• এসব ছোট ছোট কৌশল আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়াবে

    বয়সের ভারে হোক বা কাজের চাপে, ভুলে যাওয়ার সমস্যা আজকাল আমাদের অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। চশমাটা কোথায় রাখলেন, পরিচিত নামও হুট করে মনে পড়ছে না কিংবা প্রয়োজনীয় ফাইলটি কোথায় রেখেছেন, তা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন? এমন অভিজ্ঞতা হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মৃতিশক্তি কোনো স্থির বিষয় নয়; বরং নিয়মিত চর্চা ও সঠিক কৌশলের মাধ্যমে একে যেকোনো বয়সেই শাণিত করা সম্ভব।

    ক্লিনিক্যাল স্টাফ, নিউরোলজি বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা

  • এসেই আলোচনায়, কে এই তরুণ অভিনেত্রী

    ঢাকা
  • ওয়াশিংটন পোস্টের ৩০০ এর বেশি সাংবাদিক ছাঁটাই

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের কয়েক শ কর্মীকে আকস্মিকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে।

    বুধবার(৪ ফেব্রুয়ারি) একদিনেই প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মীকে বিদায় করে দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি নিউজরুম বা সংবাদকক্ষের সাংবাদিক ও কর্মী রয়েছেন। খবর সিএনএনের।

    ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক জেফ বেজোস বর্তমানে পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা বিভাগকে বার্ষিক লোকসান কমিয়ে এটিকে লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার টেকসই পথ খুঁজতে পরামর্শ দিয়েছেন।

    বুধবারের এই বড় ছাঁটাইকে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে একটি ‘নতুন দিনের সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারে বলেন, জেফ বেজোস এখনো প্রকাশনাটির প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তিনি চান প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ও আধুনিক হয়ে উঠুক।

    তবে মারে বেজোসের প্রতি আস্থা প্রকাশ করলেও সংবাদমাধ্যমটির অধিকাংশ সাংবাদিক এই দর্শনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। তাদের মতে, বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করে বা খরচ কমিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব নয়। অনেক সাংবাদিক উদ্বেগ প্রকাশ করে জানতে চেয়েছেন, বেজোস কি শেষ পর্যন্ত পত্রিকাটি বিক্রি করে দেবেন? কেউ কেউ পত্রিকাটির ঐতিহ্যের স্বার্থে একজন নতুন অভিভাবক বা মালিকের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন।

    দ্য পোস্ট গিল্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যদি জেফ বেজোস এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক না হন, তবে নতুন অভিভাবক খোঁজা প্রয়োজন। কারণ প্রজন্ম ধরে ওয়াশিংটন পোস্ট লাখ লাখ মানুষের সেবা দিয়ে আসছে।

    ২০১৩ সালে ২৫ কোটি ডলারে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফরি পি বেজোস ওয়াশিংটন পোস্টের মালিকানা কিনেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক লোকসান ও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় পত্রিকাটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

     

  • কভেন্ট্রি সিটির প্রিমিয়ার লিগে ফেরা: ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান

    ২৫ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরল কভেন্ট্রি সিটি।

    ২০০১ সালের ৫ মে—অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৩-২ গোলের হারে প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে গিয়েছিল ক্লাবটি। এরপর কেটে গেছে ৯,১১৩ দিন। চ্যাম্পিয়নশিপ, অর্থাৎ দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে ১১ বছর কাটানোর পর আবারও অবনমন ঘটে কভেন্ট্রির। নেমে যায় তৃতীয় বিভাগ, অর্থাৎ লিগ ওয়ানে। তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ায় ২০১৩ সালে দেউলিয়া হওয়ারও শঙ্কায় ছিল কভেন্ট্রি।

    সে সময় নর্থহ্যাম্পটন ও বার্মিংহামের সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করে খেলা, মালিকপক্ষ সিসুর বিরুদ্ধে সমর্থকদের ঘৃণা, দফায় দফায় প্রতিবাদ, এমনকি পার্লামেন্টে আলোচনার মতো নাটকীয় সব ঘটনা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। এই সবকিছু পেছনে ফেলে শীর্ষ লিগে ফেরার আশা সে সময় কভেন্ট্রির জন্য ছিল এক সুদূরপরাহত স্বপ্ন।

    দীর্ঘ ১৩ বছর ক্লাবের মালিকানায় থাকা সিসু শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে ডগ কিংয়ের কাছে মালিকানা বিক্রি করতে বাধ্য হন। এর মাঝে ২০১৭ সালে কভেন্ট্রি ৫৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চতুর্থ স্তরের লিগে নেমে যায়। মালিকপক্ষের বিরুদ্ধাচরণ করতে গিয়ে সমর্থকেরা কখনো লংমার্চ করেছেন আবার কখনো প্রতিবাদ জানাতে ঢুকে পড়েছেন খেলার মাঠেও।

    শেষ পর্যন্ত কভেন্ট্রি শীর্ষ পর্যায়ের লিগে ফিরল ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ও কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে। চ্যাম্পিয়নশিপে গতকাল রাতে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছে ‘স্কাই ব্লুজ’রা।

    কভেন্ট্রির খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। গতকাল রাতে ম্যাচ শেষে
    কভেন্ট্রির খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। গতকাল রাতে ম্যাচ শেষে, রয়টার্স

    কী করেছেন ল্যাম্পার্ড

    কভেন্ট্রি সিটি আসলে নিজেরাই নিজেদের চমকে দিয়েছে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা আশা থাকলেও এত দ্রুত এমন সাফল্য আসবে, সেটা তারা কল্পনাও করেনি।

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমর্থকদের প্রিয় কোচ মার্ক রবিনসের স্থলাভিষিক্ত হন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। দলের প্রথম গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়টা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ল্যাম্পার্ডের শান্ত ও ধীরস্থির ব্যক্তিত্ব দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা এই সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

    ব্রাইটন থেকে ধারে যোগ দেওয়া গোলকিপার কার্ল রাশওয়ার্থ দলের পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। গত মৌসুমের মূল দলে খুব বেশি পরিবর্তন করেননি ল্যাম্পার্ড। গত মৌসুমের হতাশা কাটিয়ে ল্যাম্পার্ড যেভাবে দলটিকে টেনে তুলেছেন, তাতে মুগ্ধ ক্লাবের শীর্ষ কর্তারা। চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা কভেন্ট্রি এখন শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখছে। পাশাপাশি পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুইয়ে থেকে মৌসুম শেষ করা নিশ্চিত হওয়ায় প্রিমিয়ার লিগে ওঠাও নিশ্চিত হয়েছে কভেন্ট্রির।

    ল্যাম্পার্ড কোচের দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল মালিক ডগ কিংয়ের। তিনি নিজে নিয়মিত ট্রেনিং গ্রাউন্ডে সময় কাটান। সেখানকার সব স্টাফকে নামে চেনেন, সবার সঙ্গে নিজে গিয়ে কথা বলেন। এমনকি প্রায়ই ক্যানটিনে কফি বানাতে বা শেফের সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা যায় ডগ কিংকে। তারকা খেলোয়াড়দের জন্য সেখানে আলাদা কোনো জায়গা নেই; আর এই বৈষম্যহীন পরিবেশই ‘স্কাই ব্লুজ’দের মধ্যে একাত্মতার আবহ তৈরি করেছে।

    ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড মাঠে দক্ষ নাবিকের মতো পরিচালনা করেছেন কভেন্ট্রিকে
    ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড মাঠে দক্ষ নাবিকের মতো পরিচালনা করেছেন কভেন্ট্রিকে, রয়টার্স

    চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী ল্যাম্পার্ডের ব্যক্তিগত ইমেজ ও প্রভাব কভেন্ট্রিতে এতটাই প্রবল যে অন্য ক্লাবের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও অনেক ফুটবলার স্রেফ তাঁর কারণে এই ক্লাবে যোগ দিয়েছেন।

    ল্যাম্পার্ডের কোচিং দর্শনের অন্যতম বড় দিক হলো দলের ভেতরের সমন্বয়। নতুন ফুটবলার হোক বা পুরোনো—যাঁরা ম্যাচ খেলার সুযোগ কম পাচ্ছেন, তাঁরাও যেন নিজেদের ব্রাত্য মনে না করেন, সেদিকে কড়া নজর রেখেছেন তিনি। সুফলও মিলেছে হাতেনাতে।

    ফরোয়ার্ড ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্টের কথাই ধরা যাক। গত বছর ব্ল্যাকবার্ন বা ডার্বি কাউন্টিতে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি থেকে যান। ল্যাম্পার্ড এই ফরোয়ার্ডের পরিশ্রমী মনোভাব ও দায়বদ্ধতা দেখে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। আসান্টে গত মৌসুমের তুলনায় এবার দ্বিগুণ (৩০ ম্যাচে ১২ গোল) গোল করেছেন।

    বিবিসিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের ভেতর আত্মবিশ্বাসের স্ফূরণ ঘটাতে ল্যাম্পার্ড অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সিনিয়র খেলোয়াড় জেক বিডওয়েল ও জেমি অ্যালেন মাঠে নিয়মিত না হলেও তাঁদের সব সময় মূল পরিকল্পনার অংশ করে রেখেছেন ল্যাম্পার্ড। এটি মানুষকে পরিচালনায় তাঁর দক্ষতাই ফুটিয়ে তোলে।

    ‘ভোগান্তিও আনন্দেরই অংশ’

    খেলোয়াড়দের ওপর যেন প্রমোশনের বাড়তি চাপ ভর না করে, সেটি নিশ্চিত করাকেই নিজের অন্যতম প্রধান কাজ মনে করেন কভেন্ট্রি কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড।

    নিজের কৌশল নিয়ে ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘আমি বিষয়গুলো সহজ ও সরাসরি রাখার চেষ্টা করি। খুব বেশি কথা বলা আমার পছন্দ নয়। ১৫ বছর আগে বড় কোনো ম্যাচে আমার যে অভিজ্ঞতা হতো, তা হয়তো বর্তমান খেলোয়াড়দের চেয়ে আলাদা। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা যখন কোচিংয়ে কাজে লাগানো যায়, সেটাই বড় ইতিবাচক দিক। কারণ, পরিস্থিতিগুলো আমি নিজে পার করে এসেছি।’

    কভেন্ট্রি এ মৌসুমে টানা দুই ম্যাচ হেরেছে মাত্র একবার। গত জানুয়ারিতে নরউইচ ও কিউপিআরের কাছে হেরে ১০ পয়েন্টের লিড খুইয়েছিল তারা। জানুয়ারির শেষে মিডলসবোরো যখন ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ধরে ফেলে, এমনকি ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও উঠে যায়, তখন এই ল্যাম্পার্ডের দলই তাদের ৩-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষ স্থানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে মাত্র ১টিতে হেরেছে কভেন্ট্রি, জিতেছে ৮টি।

    পরিসংখ্যান বলছে, গত ৯৯ মৌসুমে কভেন্ট্রি টানা পাঁচ ম্যাচ জিততে পেরেছে মাত্র পাঁচবার। যার মধ্যে তিনটিই এসেছে ল্যাম্পার্ডের অধীনে—গত মৌসুমে একবার আর চলতি মৌসুমে দুবার। ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘বছর দেড়েক আগে আমি, ক্রিস জোনস আর জো এডওয়ার্ডস যখন এখানে আসি, সব আমাদের কাছে নতুন ছিল। আমরা সময়টা উপভোগ করছি, কিন্তু মূল পরিশ্রমটা করেছে খেলোয়াড়রা।’

    ল্যাম্পার্ডের কোচিংয়ে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা এসেছে কভেন্ট্রি সমর্থকদের মানসিকতায়। গত এক দশকে মাঠ ও মাঠের বাইরে নানা ধকল সইতে হয়েছে ক্লাবটিকে। আট বছরে তিনটি প্রমোশন পেলেও ভক্তদের মনে একধরনের হতাশা বা ‘নেতিবাচক চিন্তা’ স্থায়ী আসন গেড়েছিল। প্রিমিয়ার লিগে ফেরা সেই হতাশা দূর করেছে।

    এ প্রসঙ্গে ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘আমি নিজে ওয়েস্ট হামের ভক্ত হিসেবে বড় হয়েছি, সেখানেও এমন ছিল। আবার এভারটনেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। এটা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। হয়তো ব্রিটিশ সংস্কৃতির মধ্যেই আছে যে সামনে খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়া।’

    ল্যাম্পার্ড সবশেষে মনে করিয়ে দেন, ‘ভোগান্তিও আনন্দেরই অংশ। শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগছে, কিন্তু ভালো কিছু পেতে হলে আপনাকে একটু কষ্ট সইতেই হবে।’

  • করোনার টিকাই মেরে ফেলেছে শেন ওয়ার্নকে, দাবি তাঁর ছেলের

    থাইল্যান্ডের সেই বিলাসবহুল ভিলা, নিথর পড়ে থাকা ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা লেগ স্পিনার এবং স্তব্ধ ক্রিকেট–বিশ্ব!

    ২০২২ সালের ৪ মার্চ শেন ওয়ার্নের আকস্মিক প্রস্থান মেনে নেওয়া কঠিন ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তখন বলা হয়েছিল ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’। কিন্তু চার বছর পর খোদ ওয়ার্নের ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন তুললেন এক বিস্ফোরক অভিযোগ। তাঁর দাবি, সরকারি নির্দেশে নেওয়া কোভিড-১৯ টিকার কারণেই মারা গেছেন তাঁর বাবা।

    সম্প্রতি ‘টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড’ নামক এক পডকাস্টে সাবেক সেনাসদস্য স্যাম ব্যামফোর্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন জ্যাকসন। সেখানে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর পেছনে কি কোভিড টিকার কোনো ভূমিকা ছিল? জবাবে জ্যাকসন দ্বিধাহীন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি, টিকা এতে জড়িত ছিল। এখন এটা বলা মোটেও বিতর্কিত কোনো বিষয় নয়।’

    জ্যাকসন আরও যোগ করেন, ‘বাবার যদি আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা থেকেও থাকে, আমার ধারণা টিকা সেটাকে সরাসরি সামনে নিয়ে এসেছে। যেদিন খবরটা পেলাম, ফোন রাখার পরপরই প্রথম আমার মাথায় এসেছিল—এর জন্য সরকার দায়ী, এর জন্য কোভিড আর টিকা দায়ী।’

    ২০২২ সালে থাইল্যান্ডের কোহ সামুইতে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান ওয়ার্ন। তাঁর মৃত্যুর পর নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। থাই পুলিশ তাঁর ঘর থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলেছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি তাঁর শরীরে ভায়াগ্রার (যৌন উত্তেজক ওষুধ) উপস্থিতিও মিলেছিল। কিন্তু জ্যাকসন মনে করেন, আসল কারণটা ছিল করোনার টিকা। তাঁর ভাষ্যমতে, সরকারি নিয়মের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই তিন-চারটি টিকা নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এই কিংবদন্তি স্পিনার।

    প্রয়াত কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন।
    প্রয়াত কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন।ইনস্টাগ্রাম
     

    ভিক্টোরিয়া সরকারের অর্থায়নে হওয়া ওয়ার্নের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়ও অস্বস্তিতে ছিলেন জ্যাকসন। নিজের ক্ষোভ চেপে রাখার স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ‘রাজ্য স্মরণসভায় আমার বলতে ইচ্ছে করছিল—আমি এই সরকারকে দায়ী করি, আমি কোভিডকে দায়ী করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলিনি, সম্ভবত চুপ থাকাই তখন বুদ্ধিমানের কাজ ছিল। তবে আমার মনের অবস্থা তেমনই ছিল।’
    অবশ্য জ্যাকসন নিজেও জানেন, দিন শেষে সত্যটা হয়তো অজানাই থেকে যাবে। তাঁর কথা, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনলাইনে আছে, সবাই দেখতে পারে। বাবা তখন ভালোই ছিলেন, দেখতেও বেশ ঝরঝরে লাগছিল। হ্যাঁ, তিনি ধূমপান করতেন, মদ্যপান করতেন। কিন্তু আশির বা নব্বইয়ের দশকের কত মানুষই তো বাবার চেয়ে বেশি ধূমপান বা মদ্যপান করে এখনো বেঁচে আছেন।’

    সর্বকালের অন্যতম সেরা স্পিনার ওয়ার্ন তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ১৪৫ টেস্টে নেন ৭০৮ উইকেট। শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরনের পর তিনি টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।
    তাঁর ছেলে জ্যাকসন এখন ‘শেন ওয়ার্ন লিগ্যাসি’র মাধ্যমে মানুষের হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে কাজ করছেন। যাতে অন্য কোনো পরিবারকে মাঝরাতে এমন দুঃসংবাদের ফোনকল পেতে না হয়।

  • কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল, সিঙ্গাপুর থেকে ২ কার্গো এলএনজি আসছে

    ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ টন ডিজেল এবং দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই তেল ও এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এক লাখ টন ডিজেল কিনতে ৬৮৯ কোটি টাকার বেশি এবং দুই কার্গো এলএনজি কিনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কাজাখস্তানভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ১ লাখ টন ৫০ পিপিএম সালফারমানের ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

    এদিকে বৈঠকে উপস্থাপন করা আরেকটি প্রস্তাবে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এই এলএনজি আমদানিতে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য পড়বে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে দুই কার্গো এলএনজি আনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে সূত্রটি জানিয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিতি এক সদস্য জানান, সরকরি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ডিজেল কেনার একটি এবং এলএনজি কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ টন ডিজেল কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ধরা হয়েছে ৭৫ দশমিক শূন্য ৬ ডলার।

    তিনি জানান, দুই কার্গো এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য ধরা হয়েছে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে ২ কার্গো এলএনজি কিনত ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। তবে এই মূল্য চূড়ান্ত নয়, ২ কার্গো এলএনজি’র মূল্য এর থেকে কিছু কম বা বেশি হতে পারে।

     

  • কাল শুরু হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬

    বাংলাদেশের একমাত্র ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল পোর্টাল হাল ফ্যাশনের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ঈদ ফ্যাশন ফিয়েস্তা ২০২৬’। ৫৮ জন উদ্যোক্তার অংশগ্রহণে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ১–৩ মার্চ সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে এই মেলা।

    বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। এদেরকে সামনে নিয়ে আসা এবং ইন্ডাস্ট্রির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হাল ফ্যাশন শুরু থেকেই করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে প্রথম আয়োজন করে ঈদ মেলা। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই মেলা।

    ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডের মাইডাস সেন্টারের ১২ তলার একজবিশন হলে ৫৮ উদ্যোক্তাকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬। ১–৩ থেকে তিন মার্চ অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনের কলেবর এবং সময় উভয়ই বেড়েছে। এবারের মেলার স্পন্সর হিসেবে থাকছে নবাবী বাই এপেক্স ফুড ও পেমেন্ট পার্টনার থাকছে ইউসিবি।

    মেলা সকাল থেকে শুরু হলেও ১ মার্চ রোববার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট অতিথিবর্গ ও তারকা।

    এবারের মেলাকে বলা হচ্ছে মেলার চেয়েও বেশি কিছু। কারণ প্রতিদিনই থাকছে কিছু না কিছু আকর্ষণ। প্রথম দিন উদ্বোধন তো আছে। এছাড়াও আসবেন বিশিষ্টজনেরা। দ্বিতীয় দিন থাকছে ডিজাইনারস’ ডে। তাঁরা আসবেন স্টল ঘুরে দেখবেন এবং মতামত দিবেন। তৃতীয় তথা শেষ দিন হচ্ছে ফ্যাশন ইউনিভার্সিটি ডে। দেশের দুই শীর্ষ ফ্যাশন ইউনিভার্সিটি থেকে আসবে ছাত্র ও শিক্ষকরা। তাঁরাও মেলা নিয়ে তাঁদের অভিমত জানাবেন।

     

    গতবারের মতো এবারের মেলাতেও ক্রেতাদের জন্য থাকছে র্যাফেল ড্র। আছে আকর্ষণীয় সব উপহার। এবারের মেলা বিশেষ আকর্ষণ ফটোবুথ। এখানে ছবি তুলে #haalfashioneidfiesta2026 ও #haalfashionista হ্যাশট্যাগ দিয়ে নিজের ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে আমাদের সঙ্গে লিংক শেয়ার করতে হবে। সেখান থেকে আমরা বেছে নেব ৫ জনকে। তারা উপহার তো পাবেনই। সঙ্গে আরও থাকবে হাল ফ্যাশনে মডেল হওয়ার সুযোগ।

    হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬–এ উপহার পার্টনার হিসেবে আছে ঢাকার ৮টি পাঁচতারকা হোটেল, ফ্যাশন ব্র্যান্ড ব্লুচিজ ও টিংকার’স টি।

     
     

    এবারের মেলার একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, ট্রায়াল রুম। সাধারণত এই ধরণের মেলায় এটা থাকে না। কিন্তু এই আয়োজনে মাত্রা যোগ করা তো বটেই ক্রেতাদের সুবিধার্থে আমরা রেখেছি ট্র্রায়াল রুম।

    এবারের ফিয়েস্তায় পোশাক ছাড়াও, গয়না, বিষমুক্ত পণ্য, খাবার, অ্যাকসেসারির স্টল থাকছে। অংশ নিচ্ছে চৌধুরী’স, এন’স কিচেন, আজুরা বাই শান্তা কবীর, মিতার গল্প, দীঘল ও আচারি, পরিণীতা ফ্যাশন, ক্যাটারফ্লাই, শাড়িকথন, দ্য জামদানি, পূর্ণতা শিল্পশালা, পোশাক বাই তাননাস, নবাবী বাই এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, সুপণ্য, অণূভা’স ও সিতকা, অবনি, মেহউইশ, দিশা’স রোড ব্লকস, লেইস ফিতা, পেটাল গহনা, ক’তে কাপড়, তাহার ও লিটল ক্রিয়েশনস, সুতলি, বিমূর্ত, তেরো পার্বণ, শখেরডিব্বা, নকশা্ মিস্ত্রি, জারিন’স ক্রিয়েশন, যাদুর হাট, রায়না''''স কালেকশন, দয়ীতা, আর্ট ওয়েভ বাই সাকিয়া, এসো, রিয়া’স ক্রিয়েশন, পৌরাণিক, মল্লিকা, বি বাসিনী, আর্নস্ট, স্বপ্নছোঁয়া, কাদম্বরী, ভারমিলিয়ন, সীবনী, নগরনন্দিনী, এলিগ্যান্ট বুটিক ও ফ্রেয়া, জ্যানেট’স ক্রিয়েশন, নাজাফ, রুজ, পসরা, মুনমুন’স, হেরিটেজ শ্যাডো বাই শ্বেতা, আর্টজেনিক্স বাই আনিকা, লং স্প্রিং, দিলসাদের রংতুলি, রোদচশমা, গথিয়া ও সোল ইস্তাম্বুল।

    ছবি: হাল ফ্যাশন

  • কােন জ্বালানির মজুত কত জানালেন মন্ত্রী, প্রয়োজনে আগামী মাস থেকে দাম বাড়ানোর চিন্তা

    প্রয়োজন হলে সরকার আগামী মাস থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটা আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের দামের ওপর আমরা কাজ করছি। যদি সমন্বয় করে দেখা যায় যে দাম বাড়ানো দরকার, তাহলে আমরা মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সেই চিন্তা করব।’

    আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মৌলভীবাজার–২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

    জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম জানতে চান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না? জবাবে মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে চিন্তা করা হবে।

    জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেলের দামের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সব উৎস খুঁজে, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

    জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন ডিজেল মজুত আছে। আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। অকটেন মজুত আছে ১০ হাজার ৫০০ টন। ৭১ হাজার ৫৪৩ টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। পেট্রল ১৬ হাজার টন মজুত আছে। আরও ৩৬ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ দাম বাড়ায়নি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও দেশে শিল্প কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।

    সেচ মৌসুমে কৃষকদের ডিজেল পাওয়া নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য সব জেলা প্রশাসনকে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠন করা হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, জ্বলানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার অর্থদণ্ড এবং ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।

    খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে।

  • কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক মাছুদের যোগদান

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ। আজ মঙ্গলবার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দুই বছরের ব্যবধানে তিনি দ্বিতীয়বার বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হলেন।

    এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে মুহাম্মদ মাছুদকে কুয়েটের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য তিনি কুয়েটের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, কুয়েটকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বিশ্বমানের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাবেন। এ লক্ষ্য অর্জনে সব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত সবাই নবনিযুক্ত উপাচার্যকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদকে কুয়েটের উপাচার্য করা হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হলেন অধ্যাপক মাছুদ।

    অধ্যাপক মাছুদ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান, হল প্রভোস্ট, সিআরটিএসের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য জার্নাল ও সম্মেলনে দেড় শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং একাধিক বই ও বুক চ্যাপ্টার রচনা করেছেন।

    অধ্যাপক মাছুদ ১৯৯৮ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) খুলনা থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (মেকানিক্যাল) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জাপানের নাগোয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাট এল পাসো থেকে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

  • কোথাও কোনো সংকট দেখছেন না বিসিবি সভাপতি আমিনুল

    বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে এনএসসির পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি। ১১ মার্চ গঠিত কমিটি নিয়ে পরে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে বিসিবি বলেছে, আইসিসির কাছে এটি ‘বাইরের হস্তক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা আইসিসিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ ও ক্রিকেটের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

    দেশের বাইরে থাকায় এনএসসির তদন্ত কমিটি এবং বিতর্কের জন্ম দেওয়া বিসিবির ওই বিবৃতি নিয়ে এত দিন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে পরশু রাতে দেশে ফেরার পর কাল দুপুরে বিসিবি কার্যালয়ে এ নিয়ে তিনি প্রথম আলোসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমিনুলের বক্তব্যের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো এখানে—

    তদন্ত কমিটি নিয়ে

    পাঁচ মাস হলো বোর্ড স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চলছে। এর মধ্যে আমরা সিরিজ খেলছি, ঘরোয়া ক্রিকেট চলছে—সবকিছুই হচ্ছে। তারপরও যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁরা আমাদের স্পোর্টসের মালিক। শুধু ক্রিকেট না, সবকিছুর মালিক—আমরা তাঁদের সম্মান করি।

    বিসিবির বিবৃতি প্রসঙ্গে

    আমার মনে হয় বিবৃতির ব্যাখ্যাটা একটু ভুল ছিল, মুখোমুখি (সরকার–বিসিবি) যেটা বলা হচ্ছে। আমরা একটা স্বায়ত্তশাসিত সংগঠন। এ ধরনের সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করে, তখন মনে হচ্ছিল (সরকারি হস্তক্ষেপ) হয়তো কিছু একটা হতে পারে। আপনি যদি বিবৃতিটা ভালো করে দেখেন, সেখানে লেখা ছিল ‘হতে পারে’, তার মানে এই না যে ‘হয়েছে’। পূর্বসতর্কতা হিসেবে এটা করা। সবার ভালোর জন্য আমরা অবস্থানটা পরিষ্কার করেছি। দিন শেষে আমরা তো বাংলাদেশের সরকারের অধীনই কাজ করি।
    বিবৃতির একটা লাইন অনেকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে। ‘ক্লোজ’ করার একটা কথা উল্লেখ আছে। এটাকে অনেকেই ‘তদন্ত বন্ধ করা’ বলে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। ওটা ভুল ব্যাখ্যা।

    সংকট কাটাতে কতটা আশাবাদী

    আমি কোথাও কোনো সংকট দেখছি না। বোর্ড তার নিজস্ব নিয়মে স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় দল খেলছে আর মেয়েদের দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। কোথাও কোনো সংকট নেই। এটা তো নির্বাচিত কমিটি। সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বোর্ড চলছে। এ ধরনের প্রশ্ন আমরা আশা করি না।

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিসিবি পরিচালক নাজমূল আবেদীন
    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিসিবি পরিচালক নাজমূল আবেদীনশামসুল হক

    দুই পরিচালকের পদত্যাগ

    মিডিয়া কমিটির প্রধানের পদ থেকে আমজাদ হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদত্যাগটা (পরিচালকের পদ থেকে) সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে তাঁরা পদত্যাগ করলেও আমরা এখনো তা গ্রহণ করিনি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলব।

    আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েন

    আলহামদুলিল্লাহ, বিষয়টি এখন পুরোপুরি সমাধান হয়ে গেছে। মাঝখানে অনেক কিছু ঘটেছে, যার সবকিছু হয়তো গণমাধ্যমে আসে না। সে সময় সরকারের যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা আমাকে মেনে নিতে হয়েছে। আর এখন যে সরকার দায়িত্বে আছে, তাদের সিদ্ধান্তও আমাদের মানতে হবে। শুরু থেকেই বলে আসছি, আমরা সরকারের অধীনই কাজ করি।

    বিশ্বকাপে না খেলা ভুল ছিল কি না

    এ নিয়ে কিছু না বলি। তবে খুব চেষ্টা করেছি। দিন শেষে আমিও তো একজন ক্রিকেটার।

    বিশ্বকাপ নিয়ে তদন্ত কমিটির আলোচনা

    ওইটার ব্যাপারে আমার ধারণা নেই, কিছু শুনিনি। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অনুসন্ধান তো সরকার করতেই পারে। তাদের কথা আমরা শুনব, শুনছি। আবারও বলছি, ফাহিম ভাইসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় দলের স্কোয়াড ঠিক করেছিল। আমাদের যাওয়ার প্রস্তুতিও ছিল, কোথায় খেলবে, না খেলবে—সবই নির্ধারিত ছিল। তবে সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেই হবে।

  • ক্যানসার রোগী কি রোজা করতে পারবেন

    ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা

  • ক্যানসারের কাছে হার মানলেন অ্যানাবেল স্কোফিল্ড

    লন্ডন ফ্যাশন জগতের আইকনিক মুখ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যানাবেল স্কোফিল্ড আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

    অ্যানাবেল স্কোফিল্ড ফ্যাশন জগত থেকে অভিনয়ে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথম পরিচিতি পান জনপ্রিয় মার্কিন ধারাবাহিক ‘ডালাস প্রাইমটাইম’ এর মাধ্যমে। সেখানে কিংবদন্তি অভিনেতা ল্যারি হ্যাগম্যানের বিপরীতে লরেল এলিস চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন। এই চরিত্রই তাকে এনে দিয়েছিল তারকাখ্যাতি।

    ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ল্যানেলিতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যানাবেল। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির আশপাশে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রী ১৯৯০-এর দশকে হিট সিনেমা ‘রোমান্সিং দ্য স্টোন’, ‘জেরি ম্যাগুয়ার’ ও ‘অ্যাজ গুড অ্যাজ নাইট গেটস’এ অভিনয় করেছেন।

    ১৯৮০ দশকে লন্ডনের ফ্যাশন অঙ্গনে অ্যানাবেল ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও আকর্ষণীয় মুখ। টিভি বিজ্ঞাপনে তার স্মরণীয় উপস্থিতি তাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচিত করে তোলে।

    চলচ্চিত্রে তিনি ‘সোলার ক্রাইসিস’, ‘ড্রাগনার্ড’ ও ‘আই অফ দ্য উইডো’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পরবর্তীতে ‘দ্য ব্রাদার্স গ্রিম’, ‘ডুম’ ও ‘সিটি অফ এম্বার’-এর প্রযোজনা ভূমিকায় ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছেন।

     

  • ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুবাইয়া মোরশেদ

    শিক্ষা গবেষণা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে সমতা নিশ্চিতকরণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ড. আরিফ নাভিদ এডুকেশন পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক রুবাইয়া মোরশেদ। গত ২৯ এপ্রিল কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব এডুকেশনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

    রুবাইয়া মোরশেদ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব এডুকেশনের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। সুবিধাবঞ্চিত তরুণ সমাজ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও একাগ্রতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করা হলো। ১০০০ পাউন্ড মূল্যমানের এই পুরস্কারের জন্য রুবাইয়া মোরশেদ ছাড়াও চূড়ান্ত তালিকায় আরও তিনজন প্রতিভাবান গবেষক আলী আনসারী, ক্যামিলা হাদি চৌধুরী এবং ইরাম মকবুল স্থান পান।

    এই স্বীকৃতি আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের জন্য সমতা ও ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে
    রুবাইয়া মোরশেদ

    এই পুরস্কার প্রখ্যাত পাকিস্তানি সমাজবিজ্ঞানী ও গেটস কেমব্রিজ স্কলার আরিফ নাভিদের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রবর্তন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে অকালপ্রয়াত নাভিদ দারিদ্র্য, অসমতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক গতিশীলতা নিয়ে কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ছিলেন। সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরিতে তাঁর কাজ ছিল অনন্য। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং তাঁর গুণগ্রাহীরা তাঁর পাণ্ডিত্য ও উদার চিন্তাধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে এই পুরস্কার চালু করেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রুবাইয়া মোরশেদের গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে আছে শিক্ষাব্যবস্থাকে সুবিধাবঞ্চিত এবং স্কুলছুট শিশুদের জন্য আরও কার্যকর করার উপায়। তিনি কেবল একাডেমিক গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কলাম লিখে শিক্ষা সংস্কারে জনমত তৈরিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তাঁর গবেষণাপত্রগুলো সুপরিচিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

    রুবাইয়া মোরশেদের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক রিকার্ডো সাবাতেস
    রুবাইয়া মোরশেদের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক রিকার্ডো সাবাতেস, ছবি: সংগৃহীত

    রুবাইয়া মোরশেদ শিক্ষা ও অর্থনীতির আন্তসম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করে আসছেন, বিশেষ করে শিক্ষার অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক ফলাফল বিশ্লেষণে। তাঁর গবেষণায় দেখা হয় শিক্ষা কীভাবে আয়, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামগ্রিক মানবসম্পদ গঠনে ভূমিকা রাখে, পাশাপাশি কীভাবে এটি সামাজিক ফলাফল যেমন ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করে। এ ছাড়া তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীদের ভোটদানে অংশগ্রহণ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক অবস্থান এবং পারিবারিক প্রেক্ষাপট কীভাবে তাঁদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা ও অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করে। প্রমাণভিত্তিক এই গবেষণাগুলো নীতি প্রণয়ন ও উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

    এ ছাড়া রুবাইয়া মোরশেদ ইউনিসেফের শিক্ষা গবেষণা পরামর্শক হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত ও স্কুলছুট শিশুদের জন্য প্রাথমিক ও বৃত্তিমূলক কর্মসূচির ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টগুলোতে অবদান রেখেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘নোবডিস চিলড্রেন’–এ তিনি সেসব শিশুর কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছেন, যারা কখনোই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়নি।

    রুবাইয়া মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, এই স্বীকৃতি আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের জন্য সমতা ও ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আরিফ নাভিদের আদর্শকে ধারণ করে আমি সব সময় কণ্ঠহীনদের কণ্ঠস্বর হওয়ার চেষ্টা করব এবং দয়া ও মহানুভবতাকে পাথেয় করে এগিয়ে যাব।

    কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক কামাল মুনির বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন। রুবাইয়া মোরশেদের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক রিকার্ডো সাবাতেস। অনুষ্ঠানে আরিফ নাভিদের স্ত্রী সানা ও তাঁদের শিশুকন্যা আলিয়ানাহ উপস্থিত ছিলেন।

    নাভিদের পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক মেডেলিন আরনট বলেন, রুবাইয়ার গবেষণা সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গতিশীলতা অর্জনের পথে একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করছে। আরিফের মতোই তিনি কাঠামোগত অসমতা ও শিক্ষাগত সংস্কার নিয়ে কাজ করেন। এই পুরস্কারটি তাঁর ক্যারিয়ারের অর্জন এবং মিশনের প্রতি একটি যোগ্য সম্মান।

    জাহিদ হোসাইন খান

  • ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: টানা ২০ জয়, প্রথম শিরোপার সুবাস ও ৯৭০ গোল

    ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। লম্বা সময় পেরিয়ে গেলেও এর মধ্যে ক্লাবটির হয়ে বড় কোনো শিরোপা জেতা হয়নি তাঁর। শুধু আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ জেতাই এই ক্লাবের হয়ে তাঁর একমাত্র অর্জন। একপর্যায়ে মনে হয়েছে, বড় কোনো সাফল্য ছাড়াই হয়তো আল নাসর অধ্যায় শেষ করবেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

    তবে সেই আশঙ্কার মেঘ এবার কেটে যাওয়ার অপেক্ষা। রোনালদো এখন প্রথমবারের মতো সৌদি প্রো লিগ জেতার দ্বারপ্রান্তে। বিশেষ করে গতকাল রাতে আল আহলির বিপক্ষে আল নাসরের ২-০ গোলে জয়ের পর লিগ ট্রফিটা পর্তুগিজ কিংবদন্তির হাতের নাগালে চলে এসেছে।

    শীর্ষে থাকা আল নাসরের সংগ্রহ ৩০ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট। দ্বিতীয় আল হিলালের পয়েন্ট ২৯ ম্যাচে ৭১। অর্থাৎ এক ম্যাচ বেশি খেলে আল হিলালের চেয়ে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছে আল নাসর। এ পরিস্থিতিতে নাটকীয় কোনো পতন না হলে রোনালদোদের শিরোপা জয় সময়ের ব্যাপারই বলা যায়। রোনালদোদের দলের হাতে আছে আর ৪ ম্যাচ, আল হিলাল খেলবে আরও ৫ ম্যাচ।

    সাম্প্রতিক ফর্মও বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে রোনালদোদের। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত টানা ২০ ম্যাচ জিতেছে আল নাসর। এর মধ্যে ১৬টি জয় এসেছে সৌদি প্রো লিগে। এ পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বর্তমানে আল নাসর কতটা অপ্রতিরোধ্য।

    গতকাল রাতের জয়ে গোলও পেয়েছেন রোনালদো। ৭৬ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের ইনসুইঙ্গিং কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে গোলটি করেন। ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের মাইলফলকের দিকে ছুটতে থাকা রোনালদোর এটি ৯৭০তম গোল।

    হেডে গোল করছেন রোনালদো
    হেডে গোল করছেন রোনালদোএক্স/রোনালদো

    আর মাত্র ৩০ গোল পেলেই হাজার গোলের জাদুকরি চূড়ায় পৌঁছে যাবেন ‘সিআর সেভেন’। আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪৩ ম্যাচে রোনালদো করেছেন ১২৬ গোল এবং ২৩ গোল করিয়েছেন। অর্থাৎ মোট ১৪৯টি গোলে অবদান রেখেছেন কিংবদন্তি।

    রোনালদো একই সঙ্গে টানা তিন মৌসুমে সৌদি লিগে ২৫ বা এর বেশি গোল করার কীর্তিও গড়েছেন। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত টানা ৯ মৌসুমের পর আবার এমন ধারাবাহিকতায় দেখা দিলেন রোনালদো।

    জয় ও গোলের পাশাপাশি ভিন্ন এক কারণেও এদিন আলোচনায় ছিল এই ম্যাচ। এমন এক প্রেক্ষাপটে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চার দিন আগে আল আহলি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট শিরোপা জিতেছে। সে উপলক্ষে আল নাসরের মাঠে অতিথিদের গার্ড অব অনার না দেওয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।

    এ ঘটনা ছাড়াও চলতি মৌসুমে দুই দলের সম্পর্কও ছিল বেশ তিক্ত। আল আহলি থেকে বহুবার রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ ও পক্ষপাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে। গতকালও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। আল আহলির দাবি, তাদের অন্তত দুটি হ্যান্ডবলের জন্য পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল।

    ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি পুরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কিংসলে কোমান ও মেরিহ ডেমিরালের মধ্যকার উত্তেজনা দর্শকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, যে উত্তেজনা ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও ছিল।

    বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আল নাসরের মোহামেদ সিমাকান গ্যালারি থেকে ক্লাবের বড় একটি পতাকা নিয়ে এসে প্রথমে ডেমিরালের সামনে সেটি নাড়িয়ে দেখান, এরপর মাঠজুড়ে সেটি ঘুরিয়ে ‘ল্যাপ অব অনার’ দেন।

    অন্যদিকে ডেমিরাল আল আহলির স্টাফদের কাছ থেকে একটি এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ীর মেডেল নিয়ে আল নাসর সমর্থকদের দিকে সেটি উঁচিয়ে ধরেন। ম্যাচ–পরবর্তী সাক্ষাৎকার চলাকালে আল আহলি সমর্থকেরা রোনালদোর উদ্দেশে বলেন, তাঁদের দল দুবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন। জবাবে রোনালদো হাসিমুখে হাত তুলে বলেন, ‘আমার পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ আছে।’

  • ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডে বড় পরিবর্তন আনল গুগল

    ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডের নতুন হালনাগাদ উন্মুক্ত করেছে গুগল। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে অনলাইনে তথ্য অনুসন্ধান ও কেনাকাটার সময় ব্যবহারকারীদের বারবার ট্যাব পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। ফলে ব্যবহারকারীরা বর্তমানের তুলনায় দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

    গুগল জানিয়েছে, ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডে যুক্ত নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের একই সঙ্গে ওয়েবসাইট ব্রাউজিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণের সুযোগ দেবে। নতুন হালনাগাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হচ্ছে ‘স্প্লিট-স্ক্রিন’ সুবিধা। সুবিধাটি চালুর ফলে এআই মোডে কোনো লিংকে ক্লিক করলে সেটি আলাদা ট্যাবে না খুলে একই পর্দায় এআই উইন্ডোর পাশেই দেখা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীদের আগের পাতায় ফিরে যেতে বা বারবার ট্যাব পরিবর্তন করতে হবে না।

    নতুন হালনাগাদে ‘মাল্টি-মোডাল’ অনুসন্ধান সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাঁদের খোলা ট্যাব, ছবি বা পিডিএফ ফাইল থেকে তথ্য নিয়ে একসঙ্গে অনুসন্ধান করতে পারবেন। এর পাশাপাশি সার্চ বক্সে থাকা নতুন ‘প্লাস’মেনুতে ক্লিক করে ব্যবহারকারীরা সাম্প্রতিক ট্যাব, ছবি বা ফাইল নির্বাচন করে সেগুলোকে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুক্ত করতে পারবেন। ফলে ব্যবহারকারীরা একাধিক উৎস থেকে তথ্য একত্রিত করে জটিল অনুসন্ধান সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন।

    গুগলের দাবি, ক্রোম ব্রাউজারের নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের তথ্য খোঁজা ও বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াকে আরও সাবলীল করে তুলবে। এতে ব্যবহারকারীরা একই কাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন তথ্য তুলনা করতে পারবেন, নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রশ্ন করার পাশাপাশি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ক্লাব বিশ্বকাপেও ৪৮ দল চায় ফিফা, আপত্তি উয়েফার

    প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে জুন–জুলাইয়ে। ফিফা চায় ক্লাবগুলোকে নিয়ে যে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়, সেটিতেও ৪৮ দল খেলবে। তবে ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষ উয়েফা এমন পরিকল্পনার সঙ্গে একমত নয়। সম্প্রতি ব্রাসেলসে উয়েফার সাধারণ সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ক্লাব বিশ্বকাপের বিষয়টি আলোচিত হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শুধু মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আয়োজিত হতো। তবে ২০২৫ সালে নতুনভাবে ৩২ দল নিয়ে আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া ক্লাব বিশ্বকাপটি নিয়ে ফিফা বেশ সন্তুষ্ট। এখন মূল বিশ্বকাপের মতো এই টুর্নামেন্টটিও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

    ৫০ শতাংশ দল বাড়াতে চায় ফিফা

    মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে উয়েফা কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ফিফা সভাপতি সুপার লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। ফিফা চায়, ক্লাব বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ দলে উন্নীত করতে, যা জাতীয় দলগুলোকে নিয়ে আয়োজিত মূল বিশ্বকাপের মতোই ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

    এ ক্ষেত্রে ২০২৯ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ স্পেন ও মরক্কোতে আয়োজনের চিন্তা আছে সংস্থাটির। পরের বছরই এ দুই দেশে ফিফা বিশ্বকাপ থাকায় ক্লাবের টুর্নামেন্টটি ‘টেস্ট রান’ হিসেবে জুতসই মনে করা হচ্ছে। তবে টানা দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজনের বিকল্পও খোলা রাখা হয়েছে।

    উয়েফার আপত্তি

    তবে ক্লাব বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর পরিকল্পনায় আপত্তি জানিয়েছে উয়েফা। সর্বশেষ আসরে উয়েফার ১২টি দল খেলেছে ক্লাব বিশ্বকাপে, যা যেকোনো মহাদেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। ফাইনালে খেলেছেও ইউরোপের দুই ক্লাব চেলসি ও পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চেলসি।

    তবে সূচির ব্যস্ততা এবং অতিরিক্ত ম্যাচ ও দল যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আরও ভাবা দরকার বলে উয়েফা এখনই ৪৮ ক্লাবের বিশ্বকাপের বিষয়ে ইতিবাচক নয় বলে জানিয়েছে মার্কা। উয়েফা নিজেই সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ পর্বে উত্তীর্ণ দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত চারটি ম্যাচ বাড়িয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তিসহ অনেকে মৌসুমের টুর্নামেন্ট শেষে সূচির অত্যধিক চাপ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। এখন আবার ফিফার টুর্নামেন্টে দল বাড়লে খেলোয়াড়দের ওপরও চাপ বাড়বে।

  • খেলাধুলার ‘অস্কার’ পেলেন ইয়ামাল, আলকারাজ, সাবালেঙ্কা

    ‘খেলাধুলার অস্কার’খ্যাত লরিয়াস বর্ষসেরা পুরস্কার অনুষ্ঠানে এবার আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল টেনিস। শীর্ষ দুই পুরস্কারের দুটিই নিজেদের করে নিয়েছেন দুই টেনিস তারকা। বর্ষসেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন স্প্যানিশ টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ এবং বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা।

    ক্যারিয়ারে প্রথমবার এ পুরস্কার পেলেন আলকারাজ ও সাবালেঙ্কা। মাদ্রিদের সিবেলেস প্যালেসে গতকাল রাতে এক জমকালো অনুষ্ঠানে দেওয়া হয় এ পুরস্কার। যেখানে বর্ষসেরা তরুণ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার উঠেছে বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালের হাতে। ২০২৬ সালের এ আয়োজন উপস্থাপনা করেন ক্রীড়াজগতের দুই তারকা নোভাক জোকোভিচ ও আইলিন গু।

    টেনিসে গত বছরটা দারুণ কেটেছে ২২ বছর বয়সী আলকারাজের। ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ইউএস ওপেন জিতেছেন। আর এ সাফল্যের কারণেই বর্ষসেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার পেয়েছেন ইয়ামাল। পুরস্কার পেয়ে আলকারাজ বলেছেন, ‘যাঁরা খেলাধুলা এত গভীরভাবে বোঝেন, তাঁদের কাছ থেকে এ স্বীকৃতি পাওয়া আরও বেশি অর্থবহ। এই রাত আমি কোনো দিন ভুলব না, হৃদয়ে গেঁথে থাকবে সব সময়।’

    নারীদের শীর্ষ বাছাই সাবালেঙ্কা গত বছর জিতেছিলেন ইউএস ওপেন। এটি ছিল তাঁর চতুর্থ গ্র্যান্ড স্লাম। পুরস্কার হাতে নিয়ে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমি এখন কাঁপছি! আমার নামটা যেসব কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের পাশে লেখা হবে, যাঁদের দেখে বড় হয়েছি, যাঁদের অনুসরণ করেছি। বিষয়টা ভাবতেই একটু অবিশ্বাস্য লাগছে।’
    বর্ষসেরা স্পোর্টিং ইনস্পাইরেশন পুরস্কার জিতেছেন টনি ক্রুস
    বর্ষসেরা স্পোর্টিং ইনস্পাইরেশন পুরস্কার জিতেছেন টনি ক্রুস, এএফপি

    বর্ষসেরা তরুণ ক্রীড়াবিদের পুরস্কার গ্রহণের পর ইয়ামাল বলেছেন, ‘আমি এই পুরস্কার পেয়ে খুবই আনন্দিত। এটা আমার জন্য বড় সম্মানের। আমি একাডেমিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমার পরিবারকে—আমার মা, যিনি আমার ভাইকে নিয়ে বাসায় আছেন, আমার বাবা, আমার দাদি, আমার সতীর্থরা এবং সেই দলকে, যারা সব সময় আমাকে সমর্থন দেয়।’

    লরিয়াসে দুবার বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জেতা লিওনেল মেসিকেও স্মরণ করেন ইয়ামাল, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। সব খেলাধুলার মধ্যে তিনি সেরা কি না, জানি না, তবে না হলেও খুব কাছাকাছি আছেন। তিনি একজন আদর্শ। তিনি যা অর্জন করেছেন, তার জন্য সবাই তাঁকে সম্মান করে।’

    বর্ষসেরা দল নির্বাচিত হয়েছে পিএসজি। গত মৌসুমে ট্রেবল জয়ের পথে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে ফ্রান্সের ক্লাবটি।

    [caption id="attachment_272080" align="alignnone" width="622"] কার্লোস আলকারাজ এবং বর্ষসেরা নারী ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা, তরণ ক্রীড়াবিদ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল।[/caption]
     
     
  • গম পাচারের অভিযোগ, নায়িকা নুসরাতকে তলব

    আবার রেশন দুর্নীতি মামলায় ভারতের অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে তলব করল দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। ২৩ এপ্রিল পশ্বিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগেই ইডির তরফে ২২ তারিখ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নায়িকাকে।

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, একটি বিশেষ সূত্র ধরে রেশন দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীর নাম উঠে এসেছে। কয়েক বছর আগে যখন বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগ উঠেছিল, সে সময়ে নুসরাত জাহান বসিরহাটের সংসদ সদস্য ছিলেন। সে সময়ে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, সেটা খতিয়ে দেখতেই টালিউড অভিনেত্রীকে আগামী বুধবার ইডির দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কলকাতা না দিল্লি—কোন দপ্তরে হাজিরা দেবেন নুসরাত? সেই বিষয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

    নুসরাত জাহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    নুসরাত জাহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    শোনা যাচ্ছে, কলকাতায় নয়, বরং দিল্লির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজিরা দেবেন নুসরাত জাহান। সূত্রের খবর, ২২ এপ্রিল ইডির পক্ষ থেকে কলকাতার দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিনেত্রীই বিশেষ আবেদনের মাধ্যমে দিল্লির ইডি দপ্তরে হাজিরার আরজি জানিয়েছেন।

    যশ-নুসরাত দিন কয়েক ধরেই বিদেশে ছুটি কাটাচ্ছেন। মাঝেমধ্যেই তাঁদের ভ্রমণবিলাসের ঝলক দেখা যাচ্ছে নেট–ভুবনে। এমতাবস্থায় ইডির সমন পেলেন নুসরাত জাহান। উল্লেখ্য, অতীতেও ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
    নতুন করে ইডির তলব বিষয়ে অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে

  • গাজায় রাফা সীমান্ত খুলে দিল ইসরায়েল

    গাজা ও মিসরের মধ্যকার সীমান্ত পারাপারের জন্য রাফা ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল রোববার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। তবে এটি বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে এবং শুধু ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

    ফিলিস্তিনি বেসামরিক বিষয়গুলো সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং রাজনৈতিক স্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার থেকে রাফা সীমান্ত সীমিত আকারে শুধু বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।’

    সংস্থাটি আরও বলেছে, রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়ার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্ডার অ্যাসিস্ট্যান্স মিশন, মিসর এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

    কোগাট আরও উল্লেখ করেছে, সীমান্তটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এখন প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করছে। সংস্থাটি যোগ করেছে, এই প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর উভয় দিক থেকে বাসিন্দাদের প্রকৃত যাতায়াত শুরু হবে। আপাতত প্রতিদিন এ ক্রসিং দিয়ে দেড় শ জন গাজা ছাড়তে পারবেন, আর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে ফিরতে পারবেন ৫০ জনের মতো।

    এএফপি,জেরুজালেম

  • গানে গানেই টেইলর সুইফট এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পী

    ২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদ নিয়ে অফিশিয়ালি টেইলর সুইফটই এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পী। সংগীত ও লাইভ পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই তাঁর এই অর্জন।

    [caption id="attachment_269545" align="alignnone" width="707"] টেইলর সুইফট[/caption]

    মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফটের মোট সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এটা তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করেছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পী হিসেবে। মার্কিন বিজনেস ও লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ফোর্বস–এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আর নারী-পুরুষের সম্মিলিত তালিকাতেও টেইলরের আগে শুধু মার্কিন পপ তারকা জে-জি আছেন।

    তাঁর এই বিপুল আয়ের নেপথ্যে আছে তাঁর ইরাস ট্যুর
     
    তাঁর এই বিপুল আয়ের নেপথ্যে আছে তাঁর ইরাস ট্যুর
    এই বিপুল আয়ের নেপথ্যে আছে তাঁর ইরাস ট্যুর। বিশ্বজুড়ে ইরাস ট্যুরের অভাবনীয় সাফল্যগাথা ইতিমধ্যে সবারই জানা। টেইলরের লাখ লাখ ভক্তদের আকৃষ্ট করেছে এই ট্যুর। ফলে কোটি কোটি টিকিট বিক্রি হয়েছে। ট্যুরের অভূতপূর্ব সাফল্য তাঁকে শুধু আয়ের দিক থেকে নয়, বরং সংগীত ও বিনোদন জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।  

    ২০২৩-এর অক্টোবরে বিলিয়নিয়ার ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন এই তরুণ পপ তারকা। আর ইতিহাসে তিনিই একমাত্র সংগীতশিল্পী, যিনি কেবল অ্যালবাম বিক্রি ও লাইভ শো করে এই ১০ অঙ্কের সম্পদ অর্জন করেছেন। অন্যদের বেলায় তাঁদের সম্পদের উৎস বহুমুখী। তাই টেইলর সুইফটের এই অর্জন অনন্য।  

    শুধু হান গেয়েই ২০০ কোটি ডলার
     
    শুধু হান গেয়েই ২০০ কোটি ডলার

    সংগীত ক্যাটালগের মালিকানা, রয়্যালটি, পুনঃ রেকর্ড করা অ্যালবাম ও স্ট্রিমিং থেকে আয়ের পাশাপাশি মার্চেন্ডাইজ বিক্রিও তাঁর অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যকে আরও বিস্তৃত করেছে। এ ছাড়া স্থাবর সম্পদ ও বিভিন্ন ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ থেকেও নিয়মিত আয় করছেন টেইলর।

    বিশ্বব্যাপী প্রভাব, রেকর্ড ভাঙা কনসার্ট ও ‘সুইফটোনমিক্স’ সব মিলিয়ে টেইলর সুইফট বর্তমানে বিনোদনজগতের শক্তিশালী, প্রভাবশালী এবং স্টাইলিশ নারী শিল্পী।

    ছবি: ইন্সটাগ্রাম

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব