রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ মঙ্গলবার সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সূত্র জানিয়েছেন, আজ সকাল ৬টা ২৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মণিপুর রাজ্য। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল ৪৩৬ কিলোমিটার।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আজকের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রুবাঈয়াৎ কবীর আজ বলেন, ‘এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ছিল। ঢাকা থেকে এর উৎপত্তিস্থল অনেকটাই দূরে। এতে শঙ্কিত হওয়ার কিছু হয়নি। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও আমাদের কাছে খবর নেই।’

ভূমিকম্পপ্রবণ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে আছে বাংলাদেশ। তাই এ দেশে যে ভূমিকম্প মাঝেমধ্যে হবে, সেটাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, সম্প্রতি দেশের মধ্যে ভূমিকম্পের উৎপত্তির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের কম ঝুঁকির অঞ্চল হিসেবে পরিচিত দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্প বেড়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হওয়া ভূমিকম্পগুলোর তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে এবং সীমান্ত–সংলগ্ন এলাকায় ৩২টি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে বৃহত্তর সিলেট এলাকায়—১০টি। এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তি ডাউকি চ্যুতির কাছাকাছি এলাকায়।

ইরান যুদ্ধ আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ–সংকট তৈরি করেছে। বিশ্লেষক ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধের কারণে মাত্র ৫০ দিনে বিশ্ব ৫০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার) মূল্যের অপরিশোধিত তেল হারিয়েছে।

কীভাবে এই বিপুল মূল্যমানের তেল হারাল বিশ্ব?

হিসাবটির বিষয়ে রয়টার্সের ব্যাখ্যা হলো, ইরান যুদ্ধের কারণে ৫০ দিনে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হয়নি, তার মূল্যই ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

আর এই সংকটের অভিঘাত আগামী কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত অনুভূত হবে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই সংকট শুরু হয়। সেদিন ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে অবশ্য ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে।

বাজার বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, সংকট শুরুর পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট সরবরাহ ৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি কম হয়েছে। অর্থাৎ, এই পরিমাণ তেল উৎপাদিত হয়নি।

আধুনিক ইতিহাসে জ্বালানি বাজারে এমন বড় বিঘ্ন আর কখনো ঘটেনি বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জে। জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়। এছাড়াও রংপুরে দুইজন, ময়মনসিংহে দুইজন, নেত্রকোণায় একজন ও হবিগঞ্জে একজন ও কিশোরগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

সুনামগঞ্জে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পৃথক হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কৃষকরা হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাত ঘটলে আবুল কালাম নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন নামে এক কৃষক নিহত হন। তিনি চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী।

ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ নামে দুই কৃষক নিহত হন। হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

এছাড়াও দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রংপুর

রংপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ওই এলাকার মৎসজীবী মিলন মিয়া (৩৫) ও কৃষক তালেব উদ্দিন (৪৫)।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, সকালে ওই এলাকায় বৃষ্টি হয়। এ সময় ওই এলাকার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরছিলেন মৎসজীবীরা। তা দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় শিশুসহ ১৫-২০ জন।  একজন আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন। এর মধ্যে বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হন। তাদেরকে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মৎসজীবী মিলন মিয়া ও কৃষক তালেব উদ্দিন। কৃষক তালেব ঘটনার সময় আরেকটি পুকুরে পানা তোলার কাজ করছিলেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালে যখন আনা হয় তখনই আমরা দুইজনকে মৃত অবস্থায় পাই।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের মৃত সেকান্দর আলী খানের ছেলে মমতাজ আলী খান (৫৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহমত আলী উজ্জল পেশায় একজন মুদি দোকানি ছিলেন। দুপুরে বজ্রপাতের সময় তিনি বোন জামাইয়ের ধানক্ষেত দেখতে পূর্ব কোনাপাড়া গ্রামে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।

গৌরীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

অন্যদিকে গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের বাসিন্দা মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গফরগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে মমতাজ আলী খানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

নেত্রকোণা

নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আলতু মিয়া হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে গ্রামের সামনের মেষি হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান আলু মিয়া। এর কিছুক্ষণ পর আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাত ও বৃষ্টি শেষ পর স্থানীয় বাসিন্দারা হাওরে গিয়ে আলতু মিয়ার নিহর দেহ পরে থাকতে দেখে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

আটপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুবায়দুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, মরদেহের সুরতাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়নের মমিনা হাওরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুনাম উদ্দিন একই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্গা নেওয়া বোরো জমিতে ছেলে নুরুজ্জামান মিয়াকে (২৫) নিয়ে ধান কাটছিলেন সুনাম উদ্দিন। কাটা ধান ছেলেকে দিয়ে বাড়ি পাঠাচ্ছিলেন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে আশপাশের শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে খবর দেন।

ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. জুয়েল মিয়া বলেন, সুনাম উদ্দিন চার ছেলেকে নিয়ে বর্গা জমিতে চাষ করতেন। সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলার সময় তার মৃত্যুতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে হলুদ মিয়া (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হলুদ মিয়া উপজেলার ৯ নম্বর জয়কা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কলাবাগ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নুরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বড় হাওরে ধান কাটার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন হলুদ মিয়া। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বলেন, বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে দুই বন্ধুর ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত দুজনের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর আজ শনিবার একাডেমিক কাউন্সিল জরুরি সভা করে আগামী সাত দিনের জন্য সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার পাশাপাশি আজ সকাল আটটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা হলেন মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর। তাঁরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ পক্ষের কর্মী এবং হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ পক্ষের কর্মী। তাঁদের মধ্যে হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং মুয়াজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, নগরের বাঘমারা এলাকায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস। গতকাল রাতে মুয়াজ তাঁর বন্ধু হামিদুরের কক্ষে গিয়ে মোটরসাইকেলে তেল ভরা নিয়ে প্রথমে কথা–কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় হামিদুর ও তাঁর সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হামিদুরের পক্ষের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে আশ্রয় নেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তাঁর পক্ষের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহত মুয়াজ ও হামিদুরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান  বলেন, মোটরসাইকেলে তেল ভরার মতো ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাত দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ছেড়ে গেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনজন অধ্যাপককে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটন যৌথভাবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এটি (ইউরেনিয়াম) সংগ্রহ করব। আমরা ইরানের সঙ্গে খুব ধীরেসুস্থে সেখানে যাব এবং বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খনন শুরু করব... এরপর সেগুলো আমরা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য এই চুক্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ। তেহরান এর আগে বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তারা কখনোই ত্যাগ করবে না।

এর আগে ট্রাম্প এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ‘পারমাণবিক ধূলা’ উল্লেখ করে দাবি করেন, ওয়াশিংটন ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাবে। 

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, ইরানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে।পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। 

সূত্র: আল–জাজিরা।

সুবাতাস বইছে দেশের প্রবাসী আয়ে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই বৈধপথে প্রায় ১৭৯ কোটি (১৭৮ কোটি ৮০ লাখ) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৯২ লাখ ডলার। 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রেমিট্যান্সের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরে এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। 

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স; বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ।

এর আগে, গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার; যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া, গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

 

ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল আসা শুরু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকেই পার্বতীপুর রেল হেড ডিপোতে এই ডিজেল আসা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো ম্যানেজার কাজী রবিউল আলম।

সবশেষ ১৪ এপ্রিল ভারতের নুমালীগড় থেকে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ৮ হাজার টন ডিজেল ঢুকেছে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে। এর আগে, মার্চ মাসে এসেছে ২২ হাজার টন ডিজেল। সব মিলিয়ে মার্চ থেকে এপ্রিলের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ভারতের নুমালীগড় থেকে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসেছে মোট ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল।

ডিপো কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসতে সময় লাগবে আনুমানিক ৫০ ঘণ্টা। এই তেল আসা শেষ হলে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে আবারও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে। পুরো এপ্রিলে মোট জ্বালানি তেল আসবে ২৫ হাজার টন।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে সরকার। এর আগে, ১১ মার্চ প্রথম দফায় বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ৫ হাজার টন ডিজেল তেল এসে পৌঁছায়। জ্বালানি তেল সরবরাহ ঠিক রাখার লক্ষ্যে শুক্রবার ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রাখে কর্তৃপক্ষ।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় ৫ হাজার করে ১০ হাজার টন ডিজেল ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে আসে। চলতি মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ৫ ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল তেল আনা হয়।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সাড়ে ৩ লাখ মানুষের জন্য থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর সংশোধনী বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা এ মন্তব্য করেন।

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সরাইল উপজেলা হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোর সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য একটি হাসপাতাল আছে। যেটি মাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। সেই হাসপাতালটি নিজেই একটা রোগীর মতো।’

রুমিন ফারহানা বলেন, হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, কর্মচারী, চাহিদামাফিক ওষুধ ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। সংসদকে তিনি জানান, ওই হাসপাতালে কনসালট্যান্টসহ চিকিৎসকের ৯টি, নার্সের ৬টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ২টি, ফিল্ড স্টাফের ১৫টি, স্বাস্থ্য সহকারীর ৮টিসহ মোট ৬৪টি পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগও আটকে আছে বলে জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে একটি ৬ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন। ফলে পুরোনো দোতলা ভবনেই চিকিৎসাসেবা চালাতে হচ্ছে।

রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের আনা সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের আলোচনায়। ওই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য নিজেদের এলাকার হাসপাতালের সংকট, শয্যা বাড়ানো এবং নতুন হাসপাতাল স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন।

পরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের কাছে ১০০ শয্যার ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং ৩০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে নতুন হাসপাতালের বিষয়ও বিবেচনা করা যেতে পারে।

এরপর মূল প্রস্তাবকারী আজহারুল ইসলাম মান্নান তাঁর সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহারের ইচ্ছার কথা জানান। স্পিকার কণ্ঠভোটে দিলে সংসদের অনুমতিতে সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়।

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১৮ এপ্রিল থেকে আগামী ২ মে পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল। ২৫ এপ্রিল ঢাকা বাদে অন্য বিভাগীয় শহরগুলোয় গণমিছিল। ২ মে জেলা শহরে গণমিছিল। এ ছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ, সেমিনার আয়োজন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এর আগে বেলা ১১টায় আল ফালাহ মিলনায়তনে ১১–দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত জানাতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার প্রমুখ।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই ধাপ শেষে নেওয়া হবে পরবর্তী ধাপের কর্মসূচি। সেই ধাপে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে ১১ দলের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ হবে। সমাবেশসহ কর্মসূচির দিনক্ষণ পরবর্তী সময়ে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে ঠিক হবে। এরপর ১১ দল রাজধানীতে বিশাল সমাবেশ করবে। সেই সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকার গণরায় মানছে না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নই ১১ দলের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। সে পর্যন্ত ১১ দল দফায় দফায় কর্মসূচি দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার প্রমুখ।