক ও সমালোচকের মধ্যে সমান আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ঢালিউডের বিভিন্ন তারকা ও কলাকুশলী। প্রদর্শনীর পর সংবাদ সম্মেলনে আফরান নিশো তাঁর মজার মন্তব্য করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। এ মন্তব্যের পর পূজা চেরী অকপটভাবে বলেন, ‘জোকস অ্যাপার্ট এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমি এনগেজড। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ তাঁদের এই খুনসুটি ও স্বীকারোক্তি দর্শক ও অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

    আফরান নিশো ও পূজা চেরী
    আফরান নিশো ও পূজা চেরী, ছবি : সংগৃহীত
     

    ঢালিউডে শোনা যায়, পূজা চেরীর নাম নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এই তারকা কখনোই তা স্বীকার করেননি। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তিনি প্রেমের সম্পর্কে আছেন, তবে সেটি বিনোদন অঙ্গনের কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়।

    পূজা চেরী, আফরান নিশো ও রেদওয়ান রনি
    পূজা চেরী, আফরান নিশো ও রেদওয়ান রনি, ছবি : চরকির সৌজন্যে
     

    সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই মন্তব্যকে ছবির প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন, কেউবা পূজা চেরীর এনগেজমেন্ট সংবাদকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণের খোঁজ করছেন। তবে সবাই একমত, আফরান নিশো ও পূজা চেরীর এই স্বাভাবিক খুনসুটি তাঁদের জনপ্রিয়তা ও দর্শকের কাছে সখ্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ‘দম’ সিনেমার গল্প, অভিনয় ও দর্শক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এই ধরনের পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবনকে মজার ছলে মিলিয়ে দেওয়া বক্তব্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের মুক্তি–পরবর্তী তৃতীয় সপ্তাহে এসে ছবিটি এখনো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এবং পূজা–নিশোর এই খুনসুটি আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • ‘হুট করে এমন দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়’

    প্রশ্ন:এই প্রথম এশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

    ‎তহুরা খাতুন: সত্যি বলতে অনেক ভালো লাগছে। চীন–কোরিয়ার মতো দলগুলো এশিয়ান কাপে অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের বিপক্ষে খেলতে পারাটাও কম কী! এমন টুর্নামেন্টে প্রথমবার আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি, এটা ভেবে আরও ভালো লাগছে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতেও পারব। আমাদের মূল লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলা, সবার সঙ্গে লড়াই করা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলে হারলেও অনেক কিছু শেখা যায়।

    প্রশ্ন:টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আপনার দৃষ্টিতে প্রস্তুতি কেমন হলো?

    ‎তহুরা: মোটামুটি হয়েছে, তবে আরও ভালো হতে পারত। এশিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে সবাই একসঙ্গে থাকতে পারলে ভালো হতো। ঘরোয়া লিগ চলায় সেটা আর হয়নি। পুরো দল যদি আগে থেকে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় অনুশীলন করতে পারত, দলের কম্বিনেশন আরও ভালো হতো।

    এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
    এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
     
    প্রশ্ন:আপনি তাহলে বলছেন, এ সময় লিগ আয়োজন করাটা ঠিক হয়নি?

    ‎তহুরা: লিগের কারণে হয়তো ফিটনেসে ঘাটতি পড়েনি, তবু এ সময়ে লিগ আয়োজন করা একদম ঠিক হয়নি। বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশ-পাতাল তফাত। লিগ হতে হবে এমন একটা সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ব্যস্ততা কম থাকবে। আমাদের উচিত ছিল, এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে পড়ে থাকা। কিন্তু সবাইকে লিগ খেলতে হয়েছে। এত বড় টুর্নামেন্টের আগে লিগ কেন করা হলো, এ বিষয়টা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।

    প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতিটা কোথায় দেখছেন?

    তহুরা: দেখুন, ভারত অনেকগুলো ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছে। তারা তুরস্কেও ক্যাম্প করেছে। বড় কোনো টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে ভালো দলের বিপক্ষে বেশি বেশি ম্যাচ খেলা উচিত। আমরা যদি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে খেলতাম, হয়তো গোল খেতাম, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা মূল টুর্নামেন্টে অনেক কাজে লাগত।

    প্রশ্ন:চীন–উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর প্রতিপক্ষ নিয়ে কী পরিকল্পনা?

    তহুরা: চীন, কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তারা প্রতি ম্যাচেই প্রচুর গোল দেয়। যাঁরা ফুটবল সম্পর্কে জানেন, তাঁরা বুঝবেন, হুট করে এমন দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়। আমাদের চেষ্টা থাকবে মাঠে সর্বোচ্চ লড়াই করা। হার–জিত যা–ই হোক, লক্ষ্য থাকবে সম্মানজনক স্কোর করা এবং যতটা কম সম্ভব গোল খাওয়া। দু-একটা গোল পেলে সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি। আসলে তাদের বিপক্ষে তেমন কোনো আশা দেখছি না।

    বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
    বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
    প্রশ্ন:গোল আটকানোর জন্য রুপনা-শিউলিরা কতটা প্রস্তুত?

    তহুরা: গোল আটকানোর কাজটা সহজ হবে না। চীন-কোরিয়ার সঙ্গে আমরা আগে কখনো খেলিনি। তারপরও রুপনা আমাদের সেরা গোলকিপার। অবশ্যই সে সেরা চেষ্টাটাই করবে। ডিফেন্ডাররাও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    প্রশ্ন:‘অচেনা’ চীন-কোরিয়া সম্পর্কে কীভাবে ধারণা নিচ্ছেন?

    ‎তহুরা: কোচ চীন-কোরিয়ার শক্তিমত্তা ও দুর্বলতাগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। তারা কোথায় ভালো, কোন দলের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হবে—এসব নিয়ে কোচ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। এভাবে কিছুটা ধারণা পাচ্ছি।

    প্রশ্ন:ভিডিওতে তাদের খেলা দেখেননি? তাহলেও তো কিছু ধারণা পেতেন...

    ‎তহুরা: না, তাদের খেলার ভিডিও দেখার সুযোগ হয়নি, কোচও দেখাননি। হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর দেখাবেন।

    প্রশ্ন:এই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোচের কী বার্তা?

    তহুরা: সেটা না-ই বলি। অনুশীলনে সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। কোচ আমাদের যেভাবে খেলার নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেভাবেই মাঠে তা কার্যকর করার চেষ্টা করব। সবাই মিলে একটা দল হিসেবে খেলতে চাই।

    প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতুন
    প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতু
    প্রশ্ন:উজবেকিস্তানকে নিয়ে নিশ্চয়ই ভিন্ন ভাবনা আছে...

    তহুরা: তারাও কিন্তু সবাইকে হারিয়েই এই টুর্নামেন্টে এসেছে। তবে বড় দুই দলের তুলনায় তাদের সঙ্গে লড়াই একটু ভালো হতে পারে। যদি আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু মাঠে দিতে পারি, তাদের বিপক্ষে ভালো কিছুর সম্ভাবনা আছে।

    প্রশ্ন:এই সফরে সুইডেনপ্রবাসী আনিকাও আছেন। তাঁকে নিয়ে কতটা আশাবাদী?

    ‎তহুরা: ভালো, সে আমাদের সঙ্গে অনুশীলন করছে। ধীরে ধীরে সবকিছু মানিয়ে নিচ্ছে। এখন মাঠে কেমন করে, সেটা তো আর আমি বলতে পারব না।

    প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন কোনো বাধা হবে?

    তহুরা: মনে হয় না। আমরা সেখানে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পাব। আমাদের সঙ্গে একজন অস্ট্রেলিয়ান ফিটনেস কোচ আছেন, যিনি ট্রেনিং ও খাবারদাবার সবকিছু তদারক করছেন। এই সুবিধা আরও আগে থেকে পেলে ভালো হতো।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব