সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটায় বিএনপির উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল শুরু হয়। মিলাদ শেষে খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের সদস্য তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শার্মিলা রহমান-ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

হলফনামায় দেয়া মামলার তথ্য সংক্রান্ত জটিলতায় কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে মনোনয়পত্র যাচাইবাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।

তার ঘণ্টাখানেক আগে তার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে আবার শুনানিতে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামায় জামায়াতের এ নেতা তার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলার তথ্য দেন। তার মধ্যে ৭০টিতে তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা প্রত্যাহার হয়েছে মামলা।

বাকি দুই দুইটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা বিস্ফোরক দব্য আইনে ঢাকার সিএমএম আদালতে দায়ের হয়, যেটি হাইকোর্ট স্থগিত করেছে।

অপর মামলাটি আদালত অবমাননার; আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দায়ের হওয়া এই মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন এখন। এই মামলার উপযুক্ত নথিপত্র দেখাতে না পারায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়পত্র বাতিল হলেও এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

স্থানীয় জামায়াত নেতারা বলছেন, যথাযথ প্রমাণাদি জমা দিয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলে যাবেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী। এ নিয়ে চিন্তার তেমন কিছু নেই।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়া হলফনামায় নিজের সম্পদ ও আয়ের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। তার নামে দানকৃত কৃষিজমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫০ শতক। অর্জনকালে ওই জমির আর্থিক মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা বর্তমানে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসা থেকে বছরে তার আয় ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন।

হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, সারজিস আলমের নামে একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। তার নামে কোনো বন্ড, ঋণপত্র বা স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত শেয়ার নেই। আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এছাড়া তার নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবনও নেই।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম তার মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা। এ খাতে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মরদেহের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেছেন ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ১৯৬ নম্বর বাসায় দলের নেতাকর্মী ও স্বজনরা খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার আগে বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের উদ্দেশ্যে বের করা হয় তার মরদেহ। 

পরে নেয়া হয় গুলশানের তারেক রহমানের বাসায়। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

উল্লেখ্য, দুপুর ২টায়  জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। নামাজে জানাজা পড়াবেন জাতীয় মসজিদের খতিব। এরপর সাড়ে তিনটার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রয়াত স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন অনুষ্ঠানে সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে জানাজা ও দাফনস্থলে কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঘর ছেড়ে এলেন রাজপথে। আপসকে দূরে টেলে দিয়ে বেছে নিলেন সংগ্রাম। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর জনসমাবেশ ছড়িয়ে দিলেন সারাদেশে। তারপর জনতার রায়ে গেলেন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পাশে সংসদ ভবনে। সেখানে থেকে বিশ্ব দরবারে নিজেকে চেনানোর প্রচেষ্টা। সরকার ছেড়ে বিরোধী দল, বিরোধী দল থেকে আবার সরকারে।

তারপর ষড়যন্ত্র, এক-এগারো। আশির দশকের সংগ্রাম আবার শুরু... পথ চলায় হারায় বাড়ি-ঘর, ছোট ছেলেকে।

কারাগারে গিয়ে ধীরে ধীরে শরীরে দানা বাঁধতে শুরু করলো রোগ। কিন্তু তার যে আপসহীন ভূমিকা, মাথা নোয়াবার নয়! তাই তো নিজের পথে ছিলেন অবিচল, করেননি আপস। আর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

তবে শরীর যে মানে না! লড়াই চালিয়ে যান নিজের সাথে। পরিবার, দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সুস্থ করে তোলার।

চলতি বছরের একদম শুরুতেই গেলেন বিলেতে। চিকিৎসা নিয়ে সেখানে থাকতে পারতেন পরিবারের সান্নিধ্যে। কিন্তু দেশকেই বেছে নিলেন। একাই থাকবেন, তবুও দেশের মাটিতে।

দেশে ফেরার পথে হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের বলেছিলেন, ভাইয়াকে (তারেক রহমান) দেখে রাখতে।

বারবার বলছিলেন, ছেলে তারেক রহমানকে দেখে রাখতে। এ যেন তিনি বুঝতে পারছিলেন, সময় ফুরিয়ে আসছে, নিজে আর ছেলেকে আগলে রাখতে পারবেন না। দলের নেতাকর্মীদেরকেই দিলেন সেই দায়িত্ব।

এই অনুরোধ করে ফিরলেন দেশে। কারণ, তিনি তো জাতিকে বলেছিলেন, 'আমি দেশ ছেড়ে, দেশের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যাব না। এই দেশই আমার একমাত্র ঠিকানা। দেশের বাইরে আমার কিছু নেই, কোনো ঠিকানাও নেই।'

এক-এগারো থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে খালেদা জিয়া তার কথা রেখেছেন। এমনকি দেশে ফ্যাসিস্টমুক্ত হওয়ার পরেও। সুযোগ ছিল বিদেশে গিয়ে জীবন কাটানোর, কিন্তু সেই পথ বেছে নেননি। গোটা দেশ দেখলো তা। জাতিও বিনিময়ে ভালোবাসা দিতে ভোলেননি।

খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায়ে সারাদেশ থেকে ছুটে আসে মানুষ। সংসদ ভবন এলাকা পেরিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে শাহবাগ-বিজয় সরণি-আগারগাঁও-শ্যামলী-নিউমার্কেট এলাকা পৌঁছে যায় জনতার স্রোত।

জানাজাস্থল থেকে যতদূর চোখ যায়, দেখা মেলে মানুষ আর মানুষ।

জীবনের শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠা খালেদা জিয়া যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসনের পরিচয় ছাপিয়ে গেছেন, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় মানুষের এই জনস্রোত। একজন রাজনীতিবিদের জীবন কতটা বর্ণাঢ্য হলে এতটা ভালোবাসা মেলে, তার উত্তর উপস্থিত মানুষের মাঝেই রয়েছে। তাদের অনেকেরই চোখ ছিল অশ্রুসজল। 

বাংলাদেশের নেতা খালেদা জিয়াকে স্বয়ং প্রকৃতিও বিদায় জানিয়েছে। গেলো কয়েকদিনের কনকনে ঠান্ডা দূর করে মিষ্টি রোদ ওঠে নগরীতে। তাতে কিছুটা স্বস্তি পায় আগত জনতা।

জনতার এই স্রোত থামেনি দুপুর দুইটায়-ও, যে সময় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ কারণে জানাজা শুরু হতে বিলম্বও হয় কিছুটা।

ঘড়ির কাটায় যখন ২টা ৪৫ মিনিট, জানাজাস্থলে খালেদা জিয়ার কফিন পৌঁছায়। কফিনজুড়ে ছিল বাংলাদেশের পতাকা। তার আগে হাসপাতাল থেকে গুলশানে তারেক রহমানের বাসা, সেখান থেকে সংসদ ভবন এলাকায় রাষ্ট্রীয় প্রোটকলে লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে তার মরদেহ আনা হয়।

কফিন পৌঁছার পর দলের পক্ষ থেকে শুরুতে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি তার বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের গল্প তুলে ধরেন।

এরপর ২টা ৫৮ মিনিটে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন তারেক রহমান। মা হারানো তারেক স্বাভাবিকভাবেই ছিলেন আবেগাপ্লুত, শোকে মূহ্যমান। তিনি কোনও ধরনের ভূমিকায় যাননি বক্তৃতায়।

স্বজন হারিয়ে বাংলার আট-দশটি সাধারণ পরিবারের সন্তানের মতোই শোনা গেলো তার কণ্ঠ।

‘আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। এখানে উপস্থিত সকল ভাই ও বোনেরা, মরহুমা যদি কারও কাছ থেকে কোনও ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন, আমি পরিশোধ করব ইনশাআল্লাহ।

খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন উনার কোনও ব্যবহারে অথবা কোনও কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তার জন্য দোয়া করবেন।’

এরপর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়।

লাখ-লাখ মানুষের এই জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক জানানোর পাশাপাশি শোকার্ত পরিবারকে সহমর্মিতা জানাতে ঢাকায় ছুটে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর বিশেষ দূত ও দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ।

দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতিই বলে দেয়, খালেদা জিয়া বিএনপির নেত্রী নন, এই জাতি-রাষ্ট্রেরই নেতা।

জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া উদ্যানে। সেখানে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এরপর তোপধ্বনির মাধ্যমে গান স্যালুট প্রদর্শন করে সম্মাননা জানানো হয়। সরকার, তিন বাহিনীর প্রধানরাও শ্রদ্ধা জানান।

নিরাপত্তাজনিত কারণে সমাধিস্থলে সীমিত সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। তবে বাইরে অনেক মানুষ অপেক্ষা করছিলেন ফেরার সময় কবর জেয়ারত করে যেতে। বাংলার এই মানুষ বলে দিচ্ছেন খালেদা জিয়া অমর হয়ে থাকবেন তাদের মানসপটে। তিনি থাকবেন বাংলার ধানের শীষে মিশে। যেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা, রাজনৈতিক সংগ্রামের গল্প, দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাওয়ের স্লোগান।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বুধবার বাদ জোহর সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, জানাজার পর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হতে পারে। 

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায়, ফজরের নামাজের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সবার কাছে দোয়া চাইছি।’

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এ সময় হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার অবদান, তার দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তার প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপসহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে, মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি’র চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন, যা বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ভীষণভাবে সফল ছিলেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।

১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন।

শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তার আপসহীন ভূমিকা দীর্ঘ  লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছিল।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। আমরা তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সকলের নিকট তার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাচ্ছি।

গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আশির দশকে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনে তিনি সাত দলীয় জোট গঠন করেন এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তাকে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়েছিল।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন; যার মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করেন।

১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও তিনি ১১৬টি আসন নিয়ে সংসদে বৃহত্তম বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি চারদলীয় জোট গঠন করেন এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ২৯ নম্বরে স্থান দেয়।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দাঁড়িয়েছেন, তার সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদানের জন্য তাঁকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে।

২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলার রায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে একে একে সব মামলায় খালাস পান বিএনপি চেয়ারপারসন।

দেশে ফিরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিমানবন্দরের লবিতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ভিডিওতে দেখা যায়, আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন তারেক রহমান। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, নিরাপত্তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমার নিরাপত্তার জন্য। এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছি।

প্রায় দেড় যুগ পর দেশে প্রত্যাবর্তন। সতেরো বছরের প্রতিটা ক্ষণ কি প্রহর গুনছিলেন তিনি দেশে ফেরার জন্য? দেশের মাটি স্পর্শ করার জন্য? সেই অপেক্ষার প্রহর ফুরোল আজ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশেষে ঢাকায় ফিরেছেন। খালি পায়ে ছুঁয়েছেন মাতৃভূমি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

বিমানবন্দর থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে তারেক রহমান বাইরে আসেন। রাস্তার পাশে সারি সারি গাঁদা ফুলে সজ্জিত ছোট্ট বাগান দেখে মন হয়তো আঁকুপাঁকু করছিল। পাদুকা খুলে পা রাখেন মাটিতে। কিছুক্ষণ খালি পায়ে হাঁটেন শিশিরভেজা ঘাসে। হাতে তুলে নেন এক মুঠো মাটি। তার চোখে মুখে তখন দেখা যাচ্ছিল আনন্দের ঝর্ণাধারা!

অপেক্ষা তখনই ভীষণ আনন্দের, যদি হয় জমকালো প্রত্যাবর্তন। অপেক্ষা তখনই হয় প্রবল সতেজ, যদি জনস্রোতের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া যায়। পায়ের তলে, হাতের মুঠোয় মাটির স্পর্শ লাগে। দেশের মাটি ও মানুষ তখন হয়তো আপনাকে বলে দেয়, অপেক্ষা শুদ্ধতম ভালোবাসার প্রকাশ।

১৭ বছর আগে তারেক রহমান যখন দেশত্যাগ করেন, তখন তিনি ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। সেই সময়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনে যেতে বাধ্য হন তিনি।

আর এখন দেশে ফিরলেন পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে। এখন তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার মা খালেদা জিয়া দলের প্রধান নেতা।

দেশে ফিরেই আজ এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে যাবেন তারেক। দেড় যুগ পর পা রাখা হলো মাতৃভূমিতে। এবার মাকে দেখার পালা। 

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে বহনকারী 'সবার আগে বাংলাদেশ' ব্রান্ডিংয়ে লাল-সবুজের বাসটি যাচ্ছেন ৩০০ ফুট এলাকার সংবর্ধনাস্থলে।

যেতে যেতে দেশবাসীর উদ্দেশে বাস থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে জনসমাগম হওয়ায় বাসটি ধীরে ধীরে আগাচ্ছে।

 

বাসের ভেতর থেকে নেতাকর্মীদের অভিবাদন গ্রহণ করছেন তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

 

তার আগে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার পূর্বে তারেক রহমান জুতা খুলে বাংলাদের মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে এক মুঠো মাটি নেন।

এর একটু আগে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করেন ঢাকায় থাকা পরিবারের সদস্য ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাংঘিক ব্যক্তিত্ব, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের চতুর্থ সংঘরাজ এবং “সাদা মনের মানুষ” হিসেবে পরিচিত শ্রীমৎ তিলোকানন্দ মহাথেরোর জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহষ্পতিবার শুরু হয় তিন দিন ব্যাপী জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার এই আয়োজন। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মগবান শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারে শুরু হওয়া এই আয়োজনে গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। এ দিন বিকেলে হাজার হাজার পূণার্থী প্রয়াত তিলোকানন্দ মহাথেরোর মরদেহ দিয়ে পুরাতন ঐতিহ্য অনুসরণ করে “গাড়ীটানা”র আয়োজন করা হয়। এতে হাজারো পূণ্যার্থী অংশ নেন এবং পরে সাজানো চিতায় মরদেহ আগুনে ভষ্মিভূত করা হয়। আজ ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, সকালে ভষ্মিভূত এই মরদেহের হাড় সংগ্রহ অনুষ্ঠানও সম্পন্ন হয়।

জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালনা কমিটির আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি প্রয়াত সংঘরাজের জীবন ও দর্শনের ওপর আলোকপাত করেন।গত বৃহষ্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলার শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার মাঠে আয়োজিত ধর্মসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। ধর্মদেশনা প্রদান করেন মিরপুর শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। উপস্থিত ছিলেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রদ্ধালংকার মহাথেরো, মালয়েশিয়ার ধর্মীয় গুরু ধম্মাজ্যোতি মহাথেরো, থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ভিক্ষু পারা সামান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনবোধি মহাথেরো, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুমান আক্তার, রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খিসা, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানসহ বিশিষ্টজনরা।

 

তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রথম দিনে প্রয়াত ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথেরোর জীবনীগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পুণ্যার্থীরা প্রয়াত এই মহান ধর্মগুরুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আজসহ বিগত তিনদিন ধর্মীয় আলোচনা, বিশ্ব শান্তি কামনায় প্রার্থনা এবং বিবিধ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি সুপ্রদীপ চাকমা তাঁর বক্তব্যে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের পথে রয়েছে। দুই মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এজন্য সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।

 

তিনি বলেন, তিলোকানন্দ মহাথেরো পার্বত্য চট্টগ্রামে যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেছেন, তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। যদি আমরা তা বজায় রাখতে না পারি, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ আমাদের ক্ষমা করবে না।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথেরো বলেন, শ্রদ্ধেয় ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথেরো মহোদয় ছিলেন ধর্ম, মানবতা ও অহিংসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যাঁর জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করে রাখবে।

 

উল্লেখ্য, মহাপ্রয়াণ তিলোকানন্দ মহাথেরো পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি মিয়ানমার সরকারের প্রদত্ত “অগ্রমহাপণ্ডিত” উপাধিতে ভূষিত, এটিএন বাংলা ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক “সাদা মনের মানুষ” হিসেবে স্বীকৃত, এবং কাচালং শিশু সদনের অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২ নভেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে তার মহাপ্রয়াণ ঘটে।