ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ চলাকালে বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিরোধী দলের এই অবস্থানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতিই ৫ ও ৬ আগস্ট এই বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তার কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারা ৫ আগস্টের বিকেল বেলা এবং ৬ আগস্ট আলাপ-আলোচনা করেছেন, যাদের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিয়েছে—সেই রাষ্ট্রপতিকে আজ কেন অস্বীকার করা হচ্ছে? তাদের দলের দু-একজন তো এই সংসদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। এই স্ববিরোধিতা কেন, সেটা তাদেরই জিজ্ঞেস করা উচিত।’ 

তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউটকে একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়।


এর আগে বিকেলের অধিবেশনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানান, তখনই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে ছিল ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’—এমন স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। সংসদ কক্ষে হট্টগোলের একপর্যায়ে তারা অধিবেশন বর্জন করে বেরিয়ে যান।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ থেকে বের হয়ে অভিযোগ করেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতি নীরব ছিলেন এবং তিনি ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী’ ছিলেন। ফলে সংসদে তার ভাষণ দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই বলে তারা দাবি করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য এই পরিস্থিতির মধ্যেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সংসদ শেষ পর্যন্ত অর্থবহ হবে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সব সমস্যা ও ইস্যুর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে এই সংসদ। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটব। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, সেই ঐক্য আমরা ধরে রাখব এবং জাতীয় যেকোনো ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাব।’ 

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার নির্ধারিত লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার দল বিএনপিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। 

 

নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া আহমেদ আযম খানকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে এই মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী এই দপ্তর পুনর্বণ্টন করেছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বিএনপি সরকার গঠন করার পর এত দিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি আজ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। আজকেই নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আহমেদ আযম খান। এ ছাড়া ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা কায়সার কামাল জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। এখন তাঁদের জায়গায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ৫০। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। এর বাইরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা আছেন।

ভারতীয় দুটি তেলের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে ইরান।

বুধবার (১১ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে আলোচনার পর ইরান ভারতীয় তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দেয়।

এ ঘটনা নয়াদিল্লির মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির প্রচেষ্টার সাফল্য হিসেবে দেখছে ভারত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সূত্রের খবর অনুযায়ী কূটনৈতিক আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় জাহাজের জন্য এই সামুদ্রিক পথ খোলা রাখা, যাতে কাঁচা তেল ও এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা না আসে। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গালফ অঞ্চলের সামুদ্রিক রুটের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে ‍দুই দেশের পরররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় জাহাজকে প্রণালী ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইসরায়েলের জাহাজ এখনও সেখানে আটকা পড়ে আছে। আলোচনার আগে এস জয়শঙ্কর এই বিষয়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গেও পরামর্শ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার সের্গেই লাভরভ এবং ফ্রান্সের জঁ-নল বাররো।

অন্যদিকে চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীতে অস্থিতিশীলতার কারণে ভারতের কমার্শিয়াল এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে- যা হোটেল ও রেস্টুরেন্ট খাতকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের অনেক প্রতিষ্ঠান সরবরাহ কমার কারণে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

 

যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে গতকাল বুধবার মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-১ বোমারু বিমানে ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা মজুত করতে দেখা গেছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে পেন্টাগন হয়তো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের মতো ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে এ ভারী বিমানগুলো পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অন্তত একটি বি-১ বিমানের অস্ত্র রাখার স্থান থেকে একটি মিসাইল লঞ্চার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বি-১ বোমারু বিমানগুলো আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। এগুলো লক্ষ্যবস্তু থেকে শত শত মাইল দূর থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব; যা বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সীমানার বাইরে থাকে। তবে ইরান যেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত করে রেখেছে, সেই সুসংহত ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র খুব একটা কার্যকর নয়।

যুক্তরাজ্যে বি-১ বোমারু বিমানে যে ‘জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশনস’ (জেডিএএম) মজুত করতে দেখা গেছে, সেগুলো নিক্ষেপের জন্য বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ২৫ মাইলের মধ্যে থাকতে হয়। বোমারু বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর এত কাছে, বিশেষ করে ইরানের আকাশসীমার অনেক ভেতর নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাটি একটি বড় সংকেত। এর অর্থ পেন্টাগন আত্মবিশ্বাসী যে তারা ইরানের বিমানবিধ্বংসী সক্ষমতা প্রায় পুরোটাই ধ্বংস করে দিয়েছে।

ফ্লাইটগ্লোবাল ডটকমের ‘ওয়ার্ল্ড এয়ার ফোর্সেস ২০২৬’ ডেটাবেজ অনুযায়ী, বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে ৪০টি বি-১ বিমান রয়েছে। ইরানের আকাশে এমন একটি বিমান হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

ঘাঁটির বাইরের পর্যবেক্ষকদের সামনেই প্রকাশ্যে এসব যুদ্ধবিমান সাজানোর মাধ্যমে একটি বার্তাও দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আর তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ভাণ্ডারে থাকা অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্রগুলো আসছে এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা ইরানের খুব একটা নেই।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী’ সামরিক অভিযান শুরু করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া বির ইয়াকুব, পশ্চিম জেরুজালেম ও হাইফার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন ও আল–জাজিরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পরবর্তী নতুন নেতার ওপর নিজের প্রভাব খাটানোর দাবি করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া এই পদের জন্য যাঁকেই বেছে নেওয়া হবে, তিনি ‘বেশি দিন টিকবেন না’।

গতকাল রোববার ইরানের বিশেষ পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

মোজতবা খামেনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

মোজতবা খামেনি নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি ট্রাম্প। তবে এর আগেই তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, এই পদে কাউকে নির্বাচিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিতে হবে।

এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁকে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। যদি তিনি আমাদের অনুমোদন না পান, তবে তিনি বেশি দিন টিকতে পারবেন না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি চান না, ভবিষ্যতে অন্য কোনো মার্কিন সরকারকে এই সমস্যা মেটাতে আবার নতুন করে যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান চালাতে হোক।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না, পাঁচ বছর পর মানুষকে আবারও একই পরিস্থিতিতে ফিরতে হোক বা একই কাজ নতুন করে করতে হোক। অথবা এর চেয়েও খারাপ কিছু ঘটুক—যেমন তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র চলে আসা।’

ইরানের কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে ওয়াশিংটনের প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ নেই। গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আবারও কঠোর ভাষায় বলেন, ‘আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কাউকে হস্তক্ষেপ করতে দেব না।’

আব্বাস আরাগচি বলেন, নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের জনগণের ওপর নির্ভর করে। ইরানের সাধারণ মানুষই ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদকে নির্বাচিত করেছে, যারা সর্বোচ্চ নেতা বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের ফেলো বারবারা স্লাভিন আল–জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছিলেন, তিনি মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মেনে নেবেন না।

আল–জাজিরা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পূর্বঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। আর এটি অনুমোদন করা হলে এবার কার্যত ছুটি হবে মোট সাত দিন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে আগেই পাঁচ দিনের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এই ছুটি নির্ধারণ করা রয়েছে।

এখন ঈদের আগে ১৮ মার্চ ছুটি হলে কার্যত ঈদের আগে ছুটি হবে চার দিন। কারণ, ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদরের ছুটি হওয়ার কথা। ফলে ঈদের দিন এবং পরের দুই দিন মিলিয়ে এবার ঈদের মোট ছুটি হবে সাত দিন।

ব্যাংক একীভূত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি এ–ও বলেছেন, এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে বিকল্প যত পদক্ষেপ আছে, তা সব কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি নিয়মের মধ্যে গ্রাহকদের বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।

একীভূতকরণের উদ্যোগে থাকা পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের নিয়ে সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এমন বার্তা দেন। আজ বাংলাদেশ ব্যাংকে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সবাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, তাঁরা ব্যাংক পাঁচটি পরিচালনা করছেন।

গত বৃহস্পতিবার নতুন গভর্নর হিসেবে যোগ দেন মোস্তাকুর রহমান। এর আগে গত বুধবার আহসান এইচ মনসুরকে গর্ভনর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গভর্নর পদে যোগ দিয়ে আহসান এইচ মনসুর দুর্বল ব্যাংক একীভূত করাসহ ব্যাংক সংস্কারে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সরকার ও গভর্নর পরিবর্তনে এসব উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন গভর্নর জানিয়ে দিয়েছেন, সংস্কার চলবে।

সভা সূত্র জানায়, নতুন গভর্নরকে একীভূত করার কারণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এরপর গভর্নর জানান, সংস্কার চলমান থাকবে। আমানত বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে, তা আদায়ে বিকল্প যত উদ্যোগ আছে, তার সবই গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংকের ঋণ আছে এমন বন্ধ কারখানা নিয়মের মধ্যের চালুর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে। এ ছাড়া সার্বিকভাবে ব্যবসা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। শিগগির একীভূত ব্যাংকে এমডি নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি লুটপাটের শিকার হয় ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো। প্রচলিত ধারার কিছু ব্যাংকেও ঋণ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটে। তাতে এসব ব্যাংকের অধিকাংশ ঋণই খেলাপি হয়ে যায়। এর মধ্যে ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করা হচ্ছে। এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ব্যাংক পাঁচটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারাই ব্যাংক পাঁচটি পরিচালনা করছে।

এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাঁরা দুজনই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

রাজধানীর মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে নতুন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্যাংকটিতে চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ দিয়েছে সরকার।