• সুইডেনপ্রবাসী আনিকাকে নিয়ে এশিয়ান কাপের স্কোয়াড, আছেন আলপিও

    আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় উইমেন্স এশিয়ান কাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে আছেন সুইডেনপ্রবাসী ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। ‎‎প্রথম প্রবাসী নারী ফুটবলার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন জাপানে জন্ম নেওয়া মাতসুশিমা সুমাইয়া। এবার আনিকাও এ তালিকায় নাম লেখানোর অপেক্ষায়। সুইডেনের ক্লাব ব্রোমপোজকর্নের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন তিনি। গত মাসে সুইডিশ কাপ দিয়ে ক্লাবটির সিনিয়র দলে অভিষেক। ইউরোপের ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা এবার বাংলাদেশের ফুটবলে কাজে লাগাতে চাইবেন ২০ বছর বয়সী আনিকা।

    আনিকা ছাড়া এশিয়ান কাপের স্কোয়াডে আরও দুই নতুন মুখ আলপি আক্তার ও সৌরভী আফরিন। এই দুজন প্রথমবার জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। দলে ফিরেছেন আইরিন খাতুন ও সৌরভী আকন্দও। ‎১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ভেন্যুতে হবে এশিয়ান কাপের ২১তম আসর। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন ও ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। আরেক প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান।

    মেয়েদের এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল দল চীন। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৪ বার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন তারা। ৩ মার্চ প্রথম ম্যাচেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে খেলতে হবে পিটার বাটলারের দলকে।

    ২০২৬ সাফ অ–১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় আলপি আক্তার সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে
    ২০২৬ সাফ অ–১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় আলপি আক্তার সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলেবাফুফে

    ৬ মার্চ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ র‍্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল উত্তর কোরিয়া। ১৯৮৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ বার এশিয়ান কাপ খেলা দেশটি ২০০১, ২০০৩ ও ২০০৮ সালে শিরোপা জিতেছে। আর পাঁচবার এই টুর্নামেন্টে খেলা উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ দৌড় গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত। ৯ মার্চ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হবেন বাংলাদেশের মেয়েরা।‎

    ১২ দলের টুর্নামেন্টে ৩ গ্রুপে থাকা চারটি করে দল লড়বে নকআউটের জন্য। তিন গ্রুপের সেরা দুটি করে মোট ছয় দল সরাসরি যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হওয়া তিন দলের সেরা দুই দলও পাবে শেষ আটে খেলার সুযোগ।

    কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের সুযোগ থাকবে ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার।

    নারী এশিয়ান কাপের বাংলাদেশ দল

    গোলরক্ষক: রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী। ডিফেন্ডার: আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), কোহাতি কিসকু, নবীরন খাতুন, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা খাতুন, সৌরভী আফরিন। মিডফিল্ডার: স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, আইরিন খাতুন, শাহেদা আক্তার, উমহেলা মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, উন্নতি খাতুন। ফরোয়ার্ড: আলপি আক্তার, সৌরভী আকন্দ, মোসাম্মত সুলতানা, তহুরা খাতুন, মোসাম্মত সাগরিকা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। ‎স্ট্যান্ডবাই: অর্পিতা বিশ্বাস, সিনহা জাহান, শান্তি মার্ডি, তনিমা বিশ্বাস।
  • সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় অভিনেত্রীকে উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু

    ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস আর নেই। ১৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। জনপ্রিয় পুলিশি থ্রিলার ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রজগতে।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। এর আগে প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে কৃত্রিমভাবে কোমায় রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ১৭ এপ্রিল তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়।

    ‘মার্সেই’ সিরিজে নাদিয়া। আইএমডিবি
    ‘মার্সেই’ সিরিজে নাদিয়া। আইএমডিবি

    নাদিয়ার দুই মেয়ে সিলিয়া ও শানা এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ফ্রান্স এক মহান শিল্পীকে হারাল, আর আমরা হারালাম আমাদের মাকে।’ ব্যক্তিগত এই ক্ষতির কথা তুলে ধরে তাঁরা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্ম নেওয়া নাদিয়া শৈশব কাটান ফ্রান্সের নিস শহরে। পরে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্যারিসে পাড়ি জমান। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও ২০০০ সালে ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।

    পরবর্তী সময়ে হলিউডেও কাজ করেন নাদিয়া। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ার’-এ ‘এজেন্ট জেড কিনলার’ চরিত্রে এবং একই বছরে ‘স্টর্ম ওয়ার্নিং’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে আরও পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

    ২০০৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করে কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে দূরে সরে যান নাদিয়া। পরে ২০১৬ সালে ‘মার্সেই’ সিরিজের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তনের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সে ফিরে আসেন।

    নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে ফিগারো। প্রাথমিকভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • সুজয় চৌধুরী চট্টগ্রাম

    শহরে সবে সন্ধ্যা নেমেছে। বাইরে আলো-আঁধারির মিতালি, ভেতরে প্রস্তুত অন্য আলোয় ভেসে যাওয়ার আয়োজন। হঠাৎ মঞ্চের আলোকচ্ছটা বদলে গেল। ভেসে এল সুরের মূর্ছনা। শুরু হলো রং, নকশা আর তারুণ্যের এক বর্ণিল উপস্থাপনা।

    এই উপস্থাপনা দেখা গেল গতকাল সোমবার। চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে বসেছিল ‘আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল-প্রথম আলো ঈদ ফ্যাশন’ আয়োজন। দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে সুর, নৃত্য ও ফ্যাশন মিলে তৈরি করে উৎসবের আবহ। ঈদ সামনে রেখে নতুন পোশাকের ধারা দেখতে সেখানে ভিড় করেন বন্দরনগরের ফ্যাশনপ্রেমীরা।

    চট্টগ্রামে এ আয়োজন নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে শুরুর পর থেকে নিয়মিতভাবেই ঈদকে ঘিরে এই ফ্যাশন আসর বসছে। এবার ছিল ২৫তম আয়োজন। অংশ নেন সাতজন নির্বাচিত ডিজাইনার। তাঁরা হলেন ফারজানা মালিক, সুলতানা নুরজাহান রোজী, সায়মা সুলতানা, এইচ এম ইলিয়াছ, আইভি হাসান, নূজহাত নূয়েরী কৃষ্টি ও নাসরিন সরওয়ার মেঘলা।

    তাঁদের নকশায় ফুটে ওঠে আসন্ন ঈদের আবহ, সময়ের ধারা আর ঐতিহ্যের ছোঁয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সমাজে ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই প্রথম আলো নানা আয়োজন করে থাকে। কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, শিক্ষক সম্মাননাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ তার উদাহরণ। ঈদ ফ্যাশনও সেই ধারার একটি আয়োজন। প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের জন্য চট্টগ্রামের ফ্যাশনপ্রেমীরা অপেক্ষা করেন। এই মঞ্চ থেকেই অনেক ডিজাইনারের পথচলা শুরু হয়েছে। নতুনদের অনুপ্রেরণা জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

    নকশায় বৈচিত্র্য

    অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ ছিল ডিজাইনারদের একক কিউ। নির্বাচিত সাত ডিজাইনার একে একে তাঁদের সংগ্রহ নিয়ে মঞ্চে হাজির হন। শুরুতেই ডিজাইনার ফারজানা মালিকের নকশায় বোনা পোশাক পরে হাজির হন আট মডেল।

    দুটি শাড়ি, চারটি নজরকাড়া সালোয়ার–কামিজ আর দুটি পাঞ্জাবি—একটির পর একটি র‍্যাম্পে উঠতেই আবহ বদলে যায়। পেছনে ভেসে আসে কাজী নজরুল ইসলামের গানের সুর। পোশাকের রং, আলো আর সুরের মেলবন্ধনে মুহূর্তেই মিলনায়তন ডুবে যায় এক উচ্ছ্বসিত আবেশে; দর্শকেরা যেন হাততালি আর মুগ্ধতায় সাড়া দেন প্রতিটি পদচারণে।

    এভাবে প্রতিটি কিউ যেন আলাদা গল্প তুলে ধরে। কারও নকশায় ঐতিহ্যের পুনঃপাঠ, কারও কাজে আধুনিকতার সাহসী ছাপ। বসন্ত, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; নানা থিম নিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি পোশাক।

    ক্যাটওয়াকে এক মডেল। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে
    ক্যাটওয়াকে এক মডেল। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে
     

    মডেলরা শাড়ি, সালোয়ার–কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট, লেহেঙ্গা ও গাউন পরে র‍্যাম্পে হাঁটেন। একই ডিজাইনারের কিউতেই দেখা যায় বৈচিত্র্য। কখনো পরিমিত কারুকাজ, কখনো জমকালো অলংকরণ; কোথাও নরম রঙের ব্যবহার, কোথাও গাঢ় আভা। ফলে পুরো আয়োজনজুড়ে প্রতিটি কিউ হয়ে ওঠে স্বতন্ত্র। আবার সম্মিলিতভাবে তৈরি করে ঈদ ফ্যাশনের সামগ্রিক ছবি।

    ডিজাইনাররা জানান, ঈদের পোশাক নকশায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আরামদায়ক কাপড় ও আবহাওয়ার উপযোগিতায়। রঙের প্যালেটে রাখা হয়েছে উজ্জ্বলতা ও নরম টোনের ভারসাম্য। ঐতিহ্যবাহী মোটিফকে আধুনিক কাট ও মিনিমাল ধারায় উপস্থাপন করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—উৎসবের আনন্দের সঙ্গে পরিধানকারীর স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরা।

    অনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ ছিল আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলালের ফ্যাশন কিউ। জমকালো শাড়ি ও পাঞ্জাবি মাতোয়ারা করে দেয় দর্শকদের।

    মঞ্চে হঠাৎ মেহজাবীন

    অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্মাতা রেদওয়ান রনি। দেশের অন্যতম ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’তে এবারে ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মেহজাবীন চৌধুরী ও প্রীতম হাসান অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ক্যাকটাস। পাশাপাশি রেদওয়ান রনির নতুন চলচ্চিত্র দম মুক্তি পাচ্ছে বড় পর্দায়।

    তাঁরা অভিজ্ঞতার কথা, কাজের নেপথ্য গল্প আর দর্শকের সাড়া—এসব নিয়েই কথা বলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে মিলনায়তনে তৈরি হয় বাড়তি উচ্ছ্বাস।

    ফ্যাশন কিউর ফাঁকে গান শোনান তরুণ শিল্পী আরিয়ান চৌধুরী। নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পী প্রমা অবন্তি ও স্বপন বড়ুয়া। সুর ও নৃত্যের এই সংযোজন পুরো আয়োজনে এনে দেয় বৈচিত্র্য।

    অনুষ্ঠানের সহযোগী ছিল বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ ও ফ্যাশন হাউস মেঘরোদ্দুর। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল প্রথম আলো চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। রূপচর্চার সহযোগী ছিল পারসোনা।

    সমাপনী পর্বে আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল বাংলাদেশের কর্ণধার শিবলি মাহমুদ সুমন বলেন, প্রতিটি পোশাকেই নকশা, রং বাছাই ও ভাবনায় তারুণ্য ধরা পড়েছে। পাশাপাশি ছিল ঐতিহ্য। এমন আয়োজনে যুক্ত থাকতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।

    বার্জার পেইন্টসের হেড অব ওয়ার্কস কাউসার হাসান বলেন, ‘ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের রং ও বুনন যেন এই সন্ধ্যায় ছুঁয়ে গেল চট্টগ্রামের ফ্যাশনপ্রেমীদের মন। এই আয়োজন শুধু পোশাক প্রদর্শনী নয়, বরং সময় ও রুচির এক জীবন্ত দলিল হয়ে থাকল। বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আমরা আশা করি।’

  • সুলিভানের জোড়া গোলে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

    মালদ্বীপে চলমান সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক হন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। তার নৈপুণ্যে কোচ মার্ক কক্সের দল সেমিফাইনালের পথে বড় ধাপ এগিয়ে গেল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ গড়েও গোলের দেখা পায়নি দলটি। ফলে বিরতিতে যেতে হয় গোলশূন্য সমতায়।

    দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। ৫৪তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোনান।

    এরপর ৬৭তম মিনিটে শেখ সংগ্রামের লং পাস থেকে দারুণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি, যা দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করে।

    ম্যাচে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তান একটি গোল করলেও গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়।

    দ্বিতীয় গোলের পর পুরো ম্যাচেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

    এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপে সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। গ্রুপে তাদের আরেক প্রতিপক্ষ ভারত। আগামী ২৮ মার্চ ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।

    উল্লেখ্য, বয়সভিত্তিক এই আসরে বাংলাদেশ এর আগে ২০২৪ সালে একবার শিরোপা জিতেছে। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। আর ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান রয়েছে। এবারের টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ এপ্রিল।

     

  • সূর্যবংশীদের রাজস্থান রয়্যালসের দাম উঠল ২০ হাজার কোটি টাকা

    আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালস কিনতে রেকর্ড ১.৬৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২০ হাজার ৬৪ কোটি টাকা) বিড করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একদল প্রভাবশালী ক্রীড়া বিনিয়োগকারী।

    ক্রিকেট পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফো জানতে পেরেছে, অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কাল সোমানির নেতৃত্বে এ জোটে আছে যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএলর দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক—ডেনভার ব্রঙ্কোসের রব ওয়ালটন ও ডেট্রয়েট লায়ন্সের মালিক শিলা ফোর্ড হ্যাম্পের ছেলে মাইকেল হ্যাম্প।

    ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো সোমানি আগে থেকেই রাজস্থানের একজন বিনিয়োগকারী। মূলত ২০০৮ সালের আইপিএল বিজয়ী এই দলের পূর্ণ মালিকানা নিতে তিনি আরও দুজনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

    আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালস ছাড়াও সোমানির নেতৃত্বাধীন এই গ্রুপটি রয়্যালস ব্র্যান্ডের বাকি দলগুলোরও মালিকানা পাবে, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০–এর পার্ল রয়্যালস ও সিপিএলের বার্বাডোজ রয়্যালস।

    হ্যাম্প ও ওয়ালটনের সঙ্গে সোমানি ডেট্রয়েটের ‘মোটর সিটি গলফ ক্লাব’ ফ্র্যাঞ্চাইজিরও অংশ। এই দলটি ২০২৭ সালে কিংবদন্তি টাইগার উডস ও ররি ম্যাকিলরয়ের ইনডোর গলফ লিগ টিজিএলে যোগ দেবে।

    অনুশীলনে রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিকেটাররা
    অনুশীলনে রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিকেটাররাএক্স/রাজস্থান রয়্যালস
     

    আইপিএলের ভবিষ্যৎ এবং ভারতের বিশ্ববাজারের ওপর ভরসা করেই সোমানির গ্রুপ এত বিশাল অঙ্কের বিড করেছে। বর্তমান মালিক মনোজ বাদালের সঙ্গে তাদের এখন আলোচনা চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিসিসিআইয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে এই চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।

    ২০০৮ সালে আইপিএলের শুরুর আটটি দলের একটি হিসেবে রাজস্থানকে মাত্র ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারে কিনেছিল বাদালের ইমার্জিং মিডিয়া। সে সময় ১ ডলারের মান ছিল ৪০ রুপি, যা বর্তমানে ৯৪ রুপি। রুপির হিসাবে ২০০৮ সালের তুলনায় এবারের বিড প্রায় ৫৭ গুণ বেশি।

    শুরুতে সবচেয়ে কম মূল্যের দল হলেও প্রয়াত কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বে প্রথম আসরেই রূপকথার মতো শিরোপা জিতেছিল রাজস্থান। গত আইপিএলে দলটি ৪ জয় নিয়ে নবম স্থানে থাকলেও ব্র্যান্ড মূল্যে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

    দলের মালিকানা বদল নিয়ে রাজস্থান কর্তৃপক্ষ, সোমানি বা আইপিএল—কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মালিকানা পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া ২০২৬ আইপিএলে দলের ওপর প্রভাব ফেলবে না বলে খবর দিয়েছে ইএসপিএনক্রিকইনফো। এবারের আইপিএলে রাজস্থানের প্রথম ম্যাচ ৩০ মার্চ, চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে।

  • সেই লারা এখন কোথায়

    মডেলিং থেকে শুরু করে বলিউড, আন্তর্জাতিক মঞ্চ—সবখানেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। আজ তাঁর জন্মদিন। তিনি আর কেউ নন লারা দত্ত। জন্মদিন উপলক্ষে আলো ফেলা যাক তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারে।

    ১৯৭৮ সালের ১৬ এপ্রিল ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে জন্মগ্রহণ করেন লারা দত্ত। তাঁর বাবা এল কে দত্ত ছিলেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা। বাবার চাকরির কারণে দেশের বিভিন্ন শহরে তাঁর শৈশব কাটে। বেঙ্গালুরুতে স্কুলজীবন শেষ করে তিনি ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব মুম্বাইয়ে। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ হয়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিদীপ্ত এবং মঞ্চে সাবলীল, যা পরবর্তী সময় তাঁর ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দেয়।

    লারার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০০০ সালে। সে বছর তিনি প্রথমে জিতেছিলেন ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’। এরপর একই বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করে জয় করেন ‘মিস ইউনিভার্স’।

    এই অর্জন শুধু লারার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং ভারতের জন্যও ছিল গর্বের মুহূর্ত। বিচারকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তাঁর আত্মবিশ্বাসী ও বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর তাঁকে অন্য প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে তোলে। অনেকেই মনে করেন, সেই সময়কার অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স ছিল এটি।

    লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    বিশ্বসুন্দরী হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বলিউডের দরজা খুলে যায় লারার জন্য। ২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন অক্ষয় কুমার ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। প্রথম ছবিতেই তিনি জিতে নেন ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার। তবে শুরুটা যতটা ঝলমলে মনে হয়েছিল, পরবর্তী পথটা ততটা সহজ ছিল না।

    প্রথম দিকে লারার অভিনয় নিয়ে সমালোচনা ছিল। অনেকেই তাঁকে ‘গ্ল্যামারাস কিন্তু সীমিত’ অভিনেত্রী হিসেবে দেখতেন। একের পর এক ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হতে থাকলে তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

    বলিউডে টিকে থাকা সহজ নয়—এই সত্য খুব দ্রুতই বুঝে যান লারা দত্ত। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়টা তাঁর জন্য ছিল কঠিন। বেশ কিছু ছবি ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ক্যারিয়ারের এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছান।

    তবে এখানেই লারার দৃঢ়তা প্রকাশ পায়। ধীরে ধীরে তিনি নিজের অভিনয়ের ধরন বদলাতে শুরু করেন। গ্ল্যামারাস চরিত্রের বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন।

    ২০০৬ সালে ‘ভাগম ভাগ’ এবং পরে ‘নো অ্যান্টি’ ছবিতে লারার কমেডি টাইমিং দর্শকদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে কমেডি ঘরানায় তিনি নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    তারপর ‘পার্টনার’ ছবিতে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন। এখানে লারার উপস্থিতি প্রমাণ করে, শুধু গ্ল্যামার নয়—অভিনয়ের ক্ষেত্রেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

    লারা দত্ত। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    লারা দত্ত। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লারা দত্ত অভিনয়ে পরিণত হয়ে ওঠেন। ‘বিল্লু’-তে তাঁর সংযত অভিনয় এবং ‘চলো দিল্লি’–তে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা পায়। বিশেষ করে ‘চলো দিল্লি’ ছবিতে তিনি শুধু অভিনয়ই করেননি, প্রযোজনাতেও যুক্ত ছিলেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন এক অধ্যায় যোগ করে, একজন অভিনেত্রী থেকে নির্মাতা হয়ে ওঠা।
    আরও সুযোগ পাওয়া কি লারার উচিত ছিল?

    এ প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘যা পেয়েছি, তাতে সন্তুষ্ট। বরং ২০ বছর পেছনের দিকে তাকালে নিজেকে আমার অত্যন্ত ভাগ্যবতী বলে মনে হয়। কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে পেছনের জীবনে ফিরে আমি কী বদলাতে চাই। আমার উত্তর হবে যে কিছুই বদলাতে চাই না। এই জীবনে যা পেয়েছি, তাতে আমি খুব খুশি। আমি আজ পর্যন্ত যেসব চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছি আর এখনো নিজেকে মেলে ধরছি, তাতে আমি ভীষণই খুশি। জীবনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

    মাঝে কিছুটা বিরতি পরলেও এখন চুটিয়ে কাজ করছেন লারা। ওটিটিতে বটেই নতুন নতুন সিনেমায় দেখা যাবে তাঁকে। ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ চলতি বছরই মুক্তি পাওয়ার কথা। এ ছাড়া আরও দুটি সিনেমার শুটিং চলছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

     
     
     
  • সেঞ্চুরির পথে মাত্র একটি ডট, বাবর আজমের রেকর্ড

    সেঞ্চুরি বাবর আজম আগেও করেছেন। টি-টুয়েন্টিতে ক্রিস গেইলের পর সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিই তাঁর। তবে ধীর ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচিত আর অফ ফর্মের কারণে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া বাবর এবার টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরির নতুন এক কীর্তি গড়েছেন।

    রোববার রাতে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পেশোয়ার জালমির হয়ে কোয়েটা গ্লাডিয়েটরসের বিপক্ষে ৫২ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন বাবর। ১৯২ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটিতে মাত্র একটি বল ডট দিয়েছেন তিনি, যা ৫০ বা এর চেয়ে বেশি বলের ইনিংসে সবচেয়ে কম।

    প্রথমে ব্যাট করতে নামা পেশোয়ারের হয়ে ওপেনিং করেন বাবর। প্রথম ওভারে নেন ১ বলে ১ রান। এরপর দ্বিতীয় ওভারে তিন বল খেলার সুযোগ পেয়ে নেন ৭ রান। এভাবে ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে ৩১ বলে ফিফটিতে পৌঁছান বাবর। এবারের আসরে একবার ৮৭, আরেকবার ৭১ রানে অপরাজিত থাকা বাবর এবার দ্রুতলয়ে ঢুকে যান নব্বইয়ের ঘরে।

    তবে সেঞ্চুরিটা এসেছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। ইনিংসের শেষ বলে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন ৯৮ রানে। আলজারি জোসেফের বল লং অনে পাঠিয়ে ডাইভে দ্বিতীয় রান পূর্ণ করে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন। পিএসএলে এটি তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি, টি-টুয়েন্টিতে ১২তম।

    সেঞ্চুরির উচ্ছ্বাস বাবরের
    সেঞ্চুরির উচ্ছ্বাস বাবরেরএক্স/পেশোয়ার জালমি

    বাবরের ইনিংসটিতে ছিল ৪টি ছক্কা, ৬টি চার। পাশাপাশি তিন রান নেন একবার, দু রান করে ৯ বার। সিঙ্গেল থেকে আসে বাকি ৩১ রান। সব মিলিয়ে ৫২ বলের ৫১টিতেই তিনি রান নিয়েছেন। যে বলটি ডট দিয়েছেন, সেটি ১৪তম ওভারের শেষ বলে। আলজারি জোসেফের ঘণ্টায় ১৪৬.৭ কিলোমিটার গতির বলটি ছিল বাউন্সার, বাবর ছেড়ে দিয়েছিলেন।

    বাবরের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরির ম্যাচটিতে পেশোয়ার ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে। এরপর কোয়েটাকে ১৩৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১১৮ রানের বড় জয় তুলে বাবরের দল।

  • সেদিন সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছিলেন লারা, এরপর কী হলো

    বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্তর দীর্ঘ ক্যারিয়ার। কিন্তু পর্দার ঝলমলে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কিছু অভিজ্ঞতা, যা শুনলে আঁতকে উঠতে হয়। তারই একটি ঘটনা—সমুদ্রের ঢেউয়ে প্রায় প্রাণ হারানোর সেই দিন—আজও স্পষ্ট মনে রেখেছেন এই অভিনেত্রী।

    ভয়ংকর সেই দিন
    ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘আন্দাজ’-এর শুটিং চলছিল সেদিন। একটি নাচের দৃশ্য ধারণের সময় আচমকা একটি শক্তিশালী ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই পানির নিচে তলিয়ে যান লারা। সমস্যা একটাই—তিনি সাঁতার জানতেন না।
    লারার নিজের ভাষায়, ‘চামড়ার পোশাক পরে পানির নিচে চলে গিয়েছিলাম। সাঁতার জানতাম না, পাথরের মতো ডুবে যাচ্ছিলাম।’

    পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। ঠিক সেই সময় সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমার এগিয়ে আসেন। তিনি দ্রুত লারাকে ধরে তীরে তুলে আনেন। কিন্তু বিপদ তখনো কাটেনি। ঠান্ডা পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে লারা হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে শুটিং বন্ধ করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; বরং গভীর ভয় তৈরি করেছিল লারার মনে। সমুদ্র, পানি—সবকিছু যেন আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

    লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    কয়েক বছর পর, ২০০৯ সালে ‘ব্লু’ সিনেমার প্রস্তাব আসে। ছবিটি ছিল পানির নিচের অ্যাকশন নিয়ে। প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল ‘না’। তিনি সরাসরি ফোন করে অক্ষয় কুমারকে জানান, এই কাজ তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

    কিন্তু অক্ষয়ের উত্তর ছিল একদম সহজ, ‘সাঁতার শিখে নাও।’

    ‘আন্দাজ’ সিনেমায় লারা ও অক্ষয়। আইএমডিবি
    ‘আন্দাজ’ সিনেমায় লারা ও অক্ষয়। আইএমডিবি

    ৩০ বছর বয়সে নতুন শুরু
    চ্যালেঞ্জটা সহজ ছিল না। তবু ভয়কে জয় করার সিদ্ধান্ত নেন লারা। ৩০ বছর বয়সে তিনি সাঁতার ও ডাইভিং শেখা শুরু করেন। যে পানিই একসময় তাঁর কাছে আতঙ্ক ছিল, সেই পানিতেই ধীরে ধীরে স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠেন তিনি।

    অবশেষে ‘ব্লু’-তে অভিনয় করেন। এ ছবির শুটিং ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—খোলা সমুদ্রে, এমনকি হাঙরের উপস্থিতিতেও কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। একই শুটিংয়ে একবার পানির নিচে দুর্ঘটনার মুখেও পড়েছিলেন অক্ষয় কুমার।

    বক্স অফিসে খুব বেশি সাফল্য না পেলেও ‘ব্লু’ লারার জীবনে অন্য রকম গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এ ছবির মধ্য দিয়ে তিনি নিজের সবচেয়ে বড় ভয়কে জয় করেছিলেন।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • সোনার দাম সকাল–বিকেল দুই বেলায় কমল ভরিতে ১২,০১৪ টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম আজ সকাল ও বিকেল– দুই বেলা দাম কমল। সকালে ভরিতে কমেছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। পরে বিকেলে আরেক দফা দাম ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানো হয়। এর ফলে একদিনেই প্রতি ভরিতে দুই দফায় দাম কমল ১২ হাজার ১৪ টাকা।

    এর মানে, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আজ বিকেল তিনটার পর দ্বিতীয় দফা নতুন দামের ঘোষণা দেয়। নতুন দাম ৩ টা ৪৫ মিনিয় কার্যকর করা হয়েছে।

    এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ভরিতে দাম ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছিল।

    ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি কমেছে। এদিকে সোনার দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার দেশে সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। তাতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম।

    করোনার পর গত পাঁচ বছরে দেশে-বিদেশে সোনার দাম দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এর মধ্যে দেশের বাজারে ২০২৩ সালের ২১ জুলাই প্রতি ভরি সোনার দাম প্রথম এক লাখ টাকায় ওঠে। তা গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ ও অক্টোবরে দুই লাখ টাকার মাইলফলক স্পর্শ করে। গত সপ্তাহে আড়াই লাখ টাকা পেরিয়ে যায়।

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেশ চড়া। এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৭০৩ ডলার। ভবিষ্যতেও সোনার দাম বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

    লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমবিএ) বার্ষিক পূর্বাভাসের জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৪ হাজার ৭৪২ ডলার। আর স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান মনে করেন, চলতি বছর সোনার দাম ৬ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার।

  • সোনার দাম বেড়েছে, আজ ভরিতে ৪,৩৭৪ টাকা

    দেশের বাজারে আজ শনিবার সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম ভরিপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৫ টাকা। এর আগে দাম ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৪১ টাকা। ফলে আজ ভরিপ্রতি সোনার দাম বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

    এর আগে গত সপ্তাহে দুবার সোনার দাম বাড়ানো হয়। সেবার দুই দফায় সোনার দাম বাড়ানো হয় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এবার এক দফায় বাড়ল ৪ হাজার টাকার বেশি।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ সকালে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে; সে কারণে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। যদিও মূল কারণ হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়া।

    আজ বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভরিপ্রতি ২১ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা; ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৬ টাকা। এ ছাড়া সনাতনি পদ্ধতির সোনার দাম পড়ছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, সোনার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে।

    জানুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকেই দেশের বাজারে সোনার দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনও হয়েছে, সকালে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে রাতে আবার কমানো হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। দেশের ইতিহাসে এটাই সোনার সর্বোচ্চ দাম।

    মূলত বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হয়। মাঝে কিছুদিন সোনার দাম কমার পর গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী, শুক্রবার সোনার স্পট মূল্য আউন্সপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি বেড়েছে। ফলে সোনার দাম এখন আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ২৭৮ ডলার ১০ সেন্ট।

    দুই সপ্তাহ ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ওঠানামা করছে। ফলে গত ৩০ দিনে সোনার দাম কমেছে ১৫০ ডলার। যদিও গত ছয় মাসে সোনার দাম বেড়েছে ১ হাজার ৭৬২ ডলার।

  • সোনার দামে এবার বড় পতন

    বড় ধরনের দরপতনের পর সম্প্রতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সোনার বাজার। তবে, সেই পুনরুদ্ধার স্থায়ী হলো না বেশিদিন। দুই দিনের ব্যবধানে এবার বড় ধরনের পতন ঘটতে দেখা গেছে।

    শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভালো মানের; অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরি প্রতি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বাজুস)।

    এদিন সকাল ১০টার দিকে নতুন করে সোনার দাম সমন্বয় করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। নতুন করে সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে এখন ভরি প্রতি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা পড়বে।

    এর আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় সোনার দাম ভরিতে ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। এতে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার আগ পর্যন্ত দেশের বাজারে এ দামেই বিক্রি হয়েছে সোনা।

    সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত (৩৭ দিন) ২৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৬ দফা; কমানো হয়েছে ৯ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল সোনার দাম; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

     

  • সোমবার চাঁদের অদৃশ্য পাশে পৌঁছাবেন নভোচারীরা

    ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের নভোচারীরা সোমবার (৬ এপ্রিল) চাঁদের অদৃশ্য বা দূরবর্তী পাশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা পৃথিবী থেকে এমন এক দূরত্বে পৌঁছাবেন, যেখানে এর আগে কোনো মানুষ কখনও যায়নি।

    নাসা জানিয়েছে, বুধবার উৎক্ষেপণের পর থেকে মিশনটি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তিনজন মার্কিন নভোচারী ও একজন কানাডীয় নভোচারী নিয়ে গঠিত এই দলটি বর্তমানে চাঁদের অভিকর্ষ বলয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সোমবারের মধ্যেই তারা মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের নতুন রেকর্ড গড়বে।

    মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, পৃথিবী এখন বেশ ছোট দেখাচ্ছে, আর চাঁদ ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে।

    ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানুষ আবার চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। প্রায় ৫৪ বছর পর মানব মহাকাশ অভিযানে এটি নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    তবে সফল যাত্রার মাঝেও একটি বিব্রতকর সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওরায়ন মহাকাশযানের টয়লেট ঠিকমতো কাজ করছে না। উৎক্ষেপণের পর থেকেই এটি বারবার বিকল হয়ে পড়েছে। আপাতত নভোচারীদের বিকল্প ইউরিন সংগ্রহ ব্যাগ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। প্রকৌশলীদের ধারণা, বরফ জমে নিষ্কাশন লাইনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

    নাসার ওরায়ন কর্মসূচির উপব্যবস্থাপক ডেবি কর্থ বলেন, মহাকাশে টয়লেট ব্যবস্থা সব সময়ই একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, বাথরুম থেকে দুর্গন্ধের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    অন্যদিকে নভোচারীদের মনোবল বেশ চাঙা রয়েছে। মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানান, মহাকাশ থেকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়েছেন।

    নাসা ইতোমধ্যে চাঁদের বিখ্যাত ওরিয়েন্টালে বেসিনের ছবি প্রকাশ করেছে, যেটিকে অনেকেই চাঁদের “গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন” বলে থাকেন। এই বিশাল গহ্বরটি মানুষের চোখে এত স্পষ্টভাবে এই প্রথম ধরা পড়েছে।

    সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ওরায়ন মহাকাশযান চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এই মিশনটি ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ নামানোর বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। নাসার লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে সেখানে নভোচারী অবতরণ করানো। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

     

  • স্কালোনি জানালেন, জাম্বিয়া ম্যাচে শুরু থেকেই দেখা যাবে মেসিকে

    মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে গত শনিবার আর্জেন্টিনার ২–১ গোলে জয়ের প্রীতি ম্যাচে বিরতির পর বদলি হয়ে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। প্রশ্নটি তখনই উঠেছিল, ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে মেসি কেন শুরু থেকে খেললেন না?

    উত্তর একাধিক। একে তো তাঁর বয়স ৩৮, মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) মৌসুম চলছে, তাই খেলার মধ্যে আছেন। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১১৫তম দলের বিপক্ষে মেসিকে ম্যাচের প্রথমার্ধে বিশ্রাম দেওয়া তাই মোটেই অবাক করা সিদ্ধান্ত ছিল না।

    পাশাপাশি আরও একটি কারণ থাকতে পারে। সেটা অবশ্য অনুমান করে নিতে হচ্ছে। মার্চের এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে আরও একটি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। সেটাও প্রথম প্রীতি ম্যাচের ভেন্যু লা বোমবেনারো স্টেডিয়ামেই। এখন পর্যন্ত যে সূচি, সে অনুযায়ী—২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে এটাই হবে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচে মেসির শুরু থেকে খেলা তো স্বাগতিক দর্শকের কাছে তো প্রত্যাশিতই। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি আজ সংবাদ সম্মেলনে সেই নিশ্চয়তাও দিলেন।

    আর্জেন্টিনার অনুশীলনে কোচ লিওনেল স্কালোনি
    আর্জেন্টিনার অনুশীলনে কোচ লিওনেল স্কালোনি, এএফপি
     

    মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে হয়তো মেসিকে শুরু থেকেই খেলানো যেত। কিন্তু বয়স, বিশ্রাম ও দুটি ম্যাচের মধ্যে জাম্বিয়া ম্যাচের গুরুত্বটা হয়তো স্কালোনির কাছে বেশি। কারণ, ফিফা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ৮১তম জাম্বিয়া মৌরিতানিয়ার চেয়ে শক্তিশালী দল আর বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচে আবেগের ব্যাপারটি তো আছেই। পাশাপাশি আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাম্বিয়া ম্যাচ শুরুর আগে একটু সাংস্কৃতিক আয়োজনও নাকি করবে এএফএ। বিশ্বকাপের আগে দলকে বিদায়ী শুভকামনা জানানো আরকি। এসব মিলিয়ে অনেকে হয়তো আগেই আন্দাজ করে নিয়েছিলেন, মৌরিতানিয়া ম্যাচে শুরু থেকে না খেললেও জাম্বিয়া ম্যাচে মেসিকে অবশ্যই শুরু থেকেই মাঠে দেখা যাবে।

    জাম্বিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে সে কথাই বললেন স্কালোনি, ‘মেসি আগামীকাল (১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় ভোরে) শুরু থেকে খেলবে। চেনাজানা বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই খেলবে।’

    মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে নিয়মিত একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন স্কালোনি। সেটা যে ‘অন্যদেরও সুযোগ দিতে’, তা আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি। তবে স্কালোনি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের মোটামুটি একটি রূপরেখা দাঁড় করিয়েছেন সেটাও বোঝা গেল তাঁর কথায়, ‘আমরা এরই মধ্যে ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা সেটি ফিফার কাছে জমা দেবে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তালিকায় কাটছাঁট করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শেষ মুহূর্তে।’

    সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল স্কালোনি
    সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল স্কালোনিএএফপি

    মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ভালো খেলতে না পারার অতৃপ্তি আছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে। স্কালোনি এ নিয়ে বলেছেন, ‘ইতিবাচক বিষয় হলো, খেলোয়াড়েরা নিজেরা বুঝতে পেরেছে যে আমরা ম্যাচটি ভালো খেলিনি। আশা করি সামনের ম্যাচে দল চিরচেনা রূপে ফিরবে।’

    সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড হোয়াকিন পানিচেল্লির সর্বশেষ অবস্থা সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হয়েছিল স্কালোনির কাছে। চোটের কারণে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে তাঁর। দুঃখ প্রকাশ করে স্কালোনি বলেন, ‘বিষয়টি মানা খুব কঠিন। সে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল, যা ছিল খুবই হৃদয়বিদারক। এটা তার প্রাপ্য ছিল না। আমরা তাকে বলেছি যে তার সামনে আরও সুযোগ আসবে...সত্যি বলতে, এটা আমাদের জন্য বড় একটি ধাক্কা।’

    বাংলাদেশ সময় ১ এপ্রিল ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে জাম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। স্কালোনি জানান, বিশ্বকাপের আগে আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। একটি ম্যাচ হবে সার্বিয়ার বিপক্ষে। অন্য প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ম্যাচ দুটির বিশেষত্ব হলো চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া ২৬ জনের মূল দল নিয়ে প্রীতি ম্যাচ দুটি খেলবেন স্কালোনি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম এর আগে জানিয়েছিল, ঘরের বাইরে এ দুটি ম্যাচ খেলবে স্কালোনির দল।

  • স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল

    দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী এ সময় বলেন, লটারি যোগ্যতার মানদণ্ড না। গবেষণা করে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি আনা হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে তা পরিবর্তিতে জানানো হবে।

    প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার কারণে কোচিং বাড়বে না বলে মনে করেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার মতে, ইন হাউজ কোচিং হবে।

     
  • স্নাতক শেষে সবচেয়ে বেশি বেতন পান কোন ১০ বিষয়ের শিক্ষার্থী

    বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে পড়লে ভবিষ্যতে বেশি আয় করা সম্ভব—এটি সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কলেজ শেষ করার পাঁচ বছরের মধ্যেই আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি আয় করছেন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকেরা। এই তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ। এই তথ্য ধরে আমেরিকার গণমাধ্যম সিএনবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন।

    গবেষণায় পূর্ণকালীন চাকরিতে কর্মরত স্নাতকদের আয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যাঁদের সর্বোচ্চ ডিগ্রি ব্যাচেলরস এবং যাঁরা বর্তমানে শিক্ষার্থী নন।

    এগিয়ে প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং—

    ২২ থেকে ২৭ বছর বয়সী তরুণ স্নাতকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এই তিন বিষয়ে স্নাতক শিক্ষার্থীদের গড় বছরে আয় ৮৫,০০০ ডলার বা তার বেশি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গড় আয় বছরে প্রায় ৪৫,০০০ ডলার।

    সর্বোচ্চ আয়ের শীর্ষ ১০ বিষয় কোনগুলো—

    ২২–২৭ বছর বয়সী স্নাতকদের জন্য সবচেয়ে বেশি আয় নিশ্চিত করে এমন বিষয়গুলো হলো—

    ১. কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং: ৯০,০০০ ডলার

    ২. কম্পিউটার সায়েন্স: ৮৭,০০০ ডলার

    ৩. কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৮৫,০০০ ডলার

    ৪. এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং: ৮৫,০০০ ডলার

    ৫. ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৮৩,০০০ ডলার

    ৬. ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৮২,০০০ ডলার

    ৭. মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৮০,০০০ ডলার

    ৮. কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস: ৭৫,০০০ ডলার

    ৯. সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৭৫,০০০ ডলার

    ১০. জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৭৫,০০০ ডলার

    ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব কলেজেস অ্যান্ড এমপ্লয়ার্সের তথ্য অনুসারে, ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের গাণিতিক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্যই চাকরির বাজারে এখনও জোরালো চাহিদা রয়েছে। যদিও আয় বেশি, তবু আমেরিকাজুড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক শিক্ষার্থী কিন্তু অনেক কমই। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের এক তথ্য বলছে দেশটির স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্য মাত্র ৬ শতাংশ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নেওয়া।

    এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কারণে কাজের ধরনে পরিবর্তন আসছে। অনেকে মধ্য শঙ্কা আছে এসব বিষয়ে স্নাতক শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের চাহিদা কমে যায় কি না, তা নিয়ে। তবে আমেরিকার শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, পরবর্তী দশকে প্রকৌশল ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা  ভালো বেতনের চাকরি পাচ্ছেন। ২২-২৭ বছর বয়সী স্নাতকদের পরে ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী স্নাতকদের মধ্যেও এটি দেখা গেছে। নিউইয়র্ক ফেডের মতে, এই বয়সের প্রকৌশল বিভাগের স্নাতকদের বছরে গড় বেতন কমপক্ষে ১ লাখ ডলার।

    ১. কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১৩৫,০০০ (ডলার)

    ২. কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং: ১৩১,০০০

    ৩. অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং: ১৩০,০০০

    ৪. ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১২৩,০০০

    ৫. কম্পিউটার সায়েন্স: ১২০,০০০

    ৬. মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১২০,০০০

    ৭. কনস্ট্রাকশন সার্ভিস: ১২০,০০০

    ৮. সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১১৫,০০০

    ৯. ইকোনমিকস: ১১৫,০০০

    ১০. ফিন্যান্স: ১১২,০০০

    ১১. বিজনেস অ্যানালিটিকস: ১০৯,০০০

    ১২. জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১০৫,০০০

    ১৩. ফিজিকস: ১০৫,০০০

    ১৪. ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজিস: ১০৪,০০০

    ১৫. গণিত: ১০০,০০০

    ১৬. ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১০০,০০০

    ১৭. ইনফরমেশন সিস্টেম: ১০০,০০০

    ১৮. মার্কেটিং: ১০০,০০০

    ১৯. বায়োকেমিস্ট্রি: ১০০,০০০

    ২০. পলিটিক্যাল সায়েন্স: ১০০,০০০

  • স্যামসনের দুর্দান্ত ৯৭* রানে রেকর্ড গড়ে সেমিফাইনালে ভারত

    অসাধারণ স্যামসন, নাকি আরও বেশি কিছু

    এই ইনিংসকে অসাধারণ বললেও কম হবে! ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করেছেন। তাতে সেই অর্থে তেমন ঝুঁকিও নেননি। ৫০ করে বাড়তি উল্লাস করেননি, মনযোগ ধরে রেখে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন।

    অথচ এই সঞ্জু স্যামসনই ভারতের মূল একাদশে জায়গা পেতেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের হারের পর একাদশে সুযোগ পান ওপেনার।

    স্যামসনকে সাপোর্ট দিয়েছেন অন্যরাও। তিলকের ১৫ বলে ২৭, পান্ডিয়ার ১৪ বলে ১৭ রানের ছোট ইনিংসগুলোতে তাঁর কাজটা সহজ হয়েছে। ভারত পেয়েছে ৫ উইকেটের জয়। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

    মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ভারত।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৯৫/৪ ( চেজ ৪০, হোল্ডার ৩৭*, পাওয়েল ৩৪*; বুমরা ২/৩৬, পান্ডিয়া ১/৪০)। ভারত: ১৯.২ ওভারে ১৯৯/৫ (স্যামসন ৯৭*, তিলক ২৭; হোল্ডার ২/৩৮, শামার ২/৪২)। ফল: ভারত ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: সঞ্জু স্যামসন
  • হঠাৎ স্টোরিতে ৮০ হাজার ভিউ! এক রাতেই বদলে গেল বর্ণিতার জীবন

    আগের রাতেই ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ হয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। সকাল থেকেই বাড়িতে আত্মীয়দের ভিড়। এর মধ্যেই শনিবার দুপুরে বাবাকে নিয়ে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে হাজির হলেন বিদুষী বর্ণিতা। তাঁর মুখ থেকেই লাক্স সুন্দরী হওয়ার গল্পটা শুনলেন নাজমুল হক

    মেহেবুব আলম ও মেরী ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র কন্যা বিদুষী বর্ণিতা। রাজশাহীতে জন্ম হলেও ঢাকাতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। রেডিও ও দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন বাবা। মা–ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কাজকর্মে জড়িত ছিলেন। সংগীত শিক্ষালয় ছায়ানটে গান ও বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের কাছে নাচ শেখেন বর্ণিতা। তার মধ্যেই মা–বাবার হাত ধরে ছোট্ট বয়সে শোবিজযাত্রা শুরু। শিশুশিল্পী হিসেবে নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ সিনেমায় অভিনয়। বর্ণিতার বয়স তখন ছয় কি সাত বছর। রেডিও এবিসিতে চাকরি করতেন বাবা। সেখানের জনপ্রিয় রেডিও শো ‘কি শুনাইলেন কিবরিয়া ভাই’–এর বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল তাঁর ভয়েস। এরপর বেশ কটি টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন। তখন থেকেই শোবিজে নিয়মিত কাজ করার আগ্রহ। তবে তেমন সুযোগ তখন আসেনি। শুরুর সেই সময়টা নিয়ে বর্ণিতা বলেন, ‘অনেক লম্বা একটা সময়, প্রায় আট-নয় বছরের একটা গ্যাপ ছিল। সে সময় অনেক কাজ খুঁজেছি, কিন্তু তেমন সুযোগ পাইনি।’ নানা কারণে সেই সময় কাঙ্ক্ষিত সুযোগগুলো না আসায় তাঁর মনে অভিনয়ের প্রতি এক বিশাল ক্ষুধা জমে ছিল, কিছুটা আক্ষেপও ছিল। সেই অপূর্ণ ইচ্ছা থেকেই ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। সাত বছর পর ফিরে আসা এই প্রতিযোগিতার মঞ্চে শেষ হাসিটাও তিনিই হেসেছেন।

    বিদুষী বর্ণিতা
    বিদুষী বর্ণিতাছবি: খালেদ সরকার

    হাসপাতালের বিছানা থেকে
    বর্ণিতার এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রেশন যখন শুরু হয়, তখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে বর্ণিতা বলেন, ‘প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলাম। একপ্রকার হবে না ভেবেই রেজিস্ট্রেশনটা করেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, এই সময়ই কেন এটা হলো, অন্য সময় হলে হয়তো ভালো করতাম।’ কিন্তু নিজের ওপর আস্থা হারাননি বর্ণিতা। সুস্থ হয়ে লড়াইয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে জায়গা করে নেন তিনি। সেখান থেকে দীর্ঘ জার্নি শেষে সেরা দশে জায়গা পান বর্ণিতা। মজার ব্যাপার হলো, শুরুতে নিজের রেজিস্ট্রেশনের কথা পরিবারকে জানাননি; চেয়েছিলেন চূড়ান্ত হওয়ার পরই চমক দিতে।

     

    আক্ষেপ ঘুচল
    কখনো ‘প্রথম’ না হতে পারাটা বর্ণিতার জীবনের একটা বড় আক্ষেপ ছিল। পড়াশোনা বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও প্রথম হতে পারেননি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো প্রথম হয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচালেন। বর্ণিতা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কখনো কোচিং করিনি বা কোনো টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়িনি, বাসায় একা পড়তাম। কেন জানি এর প্রভাব আমার মার্কসে পড়ত, হয়তো ডিজার্ভ করতাম ফার্স্ট পজিশন কিন্তু হয়েছি সেকেন্ড (হাসি)।’ শুক্রবারের রাত তাঁর জীবনের সব অপ্রাপ্তি মুছে দিয়েছে।
    বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বর্ণিতার চোখ থেকে ঘুম উধাও। সকাল থেকে বাসায় আত্মীয়স্বজন আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়, আর মোবাইলে হাজার হাজার বার্তা। বর্ণিতা জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে বাড়ছে তাঁর অনুসারী। একটি স্টোরিতেই প্রায় ৮০ হাজার ভিউ!

    বিদুষী বর্ণিতা
    বিদুষী বর্ণিতা, ছবি: খালেদ সরকার

    বড়দের সান্নিধ্য
    পুরো জার্নিতে জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফীর মতো তারকার সান্নিধ্য পেয়েছেন বর্ণিতা। বিশেষ করে জয়া আহসানের অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব বর্ণিতাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ‘জয়া আহসান ম্যামের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে পারা বা ওনার কাছ থেকে একটা ছোট অ্যাডভাইস পাওয়া—এভাবে দাঁড়াবে, এভাবে কথা বলবে—এগুলো অনেক বড় ব্যাপার। এ ছাড়া মেহজাবীন ম্যাম ও রায়হান রাফী স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ভিকি জাহেদ স্যার ও জাহিদ প্রীতম স্যারের প্রজেক্টে কাজ করাও জীবনের অন্যতম বড় সুযোগ হিসেবে দেখছি। তা ছাড়া এই জার্নিতে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতো বড়মাপের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা আমার জন্য অনেক বড় অভিজ্ঞতা।’

    দায়িত্বের ভার
    বর্ণিতার কাছে বিজয়ের ট্রফিটি কেবল শোকেসে সাজিয়ে রাখার বস্তু নয়; এই ট্রফি তাঁর কাছে হাজারো মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। তাই এটিকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, ‘এই ট্রফিটা শুধু আমার নয়; যতজন মানুষ নেপথ্যে পরিশ্রম করেছেন এবং যাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি এখানে আসতে পেরেছি, সবার পরিশ্রমের ভারটা ওই ট্রফির ওপর আছে। এই ট্রফির সম্মান রক্ষা করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে চাই, যেন মানুষ বলতে পারে, “আমাদের মেয়েটা ভালো করছে।”’
    বড় পর্দায় সুযোগ

    বিদুষী বর্ণিতা
    বিদুষী বর্ণিতা
     

    কেবল ট্রফি ও গাড়িই নয়, বিজয়ী হিসেবে নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন বর্ণিতা। সঙ্গে নির্মাতা শিহাব শাহীনের একটি ওয়েব প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ। এসব সুযোগ পেয়ে বর্ণিতা রোমাঞ্চিত। তিনি বলেন, ‘যখন জানলাম যে রাফী স্যার, শিহাব শাহীন স্যার দুজনের সঙ্গেই কাজের সুযোগ পাব, তখনকার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। ওনারা দুজনই এখন দেশসেরা। একজন নতুন শিল্পী হিসেবে আমার শুরুটা তাঁদের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে হচ্ছে, এটা আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’
    পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চলবে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্যই ভর্তি হয়েছেন বর্ণিতা। পড়ছেন পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে।

    নতুনদের প্রতি বার্তা
    ভবিষ্যতে যাঁরা শোবিজ বা এমন প্রতিযোগিতায় আসতে চান, তাঁদের উদ্দেশে বর্ণিতার পরামর্শ খুব সহজ, ‘শুধু আমাকে দেখে বা অন্য কাউকে দেখে স্বপ্ন দেখতে হবে তা না, নিজেকে দেখে নিজের জন্য স্বপ্নটা দেখতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাসটা দৃঢ়ভাবে রাখতে হবে, সেই চেষ্টার দ্বারাই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

  • হাবিবুল বাশারকে প্রধান করে জাতীয় দলের নতুন নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা

    বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন এই প্যানেলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার।

    ৫৩ বছর বয়সী হাবিবুল বাশারের নির্বাচক হিসেবে অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। এর আগে তিনি বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী—উভয় দলেরই জাতীয় নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

    হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের এই প্যানেলে সদস্য হিসেবে থাকছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গাজী আশরাফ হোসেনের অধীনে আগের প্যানেলেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

    নতুন নির্বাচক হয়েছেন নাঈম ইসলাম
    নতুন নির্বাচক হয়েছেন নাঈম ইসলাম, বিসিবি
     

    নির্বাচক প্যানেলের নতুন দুই মুখ নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী। ৩৯ বছর বয়সী নাঈম ইসলামের দুই দশকের বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবন। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে ২০ হাজারেরও বেশি রান করা নাঈমের দখলে রয়েছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে  সর্বোচ্চ ৩৪টি সেঞ্চুরির জাতীয় রেকর্ড। আইসিসির মাসসেরা সাহিবজাদা ফারহান ও অরুন্ধতী রেড্ডি

    অন্যদিকে, ৩৮ বছর বয়সী নাদিফ চৌধুরীও ২০ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে এই প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলা এই ক্রিকেটার অবসর গ্রহণের পর বিসিবির বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করছিলেন।

    নাদিফ চৌধুরী
    নাদিফ চৌধুরী, শামসুল হক

    বিসিবি জানিয়েছে, নবনিযুক্ত এই নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ থাকবে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। মূলত বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বোর্ড।

  • হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর গবেষণায় অন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় নতুন আশা

    বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল (এইচএমএস) চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত, যেখানে মানবস্বাস্থ্য ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগান্তকারী বহু আবিষ্কার হয়েছে। এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ড. আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণায় মানবদেহের অন্ত্রের জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন আশা দেখতে পাচ্ছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আহমেদ রহমানের গবেষণার মূল ক্ষেত্র অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্র, এটিকে বিজ্ঞানীরা দ্বিতীয় মস্তিষ্কও বলেন। অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্রকে বলা হয় এন্টারিক নার্ভাস সিস্টেম (ইএনএস)। এই জটিল স্নায়ুতন্ত্র আমাদের পরিপাকতন্ত্রের চলাচল, শোষণ ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    আহমেদ আয়েদুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের (এমজিএইচ) গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর গবেষণা বিশেষ করে হির্শস্প্রুং রোগের মতো জন্মগত অন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এই রোগে অন্ত্রের একটি অংশে স্নায়ুকোষ থাকে না, ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বর্তমানে এর একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা অস্ত্রোপচার, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু এতে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হন না, অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা থেকেই যায়।

    হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ পেয়েছেন আহমেদ আয়েদুর রহমান, যা কেবল ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় গবেষকদের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।

    এই প্রেক্ষাপটে আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অটোলোগাস এন্টারিক নিউরাল স্টেম সেল (ইএনএসসি) প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্র পুনর্গঠনের সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। তাঁর গবেষণা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ন্যাচার কমিউনিকেশনস, নিউরন এবং জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশনে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। প্রচলিত অস্ত্রোপচারনির্ভর চিকিৎসার বাইরে একটি জৈবিক সমাধানের ধারণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডিন জর্জ ডেলির কাছ থেকে এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ডস নিচ্ছেন আহমেদ আয়েদুর রহমান। সঙ্গে স্ত্রী ইশরাত শহীদ এবং দুই সন্তান আদিয়ান ও আফফান
    হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডিন জর্জ ডেলির কাছ থেকে এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ডস নিচ্ছেন আহমেদ আয়েদুর রহমান। সঙ্গে স্ত্রী ইশরাত শহীদ এবং দুই সন্তান আদিয়ান ও আফফান, ছবি: সংগৃহীত
     

    আহমেদ আয়েদুর রহমান অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্ত্রের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের একটি অভিনব পদ্ধতিও দেখিয়েছেন। সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজিতে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কোলিনার্জিক নিউরনকে নীল আলো দিয়ে উদ্দীপিত করলে কোলাইটিসের প্রদাহ কমে। এটি ওষুধনির্ভর চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ভবিষ্যতে বায়োইলেকট্রনিক থেরাপির পথ তৈরি করতে পারে।

    এ বিষয়ে আহমেদ আয়েদুর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগে ভোগা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নত চিকিৎসা এখনো সীমিত। তাই যদি এই গবেষণাগুলো ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    জিনগত রোগ ও জিন থেরাপির সম্ভাবনা—

    সেল থেরাপির পাশাপাশি ড. আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জিনগতভাবে সৃষ্ট মসৃণ পেশির রোগ নিয়ে কাজ করা। সম্প্রতি তাঁরা মাল্টিসেস্টেমেটিক স্মুথ মাসল ডিসফাংশন সিনড্রোম (এমএসএমডিএস) নামক একটি বিরল জিনগত রোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকাশ করেছে। এই রোগ একটি নির্দিষ্ট জিনগত ত্রুটির কারণে হয়।

    এ বিষয়ে আহমেদ আয়েদুর রহমান বলেন, এই জিনগত পরিবর্তন অন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে প্রিসিশন মেডিসিন বা লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছে। যেহেতু রোগটির সুনির্দিষ্ট জিনগত কারণ জানা আছে, তাই ভবিষ্যতে জিন থেরাপির মাধ্যমে মূল ত্রুটি সংশোধনের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত হয়েছে। যদিও এই গবেষণা এখনো প্রাক্‌-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে, তবে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

    আহমেদ আয়েদুর রহমান আরও বলেন, হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের একজন মেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট হিসেবে এমন পরিবেশে কাজ করছি, যেখানে মৌলিক গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি এবং রোগীকেন্দ্রিক ক্লিনিক্যাল প্রোগ্রাম একই প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে বিরল জিনগত রোগের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত প্রোগ্রাম রয়েছে। ফলে ল্যাবে উদ্ভাবিত কোনো থেরাপি নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হলে তা দ্রুত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বাস্তব সুযোগ রয়েছে। আহমেদ আয়েদুর রহমানের ভাষায়, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ নয়। আমরা এমন বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজছি, যা দ্রুতই সরাসরি রোগীদের উপকারে আসবে।’

    ২০২৪ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ড. গ্যারি রুভকুনের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেন বিজ্ঞানী আহমেদ আয়েদুর রহমান
    ২০২৪ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ড. গ্যারি রুভকুনের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেন বিজ্ঞানী আহমেদ আয়েদুর রহমান, ছবি: সংগৃহীত
     

    আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (NIH) থেকে একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান দ্বারা সমর্থিত, যা বিশ্বমানের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা গবেষণাকে এগিয়ে নিতে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তিনি আমেরিকান নিউরোগ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড মোটিলিটি সোসাইটির (ANMS) ডিসকভারি গ্রান্ট অর্জন করেছেন, যা আন্ত্রিক প্রদাহজনিত রোগ (IBD) নিয়ে তাঁর গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এ ছাড়া তিনি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ লাভ করেছেন, যা কেবল ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় গবেষকদের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হার্ভার্ড—

    খুলনায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা আহমেদ আয়েদুর রহমানের বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ ছিল শৈশব থেকেই। পিএইচডি করতে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি ডিসিপ্লিনে শিক্ষকতা করেছেন, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তাঁর অসাধারণ একাডেমিক দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি গবেষণার জন্য অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্নে (২০১২–২০১৭) এবং ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটি, সিডনিতে (২০১৭–২০২০) শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে (এমজিএইচ) গবেষক হিসেবে যোগ দেন।

  • ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি বন্ধ করছে রাশিয়া

    দেশীয় বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে আগামী ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া।

    দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানি মন্ত্রণালয়, ফেডারেল অ্যান্টিমনোপলি সার্ভিস, সেন্ট পিটার্সবার্গ এক্সচেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে নোভাক বলেন, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে রাশিয়ার জ্বালানির চাহিদা এখনও শক্তিশালী রয়েছে, যা দেশের জন্য ইতিবাচক দিক।

    এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেল শোধনের পরিমাণ ২০২৫ সালের মার্চের পর্যায়ে স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও ডিজেলের মজুদ রয়েছে এবং রিফাইনারিগুলোও উচ্চ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী-তে অস্থিতিশীলতার কারণে তেল পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

    গত এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

     

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব