বদলে গেছে দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোর চিত্র। গত কয়েক দিনের ভিড়ভাট্টা, ভোগান্তি ও যানজট আর নেই। আজ শুক্রবার ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা। গাড়ির চাপ নেই, যাত্রীর চাপও নেই। বরং কোথাও কোথাও স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও কম সংখ্যায় গাড়ি চলতে দেখা গেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার দুর্ভোগ আজ নেই। ফাঁকা সড়কে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। গত কয়েক দিন গাজীপুরের চন্দ্রা, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, টঙ্গীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট লেগে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় আটকে থাকা, গরম, বৃষ্টি—সব মিলিয়ে ঈদযাত্রা হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। তবে আজ সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।

সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, টঙ্গী ও কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ঘরমুখী মানুষের উপস্থিতি থাকলেও যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। কোথাও যানজট নেই, নেই আগের মতো স্থবিরতাও।

ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী আবদুল কাদের বলেন, ‘গত দুই দিন আমি রাস্তায় বের হয়ে আবার ফিরে গিয়েছিলাম যানজটের কারণে। আজ আবার রওনা হয়েছি। রাস্তায় কোনো ভোগান্তি নেই। ঢাকার বনানী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত আসতে যেখানে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লেগে যায়, সেখানে আজ এক ঘণ্টার মধ্যেই চলে এসেছি। আশা করি, সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যেতে আর কোনো যানজটে পড়তে হবে না।’

রাজশাহীগামী যাত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে যাত্রা করছিলাম বলে খুব ভয় লাগছিল। আগের দিনে জ্যামের কথা শুনে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজকে রাস্তা ফাঁকা, দ্রুত যেতে পারছি।’

 ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কও অনেকটা ফাঁকা। আজ শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায়
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কও অনেকটা ফাঁকা। আজ শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায়

পরিবহন–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশির ভাগ মানুষ আগেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় আজ মহাসড়কে চাপ কমে গেছে। যানজট নেই বললেই চলে।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গত তিন থেকে চার দিন যানবাহনের যে চাপ ছিল, আজ তার উল্টো অবস্থা। মহাসড়কটি কার্যত ফাঁকা। এই সুযোগে যেসব যানবাহন চলছে, তা দ্রুত গতিতে ছুটে চলছে।

আজ সকালে মহাসড়কে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাইপাস এলাকায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে মিনিটে যেখানে গড়ে উভয়মুখী অন্তত ১৮ থেকে ২০টি যানবাহন চলত, সেখানে আজ ৪ থেকে ৫টি যানও নেই। বাইপাস বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে বাসের জন্য অপেক্ষারত সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী আবদুল আউয়াল বলেন, ‘বেশ কিছুক্ষণ একা একা দাঁড়িয়ে আছি। বাস পাচ্ছি না। যেসব বাস যাচ্ছে, তার গতি খুবই বেশি। থামাতে হাত উঁচু করেও লাভ হচ্ছে না।’

একই এলাকার বাসিন্দা ফরিদ মিয়া বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার একই সময় মহাসড়কে ঝাঁকে ঝাঁকে বাস আসছিল। কয়েকটি স্থানে যানজটের কারণে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহান।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

ঈদের আগের দিন ঘরমুখী মানুষের ভিড় থাকে মহাসড়ক ও পরিবহন কাউন্টারগুলোয়। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। প্রচুর যানবাহন থাকলেও যাত্রীসংকটে অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার। এ কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন মানুষ।

আজ সকালে শহরের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে দূরপাল্লার বাস। চালক ও তাঁর সহকারীরা হাঁকডাক করলেও প্রত্যাশিত যাত্রী মিলছে না।

সাইনবোর্ড এলাকায় কথা হয় নোয়াখালীর চাটখিলগামী আল বারাকা পরিবহনের যাত্রী মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার একটি ডাইং কারখানার ব্যবস্থাপক। ঈদ উপলক্ষে শাশুড়ি ও ভায়রাকে বাসে তুলে দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, সকাল নয়টায় গাড়ি আসার কথা থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত আসেনি। নির্ধারিত ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও যাত্রীপ্রতি ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. জহির বলেন, গাড়ির কোনো সংকট নেই, বরং যাত্রী কম। সকালে চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী তাঁদের ১২টি বাস ছেড়ে গেছে। প্রতিটি বাসে ১৩ থেকে ১৪ জন করে যাত্রী ছিল। গত তিন দিন প্রচণ্ড চাপ ছিল, টিকিট দিতে পারেননি। আজ গাড়ি খালি যাচ্ছে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জ অংশে কোথাও যানজট নেই। মৌচাক, মদনপুর ও মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলাচলকারী পরিবহনের সাইনবোর্ড ও শিমরাইলে অন্তত ৭০টি কাউন্টার আছে। এসব কাউন্টার থেকে দেশের ২১টি জেলার যানবাহন চলাচল করে।

কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু পদ শর্মা বলেন, মহাসড়কের কোথাও যানজট নেই। অধিকাংশ যাত্রী গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। সড়কে গাড়ি থাকলেও যাত্রীর চাপ নেই।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতু থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার অংশে কোথাও কোনো যানজট নেই। আজ সকাল ৯টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কের এই এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চান্দিনা উপজেলার হাড়ং গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকার আরদিন নার্সিং ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্রী ফয়জুন্নেসা পুষ্প, দেবীদ্বারের ছোট আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকার ব্যবসায়ী মো. সেলিম, তাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগমসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ঢাকা থেকে দাউদকান্দির গৌরীপুর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক অতিক্রম করতে ৫০ মিনিট সময় লেগেছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা স্বস্তি ও নিরাপদ করতে তাঁরা কাজ করেছেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এ বছর যাতায়াতের প্রথম তিন দিনে ১ লাখ ৯ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। ২০২৬ সালের প্রথম তিন দিনে মোট টোল আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।

একইভাবে যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। ২০২৬ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এ বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রতিফলন।

এবার ঈদ উপলক্ষে সেতু বিভাগের পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি চালু, মাওয়া বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে উন্নত ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার পরপর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা একটি ভারী রেকারসহ মোট তিনটি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু এবং ইফতার সামগ্রী বিতরণ।

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ফিরে আসতে চাইলে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের দেশে আনার ব্যবস্থা করবে সরকার, এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

এই সংঘাতে সৌদি আরবে নিহত মোশাররফ হোসেনের মরদেহ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে দেশে পৌঁছায়। মরদেহ হস্তান্তর করার সময় ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে তিনি এ তথ্য জানান।

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানালেন, নিহত মোশাররফসহ এ পর্যন্ত মারা যাওয়া পাঁচ বাংলাদেশির পরিবারের পুনর্বাসন সহযোগিতাসহ সন্তানদের দায়িত্ব নেবে সরকার।

এছাড়া, আটকে পড়াদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা এবং চাকরি হারানো প্রবাসীদের বিশেষভাবে তদারকি করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার (আইআরএনএ) বরাতে জানানো হয়েছে, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা ‘ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে মার্কিন বাহিনীর একটি কৌশলগত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে।’

এ ঘটনার একটি ভিডিও–ও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

যদি এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে এটি হবে মার্কিন কোনো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার প্রথম ঘটনা। একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন বিমানে হামলারও প্রথম ঘটনা হবে এটি।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে এবারও ঈদের জামাতের আয়োজন করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ঈদের দিন সকাল ৮টায় এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে একসঙ্গে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রকৌশল বিভাগের সূত্রে, ঈদ জামাতের জন্য প্রধান প্যান্ডেলটি তৈরি করা হচ্ছে স্টিল ফ্রেমের তাঁবু দিয়ে। এর ভেতরে আট হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। স্টিলের তাঁবুর দুই পাশে বাঁশের প্যান্ডেল করা হচ্ছে। সেখানে আরও দুই হাজার মানুষের নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। মূল তাঁবুর উত্তর পাশে ৫০০ নারীর নামাজের জায়গা সংরক্ষিত থাকবে। ঈদের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পুরো প্যান্ডেলে ত্রিপল ব্যবহার করা হচ্ছে।

এর বাইরে মূল তাঁবুর পেছনে (পূর্ব পাশে) খোলা মাঠেও নামাজের জন্য ত্রিপল বিছানোর ব্যবস্থা রাখছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ। সেখানে আরও প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ঈদের নামাজ পড়তে পড়বেন। ওই জায়গায় ত্রিপল বিছাতে ৩০ জন কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। নামাজের জন্য মানুষের উপস্থিতি সাপেক্ষে ওই কর্মীরা ত্রিপল বিছানোর কাজ করবেন।

বালু ফেলে জায়গাটি উঁচু করা ও পানির নালা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। ১৮ মার্চ
বালু ফেলে জায়গাটি উঁচু করা ও পানির নালা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। ১৮ মার্চ
 

গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, স্টিলের অবকাঠামোর ওপর মূল তাঁবু বসানোর কাজ শেষ। তাঁবুর সামনের অংশে মিম্বর তৈরির কাজ চলছে। মূল তাঁবুর দুই পাশে তৈরি করা হচ্ছে বাঁশের প্যান্ডেল। করপোরেশনের কর্মীরা মাঠে পানির গাড়ি দিয়ে পানি ছিটানো ও রোলার দিয়ে মাঠ সমান করার কাজ করছেন। অজুর জন্য পানির কল বসানো হয়েছে। এখন বালু ফেলে জায়গাটি উঁচু করা ও পানির নালা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

প্রধান প্যান্ডেলের ভেতরে আট হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। ১৮ মার্চ
প্রধান প্যান্ডেলের ভেতরে আট হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। ১৮ মার্চ
 

ঢাকা উত্তর সিটির প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মূল তাঁবুতে ২৫০টি সিলিং ফ্যান রাখা হচ্ছে। আর স্ট্যান্ড ফ্যান রাখা হচ্ছে আরও ১০০টি। ঈদ জামাতের জন্য ১৬ জোড়া সাউন্ড সেট থাকবে। এর পাশাপাশি মাইক থাকবে ৩২টি।

ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল–৫–এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, ঈদ জামাতের পুরো আয়োজনের পেছনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করছে। কাজটি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ইএফএ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে।

করপোরেশনের কর্মীরা মাঠে পানির গাড়ি দিয়ে পানি ছিটানো ও রোলার দিয়ে মাঠ সমান করার কাজ করছেন
করপোরেশনের কর্মীরা মাঠে পানির গাড়ি দিয়ে পানি ছিটানো ও রোলার দিয়ে মাঠ সমান করার কাজ করছেন
 

বুধবার দুপুরে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি এ সময় বলেন, ঈদের জামাতে মুসল্লিদের যেন কোনো অসুবিধা না হয় এবং নারী-পুরুষ সবাই যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এবার ঈদের দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হতে পারে ধরে নিয়ে স্টিলের স্ট্রাকচার দিয়ে শেড তৈরি করা হয়েছে।

প্রশাসক আরও বলেন, ১০ হাজার মানুষের নামাজের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আরও মুসল্লি হলে তাৎক্ষণিকভাবে যেন নামাজের ব্যবস্থা করা যায়, সে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তায় প্রবেশপথে আর্চওয়ে থাকবে এবং নামাজিদের নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। তিনি নগরবাসীকে এই ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে আসার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম নগরের টেরিবাজারের কে বি অর্কিড প্লাজা নামের একটি বহুতল বিপণিকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি দোকানঘর পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে দুই ব্যক্তি মারা গেছেন। নিহত দুজন হচ্ছেন মোহাম্মদ ইউনুস (৫২) ও মো. সোলাইমান (২৮)। তাঁদের গ্রামের বাড়ি পটিয়া উপজেলায়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁদের মৃত্যু হয়। এর আগে সকাল ১০টার দিকে ওই বিপণিকেন্দ্রের চতুর্থ তলার একটি দোকানে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ইউনুস, সোলাইমান ও আরও একজন গুরুতর দগ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির তত্ত্বাবধায়ক নুরুল আলম আশিক দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, টেরিবাজার এলাকায় আগুনের ঘটনায় তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তখন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় চট্টগ্রামের এই এলাকার বিপণিবিতান ও দোকানগুলোয় কেনাকাটার জন্য হাজারো মানুষ আসেন। দুপুর থেকে দোকানগুলোয় শত শত মানুষ ভিড় করেন। তবে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় আজ সকালে মানুষের ভিড় ছিল না। তবে ভবনে আগুন দেখতে পেয়ে আশপাশ থেকে প্রচুর মানুষ জড়ো হন।

এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ারসার্ভিস। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে
এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ারসার্ভিস। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে, ছবি: সৌরভ দাশ

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নগরের লালদীঘি সড়কের টেরিবাজার এলাকায় কে বি অর্কিড প্লাজা নামের বহুতল ভবনের অবস্থান। ভবনটিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট রয়েছে। সকালে ভবনের চতুর্থ তলায় ওয়েস্টার্ন টেইলার্স থেকে আগুনের ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তাঁরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে চন্দনপুরা ও নন্দনকানন ফায়ার স্টেশন থেকে চারটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা পৌনে ১১টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়ার সান্তাহারের বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর ১২টায় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী যাত্রীবাহী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরুর মধ্য দিয়ে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটি অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহারের বাগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এতে আহত হন উত্তরের বিভিন্ন জেলায় ঈদ করতে যাওয়া শতাধিক ট্রেন যাত্রী।

রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমদ হোসেন মাসুম জানান, গতকাল দুর্ঘটনার পর থেকে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা এখানে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এবং পার্বতীপুর থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সারারাত ব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বগিগুলোকে লাইন থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং রেললাইন মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। আমরা এই অবস্থাতে ট্রেন চালাতে পারবো।

তিনি আরও জানান, চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রীসহ প্রথমে যাবে। লাইন নির্মাণ কাজ মোটামুটি স্বাভাবিক। এই স্থানটিতে ট্রেনগুলো ধীর গতিতে চলাচল করবে। সেই সঙ্গে আমাদের নির্মাণ কাজ চলমান থাকবে। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন দুর্ঘটনার জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টায় বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাগবাড়ী নামক এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনের ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ঘটনার পর দায়িত্ব অবহেলার কারণে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

 

ঢাকা থেকে নীলফামারী যাওয়ার পথে বগুড়ার আদমদীঘিতে আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। চার সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগ সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাকশী বিভাগীয় মেকানিক্যাল প্রকৌশলী মইনউদ্দিন সরকারকে আহ্বায়ক করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিবহন, প্রকৌশল ও সংকেত বিভাগের কর্মকর্তারা। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তারা যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখবেন।

পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা হাসিনা বেগম তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তৎপর হয়ে ওঠেন।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যসহ পাকশী রেলওয়ে বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিমধেই বগুড়ার আদমদীঘির উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

 

ঈদযাত্রায় রাজধানীর নৌপথে ফিরেছে চেনা ব্যস্ততা। টানা সরকারি ছুটি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে সরগরম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গভীর রাত থেকেই যাত্রীঢল লঞ্চ টার্মিনালে। ভোর ৬টার প্রথম লঞ্চে যেনো নির্বিঘ্নে যাত্রা করতে পারেন, সেজন্য অনেকেই মাঝরাতে অবস্থান নেন সদরঘাটে। অনেকে সেখানেই খান সেহরি।

বরিশাল রুটের লঞ্চগুলো বিকেলের দিকে থাকলেও, চাঁদপুর রুটের নৌযানগুলো ভোর থেকেই চলাচল করে। ঈদ উপলক্ষ্যে সময়সূচিতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন।

যাত্রীরা জানান, উৎসবের কারণেই বাড়তি ভিড়। কষ্ট হলেও প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাতে পারলেই স্বস্তি। প্রায় প্রতিটি লঞ্চের কেবিনই পরিপূর্ণ। চাপ সামাল দিতে ব্যস্ত পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মনোযোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রকাশিত গেজেটে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদ বিষয়ক কার্যাবলী নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে এই দায়িত্ব বণ্টন কার্যকর থাকবে।

গেজেট অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর অধীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর অধীন থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে এসব দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

আমেরিকা

দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং প্রান্তিক কৃষকদের সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আনতে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ২২ হাজার কৃষকের মধ্যে ‘ফার্মস কার্ড’ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, এটি সরকারের একটি প্রি-পাইলটিং প্রজেক্ট। পহেলা বৈশাখ প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করার পাশাপাশি দেশের মোট ১১টি উপজেলায় একযোগে এই কার্ড কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

মূলত বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে এই ‘ফার্মস কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যা কৃষি ভর্তুকি ও অন্যান্য সহায়তা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১১টি উপজেলাকে এই কার্ড বিতরণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এই উপজেলাগুলোর কৃষকরাই প্রথম সরকারি এই বিশেষ ডিজিটাল কার্ডের সুবিধা ভোগ করবেন। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো: টাঙ্গাইল সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং জামালপুরের ইসলামপুর, পঞ্চগড়ের সদর, পঞ্চগড়ের বোদা এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ, পিরোজপুরের নেছারাবাদ এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আমিনুর রশীদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু। এছাড়াও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।