• ইরানে ভয়ংকর যুদ্ধের আশঙ্কা, মেট্রো স্টেশন ও মাটির নিচে লুকানোর ব্যবস্থা

    পারমাণবিক চুক্তি ইস্যুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় ভয়ংকর এক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইরানে। সম্ভাব্য এই যুদ্ধকে ঘিরে দেশটির রাজধানী তেহরানে এখন নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

    যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এসব স্থানে খাদ্য মজুতসহ অন্যান্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে এবং ২৫ লাখ মানুষের আশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের জল্পনা জোরালো হওয়ায় কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। শনিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি।

    তিনি বলেন, তেহরান সিটি করপোরেশনের প্যাসিভ ডিফেন্স কমিটি রাজধানীর বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর একটি বিস্তৃত জরিপ চালিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, তেহরানের বিভিন্ন স্কুলে থাকা প্রায় ৫১৮টি পুরোনো আশ্রয়কেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে। তবে, এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ বর্তমানে সংস্কার ও ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

    নাসিরি জানান, তেহরানের ৮২টি মেট্রো স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টেশনে টয়লেট, পানি ও খাদ্য মজুতসহ প্রয়োজনীয় বসবাসযোগ্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব মেট্রো স্টেশনে আশ্রয়কেন্দ্র নির্দেশক সাইনবোর্ড ও লেবেল বসানোর কাজও শিগগিরই শেষ হবে।

    এছাড়া মেট্রোর বাইরে শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা পার্কিং এলাকাসহ ৩০০টির বেশি ভূগর্ভস্থ স্থানকেও জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নাসিরি।

    উল্লেখ্য, তেহরানের জনসংখ্যা ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে। তবে, বৃহত্তর মহানগর এলাকা যুক্ত করলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি থেকে ১ কোটি ৬০ লাখে। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাতের সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে গিয়েছিলেন।

    প্রাণঘাতী সেই সংঘাতের পর থেকেই তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা ও অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নেয় ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

    মূলত, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।

    অন্যদিকে ইরান সরকারও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করেছে, তাদের ওপর কোনও ধরনের হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তভাবে।

  • ইরানের বিশ্বকাপ দলের ১৪ জনকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র, আইআরজিসিই কি কারণ

    যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক আচরণের’ অভিযোগ তুলেছে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই)। সংস্থাটির দাবি, বিশ্বকাপে ইরান দলের ‘প্রধান বেশ কয়েকজন ম্যানেজার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে’ ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ জানাবে দেশটি।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন করেও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি ইরান দলের ১৪ কর্মকর্তা ও স্টাফ। এর মধ্যে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মহাসচিব হেদায়েত মোম্বেইনি এবং সহসভাপতি মেহদি মোহাম্মদ নবী আছেন। তবে ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজের ভিসা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    তাজ ফুটবল ফেডারেশনে যোগ দেওয়ার আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

    এবারের বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে। দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে, একটি সিয়াটলে। ফিফা ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বেজক্যাম্প নির্ধারণ করলেও পরে দলটির অনুরোধে তা মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়া হয়। গত ১৮ মে তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্প করে ইরান, সেখানে থেকেই মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন করা হয়।

    ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি, তারা দলের সঙ্গে মেক্সিকোয় যাবেন। এর মধ্যে তাঁদের ভিসা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে। শনিবার মেক্সিকোর উদ্দেশে তুরস্ক ছেড়েছে ইরান দল।

    ইরান ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দলের কিছু সদস্যকে ভিসা না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ‘কার্যত ইরান জাতীয় দলকে একটি বৈষম্যহীন ও সমান সুযোগের প্রতিযোগিতা থেকে বঞ্চিত করেছে’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফেডারেশন এই বিষয়টি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে উত্থাপন করবে।

    এদিকে তুরস্কের আঙ্কারায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ইরান দলের ভিসা প্রসেস করার জন্য তাঁর দূতাবাসের কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।

    এর জবাবে আঙ্কারার ইরানি দূতাবাস পাল্টা পোস্টে লেখে, ‘নিজেদের প্রশংসা করে আপনারা এমন এক আচরণকে ধামাচাপা দিতে পারেন না, যা ফিফার নিয়ম লঙ্ঘন করে এবং আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতাকে ক্ষুণ্ন করে। এটি খেলাধুলার মধ্যে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হস্তক্ষেপের নিকৃষ্টতম উদাহরণ।’

    যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা শুক্রবার এবিসি নিউজকে জানান, ইরান দলের সব ফুটবলারের ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা এপিকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, ইরানের দলটির সঙ্গে যুক্ত কিছু আবেদনকারী ‘মিথ্যা অজুহাতে’ ভিসার আবেদন করায় তা বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলার অনুমতি না থাকায় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দিয়েছেন।

    এর আগে গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন সাবকমিটির শুনানিতে বলেছিলেন, ইরানের বিশ্বকাপ দলের মধ্যে আইআরজিসির সঙ্গে কারও কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা কড়া নজরে রাখা হবে, ‘ক্রীড়াজগতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং আইআরজিসির সঙ্গে যোগসূত্র আছে, এমন একদল মানুষকে বিশ্বকাপ দলের ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে চাইলে আমরা তা কিছুতেই হতে দেব না।’

    বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরান প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্য দুটি ম্যাচ ২১ জুন বেলজিয়াম আর ২৬ জুন মিসরের বিপক্ষে।

  • ইরানের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেবে।

    গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রশাসনের কঠোর দমন–পীড়নের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী একটি রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থান’চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘যক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’ তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান।

    খামেনি বলেন, তাঁরা (বিক্ষোভকারী) পুলিশ, সরকারি কেন্দ্র, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা করেছে। তারা পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে। এটি একটি অভ্যুত্থানের মতো, যা শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়েছে।

    খামেনির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি তো এমন কথা বলবেনই। দেখা যাক কী হয়। আশা করছি, আমাদের একটি চুক্তি হবে। আর যদি না হয়, তবে তিনি (খামেনি) ঠিক না ভুল, তা সময়ই বলে দেবে।’

    বিক্ষোভকে ইরান সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি হিসেবে দেখছে। সরকার স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ৮৪২–এর বেশি, যাঁদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।

    এত উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার ক্ষীণ আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যদি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিতে পারেন, তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি ‘সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ’ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, অঞ্চলের কিছু দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারি জানিও বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রচারণার আড়ালে আলোচনার পরিকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ট্রাম্পও আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

    এএফপি

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শেষ, ইতিবাচক বলছেন আরাগচি

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সপ্তাহজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পর আজ শুক্রবার ওমানে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আলোচনার জন্য ওমানের রাজধানী মাসকটে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এই ইতিবাচক পথে এগিয়ে যেতে পারলে আমি বলতে পারি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা সংক্রান্ত ইতিবাচক এক কাঠামোতে পৌঁছাতে পারব।’

    ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, মাসকটে পরোক্ষভাবে ‘একাধিক বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আরাগচি বলেন, আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে বিস্তারিত বিষয়গুলো দুই দেশের রাজধানীতে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হবে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগগুলো যেমন জানানো হয়েছে, তেমনি আমাদের স্বার্থ এবং ইরানের জনগণের অধিকারের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে। অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশে আলোচনা শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য পক্ষের মতামতও শোনা হয়েছে।’

    আল–জাজিরা

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা, বিশ্ববাজারে আরও দুর্বল হলো ডলার

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতায় পৌঁছেছে—এমন খবরে আজ শুক্রবার প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলার আরও দুর্বল হয়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়েই মার্কিন মুদ্রার মান নিম্নমুখী থাকবে, এমন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

    একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে চারটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। তবে এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

    এ খবরে তেলের দাম কমেছে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে ডলারের চাহিদাও কিছুটা কমেছে। তবে সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো স্থায়ী সমাধান কী হবে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে আছেন।

    আজ শুক্রবার এশিয়ার লেনদেনে ইউরোর দর হয়েছে ১ দশমিক ১৬৫৩ ডলার, অর্থাৎ সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে পাউন্ডের দর ১ দশমিক ৩৪৪৫ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত আছে।

    অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ছিল শূন্য দশমিক ৭১৬৪ ডলার। নিউজিল্যান্ড ডলার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৫৯৪৬ ডলারে ওঠে, অর্থাৎ দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

    বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান নিরূপণে ডলার ইনডেক্স প্রণয়ন করা হয়। আজ তার মান ৯৮ দশমিক ৯৯৭ পয়েন্ট, অর্থাৎ প্রায় অপরিবর্তিত। এর আগের দিন সূচকটি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। ফলে টানা দুই সপ্তাহের উত্থান থেমে চলতি সপ্তাহে এই সূচকের মান প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমতে যাচ্ছে।

    ইউবিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বৈশ্বিক বাজার কৌশল বিভাগের প্রধান মাসিমিলিয়ানো কাস্তেল্লি বলেন, ‘ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট পেছনে পড়ে গেলে আমরা ধারণা করছি, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।’

    কাস্তেল্লি আরও বলেন, নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদার কারণে সংঘাতের সময় ডলারের মান হারানোর প্রবণতা সাময়িকভাবে থমকে ছিল। অনেক বিনিয়োগকারী এখনো মার্কিন ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে সরে এসে বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ করতে আগ্রহী। এর অর্থ হলো, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে।

    এদিকে ডলারের দুর্বলতার কারণে জাপানি ইয়েন শক্তিশালী হয়েছে। ডলারের বিপরীতে এখন ১৫৯ দশমিক ২৭ ইয়েন পাওয়া যাচ্ছে। ইয়েনের মানের মনস্তাত্ত্বিক সীমা হচ্ছে ১৬০, অর্থাৎ বাজার সেই সীমা থেকে কিছুটা দূরে সরে এসেছে। অতীতে এই সীমা অতিক্রম করলে জাপানি কর্তৃপক্ষ বাজারে হস্তক্ষেপ করত।

    অন্যদিকে এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ছিল বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতিতে এই চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদ হার অপরিবর্তিত রাখবে, অর্থনীতিবিদবিদের এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

    রয়টার্স

  • ইসরায়েলকে শাস্তি দিল ফিফা

    ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএ) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সদস্যপদ স্থগিতের দাবিসহ কিছু অভিযোগ করেছিল ফিফার কাছে। বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা গতকাল জানিয়েছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো ব্যবস্থা নেবে না।

    তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি রায়ে বলেছে, একাধিক ‘গুরুতর ও পদ্ধতিগত’ বৈষম্যের অভিযোগে দোষী ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। যদিও ইসরায়েল ফুটবলের ওপর বড় ধরনের শাস্তি আরোপ থেকে শেষ পর্যন্ত বিরত থেকেছে সংস্থাটি।

    শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে ফিফা। এ বিষয়ে ইসরায়েলের বিপক্ষে অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ‘বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ’ এবং ‘আপত্তিকর আচরণ ও ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন’।

    ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, পশ্চিম তীরের বসতি থেকে দলগুলোকে জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দিয়ে ফিফার বিধি লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল। এ নিয়ে পিএফএর সুনির্দিষ্টি অভিযোগ ছিল ‘অন্য একটি অ্যাসোসিয়েশনের (ফিলিস্তিন) ভূখণ্ডে অবস্থিত ফুটবল দলগুলোকে নিজেদের জাতীয় লিগে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দিচ্ছে’ ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)।

    ইসরায়েল ফুটবলকে শুধু জরিমানাই করেছে ফিফা
    ইসরায়েল ফুটবলকে শুধু জরিমানাই করেছে ফিফা, রয়টার্স
     

    ফিফা এ নিয়ে বলেছে, ‘ফিফার বিধির প্রাসঙ্গিক ধারাগুলোর ব্যাখ্যার প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো অনির্ধারিত এবং আন্তর্জাতিক জন আইনের অধীনে অত্যন্ত জটিল বিষয়। তাই এ ক্ষেত্রে ফিফার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।’

    গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সমাধান করা ফিফার পক্ষে সম্ভব নয়।’ তিনি বলেছিলেন, ‘তবে চলমান যুদ্ধের কারণে যাঁরা কষ্ট পাচ্ছেন, তাঁদের কথা ভেবে ফুটবল ও ফিফা বিশ্বকাপের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেতুবন্ধ গড়ে তোলা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    ইসরায়েলি ফুটবল নিয়ে তদন্ত ১৮ মাস আগে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল। ফিফা জানিয়েছে, জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে’ ব্যয় করতে হবে ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের।

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোএএফপি

    ফিফার বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘এই পরিকল্পনা ফিফার অনুমোদিত হতে হবে এবং একটি পূর্ণ মৌসুমজুড়ে সংস্কার, তদারকি এবং স্টেডিয়াম ও সরকারি মাধ্যমে শিক্ষামূলক প্রচারণার ওপর জোর দিতে হবে।’

    বিচারকেরা আরও বলেন, ‘ফুটবল যে বৃহত্তর মানবিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়, তার প্রতি আমরা উদাসীন থাকতে পারি না। এই খেলাটি শান্তি, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকতে হবে।’

  • ইসলামী ব্যাংকে বন্ধ হিসাব চালু করলে মাশুল দিতে হবে না

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু আমানত হিসাব পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব হিসাব চালু করলে কোনো মাশুল দিতে হবে না। গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নগদ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদে বন্ধ হওয়া এসব হিসাব পুনরায় সচল করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

    আজ সোমবার জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতির কারণে অনেক গ্রাহক ব্যাংকের বিভিন্ন ডিপোজিট তথা আমানত স্কিমের হিসাব বন্ধ বা ‘পরিপক্ব হওয়ার’ পর নবায়ন করেননি। এসব গ্রাহককে পুনরায় ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে বন্ধ বা পরিপক্ব হওয়া হিসাবধারীরা আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন করলে তাঁদের হিসাব পুনরায় চালু করে সংশ্লিষ্ট সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

    এ জন্য ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া হিসাবগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে গ্রাহকদের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও ঠিকানার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে এবং গৃহীত পদক্ষেপের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • ইস্তাম্বুলে গিয়ে নিজের আবেদনময় সৌন্দর্যের জাদু ছড়ালেন মিথিলা

    তারকাদের ভ্যাকেশন লুক নিয়ে সবসময় আগ্রহ থাকে সবার। আর সেদিক থেকে বেশ এগিয়ে ফ্যাশনিস্তা তানজিয়া জামান মিথিলা। সম্প্রতি বিউটি প্যাজেন্ট আর মডেলের পরিচয় অতিক্রম করে সিনেমার পর্দায় নজর কেড়েছেন তিনি। রকস্টারের নতুন অভিনেত্রী মিথিলার জনপ্রিয়তা বেড়েছে আরও। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে বেড়াতে গিয়ে সেখানকার সাগরপাড়ের জলরাশির ব্যাকগ্রাউন্ডে মিথিলা নিজের আবেদনময় সৌন্দর্যের জাদু ছড়ালেন নজরকাড়া লুকে।

    ব্যাকলেস লুকে আকর্ষণ ছড়াচ্ছেন মিথিলা টিলরঙা ড্রেসে। ফ্লোর টাচ ফ্লেয়ারি ড্রেসের পুরোটাতেই ফেব্রিকে চাইনিজ ফ্যান প্যাটার্নে প্লিট করা।
     
    ব্যাকলেস লুকে আকর্ষণ ছড়াচ্ছেন মিথিলা টিলরঙা ড্রেসে। ফ্লোর টাচ ফ্লেয়ারি ড্রেসের পুরোটাতেই ফেব্রিকে চাইনিজ ফ্যান প্যাটার্নে প্লিট করা।
    সঙ্গে ব্রাউন ব্যাগ ও মানানসই মেটালিক হিলস আছে।
     
    সঙ্গে ব্রাউন ব্যাগ ও মানানসই মেটালিক হিলস আছে।
    গলায় চোকারের মতো স্ট্রুপের সঙ্গে স্প্লিট টপের অংশ
     
    গলায় চোকারের মতো স্ট্রুপের সঙ্গে স্প্লিট টপের অংশ
    পেছনে ব্যাকলেস অংশে হলটারনেকের সঙ্গে রিবন নেমে গিয়েছে একই ফেব্রিকের। ড্রেসের সিলোয়েটে ফ্লোয়ি অভিজাত আমেজ
     
    পেছনে ব্যাকলেস অংশে হলটারনেকের সঙ্গে রিবন নেমে গিয়েছে একই ফেব্রিকের। ড্রেসের সিলোয়েটে ফ্লোয়ি অভিজাত আমেজ
    ছোট স্টাড, হালকা একওভার আর অল্প একটু আটকে ছেড়ে দেওয়া চুলে সাজ সেরেচেহ্ন মিথিলা
     
    ছোট স্টাড, হালকা একওভার আর অল্প একটু আটকে ছেড়ে দেওয়া চুলে সাজ সেরেচেহ্ন মিথিলা
     

    ছবি: মিথিলার ইন্সটাগ্রাম

  • ইয়ামালদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে কেমন দল, চিনে নিন

    আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৫৭০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে আছে ১০টি আগ্নেয় দ্বীপ। এই দ্বীপগুলোর সমন্বয়ে গঠিত কেপ ভার্দে, যার সরকারি নাম রিপাবলিক অব কাবো ভার্দে। ১৯৭৫ সালে পাঁচ শতাব্দীর বেশি সময়ের পর্তুগিজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা পায় দেশটি। জনসংখ্যা ছয় লাখের কম।

    আজ সেই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রই বিশ্বকাপের মঞ্চে নামছে স্পেনের বিপক্ষে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা দলটিকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল আছে অনেকের। কেমন এই দল, কারা আছেন স্কোয়াডে, কী তাদের ফুটবল-ঐতিহ্য—চলুন জেনে নেওয়া যাক।

    যেভাবে বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে

    কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে। বাছাইপর্বের ‘ডি’ গ্রুপে ৮ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে তারা।

    তাদের চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ক্যামেরুন। জেনে রাখা ভালো, আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটবার বিশ্বকাপ খেলেছে ক্যামেরুনই। তাদের টপকে কেপ ভার্দে এখন বিশ্বকাপে।

    [caption id="attachment_276476" align="alignnone" width="700"] তাদের জাতীয় দল অনেকটাই প্রবাসী ফুটবলার–নির্ভরএক্স[/caption]

    দলটি আসলে কেমন

    কেপ ভার্দের জাতীয় দল অনেকটাই প্রবাসী ফুটবলার–নির্ভর। দেশটির বর্তমান জনসংখ্যার চেয়েও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কেপ ভার্দিয়ান বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা বেশি। সেই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায় ফুটবল দলেও।

    দেশের ঘরোয়া লিগে ১২টি ক্লাব থাকলেও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্থানীয় লিগের একজন খেলোয়াড়ও নেই। ২৬ সদস্যের দলে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলা ফুটবলার আছেন মাত্র একজন—ডিফেন্ডার লোগান কস্তা, যিনি স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালের হয়ে খেলেন।

    বাকি খেলোয়াড়েরা ছড়িয়ে আছেন ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের লিগে। স্কোয়াডের সর্বোচ্চ ৭ জন খেলেন পর্তুগিজ ক্লাবে।

    [caption id="attachment_276475" align="alignnone" width="705"] বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তাদের অভিষেক ২০০৩ সালেএক্স[/caption]

    দলের অধিনায়ক ও সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রায়ান মেন্দেস। ১৬ বছর আগে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া ৩৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখনো আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা। আর ৩৯ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া এখনো দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের একজন।

    কোচ পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো সাধারণত ৪-২-৩-১ কিংবা ৪-১-৪-১ ফরমেশনে দলকে খেলান। তাঁর কৌশলের মূল ভিত্তি হাই প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন এবং শারীরিক শক্তিনির্ভর ফুটবল।

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে পথচলা

    কেপ ভার্দে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৯৭৮ সালের ২৯ মে, গিনির বিপক্ষে। সেই ম্যাচে তারা ১–০ গোলে হেরে যায়। ১৯৮২ সালে গঠিত হয় কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন এবং ১৯৮৬ সালে দেশটি ফিফার সদস্যপদ পায়।

    ১৯৯২ সালে প্রথমবার আফ্রিকান নেশনস কাপের বাছাইপর্বে অংশ নেয় কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তাদের অভিষেক ২০০৩ সালে।

     

    তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় ২০১৩ সালে, যখন আফ্রিকান নেশনস কাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই পৌঁছে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ২০২৩ সালেও তারা একই কীর্তি গড়ে।

    বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে কেপ ভার্দের অবস্থান ৭০তম। তবে র‍্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে বড় পরিচয়, তারা এখন বিশ্বকাপের নবাগত দল—যারা নিজেদের প্রথম উপস্থিতিতেই সবাইকে চমকে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

  • ঈদ-গ্রীষ্মের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের টানা ছুটি শেষে আজ রোববার (৭ জুন) থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবার শুরু হয়েছে পাঠদান।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে গত ২৪ মে থেকে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হয়। এর আগে ২১ মে শ্রেণি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ২২ ও ২৩ মে ছিল সাপ্তাহিক ছুটি।

    নির্ধারিত ছুটি শেষ হয় গত ৪ জুন। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আজ থেকে পুনরায় খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

    এতে শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১৬ দিনের ছুটি উপভোগ করেছে। ছুটি শেষে আজ থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম শুরু। 

    অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে। আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের মাদ্রাসাগুলোতে ২৪ মে শুরু হওয়া ছুটি চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত।

    এরপর ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন থেকে মাদ্রাসাগুলোতে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা প্রায় ২৩ দিনের ছুটি পাচ্ছে।

     

  • ঈদের আগে বাড়ল আদার দাম, স্বস্তি পেঁয়াজ-রসুন ও মসলাতে

    আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই ঈদে মাংসের নানা পদের রান্নার কারণে প্রতি বছর ঈদের ঠিক আগে মসলার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। খুচরা বাজারে আদার দাম চড়া থাকলেও এলাচ, দারচিনি, জিরা বা রসুনের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় মসলা বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।

    শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর কয়েকটা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। 

    যদিও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ভেতরের দোকানগুলোতে কিছুটা ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু কিছু দোকানি মূল বাজারের তুলনায় ক্রেতাদের থেকে বাড়তি দাম আদায় করছেন।

    বিশেষ করে আবাসিক এলাকার ভেতরের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এমনটা। সেখানে বড় বাজারের চেয়ে প্রতি কেজি মসলায় ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা।

    বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আদা জাতভেদে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। আদার বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজ ও রসুন।

    প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মানভেদে আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বাজারে দেশি রসুনের দাম আরও কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

    চাহিদার শীর্ষে থাকা গরম মসলার বাজারও এবার বেশ স্থিতিশীল। খুচরা বাজারে প্রতি একশোগ্রাম জিরা ৬০-৭০ টাকা, এলাচ ৪৫০-৫০০ টাকা, কালো এলাচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, দারচিনি ৪৫-৫০ টাকা, লবঙ্গ ১৩০-১৫০ টাকা, গোল মরিচ ১৪০-১৫০ টাকা ও তেজপাতা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    রামপুরার মসলা ব্যবসায়ী আবু হোসেন বলেন, মসলার দাম যা বাড়ার সেটা ডলার সংকটের সময় গত দুই বছর আগে বেড়েছিল। এবার ঈদের নতুন করে গরম মসলার দাম বাড়েনি।

    এদিকে গত সপ্তাহে সব সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে থাকলেও সেই তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ৮০ টাকায় নেমেছে। শুধু গোল বেগুন প্রতিকেজি ১০০ টাকা থাকলেও বাকি সবজিগুলো ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এছাড়া প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৬০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

    সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী শিহাবুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের তো সব সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার উপরে ছিল, সেই তুলনায় আজকের বাজার কিছুটা কম। কম বললেও ভুল হবে সব সবজি তাই ৮০ টাকা কেজি। 

    ‘দোকানদাররা যে যার মত করে সবজির দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করছে, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ দেখি না। সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করা গেলে সবজির দাম হয়তো বা আরো কম থাকতো।’

    রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমে এসেছে। সামনে ঈদে পরিবহন সমস্যা, যানজট হওয়ার কারণে সবজি সরবরাহ কিছুটা কমে ঈদের সময় দাম বাড়তে পারে। মূলত নতুন সবজি উৎপাদন হয়ে বাজারে সরবরাহ শুরু হলে বাজারে সবজির দাম কমে আসবে।

    এদিকে তবে বেড়ে যাওয়া ডিমের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অবশ্য শুধু ডিম বিক্রি করে এমন কিছু দোকানে ১৪৫ টাকায়ও কেনা যাচ্ছে ডিম। আবার পাড়া মহল্লার কোনো কোনো দোকানিকে ১৫৫ টাকাও দাম চাইতে দেখা গেছে।

    তবে ব্রয়লার মুরগির দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকার মধ্যে। 

     

  • ঈদের কেনাকাটায় ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ১০ স্মার্টফোন

    ঈদের বাকি মাত্র কয়েক দিন। ঈদের কেনাকাটায় পছন্দের পোশাকের পাশাপাশি অনেকের তালিকায় থাকে স্মার্টফোন। ব্যবহার ও প্রয়োজন ভেদে এসব স্মার্টফোনের চাহিদাও হয় ভিন্ন রকমের। ঈদে স্মার্টফোনের বাজারে ৩০ হাজারের মধ্যে ভালো মানের কয়েকটি ফোনের খোঁজ নেওয়া যাক।

    ওয়ালটন জেনন এক্স ২০

    এই ফোনের দাম ২০ হাজার ৪৯৯ টাকা। ১২৮ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৬.৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির সামনে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকায় সহজেই ভালো মানের সেলফি তোলা যায়। ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা রয়েছে।

    রিয়েলমি সি৬৫

    ৬.৬৭ ইঞ্চি পর্দার এই ফোনের দাম ২০ হাজার ৫৭৯ টাকা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।  

    স্যামসাং গ্যালাক্সি এম৩৫

    এই ফোনের দাম ২১ হাজার ৮০০ টাকা। ১২৮ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৬ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। পেছনে ৫০, ৮ ও ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাযুক্ত ফোনটির সামনে ১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকায় সহজেই ভালো মানের সেলফি তোলা যায়। ৬.৬ ইঞ্চি পর্দার ফোনটিতে ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিও রয়েছে।

    ভিভো ওয়াই ২৯

    ১২৮ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৬.৬৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের দাম ২১ হাজার ৯৯৯ টাকা।

    টেকনো ক্যামন ৩০

    এই ফোনের দাম ২২ হাজার ৯৯৯ টাকা। ৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির ধারণক্ষমতা ২৫৬ গিগাবাইট। ৮ গিগাবাইট র‍্যামযুক্ত ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি রয়েছে ফোনটিতে।

    রিয়েলমি সি৭৫

    ৬.৭২ ইঞ্চি পর্দার এই ফোনের দাম ২২ হাজার ৯৯৯ টাকা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।  

    অনার এক্স৭সি

    এই ফোনের দাম ২২ হাজার ৯৯৯ টাকা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। পেছনে ১০৮ ও ২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাযুক্ত ফোনটির সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকায় সহজেই ভালো মানের সেলফি তোলা যায়। ৬.৭৭ ইঞ্চি পর্দার ফোনটিতে ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিও রয়েছে।

    অপ্পো এ৫ প্রো

    এই ফোনের দাম ২৩ হাজার ৯৯০ টাকা। ৬.৬৭ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির ধারণক্ষমতা ১২৮ গিগাবাইট। ৮ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৫ হাজার ৮০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

    ওয়ানপ্লাস নর্ড সিই৪ লাইট

    ৬.৬৭ ইঞ্চি এফএইচডিপ্লাস পর্দার এই ফোনের দাম ২৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। ৫ হাজার ১১০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে।

    শাওমি রেডমি নোট ১৪ প্রো

    ৫ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ২০০, ৮ ও ২ মেগাপিক্সেলের তিনটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এর ফলে সহজেই ভালো মানের ছবি তোলা যায়। ৬.৬৭ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির দাম ২৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।

    জাহিদ হোসাইন খান

  • ঈদের ছুটিতে ব্যবসা বেড়েছে হোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্রের

    চলতি বছর ঈদুল আজহার সময় সাত দিনের সরকারি ছুটি ছিল। আর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি থাকবে চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত। দীর্ঘ এই ছুটিকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। ভালো পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা করলেও কেউ কেউ বলেছে প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা হয়নি তাদের।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের ছুটিকে ঘিরে এবার দেশের বড় বড় পর্যটন শহরগুলোর বেশির ভাগ হোটেল-রিসোর্টেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আগাম বুকিং ছিল। আবার ঈদের এক-দুই দিন পরও অনেকে নতুন করে বুকিং পেয়েছেন। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত হোটেল-রিসোর্টগুলোতে ঈদ ব্যস্ততা থাকছে।

    পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের অর্থনৈতিক খারাপ অবস্থার কারণে গত কয়েক বছর ভ্রমণ-পর্যটন খাতেও মন্দা অবস্থা গেছে। তবে গত বছর থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সর্বশেষ রোজার ঈদে গ্রাহকদের ভালো সাড়া পাওয়া গিয়েছিল। এবার কোরবানির ঈদেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

    ঈদের ঘোরাঘুরিতে গিয়ে জলে গা ভেজান অনেকে
    ঈদের ঘোরাঘুরিতে গিয়ে জলে গা ভেজান অনেকে
     

    ফ্যান্টাসিতে দর্শনার্থী বেড়েছে, কম নন্দনে

    ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার জনপ্রিয় থিম পার্ক ‘ফ্যান্টাসি কিংডমে’ দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। বরাবরের মতো এবারও দর্শনার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের বিভিন্ন প্যাকেজ রেখেছে তারা। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত একক টিকিট এবং বিভিন্ন ধরনের কম্বো প্যাকেজ ছিল তাদের।

    ফ্যান্টাসি কিংডম রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করে কনকর্ড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত বছরের কোরবানির ঈদের তুলনায় এবার ঈদে পার্কটিতে দর্শনার্থী আগমনের হার প্রায় ১০ শতাংশ বেশি ছিল। ফ্যান্টাসি কিংডমে দৈনিক দর্শনার্থী ধারণক্ষমতা প্রায় সাত হাজার। এবার ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার দর্শনার্থী ভিড় করেন। একই সঙ্গে কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্টের অধীন পরিচালিত চট্টগ্রামের ফয়’স লেকেও দৈনিক সাত-আট হাজার দর্শনার্থী ভ্রমণ করেন।

    কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা অনুপ কুমার সরকার বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আমাদের বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ ছিল। তা সত্ত্বেও আমরা সেবার মান অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করেছি।’

    রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় অবস্থিত আরেক জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র নন্দন পার্ক অবশ্য ভিন্ন কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান, এবারের ঈদে তাঁদের ভালো প্রস্তুতি ছিল; কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী পার্কটিতে দর্শনার্থী আসেননি। নন্দন পার্কের দৈনিক ধারণক্ষমতা ১০ হাজার মানুষের বেশি। কিন্তু ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থী উপস্থিতি দুই হাজারের আশপাশে ছিল।

    জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের ভিড়
    জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের ভিড়
     

    চিড়িয়াখানায় দৈনিক লাখো দর্শক

    এবারের ঈদের ছুটিতে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানা নানা বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। এবার ঈদে দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহে ছিল বহুল আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে পরিচিতি পাওয়া আলবিনো জাতের মহিষটি।

    জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ঈদের বন্ধে গতকাল পর্যন্ত প্রতিদিনই লাখের বেশি দর্শনার্থী ভিড় করেছেন। চিড়িয়াখানায় প্রবেশে জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা। সে হিসাবে প্রতিদিন ৫০ লাখ টাকার বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে।

    ঈদের ছুটিতে সারা দিন উপচে পড়া ভিড় ছিল সাদাপাথরে
    ঈদের ছুটিতে সারা দিন উপচে পড়া ভিড় ছিল সাদাপাথরে
     

    হোটেল–রিসোর্টের ব্যবসা ভালো

    ঈদের ছুটিতে অনেকেই কক্সবাজার, গাজাীপুর ও সিলেট অঞ্চলের বিলাসবহুল হোটেল-রিসোর্টে ঘুরতে গেছেন।

    গাজীপুরের সোহাগ পল্লী ও রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের পরদিন থেকে এখন পর্যন্ত তাঁদের রিসোর্ট সম্পূর্ণ বুকিং রয়েছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত একই অবস্থা থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেটে বেশ কিছু ব্যয়বহুল রিসোর্ট রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল রোডের নাইটেশ্বরে অবস্থিত দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুসাই রিসোর্টে শনিবার পর্যন্ত ৮০ শতাংশের বেশি বুকিং রয়েছে।

    হবিগঞ্জের বাহুবলে অবস্থিত দ্য প্যালেস আরেকটি বিলাসবহুল রিসোর্ট। এই রিসোর্টে ২৪ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। দ্য প্যালেসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের কোরবানির ঈদে তাঁদের ভালো ব্যবসা হয়েছিল। এবারও ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছেন।

    এর বাইরে কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য পর্যটন এলাকাগুলোতেও ভ্রমণকারীদের ভালো আনাগোনা ছিল বলে জানা গেছে।

  • ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ ছুটি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) শেষ ক্লাসের পর থেকেই এই ছুটি কার্যকর হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২৪ মে থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় বৃহস্পতিবারই শেষ ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    এরপর ২২ ও ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটির পর ২৪ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি শুরু হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ছুটি চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৭ জুন থেকে আবার ক্লাস শুরু হবে।

    এতে শিক্ষার্থীরা টানা প্রায় ১৬ দিনের ছুটি পাচ্ছে।

    অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটি আরও দীর্ঘ হবে। ২২ মে শুরু হয়ে ১১ জুন পর্যন্ত মাদরাসাগুলো বন্ধ থাকবে। এরপর সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন থেকে ক্লাস শুরু হবে। ফলে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মোট ২৩ দিনের ছুটি উপভোগ করবে।

     

  • ঈদের পর কমল সোনার দাম, আজ ভরিতে কমেছে ৫৪৮২ টাকা

    ঈদের পর আজ বুধবার দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। তাতে আজ ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এর আগে ১৯ মার্চ এক দিনে দুবার সোনার দাম কমানো হয়েছিল।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার কমে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।

    এর আগে ১৯ মার্চ দুপুরের ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।

    জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, দেশের বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও দাম কমার মূল কারণ হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দামের অব্যাহত পতন। অলংকার কেনার সময় সোনার দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত হবে।

    আজ সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে।

    ১৯ মার্চ দুই দফায় সোনার দাম কমানোর ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম কমে ১১ হাজার ৬৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১২ হাজার ৫৯৮ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে ভরি প্রতি ১০ হাজার ২৬৪ টাকা।

    আজ বিশ্ববাজারে বেড়েছে

    গতকাল পর্যন্ত টানা ১০ দিন বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে। তবে আজ সোনার দাম বাড়তে শুরু করেছে। আজ এখন পর্যন্ত নিউইয়র্কের স্পট মার্কেটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১৭১ ডলার ৫৩ সেন্ট বেড়েছে। ফলে এখন সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৫৭২ ডলার।

    আজ দাম বাড়লেও গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭৫৭ ডলার ৪৩ সেন্ট কমেছে। মূলত তার জেরেই দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে।

    গত বছর বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাধারণত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় সোনার দাম বাড়ে। যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময় সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেটা হলো, সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে আছে। এখন দাম কমতে শুরু করেছে।

  • উজবেকিস্তানকে ৩–১ গোলে হারাল কলম্বিয়া

    কলম্বিয়া ৩:১ উজবেকিস্তান (ফুল টাইম)

    ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সর্বশেষ ‘প্রথম ম্যাচ’টিতে জিতেছে কলম্বিয়া। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা উজবেকিস্তানকে ৩–১ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

    ম্যাচের প্রথম চল্লিশ মিনিটে কোনো গোলই পায়নি কলম্বিয়া। বিরতির আগে দানিয়েল মুনিওজের গোলে এগিয়ে যায় দলটি। তবে বিরতির পর ৬০তম মিনিটে উজবেকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান আব্বোসবেগ ফাইজুল্লায়েভ। ১–১ সমতা অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি। পাঁচ মিনিট পরই কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন লুইস দিয়াজ। আর শেষ দিকে যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন হামিন্তন কাম্পাজ।

    ৩–১ গোলের জয়ে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে কলম্বিয়া। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে পর্তুগাল–ডিআর কঙ্গো ১–১ ড্র করেছে।

    কলম্বিয়ার শেষ গোলটি করেছেন মিডফিল্ডার হামিন্তন কাম্পাজ (২১ নম্বর জার্সি)
    কলম্বিয়ার শেষ গোলটি করেছেন মিডফিল্ডার হামিন্তন কাম্পাজ (২১ নম্বর জার্সি)এএফপি
    ০৯: ৩০
     

     

  • উরুগুয়েকে ভয় ধরিয়ে দিয়ে পয়েন্ট কাড়ল সৌদি আরব

    উরুগুয়ে ১–১ সৌদি আরব

    উরুগুয়ে নদীর জল বোধ হয় বেশ বাড়বে! ভিজবে সৌদি আরবের উষর মরুভূমিও। মানুষের চোখের জলে পৃথিবীর দুটি আলাদা মহাদেশের ভূখণ্ডে এমন অল্পস্বল্প পরিবর্তনের জন্য ‘দায়ী’ আসলে বিশ্বকাপ!

    মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম থেকে সেই ভেজা চোখের শুরু। তার আবার দুই রকম ভাষা। উরুগুয়ে জিততে না পারায় দক্ষিণ আমেরিকার সেই নদীতে জমেছে কষ্টের ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু। সৌদির তপ্ত বালু ভিজেছে আক্ষেপমেশানো আনন্দাশ্রুতে। উরুগুয়ের বিপক্ষে জিততে জিততেও যে সৌদি আরবের জেতা হলো না!

    সেই না হওয়াতে উরুগুয়ে নদীর পানি যতটুকু বাড়ার শঙ্কা ছিল, ততটুকু না বাড়লেও কয়েক ফোঁটা অশ্রু তো পড়েছেই। উরুগুয়ে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ফিফা আয়োজিত অলিম্পিকে দুটি ফুটবল ইভেন্ট জেতায় জার্সিতে অবশ্য চার তারকা। সেই উরুগুয়ে কিনা ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৪৮ ধাপ পিছিয়ে থাকা সৌদির বিপক্ষে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্তও পিছিয়ে ছিল ১–০ গোলে!

    মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো ৮০ মিনিটে গোল করেছিলেন বলে রক্ষা। নইলে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের সীমানাচিহ্ন এঁকে দেওয়া উরুগুয়ে নদীতে অশ্রুর বানও নামতে পারত! ওপার থেকে সহমর্মিতা জানাতেন আর্জেন্টাইনরা। তাদের কষ্ট তো আরও বেশি। কাতারে চার বছর আগের বিশ্বকাপে এই সৌদি আরবের বিপক্ষেই প্রথম ম্যাচে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ের কষ্ট সে তুলনায় একটু কম। অন্তত ১–১ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপটা শুরু করতে পারল।

    আরাউহোর গোলের পর উরুগুয়ের উদ্‌যাপন
    আরাউহোর গোলের পর উরুগুয়ের উদ্‌যাপন, এএফপি
     

    বিশ্বকাপে এই রাতটাই ছিল কেমন ভয় ধরানো। প্রথমে তুমুল ফেবারিট স্পেনকে গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দিল নবাগত কেপ ভার্দে। তারপর ইউরোপে আরেক বড় দল বেলজিয়ামের বিপক্ষে জিততে জিততে শেষ পর্যন্ত ড্র করতে বাধ্য হয়েছে মিসর। সেই ম্যাচের পর মায়ামিতে রীতিমতো ভূমিকম্প হওয়ার দশা।

    শেষ পর্যন্ত সেই কম্পনে উরুগুয়ের খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ‘ওয়ার্নিং বেল’ পেয়ে গেলেন বিয়েলসা। আদাজল খেয়ে সৌদি বক্সের ভেতরে পড়ে থেকে মুহুর্মুহু আক্রমণে ফেদে ভালভের্দেদের অর্জন মাত্র ১টি গোল।

    বিয়েলসার আক্রমণভাগকে খুব বেশি দোষারোপের সুযোগও নেই অবশ্য। সৌদির গোলকিপার মোহাম্মদ আল–ওয়াইস ৯টি সেভ করেন। মরিয়া উরুগুয়েকে ঠেকাতে আল–ওয়াইসকে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সেভ করতে হয়েছে। কিন্তু পারেননি শুধু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে। উড়ে আসা ক্রসে উরুগুয়ে ফরোয়ার্ড ফেদেরিকো ভিনাসের হেড ঠেকান সৌদি গোলকিপার। ফিরতি বলে আরাউহোর বাঁ পায়ের শট ঠেকানো তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।

    গোলের পর সৌদি আরবের উদ্‌যাপন
    গোলের পর সৌদি আরবের উদ্‌যাপন, এএফপি
     

    মাঠের অন্য প্রান্তে উরুগুয়ের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ফার্নান্দো মুসলেরাকে অত পরীক্ষা দিতে হয়নি। তবে একদম চুপচাপ দাঁড়িয়েও থাকেননি। দুটি দারুণ সেভ করতে হয় মুসলেরাকে। কিন্তু ৪১ মিনিটে সৌদি ডিফেন্ডার আবদুলেলাহ আল–আমরির শটের জবাব ছিল না তাঁর কাছে। কর্নার থেকে হাসান আল–তাম্বাকতির হেড ঠেকান মুসলেরা। ফিরতি বলে আল–আমরির শট পৌঁঁছেছে জালে। ২টি গোলই হয়েছে গোলকিপার ঠেকানোর পর ফিরতি বলে।

    সৌদি আরব কতটা মরিয়া হয়ে খেলেছে, সেটার একটি প্রমাণ দেবে পরিসংখ্যান। উরুগুয়ের বিপক্ষে ২১ বার বাতাসে ভাসা বল (এরিয়াল ডুয়েল) দখল করেছে তারা। উরুগুয়ে সেখানে পিছিয়ে (২০)। দক্ষিণ আমেরিকান দেশটির অবস্থা হয়েছিল স্পেনের মতো। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল পেতে ২৭টি শট নিয়েও পারেনি স্পেন। ফেদে ভালভের্দেরাও সমান ২৭টি শটের পরিশ্রমে একটি গোল তুলে নিয়ে উরুগুয়ে নদীর জল আর বাড়তে দেননি। একটি শট পোস্টে লাগায় তারা দুষতে পারেন দুর্ভাগ্যকেও।

    তাতে অবশ্য সৌদি আরবের লড়াইয়ের মানহানি ঘটে না এতটুকুও; বরং আবারও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অঘটন ঘটানোর খুব কাছে গিয়েও ড্রয়ের আক্ষেপে তপ্ত বালুতে দু–এক ফোঁটা অশ্রু বিসর্জন দিতে পারেন দেশটির কেউ কেউ।

    ‘এইচ’ গ্রুপ এখন পুরো উন্মুক্ত। চারটি দলের সবারই সংগ্রহ ১ পয়েন্ট। জায়গাটা যুক্তরাষ্ট্র বলেই সম্ভবত এবার গ্রুপ পর্ব পাড়ি দেওয়ার স্বপ্নটা আরও বেশি করে দেখছে সৌদি আরব। বিশ্বকাপে এর আগে ছয়বার খেলে তারা একবারই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পেরেছে—১৯৯৪ বিশ্বকাপ এবং সেবারও আয়োজক ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

    তবে এশিয়া মহাদেশের মান রাখায় আরও এক সাফল্যের পালক যোগ করতে পেরেছে সৌদি আরব। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) অধিভুক্ত দেশগুলো চলতি বিশ্বকাপে এখনো হারেনি। দুই জয় ও তিন ড্র। ওদিকে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনের (কনমেবল) অধিভুক্ত দেশগুলোর কেউ এখনো জয়ের দেখা পায়নি।

    ফুটবল ইতিহাসে ধারে–ভারে এ দুই ভুখণ্ডের মধ্যে কোন মহাদেশ যেন এগিয়ে?

    যাকগে সে কথা। বরং নদীর গল্প হোক। সৌদি আরবে কোনো প্রাকৃতিক নদী নেই। স্থায়ী কিংবা প্রাকৃতিক নদীহীন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ সৌদি আরব। ওদিকে উরুগুয়ের নামকরণ উরুগুয়ে নদীর নামে। যে নদীর নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে সেই মহাদেশের আদিবাসী গুয়ারানিদের দেওয়া ‘উরু’ নামের এক কোয়েল পাখি। সেই নদীর জল বাড়ুক আর না বাড়ুক, জয় না পাওয়ায় সৌদির তপ্ত বালুতে যে একটু আক্ষেপ মিশে রইবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

    যেমন সন্দেহ নেই, সৌদির ভীষণ শুষ্ক মাটিতে আজ আরেকটু হলেই আছাড় খেয়ে সেই ‘কোয়েল’ পাখির ‘প্রাণনাশ’ ঘটত!

  • এআই দিয়ে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চলচ্চিত্র নির্মাণে সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে ‘বানাই: এআই ফিল্মমেকিং কমপিটিশন’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) পরিচালিত গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের গবেষণা শাখা ব্রেনল্যাব।

    ‘লোকালাইজিং ভিজ্যুয়াল মডেলস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে এআই দিয়ে তৈরি দুই থেকে পাঁচ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জমা দিতে হবে। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিসিসির গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা, প্রকৃতি ও সমসাময়িক বাস্তবতাকে আরও প্রাসঙ্গিক ও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান বিজয়ীদের যথাক্রমে ৫০ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকা, ১৫ হাজার টাকা ও ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শুধু তা–ই নয়, সেরা চলচ্চিত্রগুলোর প্রিমিয়ার প্রদর্শনী ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শন করা হবে।

    ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ৩১ মে পর্যন্ত চলবে। আগ্রহীদের অবশ্যই নিজেদের তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে গল্প, ভিজ্যুয়াল, শব্দ বা সম্পাদনার মতো সৃজনশীল কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের তথ্য সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করতে হবে। এই ঠিকানায় প্রবেশ করে প্রতিযোগিতার জন্য নিবন্ধন করা যাবে।

    এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল শিল্পচর্চার প্রসার ঘটবে এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশকেন্দ্রিক গল্প বলার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে প্রতিযোগিতার আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

  • এআই বিতর্ক: শ্যালামের মন্তব্যে থেরনের আপত্তি

    হলিউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। এই বিতর্কে সম্প্রতি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন শার্লিজ থেরন। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আগামী ১০ বছরে এআই হয়তো অনেক অভিনেতার কাজই করতে পারবে, এমনকি টিমোথি শ্যালামের মতো তারকার কাজও এআই করবে। কিন্তু মঞ্চে সরাসরি পরিবেশনার বিকল্প কখনোই হতে পারবে না।

    এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে টিমোথি শ্যালামের একটি মন্তব্য। সম্প্রতি এক আলোচনায় এই হলিউড অভিনেতা বলেছিলেন, অপেরা বা ব্যালেকে টিকিয়ে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন ওই মাধ্যমের শিল্পীরা, তিনি চান না সিনেমার অবস্থাও অপেরা বা ব্যালের মতো হোক। শ্যালামে বলেন, সার্বিকভাবে সিনেমা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। তাঁর ভাষায়, মানুষ যদি দেখতে চায়, তারা নিজেরাই আসবে।

    টিমোথি শ্যালামে। রয়টার্স
    টিমোথি শ্যালামে। রয়টার্স

    এই বক্তব্যেই আপত্তি জানান শার্লিজ থেরন। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি আলটপকা মন্তব্যই নয়, বরং দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যম অপেরা ও ব্যালে সম্পর্কে একধরনের অবমূল্যায়ন। তিনি বলেন, এ ধরনের শিল্পকে বরং আরও বেশি করে তুলে ধরা দরকার, কারণ এগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে।

    বিশেষভাবে নাচের প্রসঙ্গ টেনে আনেন শার্লিজ। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, নাচ তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অনুশীলনগুলোর একটি ছিল। তাঁর মতে, নৃত্যশিল্পীরা সত্যিকারের ‘সুপারহিরো’, যাঁরা নিঃশব্দে তাঁদের শরীরকে এমন এক সীমায় নিয়ে যান, যা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।

    শার্লিজ থেরন। রয়টার্স
    শার্লিজ থেরন। রয়টার্স

    কঠোর প্রশিক্ষণের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি—রক্তাক্ত পা, না শুকানো ক্ষত এবং প্রতিদিন একই রকম কঠিন অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া। তাঁর কথায়, আপনি ছুটি পান না। জুতার ভেতর রক্ত ঝরছে, তবু থামা যাবে না। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে শিখিয়েছে শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা এবং কঠোর পরিশ্রমের মূল্য।

    এই প্রেক্ষাপটেই আসে এআই প্রসঙ্গ। অভিনেত্রী মনে করেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানবদেহের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া লাইভ পারফরম্যান্স—বিশেষ করে ব্যালে, তার স্বকীয়তা হারাবে না। কারণ, সেখানে শুধু দক্ষতা নয়, থাকে আবেগ, উপস্থিতি এবং মুহূর্তের সত্যতা—যন্ত্র দিয়ে যা পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করা কঠিন।

    তাঁর বক্তব্যে একধরনের সতর্কবার্তাও রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, চলচ্চিত্রশিল্পে এআইয়ের প্রভাব ক্রমেই বাড়বে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এটি অভিনেতাদের কাজকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, সব শিল্পমাধ্যমকে একই মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক নয়।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোল চেকের

    ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল চেক প্রজাতন্ত্র!

    এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোলটি দেখে ফেললাম আমরা। ম্যাচের প্রথম ৫ মিনিটের পারফরম্যান্স বিবেচনায় গোলটি তাদের প্রাপ্যই ছিল।

    ডান প্রান্ত ধরে বাড়ানো একটি লম্বা থ্রো তাড়া করে বল নিয়ন্ত্রণে নেন হ্লোজেক, এরপর ডি-বক্সে বল বাড়িয়ে দেন। সেখানে সোইকার সঙ্গে দারুণ এক ওয়ান-টু পাসে বল দেয়া-নেয়া করে নিচু শটে গোল করেন চেক প্রজাতন্ত্রের সাদিলেক।

    চেক দলে অনেক পরিবর্তন

    ছয় দিন আগের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলের হতাশাজনক হারের পর, আজ নিজেদের একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছে চেক প্রজাতন্ত্র। দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন ওয়েস্ট হ্যামের মিডফিল্ডার সুচেক। তাঁর সঙ্গে আজ মূল একাদশে জায়গা হারিয়েছেন খালোপেক, জেলেনি, প্রোভোদ ও শুলৎস। তাঁদের পরিবর্তে আজ দলে সুযোগ পেয়েছেন হোলেশ, সাদিলেক, দারিদা, চের্ভ এবং হ্লোজেক। আক্রমণেরভাগে শিকের সঙ্গী হচ্ছেন হ্লোজেক।

    অন্যদিকে, মেক্সিকোর কাছে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন কোচ হুগো ব্রুস। গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় স্ফেফেলো সিথোলে আজকের ম্যাচে নিষিদ্ধ, বাদ পড়েছেন থেম্বা জেওয়ানে। এ ছাড়া ফস্টার ও সিবিসিকে আজ রাখা হয়েছে বদলি খেলোয়াড়ের তালিকায় (বেনঞ্চে)। তাঁদের জায়গায় আজ দলে সুযোগ পেয়েছেন এমবাথা, মাসেকো ও অ্যাপোলিস।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব