• ভয়াবহ অভিযোগ সেলিনার, স্বামীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    একসময় বলিউডের অন্যতম আলোচিত মুখ ছিলেন সেলিনা জেটলি। মিস ইন্ডিয়া খেতাব জয়, গ্ল্যামার জগতে দ্রুত উত্থান, বলিউডে একের পর এক জনপ্রিয় ছবি—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন যেন ছিল নিখুঁত রূপকথা। কিন্তু সেই ঝলমলে জীবনের আড়ালে যে দীর্ঘদিন ধরে জমছিল ব্যক্তিগত অস্থিরতা, মানসিক যন্ত্রণা আর সম্পর্কের টানাপোড়েন, তা এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগে অভিনেত্রীর স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে মুম্বাই পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, তদন্ত চলাকালে ভারত ছাড়ার আশঙ্কায় তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আর এ ঘটনার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক রহস্যময় পোস্ট করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সেলিনা।

    ‘নার্সিসিস্টের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙা মানে নিজের হারানো সত্তাকে ফিরে পাওয়া’
    ঘটনার পর গভীর রাতে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ছবি পোস্ট করেন সেলিনা। সেখানে দেখা যায়, তিনি একটি বই পড়ছেন। বইয়ের পাতার শিরোনাম— ‘ব্রেকিং আপ উইথ আ নার্সিসিস্ট’।

    পাতার বেশ কয়েকটি অংশ তিনি হাইলাইট করেছিলেন। একটি লাইনে লেখা ছিল—‘একজন নার্সিসিস্টের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙা মানে সেই মানুষটির তৈরি করা আপনার আরেকটি সংস্করণের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটানো।’

    আরেকটি অংশে ছিল—‘যখন আপনি সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন শুধু একটি সম্পর্কই শেষ করেন না; আপনি নিজের পরিচয়, নিজের কণ্ঠস্বর এবং নিজের জীবনও ফিরে পান।’

    সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে আরেকটি অংশ—‘আপনি নিজের গল্প নতুন করে লেখার যোগ্য। আপনি সুস্থ হয়ে ওঠার যোগ্য। আপনি সেই মানুষ নন, যেভাবে আপনাকে বিশ্বাস করানো হয়েছিল।’

    এই পোস্টের পর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, নিজের দাম্পত্য জীবনের সংকট নিয়েই কি পরোক্ষ বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী?

    মুম্বাই পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, পিটার হাগের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অভিযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি।

    মামলাটি প্রটেকশন অব উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ২০০৫-এর সঙ্গেও যুক্ত। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ দায়েরের পর পিটারের বিরুদ্ধে লুক-আউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সাধারণত যখন আশঙ্কা থাকে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্ত এড়িয়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন, তখনই লুক–আউট সার্কুলেশন জারি করা হয়।

    সূত্রের দাবি, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এখন পর্যন্ত পিটার হাগ কিংবা তাঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
     

    সন্তানের কবরের সামনে এক মায়ের কান্না
    এই আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই কয়েক দিন আগে একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও পোস্ট করেছিলেন সেলিনা। সেখানে তাঁকে দেখা যায় প্রয়াত ছেলে শমশেরের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। ভিডিওতে তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমানে তিনি নিজের সন্তানদের সঙ্গেও স্বাভাবিকভাবে দেখা করতে পারছেন না। তাঁর কথায়, শুধু শমশেরই যেন এখন তাঁর নীরব সঙ্গী। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনুরাগীরা। অনেকেই অভিনেত্রীর পাশে থাকার বার্তা দেন।

    পিটার হাগ মূলত অস্ট্রিয়ার নাগরিক। আন্তর্জাতিক হোটেল ও আতিথেয়তাশিল্পে বহু বছর ধরে কাজ করেছেন তিনি। দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেল চেইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং ও হোটেল ম্যানেজমেন্টে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে সেলিনা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে সেলিনা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    রূপকথার প্রেম, তারপর ভাঙনের গল্প
    ২০১১ সালে বিয়ে করেন সেলিনা ও পিটার। সে সময় বলিউডে তাঁদের বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। বিয়ের পর অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান সেলিনা। বিদেশেই সংসার গড়েন তাঁরা। ২০১২ সালে জন্ম নেয় তাঁদের যমজ সন্তান উইনস্টন ও বিরাজ। পরে ২০১৭ সালে আবারও যমজ সন্তানের মা–বাবা হন তাঁরা—শমশের ও আর্থার। কিন্তু জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় শমশের। সেই ট্র্যাজেডি সেলিনার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
    অভিনেত্রী একাধিকবার বলেছেন, সন্তান হারানোর যন্ত্রণা তাঁকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল।

    ২০২৫ সালেই শুরু হয়েছিল আইনি লড়াই

    জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরেই প্রথম গার্হস্থ্য হিংসার মামলা করেন সেলিনা। তখন ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার প্রথম দায়িত্ব আমার সেনা অফিসার ভাইয়ের জন্য লড়াই করা, আমার সন্তানদের ভালোবাসা ফিরে পাওয়া এবং নিজের মর্যাদা রক্ষা করা।’

    সেলিনা অভিযোগ করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন, অবহেলা ও সম্পর্কের ভাঙনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।
    শুধু তা-ই নয়, তিনি ৫০ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণও দাবি করেন বলে জানা গেছে। সম্পত্তি ও আয়ের ক্ষতির কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    বলিউডের গ্ল্যামারের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা
    ২০০১ সালে ‘মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স’ খেতাব জয়ের পর বলিউডে পা রাখেন সেলিনা। ‘নো এন্ট্রি’, ‘গোলমাল রিটার্নস’, ‘আপনা সাপনা মানি মানি’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করে দ্রুত জনপ্রিয়তা পান তিনি।

    তবে বিয়ের পর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। পরিবার, সন্তান ও ব্যক্তিজীবন নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এখন সেই ব্যক্তিজীবনই আদালত, পুলিশি তদন্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে।

    মিড ডে ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • মঙ্গল গ্রহের জন্য আকারে ছোট শক্তিশালী হেলিকপ্টার তৈরিতে নাসার সাফল্য

    নিজেদের তৈরি আকারে ছোট বিশেষ প্রযুক্তির হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকে নাসা। এবার বড় পরিসরে মঙ্গল গ্রহের তথ্য সংগ্রহের জন্য হালনাগাদ প্রযুক্তির আকারে ছোট শক্তিশালী হেলিকপ্টার তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। মঙ্গল গ্রহে নাসার পাঠানো প্রথম হেলিকপ্টার ইনজেনুইটির রোটর ব্লেড বা পাখার গতি শূন্য দশমিক ৭ মাত্রার কম থাকলেও নতুন মডেলের হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডের গতি ম্যাক ১ দশমিক শূন্য ৮–এর চেয়ে বেশি। এই অভাবনীয় গতি পরবর্তী প্রজন্মের হেলিকপ্টারের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তা শানা উইথ্রো–মেসার বলেন, ‘হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডের গতির সফল পরীক্ষা আরও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে উড্ডয়নের সম্ভাব্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। আমরা ভেবেছিলাম, ম্যাক ১ দশমিক শূন্য ৫ অর্জন করতে পারলেই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করব, কিন্তু শেষ ধাপে আমরা ম্যাক ১ দশমিক শূন্য ৮ গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এই হেলিকপ্টারগুলো সত্যিই বিস্ময়কর হতে যাচ্ছে।’

    নাসার তথ্যমতে, একটি হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডের গতি যখন ম্যাক শূন্য দশমিক ৮ অতিক্রম করে, তখন সেখানে শক ওয়েভ, বাতাসের প্রচণ্ড বাধা ও অস্থির বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। এর ফলে হেলিকপ্টারের ওপর একধরনের চাপ তৈরি হয়। পৃথিবীতে এই সমস্যার সমাধান করা তুলনামূলক সহজ হলেও মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডলে ব্যবহার উপযোগী এমন হেলিকপ্টারের নকশা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।

    পৃথিবী ও মঙ্গলের মধ্যে অনেক মিল থাকলেও বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যে সামান্য পার্থক্যও একটি বিমানের উড্ডয়নের প্রক্রিয়া পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর তুলনায় অত্যন্ত পাতলা। ঘনত্বে যা পৃথিবীর মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। রোটরের গতি বৃদ্ধির ফলে নতুন মডেলের হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে হেলিকপ্টারে বেশি ওজনের উন্নত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা যাবে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের শেষের দিকে স্কাইফল মিশনের আওতায় নতুন মডেলের তিনটি হেলিকপ্টার মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হবে।

    সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

  • মঙ্গলে জৈব অণুর সন্ধান পেল নাসার কিউরিওসিটি রোভার

    মঙ্গল গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে নাসার কিউরিওসিটি রোভারের সাম্প্রতিক আবিষ্কার। গ্রহটিতে এমন কিছু জৈব অণুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তির মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

    বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছাকাছি একটি প্রাচীন শুকনো হ্রদের তলদেশ থেকে এসব অণু শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া সাতটি অণুর মধ্যে পাঁচটিই আগে কখনও মঙ্গলে দেখা যায়নি। তবে এগুলো প্রাচীন কোনো জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত, নাকি উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে এসেছে বা ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে— সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবুও এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যদি কখনো মঙ্গলে অণুজীবের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে তার রাসায়নিক চিহ্ন এখনও টিকে থাকতে পারে।

    এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক অ্যামি উইলিয়ামস। তিনি বলেন, আমরা মনে করছি মঙ্গলে প্রায় ৩৫০ কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত থাকা জৈব পদার্থের সন্ধান পেয়েছি। এটা কি জীবন— তা এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

    ২০১২ সাল থেকে কিউরিওসিটি রোভারটি মঙ্গলের গেইল ক্রেটার ও মাউন্ট শার্প এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মঙ্গলের পরিবেশ অত্যন্ত প্রতিকূল— রাতে তাপমাত্রা মাইনাস ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায় এবং ঘন বায়ুমণ্ডল না থাকায় সূর্যের তীব্র বিকিরণে আক্রান্ত হয় গ্রহটি। তবে অতীতে সেখানে তরল পানি প্রবাহিত হতো এবং একটি সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডলও ছিল।

    যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গ্রহবিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যান্ড্রু কোটস বলেন, পৃথিবীতে যখন জীবনের সূচনা হচ্ছিল, তখন মঙ্গলেও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিবেশ ছিল। তাই সেখানে জীবন শুরু হয়নি— এমন কোনো কারণ নেই।

    তবে বিজ্ঞানীরা এতদিন নিশ্চিত ছিলেন না, প্রায় ৩৭০ থেকে ৪১০ কোটি বছর আগে সম্ভাব্য বাসযোগ্য সময়ের জীবনের রাসায়নিক চিহ্ন এখনো টিকে আছে কিনা।

    অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, অনেকদিন ধরে ধারণা ছিল, মঙ্গলের কঠিন বিকিরণ পরিবেশে সব জৈব পদার্থ নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পরিবেশে জটিল জৈব উপাদান টিকে থাকতে পারে— যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

    রোভারটি তার বিশ্লেষণ যন্ত্র ব্যবহার করে কার্বন-সম্পর্কিত বেশ কিছু যৌগ শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেঞ্জোথিওফিন, যা সাধারণত উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে গ্রহে পৌঁছায়। এছাড়া নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ আরেকটি জৈব যৌগের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যার গঠন ডিএনএ তৈরির পূর্বসূরি উপাদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    উইলিয়ামস বলেন, আমরা যা পেয়েছি এবং ডিএনএর মধ্যে এখনো অনেক ধাপ রয়েছে। এটি ডিএনএ তৈরির একটি মৌলিক উপাদান হতে পারে, কিন্তু পুরো কাঠামো নয়— এটি শুধু ইটের মতো, বাড়ি নয়। এসব অণু ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতেও তৈরি হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, যে উপাদানগুলো উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে মঙ্গলে এসেছে, একই উপাদান পৃথিবীতেও এসেছে— এবং সেগুলোই সম্ভবত পৃথিবীতে জীবনের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

    এই আবিষ্কার ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভার ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এই রোভারটি প্রায় দুই মিটার গভীরে ড্রিল করে আরও উন্নত পরীক্ষা চালাতে পারবে, যা জৈব অণুর উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সহায়তা করবে।

    গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

     

  • মজুত তেল বাজারে ছাড়বে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা, তেলের দাম ৯০ ডলারের নিচে

    ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটছে, তা সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেলের চালান বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে—এমন খবর প্রকাশের পর আজ বুধবার তেলের দাম ওঠানামা করছে।

    এ প্রতিবেদন লেখার সময় স্পট মার্কেটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৮ দশমিক শূন্য ৮ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৮২ ডলার হয়েছে। খবর রয়টার্সের

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানের যুদ্ধজনিত সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় আইইএ যে মজুত তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে, তা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যে তেল তারা বাজারে ছেড়েছিল, তার চেয়ে বেশি। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করার পর দুই দফায় সদস্যদেশগুলো যে ১৮ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছিল, এবার তার চেয়েও বেশি তেল বাজারে ছাড়া হতে পারে। এ বিষয়ে অবগত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আইইএ বা যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

    মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিই ক্রুডের দাম ১১ শতাংশের বেশি পড়ে যায়; ২০২২ সালের পর এক দিনে এটি সবচেয়ে বড় পতন। এর আগের দিন ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার পূর্বাভাস দেন। সোমবার অবশ্য একপর্যায়ে দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের বেশি হয়েছিল, ২০২২ সালের জুনের পর এটি ছিল তেলের সর্বোচ্চ দাম।

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলে চরম পরিণতি বরণ করতে হবে—ইরানের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যায়। সেই সঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হলো আইইএর তেল ছাড়ার ঘোষণা। সব মিলিয়ে তেলের দাম দ্রুতই কমে গেছে, যদিও চলতি বছরের শুরুর তুলনায় তা বেশি।

    এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে তীব্র বিমান হামলা চালায়। পেন্টাগন ও ঘটনাস্থলে থাকা ইরানিরা এটিকে চলমান যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ বলে উল্লেখ করেছে।

    এদিন হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার জন্য ইরান যে ১৬টি নৌযান পাঠিয়েছিল, তা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি প্রণালিতে কোনো মাইন পেতে থাকে, তা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।

    ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তাসহায়তা দেবে। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঝুঁকি খুব বেশি হওয়ায় আপাতত জাহাজ কোম্পানিগুলোর সামরিক পাহারার অনুরোধ নৌবাহিনী নাকচ করেছে।

    সিডনিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, তথ্যপ্রবাহের প্রভাবে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম অত্যন্ত অস্থির থাকবে। সম্ভবত ব্যারেলপ্রতি ৭৫ থেকে ১০৫ ডলারের মধ্যে তেলের দাম ওঠানামা করবে।

    এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে জি-৭ দেশের কর্মকর্তারা অনলাইনে বৈঠক করেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জি-৭ দেশের নেতাদের নিয়ে ভিডিও কলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানিবাজারে প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।

    এদিকে ড্রোন হামলার পর স্থাপনার একটি অংশে আগুন লাগায় আবুধাবিভিত্তিক তেল কোম্পানি অ্যাডনক রুয়াইস শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে। চলমান যুদ্ধে একের পর এক তেল শোধনাগারে হামলা হচ্ছে। এটি তার সর্বশেষ নজির।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগরপথে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এই সরবরাহ এখন যথেষ্ট নয়।

    ইরান যুদ্ধের কারণে প্রতিবেশী ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। ফলে উৎপাদনে বড় কাটছাঁট এড়াতে সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের ওপর নির্ভর করে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্যের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

    অন্যদিকে মরগ্যান স্ট্যানলি এক নোটে বলেছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানিবাজারে বিঘ্ন আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

    উচ্চ চাহিদার কারণে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল, পেট্রল ও ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত কমেছে বলে বাজার সূত্র জানিয়েছে। তারা মঙ্গলবার প্রকাশিত আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে।

    বাড়তি ব্যয় ভোক্তার ঘাড়েই চাপবে

    তেল পরিবহনকারী জাহাজ হরমজু প্রণালি এড়িয়ে চলছে। ফলে ইরান যুদ্ধের কারণে জাহাজ পরিবহনের খরচ বেড়েছে। সেই বাড়তি ব্যয় শেষমেশ ভোক্তাদের ওপরই চাপানো হবে—বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানির প্রধান বিবিসিকে এ কথা বলেছেন।

    ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং কোম্পানি মেয়ার্সকের প্রধান নির্বাহী ভিনসেন্ট ক্লার্ক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের প্রচলিত চুক্তিকাঠামোর মধ্যেই এমন ব্যবস্থা আছে। অর্থাৎ জ্বালানির দাম বাড়ুক বা কমুক, তা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়েই সমন্বয় করা হয়।’

    ভিনসেন্ট ক্লার্ক আরও বলেন, ‘এর মানে হলো, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন ব্যয় যতটা বাড়বে, তা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর পড়বে এবং সেখান থেকে তা ভোক্তাদের কাঁধেই চাপবে।’

    ডেনমার্কের কোম্পানিটির মূল ব্যবসা কনটেইনার পরিবহন। বিশ্বজুড়ে খেলনা, পোশাক, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য পরিবহনে তাদের কনটেইনার শিপিং আস্থার জায়গা করে নিতে পেরেছে।

  • মঞ্জুর ‘সামান্য’ শাস্তিতে খুশি নন জাহানারা, করলেন তিনটি অনুরোধ

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম। তাঁর সেই অভিযোগে বেশ তোলপাড়ই সৃষ্টি হয়েছিল। পরে স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঞ্জুকে ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি।

    গত ২২ ফেব্রুয়ারি যৌন হয়রানির ঘটনায় শাস্তি দেওয়া হয়েছিল মঞ্জুকে। এত দিন এই ঘটনা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি জাহানারা। তবে আজ ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, মঞ্জুর অন্য সহযোগীদেরও শাস্তি চান। প্রধান অভিযুক্ত মঞ্জুকে দেওয়া শাস্তিতেও খুশি নন জাহানারা।

    ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁরা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, মিস্টার মঞ্জুকে শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। কারণ, আমার সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমি যা যা ফেস করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি আমার কাছে খুব সামান্য মনে হয়েছে। আমি আরও অনেক বড় শাস্তি আশা করেছিলাম।’

    ক্রিকেটে তাঁর মতো আরও অনেক নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাঁদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মঞ্জুরুল ও তাঁর সহযোগীরা মানসিকভাবে তাঁকে অত্যাচার করেন।

    মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহানারা আলম
    মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহানারা আলম

    জাহানারা বলেন, ‘(আমাকে) সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে, এমনকি আমাকে চরম পর্যায়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’ তাঁদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তৌহিদ মাহমুদ (নারী দলের সাবেক ম্যানেজার) তো মারা গেছেন, মঞ্জুর সামান্য শাস্তি হয়েছে। কিন্তু তাঁর এই সহযোগী গ্রুপের তো কোনো বিচার হয়নি, শাস্তিও হয়নি।’

    ভিডিও বার্তায় নারী দলের সাবেক প্রধান আবদুর রাজ্জাকের কয়েকটি মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন জাহানারা। নারী দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘তিনি (আবদুর রাজ্জাক) আবারও মন্তব্য করেন তাঁর ভাই মিস্টার মঞ্জুর নাকি অনেক বড় শাস্তি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। মঞ্জু নাকি এত বড় শাস্তি ডিজার্ভ করে না। তিনি মন্তব্য করেন যে নারী ক্রিকেটাররা নাকি সমঝোতা করে ক্রিকেট খেলে বলে তিনি মনে করেন।’

    ভিডিও বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। মঞ্জু ও তাঁর সহযোগী গ্রুপের সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান জাহানারা। তিনি অভিযোগ জানানোর পর অন্য অঙ্গনের অনেক ক্রীড়াবিদও তাঁদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। তাঁদের এসব অভিযোগেরও তদন্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এই ক্রিকেটার। তা না করা হলে ওই ক্রীড়াবিদেরা খেলতে পারবেন না বলেও মনে করেন জাহানারা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জন্য নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সেফগার্ডিং পলিসির ব্যবস্থা করতেও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন জাহানারা।

  • মঞ্জুর ‘সামান্য’ শাস্তিতে খুশি নন জাহানারা, করলেন তিনটি অনুরোধ

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম। তাঁর সেই অভিযোগে বেশ তোলপাড়ই সৃষ্টি হয়েছিল। পরে স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঞ্জুকে ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি।

    গত ২২ ফেব্রুয়ারি যৌন হয়রানির ঘটনায় শাস্তি দেওয়া হয়েছিল মঞ্জুকে। এত দিন এই ঘটনা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি জাহানারা। তবে আজ ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, মঞ্জুর অন্য সহযোগীদেরও শাস্তি চান। প্রধান অভিযুক্ত মঞ্জুকে দেওয়া শাস্তিতেও খুশি নন জাহানারা।

    ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁরা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, মিস্টার মঞ্জুকে শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। কারণ, আমার সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমি যা যা ফেস করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি আমার কাছে খুব সামান্য মনে হয়েছে। আমি আরও অনেক বড় শাস্তি আশা করেছিলাম।’

    ক্রিকেটে তাঁর মতো আরও অনেক নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাঁদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মঞ্জুরুল ও তাঁর সহযোগীরা মানসিকভাবে তাঁকে অত্যাচার করেন।

    মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহানারা আলম
    মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহানারা আলম

    জাহানারা বলেন, ‘(আমাকে) সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে, এমনকি আমাকে চরম পর্যায়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’ তাঁদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তৌহিদ মাহমুদ (নারী দলের সাবেক ম্যানেজার) তো মারা গেছেন, মঞ্জুর সামান্য শাস্তি হয়েছে। কিন্তু তাঁর এই সহযোগী গ্রুপের তো কোনো বিচার হয়নি, শাস্তিও হয়নি।’

    ভিডিও বার্তায় নারী দলের সাবেক প্রধান আবদুর রাজ্জাকের কয়েকটি মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন জাহানারা। নারী দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘তিনি (আবদুর রাজ্জাক) আবারও মন্তব্য করেন তাঁর ভাই মিস্টার মঞ্জুর নাকি অনেক বড় শাস্তি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। মঞ্জু নাকি এত বড় শাস্তি ডিজার্ভ করে না। তিনি মন্তব্য করেন যে নারী ক্রিকেটাররা নাকি সমঝোতা করে ক্রিকেট খেলে বলে তিনি মনে করেন।’

    ভিডিও বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন জাহানারা। মঞ্জু ও তাঁর সহযোগী গ্রুপের সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান জাহানারা। তিনি অভিযোগ জানানোর পর অন্য অঙ্গনের অনেক ক্রীড়াবিদও তাঁদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। তাঁদের এসব অভিযোগেরও তদন্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী এই ক্রিকেটার। তা না করা হলে ওই ক্রীড়াবিদেরা খেলতে পারবেন না বলেও মনে করেন জাহানারা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জন্য নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সেফগার্ডিং পলিসির ব্যবস্থা করতেও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন জাহানারা।

  • মডেলকে বিয়ে করতে না পেরে পাকিস্তানি এমপির কাণ্ড

    পাকিস্তানের মডেল ও অভিনয়শিল্পী মোমিনা ইকবালকে সাইবার হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের এমপি সাকিব চাথারের বিরুদ্ধে। দেশটির প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্টের (পেকো) অধীনে মামলাটি দায়ের করেছে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)।

    পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য সাকিব চাথারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মোমিনা ইকবাল এনসিসিআইএ-তে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর এ মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়।

    মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাকিব চাথার, তার স্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন সহযোগী মিলে মোমিনাকে সাইবার হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করার পাশাপাশি তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে এই অভিনেত্রীর ওপর অবৈধ নজরদারি চালানো এবং তার আত্মীয়স্বজনদের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এফআইআরে উল্লেখ করা হয়, সাকিব চাথার আগেই বিবাহিত—বিষয়টি জানতে পেরে তার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মোমিনা ইকবাল। এরপরই ওই আইনপ্রণেতা মোমিনার কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও পাঠিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন এবং বিয়েতে রাজি না হলে তার ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে (লিক) দেওয়ার হুমকি দেন।

    তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, ২০২৩ সালেও সাকিব চাথার এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলেন, যার কারণে মোমিনার আগের একটি বিয়ের কথাবার্তা ভেঙে যায়।

    অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মোমিনা ইকবাল, তার বর্তমান স্বামী এবং পরিবারের সদস্যদের ফোনে অনবরত হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হতো। একই ধরনের বার্তা পাঠানো হতো মোমিনার বোনের ফোনেও।

    এজাহারে বলা হয়েছে, হুমকিমূলক বার্তাগুলো সাকিব চাথারের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর থেকে এসেছে বলে শনাক্ত করা গেছে। এছাড়া, ওই আইনপ্রণেতার পাঠানো ব্ল্যাকমেইলের ভিডিওগুলো মোমিনার মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    পেশায় আইনজীবী মোমিনার বোন এ হুমকির সপক্ষে একটি ভিডিও প্রমাণ এনসিসিআইএ-র কাছে জমা দিয়েছেন। ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে ওই ভিডিও এবং মোবাইল ফোনটি জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    এফআইআরে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সাকিব চাথার তার মোবাইল ফোনটি এনসিসিআইএ-র কাছে জমা দেওয়ার আগেই ফোন থেকে সব ডেটা ও অ্যাপস মুছে (ডিলিট) ফেলেন।

    এর আগে, হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে লাহোরের চুং থানায় সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়েছিলেন মোমিনা। সেখানে দেওয়া আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকে ওই আইনপ্রণেতা বারবার তার এবং তার তৎকালীন বাগদত্তা (যিনি এখন তার স্বামী) সঙ্গে যোগাযোগ করে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

    মোমিনা আরও জানান, সাকিব চাথার তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল ও মেসেজ দিয়েও হুমকি দিতেন। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে মোমিনা তার আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে চুং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফাহিম ইমদাদের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন।

    উল্লেখ্য, মোমিনা ইকবালের বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালীন এ বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

     

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, ভারত সফর স্থগিত করলেন শাকিরা

    পপ তারকা শাকিরার ‘ফিডিং ইন্ডিয়া কনসার্ট’ নিয়ে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সে আশায় জল ঢেলে দিল বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণ দেখিয়ে শাকিরার ভারত সফর আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকেরা।

    আয়োজক সংস্থা ‘ডিস্ট্রিক্ট বাই জোম্যাটো’ ইনস্টাগ্রামে একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, ‘বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে শাকিরার ফিডিং ইন্ডিয়া কনসার্ট আপাতত স্থগিত করা হলো। অনুরাগী, শিল্পী ও প্রোডাকশন টিমের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক টিকিট হোল্ডার পাঁচ থেকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে টিকিটের অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত পেয়ে যাবেন। তবে এ ঘোষণায়ও শান্ত হননি অনুরাগীরা।

    [caption id="attachment_270115" align="alignnone" width="917"] শাকিরা। রয়টার্স[/caption]

    প্রসঙ্গত, এর আগে মার্কিন র‍্যাপার কেনি ওয়েস্টের কনসার্টও একই কারণে পিছিয়ে গেছে। ২৯ মার্চ দিল্লিতে তাঁর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে তা পিছিয়ে আগামী ২৩ মে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ২০০৭ সালে শেষবার মুম্বাইয়ে পারফর্ম করেছিলেন শাকিরা। দীর্ঘ ১৮-১৯ বছর পর ১০ ও ১১ এপ্রিল মুম্বাই এবং ১৫ এপ্রিল দিল্লিতে তাঁর মঞ্চ মাতানোর কথা ছিল। শাকিরা নিজেও এ সফর নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন, কারণ এ অনুষ্ঠানের নেপথ্যে একটি মহৎ উদ্দেশ্য ছিল। আয়োজকেরা জানিয়েছেন যে তাঁরা শিল্পীর টিমের সঙ্গে কথা বলে নতুন দিন ঘোষণা করার চেষ্টা করছেন।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে এল প্রথম এলপিজি ট্যাংকার

    চট্টগ্রাম

  • মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ভাবনা, নজর কাড়লেন কাতান ওভারকোটে

    মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৪৮তম আসরে নিজের 'কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস' সিনেমা নিয়ে গিয়েছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। নজর কাড়লেন তন্বী কবিরের ডিজাইন করা কাতান ওভারকোটে।

    অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা যখনই রূপালি পর্দায় আসেন, থাকে বড় চমক। এবার মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৪৮তম আসরে নিজের 'কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস' সিনেমা নিয়ে গিয়েছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। এখানে আর্টকোর সেকশনে অফিসিয়ালি মনোনীত হয়েছে নির্মাতা আসিফ ইসলামের এই সিনেমা।

    মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৪৮তম আসরে অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা
     
    মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৪৮তম আসরে অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা
    'কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস' সিনেমা নিয়ে গিয়েছেন ভাবনা
     
    'কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস' সিনেমা নিয়ে গিয়েছেন ভাবনা
    এখানে বাংলাদেশের ট্র্যাডিশনাল যাত্রাপালার মতো সমৃদ্ধ এক শিল্পমাধ্যমের সূর্য ধীরে ধীরে অস্ত যাওয়ার আখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। যাত্রার প্রিন্সেস হয়ে এক আবেদনময় নৃত্যশিল্পীর ভূমিকায় দেখা যাবে ভাবনাকে এখানে। নাচের মেয়ে ভাবনা এমনিতেই নাচের মুদ্রায় নিজেকে আকর্ষণীয় লুকে তুলে ধরতে অত্যন্ত পারদর্শী। তাই এই সিনেমায় তাঁর চরিত্রায়ণ নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শক ও ভক্তদের মাঝে।

    এদিকে দেশি ফ্যাশনকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সবসময় নিজের সর্বোচ্চটাই দেন ভাবনা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি।

    কাতান ওভারকোটে রীতিমতো আলো ছড়াচ্ছেন ভাবনা
     
    কাতান ওভারকোটে রীতিমতো আলো ছড়াচ্ছেন ভাবনা
     

    ডিজাইনার তন্বী কবিরের নকশা ও নিখুঁত এক্সিকিউশনে তৈরি কাতান ওভারকোটে রীতিমতো আলো ছড়াচ্ছেন ভাবনা মস্কোর এই চলচ্চিত্র উৎসব প্রাঙ্গণে। নজরকাড়া নেকপিস ড্যাজল বাই সোনিয়ার।

    লাল টুকটুকে ট্র্যাডিশনাল এই ওভারকোটের ডিজাইন নিয়ে কথা হলো তন্বীর সঙ্গে। তিনি বললেন, 'আমরা কাতান কে আলমিরায় যত্ন করে রেখে দিতে দেখেছি মা-দাদি-নানিদেরকে।কাতান কে আমরা যত্ন করি, মাঝে মাঝে রোদে দিই আর বিয়ের পোশাক বলেই ভাবি। মজা করে হাসতে হাসতে বললেন, আমি তাই এবার কাতান কে তাই একেবারে বিয়েবাড়ি থেকে বের করে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছি। সিঁদুর লাল রঙের পিওর সিল্ক কাতানকে শাড়ির বাইরে নতুন করে ভেবেছি।'

     
    লাল টুকটুকে ট্র্যাডিশনাল এই ওভারকোটের ডিজাইন ডিটেইলস
     
    লাল টুকটুকে ট্র্যাডিশনাল এই ওভারকোটের ডিজাইন ডিটেইলস
     
    তাঁতে বিশেষভাবে কাপড় বুনে বানানো হয়েছে এই লাল কোট।আর একদম আদি বেনারসি মোটিফে সাজানো হয়েছে
     
    তাঁতে বিশেষভাবে কাপড় বুনে বানানো হয়েছে এই লাল কোট।আর একদম আদি বেনারসি মোটিফে সাজানো হয়েছে
     

    তিনি আরও বলেন, শাড়ি থেকে নয়, বরং তাঁতে বিশেষভাবে কাপড় বুনে বানানো হয়েছে এই লাল কোট। আর একদম আদি বেনারসি মোটিফে সাজানো হয়েছে। তাঁর বয়ানে, 'শাড়ি কেটে আমরা অনেকেই বানাই পোশাক। কিন্তু আমরা যদি ডাইভার্সিফাই করতে চাই আমাদের কাতানের মতো হেরিটেজ টেক্সটাইলগুলো, তাহলে আমাদেরকে এই শাড়িকাটা পোশাকের ধারনা থেকে বের হয়ে আলাদা করে এক্সক্লুসিভভাবে পোশাকের জন্য ম্যাটেরিয়াল বুনতে হবে। আর সেভাবেই ডিজাইন করতে হবে।' এই বিষয়টি আমাদের দেশের ডিজাইনারদেরকে ভাবতে হবে বলে মতামত দেন তন্বী। মিরপুর কাতান নিয়ে তাঁর পুরো কাজ, ডিজাইন ভাবনা ও এক্সিকিউশনে হেরিটেজ টেক্সটাইল এক্সপার্ট ও জ্যেষ্ঠ ফ্যাশন সাংবাদিক শেখ সাইফুর রহমানের এক্সটেনসিভ গাইডেন্স ও পরামর্শের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান ডিজাইনার তন্বী।

    সেই সঙ্গে অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনাকে দেশের বাইরে এমন সম্মানজনক আসরে নিজের গৌরবময় মুহূর্তে দেশিয় ফ্যাশনকে সগর্বে তুলে ধরার জন্য আলাদাভাবে ধন্যবাদ দিতেই হয়। এর আগেও তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে দেশের বিভিন্ন ডিজাইনারদের কাজ ও দেশের হেরিটেজ টেক্সটাইলগুলোকে তুলে ধরে নজর কেড়েছিলেন সবার।

     
    নিজের গৌরবময় মুহূর্তে দেশিয় ফ্যাশনকে সগর্বে তুলে ধরেন ভাবনা
     
    নিজের গৌরবময় মুহূর্তে দেশিয় ফ্যাশনকে সগর্বে তুলে ধরেন ভাবনা
    বেসিক কালো ফিটেড প্যান্ট ও কালো টপ আছে সঙ্গে
     
    বেসিক কালো ফিটেড প্যান্ট ও কালো টপ আছে সঙ্গে
     

    এখানে ক্লিন লাইনের সিলুয়েট দেখা যাচ্ছে ওভারকোটে। আছে মিনিমাল অথচ জমকালো আমেজ। বেসিক কালো ফিটেড প্যান্ট ও কালো টপের কারণে আরও বেশি যেন হাইলাইট হচ্ছে কাতানের জৌলুস।

    ভাবনার স্টাইলিংও দুর্দান্ত হয়েছে বলতেই হয়। ক্যারি করেছেন তিনি এই কাতান কোট যথার্থভাবে।

    ক্যারি করেছেন তিনি এই কাতান কোট যথার্থভাবে
     
    ক্যারি করেছেন তিনি এই কাতান কোট যথার্থভাবে
    ব্রাউন হাইলাইট করা খোলা চুল খুব মানিয়েছে
     
    ব্রাউন হাইলাইট করা খোলা চুল খুব মানিয়েছে
     

    ব্রাউন হাইলাইট করা খোলা চুল, কন্ট্রাস্ট সবুজ স্টেটমেন্ট নেকপিস আর মানানসই ব্যাগ সঙ্গত দিচ্ছে দারুণভাবে।

    সোনায় সোহাগা হয়েছে লাল লিপকালার। সাজে এমনিতে কোনো বাহুল্য নেই। নেকপিসের সঙ্গে হাতে আছে স্টেটমেন্ট আংটিও।

    সোনায় সোহাগা হয়েছে লাল লিপকালার
     
    সোনায় সোহাগা হয়েছে লাল লিপকালার
    হাতে আছে স্টেটমেন্ট আংটিও
     
    হাতে আছে স্টেটমেন্ট আংটিও

    অভিনেত্রী ভাবনা ঠিক এভাবেই দেশের গৌরবময় ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ ও ডিজাইনারদের কাজকে বিশ্বের সবার কাছে সবসময় তুলে ধরুন, এই কামনা রইল।

  • মহাকাশ স্টেশনে কৃত্রিম ভ্রূণ পাঠাল চীন, কেন

    মহাকাশের শূন্যতায় বা ভিনগ্রহের প্রতিকূল পরিবেশে মানুষ কি কখনো নিজেদের বংশবৃদ্ধি করতে পারবে? দীর্ঘমেয়াদি মহাজাগতিক যাত্রার প্রাক্কালে এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার এক অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ নিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের বাইরে মানুষের প্রজনন ও প্রাথমিক বিকাশের রহস্য উদ্‌ঘাটনে প্রথমবারের মতো মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়েছে মানুষের কৃত্রিম ভ্রূণের মডেল। মহাশূন্যের মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা অতিসামান্য মাধ্যাকর্ষণ এবং মহাজাগতিক বিকিরণ মানুষের বিকাশের একেবারে প্রাথমিক স্তরগুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন চীনা গবেষকেরা। এই লক্ষ্যে তাঁরা মানুষের স্টেম সেল বা কোষ থেকে তৈরি বিশেষ কিছু কাঠামো চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছেন, যা মানব ইতিহাসের প্রথম মহাকাশভিত্তিক কৃত্রিম ভ্রূণ মডেলের পরীক্ষা। নমুনাগুলো তিয়ানঝৌ-১০ নামক একটি কার্গো মহাকাশযানের মাধ্যমে গত মে মাসের শুরুর দিকে তিয়াংগং স্টেশনে পৌঁছায়। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব জুলজির বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ পরীক্ষা পরিচালনা করছেন।

    মহাকাশে পাঠানো এই ভ্রূণ কিন্তু কোনো পূর্ণাঙ্গ মানবশিশু বা ভ্রূণ তৈরিতে সক্ষম নয়। বিজ্ঞানীরা এগুলোকে বলছেন কৃত্রিম ভ্রূণ মডেল, যা মানুষের স্টেম সেল থেকে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে বড় করা হয়েছে। এগুলো মূলত নিষিক্তকরণের পর থেকে ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত একটি আসল ভ্রূণ যেভাবে বাড়ে, ঠিক সেই পর্যায়কে অনুকরণ করতে পারে। এই কোষগুলো নিজে নিজেই বিন্যস্ত হতে এবং বিভাজিত হতে পারে, কিন্তু এগুলো কখনোই কোনো পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হবে না। এই সুনির্দিষ্ট পার্থক্যের কারণেই বিজ্ঞানীরা কোনো ধরনের নৈতিক বিধিনিষেধ বা আইনি জটিলতা ছাড়াই আদিম মানববিকাশের ওপর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানোর সুযোগ পেয়েছেন।

    চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব জুলজির বিজ্ঞানী ইউ ল্যচিয়ান বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে মহাকাশ এবং পৃথিবীতে রাখা নমুনার বিকাশের মধ্যে তুলনা করার মাধ্যমে আমরা মহাকাশের পরিবেশে মানুষের প্রাথমিক ভ্রূণের বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলা উপাদানগুলো শনাক্ত করতে পারব। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ বসবাসের সময় মানুষ যেসব ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে। এটি কোনো আসল মানুষের ভ্রূণ নয় এবং এর কোনো ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা নেই। তবে এটি মানুষের প্রাথমিক বিকাশের ধাপগুলো অধ্যয়নের জন্য একটি চমৎকার মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।’

    পৃথিবীর সব প্রাণীর বিবর্তন ঘটেছে এখানকার নির্দিষ্ট মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অধীনে। কিন্তু মহাকাশের কক্ষপথের মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা ওজনহীনতা এবং উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর বিকিরণ মানুষের শরীরের কোষের বিন্যাস, জিনের প্রকাশ কিংবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। যেহেতু মানুষ এখন মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘকাল থাকার এবং ভবিষ্যতে দূরবর্তী গ্রহে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, তাই মানবদেহে এই প্রভাবগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প প্রধান ইউ ল্যচিয়ান জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো একটি অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা, আর তা হলো মানুষ কি মহাকাশে বেঁচে থাকতে এবং প্রজনন বা বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম? মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মানুষের একদম শুরুর দিকের শারীরিক বিকাশের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা বিজ্ঞানীরা একবার পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলে এর যেকোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব বা ক্ষতি প্রতিরোধ করার উপায়গুলোও সহজেই খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • মা আনোয়ারার স্বপ্নপূরণে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত চিত্রনায়িকা মুক্তির

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আগামী আসরের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। আর এ সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তাঁর মা, অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা। মুক্তি জানিয়েছেন, শিল্পী সমিতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এবার তিনি সরাসরি নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে চান। তবে এ সিদ্ধান্ত এক দিনে নয়, বরং মায়ের স্বপ্ন, শিল্পীদের অনুরোধ এবং দীর্ঘদিনের সংগঠনিক অভিজ্ঞতা মিলেই এসেছে।

    রুমানা ইসলাম মুক্তি
    রুমানা ইসলাম মুক্তি, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

    মুক্তি বলেন, ‘আমার মা সব সময় চাইতেন, আমি যেন শিল্পীদের কল্যাণে আরও বড় দায়িত্বে যাই। তাঁর ইচ্ছা ছিল, আমি যেন শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে থেকে কাজ করি। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ শুধু মায়ের স্বপ্নই নয়, বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাঁকে উৎসাহিত করেছে বলে জানান মুক্তি। গত দেড় বছরে তিনি সহকর্মী শিল্পীদের সঙ্গে নানা সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

    রুমানা ইসলাম মুক্তি
    রুমানা ইসলাম মুক্তি, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
     

    মুক্তি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে শিল্পীদের উপহার বিতরণ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন এবং প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণে বড় পরিসরে স্মরণসভার মতো উদ্যোগে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ—যেখানে নেতৃত্বে আছেন মিশা সওদাগর ও ডিপজলের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ২৪ এপ্রিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। সেই হিসাবে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    অভিনেত্রী মা আনোয়ারা ও চিত্রনায়িকা মেয়ে মুক্তি
    অভিনেত্রী মা আনোয়ারা ও চিত্রনায়িকা মেয়ে মুক্তি সংগৃহীত

    এবারের নির্বাচনে মুক্তির নেতৃত্বে একটি প্যানেল গঠনের আলোচনাও চলছে বলে জানা গেছে। শিল্পীদের একটি অংশ মনে করছেন, তাঁর দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও শিল্পীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।

    ১৯৯২ সালে গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় যাত্রা শুরু করেন রুমানা ইসলাম মুক্তি। এরপর ‘চাঁদের আলো’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘হাছন রাজা’, ‘জগৎ সংসার’সহ একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    রুমানা ইসলাম মুক্তি
    রুমানা ইসলাম মুক্তি, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

    মুক্তির মা আনোয়ারা বেগম দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। মেয়ের এই নতুন সাংগঠনিক যাত্রায় মায়ের ভূমিকা তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। সব মিলিয়ে মায়ের স্বপ্নপূরণ, শিল্পীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন এক যাত্রায় পা রাখছেন মুক্তি। এখন দেখার বিষয়, শিল্পী সমিতির ভোটের মাঠে এই সম্পর্ক ও ঐতিহ্যের প্রভাব কতটা কাজ করে।

  • মা হওয়ার পর ফিরছেন ক্যাটরিনা, তবে...

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ মা হওয়ার পর আবারও অভিনয়জগতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এবার তিনি শুধু চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না, বরং ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও কাজ করার কথা ভাবছেন।
    গত বছরের ৭ নভেম্বর পুত্রসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন বলিউড দম্পতি ভিকি কৌশল এবং ক্যাটরিনা কাইফ। কৌশল পরিবারের নতুন সদস্যের নাম তাঁরা রেখেছেন বিহান। দীর্ঘ সময় অভিনয়জগৎ থেকে দূরে আছেন ক্যাট।

    জানা গেছে, ক্যাটরিনা নতুন নতুন গল্পের চিত্রনাট্য পড়া এবং বাছাই করা শুরু করেছেন। তিনি খুব ভেবেচিন্তে তাঁর পরবর্তী প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেবেন। ২০২৭ সালের শেষ দিকে তিনি তাঁর নতুন সিনেমা বা অন্য কোনো প্রকল্পের শুটিং শুরু করতে পারেন। কোনো কাজেই তাড়াহুড়া করতে চান না তিনি।

    ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশল
    ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশল, ফেসবুক থেকে
     

    ওটিটিতে নজর
    প্রথমবারের মতো কোনো ওয়েব সিরিজ বা ডিজিটাল প্রকল্পে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ক্যাটরিনা। কারণ, বর্তমান সময়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো শিল্পীদের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি করছে। মা হওয়ার পর এখন তিনি এমন চরিত্র খুঁজছেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

    ক্যাটরিনা কাইফ
    ক্যাটরিনা কাইফ, ফেসবুক থেকে
     

    বড় পর্দা থেকে দূরে
    ক্যাটরিনা কাইফকে সর্বশেষ ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মেরি ক্রিসমাস’ চলচ্চিত্রে দেখা গিয়েছিল। শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণি তারকা বিজয় সেতুপতি। এর পর থেকে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এবং গণমাধ্যম থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন।

    ২০২১ সালে ক্যাটরিনা আর ভিকি কৌশল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ক্যাটরিনা ‘ওয়েলকাম’, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ এবং ‘এক থা টাইগার’–এর মতো ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর ভক্তরা এখন বড় পর্দা কিংবা ওটিটি—যেকোনো মাধ্যমে তাঁর প্রত্যাবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

  • মা হচ্ছেন অভিনেত্রী পূজা

    সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন দ্বিতীয়বার মা হতে যাচ্ছেন বলে খবর দেন। এরই মধ্যে আরও এক ভারতীয় অভিনেত্রী সুখবর শেয়ার করেছেন। দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়
    পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়,ছবি: ইনস্টাগ্রাম
     

    সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভ্লগে স্বামী কুণাল ভার্মার সঙ্গে এই সুখবর জানান পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানান, তিনি আবার গর্ভবতী। ভ্লগে নিজেই পজিটিভ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট দেখিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি—যেমনটা সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোনও সামাজিক মাধ্যমে করেছিলেন।

    ২০২০ সালের অক্টোবরে পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ভার্মার ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম সন্তান কৃষভ। বিয়ের চার বছর পর এবার আবারও নতুন সদস্য আসছে তাঁদের পরিবারে। বর্তমানে নতুন অতিথিকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। ভ্লগে শুধু আনন্দের কথা নয়, এক সন্তান থাকার পর দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে যে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো আসে, সেগুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই দম্পতি।
    প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর পূজা ও কুণাল ২০২০ সালে আইনি বিয়ে সেরেছিলেন। করোনা মহামারির কারণে সেই সময় বড় অনুষ্ঠান বাতিল করে তাঁরা বিয়ের বাজেট দান করেছিলেন সমাজসেবায়।

    দেবের বিপরীতে ‘চ্যালেঞ্জ ২’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূজা। তাঁকে আরও দেখা গেছে, ‘রকি’, ‘হইচই আনলিমিটেড’-এর মতো সিনেমায়। ‘পাপ’, ‘ক্যাবারে’ ওয়েব সিরিজেও দেখা গেছে তাঁকে।
    ‘কাহানি হামারে মহাভারত কি’, ‘তুঝ সাং প্রীত লাগাই সাজনা’–এর মতো হিন্দি সিরিয়ালেও দেখা গেছে পূজাকে। ‘বাংলা ড্যান্স বাংলা ড্যান্সে’র বিচারকও ছিলেন পূজা।

  • মা হারালেন শিউলি আজিম

    নেপালের বিপক্ষে আগামীকাল সাফের সেমিফাইনাল সামনে রেখে  আজ সকাল ৭ টায় বাংলাদেশ দলের অনুশীলন হওয়ার কথা ছিল বামবোলিম অ্যাথলেটিক গ্রাউন্ড -এ। মারগাঁও থেকে এই মাঠটি ২৪ কিলোমিটার দূরে।

    সাংবাদিকরা ৬. ৩০ মিনিটে অনুশীলন কভার করতে আসেন। এসেই পেলেন দুঃসংবাদ। বাংলাদেশ দলের সেন্টার ব্যাক শিউলি আজিমের মা মারা গেছেন। ভোর ৫ টায় আসে এ খবর। ফলে অনুশীলন বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ দল অনুশীলন মাঠে আসেনি।

    আজ আর বাংলাদেশ দলের কোনো অন ফিল্ড অনুশীলন সেশন হবে না বলে দল থেকে জানানো হয়েছে।

  • মাংস বিলির দায়িত্ব পড়ত আমার ওপর: গুলশান আরা চম্পা

    শুটিংয়ের কারণে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও কেটেছে ঈদের দিন। তা-ও একাধিকবার। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মতো ঈদের আনন্দ পৃথিবীর আর কোথাও নেই। শৈশবের ঈদ, অভিনয়জীবনের ঈদ, আর এবার সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনের মধ্য দিয়ে কাটানো ঈদুল আজহা—সব মিলিয়ে ঈদ আমার কাছে স্মৃতি, ভালোবাসা আর ত্যাগের গল্প।

    ছোটবেলার ঈদ

    পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় কেটেছে আমার শৈশব। তখন ঈদ মানেই ছিল উৎসবের অপেক্ষা। কোরবানির ঈদের (ঈদুল আজহা) চেয়ে রোজার ঈদই (ঈদুল ফিতর) আমাকে বেশি টানত। ঈদের চাঁদ দেখার অপেক্ষা, নতুন জামা পরার আনন্দ—সবকিছু ঘিরে অন্য রকম উচ্ছ্বাস কাজ করত।

    আর কোরবানির ঈদে ছোটবেলায় মন কিছুটা খারাপ থাকত। তবে কোরবানির মাংস বিলি করাটা বেশ উপভোগ করতাম। আনন্দ নিয়েই কাজটা করতাম। বড় হয়ে, বিয়ের পর সেই কাজটা আমি আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে করতাম।

    কোরবানির ঈদে আমাদের বাসায় গরু ও ছাগল দুটোই কোরবানি হতো। হাট থেকে কিনে আনার পর আমি গরু-ছাগল খুব আদর করতাম। আমি তিন বোনের পরিবারে বড় হয়েছি। দুজন আমার বড়। তাই সুচন্দা আপা ও ববিতা আপার আদরের ছিলাম।

    পর্দার তারকা হলেও ঘরের কাজে কখনো ছাড় পাইনি। তিন বোনই সিনেমার কাজের বাইরে ঘরের কাজে সহযোগিতা করতাম। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের নানা কাজ করতাম। ঈদ এলে আমার ওপর পড়ত মাংস বণ্টনের দায়িত্ব।

    আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়ার কাজটি আমাকে করতে হতো। বিয়ের পর নিজের সংসারেও সেই দায়িত্বই পালন করেছি।

    শৈশবের ঈদের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতিগুলোর একটি হলো নতুন পোশাক, মাথার ফিতা, চুড়ি আর জুতা ঘিরে। বাবা নতুন জামা-জুতা কিনে না দিলে ঈদ পূর্ণই হতো না। বলতাম, নতুন জামা, মাথার ফিতা, হাতের চুড়ি আর নতুন জুতা আমার চাই-ই চাই। একদম নাছোড়বান্দা ছিলাম।

    কোরবানির ঈদ আমার জন্য তিন দিন চলত। তাই তিন দিনের জামাকাপড় চাই। রোজার ঈদ অবশ্য আরও বেশি, পাঁচ দিন। ঈদের আগের রাতে জামা বালিশের নিচে আর জুতা পাশে রেখে ঘুমাতাম।

    তারপর একটু পরপর ঘুম থেকে উঠে দেখতাম, সব ঠিক আছে কি না। জামা আছে তো, জুতা আছে তো, ফিতা আছে তো—এসব দেখেই আবার ঘুমাতাম। কখন ভোর হবে, সকাল হচ্ছে না কেন—অস্থির হয়ে থাকতাম।

    নায়িকার ঈদ

    অভিনয়জীবনে ঈদ মানেই ছিল নতুন সিনেমা মুক্তির আনন্দ। ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতাম। কখনো নাজ, কখনো মধুমিতা কিংবা মিরপুরের সনি সিনেমা হল—প্রতিটি হলে আলাদা স্মৃতি আছে আমার।

    অভিনয়জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঈদগুলোর একটি কেটেছিল ভারতের ওডিশায়। সঠিক সময়টা মনে নেই, কিন্তু মনে আছে সেটা নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি। আমি তখন কাজ করছিলাম সন্দীপ রায় পরিচালিত টার্গেট সিনেমায়। ছবিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন ওম পুরী। কোরবানির ঈদের দিনও চলছিল শুটিং।

    ইউনিটের সবাই এত আন্তরিক ছিলেন যে আমাকে কখনোই বিদেশে আছি, এমনটা বুঝতে দেননি। শুটিং পেছানোর সুযোগ থাকলেও আমি নিজেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মনে হয়েছিল, ঈদ তো জীবনে আবার আসবে।

    নায়িকা হওয়ার পর ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতেন চম্পা
    নায়িকা হওয়ার পর ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতেন চম্পা
     

    কিন্তু এত মানুষের শিডিউল একবার নষ্ট হলে সেটি মেলানো কঠিন। তাই কাজটাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। সেবার ঈদের দিনেও কাজ করেছিলাম।

    আমার কাছে কোরবানির ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি জীবনের গভীর এক শিক্ষা। ত্যাগ, ভালোবাসা আর ভাগাভাগির শিক্ষা। এই ঈদ আমাদের শেখায়, মানুষ তার সবচেয়ে প্রিয় ও মূল্যবান জিনিসও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করতে পারে।

    সেই ত্যাগের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আত্মশুদ্ধি, বিনয় ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার এক সুন্দর বার্তা। কোরবানির মাধ্যমে শুধু একটি পশু উৎসর্গ করা হয় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতাও ত্যাগের প্রতীকী চর্চাও হয়। সেই ত্যাগের আনন্দই শেষ পর্যন্ত সমাজে সহমর্মিতা, ভাগাভাগি আর মানবিকতার সম্পর্ক আরও সুন্দর করে তোলে।

    এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা আমার জীবনে বিশেষ আনন্দ নিয়ে এসেছে। বহুদিনের স্বপ্ন ছিল হজ পালন করার। নানা কারণে কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও যাওয়া হয়নি। অবশেষে এবার সৌদি আরবে হজ পালন করতে এসেছি।

    পরিবারের সদস্যরাও আমার সঙ্গে আছে। মনে হচ্ছে, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঈদটা এবারই কাটতে যাচ্ছে। পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অন্য রকম এক অনুভূতির মধ্যে আছি।

    অনুলিখন: মনজুর কাদের

  • মাঠের অতন্দ্র প্রহরী থেকে এবার ক্রীড়াঙ্গনের ‘ক্যাপ্টেন’ আমিনুল

    ফুটবল মাঠে একসময় যাঁর বিশ্বস্ত হাত প্রতিপক্ষের গোল রুখে দিত, সেই আমিনুল হক এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ অভিভাবক। দীর্ঘ জল্পনা আর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে ‘টেকনোক্র্যাট কোটায়’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। মাঠ থেকে পরে মন্ত্রিসভায় যাওয়ার নজির অবশ্য এ দেশে নতুন নয়। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও আরিফ খান জয়রাও বুট জোড়া তুলে রেখে রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেছিলেন। হয়েছিলেন মন্ত্রীও।

    ভোলার ছেলে আমিনুলের বেড়ে ওঠা ঢাকার মিরপুরে। বড় ভাই মঈনুল হকও ছিলেন মাঠের মানুষ। ভাইয়ের হাত ধরেই ফুটবলের প্রেমে পড়া। কিশোর বয়সে খ্যাপ খেলে পাওয়া প্রথম ১৫০ টাকা যখন মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেই তৃপ্তির হাসিই যেন আমিনুলকে বুঝিয়ে দিয়েছিল—তাঁকে অনেক দূর যেতে হবে। পাইওনিয়ার লিগের এমএসপিসি সিটি ক্লাবে যখন হাতেখড়ি হলো, তখনই কোচরা টের পেয়েছিলেন, এই ছেলেটি বিশেষ কিছুর জন্য জন্ম নিয়েছে।

    অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য, নব্বইয়ের দশকে ঢাকার পাইওনিয়ার লিগে নিজের প্রথম ৯ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি আমিনুল। পাইওনিয়ার লিগে নৈপুণ্যের পর আমিনুলকে ঢাকার প্রথম বিভাগ লিগের দল ইস্ট এন্ড ক্লাবে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাই মঈনুল হক এবং মোহামেডানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ইমতিয়াজ সুলতান জনির সহায়তায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তাঁকে দলে ভেড়ায়। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ছাঈদ হাসান কানন ক্লাবে থাকায় মোহামেডানে আমিনুলের সময়টা কেটেছিল তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে।

    ২০০১ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে বাংলাদেশের ফুটবলের তিন তারকা হাসান আল মামুন, আমিনুল হক (মাঝে) ও আলফাজ আহমেদ
    ২০০১ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে বাংলাদেশের ফুটবলের তিন তারকা হাসান আল মামুন, আমিনুল হক (মাঝে) ও আলফাজ আহমেদছবি: ফেসবুক

    মোহামেডানের সঙ্গে দুই বছরের বাইন্ডিংস শেষে আমিনুল ১৯৯৬ সালের প্রিমিয়ার লিগে ফরাশগঞ্জ এসসিতে নাম লেখান। কোচ প্রাণ গোবিন্দ কুণ্ডুর অধীনে আমিনুল দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে খেলেন। আমিনুলের অভিষেক মৌসুমে ফরাশগঞ্জ লিগে ষষ্ঠ হয়ে অবনমন এড়ায়। ১৯৯৬ সালে ফরাশগঞ্জের জার্সি গায়েই আমিনুল বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত তিনি। তাঁর রক্ষণব্যূহের সামনে দেশের সেরা স্ট্রাইকাররা বারবার খেই হারিয়ে ফেলতেন। সেই লিগের দুই পর্বে আবাহনী-মোহামেডানের বিপক্ষে চার ম্যাচে ফরাশগঞ্জ হারেনি। চারটিই হয়েছে ড্র। আবাহনীকে রুখে দিলে মোহামেডান পুরস্কার দিত ১০ হাজার টাকা, আবার মোহামেডানকে রুখলে আবাহনী দিত ১০ হাজার টাকা। এভাবে ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি প্রেরণা পান বড় দলের কাছ থেকে।

    জাতীয় দলে অভিষেক ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। খেলেছেন ২০১১ পর্যন্ত। চোট ছাড়া তাঁকে কখনো বসে থাকতে হয়নি। আমিনুলের জন্যই জাতীয় দলে বেশি খেলার সুযোগ হয়নি বিপ্লব ভট্টাচার্যর।

    আমিনুলের ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে দলটির গোলপোস্টের নিচে ছিলেন। এর মধ্যে ২০০০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত দলটিকে এনে দিয়েছেন অসংখ্য ট্রফি। আবাহনী, মোহামেডান বা শেখ জামালের হয়ে যখনই তিনি মাঠে নেমেছেন, সমর্থকদের মনে নিশ্চিন্ত ভরসা জেগেছে। দলকে এনে দিয়েছেন ট্রফি। ২০০৯ সালে প্রথম সুপার কাপের ফাইনালে মোহামেডানকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, স্বীকৃতিস্বরূপ টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন।

    ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের গোলকিপার আমিনুল হক
    ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের গোলকিপার আমিনুল হক, ছবি: এএফপি

    জাতীয় দলে অভিষেক ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। খেলেছেন ২০১১ পর্যন্ত। চোট ছাড়া তাঁকে কখনো বসে থাকতে হয়নি। আমিনুলের জন্যই জাতীয় দলে বেশি খেলার সুযোগ হয়নি বিপ্লব ভট্টাচার্যর।

    ২০০৩ সালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম মেতেছিল সাফ ট্রফি জয়ের আনন্দে। পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল সাফের ফাইনালের দিকে। মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকারে আমিনুল যখন দ্বিতীয় শটটি রুখে দিলেন, তখন পুরো গ্যালারি গর্জে উঠেছিল। সেই মুহূর্তটি আমিনুলকে পরিণত করেছিল জাতীয় নায়কে। বাংলাদেশের ফুটবলে এখনো ২০০৩ সালের সাফ জয়ই শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে গণ্য করা হয়।

     

    ২০১০ সালের এসএ গেমস ছিল আমিনুলের ক্যারিয়ারের আরও এক স্মরণীয় মাইলফলক। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল সোনা জিতেছিল এবং বিস্ময়করভাবে পুরো টুর্নামেন্টে আমিনুলের বিপক্ষে কোনো গোল হয়নি। ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে ভিয়েতনামের সঙ্গে ড্র দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে বড় জয় পায় বাংলাদেশ। তারপর সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হারলেও তাঁর লড়াকু মনোভাব প্রশংসিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলে। দাম্মামের রাস্তায় বেরোলে তাঁকে ঘিরে ধরতেন প্রবাসীরা। কাতার যুব দলের সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রীতি ম্যাচ ড্রয়ের পর দোহার এক প্রবাসীর কাছে পাওয়া ২০০ রিয়াল পুরস্কার আমিনুলের ফুটবল–জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি।

    গোলকিপারের জার্সিতে আমিনুল হক
    গোলকিপারের জার্সিতে আমিনুল হক, ফেসবুক

    বাংলাদেশের সাফ জয়ের নেপথ্য কারিগর প্রয়াত অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের প্রিয় ছাত্র ছিলেন আমিনুল। কোটান থেকে শুরু করে অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞর মতেই আমিনুলের প্রতিভা ছিল ইউরোপের বড় লিগে খেলার মতো। কাতারের আল হিলাল ক্লাব একবার তাঁকে দলভুক্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য খোলেনি শেষ পর্যন্ত।

    ঢাকার দলবদলে তাঁকে নিয়ে নাটক হয়েছে অনেক। ২০০০ সালে লন্ডনে প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জাতীয় দল ঢাকায় ফিরলে বিমানবন্দরেই আমিনুলকে নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগে আবাহনী আর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে। ২০০৩ সালে এই দুই ক্লাব আবার যুদ্ধে নামে আমিনুলকে দলে নিতে। তারই জেরে মুন্সিগঞ্জের এক জায়গায় ১২ দিন তাঁকে লুকিয়ে রাখে মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমিনুলের ভাই মঈনুল হক রমনা থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে তিনি আবাহনী লিমিটেড ঢাকার বিরুদ্ধে আমিনুলকে অপহরণের অভিযোগ আনেন। ১২ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশ আমিনুলের সন্ধানে ধানমন্ডির আবাহনী ক্লাবে নজিরবিহীন অভিযান চালায়, কিন্তু সেখানে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    দেশজুড়ে যখন তাঁর খোঁজ চলছিল, তখন ওই দিন বিকেলেই আমিনুল আকস্মিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড অফিসে হাজির। সেখানে তিনি দাবি করেন, বন্দুকের মুখে তাঁকে তুলে নিয়ে আবাহনী ক্লাবে রাখা হয়েছিল এবং পরে মোহাম্মদপুরের একটি বাড়িতে বন্দী করে রাখা হয়। আমিনুল তখন বলেছিলেন, তিনি ওই বাড়ির দোতলার ব্যালকনি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে এসেছেন।

    খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন আমিনুল হক
    খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন আমিনুল হক

    খেলার মাঠ থেকে অবসর নিয়ে আমিনুল বেছে নেন দেশের মূলধারার রাজনীতি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে রাজপথে সক্রিয় হন। কিন্তু এই পথ তাঁর জন্য মসৃণ ছিল না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। দিনের পর দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে, সহ্য করতে হয়েছে হয়রানি।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে অত্যন্ত স্বল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া আমিনুলের জন্য ছিল এক সাময়িক ধাক্কা। তবে তাঁর ক্রীড়া মেধা এবং রাজনৈতিক ত্যাগের কথা বিবেচনা করে তাঁকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নতুন সরকার।

    পোস্টের নিচে যেমন কোনো বলকে জালে ঢুকতে দেননি, তেমনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও আমিনুল কোনো ‘অনিয়মের গোল’ হতে দেবেন না—এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়াপ্রেমীদের।

  • মাতৃত্বই জীবনের সেরা চরিত্র: দীপিকা পাড়ুকোন

    বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন আবারও মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন। স্বামী রণবীর সিংয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের খবর জানিয়ে ভক্তদের আনন্দে ভাসিয়েছেন তিনি। তবে এই ঘোষণার মাঝেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দীপিকার সেই পুরোনো বক্তব্য; যেখানে তিনি বলেছিলেন মাতৃত্বই তাঁর জীবনের ‘সেরা চরিত্র’।

    আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি—ছোট্ট হাতের মুঠোয় ধরা একটি ‘প্রেগন্যান্সি কিট’। আর সেই ছবিই এখন বলিউডজুড়ে আলোচনার কেন্দ্র। দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা পাড়ুকোন—এই সুখবরটি নিজেই জানালেন তিনি।
    ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, মেয়ে দুয়া পাড়ুকোন সিংয়ের হাতে ধরা রয়েছে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট। কোনো দীর্ঘ ক্যাপশন নয়, খুবই সংযত ভঙ্গিতে এই ছবির মাধ্যমেই সুখবরটি জানান অভিনেত্রী। মুহূর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়, ভক্ত–সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। ছবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া মন্তব্য করেন, ‘কনগ্রেটস!’—যা দ্রুতই নজর কাড়ে।

    মাতৃত্ব নিয়ে দীপিকার ভাবনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে গভীরভাবে বদলে দিয়েছে। আগে নিজেকে ধৈর্যশীল মনে করলেও, সন্তান জন্মের পর সেই ধৈর্য ও সহনশীলতা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

    দীপিকার কথায়, মাতৃত্ব মানুষকে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি থেকে বের করে আনে। দীপিকা স্বীকার করেছিলেন, তিনি স্বভাবতই খুব সামাজিক ছিলেন না। কিন্তু সন্তানের কারণে অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে মেলামেশা, প্লে-স্কুলের পরিবেশ—সব মিলিয়ে তাঁকে নতুনভাবে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে শিখিয়েছে। এই পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক বলেই দেখেন।

    কন্যা দুয়ার সঙ্গে রণবীর ও দীপিকা। ইনস্টাগ্রামা থেকে
    কন্যা দুয়ার সঙ্গে রণবীর ও দীপিকা। ইনস্টাগ্রামা থেকে

    দীপিকা এই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই মা হতে চেয়েছি। আর এখন আমি আমার জীবনের সেরা চরিত্রে অভিনয় করছি।’এই এক বাক্যেই যেন তাঁর অনুভূতির গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অভিনয়ের জগতে অসংখ্য চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করলেও, বাস্তব জীবনের এই ভূমিকাকেই তিনি সবচেয়ে পূর্ণতা দেওয়া বলে মনে করেন।

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দীপিকা ও রণবীরের সংসারে আসে তাঁদের প্রথম সন্তান দুয়া। বেশ কিছু সময় তাঁরা মেয়েকে গণমাধ্যমের আড়ালে রেখেছিলেন। পরে দেওয়ালির সময় প্রথমবারের মতো কন্যার ছবি প্রকাশ করেন, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

    সেই সঙ্গে এই দম্পতি জানান, ‘দুয়া’ নামটির অর্থ ‘প্রার্থনা’—যা তাঁদের জীবনে সন্তানের আগমনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আবেগের প্রতীক।

    এদিকে পেশাগত জীবনেও দুজনেই রয়েছেন ব্যস্ততায়। রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসে সফলতা পেয়েছে। অন্যদিকে দীপিকাকে শিগগিরই দেখা যাবে শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘কিং’ ছবিতে। এ ছাড়া দক্ষিণের তারকা আল্লু অর্জুনের সঙ্গে তাঁর আরেকটি বড় প্রকল্পও রয়েছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • মাদক মামলায় জড়িয়ে থমকে যায় নায়িকার ক্যারিয়ার

    মালয়ালম সিনেমার একসময়ের আলোচিত মুখ প্রজ্ঞা মার্টিন। অল্প বয়সেই বড় তারকার ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের মাঝপথে বিতর্ক, বিশেষ করে একটি মাদক মামলার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ায় তাঁর পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়। তবু শেষ পর্যন্ত সেই মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে আবার নতুনভাবে পথচলার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।

    বড় তারকার ছবিতে অভিষেক
    প্রজ্ঞা মার্টিন প্রথমবার সিনেমায় অভিনয় করেন কিশোরী বয়সে। তাঁর অভিষেক হয় মালয়ালম তারকা মোহনলালের অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘সাগর অ্যালিয়াস জ্যাকি রিলোডেড’ ছবিতে। এটি মূলত ১৯৮৭ সালের সিনেমা ‘ইরুপাথাম নোত্তানডু’র স্পিন-অফ। যদিও এটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি, তবু ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকের নজর কাড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। বিশেষ করে মোহনলালের সঙ্গে তাঁর কয়েকটি দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিল।

    ধীরে ধীরে পরিচিতি
    অভিষেকের পরপরই প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ার খুব দ্রুত এগোয়নি। কয়েক বছর পরে তিনি ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় মালয়ালম ছবি ‘উস্তাদ হোটেল’-এ। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন দুলকার সালমান, নিত্যা মেনন। সিনেমার পাশাপাশি প্রজ্ঞা তখন মডেলিংয়েও যুক্ত হন। ধীরে ধীরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি।

    তামিল হরর ছবিতে জনপ্রিয়তা
    প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে তামিল হরর সিনেমা ‘পিসাসু’র মাধ্যমে। ভৌতিক আবহে নির্মিত এই সিনেমা মুক্তির পর দ্রুতই দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পায়। ছবিতে প্রজ্ঞার উপস্থিতি তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি তখন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মালয়ালম সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
    পরে প্রজ্ঞা মার্টিন আবার মালয়ালম সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। একপর্যায়ে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের সঙ্গে একটি ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। ধীরে ধীরে তাঁর ক্যারিয়ার এগোচ্ছিল এবং তিনি মালয়ালম ও তামিল—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করছিলেন।

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    বিতর্কে থমকে যাওয়া ক্যারিয়ার
    ক্যারিয়ারের এই সময়েই হঠাৎ বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। কুখ্যাত এক গ্যাংস্টারের সঙ্গে যুক্ত মাদক মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। এই ঘটনায় দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয় এবং তাঁর ক্যারিয়ারও হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক প্রযোজক ও পরিচালক তখন তাঁকে নিয়ে কাজ করতে অনাগ্রহ দেখান।

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মামলায় অবশেষে স্বস্তি
    দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে ওই মাদক মামলায় প্রজ্ঞা মার্টিনকে ক্লিন চিট দেওয়া হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে আসে। কারণ, এই মামলার কারণে দীর্ঘদিন তিনি নেতিবাচক প্রচারের মধ্যে ছিলেন।

    মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবার নতুনভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন প্রজ্ঞা মার্টিন। যদিও আগের মতো নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না তাঁকে, তবু অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • মার্কিন বন্ড বাজারে অস্থিরতা, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাতেই বিষয়টি বোঝা যায়। সেটা হলো, শেয়ারবাজার বা পণ্যের বাজারে মাঝেমধ্যে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা সহজেই উপেক্ষা করা যায়। কিন্তু বন্ড বাজার যখন অস্থির হয়ে ওঠে, তখন গুরুত্ব দিতেই হয়।

    ২০২৫ সালের এপ্রিলে বন্ড বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে পারস্পরিক শুল্কনীতির গতি কমাতে বাধ্য করেছিল। এখন আবারও বন্ড ব্যবসায়ীরা সতর্কসংকেত দিচ্ছেন। তবে এবার পরিস্থিতি শান্ত করার মতো খুব বেশি কিছু ট্রাম্পের হাতে আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টউড ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ড্যানিয়েল অ্যালপার্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তেলের দাম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, বন্ড বাজারে তার প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আর (ট্রাম্প) নিজেই যে সমস্যার মধ্যে আমাদের ফেলেছেন, সেখান থেকে কীভাবে বের হতে হবে, তা যেন তিনি বুঝতে পারছেন না।’

    সহজ করে বললে, বন্ড ব্যবসায়ীরা এখন মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়েছে, তা ট্রাম্প যেভাবে ‘স্বল্পমেয়াদি’ বলে দাবি করছেন, বাস্তবে বিষয়টি হয়তো তেমন নয়। এ ধারণা শক্তিশালী হলে বন্ডের দাম আরও কমতে পারে।

    এটি শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। সিএনএনের সাংবাদিক ডেভিড গোল্ডম্যান বন্ড বাজারকে পুরোনো দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাল্লার এক পাশে থাকে বন্ডের দাম, অন্য পাশে থাকে সুদের হার।

    এখন নানাবিধ অর্থনৈতিক শঙ্কার কারণে সেকেন্ডারি বাজারে বন্ডের দাম কমছে। এর মধ্যে আছে—

    • ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি।
    • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় দ্রুত বর্ধনশীল জাতীয় ঋণ।
    • ভোক্তা ঋণের চাপ।
    • ইরান যুদ্ধের ব্যয়।
    • সুদের হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা।
    • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অর্থায়নের ব্যয়।

    বন্ডের দাম যত কমে, সুদের হার তত বাড়ে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা সরকারকে মূলত বলছেন, ‘আমাদের অর্থ ধরে রাখতে চাইলে আরও বেশি সুদ দিতে হবে।’

    এর অর্থ হলো, জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বাড়বে। যে কারণে শেষমেশ করদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সেবা খাতে ব্যয়ের সুযোগও কমে যাবে। আবার যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ঋণের ব্যয়ও বাড়বে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাবে। এমনকি মন্দার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে, যদিও সেই পরিস্থিতি এখনো খুব কাছাকাছি নয়।

    গতকাল মঙ্গলবার বন্ড বাজারের উদ্বেগ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও তা দূর হয়নি। ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার উঠে যায় ৫ দশমিক ২ শতাংশে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। একই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে।

    শেয়ার ও পণ্যের বাজারে সাধারণত ট্রাম্প বা অন্য বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া হয়, কিন্তু বন্ড বাজার ভিন্ন ধরনের।

    ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত প্রায় তিন মাসে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, যুদ্ধ ‘শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি’। তাঁর এমন মন্তব্যে প্রায় প্রতিবারই শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে এবং তেলের দাম কমেছে।

    গত সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’র স্বার্থে তিনি ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করছেন। এতে শেয়ারবাজার ক্ষতি অনেকটা কাটিয়ে ওঠে এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়। কিন্তু বন্ড বাজারে তার প্রভাব পড়েনি; বরং বিশ্বজুড়ে বন্ড বিক্রি চলতেই থাকে।

    বিষয়টি হলো, বিনিয়োগকারীরা শুধু যুদ্ধ বা তেলজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তাঁদের দৃষ্টিতে এখন একসঙ্গে একাধিক সংকট।

    বার্কলেজের গবেষণা বিভাগের বৈশ্বিক চেয়ারম্যান অজয় রাজাধ্যক্ষ সোমবার এক নোটে লেখেন, ‘গল্পটি খুবই সহজ, কিন্তু অস্বস্তিকর—উন্নত বিশ্বে ঋণ অনেক বেশি, আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গুর। এ দুটি সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও নেই...জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি যেন বোঝার ওপর শাকের আঁটি’।

    সিএনএন

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব