এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। আর সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে ইংরেজি বিষয়ে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে এই ফল প্রকাশ করা হয়। সেইসাথে, রাজধানীর বকশিবাজারের আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি তুলে ধরে বিস্তারিত ফলাফল। এতে দেখা যায় ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬৪.৬২ শতাংশ। 

অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে (পাসের হার)— রাজশাহী বোর্ডে ৫৯.৪০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২.৫৭ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৭.৪৯ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১.৫৪ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৫০.২০ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫১.৮৬ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮.৮৬ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬২.৫৭ শতাংশ; মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৭৫.৬১ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬২.৬৭ শতাংশ। 

ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ৬৩ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬ হাজার ৯৭ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ২ হাজার ৭০৭, যশোর বোর্ডে ৫ হাজার ৯৯৫ জন, সিলেট বোর্ডে ১ হাজার ৬০২ জন, রাজশাহী বোর্ডে ১০ হাজার ১৩৭ জন, বরিশাল বোর্ডে ১ হাজার ৬৭৪ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ৬ হাজার ২৬০ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ২ হাজার ৬৮৪ জন; মাদরাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ জন ও কারিগরি বোর্ডে ১ হাজার ৬১০ জন। 

সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শতভাগ পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠান ৩৪৫টি। তবে ২০২ প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করেতে পারেনি।

এর আগে, ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৭৭.৭৮ শতাংশ, যা এবার প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে। আর জিপিএ ফাইভ কমেছে প্রায় ৭৮ হাজার। 

অপরদিকে, এবারও পাসের হারে এগিয়ে আছে মেয়েরা। ছেলেদের চেয়ে ৫৯ হাজার ২৩২ জন বেশি নারী শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর জিপিএ ফাইভ বেশি পেয়েছে ৪ হাজার ৯৯১ জন। 

উল্লেখ্য, এবারের মতো এত কম পাশের হার ছিল ২০০৫ সালে। এরপর থেকেই বেড়েছে পাসের হার। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। সারা দেশে মোট ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। আর এবারও ফল তৈরি হয়েছে ‘বাস্তব মূল্যায়ন’ নীতিতে। 

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচন জুলাই সনদেরই অংশ। ভোট সুন্দর না হলে জুলাই সনদের মূল্য থাকবে না। তাই এই দুটি বিষয় যথাযথভাবে হতে হবে। জুলাই সনদে সকল রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করবে বলে আশা করছি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক এ কথা বলে তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। জুলাই সনদ পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে লেখা থাকবে। শেষ পর্যন্ত এটা হবে অনেকেই চিন্তা করেনি। কিন্তু এটা সম্ভব হয়েছে। এ সময় দলগুলোকে অভিনন্দনও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ছাড়া অভ্যুত্থানের পরবর্তী অধ্যায় রচনা করা সম্ভব ছিলো না। আমরা মুখে সংস্কারের কথা বলছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো প্রকৃতপক্ষে কি সংস্কার হবে তা দেখিয়ে দিয়েছে। 

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন হবেই। নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবে সরকার।

এই বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত এনসিপি'সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা যোগ দেন।

রাজধানীর মিরপুরে কারখানা ও কসমিক ফার্মা নামে একটি কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দুর্ঘটনায় নিরীহ মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। আমরা এই শোকের সময়ে তাদের পরিবারের পাশে রয়েছি। অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে কারখানা ও একটি কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দগ্ধ হয়েছেন আরও অনেকেই।

দুই কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে কারও সেফ এক্সিট নেই, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে নেত্রকোণার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় সারজিস আলম বলেন, কিছু উপদেষ্টার কথায়-আচরণে মনে হচ্ছে, তারা যেনতেন নির্বাচন দিয়ে সেফ এক্সিট চাইছেন। এটা হতে দেয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি— এই বিষয়গুলো যদি পিছিয়ে যায় তাহলে এটা নির্বাচনের ওপরও প্রভাব ফেলবে এবং নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে।

এনসিপি নির্বাচন পেছানোর মানসিকতা ধারণ করে না জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, তবে জনগণের সকল আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে যদি নির্বাচনককেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা হয়, সেটার সাথে একমত হবে না এনসিপি।

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে পোশাক কারখানা ও কসমিক ফার্মা নামে একটি কেমিক্যাল গোডাউনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট। এ ছাড়াও ঘটনাস্থলে যাচ্ছে আরও ৩টি ইউনিট।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ১১টা ৪০ মিনিটে তারা আগুন লাগার খবর পায়। আর ১১টা ৫৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া আগুনে কেউ হতাহত হয়েছে কী না এমনটাও জানা যায়নি।

এই সরকারের আমলেই বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সুপ্রিমকোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর, একজন আসামিকে ১২টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। কোন কোন ধাপে টাকাও খরচ করতে হয়। এই জটিলতা ও হয়রানি নিরসনে অনলাইনে জামিননামার সুবিধা চালু করা হচ্ছে।

এর ফলে, জামিন পাওয়ার পর, এক ক্লিকেই জামিননামা সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যাবে। গুম, দুদক ও মানবাধিকার আইন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলেও মন্তব্য করেন আইন উপদেষ্টা।

আইন উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিচার বিভাগ পৃথক সচিবালয় আইন, গুমের আইন, দুদক আইন, হিউম্যান রাইটস আইন প্রতিষ্ঠা হবে।

শিশুদের টাইফয়েড থেকে সুরক্ষায়, সারা দেশে তৃতীয় দিনের মতো চলছে জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকেই বিভিন্ন স্কুলে এই প্রতিষেধক দেয়া হচ্ছে।

মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে সরকার প্রায় পাঁচ কোটি শিশু-কিশোর-কিশোরীকে বিনা মূল্যে এই টিকা দিচ্ছে। অনলাইনের পাশাপাশি জন্মসনদ ছাড়া ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও এই টিকার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করা যাচ্ছে। ১২ থেকে ৩০ অক্টোবর, নিকটস্থ স্কুল এবং ১ থেকে ১৩ নভেম্বর টিকা দেয়া যাবে কমিউনিটি ক্লিনিকে।

টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv ওয়েবসাইটে গিয়ে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে সরাসরি ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। এই নিবন্ধন অব্যাহত আছে। যেসব শিশুর জন্মসনদ নেই বা জন্মনিবন্ধন হয়নি, তাদের জন্যও টিকার নিবন্ধন করা যাবে। এর জন্য নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সব শিশুকে টিকার আওতায় আনাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এই কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকাটি সরবরাহ করেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট, আর সরকারের পক্ষ থেকে তা পেয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভি–র সহায়তায়।

রাজধানীতে শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার প্রতিবাদসহ চার দফা দাবিতে এমপিত্তভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় চলছে শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি কর্মসূচি। আর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাত কাটানোর পর সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন ঢাকায় অবস্থান করা শিক্ষকরা। তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

তবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেদে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অনেক এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে গিয়ে দেখা যায় সকাল থেকে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও পাঠদান থেকে বিরত রয়েছেন। দাবি-দাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা তাদের।

আবার কোথাও কোথাও যথারীতি ক্লাস চলছে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চালু রয়েছে, সেখানকার শিক্ষকরা বলছেন, আন্দোলন কর্মসূচির সাথে সংহতি রয়েছে তাদের। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা চিন্তা করে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এর আগে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার রাজধানীতে প্রেসক্লাবের সামনে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়াসহ চারটি দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংগঠনের নেতাদের আহ্বানে শিক্ষকরা সরে গিয়ে শহীদ মিনারে অবস্থান নেন এবং সেখানে থেকেই লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

সংগঠনটির নেতারা জানান, সরকারের ঘোষিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির হার ‘অপর্যাপ্ত ও অবাস্তব’। তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং সর্বজনীন বদলি নীতি বাস্তবায়ন দাবি করছেন।

পিআর পদ্ধতিতে ভোট হলে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা খর্ব হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ খ্রিস্টান ফোরামের নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, হঠাৎ পিআর পদ্ধতির দাবি সামনে এনে আন্দোলন করার বিষয়টি যারা দ্রুত নির্বাচন চান, তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। বিষয়টি আগামী সংসদের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। সেখানে সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে। এখন পিআর দিলে জনগণ বুঝবেই না, এটা আসলে কী।

তিনি জানান, সংসদের উচ্চকক্ষে সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রাখা হবে। চার কোটি বেকারের সংকট সমাধানে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। দল ক্ষমতায় এলে দেড় বছরে এই সমস্যার সমাধান হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ আরেকবার রায় দেবে যে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থার চেষ্টা চলছে। যদিও সেটা বিঘ্ন করার বিভিন্ন অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

সংসদ পদ্ধতির প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি উচ্চকক্ষের কথা বলেছে। এটি নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু নিম্নকক্ষে পিআর অবাস্তব।

একটি জাতি গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ড গড়ার মহান দায়িত্ব পালন করে থাকেন শিক্ষকরা। মেধা বিকাশ, নীতি-নৈতিকতার শিক্ষাসহ জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ার তোলার পথ বাতলে দেন তারা। তাই শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগরও বলা হয়। আজকের দিনটি সেই শিক্ষকদের জন্য।

আজ (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৯৫ সাল থেকে জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশে এই দিনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে থাকে। শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা এবং সমাজে তাদের অবদান স্মরণে দিনটি পালন করা হয়ে থাকে।

এদিকে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়। কয়েকবছর ধরে সরকারিভাবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে।

১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন শুরু হয়। ইউনেস্কোর অনুমোদনে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে একটি রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনজন ফায়ার ফাইটারসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে জীবন রক্ষার মহৎ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের তিনজন সাহসী ফায়ার ফাইটারসহ চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত থাকেন। নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তারা অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের এই আত্মত্যাগের কাছে জাতি চিরঋণী। আজকের এই দুর্ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিল যে দায়িত্ব পালনের সময় তারা কত বড় ঝুঁকি বহন করেন। তাদের এ মহৎ ত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দুর্ঘটনায় শুধু কয়েকজন প্রাণ হারায়নি, বরং দৃষ্টান্ত দেখলাম আমাদের সাহস, মানবিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতীকের। ফায়ার সার্ভিস দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং সাহসী বাহিনী। সংকটময় সময়ে তাঁরাই প্রথম ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আজ সেই মহৎ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের জীবন দিতে হয়েছে। এটি সমগ্র জাতির জন্য গভীর শোকের বিষয়।

তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সান্ত্বনা জানিয়ে বলেন, আপনাদের প্রিয়জনরা নিছক প্রাণ হারাননি, তারা জাতির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আমি আপনাদের বেদনা ভাগ করে নিচ্ছি এবং দোয়া করছি এই কঠিন সময়ে আল্লাহ যেন আপনাদের ধৈর্য ও শক্তি দেন।

প্রধান উপদেষ্টা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, এই বেদনাবহ ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাদের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে— যাতে আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারি।

নির্বাচনি আসনের যে কোনো কেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ বা বিশৃঙ্খলা হলে, সেই আসনের ভোট স্থগিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে এমন কথা বলেন তিনি। সেইসাথে, নির্বাচন ঘিরে আয়োজিত সংলাপ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে এই সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইসি বিশাল কর্মযজ্ঞে হাতে নিয়েছে। আরপিও সংশোধনসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এ সময়, আইনে পোস্টাল ব্যালটের কথা থাকলেও এর প্রয়োগ ছিল না উল্লেখ করে সিইসি জানান, বর্তমান কমিশন এ নিয়ে কাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, পূর্বে নির্বাচনে সংশ্লিষ্টরা ভোট দিতে পারতেন না। তবে এবার নির্বাচনের সঙ্গে জড়িতরাও ভোট দিতে পারবেন। এ ধরনের মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে, সংলাপে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণই ইসির চ্যালেঞ্জ।

উল্লেখ্য, ইসি ঘোষিত এই কর্মপরিকল্পনায় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজ ও নারী সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম সম্পাদক ও সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এই সংলাপ শেষ করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।