বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে প্রয়োজনীয় জ্বালানির পূর্ণ মজুত রয়েছে। একইসঙ্গে জুন মাসের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী এরপর বলেন, জ্বালানি চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা জাতীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম। পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরীও জানান, দেশে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত আগামী দুই মাসের জন্য যথেষ্ট। 

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রাণালিতে চলমান অবরোধের প্রভাব দেখা যাচ্ছে দেশে; জ্বালানি তেল মজুতে মেতে উঠেছে অসাধু চক্র। ফলে, অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ক্রেতাসাধারণের মনেও। ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছে মানুষ, বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের জন্য দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সারি। ধারণা করা হচ্ছে, আতঙ্কের কারণে বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেল বাজারে ফিরতে পারে।

আজ বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে। আগের দিন এই তেলের দাম কমেছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক শূন্য ৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে; আগের দিন যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছিল। খবর রয়টার্সের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যে পুনরায় পাকিস্তানে শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহান্তে আলোচনা ভেঙে পড়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। তবে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে আশাবাদ দেখা দিয়েছে—এতে সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়া ও ইউরোপে তেল ও পরিশোধিত পণ্য পরিবহনের প্রধান জলপথ এটি।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো অনিশ্চিত। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা অনেকটাই কমে গেছে।

মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেস্ট্রয়ার ইরান থেকে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বের হতে বাধা দিয়েছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শর্ক গ্রুপ এক নোটে বলেছে, কূটনৈতিক তৎপরতা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এবং যাতায়াতের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

তাদের মতে, বাজারে এখন স্থিতিশীলতা ফিরবে, এমন সম্ভাবনার চেয়ে সরবরাহ ব্যাহত হবে, এমন আশঙ্কাই বেশি।

অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলের ৩০ দিনের যে মেয়াদ, তা এ সপ্তাহে শেষ হচ্ছে, এই শিথিলতার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। একইভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর অনুরূপ শিথিলতাও গত সপ্তাহান্তে নীরবে শেষ হয়েছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) সাপ্তাহিক মজুতের কী তথ্য প্রকাশ করে, তার দিকে বাজারের নজর থাকবে। রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত সামান্য বেড়েছে, তবে ডিজেল ও পেট্রলের মজুত কমে যেতে পারে।

আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা তৃতীয় সপ্তাহে বেড়েছে।

এর আগে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা ও হরমুজ প্রণালি অবরোধের পরিকল্পনার খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে ওঠে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে ওঠে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হতে পারে।

  • চার মাস জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সার বাড়তি দামে আমদানিতে দরকার ৩০০ কোটি ডলার।

  • ভর্তুকির জন্য বাড়তি লাগবে ৩৮,৫৪২ কোটি টাকা।

  • ২০২২ সালে এমন সংকটের পর দারিদ্র্য বেড়েছিল ৯ শতাংশের বেশি।

ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা কমেছে। এতে আজ মঙ্গলবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তেহরান ‘খুব মরিয়া হয়ে’ ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায়।

গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে। প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা শেষে রোববার সকালে এই বৈঠক শেষ হয় কোনো সমঝোতা ছাড়াই। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প ইরানের বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

এদিকে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, ইরান পাঁচ বছর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করে ২০ বছরের শর্তে অনড় থাকে। প্রতিবেদনটিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ প্রস্তাব আদান-প্রদান করলেও এখনো চুক্তি থেকে অনেক দূরে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সামনাসামনি দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার কেওএসপিআই সূচক ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলোয় ইরান যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইরান এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেয়। তারপর হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের সচিব ক্রিস রাইট সোমবার বলেন, এই জলপথ কার্যত বন্ধ থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তিনি ওয়াশিংটনে আয়োজিত সেমাফোর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ফোরামে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত আমরা জ্বালানির উচ্চ মূল্য দেখতে থাকব। এমনকি তা আরও বাড়তেও পারে।’

বিবিসি

দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের নোট গ্রহণ ও বিনিময়মূল্য প্রদান সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট (ডিসিএম) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সব শাখায় বিধি অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ এবং তার পরিবর্তে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদানের সেবা নিয়মিতভাবে চালু রাখতে হবে। তবে নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাজারে এ ধরনের নোটের আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যা নগদ লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ করে নির্ধারিত বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে তা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
 
এসব নোটের পরিবর্তে গ্রাহকদের ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে। এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখার অনীহা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। বিষয়টিকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে আরও দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি এলপিজি ও এলএনজি নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আরও কমপক্ষে চারটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজিবাহী ‘ডিএল লিলি’ এবং ভারত থেকে ‘গ্যাস ক্যারেজ’ নামে দুটি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। জাহাজ দুটি বর্তমানে চার্লি ও ব্রাভো পয়েন্টে অবস্থান করছে।

তিনি আরও জানান, রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে ‘কংটং’ নামের আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এরপর আগামীকাল মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামের আরেকটি জাহাজ পৌঁছাবে।

এছাড়া, ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে ‘মারান গ্যাস হাইড্রা’ এবং ১৮ এপ্রিল ‘লবিটো’ নামের আরও একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছে।

 

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে—এই খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে; এবং শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান হয়েছে। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ব বাজারে আজ বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়, যদিও প্রাক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির তুলনায় তা এখনো বেশি।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে উঠে যায়। এদিকে যুদ্ধবিরতির খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি হয়তো সাময়িক স্বস্তি দেবে, কিন্তু স্থায়ী শান্তি না এলে জ্বালানি উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলো, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলোকে এখন কিছু নির্দিষ্ট গ্রেডের তেলের জন্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ১২ শতাংশ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই বিশ্ববাজারে তেলের এই ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার প্রাইস গত মাসে ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০০৮ সালের রেকর্ড ১৪৭.৫০ ডলারের নিচেই রয়েছে এই মূল্য।

তবে কাগজে-কলমে বা ফিউচার মার্কেটে এর মূল্য ১২০ ডলারের নিচে থাকলেও বর্তমানে তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য (ফিজিক্যাল মার্কেট) তেলের দাম অনেক চড়া।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজতে ইউরোপ ও এশিয়ার রিফাইনারিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এর ফলে আফ্রিকা ও ইউরোপের কিছু তেলের গ্রেডের দাম তাৎক্ষণিক সরবরাহের ক্ষেত্রে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

প্রয়োজন হলে সরকার আগামী মাস থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটা আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের দামের ওপর আমরা কাজ করছি। যদি সমন্বয় করে দেখা যায় যে দাম বাড়ানো দরকার, তাহলে আমরা মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সেই চিন্তা করব।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মৌলভীবাজার–২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম জানতে চান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না? জবাবে মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে চিন্তা করা হবে।

জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেলের দামের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সব উৎস খুঁজে, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন ডিজেল মজুত আছে। আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। অকটেন মজুত আছে ১০ হাজার ৫০০ টন। ৭১ হাজার ৫৪৩ টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। পেট্রল ১৬ হাজার টন মজুত আছে। আরও ৩৬ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ দাম বাড়ায়নি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও দেশে শিল্প কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।

সেচ মৌসুমে কৃষকদের ডিজেল পাওয়া নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য সব জেলা প্রশাসনকে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, জ্বলানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার অর্থদণ্ড এবং ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।

খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ। কেনা হচ্ছে খোলাবাজার থেকে। বাড়ছে ডলারের চাহিদা। কমছে না লোডশেডিং।

ঢাকা