যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সপ্তাহজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পর আজ শুক্রবার ওমানে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আলোচনার জন্য ওমানের রাজধানী মাসকটে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এই ইতিবাচক পথে এগিয়ে যেতে পারলে আমি বলতে পারি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা সংক্রান্ত ইতিবাচক এক কাঠামোতে পৌঁছাতে পারব।’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, মাসকটে পরোক্ষভাবে ‘একাধিক বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরাগচি বলেন, আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে বিস্তারিত বিষয়গুলো দুই দেশের রাজধানীতে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগগুলো যেমন জানানো হয়েছে, তেমনি আমাদের স্বার্থ এবং ইরানের জনগণের অধিকারের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে। অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশে আলোচনা শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য পক্ষের মতামতও শোনা হয়েছে।’

আল–জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের কয়েক শ কর্মীকে আকস্মিকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে।

বুধবার(৪ ফেব্রুয়ারি) একদিনেই প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মীকে বিদায় করে দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি নিউজরুম বা সংবাদকক্ষের সাংবাদিক ও কর্মী রয়েছেন। খবর সিএনএনের।

ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক জেফ বেজোস বর্তমানে পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা বিভাগকে বার্ষিক লোকসান কমিয়ে এটিকে লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার টেকসই পথ খুঁজতে পরামর্শ দিয়েছেন।

বুধবারের এই বড় ছাঁটাইকে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে একটি ‘নতুন দিনের সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারে বলেন, জেফ বেজোস এখনো প্রকাশনাটির প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তিনি চান প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ও আধুনিক হয়ে উঠুক।

তবে মারে বেজোসের প্রতি আস্থা প্রকাশ করলেও সংবাদমাধ্যমটির অধিকাংশ সাংবাদিক এই দর্শনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। তাদের মতে, বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করে বা খরচ কমিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব নয়। অনেক সাংবাদিক উদ্বেগ প্রকাশ করে জানতে চেয়েছেন, বেজোস কি শেষ পর্যন্ত পত্রিকাটি বিক্রি করে দেবেন? কেউ কেউ পত্রিকাটির ঐতিহ্যের স্বার্থে একজন নতুন অভিভাবক বা মালিকের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন।

দ্য পোস্ট গিল্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যদি জেফ বেজোস এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক না হন, তবে নতুন অভিভাবক খোঁজা প্রয়োজন। কারণ প্রজন্ম ধরে ওয়াশিংটন পোস্ট লাখ লাখ মানুষের সেবা দিয়ে আসছে।

২০১৩ সালে ২৫ কোটি ডলারে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফরি পি বেজোস ওয়াশিংটন পোস্টের মালিকানা কিনেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক লোকসান ও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় পত্রিকাটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

ট্রাম্প প্রশাসন এবং চীন ও রাশিয়ার নেতাদের কারণে হুমকির মুখে পড়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষায় মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি কৌশলগত জোট গঠন করা উচিত। আজ বুধবার প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

৫২৯ পৃষ্ঠার বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০২৬-এর ৩৬তম সংস্করণে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনের শুরুতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে প্রতিরোধ করা এই প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে মানুষকে তৃতীয় দেশে বহিষ্কার করাসহ সাম্প্রতিক মার্কিন সরকারের অপব্যবহার আইনের শাসনের ওপর প্রশাসনের আক্রমণকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলিত হয়ে; যার লক্ষ্য নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা—ট্রাম্প প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে গভীর ও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলছেন, ‘বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত চাপ এবং চীন ও রাশিয়ার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের ফলে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষাকারীরা যে কাঠামোর ওপর ভর করে মানদণ্ড এগিয়ে নেওয়া ও স্বাধীনতা সুরক্ষার কাজ করছিলেন, সেটিও ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে মানবাধিকারকে এখনো মূল্য দেয়—এমন সরকারগুলোকে সামাজিক আন্দোলন, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি কৌশলগত জোট গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

বোলোপিওঁ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি সরকারের জবাবদিহি কমিয়ে দিয়েছেন।

ট্রাম্প বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ করেছেন, আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন, খাদ্যসহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি কাটছাঁট করেছেন, নারীর অধিকার খর্ব করেছেন, গর্ভপাতসেবা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন, বর্ণগত বৈষম্যের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো দুর্বল করেছেন, ট্রান্স ও ইন্টারসেক্স মানুষের সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছেন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার তোয়াক্কা করছেন না।

ট্রাম্প সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, গণমাধ্যম, আইনজীবী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিক সমাজ এমনকি কৌতুকশিল্পীদেরও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

বোলোপিওঁ বলেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বিধিনির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি উল্টে দিয়েছে। ট্রাম্প নিজেই গর্ব করে বলেছেন, কোনো ‘আন্তর্জাতিক আইন’ তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তাঁকে থামানোর জন্য তাঁর ‘নিজস্ব নৈতিকতা’ যথেষ্ট।’

প্রশাসন হঠাৎ প্রায় সব মার্কিন বিদেশি সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে, যার মধ্যে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন এমন বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে, যা বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। হলোকাস্টের ভয়াবহতা থেকে জন্ম নেওয়া এবং রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার গণহত্যার মাধ্যমে আবার উদ্দীপিত হওয়া ‘নেভার এগেইন’ আন্দোলন ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ গ্রহণের দিকে প্ররোচিত করেছিল।

আজ ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ প্রায় ব্যবহার হয় না এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

২০ বছর আগে মার্কিন সরকার এবং নাগরিক সমাজ দারফুরে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সুদানে আবারও অগ্নিসংযোগ চলছে। কিন্তু এবার ট্রাম্পের নেতৃত্বে তা তুলনামূলকভাবে বিনা বাধায় ঘটছে।

অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী জাতিগত নিধন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে তারা ৭১ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করেছে। তাদের নির্বিচার হামলায় গাজার অধিকাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এসব অপরাধকে বিশ্বব্যাপী অসমভাবে নিন্দা করা হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রতি প্রায় শর্তহীন সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন, এমন সময় যখন আন্তর্জাতিক আদালত জাতিগত নিধনের অভিযোগগুলো বিচারাধীন।

ইউক্রেনে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগগুলো ক্রমাগত রাশিয়ার গুরুতর লঙ্ঘনের দায়কে কমিয়ে দেখিয়েছে। এই অপরাধ বন্ধ করতে পুতিনের ওপর যথাযথ চাপ প্রয়োগ করার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেছেন, শোষণমূলক খনিজ চুক্তি দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে ব্যাপক ভূখণ্ড ছাড়তে চাপ দিয়েছেন এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তির’ প্রস্তাব করেছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে মানবাধিকারকে উপেক্ষা করায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতৃত্ব উদারপন্থাবিরোধী অভ্যন্তরীণ শক্তির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

নির্বাহী পরিচালক বলেন, যদি এসব দেশ একত্র হয়, তবে তারা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ব্লক হিসেবে উদ্ভূত হতে পারে। মানবাধিকারকে সমর্থন কখনই কেবল শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ বা নিখুঁত অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার রেকর্ড থাকা দেশগুলো থেকে আসেনি।

এই বৈশ্বিক জোট, যা মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত—ট্রাম্পের নীতি মোকাবিলায় অন্যান্য প্রণোদনা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের নীতি বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ও মানবাধিকার সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে দুর্বল করেছে।

এই নতুন মানবাধিকারভিত্তিক জোট জাতিসংঘে শক্তিশালী ভোটদানকারী ব্লক হিসেবেও কাজ করতে পারবে। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, রাজনৈতিক ও আর্থিক সমর্থন দিতে পারে এবং এমন জোট তৈরি করতে পারে যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড এগিয়ে নিতে সক্ষম—এমনকি সুপারপাওয়ারের বিরোধিতা থাকলেও।

বোলোপিওঁ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, যার বিস্তৃত প্রভাব বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপর পড়বে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দরকার হবে ভোটার, নাগরিক সমাজ, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকারগুলোর দৃঢ়, কৌশলগত ও সমন্বিত উদ্যোগ।

ইসলামাবাদ

পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা কমাতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আরব সাগরে ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘোষণা দেওয়ার মধ্যেই ট্রাম্প এমন কথা বললেন।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, আরব সাগরে ইরানের একটি ড্রোন তাদের বিমানবাহী রণতরির কাছাকাছি চলে আসায় সেটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে এ মুহূর্তে আলোচনা চলছে। তবে সেই আলোচনা কোথায় হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘এ আলোচনা বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে; কিন্তু আলোচনা যে হচ্ছে—এটা নিশ্চিত। তারা কিছু একটা করতে চায়। এখন দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কিছু হয় কি না। তারা কিছুদিন আগেও একটি সুযোগ পেয়েছিল; কিন্তু তখন বিষয়টি কার্যকর হয়নি।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা ‘‘মিডনাইট হ্যামার’’ অভিযান চালিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, তারা এমন কিছু আবার ঘটতে দিতে চায় না।’

গত বছরের জুনে চালানো ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী যৌথভাবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানকে আলোচনায় বসতে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানকে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এসবের মধ্যেই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীকে পারস্য উপসাগরে পাঠিয়েছে; যা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর উদ্যোগে একটি সমাধানের চেষ্টা জোরদার হয়েছে। এতে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে।

গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে এবং ‘মর্যাদা, বিচক্ষণতা ও বাস্তবতার নীতি’ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক আলোচনা এগিয়ে নিতে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, এ আলোচনা ইরানের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাঠামোর মধ্য থেকে হতে হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, আত্মরক্ষার্থে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরি থেকে উড্ডয়ন করা একটি যুদ্ধবিমান ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, বিমানবাহী রণতরি ও তাতে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, লিংকন থেকে উড্ডয়ন করা এফ–৩৫সি যুদ্ধবিমান ইরানের তৈরি শাহেদ–১৩৯ মডেলের ড্রোনটি ভূপাতিত করে। সে সময় রণতরিটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ড্রোনটি বিমানবাহী রণতরির দিকে আগ্রাসীভাবে এগিয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী উত্তেজনা কমানোর নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও ড্রোনটি জাহাজটির দিকে আসতে থাকে।

আল–জাজিরা

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের (যুবরাজ্ঞী) বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবিকে ছুরি হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অসলোতে স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার তাঁর বিচার শুরুর কথা রয়েছে।

মারিয়াস বোর্গ হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চার নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই বিচার শুরু হচ্ছে।

২৯ বছর বয়সী হোইবি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের ছেলে এবং সিংহাসনের উত্তরসূরি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎছেলে।

নরওয়ের পুলিশ মারিয়াস হোইবিকে চার সপ্তাহের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ছুরি নিয়ে হামলা এবং আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয় রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর আবারও অপরাধ করার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

হোইবিকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চতুর্থবারের মতো গ্রেপ্তার হলেন তিনি। হোইবির বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক নারীর ওপর হামলা চালিয়েছেন তিনি।

হোইবি তাঁর বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই অস্বীকার করেছেন। তবে আদালতে বিচারকাজ শুরু হলে কিছু কম গুরুতর অভিযোগের দায় স্বীকার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

হোইবিকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চতুর্থবারের মতো গ্রেপ্তার হলেন তিনি। হোইবির বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক নারীর ওপর হামলা চালিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনাকে নরওয়ের রাজপরিবার ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নরওয়ের মানুষ এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর আরেকটি খবরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে–ম্যারিট ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টানা তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নরওয়ের ভবিষ্যৎ রানি মেটে-ম্যারিট এ ঘটনাকে তাঁর ‘অবিবেচক সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘জেফরি এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার সব ভুক্তভোগীর প্রতি আমি গভীর সহমর্মিতা আর সংহতি প্রকাশ করছি।’

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস বলেন, ‘তাঁর (জেফরি এপস্টেইন) সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি ভীষণ বিব্রতকর।’

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকন ও ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিট
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকন ও ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিট, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, মেটে-ম্যারিট যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এপস্টেইনের বাড়িতে চার রাত ছিলেন। তবে ওই সময় এপস্টেইন ওই বাড়িতে ছিলেন না। ক্রাউন প্রিন্সেস তখন এপস্টেইনকে এ–ও জিজ্ঞেস করেছিলেন, একজন মা হিসেবে ১৫ বছর বয়সের ছেলেকে ‘দুজন নগ্ন নারীর সার্ফ–বোর্ড বহনের ছবিযুক্ত ওয়ালপেপার’ দেখানো ‘অনুচিত’ হবে কি না।

এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে মারিয়াস হোইবির বিরুদ্ধে একজন নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। নোরা হাউকল্যান্ড নামের ওই নারীর সঙ্গে একসময় তিনি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। আর নোরা হলেন হোইবির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে নাম প্রকাশ হওয়া একমাত্র ভুক্তভোগী। অন্যদের নাম জানা যায়নি।

সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, হোইবি গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। কুখ্যাত অপরাধীদের সঙ্গে থাকা সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে ২০২৩ সালে পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরের বছর হোইবিকে ২০১৭ সালের একটি সংগীত উৎসবে কোকেন ব্যবহার করার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।

ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাধা কমানো, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্য ভেনিজুয়েলা থেকে তেল কেনার কারণে শুল্ক কমানো হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আলজাজিরা। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধা এবং তার অনুরোধের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছি। চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ ধার্য করবে।

ট্রাম্প আরও জানান, নরেন্দ্র মোদি ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের মার্কিন জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি এবং অন্যান্য পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ২৫ শতাংশ পারস্পারিক শুল্ক ছাড়াও রাশিয়ান তেল কেনার শাস্তিস্বরূপ সকল আমদানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর নিজের টুইটারে দেওয়া পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলতে পেরে দারুণ লাগছে। আমি খুবই আনন্দিত যে ভারতে তৈরি পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে ১৮% করা হয়েছে।

গত বছরের আগস্টের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক হার আরোপ করেছিলেন। পরে তা আরও বাড়ানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অনুপযুক্ত, উসকানিমূলক ও অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি নতুন প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ব্রেট র‍্যাটনারকে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। এ সময় জেফরি এপস্টেইনসহ আরেক তরুণীও ছিলেন। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত কিছু ছবিতে এমন দৃশ্য সামনে এসেছে।

‘রাশ আওয়ার’ এবং ‘এক্স-ম্যান: দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’-এর মতো সিনেমার পরিচালক ব্রেট র‍্যাটনারকে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের পাশে একটি সোফায় বসে থাকতে দেখা যায়। সেখানে থাই দুজন নারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

ছবিগুলো ঠিক কবে তোলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে গত ডিসেম্বরে র‍্যাটনার, এপস্টেইন ও প্রয়াত ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছিল, এসব ছবিও একই জায়গায় তোলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নথিপত্রে ব্রেট র‍্যাটনারের সরাসরি কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিবিসি এ বিষয়ে তাঁর প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে।

এপস্টেইন ফাইল কী, এতে কী আছে

২০১৯ সালে নারী পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কারাগারে মারা যান জেফরি এপস্টেইন। তাঁকে কেন্দ্র করে সংগৃহীত কয়েক লাখ ফাইলের অংশ হিসেবে এসব নতুন ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত ছবির ছোট সংস্করণে দেখা যায় র‍্যাটনার, এপস্টেইন এবং ব্রুনেল বিভিন্ন নারীর সঙ্গে হাসিখুশি ও স্বচ্ছন্দ অবস্থায় আছেন। তবে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার খাতিরে নারীদের পরিচয় আড়াল করা হয়েছে।

অবশ্য ভুক্তভোগী নারীদের একজন আইনজীবী দাবি করেছেন, নথিপত্র প্রকাশের সময় অসাবধানতাবশত অনেক নারীর পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে।

‘মেলানিয়া’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ার দেখতে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসে একসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ওয়াশিংটন
‘মেলানিয়া’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ার দেখতে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসে একসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ওয়াশিংটনছবি: রয়টার্স

মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রামাণ্যচিত্র ও বিতর্ক

এসব ফাইল ঠিক সেই দিনই মুক্তি পায়, যেদিন মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবন নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র ‘মেলানিয়া: টুয়েন্টি ডেস টু হিস্টোরি’ মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি সমালোচকদের কাছে খুব একটা ভালো সাড়া পায়নি এবং এর অর্থায়ন নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনের সময় যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পর এটিই ব্রেট র‍্যাটনারের প্রথম কাজ। তবে তিনি সব সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

‘মেলানিয়া’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসে মেলানিয়া ট্রাম্প। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ওয়াশিংটন
‘মেলানিয়া’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসে মেলানিয়া ট্রাম্প। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ওয়াশিংটন, ছবি: রয়টার্স

শুক্রবারের নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে ধনকুবের ইলন মাস্ক, বিল গেটস, লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন এবং অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্কের নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।

তাঁদের মধ্যে ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রুর একটি ছবিও রয়েছে, যেখানে তাঁকে মাটিতে শুয়ে থাকা এক নারীর ওপর হামাগুড়ি দেওয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আগেই তাঁর রাজকীয় পদবি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে এপস্টেইনের অর্থে মডেলিং এজেন্সি চালানোর অভিযোগ উঠা মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের বিরুদ্ধেও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারের অভিযোগ ছিল। ২০২২ সালে প্যারিসের কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন।

বিবিসি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেবে।

গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রশাসনের কঠোর দমন–পীড়নের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী একটি রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থান’চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘যক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’ তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান।

খামেনি বলেন, তাঁরা (বিক্ষোভকারী) পুলিশ, সরকারি কেন্দ্র, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা করেছে। তারা পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে। এটি একটি অভ্যুত্থানের মতো, যা শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়েছে।

খামেনির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি তো এমন কথা বলবেনই। দেখা যাক কী হয়। আশা করছি, আমাদের একটি চুক্তি হবে। আর যদি না হয়, তবে তিনি (খামেনি) ঠিক না ভুল, তা সময়ই বলে দেবে।’

বিক্ষোভকে ইরান সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি হিসেবে দেখছে। সরকার স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ৮৪২–এর বেশি, যাঁদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।

এত উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার ক্ষীণ আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যদি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিতে পারেন, তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি ‘সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ’ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, অঞ্চলের কিছু দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারি জানিও বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রচারণার আড়ালে আলোচনার পরিকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ট্রাম্পও আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

এএফপি

প্রতিরক্ষা খাতে এবারও বাজেট বাড়ালো ভারত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় করা হবে পৌনে ৮ লাখ কোটি রুপিরও বেশি, যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। উন্নত প্রযুক্তির নানা যুদ্ধাস্ত্র কিনতে কাজে লাগবে এসব অর্থ। এছাড়া, নৌবহর উন্নয়ন ও সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণের জন্যও বরাদ্দ হয়েছে বাজেট। মওকুফ করা হবে বিমান তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের শুল্কও।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পার্লামেন্টে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারামান।

মূলত, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করতে প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর বাজেট বাড়িয়ে চলেছে ভারত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও হয়নি এর ব্যতিক্রম। নতুন এ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি, যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট ছিল ৬ লাখ ৮১ হাজার কোটি রুপি। 

এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি মূলধন খাতে এবং রাজস্ব খাতে ব্যয় হবে প্রায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি রুপি। এই দুই খাতে এবার বরাদ্দ বেড়েছে যথাক্রমে ২১ দশমিক ৮৪ ও ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। নতুন বাজেটে বেশ খুশি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং বলেন, 'প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের খবরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খুবই খুশি। আমরা এবার যা বরাদ্দ পেয়েছি, তা গেল বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, 'এই বাজেট জনগণের অনুভূতি ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০৪৭ সালের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও উন্নত ভারত গঠনের যে লক্ষ্য রয়েছে তা পূরণেও একটি দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে।'

ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণে বরাদ্দ হয়েছে ২ দশমিক ১৯ লাখ কোটি রুপি। রাফাল বিমান, আধুনিক সাবমেরিন ও ড্রোনসহ নানা যুদ্ধাস্ত্র কিনতে ব্যয় হবে এ অর্থ। এছাড়া নৌবহর আধুনিকায়নের জন্যও রয়েছে উচ্চ বাজেট। 

বলা হচ্ছে— বেসামরিক, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য বিমানের উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ওপর মওকুফ করা হবে শুল্ক। এছাড়া বিমান যন্ত্রাংশের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও কাঁচামালের ওপর দেয়া হবে শুল্কছাড়। সবমিলিয়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকীকরণই এখন নয়াদিল্লির মূল লক্ষ্য

এদিকে, নয়া অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিবেশি দেশগুলোর জন্যও বৈদেশিক সহায়তা খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ রেখেছে দেশটি। সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৮৮ কোটি ৫৬ লাখ রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে ভুটানের জন্য। এছাড়াও নতুন অর্থবছরে নেপালকে ৮শ কোটি, শ্রীলঙ্কাকেও ৪শ কোটি এবং আফগানিস্তানকে দেড়শ কোটি রুপি সহায়তা দেবে নয়াদিল্লি।

বাংলাদেশের জন্য ভারতের বরাদ্দকৃত অর্থে পরিমাণ ৬০ কোটি রুপি। এর আগে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছিলো দেশটি। পরে সেটি কমিয়ে প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়েছিলো।

উল্লেখ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত থাকে—‘পার্ট এ’ এবং ‘পার্ট বি’। প্রথাগতভাবে ‘পার্ট এ’তে সরকারের নতুন নীতি ও প্রকল্পের বিস্তারিত ঘোষণা থাকে এবং ‘পার্ট বি’ মূলত আয়কর ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর টানা ৪০ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাসহ গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় একযোগে বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় মোট ৪৮ জন নিহত হন। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শনিবার(৩১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, হামলাকারীরা সবাই সাধারণ বেসামরিক পোশাক পরিহিত ছিল। এই ছদ্মবেশেই তারা জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে সহজে মিশে যেতে সক্ষম হয়।

হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বেলুচ স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ৩০ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর আওতায় তারা পাকিস্তানের সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

বিএলএ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনে শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সংগঠনটি দাবি করেছে, অভিযানে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা এবং ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

বিএলএ-এর দায় স্বীকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার মোট ৪০ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চালানো হয়, যাতে ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন।

উল্লেখ্য, ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলগুলোর একটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই প্রদেশটির বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এসব আন্দোলন দমনে ইসলামাবাদ বরাবরই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযান পাকিস্তানের নিরাপত্তা কৌশলে একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেছে। এর আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি সংখ্যক বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হওয়ার ঘটনা বেলুচিস্তানের ইতিহাসে বিরল।

সূত্র : রয়টার্স

 

গাজা ও মিসরের মধ্যকার সীমান্ত পারাপারের জন্য রাফা ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল রোববার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। তবে এটি বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে এবং শুধু ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি বেসামরিক বিষয়গুলো সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং রাজনৈতিক স্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার থেকে রাফা সীমান্ত সীমিত আকারে শুধু বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।’

সংস্থাটি আরও বলেছে, রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়ার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্ডার অ্যাসিস্ট্যান্স মিশন, মিসর এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

কোগাট আরও উল্লেখ করেছে, সীমান্তটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এখন প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করছে। সংস্থাটি যোগ করেছে, এই প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর উভয় দিক থেকে বাসিন্দাদের প্রকৃত যাতায়াত শুরু হবে। আপাতত প্রতিদিন এ ক্রসিং দিয়ে দেড় শ জন গাজা ছাড়তে পারবেন, আর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে ফিরতে পারবেন ৫০ জনের মতো।

এএফপি, জেরুজালেম