• নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়াকে খাদের কিনারায় ঠেলে সুপার এইটে শ্রীলঙ্কা

    সেঞ্চুরিটা করে উদ্‌যাপনের আগে কিছুটা সময় নিলেন পাতুম নিশাঙ্কা। ততক্ষণে সতীর্থ আর দর্শকদের করতালি ভেসে এসেছে কানে। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে হেলমেটটা খুলে নিশাঙ্কা দু হাত প্রসারিত করে সারলেন উদ্‌যাপন। দলের জয়ের জন্য পরে লাগল আর একটি বল।

    ১২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এই জয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের সুপার ফোর। আরেকদিকে অস্ট্রেলিয়া দাঁড়িয়ে আছে প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে— ২০০৯ সালের পর বিশ্বকাপে এমন অভিজ্ঞতা হয়নি তাদের।

    গ্রুপ পর্বে নিজেদের পরের দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার যেকোনো একটি দলকে হারাতে পারলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়। জিম্বাবুয়ে দুই ম্যাচে হারলেও ওমানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৮১ (মার্শ ৫৪, হেড ৫৬, ইংলিশ ২৭; হেমন্ত ৩/৩৭, চামিরা ২/৩৬)। শ্রীলঙ্কা: ১৮ ওভারে ১৮৪/২ (নিশাঙ্কা ১০০,মেন্ডিস ৫১, রত্নায়েকে ২৮;স্টয়নিস ২/৪৬)। ফল: শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: পাতুম নিশাঙ্কা।
  • নেটফ্লিক্সের তালিকার শীর্ষে, কী আছে এ সিনেমায়

    ঢাকা

  • নেদারল্যান্ডসের বৃত্তি, স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নের সুযোগ

    ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে নেদারল্যান্ডসেও বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ আছে। দেশটির ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সে সুযোগ দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কলারশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ তারিখ ১ মে ২০২৬।

    ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি ১৯৬১ সালে Technische Hogeschool Twente (THT) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে ডাচ্‌ একাডেমিক শিক্ষা আইনের পরিবর্তনের ফলে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি (টুয়েন্টি বিশ্ববিদ্যালয়) রাখা হয়।

    সুযোগ-সুবিধা

    স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা এক বছরের জন্য সর্বনিম্ন ৩,০০০ ইউরো থেকে সর্বোচ্চ ২২,০০০ ইউরো পাবেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

    আবেদনের যোগ্যতা

    আবেদনকারীকে ২০২৬–২৭ (সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টির স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামগুলোর একটিতে ভর্তি হতে হবে।

    —স্টুডেন্ট আইডি নম্বর থাকতে হবে।

    —ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। আইইএলটিএস ৬ দশমিক ৫ বা টোয়েফলে ৯০ থাকতে হবে।

    আবেদনের প্রক্রিয়িা

    আবেদনকারীকে প্রথমে ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টিতে একটি স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে হবে। পরবর্তী সময় (শর্তসাপেক্ষ) ভর্তির অফার লেটার পেয়ে গেলে, আবেদনকারী তাঁর স্টুডেন্ট আইডি নম্বরসহ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন করতে এবং আবেদনপদ্ধতিসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

  • নোবেলজয়ী লেখকের দীর্ঘ লড়াই, অবশেষে মুক্তি পেল সেই সিরিজ

    ছয় বছর আগে নিজের বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর চলচ্চিত্র ‘রূপান্তরের খসড়া’ চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন নোবেলজয়ী তুর্কি লেখক ওরহান পামুক। তাঁর ৫০০ পৃষ্ঠার বেশি দীর্ঘ প্রেমকাহিনি—১৯৭০ ও ৮০–এর দশকের ইস্তাম্বুলের পটভূমিতে লেখা ভালোবাসার গল্প—চিত্রনাট্যে এমনভাবে বদলে ফেলা হয়েছিল, যা তাঁর ভাষায় ‘অতিরিক্ত ও অগ্রহণযোগ্য’।

    প্রযোজনা সংস্থা মূল কাহিনিতে বড় পরিবর্তন আনে, এমনকি নতুন প্লট টুইস্টও যোগ করে। পামুক মনে করেন, এতে তাঁর গল্পের মর্মই বদলে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তিনি আইনি লড়াইয়ে নামেন, গল্পের স্বত্ব ফিরে পেতে প্রযোজকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    ‘সেই সময় দুঃস্বপ্ন দেখতাম’—নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন ওরহান পামুক। তিনি আরও যোগ করেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবীকে আমার সামর্থ্যের তুলনায় অনেক টাকা দিতে হয়েছে। ভাবতাম, ওরা যদি ওভাবেই বানিয়ে ফেলে!’

    ২০২২ সালে তিনি মামলায় জয়ী হন। এরপর নতুন করে উদ্যোগ নেন—এবার শর্ত সাপেক্ষে, যাতে গল্পের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকে।
    অবশেষে চার বছর পর তিনি সন্তুষ্ট। আজ শুক্রবার থেকে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ৯ পর্বের সিরিজ ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’।

    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    সাহিত্য থেকে পর্দা: এক দেরিতে পাওয়া সাফল্য
    ৭৩ বছর বয়সী পামুকের দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে এটি একটি নতুন অধ্যায়। দুই দশকের বেশি সময়ে লেখা তাঁর উপন্যাস, স্মৃতিকথা, প্রবন্ধ ও আলোকচিত্রের বই বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০০৬ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

    উপন্যাসটি ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়। এতে এক মধ্যবিত্ত ব্যাচেলর কামালের আবিষ্ট প্রেমের গল্প বলা হয়েছে তরুণী বিক্রয়কর্মী ফুসুনকে কেন্দ্র করে। ভালোবাসার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কামাল নিত্যদিনের জিনিস—লবণদানি, চুলের ক্লিপ, কফির কাপ, এমনকি ৪ হাজার ২১৩টি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে। উপন্যাসের চূড়ান্ত পর্বে সে এসব নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরি করে।

    সাহিত্যের বাইরে গল্পটির আরেক জীবনও আছে। ২০১২ সালে পামুক ইস্তাম্বুলে বাস্তবেই ‘মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে উপন্যাসের নানা উপকরণ প্রদর্শিত হয়। পরে এ নিয়ে তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে।

    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    ‘অতিরিক্ত পরিবর্তন নয়’
    ২০১৯ সালে একটি হলিউড প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন পামুক; কিন্তু প্রস্তাবিত চিত্রনাট্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ছিল; যেমন নায়িকা ফুসুনকে গর্ভবতী দেখানোর মতো সংযোজন।

    ‘অতিরিক্ত পরিবর্তন। এভাবে বদলালে বইটি আর আমার বই থাকে না’, বলেন পামুক।
    প্রায় আড়াই বছরের আইনি লড়াই শেষে তিনি চুক্তি বাতিল করেন। এরপর তুরস্কের প্রযোজনা সংস্থা এ ওয়াই ইয়াপিমের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।

    এবার তিনি আগাম অর্থ নেননি এবং চূড়ান্ত চিত্রনাট্য না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিতেও সই করেননি। প্রতিটি পর্বের খসড়া নিজে পড়ে মতামত দিয়েছেন। ৯টি পর্বের প্রতিটি পাতায় প্রযোজক ও লেখক দুজনই সই করেন—চিত্রনাট্য যাতে অপরিবর্তিত থাকে।
    প্রযোজনা সংস্থার প্রধান কেরেম চাতাই জানান, চার বছরে সিরিজটি সম্পন্ন হয়েছে—তাঁর ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে এত দীর্ঘ সময় আর কোনো সিরিজে লাগেনি।

    নারীর দৃষ্টিকোণ ও অভিনয়
    উপন্যাস প্রকাশের পর তুরস্কের নারীবাদীরা পামুকের সমালোচনা করেছিলেন—গল্পটি পুরুষ চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে বলে। পামুক বলেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্যের একজন পুরুষ—সব নারীবাদী সমালোচনা আমি মেনে নিই।’
    সিরিজটি পরিচালনা করেছেন নারী নির্মাতা যেনেপ গানি তান, যা নায়িকা ফুসুনের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করেন পামুক।

    নায়ক কামালের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তুর্কি তারকা সেলাহাতিন পাসালি, আর ফুসুন চরিত্রে তুলনামূলক নতুন মুখ ইয়েল কান্দেমির।

    সিরিজটি পামুকের জন্য আরেকটি ‘প্রথম’ এনে দিয়েছে—অভিনয়ে অভিষেক। কয়েকটি দৃশ্যে তিনি নিজেই ‘ওরহান পামুক’ চরিত্রে উপস্থিত, যেখানে কামাল তাঁর গল্প শুনিয়ে যায়।

    তবে নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘এটাকে অভিনয় বলা যায় না, কারণ আমি নিজের চরিত্রেই অভিনয় করেছি।’

    নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে

  • নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তির এই স্মার্টফোনে ভিড়ের মধ্যেও স্বচ্ছন্দে কথা বলা যায়

    দেশের বাজারে ‘ইনফিনিক্স স্মার্ট ২০’ মডেলের নতুন স্মার্টফোন এনেছে ইনফিনিক্স। ভয়েজপ্রিন্ট নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তির ফোনটি আশপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে ব্যবহারকারীর কণ্ঠ আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারে। ফলে যানজট, বাজার বা গণপরিবহনে থাকা অবস্থায় চারপাশের শব্দ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। ফলে ফোনটির পর্দায় সহজেই ভালো মানের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ অক্টা-কোর প্রসেসরে চলা ফোনটিতে ৪ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৬৪ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে। মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিস্ট্যান্স–সুবিধার ফোনটি প্রায় ৫ ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না বা ফোনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

    ফোনটিতে আলট্রালিংক ফ্রি কল প্রযুক্তি থাকায় আশপাশে নেটওয়ার্ক না থাকলেও স্বল্প দূরত্বে থাকা একই ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেটে ফোনকল করাসহ বার্তা আদান–প্রদান করা যায়। আইপি৬৪ প্রযুক্তিনির্ভর ফোনটি ভিজলে নষ্ট হয় না, ধুলাও জমে না। ফলে হালকা পানির ছিটা বা ধুলাবালুর মধ্যেও ফোনটির স্পর্শনির্ভর পর্দা ভালোভাবে কাজ করে।

  • পাঁচ নারীর সঙ্গে চ্যাট, প্রেমিকের প্রতারণার কথা জানালেন বলিউড অভিনেত্রী

    বলিউড অভিনেত্রী শানায়া কাপুর সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের অতীত প্রেমজীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণে থাকা অবস্থায় প্রেমিকের ফোনে একসঙ্গে পাঁচ নারীর সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সেটিই ছিল সম্পর্কের সবচেয়ে ‘ভীতিকর’ অভিজ্ঞতা।

    শানায়া কাপুর অভিনীত নতুন ছবি ‘তু ইয়া ম্যায়’ মুক্তি পেয়েছে আজ শুক্রবার। ছবি প্রচারণায় ব্যস্ত শানায়া রিলেশনসশিট অ্যাডভাইস পডকাস্টে হাজির হয়ে এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলেন। সেখানে তিনি বিশ্বাসভঙ্গ, আবেগঘন প্রতারণা ও সম্পর্ক ভাঙনের পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন।

    ‘পারফেক্ট’ প্রেম, তারপর ধাক্কা

    শানায়া জানান, তখন তিনি বিদেশ সফরে ছিলেন তাঁর তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে। সম্পর্ক নিয়ে তখন তিনি অত্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। ‘আমি ভাবছিলাম, এটাই সেই সম্পর্ক। এত ভালো যেন সত্যি হওয়ার মতো নয়’, বলেন শানায়া।

    শানায়া কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    শানায়া কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ঘটনার মোড় ঘোরে একেবারে সাধারণ একটি মুহূর্তে। রাতের খাবারের জন্য বের হওয়ার আগে তাঁর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। প্রেমিকের ফোন দিয়ে ক্যাব বুক করতে গিয়ে একটি নোটিফিকেশন চোখে পড়ে—প্রেমিকের সাবেক প্রেমিকার বার্তা। কৌতূহল ও সন্দেহ থেকে তিনি চ্যাট খুলে দেখেন, যা দেখে তিনি বিস্মিত ও আহত হন।
    একের পর এক বার্তা শানায়া বলেন, প্রথম চ্যাটের পরই আরেকটি, তারপর তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম—এভাবে পাঁচ নারীর সঙ্গে একই ধরনের বার্তা আদান-প্রদান দেখতে পান তিনি। ‘ও এমনভাবে কথা বলছিল, যেন সে একেবারেই সিঙ্গেল’, যোগ করেন তিনি।
    শানায়া দ্রুত চ্যাটগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের পাঠান পরামর্শ চেয়ে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে।

    শানায়ার ভাষ্য অনুযায়ী, অনন্যা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন। ‘অনন্যা বলছিল, ট্রেনে উঠে চলে এসো, আমরা কাছাকাছিই আছি’, বলেন শানায়া। কিন্তু বিদেশে একা থাকার অনিশ্চয়তা তাঁকে দ্বিধায় ফেলে দেয়।
    শানায়া বলেন, ‘আমি কীভাবে হঠাৎ ট্রেনে উঠে চলে যাব? কী করব বুঝতে পারছিলাম না। পুরো ডিনারে আমি ভান করছিলাম সব ঠিক আছে।’

    শানায়া জানান, পরবর্তী তিন দিনও বাইরে ঘোরাফেরা, ডিনার—সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে গেলেও ভেতরে ভেতরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন।
    অবশেষে প্রেমিক বুঝতে পারেন, কিছু একটা ঠিক নেই। শানায়ার দাবি, তাঁকে শান্ত করতে প্রেমিক দামি এক জোড়া দুল কিনে দেন। শানায়া সেটিকে রসিকতার সুরে নাম দেন ‘গিল্টি ইয়াররিংস’।

     

    পরে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়, তবে মজার ছলে শানায়া বলেন, দুলটি এখনো তাঁর কাছে আছে এবং মাঝেমধ্যে পরেনও—‘আমি তো এটা অর্জন করেছি’, হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

    ‘শুধু মেসেজিং’—কিন্তু শানায়ার মতে তা নয়, প্রেমিকের দাবি ছিল, এটি কেবল বার্তা আদান-প্রদান, শারীরিক কোনো সম্পর্ক হয়নি। কিন্তু শানায়ার কাছে সেটিই ছিল প্রতারণা, যা তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • পাকিস্তান প্রমাণ করল তারা কেন পাকিস্তান

    ঢাকা
  • পাকিস্তান ম্যাচের আগে প্রেমিকাকে নিয়ে আলোচনায় হার্দিক, কে এই মাহিকা

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ। দুই প্রতিবেশী ‘হাই ভোল্টেজ’ ম্যাচ খেলতে এখন আছে শ্রীলঙ্কায়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবারের সফরে খেলোয়াড়দের তাঁদের স্ত্রী বা প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে আছেন তাঁর প্রমিকা মাহিকা শর্মা। খেলার আগে নতুন করে আলোচনায় এই তারকা জুটি।

    ভালোবাসা দিবসে বিশেষ চমক
    এদিকে ভালোবাসা দিবসে হার্দিক পান্ডিয়া প্রেমিকাকে উৎসর্গ করে ট্যাটু করেছেন, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায়। ট্যাটু আর্টিস্ট সানি ভানুশালির টিম জানিয়েছে, শুরুতে ক্রিকেটারের ভাবনা ছিল খুব সূক্ষ্মভাবে প্রেমিকাকে ট্রিবিউট দেওয়া। কিন্তু আলোচনার পর ধারণাটি আরও গভীর অর্থবহ রূপ নেয়। শুধু একটি অক্ষর নয়, পুরো ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে দুটি চিতাবাঘের মোটিফ দিয়ে। একটি চিতা শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এক চিতা প্রথমটির চারপাশে ঘুরে গিয়ে সূক্ষ্মভাবে ‘এম’ অক্ষরের আকৃতি তৈরি করেছে। এই ‘এম’ দিয়ে যে মাহিকাকে বোঝানো হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

    [caption id="attachment_267288" align="alignnone" width="708"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    ট্যাটুশিল্পীর ভাষায়, এটি নাকি এমন এক সম্পর্কের প্রতীক, যেখানে দুজন একে অপরের শক্তিকে আরও বড় করে তোলে।
    স্ত্রী নাতাশা স্তানকোভিচের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হার্দিক পান্ডিয়া সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন গায়িকা জেসমিন ওয়ালিয়ার সঙ্গে। সেই সম্পর্ক ভাঙার খবরের পর এবার মডেল ও অভিনেত্রী মাহিকা শর্মার সঙ্গে প্রেম করছেন হার্দিক।

    [caption id="attachment_267287" align="alignnone" width="715"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    দিল্লির মেয়ে মাহিকা
    মাহিকার বেড়ে ওঠা দিল্লিতে। নেভি চিলড্রেন স্কুল থেকে স্কুলজীবন শেষ করার পর তিনি কলেজে অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনায় ছিলেন মেধাবী—দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ১০ সিজিপিএ। পড়াশোনার সময়ই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ করেছেন, যার মধ্যে ছিল অর্থনীতি, শিক্ষা ও তেল–গ্যাসসংক্রান্ত কৌশল–পরিকল্পনা।

    [caption id="attachment_267286" align="alignnone" width="718"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    শিক্ষাজীবন শেষে বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখেন মাহিকা। তিনি অভিনয় ও মডেলিং শুরু করেন। ভারতীয় র‌্যাপার রাগার এক মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাঁকে। এ ছাড়া ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা অরল্যান্ডো ভন আইন্সিডেলের ‘ইনটু দ্য ডাক’ ও ওমঙ্গ কুমারের ‘নারেন্দ্র মোদি’ (২০১৯) ছবিতে, যেখানে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন বিবেক ওবেরয়। বড় বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।

    [caption id="attachment_267285" align="alignnone" width="722"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    ফ্যাশন দুনিয়ায়ও সফল মাহিকা। তিনি হেঁটেছেন ভারতের শীর্ষ ডিজাইনারদের র‌্যাম্পে—অনীতা দোংরে, রিতু কুমার, তরুণ তাহিলিয়ানি, মনীশ মালহোত্রা ও অমিত আগারওয়ালের মতো নামকরা ডিজাইনারদের শোতে। ২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডসে জিতেছেন মডেল অব দ্য ইয়ার (নিউ এজ) খেতাব। এ ছাড়া এল ম্যাগাজিনও তাঁকে মডেল অব দ্য সিজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

  • পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে সুপার এইটে ভারত

    আজকাল ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে যা হয়, কলম্বোতে সেটিই হলো। ৬ হাজার কোটি টাকার ম্যাচে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারল না পাকিস্তান। ঈশান কিষানের ৭৭ রানের তাণ্ডবে ১৭৫ রান করেছিল ভারত। এরপর পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অলআউট করে ৬১ রানে ম্যাচটি জিতল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। টানা তৃতীয় জয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে সুপার এইটে উঠে গেল সূর্যকুমার যাদবের দল।

    এই হারে পাকিস্তানের সুপার এইটের অপেক্ষা বাড়ল। শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার কাছে না হারলেই শেষ আটে উঠবে পাকিস্তান। তবে হেরে গেলে গতবারের মতো এবারও প্রথম পর্ব খেলেই দেশে ফিরতে হবে পাকিস্তানকে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করা যুক্তরাষ্ট্র নেট রান রেটে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে।

    ১৮তম ওভারের শেষ বলে উসমান তারিককে বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংসের যতি টেনেছেন হার্দিক পান্ডিয়া।

    এই জয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮–১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

    ১৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ওভারে যশপ্রীত বুমরা ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের স্কোরটাকে ১৩/৩ বানিয়ে দেন। ৩৪ রানে বাবর আজমের বিদায়ের পর যা একটু চেষ্টা করেছিলেন উসমান খান। ৪৪ রান করে উসমান যখন ফিরলেন ৭৩ রানে ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের। এরপর শুধু ব্যাবধানই কমাতে পেরেছে দলটি।

    বল হাতে নেওয়া ভারতের সাত বোলারের ছয়জনই উইকেট পেয়েছেন। দুই পেসার পান্ডিয়া ও বুমরা এবং দুই স্পিনার অক্ষর ও বরুণ ২টি করে উইকেট পেয়েছেন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (ঈশান ৭৭, সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭, তিলক ২৫; সাইম ৩/২৫)
    পাকিস্তান: ১৮ ওভারে ১১৪ (উসমান ৪৪, আফ্রিদি ২৩*; পান্ডিয়া ২/১৬, বুমরা ২/১৭, বরুণ ২/১৭, অক্ষর ২/২৯)।
    ফল: ভারত ৬১ রানে জয়ী।
  • পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪০ ঘণ্টার অভিযান, নিহত ১৪৫

    পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর টানা ৪০ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাসহ গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় একযোগে বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় মোট ৪৮ জন নিহত হন। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক।

    পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শনিবার(৩১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, হামলাকারীরা সবাই সাধারণ বেসামরিক পোশাক পরিহিত ছিল। এই ছদ্মবেশেই তারা জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে সহজে মিশে যেতে সক্ষম হয়।

    হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বেলুচ স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ৩০ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর আওতায় তারা পাকিস্তানের সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

    বিএলএ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনে শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সংগঠনটি দাবি করেছে, অভিযানে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা এবং ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

    বিএলএ-এর দায় স্বীকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার মোট ৪০ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চালানো হয়, যাতে ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন।

    উল্লেখ্য, ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলগুলোর একটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই প্রদেশটির বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এসব আন্দোলন দমনে ইসলামাবাদ বরাবরই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযান পাকিস্তানের নিরাপত্তা কৌশলে একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেছে। এর আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি সংখ্যক বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হওয়ার ঘটনা বেলুচিস্তানের ইতিহাসে বিরল।

    সূত্র : রয়টার্স

     

  • পাকিস্তানের বাঁচা–মরার ম্যাচে ফারহানের রেকর্ড সেঞ্চুরি

    জিতলে সুপার এইট, হারলে বাদ—নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের আজ সমীকরণ এমন। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করলেন পাকিস্তান ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান।

    দ্বিতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করলেন ফারহান। এর আগের সেঞ্চুরিটি ছিল আহমেদ শেহজাদের, ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১১* রান করেছিলেন শেহজাদ।

    ফারহানের করা সেঞ্চুরিটি এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয়। এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার পাতুম নিশাঙ্কা ও কানাডার যুবরাজ সিং সামরা। এই প্রথম কোনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩টি সেঞ্চুরি দেখা গেল।

    আজ ৩৭ বলে ফিফটি করা ফারহান সেঞ্চুরি করেছেন ৫৭ বলে, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। শেহজাদের সেঞ্চুরিটি ছিল ৫৮ বলে।

    সেঞ্চুরির পথে ১১ চার ও চার ছক্কা মেরেছেন ফারহান। তাঁর সেঞ্চুরির কল্যাণে পাকিস্তান তুলতে পেরেছে ১৯৯ রানের বড় সংগ্রহ।

    ফারহানকে আজ সঙ্গ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান। শেষদিকে শাদাব খান ২২ বলে ৩৬ রান করে ছিলেন অপরাজিত। এর আগে ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হয়েছেন অধিনায়ক সালমান আগা।

    পাকিস্তানের হয়ে ওপেন করেছেন সাইম ও ফারহান
    পাকিস্তানের হয়ে ওপেন করেছেন সাইম ও ফারহান, আইসিসি
     

    সেঞ্চুরিয়ান ফারহানের শুরুটা আজ তেমন একটা সাবলীল ছিল না। ইনিংসের প্রথম ৩০ রান তিনি করেছেন ২৭ বলে, এরপর হাত খুলেছেন ফারহান। পরের ৭০ রান করেছেন ৩১ বলে।

    এই সেঞ্চুরিতে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও হয়েছেন ফারহান। তাঁর রান এখন ২২০, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এইডেন মার্করামের, ১৭৮ রান।

  • পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসার বাড়ছে, লক্ষণগুলো কী

    পুরুষদের মূত্রথলির নিচে একটি ছোট গ্রন্থি থাকে, যার নাম প্রোস্টেট। এই গ্রন্থির কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করলে সেটি প্রোস্টেট ক্যানসার বা টিউমারে পরিণত হয়।

    ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা
  • পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে দেখা যাবে রক্তিম চাঁদ, কবে...

    আগামী ৩ মার্চ আকাশে এক মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে। ওই দিন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদ অদ্ভুত লালচে রং ধারণ করবে। এই ঘটনা ব্লাড মুন বা রক্তাভ চাঁদ হিসেবেও পরিচিত। ২০২৬ সালে এটিই হবে একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। পরবর্তী সময় এমন দৃশ্য দেখার জন্য ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে বাধা পায়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বেশি বিচ্ছুরিত করে দেয় ও লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ যেমন লাল দেখায়, এটিও ঠিক একই বৈজ্ঞানিক কারণে ঘটে থাকে।

    ২০২৬ সালের এই চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের একটি বড় অংশ থেকে দেখা যাবে। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে ১২ থেকে ১৩ মিনিট স্থায়ী হবে এই চন্দ্রগ্রহণ। সর্বোচ্চ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ভোরবেলা সবচেয়ে ভালো দৃশ্যমান থাকবে। আর পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সন্ধ্যায় লালচে চাঁদ দেখা যাবে।

    সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না। এটি খালি চোখেই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে দেখা যায়। তবে একটি সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ থাকলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। শহর থেকে দূরে যেখানে আলোক দূষণ কম, সেখান থেকে ব্লাড মুনের লাল আভা সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।

    পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ মূলত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। পেনামব্রাল পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়ার ভেতর প্রবেশ করে, এতে চাঁদের উজ্জ্বলতা কিছুটা কমে যায়। এরপরে আংশিক গ্রহণ শুরু হয়। চাঁদ যখন পৃথিবীর মূল অন্ধকার ছায়ার ভেতর প্রবেশ করতে শুরু করে। এরপরেই ঘটবে পূর্ণগ্রাস (টোটালিটি)। এই পর্যায়ে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় এবং লালচে রং ধারণ করে।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বাড়ালো ভারত

    প্রতিরক্ষা খাতে এবারও বাজেট বাড়ালো ভারত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় করা হবে পৌনে ৮ লাখ কোটি রুপিরও বেশি, যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। উন্নত প্রযুক্তির নানা যুদ্ধাস্ত্র কিনতে কাজে লাগবে এসব অর্থ। এছাড়া, নৌবহর উন্নয়ন ও সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণের জন্যও বরাদ্দ হয়েছে বাজেট। মওকুফ করা হবে বিমান তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের শুল্কও।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পার্লামেন্টে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারামান।

    মূলত, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করতে প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর বাজেট বাড়িয়ে চলেছে ভারত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও হয়নি এর ব্যতিক্রম। নতুন এ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি, যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট ছিল ৬ লাখ ৮১ হাজার কোটি রুপি। 

    এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি মূলধন খাতে এবং রাজস্ব খাতে ব্যয় হবে প্রায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি রুপি। এই দুই খাতে এবার বরাদ্দ বেড়েছে যথাক্রমে ২১ দশমিক ৮৪ ও ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। নতুন বাজেটে বেশ খুশি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং বলেন, 'প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের খবরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খুবই খুশি। আমরা এবার যা বরাদ্দ পেয়েছি, তা গেল বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।

    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, 'এই বাজেট জনগণের অনুভূতি ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০৪৭ সালের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও উন্নত ভারত গঠনের যে লক্ষ্য রয়েছে তা পূরণেও একটি দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে।'

    ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণে বরাদ্দ হয়েছে ২ দশমিক ১৯ লাখ কোটি রুপি। রাফাল বিমান, আধুনিক সাবমেরিন ও ড্রোনসহ নানা যুদ্ধাস্ত্র কিনতে ব্যয় হবে এ অর্থ। এছাড়া নৌবহর আধুনিকায়নের জন্যও রয়েছে উচ্চ বাজেট। 

    বলা হচ্ছে— বেসামরিক, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য বিমানের উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ওপর মওকুফ করা হবে শুল্ক। এছাড়া বিমান যন্ত্রাংশের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও কাঁচামালের ওপর দেয়া হবে শুল্কছাড়। সবমিলিয়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকীকরণই এখন নয়াদিল্লির মূল লক্ষ্য

    এদিকে, নয়া অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিবেশি দেশগুলোর জন্যও বৈদেশিক সহায়তা খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ রেখেছে দেশটি। সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৮৮ কোটি ৫৬ লাখ রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে ভুটানের জন্য। এছাড়াও নতুন অর্থবছরে নেপালকে ৮শ কোটি, শ্রীলঙ্কাকেও ৪শ কোটি এবং আফগানিস্তানকে দেড়শ কোটি রুপি সহায়তা দেবে নয়াদিল্লি।

    বাংলাদেশের জন্য ভারতের বরাদ্দকৃত অর্থে পরিমাণ ৬০ কোটি রুপি। এর আগে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছিলো দেশটি। পরে সেটি কমিয়ে প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়েছিলো।

    উল্লেখ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত থাকে—‘পার্ট এ’ এবং ‘পার্ট বি’। প্রথাগতভাবে ‘পার্ট এ’তে সরকারের নতুন নীতি ও প্রকল্পের বিস্তারিত ঘোষণা থাকে এবং ‘পার্ট বি’ মূলত আয়কর ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

  • প্রথমবার ‘গোপন কথা’ ফাঁস করলেন ফারিণ

    আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স’ সিনেমার শুটিংয়ে এখন কলকাতায় তাসনিয়া ফারিণ। এ সিনেমায় প্রথমবারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তিনি। সিনেমাটির শুটিংয়ের ফাঁকে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের সঙ্গে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ফারিণ। এই সাক্ষাৎকারে ঢাকা, কলকাতার সিনেমাসহ উঠে এসেছে নানা প্রসঙ্গ।

    কলকাতায় শুটিং নিয়ে ফারিণ বলেন, ‘আমি সবশেষ কলকাতায় শুটিং করেছিলেন “আরও এক পৃথিবী” সিনেমার।  তাও কলকাতায় খুব একটা শুটিং হয়নি, বেশির ভাগ শুটিং লন্ডনে হয়েছিল। পুরোপুরি কলকাতায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম।

    একটু ঘোরাঘুরি, খাওয়া-দাওয়া...আমার তো সব সময় কলকাতার ক্যাফের কালচারটা খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে হিন্দুস্তান পার্কের ওই রাস্তাটায় যে পরিমাণ ক্যাফে আছে ওটা মনে হয় এক মাস ঘুরলেও শেষ হবে না।’

    দেবের সঙ্গে ‘প্রজাপ্রতি ২’ সিনেমায় অভিনয় করার কথা ছিল ফারিণের। কথা ছিল আরও একটি সিনেমার, কিন্তু ভিসা জটিলতায় আর করা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর নতুন সিনেমায় দেখা যাবে তাঁকে। এ প্রসঙ্গে ফারিণ বলেন, ‘একটা প্রজেক্ট নিয়ে আমাদের অনেক দিন ধরে আলাপ হচ্ছে। ওটা হলেও তো খুব ভালো হয়। এখনো যেহেতু নিশ্চিত হয় কিছু তাই বলতে চাচ্ছি না।’

    [caption id="attachment_268195" align="alignnone" width="1035"] তাসনিয়া ফারিণ,ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    দুই বাংলার কাজের ধরন নিয়ে ফারিণ বলেন, ‘যেহেতু আমরা একই ভাষায় কথা বলি আমাদের কালচার তারপর খাওয়া-দাওয়া সবকিছু অনেক মিল। আমাদের পরিবারকেন্দ্রিক জীবন, মূল্যবোধ একই রকম; যে জন্য গল্পগুলো খুব কাছের মনে হয়। এখানকার কারও কোনো স্ক্রিপ্ট পেলে আমার মনে হয় না, অন্য একটা দেশের গল্প পড়ছি।’

    ২০২৩ সালে শেখ রেজওয়ানকে বিয়ে করেন ফারিণ। রেজওয়ান থাকেন যুক্তরাজ্যে, সেই সূত্রে প্রায়াই ঢাকা–লন্ডন করতে হয় অভিনেত্রীকে। লং ডিসট্যান্ট রিলেশনশিপের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফারিণ বলেন, ‘একটু আসা–যাওয়ার মধ্যে থাকতে হয়। ডিফিকাল্ট বাট এখন আমার পেশা ওর পেশা—সবকিছু মিলে আমাদের এটা ছাড়ার উপায় নেই। আমরা যে অনেকক্ষণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলি সেটা না; আমার সঙ্গে টাইমিংও অনেক আলাদা।’

    [caption id="attachment_268194" align="alignnone" width="1040"] তাসনিয়া ফারিণ,ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ‘গোপন কথা’ ফাঁস করেন ফারিণ। তিনি বলেন, ‘একটা গোপন কথা বলি এটা কোথাও বলিনি—আমার লোকেশন সব সময় ওর সঙ্গে শেয়ার করা থাকে যেন ও যাতে ওটা দেখে ও বোঝে যে আমি ঠিকঠাক আছি।’

     
     
  • ফারহান ও তারিকের ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্সে সুপার এইটে পাকিস্তান

    না কোনো অঘটন নয়!

    কলম্বোতে আজ নামিবিয়ার বিপক্ষে সহজ জয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করল পাকিস্তান। টসে জিতে আগে ব্যাট করে সাহিবজাদা ফারহানের সেঞ্চুরিতে ১৯৯ রান তুলেছিল সালমান আগার দল। সেই রান তাড়া করতে নেমে নামিবিয়া গুটিয়ে গেছে ৯৭ রানে।

    ১০২ রানের জয়ে পাকিস্তান সুপার এইটে জায়গা করেছে ৬ পয়েন্ট নিয়ে। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে সালমানের দল। এই জয়ে ২০২৮ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলাও নিশ্চিত হয়েছে পাকিস্তানের।

    রান তাড়ায় নামিবিয়া ২০০ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলবে, এমনটা আবহ দলটি তৈরিই করতে পারেনি। ৭.৩ ওভারে ৪৯ রান তুলতেই হারায় ৪ উইকেট, একে একে ফিরে যান লরেন স্টিনক্যাম্প, ইয়ান নিকোল লফটি-ইটনরা।

    ৪ উইকেট নিয়েছেন তারিক
    ৪ উইকেট নিয়েছেন তারিক, এএফপি
     

    পরের ৬ উইকেটে যোগ হয়েছে ৪৮ রান। পাকিস্তানের হয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন স্পিনার উসমান তারিক। ডান হাতি এই রহস্য স্পিনার ১৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। লেগ স্পিনার শাদাব খান ১৯ রানে নেন ৩ উইকেট।

    এর আগে ব্যাট হাতে পাকিস্তান ১৯৯ রান করে ফারহানের প্রথম আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি সেঞ্চুরিতে। ২৯ বছর বয়সী এই ওপেনার ৫৭ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন করেছেন। এটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে আহমেদ শেহজাদের ৫৮ বলে সেঞ্চুরি। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে শুধু ফারহান ও শেহজাদই সেঞ্চুরি করেছেন।

    ফারহানের করা সেঞ্চুরিটি এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয়। এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার পাতুম নিশাঙ্কা ও কানাডার যুবরাজ সিং সামরা। এই প্রথম কোনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩টি সেঞ্চুরি দেখা গেল।

    সেঞ্চুরির পথে আজ ফারহান হাঁকিয়েছেন ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। তবে শুরুটা ছিল ধীরগতির—ইনিংসের প্রথম ৩০ রান করতে তিনি খেলেন ২৭ বল। তবে পরের ৭০ রান করেন মাত্র ৩১ বলে। ফারহানের পাশাপাপাশি পাকিস্তান রান পেয়েছে শাদাব ও সালমানের ব্যাট থেকেও। শেষদিকে শাদাব ২২ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার আগে অধিনায়ক সালমান ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হন।

    সেঞ্চুরি করেছেন ফারহান
    সেঞ্চুরি করেছেন ফারহান, এএফপি

    এই সেঞ্চুরির সুবাদে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও এখন ফারহান। তাঁর মোট রান ২২০। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম, তাঁর সংগ্রহ ১৭৮ রান। ম্যাচসেরা হয়েছেন ফারহানই।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯৯/৩ (ফারহান ১০০, সালমান ৩৮; ব্রাসেল ২/৪৮, ইরাসমাস ১/২৫)। নামিবিয়া: ১৭.৩ ওভারে ৯৭ (স্টিনক্যাম্প ২৩; তারিক ৪/১৬, শাদাব ৩/ ১৯)। ফল: পাকিস্তান ১০২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: সাহিবজাদা ফারহান।
  • বন্ধুর বাড়িতে প্রথম দেখা, হোমওয়ার্কের খাতায় লেখা চিঠি: মেসি-আন্তোনেল্লার প্রেমের গল্প

    বন্ধুর বাড়িতে ভিডিও গেম খেলতে গিয়ে ৯ বছর বয়সী এক ফুটবলপাগল ছেলে প্রথম দেখেছিল ৮ বছরের এক মেয়েকে। চোখে চোখ পড়তেই মনের ভেতর কাঁপন। শুরু হয়েছিল এক চুপচাপ প্রেম, যা পরে গড়ায় পরিণয়ে। আজ ভালোবাসা দিবসে পাঠকদের জন্য লিওনেল মেসি ও আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোর দারুণ প্রেমের গল্প।

    প্রথম দেখা

    গল্পটা শুরু হয়েছিল এক বন্ধুর বাড়িতে।
    প্রেমের গল্পগুলো অবশ্য এমনই হয়। বন্ধুর বাড়িতে দেখা, প্রথম দেখাতেই ভালো লাগা, বুকের ধুকপুকানি বেড়ে যাওয়া...শুরুটা এমন ছিল লিওনেল মেসিরও।
    ১৯৯৬ সালের কথা সেটা। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহর। মেসির বয়স তখন ৯। সারা দিন ফুটবল নিয়ে পড়ে থাকা ছেলেটা মাঝেমধ্যে বন্ধু লুকাস স্কাগলিয়ার বাড়িতে যেত ভিডিও গেম খেলতে। এ রকমই এক দিনে মেসি ও স্কাগলিয়া যে ঘরে বসে গেম খেলছিল, সেখানে ঢোকে একটি মেয়ে।
    ‘তোমাদের কিছু লাগবে?’—জিজ্ঞেস করেছিল মেয়েটা।
    ‘না’, উত্তর দিয়েছিল স্কাগলিয়া।
    মেয়েটা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মেসি বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘কে রে এটা?’
    ‘আমার কাজিন, আন্তোনেল্লা।’
    ৯ বছরের মেসি সেই প্রথম দেখেছিল ৮ বছরের আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে। সেই দেখাই বদলে দিয়েছিল মেসির দুনিয়া।

    বন্ধুর বাড়িতে প্রথম দেখা হয়েছিল মেসি-আন্তোনেল্লার
    বন্ধুর বাড়িতে প্রথম দেখা হয়েছিল মেসি-আন্তোনেল্লার, আন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম
     

    গল্পটা অনেক দিন পরে মেসি নিজেই বলেছেন আর্জেন্টাইন এক টেলিভিশনে, ভালোবাসা দিবসের এক অনুষ্ঠানে। এরপর থেকে নাকি মেসি আরও বেশি যেতে শুরু করেছিলেন স্কাগলিয়ার বাড়িতে। তখন উদ্দেশ্য আর শুধু ভিডিও গেম খেলা নয়, যদি আন্তোনেল্লার দেখা মেলে!
    কখনো দেখা হতো, কখনো না। কেউ কেউ এটা টেরও পেলেন। মেসির তখনকার কোচ এনরিকে ডমিঙ্গেজ নাকি একবার স্কাগলিয়ার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘লিওকে দেখলাম তোমাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে, ঘটনা কী?
    স্কাগলিয়ার বাবা হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ও আমাদের বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা বের হলে ও আমাদের বাড়িতে ঢুকবে। প্রায়ই আসে।’
    ‘কেন?’
    ‘আসলে উইকেন্ডে লুকাসের কাজিন আন্তোনেল্লা আসে তো, লিও ওকে খুব পছন্দ করে।’
    টের পেয়েছিল হয়তো আন্তোনেল্লাও। নইলে কি আর নিয়ম করে উইকেন্ডে স্কাগলিয়ার বাসায় যেত!

    না পাঠানো সেই চিঠি

    এখন অবশ্য চিঠির যুগ নয়। তবে মেসির কৈশোরের পৃথিবীতে চিঠির চল ছিল। প্রেমে পড়ে কিশোর মেসিও চিঠি লিখেছিল। একদিন নাকি হোমওয়ার্ক করতে বসে খাতায় আনমনেই লিখেছিল, ‘প্রিয় আন্তোনেল্লা... একদিন তুমি আমার হবে, আমি হব তোমার।’
    তবে বরাবরই লাজুক মেসি সেই চিঠি কখনো আন্তোনেল্লাকে পাঠাতে পারেনি।
    এই গল্পটাও মেসি নিজেই বলেছেন।

    হঠাৎ দূরত্ব

    ভালোবাসার গল্পে কিছুটা বিচ্ছেদ, কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত মোড় না থাকলে কি আর সেটা পূর্ণতা পায়! মেসি-আন্তোনেল্লার গল্পেও এমন বিচ্ছেদ এসেছিল। কিশোর মেসির ফুটবলপ্রতিভার খবর তত দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিও ছাড়িয়ে ইউরোপে চলে গেছে। ট্রায়ালে তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে হাতের কাছে পাওয়া একটি ন্যাপকিন পেপারেই তাঁর সঙ্গে চুক্তি করে ফেলে বার্সেলোনা। ১৩ বছরের মেসিকে নিয়ে ২০০০ সালে তাঁর বাবা হোর্হে মেসি পাড়ি জমান বার্সেলোনায়।
    বার্সা একাডেমিতে শুরু হলো মেসির নতুন জীবন। মুঠোফোন তখনো সহজলভ্য হয়নি, ইন্টারনেটও না। আন্তোনেল্লার সঙ্গে যোগাযোগের খুব একটা উপায় রইল না মেসির। মাঝেমধ্যে ছুটি কাটাতে রোজারিওতে ফিরলে কখনো দেখা হতো, কখনো না।

    মেসি বার্সেলোনায় চলে যাওয়ার পর কিছুদিনের জন্য একা হয়ে গিয়েছিলেন আন্তোনেল্লা
    মেসি বার্সেলোনায় চলে যাওয়ার পর কিছুদিনের জন্য একা হয়ে গিয়েছিলেন আন্তোনেল্লাআন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম

    যেভাবে পুনর্মিলন

    ২০০৫ সালে আন্তোনেল্লার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী উরসুলা নটজ এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। ওই সময়ে আন্তোনেল্লায় মানসিক অবস্থা কী রকম থাকতে পারে, সেটা জানতেন মেসি। বার্সেলোনা থেকে তাই তখন উড়ে গিয়েছিলেন রোজারিওতে, আন্তোনেল্লাকে সান্ত্বনা দিতে! আর্জেন্টিনার ‘প্যারা টি’ সাময়িকীতে পরে আন্তোনেল্লা নিজেই বলেছেন, ওই কঠিন সময়ে মেসির পাশে দাঁড়ানোটা কতটা সাহায্য করেছিল তাঁকে। ওই পুনর্মিলনী বড় ভূমিকা রেখেছিল তাঁদের ভালোবাসার সম্পর্কটা আরও শক্ত করতে।

    প্রেম যেভাবে প্রকাশ্যে

    মেসি তত দিনে বার্সেলোনায় এবং ফুটবল-দুনিয়ায় নিজের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। আভাস দিয়েছেন আগামীর মহাতারকা হয়ে ওঠার। আর তারকাদের তো ব্যক্তিজীবনের সবকিছুই গোপন রাখতে হয়। মেসি-আন্তোনেল্লার প্রেম অবশ্য একেবারে গোপন থাকেনি। ২০০৭ সালের দিকে আন্তোনেল্লা নিজেই তাঁর কাছের কয়েকজন বন্ধুকে কথা প্রসঙ্গে জানিয়ে দেন, মেসির সঙ্গে তাঁর হৃদয়ঘটিত ব্যাপারস্যাপার আছে। কিন্তু সেটা গোপন থাকেনি। গুঞ্জন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যমে। এর বছর দুয়েক পরে এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই বলে দেন, আর্জেন্টিনায় এক মেয়ের সঙ্গে তাঁর অনেক দিনের প্রেম! দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমও নিশ্চিত করে দেয়, রোকুজ্জোই সেই আর্জেন্টাইন মেয়ে।

    আন্তোনেল্লাই প্রথম জানিয়েছিলেন, মেসির সঙ্গে তাঁর প্রেম চলছে
    আন্তোনেল্লাই প্রথম জানিয়েছিলেন, মেসির সঙ্গে তাঁর প্রেম চলছেআন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম

    প্রেমের টানে বার্সেলোনায়

    ভ্যানিটি ফেয়ার এস্পানা পত্রিকা জানায়, আন্তোনেল্লা সেই সময়টায় আর্জেন্টিনায় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব রোজারিও থেকে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে দন্তচিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতকোত্তর শুরু করেছিলেন। তবে ভালোবাসার টানে তিনি তখন পড়াশোনা ছেড়ে মেসির কাছাকাছি থাকার সিদ্ধান্ত নেন। চলে যান বার্সেলোনায়। সেখানে গিয়ে অবশ্য মডেলিং শুরু করেন। ভালো ক্যারিয়ারও গড়েন।

    অবশেষে বিয়ে

    ২০১৭ সালের ৩০ জুন রোজারিও ডাউনটাউনের পুলম্যান হোটেল রূপ নিল উৎসবের মঞ্চে। মেসি ও আন্তোনেল্লা—দুই শৈশবের বন্ধু, দুজন চুপি চুপি ভালোবেসে বড় হওয়া মানুষ শপথ নিলেন—‘যতক্ষণ না মৃত্যু আমাদের আলাদা করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা একে অন্যের সঙ্গে থাকব।’

    বিয়ের দিন মেসি ও আন্তোনেল্লা
    বিয়ের দিন মেসি ও আন্তোনেল্লাএএফপি

    ফুটবলে এই শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন নেইমার, সুয়ারেজসহ মেসির তখনকার বার্সেলোনা দলের প্রায় সব সতীর্থ, ছিলেন পপ স্টার শাকিরা (যিনি তখন মেসির সতীর্থ জেরার্ড পিকের স্ত্রী) এবং মেসির আর্জেন্টিনা দলের সতীর্থ ও বন্ধুরা। তত দিনে অবশ্য মেসি-আন্তোনেল্লা জুটির দুই ছেলে থিয়াগো (জন্ম ২০১২) ও মাতেও (জন্ম ২০১৫) পৃথিবীতে চলে এসেছে। বিয়ের এক বছর পর ২০১৮ সালে জন্ম নেয় এই দম্পতির তৃতীয় ছেলে চিরো।

    আন্তোনেল্লা কী করেন

    বার্সেলোনায় মেসির খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায় উরুগুইয়ান তারকা লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে। সেই সূত্রে, ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা ও সুয়ারেজের স্ত্রী সোফিয়া বালবিও। ২০১৭ সালে আন্তোনেল্লা ও সোফিয়া মিলে আর্জেন্টিনার ফুটওয়্যার ব্র্যান্ড সারকানির জন্য বার্সেলোনায় একটি বুটিক শপ খোলেন। একই সঙ্গে অ্যাডিডাস এবং স্টেলা ম্যাককার্টনির মতো বিখ্যাত কয়েকটি ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন আন্তোনেল্লা। সব মিলিয়ে তিনি নিজেও এখন বড় তারকা। এক্স বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেল্লার ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি অনুসারী।

    ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেল্লার ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি অনুসারী
    ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেল্লার ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি অনুসারী, আন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম

    বার্সেলোনার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি একবার বলেছিলেন, ‘আন্তোনেল্লার অনেক গুণ। ও যেভাবে প্রতিদিনের কাজ সামলায়, সেটার প্রশংসা করতেই হবে। সব সময় হাসিখুশি থাকে এবং প্রতিদিনের সমস্যাগুলোকে খুব ভালোভাবে সামলায়। সে খুব বুদ্ধিমান এবং সব দিক থেকেই দারুণ।’

    এখন দুজনের জীবন

    বার্সেলোনা ছেড়ে মেসি ২০২১ সালে পাড়ি জমান প্যারিসে। নতুন সেই শহরে মেসি পরিবারের মানিয়ে নিতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি, কারণ আন্তোনেল্লা দারুণভাবে সব সামলেছেন। মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের সময় আন্তোনেল্লা কীভাবে পাশে ছিলেন, সেটা তো সারা বিশ্বই দেখেছে।
    ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর শুরু হয় নতুন শহরে মেসি পরিবারের নতুন অধ্যায়। সেই জীবন কতটা আনন্দময়, সেটা যাঁরা মেসি বা আন্তোনেল্লাকে ইনস্টাগ্রামে অনুসরণ করেন, তাঁরা তো জানেনই।

     

  • বহুল প্রতীক্ষিত গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোন আনল স্যামসাং, দাম কত

    বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে স্যামসাং। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত ‘গ্যালাক্সি আনপ্যাকড’ অনুষ্ঠানে গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের আওতায় নতুন তিন মডেলের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি। ‘গ্যালাক্সি এস২৬’, ‘এস২৬ প্লাস’ ও ‘এস২৬ আলট্রা’ মডেলের স্মার্টফোনগুলো আগামী ১১ মার্চ থেকে বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেলেও আগাম ফরমাশ দেওয়া যাবে।

    নতুন সিরিজে বড় নকশাগত পরিবর্তনের বদলে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকেন্দ্রিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। তিনটি মডেলেই ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাং–উপযোগী কাস্টম চিপসেট ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ ফর গ্যালাক্সি’। উন্নত প্রসেসিং সক্ষমতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজের গতি বাড়াতে চিপসেটটি বিশেষভাবে অপটিমাইজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গ্যালাক্সি এস২৬–এর প্রারম্ভিক মূল্য ৮৯৯ মার্কিন ডলার, এস২৬ প্লাস ১ হাজার ৯৯ ডলার এবং এস২৬ আলট্রা ১ হাজার ২৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এস২৬ মডেলে এবার আর ১২৮ গিগাবাইট সংস্করণ রাখা হয়নি। ফলে মূল্য গত বছরের তুলনায় ১০০ ডলার বেড়েছে। ফোনগুলো কোবাল্ট ভায়োলেট, স্কাই ব্লু, কালো, সাদা, সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড—এই ছয় রঙে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড কেবল অনলাইন সংস্করণ হিসেবে বিক্রি হবে।

    গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস
    গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস, রয়টার্স

    স্যামসাংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্যালাক্সি এস২৬–এ রয়েছে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা। এস২৬ প্লাসে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং এস২৬ আলট্রায় ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা রয়েছে। তিনটি মডেলেই ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট সমর্থন রয়েছে। আলট্রা মডেলে এস পেন ব্যবহারের সুবিধা বজায় রাখা হয়েছে। এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে ১২ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬ বা ৫১২ গিগাবাইট মেমোরির অপশন রয়েছে। এস২৬ আলট্রা পাওয়া যাবে ১২ বা ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬, ৫১২ গিগাবাইট বা ১ টেরাবাইট সংস্করণে। এস২৬ মডেলে ৪ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার, এস২৬ প্লাসে ৪ হাজার ৯০০ এবং এস২৬ আলট্রায় ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। আলট্রা মডেলে প্রথমবারের মতো ৬০ ওয়াট দ্রুত চার্জিং–সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

    ক্যামেরাব্যবস্থায় আলট্রা মডেলটিকেই সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ১২ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড লেন্স, ১০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স এবং ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা। অন্যদিকে এস২৬ আলট্রায় রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর, ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড এবং ৫০ ও ১০ মেগাপিক্সেলের দুটি টেলিফটো লেন্স। এতে সর্বোচ্চ ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধা পাওয়া যাবে। সেলফির জন্য রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা।

    গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজে দুটি ফিচার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ‘ক্রিয়েটিভ স্টুডিও’ নামের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুলগুলো একসঙ্গে করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন অ্যাপে ছড়িয়ে থাকা সুবিধাগুলো এখন এক জায়গায় ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। অন্যটি ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’। এ সুবিধায় সরাসরি সামনে থেকে না দেখলে পর্দা অন্ধকার দেখাবে এমনভাবে ডিসপ্লে প্রযুক্তি নকশা করা হয়েছে। ফলে জনসমাগমস্থলে ফোন ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের চোখে পড়ার ঝুঁকি কমবে।

    এস২৬ আলট্রায় উন্নত কর্নিং গরিলা আর্মার ২ প্রটেকশন গ্লাস, তাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন নকশার ভেপার চেম্বার এবং সব এস২৬ কেসে ম্যাগনেটিক কানেকশনের কথা জানিয়েছে স্যামসাং। ক্যামেরা অ্যাপে নতুনভাবে নকশা করা নথি স্ক্যানারও যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা বেছে নিতে পারবেন গুগল জেমিনি, স্যামসাং বিক্সবি এবং পারপ্লেক্সিটি।

    সূত্র: ম্যাশেবল

    আহসান হাবীব

  • বাংলাদেশিদের হার্ভার্ডে স্কলারশিপ নিয়ে এমবিএ করার সুযোগ

    হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকার প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের উচ্চশিক্ষার অন্যতম এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ মিলতে পারে যে কারও। এ জন্য পকেট থেকে খসবে না এক কানাকড়িও। কারণ, আছে অনলাইন কোর্স। এ ছাড়া আছে বৃত্তির সুযোগ। বৃত্তির নাম বোস্তানি ফাউন্ডেশন বৃত্তি। ২০২৬ সালে এ বৃত্তির আওতায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএতে পড়তে পারবেন যে কেউ। বিশ্বের অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও। ২০২৬ সালে শরৎ (অটাম) সেশনের জন্য এ বৃত্তি দেওয়া হবে।

    হার্ভার্ডের এমবিএ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষার ব্যবসায়িক প্রোগ্রাম। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল প্রতি দুই বছরে একবার বোস্তানি এমবিএ হার্ভার্ড বৃত্তি দিয়ে থাকে। এ বৃত্তি দুই বছরের কোর্সের জন্য।

    অনেক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে আছেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, হেনরি কিসিঞ্জার, বারাক ওবামা, বিল গেটস, জন এফ কেনেডি, টি এস ইলিওট, মার্ক জাকারবার্গসহ আরও অনেক নাম। বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাসের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে পড়াশোনা করেছেন আমেরিকার ৮ প্রেসিডেন্ট, ১৫৮ নোবেল বিজয়ী, ১০ অস্কার বিজয়ী, ৪৮ পুলিৎজার জয়ী এবং ১০৮ জন অলিম্পিক মেডেল জয়ী ক্রীড়াবিদ।

    যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন
    যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন, ছবি: রয়টার্স

    আবেদনের যোগ্যতা—

    বাংলাদেশসহ নানা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বোস্তানি ফাউন্ডেশনের এমবিএ বৃত্তির আবেদন উন্মুক্ত। তবে এ জন্য কিছু শর্ত আছে। যেমন: আবেদনকারী প্রার্থীকে একাডেমিক পড়াশোনায় ভালো হতে হবে। যে কেউ এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। হার্ভার্ড এমবিএ প্রোগ্রাম থেকে ভর্তির অফার পাওয়ার পরে প্রার্থীরা স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    বৃত্তির সুযোগ–সুবিধা—

    • ৭৫ শতাংশ টিউশন ফি প্রদান করবে;

    • ভ্রমণ খরচ প্রদান করবে;

    • বুস্টানি ফাউন্ডেশন কর্তৃক দুই মসের ইন্টার্নশিপ সুবিধা আছে;

    আবেদন পদ্ধতি কীভাবে—

    হার্ভার্ডের বোস্তানি ফাউন্ডেশনের এমবিএ বৃত্তির আবেদন করতে আগ্রহী প্রার্থীদের একটি সিভি ছবিসহ পাঠাতে হবে। এ ছাড়া জিএমএটি স্কোর এবং যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বীকৃতিপত্রের চিঠি This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.ে পাঠাতে হবে। সব সিভি বাছাই করে তালিকা করা হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত প্রার্থীকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সাক্ষাত্কারের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    আবেদনের শেষ সময়—

    এ বছরের ৩১ মে (৩১–০৫–২০২৬) পর্যন্ত আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    সুইজারল্যান্ড ও মোনাকোভিত্তিক বোস্তানি ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। নাবিল বোস্তানি ও তাঁর ছেলে ফাদির হাত ধরে এ ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু। এর আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯৯৭ সাল থেকে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি দেওয়া হচ্ছিল। এরপর ২০০৬ সালে ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে বোস্তানি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

    *আবেদনের বিস্তারিত জানা যাবে এখানে ক্লিক করুন

  • বাংলাদেশের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে, খাটো করে দেখছি না—ঋতুপর্ণাদের নিয়ে সতর্ক চীনের কোচ

    এক দল টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল, নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। অপর দল টুর্নামেন্টটিতে খেলতেই এসেছে এই প্রথম। র‍্যাংঙ্কিংও দেখাচ্ছে বড় পার্থক্য—১৭ আর ১১২। এমন অসম শক্তির দুই দল চীন ও বাংলাদেশ আগামীকাল ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে।

    বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা (সিডনির সময় সন্ধ্যা ৭টা) শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচ সামনে রেখে আজ সকালে সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন চীনের প্রধান কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান।

    বাংলাদেশ দল র‍্যাংঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক। বাংলাদেশ কোনো অঘটন ঘটাতে পারে কি না—প্রথম আলো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে মিলিচিক বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে যেকোনো দল যেকোনো দিনে কঠিন সময় উপহার দিতে পারে। বাংলাদেশ এখানে কোনো চাপ ছাড়াই খেলবে। তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। আমরা তাদের মোটেও খাটো করে দেখছি না। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বিনিয়োগ এবং তাদের খেলার মান অনেক বেড়েছে।’

    নিজের প্রাথমিক বক্তব্যে বাংলাদেশ দলের লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি তরুণ এবং পরিশ্রমী দল, তারা প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে। তারা কোনো চাপ ছাড়াই সাবলীল ফুটবল খেলে। আমরা আগামীকাল একটি কঠিন ম্যাচের প্রত্যাশা করছি, তবে আমাদের মূল লক্ষ্য আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করা।’

    চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান
    চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা হওয়ায় বর্তমান চীনা কোচের জন্য এটি অনেকটা ঘরে ফেরার মতো। ক্রোয়েশীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান মিলিচিক সিডনির ইনার ওয়েস্ট এলাকার উপশহর স্ট্র্যাথফিল্ডে বেড়ে উঠেছেন। নিজের চেনা আঙিনায় চীনের শিরোপা ধরে রাখার চাপ নিয়ে তিনি বাস্তববাদী, ‘চীনা জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করলে সব সময়ই প্রত্যাশার চাপ থাকে। তবে আমরা অনেক দূরের চিন্তা না করে প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। গত চার বছর আগের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবারের টুর্নামেন্ট ভিন্ন। আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং আমরা আমাদের সমর্থকদের গর্বিত করতে চাই।’

    চীনা ফুটবলে অস্ট্রেলিয়ান কোচের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কোচরা টেকনিক্যাল দিক থেকে ভিন্ন কিছু এবং ভালো কাঠামো উপহার দিতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ান কোচ হিসেবে এই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ এবং আমি এই আস্থার প্রতিদান দিতে চাই।’

    চীনের রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরী ও ১২৪ ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধিনায়ক উ হাইয়ান গত টুর্নামেন্টটি চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এবার বাহুবন্ধনী হাতে মাঠে নামার আগে তিনি বেশ রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে আমি খুব খুশি। আমরা এরই মধ্যে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকাল আমাদের প্রথম ম্যাচ এবং কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমি বিশ্বাস করি আমরা ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’

    বাংলাদেশকে সমীহ করলেও নিজেদের শক্তিতেই বেশি বিশ্বাসী উ হাইয়ান। স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ র‍্যাংঙ্কিংয়ে নিচে থাকলেও আমরা কালকের ম্যাচের আগে অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না। ধাপে ধাপে এগোতে চাই। চোটের কারণে আমি গত টুর্নামেন্ট মিস করেছিলাম, তাই এবার অধিনায়ক হিসেবে নিজের সেরাটা দিতে আমি উন্মুখ হয়ে আছি।’

    মাঠে চীনকে নেতৃত্ব দেবেন ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উ হাইয়ান
    মাঠে চীনকে নেতৃত্ব দেবেন ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উ হাইয়ান
     

    বাংলাদেশ যে বাছাইপর্বে মিয়ানমারের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে এখানে এসেছে, সেটিও নজরে আছে চীনা কোচের। বাংলাদেশের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষকে সম্মান করি এবং বিশ্লেষণ করি। বাংলাদেশ দল খুব তরুণ এবং আক্রমণাত্মক। তারা মিয়ানমারকে তাদের মাঠে হারিয়ে এখানে আসার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’

    চীনের ২৬ জনের স্কোয়াডে থাকা বেশ কিছু খেলোয়াড়ের অস্ট্রেলিয়ান লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, যা আগামীকাল তাঁদের কন্ডিশনের বাড়তি সুবিধা দেবে বলে কোচ মনে করেন। এদিকে মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের মেয়েরা কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন, তা দেখতে মুখিয়ে আছে সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও। কালকের ম্যাচে চীন তাদের দশম মুকুটের পথে প্রথম ধাপ পার করতে চাইলেও, বাংলাদেশ চাইবে এশিয়ার সেরাদের বিপক্ষে নিজেদের চেনাতে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব