• পরীক্ষা ভীতি দূর করে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

    আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে অনুষ্ঠেয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে ‘পরীক্ষা ভীতি’ দূর করে একটি আনন্দময় ও ইতিবাচক পরিবেশে পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায় সরকার। 

    আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে সোমবার (২০ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ কথা জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান জনবান্ধব সরকার শিক্ষার্থীদের মন থেকে ‘পরীক্ষা ভীতি’ শব্দটি দূর করতে চায়। এবারের এসএসসি ও সমমানের ব্যাচটি করোনাজনিত কারণে প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এটিই তাদের জীবনের প্রথম পূর্ণ সিলেবাসের পাবলিক পরীক্ষা।

    তিনি আরও বলেন, ‘সেকারণে পরীক্ষার হল যেন কোনোভাবেই আতঙ্কের কারণ না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

    মাহদী আমিন আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাজপথে যে সৃজনশীলতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছে, তার প্রতিফলন পরীক্ষায় দেখা যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্দেশে নিরাপদ পানি, পর্যাপ্ত আলো-ফ্যান, স্বাস্থ্যকর টয়লেট ও জরুরি বিদ্যুৎ (আইপিএস বা জেনারেটর) ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। 

    এ ছাড়া ছাত্রীদের যাতায়াত শতভাগ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা সংক্রান্ত আইন ও আধুনিক তদারকি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রোধে ‘পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০’ সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন আইনে ডিজিটাল ক্রাইম এবং কেন্দ্র সচিবদের অবহেলার বিষয়টি শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, ‘যানজট এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের অনুরোধে এবার পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই খুলে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে পরীক্ষার্থীরা সময়মতো আসন গ্রহণ করতে পারে।’

    খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অহেতুক কঠোরতা আমাদের লক্ষ্য নয়। তবে মূল্যায়ন যেন সঠিক হয় সেজন্য এবার পরীক্ষকদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রেন্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে খাতা মূল্যায়নের মান যাচাই করা হবে।

    কোচিং সেন্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্লাসরুমের শিক্ষা কার্যক্রম উন্নত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ক্লাসরুমে পাঠদান ফলপ্রসূ হলে কোচিং সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা এমনিতেই হারাবে। তবে পরীক্ষার সময় যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকা- বা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

    সারাদেশে লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। বিশেষ করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
     
    শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাসিমুখে কেন্দ্রে যাওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সবার প্রতি শুভকামনা জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

     

  • পর্তুগালের বিশ্বকাপ দল নিশ্চিত হয়ে গেল রোনালদোর ইতিহাস গড়া

    বয়স তাঁর জন্য কেবলই একটা সংখ্যা, নাকি এক অনন্ত যৌবনের বিজ্ঞাপন?

    ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দেখলে এই প্রশ্নটা বারবার মাথায় আসতেই পারে। ৪১ পেরিয়ে গেছেন এবং এই বয়সে খেলতে যাচ্ছেন আরও একটা বিশ্বকাপ। অবশ্য এই বিশ্বকাপে তাঁর দলে থাকা নিয়ে সন্দেহ কখনোই ছিল না। পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ অনেকবারই বলেছেন, রোনালদোকে ছাড়া বিশ্বকাপে যাওয়ার কথা তিনি ভাবছেন না।

    ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নামতে যাচ্ছেন তিনি। অবশ্য লিওনেল মেসিও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডাক পেলে রোনালদোর এই রেকর্ডে ভাগ বসাবেন।

    মার্তিনেজ দল ঘোষণা করেছেন ২৭ জনের। তবে বিশ্বকাপের জন্য ফিফার নিয়ম মেনে চূড়ান্ত দল হতে হবে ২৩ থেকে ২৬ জনের। আসলে গত বছর সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া পর্তুগিজ তারকা দিয়োগো জোতাকেও প্রতীকি ‘সদস্য’ ধরে নিয়ে ২৭ জনের নাম ঘোষণা করেন কোচ। তাঁর মূল স্কোয়াড ২৬ জনেরই।

    রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
    রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ। রয়টার্স
     

    মার্তিনেজের ঘোষিত দলে খুবই অনুমিতভাবে রোনালদোর সঙ্গী হিসেবে আছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও নুনো মেন্দেসের মতো তারকারা। আবার চমকও আছে। চার বছর পর গত মার্চে জাতীয় দলে ফেরা রিয়াল সোসিয়েদাদের ফরোয়ার্ড গনসালো গেদেস জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। আছেন মাত্র ৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মায়োর্কার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সামুয়েল কোস্তা। দলে সুযোগ না পাওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েস্ট হামের মাতেউস ফার্নান্দেজ, বেনফিকার ডিফেন্ডার আন্তোনিও সিলভা এবং ফরোয়ার্ড পালিনিও, পেড্রো গনকালভেস ও রিকার্ডো হোর্তা।

    বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ঘরের মাঠে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল—৬ জুন চিলির বিপক্ষে এবং ১০ জুন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে।

    পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

    গোলরক্ষক: জোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্দে ভেলিও। ডিফেন্ডার: জোয়াও কানসেলো, মাতেউস নুনেস, নুনো মেন্দেস, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, দিয়োগো দালত, তমাস আরাউজো, রেনাতো ভেইগা, নেলসন সেমেদো। মিডফিল্ডার: ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, রুবেন নেভেস, সামুয়েল কস্তা। ফরোয়ার্ড: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গনসালো রামোস, রাফায়েল লিয়াও, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও, জোয়াও ফেলিক্স, পেদ্রো নেতো, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, গনসালো গেদেস।
  • পর্দার সেই মায়াবী চোখ—কবরীর অজানা গল্পগুলো জানেন কি

    বাংলা চলচ্চিত্রের পর্দায় যখন মিষ্টি এক হাসি ভেসে উঠত, দর্শকের হৃদয় যেন নিজে থেকেই নরম হয়ে যেত। সেই হাসির নাম কবরী। ‘মিষ্টি মেয়ে’—এই একটি শব্দেই যেন ধরা পড়ে তাঁর সব পরিচয়, তাঁর তারকাখ্যাতি, তাঁর অভিনয়ের জাদু। ১৭ এপ্রিল ছিল তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী, ঠিক ২০২১ সালের এই দিনে তাঁর পৃথিবীর ভ্রমণ শেষ হয়। তাকে স্মরণ করে ফিরে দেখা—একটি জীবন, একটি সময়, এক অনন্য শিল্পীর গল্প।

    সারাহ বেগম কবরী
    সারাহ বেগম কবরী

    ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্ম নেওয়া মিনা পাল—যিনি পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন সারাহ বেগম কবরী, যাঁর শৈশবের অনেকটা সময় কেটেছে ফিরিঙ্গিবাজারে। আলকরণ স্কুলে পড়াশোনা, তারপর জে এম সেন হাইস্কুল। ছোটবেলার সেই সাদামাটা জীবনের গল্পে ছিল সংগ্রামের ছোঁয়া—রাতে বালিশের নিচে কাপড় রেখে ইস্তিরি করার স্মৃতি আজও অনেককে স্মৃতিকাতর করে।

    সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে ওঠা কবরীর শিল্পী হয়ে ওঠা যেন ছিল সময়েরই অপেক্ষা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে ওঠা, তারপর টেলিভিশন—শেষমেশ সিনেমা। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে তাঁর রুপালি পর্দায় আগমন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৪। কিন্তু সেই প্রথম পথচলাই যেন বলে দিয়েছিল—বাংলা সিনেমা পেয়েছে এক অনন্য মুখ।

    ষাটের দশকেই কবরীর উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘জলছবি’, ‘বাহানা’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরী’, ‘যে আগুনে পুড়ি’—একটির পর একটি ছবিতে কবরী হয়ে উঠলেন দর্শকের প্রিয় মুখ। তাঁর চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি, আর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় তাঁকে দ্রুত মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে, জায়গা করে নেন মানুষের মনে।

    সত্তরের দশকে এসে সেই জনপ্রিয়তা পায় নতুন মাত্রা। ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’—এরপর ‘ময়নামতি’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘সারেং বৌ’, ‘সুজন সখী’, ‘পারুলের সংসার’, ‘রংবাজ’, ‘দেবদাস’, ‘আগন্তুক’, ‘বধূ বিদায়’—প্রতিটি ছবিতে তিনি যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন। ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ তাঁকে এনে দেয় অভিনয়ের এক অনন্য উচ্চতা, যেখানে তিনি শুধু নায়িকা নন, হয়ে ওঠেন এক গভীর শিল্পীসত্তার প্রতিনিধি।

    সারাহ বেগম কবরী
    সারাহ বেগম কবরী
     

    উর্দু ছবি ‘বাহানা’ কিংবা খান আতাউর রহমানের ‘সোয়ে নদীয়া জাগে পানি’তেও তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে—ভাষা বা ঘরানার সীমা তাঁকে আটকে রাখতে পারে না। রোমান্টিক হোক বা সামাজিক, প্রতিটি চরিত্রে তিনি ছিলেন সাবলীল। এ কারণেই সাধারণ মানুষই তাঁকে ভালোবেসে নাম দিয়েছিল—‘মিষ্টি মেয়ে’।

    পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন কবরী। নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের চোখে স্বপ্নের মতো। পাশাপাশি ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল, বুলবুল আহমেদ—সবার সঙ্গে কাজ করে তিনি তৈরি করেছেন এক সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রভুবন। বিশেষ এক রেকর্ডও রয়েছে তাঁর—বাংলাদেশের একমাত্র অভিনেত্রী, যাঁর বিপরীতে অভিষেক হয়েছিল পাঁচ নায়কের: উজ্জ্বল, ফারুক, আলমগীর, সোহেল রানা ও জাফর ইকবাল।

    ‘সারেং বৌ’ ছবিতে কবরী ও ফারুক
    ‘সারেং বৌ’ ছবিতে কবরী ও ফারুক, ছবি: সংগৃহীত

    তবে কবরী নিজেকে শুধু অভিনয়ের মধ্যেই আটকে রাখেননি। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে ‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবির কাজ শুরু করেছিলেন—যেখানে তিনি ছিলেন অভিনেত্রী, নির্মাতা ও প্রযোজক—তিন ভূমিকাতেই। ছবিটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেলেও তাঁর স্বপ্নের বিস্তারটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এতে।

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ভারতে গিয়ে সভা-সমিতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। একজন শিল্পীর পাশাপাশি একজন দেশপ্রেমিক মানুষের যে দায়বদ্ধতা—কবরী তা পূর্ণ করেছেন নিঃসন্দেহে।

    কবরী ও বাংলাদেশি সিনেমার সোনালী দিনের ৫ নায়ক
    কবরী ও বাংলাদেশি সিনেমার সোনালী দিনের ৫ নায়ক
     

    ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন পাঁচ সন্তানের মা। প্রথমে চিত্ত চৌধুরী, পরে সফিউদ্দীন সরোয়ারের সঙ্গে তাঁর বিবাহিত জীবন—দুই ক্ষেত্রেই বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের ওঠাপড়া কখনো তাঁর শিল্পীসত্তাকে থামাতে পারেনি। রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নারীর অধিকার ও সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

    মাত্র ১৩ বছর বয়সে  ‘সুতরাং’ ছবিতে কাজ করেছিলেন কবরী
    মাত্র ১৩ বছর বয়সে ‘সুতরাং’ ছবিতে কাজ করেছিলেন কবরী

    ২০১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘স্মৃতিটুকু থাক’ যেন তাঁর জীবনযাত্রারই একটি প্রতিচ্ছবি। জীবদ্দশায় তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, ঋষিজ পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা—যার মধ্যে রয়েছে আজীবন সম্মাননাও।
    কবরীর পছন্দের জগৎও ছিল বৈচিত্র্যময়। সোফিয়া লরেন থেকে অড্রে হেপবার্ন, উত্তম কুমার থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়—বিশ্ব ও বাংলা সিনেমার সেরা তারকারাই ছিলেন তাঁর প্রিয়। সংগীতে মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমীন—এই তালিকাও তাঁর রুচির গভীরতার সাক্ষ্য দেয়। আর একটি অপূর্ণ স্বপ্ন—অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয়—যা শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যায়।

    ‘সুজন সখী’ ছবিতে কবরী ও ফারুক
    ‘সুজন সখী’ ছবিতে কবরী ও ফারুকছবি: সংগৃহীত

    ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল, করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭১ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। বনানী কবরস্থানে তাঁকে শায়িত করা হয়। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন সরব—ক্যামেরার সামনে থেকে পেছনে, আলো থেকে কখনোই দূরে নন।

    বিশেষ ফটোশুটে সারাহ বেগম কবরী
    বিশেষ ফটোশুটে সারাহ বেগম কবরী

    সহশিল্পীদের চোখে তিনি ছিলেন আদর্শ। উজ্জ্বল বলেছিলেন—একজন বাঙালি নায়িকার সংজ্ঞাই ছিলেন কবরী। সুজাতা তাঁকে দেখেছেন শক্তিশালী ও স্পষ্টবাদী একজন অভিনেত্রী হিসেবে। আর সোহেল রানার কথায়—‘শত বছরে একজন কবরীই জন্মায়।’

  • পর্দায় প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের চরিত্র নিয়ে প্রবল বিতর্ক

    এইচবিওতে চলছে ‘ইউফোরিয়া’র তৃতীয় ও শেষ মৌসুম। সিরিজে সিডনি সুইনি অভিনীত ক্যাসি চরিত্রটিকে দেখানো হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে। মুক্তির পর থেকেই চরিত্রটির উপস্থাপন নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। এবার প্রতিবাদ জানালেন, প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফর্ম ‘অনলিফ্যানস’–এর নির্মাতা ও প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। তাঁদের অভিযোগ, সিরিজটি যৌনকর্মীদের জীবনকে বিদ্রূপাত্মক ও অবাস্তবভাবে দেখিয়েছে।

    চলচ্চিত্রবিষয়ক মার্কিন গণমাধ্যম ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইউফোরিয়া’–এর তৃতীয় মৌসুমে কিশোর–তরুণদের জীবন আরও অন্ধকার দিকে মোড় নেয়। স্যাম লেভিনসনের সিরিজটিতে এবার দেখা যায়, জেনডায়া অভিনীত রু চরিত্রটি মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং ঋণ শোধ করতে একটি স্ট্রিপ ক্লাবে কাজ শুরু করে। অন্যদিকে হান্টার শেফার অভিনীত জুলস চরিত্রটি একজন ধনীর ‘সুগার বেবি’ হিসেবে আয় করতে থাকে। আর ক্যাসি চরিত্রে সিডনি সুইনি খুলে বসে ‘অনলিফ্যানস’ অ্যাকাউন্ট, যাতে সে তার প্রেমিক নেটকে বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ হাজার ডলারের ফুলের খরচ জোগাড় করতে পারে। অর্থাৎ, সিরিজটির প্রধান তিনটি চরিত্রের সঙ্গেই যৌনতার যোগ রয়েছে।

    সিরিজে দেখা যায়, ক্যাসি উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করছে। আবার অন্য এক দৃশ্যে তাকে শিশুর মতো সাজিয়ে সোফায় শোয়ানো হয়। এসব ছবি তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয় তার বাসার গৃহপরিচারিকাকে।

    এই উপস্থাপনাই ক্ষুব্ধ করেছে বাস্তব জীবনের অনলিফ্যানস নির্মাতাদের। ২০১৭ সাল থেকে অনলিফ্যানসে কাজ করা নির্মাতা সিডনি লিথারস ভ্যারাইটিকে বলেন, ‘পুরো ব্যাপারটাই অত্যন্ত হাস্যকর ও কার্টুনের মতো। সিরিজে যেসব কনটেন্ট ক্যাসিকে করতে দেখানো হয়েছে, তার অনেক কিছুই বাস্তবে অনলিফ্যানসে অনুমোদিত নয়। বিশেষ করে শিশুর মতো সাজা—এসব কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার পরিপন্থী।’

    ‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও
    ‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলিফ্যানসের ‘অ্যাকসেপ্টেবল ইউজ পলিসি’ অনুযায়ী কোনো ধরনের অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সেজে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট প্রকাশ নিষিদ্ধ। এমন কনটেন্ট পোস্ট করলে অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
    প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও জনপ্রিয় অনলিফ্যানস নির্মাতা মেইটল্যান্ড ওয়ার্ডও সিরিজটির সমালোচনা করেছেন। এই অভিনেত্রীর মতে, সিরিজটি এমন ধারণা দিচ্ছে যেন যৌনকর্মীরা টাকার জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত।

    মেইটল্যান্ড বলেন, ‘এমন সময়ে ক্যাসিকে শিশুর পোশাক পরিয়ে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বানানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে আবারও সেই পুরোনো ধারণা জোরালো হয় যে যৌনকর্মীদের কোনো নৈতিকতা নেই। হলিউড যেন বিষয়টিকে মজা হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু এতে হাসির কিছু নেই।’

    তবে নির্মাতা স্যাম লেভিনসন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, ক্যাসির ‘অনলিফ্যানস’ গল্পে একধরনের অদ্ভুত হাস্যরস তৈরি করতে চেয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ক্যাসির দৃশ্যগুলোর মধ্যে আলাদা ধরনের হাস্যরস আছে। কিন্তু দৃশ্যগুলোর আসল মজা এসেছে গৃহপরিচারিকার মাধ্যমে, যে এগুলো ধারণ করছে।
    স্যাম আরও বলেন, তাঁরা চেয়েছেন, দর্শক যেন ক্যাসির তৈরি করা কৃত্রিম জগতের ভেতরে ঢুকে পড়েন, আবার হঠাৎ বাইরে এসে পুরো বিষয়টির বিষণ্ন বাস্তবতাও দেখতে পারেন।

    ‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    কিন্তু নির্মাতার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেকে। মেইটল্যান্ড ওয়ার্ডের ভাষায়, ‘এতে পরিষ্কার বোঝা যায় যে অনলিফ্যানসের গল্পটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি; বরং এটি পুরুষ লেখকদের কল্পনার মতো মনে হয়েছে।’

    তবে সিরিজের কিছু অংশকে বাস্তবসম্মতও মনে হয়েছে কিছু নির্মাতার কাছে। জনপ্রিয় অনলিফ্যানস নির্মাতা অ্যালিক্স লাইনেক্স বলেন, ক্যাসি যেভাবে ভাইরাল হওয়ার জন্য জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের পার্টিতে যায়, সেটি বাস্তবতার কাছাকাছি। তাঁর ভাষায়, ‘মার্কেটিংয়ের দিক থেকে এটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত। কিন্তু সিরিজে দেখানো হয়েছে, শুধু সুন্দর চেহারা আর কিছু পাগলামি করলেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা আসবে। বাস্তবে তা নয়। এখানে দীর্ঘ সময় ধরে ভক্তগোষ্ঠী তৈরি করতে হয়।’

  • পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ এক বছর কমানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা

    সভায় আলোচনা হয় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোয় বর্তমানে চার বছর মেয়াদি এই ডিপ্লোমা কোর্সে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। আগে এই কোর্স ছিল ৩ বছর মেয়াদি। কিন্তু ৪ বছর করা হলেও সিলেবাসের উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোর্সের মেয়াদ তিন বছরের করা হলে শিক্ষার্থীরা বর্তমান সময় থেকে এক বছর আগেই কর্মজীবনে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন।

    এ ছাড়া সভায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনে নতুন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ গড়ার কথাও উঠে আসে।

    বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ এক বছর কমিয়ে তিন বছর করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে এক সভায় এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অবশ্য, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে এই পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    সভায় উন্নয়ন কর্মসূচি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

    সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ বিভাগের ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাজনীতি ছাড়বেন শত্রুঘ্ন? মুখ খুললেন সোনাক্ষী

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস, নতুন সকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নির্বাচনে হারার পর অনেকেই তৃণমূল ছাড়ছেন। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে শত্রুঘ্নও কি দল ছাড়বেন। তিনি এখনো কথা বলেননি, তবে বাবার হয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা।

    সোনাক্ষী তাঁর বাবার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘এখন তিনি রাজনীতি নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে খুব সুন্দরভাবেই সেই জগতে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। তিনি যেখানে আছেন এবং যা করছেন, তাতেই খুশি।’ বাবা-মেয়ের সম্পর্কের সমীকরণ কেমন, তা নিয়েও অকপট অভিনেত্রী। তিনি জানান, ‘বাবারা সাধারণত সন্তানদের প্রতি একটু কঠোর হন। কিন্তু আমার বাবা সব সময়ই আমার প্রতি খুব নরম ছিলেন। আমাকে সব সময় বলতেন, নিজের যোগ্যতায় নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। বাবা স্রোতের বিপরীতে হাঁটলেও আমার মতে, এ রকম মানসিকতাই একটি মেয়েকে মনের দিক থেকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে।’

    সোনাক্ষী সিনহা। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সোনাক্ষী সিনহা। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মধ্যে গুঞ্জন রটেছিল, শত্রুঘ্ন মেয়ে সোনাক্ষীকে নিয়ে সিনেমা প্রযোজনা করবেন। তবে সে গুঞ্জনও উড়িয়ে দেন সোনাক্ষী। তিনি বলেন, ‘বাবা দু-একটি ছবির প্রযোজনা করেছেন। কিন্তু আমাকে কখনো বলেননি যে তিনি আমার জন্য কোনো ছবি প্রযোজনা করতে চান; বরং এই মুহূর্তে সিনেমায় ফেরার কোনো পরিকল্পনাই নেই।’

    ২০১০ সালে ‘দাবাং’-এ অভিনয়ের পর আলোচনায় আসেন সোনাক্ষী। তবু বলিউডের একজন সফল অভিনেত্রীর চেয়ে বেশি ‘শত্রুঘ্ন সিনহার মেয়ে’ বলেই পরিচয় করানো হতো। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখন শত্রুঘ্ন সিনহাকে ‘সোনাক্ষী সিনহার বাবা’ বলেও সম্বোধন করা হয়। এই মর্মে সোনাক্ষীর সংযোজন, ‘বাবা যখন বিমানে ভ্রমণ করেন, তখন বিমানবালারা এসে বলেন, “আপনি কি সোনাক্ষী সিনহার বাবা?” এতে বাবা খুব গর্ববোধ করেন।’

    নিউজ ১৮ অবলম্বনে

    সোনাক্ষী ও শত্রুঘ্ন। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সোনাক্ষী ও শত্রুঘ্ন। ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • পাঁচ নারীর সঙ্গে চ্যাট, প্রেমিকের প্রতারণার কথা জানালেন বলিউড অভিনেত্রী

    বলিউড অভিনেত্রী শানায়া কাপুর সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের অতীত প্রেমজীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণে থাকা অবস্থায় প্রেমিকের ফোনে একসঙ্গে পাঁচ নারীর সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সেটিই ছিল সম্পর্কের সবচেয়ে ‘ভীতিকর’ অভিজ্ঞতা।

    শানায়া কাপুর অভিনীত নতুন ছবি ‘তু ইয়া ম্যায়’ মুক্তি পেয়েছে আজ শুক্রবার। ছবি প্রচারণায় ব্যস্ত শানায়া রিলেশনসশিট অ্যাডভাইস পডকাস্টে হাজির হয়ে এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলেন। সেখানে তিনি বিশ্বাসভঙ্গ, আবেগঘন প্রতারণা ও সম্পর্ক ভাঙনের পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন।

    ‘পারফেক্ট’ প্রেম, তারপর ধাক্কা

    শানায়া জানান, তখন তিনি বিদেশ সফরে ছিলেন তাঁর তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে। সম্পর্ক নিয়ে তখন তিনি অত্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। ‘আমি ভাবছিলাম, এটাই সেই সম্পর্ক। এত ভালো যেন সত্যি হওয়ার মতো নয়’, বলেন শানায়া।

    শানায়া কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    শানায়া কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ঘটনার মোড় ঘোরে একেবারে সাধারণ একটি মুহূর্তে। রাতের খাবারের জন্য বের হওয়ার আগে তাঁর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। প্রেমিকের ফোন দিয়ে ক্যাব বুক করতে গিয়ে একটি নোটিফিকেশন চোখে পড়ে—প্রেমিকের সাবেক প্রেমিকার বার্তা। কৌতূহল ও সন্দেহ থেকে তিনি চ্যাট খুলে দেখেন, যা দেখে তিনি বিস্মিত ও আহত হন।
    একের পর এক বার্তা শানায়া বলেন, প্রথম চ্যাটের পরই আরেকটি, তারপর তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম—এভাবে পাঁচ নারীর সঙ্গে একই ধরনের বার্তা আদান-প্রদান দেখতে পান তিনি। ‘ও এমনভাবে কথা বলছিল, যেন সে একেবারেই সিঙ্গেল’, যোগ করেন তিনি।
    শানায়া দ্রুত চ্যাটগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের পাঠান পরামর্শ চেয়ে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে।

    শানায়ার ভাষ্য অনুযায়ী, অনন্যা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন। ‘অনন্যা বলছিল, ট্রেনে উঠে চলে এসো, আমরা কাছাকাছিই আছি’, বলেন শানায়া। কিন্তু বিদেশে একা থাকার অনিশ্চয়তা তাঁকে দ্বিধায় ফেলে দেয়।
    শানায়া বলেন, ‘আমি কীভাবে হঠাৎ ট্রেনে উঠে চলে যাব? কী করব বুঝতে পারছিলাম না। পুরো ডিনারে আমি ভান করছিলাম সব ঠিক আছে।’

    শানায়া জানান, পরবর্তী তিন দিনও বাইরে ঘোরাফেরা, ডিনার—সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে গেলেও ভেতরে ভেতরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন।
    অবশেষে প্রেমিক বুঝতে পারেন, কিছু একটা ঠিক নেই। শানায়ার দাবি, তাঁকে শান্ত করতে প্রেমিক দামি এক জোড়া দুল কিনে দেন। শানায়া সেটিকে রসিকতার সুরে নাম দেন ‘গিল্টি ইয়াররিংস’।

     

    পরে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়, তবে মজার ছলে শানায়া বলেন, দুলটি এখনো তাঁর কাছে আছে এবং মাঝেমধ্যে পরেনও—‘আমি তো এটা অর্জন করেছি’, হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

    ‘শুধু মেসেজিং’—কিন্তু শানায়ার মতে তা নয়, প্রেমিকের দাবি ছিল, এটি কেবল বার্তা আদান-প্রদান, শারীরিক কোনো সম্পর্ক হয়নি। কিন্তু শানায়ার কাছে সেটিই ছিল প্রতারণা, যা তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • পাঁচ মিনিটে ২ গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল

    ব্রাজিল ৩-১ ক্রোয়েশিয়া

    বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে অরল্যান্ডোর ক্যাম্পিং স্টেডিয়ামে শেষ প্রীতি ম্যাচটি খেলল ব্রাজিল। তাতে ফল সন্তোষজনক। ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।

    আগের ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের একাদশে ছয়টি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি। তাতে ব্রাজিলের খেলায় ধার ফিরতে শুরু করে। যদিও প্রথম গোলটি ব্রাজিল পেয়েছে একটু দেরিতে। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে গোল করেন দানিলো।

    ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানিয়েছিলেন, দানিলোর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা নিশ্চিত। আজ তাঁর পারফরম্যান্সে ‍খুশিই হওয়ার কথা আনচেলত্তির। ম্যাচের ৮৪ থেকে পরবর্তী ৮ মিনিটের মধ্যে হয়েছে আরও ৩ গোল।

    ৮৪ মিনিটে ফ্রুকের পাস থেকে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোলটি করেন লাভরো মেজর। এর ৪ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলকে আবারও এগিয়ে দেন ইগর থিয়াগো। যোগ করা (৯২ মিনিট ) সময়ে করা গোলটি গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির। অর্থাৎ, ৫ মিনিটের মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার জালে দুই গোল করেছে ব্রাজিল।

    কাসেমিরো ও লুকা মদরিচের মধ্যে বল দখলের লড়াই
    কাসেমিরো ও লুকা মদরিচের মধ্যে বল দখলের লড়াই, রয়টার্স
     

    রদানিলোর গোলে বড় অবদান ভিনির। ম্যাথিয়াস কুনেহার পাস থেকে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল বানান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ক্রোয়েশিয়া বিরতির পর একটু দাপট বিস্তার করে খেলেছে, গোলটি তারই ফল। তবে গোল হজম করার পর ব্রাজিল আবারও খেলার ধার বাড়ায়। ক্রোয়াটদের বক্সে এনদ্রিক ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কুনেহা ও জোয়াও পেদ্রো একাধিকবার ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচের পরীক্ষা নেন।

    বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে শেষ ম্যাচ বলেই হয়তো এ ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা একটু বেশিই করেন আনচেলত্তি। আটজন বদলি নামান।

    ফ্রান্স ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও গ্যালারি থেকে ভেসে এসেছে নেইমারের নামে দর্শকদের স্লোগান। প্রথমার্ধে একটু কম হলেও বিরতির পর নেইমারের নামে স্লোগানে আওয়াজ বেড়েছে।

    গোল পেয়েছেন ব্রাজিলের মার্তিনেল্লি
    গোল পেয়েছেন ব্রাজিলের মার্তিনেল্লি, রয়টার্স

    মারাকানা স্টেডিয়ামে আগামী ৩১ মে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে ৬ জুন মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের আগে খেলবে শেষ প্রীতি ম্যাচ। এ দুটি ম্যাচে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষণা করা স্কোয়াড থেকে একাদশ গড়বেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে আগামী ১৮ মে।

  • পাওয়ার প্লে শেষ, অবিশ্বাস্য সেই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া এখন ৩৭/৪

    শেষ হলো পাওয়ার প্লে

    পাওয়ার প্লের ১০ ওভার শেষ হয়ে গেছে। মোস্তাফিজুর রহমান আর তাসকিন আহমেদ মিলে অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী করেছেন শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শকদের। শূন্য রানে রেকর্ড ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে এখন স্কোরকার্ডটা একটু ভদ্রস্থ— ১০ ওভারে ৩৭ রানে তাদের ৪ উইকেট নেই।

    উইকেটের পর উদ্‌যাপন
    উইকেটের পর উদ্‌যাপন
     
    আরও এক উইকেট

    এবার অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ উইকেটও তুলল বাংলাদেশ। শূন্য রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর জস ইংলিশ আর অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ১৭ বলে ১৩ রান করে মোস্তাফিজের বলে নাজমুলের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ক্যারি।

    এখন উইকেটে এসেছেন গ্রিন। আগের ম্যাচে ফিফটি পেয়েছিলেন তিনি। চাপের মুখে তাঁকেই বাঁচাতে হবে বাংলাদেশকে।

    অস্ট্রেলিয়া: ৮ ওভারে ২৫/৪

    স্কোরবোর্ডের এমন অবস্থার ছবিটা মোবাইলে সেভ করে রাখার মতোই
    স্কোরবোর্ডের এমন অবস্থার ছবিটা মোবাইলে সেভ করে রাখার মতোই
  • পাকিস্তান প্রমাণ করল তারা কেন পাকিস্তান

    ঢাকা
  • পাকিস্তান ম্যাচের আগে প্রেমিকাকে নিয়ে আলোচনায় হার্দিক, কে এই মাহিকা

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ। দুই প্রতিবেশী ‘হাই ভোল্টেজ’ ম্যাচ খেলতে এখন আছে শ্রীলঙ্কায়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবারের সফরে খেলোয়াড়দের তাঁদের স্ত্রী বা প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে আছেন তাঁর প্রমিকা মাহিকা শর্মা। খেলার আগে নতুন করে আলোচনায় এই তারকা জুটি।

    ভালোবাসা দিবসে বিশেষ চমক
    এদিকে ভালোবাসা দিবসে হার্দিক পান্ডিয়া প্রেমিকাকে উৎসর্গ করে ট্যাটু করেছেন, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায়। ট্যাটু আর্টিস্ট সানি ভানুশালির টিম জানিয়েছে, শুরুতে ক্রিকেটারের ভাবনা ছিল খুব সূক্ষ্মভাবে প্রেমিকাকে ট্রিবিউট দেওয়া। কিন্তু আলোচনার পর ধারণাটি আরও গভীর অর্থবহ রূপ নেয়। শুধু একটি অক্ষর নয়, পুরো ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে দুটি চিতাবাঘের মোটিফ দিয়ে। একটি চিতা শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এক চিতা প্রথমটির চারপাশে ঘুরে গিয়ে সূক্ষ্মভাবে ‘এম’ অক্ষরের আকৃতি তৈরি করেছে। এই ‘এম’ দিয়ে যে মাহিকাকে বোঝানো হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

    [caption id="attachment_267288" align="alignnone" width="708"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    ট্যাটুশিল্পীর ভাষায়, এটি নাকি এমন এক সম্পর্কের প্রতীক, যেখানে দুজন একে অপরের শক্তিকে আরও বড় করে তোলে।
    স্ত্রী নাতাশা স্তানকোভিচের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হার্দিক পান্ডিয়া সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন গায়িকা জেসমিন ওয়ালিয়ার সঙ্গে। সেই সম্পর্ক ভাঙার খবরের পর এবার মডেল ও অভিনেত্রী মাহিকা শর্মার সঙ্গে প্রেম করছেন হার্দিক।

    [caption id="attachment_267287" align="alignnone" width="715"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    দিল্লির মেয়ে মাহিকা
    মাহিকার বেড়ে ওঠা দিল্লিতে। নেভি চিলড্রেন স্কুল থেকে স্কুলজীবন শেষ করার পর তিনি কলেজে অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনায় ছিলেন মেধাবী—দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ১০ সিজিপিএ। পড়াশোনার সময়ই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ করেছেন, যার মধ্যে ছিল অর্থনীতি, শিক্ষা ও তেল–গ্যাসসংক্রান্ত কৌশল–পরিকল্পনা।

    [caption id="attachment_267286" align="alignnone" width="718"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    শিক্ষাজীবন শেষে বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখেন মাহিকা। তিনি অভিনয় ও মডেলিং শুরু করেন। ভারতীয় র‌্যাপার রাগার এক মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাঁকে। এ ছাড়া ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা অরল্যান্ডো ভন আইন্সিডেলের ‘ইনটু দ্য ডাক’ ও ওমঙ্গ কুমারের ‘নারেন্দ্র মোদি’ (২০১৯) ছবিতে, যেখানে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন বিবেক ওবেরয়। বড় বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।

    [caption id="attachment_267285" align="alignnone" width="722"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    ফ্যাশন দুনিয়ায়ও সফল মাহিকা। তিনি হেঁটেছেন ভারতের শীর্ষ ডিজাইনারদের র‌্যাম্পে—অনীতা দোংরে, রিতু কুমার, তরুণ তাহিলিয়ানি, মনীশ মালহোত্রা ও অমিত আগারওয়ালের মতো নামকরা ডিজাইনারদের শোতে। ২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডসে জিতেছেন মডেল অব দ্য ইয়ার (নিউ এজ) খেতাব। এ ছাড়া এল ম্যাগাজিনও তাঁকে মডেল অব দ্য সিজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

  • পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণা

    নাহ, অলআউট হতে চায়নি বাংলাদেশ। তাসকিন আউট হওয়ার পরই ৯ উইকেটে ২৪০ রানে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেছে নাজমুলের দল। দুই ইনিংস মিলিয়ে লিড ২৬৭ রানের। অর্থাৎ মিরপুর টেস্ট জিততে দুই সেশনের একটি বেশি সময় ব্যাট করে পাকিস্তানকে ২৬৮ রান করতে হবে। আলোকস্বল্পতা কিংবা বৃষ্টি হানা না দিলে দিনের বাকি সময়ে ৭৫ ওভারের খেলা হতে পারে।

    মিরপুরে চতুর্থ ইনিংসে ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। ২০১০ সালে বাংলাদেশের দেওয়া ২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৯ উইকেটে জেতে ইংল্যান্ড।

    ৫০.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছিলেন নাজমুল ও মুশফিক। আজ শেষ দিনে সকালের সেশনে ৮৮ রানে হারিয়েছে ৬ উইকেট। ইনিংস ঘোষণার আগে আজ ২১ ওভার ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করেছে ৭০.৩ ওভার।

    সকালের সেশনে একটু থিতু হওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে রান তোলার চেষ্টা করেন ব্যাটসম্যানরা। ৮৭ রানে আউট হন নাজমুল। মিরাজ ২৪ ও মুশফিক ২২ রান করেন। পাকিস্তানের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন হাসান আলী ও নোমান আলী।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর:

    বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪, মুশফিক ২২, তাসকিন ১১; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬, শাহিন ২/৫৪)।

    পাকিস্তান: ৩৮৬।

  • পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে সুপার এইটে ভারত

    আজকাল ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে যা হয়, কলম্বোতে সেটিই হলো। ৬ হাজার কোটি টাকার ম্যাচে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারল না পাকিস্তান। ঈশান কিষানের ৭৭ রানের তাণ্ডবে ১৭৫ রান করেছিল ভারত। এরপর পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অলআউট করে ৬১ রানে ম্যাচটি জিতল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। টানা তৃতীয় জয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে সুপার এইটে উঠে গেল সূর্যকুমার যাদবের দল।

    এই হারে পাকিস্তানের সুপার এইটের অপেক্ষা বাড়ল। শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার কাছে না হারলেই শেষ আটে উঠবে পাকিস্তান। তবে হেরে গেলে গতবারের মতো এবারও প্রথম পর্ব খেলেই দেশে ফিরতে হবে পাকিস্তানকে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করা যুক্তরাষ্ট্র নেট রান রেটে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে।

    ১৮তম ওভারের শেষ বলে উসমান তারিককে বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংসের যতি টেনেছেন হার্দিক পান্ডিয়া।

    এই জয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮–১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

    ১৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ওভারে যশপ্রীত বুমরা ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের স্কোরটাকে ১৩/৩ বানিয়ে দেন। ৩৪ রানে বাবর আজমের বিদায়ের পর যা একটু চেষ্টা করেছিলেন উসমান খান। ৪৪ রান করে উসমান যখন ফিরলেন ৭৩ রানে ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের। এরপর শুধু ব্যাবধানই কমাতে পেরেছে দলটি।

    বল হাতে নেওয়া ভারতের সাত বোলারের ছয়জনই উইকেট পেয়েছেন। দুই পেসার পান্ডিয়া ও বুমরা এবং দুই স্পিনার অক্ষর ও বরুণ ২টি করে উইকেট পেয়েছেন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (ঈশান ৭৭, সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭, তিলক ২৫; সাইম ৩/২৫)
    পাকিস্তান: ১৮ ওভারে ১১৪ (উসমান ৪৪, আফ্রিদি ২৩*; পান্ডিয়া ২/১৬, বুমরা ২/১৭, বরুণ ২/১৭, অক্ষর ২/২৯)।
    ফল: ভারত ৬১ রানে জয়ী।
  • পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪০ ঘণ্টার অভিযান, নিহত ১৪৫

    পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর টানা ৪০ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাসহ গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় একযোগে বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় মোট ৪৮ জন নিহত হন। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক।

    পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শনিবার(৩১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, হামলাকারীরা সবাই সাধারণ বেসামরিক পোশাক পরিহিত ছিল। এই ছদ্মবেশেই তারা জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে সহজে মিশে যেতে সক্ষম হয়।

    হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বেলুচ স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ৩০ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর আওতায় তারা পাকিস্তানের সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

    বিএলএ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনে শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সংগঠনটি দাবি করেছে, অভিযানে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা এবং ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

    বিএলএ-এর দায় স্বীকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার মোট ৪০ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চালানো হয়, যাতে ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন।

    উল্লেখ্য, ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলগুলোর একটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই প্রদেশটির বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এসব আন্দোলন দমনে ইসলামাবাদ বরাবরই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযান পাকিস্তানের নিরাপত্তা কৌশলে একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেছে। এর আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি সংখ্যক বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হওয়ার ঘটনা বেলুচিস্তানের ইতিহাসে বিরল।

    সূত্র : রয়টার্স

     

  • পাকিস্তানের বাঁচা–মরার ম্যাচে ফারহানের রেকর্ড সেঞ্চুরি

    জিতলে সুপার এইট, হারলে বাদ—নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের আজ সমীকরণ এমন। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করলেন পাকিস্তান ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান।

    দ্বিতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করলেন ফারহান। এর আগের সেঞ্চুরিটি ছিল আহমেদ শেহজাদের, ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১১* রান করেছিলেন শেহজাদ।

    ফারহানের করা সেঞ্চুরিটি এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয়। এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার পাতুম নিশাঙ্কা ও কানাডার যুবরাজ সিং সামরা। এই প্রথম কোনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩টি সেঞ্চুরি দেখা গেল।

    আজ ৩৭ বলে ফিফটি করা ফারহান সেঞ্চুরি করেছেন ৫৭ বলে, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। শেহজাদের সেঞ্চুরিটি ছিল ৫৮ বলে।

    সেঞ্চুরির পথে ১১ চার ও চার ছক্কা মেরেছেন ফারহান। তাঁর সেঞ্চুরির কল্যাণে পাকিস্তান তুলতে পেরেছে ১৯৯ রানের বড় সংগ্রহ।

    ফারহানকে আজ সঙ্গ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান। শেষদিকে শাদাব খান ২২ বলে ৩৬ রান করে ছিলেন অপরাজিত। এর আগে ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হয়েছেন অধিনায়ক সালমান আগা।

    পাকিস্তানের হয়ে ওপেন করেছেন সাইম ও ফারহান
    পাকিস্তানের হয়ে ওপেন করেছেন সাইম ও ফারহান, আইসিসি
     

    সেঞ্চুরিয়ান ফারহানের শুরুটা আজ তেমন একটা সাবলীল ছিল না। ইনিংসের প্রথম ৩০ রান তিনি করেছেন ২৭ বলে, এরপর হাত খুলেছেন ফারহান। পরের ৭০ রান করেছেন ৩১ বলে।

    এই সেঞ্চুরিতে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও হয়েছেন ফারহান। তাঁর রান এখন ২২০, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এইডেন মার্করামের, ১৭৮ রান।

  • পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের হ্যাটট্রিক, নাহিদ রানার কীর্তি, মিরপুরে যত রেকর্ড

    ১৩ ম্যাচের ১২টিতেই হার, একটি ড্র—এমন বিবর্ণ রেকর্ড নিয়েই ২০২৪ সালে পাকিস্তানে টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ইতিহাস, বাংলাদেশ জেতে দুটি টেস্টই। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঘরের মাঠেও জিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয়। টেস্টে বাংলাদেশ আর কোনো দলকে কি টানা তিনবার হারিয়েছে, আর কী কী রেকর্ডই বা হলো বাংলাদেশের জয়ের দিনে—
     
    • পাকিস্তানের আগে বাংলাদেশ টানা তিন টেস্টে হারিয়েছে শুধু জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডকে। টানা জয়ের রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০১৩ ও ২০১৪ সাল মিলিয়ে টানা চার টেস্টে।
    • টেস্টে পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ বেশি হারিয়েছে শুধু দুটি দলকে—জিম্বাবুয়ে (৯) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৫)।  আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা তিন টেস্টেই জিতেছে বাংলাদেশ।
    বাংলাদেশের জয়ের পর নাহিদ রানার উদ্‌যাপনটা দেখার মতোই হলো
    বাংলাদেশের জয়ের পর নাহিদ রানার উদ্‌যাপনটা দেখার মতোই হলোশামসুল হক

    নাহিদ রানার ৫/৪০

    • ১১ টেস্টের ক্যারিয়ারে নাহিদ রানার সেরা বোলিং। আগের সেরা ৫/৬১, ২০২৪ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
    • টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে ৫ উইকেট পেলেন নাহিদ রানা। আগের সেরা তাসকিন আহমেদের (৪/৩৭), ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
    • টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো পেসারের সেরা বোলিং। আগের সেরা হাসান মাহমুদের (৫/৪৩), ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে।
    • বাংলাদেশ জিতেছে, এমন টেস্টে কোনো পেসারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। সেরা ইবাদত হোসেনের (৬/৪৬), ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
    • ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পেসারদের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। সেরা শাহাদাত হোসেনের (৬/২৭), ২০০৮ সালে মিরপুরেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের পেসাররা ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন এই দুবারই।
     
    এই টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের নেওয়া উইকেট–সংখ্যা। মিরপুরে মাত্র দ্বিতীয়বার এক ম্যাচে বাংলাদেশের পেসাররা ১০ উইকেট পেলেন। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৪ উইকেট পেয়েছিলেন পেসাররা।
    ১৩ রানের জন্য জোড়া সেঞ্চুরি পাননি নাজমুল
    ১৩ রানের জন্য জোড়া সেঞ্চুরি পাননি নাজমুলপ্রথম আলো

    নাজমুল হোসেনের কীর্তি

    • তৃতীয়বার টেস্টের দুই ইনিংসেই ৮০ ছাড়ালেন নাজমুল। বাংলাদেশের আরও কারও দুবার নেই এই কীর্তি।
    • বাংলাদেশ জিতেছে, এমন টেস্টে অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান এখন নাজমুলের (৫২০)। পেছনে পড়েছেন মুশফিকুর রহিম (৪৫৮)।
    • মাত্র ১৩ রানের জন্যই টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তৃতীয়বার জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি ছুঁতে পারেননি।
  • পাবনায় হামের টিকা নিতে কেন্দ্রে ভিড়, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় ভোগান্তি

    পাবনায় হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে টিকাদানকেন্দ্রগুলোয় ভিড় বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়ে টিকা নিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়া অনেক শিশু টিকাদানকেন্দ্রে আসছে। যদিও কিছুদিন আগে টিকার ঘাটতি ছিল, তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে সেই ঘাটতি পূরণ হয়েছে।

    জেলা শহরে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয় পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভা ক্যাম্পাসের এক কোনায় এই টিকাদানকেন্দ্র। একতলা ভবনের সামনে ত্রিপল টানিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। পুরো জায়গাটি মানুষে ঠাসা। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে অভিভাবকেরা শিশুদের নিয়ে টিকার জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা না পাওয়া অনেক অভিভাবক শিশুদের নিয়ে এসেছেন টিকা দিতে। ভিড় সামলাতে টিকাদান কর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে।

    শহরের শালগাড়িয়া মহল্লা থেকে খাইরুল ইসলাম তাঁর দুই বছর বয়সী ছেলে সুলতান মোহাম্মদকে নিয়ে হামের টিকা দিতে এসেছেন। তিনি জানান, ছেলের ১৫ মাস বয়সে নির্ধারিত সময়ে টিকা দিতে টিকাদানকেন্দ্রে এসেছিলেন। কিন্তু তখন হামের টিকা ছিল না। ১৭ মাস বয়সে দ্বিতীয়বার এসেও হামের টিকা পাননি। টিকা আসার খবরে আজ আবার এসেছেন এবং ছেলেকে টিকা দিতে পেরেছেন।

    গোবিন্দা মহল্লার সালেহা খাতুন একই কথা জানান। তিনিও দুবার ফেরত গিয়ে আজ মেয়েকে টিকা দিতে পেরেছেন। সালেহা খাতুন বলেন, ‘হাম নিয়ে খুব ভয়ে আছি। মেয়ে টিকা পাইছিল না, খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ টিকা পেয়ে শান্তি লাগছে।’ শিবরামপুর মহল্লার জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী বলেন, তাঁর মেয়ের আজ পোলিও টিকার নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু এখান থেকে বলা হয়েছে, এই টিকা নেই। টিকা না পেয়ে তিনি মেয়েকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

    টিকাদানকেন্দ্রের কর্মী শাহারা খাতুন বলেন, গত কয়েক মাসে মাঝেমধ্যে হামের টিকার ঘাটতি হচ্ছিল। এক মাস ধরে পোলিওর টিকা (ওপিভি) নেই। গতকাল বুধবার বিকেলে ২৬৪ ভায়াল হামের টিকা এসেছে, যা দিয়ে ১ হাজার ৩০০ শিশুকে টিকা দেওয়া যাবে। টিকা আসার খবরে আজ প্রথম দিন মাত্র দুই ঘণ্টায় প্রায় ১০০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যে পরিমাণ টিকা আছে, তাতে আগামী দুই থেকে তিন দিন চলতে পারে।

    পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক মাস হামের টিকা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা পায়নি। তবে এখন টিকা এসেছে, যা দিয়ে দুই থেকে চার দিন চালানো যাবে। এরপর আবার টিকা লাগবে। অন্যদিকে পোলিওর টিকা প্রায় নেই, অনেক শিশু ফিরে যাচ্ছে। এই টিকারও সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে। জেলায় হামে আক্রান্ত শিশু বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। তাঁরা টিকার জন্য টিকাদানকেন্দ্রে ভিড় করছেন। এই মুহূর্তে টিকার ঘাটতি হলে আমরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ব।’

    এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত মোট ১৫৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ দিনেই ভর্তি হয়েছে ৫০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১৫ জন। নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৩ শিশু ও দুজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৩ জন।

    পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হামে আক্রান্ত রোগী বাড়ায় টিকার চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের কাছে ২১ হাজার ৪৯০ ডোজ টিকা মজুত আছে। আগে টিকার যে ঘাটতি ছিল, এখন তা আর নেই। আগামী রোববার আবার টিকা আসার কথা রয়েছে। আশা করছি, টিকা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’

  • পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসার বাড়ছে, লক্ষণগুলো কী

    পুরুষদের মূত্রথলির নিচে একটি ছোট গ্রন্থি থাকে, যার নাম প্রোস্টেট। এই গ্রন্থির কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করলে সেটি প্রোস্টেট ক্যানসার বা টিউমারে পরিণত হয়।

    ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা
  • পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে দেখা যাবে রক্তিম চাঁদ, কবে...

    আগামী ৩ মার্চ আকাশে এক মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে। ওই দিন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদ অদ্ভুত লালচে রং ধারণ করবে। এই ঘটনা ব্লাড মুন বা রক্তাভ চাঁদ হিসেবেও পরিচিত। ২০২৬ সালে এটিই হবে একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। পরবর্তী সময় এমন দৃশ্য দেখার জন্য ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে বাধা পায়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বেশি বিচ্ছুরিত করে দেয় ও লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ যেমন লাল দেখায়, এটিও ঠিক একই বৈজ্ঞানিক কারণে ঘটে থাকে।

    ২০২৬ সালের এই চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের একটি বড় অংশ থেকে দেখা যাবে। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে ১২ থেকে ১৩ মিনিট স্থায়ী হবে এই চন্দ্রগ্রহণ। সর্বোচ্চ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ভোরবেলা সবচেয়ে ভালো দৃশ্যমান থাকবে। আর পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সন্ধ্যায় লালচে চাঁদ দেখা যাবে।

    সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না। এটি খালি চোখেই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে দেখা যায়। তবে একটি সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ থাকলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। শহর থেকে দূরে যেখানে আলোক দূষণ কম, সেখান থেকে ব্লাড মুনের লাল আভা সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।

    পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ মূলত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। পেনামব্রাল পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়ার ভেতর প্রবেশ করে, এতে চাঁদের উজ্জ্বলতা কিছুটা কমে যায়। এরপরে আংশিক গ্রহণ শুরু হয়। চাঁদ যখন পৃথিবীর মূল অন্ধকার ছায়ার ভেতর প্রবেশ করতে শুরু করে। এরপরেই ঘটবে পূর্ণগ্রাস (টোটালিটি)। এই পর্যায়ে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় এবং লালচে রং ধারণ করে।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়ার রেকর্ড গড়লেন আর্টেমিসের নভোচারীরা

    পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় মানুষের ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী।

    নভোচারীরা যখন ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চাঁদের পেছন দিকে যায়, তখন পৃথিবীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরবর্তী সময়ে ওই অংশ ঘুরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে তাঁদের আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

    আর্টেমিস–২ অভিযানের চারজন নভোচারী গতকাল সোমবার যখন চাঁদের পেছন দিকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় পৌঁছান, তখন পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল। এর আগে পৃথিবী থেকে এত দূরে কোনো মানুষ ভ্রমণ করেননি। এর মধ্য দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে আর্টেমিস–২ অভিযান।

    আগের রেকর্ডটি প্রায় ৫৬ বছর আগের। আল–জাজিরার খবর বলছে, ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো–১৩ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছিলেন। ওই সময় তাঁরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে গিয়েছিলেন।

    ১ এপ্রিল  ‘আর্টেমিস-২’ অভিযানে চার নভোচারী কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চড়ে এ ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন। সর্বশেষ চাঁদে নভোচারী গিয়েছিল ১৯৭২ সালে। ওই সময় অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এবার প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হলেন।

    নাসার আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী
    নাসার আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী, ছবি: নাসার সৌজন্যে
     

    এই চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন।  

    চাঁদের পেছন দিক থেকে ফিরে নাসার নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার পর ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, ‘পৃথিবী থেকে আবারও শব্দ শুনতে পাওয়াটা খুবই আনন্দের।’

    নভোচারীরা সেখানে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর্টেমিস–২ অভিযানে থাকা ওরিয়ন নভোযানের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘আমরা যেন কল্পবিজ্ঞানের জগতে চলে গিয়েছিলাম। খুবই অপার্থিব লেগেছে।’

    তাঁদের এ নতুন রেকর্ড ভবিষ্যতে মানুষ ভেঙে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন আর্টেমিস–২–এর নভোচারীরা।

    আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। ১০ দিনের অভিযানে তাঁরা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরবেন। ১৯৭২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণ করছেন।

    মনুষ্যবাহী এই পরীক্ষামূলক যাত্রার মূল লক্ষ্য চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করা। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে আবারও নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

    বিবিসিআল–জাজিরা

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব