• এই ২৫টি সামাজিক নিয়ম শিশুকে অবশ্যই শেখাবেন

    কেবল বই পড়ে শিশু সবকিছু শেখে না বা পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে না। তার ভালো আচরণ, ভদ্রতা, সহানুভূতি ও সামাজিক দক্ষতাই তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। ছোটবেলা থেকেই কিছু মৌলিক সামাজিক নিয়ম শেখানো হলে শিশু আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও বন্ধুত্বপরায়ণ হয়ে ওঠে। পরিবারই শিশুর প্রথম বিদ্যালয়। আর মা–বাবাই তার প্রথম শিক্ষক। তাই দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমেই তাকে সামাজিক মূল্যবোধ শেখানো সবচেয়ে কার্যকর। শিশুকে যেসব সামাজিকতা শেখাতে পারেন, এবার জেনে নেওয়া যাক সেসব বিষয়ে।

    ১. সালাম বা শুভেচ্ছা জানানো

    বড়দের দেখলে সালাম, নমস্কার (যার যার ধর্মীয় রীতি অনুসারে) বা হ্যালো বলা ভদ্রতার পরিচয়। এটা শিশুকে শেখাতে পারেন।

    ২. ‘ধন্যবাদ’ ও ‘দুঃখিত’ বলা শেখান

    ছোট ছোট ধন্যবাদের অনেক ক্ষমতা। কৃতজ্ঞতা ও ভুল স্বীকার করার অভ্যাস শিশুর চরিত্রকে সুন্দর, আকর্ষণীয় করে। শিশু যে মুহূর্তে বুঝতে পারে যে তার ভুল হয়েছে, তখনই সরি বলা শেখান।

    ৩. বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ, উভয়কে সাহায্য

    শিশুদের বয়সে বড়দের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও সম্মান দেখানো শেখান। ছোটদের স্নেহ করা, ভালোবাসা শেখান। বড়-ছোট নির্বিশেষে সবাইকে সাহায্য করা শেখান।

    ৪. অন্যের কথার মাঝখানে কথা না বলা

    অন্য কেউ কথা বলার সময় শিশুকে ধৈর্য ধরে তাকে কথাটা শেষ করতে দেওয়া শেখান। তারপর শিশুকে নিজের কথাটা সুন্দরভাবে বলতে বলুন।

    ৫. শেয়ার করার অভ্যাস

    কথায় বলে, ‘শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং’। খেলনা, খাবার বা জিনিসপত্র বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শেখান।

    ৬. মানুষকে পোশাক বা পেশা দিয়ে বিচার না করা

    খাবার বা খেলনা শিশুকে ভাগ করে নিতে শেখান
    খাবার বা খেলনা শিশুকে ভাগ করে নিতে শেখান
     

    মানুষকে কখনোই পোশাক, ধর্ম, জাতি বা অন্য যেকোনো কিছু দিয়ে ‘জাজ’ না করার শিক্ষা দিন। প্রতিটি পেশাজীবী ও ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে যেন আপনার শিশু সমান চোখে দেখতে পারে, মূল্যায়ন করে শিশুকে সেই শিক্ষা দিন।

    ৭. মিথ্যা না বলা, প্রতিজ্ঞা রাখা

    সত্য কথা বলার গুরুত্ব ছোটবেলা থেকেই বোঝান। শিশুর কাছে কোনো প্রতিজ্ঞা করলেও সেটা রাখতে হবে। একান্তই যদি প্রতিজ্ঞা রাখা সম্ভব না হয়, কেনো হচ্ছে না তা আগেই জানিয়ে দিন।

    ৮. অনুমতি নেওয়ার অভ্যাস

    অন্যের জিনিস ব্যবহার করার আগে অনুমতি চাওয়া শেখান। এমনকি সেটা পরিবারের জন্য কারও হলেও।

    ৯. অন্যের ঘরে প্রবেশ করার আগে

    নিজের বাদে অন্য যেকোনো ঘরে প্রবেশ করার আগে নক করা ও অনুমতি নেওয়া শেখান।

    ১০. লাইনে দাঁড়ানো

    স্কুল, দোকান বা যেকোনো জায়গায় শৃঙ্খলা মেনে চলার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। লাইনে দাঁড় করানো শেখার ছোটবেলা থেকে।

    ১১. কাউকে মজা করেও ছোট করা নয়

    শিশুকে ‘ফান’ করার নামে কাউকে ছোট করে কথা বলা, মারামারি, ঠাট্টা বা অপমানজনক আচরণ থেকে বিরত থাকতে শেখান।

    ১২.অন্যের কষ্ট বোঝা

    অন্যের কষ্ট বুঝতে ও সাহায্য করতে উৎসাহ দিন।

    ১৩. নিজের কাজ নিজে করা

    ব্যাগ গোছানো, খেলনা গোছানো, দিনের ছোট ছোট কাজ—এসব শিশুর ভেতর দায়িত্ববোধ তৈরি করে।

    ১৪. ডাইনিং ম্যানার

    শিশুকে খাবার টেবিলের কিছু ম্যানার শেখানো জরুরি
    শিশুকে খাবার টেবিলের কিছু ম্যানার শেখানো জরুরিমডেল: ফারিবা, ফারিণ, শেহরান ও কোকো। 
     

    খাবারের সময় শালীনভাবে বসা, পা না নাচানো, অতিরিক্ত কথা না বলা, সুন্দরভাবে খাবার খাওয়া ইত্যাদি শেখান।

    ১৫. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা

    রেগে গিয়ে চিৎকার বা খারাপ আচরণ না করে শান্ত থাকার অনুশীলন করান।

    ১৬. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

    নিজের শরীর, পোশাক ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছোটবেলা থেকেই ফলের খোসা বা চিপস চকলেটের প্যাকেট নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা শেখান।

    ১৭. পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা

    শিশুকে যখনই সুযোগ হবে, পরিবেশ সচেতন করে তোলার চেষ্টা করবেন। প্লাস্টিকের ঝুঁকি, বায়ুদূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি—এসব সম্পর্কে একটু একটু করে ধারণা দিন। গাছ লাগাতে ও গাছের যত্ন নিতে উৎসাহিত করুন।

    ১৮. অপচয় না করা

    শিশুকে অভাব আর আভিজাত্যের ভারসাম্য রেখে বড় করুন। ছোটবেলা থেকেই তাকে অপচয় না করার শিক্ষা দিন।

    ১৯. পেছনে কথা না বলার শিক্ষা দিন

    শিশুকে ছোট ছোট বিষয়ে কমপ্লিমেন্ট দেওয়া শেখান
    শিশুকে ছোট ছোট বিষয়ে কমপ্লিমেন্ট দেওয়া শেখান
     

    শিশুকে কারও অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কথা বলা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দিন। কারও সঙ্গে আপনার শিশুর যদি বোঝাপড়ার সমস্যা হয় তাহলে বিষয়টি তার সঙ্গে সময়, সুযোগ বুঝে সুন্দরভাবে খোলামেলা আলাপের ভেতর দিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে অনুপ্রাণিত করুন।

    ২০. যেটুকু ধার নিয়েছে, তার বেশি ফেরত দেওয়া

    দরকারের সময় আপনি যদি পাশের বাসা থেকে ২০টি কাঁচা মরিচ নেন, ফেরত দেওয়ার সময় ৩০টি দিন। শিশুকেও তা সচেতনভাবে শেখান।

    ২১. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা

    কোনো ব্যক্তি যদি কোনো একটা কথা বলে সেটা গোপন রাখতে বলে, তা যেকোনো মূল্যে গোপন রাখার শিক্ষা দিন শিশুকে। এমনকি কোনোভাবে কারও ব্যক্তিগত কোনো বিষয় জেনে গেলেও তার গোপনীয়তা রক্ষা করা শেখান।

    ২২. ‘কমপ্লিমেন্ট’ দেওয়া

    শিশুকে ছোট ছোট বিষয় খেয়াল করা, কমপ্লিমেন্ট দেওয়া ও ইতিবাচকতার চর্চা করা শেখান।

    ২৩. চোখে চোখ রেখে কথা বলা

    পরিষ্কার আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগের জন্য ‘আই কনটাক্ট’ খুবই জরুরি।

    ২৪. কাউকে কোনো কিছুর জন্য চাপ না দেওয়া

    শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সম্মতি বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করার জন্য চাপ না দিতে, জোরাজুরি না করতে শেখান।

    ২৫. ‘না’ বলতে শেখান

    শিশুকে সুন্দরভাবে, যোউক্তিকভাবে না বলতে শেখান।
    মনে রাখবেন
    এসব বিষয় আপনি কখনোই শিশুকে কেবল বলে বা বুঝিয়ে শেখাতে পারবেন না। আপনি নিজে এসবের অনুশীলন করলে শিশুও সেসব ‘কপি’ করবে, আয়ত্ত করবে। তাই অভিভাবক হিসেবে সবার আগে আপনাকে ওপরের বিষয়গুলো চর্চা করতে হবে।
    সূত্র: ভেরি ওয়েলমাইন্ড

  • এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ৭ জুন শুরু

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হচ্ছে। 

    সোমবার (৩০ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এর আগে, একই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বোর্ডগুলো চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা জুনের প্রথমার্ধে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। সেই সঙ্গে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এদিকে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কেন্দ্রসচিবসহ মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। 

    এসব নির্দেশনা প্রতিপালনে কোনোপ্রকার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে মাউশি।

     

  • এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই

    ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) শনিবার (১৮ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল।

    বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২-১৩ লাখের মতো পরীক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    এর আগে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জুন থেকে শুরু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড। পরে প্রাথমিক সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নতুন করে ২ জুলাই তারিখ ঘোষণা করা হলো।

  • এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কেন্দ্রসচিবদের ৩৫ নির্দেশনা

    ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ আগস্ট। এ বছরের (২০২৬ সাল) এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় পরীক্ষার সময়সূচি, প্রশ্নপ্রত্র বিতরণ, খাতা সংরক্ষণ, আকার অনুযায়ী কোনো বেঞ্চে কত শিক্ষার্থীর আসন, কোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে, শৌচাগার তল্লাশিসহ ৩৫টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আজ রোববার (১৪ জুন ২০২৬) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর সব কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

    নির্দেশনায় যা যা বলা হয়েছে—
    ১.
    নিয়মিত (সেশন ২০২৪-২৫) পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এইচএসসি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
    ২.
    অনিয়মিত/মানোন্নয়ন (সেশন ২০২৩-২৪ ও তৎপূর্বের) পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
    ৩.
    পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় ও বেলা ২টায় পরীক্ষা শুরু হবে।
    ৪.
    পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারিতে বা থানা লকারের ট্রাংকে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের বিবরণী তালিকা ঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই–সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন।
    ৫.
    প্রশ্নপত্রের ২ সেট করে সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) সেট, পরীক্ষার তারিখ অনুসারে সেটভিত্তিক আলাদা করে নিরাপত্তা (সিকিউরিটি) খামে প্যাকেট করতে হবে।
    ৬.
    প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইয়ের দিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তারিখভিত্তিক প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সাজিয়ে নিরাপত্তা খামে গাম লাগিয়ে এবং কার্টন টেপে যথাযথভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে এবং নিরাপত্তা খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড অবশ্যই লিখতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা বলে গণ্য হবে।
    ৭.
    ট্রেজারি থেকে পরীক্ষার দিনগুলোতে ট্রেজারি অফিসারের নিকট থেকে ওই দিনের প্রশ্নপত্রের খাম (সৃজনশীল ২ সেট ও বহুনির্বাচনি ১ সেট) গ্রহণ করতে হবে।
    ৮.
    অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে থানা/ট্রেজারি থেকে ট্যাগ অফিসার  এবং পুলিশ প্রহরাসহ প্রশ্নপত্রের প্যাকেট (সিকিউরিটি খাম) কেন্দ্রে আনতে হবে।
    ৯.
    মোবাইল ফোনে সেট কোডের এসএমএস পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার, পুলিশ অফিসারকে প্রদর্শনের পর সেট কোড নিশ্চিত হয়ে ফয়েল প্যাকেটে অমোচনীয় কলম দিয়ে স্বাক্ষর করার পর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে এবং অন্য সেটের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকবন্দী করতে হবে। অব্যবহৃত সেটের প্রশ্নপত্রের খাম অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সেট কোডের পরিবর্তে অন্য কোনো সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলে বিভাগীয় শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এআই/প্রথম আলো

    ১০.
    কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
    ১১.
    প্রতি ২০ পরীক্ষার্থীর জন্য ১ জন কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে দুজন করে দায়িত্ব পালন করবেন।
    ১২.
    ৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে দুজন এবং ৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে একজনের আসন ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এর ব্যতিক্রম করা যাবে না।
    ১৩.
    সকাল সাড়ে আটটা থেকে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে এবং পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকক্ষে অবশ্যই প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময়ের পর কোনো পরীক্ষার্থী এলে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতায় রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে বোর্ডে রেজিস্টার খাতাটি জমা দিতে হবে।
    ১৪.
    পরীক্ষা শুরুর পূর্বে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করতে হবে।
    ১৫.
    বোর্ড থেকে সরবরাহ করা নকল প্রতিরোধমূলক পোস্টার পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রবেশপথের দৃশ্যমান স্থানে লাগাতে হবে।
    ১৬.
    ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁর কেন্দ্রের আওতাভুক্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রবেশপত্র প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন।
    ১৭.
    পরীক্ষার প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।
    ১৮.
    ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের নিকট সরবরাহ করা যাবে না।
    ১৯.
    শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।
    ২০. পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র গ্রহণ, পরিবহন ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে প্যাকেট খোলাসহ সব কাজের সঙ্গে ট্যাগ অফিসারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। ট্যাগ অফিসারের যাতায়াত ও সম্মানী কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেন্দ্র ফি থেকে ব্যবস্থা করবেন।

    ২১.
    পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট তারিখ ও বিষয় লিখে দিতে হবে।
    ২২.
    নির্দিষ্ট তারিখে পরীক্ষার সময়সূচি মোতাবেক পরীক্ষা নিতে হবে। উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীক্ষা শাখার স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালা করা অবস্থায় পৌঁছাতে হবে।
    ২৩.
    পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনের কাজে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।
    ২৪.
    পুরোনো ও নতুন সিলেবাস অনুসারে ৫০টি করে উত্তরপত্র করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নতুন ও পুরোনো সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না।
    ২৫.
    উত্তরপত্রের প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অতিরিক্ত কিছু লেখা থাকলে তার জন্য কেন্দ্রসচিব দায়ী থাকবেন।
    ২৬.
    প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্যাকেট আলাদা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের লিখিত উত্তরপত্র পৃথকভাবে প্যাকেট করে লেবেল লাগিয়ে ‘বিশেষ পরীক্ষার্থী’ উল্লেখ করে জমা দিতে হবে।
    ২৭.
    পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই প্রবেশপত্র গ্রহণের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।

    ২৮.
    পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিষ্ঠানের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে, তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এবং সময়সূচিতে যেদিন পরীক্ষা নেই, সেদিন নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।
    ২৯.
    পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সে জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।
    ৩০.
    পরীক্ষা শুরুর পরপরই কেন্দ্রের শৌচাগারগুলো তল্লাশি করাতে হবে এবং কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা ফেলে দিতে হবে।
    ৩১.
    পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং প্রত্যবেক্ষক ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অন্য কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।
    ৩২.
    ট্রেজারি/থানা হেফাজত থেকে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারী/ট্যাগ অফিসারের নাম ও মোবাইল নম্বর বোর্ডে পাঠাতে হবে।
    ৩৩.
    সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং ক্যামেরার মডেল, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর, পাসওয়ার্ড ও আইডি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠাতে হবে।
    ৩৪.
    পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত খড়ি ব্যতীত অন্য কোনো ঘড়ি পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।
    ৩৫.
    যেসব কেন্দ্র থেকে রেলওয়ের মাধ্যমে উত্তরপত্র প্রেরণ করা হয়, সেসব কেন্দ্র থেকে অবশ্যই প্রতিদিনের উত্তরপত্র প্রতিদিন রেলযোগে পাঠাতে হবে। যদি রেলযোগে পাঠানো না যায়, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো যাবে।

  • এক ফারিণ ফিরলেন নো মেকআপ লুকে, আরেক ফারিন শাড়িতে ছড়ালেন মুগ্ধতা

    নামের বানানে কিছুটা হেরফের আছে এই দুই অভিনেত্রীর। তাসনিয়া ফারিণ বহুদিন ধরেই অত্যন্ত জনপ্রিয় আর আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন দেশের অভিনয় জগতে। তাঁকে আগে আমরা নন গ্ল্যাম, সহজাত সৌন্দর্যের লুকে বেশি দেখেছি পর্দা ও পর্দার বাইরে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেন খোলস ভেঙে গ্ল্যামারগার্ল লুকেই বেশি দেখা গিয়েছে ফারিণকে। অনেকদিন পর বরং আগের মতো নো মেকআপ লুকে দেখা দিলেন তিনি। এদিকে নবীন অভিনেত্রী ফারিন খান বেশ নজর কাড়ছেন আজকাল নাটকে আর সামাজিক মাধ্যমে। তাঁর নতুন শাড়ির লুক দুটি সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।

    [caption id="attachment_272864" align="alignnone" width="700"] মভরঙা সিম্পল টপ আর ম্যাচিং লিপ টিন্টে ন্যাচারাল লুকে তাসনিয়া ফারিণ। সঙ্গে ছোট লাল টপ।[/caption][caption id="attachment_272865" align="alignnone" width="700"] কিউট টেডি বসানো স্পোরর্টি সাদা কালো জার্সি টপে ফারিণ[/caption][caption id="attachment_272863" align="alignnone" width="700"] বেল্ট দিয়ে এর সঙ্গে হাই ওয়েস্টেড সাদা প্যান্ট পরেছেন তিনি। সঙ্গে আছে কালো ব্যাগ।[/caption]
     
     
    [caption id="attachment_272869" align="alignnone" width="700"] খোলা চুলে মেকআপ ছাড়া আগের মতো স্নিগ্ধ সুন্দর লাগছে এই অভিনেত্রীকে।[/caption]
    [caption id="attachment_272870" align="alignnone" width="700"] কালো ব্রালেট টপ আর কালোশাড়ির সঙ্গে লাল চুড়ির লুক্ব চমক দিয়েছেন ফারিন খান[/caption]
    [caption id="attachment_272868" align="alignnone" width="700"] প্যাস্টেল মিন্ট জর্জেট শাড়ির এই রিফ্রেশিং লুকেও চমৎকার লাগছে ফারিনকে[/caption][caption id="attachment_272871" align="alignnone" width="700"] শাড়ির সবুজ বর্ডার আর সাদা স্লিভলেস ব্লাউজে স্নিগ্ধ আমেজ[/caption][caption id="attachment_272866" align="alignnone" width="700"] খোলা চুল, সাদা ফুল আর ছোট পার্লের গয়নায় চার্ম ছড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রী।[/caption]
     
  • এক ফোনেই সব বদলে যায় সানি লিওনির

    ওটিটিতে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অনুরাগ কশ্যপের সিনেমা ‘কেনেডি’। এর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানি লিওনি। সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, এই সিনেমায় সুযোগ পাওয়াসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সানি লিওনি।

    কেনেডি ছবিতে  ‘চার্লি’ চরিত্র যেন এক অন্য সানি লিওনিকে সামনে এনেছে। তিন বছর পর ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্রমহলে আলোচিত।
    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সানি লিওনি জানিয়েছেন, তিনি অনুরাগ কশ্যপকে খুবই বড় মানের নির্মাতা মনে করেন।  তাঁর ভাষায়, ‘অনেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তিনি সেটে পাগলাটে কোনো কঠোর পরিচালক নন। তাঁর প্রত্যাশা থাকে—আপনি প্রস্তুত হয়ে আসবেন, জানবেন কী করতে হবে। তবে তিনি সময় দেন, যা সবাই দেন না।’

    ‘কেনেডি’—এক ফোনকল থেকে কান উৎসবে
    সানি লিওনির কাছে এই ছবির প্রস্তাবটিই ছিল অবাক করা। মূলধারার বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও অনুরাগ কশ্যপের মতো নির্মাতার কাছ থেকে এমন প্রস্তাব পাওয়া তাঁর কাছে ছিল স্বপ্নের মতো।

    সানি লিওনি আরও বলেন, ‘শিল্পে নানা রাজনীতি থাকে। অনেক সময় শেষ মুহূর্তে বদল ঘটে। তাই প্রথম দৃশ্যের শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার মনে হচ্ছিল—যেকোনো কিছু হতে পারে। কিন্তু যখন প্রথম শটটা হলো, তখন মনে হলো—হ্যাঁ, চার্লি সত্যিই এখানে আছে।’

    ছবিটি ২০২৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মিডনাইট স্ক্রিনিং বিভাগে প্রিমিয়ার হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছবির প্রশংসা নির্মাতা ও শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পরে এটি জিও মামি মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসব, সিডনি চলচ্চিত্র উৎসব, মেলবোর্নের ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব, লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়।

    ‘কেনেডি’ সিনেমায় সানি লিওনি। আইএমডিবি
    ‘কেনেডি’ সিনেমায় সানি লিওনি। আইএমডিবি

    ‘চার্লি’র রহস্যময় হাসি
    ছবিতে সানি লিওনের চরিত্র চার্লির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য—অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে তাঁর রহস্যময় হাসি। এই হাসিকে নিখুঁত করতে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছেন অভিনেত্রী। ‘আমি সপ্তাহের পর সপ্তাহ সেই অদ্ভুত হাসিটা অনুশীলন করেছি। লিফটে, সেটে, বিমানবন্দরে—যেখানে সুযোগ পেয়েছি, হাসতাম। আশপাশের মানুষ ভাবত আমি পাগল হয়ে গেছি! কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল চরিত্রটাকে নিজের মধ্যে ঢুকিয়ে নেওয়ার উপায়,’ বলেন তিনি।

    সানি স্বীকার করেন, তিনি সহজে বিব্রত হন না। ‘আমি হাঁটতে গিয়েও হোঁচট খাই। অন্যরা লজ্জা পায়, আমি না। তাই এই হাসি নিয়েও কখনো অস্বস্তি হয়নি,’—যোগ করেন তিনি।

    ওটিটিতে মুক্তি ও অপেক্ষার গল্প
    দীর্ঘ উৎসবযাত্রার পর ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ‘কেনেডি’ ওটিটিতে মুক্তি পায়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও ভারতে মুক্তির বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
    এ প্রসঙ্গে সানি বলেন, ‘আমার স্বামী সব সময় বলেন, প্রতিটি ছবিরই নিজস্ব সময় থাকে, সময় হলে সে তার জায়গা খুঁজে পায়। আমরা এই ছবিকে নিয়ে বিশ্বভ্রমণ করেছি। মুম্বাইয়েও দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন। ছবিটিকে একটি নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন ছিল এবং এখন তা হচ্ছে—এটাই বড় কথা।’

    প্রশংসা, পর্যালোচনা ও সামনে পথচলা
    চার্লি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সহকর্মীদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত প্রশংসা পেয়েছেন সানি। নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে বলেছেন, তাঁরা কাজটা পছন্দ করেছেন। সেটা সত্যিই আনন্দ দিয়েছে, বলেন তিনি।

    ‘কেনেডি’ সিনেমার পোস্টার। আইএমডিবি
    ‘কেনেডি’ সিনেমার পোস্টার। আইএমডিবি

    ওটিটিতে মুক্তির পর ইতিবাচক পর্যালোচনাও তাঁকে বিস্মিত করেছে। ‘অনেক দিন পর মনে পড়ল—রিভিউ বলে একটা ব্যাপার আছে! এত সুন্দর প্রতিক্রিয়া পাব, ভাবিনি,’—হাসতে হাসতে বলেন সানি।

    নিজের দীর্ঘ যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়ে তরুণ বয়সের নিজেকে কী বলতেন? সানির জবাব, ‘বলতাম—সিটবেল্ট বাঁধো। পথ সহজ হবে না। জীবনে কিছুই সহজে পাইনি। লড়তে হয়েছে, আঁকড়ে ধরতে হয়েছে। একটা দরজা বন্ধ হলে আরেকটা খোলার চেষ্টা করেছি। আর সেই চেষ্টাই আমাকে এখানে এনেছে।’

    এনডিটিভি অবলম্বনে

  • এক বছরে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান, জানালেন নতুন কোচ টমাস ডুলি

    ঢাকায় পা রেখেছেন আজ সকালে। বিকেলেই হাজির হলেন এক অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ নামের সেই অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

    টমাস ডুলি—বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ। বাফুফে তাঁকে আগামী দুই বছরের জন্য হামজা চৌধুরী–জামাল ভূঁইয়াদের দলের দায়িত্ব দিয়েছে।

    বিএসপিএর অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়েই ডুলি শোনালেন বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে তাঁর লক্ষ্যের কথা। বললেন, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে এ দেশের ফুটবলকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে চান।

    ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়া ডুলি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য হলো র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসা।’

    তবে ১৮০–এর আশপাশে ঘোরাঘুরি করা র‍্যাঙ্কিং থেকে দ্রুতই যে উন্নতি করা যাবে না, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে টমাস ডুলি
    বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে টমাস ডুলি

    ফুটবলারদের ইতিবাচক মানসিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর জোর দিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘লক্ষ্য বাস্তবসম্মত হতে হবে। ১৬০-এর নিচে আসা অবশ্যই বাস্তবসম্মত, তবে আগামীকালই নয়, হয়তো এক বছরের মধ্যে আমরা তা অর্জন করতে পারব।’

    ‎২০০৩ সাফের পর বড় কোনো সাফল্য না পাওয়া বাংলাদেশকে ভালো করতে হলে ফুটবলারদের ভেতরে ত্যাগের মানসিকতা ও সুন্দর ফুটবল খেলার তাড়না জাগিয়ে তুলতে হবে বলে মনে করেন ডুলি। বলের পেছনে না ছুটে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলবে বাংলাদেশ—এমন দলই গড়তে চান বলে জানালেন তিনি।

  • এক বছরের মধ্যে ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানা বেসরকারি খাতে যাবে: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

    বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানাকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

    রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে আজ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর আগে তিন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিসিদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

    অধিবেশন শেষে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    এই অধিবেশনে জেলা প্রশাসকেরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং বন্ধ চিনিকল আবার চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকদের এই প্রস্তাবের কথা জানান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।

    উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর (এআইভিত্তিক) সরবরাহব্যবস্থা তদারক করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুত, পাইকারি ও খুচরা—প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

    আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটি চামড়াও যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হবে।

    দুই বছরের কৌশলগত কাঠামো বানাচ্ছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

    এদিকে ডিসি সম্মেলন শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রাখা, দুর্নীতি কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার আলোকে একটি দুই বছর মেয়াদি নতুন কৌশলগত কাঠামো তৈরি করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এ কাঠামো সাজানো হচ্ছে।

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বৈষম্য কমিয়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ জন্য এখন থেকে প্রতিটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তা কতটুকু কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

    প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ, আর্থিক বরাদ্দের সময়সূচি, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামোর ঘাটতি এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে অনেক প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে। জোনায়েদ সাকি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।

  • এক লাফে ২৩ ধাপ এগোলেন নাহিদ রানা

    পাকিস্তানের পর নিউজিল্যান্ড। আর গতকাল? মিরপুরের ২২ গজে যেন এক রুদ্রমূর্তি! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গতি আর বাউন্সের যে পসরা সাজালেন নাহিদ রানা, তাতে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস ওঠার দশা। ২১ বছর পর ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই যে ঐতিহাসিক জয়, তার অন্যতম রূপকার তিনি। এমন আগুনঝরা পারফরম্যান্সের পুরস্কারও হাতেনাতে পেলেন আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে। একলাফে ২৩ ধাপ পেরিয়ে ক্রিকেট–বিশ্বের নজর কেড়েছেন এই তরুণ।

    মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে কাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দিয়েছেন নাহিদ। ১০ ওভার বল করে মাত্র ৪১ রান খরচায় পকেটে পুরেছেন ৪ উইকেট।

    অস্ট্রেলিয়া–জয়ের এই মহাকাব্যের পর আজ আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের যে নতুন তালিকা প্রকাশ পেয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে বড়সড় এক ওলট–পালট। বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে এত দিন ৪৭ নম্বরে থাকা নাহিদ এখন ৫৩৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে চলে এসেছেন ২৪ নম্বরে

    বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে অবশ্য ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে এখনো সবার ওপরে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬১৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক অবশ্য তাঁর আগের অবস্থানটাই ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে এই সংস্করণে দেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবার ওপরে আছেন তাওহিদ হৃদয়। তবে তাঁর জন্য নতুন র‍্যাঙ্কিংয়ের খবরটা একটু মনখারাপের। এক ধাপ পিছিয়ে ২৬ থেকে এখন ২৭ নম্বরে নেমে গেছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

    নাহিদ-মিরাজদের এই ব্যক্তিগত লড়াইয়ের আড়ালে দলের ভাগ্যও জড়িয়ে আছে আইসিসির এই হিসাব-নিকাশে। আগামী বছর সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে হলে বাংলাদেশকে থাকতে হবে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা নয়ে। সুখবর হলো, ৮৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন ৯ নম্বরেই আছে। নতুন র‍্যাঙ্কিংয়ে লাল-সবুজের দলের এই অবস্থানে কোনো নড়চড় হয়নি।

  • একটি জার্সির দাম ৪৬ হাজার টাকা, কেন এত দামি হোস্ট সিটি জার্সি

    ফিফার তৈরি বিশেষ ‘হোস্ট সিটি’ জার্সিগুলো গায়ে পরার চেয়ে বোধ হয় সাজিয়ে রাখাই লাভজনক হবে। কারণ, এসব সংগ্রহে রাখার জন্যই বানানো, অর্থাৎ লিমিটেড এডিশন। আর প্রতিটি শহরের জন্য মাত্র ৯৯৯টি তৈরি হওয়া এই জার্সির নকল ঠেকাতে আছে আধুনিক এনএফসি প্রযুক্তি।

    সবাই মেতেছে ফুটবল বিশ্বকাপে। প্রিয় দলের জার্সি কিনতে ছোট-বড় সব দোকানেই ভিড়। যে যার পছন্দের দলের ফ্যান কিংবা প্লেয়ার এডিশন জার্সি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে এর মধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ কপালে তুলেছে ফিফা ‘হোস্ট সিটি’ জার্সির দাম।

    এর একেকটি জার্সি কিনতে গুনতে হবে প্রায় ৪৬ হাজার টাকা! সাধারণ কোনো জার্সির চেয়ে এটি কেন এত আলাদা? আর কী এমন বিশেষ কারণ আছে, যার জন্য দাম এত বেশি?

    গত মে মাসের শুরুর দিকে ফিফা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলোর জন্য বিশেষ ডিজাইনের সীমিতসংখ্যক কিছু জার্সি বিক্রির জন্য ছেড়েছিল। এর প্রতিটির দাম রাখা হয়েছে ৩৭৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৬ হাজার টাকা।

    এবারের বিশ্বকাপের টিকিট থেকে শুরু করে অন্যান্য সব জিনিসের চড়া দামের মতোই, জার্সির এই দাম নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। আর ফুটবল–ভক্তদের এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদের পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণও আছে।

    হোস্ট সিটি জার্সি কী

    ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন দেশে একসঙ্গে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৪৮ দলের এই বিশাল আয়তনের বিশ্বকাপে খেলা হবে মোট ১৬টি ভেন্যুতে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার এই ভেন্যুগুলোয় মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    এসব জার্সি সংগ্রহে রাখার জন্যই বানানো, অর্থাৎ লিমিটেড এডিশন
    এসব জার্সি সংগ্রহে রাখার জন্যই বানানো, অর্থাৎ লিমিটেড এডিশন, ছবি: ফিফা
     

    আর এই বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজক শহরগুলোর জন্য ফিফা এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। তারা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিশেষ ডিজাইনের লিমিটেড এডিশন জার্সি বাজারে ছেড়েছে, যা হোস্ট সিটি জার্সি নামে পরিচিত।

    মূলত ১৬টি আয়োজক শহরের প্রতিটির নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ফুটবল উন্মাদনাকে সম্মান জানাতে আলাদা ডিজাইনের এই জার্সিগুলো তৈরি করা হয়েছে।

    কেন এই জার্সি আলাদা

    প্রতিটি শহরের জন্য মাত্র ৯৯৯টি করে জার্সি তৈরি করা হয়েছে
    প্রতিটি শহরের জন্য মাত্র ৯৯৯টি করে জার্সি তৈরি করা হয়েছে, ছবি: ফিফা

    এসব মোটেও সাধারণ কোনো জার্সি নয়। প্রতিটি শহরের জন্য মাত্র ৯৯৯টি করে জার্সি তৈরি করা হয়েছে। এসব খেলার মাঠে পরে যাওয়ার জন্য নয়। বরং ফুটবলপ্রেমীদের সংগ্রহে রাখার জন্য।

    বিশ্বকাপের ১৬টি আয়োজক শহরের প্রতিটির জন্য এই কালেকশনে একটি করে জার্সি থাকছে। ফিফা যদি তাদের তৈরি করা মোট ১৫ হাজার ৯৮৪টি জার্সির সব কটিই বিক্রি করতে পারে, তবে শুধু এই একটি কালেকশন থেকেই তাদের আয় হবে প্রায় ৬০ লাখ ডলার বা ৭০ কোটি টাকার বেশি।

    জার্সির ডিজাইন ও আধুনিক প্রযুক্তি

    এসব জার্সির নকল ঠেকাতে আছে আধুনিক এনএফসি প্রযুক্তি
    এসব জার্সির নকল ঠেকাতে আছে আধুনিক এনএফসি প্রযুক্তি,ছবি: ফিফা
     

    এই জার্সিগুলোর ডিজাইন মূলত প্রতিটি আয়োজক শহরের অফিশিয়াল বিশ্বকাপ পোস্টার থেকে নেওয়া হয়েছে। জার্সির বুকের ওপর লেখা আছে ‘ফুটবল বিশ্বকে একত্র করে’ স্লোগানের একটি ব্যাজ। বাঁ হাতায় আছে প্রতিটি শহরের নিজস্ব বিশেষ স্লোগান। আর পেছনের অংশে আছে শহরের নামসহ বিশ্বকাপের বড় একটি লোগো।

    ফিফার অফিশিয়াল স্টোরের তথ্য অনুযায়ী, এই জার্সিগুলোয় ফুটবলারদের খেলার উপযোগী উন্নত মানের কাপড় ও ঘাম শুষে নেওয়ার বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এতে একটি আধুনিক এনএফসি প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জার্সির আসল মালিকানা কার, তা দেখা যাবে।

    পরার জন্য নয় এই জার্সি

    বর্তমানে ফিফার ওয়েবসাইটে ১০টি শহরের জার্সির ছবি আপলোড করা আছে
    বর্তমানে ফিফার ওয়েবসাইটে ১০টি শহরের জার্সির ছবি আপলোড করা আছে, ছবি: ফিফা
     

    ফিফার স্টোরে জার্সির বর্ণনায় পরিষ্কার লেখা আছে, ‘সব জার্সি গায়ে দেওয়ার জন্য তৈরি হয় না। কিছু জার্সি তৈরিই করা হয় কোনো বিশেষ মুহূর্তকে আজীবন স্মরণীয় করে রাখার জন্য।’

    বর্তমানে ওয়েবসাইটে ১০টি শহরের জার্সির ছবি আপলোড করা আছে। এসবের প্রায় সব সাইজই এখনো স্টকে আছে। তবে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কারণে অনেক সাইজই শেষের দিকে চলে এসেছে।

    জার্সির প্রিমিয়াম বক্স সেটে কী থাকছে

    ছবি: ফিফা
     

    প্রিমিয়াম বক্সের ভেতরে জার্সি তো আছেই, সঙ্গে আছে একটি সার্টিফিকেটও। আরও আছে একটি বিশেষ হ্যাঙ্গার, সংগ্রাহকদের জন্য তৈরি একটি বই। ফিফা মূলত একটি হ্যাঙ্গার, একটি সার্টিফিকেট আর সুন্দর বাক্সটি দিয়েই এ জার্সির বাড়তি দাম ‘হালাল’ করতে চাইছে।

    জার্সি নিয়ে সমালোচনা ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়া

    জার্সিগুলো বাজারে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল–ভক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকে লিখেছেন, তাঁদের কাছে এসব মোটেও আকর্ষণীয় লাগেনি।

    এর পেছনের মূল কারণ হলো ডিজাইন। আয়োজক শহরগুলোর অফিশিয়াল পোস্টার কাগজে দেখতে দারুণ লেগেছিল; কিন্তু জার্সির কাপড়ে সেই ডিজাইন ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়নি। কাপড়ের মান ও প্রিন্ট ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করতে পারেনি।

    অনেকে লিখেছেন, ফিফা যদি বাজারে সত্যিই বড় সাড়া ফেলতে চাইত, তবে জার্সির সংখ্যা আরও কমাতে হতো
    অনেকে লিখেছেন, ফিফা যদি বাজারে সত্যিই বড় সাড়া ফেলতে চাইত, তবে জার্সির সংখ্যা আরও কমাতে হতো, ছবি: ফিফা
     

    এ ছাড়া ফিফা একে লিমিটেড এডিশন বললেও এর উৎপাদনসংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিটি শহরের জন্য ৯৯৯টি করে জার্সি তৈরি করেছে। সব শহর মিলিয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার। এত বেশি জার্সি তৈরি করায় এর ‘এক্সক্লুসিভিটি’ অনেকটাই কমে গেছে।

    অনেকে লিখেছেন, ফিফা যদি বাজারে সত্যিই বড় সাড়া ফেলতে চাইত, তবে জার্সির সংখ্যা আরও কমাতে হতো। ৯৯৯টির বদলে প্রতিটি শহরের জন্য মাত্র ৫০টি বা ১০টি জার্সি তৈরি করলে ভালো হতো। তাহলে সংগ্রাহকদের কাছে এই জার্সির কদর ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যেত।

    সূত্র: ফিফা স্টোর, ফিফা, নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য অ্যাথলেটিক

    আসহাবিল ইয়ামিন

  • একটি রিলের জন্য ৭৬ লাখ রুপি নেন তিনি

    বলিউড তারকাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেও পরিচিত ওরি। পাশাপাশি একজন ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সারও। তাঁর আয় কত?—তা জানলে আপনি চমকে যেতে পারেন।

    এক সাক্ষাৎকারে ওরি জানান, একটি রিল পোস্ট করার জন্য এক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৭৬ লাখ রুপি পেয়েছেন তিনি।

    ‘লার্ন বাই কেকে ক্রিয়েট’ পডকাস্টে আয়–রোজগার নিয়ে কথা বলেন ওরি। তিনি জানান, ব্র্যান্ড প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে আয় করেন তিনি।

    মুম্বাইয়ের একটি ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম ওরির। তাঁদের পরিবারের ব্যবসা রয়েছে হোটেল, রিয়েল এস্টেট ও মদ শিল্পে। তবে ব্যবসার পথে হাঁটেননি ওরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি।

    ওরি
    ওরিইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    ওরিকে প্রায়ই জাহ্নবী কাপুর, খুশি কাপুর, শানায়া কাপুর ও নাইসা দেবগনের মতো তারকাসন্তানদের সঙ্গে দেখা যায়। পডকাস্টে ওরি বলেন, ‘গত মাসে শুধু একটি চুক্তি থেকেই ৭৬ লাখ রুপি আয় করেছি। সেটা ছিল একটি রিল ভিডিওর জন্য।’

    শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও অর্থের বিনিময়ে অংশ নেন ওরি। তাঁর ভাষ্য, তাঁকে কোনো বিয়ে, জন্মদিন, মধ্যাহ্নভোজ বা নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানাতে হলে ১৫ থেকে ২৫ লাখ রুপি পর্যন্ত খরচ করতে হয়।

    রসিকতা করে ওরি বলেন, ‘১৫ থেকে ২৫ লাখ রুপি দিলে আমি আপনার সঙ্গে দুপুর বা রাতের খাবারে যোগ দেব, জন্মদিন বা বিয়েতে আসব।’

    ওরি জানান, অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি শুধু উপস্থিত থাকেন না; অতিথিদের সঙ্গে কথা বলেন, ছবি তোলেন এবং তাঁর পরিচিত ‘সিগনেচার পোজ’ও দেন।

    এত আয় হলেও অর্থের দেখভাল এখনো মা–বাবার হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন ওরি। এ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘আমার টাকা সামলান মা–বাবা। মনে হয় আমি কখনোই এটা বদলাতে পারব না।’

    ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

  • একবার চার্জে ৪১০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে এই বৈদ্যুতিক গাড়ি

    বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিওয়াইডি সিল বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়। আর তাই বাংলাদেশেও সিল মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়ি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিওয়াইডি। গাড়িগুলোর দাম কোটি টাকার কাছাকাছি হওয়ায় এবার কম দামে ‘বিওয়াইডি সিল ৬’ মডেলের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি আনতে যাচ্ছে বিওয়াইডি বাংলাদেশ। নতুন মডেলের গাড়িটি একবার চার্জে ৪১০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। শুধু তাই নয়, ৩০ মিনিটেই পুরো চার্জ হয়। আর তাই বাজারে আসার আগে হাতে–কলমে চালিয়ে দেখার পাশাপাশি পুরো গাড়ি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিওয়াইডি প্রদর্শনী কেন্দ্রে আমরা গিয়েছিলাম। এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ৩০০ ফুট রাস্তায় পূর্বাচল ক্লাব পর্যন্ত আমরা গাড়িটি চালিয়েছি। গাড়িটি চালিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকেই আজকের এই টেস্ট ড্রাইভ প্রতিবেদন।

    সামনেও মালামাল রাখার জায়গা রয়েছে গাড়িটিতে
    সামনেও মালামাল রাখার জায়গা রয়েছে গাড়িটিতে
     

    প্রদর্শনী কেন্দ্রে ঢুকেই দেখা মিলল সাদা রঙের বিওয়াইডি সিল ৬ গাড়ির। গাড়ির বনেটের নকশার কারণে প্রথম দর্শনেই মনে হলো চালকের আসন থেকে সহজে গাড়ির সামনের মাপ নেওয়া যাবে। দুই পাশে এলইডি হেডলাইট ও বাম্পারের ভেতরে বাতাস চলাচলের সরু দুটি ফাঁকা স্থান রাখা হয়েছে। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে ফগলাইট হাউজিং। নম্বর প্লেটের নিচে বড় আকারে এয়ার ইনটেক্ট সিস্টেম বা বাতাস যাওয়া–আসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঝখানে বিওয়াইডির লোগো। এটি যেহেতু সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেহেতু এটার বনেটের নিচেও মালামাল রাখার জন্য ৬৫ লিটার স্পেস রয়েছে। এর ফলে সামনে ও পেছনে দুটি মালামাল রাখার জায়গা রয়েছে গাড়িটিতে।

    চালকের আসনে বসে এক্সপ্রেসওয়ে অভিমুখে যাত্রা শুরু করি আমরা। প্রায় নিঃশব্দে চলা গাড়িটির ভেতরের নয়েস ক্যানসেলেশন সিস্টেম সত্যিই প্রশংসনীয়। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের সঙ্গে রয়েছে ২.৫ পিএম বাতাস বিশুদ্ধকরণের সুবিধা। গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে মাল্টিমিডিয়া নিয়ন্ত্রণসহ ক্রুজ কন্ট্রোল রয়েছে। স্টিয়ারিংয়ের পেছনে ডান পাশে রয়েছে গিয়ার হাতল। গাড়ির স্টার্ট বাটনটা চালকের বাঁ পাশে রয়েছে। এখানে দুটি মুঠোফোন রাখার অপশন আছে। এর নিচে রয়েছে কিছু বাটন। তারপর আছে দুটি গ্লাস হোল্ডার। কফি খেতে খেতে গাড়িটি আরামসে চালানো যাবে। স্টিয়ারিংটিকে সামনে–পেছনে ও ওপর–নিচ করে সেট করার অপশন রয়েছে। চালকের প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্যের জন্য ৮.৮ ইঞ্চি ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য ১২.৮ ইঞ্চির প্রশস্ত পর্দা (ডিসপ্লে) রয়েছে। চালকের সামনের ডিসপ্লেতে গাড়ির গতি, ব্যাটারি কতটুকু খরচ হচ্ছে, কতটুকু চার্জ রয়েছে এবং এই চার্জে কত কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যাবে, তা দেখা যায়। অ্যাপল কার প্লে বা অ্যান্ড্রয়েডের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লেটি ব্যবহার করা যাবে। ডিসপ্লের পেছনে পুরো গাড়ির সামনের অংশে একটি উজ্জ্বল কালো রঙের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রথম দেখাতে ডিসপ্লে মনে হতে পারে। মুঠোফোন চার্জ দেওয়ার জন্য গাড়িটির সামনে দ্রুতগতির চার্জ ক্ষমতাসম্পন্ন ইউএসবি ও টাইপ সি পোর্ট রয়েছে।

    পাশ থেকে বিওয়াইডি সিল ৬
    পাশ থেকে বিওয়াইডি সিল ৬
     

    গাড়ির আসনগুলো চামড়ায় মোড়ানো হওয়ায় বেশ আরামদায়ক। চালক ও প্রথম সারির যাত্রীর জন্য স্বয়ংক্রিয় আসন ব্যবস্থাপনা রয়েছে। পেছনের সারিতেও যথেষ্ট হেড ও লেগ রুম রয়েছে। সামনের যাত্রীর পাশাপাশি পেছনের যাত্রীর জন্য এসি ভেন্ট ও মুঠোফোন চার্জ দেওয়ার জন্য ফাস্ট চার্জিং অপশনসহ ইউএসবি ও টাইপ সি পোর্ট রয়েছে। পেছনের আসনগুলো নির্দিষ্ট। ড্রাইভ ট্রেইন না থাকার কারণে মাঝখানের যাত্রীও স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারবেন।

    এক্সপ্রেসওয়ে অতিক্রম করে পূর্বাচল সড়কে যাওয়ার পর আমরা গাড়িটির গতি পরীক্ষা শুরু করি। যাত্রা শুরুর সময় গাড়িটির চার্জিং লেভেল ছিল ৬৭। সাধারণ গতিতে চালিয়ে পূর্বাচল আসার পর চার্জিং লেভেল কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। ৫ জন যাত্রীসহ গাড়িটিতে সর্বোচ্চ ১৩৪ কিলোমিটার গতিবেগে চালিয়েছি আমরা। গাড়িটির শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলতে সময় লাগে মাত্র ১২.৭ সেকেন্ড। নরমাল মোড ছাড়াও গাড়িটিতে আরও তিনটি মোড রয়েছে। ইকো, স্পোর্টস ও স্নো। ইকো মোডে গাড়িটিকে চালানো হলে সর্বোচ্চ মাইলেজ পাওয়া যাবে। আমরা স্পোর্টস মোডে দিয়েও গাড়িটির গতি পরীক্ষা করেছি। নিঃশব্দে গতি তোলার এই মেশিন আমাদের হতাশ করেনি। আশপাশের চালকেরা বেশ অবাক দৃষ্টিতেই গাড়িটির দিকে তাকাচ্ছিলেন। বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়ার কারণে এতে তাৎক্ষণিক টর্ক উৎপন্ন হয়। গাড়িটির সর্বোচ্চ শক্তি ৯৫ কিলোওয়াট, যা জ্বালানিনির্ভর গাড়ির ১২৮ অর্শ্ব শক্তির সমান। গাড়িটি ২২০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। শুনতে কম মনে হলেও বৈদ্যুতিক গাড়িতে টর্ক লস না থাকার কারণে এই শক্তিতেই গাড়িটি দুরন্ত গতিতে ছুটে চলতে পারে।

    পেছন থেকে বিওয়াইডি সিল ৬
    পেছন থেকে বিওয়াইডি সিল ৬
     

    বিওয়াইডি সিল ৬ পেছনের চাকার শক্তিতে চলে থাকে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৪ হাজার ৭২০, ১ হাজার ৮৬০ ও ১ হাজার ৪৯৫ মিলিমিটার। ভূমি থেকে উচ্চতা ১ হাজার ৬১০ মিলিমিটার। চাকার পরিধি ২ হাজার ৮২০ মিলিমিটার। ওজন ১ হাজার ৬৭০ কেজি। এতে বিওয়াইডি ব্লেড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ক্ষমতা ৪৬ দশমিক ০৮ কিলোওয়াট/ঘণ্টা। দুই ধরনের চার্জিং পোর্ট রয়েছে। ফাস্ট চার্জিং সুবিধায় (সিসিএস ২, ৮০ কিলোওয়াট/ঘণ্টা) মাত্র ৩০ মিনিটে গাড়িটি পূর্ণ চার্জ করা যায়, যেখানে সাধারণ চার্জারে (৭ কিলোওয়াট/ঘণ্টা) ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। রিজেনারেটিভ ব্রেকিং অপশন থাকার কারণে গাড়িটি চাকার ঘূর্ণনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটারি চার্জ করতে পারে।

    ৫ আসনের গাড়িটিতে ২২৫/৫৫ আর ১৭ চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। সামনে ম্যাকপার্সন স্টার্ট ও পেছনে মাল্টি লিংক সাসপেনশন রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য গাড়িটির চার চাকায় ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। ছয়টি এয়ারব্যাগ ও গান শোনার জন্য ছয়টি স্পিকার রয়েছে। মালামাল বহন করার জন্য গাড়ির পেছনে রয়েছে ৪৬০ লিটারের বুট স্পেস। অন্যান্য বিওয়াইডি গাড়ির মতো এই গাড়ির পেছনে দেখার ক্যামেরা বেশ স্বচ্ছ ও চালকের সহায়ক। গাড়িটির পেছনের দিকেও নান্দনিক উপস্থাপনা রয়েছে। পেছনের অংশজুড়ে রয়েছে এলইডি ব্যাকলাইট। তার নিচে বিওয়াইডির লোগো। ডান পাশে গাড়ির মডেলের নাম ও বাঁ পাশে ইভির লোগো। একদম নিচের অংশে দুই পাশে রয়েছে রিফ্লেক্টর। মাঝখানে গাড়ির নম্বর প্লেট।

    এবার ফেরার পালা। ৩০০ ফিট রাস্তার প্রশস্ত লেনে আমরা ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলেছি। থ্রটলে আলতো চাপেই গাড়ি দ্রুততার সঙ্গে ছুটে চলেছে। গাড়িটির সাসপেনশন বেশ উন্নত হওয়ায় রাস্তার ছোটখাটো খানাখন্দ কেবিনের ভেতরে টেরই পাওয়া যায়নি। সাউন্ড কোয়ালিটি মুগ্ধ করার মতো। দূরের যাত্রায় বৃষ্টির সঙ্গে হালকা গানের শব্দ রোমাঞ্চকর অনুভূতি দিবে। সড়কের মধ্যে হঠাৎ নেমে যাওয়া রাস্তায় আমরা গতির সঙ্গে গাড়ির সমন্বয়ের ক্ষমতা পরীক্ষা করলাম। উচ্চগতিতেও গাড়ির ব্যালেন্স ছিল চমৎকার। বিশেষ করে কর্নারিংয়ের সময় এর গ্রিপ আত্মবিশ্বাস জোগায়। আমরা যেহেতু হুটহাট থ্রটল আর ব্রেকের ব্যবহার করছিলাম, সেহেতু গাড়ির চার্জও কমেছে বেশ। ৬৭ শতাংশ থেকে ফেরার পথে গাড়ির চার্জ দেখাচ্ছিল ৩২ শতাংশ। তবে সাধারণভাবে থ্রটল চাপলে আমরা এর দ্বিগুণ মাইলেজ পেতাম।

    বিওয়াইডি সিল ৬ সেডান বিভাগে অন্যতম সাশ্রয়ী গাড়ি হলেও একটি সানরুফ থাকলে গাড়িটিকে আরও সুন্দর লাগত। এ ছাড়া এতে নেই কোনো তারবিহীন চার্জ দেওয়ার সুবিধা। গিয়ারের হাতলটি অন্যান্য গাড়ির সংকেত প্রদানের হাতলের জায়গায় থাকার কারণে মনের ভুলে সংকেতবাতি জ্বালাতে গিয়ে গিয়ার হাতলে চাপ পড়ে। এতে কোনো ক্ষতি নেই, তবে চালকের কিছু সময়ের জন্য অস্বস্তি লাগতে পারে। লুকিং গ্লাসে রিয়ার ব্লাইন্ড মনিটরিং সিস্টেম ও ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা নেই। এলইডি লাইটে যদিও রাতের সড়ক বেশ স্বচ্ছ দেখা যায়, তবে শীতকালে বা ঘন কুয়াশায় ফগলাইটের অভাব অনুভূত হতে পারে।

    গাড়িতে আমাদের যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন বিওয়াইডির পণ্য উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী নাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, শহরে নিত্যনৈমিত্তিক চলাচলের জন্য গাড়িটিতে সপ্তাহে একবার চার্জ দেওয়াই যথেষ্ট। আরামদায়ক যাত্রা ও চলাচলের খরচকে কমিয়ে দিতে সেডান ক্যাটাগরিতে বিওয়াইডি সিল ৬ তুলনাহীন। গাড়িটিতে ৬ বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার (যেটা আগে আসে) পর্যন্ত বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, গাড়িটি চার্জ দেওয়ার জন্য ক্রেতাদের বাসায় বিনা মূল্যে একটি চার্জার স্থাপন করে দেবে বিওয়াইডি বাংলাদেশ। এ ছাড়া গাড়িকে যেকোনো স্থানে চার্জ দেওয়ার জন্য আরেকটি চার্জার দেওয়া হবে। গাড়িটির দাম ৫০ লাখ টাকার বেশি হবে না।

    এস এম আলাউদ্দিন আল আজাদ

  • একসঙ্গে ১০ খেলোয়াড় বদলে ব্রাজিলের ৬ গোলের উৎসব

    বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল ছাড়ার আগে সমর্থকদের প্রত্যাশাই যেন বাড়িয়ে দিল কার্লো আনচেলত্তির দল। মারাকানায় বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। গোল করেছেন ৬ জন ভিন্ন খেলোয়াড়—ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কাসেমিরো, রায়ান, লুকাস পাকেতা, ইগর থিয়াগো ও দানিলো।

    তবে এই বড় জয়ের রাতেও প্রথমার্ধের খেলা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কোচ আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে একসঙ্গে ১০ খেলোয়াড় পরিবর্তনের পরই ব্রাজিলের খেলায় চেনা ছন্দ দেখা গেছে। ছয় গোলের চারটিই হয়েছে এ সময়েই।

    মারাকানা স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে দ্বিতীয় মিনিটেই ব্রাজিলকে গোল এনে দেন ভিনিসিয়ুস। তবে ১৪তম মিনিটে সমতা ফেরায় পানামা। সেটি অবশ্য ফ্রি-কিক থেকে আসা বল ম্যাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পাল্টে যাওয়ার কারণে।

    প্রথমার্ধে গোছানো ফুটবল খেলতে পারেনি ব্রাজিল
    প্রথমার্ধে গোছানো ফুটবল খেলতে পারেনি ব্রাজিল, এএফপি
     

    ম্যাচের প্রথমার্ধে আনচেলত্তি দল খেলিয়েছেন ৪-২-৪ ফরমেশনে, তাতে দুই মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমেরেস ও কাসেমিরোকে চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। উইঙ্গারদের দূরপাল্লার পাস বা বাতাসে ভাসিয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা খুব একটা কাজে দেয়নি এ সময়। নিচ থেকে আক্রমণও তেমন একটা গড়ে ওঠেনি। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভিনির দারুণ এক ক্রস থেকেই হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন কাসেমিরো।

    দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক গোল আসতে থাকে
    দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক গোল আসতে থাকে, এএফপি
     

    এ সময়েই গোল পান বোর্নমাউথ ফরোয়ার্ড রায়ান (৫৩ মিনিট), পাকেতা (৬০), থিয়াগো (৬৩)) ও দানিলো (৮১)। মাঝে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে পানামার কার্লোস হার্ভি একটি গোল শোধ করলেও তা শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ৬-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

    ম্যাচ শেষে কোচ আনচেলত্তি উচ্ছ্বাস ও সংশয় দুটিই প্রকাশ করে বলেন, ‘ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ আমার মাথায় আরও বেশি সংশয় তৈরি করেছে। তবে এটি দলের জন্য ভালো, কারণ সুস্থ প্রতিযোগিতা ও ইতিবাচক সংশয় থাকাটা জরুরি।’

    ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি
    ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি, এএফপি
     

    ৪-৩-৩ ফরমেশনে দলের ভালো খেলা কি বিশ্বকাপ কৌশলেও প্রভাব ফেলবে—এমন আলোচনায় এই ইতালিয়ান রসিকতা করে বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগপর্যন্ত আমি কিছুটা রহস্য বজায় রাখতে চাই। কারণ, তা না হলে আমাদের কথা বলার মতো কিছু থাকবে না। এটি আপনাদের সবার (সাংবাদিকদের) জন্য সহায়ক হবে; কারণ, নেইমারের (দলে জায়গা পাওয়ার) বিষয়টি তো শেষ হয়ে গেছে। আমাদের যা করতে হবে, তা হলো কথা বলার মতো একটা ভালো বিষয় তৈরি করা, যাতে মানুষ উৎসুক হয়ে থাকে।’

    দর্শকের করতালির জবাব দেন নেইমার
    দর্শকের করতালির জবাব দেন নেইমার, এএফপি
     

    এই ম্যাচের আগে ও পরে মাঠে নামেন নেইমার। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাঁকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানায়। পুরোপুরি ফিট হয়ে না ওঠায় নেইমার যে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় খেলতে পারবেন না, সেটি আগেই জানা গিয়েছিল।

    ম্যাচ শেষে রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে কাটানোর জন্য ছুটি দেওয়া হয় খেলোয়াড়দের। বিকেলে পুরো দল একত্র হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে চড়ার কথা রয়েছে। সেখানেই যোগ দেবেন শনিবার রাতে হাঙ্গেরিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলা মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিরা।

  • একাধিক যন্ত্র থেকে প্রযুক্তি সমর্থন প্রত্যাহার করল অ্যাপল

    নিজেদের তৈরি একাধিক পুরোনো মডেলের আইপডসহ একটি মডেলের ম্যাকবুক ও অ্যাপল টিভি থেকে নিজেদের প্রযুক্তি সমর্থন সুবিধা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে যন্ত্রগুলোতে অ্যাপলের হালনাগাদ প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা-সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না। ফলে কারিগরি ত্রুটি হলে যন্ত্রগুলো মেরামতের সুবিধা মিলবে না। শুধু তা–ই নয়, সাইবার হামলা হুমকিতেও থাকবেন ব্যবহারকারীরা।

    অ্যাপলের ‘ভিনটেজ’ ও ‘অবসোলিট’ তালিকায় যুক্ত হওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২০১৭ সালে বাজারে আসা ১৩ ইঞ্চির ম্যাকবুক এয়ার। ‘ভিনটেজ’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় পণ্যটি নষ্ট হলে অ্যাপল স্টোর বা অনুমোদিত সেবাকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ মজুত থাকা সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে কারিগরি সেবা পাওয়া যাবে।

    অন্যদিকে আইপ্যাড মিনি ৪–এর সব সংস্করণ এবং ৩২ গিগাবাইট সংস্করণের অ্যাপল টিভি এইচডিকে ‘অবসোলিট’ বা প্রযুক্তিগতভাবে অচল পণ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব ডিভাইসের জন্য অ্যাপল আর কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক হার্ডওয়্যার সেবা বা মেরামতসুবিধা দেবে না।

    অ্যাপলের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পণ্য পাঁচ বছরের বেশি সময় বাজারে বিক্রি না হলে সেটিকে ‘ভিনটেজ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর সাত বছরের বেশি সময় ধরে বিক্রি বন্ধ থাকলে সেটি ‘অবসোলিট’ তালিকায় যুক্ত হয়।

    সূত্র: ডেইলি মেইল

    আহসান হাবীব

  • একের পর এক বিস্ফোরণ! দুবাই থেকে অভিনেত্রী বললেন, ‘পরিস্থিতি ভয়ংকর

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তেই দুবাইয়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর পাল্টা আঘাত হানছে ইরান—এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল রোববারও দুবাইজুড়ে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। তিনি জানান, তিনি বর্তমানে দুবাইয়েই আছেন এবং নিরাপদে রয়েছেন, তবে পরিস্থিতি সহজ নয়।

    ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আবুধাবি ও কুয়েতের বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বহু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রী ও কয়েকজন ভারতীয় তারকা সেখানে আটকে পড়েছেন। এর আগে অভিনেত্রী সোনাল চৌহান, অভিনেতা বিঞ্চু মাঞ্চু ও অভিনেত্রী এশা গুপ্তর দুবাইয়ে আটকে পড়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।

    অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    তিন বছর আগে দুবাইয়ে বসবাস শুরু করা এরিকা জানান, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখনো দুবাইয়ে আছি এবং নিরাপদে আছি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আশ্বস্ত করার মতো।’ তবে মানসিক চাপের কথা লুকাননি এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘পরিস্থিতি সহজ নয়। আকাশে যে শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেগুলো একেবারেই খুব ধাক্কা দেয়। আশপাশের মানুষ, বন্ধু ও পরিবার—সবাই নিজের চোখে এই পরিস্থিতি দেখছে। এটা মানসিকভাবে কঠিন। কোনোভাবে ঢেকে বলার সুযোগ নেই—পরিস্থিতি ভয়ংকর।’

    এরিকা আরও যোগ করেন, ‘আমরা শান্ত থাকার চেষ্টা করছি, নিরাপদে আছি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলছি। এই মুহূর্তে এটাই আমাদের সেরা পথ। যেখানে যাঁরা আছেন, সবার জন্যই আমার শুভকামনা। আমরা এক মুহূর্ত করে এগোচ্ছি।’

    অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    দুবাই সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে সেখানকার বাসিন্দা ও প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরজুড়ে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আপাতত স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এরিকা ফার্নান্দেজ।

    ইন্ডিয়াডটকম অবলম্বনে

  • এখনো বিয়ে করেননি? কটাক্ষের যে কড়া জবাব দিলেন অভিনেত্রী

    বয়স ও বিয়ে নিয়ে কটাক্ষ করা ব্যক্তিদের এবার সরাসরি জবাব দিলেন বলিউড অভিনেত্রী শমিতা শেঠি। ৪৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শুধু সমাজের চাপে বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।

    সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক ট্রলের মন্তব্যের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন শমিতা। সেখানে এক ব্যবহারকারী তাঁকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন, ‘আপনার বয়স হয়ে গেছে, আগের মতো আর নেই।’ এর জবাবে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি আলাদা দেখাব। সময়ের সঙ্গে সবকিছু বদলায়, এটাই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। শারীরিক সৌন্দর্যও চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু আমার বয়স অনুযায়ী আমি সুস্থ, ফিট এবং সুখী। সৃষ্টিকর্তা আমাকে যা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

    তবে ট্রল সেখানেই থামেনি। আরেকটি মন্তব্যে বলা হয়, ‘সময়মতো বিয়ে করলে এখন আপনার সন্তানেরাও বড় হয়ে যেত।’ এই মন্তব্যে বেশ কড়া ভাষাতেই প্রতিক্রিয়া জানান শমিতা। তিনি লেখেন, ‘তো? আপনি তো খুব স্বাভাবিক একটা কথাই বললেন। কিন্তু বিয়ে করে আপনি এমন কী উল্টে ফেলেছেন ভাই?’

    এরপর সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার দিকেও আঙুল তোলেন অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের মতো অবিবাহিত নারীদের ফলো করেন কেন? শুধু বয়স নিয়ে কটাক্ষ করতে আর আপনাদের গুহামানবসুলভ, পুরুষকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা চাপিয়ে দিতে? দয়া করে আমাকে একটা উপকার করুন—এখনই আনফলো করুন।’

    শমিতা শেঠি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    শমিতা শেঠি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ‘মোহাব্বাতে’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন শমিতা শেঠি। এরপর ‘জেহের’, ‘ফারিব’ ও ‘ক্যাশ’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করেছেন। পরে অভিনয় থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ক্যারিয়ারেও মন দেন তিনি।

    রিয়েলিটি শো অনুষ্ঠানেও নিয়মিত দেখা গেছে তাঁকে। ‘ঝলক দিখ লা জা’, ‘ফিয়ার ফ্যাক্টর: খতরো কি খিলাড়ি’, ‘বিগ বস ওটিটি’ ও ‘বিগ বস ১৫’–তে এ অংশ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি।

    একসময় অভিনেতা রাকেশ বাপটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও গুঞ্জন ছিল। ‘বিগ বস ওটিটি’তে অংশ নেওয়ার সময় দুজনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শমিতা জানান, তাঁদের সম্পর্ক আর নেই।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • এপস্টিন–সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তোলপাড়, মিউজিক এজেন্সি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন শিল্পীরা

    হলিউড ও আন্তর্জাতিক সংগীতজগতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে একটি নাম—জেফরি এপস্টিন। মৃত এই কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসতেই এবার বড় সংকটে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ট্যালেন্ট ও মিউজিক এজেন্সি ওয়াসারম্যান মিউজিক এজেন্সি। এজেন্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নিবার্হী কেসি ওয়াসারম্যানের সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক শিল্পী প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সপ্তাহেই ওয়াসারম্যান এজেন্সির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। শিল্পী, এজেন্ট ও নির্বাহীদের চাপের মুখে কেসি ওয়াসারম্যানের পদত্যাগ, কোম্পানি বিক্রি কিংবা বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    শিল্পীদের বিদায় ও শর্ত
    ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াসারম্যান এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত একাধিক শীর্ষ শিল্পী ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সূত্রের দাবি, শিল্পীদের প্রতিনিধিরা কেসি ওয়াসারম্যানকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন—তাঁকে হয় সরে দাঁড়াতে হবে, নয়তো কোম্পানির মালিকানা ছাড়তে হবে।

    এ পরিস্থিতিতে কেসি ওয়াসারম্যান এজেন্সির শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন, যেখানে ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক হবে। শুধু সংগীত ব্যবসায় নয়, তিনি বর্তমানে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানেও তাঁর পদত্যাগের দাবিতে চাপ বাড়ছে।
    একটি সূত্র ভ্যারাইটিকে বলেছে, এটা যেন আগুনে পুড়ে যাওয়া একটা বাড়ি। পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।

    চ্যাপেল রোন। ছবি: রয়টার্স
    চ্যাপেল রোন। ছবি: রয়টার্স

    কারা কারা ছাড়ছেন
    ওয়াসারম্যান এজেন্সি ছাড়ার তালিকায় প্রথম দিকেই ছিলেন বেস্ট কোস্ট ব্যান্ডের গায়িকা বেথানি কসেন্তিনো। এরপর যুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় পপশিল্পী চ্যাপেল রোন এবং ইন্ডি মিউজিকের পরিচিত নাম ওয়েনসডে, ওয়াটার ফ্রম ইয়োর আইজ, বিচ বানিসহ আরও অনেকে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে অনেক শিল্পী স্পষ্ট করেছেন, এপস্টিন ও ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার খবর তাঁদের গভীরভাবে বিচলিত করেছে। এর ফলেই তাঁরা ওয়াসারম্যানের সঙ্গে আর যুক্ত থাকতে চান না।

    বড় ধাক্কা
    ওয়াসারম্যান মিউজিক এজেন্সি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগীত এজেন্সিগুলোর একটি। তাদের শিল্পী তালিকায় ছিলেন বা আছেন এড শিরান, কোল্ডপ্লে, চাইল্ডিশ গ্যাম্বিনো, কেনড্রিক লামার, লর্ডে, ফিশ, রায়ে, সিজা, জনি মিচেল, টেইলার, দ্য ক্রিয়েটরসহ অনেকেই।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এজেন্সিটির ওয়েবসাইট থেকে এই শিল্পীদের তালিকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিল্পীদের অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    শিল্পী বনাম এজেন্ট: জটিল সমীকরণ
    এই সংকট শুধু শিল্পীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে এজেন্টদের ক্ষেত্রেও। কারণ, সাধারণত এজেন্টরা তিন থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে বাধা থাকেন। অন্যদিকে শিল্পীরা তুলনামূলকভাবে সহজেই এজেন্সি বদলাতে পারেন।
    হলিউডে বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শিল্পীরা তাঁদের এজেন্সির চেয়ে ব্যক্তিগত এজেন্টের প্রতি বেশি অনুগত থাকেন। ফলে এক এজেন্ট যদি অন্য প্রতিষ্ঠানে যান, অনেক শিল্পীও তাঁর সঙ্গে চলে যান। ওয়াসারম্যান সংকটের ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    সংকট এখন সর্বোচ্চ উত্তেজনার পর্যায়ে
    সূত্রের দাবি, সংকট এখন সর্বোচ্চ উত্তেজনার পর্যায়ে। ওয়াসারম্যান এজেন্সির অভিজ্ঞ নির্বাহীরা, যেমন মার্টি ডায়মন্ড, ডাফি ম্যাকসুইগিনসহ আরও অনেকে একত্র হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কোনোভাবে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
    খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে কোম্পানিটি কেনার প্রস্তাবও এসেছে। এমনকি নির্বাহীরা নিজেরাই এজেন্সির কোনো অংশ কিনে নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব কতটা বাস্তবসম্মত, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    জেফরি এপস্টিন
    জেফরি এপস্টিনফাইল ছবি: রযটার্স

    এপস্টিন সংযোগ: কী জানা গেছে
    প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেসি ওয়াসারম্যান সরাসরি জেফরি এপস্টিনের কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০০২ সালে একটি মানবিক সফরে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে একবার ভ্রমণ করেছিলেন কেসি ওয়াসারম্যান।
    এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তিনি আপত্তিকর ও ব্যক্তিগত ই–মেইল বিনিময় করেছিলেন, যা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনাগুলো ঘটেছিল এপস্টিনের অপরাধ প্রকাশ পাওয়ার বহু বছর আগে।
    এই সংযোগের জন্য কেসি ওয়াসারম্যান প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, ‘আমি তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্কের জন্য ভীষণভাবে দুঃখিত।’
    কেসি ওয়াসারম্যান আরও জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং সামাজিক কাজে সক্রিয়।

    আগের কেলেঙ্কারি: দেড় বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ধাক্কা
    এই সংকট কেসি ওয়াসারম্যানের জন্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, প্যারিস অলিম্পিক চলাকালীন, তার বিরুদ্ধে আরও একটি বড় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, তিনি বহু বছর ধরে জুনিয়র কর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
    সেই সময় এই অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হলেও ধীরে ধীরে তা কিছুটা স্তিমিত হয়ে যায়। তবে এবার এপস্টিন সংযোগের খবর সামনে আসায় আগের অভিযোগগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    এড শিরান। রয়টার্স
    এড শিরান। রয়টার্স

    বেথানি কসেন্তিনোর স্পষ্ট বার্তা
    বেস্ট কোস্ট ব্যান্ডের গায়িকা বেথানি কসেন্তিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘শোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত কারও সঙ্গে আমার নাম বা ক্যারিয়ার যুক্ত থাকুক, এতে আমি সম্মতি দিইনি। চুপ করে থাকা আমার বিবেকের সঙ্গে যায় না।’
    এই বক্তব্য অনেক শিল্পীর মনোভাবই প্রতিফলিত করছে।

    অলিম্পিক দায়িত্বেও চাপ
    ওয়াসারম্যান শুধু সংগীতজগতেই নন, ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চলমান এই কেলেঙ্কারির কারণে সেখানে থেকেও তার সরে দাঁড়ানোর দাবি উঠছে।
    ভবিষ্যৎ কোন পথে?
    সব মিলিয়ে ওয়াসারম্যান মিউজিক এজেন্সি এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে। শিল্পীদের বিদায়, এজেন্টদের অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাব এবং এপস্টিন-সংযোগের নেতিবাচক ভাবমূর্তি—সবকিছু মিলিয়ে কোম্পানির ভবিষ্যৎ এই সপ্তাহেই বড় মোড় নিতে পারে।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • এপস্টেইন ফাইলসে নারীর সঙ্গে মেলানিয়া প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক র‍্যাটনারের ছবি

    যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি নতুন প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ব্রেট র‍্যাটনারকে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। এ সময় জেফরি এপস্টেইনসহ আরেক তরুণীও ছিলেন। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত কিছু ছবিতে এমন দৃশ্য সামনে এসেছে।

    ‘রাশ আওয়ার’ এবং ‘এক্স-ম্যান: দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’-এর মতো সিনেমার পরিচালক ব্রেট র‍্যাটনারকে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের পাশে একটি সোফায় বসে থাকতে দেখা যায়। সেখানে থাই দুজন নারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

    ছবিগুলো ঠিক কবে তোলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে গত ডিসেম্বরে র‍্যাটনার, এপস্টেইন ও প্রয়াত ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছিল, এসব ছবিও একই জায়গায় তোলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    নথিপত্রে ব্রেট র‍্যাটনারের সরাসরি কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিবিসি এ বিষয়ে তাঁর প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে।

    এপস্টেইন ফাইল কী, এতে কী আছে

    ২০১৯ সালে নারী পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কারাগারে মারা যান জেফরি এপস্টেইন। তাঁকে কেন্দ্র করে সংগৃহীত কয়েক লাখ ফাইলের অংশ হিসেবে এসব নতুন ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

    প্রকাশিত ছবির ছোট সংস্করণে দেখা যায় র‍্যাটনার, এপস্টেইন এবং ব্রুনেল বিভিন্ন নারীর সঙ্গে হাসিখুশি ও স্বচ্ছন্দ অবস্থায় আছেন। তবে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার খাতিরে নারীদের পরিচয় আড়াল করা হয়েছে।

    অবশ্য ভুক্তভোগী নারীদের একজন আইনজীবী দাবি করেছেন, নথিপত্র প্রকাশের সময় অসাবধানতাবশত অনেক নারীর পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে।

    ‘মেলানিয়া’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ার দেখতে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসে একসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ওয়াশিংটন
    ‘মেলানিয়া’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ার দেখতে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসে একসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ওয়াশিংটনছবি: রয়টার্স

    মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রামাণ্যচিত্র ও বিতর্ক

    এসব ফাইল ঠিক সেই দিনই মুক্তি পায়, যেদিন মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবন নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র ‘মেলানিয়া: টুয়েন্টি ডেস টু হিস্টোরি’ মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি সমালোচকদের কাছে খুব একটা ভালো সাড়া পায়নি এবং এর অর্থায়ন নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    ২০১৭ সালে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনের সময় যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পর এটিই ব্রেট র‍্যাটনারের প্রথম কাজ। তবে তিনি সব সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

    ‘মেলানিয়া’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসে মেলানিয়া ট্রাম্প। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ওয়াশিংটন
    ‘মেলানিয়া’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসে মেলানিয়া ট্রাম্প। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ওয়াশিংটন, ছবি: রয়টার্স

    শুক্রবারের নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে ধনকুবের ইলন মাস্ক, বিল গেটস, লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন এবং অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্কের নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।

    তাঁদের মধ্যে ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রুর একটি ছবিও রয়েছে, যেখানে তাঁকে মাটিতে শুয়ে থাকা এক নারীর ওপর হামাগুড়ি দেওয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আগেই তাঁর রাজকীয় পদবি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

    অন্যদিকে এপস্টেইনের অর্থে মডেলিং এজেন্সি চালানোর অভিযোগ উঠা মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের বিরুদ্ধেও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারের অভিযোগ ছিল। ২০২২ সালে প্যারিসের কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন।

    বিবিসি

  • এপস্টেইন–কাণ্ডে যুক্তরাজ্যে এবার লেবার পার্টিও ছাড়লেন লর্ড ম্যান্ডেলসন

    যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়েছেন লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসন। দেশটির সাবেক এই মন্ত্রী বলেছেন, আলোচিত ও সমালোচিত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর অতীত সম্পর্ক নিয়ে যাতে আর কোনো ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’ সৃষ্টি না হয়, সে জন্যই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর।

    এপস্টেইন–কাণ্ডে পদ ছাড়ার মতো পরিণতি ভোগ করার ঘটনা লর্ড ম্যান্ডেলসনের জন্য এবারই প্রথম নয়। গত বছর একই কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত আরও নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এসব নথি থেকে বেশ কয়েক লাখ পৃষ্ঠা উন্মোচন করার পর বিশ্বজুড়ে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। নতুন এসব নথিতে ৭২ বছর বয়সী লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম এসেছে।

    এপস্টেইনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে তিনটি পৃথক লেনদেনে ২৫ হাজার ডলার করে সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার ডলার দিয়েছিলেন এপস্টেইন।

    এ তথ্য প্রকাশের পর লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়ে দলের সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান লেবার পার্টির প্রভাবশালী এই রাজনীতিক। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘সপ্তাহান্তে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া ক্ষোভের সঙ্গে আমি আরও যুক্ত হয়ে পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমি দুঃখিত ও অনুতপ্ত বোধ করছি।’

    লর্ড ম্যান্ডেলসন আরও লেখেন, ‘২০ বছর আগে তিনি (জেফরি এপস্টেইন) আমাকে অর্থ দিয়েছিলেন—এমন অভিযোগ আমি মিথ্যা বলেই মনে করি। এর কোনো নথি কিংবা স্মৃতি এখন আমার কাছে নেই। এসব আমাকে যাচাই করতে হবে।’

    ‘এই যাচাই প্রক্রিয়া চলার সময়টায় আমি লেবার পার্টিকে আরও বিব্রত করতে চাই না। এ কারণে আমি দলের সদস্যপদ ছাড়ছি’—চিঠিতে যোগ করেন লর্ড ম্যান্ডেলসন।

    যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডনব্রাউনের প্রশাসনে মন্ত্রী ছিলেন লর্ড ম্যান্ডেলসন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্য ছিলেন।

  • এপ্রিলে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি রপ্তানি বেড়েছে ৪০%

    চীনের বৈদ্যুতিক যান (ইভি) রপ্তানি গত এপ্রিল মাসে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের শীর্ষ অবস্থান আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

    এপ্রিল মাসে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮১টি ইভি রপ্তানি করেছে চীন। ফলে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫২টিতে। ব্লুমবার্গের সংগৃহীত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আল–জাজিরার সংবাদে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

    মহাদেশভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ইভি আমদানি করেছে এশিয়া—১ লাখ ১০ হাজার ৬১৩টি। এরপর রয়েছে ইউরোপ (৮৩ হাজার ৮১৩টি) ও লাতিন আমেরিকা (৫২ হাজার ৮৯৭টি)। ওশেনিয়া আমদানি করেছে ২২ হাজার ৬৯৫টি চীনা ইভি, উত্তর আমেরিকায় গেছে ৪ হাজার ৪২২টি যান।

    শীর্ষ ১০ রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বেড়েছে ব্রাজিলে—গত মাসে দেশটির ইভি আমদানি ২২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে তারা ৩৮ হাজার ১৪৪টি ইভি আমদানি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়াতেও চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; এসব দেশে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ থেকে ১৯০ শতাংশের মধ্যে।

    এ পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের জেরে বিশ্ব বাজারে যে জ্বালানির দাম বেড়েছে, তাতে বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। মানুষ এখন জীবাশ্ম জ্বালানির অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষিত থাকতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে। এসব গাড়ি যেমন ব্যয় সাশ্রয়ী, তেমনি পরিবেশবান্ধব। সে বিবেচনা থেকেও মানুষ ইভির দিকে ঝুঁকছে।

    এ পরিসংখ্যানের সঙ্গে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। সেটা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর বাজারে চীনা যানবাহন সীমিত করার নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও এ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

    যুক্তরাষ্ট্র চীনের ইভিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে এবং যানবাহনে ব্যবহৃত চীনা সফটওয়্যার নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনা ইভির ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে।

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে ইভি উৎপাদনে চীন এখন সবচেয়ে বড় দেশ। ২০২৫ সালে বিশ্বে উৎপাদিত ২ কোটি ২০ লাখ ইভির প্রায় ৭৫ শতাংশই চীনে তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে চীনের ইভি রপ্তানি রেকর্ড ২৫ লাখে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।

    ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গত বছর বিশ্ব বাজারে যত ইভি বিক্রি হয়েছে, তার ৫৫ শতাংশই ছিল চীনা গাড়ি।

    আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ইভি বিক্রি ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা মোট গাড়ি বিক্রির প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী ইভি বিক্রি হয়েছে ২ কোটির বেশি, মোটরগাড়ি বাজারের যা প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

    অন্যরা মার খেয়ে যাচ্ছে

    বাস্তবতা হলো, চীনের বিওয়াইডিসহ অন্য ইভি কোম্পানিগুলোর দাপটে টেসলাসহ পশ্চিমা গাড়ি কোম্পানিগুলো ইভির বাজারে সুবিধা করতে পারছে না। ইতিমধ্যে বিওয়াইডির কাছে শীর্ষ স্থান হারিয়েছে টেসলা।

    সিএনএনের এক সংবাদে বলা হয়েছে, বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো চীনের উৎপাদনসক্ষমতা। শক্তিশালী সরবরাহশৃঙ্খল ও স্বয়ংক্রিয় কারখানার বদৌলতে তারা বড় পরিসরে উৎপাদন করতে পারে।

    এর পেছনে আবার রয়েছে চীন সরকারের দীর্ঘদিনের সহায়তা—ভর্তুকি, করছাড়সহ নানা সুবিধা। সমালোচকদের মতে, এতে চীনের ইভি বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার সুবিধা পাচ্ছে।

    চীনা কোম্পানিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্য ভিন্ন। বিওয়াইডির স্টেলা লি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির উৎস হলো—সারা বিশ্ব থেকে মেধাবী প্রতিষ্ঠান ও মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা। বাজার সুরক্ষিত করে ফেললে সেই সুবিধা হারিয়ে যাবে, দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র উভয় দিক থেকেই ক্ষতির শিকার হবে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব