• বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত–ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত, বললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

    ‘খেলার মাঠে রাজনীতি’র অভিযোগ তুলে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার।

    গতকাল বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনি বলেন, ‘টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি—আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ, খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়।’

    বাংলাদেশের পাশে থাকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের পুরোপুরি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি, এটি খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।’

    বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কা আমলে না নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দলটিকে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়। এরপরই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়। তবে সিদ্ধান্তটি গত সপ্তাহে ঘোষণা করা হলেও এর কারণ এই প্রথম প্রকাশ করল পাকিস্তান সরকার। এর আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান আইসিসির দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

    ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হচ্ছে ২০২৬ আইসিসি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা। তবে গত রোববার পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডল থেকে দেওয়া পোস্টে জানানো হয়, ভারত–ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান দল।

    এ বিষয়ে পিসিবি প্রকাশ্যে কিছু বলেনি। তবে সেদিনই আইসিসি এক বিবৃতিতে পাকিস্তানকে ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের’ কথা মনে করিয়ে সিদ্ধান্ত ‘পুনর্বিবেচনা’ করতে বলেছিল।

    ভারতের সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বিশ্বকাপের জন্য ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। গত ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে অনুরোধ করা হয় ভেন্যু বদলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ রাখার জন্য। তবে মোস্তাফিজের ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক’ উল্লেখ করে আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।

    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আইসিসি ভারতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নেয়নি, ভারত সরকারও নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকার পর আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে নিয়েছে।

    অতীতে ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাশঙ্কা আমলে নিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন নয়—এমন প্রশ্ন তুলে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি আইসিসির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেন। ‘বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন। এর আগে আইসিসি বোর্ড সভায় ভেন্যু বদলের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন নাকভি।

  • বাজার বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব

    বাজার যাতে বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার (১৫ মার্চ) চট্টগ্রামে খাতুনগঞ্জ পরিদর্শন শেষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে কাউকে আমদানি না করার মতো কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায় না। তবে বাজারে যদি তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকে, তাহলে ব্যবসায়ীরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন—আরও ডাল আমদানি করবেন নাকি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থামবেন।

    তিনি আরও বলেন, সবার সম্মিলিত লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ভোগ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। তা সম্ভব হলে মানুষের মধ্যে সন্তুষ্টি তৈরি হবে এবং সেই সন্তুষ্টির সুফল ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পাবেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে যথেষ্ট সরবরাহ আছে। কেউ যদি বাড়তি মূল্য নেওয়ার চেষ্টা করে, সে বিষয়ে আপনারাও সচেতন থাকবেন। এরকম বাড়তি মূল্য নেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি এই মুহূর্তে নেই। সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখেছি—কোথাও সরবরাহের কোনো অপ্রতুলতা চোখে পড়েনি। আর মূল্যের তারতম্য হওয়ারও কোনো কারণ নেই, কারণ বোতলের গায়েই মূল্য লেখা আছে।

    তিনি আরও বলেন, পাইকারি আর খুচরা বাজারের যে অযৌক্তিক ব্যবধান, রোজা পরে আমরা একটা ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ কমিটি করবো। সেখানে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মানুষেরও সংযুক্তি থাকবে। দরকার হলে আমরা অন্য পেশাজীবীদেরও এটার সাথে সম্পৃক্ত করবো। কেন পাইকারি আর খুচরা বাজারের ব্যবধানটা অগ্রহণযোগ্য, এটার ভিতরের রহস্যটা কি এটা আমরা খুঁজে বের করবো।

    জ্বালানি তেলের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অহেতুক কেউ দয়া করে আতঙ্কিত হবেন না। যদি পৃথিবীতে কোথাও সংঘাত লাগে, সরবরাহের উপর চাপ বাড়ে, মূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপ থাকে, বাংলাদেশের মানুষের, আপামর মানুষের, ভোক্তার স্বার্থে, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এই পণ্যগুলি রাখার স্বার্থে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আপনাদের নিযুক্ত সরকার সেই ব্যবস্থা নেবে।

     

  • বাণিজ্য মেলায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ, পুরস্কার পেল ৪০ প্রতিষ্ঠান

    মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ), ২০২৬ শেষ হয়েছে। এবারের মেলায় সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ এসেছে প্রায় ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আর মেলায় আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে রেস্তোরাঁর বিক্রিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

    আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

    জানানো হয়, এবারের মেলায় মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত অনেক পণ্য রয়েছে, যেগুলোর উদ্যোক্তারা মেলায় অংশগ্রহণ করেন না। প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে তাঁরা যাতে অংশ নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এই প্রদর্শনী আমাদের নিজেদের জাতীয় সক্ষমতা প্রমাণের একটি বড় সুযোগ। তাই তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে অথবা প্রয়োজনে বিনা মূল্যেও আমন্ত্রণ জানানো যায় কি না, সে বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করে—শিল্পপণ্য, রপ্তানি পণ্য কিংবা গৃহস্থালি পণ্য—সব ধরনের পণ্যের অংশগ্রহণ জরুরি। আশা করি আগামী মেলায় আবারও একজন দর্শক ও পরিদর্শক হিসেবে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।’

    পুরস্কার পেল যারা

    সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। নির্মাণশৈলী, পণ্য প্রদর্শন, ক্রেতা সেবা, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন মানদণ্ডে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত করা হয় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে।

    প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। দ্বিতীয় হয়েছে আরএফএল প্লাস্টিকস লিমিটেড ও তৃতীয় হয়েছে হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড।

    প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন গোল্ড ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কার পেয়েছে সেভয় আইসক্রিম ফ্যাক্টরি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে যথাক্রমে আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেড ও কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এ ছাড়া এস কে বি স্টেইনলেস স্টিল মিলস লিমিটেড যৌথভাবে একই স্বীকৃতি পেয়েছে।

    মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় ফ্যাশন শো ‘সুতার গল্প’। আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে
    মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় ফ্যাশন শো ‘সুতার গল্প’। আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে
     

    জেনারেল প্যাভিলিয়ন প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে কারা অধিদপ্তর (বাংলাদেশ জেল) ও ঢাকা আইসক্রিম লিমিটেড। দ্বিতীয় হয়েছে আবুল খায়ের কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড। তৃতীয় হয়েছে অ্যালয় অ্যালুমিনিয়াম ফার্নিচার লিমিটেড।

    মিনি প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার জিতেছে ডিভাইন কার্পেট অ্যান্ড ফ্লোরিং লিমিটেড। যৌথভাবে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বায়োজিন এবং জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)। তৃতীয় হয়েছে আর এম জুট ডাইভারসিফিকেশন মিলস লিমিটেড।

    প্রিমিয়ার স্টল ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে জেএমজি ইন্টারন্যাশনাল। দ্বিতীয় হয়েছে আকিজ রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড অটোমোবাইল লিমিটেড এবং তৃতীয় হয়েছে যৌথভাবে আরএফএল ইলেকট্রনিকস ও ব্রাদার্স ফার্নিচার।

    প্রিমিয়ার মিনি স্টল বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে আকতার ফার্নিশার্স। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে যৌথভাবে হাতিল কমপ্লেক্স ও হাতিম স্টিল স্ট্রাকচার। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে নাদিয়া ফার্নিচার।

    এ ছাড়া রিজার্ভ স্টল ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে যৌথভাবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন করপোরেশন। একই ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ড ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন। আর তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে যৌথভাবে রিবানা অর্গানিক ও বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড।

    জেনারেল স্টল ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে বিজার্টি ক্যানভাস। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ডেলআর্ট লিমিটেড এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেকটিভিটি প্রকল্প-১ (বিআরসিপি-১)।

    ফরেন মিনি প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে তুরস্কের অরিজিনাল ইস্তাম্বুল ক্রিস্টাল। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ভারতের এম/এস তারিক কার্পেট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে ইন্ডিয়ান কার্পেট ইন্ডাস্ট্রিজ।

    ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) শেষ দিনে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে
    ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) শেষ দিনে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারেছবি: প্রথম আলো

    ফরেন প্রিমিয়ার স্টল ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে হংকংয়ের রাবাব ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে সিঙ্গাপুরের পেন্টেল পিটিই লিমিটেড এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পিটি নিসিন ফুডস।

    নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে জয়িতা ফাউন্ডেশন। একই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ক্লে-ইমেজ।

    নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য

    মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—কারা অধিদপ্তরের বাঁশজাত পণ্য, জয়িতা ফাউন্ডেশনের ডাইভারসিফাইড জুট পণ্য ও হারবাল চা, বিসিকের ভেজিটেবল ডাইং পোশাক, তাঁত বোর্ডের ঢাকাই মসলিন, জেডিপিসির পাটের ট্যাপেস্ট্রি, অ্যাপেক্স ফুডসের রেডি-টু-ইট খাবার এবং বাংলাদেশ টি বোর্ডের রোজেলা ও ব্লু টি।

    এবার রপ্তানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেলার পাশাপাশি আটটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য দেশবরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। গতকাল শেষ দিনে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এবার দর্শনার্থীদের সেবা দিতে ২০০টির বেশি বিআরটিসি বাস চলাচল করেছে বলে জানানো হয়।

  • বাতিল হয়ে গেল আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফিনালিসিমা

    ফুটবলপ্রেমীরা অনেকেই হয়তো ক্যালেন্ডারের পাতায় গোল দাগ দিয়ে রেখেছিলেন। একদিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও লাতিন আমেরিকার সেরা দল আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। একদিকে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে তাঁরই উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছে যাকে—সেই লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু মাঠের সেই লড়াই আর হচ্ছে না। আপাতত বাতিলের খাতায় চলে গেল বহুল প্রতীক্ষিত ‘লা ফিনালিসিমা’।

    আজ উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে, ২৭ মার্চ কাতারে যে ফিনালিসিমা হওয়ার কথা ছিল, তা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভেন্যু ও সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার সঙ্গে নতুন সূচি ও ভেন্যু নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি।

    লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের মুখোমুখি লড়াই দেখা হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের।
    লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের মুখোমুখি লড়াই দেখা হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের।এএফপি

    ফিনালিসিমা হলো কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার লড়াই। ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলিতে ইতালিকে হারিয়ে প্রথমবার এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল মেসির আর্জেন্টিনা। এবারও আরও একটা লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বাদ সাধল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি। কাতার থেকে ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিক বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল উয়েফা, যা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

    উয়েফার বিবৃতিতে তাই একরাশ হতাশা ফুটে উঠেছে, ‘দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির কারণে আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফির জন্য লড়াই করার সুযোগ করে দিতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

    শেষ চেষ্টায় উয়েফা ২৭ মার্চ বা ৩০ মার্চ ইউরোপের কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা জানিয়ে দেয়, পুরোনো তারিখে তারা খেলতে পারবে না। তারা শুধু ৩১ মার্চই খেলতে পারবে।

    উয়েফা চেয়েছিল, কাতার না হলে অন্তত ইউরোপের কোনো মাঠে ম্যাচটি হোক। তাদের প্রথম প্রস্তাব ছিল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। কিন্তু আর্জেন্টিনা সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এরপর উয়েফা দুই লেগের হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে ম্যাচের প্রস্তাব দেয়। প্রথম ম্যাচ মাদ্রিদে এবং দ্বিতীয়টি বুয়েনস এইরেসে। ২০২৮ সালের ইউরো বা কোপা আমেরিকার আগে কোনো এক সময়ে এই ফিরতি ম্যাচ আয়োজনের কথা ছিল। সেটিও ফিরিয়ে দেয় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    শেষ চেষ্টায় উয়েফা ২৭ মার্চ বা ৩০ মার্চ ইউরোপের কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা জানিয়ে দেয়, পুরোনো তারিখে তারা খেলতে পারবে না। তারা শুধু ৩১ মার্চই খেলতে পারবে।
    এই টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত ভেস্তেই গেল ম্যাচটি।

  • বাবা–ছেলের জুটিতে ৫৯০ রান, একজনের ব্যাটে ৪২ ছক্কায় ৪০২

    ছেলের বয়স কম, ব্যাটে তেজ বেশি, মাঠে নেমে বোলারদের তুলাধোনা করাই যেন তাঁর অভ্যাস। আর বাবার বয়স ষাট পেরোলেও ব্যাট হাতে যেন তারুণ্য। এই বাবা-ছেলে একসঙ্গে বাইশ গজে ওপেন করতে নামার পর যা ঘটালেন, তাকে শুধু ‘বিস্ময়’ বললে কম বলা হবে। পেশাদার ক্রিকেট হোক বা অপেশাদার, দুই প্রজন্মের এমন ঝোড়ো ব্যাটিং ক্রিকেট বিশ্ব আগে দেখেছে কি না সন্দেহ।

    অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড অ্যান্ড সাবআরবান অ্যাসোসিয়েশন ক্রিকেটে গত শনিবার ঘটেছে এই অবিশ্বাস্য ঘটনা। করোম্যান্ডেল ভ্যালির হয়ে মরফেটভিল পার্কের বিপক্ষে ওপেনিং জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ৫৯০ রান তুলেছেন বাবা ড্যারেন চিক এবং তাঁর ছেলে স্যাম চিক। ৪০ ওভারের ম্যাচটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

    ইনিংসের শুরুতে বাবা ড্যারেন কিছুটা আক্রমণাত্মক থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যপট বদলে দেন ছেলে স্যাম। মাত্র ৫৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর রীতিমতো রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন তিনি। সেঞ্চুরি থেকে ১৫০ রানে যেতে তাঁর লাগে মাত্র ১৭ বল। এরপর ৮৭ বলে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি, পরের ১০০ রান করেন মাত্র ২২ বলে।

    ইনিংস শেষে স্যাম অপরাজিত থাকেন ৪০২ রানে। মাত্র ১৩২ বলের এই ইনিংসে তিনি ছক্কাই মেরেছেন ৪২টি, চার ৩০টি। শুধু বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ৩৮৪ রান। স্যামের স্ট্রাইক রেট ছিল ৩০০-এর ওপরে। ইনিংসের ৩২তম ওভারে ডার্সি লেনের এক ওভারে টানা ছয় ছক্কাও মারেন।

    ছেলের তাণ্ডবের দিনে বাবা ড্যারেন চিকও কম যাননি। ষাটোর্ধ্বদের ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা ড্যারেন ১০৮ বলে ১৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৪০ ওভার শেষে করোমন্ডেল ভ্যালির সংগ্রহ দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৫৯০ রান। অস্ট্রেলিয়ার ফক্স স্পোর্টস লিখেছে, ৫৯০ রানের জুটি ৪০ ওভারের ম্যাচে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ।

     

    বাবা-ছেলের জুটির ব্যাটিং যে কতটা দুর্দান্ত ছিল, সেটি বোঝা যাবে রান তাড়ায় নামা মরফেটভিল পার্কের ইনিংসে তাকালে। ৫৯০ রান তাড়ায় পুরো ৪০ ওভার খেলে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪৬ রান করতে পারে দলটি। করোম্যান্ডেল জেতে ৪৪৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। ব্যাটিংয়ে কয়েক ঘণ্টা তাণ্ডব চালানোর পর বাবা-ছেলে মিলে বোলিংও ওপেন করেন। ড্যারেন ১১ রান দিয়ে ১ উইকেট নিলেও স্যাম উইকেটশূন্য থাকেন।

    অপেশাদার ক্রিকেটের এই স্কোরকার্ড প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন পড়ে যায়। হ্যারি হ্যারিস নামের একজন লিখেছেন, ‘স্যামের বোধ হয় কোথাও যাওয়ার তাড়া ছিল।’

    ইয়াইন নামের একজন ড্যারেনের প্রসঙ্গ তুলে মজা করে লিখেছেন, ‘১০৮ বলে ১৭৫* করার পরও নিজের ছেলের কাছে তাঁকে একেবারে পাড়ার ক্রিকেটার মনে হচ্ছে।’ লেড জনসন প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিপক্ষের বোলিং নিয়ে, ‘ছেলেটি প্রতি বলে প্রায় ৪ রান করে তুলেছে। এটি কোন স্তরের বোলিং?’

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ক্রিস গেইলও এই আলোচনায় শামিল হয়েছেন। বাবা-ছেলের ইনিংস নিয়ে করা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি আগুনের ইমোজি দিয়ে মন্তব্য করেন, ‘এ কী দেখছি!’

  • বিকাশ, নগদ, রকেটে টাকা পাঠানোয় আর বাধা নেই

    জাতীয় নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হয়েছিল। চার দিনের জন্য এসব সেবা সীমিত করা হয়। এতে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা প্রতিবার এক হাজার টাকার বেশি পাঠাতে পারেননি।

    গত রাত বারোটার পর থেকে এসব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    গত রোববার রাতে এসব সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিন থেকে ওইসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে টাকা পাঠাতে গিয়ে অনেক গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে রোববার রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (পূর্ণ ৯৬ ঘণ্টা) এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল এক হাজার টাকা ও লেনদেনের সর্বোচ্চ সংখ্যা দৈনিক ১০টি। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও পরিষেবা বিলের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত লেনদেনের বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

    এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

  • বিকাশ, রকেট ও নগদে এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না, নির্দেশনা আসছে

    ঢাকা
  • বিশ্বকাপ জিতে ভারত কত টাকা পেল, নিউজিল্যান্ড কত

    বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের পুরস্কার শুধু ট্রফি নয়, অর্থকড়িও। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে যেমন বড় অঙ্কের টাকা পেতে যাচ্ছে ভারত। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) খালি হাতে ফেরাচ্ছে না কাউকেই।

    রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড তো বটেই, সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল, সুপার এইটে থমকে যাওয়া চার দল, এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ৮ দলের জন্যও অর্থ বরাদ্দ আছে।

    ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (১ ডলার সমান ১২১.৬৫ টাকা) মোট ১৬৪ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নদের জন্য বরাদ্দ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ শিরোপা জিতে ভারত পাচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩৬ কোটি টাকা।

    ফাইনালে ভারতের কাছে ৯৬ রানে হেরে যাওয়া নিউজিল্যান্ড পাচ্ছে ভারতের প্রায় অর্ধেক—১৬ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ১৯ কোটির টাকার কাছাকাছি। ভারত ও নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে যাদের হারিয়েছে, সেই ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা পাচ্ছে ৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার বেশি।

    ২০ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকে বিদায় নেয় ৪টি দল। জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান পাচ্ছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা সাড়ে চার কোটি টাকার বেশি করে। আর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ১২টির দলের প্রতিটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বাবদ পাচ্ছে আড়াই লাখ ডলার বা ৩ কোটির বেশি টাকা করে।

  • বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬: কোথায় থাকবে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও স্পেন

    ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে এই ফুটবল উৎসবে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। ভেন্যুও ছড়িয়ে আছে তিন দেশের বিশাল মানচিত্রজুড়ে। স্বাভাবিকভাবেই এই বিশাল যজ্ঞে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার নাম ‘লজিস্টিকস’। বিশেষ করে টুর্নামেন্ট চলাকালে ঘাঁটি বা ‘বেস ক্যাম্প’ কোথায় করা হবে, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করতে হচ্ছে দলগুলোকে।

    সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গাটি নিজেদের দখলে নিতে ফিফার কাছে দৌড়ঝাঁপ করছে দলগুলো। যদিও এখনো সব দলের ‘বেস ক্যাম্প’ চূড়ান্ত হয়নি, তবে অনেক বড় দলই এরই মধ্যে ঠিকানা ঠিক করে ফেলেছে।

    ‘বেস ক্যাম্প’ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলগুলো অনেক কিছু মাথায় রাখে। হোটেলের মান, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা, অনুশীলন ভেন্যুতে যাতায়াতের সহজ পথ থেকে শুরু করে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা—সবকিছুই হতে হয় নিখুঁত।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত কোন দেশগুলো তাদের ‘বেস ক্যাম্প’ চূড়ান্ত করেছে, তা জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক।

    ক্রোয়েশিয়া: আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া

    ক্রোয়েশিয়া তাদের আস্তানা গাড়ছে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আলেকজান্দ্রিয়ায়। তাদের থাকার জন্য ঠিক করা হয়েছে শহরের একটি বিলাসবহুল হোটেল। আর অনুশীলনের জন্য তারা বেছে নিয়েছে শহরের এপিসকোপাল হাইস্কুলকে। দলটির কোচ জ্লাতকো দালিচ জানিয়েছেন, অনুশীলনের সুযোগ, হোটেল এবং যাতায়াতের সুবিধা—সবকিছুর বিচারে আলেকজান্দ্রিয়াই তাদের জন্য সেরা।

    এই মাঠে অনুশীলন করবে ক্রোয়েশিয়া
    এই মাঠে অনুশীলন করবে ক্রোয়েশিয়াফিফা

    জার্মানি: উইনস্টন-সালেম, নর্থ ক্যারোলাইনা

    জার্মানরা ডেরা বাঁধছে নর্থ ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সালেমে। ওয়েইক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটি হবে তাদের মূল কেন্দ্র। এই ইউনিভার্সিটির ফুটবল–ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। ২০০৭ সালে তারা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল এবং ছয়বার সেমিফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। জার্মান ফুটবলাররা থাকবেন ‘গ্রেইলিন এস্টেট’-এ।

    স্পেন: চ্যাটানুগা, টেনেসি

    সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন বেছে নিয়েছে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের চ্যাটানুগা শহরকে। টেনেসি নদীর তীরে ১ লাখ ৯০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট শহরের এম্বেসি সুইটস হোটেলে থাকবে স্প্যানিশরা। আর তাদের প্র্যাকটিস চলবে বেলর স্কুলে। গত ক্লাব বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সিটি দলটিও এখানেই অনুশীলন করেছিল।

    ইয়ামালদের বেস ক্যাম্প টেনেসির চ্যাটানুগায়
    ইয়ামালদের বেস ক্যাম্প টেনেসির চ্যাটানুগায়এএফপি

    উরুগুয়ে: প্লেয়া দেল কারমেন, মেক্সিকো

    বিশ্বকাপের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ বেস ক্যাম্পটি সম্ভবত হতে যাচ্ছে উরুগুয়ের। পর্যটকদের স্বপ্নের গন্তব্য মেক্সিকোর প্লেয়া দেল কারমেনে থাকবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সাদা বালু আর নীল সমুদ্রের এই পর্যটনকেন্দ্রে অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন দারুণ, তেমনি এখান থেকে অন্য ভেন্যুতে যাওয়ার সময়ও কম লাগবে।

    ব্রাজিল: মরিসটাউন, নিউজার্সি

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেছে নিয়েছে একদম ঝকঝকে নতুন এক স্থাপনাকে। এমএলএস দল নিউইয়র্ক রেড বুলসের নতুন ঘাঁটি ‘রেড বুল পারফরম্যান্স সেন্টার’-এ (বিশ্বকাপের সময় যার নাম হবে কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি) অনুশীলন করবে সেলেসাওরা। নিউইয়র্ক সিটি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরের এই সেন্টারে ৮টি পূর্ণ মাপের ফুটবল মাঠ রয়েছে।

    ব্রাজিল এবার ঘাঁটি গাড়ছে নিউইয়র্কে
    ব্রাজিল এবার ঘাঁটি গাড়ছে নিউইয়র্কেছবি: রয়টার্স

    ফ্রান্স: বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস

    ২০২২ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স আস্তানা গাড়ছে ঐতিহাসিক বোস্টন শহরে। দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা থাকবেন ফোর সিজনস হোটেলে। আর বাবলসন কলেজের মাঠে চলবে তাঁদের অনুশীলন। ফ্রান্স তাদের গ্রুপের শেষ ম্যাচটি খেলবে নরওয়ের বিপক্ষে, জিলেট স্টেডিয়ামে।

    আর্জেন্টিনা: কানসাস সিটি, মিসৌরি

    মেসিরা আস্তানা বানাবেন কানসাস সিটিতে
    মেসিরা আস্তানা বানাবেন কানসাস সিটিতে, এএফপি
     

    বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আস্তানা গড়ছে কানসাস সিটিতে। তারা এমএলএস দল স্পোর্টিং কেসির প্র্যাকটিস মাঠ ব্যবহার করবে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, দূরত্বের কথা চিন্তা করলে কানসাস সিটিই টুর্নামেন্টে তাদের জন্য সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে কানসাস সিটি চিফস-এর অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে।

  • বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় হার

    ভারতের সবচেয়ে বড় হার

    দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত ১১১ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরেছে ৭৬ রানে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় হার এটি। এত দিন বড় হার ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে।

    ২০২২ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টে হারল ভারত। মাঝে ২২টি ম্যাচ খেলে জিতেছিল ২১টিতে, একটি ছিল বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত।

    ভারত ১১১ রানে অলআউট, দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে জয়ী

    ৮৮ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হারের ব্যবধান কমাতে ব্যাট চালিয়েছিলেন শিবম দুবে। কিছুটা সফলও হয়েছেন। তবে বেশি দূর দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। উনিশতম ওভারের চতুর্থ বলে তিনি আউট হওয়ার পর পঞ্চম বলে বুমরার উইকেটটিও হারিয়েছে ভারত। টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে ভারতের ইনিংসের সমাপ্তি টেনেছেন মার্কো ইয়ানসেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত অলআউট ১১১ রানে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৭৬ রানে।

  • বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম, ওয়ালস্ট্রিটে পতনের আভাস

    মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।

    এদিকে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে আজ ওয়ালস্ট্রিটে সূচক পতনের আভাস পাওয়া গেছে। ওয়ালস্ট্রিটের ফিউচার সূচক কমে গেছে। ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিশেষ পরিস্থিতির কথা বলে শেয়ারবাজার বন্ধ করে দিয়েছে।

    বিষয়টি হলো, হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে জাহাজে হামলার কারণে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।

    যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিন ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, দুটি জাহাজ অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়। তৃতীয় একটি জাহাজের খুব কাছাকাছি একটি অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে ওই জাহাজের নাবিকেরা নিরাপদে আছেন।

    একই এলাকায় চতুর্থ একটি ঘটনার কথাও ইউকেএমটিও জানিয়েছে, যেখান থেকে জাহাজের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে এর কারণ স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরজুড়ে ‘একাধিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনার’ কথা উল্লেখ করে জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।

    ইরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি অতিক্রম না করে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালির প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

    জাহাজ-তথ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার হরমুজের বাইরে উপসাগরের উন্মুক্ত পানিতে নোঙর ফেলেছে। তবে ইরান ও চীনের কয়েকটি জাহাজ আজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

    কেপলারের বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, ইরানের হুমকির কারণে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই পথে চলাচলের ঝুঁকি অনেক। সেই সঙ্গে বিমার ব্যয় হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় জাহাজগুলো এই পথ এড়িয়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত নৌপথ সুরক্ষায় উদ্যোগ নেবে; সেটি কার্যকর হলে দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় প্রণালি বন্ধ থাকলে তেলের দাম ‘অনেক’ বাড়তে পারে।

    এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সেই জাহাজগুলোয় আগুন জ্বলছে। তবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

    জ্বালানি তেল
    জ্বালানি তেল, ফাইল ছবি: রয়টার্স

    উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক

    গতকাল রোববার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো দৈনিক উৎপাদন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লক্ষ্য হলো—সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এতে বড় ধরনের স্বস্তি না–ও আসতে পারে।

    এমএসটি রিসার্চের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সাউল কাভনিক বলেন, বাজারে এখনো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েনি। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তেল পরিবহন ও উৎপাদন অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়নি। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না, বাজার তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চলাচল স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমতে পারে।

    জাহাজ কোম্পানি কী বলছে

    বেসরকারি সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, জিব্রাল্টার, পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে; ইউকেএমটিও যেসব ঘটনার কথা বলেছে, সেগুলোর সঙ্গে এর মিল আছে।

    ডেনমার্কভিত্তিক কনটেইনার শিপিং গ্রুপ মেয়ার্সক গতকাল বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করবে। এ ক্ষেত্রে যা হয়, অর্থাৎ উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে বিকল্প পথে জাহাজ পাঠাবে তারা।

    এদিকে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর গতকাল ইরান ও ইসরায়েল নতুন করে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত), কাতারের রাজধানী দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

    মার্কিন ও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে সূচক পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে
    মার্কিন ও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে সূচক পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ফাইল ছবি: রয়টার্স

    শেয়ারসূচক পতনের আভাস

    এদিকে আজ পশ্চিমা পৃথিবীতে সপ্তাহের প্রথম দিনে শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকগুলোর পতন হয়েছে। ওয়ালস্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসডাক কম্পোজিট, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ফিউচার—সব কটিই প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে। খবর সিএনএনের

    তবে তেল কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এক্সন মবিল, শেভরনসহ আরও অনেক জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারের আগাম দাম প্রায় ২ শতাংশ করে বেড়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারও সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

    ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ইউরোস্টক্স ৫০–সংযুক্ত ফিউচারস ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। জার্মানির ড্যাক্স ফিউচারস নেমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ কথা উল্লেখ করে সাময়িকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন স্থগিত করেছে।

    ফিউচার (ভবিষ্যৎ চুক্তি) হলো এমন ধরনের আর্থিক চুক্তি, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আগাম নির্ধারিত দামে ভবিষ্যতের কোনো তারিখে শেয়ার, পণ্য বা সূচক কেনাবেচার অঙ্গীকার করেন। বাজার খোলার আগেই ফিউচার লেনদেন দেখে বিনিয়োগকারীরা দিনটি সম্পর্কে আগাম ধারণা পান।

  • বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার ৫ হাজার ডলার ছাড়াল

    শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। স্পট মার্কেটে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪১ দশমিক ৮০ ডলার।

    এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী শুক্রবার) সোনার দাম আউন্সপ্রতি বেড়েছে ১১৪ দশমিক ৮৩ ডলার। গত এক মাসে সোনার দাম বেড়েছে ৩০৭ দশমিক ৫৯ ডলার।

    এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার আগাম দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৪৬ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে।

    তবে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারের চিত্র ছিল ভিন্ন। মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় পতনের পর বিক্রির চাপ বাড়ায় সোনার দর প্রায় ৩ শতাংশ কমে যায়। সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। ফলে সোনার দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসে। খবর ইকোনমিক টাইমস।

    এদিকে রুপাও অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৮ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। যদিও তার আগের দিন রুপার দরপতন হয় ১১ শতাংশ। এত বড় দরপতনের পর রুপার এই ঘুরে দাঁড়ানো উল্লেখযোগ্য। তার পরও দেখা যাচ্ছে, সপ্তাহ শেষে রুপার মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ।

    রুপার সঙ্গে প্লাটিনামের দামও শুক্রবার বেড়েছে। পশ্চিমা পৃথিবীর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবার প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৩৩ দশমিক ৯৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৬১ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়ায়। তবে সাপ্তাহিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত সপ্তাহে উভয় ধাতুর দামই কমেছে।

    এদিকে গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি ফিরেছে। প্রতাশ্যার চেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে বেকারত্বের হার কমেছে। সেই সঙ্গে জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, শ্রমবাজার শক্তিশালী ও মূল্যস্ফীতি কমছে—উভয়ই ইতিবাচক। তবে নীতি সুদহার দ্রুত কমানো হলে চাহিদা বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নীতি সুদহার কমানোর আশা করলেও ফেড সম্ভবত আরও ধৈর্য ধরবে।

    তবে বাজারে ধারণা, চলতি বছর ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট করে দুই দফায় সুদহার কমানো হতে পারে। প্রথমবার কমানো হবে জুন মাসে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়ে যায়।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার একধরনের ‘মানসিক সীমা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সীমা ভেঙে গেলে দামের দ্রুত উত্থান–পতন হয়, বিশেষ করে যখন অস্থিরতা বেশি থাকে। সম্প্রতি শেয়ারবাজারের পতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সোনার দাম কমেছে, তেমন কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রণোদনা তখন ছিল না।

    দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, চলতি বছরে সোনার দাম ছয় হাজার ডলার স্পর্শ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কোন দিকে যায়, মূল্যস্ফীতির গতি কেমন থাকে বা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কতটা অনিশ্চয়তা থাকে—এসবের ওপর নির্ভর করছে সোনার দাম কতটা দ্রুত ছয় হাজার ডলার স্পর্শ করবে।

    বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সোনা কেবল মুনাফাভিত্তিক সম্পদ নয়; অনেক দেশের জন্য এটি কৌশলগত রিজার্ভ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি ধারাবাহিকভাবে সোনা ক্রয় অব্যাহত রাখে, তাহলে সোনার দাম ছয় হাজার ডলার পেরিয়ে যেতেই পারে।

    এদিকে লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমবিএ) বার্ষিক পূর্বাভাস জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

  • বৃষ্টিতে ভেসে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ ছিলো গ্রুপ-২ এর পাকিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ডের। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বৃষ্টিতে ভেসে পরিত্যক্ত হয় সুপার এইটের এই ম্যাচটি। 

    খেলা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে বৃষ্টি কিছুটা থামলে টস হয়। টসে জিতে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি না থামায় ম্যাচটির ভাগ্য গড়ায় পরিত্যক্তর দিকে।

    আইসিসি এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচের জন্য কোন রিজার্ভ ডে রাখেনি। ফলে ম্যাচটি অন্য দিনে মাঠে গড়ানোর সুযোগ নেই।

    আইসিসির টি-টোয়েন্টি নিয়ম অনুযায়ী দু'দলের কমপক্ষে ৫ ওভার খেলার সুযোগ থাকলে ম্যাচটি মাঠে গড়াতো। সেটিও সম্ভব না হলে সুপার ওভার। কিন্তু বৃষ্টি বাঁধায় সুপার ওভারও সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে। 

    আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড।

    উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে সুপার এইটে দুইটি গ্রুপের প্রত্যেক দলই খেলবে ৩টি করে ম্যাচ।   

     

     
     
  • বেজার অধীনে থাকবে বেসরকারি ইপিজেড, অধ্যাদেশ জারি

    বাংলাদেশের বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বাণিজ্যে প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন থেকে দেশের বিদ্যমান সকল বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) সরাসরি ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ’ বা বেজার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন ১৯৯৬’ বাতিল করে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে।

    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

    আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ ইতিমধেই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই আইনি কাঠামোর ফলে ১৯৯৬ সালের পুরনো আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সকল বেসরকারি ইপিজেড এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ হিসেবে স্বীকৃত হবে। মূলত দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে একক তদারকির আওতায় এনে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতেই সরকার এই বড় ধরণের সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    নতুন অধ্যাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইনটি রহিত করা হলেও বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। আগের আইনের অধীনে প্রাপ্ত সকল লাইসেন্স সম্পূর্ণ বৈধ থাকবে এবং উদ্যোক্তাদের নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে না। একইসঙ্গে বেসরকারি ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগকারীরা আগে যে ধরণের বন্ডেড ও রেয়াতি সুবিধা পেতেন সেগুলোও আগের মতোই বহাল থাকবে। তবে এসব অঞ্চলের সামগ্রিক পরিচালনা ও তদারকি কার্যাবলি এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে বেজার ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যেকোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

    প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে যে বেসরকারি ইপিজেড পরিচালনার জন্য আগে যে ‘গভর্নর বোর্ড’ ও ‘নির্বাহী সেল’ ছিল তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেখানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সরাসরি বেজাতে বদলি করা হবে এবং তাদের চাকরির শর্তাবলি আপাতত আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।

    এছাড়া বিলুপ্ত হওয়া বোর্ড বা সেলের পক্ষে বা বিপক্ষে চলমান কোনো আইনি লড়াই বা মামলা এখন থেকে বেজার মামলা হিসেবেই পরিচালিত হবে। অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই অধ্যাদেশটি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী ভিত্তি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • বেঞ্চের শক্তিতেই কি এবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতবে আর্সেনাল

    লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে তখন ঘড়ির কাঁটা ৭৪ মিনিট ছুঁই ছুঁই। আর্সেনাল সমর্থকদের চোখেমুখে রাজ্যের দুশ্চিন্তা। এভারটনের রক্ষণে বারবার আছড়ে পড়ছে ‘গানার’দের আক্রমণ, কিন্তু গোলের দেখা নেই। উল্টো গোলপোস্ট আর ভাগ্য সহায় না হলে পিছিয়েই পড়তে হতো স্বাগতিকদের। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন শিরোপা দৌড়ে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগটা বুঝি এবার ফসকে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা মিডফিল্ডার মার্তিন জুবিমেন্দিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামালেন ১৬ বছরের এক কিশোরকে—ম্যাক্স ডাউম্যান, যাঁর এখনো জিসিএসই পরীক্ষাই শেষ হয়নি!

    আরতেতার সেই বাজিই শেষ পর্যন্ত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হয়ে দাঁড়াল। ডান দিক থেকে ডাউম্যানের এক নিরীহদর্শন ক্রস বিপক্ষ গোলরক্ষক এভারটন জর্ডান পিকফোর্ডকে ভুল লাইনে টেনে আনল। সেই সুযোগে ফাঁকা জালে বল ঠেলে আর্সেনালকে এগিয়ে দিলেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। এরপর ডাউম্যান যা করলেন, তা রূপকথাকেও হার মানায়। এভারটনের এক কর্নার থেকে বল পেয়ে নিজের পায়ে ৬১.৩ মিটার টেনে নিয়ে গিয়ে করলেন দেখার মতো এক গোল। ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে গোল করে ডাউম্যান ভেঙে দিলেন প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড।

    আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা
    আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা, এএফপি
     

    ডাউম্যানের ওই গোল হয়তো ম্যাচের ফলাফল বদলে দেয়নি, গোলটি না হলেও আর্সেনাল ১-০ ব্যবধানে জিতত। কিন্তু ওই গোল এবং এই মৌসুমে ‘সুপার সাব’দের কাছ থেকে পাওয়া এমন অনেক গোলেই লুকিয়ে আছে আর্সেনালের সাফল্যের একটা রহস্যও।

    এবারের মৌসুমে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট (গোলে সহযোগিতা) পেয়েছে গানাররা। এর মানে মোট ২১টি গোলে অবদান এবার আর্সেনালের সুপার সাবদের, যা প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অন্তত ৭টি বেশি।

    চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শুধু ১১ জনে আসলে হয় না, লাগে এক শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ। আর্সেনাল এবার ঠিক সে পথেই হাঁটছে। মার্টিন ওডেগার্ড, ইয়োকেরেস কিংবা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি—যখনই কেউ বেঞ্চ থেকে মাঠে নামছেন, তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিচ্ছেন। সিটির বিপক্ষে ম্যাচে মার্তিনেল্লির সমতাসূচক গোল কিংবা নিউক্যাসলের বিপক্ষে মিকেল মেরিনোর গোল—সবই এসেছে বেঞ্চ থেকে।

    এর ঠিক উল্টো চিত্র ম্যানচেস্টার সিটিতে। পেপ গার্দিওলার হাতে চেরকি, ডকু, ফোডেন বা রেইন্ডারসের মতো তারকা থাকলেও তাঁরা বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচ জেতাতে পারছেন না। এই মৌসুমে সিটির বদলি খেলোয়াড়েরা গোল করেছেন মাত্র একটি, সেটিও সেই উদ্বোধনী সপ্তাহে উলভসের বিপক্ষে। এরপর ২৯ ম্যাচে সিটির কোনো বদলি খেলোয়াড় জালের দেখা পাননি। অথচ গত শনিবার ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে ড্র ম্যাচেও ডকু-ফোডেনদের নামিয়েছিলেন পেপ, কিন্তু লাভ হয়নি।

     
    আর্সেনাল এখন সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে। গার্দিওলার হাতে রত্নভান্ডার থাকলেও সেটা কাজে লাগছে না। অন্যদিকে আরতেতা তাঁর তুরুপের তাসগুলো ব্যবহার করছেন নিখুঁতভাবে। গত মৌসুমে ব্রাইটনের গড়া বদলিদের ২৫ গোলের অবদানের রেকর্ডটি এবার ভেঙে দিতে পারে আর্সেনাল।

    কে জানে, আরতেতার এই সুপার সাবরাই হয়তো শেষ পর্যন্ত এমিরেটসে উৎসবের আবির ওড়াবেন!

  • বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা ও অভিযানে নিহত ছাড়াল ২৫০

    ইসলামাবাদ

  • বড় দলের বিপক্ষে লড়াই কত কঠিন, বুঝল বাংলাদেশ

    আপনি যখন ‘জোড়াতালির’ একটা লিগ খেলে এশিয়ান কাপের মঞ্চে যাবেন, তখন এমন অসহায় আত্মসমর্পণটা স্বাভাবিক! যেখানে প্রতিপক্ষ চীন–উত্তর কোরিয়া, তাদের সামনে দাঁড়ানোর আগে অন্তত উচ্চ র‍্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল। এ প্রয়োজনীয়তার কথা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলারও বোঝাতে পারেননি দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)। তাই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ৫–০ গোলের হারটা শুধু হার নয়, বাংলাদেশের জন্য একটা শিক্ষাও।

    চীন ও উত্তর কোরিয়া—দুই দলের বিপক্ষে দুরকম বাংলাদেশকে দেখা গেল। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে চীনের দ্রুতলয়ের প্রতি–আক্রমণ, দূরপাল্লার পাস আর ক্রসের পসরা থামিয়ে বাংলাদেশও আক্রমণ করেছে। কিন্তু আজকের চিত্র একেবারে ভিন্ন।

    বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে নিষ্ক্রিয় করে উত্তর কোরিয়া দেখিয়েছে কীভাবে রক্ষণ তছনছ করতে হয়। গোল পাঁচটা না হয়ে আট–নয়টা বা দশটা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন অন্তত সেই কথাই বলছে।

    রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ
    রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ, এএফপি
     

    পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের গোলমুখে ৩১টি শট নিয়েছে উত্তর কোরিয়া, যার ১১টি ছিল পোস্টে। বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের গোলে একটি শটও নিতে পারেনি। গোলকিপার মিলি আক্তার একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন। পাঁচটি বল তাঁর আশপাশ দিয়ে জাল ছুঁয়েছে ঠিকই, কিন্তু আরও পাঁচ–ছয়টি গোলে শট কিন্তু দারুণ দৃঢ়তায় আটকেছেন তিনি।
    শুধু মিলির দৃঢ়তাই নয়, বাংলাদেশের রক্ষণভাগ নিয়েও সন্তুষ্টির জায়গা আছে।

    সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের ক্ষিপ্রতা এতটাই তীব্র ছিল বাংলাদেশের পাঁচ ডিফেন্ডারের সঙ্গে দুই মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমাও প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্টের কাজে মন দেন। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করেলেও আক্রমণভাগে বরাবরের মতো ব্যর্থই বাংলাদেশ। বিপরীতে উত্তর কোরিয়া অ্যাটাকিং থার্ডে ক্রমাগত ক্রস বাড়িয়ে, লং শটে তৈরি করা সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করেছে।

    উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল
    উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল, এএফপি
     

    বাংলাদেশ নিজেদের পায়ে খুব একটা বল রাখতে পারেনি, পারেনি আক্রমণ করতেও। এই ‘না পারাটা’ যেমন তাদের ভীষণ পীড়া দেবে, তেমনি উত্তর কোরিয়ার শক্তি–সামর্থ্য দেখার পর এই হার থেকে ইতিবাচক বিষয়গুলোও তুলে নেবে।

    উত্তর কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ (র‍্যাঙ্কিংয়ে ১১২তম) থেকে ১০৩ ধাপ এগিয়ে, চারবার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা, দশবার এশিয়ান কাপে খেলে তিনবার হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। গত দশ ম্যাচে হেরেছে মোটে একটি। এমন একটা দলের বিপক্ষে ৫–০ গোলের হার স্রেফ হারই নয়, বরং বাংলাদেশের এই দলটাকে কীভাবে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নতুন করে ভাবার উপলক্ষও।

  • বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন বিষয়টা উপভোগ করছেন, জানালেন জয়া

    ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত সিনেমা ‘ওসিডি’। সিনেমাটির প্রচারে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের সঙ্গে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী। এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সিনেমা ছাড়াও নানা প্রসঙ্গ।

    দুই বাংলার সিনেমা নিয়ে কতটা আশাবাদী? এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘আমি দুটো (দুই বাংলার সিনেমা) নিয়েই তো আশাবাদী। এখানে “ওসিডি”র মতো ছবি রিলিজ করছে এবং দর্শক দেখেছে। এর আগে “ডিয়ার মা”, “পুতুলনাচের ইতিকথা” করেছি; প্রত্যেকটি ডিফারেন্ট ডাইমেনশনের কাজ (ভিন্ন ধরনের)। একজন আর্টিস্ট হিসেবে কাজগুলো পাওয়া আমার জন্য খুব ভাগ্যের ব্যাপার। এখন এসেছে “ওসিডি”, সেখানে পারফরমেন্সটা খাবার একটা জায়গা আছে। আমি কতটুকু পেরেছি, আমি বলব না। তিনটা সিনেমা তিন ধরনের—একটি একেবারে পারিবারিক, একটি একদম ক্ল্যাসিক এবং এখন যেটা হচ্ছে, সেটার ভেতরে একটা প্রচণ্ড শক্তিশালী সামাজিক বার্তা আছে।’

    গত বছরে তাঁর অভিনীত বাংলাদেশি সিনেমার সাফল্যের কথা তুলে ধরে জয়া আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ নানা রকম পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার দুটে ছবি “উৎসব” ও “তান্ডব” ব্লকবাস্টার সুপারহিট। এরপর সামনে আরও খুব ভালো ভালো দারুণ কিছু ছবি আসবে, “রইদ” নামে একটি ছবির ট্রেলার আপনারা দেখেছেন, অসাধারণ ছবি হবে।’

    জয়া অভিনীত পশ্চিমবঙ্গের সিনেমাগুলো বাংলাদেশে মুক্তি পায় না, একইভাবে ঢাকার সিনেমাও কলকাতায় মুক্তি পায় না। জয়া আশা করেন, অদূর ভবিষ্যতে এটা ঠিক হয়ে যাবে।

    ‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    ‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    একই সাক্ষাৎকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া তো আসলে আমার ব্যক্তিগত জায়গা নয়; এটা জয়া আহসানের ইমেজটাকে দেখার জায়গা। একেবারেই আনুষ্ঠানিক একটা জায়গা। তারপরও আমি মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র শেয়ার করি।’

    সাক্ষাৎকারের শেষ অংশ ‘র‍্যাপিড ফায়ার’–এ ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেন জয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন বিষয়টি বেশি উপভোগ করছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘আমি দেখতে আমার বাবার মতো হয়ে যাচ্ছি।’
    এ ছাড়া জয়া জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে যাচ্ছেন। এমন কিছু নেই, যা করতে নিজেকে ‘না’ করেন।

    জয়া আহসান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    জয়া আহসান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
  • ভক্তদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন রোনালদো

    এক মাসের সিয়াম সাধনার পর বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই উপলক্ষে ভক্ত-সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

    রোনালদো লিখেছেন, সবাইকে ঈদ মোবারক! আশা করি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে তোমাদের দিনটি বিশেষভাবে কাটবে। সবার জন্য শান্তি ও সুখ কামনা করছি।

    বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মুসলিম ভক্তের কথা মাথায় রেখে রোনালদোর এই শুভেচ্ছাবার্তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে তার পোস্টে ভক্তরা কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

    বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের খেলছেন রোনালদো। মধ্যপ্রাচ্যে খেলার সুবাদে মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। 

    এর আগেও বিভিন্ন উপলক্ষে মুসলিম বিশ্বকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে এই পর্তুগিজ তারকাকে। কেবল মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেও বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন রোনালদো। যা তাকে ক্রীড়াজগতের বাইরেও এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

     

  • ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজের পরিকল্পনা জানালেন এহছানুল হক মিলন

    চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ী ড. এহছানুল হক মিলন ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

    ড. মিলনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, স্মার্ট ক্লাসরুম, অনলাইন লার্নিং এবং স্কিল-বেইজড ট্রেনিং শিক্ষার মূল ভিত্তি হবে। তার লক্ষ্য হলো দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা, যাতে তারা দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে সমানভাবে অবদান রাখতে পারে।

    ড. মিলন জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক, দক্ষতা নির্ভর ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থাই গড়বে সবার আগে বাংলাদেশ।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ড. এহছানুল হক মিলন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নকলবিরোধী কঠোর অভিযান চালানো হয়। এই সাহসী পদক্ষেপের কারণে পরীক্ষার হলে নকলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এছাড়াও তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

     

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব