• গার্ডিয়ানের খবর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি ভারতের অলিম্পিক আয়োজক হওয়ার পথে বাধা হতে পারে

    বাংলাদেশের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া ভারতের ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজক হওয়ার প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, খেলাধুলায় রাজনীতির অনুপ্রবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কড়া মনোভাবই ভারতের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রূপ নেয়। ভারতে নিরাপত্তাশঙ্কায় টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার কথা জানিয়ে ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে ভেন্যু বদলের অনুরোধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২১ জানুয়ারি বোর্ডসভার পর আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে পূর্বসূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় তাদের বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা।

    গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ভারতেই খেলার কথা বলার সিদ্ধান্তটি আইসিসির। তবে এ বিষয়ে বিসিসিআইয়েরও হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর না করতে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আইসিসিতে তদবির করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘আইসিসি কাগজে-কলমে স্বাধীন হলেও ভারতের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইতিহাস তাদের পুরোনো। ২০২৪ বিশ্বকাপে আর্থিক ও সম্প্রচার স্বত্বের খাতিরে ভারতকে গায়ানায় সেমিফাইনাল খেলার আগাম নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়।’

    দুবাইয়ে অবস্থিত আইসিসি সদর দপ্তর
    দুবাইয়ে অবস্থিত আইসিসি সদর দপ্তর, আইসিসি
     

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, বিসিসিআই আইসিসিতে অনেক প্রভাবশালী এবং ভারত সরকারের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন; তাঁর বাবা অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এমনকি আইসিসির বর্তমান প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা আগে জিও-স্টারের স্পোর্টস প্রধান ছিলেন, যে প্রতিষ্ঠানটি ভারতে আইসিসির সব ইভেন্টের একচেটিয়া সম্প্রচারের স্বত্বাধিকারী।

    গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজে সময়ে এই রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে ভারত। গত মাসে দিল্লির ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এখন ভারতের পাখির চোখ ২০৩৬ সালের আহমেদাবাদ অলিম্পিক। যেখানে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার।

    আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রতি সহনশীলতা আইসিসির চেয়ে কম। গার্ডিয়ানকে আইওসির একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্য দেশগুলো বয়কট করতে পারে, এমন কোনো ঝুঁকি থাকলে ভারতকে গেমস আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়াটা আইওসির জন্য প্রায় ‘অকল্পনীয়’। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে চলতে হয় এবং অলিম্পিক চলাকালীন যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতপ্রকাশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

    আইওসির এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রমাণ গত অক্টোবরেই পাওয়া গেছে। জাকার্তায় বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা দিতে অস্বীকার করায় ইন্দোনেশিয়াকে অলিম্পিক আয়োজনের দৌড় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়াও ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক হতে চেয়েছিল, কিন্তু শুরুতেই তারা হোঁচট খেল।

    সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত আইওসির সদরদপ্তর
    সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত আইওসির সদরদপ্তর, রয়টার্স
     

    ১৯০০ সালের পর ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। ২০৩২ ব্রিসবেন আসরেও এটি থাকছে। অলিম্পিকে ক্রিকেটকে ফেরানো হয়েছে মূলত ভারতের বিশাল বাজার ধরার জন্যই। তবে সেটা যেকোনো মূল্যে নয়।

    এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। ভারত গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে না খেলে দুবাইয়ে খেলেছে। কারণ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ খেলতে বিসিসিআই পাকিস্তানে দল পাঠাতে রাজি না হওয়ার পর আইসিসি, পিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সেখানে ঠিক করা হয়, টুর্নামেন্টে ভারতের ম্যাচগুলো হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। একই সঙ্গে বলা হয়, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে আইসিসি ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তানের সব ম্যাচই হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। বর্তমানে দুই প্রতিবেশী দেশ আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও খেলে না।

    গার্ডিয়ানকে আইওসির ওই সূত্র আরও বলেছে, অলিম্পিক আয়োজনের যোগ্য আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে চাইলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির শক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে ভারতকে।

  • গুচ্ছের এ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৩০%, প্রথম তৌকির সিদ্দিকী ইশতি

    গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের এ ইউনিটের (বিজ্ঞান) ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় পাসের হার ৩০ শতাংশ। এ ইউনিটের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন ঢাকার মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তৌকির সিদ্দিকী ইশতি।

    আজ বুধবার সকালে ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির সচিব ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মনজুরুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

    প্রকাশিত ফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ ইউনিটে মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৭৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ (১ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৮ জন) শিক্ষার্থী।

    পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পাস নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩০ শতাংশ (৩৮ হাজার ৮৮ জন) শিক্ষার্থী। অপর দিকে ৩০ নম্বরের নিচে পেয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৬৯ দশমিক ৫০ শতাংশ (৮৭ হাজার ৭৪০ জন) শিক্ষার্থী। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে (বহিষ্কার, রোল, সেট ও শনাক্তকরণ ত্রুটি) ১১০ জনের ফল বাতিল করা হয়েছে।

    ফলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৮৭ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন তৌকির সিদ্দিকী ইশতি। এ ছাড়া এ বছর সর্বনিম্ন প্রাপ্ত নম্বর মাইনাস ১৪ দশমিক ২৫।

    অন্যদিকে এ ইউনিটের আর্কিটেকচার বিষয়ের ফলেও দেখা গেছে তুলনামূলক কম পাসের হার। এ বিভাগে মোট ৩ হাজার ৫৬১ শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১ হাজার ৫৪৬ (৪২ দশমিক ৯০ শতাংশ) শিক্ষার্থী।

    আর্কিটেকচারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৯ শতাংশ (১৪০ জন) শিক্ষার্থী। বিপরীতে ৩০ নম্বরের নিচে পেয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ (১ হাজার ৪০৫ জন) শিক্ষার্থী। এ ছাড়া এক পরীক্ষার্থীর ফল বাতিল করা হয়েছে।

    আর্কিটেকচার পরীক্ষায় সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর ৫০ (রোল: ১৪৪০৮৬) এবং সর্বনিম্ন নম্বর শূন্য।

    শিক্ষার্থীরা জিএসটি ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজস্ব ফল দেখতে পারবেন। পরবর্তী নির্দেশনা ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটি।

    অধ্যাপক মনজুরুল হক বলেন, আজ এ ইউনিটের মাধ্যমে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল শেষ হয়েছে। এরপর ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু। তবে ভর্তিপ্রক্রিয়ার আগে ভর্তি–ইচ্ছুকদের কয়েক দিন ফলাফল রিভিউ করার সুযোগ দেওয়া হবে।

    রবিউল আলম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

  • গোল, পেনাল্টি হজম এবং দুয়ো—প্রত্যাবর্তনে মিশ্র অভিজ্ঞতা হোয়াইটের

    চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের নকআউটে ইংল্যান্ড দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বেন হোয়াইট। তখন এ নিয়ে বেশ হইচই হলেও ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) জানায়, ‘ব্যক্তিগত কারণে’ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হোয়াইট।

    পরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে জানা যায়, হোয়াইটের জাতীয় দল ছেড়ে চলে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ স্টিভ হল্যান্ডের সঙ্গে বাদানুবাদ।

    ইংল্যান্ডের তখনকার কোচ গ্যারেথ সাউথগেট যদিও ব্যাপারটা সব সময়ই অস্বীকার করে এসেছেন। ২০২৪ সালে তিনি দাবি করেন, হোয়াইট ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

    সাউথগেটের জায়গায় গত বছরের জানুয়ারিতে স্থলাভিষিক্ত হন টমাস টুখেল। ইংল্যান্ড কোচের দায়িত্ব নিয়ে এই ডিফেন্ডারকে জাতীয় দলে ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন টুখেল। শেষ পর্যন্ত সে সুযোগ গতকাল রাতে ওয়েম্বলিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে পেলেন হোয়াইট। কিন্তু ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা হোয়াইটকে সম্ভবত সহজে ক্ষমা করতে পারেননি।

    ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে হোয়াইট এর আগে সর্বশেষ মাঠে নামেন ২০২২ সালের মার্চে। সে বছর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পান। চার বছর পর জাতীয় দলের হয়ে তাঁর মাঠে নামার এ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে ইংল্যান্ড। ৬৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে ২০ মিনিটের একটু বেশি সময় মাঠে ছিলেন হোয়াইট। খুব অল্প এ সময়টুকু বেশ ঘটনাবহুল। ৮১ মিনিটে ইংল্যান্ড গোল পায় তাঁর কাছ থেকে।

    যেভাবে গোল করেছেন  হোয়াইট
    যেভাবে গোল করেছেন হোয়াইটএএফপি

    দেশের হয়ে ৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে প্রথম গোল পাওয়ার পর স্টেডিয়ামের স্পিকারে তাঁর নাম উচ্চারিত হতেই দুয়োতে ফেটে পড়ে গ্যালারি। বদলি হিসেবে মাঠে নামার সময়ও একইভাবে হোয়াইটের প্রত্যাবর্তনকে বরণ করে ইংলিশ গ্যালারি।

    ব্যাপারটা আরও নির্মম হয়ে ওঠে ম্যাচের যোগ করা সময়ে হোয়াইটের কারণে ইংল্যান্ড পেনাল্টি হজম করার পর। ফেদেরিকো ভালভের্দে স্পটকিক থেকে উরুগুয়েকে সমতায় ফেরানোয় সেই রাগটাও হোয়াইটের ওপর ঝেড়েছেন ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা।

    ম্যাচ শেষে কোচ টমাস টুখেল এ নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগেও এখানে কিছু খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে, যা সত্যিই দুঃখজনক। কারণ, এতে কারও কোনো লাভ হয় না। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র।’ হোয়াইটের গোলটি নিয়ে টুখেল যোগ করেন, ‘যখন “জয়সূচক” গোলটি করল, মনে হচ্ছিল সব বুঝি ঠিক হয়ে গেল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেটি আর জয়সূচক গোল থাকেনি। রক্ষণ সামলাতে গিয়ে সে হয়তো কিছুটা মরিয়া হয়ে উঠেছিল, তবে আমার মনে হয় ওটা পেনাল্টি ছিল না।’

    দেড় বছর পর ইংল্যান্ড জাতীয় দলে ফেরা হ্যারি ম্যাগুয়ারও হোয়াইটের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ম্যাগুয়ার বলেন, ‘প্রত্যাবর্তনেই প্রথম গোল করাটা অবিশ্বাস্য। সে দুর্দান্ত খেলেছে। পুরো সপ্তাহজুড়েই সে খুব হাসিখুশি ছিল, দলে একটা ইতিবাচক শক্তি নিয়ে এসেছে। আজ গোল করে তার পুরস্কারও পেল।’

    পেনাল্টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ম্যাগুয়ার বলেন, ‘হাস্যকর এক পেনাল্টি ছিল। সে (প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়) বল উড়িয়ে মারার পর বেন কেবল শটটি আটকানোর চেষ্টা করেছিল। বাজে ট্যাকল ছিল না, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যও ছিল না। বক্সের ভেতর রক্ষণের কাজ করতে গেলে এমন সামান্য শারীরিক সংস্পর্শ তো হবেই।’

    অন্য প্রীতি ম্যাচে সার্বিয়াকে ৩–০ গোলে হারায় স্পেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪–৩ গোলে জেতে জার্মানি, নরওয়েকে ২–১ গোলে হারায় নেদারল্যান্ডস।

  • গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস কার হাতে উঠল কোন পুরস্কার

    আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো অ্যারিয়ানে বসেছিল ৬৮তম গ্র্যামি পুরস্কারের আসর। বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে বড় আসর গ্র্যামিতে এবার সর্বোচ্চ ৯টি মনোনয়ন পেয়েছেন র‍্যাপার কেনড্রিক লামার। সাতটি মনোনয়ন নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে লেডি গাগা। শেষ পর্যন্ত পুরস্কারে বাজিমাত করলেন কারা?

    কেনড্রিক লামারের দাপট
    বছরের সেরা গান ও শিল্পীদের পুরস্কৃত করতে এ বছর রেকর্ডিং অ্যাকাডেমি মোট ৯৫টি বিভাগে পুরস্কার দিচ্ছে। এর মধ্যে বিকেলে (বাংলাদেশ সময় ভোরে) অনুষ্ঠিত প্রাক্‌-সম্প্রচার পর্বেই ৮৬টি বিভাগে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। মূল টেলিভিশন সম্প্রচারে রাখা হয়েছে বাকি ৯টি বড় ও পারফরম্যান্সনির্ভর বিভাগ।

    পুরস্কার হাতে কেনড্রিক লামার। এএফপি
    পুরস্কার হাতে কেনড্রিক লামার। এএফপি

    গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে নতুন ইতিহাস লিখলেন মার্কিন র‍্যাপ তারকা কেনড্রিক লামার। এবারের গ্র্যামির আসরে পাঁচটি পুরস্কার জিতে তিনি ভেঙে দিয়েছেন র‍্যাপারদের মধ্যে সর্বাধিক গ্র্যামি জয়ের রেকর্ড। এত দিন এই রেকর্ড ছিল র‍্যাপার জে-জি’র দখলে। জে-জি’র মোট গ্র্যামি ছিল ২৫টি, আর কেনড্রিক লামার তা ছাড়িয়ে এখন পৌঁছালেন ২৭টিতে।

    ব্রিটিশ গায়িকা লোলা ইয়াং সেরা পপ সলো পারফরম্যান্স বিভাগে ‘মেসি’ গানের জন্য জয় পেয়েছেন, হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকে। গুরুত্বপূর্ণ ‘সং অব দ্য ইয়ার পুরস্কার’ পেয়েছেন বিলি আইলিশ।

    মঞ্চে সাবরিনা কার্পেন্টার। এএফপি
    মঞ্চে সাবরিনা কার্পেন্টার। এএফপি

    পুরস্কার ছাড়াও গ্র্যামিতে ছিল পারফরম্যান্স। গানে গানে মঞ্চ মাতান রোজে, ব্রুনো মার্স, লেডি গাগা, জাস্টিন বিবার, টেইলর, দ্য ক্রিয়েটর ও রেজিনা কিং। গ্র্যামির সঞ্চালনায় এবার শেষবারের মতো ফিরেছেন ট্রেভর নোয়া। টানা ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন তিনি।

    একনজরে গুরুত্বপূর্ণ শাখায় গ্র্যামি পুরস্কার
    রেকর্ড অব দ্য ইয়ার: ‘লুথার’, কেনড্রিক লামার ও সিজা
    অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার: ‘ডেবি তিয়ার মাস ফোতোস’, ব্যাড বানি
    সং অব দ্য ইয়ার : ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ার’, বিলি আইলিশ
    বেস্ট নিউ আর্টিস্ট: ওলিভিয়া ডিন
    বেস্ট পপ সলো পারফরম্যান্স: ‘মেসি’, লোলা ইয়ং
    বেস্ট পপ ডুয়ো অথবা গ্রুপ পারফরম্যান্স: ‘ডাই উইথ আ স্মাইল’, লেডি গাগা ও ব্রুনো মার্স
    বেস্ট পপ ভোকাল অ্যালবাম: ‘মেহ্যাম’, লেডি গাগা
    রেস্ট র‍্যাপ অ্যালবাম: ‘জিএনএক্স’, কেনড্রিক লামার

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বাদ দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন কিয়ারা

    কিয়ারাকে দেখা যাবে গীতু মোহনদাসের আলোচিত কন্নড় সিনেমা ‘টক্সিক’–এ। তবে সিনেমাটি থেকে নিজের অভিনীত ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বাদ দিতে চান, এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। গতকাল প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এমন কিছু খবরের লিংক শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘একেবারেই বাজে কথা।’

    টাইমস অব ইন্ডিয়া, মিড ডেসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ছবির ফাইনাল কাট দেখে কিয়ারা নাকি অস্বস্তি বোধ করেন এবং কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। এমনও বলা হয়, শুরুতে একটি ‘বোল্ড’ রোমান্টিক দৃশ্যে রাজি হলেও, পরে নাকি মত বদলান। এসব দাবি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান কিয়ারা। এর মধ্য দিয়েই তিনি পরিষ্কার করে দেন—এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই।

    ‘টক্সিক’ সিনেমাটি মুক্তির আগেই একাধিকবার বিলম্বিত হয়েছে। প্রথমে ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘টক্সিক’-এর। দিনক্ষণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন মুক্তির দিন নির্ধারিত হয়েছে ৪ জুন। শোনা যাচ্ছে, আবার ছবি মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।
    এর আগে গত বছর ‘ওয়ার ২’ ছবিতে কিয়ারার বিকিনির দৃশ্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। প্রথম সন্তানের মা হওয়ার পর কিয়ারা এখন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে।

    ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

    সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণা দেন।

    এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। একই দাবিতে আজ সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে ইসহাক ডিপো সংলগ্ন টোল প্লাজায় সড়ক অবরোধ করেন।

    এদিকে টানা ৪ দিনের কর্মবিরতিতে বন্দর ও বেসরকারি আইসিডিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ কন্টেইনার জট। বন্দরের এমন অচলাবস্থায় পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

    বন্দর এলাকায় সভা সমাবেশে নিষিদ্ধ থাকার ঘোষণা থাকায় যে কোন তৎপরতা ঠেকাতে বন্দরের একাধিক প্রবেশ মুখে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • চলতি বছর নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতের ১০টি প্রবণতার বিষয়ে হুয়াওয়ের পূর্বাভাস

    স্মার্ট পিভি (ফোটোভোলটাইক) ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের (ইএসএস) ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের শীর্ষ ১০টি প্রবণতা (ট্রেন্ড) প্রকাশ করেছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। সম্প্রতি হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শীর্ষ ১০টি প্রবণতার তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে পিভি, উইন্ড পাওয়ার এবং ইএসএস-কে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও বাস্তবমুখী দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। শিল্পের মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয় অনুষ্ঠানে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ।  

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ারের স্মার্ট পিভি ও ইএসএস প্রোডাক্ট লাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ মার্কেটিং অফিসার এরিক ঝং জানান, গত এক দশকে পিভি, উইন্ড পাওয়ার এবং ইএসএস খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রিড ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে।

    শিল্প খাত এখন উন্নয়নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে একক উদ্ভাবন থেকে সরে এসে সমন্বিত অগ্রগতির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পিভি ও এনার্জি স্টোরেজ খাতে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হুয়াওয়ে শীর্ষ ১০টি প্রবণতার পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি ব্যবহারভিত্তিক (সিনারিও-নির্ভর) এবং ছয়টি প্রযুক্তিকেন্দ্রিক উদ্ভাবন।

    একনজরে প্রবণতাগুলো দেখে নেওয়া যাক—

    ১. পিভি, উইন্ড ও ইএসএসের সমন্বয় নবায়নযোগ্য শক্তিকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য, নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ উৎসে পরিণত করবে।

    ২. গ্রিড-ফর্মিং ইএসএস পাওয়ার গ্রিডের স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

    ৩. বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ, ব্যবহার ও সংরক্ষণের সমন্বয় স্থানীয় স্বনির্ভরতা বাড়াবে এবং বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে।

    ৪. আবাসিক পিভি ও ইএসএস ব্যবস্থায় এআই-সক্ষম (এআই-এনাবলড) থেকে এআই-নেটিভ ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটবে, যা আরও উন্নত অভিজ্ঞতা দেবে।

    ৫. উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ও উচ্চ ঘনত্ব পিভি এবং ইএসএস যন্ত্রের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
    ৬. উচ্চ ভোল্টেজ ও নির্ভরযোগ্যতা এলসিওই (লেভেলাইজড কস্ট অব এনার্জি) কমাতে সহায়তা করবে।

    ৭. ইএসএস মানে কেবল ব্যাটারি নয়, নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিচালনার জন্য সিস্টেম-লেভেল ব্যাটারির ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

    ৮. উন্নত গ্রিড-ফর্মিং প্রযুক্তি ব্যবস্থা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার নির্মাণকে ত্বরান্বিত করবে।

    ৯. এআই এজেন্ট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা সম্ভব করবে।

    ১০. নিরাপত্তার পরিমাপযোগ্য মান নির্ধারণ এনার্জি স্টোরেজ শিল্পে সামগ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।

  • চলে গেলেন আশা ভোসলে

    প্রখ্যাত ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন। আজ বেলা ১২টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্য হয় বলে জানিয়েছেন আশা ভোসলে ছেলে আনন্দ ভোসলে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২।

    অনেক দিন ধরেই যে তিনি অসুস্থ ছিলেন, তেমন নয়। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে তাঁর অসুস্থতার খবর।

    প্রথমে শোনা গিয়েছিল, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে পরে তাঁর নাতনি জানাই ভোসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করে জানান, ‘চরম ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণ’-এর কারণেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংগীতের অন্যতম আইকনিক ও বহুমুখী প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সুপরিচিত আশা ভোসলে। আট দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষাতেও হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ থেকে গজল—বিভিন্ন ধারার সংগীতে তাঁর অসাধারণ মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

    আশা ভোসলে। এএনআই
    আশা ভোসলে। এএনআই

    দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আশা ভোসলে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ও অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যা তাঁকে ভারতীয় প্লেব্যাক সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক সম্মানিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

  • চলে গেলেন আশা ভোসলে

    প্রখ্যাত ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন। আজ বেলা ১২টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্য হয় বলে জানিয়েছেন আশা ভোসলে ছেলে আনন্দ ভোসলে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২।

    অনেক দিন ধরেই যে তিনি অসুস্থ ছিলেন, তেমন নয়। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে তাঁর অসুস্থতার খবর।

    প্রথমে শোনা গিয়েছিল, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে পরে তাঁর নাতনি জানাই ভোসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করে জানান, ‘চরম ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণ’-এর কারণেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংগীতের অন্যতম আইকনিক ও বহুমুখী প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সুপরিচিত আশা ভোসলে। আট দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষাতেও হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ থেকে গজল—বিভিন্ন ধারার সংগীতে তাঁর অসাধারণ মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

    আশা ভোসলে। এএনআই
    আশা ভোসলে। এএনআই

    দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আশা ভোসলে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ও অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যা তাঁকে ভারতীয় প্লেব্যাক সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক সম্মানিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

  • চলে গেলেন ‘সুপারম্যান’ অভিনেত্রী

    হলিউড অভিনেত্রী ভ্যালেরি পেরিন মারা গেছেন। গতকাল ২৩ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেসের বেভারলি হিলসে অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। খবরটি নিশ্চিত করেছে ভ্যারাইটি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভ্যালেরি পেরিন দীর্ঘদিন ধরে পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন। ২০১৫ সালে তাঁর এ রোগ ধরা পড়ে।
    শেষ দিন পর্যন্ত পেরিন সাহস ও ইতিবাচকতা নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন। বন্ধুদের ভাষায়, ‘তিনি কখনো অভিযোগ করেননি; বরং জীবনকে উদ্‌যাপন করেছেন।’

    ‘লেনি’ থেকে অস্কারের দোরগোড়ায়
    ১৯৭৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লেনি’ সিনেমায় ভ্যালেরি পেরিনের অভিনয় তাঁকে অস্কারের মনোনয়ন পর্যন্ত নিয়ে যায়। ছবিটি ছিল স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান লেনি ব্রুসের জীবন নিয়ে, যেখানে প্রধান চরিত্রে ছিলেন ডাস্টিন হফম্যান।
    এ ছবিতে ‘হানি’ চরিত্রে পেরিনের অভিনয় সমালোচকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। তিনি জটিল, দ্বৈত অনুভূতির একটি চরিত্রকে সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলেন।

    ‘সুপারম্যান’–এ ভ্যালেরি পেরিন। আইএমডিবি
    ‘সুপারম্যান’–এ ভ্যালেরি পেরিন। আইএমডিবি

    ‘সুপারম্যান’–এ স্মরণীয় উপস্থিতি
    তবে সাধারণ দর্শকের কাছে ভ্যালেরি পেরিন সবচেয়ে বেশি পরিচিত ‘সুপারম্যান’ সিরিজের ‘মিস টেশম্যাকার’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য।
    ক্রিস্টোফার রিভ অভিনীত সুপারম্যানের বিপরীতে পেরিন ভিলেন লেক্স লুথারের সঙ্গিনী ছিলেন। এ চরিত্রে তিনি শুধু তাঁর সৌন্দর্য নয়, মানবিক দ্বন্দ্বও তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে সেই দৃশ্যগুলোতে, যেখানে তিনি সুপারম্যানকে বাঁচাতে সাহায্য করেন।
    ‘দ্য লাস্ট আমেরিকান হিরো’, ‘হোয়াট ওমেন ওয়ান্ট’ সিনেমা ছাড়াও ‘ইআর’, ‘দ্য প্র্যাকটিস’, ‘ন্যাশ ব্রিজ’–এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে অতিথি চরিত্রে পেরিনকে দেখা গেছে।

    গ্ল্যামার থেকে গভীরতায়

    ক্যারিয়ারের শুরুতে লাস ভেগাসে শোগার্ল হিসেবে কাজ করা থেকে শুরু করে প্লেবয় ম্যাগাজিনের কভার—সবকিছু মিলিয়ে পেরিন ছিলেন গ্ল্যামার জগতের পরিচিত মুখ। তবে তিনি নিজেকে শুধু সেই গণ্ডিতে আটকে রাখেননি; বরং অভিনয়ের মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করেছেন নিজের গভীরতা।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • চার ম্যাচ হাতে রেখেই আবারও চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন

    বুন্দেসলিগা বড্ড একঘেয়ে!

    বারবার যে বায়ার্ন মিউনিখই চ্যাম্পিয়ন হয়। এবারও যেমন হলো। আজ ঘরের মাঠে ভিএফবি স্টুটগার্টকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ৩৫তম বারের মতো লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাভারিয়ান পরাশক্তিরা। সর্বশেষ ১৪ মৌসুমেই ১৩ বার বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নের নাম বায়ার্ন। ব্যতিক্রম শুধু ২০২৩-২৪ মৌসুমটা, সবাইকে চমকে দিয়ে সেই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জাবি আলোনসোর বায়ার লেভারকুসেন।

    সমতা ফেরানো গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে রাফায়েল গেরেইরোর (বাঁয়ে) গোল উদ্‌যাপন
    সমতা ফেরানো গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে রাফায়েল গেরেইরোর (বাঁয়ে) গোল উদ্‌যাপন, এএফপি
     

    বায়ার্ন এবারের লিগটা জিতল চার ম্যাচ হাতে রেখেই। শনিবার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী বরুসিয়া ডর্টমুন্ড হেরে যায়। তাতে বায়ার্ন ও বুন্দেসলিগা শিরোপার দূরত্ব হয়ে যায় মাত্র ১ পয়েন্টের। আজ প্রথম সুযোগেই সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলে চ্যাম্পিয়ন ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। ৩০ ম্যাচে বায়ার্নের পয়েন্ট ৭৯, সমান ম্যাচে দুইয়ে থাকা ডর্টমুন্ডের পয়েন্ট ৬৪।

    আজ শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না বায়ার্নের। পয়েন্ট তালিকার চারে থাকা স্টুটগার্ট ২১ মিনিটেই এগিয়ে যায় ক্রিস ফুয়েরিখের গোলে। গোলটা করে অবশ্য ভুলই করেছে স্টুটগার্ট। এরপর যে তাদের ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলেছে বায়ার্ন। এক মৌসুমে বুন্দেসলিগায় সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়া দলটি ৩১ থেকে ৩৭ মিনিটের মধ্যেই ৩ গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে। রাফায়েল গেরেইরো, নিকোলাস জ্যাকসন ও আলফোন্সো ডেভিস করেন গোল তিনটি।

    আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার লাল সমুদ্র
    আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার লাল সমুদ্র, এএফপি
     

    ৫২ মিনিটে হ্যারি কেইনের গোলে জয় পুরোপুরিই নিশ্চিত করে ফেলে বায়ার্ন। এরপর ৮৮ মিনিটে চেমা আন্দ্রেসের গোলে ব্যবধান কমায় স্টুটগার্ট।

  • চীন ও ভারত থেকে এলো আরও ৫৩ হাজার টন ডিজেল

    দেশের জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চীন ও ভারত থেকে আরও ৫৩ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে। 

    শনিবার (২ মে) জাহাজগুলোর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘লিলা কিংস্টন’ চীন থেকে ১৯ হাজার টন ডিজেল নিয়ে শুক্রবার বিকেলে বন্দরে এসে পৌঁছায়। অন্যদিকে, শনিবার ভোরে ভারত থেকে ৩৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘প্রাইভেট সোলানা’ কুতুবদিয়া এঙ্করেজে নোঙর করেছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১২ হাজার ৫০০ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। সেই হিসেবে নতুন আসা এই জ্বালানি দিয়ে প্রায় চার দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

    প্রাইড শিপিং লাইনের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। এর মধ্যে ডলফিন জেটিতে দুটি জাহাজ অবস্থান করছে এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ আছে আরও চারটি। একটি জাহাজ থেকে ইতিমধ্যে ছোট জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাস বা লাইটারিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত আমদানির অংশ হিসেবে এই চালানগুলো আসছে। গত এপ্রিল মাসে ২০টি জাহাজে করে মোট ৬ লাখ টনের বেশি জ্বালানি আমদানি করা হয়েছিল। মে মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে বিপিসি, যার মধ্যে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলও রয়েছে। 

     

  • চীনের সঙ্গে দারুণ লড়ে হারল বাংলাদেশ

    সিডনি থেকে

  • চেলসিতে জাইমা রহমানের সুযোগ পাওয়া নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলেন আমিনুল হক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের ফুটবল প্যাশন এবং চেলসির বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আলোচনা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দেওয়া বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে উল্লেখ করেছেন তিনি।

    আমিনুল হক জানান, জাইমা রহমান লন্ডনে স্কুল পর্যায়ে থাকাকালীন ফুটবল খেলতেন। সেই সূত্র ধরেই চেলসির বয়সভিত্তিক দলে গোলরক্ষক হিসেবে তার খেলার সুযোগ এসেছিল। দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক বলেন, জাইমা রহমানের স্কুলে গোলকিপিং করার কথা তিনি খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেই শুনেছিলেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, স্কুলে থাকাকালীন চেলসির বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ এলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মেয়েকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে বলেছিলেন।

    নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাইমা রহমান যখন মিরপুরে ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়েছিলেন, তখন গোলকিপিং নিয়ে তাদের মধ্যে স্মৃতিচারণমূলক কথা হয়।

    সেদিনের স্মৃতি টেনে আমিনুল হক বলেন, জাইমা রহমান তাকে বলেছিলেন, ‘আঙ্কেল, আমি কিন্তু স্কুলে আপনার মতো গোলরক্ষক ছিলাম।’ মূলত জাইমা স্কুল পর্যায়ে কিপিং করতেন এবং লম্বা হওয়ায় এই পজিশনে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল।

    তিনি বলেন, ইউরোপে স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার অংশ। জাইমা রহমানেরও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ছিল, তবে পরিবারের ইচ্ছায় তিনি শেষ পর্যন্ত শিক্ষাজীবনকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্যটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।

     

  • চোখের সামনেই মায়ের হাতে বাবা খুন, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেত্রী

    অস্কারজয়ী হলিউড তারকা শার্লিজ থেরন সম্প্রতি তাঁর জীবনের এক গভীর ও মর্মান্তিক অধ্যায় নিয়ে নতুন করে মুখ খুলেছেন। একটি ঘটনা, যা তাঁর কৈশোরকে বদলে দিয়েছিল চিরতরে। তবে বিস্ময়করভাবে সেই ভয়াবহ স্মৃতির মধ্যেও তিনি আজ নিজেকে ‘আতঙ্কিত’ মনে করেন না; বরং তিনি বিশ্বাস করেন, এ ধরনের গল্প বলা জরুরি, যাতে অন্যরা নিজেদের একা মনে না করে।

    ১৯৯১ সাল, তখন থেরনের বয়স মাত্র ১৫। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁদের বাড়িতে এক রাতে ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। তাঁর বাবা চার্লস থেরন মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে এসে চরম উত্তেজিত ও সহিংস আচরণ করতে থাকেন। পারিবারিক অশান্তি তাঁর জীবনে নতুন ছিল না, কিন্তু সেদিনের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন—অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক।
    থেরন স্মৃতিচারণা করে বলেন, সেই রাতে আগেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। বাবার আচরণ, গাড়ি চালানোর ভঙ্গি—সবকিছুতেই ছিল একধরনের অস্থিরতা ও হুমকির ইঙ্গিত। তিনি নিজের ঘরে আলো নিভিয়ে ভয়ে অপেক্ষা করছিলেন।একপর্যায়ে তাঁর বাবা অস্ত্র হাতে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি দরজায় গুলি চালান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন সহিংস বাস্তবতারই প্রতিফলন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে প্রাণনাশের আশঙ্কাও তৈরি হয়।

    শার্লিজ থেরন। রয়টার্স
    শার্লিজ থেরন। রয়টার্স

    এই অবস্থায় থেরন ও তাঁর মা গেরদা মরিৎজ আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র হাতে নেন। তিনি মেয়েকে নিয়ে একটি ঘরে আশ্রয় নেন এবং দরজা ধরে রাখেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার জন্য তিনি গুলি চালান—যাতে চার্লস থেরন নিহত হন।

    এ ঘটনার ভয়াবহতা সত্ত্বেও শার্লিজ থেরন বলেন, তিনি এটিকে এমনভাবে দেখেন না যে এটি তাঁকে সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে; বরং তিনি মনে করেন, এটি এমন একটি বাস্তবতা, যা অনেক পরিবারেই ঘটে, কিন্তু খুব কমই প্রকাশ্যে আসে।

    থেরনের ভাষায়, ‘এ ধরনের ঘটনা নিয়ে কথা বলা উচিত। কারণ, এতে অন্যরা বুঝতে পারে যে তারা একা নয়।’ তিনি মনে করেন, পারিবারিক সহিংসতা একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যা প্রায়ই গুরুত্ব পায় না—বিশেষ করে নারীদের অভিজ্ঞতা অনেক সময় উপেক্ষিত হয়।

    এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই থেরনকে পরবর্তী সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করেছে। জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে কাজ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হয়ে তিনি এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

    পিপলডটকম অবলম্বনে

  • চ্যাটজিপিটি থেকে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা বা সংরক্ষণের উপায়

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা অজান্তেই বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে ফেলেন। ই–মেইল ঠিকানা, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত অভ্যাস এ ধরনের নানা তথ্য কথোপকথনের মধ্যেই চলে যেতে পারে। তবে প্রয়োজনে এসব তথ্য মুছে ফেলা, নিজের তথ্যের কপি ডাউনলোড করা কিংবা পুরো অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে অপসারণের সুযোগ রেখেছে ওপেনএআই। এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে একটি আলাদা প্রাইভেসি পোর্টাল।

    প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণসুবিধা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য অপসারণের অনুরোধ না করা হলে ওপেনএআই ব্যবহারকারীর কিছু ব্যক্তিগত তথ্য ও কথোপকথনের ইতিহাস সংরক্ষণ করতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহারকারী আলাদাভাবে নিষ্ক্রিয় না করলে তাদের দেওয়া নির্দেশনা বা ‘প্রম্পট’ ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রশিক্ষণের কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে।

    দেখে নেওয়া যাক চ্যাটজিপিটি থেকে কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা করা যায়।

    প্রাইভেসি পোর্টাল থেকে তথ্য মুছে ফেলা

    ওপেনএআইয়ের প্রাইভেসি পোর্টাল (প্রাইভেসি.ওপেনএআই.কম) ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনার একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকে ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা, নিজস্ব জিপিটি (কাস্টম জিপিটি) অপসারণ করা কিংবা নিজের কনটেন্টকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানাতে পারেন। এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মটিতে নিজের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংরক্ষিত আছে, সেটিও জানা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগত তথ্যের একটি কপি ডাউনলোডের অনুরোধ করতে পারেন। সাধারণত এতে অ্যাকাউন্ট–সংক্রান্ত তথ্য, কথোপকথনের ইতিহাস এবং আপলোড করা ফাইলের তথ্য থাকে। প্রাইভেসি পোর্টাল ব্যবহারের জন্য প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘মেক আ প্রাইভেসি রিকোয়েস্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হয়। কম্পিউটার থেকে ব্যবহার করলে অপশনটি পেজের ডান পাশে ওপরে থাকে; আর মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত পেজের নিচের দিকে দেখা যায়। এরপর ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা হয়। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সরকারি পরিচয়পত্র অথবা বহুমাত্রিক যাচাইকরণ–পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। পরবর্তী ধাপে কয়েকটি বিকল্পের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি নির্বাচন করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে নিজের তথ্য ডাউনলোড করা, নিজের কনটেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার না করার অনুরোধ, চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা, নিজস্ব জিপিটি অপসারণ কিংবা চ্যাটজিপিটির উত্তরে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে নেওয়ার আবেদন। প্রয়োজনীয় অপশন নির্বাচন করার পর বসবাসের দেশ উল্লেখ করে ‘সাবমিট রিকোয়েস্ট’ বাটনে ক্লিক করলেই অনুরোধটি জমা দেওয়া যায়।

    ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় করণীয়

    অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি মুছে না ফেলেও কিছু সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের গোপনীয়তা আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। চ্যাটজিপিটির সেটিংসে গিয়ে ডেটা কন্ট্রোল এ যেতে হবে। এরপর সেখানে থাকা ‘ইমপ্রুভ দ্য মডেল ফর এভরিওয়ান’ অপশনটি বন্ধ করলে ব্যবহারকারীর কথোপকথন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হবে না। একইভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ–সংক্রান্ত মেমোরি–সুবিধাটিও প্রয়োজনে বন্ধ রাখা যায়। মেমোরি অপশনটি সেটিংসের অ্যাপ অপশনে পাওয়া যাবে। সংবেদনশীল আলোচনার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা টেম্পোরারি চ্যাট–সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। টেম্পোরারি চ্যাট চালু করতে নতুন চ্যাটে গিয়ে ওপরে ডান দিকে থাকা টেম্পোরারি আইকনে ক্লিক করতে হবে। এই সুবিধায় করা কথোপকথন সাধারণত স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় না এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজেও ব্যবহার করা হয় না। তবে কিছু তথ্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে। এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে আগের চ্যাটগুলো আলাদাভাবে মুছে ফেলতে পারেন। এ জন্য চ্যাট তালিকায় গিয়ে কম্পিউটার থেকে চ্যাটটির ডান পাশে পাশে থাকা তিনটি আইকন এবং স্মার্টফোন থেকে চ্যাটটি প্রেস করে ধরে রেখে ট্র্যাশ আইকনে ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট চ্যাট মুছে যায়। সাধারণত এ ধরনের তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে সিস্টেম থেকে সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়।

    সূত্র: বিজিআর ডটকম

  • চড় খেয়ে সেট থেকে বের হওয়া সেই তারকা আজ ৪০০ কোটি টাকার মালিক

    টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই হালকা মেজাজ, রসিকতা আর অনায়াস বিনোদন। ‘মানুষ হাসানো’ পেশা বানিয়ে যিনি গড়ে তুলেছেন নিজের আলাদা সাম্রাজ্য, তিনি কপিল শর্মা। অথচ এই জায়গায় পৌঁছানোর পথটা একেবারেই সহজ ছিল  না। মাত্র ৫০০ টাকা আয় দিয়ে শুরু করা এই কমেডিয়ান এখন প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। উপার্জনের দিক থেকেও তিনি ভারতীয় ছোট পর্দার সবচেয়ে এগিয়ে থাকা তারকাদের একজন। আজ তাঁর জন্মদিন।

    ১৯৮১ সালের ২ এপ্রিল ভারতের অমৃতসরে জন্ম কপিল শর্মার। বাবা ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল, মা গৃহিণী। সীমিত আয়ের সংসারে বড় হওয়া কপিল ছোটবেলা থেকেই গান, অভিনয় আর মঞ্চের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁর এই আগ্রহকে নিরুৎসাহিত করা হয়নি, বরং উৎসাহই পেয়েছেন বেশি।

    ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে একটি অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। ২০০১ সালে ‘গদর: এক প্রেম কথা’ ছবির শুটিং অমৃতসরে হলে সেটে গিয়ে ছোট একটি দৃশ্যে অভিনয়ের সুযোগ পান। কিন্তু শুটিংয়ের সময় নির্দেশনা ঠিকভাবে অনুসরণ করতে না পারায় অ্যাকশন পরিচালক তিনু বর্মার বকুনি তো খেয়েছিলেনই, এমনকি চড় দিয়ে সেট থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁকে। ঘটনাটি কপিল পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করে বলেছেন, সেটাই তাঁকে নিজের দক্ষতা প্রমাণের জন্য আরও দৃঢ় করে তোলে।

    ব্যর্থতাই তাঁকে শক্তি দিয়েছিল। তিনি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফার চ্যালেঞ্জে’ দিল্লি থেকে অংশ নেন। জয়ী হয়ে ফেরেন কপিল শর্মা
    ব্যর্থতাই তাঁকে শক্তি দিয়েছিল। তিনি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফার চ্যালেঞ্জে’ দিল্লি থেকে অংশ নেন। জয়ী হয়ে ফেরেন কপিল শর্মা, ফেসবুক থেকে
     

    প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে টেলিভিশনের শীর্ষে
    ২০০৭ সালে তাঁর জীবনের বড় বাঁক আসে। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তিনি। পুরস্কার হিসেবে পান ১০ লাখ টাকা, যা তাঁর জীবনের প্রথম বড় সাফল্য। এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান কপিল। এরপর ‘কমেডি সার্কাস’-এর একাধিক আসরে অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন দক্ষ কমেডিয়ান হিসেবে। তাঁর তাৎক্ষণিক সংলাপ বলার ক্ষমতা, সাধারণ বিষয়কে হাস্যরসে রূপ দেওয়ার দক্ষতা তাঁকে দ্রুত দর্শকের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।

    স্ত্রী গিনি ছত্রাতের সঙ্গে কপিল শর্মা
    স্ত্রী গিনি ছত্রাতের সঙ্গে কপিল শর্মা

    বিতর্ক, বিরতি ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
    তবে সাফল্যের ধারাবাহিকতা সব সময় একই রকম থাকে না। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে এসে কপিল শর্মাকে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। সহশিল্পী সুনীল গ্রোভার ও আলী আসগরের সঙ্গে বিরোধ, শোর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে সমালোচনা—সব মিলিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুটিং সেটে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে আসে, যা তাঁর মানসিক চাপের ইঙ্গিত দেয়। একসময় এমন অবস্থাও তৈরি হয়, যখন তাঁর অনুষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

    এই কঠিন সময় থেকেই আবার ঘুরে দাঁড়ান কপিল। কিছু সময় বিরতি নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে ফেরেন তিনি। নতুনভাবে শুরু হওয়া ‘দ্য কপিল শর্মা শো’ আবারও দর্শকদের মন জয় করে নেয়। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও পরিণতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি।

    টেলিভিশনের বাইরে বড় পর্দায়ও কাজ করেছেন কপিল শর্মা। ২০১৫ সালে ‘কিস কিস কো প্যার করু’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘ফিরঙ্গি’, ‘জুইগ্যাটো’ এবং সাম্প্রতিক ‘ক্রু’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন—‘দ্য অ্যাংরি বার্ডস মুভি টু’ ছবিতে একটি চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

    ‘দ্য কপিল শর্মা শো’তে কপিল শর্মা
    ‘দ্য কপিল শর্মা শো’তে কপিল শর্মা, ভিডিও থেকে
     

    অর্থনৈতিক সাফল্যের দিক থেকেও কপিল শর্মা এখন শীর্ষে। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। মুম্বাইয়ের অন্ধেরিতে রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি দেশের শীর্ষ তারকাদের মধ্যে অন্যতম, প্রায় ৩০ কোটি টাকা কর দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
    টেলিভিশনের পর্দায় হাসির মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে নিজের অবস্থান পোক্ত করা কপিল শর্মা এখনো বিনোদন অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। জন্মদিন উপলক্ষে আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ভক্তরা তাঁর জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোর স্মরণীয় মুহূর্ত, পুরোনো ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সহশিল্পী ও তারকারাও বিভিন্ন পোস্টে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানাচ্ছেন।

  • ছক্কা, সেঞ্চুরি আর ৯৮৬ রান—আইপিএলে রেকর্ড ভাঙার দিন

    এমন দিন কি আইপিএলে আগে এসেছে কখনো?

    না। আসেনি। শনিবার আইপিএলের ২ ম্যাচে ৭৭.২ ওভারে উঠেছে ৯৮৬ রান। দিল্লিতে দিল্লি–পাঞ্জাব ম্যাচে ৫২৯, জয়পুরে রাজস্থান–হায়দরাবাদ ম্যাচে ৪৫৭। আইপিএলের ইতিহাসে এক দিনে এত রান কখনোই ওঠেনি। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ৮৯৯ রান, ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিলের দুই ম্যাচে।

    গতকালের দুই ম্যাচে ছক্কা হয়েছে ৫৯টি। এটিও আইপিএলের এক দিনে সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ ৫৩টি, যা দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের ৪ মে ও ২৫ মে।

    এখানেই শেষ নয়!

    জয়পুরে হায়দরাবাদ পেসার প্রফুল হিঞ্জের করা ইনিংসের প্রথম ওভারে ৪টি ছক্কা মেরেছেন রাজস্থানের ১৫ বছর বয়সী ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। প্রথম ওভারে ৪ ছক্কা এর আগে আইপিএলে কখনোই হয়নি। হায়দরাবাদ রান তাড়াতে আবার মেরেছে প্রথম ওভারে ২ ছক্কা। মানে এক ম্যাচের প্রথম ওভারে ছক্কা হয়েছে ৬টি, স্বীকৃত টি-টুয়েন্টিতেই এমন কিছু এই প্রথম।

    তবে বোলারদের ওপর ‘সুনামি’ কত তীব্র গতিতে আঘাত হেনেছে, তা বুঝতে নজর দিতে হবে আরও কিছু পরিসংখ্যানে।

    ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছেন রাহুল, আইপিএলে তাঁর দ্রুততম
    ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছেন রাহুল, আইপিএলে তাঁর দ্রুততম, বিসিসিআই
     

    এই ধরুন দিল্লির ওপেনার লোকেশ রাহুলের কথা। দিল্লি ক্যাপিটালসের এই ব্যাটসম্যান পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলেছেন ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের ইনিংস। আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ, সব মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

    এমনকি টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয়দের মধ্যে এর চেয়ে বড় ইনিংস আর কারও নেই। ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করা রাহুল যে ম্যাচসেরা হবেন, সেটা তো জানা কথাই। তবু ম্যাচ শেষে তাঁর মুখে ছিল না জয়ের হাসি।

    রাহুলের মতো খারাপ লাগার কথা সূর্যবংশীরও! কী না করেছেন রাতের ম্যাচে!হায়দরাবাদের বিপক্ষে আগের ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। যে বোলারের বলে ‘ডাক’ মেরেছিলেন, কাল সেই প্রফুল হিঞ্জকে প্রথম ওভারেই মেরেছেন চারটি ছক্কা।

    ছক্কা না চার? কী হলাে এই শটে
    ছক্কা না চার? কী হলাে এই শটে, এএফপি
     

    ১৫ বলে ফিফটি। ৩৬ বলে সেঞ্চুরি। সেই সঙ্গে টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম (৪৭৩ বলে) ১০০০ রানের রেকর্ড। সবচেয়ে কম বয়সে ১০০০ রানের মালিক। এ ছাড়া মাত্র ১৫টি আইপিএল ইনিংসেই দুই সেঞ্চুরি।

    সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ২৬ ইনিংসে ৪টি সেঞ্চুরি—দুটিই দ্রুততার রেকর্ড। গত বছর ৩৫ বলে সেঞ্চুরির পর এবার ৩৬ বলে—একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলে ৪০ বলের কমে দুটি সেঞ্চুরিও।

    এত সব রেকর্ড গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হেরেছেন সূর্যবংশী। রাজস্থানের দেওয়া ২২৯ রানের লক্ষ্য হায়দরাবাদ ছুঁয়ে ফেলেছে ৯ বল বাকি থাকতেই।

    নাহ! শনিবারের আইপিএলে বোলারদের ওপর যেন নেমে এসেছিল ‘শনির’ দুর্ভাগ্য।

  • ছেলে জিবরানকে ড্রাম শেখাচ্ছেন জেমস, ভিডিও ভাইরাল

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে নগরবাউল জেমসের একটি ভিডিও। প্র্যাকটিস প্যাডে ধারণ করা ওই ভিডিওতে ছোট্ট পুত্র সন্তান জিবরান আনামকে ড্রামসের খুঁটিনাটি দেখাচ্ছিলেন জেমস। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

    জেমস এর কোলে পুত্র জিবরান আনাম
    জেমস এর কোলে পুত্র জিবরান আনাম,ছবি: জেমস এর সৌজন্যে
     

    ভিডিওতে দেখা যায়, জেমস ছেলেকে ড্রাম স্টিক ধরা শেখাচ্ছেন। স্টিক দিয়ে ড্রাম বাজানোর টেকনিকও দেখিয়েছেন তিনি।

    ছোট্ট জিবরানও আগ্রহ নিয়ে সেগুলো অনুসরণ করেছে এবং ড্রামসকে যেন খেলনার মতোই উপভোগ করছে। রকস্টারের ছেলের খেলনা তো ড্রামস–গিটারই হবে!
    ভিডিওটি দেখে নেটিজেনরা বলছেন, ‘এ তো রক্তের সাথে রক্তের টান’, কেউ লিখেছেন, ‘রকের উত্তরাধিকার যেন আগেই তৈরি হয়ে গেছে।’ কেউ কেউ লিখেছেন, ‘রকস্টারের ছেলে, খেলনার মতোই দেখছে ড্রামসকে।’

    নামিয়া আমিন ও জেমস
    নামিয়া আমিন ও জেমস, শিল্পীর সৌজন্যে
     

    গত বছরের ২২ অক্টোবর প্রথম আলোর মাধ্যমে বিয়ে ও বাবা হওয়ার খবর দেন জেমস। বাবা হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘বাবা হওয়ার অনুভূতি অসাধারণ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে সুস্থ সন্তান দান করেছেন।’

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিনকে বিয়ে করেন জেমস। বিয়ের পর নামের সঙ্গে আনাম নাম যুক্ত করেছেন নামিয়া। ২০২৫ সালের ৮ জুন নিউইয়র্কের হান্টিংটন হাসপাতালে জেমস-নামিয়া দম্পতির কোলজুড়ে আসে পুত্রসন্তান জিবরান আনাম।

    ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে দেখা হয় নামিয়ার সঙ্গে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি অনুষ্ঠানে দুজনের পরিচয় হয়, আর এই পরিচয় থেকে প্রণয় ও বিয়ে। তবে এটি কোনো কনসার্ট ছিল না, এমনকি জেমস সম্পর্কে আগে থেকে তেমন কিছু জানতেনও না নামিয়া!

    পরিচয়ের এক বছর পর ২০২৪ সালের ১২ জুন পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ঢাকায় তাঁদের বিয়ে হয়।

  • ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত জুলাই-ডিসেম্বর শেষে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংকঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তার অর্ধেকের বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকঋণসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার রাতে সরকারের ব্যাংকঋণের সর্বশেষ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণও প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। এই খাত থেকে পুরো অর্থবছরে ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস সরকারের দায়িত্বে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে এই ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে নেওয়া ঋণের পুরোটাই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে। ওই সময় সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি মন্থর ছিল। ফলে উন্নয়নের চেয়ে ঋণের বড় অংশই খরচ হয়েছে সরকারের পরিচালন ব্যয় বাবদ।

    * সরকারের ব্যাংকঋণ আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়ে আট গুণ হয়েছে। * ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণ কমেছে সরকারের। * ব্যাংক ও আর্থিক খাত মিলিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার ব্যাংক থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তা আগের অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় প্রায় আট গুণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যা আট গুণ বেড়ে অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ আট গুণ বাড়লেও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আর্থিক খাত থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা কমেছে।

    অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ এখন মূলত ব্যাংকনির্ভর। একসময় সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিত। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। এ কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে খুব বেশি ঋণ নিতে পারছে না সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্রের বদলে উচ্চ সুদে বিভিন্ন ধরনের বিল-বন্ড বিক্রি করে ঋণ নিচ্ছে সরকার। ভালো সুদ পাওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ মানুষও সরকারি-বিল বন্ডে বিনিয়োগ করছেন।

    অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগে একধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। এ কারণে সরকারি ব্যাংকঋণ বাড়লেও তাতে বেসরকারি খাত খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। কিন্তু বিনিয়োগে গতি ফিরলে সরকারের ব্যাংকঋণ বেসরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করবে। কারণ, বেসরকারি খাত তখন চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকঋণ পাবে না।

    চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে মোট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত মিলিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব