২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। লম্বা সময় পেরিয়ে গেলেও এর মধ্যে ক্লাবটির হয়ে বড় কোনো শিরোপা জেতা হয়নি তাঁর। শুধু আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ জেতাই এই ক্লাবের হয়ে তাঁর একমাত্র অর্জন। একপর্যায়ে মনে হয়েছে, বড় কোনো সাফল্য ছাড়াই হয়তো আল নাসর অধ্যায় শেষ করবেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
তবে সেই আশঙ্কার মেঘ এবার কেটে যাওয়ার অপেক্ষা। রোনালদো এখন প্রথমবারের মতো সৌদি প্রো লিগ জেতার দ্বারপ্রান্তে। বিশেষ করে গতকাল রাতে আল আহলির বিপক্ষে আল নাসরের ২-০ গোলে জয়ের পর লিগ ট্রফিটা পর্তুগিজ কিংবদন্তির হাতের নাগালে চলে এসেছে।
শীর্ষে থাকা আল নাসরের সংগ্রহ ৩০ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট। দ্বিতীয় আল হিলালের পয়েন্ট ২৯ ম্যাচে ৭১। অর্থাৎ এক ম্যাচ বেশি খেলে আল হিলালের চেয়ে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছে আল নাসর। এ পরিস্থিতিতে নাটকীয় কোনো পতন না হলে রোনালদোদের শিরোপা জয় সময়ের ব্যাপারই বলা যায়। রোনালদোদের দলের হাতে আছে আর ৪ ম্যাচ, আল হিলাল খেলবে আরও ৫ ম্যাচ।
গতকাল রাতের জয়ে গোলও পেয়েছেন রোনালদো। ৭৬ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের ইনসুইঙ্গিং কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে গোলটি করেন। ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের মাইলফলকের দিকে ছুটতে থাকা রোনালদোর এটি ৯৭০তম গোল।

আর মাত্র ৩০ গোল পেলেই হাজার গোলের জাদুকরি চূড়ায় পৌঁছে যাবেন ‘সিআর সেভেন’। আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪৩ ম্যাচে রোনালদো করেছেন ১২৬ গোল এবং ২৩ গোল করিয়েছেন। অর্থাৎ মোট ১৪৯টি গোলে অবদান রেখেছেন কিংবদন্তি।
রোনালদো একই সঙ্গে টানা তিন মৌসুমে সৌদি লিগে ২৫ বা এর বেশি গোল করার কীর্তিও গড়েছেন। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত টানা ৯ মৌসুমের পর আবার এমন ধারাবাহিকতায় দেখা দিলেন রোনালদো।
জয় ও গোলের পাশাপাশি ভিন্ন এক কারণেও এদিন আলোচনায় ছিল এই ম্যাচ। এমন এক প্রেক্ষাপটে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চার দিন আগে আল আহলি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট শিরোপা জিতেছে। সে উপলক্ষে আল নাসরের মাঠে অতিথিদের গার্ড অব অনার না দেওয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।
এ ঘটনা ছাড়াও চলতি মৌসুমে দুই দলের সম্পর্কও ছিল বেশ তিক্ত। আল আহলি থেকে বহুবার রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ ও পক্ষপাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে। গতকালও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। আল আহলির দাবি, তাদের অন্তত দুটি হ্যান্ডবলের জন্য পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল।
ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি পুরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কিংসলে কোমান ও মেরিহ ডেমিরালের মধ্যকার উত্তেজনা দর্শকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, যে উত্তেজনা ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও ছিল।
বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আল নাসরের মোহামেদ সিমাকান গ্যালারি থেকে ক্লাবের বড় একটি পতাকা নিয়ে এসে প্রথমে ডেমিরালের সামনে সেটি নাড়িয়ে দেখান, এরপর মাঠজুড়ে সেটি ঘুরিয়ে ‘ল্যাপ অব অনার’ দেন।
অন্যদিকে ডেমিরাল আল আহলির স্টাফদের কাছ থেকে একটি এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ীর মেডেল নিয়ে আল নাসর সমর্থকদের দিকে সেটি উঁচিয়ে ধরেন। ম্যাচ–পরবর্তী সাক্ষাৎকার চলাকালে আল আহলি সমর্থকেরা রোনালদোর উদ্দেশে বলেন, তাঁদের দল দুবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন। জবাবে রোনালদো হাসিমুখে হাত তুলে বলেন, ‘আমার পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ আছে।’