• নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সমতায় বাংলাদেশ

    ৮৭ বল হাতে রেখে জিতল বাংলাদেশ

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১–১ ব্যবধানে সমতায় বাংলাদেশ।

    আজ শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডে ৮৭ বল হাতে রেখে জিতল বাংলাদেশ। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২৫ বলে ৮ এবং তাওহিদ হৃদয় ৩১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩২ রানের জুটপি গড়ে জেতান দুজন।

    নিউজিল্যান্ডের ১৯৮ রান তাড়ায় ৪ ওভারের মধ্যে ২১ রানে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারকে হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে ১১০ রানের জুটি গড়েন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। ৭৬ রান করেন তানজিদ। নাজমুল ৫০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন।

    (অব্যবহৃত) বলের হিসাবে ওয়ানডেতে এটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় জয়। ২০২৩ সালে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ বল হাতে রেখে জিতেছে বাংলাদেশ।

    আজ বাংলাদেশের জয়ের ভিত ফিল্ডিংয়েই গড়ে দেন ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি।

    আগামী বৃহষ্পতিবার চট্টগ্রামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর:

    নিউজিল্যান্ড: ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ (কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯, স্মিথ ১৮ *; নাহিদ ৫/৩২, শরীফুল ২/৩২, সৌম্য ১/২৭, তাসকিন ১/৪৬)।

    বাংলাদেশ: ৩৫.৩ ওভারে ৪/১৯৯ (তানজিদ ৭৬, নাজমুল ৫০*, হৃদয় ৩০, লেনক্স ২/৩৬, স্মিথ ১/৪৬)।

    ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।

    ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা

    সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১–১ ব্যবধানে সমতায় বাংলাদেশ।

  • নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরীক্ষায় পাশ করল দক্ষিণ আফ্রিকা

    পরীক্ষা নিরীক্ষার টি-টুয়েন্টি সিরিজটা জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। নতুনদের ঝালিয়ে দেখার সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের এই সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে প্রোটিয়ারা।

    আজ ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের শেষ টি-টুয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৩৩ রানে হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে কেশব মহারাজের দল। টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল ৪ উইকেটে ১৮৭ রান। ১৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৫৪ রানে থেমেছে স্বাগতিকেরা।

    সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ জেতার মূল কৃতিত্বটা পাবেন ব্যাটসম্যান কনর ইস্টারহাউজেন। ৩৩ বলে ৫ চার ও ৬ ছক্কায় ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটসম্যান। তিনি উইকেটে আসেন ১১তম ওভারে। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার রান ২ উইকেটে ৭৬। সেখান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১৮৭ পর্যন্ত গেছে ইস্টারহাউজেনের কল্যাণে।

    ৭৫ রান করেছেন ইস্টারহাউজেন
    ৭৫ রান করেছেন ইস্টারহাউজেন, এএফপি
     

    এর আগে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডারদের দায়ও আছে। বেশ কয়েকটি ক্যাচ ফেলেছে তারা। যদিও দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে রুবিন হারমানকে ফিরিয়েছেন নিক কেলি। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছে রুবিন হারমানের ব্যাট থেকে, তিনি করেছেন ৩৯ রান।

    রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ২ রান করে ফেরেন কেটেন ক্লার্ক। টিম রবিনসন, ডেন ক্লিভাররাও ম্যাচ জেতানোর মতো ইনিংস খেলতে পারেননি। রবিনসন করেছেন ২৫, ক্লিভার ২২। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯ বলে ৩৬ রান করেছেন বেভন জ্যাকবস। অধিনায়ক জিমি নিশাম করেছেন ২৪ বলে ২৪ রান। তবে এসব ইনিংস হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে।

    এর আগে সিরিজের প্রথম ও চতুর্থ ম্যাচ জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৮৭/৪ (ইস্টারহাউজেন ৭৫, হারমান ৩৯; সিয়ার্স ২/৩৭, ফোকস ১/২২)। নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৪/৮ (জ্যাকবস ৩৬, রবিনসন ২৫; কোয়েৎজে ২/২১, মুল্ডার ২/২৮, বার্টম্যান ২/৩৩)। ফল:  দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৩ রানে জয়ী। সিরিজ: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩-২ ব্যবধানে জয়ী। ম্যাচ ও সিরিজসেরা: কনর ইস্টারহাউজেন।
     
  • নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারায় ডিপি ওয়ার্ল্ড আবার আলোচনায়, এক দিনে দুই চিঠি

    চট্টগ্রাম

  • নিগারের ফিফটি, বাংলাদেশের সাতে সাত

    আগেই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে ফেলা বাংলাদেশ নারী দল আজ নেমেছিল বাছাইয়ে নিজেদের শেষ ম্যাচে। নেপালের আপার মুলপানিতে হওয়া ম্যাচটিতে ডাচদের ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

    প্রথমে ব্যাট করে নেদারল্যান্ডস করে ৬ উইকেটে ১০২। বাংলাদেশ ২০ বল হাতে রেখে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। অধিনায়ক নিগার সুলতানা ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন।

    রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ফেরেন ৬ রানের মধ্যে। এরপর তৃতীয় উইকেটে শারমিন আক্তারকে নিয়ে ৪২ রানের জুটি গড়েন নিগার। শারমিন ২৮ বলে ১৩ রান করে আউট হলে নিগারের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সোবহানা মোস্তারি।

    এ জুটিই বাংলাদেশকে নিয়ে যায় জয়ের পথে। নিগার-মোস্তারির জুটিতে ৩৭ বলে যোগ হয় ৫৭ রান। নিগার ৭ চারে ৪৪ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন। আন্তর্জাতিকটি নারী টি-টুয়েন্টিতে এটি তাঁর দশম ফিফটি। তাঁর সঙ্গে মোস্তারি মাঠ ছাড়েন ২৩ বলে ৩৩ রান করে। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়।

    এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা নেদারল্যান্ডসকে শুরুতেই বড় চাপে ফেলেন বোলাররা। মাত্র ২৩ রানের মধ্যে দলটির ৫ উইকেট তুলে নেন নাহিদা-রাবেয়া-মারুফারা। নাহিদা ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ১০ রানে নেন ৩ উইকেট। নেদারল্যান্ডসকে শুরুর বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করে রবিন রাইকে ও সানিয়া খুরানার ষষ্ঠ উইকেট জুটি।

    ডাচদের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল
    ডাচদের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল, আইসিসি
     

    শেষ ওভারে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে দুজনের জুটিতে যোগ হয় ৭৮ রান। রাইকি ৩৯ রান করে আউট হলেও খুরানা অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে। তবে শেষ পর্যন্ত ১০২ রানের সংগ্রহ দলটির জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ জিতে গেছে বড় ব্যবধানে।

    ২০২৬ আইসিসি নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ ৭ ম্যাচ খেলে ৭টিতেই জিতল। নেদারল্যান্ডস জিতেছে ৫টিতে। আগামী জুনে ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড এরই মধ্যে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর:

    নেদারল্যান্ডস নারী দল: ২০ ওভারে ১০২/৬ (খুরানা ৪৩*, রাইকি ৩৯ নাহিদা ৩/১০, মারুফা ১/১৪)। বাংলাদেশ নারী দল: ১৬.৪ ওভারে ১০৫/৩ (নিগার ৫০*, মোস্তারি ৩৩* সেইগার্স ১/৯)। ফল: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ৭ উইকেটে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: নাহিদা আক্তার।
  • নিজেদের ৩২ বছরের 'নকআউট অ্যাবসেন্ট' রেকর্ড ফের ভাঙার পথে ইতালি?

    ২০০৬ সালের ৯ জুলাই। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেগা ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ১৮তম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের। ফ্রান্সকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। এরপর?

    না, এই ম্যাচের পরিসংখ্যান কিংবা বিশ্লেষণ তো নয়-ই। বরং সেই ফাইনালে 'ম্যাচের' চেয়েও বেশি আলোচিত জিদান বনাম মার্কো মাতেরাজ্জির 'ঢিসুম' কাহিনীও আলোচ্য বিষয় নয়। মূল ব্যাপার বৈশ্বিক আসরের একটি অংশে ইতালির উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা, যেখানে ইতালি 'দ্বিতীয় দফায়' আজ পর্যন্তও অনুপস্থিত।

    বার্লিনের সেই ফাইনালের পর ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালি বিদায় নেয় আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে। এরপরের তিনটি বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২, ২০২৬) মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ তারা।

    বিশ্বকাপে আগের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের আসরের গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয়ার ঘটনা নতুন না। এই পরম্পরা যেন একবিংশ শতাব্দীতে আরও পোক্ত হয়েছে। ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ২০১০ চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ২০১৪ চ্যাম্পিয়ন জার্মানির মতো ২০০৬ এর ইতালি যে একই কাণ্ড করেছিল পরের আসরে, সেই আলাপ পুরোনো। এই আলোচনার গল্প ভিন্ন। এর অংশ আবার দুইটি। আগে 'দ্বিতীয় দফা' আলোচনা করা যাক।

    ২০০৬ ফাইনালের পর কেটে গেছে প্রায় ২০ বছর। বার্লিনের সেই ম্যাচের পর বিশ্বকাপের নকআউট কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়নি ইতালির। চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বকাপের পরবর্তী কোনো নকআউট ম্যাচ খেলার মাঝে এত দীর্ঘ বিরতি নেই অন্য কোনো দলের, যা আছে ইউরোপের এই দেশটির।

    ৩১ মার্চ, ২০২৬। আরেকবার স্বপ্নভঙ্গ ইতালির। এবার প্লে অফে বসনিয়া হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যেতে ফের ব্যর্থ দলটি।

    ২০৩০ বিশ্বকাপে তারা যদি সুযোগও পায় এবং গ্রুপপর্ব পেরিয়ে নকআউটেও ওঠে তবে সেটির ব্যবধান হয়ে দাঁড়াবে প্রায় আড়াই দশক।

    তবে বর্তমান শতাব্দীর এই রেকর্ড ইতালির নিজেদেরই পূর্ববর্তী রেকর্ডের কাছে কিছুই না। যদি ভেবে থাকা যায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং আরেকটি নকআউট ম্যাচের মধ্যে ২০ বছরের ব্যবধান অনেক বেশি, তবে এর আরেকটি বড় ভার্সন খোদ ইতালিয়ানদেরই তৈরি। সেটিই হলো গল্পের 'প্রথম বা আদি দফা'। সেখানে কী করেছিল রোমান সাম্রাজ্যের উত্তরসূরিরা?

    ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। সেই আসরের ফাইনালের পর আরেকটি নকআউট ম্যাচ খেলতে ইতালির অপেক্ষা করতে হয়েছে কতদিন? এর উত্তর হলো— ৩২ বছর। এতটা অপেক্ষা করতে হয়নি আর কোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে।

    হ্যাঁ, আগের শতাব্দীতেও এমনভাবেই দীর্ঘ তিন দশকের বিরতি দিয়েছিল ইতালি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৫০ সালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন (১৯৩৮) হিসেবে অংশ নিয়ে তারা ব্যর্থ হয় ফাইনাল রাউন্ড তথা সেই আসরের প্রথম নকআউট স্টেজে উঠতে। ১৯৫৪ সালের আসরে ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বাড়ির পথ ধরতে হয় তাদের। ১৯৫৮ সালের আসরে তারা মূল পর্বে কোয়ালিফাই করতেই পারেনি।

    ইতালির এই গ্রুপ পর্বের গোলকধাঁধা লম্বা হয় আরও এক যুগ। ১৯৬২ সালের আসরে পশ্চিম জার্মানি, চিলি ও সুইজারল্যান্ডের গ্রুপে ফের তৃতীয় হয়ে নকআউট স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। ১৯৬৬ সালের গল্প যেন আরও পীড়াদায়ক ইতালি ভক্তদের জন্য। সোভিয়েত ইউনিয়ন, চিলি ও উত্তর কোরিয়ার গ্রুপে থেকেও ফের গ্রুপ পর্বে বিদায় তাদের।

    অবশেষে দীর্ঘ তিন দশক বছর পর, অর্থাৎ ১৯৩৮ ফাইনালের পর ১৯৭০ সালের আসরে নকআউটে ওঠে তারা। উরুগুয়ে, সুইডেন ও ইসরায়েলের গ্রুপে টপার হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ইতালি। সেবারের আসরে অবশ্য রানার্সআপ হয় তারা। ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে হেরে যায় ইতালি। সেই ফাইনাল জিতেই জুলেরিমে ট্রফি নিজেদের করে নেয় সেলেসাওরা। ব্রাজিল দলতো বটেই, কালো মানিক পেলে জেতেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ।

    ইতালির ভক্তরা হয়ত বিশ্ব আসরের একটা নির্দিষ্ট অংশে নিজেদের প্রিয় দলকে মিস করেন। এমনকি তারা বিশ্বকাপে সবশেষ ম্যাচ খেলেছে প্রায় ১১ বছর আগে। ২০১৪ সালের ২৪ জুন বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা মাঠে নেমেছিল উরুগুয়ের বিপক্ষে। এরপর থেকে তো বিশ্বকাপে অনুপস্থিতই ইতালিয়ানরা।

    তারা নিজেরাও একটু ভেবে দেখলে বুঝতে পারবে ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল কিংবা মেগা ফাইনালের ম্যাচে ইতালি বলে কোনো দেশের পতাকা ওঠেনি অনেক দিন-বছর-দশক। এরকম বিরতি গত শতাব্দিতেও হয়েছিল, ৩২ বছর।

     

    মেহেদী হাসান রোমান

  • নিজের ইচ্ছাতেই ফ্রান্স দলে এমবাপ্পে, দুঃসময়ে শেভালিয়ের পাশে দেশম

    কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে সংশয় ছিল। চোট কাটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কি পারবেন নীল জার্সিতে ফিরতে? সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল দিদিয়ের দেশম ঘোষণা করেছেন ফ্রান্স দল। সেখানে যথারীতি সেনাপতি হিসেবে থাকছেন এমবাপ্পেই।

    যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য শক্তিশালী দল গড়েছে ফরাসিরা। ২৬ মার্চ ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোতে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর তিন দিন পর ওয়াশিংটন ডিসিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে লড়বে তারা। এ দুই ম্যাচের জন্যই রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে দলে টেনেছেন দেশম। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রিয়ালের জয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পরই এমবাপ্পের ফিটনেস নিয়ে সবুজ সংকেত পান কোচ।

    এমবাপ্পের ফেরা নিয়ে দেশমও স্বস্তিটা লুকাতে পারেননি। বললেন, ‘সব নিয়ম মেনেই ওর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। ওর আসার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না, কিন্তু কিলিয়ান নিজে থেকেই আমাদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিল।’

    ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়ের ওপর আস্থা হারাননি দেশম।
    ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়ের ওপর আস্থা হারাননি দেশম।ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন

    এমবাপ্পেকে রাখা ছাড়াও বড় ঘটনা দলে লুকাস শেভালিয়ের টিকে যাওয়া। পিএসজিতে কয়েক ম্যাচে নড়বড়ে পারফরম্যান্সের পর রুশ গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনোভের কাছে জায়গা হারিয়েছেন তিনি। বসে থাকতে হচ্ছে বেঞ্চে। তবু ২৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের ওপর আস্থা হারাননি দেশম। কোচের ব্যাখ্যাটা বেশ চমৎকার, ‘মাঝে মাঝে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা ক্লাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যায়। তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমার কাজ। এটা বিশ্বাসের ব্যাপার। গত চার মাসে তো আর ওর সামর্থ্য হারিয়ে যায়নি।’

    লিভারপুলের উগো একিতিকে এবং ম্যানচেস্টার সিটির রায়ান শেরকিকে নিয়ে আক্রমণভাগকে বেশ ধারালো করেছেন দেশম। ব্র্যাডলি বারকোলা গোড়ালির চোটে ছিটকে যাওয়ায় কপাল খুলেছে রানদাল কোলো মুয়ানির। টটেনহামের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল করে নিজের ফেরার বার্তা দিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালের জুনে জার্মানির বিপক্ষে নেশনস লিগের পর আর ফ্রান্সের হয়ে খেলা হয়নি তাঁর। দেশম স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মুয়ানির সঙ্গে তাঁর একটা ‘পজিটিভ হিস্ট্রি’ আছে, আর সে ইতিহাসকেই মর্যাদা দিচ্ছেন তিনি।

    কোলো মুয়ানি ও তাঁর সতীর্থ জুলস কুন্দে।
    কোলো মুয়ানি ও তাঁর সতীর্থ জুলস কুন্দে।এএফপি

    মে মাসের ১৩ তারিখে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন দেশম। ধারণা করা হচ্ছে, এই তালিকার বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই বিশ্বকাপের বিমানে উঠবেন। তবে দেশম এখনই আগাম কোনো মন্তব্যে যেতে নারাজ। বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ আই’য়ে সেনেগাল, নরওয়ে এবং প্লে-অফ থেকে আসা একটি দলের বিপক্ষে লড়বে ফরাসিরা।

    ফ্রান্স দল

    গোলরক্ষক: লুকাস শেভালিয়ের (পিএসজি), মাইক মাইনিয়ঁ (এসি মিলান), ব্রিস সাম্বা (রেনে)।

    ডিফেন্ডার: লুকাস দিনিয়ে (অ্যাস্টন ভিলা), মালো গুস্তো (চেলসি), লুকাস এরনান্দেজ (পিএসজি), থিও এরনান্দেজ (আল হিলাল), পিয়েরে কালুলু (জুভেন্টাস), ইব্রাহিমা কোনাতে (লিভারপুল), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল)।

    মিডফিল্ডার: এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা (রিয়াল মাদ্রিদ), এনগোলো কান্তে (ফেনেরবাচে), মানু কোনে (রোমা), আদ্রিয়াঁ রাবিও (এসি মিলান), অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি (রিয়াল মাদ্রিদ), ওয়ারেন জাইর-এমেরি (পিএসজি)।

    ফরোয়ার্ড: মাগনেস আকলিউশে (মোনাকো), রায়ান শেরকি (ম্যানচেস্টার সিটি), উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে (পিএসজি), উগো একিতিকে (লিভারপুল), রানদাল কোলো মুয়ানি (টটেনহাম), কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ), মাইকেল অলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ), মার্কাস থুরাম (ইন্টার মিলান)।

  • নির্দিষ্ট সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা পাঠানো যাবে হোয়াটসঅ্যাপে

    হোয়াটসঅ্যাপে জন্মদিন বা বিশেষ দিবস উপলক্ষে বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিদের বার্তা পাঠান অনেকেই। কিন্তু মাঝেমধ্যে ব্যস্ততার কারণে সময়মতো বার্তা পাঠানো আর হয়ে ওঠে না। ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে আগে থেকে লেখা বার্তা নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানোর সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

    শিডিউলড মেসেজেস সুবিধা চালু হলে ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা আগে থেকে বার্তা লিখে নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠাতে পারবেন। ফলে জন্মদিনের শুভেচ্ছাসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বার্তা সঠিক সময়ে প্রাপকের কাছে পৌঁছানো যাবে। প্রাপকের কাছে পৌঁছানোর আগপর্যন্ত যেকোনো সময় বার্তা সম্পাদনা বা মুছেও ফেলা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বা গ্রুপ চ্যাট উভয় ক্ষেত্রেই এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

    হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ এ বেটা ইনফো জানিয়েছে, আইওএস ২৬.৭.১০.৭২ সংস্করণের জন্য তৈরি হোয়াটসঅ্যাপের বেটা আপডেটে শিডিউলিং টুল দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই নির্বাচিত আইফোন ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা পরীক্ষামূলকভাবে সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে সব ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাটি উন্মুক্ত করা হবে।

    প্রসঙ্গত, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে শিডিউল কলস সুবিধার মাধ্যমে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে কল করার আগাম তারিখ, সময় ও বিষয় জানিয়ে দেওয়া যায়। নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপে প্রবেশ করলেই শিডিউল কলসের বার্তা দেখতে পান। ফলে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়ে কথা বলতে পারেন।

    সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

  • নির্বাচনের আগে কাঁচা মরিচের দাম উঠেছে ২০০ টাকা, প্রতিটি লেবুর ২০ টাকা

    বাজারে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে কাঁচা মরিচের দাম। তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এর পাশাপাশি লেবু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁপে, লাউয়ের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। বাজারে শাকসবজির জোগানও তুলনামূলক কম। আবার ক্রেতাও কম।

    আজ রাত পার হলেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ভোট দিতে বিপুলসংখ্যক লোক ঢাকা ছেড়েছেন। এ সময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী যানবাহন চলাচলেও নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। সব মিলিয়ে ঢাকায় মরিচসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ কমেছে। এ কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

    আজ বুধবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও কারওয়ান বাজার— এই তিন জায়গায় খোঁজ নিয়ে ও ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাখালী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ওই সময় বাজারটিতে সবজির সব দোকান খোলা ছিল। তবে প্রায় অর্ধেকসংখ্যক মাছের দোকান ও কয়েকটি মুদির দোকান বন্ধ দেখা যায়। জানা গেছে, বন্ধ থাকা দোকানের বিক্রেতারা ভোট দিতে বাড়িতে গেছেন।

    নির্বাচনের সময়ে পণ্যের দরদামে কোনো পরিবর্তন আছে কি না, জানতে চাইলে বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু বকর বলেন, ‘বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি কম। এক–দুই দিন আগে যেসব সবজি এনেছিলাম, সেগুলোই এখনো বিক্রি করছি।’

    ওই সময় মহাখালী কাঁচাবাজারে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তি পণ্য কিনতে গেছেন। এঁদের একজন সামিউল আলম। তিনি মহাখালীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সামিউল বলেন, ‘আমি এ আসনেরই (ঢাকা–১৭) ভোটার। জরুরি কিছু বাজার করার প্রয়োজন ছিল। পাড়ার দোকান বন্ধ পেয়েছি। এ কারণে বাজারে এলাম।’

    মহাখালী কাঁচা বাজারে সবজির বিক্রেতা সবজি নিয়ে বসে আছেন, ক্রেতা নেই বললেই চলে
    মহাখালী কাঁচা বাজারে সবজির বিক্রেতা সবজি নিয়ে বসে আছেন, ক্রেতা নেই বললেই চলে
     

    মহাখালী থেকে গেলাম মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে। সেখানে গিয়ে অবশ্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্রেতার উপস্থিতি দেখা গেল। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের আশপাশের এলাকায় স্থানীয় ভোটার অনেক বেশি। তাঁরা ভোটের আগের দিন বাজার করতে আসছেন। এ জন্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতা উপস্থিতি তেমন একটা কমেনি। তবে আগামীকাল ভোটের দিন বাজারের বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ থাকবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

    অবশ্য কারওয়ান বাজারে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। অন্যান্য দিনের তুলনায় এখানে কমসংখ্যক সবজির দোকান খোলা দেখা গেছে। কম ছিল ক্রেতাদের উপস্থিতিও। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মাহবুব আলম বলেন, ‘মানুষজন তো বেশির ভাগই বাড়ি গেছে। নতুন কোনো সবজিও বাজারে আসেনি। আগে যা কেনা ছিল, সেগুলো বিক্রি করছি।’

    দাম বাড়তি যেসব পণ্যের

    বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত তিন দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। তাতে এক কেজি কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। তিনদিন আগে প্রতি কেজি মরিচ ১০০–১২০ টাকায় কেনা যেত।

    কয়েক দিন ধরেই বাজারে লেবুর দাম চড়া। বিক্রেতারা জানান, লেবুর মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে। পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই বাজারে লেবুর দাম চড়া রয়েছে। ফলে রোজায় লেবুর দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান বিক্রেতারা।

    কয়েক দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো লেবু (হালি) বিক্রি হচ্ছে না। ধরনভেদে প্রতি হালি লেবু ৮০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তিন সপ্তাহ আগে লেবুর হালি ছিল ৩০–৫০ টাকা।

    এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁপে, লাউয়ের দামও আগের তুলনায় ১০–১৫ টাকার মতো বেড়েছে। অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

  • নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়াকে খাদের কিনারায় ঠেলে সুপার এইটে শ্রীলঙ্কা

    সেঞ্চুরিটা করে উদ্‌যাপনের আগে কিছুটা সময় নিলেন পাতুম নিশাঙ্কা। ততক্ষণে সতীর্থ আর দর্শকদের করতালি ভেসে এসেছে কানে। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে হেলমেটটা খুলে নিশাঙ্কা দু হাত প্রসারিত করে সারলেন উদ্‌যাপন। দলের জয়ের জন্য পরে লাগল আর একটি বল।

    ১২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এই জয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের সুপার ফোর। আরেকদিকে অস্ট্রেলিয়া দাঁড়িয়ে আছে প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে— ২০০৯ সালের পর বিশ্বকাপে এমন অভিজ্ঞতা হয়নি তাদের।

    গ্রুপ পর্বে নিজেদের পরের দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার যেকোনো একটি দলকে হারাতে পারলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়। জিম্বাবুয়ে দুই ম্যাচে হারলেও ওমানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৮১ (মার্শ ৫৪, হেড ৫৬, ইংলিশ ২৭; হেমন্ত ৩/৩৭, চামিরা ২/৩৬)। শ্রীলঙ্কা: ১৮ ওভারে ১৮৪/২ (নিশাঙ্কা ১০০,মেন্ডিস ৫১, রত্নায়েকে ২৮;স্টয়নিস ২/৪৬)। ফল: শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: পাতুম নিশাঙ্কা।
  • নেইমারকে নিয়ে কেমন হলো ব্রাজিলের বিশ্বকাপের দল

    সোমবার সকাল থেকে অনেকেই চোখ রাখছিলেন ঘড়ির কাঁটায়। কেউ কেউ নিশ্চয়ই মোবাইল ফোনে অ্যালার্মও সেট করে রেখেছিলেন। রাত ২টায় কতিপয় নিশাচর মানুষ ছাড়া কে আর জেগে থাকেন!

    কিন্তু ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল তো বাংলাদেশ সময়ে ঘোষণা করবে না; ফলে নেইমার দলে আছেন কি না, তা জানতে অ্যালার্মই ভরসা। নাহ্‌, আনচেলত্তি বিশেষ কোনো চমক উপহার দেননি। জনমতকে পাশ কাটিয়ে ফিটনেস রিপোর্ট কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে খেলার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বও দিতে পারেননি। ফলাফল, চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন নেইমার। সর্বশেষ ব্রাজিলের হয়ে নেইমার খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে।

    নেইমারের ব্রাজিল দলে ডাক পাওয়াটা তাঁর ভক্তদের জন্য বিশেষ আনন্দের। পাশাপাশি এটি কার্লো আনচেলত্তির দল নির্বাচনের দর্শনকেই যেন প্রতিফলিত করছে। চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে কিছু পজিশন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ইতালিয়ান কোচ শেষ পর্যন্ত ভরসা রেখেছেন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের ওপর। সে তালিকার সবচেয়ে বড় নাম নিঃসন্দেহে সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী নেইমার।

    ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে খুব বেশি চমক যেমন নেই, আবার পুরোপুরি রক্ষণাত্মক দলও এটি নয়; বরং পুরোনো নির্ভরযোগ্য তারকাদের সঙ্গে নতুন শক্তির একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করেছেন আনচেলত্তি।

    আরও পড়ুন

    নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে ব্রাজিল

    নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে ব্রাজিল

    শুরুতেই আসা যাক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে। মাঠে সব সময় নেতৃত্ব না দিলেও এই দলে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু এখন অনেকটাই নেইমার। কারণ, এত দিন দলের প্রধান ভরসা হিসেবে দেখা রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখনো জাতীয় দলে প্রত্যাশামতো ধারাবাহিক হতে পারেননি।

    তবে এটি রিয়াল তারকা ভিনিসিয়ুস ও বার্সেলোনা উইঙ্গার রাফিনিয়ার জন্য খারাপ খবর নয়; বরং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাকে পাশে পাওয়ায় চাপ কিছুটা কমেছে তাঁদের ওপর। দুজনে আরও স্বচ্ছন্দে খেলতে পারবেন। শুধু নেইমারই নন, পুরো দল নির্বাচনেই অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট। ২৬ সদস্যের দলে ১৫ জনই খেলেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। এই শতকে বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে এত বেশি ‘অভিজ্ঞ’ খেলোয়াড় আর কখনো দেখা যায়নি। আনচেলত্তি হয়তো বুঝেছেন, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে শুধু প্রতিভা নয়, মানসিক দৃঢ়তা এবং বড় ম্যাচ সামলানোর অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।

    নেইমারেই আস্থা আনচেলত্তির
    নেইমারেই আস্থা আনচেলত্তিরইনস্টাগ্রাম

    গোলকিপার বিভাগে ওয়েভারতনের অন্তর্ভুক্তি সেটারই উদাহরণ। আলিসন বেকার চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে ছিলেন, আর এদেরসনও ধারাবাহিক নন। তাই ব্রাজিল দলে এবার তৃতীয় গোলকিপারের গুরুত্ব বেশ বেড়ে গেছে। তরুণ বিকল্পদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন। এই জায়গার জন্য আলোচনায় থাকা বেন্তো ও হুগো সোউজা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ভুল করেছেন, যা সমর্থকদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। কোচিং স্টাফরাও সম্ভবত পুরোপুরি নিশ্চিন্ত ছিলেন না।

    তাই ৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ওয়েভারতনের ওপরই ভরসা করেছেন আনচেলত্তি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও স্থিরতা ইতালিয়ান এই কোচকে নিশ্চয়ই বাড়তি আস্থা দিয়েছে। ১৭ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে ওয়েভারতন ২০১৬ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সোনা জিতেছেন এবং ২০২২ বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও ছিলেন।

    কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আনচেলত্তি অভিজ্ঞ ও মানসিকভাবে প্রস্তুত খেলোয়াড়দের ওপরই বেশি আস্থার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন। পজিশনভিত্তিক বিশ্লেষণে রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠে তাঁর সেই বার্তারই যেন প্রতিফলন দেখা গেছে। এ দুটি জায়গায় তারুণ্য বা প্রতিভার দ্যুতির চেয়ে অভিজ্ঞতার আকরেই আশ্রয় নিয়েছেন আনচেলত্তি।

    মার্কিনিওস ও গ্যাব্রিয়েলকে কেন্দ্র করে ডিফেন্স গড়া হয়েছে। মাঝমাঠে আছেন কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেস। বিশেষ করে কাসেমিরোর দলে জায়গা পাওয়া দেখিয়ে দিচ্ছে, আনচেলত্তি এখনো বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাকে মূল্য দেন। একই কারণে দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো খেলোয়াড়েরাও দলে জায়গা পেয়েছেন।

    ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি
    ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিএএফপি

    তবে দলটি শুধু অভিজ্ঞদের নিয়েই নয়। আনচেলত্তি নতুনদের জন্যও দরজা খোলা রেখেছেন। বিশেষত ফরোয়ার্ড লাইনে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রতিভার মিশেল ঘটিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। এনদ্রিক, লুইস হেনরিক, রায়ান এবং ইগর থিয়াগোর মতো তরুণদের অন্তর্ভুক্তি জানাচ্ছে, বিশ্বকাপে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলাতে কিছু তরুণ তুর্কিকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করবেন আনচেলত্তি।

    বিশেষ করে এনদ্রিক ব্রাজিলের আক্রমণে বাড়তি গতি ও অপ্রত্যাশিত কিছু এনে দিতে পারেন। তবে এই জায়গায় এস্তেভাও এবং রদ্রিগোর না থাকাও আনচেলত্তি ও ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য আক্ষেপের। এস্তেভাও আনচেলত্তির অধীনে সবচেয়ে কার্যকরী হয়ে উঠেছিলেন। গোল করার পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতার দিক থেকেও দারুণ সম্ভাবনাময় এই তরুণ। কিন্তু চোট ভেঙে দিয়েছে তাঁর বিশ্বকাপ–স্বপ্ন।

    সব মিলিয়ে ব্রাজিলের এই দল ‘গ্যালাকটিকো’ ধরনের ঝলমলে স্কোয়াড নয়; বরং বাস্তবমুখী একটি দল। এখানে প্রতিভা আছে, অভিজ্ঞতা আছে, আবার কিছু অনিশ্চয়তাও আছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে নেইমারের শারীরিক অবস্থা এবং ভিনিসিয়ুসদের ধারাবাহিকতা নিয়ে। তবে আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের অধীনে দলটি অন্তত আগের চেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত মনে হচ্ছে। এই ব্রাজিল হয়তো ২০০২ সালের মতো ভয়ংকর আক্রমণাত্মক নয়, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে অনেক সময় এমন পরিণত, সংগঠিত দলই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

  • নেইমারকে বাদ দেওয়ায় আনচেলত্তিকে সতর্কবার্তা রোমারিওর, ‘মিস্টার, একটু খেয়াল রাখবেন

    মাঠের লড়াই শুরু হতে আরও মাস তিনেক বাকি। কিন্তু তার আগেই ব্রাজিল ফুটবলে চলছে তুমুল বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের বিষয়—নেইমার। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচের দল থেকে নেইমারকে বাদ দিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর তাতেই যেন সেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়েছে। ব্রাজিল কোচের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন রোমারিও ও রোনালদোর মতো কিংবদন্তিরা।

    বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় ভোরে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির দল। এই দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি নেইমারের। ২০২৩ সালের শেষ দিকে হাঁটুর মারাত্মক চোটের পর থেকে জাতীয় দলে আর ডাক পাননি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। আনচেলত্তি স্পষ্টতই খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ওপর জোর দিচ্ছেন। কিন্তু রোমারিওর সোজা কথা—আনচেলত্তি বড্ড আগেভাগেই দলের সবচেয়ে ধারালো অস্ত্রটা ছুড়ে ফেলছেন।

    শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমারের মতো একজন তারকা দলে থাকা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক ভালোরোমারিও
    ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও
    ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও, এক্স


    ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘জার্নাল ও দিয়া’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোমারিও যা বলেছেন তার সারমর্ম হচ্ছে, প্রতিভার কদর সবার আগে হওয়া উচিত। তাঁর কথা, ‘একজন তারকাকে খেলতেই হবে। জাতীয় দল হলো সেরাদের জায়গা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এক মাস সময় পাওয়া যায়, যা একজন অ্যাথলেটের ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য যথেষ্ট। সবাই জানে, তবু বারবার বলতে হয়—শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমারের মতো একজন তারকা দলে থাকা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক ভালো।’

    ১২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারকে পরীক্ষা করার কিছু নেই। সে শারীরিকভাবে ফিট থাকলে আমি তাকে বিশ্বকাপে নিতাম।
    রোনালদো

    ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী রোমারিও আরও বলেছেন, ‘প্রতিভা নষ্ট করা যাবে না। কোনো কোচই প্রতিভা ছাড়া দল চালাতে পারবেন না। আমি আশা করি, নেইমার ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে প্রমাণ করবে যে সে চূড়ান্ত দলে থাকার যোগ্য এবং ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতার লড়াইয়ে অংশ নেবে।’ পাশাপাশি রোমারিও এটাও জানিয়ে রাখলেন, ‘নেইমার গেলে আমি খুশি। কিন্তু না গেলেও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখা থামাব না।’

    কার্লো আনচেলত্তি ও নেইমার
    কার্লো আনচেলত্তি ও নেইমার, এক্স
     

    সবশেষে রোমারিও আনচেলত্তিকে বলেছেন, ‘মিস্টার, (নেইমারের দিক) একটু খেয়াল রাখবেন!’

    রোমারিওর সুরে সুর মিলিয়েছেন ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিও-ও। তবে তাঁর কণ্ঠ একটু মাপা। ১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপ জেতা ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার সিএনএন ব্রাজিলকে বলেছেন, ‘১২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারকে পরীক্ষা করার কিছু নেই। সে শারীরিকভাবে ফিট থাকলে আমি তাকে বিশ্বকাপে নিতাম। আমি আশা করি সে ফিট থাকবে। আনচেলত্তিও তাকে নেবেন, আমি নিশ্চিত। সে সব ম্যাচ না–ও খেলতে পারে, কিন্তু সে যেখানেই গেছে, নিজেকে প্রমাণ করেছে। ইদানীং চোটে ভুগেছে, কিন্তু তাকে বিশ্বকাপে নিতে হলে নতুন করে যাচাই করার দরকার নেই।’

    ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিও
    ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিও, আইএমডিবি
     

    মে মাসের মাঝামাঝি ঘোষণা করা হবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল। এর আগে আনচেলত্তির মন জয় করার একটাই পথ নেইমারের সামনে—ফিটনেস প্রমাণ করা। প্রতিভা নিয়ে তো কোনো কালেই প্রশ্ন ছিল না, এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধারাবাহিকতা। সান্তোসের হয়ে এই মৌসুমে এরই মধ্যে পাঁচটি ম্যাচ মিস করেছেন তিনি। তবে যতটুকু খেলেছেন, আলো ছড়িয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে মাত্র তিন ম্যাচ খেলেই ৩টি গোল করেছেন, সঙ্গে ১টি গোলে সহায়তা করে জানান দিয়েছেন, ‘এখনো ফুরিয়ে যাইনি!’

  • নেইমারের জন্য ‘নিরপেক্ষ’ নন মেসি, দেখতে চান ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে

    নেইমারের সঙ্গে বন্ধুত্ব কতটা গাঢ়, তার প্রমাণ আরও একবার রাখলেন লিওনেল মেসি। ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন তারকা বলেছেন, আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে নেইমারকে ব্রাজিল দলে দেখতে চান তিনি। এই চাওয়ার পেছনে একটা কারণ নেইমারের সামর্থ্য; তবে দুজনের বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ টেনে মেসি অকপটেই বলেছেন, নেইমারের ক্ষেত্রে তিনি মোটেও ‘নিরপেক্ষ’ নন।

    সম্প্রতি পোলো আলভারেজের পডকাস্ট ‘লো ডেল পোলো’তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমারকে নিয়ে নিজের আবেগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন মেসি। চোট আর ফর্মহীনতায় দীর্ঘ সময় ব্রাজিল জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমারকে নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা সব সময় চাই সেরা খেলোয়াড়েরা বিশ্বকাপে থাকুক। নেইমার এখন কোন ফর্মে আছে, সেটা বড় কথা নয়, সে সব সময় সেরাদের একজন হিসেবেই গণ্য হবে।’

    বার্সেলোনা ও পিএসজিতে দীর্ঘ ছয় বছর একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন মেসি–নেইমার। সেই সুবাদে খুব কাছ থেকে একে অপরকে চেনেন তাঁরা। কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে জায়গা হবে কি না—নেইমার যখন এমন অনিশ্চয়তায়, তখন মেসি তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে বলেন, ‘নেইমার আমার খুব ভালো বন্ধু। আমি অবশ্যই তাকে বিশ্বকাপে দেখতে চাই। মানুষ হিসেবে সে যেমন চমৎকার, তাতে তার সঙ্গে সব সময় ভালো কিছু হওয়া উচিত। তবে নেইমারকে নিয়ে কথা বলার সময় আমি মোটেও নিরপেক্ষ হতে পারি না। কারণ, সে সেখানে (বিশ্বকাপে) থাকুক, এটা আমি মনেপ্রাণে চাই।’

    ব্রাজিল ফুটবলে নেইমারের প্রভাব নিয়ে মেসি আরও যোগ করেন, ‘ব্রাজিল এবং বিশ্ব ফুটবলের জন্য নেইমার যে অর্থ বহন করে, তাতে তাকে বিশ্বকাপে দেখাটা হবে দারুণ ব্যাপার। সে অত্যন্ত সহজ-সরল এবং প্রাণবন্ত একজন মানুষ। কোনো রকম কৃত্রিমতা ছাড়াই সে জীবন কাটাতে পছন্দ করে এবং কে কী ভাবল, তা নিয়ে সে মাথা ঘামায় না।’

    মেসি ও নেইমার যখন জাতীয় দলের জার্সিতে
    মেসি ও নেইমার যখন জাতীয় দলের জার্সিতে, ছবি: এএফপি

    ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। বর্তমানে তিনি স্বদেশি ক্লাব সান্তোসে খেলছেন। আনচেলত্তি গত বছর ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নেইমারকে ডাকেননি।

    অবশ্য গত মাসে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি নেইমারকে শতভাগ ফিট পাওয়া যাবে আশা প্রকাশ করেছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের মার্চে হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৯ গোল করা নেইমার।

  • নেটফ্লিক্সের তালিকার শীর্ষে, কী আছে এ সিনেমায়

    ঢাকা

  • নেদারল্যান্ডসের বৃত্তি, স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নের সুযোগ

    ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে নেদারল্যান্ডসেও বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ আছে। দেশটির ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সে সুযোগ দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কলারশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ তারিখ ১ মে ২০২৬।

    ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি ১৯৬১ সালে Technische Hogeschool Twente (THT) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে ডাচ্‌ একাডেমিক শিক্ষা আইনের পরিবর্তনের ফলে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি (টুয়েন্টি বিশ্ববিদ্যালয়) রাখা হয়।

    সুযোগ-সুবিধা

    স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা এক বছরের জন্য সর্বনিম্ন ৩,০০০ ইউরো থেকে সর্বোচ্চ ২২,০০০ ইউরো পাবেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

    আবেদনের যোগ্যতা

    আবেদনকারীকে ২০২৬–২৭ (সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টির স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামগুলোর একটিতে ভর্তি হতে হবে।

    —স্টুডেন্ট আইডি নম্বর থাকতে হবে।

    —ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। আইইএলটিএস ৬ দশমিক ৫ বা টোয়েফলে ৯০ থাকতে হবে।

    আবেদনের প্রক্রিয়িা

    আবেদনকারীকে প্রথমে ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টিতে একটি স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে হবে। পরবর্তী সময় (শর্তসাপেক্ষ) ভর্তির অফার লেটার পেয়ে গেলে, আবেদনকারী তাঁর স্টুডেন্ট আইডি নম্বরসহ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন করতে এবং আবেদনপদ্ধতিসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

  • নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে বাংলাদেশ

    ৯০ মিনিট শেষ। অতিরিক্ত ৬ মিনিটের তখন তৃতীয় মিনিট চলছে। জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে স্নায়ুচাপ তখন চরমে। ঠিক সেই মুহূর্তে শামসুন্নাহার জুনিয়র বক্সের অনেকটা ভেতরে ঢুকে বল ঠেলে দিলেন গোল লাইনের সামনে, সেখানে ছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা সাগরিকা আর নেপালের দুই ডিফেন্ডার। তিনজনের জটলার ভেতর থেকে বল গেল জালে!

    গোয়ার ভ্যাপসা গরম আর তীব্র চাপ থেকে একমুহূর্তে মিলল মুক্তি। গ্যালারিতে আসা হাজার খানেক নেপালিকে স্তব্ধ করে উল্লাসে মাতল বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে অষ্টম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ। আর তাতেই বেঁচে থাকল লাল-সবুজের মেয়েদের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন।

    অথচ স্থানীয় সময় বেলা ৪টায় যখন ম্যাচ শুরু হয়, মাঠের আবহাওয়া আক্ষরিক অর্থেই উত্তপ্ত। মাথার ওপর চড়া রোদ আর তীব্র গরমে দৌড়ানো দায়। ম্যাচে গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দাপুটে ফুটবল দেখতে যাঁরা চোখ রেখেছিলেন, প্রথম ৪৫ মিনিটে তাঁদের বুক দুরুদুরু বৈ আর কিছু ছিল না। এই সময়ের গল্পটা যদি এক লাইনে বলতে হয়, বাংলাদেশ প্রথমার্ধে মাঠ ছেড়েছে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বস্তি নিয়ে, ঋতুপর্ণার অবিশ্বাস্য অলিম্পিক গোলে স্কোরলাইন তখন ১-১।

    নেপাল ডিফেন্ডার পুজা রানা, বিমলা বিকে বা ফরোয়ার্ড দিপা শাহী—ঢাকার লিগে খেলার সুবাদে বাংলাদেশের শক্তি-দুর্বলতা তাদের নখদর্পণে। সেই চেনা ছকেই যেন আজ ছড়ি ঘোরাল নেপাল। ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে নামা বাংলাদেশ দলকে চেনা যাচ্ছিল না।

    গত দুবার যে দাপট নিয়ে সাবিনারা মাঠ কাঁপিয়েছেন, আজ যেন তার ঠিক উল্টো পিঠ। শুরুটা হলো একরাশ আতঙ্ক দিয়ে। পাসিংয়ে চরম সমন্বয়হীনতা, কোনো বিল্ডআপ নেই, রক্ষণভাগ খেই হারিয়ে বল তুলে দিচ্ছে প্রতিপক্ষের পায়ে। মাঠের ছন্নছাড়া ভাব দেখে প্রেসবক্স থেকেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, গোল খাওয়াটা শুধুই সময়ের ব্যাপার।

    [caption id="attachment_275633" align="alignnone" width="830"] ঋতুপর্ণার গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ, বাফুফে[/caption]

    গ্যালারির এক কোণায় জড়ো হওয়া নেপালি দর্শকদের ভুভুজেলার আওয়াজ তখন মারগাঁওয়ের আকাশে চড়ছে। সেই গর্জনের রেশ ধরেই ম্যাচের ২২ মিনিটে এগিয়ে যায় নেপাল। কর্নার থেকে জটলার মধ্যে বাংলাদেশকে স্তব্ধ করে গোল করেন নেপালের গীতা রানা (১-০)।

    গোল খেয়ে আরও যেন গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। যে মারিয়া মান্দার পা থেকে বল কাড়া একসময় দুঃসাধ্য ছিল, আজ তাঁর কাছ থেকেই অনায়াসে বল কেড়ে নিচ্ছিলেন উজ্জীবিত নেপালিরা। আর উইংয়ে ঋতুপর্ণা চাকমা?

    প্রথমার্ধের একটা বড় সময় জুড়ে তিনি ছিলেন শুধুই নিজের ছায়া হয়ে। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে তো ব্যবধান ২-০ হয়ে যেতে পারত। নেপালের প্রীতি রাইয়ের বুলেট গতির শট বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলির হাতে লেগে ক্রসবারে প্রতিহত না হলে ম্যাচ ওখানেই শেষ হয়ে যেতে পারত। ভাগ্যদেবী তখনো বাংলাদেশের সহায়।

    পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ৩৯ মিনিটেই ডাগআউটে বড় সিদ্ধান্ত নেন কোচ। উমেলাহ ও প্রীতিকে তুলে মাঠে নামানো হয় তহুরা খাতুন আর শামসুন্নাহার জুনিয়রকে। কিন্তু দূর থেকে তালগোল পাকানো ব্যাকপাস আর আক্রমণভাগের নির্বিষ ভাব কাটছিলই না।

    ইতিহাস বলছিল, সাফে এই দুই দলের আগের ৫ দেখায় নেপাল ৩ বার জিতলেও শেষ দুটি সাফের ফাইনালে নেপালকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল বাংলাদেশ।

    সেই চ্যাম্পিয়নরা যেন হুট করে জেগে উঠল প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে। বক্সের কিছু দূর থেকে ফ্রি–কিক পায় বাংলাদেশ। মারিয়ার ফ্রি-কিক নেপালি ডিফেন্ডারের হেডে কর্নার হলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বাঁ পায়ের বাঁকানো কর্নারে সরাসরি বল জালে জড়ালেন ঋতুপর্ণা!

    সরাসরি কর্নার থেকে চোখধাঁধানো এক ‘অলিম্পিক গোল’। এই এক গোলেই যেন প্রাণ ফিরে পেল বাংলাদেশ দল। গা ঝাড়া দিয়ে উঠল পুরো শিবির, ড্রেসিংরুমে যাওয়ার আগে ফিরে পেল হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস।

    ১-১ সমতায় বিরতি থেকে ফিরেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে মৌমিতার জায়গায় নামানো হয় মনিকা চাকমাকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট ধরে রাখে নেপালই। একের অপর আক্রমণে তারা কাঁপাতে থাকে বাংলাদেশের রক্ষণ। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তখন ঘর সামলে চেষ্টা করে প্রতিআক্রমণে উঠতে। তেমনই এক পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের ৬৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। শামসুন্নাহার জুনিয়রের মাপা ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড করেছিলেন মনিকা চাকমা, কিন্তু বলটি পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে উল্লাসে মাতা হয়নি বাংলাদেশের।

    গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের ততক্ষণে রোদের তীব্রতা কমে এসেছে। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, রোমাঞ্চ আর স্নায়ুচাপ ততই বেড়েছে। প্রথমার্ধের সেই আতঙ্ক কাটিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইয়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছে। আক্রমণের ধার বাড়াতে আনিকার জায়গায় সাগরিকা আসেন মাঠে। ৭৮ মিনিটে মনিকার দারুণ এক থ্রু পাস থেকে সাগরিকার দুরন্ত শট অবিশ্বাস্যভাবে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন নেপালের গোলকিপার আনজিলা তুম্বাপো। এর পরপরই মনিকাকে তুলে শাহেদা আক্তার রিপাকে পাঠানো হয় মাঠে।

    [caption id="attachment_275631" align="alignnone" width="857"] যোগ করা সময়ে সাগরিকার গোল বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেবাফুফে[/caption]

    ম্যাচ যখন যোগ করা সময়ে গড়ায়, প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিলেন খেলা অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে যাবে। তখনই আসে ৯৩ মিনিটের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শামসুন্নাহারের বুদ্ধিদীপ্ত পাস আর জটলার মধ্য থেকে সাগরিকার দুর্দান্ত প্রচেষ্টা। প্রথম দেখায় সাগরিকাই গোল করেছেন বলে মনে হলেও পরে সাফের অফিশিয়াল ম্যাচ রিপোর্টে তা প্রীতি রাইয়ের আত্মঘাতী দেখানো হয়েছে। গোয়ার মাঠে রূপকথা লিখে আরও একবার সাফের ফাইনালে লাল-সবুজের বাংলাদেশ।

    ম্যাচসেরা হয়েছেন ঋতুপর্ণা। ৬ জুনের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে আজই ভারত-ভুটান দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দল। ফাইনালে কী হবে পরের বিষয়, তবে আজ মারিয়ারা যেভাবে কোণঠাসা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে অনেক দিনই।

  • নেপালের জয়ে শুরু নারী সাফ, ভারত জিতল ১১–০ গোলে

    ভারতের গোয়ায় আজ শুরু হয়েছে মেয়েদের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের অষ্টম আসর। জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে নেপাল। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের গ্রুপসঙ্গী ভারত ১১–০ গোলে হারিয়েছে মালদ্বীপকে। আগামী বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ।

    ছয় দলের এই টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামবেন মারিয়া মান্দা-ঋতুপর্ণা চাকমারা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ফেবারিট বাংলাদেশ। যদিও টানা তৃতীয়বার ট্রফি জেতার পথটা যে সহজ হবে না, তা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মনে করিয়ে দিয়েছেন নতুন অধিনায়ক মারিয়া। অবশ্য শিরোপা ধরে রাখার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী কোচ পিটার বাটলার।

    বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বরাবরের মতোই বড় বাধা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। আগামী ৩১ মে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মারিয়াদের আসল পরীক্ষাটা হবে সেখানেই।

  • নোবেলজয়ী লেখকের দীর্ঘ লড়াই, অবশেষে মুক্তি পেল সেই সিরিজ

    ছয় বছর আগে নিজের বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর চলচ্চিত্র ‘রূপান্তরের খসড়া’ চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন নোবেলজয়ী তুর্কি লেখক ওরহান পামুক। তাঁর ৫০০ পৃষ্ঠার বেশি দীর্ঘ প্রেমকাহিনি—১৯৭০ ও ৮০–এর দশকের ইস্তাম্বুলের পটভূমিতে লেখা ভালোবাসার গল্প—চিত্রনাট্যে এমনভাবে বদলে ফেলা হয়েছিল, যা তাঁর ভাষায় ‘অতিরিক্ত ও অগ্রহণযোগ্য’।

    প্রযোজনা সংস্থা মূল কাহিনিতে বড় পরিবর্তন আনে, এমনকি নতুন প্লট টুইস্টও যোগ করে। পামুক মনে করেন, এতে তাঁর গল্পের মর্মই বদলে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তিনি আইনি লড়াইয়ে নামেন, গল্পের স্বত্ব ফিরে পেতে প্রযোজকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    ‘সেই সময় দুঃস্বপ্ন দেখতাম’—নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন ওরহান পামুক। তিনি আরও যোগ করেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবীকে আমার সামর্থ্যের তুলনায় অনেক টাকা দিতে হয়েছে। ভাবতাম, ওরা যদি ওভাবেই বানিয়ে ফেলে!’

    ২০২২ সালে তিনি মামলায় জয়ী হন। এরপর নতুন করে উদ্যোগ নেন—এবার শর্ত সাপেক্ষে, যাতে গল্পের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকে।
    অবশেষে চার বছর পর তিনি সন্তুষ্ট। আজ শুক্রবার থেকে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ৯ পর্বের সিরিজ ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’।

    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    সাহিত্য থেকে পর্দা: এক দেরিতে পাওয়া সাফল্য
    ৭৩ বছর বয়সী পামুকের দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে এটি একটি নতুন অধ্যায়। দুই দশকের বেশি সময়ে লেখা তাঁর উপন্যাস, স্মৃতিকথা, প্রবন্ধ ও আলোকচিত্রের বই বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০০৬ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

    উপন্যাসটি ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়। এতে এক মধ্যবিত্ত ব্যাচেলর কামালের আবিষ্ট প্রেমের গল্প বলা হয়েছে তরুণী বিক্রয়কর্মী ফুসুনকে কেন্দ্র করে। ভালোবাসার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কামাল নিত্যদিনের জিনিস—লবণদানি, চুলের ক্লিপ, কফির কাপ, এমনকি ৪ হাজার ২১৩টি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে। উপন্যাসের চূড়ান্ত পর্বে সে এসব নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরি করে।

    সাহিত্যের বাইরে গল্পটির আরেক জীবনও আছে। ২০১২ সালে পামুক ইস্তাম্বুলে বাস্তবেই ‘মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে উপন্যাসের নানা উপকরণ প্রদর্শিত হয়। পরে এ নিয়ে তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে।

    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    ‘অতিরিক্ত পরিবর্তন নয়’
    ২০১৯ সালে একটি হলিউড প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন পামুক; কিন্তু প্রস্তাবিত চিত্রনাট্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ছিল; যেমন নায়িকা ফুসুনকে গর্ভবতী দেখানোর মতো সংযোজন।

    ‘অতিরিক্ত পরিবর্তন। এভাবে বদলালে বইটি আর আমার বই থাকে না’, বলেন পামুক।
    প্রায় আড়াই বছরের আইনি লড়াই শেষে তিনি চুক্তি বাতিল করেন। এরপর তুরস্কের প্রযোজনা সংস্থা এ ওয়াই ইয়াপিমের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।

    এবার তিনি আগাম অর্থ নেননি এবং চূড়ান্ত চিত্রনাট্য না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিতেও সই করেননি। প্রতিটি পর্বের খসড়া নিজে পড়ে মতামত দিয়েছেন। ৯টি পর্বের প্রতিটি পাতায় প্রযোজক ও লেখক দুজনই সই করেন—চিত্রনাট্য যাতে অপরিবর্তিত থাকে।
    প্রযোজনা সংস্থার প্রধান কেরেম চাতাই জানান, চার বছরে সিরিজটি সম্পন্ন হয়েছে—তাঁর ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে এত দীর্ঘ সময় আর কোনো সিরিজে লাগেনি।

    নারীর দৃষ্টিকোণ ও অভিনয়
    উপন্যাস প্রকাশের পর তুরস্কের নারীবাদীরা পামুকের সমালোচনা করেছিলেন—গল্পটি পুরুষ চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে বলে। পামুক বলেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্যের একজন পুরুষ—সব নারীবাদী সমালোচনা আমি মেনে নিই।’
    সিরিজটি পরিচালনা করেছেন নারী নির্মাতা যেনেপ গানি তান, যা নায়িকা ফুসুনের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করেন পামুক।

    নায়ক কামালের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তুর্কি তারকা সেলাহাতিন পাসালি, আর ফুসুন চরিত্রে তুলনামূলক নতুন মুখ ইয়েল কান্দেমির।

    সিরিজটি পামুকের জন্য আরেকটি ‘প্রথম’ এনে দিয়েছে—অভিনয়ে অভিষেক। কয়েকটি দৃশ্যে তিনি নিজেই ‘ওরহান পামুক’ চরিত্রে উপস্থিত, যেখানে কামাল তাঁর গল্প শুনিয়ে যায়।

    তবে নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘এটাকে অভিনয় বলা যায় না, কারণ আমি নিজের চরিত্রেই অভিনয় করেছি।’

    নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে

  • নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তির এই স্মার্টফোনে ভিড়ের মধ্যেও স্বচ্ছন্দে কথা বলা যায়

    দেশের বাজারে ‘ইনফিনিক্স স্মার্ট ২০’ মডেলের নতুন স্মার্টফোন এনেছে ইনফিনিক্স। ভয়েজপ্রিন্ট নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তির ফোনটি আশপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে ব্যবহারকারীর কণ্ঠ আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারে। ফলে যানজট, বাজার বা গণপরিবহনে থাকা অবস্থায় চারপাশের শব্দ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। ফলে ফোনটির পর্দায় সহজেই ভালো মানের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ অক্টা-কোর প্রসেসরে চলা ফোনটিতে ৪ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৬৪ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে। মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিস্ট্যান্স–সুবিধার ফোনটি প্রায় ৫ ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না বা ফোনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

    ফোনটিতে আলট্রালিংক ফ্রি কল প্রযুক্তি থাকায় আশপাশে নেটওয়ার্ক না থাকলেও স্বল্প দূরত্বে থাকা একই ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেটে ফোনকল করাসহ বার্তা আদান–প্রদান করা যায়। আইপি৬৪ প্রযুক্তিনির্ভর ফোনটি ভিজলে নষ্ট হয় না, ধুলাও জমে না। ফলে হালকা পানির ছিটা বা ধুলাবালুর মধ্যেও ফোনটির স্পর্শনির্ভর পর্দা ভালোভাবে কাজ করে।

  • পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, চাপে সাধারণ মানুষ

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান একটি বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর মাসিক বেতন ৫৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঘরভাড়া, দুই সন্তানের লেখাপড়া, ওষুধ ও যাতায়াতের জন্য খরচ হয় ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার টাকা। গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ মা–বাবাকে মাসে ১০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। বাকি ৯-১০ হাজার টাকা খরচ করেন দৈনন্দিন বাজারের জন্য।

    কয়েক মাস আগেও বেতনের এই টাকায় টেনেটুনে হাবিবুরের সংসার চলে যেত। কিন্তু চার-পাঁচ মাস ধরে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। কারণ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় খরচ সামলাতে গরুর মাংস ও ফল খাওয়া কমিয়েছে তাঁর পরিবার। আগে ছুটির দিনে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরতে বের হতেন হাবিবুর। এখন সেটাও বন্ধ। তারপরও ব্যয় সামলাতে পারছেন না। এখন প্রতি মাসে তাঁকে ঋণ করতে হচ্ছে।

    হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সবজি থেকে শুরু করে পোশাক, ওষুধ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। আগে ৬-৭ হাজার টাকায় মাসের বাজার হয়ে যেত। এখন লাগছে ৯-১০ হাজার টাকা। গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিম, চিনি, বেগুন, পটোলের দাম বেড়েছে। সোনালি মুরগির কেজিও ৩৫০ টাকার ওপরে। বাড়তি এই খরচ আমার জন্য অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

    বিক্রেতারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানিসংকট হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    হাবিবুরের সঙ্গে কথা হয় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে। এরপর রাজধানীর জোয়ার সাহারা, মহাখালী, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে এসব পণ্যের পাশাপাশি মোটা ও মাঝারি চাল, খোলা আটা, ময়দা ও সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে।

    বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক-দুই মাসে খুচরা পর্যায়ে আরও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুগন্ধি চাল, ডিটারজেন্ট ও সাবানের মতো পণ্য। তেলাপিয়া, রুই, পাঙাশ, গরুর মাংসের দামও আগের তুলনায় বাড়তি।

    বিক্রেতারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানিসংকট হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    আমি ভাড়া বাসায় থাকি। সেখানে লাইনের গ্যাস নাই। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করি। গত কয়েক দিনে সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা বাড়ছে। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে। এত খরচ সামলাব কেমনে।
    লাইজু বেগম, গৃহকর্মী, আদাবর এলাকা

    ভোগাচ্ছে জ্বালানির দাম

    দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে বিএনপি সরকার। এর মধ্যে চলতি মাসে দুই দফায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজির) দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে। এতে বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে ৬০০ টাকা দাম বেড়েছে। তবে বাজারে এর চেয়ে বাড়তি দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়।

    দেশে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে সরকার। তাতে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা ও পেট্রলে ১৯ টাকা দাম বেড়েছে। এসব জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পণ্যের দামে।

    রাজধানীর আদাবর এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করেন লাইজু বেগম। তিনি বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাড়া বাসায় থাকি। সেখানে লাইনের গ্যাস নাই। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করি। গত কয়েক দিনে সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা বাড়ছে। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে। এত খরচ সামলাব কেমনে।’

    সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম ৪৫ শতাংশ ও ব্রয়লার মুরগির দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে।

    ডিম-মুরগির দাম বেড়েছে

    সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টির বড় উৎস ফার্মের মুরগি ও ডিম। গত দুই সপ্তাহে বাজারে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, গাড়িভাড়া বাড়ায় পাইকারি বিক্রেতারা ডিমের দাম বাড়িয়েছেন।

    এদিকে বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। গতকাল প্রতি কেজি হাইব্রিড সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০-৩৩০ টাকায় আর সোনালি ৩৫০-৩৬০ টাকায়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রতি কেজি সোনালি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ঈদের পর সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৪২০ টাকায় উঠেছিল। পরে দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়।

    সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম ৪৫ শতাংশ ও ব্রয়লার মুরগির দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে।

    ঢাকার বিভিন্ন বাজারে গতকাল ছোট আকারের রুই মাছ ২৮০-৩৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছ ২০০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

    এখন বাজারে গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে গ্রীষ্মের সবজির দাম কিছুটা কমার কথা। কিন্তু গাড়িভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম কমছে না।
    আব্বাস আকন্দ, সবজি বিক্রেতা, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট

    সবজির দাম চড়া

    বাজারে বর্তমানে আলু ছাড়া ৫০ টাকা কেজির নিচে তেমন কোনো সবজি কেনা যায় না। বেশির ভাগ সবজির দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। আর বেগুন, কাঁকরোলের মতো দু-তিনটি সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে।

    কৃষি বিপণন অধিদপ্তর দৈনিক ১৫টি সবজির খুচরা দামের তালিকা প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বর্তমানে নয়টি সবজির দাম বেশি; আর দাম কম রয়েছে চারটি সবজির। দাম বেশি বেড়েছে দেশি টমেটো, মিষ্টিকুমড়া ও করলার। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ টাকা ও করলা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

    মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ জানান, এখন বাজারে গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে গ্রীষ্মের সবজির দাম কিছুটা কমার কথা। কিন্তু গাড়িভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম কমছে না।

    খুচরা দোকানে এখন প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে ৫ টাকা কম ছিল। গত এক সপ্তাহে বাজারে মাঝারি চালের (বিআর-২৮ ও পাইজাম) দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এসব চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। আর মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৩ টাকায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, এক মাসের ব্যবধানে মোটা ও মাঝারি চালের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকট চলছে। অনেক সময় ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরেও সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন না।

    মূল্যবৃদ্ধির যেসব কারণ

    নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ দেখিয়েছেন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা। তাঁরা জানান, গত কয়েক মাসে বিশ্ববাজারে বেশ কিছু পণ্য ও কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ায় দেশে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সরবরাহ–সংকট থেকেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আর সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও বাজারে পড়তে শুরু করেছে।

    প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকট চলছে। অনেক সময় ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরেও সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন না। ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম বাড়াতে চায়। কিন্তু সরকার এখনো অনুমতি দেয়নি। তবে ইতিমধ্যে কোম্পানিগুলো ডিলার বা সরবরাহকারী পর্যায়ে বোতলজাত তেলের দাম বাড়িয়েছে। এ কারণে ভোক্তাদেরও আগের চেয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।

    রাজধানীর জোয়ার সাহারা বাজারের মুদি বিক্রেতা জালাল দেওয়ান বলেন, ‘বাজারে বোতলের সয়াবিন তেল নেই বললেই চলে। কোম্পানিগুলো আমাদের কাছে গায়ের রেটে (এমআরপি) তেল বিক্রি করে। তাহলে গ্রাহকদের কাছে আমরা বেচব কত টাকায়।’

    বাজারে একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তারা, বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষেরা খরচের চাপে পড়েছেন। পরিবহন খরচসহ সামগ্রিকভাবে পণ্যের দামে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগকে পুঁজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, সভাপতি, ক্যাব

    মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষ

    বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। কারণ, মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ব্যয় সামলাতে হিমশিম খায় মানুষ। সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, টানা তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে আছে দেশ। সাধারণত সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতি থাকছে।

    মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় তিন বছর ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ ‘লাল’ শ্রেণিতে রয়েছে। এর মানে হলো, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি কমছে না; বরং মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তা আরও বাড়তে পারে।

    ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তারা, বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষেরা খরচের চাপে পড়েছেন। পরিবহন খরচসহ সামগ্রিকভাবে পণ্যের দামে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগকে পুঁজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

  • পরকীয়ার জেরে সংসার ভাঙল মৌসুমী হামিদের

    মৌসুমী হামিদ, ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বছর দুয়েক আগে পারিবারিক সিদ্ধান্তেই গাটছড়া বেঁধেছিলেন লেখক-নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার সঙ্গে। কিন্তু ভালোবাসার এ সংসার টিকল না স্বামীর পরকীয়ার জেরে! জানা গেছে, গত বছর নভেম্বর থেকে এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন না তারা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও আপাতত এ নিয়ে বিস্তারিত বলার পরিস্থিতিতে নেই বলে বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছ থেকে এড়িয়ে গেছেন মৌসুমী হামিদ।

    তবে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রানার পরকীয়া নিয়ে গেল কয়েক মাস ধরেই নানা গুঞ্জন ভাসছে শোবিজে। নুসরাত তুবা নামে এক তরুণীর সঙ্গে রানার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও শোনা যাচ্ছে নানামুখরোচক কাহিনী। মূলত এসব নিয়েই সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। ভালোবাসার ঘরে সন্দেহের আনাগোনা।

    দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন মৌসুমী-রানা। পরিস্থিতি এতোটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে এক পর্যায়ে সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন রানা। ডিভোর্স লেটার পাঠান মৌসুমীকে। অনেকেই বলছেন, নিজের অপকর্ম ঢাকতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন রানা।জানা গেছে, রানা এবং তুবা একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজ করছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৌসুমী হামিদ গণমাধ্যমকে বলেন, আপনারা যা শুনেছেন, ঠিকই শুনেছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই আমি। পরে কথা বলবো। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি পারিবারিক আয়োজনে মৌসুমী হামিদ ও আবু সাইয়িদ রানার বিয়ে হয়। তাদের এই অনুষ্ঠানে শোবিজ অঙ্গনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

     

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব