বগুড়ায় বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটেদের ছুরিকাঘাতে ফাহিম হোসেন (১৭) নামের এক কিশোর শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বগুড়া শহরের মাটিডালি এলাকার সদর উপজেলা পরিষদ–সংলগ্ন স্থানে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

পরে ফাহিম হোসেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ফাহিম হোসেন বগুড়া শহরের মাটিডালি নওদাপাড়া এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে। সে শহরের একটি ফাউন্ড্রি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করত। অভিযুক্ত যুবকের নাম তনয়। তিনি বগুড়া শহরের মাটিডালি এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাদকাসক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

ফাহিমের বড় ভাই শাহীন হোসেন অভিযোগ করেন, বখাটে তনয় তাঁর ছোট বোনকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ছোট বোনকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়ার পরও উত্ত্যক্ত করতেন। কিছুদিন আগে ওই বখাটে যুবক তাঁর বোনের স্বামীকেও ছুরিকাঘাতে জখম করেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধের জেরে আজ সকালের দিকে তাঁর ছোট ভাই ফাহিমকে মাটিডালি এলাকায় একা পেয়ে ছুরিকাঘাত করেন। এতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিযুক্ত বখাটে যুবক তনয় হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর বাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের পাঠাপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে ককটেল বানানোর সময় বিস্ফোরণে  দুজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিস্ফোরণে দুজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত দুজনের নাম জানা যায়নি। আহত তিনজন হলেন সদর উপজেলার পাঠাপাড়া গ্রামের মিনহাজ (৫২) ও বজলুর রহমান (২০) এবং রানীহাটির ধুমী গ্রামের মো. শুভ (২০)। বিস্ফোরণে বাড়ির ইটের দেয়াল ধসে গেছে। টিনের চাল উড়ে গেছে।

নারী ক্রিকেটারদের দাবিটা ছিল অনেক দিনের। বিসিবিও বেশ কয়েকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মেয়েদের বিপিএল আয়োজনের, কিন্তু পরে সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। অবশেষে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউবিপিএল) আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি।

এটিই হবে বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটারদের জন্য প্রথম কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট। বিস্তারিত সূচি না দিলেও বিসিবি জানিয়েছে, তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে আগামী ৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত হবে ডব্লিউবিপিএলের ম্যাচগুলো। প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে স্থানীয় ক্রিকেটারদের নেবে দলগুলো।

মেয়েদের বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান করা হয়েছে নারী উইংয়ের প্রধান রুবাবা দৌলাকে। বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে এই টুর্নামেন্ট সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। আজ প্রথম আলোকে রুবাবা দৌলা বলেছেন, ‘আমরা তিনটি দল নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট করব। মেয়েদের ক্রিকেটে এটা খুব ভালো সুযোগ হবে। দলগুলো চাইলে বিদেশি ক্রিকেটারদেরও আনতে পারবে।’

বিদেশি ক্রিকেটার কতজন নেওয়া যাবে, ফ্র্যাঞ্চাইজি কীভাবে বাছাই করা হবে—এসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নারী ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে এ নিয়ে সমস্যা হবে না বলে বিশ্বাস রুবাবার, ‘বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা খুব ভালো খেলছে। আশা করছি স্পনসরস ও দলের মালিক পেতে অসুবিধা হবে না। আমি সেটা নিশ্চিত করব। আমরা ওই ধরনের মালিকদের চাইব, যাঁরা অন্তত কয়েক বছর দলের সঙ্গে থেকে নারী ক্রিকেট উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।’

দেরিতে হলেও মেয়েদের বিপিএল আয়োজনের দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে কথা হচ্ছিল মেয়েদের বিপিএল হবে। গত বছর তো হতে হতে হয়নি। এবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে শুনে অনেক বেশি ভালো লাগছে।’

নারী ক্রিকেটের প্রধান রুবাবা দৌলার সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ নারী ক্রিকেট দল
নারী ক্রিকেটের প্রধান রুবাবা দৌলার সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ নারী ক্রিকেট দল

আগামী জুনে ইংল্যান্ডে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টে যাওয়ার ঠিক আগে নারী বিপিএল ক্রিকেটারদের সাহায্য করবে বলেই বিশ্বাস তাঁর, ‘বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আপনি যখন একটা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট খেলবেন, প্রস্তুতির দিকে থেকে সেটা অনেক সাহায্য করবে। বিভিন্ন দেশের তিন-চারজন করে খেলোয়াড় বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলবে। ওদের স্কিল অনেক ভালো থাকে, টুর্নামেন্টটা তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। আমাদের মেয়েদের জন্য খুব ভালো একটা সুযোগ হবে এই টুর্নামেন্ট খেলা।’

রাজধানীতে আজ পূর্বাচল নীলা মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ দোকান পুড়ে ছাই। এতে আনুমানিক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। 

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুটি মিষ্টির দোকান, দুটি রেস্টুরেন্ট এবং একটি মুদি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই দোকানগুলোতে থাকা মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ম্যানেজার জানায়, ভোরের দিকে মার্কেট চত্বরে হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। 

এদিকে হঠাৎ আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা।

সিলেটে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটের দিকে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল চার।

তবে ভূমিকম্পে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিকাল ৫টা ৩২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি হয়। এর উৎপত্তিস্থল সিলেটের গোয়াইনঘাট, যা ঢাকা ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র হতে ২১৪ কিলোমিটার দূরে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদিন আগে এ ঘোষণা দিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। নতুন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলেই তিনি পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন।

পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সরে দাঁড়াচ্ছি, যেন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজাতে পারে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট পদত্যাগ করেন তৎকালীন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল। এরপর ২৭ আগস্ট উপাচার্য পদে নিয়োগ দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নিয়াজ আহমদ খানকে।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন সগৌরবে। কর্পোরেট জগত থেকে রাজনীতি—সবখানে তাদের মেধার মূল্যায়ন হবে কোনো বৈষম্য ছাড়াই। আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। আপনাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গী হোন। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি আল্লাহর মেহেরবানিতে আপনারা সবাই ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের সামনে এখানে এসেছি কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণ দিতে নয়। আজ আমি একেবারে মনের ভেতরের কিছু কথা বলতে চাই। যে কথাগুলো একজন জেন-জি, একজন যুবক, আর আমাদের প্রজন্ম সবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন মুসলমানের জন্য যেমন, তেমনি আমাদের দেশের অন্য ধর্মের ভাই-বোনদের জন্যও। আজ আমি এখানে যাদের কারণে কথা বলছি, সেই জুলাইয়ের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদেরও গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে এখনো বহু মানুষ আহত আছেন।

তিনি বলেন, আমি তাদের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করছি। জুলাই হয়েছিল কারণ আমাদের দেশ এক হয়েছিল। জুলাইতে রাস্তায় নেমেছিল আমার তরুণ বন্ধুরা। রাস্তায় নেমেছিল আমাদের প্রিয় মা-বোন-মেয়েরা। রাস্তায় নেমেছিল শ্রমিক, রিকশাশ্রমিক ভাইয়েরা এবং সব মেহনতি জনতা। ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও তখন এক হয়েছিল। শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তারসহ সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষও রাস্তায় নেমে এসেছিল। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও সে সময়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে। আমরা জুলাই আর চাই না; আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে আর কোনো দিন জনগণকে রাস্তায় নামতে না হয়। আমাদের বুঝতে হবে, জুলাই কেন হয়েছিল। জুলাই হয়েছিল একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য। জুলাই হয়েছিল একটা কালো রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তনের জন্য। যুগের পর যুগ ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল পরিবারতন্ত্রের হাতে, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। সেখান থেকে মুক্তির জন্য। বিশেষ করে ২০০৯ সাল থেকে জাতির ওপর এমন এক শাসকগোষ্ঠী চেপে বসে যারা মানবাধিকার, ভোটাধিকারসহ সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আয়নাঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালায়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচনের নামে তামাশার মাধ্যমে আমাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। এসব নিপীড়ন ও অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্যই এসেছিল রক্তাক্ত জুলাই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের তরুণরা এখন একটা নতুন দেশ দেখতে চায়। যে দেশকে তারা গর্ব করে বলতে পারবে নতুন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ২.০। এক কথায় যদি বলি দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু একটি মহল পরিবর্তনের বিরোধী।  কারণ পরিবর্তন হলেই তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হবে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই সংস্কৃতি বদলানোর সাহস সবার থাকে না। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর হিম্মত সবার থাকে না। এই হিম্মত দেখিয়েছে আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদী ও তাদের সহযোদ্ধারা। তাদের রক্তের শপথ নিয়ে নতুন প্রজন্মের লাখ লাখ সাহসী সন্তান আজ এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। এই দেশ আমাদের সময়ের এই সাহসী সন্তানদের হাতেই তুলে দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই তরুণরা রচনা করবে। এই তরুণরা পরিশ্রমী। এই তরুণরা সাহসী, এই তরুণরা মেধাবী। এই তরুণরা পরিবর্তনকে ভালোবাসে। এই তরুণরা নতুনকে আলিঙ্গন করে। এই তরুণরা সত্য বলতে দ্বিধা করে না। এই তরুণরা প্রযুক্তি বোঝে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে জানে। তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে। আমরা তোমাদের হাত ধরতে চাই। জুলাইয়ের মতো—কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সঙ্গী হতে চাই। প্রচলিত ধারা বদলাতে চাই। দেশটা বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকুক, মানুষের জীবনে শান্তি ফিরুক। এই আমাদের চাওয়া। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে। এমন বাংলাদেশ যেখানে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ দেশের চালকের আসনে বসতে পারবে না। এমন বাংলাদেশ যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের।

‘জনগণ চায় একটু নিরাপত্তা সুশাসন ও ইনসাফ। তাই আগামীর বাংলাদেশকে এসব অঙ্গীকার ও মূল্যবোধের আলোকে সাজাতে চাই। রাষ্ট্রের মৌলিক কিছু সংস্কারের লক্ষ্যে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করে; কিন্তু এসব পরিকল্পনার সবগুলো যেমন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি তেমনি অনেকগুলো একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি এবং এ সংস্কার প্রক্রিয়াকে জারি রাখাসহ সংস্কার নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। এ গণভোট জনগণের সাধারণ ইচ্ছা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চাই।’

‘নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্খার আলোকে আমাদের পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও অঙ্গীকার আপনাদের নিকট স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম পলিসি সামিটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি কৌশল জনগণের সামনে তুলে ধরেছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এর প্রতিফলন রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় দেশের এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞরা অবদান রেখেছেন। এছাড়াও আমরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে বসেছি, এবং তাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ নিয়েছি। আমরা সুযোগ পেলে, মহান আল্লাহ ইচ্ছায় জনগনের ভালবাসায় আমরা সরকার গঠন করলে প্রথম দিনে ফজর নামাজ পড়েই আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব ইনশহাল্লাহ।’

‘আমাদের শাসক শ্রেণি সরকারি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেদেরকে দেশের মালিক গণ্য করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, পদ-পদবী-নীতি-প্রতিষ্ঠান, সবকিছু ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসাবে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে। এর ফলে চুরি ও দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রতারিত করে জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। উন্নয়ন প্রকল্প ব্যক্তিগত ও দলীয় লুন্ঠনের সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ব্যাবস্থার অবসান ঘটানই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আলহামদুলিল্লাহ, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর থেকে যারা জনপ্রতিনিধি হিসাবে সংসদ, সরকার ও স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালন করেছে তারা কেউই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়নি। তারা দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনারা দেশের মানুষ আপনারাই তার সাক্ষী।’

‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতিকে একটি নতুন স্বপ্নের দিকে নিয়ে যাওয়ার এক মহাসুযোগ হিসাবে এসেছে। যেসব সমস্যা আমরা বিগত দিনে সমাধান করতে পারিনি, যে লুটেরা গোষ্ঠীকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, সেসব সমস্যার সমাধান এবং লুটেরা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হচ্ছে আগামী নির্বাচন। তাই জনগণকে ঠিক করতে হবে আমরা আমাদের নিজেদের জন্য, আমাদের তরুণদের জন্য, আমাদের নারীদের জন্য, বয়স্ক মানুষের জন্য, প্রান্তিক মানুষের জন্য, শ্রমিকের জন্য, উদ্যোক্তাদের জন্য কোন বাংলাদেশ চাই। আমাদেরকে প্রশ্ন করতে হবে আমরা কি সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমরা কি নিয়ম-নীতি-শান্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমরা কি উন্নত দেশ হতে চাই, আমরা কি শোষণ-জুলুম-দুর্নীতি-চাঁদাবাজ মুক্ত রাষ্ট্র চাই। আমাদেরকে ভাবতে হবে আমরা কি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই, যোগ্যতা ও সততাকে সরকারি পদের জন্য মৌলিক শর্ত করতে চাই; আমরা কি আমাদের জাতীয় সক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করতে চাই। এসব বিষয়ে যদি আমরা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চাই তাহলে আমাদেরকে আগামী নির্বাচন নিয়ে নৈতিকভাবে ভাবতে হবে। রাজনৈতিক কথার ফুলঝুরির বাইরে এসে বাস্তবতার আলোকে সৎ, দক্ষ, নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

‘আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি যে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির জন্য ৫টি বিষয়ে হ্যা এবং ৫টি বিষয়ে না বলতে হবে। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আমরা হ্যা বলতে বলেছি। কারণ এসব মৌলিক শর্ত ছাড়া বৈষম্যহীন, উন্নত, নৈতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পাশাপাশি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব, চাঁদাবাজি-কে স্পষ্ট করে না  বলতে হবে।’

‘বাংলাদেশ আয়তনে ছোট কিন্তু জনসংখ্যায় বড় একটি দেশ। এ জনসংখ্যাকে অনেকে সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করলেও আমরা মনে করি এটি আল্লাহর নেয়ামত এবং এক বড় সম্পদ। তাই আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তি হিসাবে রুপান্তর করতে হলে নীতি ও নৈতিকতা ভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প নাই। সমাজে নীতি-নৈতিকতা-শৃঙ্খলা-জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া কোনো জাতি আগাতে পারেনি। আমাদের পক্ষেও সম্ভব না।’

‘আমরা মনে করি সমাজে ন্যায় বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সকলকে মর্যাদা দিতে হবে এবং সকলের মানবাধিকার সুরক্ষা দিতে হবে। সকল পরিচয় নির্বিশেষে আমরা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি যে একটি মানবিক-উন্নত দেশ গড়ার জন্য দল-মত-নির্বিশেষে সকলের মান-ইজ্জত-অধিকারের সুরক্ষা দিবো। এই বাংলাদেশ—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না। যদি কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাত করার চেষ্টা করে, আমরা অতীতের মত ভবিষ্যতেও তা প্রতিরোধ করব।’
  
‘সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম, একাধিক ধর্মের এ দেশে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই মুসলমান হিসাবে এটি আমাদের দায়িত্ব যে সমাজে ন্যায় বিচার, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। এগুলো ইসলামের শ্বাশত আদর্শ। সকল মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব; এটি আল্লাহ আমাদেরকে স্পষ্টভাবে বলেছেন। এ দায়িত্ব আমরা সকলে মিলেই পালন করব। প্রিয় তাবলীগ জামাতের ভাইয়েরা, আপনারা দ্বীনের জন্য যে মেহনত করছেন, দেশ গড়ার কাজেও আপনারা আমাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন বলেও আমরা বিশ্বাস করি।  আমরা অঙ্গীকার করছি ভবিষ্যতে কেউ আপনাদেরকে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন বিশেষণে ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করতে পারবে না। বিচার বহির্ভূতভাবে আপনাদেরকে হত্যা করতে পারবে না। আমরা জানি অতীতে আপনাদের কোন মানবাধিকার ছিল না। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হবে নতুন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জাতীয় নীতি-পদ্ধতিতে আপনাদের আনুষ্ঠানিক অবদান ও ভূমিকাকে জোড়দার করা হবে।’

‘আন্তর্জাতিক এবং জলবায়ু: আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সম মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি করবো। আমরা অন্যের ভৌগলিক অখণ্ডতাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করবো, তেমনি সকল দেশের সাথে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিবো। তবে আমাদের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখবে। বৈশ্বিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জসমূহ, বিশেষতঃ জলবায়ু পরিবর্তন, নিরসনে আমরা সাধ্যমতো ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। নিপীড়নের শিকার হয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্টীকে তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হবে।’  

তিনি আরও বলেন, জন্মভুমি থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করেও জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। ইতিমধ্যে আপনারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন বাংলাদেশে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে ইতিহাস রচনা করেছেন। আগামী দিনে দেশ গড়ার এই অভিযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া আমাদের নতুন বাংলাদেশ -এর স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে। আমরা চাই প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করতে। সে লক্ষ্যেই প্রবাসীদের জন্য ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে—যারা প্রবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, সেবা ও সমস্যার বিষয়ে দূতাবাস বা হাইকমিশনের সাথে সরাসরি সমন্বয় করে প্রবাসীদের স্বার্থে উপদেষ্টা ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবে। এবং প্রবাসীরাও যেন সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ আরো শক্তিশালী করতে আনুপাতিক হারে সংসদে প্রবাসী প্রতিনিধি নির্বাচন বা মনোনয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

‘নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমরা গিয়েছি। আপনারা আমাদের সভা-সমাবেশে যোগ দিয়েছেন; আমাদের কথা শুনেছেন। আপনাদের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় আমরা অভিভুত। আমরা আপনাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা বা অন্যান্য কার্যক্রমে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একটি বিরাট নৈতিক দায়িত্ব। তাই আমাদের আহ্বান নির্বাচনী আচরণ-বিধিকে সম্মান জানানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বি রাজনৈতিক দলের বৈধ অধিকারকে সম্মান করা। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা অনেক কষ্ট করে আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কভার করেছেন। আপনাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ঋণ শোধ করতে পারবো না। আপনারা ভালো থাকবেন।’ 

‘আমাদের দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, শুভাকাঙ্খী এবং নির্বাচনী জোটের নেতৃবৃন্দ, কর্মীগণ নিরলস পরিশ্রম করেছেন। আর্থিক ত্যাগ করেছেন। শেরপুরে আমার ভাই রেজাউল করিম, প্রতিপক্ষের নির্মম আঘাতে, শাহাদাত বরণ করেছেন। আল্লাহ সকলের ত্যাগ ও কুরবানি কবুল করুন। আমাদের ভাই, মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদল, যিনি শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী ছিলেন, ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম পুরস্কার দিন ও জান্নাত নসীব করুন।’

‘আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হচ্ছে আমানত। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোন উপভোগের বিষয় নয়। সর্বাবস্থায় আমরা স্মরণে রাখবো ‘আমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং আমাদের দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’। আমরা হযরত ওমরের সেই বিখ্যাত উক্তি ও দায়িত্বশীলতা মনে রাখবো যে, “ফোরাতের তীরে একটি কুকুর না খেয়ে মড়ে গেলেও আমি ওমর দায়ী থাকবো”। আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকবো, ইনশাআল্লাহ।’

‘আশা করি আপনারা আমাদের অঙ্গীকার ও স্বপ্নকে বিশ্বাস করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রতি সমর্থন দিবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় এবং যেসব অঞ্চলে ১১ দলীয় প্রার্থী আছে সেসব এলাকায় ১১ দলীয় প্রতীকে ভোট দিবেন, এ আকুল আবেদন আপনাদের প্রতি রাখলাম। আল্লাহ পরিবর্তনের এক মহাসুযোগ আমাদের দিয়েছে, আসুন সেটা কাজে লাগাই। বিগত দিনের রাজনীতি পরিহার করি। একটি নতুন বাংলাদেশ তৈরি করি যেখানে সবাই মান-ইজ্জত-মর্যাদা নিয়ে বাস করবে। আল্লাহ আমাদের প্রতি সহায় হোন। আল্লাহ আমাদের অঙ্গীকার পালনে সহায়তা দিন।’ 

 

বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি নিজের জীবনের এক কঠিন ও ব্যক্তিগত অধ্যায়ের কথা প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভাই বিক্রান্তকে রক্ষা করতে তিনি অস্ট্রিয়ায় থাকা নির্যাতনমূলক দাম্পত্য জীবন ছেড়ে রাতারাতি ভারতে ফিরে আসেন।

পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেলিনা জানান, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে একটি ফোনকল তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়। তখন তিনি অস্ট্রিয়ায় বসবাস করছিলেন। ফোনে জানতে পারেন, তাঁর ভাই সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক হয়েছেন।

সেলিনা বলেন, ‘রাত প্রায় ৯টার দিকে ফোনটা আসে। প্রথমে আমি বিষয়টাকে তেমন গুরুত্ব দিইনি। ভেবেছিলাম, আমার ভাই হয়তো মজা করছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আমি বিষয়টাকে তার একটা বাজে রসিকতা বলেই ধরে নিয়েছিলাম।’
কিন্তু কিছু সময় পর পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন তিনি। তখনই জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় অভিনেত্রীকে।

সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

নির্যাতনমূলক দাম্পত্য জীবনের কথা অকপটে
সেলিনা জানান, ওই সময় তিনি নিজেও চরম ব্যক্তিগত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ‘আমি তখন খুবই খারাপ ও নির্যাতনমূলক একটি দাম্পত্য সম্পর্কে ছিলাম; কিন্তু যখন সন্তান থাকে, তখন অনেক কিছু সহ্য করে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হয়। যখন মা–বাবা নেই, সম্পদ নেই, তখন সন্তানদের জন্যই আপনি সবকিছু সহ্য করেন।’
সেলিনা বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এত দিন দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এক রাতেই সব ছেড়ে ভারতে ফেরা
ভাইয়ের বিপদের খবরই ছিল তাঁর জন্য টার্নিং পয়েন্ট। সেলিনা জানান, ভাইকে সাহায্য করতে হলে অস্ট্রিয়া ছেড়ে ভারতে ফেরা ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় ছিল না।
‘আমি বুঝে গিয়েছিলাম, যদি আমি অস্ট্রিয়ায় থাকি, তাহলে ভাইয়ের জন্য লড়তে পারব না। তাই রাত একটার দিকে, প্রায় কোনো টাকা ছাড়াই, ক্রেডিট কার্ডে টিকিট কেটে আমি অস্ট্রিয়া ছেড়ে ভারতে ফিরে আসি’, বলেন সেলিনা।

সেলিনা আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন নিজের সন্তানদের এই লড়াইয়ের মধ্যে না জড়িয়েই।

ব্যক্তিগত লড়াইয়ের গল্প
সেলিনার এই স্বীকারোক্তি বলিউড অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা খোলামেলা না হলেও এবার তিনি সাহস করে নিজের কষ্টের গল্প তুলে ধরেছেন।
এ ঘটনা আবারও সামনে আনছে—তারকাদের ঝলমলে জীবনের আড়ালেও কতটা কঠিন বাস্তবতা লুকিয়ে থাকতে পারে।

ইন্ডিয়াডটকম অবলম্বনে