• আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে কোন লিগ ও ক্লাব থেকে কতজন সুযোগ পেলেন

    ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্কালোনির ঘোষিত দলে সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব করছে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা দলগুলো। স্কালোনি অভিজ্ঞতা ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় খেলার অভ্যাস—এ দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই দল সাজিয়েছেন; যেখানে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় জায়গা স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে।

    এই ক্লাব থেকে সব মিলিয়ে দলে আছেন সর্বোচ্চ ছয়জন খেলোয়াড়। আতলেতিকো থেকে জায়গা পাওয়া সেই খেলোয়াড়েরা হলেন হুয়ান মুসো, নাহুয়েল মলিনা, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো গনসালেস, থিয়াগো আলমাদা ও জুলিয়ানো সিমিওনে।

    এই ক্লাব থেকে লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দি পল বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া শীর্ষ তারকাদের মধ্যে ইংল্যান্ডের লিভারপুল থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, চেলসি থেকে জায়গা পেয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যাস্টন ভিলা থেকে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ইতালির ইন্টার মিলান থেকে লাওতারো মার্তিনেজ এবং এএস রোমা থেকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন।
    আলভারেজের আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ৬ জন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছেন
    আলভারেজের আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ৬ জন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছেন এক্স

    লিগভিত্তিক খেলোয়াড় বণ্টনের ক্ষেত্রে শীর্ষে আছে স্পেনের লা লিগা, যেখানে মোট সাতজন খেলোয়াড় আছেন। এই সাতজনের মধ্যে ছয়জনই আবার আতলেতিকোর। স্প্যানিশ ক্লাব থেকে সুযোগ পাওয়ার অন্যজন হলেন রিয়াল বেতিসের জিওভানি লো সেলসো।

    দ্বিতীয় স্থানে আছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। যেখানে আর্জেন্টিনার পাঁচজন খেলোয়াড় খেলছেন। তাঁরা হলেন অ্যাস্টন ভিলার মার্তিনেজ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, টটেনহামের ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিভারপুলের অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার এবং চেলসির এনজো ফার্নান্দেজ।

    তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্সের লিগ ‘আঁ’, যেখান থেকে পাঁচজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় বিশ্বকাপ মিশনে যাবেন—মার্সেইয়ের রুলি, বালের্দি, মেদিনা, স্ট্রাসবুর্গের ভ্যালেন্তিন বার্কো ও লিওঁর নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।

    তিনটি লিগে রয়েছে সমান দুটি করে প্রতিনিধিত্ব। আর্জেন্টিনা প্রফেশনাল ফুটবল লিগ, সিরি আ এবং মেজর লিগ সকার—এই তিন লিগ থেকেই এসেছে দুজন করে খেলোয়াড়। আর্জেন্টিনা লিগ থেকে ডাক পেয়েছেন বোকা জুনিয়র্সের পারেদেস এবং রিভার প্লেটের গনসালো মন্তিয়েল।

    ইতালির সিরি ‘আ’ থেকে আছেন ইন্টার মিলানের লাওতারো মার্তিনেজ এবং কোমোর নিকো পাজ, আর যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন ইন্টার মায়ামির লিওনেল মেসি এবং রদ্রিগো দি পল। এ ছাড়া পর্তুগিজ লিগ থেকে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে আছেন বেনফিকার নিকোলাস ওতামেন্দি এবং ব্রাজিলিয়ান লিগ থেকে আছেন পালমেইরাসে খেলা হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ।

  • আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের শহরে গোলাগুলি, আহত ৯

    যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে এক গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল দলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায়। কানসাস সিটি পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    ঘটনাস্থলটি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের বেস ক্যাম্প কানসাস সিটি তুলনায় তুলনামূলকভাবে দূরে হলেও শহরজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনা দল বর্তমানে তাদের অনুশীলন করছে স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টারে।

    অন্যদিকে, ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বেস ক্যাম্প সোয়োপ সকার ভিলেজ এর কাছাকাছি এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। যদিও এখনও ইংল্যান্ড দল কানসাস সিটিতে পৌঁছায়নি। তাদের পরবর্তী প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে কোস্টারিকার বিপক্ষে।

    কানসাস সিটি পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের ঘটনা স্থানীয় সময় ভোর আনুমানিক চারটার দিকে ঘটে। তদন্ত চলছে এবং এখনো হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ দেশটিতে বন্দুক সহিংসতা একটি চলমান সমস্যা। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, গত বছরও শতাধিক এমন সহিংস ঘটনার রেকর্ড পাওয়া গেছে।

    ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি।

     

  • আর্সেনালকে হারিয়ে শিরোপা লড়াই জমিয়ে দিল ম্যান সিটি

    ম্যানচেস্টার সিটি ২ : ১ আর্সেনাল

    দৃশ্যটা চোখে লেগে থাকার মতো।

    গ্যাব্রিয়েলের মুঠো থেকে আর্লিং হলান্ডের ছিঁড়ে যাওয়া জার্সির টুকরোটা খসে পড়ল। প্রিমিয়ার লিগের ট্রফিটাও কি ঠিক এভাবেই আর্সেনালের হাত থেকে ফসকে গেল?

    ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে লড়তে গিয়েছিল আর্সেনাল। যেটাকে বলা হচ্ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমের অলিখিত ফাইনাল। আর সেই ফাইনালে সিটি ২-১ গোলে হারিয়ে ভীষণ জমিয়ে দিল শিরোপা লড়াই। আপাতত ৩৩ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের পয়েন্ট ৭০। অন্যদিকে ৩২ ম্যাচ খেলে সিটির পয়েন্ট ৬৭। কিন্তু সিটির হাতে একটা বাড়তি ম্যাচ মানে কার্যত দুই দল এখন সমান অবস্থানে। এই জয়ের পর মানসিকভাবে হয়তো সিটিই অনেকটা এগিয়ে।

    ম্যাচশেষে যে ছবিটা ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে, তা হয়তো ওই এক টুকরো ছিঁড়ে যাওয়া কাপড়ের। মরিয়া হয়ে হলান্ডকে আটকাতে চেয়েছিলেন আর্সেনাল ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল। টানাটানিতে সিটির গোলমেশিনের গায়ের জার্সি ছিড়ে ওই কাপড়ের টুকরোটা চলে যায় তাঁর হাতে। হলান্ড অবশ্য কাজের কাজটা এর কয়েক মিনিট আগেই করে ফেলেছেন। ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে ৬৫ মিনিটে গোল করে সেই যে এগিয়ে দিয়েছেন সিটিকে, সেই ব্যবধান আর ঘুচাতে পারেনি আর্সেনাল।

    আর্লিং হলান্ডের গোল উদযাপন।
    আর্লিং হলান্ডের গোল উদযাপন।প্রিমিয়ার লিগ

    তবে ম্যাচের হাইলাইট হতে পারত রায়ান শেরকির সেই অবিশ্বাস্য গোল। বাঁ পায়ে অসাধারণ ড্রিবলিং করে গ্যাব্রিয়েল ও ডেকলান রাইসকে কাটিয়ে উইলিয়াম সালিবার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে ডান পায়ে নিচু শট। যা দেখে মনে পড়ে যাচ্ছিল লিওনেল মেসির কথা।

    হাস্যকর ভুলে গোল খেয়ে হতাশ সিটির গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা।
    হাস্যকর ভুলে গোল খেয়ে হতাশ সিটির গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা।প্রিমিয়ার লিগ

    হাইলাইট হতে পারত জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার সেই শিশুসুলভ ভুল। যে ভুলের সুযোগ নিয়ে ১৮ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান আর্সেনাল কাই হাভার্টজ। শেরকির গোলের ঠিক ১০৭ সেকেন্ড পরই! ৪৪১ দিন পর লিগে গোল পেলেন হাভার্টজ। সর্বশেষ গোল করেছিলেন সিটির বিপক্ষেই। মন্দ কপাল তাঁর, গোলটা কাজে লাগল না শেষ পর্যন্ত।

    এর আগে মেজাজ হারিয়ে হলান্ডকে ঢুঁস মারার ভঙ্গি করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল। হলান্ড মাটিতে পড়ে গেলে হয়তো লাল কার্ডই দেখতে হতো আর্সেনাল ডিফেন্ডারকে। ধাক্কা মারেন হলান্ডও। তবে দুজনেই হলুদ কার্ড দেখে পার পেয়ে যান।

     

    যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে হাভার্টজ যখন গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস করে মাথায় হাত দিলেন, ডাগআউটে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন মিকেল আরতেতা। ওই ভঙ্গিটাই যেন বলে দিচ্ছিল—লড়াইটা বোধহয় শেষ!

    আগামী বুধবার বার্নলির বিপক্ষে জিতলেই শীর্ষে উঠবে সিটি। পুরো মৌসুমে মাত্র ৬ দিন যারা শীর্ষে ছিল, সেই সিটির হাতেই কি তবে উঠতে যাচ্ছে লিগের ট্রফি? উত্তরটা জানার জন্য খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।

  • আর্সেনালের অপেক্ষা বাড়িয়ে ৪ বছর পর চ্যাম্পিয়ন ম্যানসিটি

    প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা দৌড়ে আর্সেনালের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকেও বাদ পড়েছে সিটিজেনরা। শেষ ভরসা ছিল ইএফএল কাপ। যেখানে দাপট দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পেপ গার্দিওয়ালার শিষ্যরা।

    রোববার (২৩ মার্চ) লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ফাইনালে আর্সেনালকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে সিটিজেনরা। এই ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন নিকো ও’রাইলি।

    ২০২০-২১ মৌসুমে শেষবার ইএফএল কাপের শিরোপা জিতেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। দীর্ঘ ৫ বছর পর আবারও লিগ কাপের শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল পেপ গার্দিওলার দল।

    এদিন শুরুর চাপ সামলে বল দখলে রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে সিটি। কিন্তু প্রতিপক্ষের পরীক্ষা নেওয়ার মতো কিছু করতে পারছিল না তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গিয়ে গোলের জন্য দুটি শট নিতে পারে দলটি, যদিও এর একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

    বিরতির পর খেলায় গতি বাড়ায় সিটি। আরও বেশি সময় বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা; কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে পারছিল না দলটি। অবশেষে ৬০তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে সিটি এবং গোলরক্ষকের ভুলে সেটা থেকেই এগিয়ে যায় তারা।

    বের্নার্দো সিলভার পাস ডি-বক্সে পেয়ে জোরাল শট নেন হায়ান শেহকি। নাগালের মধ্যে থাকলেও বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি কেপা আরিসাবালাগা, আলগা বল গোলমুখে পেয়ে হেডে জালে পাঠান ও’রাইলি। চার মিনিটের মধ্যে ব্যবধান দ্বিগুণও করে ফেলে সিটি।

    এবার ডান দিক থেকে মাথেউস নুনেসের ক্রস ছয় গজ বক্সে পেয়ে হেডেই গোলটি করেন তরুণ ইংলিশ লেফট-ব্যাক। শেষ দিকে দুইবার দুর্ভাগ্যের বাধার মুখে পড়ে আর্সেনাল।

    ৭৮তম মিনিটে রিকার্দো কালাফিওরির শট পোস্টে বাধা পাওয়ার ১০ মিনিট পর, গাব্রিয়েল হেসুসের হেড ক্রসবারে প্রতিহত হয়। এতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানসিটি।

     

  • আলিয়া যেভাবে আজকের আলিয়া

    বলিউডের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের ৩৩তম জন্মদিন আজ। তারকা পরিবারে জন্ম নিলেও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। আলিয়া মনে করেন, তাঁর সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।
    সম্প্রতি এল ইউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলিয়া ভাট নিজের পরিবার ও বেড়ে ওঠা নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি তাঁর মা সোনি রাজদানের অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন। আলিয়ার কথায়, সোনি রাজদান একেবারে অচেনা একজন মানুষ হিসেবে অভিনয়ের জগতে পা রেখেছিলেন। চলচ্চিত্রে তাঁর কোনো পরিচিতি ছিল না, এমনকি হিন্দি ভাষাতেও তিনি খুব স্বচ্ছন্দ ছিলেন না।

    তবু অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে তিনি থিয়েটার থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের স্টুডিও—সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে অডিশন দিয়েছেন। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা ও সুযোগের অভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি হাল ছাড়েননি। যদিও মূলধারার নায়িকা হিসেবে খুব বেশি সুযোগ পাননি, তবু অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।

    আলিয়া তাঁর বাবা খ্যাতিমান পরিচালক মহেশ ভাটের জীবন নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, মহেশ ভাটের জীবনেও একসময় বড় ধরনের সংকট এসেছিল। সেই সময় তাঁর বেশ কয়েকটি সিনেমা পরপর বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। আর্থিক দিক থেকেও তিনি তখন সংকটের মধ্যে ছিলেন। পাশাপাশি তখন তিনি মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন।

    আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে পরে মহেশ ভাট মদ্যপান ছেড়ে দেন এবং ধীরে ধীরে আবার কাজে মন দেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ার নানা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। আলিয়ার মতে, তাঁর মা–বাবা অনেক সংগ্রাম করে এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছেন, যার সুফল তিনি আজ পাচ্ছেন।

    এ কারণেই নিজের অবস্থান সম্পর্কে তিনি সচেতন বলে জানান আলিয়া। তিনি বলেন, যদি কোনো দিন তাঁর অভিনয়জীবন ভালো না চলে বা তিনি আর চলচ্চিত্রে কাজ না পান, তবু তিনি কখনো অভিযোগ করবেন না। কারণ, তিনি জানেন, অনেক মানুষের সেই সুযোগটুকুও থাকে না।

    আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ২০১২ সালে করণ জোহর পরিচালিত ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় আলিয়ার। এরপর ‘হাইওয়ে’, ‘রাজি’, ‘গাল্লি বয়’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াবাড়ি’সহ একাধিক আলোচিত ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভিনয়ের জন্য একাধিকবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন।

    ব্যক্তিজীবনে ২০২২ সালে অভিনেতা রণবীর কাপুরকে বিয়ে করেন আলিয়া ভাট। একই বছর তাঁদের কন্যাসন্তান রাহা কাপুরের জন্ম হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি এখন পরিবার ও কাজ—দুটিই সমানভাবে সামলাচ্ছেন তিনি।

  • আলোচিত এই মিসরীয় অভিনেত্রীকে কতটা চেনেন

    ‘মিডটার্ম’-এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী টিয়ার চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছেন ইয়াসমিনা এল-আব্দ। মিসরীয় টিভি সিরিজটি অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পীকে জেন–জি দর্শকের মধ্যে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

    কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিজটির প্রচার শেষ হয়েছে। তবে চরিত্রের ঘোর থেকে এখনো বের হতে পারেননি তিনি। টিএন ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘টিয়াকে কিছুতেই ভুলতে পারছি না। আগে কখনো এমনটা ঘটেনি। অন্য কোনো চরিত্র নিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।’

    ইয়াসমিনা এল-আব্দ
    ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    একদল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সিরিজটি মিসরের তরুণদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তোলে। আগে পার্শ্বচরিত্রে কাজ করলেও সিরিজটিতে প্রথমবারের মতো মূল চরিত্র করেছেন ইয়াসমিনা। ১৯ বছর বয়সেই এটা তাঁকে এনে দিয়েছে তারকাখ্যাতি।

    ইয়াসমিনার ভাষ্য, ‘মিডটার্ম–এর শুটিংয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। এত বড় প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার বিশাল ঝুঁকি ছিল।’ ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন, ফলও পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বয়সের উপযোগী চরিত্র খুঁজে পেতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। হয় অনেক বড় বয়সের চরিত্র যা করা কঠিন, নয়তো অনেক ছোট। আমি তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না।’

    ইয়াসমিনা এল-আব্দ
    ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    শেষ পর্যন্ত মিডটার্ম দিয়ে অভিনেত্রী ইয়াসমিনার পুনর্জন্ম ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। এটা হালকাভাবে নেওয়ার নয়। আমি এটা অর্জন করেছি, এখন ধরে রাখতে হবে।’

    ইয়াসমিনা এল-আব্দ
    ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতও নতুনভাবে জীবনে ফিরে এসেছে। গত ডিসেম্বরে তিনি ‘ডাম্মা’ প্রকাশ করেন। গানটি বিলবোর্ডের তালিকায় উঠেছিল।

    মাত্র ৯ বছর বয়সে ইয়াসমিনার অভিনয়ে অভিষেক। ১২ বছর বয়সে গান শুরু করেন। সুক্কার, ইন ব্লুম, শ্যাডো অব কায়রোসহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশনেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে।

  • আলোচিত যৌন হয়রানির মামলা, সমাঝোতা হলো না দুই তারকার

    হলিউড অভিনেত্রী ব্লেইক লাইভলি ও অভিনেতা-পরিচালক জাস্টিন বালডোনির মধ্যে চলমান যৌন হয়রানির মামলায় আদালত-নির্দেশিত মধ্যস্থতায় কোনো সমঝোতা হয়নি। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে সারা দিনের মধ্যস্থতা বৈঠক শেষে দুই পক্ষ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

    রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’–এর সহ-অভিনেতা লাইভলি ও বালডোনি গত বুধবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হন। আদালতের ১৪ তলায় পৃথক কক্ষে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটান তাঁরা। দিনের শেষে ভবন ছাড়ার সময় সংবাদমাধ্যমের সামনে দুজনই কোনো মন্তব্য না করে চলে যান।

    বালডোনির আইনজীবী ব্রায়ান ফ্রিডম্যান সাংবাদিকদের জানান, কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও তা খুব একটা সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে না। মামলাটি বিচারে গড়াবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি মামলাটি বিচারে গড়াবে। আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’

    ফেডারেল আদালতের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট জজ সারাহ এল. কেইভের তত্ত্বাবধানে এই মধ্যস্থতা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগেও উভয় পক্ষ কেইভের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেছিল। তবে শুরু থেকেই আলোচনায় অগ্রগতির স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে জাস্টিন বালডোনি ও ব্লেইক লাইভলি। আইএমডিবি
    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে জাস্টিন বালডোনি ও ব্লেইক লাইভলি। আইএমডিবি

    লাইভলির অভিযোগ, ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ ছবির শুটিং সেটে জাস্টিন বালডোনি তাঁকে যৌন হয়রানি করেছেন। পাশাপাশি, অভিযোগ জানানোর পর বালডোনি তাঁর জনসংযোগ টিমের মাধ্যমে লাইভলির বিরুদ্ধে বদনাম ছড়ানোর প্রচারণা চালান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত আছে ১৮ মে।

    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে ব্লেইক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি। আইএমডিবি
    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে ব্লেইক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি। আইএমডিবি

    এদিকে বিচারক লুইস লিম্যান বিবেচনা করছেন—বিচারের আগেই লাইভলির অভিযোগ পুরোপুরি বাতিল করা হবে কি না, অথবা অভিযোগের বড় অংশ খারিজ করা হবে কি না। বালডোনির পক্ষ থেকে করা সামারি জাজমেন্ট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, লাইভলির অভিযোগগুলো মূলত তুচ্ছ বিরোধ ও অসন্তোষের বিষয়, যা আইনি দৃষ্টিতে যৌন হয়রানির মানদণ্ড পূরণ করে না।

    অন্যদিকে লাইভলির পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সেটে বালডোনির আচরণ নিয়ে অন্যান্য অভিনেতাও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের মতে, এসব অভিযোগ যথেষ্ট গুরুতর এবং বিষয়টি জুরির মাধ্যমে বিচার হওয়াই সঠিক হবে।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • আশা ভোসলের বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকারী, বলিউডে পা রাখা এই জেনজি পপ গায়িকাকে চেনেন কি

    ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গিয়েছেন কাল। এরপরই সবাই আগ্রহী হচ্ছেন তাঁর আদরের নাতনি জানাই ভোসলের বিষয়ে। ২০০২ সালে জন্ম তাঁর আশা ভোসলের পুত্র আনন্দ ভোসলের ঘরে। জানাই ভোসলে নাম তাঁর। এক ভাই আছে। নাম রঞ্জয় ভোসলে। আশা ভোসলের বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকারী তাঁরা দুজনই হবেন মূলত। বিভিন্ন সূত্র বলছে, তাঁর রেখে যাওয়া মোট সম্পদের মূল্যমান বাংলাদেশি টাকায় ৩০০ কোটির মতো। হীরা আর দামী গাড়ির শখ ছিল তাঁর। তবে বেশিরভাগ সম্পদই আছে অর্থ সম্পদ বা প্রোপার্টি হিসেবে। আশার কন্যা বর্ষা ও আরেক পুত্র হেমন্ত আগেই মারা গিয়েছেন। এদিকে এই সুন্দরী জেনজি গায়িকাকে প্রায়ই দেখা যেত দাদির সঙ্গে। একসঙ্গে পারফর্ম ও মিউজিক ভিডিও করেছেন। জানা যাচ্ছে জানাই ভোসলে আগামী বছরই ডেব্যু করছেন বলিউডে। তাও রেকর্ডভাঙা কান্তারা সিনেমার ঋষভ শেঠির বিপরীতে। চলুন তবে জানাইয়ের কিছু লুকের ছবি দেখে আসি ইন্সটাগ্রাম থেকে।

    আশা ভোসলের আদরের নাতনি জানাই ভোসলে। আশাকে এখানে দেখা যাচ্ছে এলিগ্যান্ট কালো টেম্পল পাড়ের ্বেইজ শাড়িতে। আর জানাই পরেছেন
     
    আশা ভোসলের আদরের নাতনি জানাই ভোসলে। আশাকে এখানে দেখা যাচ্ছে এলিগ্যান্ট কালো টেম্পল পাড়ের ্বেইজ শাড়িতে। আর জানাই পরেছেন
    স্টেজে পারফর্ম করেন প্রায়ই জানাই। সোনালি সিকুইনের পোশাকে দেখা যাচ্ছে তাঁকে সঙ্গীত লিজেন্ড এ আর রহমানের সঙ্গে
     
    স্টেজে পারফর্ম করেন প্রায়ই জানাই। সোনালি সিকুইনের পোশাকে দেখা যাচ্ছে তাঁকে সঙ্গীত লিজেন্ড এ আর রহমানের সঙ্গে
    সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও তিনি খুবই জনপ্রিয়। এখানে পরেছেন স্লিভলেস কালো সিকুইনের ব্লাউজ দিয়ে নজরকাড়া প্রিন্টের বেইজ শাড়ি।
     
    সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও তিনি খুবই জনপ্রিয়। এখানে পরেছেন স্লিভলেস কালো সিকুইনের ব্লাউজ দিয়ে নজরকাড়া প্রিন্টের বেইজ শাড়ি।
    সোনালি কারুকাজ করা অফ দ্য শোল্ডার এথনিক লুকে জানাই
     
    সোনালি কারুকাজ করা অফ দ্য শোল্ডার এথনিক লুকে জানাই
    ওয়ান শোল্ডার কালো বডিকন ড্রেসের সঙ্গে নজর কাড়ছে এক ঢাল কালো কোকড়া চুল
     
    ওয়ান শোল্ডার কালো বডিকন ড্রেসের সঙ্গে নজর কাড়ছে এক ঢাল কালো কোকড়া চুল
    ফুলেল প্রিন্টের লেহেঙ্গায় জানাই
     
    ফুলেল প্রিন্টের লেহেঙ্গায় জানাই
    স্ট্র্যাপলেস টপের সঙ্গে পরেছেন লাল শেডস
     
    স্ট্র্যাপলেস টপের সঙ্গে পরেছেন লাল শেডস
    লম্বা কার্লস তাঁর সিগনেচার স্টাইল
     
    লম্বা কার্লস তাঁর সিগনেচার স্টাইল
    স্লিপড্রেসে স্টাইলিশ জানাই। সামনে তাঁর দিন আসছে, বলাই যায়
     
    স্লিপড্রেসে স্টাইলিশ জানাই। সামনে তাঁর দিন আসছে, বলাই যায়
     

    ছবি: জানাই ভোসলের ইন্সটাগ্রাম

  • আড়াই হাজার পাসেও গোল নেই স্পেনের, অপেক্ষা ফুরাচ্ছে না সালাহদের

    বিশ্বকাপের পঞ্চম ম্যাচ ডেতে খেলেছে ৮টি দল। প্রায় প্রতিটি ম্যাচে দলগুলোর র‍্যাঙ্কিং পার্থক্য বড়সড় থাকলেও ফলে তা ফুটে ওঠেনি। সব ম্যাচই ড্র হয়েছে। এর মধ্যে নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে স্পেন কোনো গোলই করতে পারেনি। ইরান–নিউজিল্যান্ড ম্যাচে আবার দুই দলই ২টি করে গোল করেছে। আর বেলজিয়াম–মিসর ও সৌদি আরব–উরুগুয়ে ম্যাচে প্রতিটি দলই করেছে ১টি করে গোল।

    এসব ম্যাচ ঘিরে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান দেখে নিতে পারেন।

    ৪০ বছর বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক

    পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসের হয়ে খেলা ভোজিনিয়ার বয়স ৩ জুন ৪০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এত বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। এর চেয়ে বেশি বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন মিসরের গোলরক্ষক এসাম এল-হাদারি। ২০১৮ বিশ্বকাপে অভিষেকের সময় তাঁর বয়স ছিল ৪৫ বছর ১৬১ দিন।

    বেশি বয়সে অভিষেকের রেকর্ডে ভোজিনিয়া
    বেশি বয়সে অভিষেকের রেকর্ডে ভোজিনিয়া, এএফপি

    মাত্র একটি ফাউল

    কেপ ভার্দের শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সের সবচেয়ে বড় প্রমাণ, স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে তারা মাত্র একটি ফাউল করেছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর কোনো ম্যাচে একটি দলের এত কম ফাউল করার নজির নেই। ৩টি করে ফাউল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে কোস্টারিকা (২০২২ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে) ও জার্মানি (১৯৭৪ বিশ্বকাপে চিলির বিপক্ষে)।

    ৩০ মিনিট বলই ছুঁতে পারেননি ওয়াইরসাবাল

    ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে গোল করেছিলেন মিকেল ওয়াইরসাবাল। ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে একবারও বল স্পর্শ করতে পারেননি। পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান অপটার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এমন ঘটনা আর দেখা যায়নি।

    ম্যাচের প্রথম আধা ঘণ্টায় বলই পাননি ওয়াইরসাবাল
    ম্যাচের প্রথম আধা ঘণ্টায় বলই পাননি ওয়াইরসাবালরয়টার্স

    পাস আছে, গোল নেই

    বিশ্বকাপে স্পেন সর্বশেষ গোল করেছিল কাতার বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ১১ মিনিটে আলভারো মোরাতার হেড থেকে এসেছিল গোলটি। এর পর থেকে বিশ্বকাপে স্পেন ৪৯টি শট নিয়েছে, প্রায় আড়াই হাজার পাস সম্পন্ন করেছে, কিন্তু একটিও গোল করতে পারেনি। সেবার জাপানের ম্যাচের পর তারা মরক্কোর বিপক্ষে শেষ ষোলোতে গোলশূন্য ড্র করে টাইব্রেকারে হেরেছিল। আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু করেছে আরেকটি ০-০ ড্র দিয়ে।

    দিন যায়, জয় আসে না

    বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ না জিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় মিসরের অবস্থান দ্বিতীয়। বেলজিয়ামের সঙ্গে ১–১ ড্র করা দলটি এখন পর্যন্ত খেলেছে ৮ ম্যাচ। তাদের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেও কখনো জয়ের দেখা পায়নি শুধু হন্ডুরাস (৯ ম্যাচ)। আবার আজই ইরানের সঙ্গে ২–২ ড্র করা নিউজিল্যান্ড ৭ ম্যাচ খেলে এখনো জিততে পারেনি।

    মিসরের খেলোয়াড়দের গোলের এই উদ্‌যাপন ম্যাচ শেষে জয়হীনতায় কিছুটা ম্লানই হয়েছে
    মিসরের খেলোয়াড়দের গোলের এই উদ্‌যাপন ম্যাচ শেষে জয়হীনতায় কিছুটা ম্লানই হয়েছেরয়টার্স

    শটের রেকর্ডে উরুগুয়ে

    সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ে ২২টি শট নিয়েছে, যা বিশ্বকাপের কোনো এক অর্ধে একটি দলের সর্বোচ্চ শটের রেকর্ডগুলোর একটি। এর চেয়ে বেশি ২৪টি শট নিয়েছিল পূর্ব জার্মানি ১৯৭৪ সালে চিলির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে।

    সালাহ যেখানে প্রথম

    আজ ৩৪ বছরে পা দেওয়া মোহাম্মদ সালাহ নিজের জন্মদিনেই বিশ্বকাপে একটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন (অ্যাসিস্ট)। জন্মদিনে বিশ্বকাপে গোল বা গোলে সহায়তা করা প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার তিনি।

  • ইউরোপ–জয়েও বাংলাদেশ দলের তিনটি ‘অসুখ’ ধরলেন ডুলি

    ‎‎সান মারিনোর বিপক্ষে তাদেরই মাঠে গতকাল রাতে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়। বাংলাদেশে দলের কোচ হিসেবে টমাস ডুলিরও প্রথম জয় এটি। তবে ডুলি কিন্তু তাতে আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না। ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনন্দের পাশাপাশি দলের কিছু দুর্বলতা ও ভুলও তুলে ধরেন এই কোচ।

    ফিনিশিংয়ে দুর্বলতায় প্রচুর সুযোগ নষ্ট করা, এর পাশাপাশি ‘ফার্স্ট টাচ’, পাসিং ও রিসিভে পুরো নিখুঁত ছিল না বাংলাদেশ দল। রক্ষণ থেকে খেলা তৈরির সময়ও সহজেই বল হারিয়ে ফেলেছে। এই তিনটি বিষয়ে ঘাটতি চোখে পড়েছে ডুলির।

    সামগ্রিক পারফরম্যান্সে খুশি হলেও সুযোগ হাতছাড়া করার পুরোনো অভ্যাসটি যে বাংলাদেশের এখনো রয়ে গেছে, তা মনে করিয়ে দেন ডুলি, ‘আমাদের প্রধান দুর্বলতা হলো গোল করার জন্য আমাদের এখনো প্রচুর সুযোগের প্রয়োজন হয়।’

    বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি
    বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি, বাফুফে
     

    ‎খেলোয়াড়দের বল নিয়ন্ত্রণে ঘাটতিও কোচের নজর এড়ায়নি। ফুটবলে একদম মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশকে যে আরও খাটতে হবে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন কোচ, ‘মাঝেমধ্যে আমাদের ফার্স্ট টাচ ঠিকঠাক হয় না। তাই আমি দলের একদম বেসিক বা মৌলিক বিষয়গুলো, যেমন পাসিং ও রিসিভিং নিখুঁত করার জন্য অনুশীলন শুরু করাব।’

    ‎সান মারিনোর মতো শরীরনির্ভর ফুটবল খেলা দলের বিপক্ষে মাঝমাঠ কিংবা রক্ষণভাগে বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো কত বিপজ্জনক হতে পারত, সেটার কৌশলগত দিক ভালোভাবে জানা বাংলাদেশ দলের এই কোচের। রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠার সময় খেলোয়াড়দের সহজ কিছু ভুলের সমালোচনাও করেন ডুলি, ‘রক্ষণভাগ থেকে বল নিয়ে ওপরে ওঠার সময় আমরা কিছু সহজ বল হারিয়েছি, যা মাঠে একেবারেই কাম্য নয়। আমি শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের এ বিষয়ে সতর্ক করেছি।’

    বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ফুটবলারদের সঙ্গে কাজ করবেন ডুলি। ছবিটি গতকাল রাতে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের একটি মুহূর্তের
    বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ফুটবলারদের সঙ্গে কাজ করবেন ডুলি। ছবিটি গতকাল রাতে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের একটি মুহূর্তের, বাফুফে
     

    অবশ্য বল হারানোর পেছনে গত দুই দিনে দলে যোগ দেওয়া নতুন চার খেলোয়াড়ের সঙ্গে বাকিদের অনুশীলনের ঘাটতি ও বোঝাপড়ার অভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ডুলি। তাঁর চোখে এই ভুলগুলো স্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। ডুলির মতে, এগুলো সহজেই শুধরে নেওয়া সম্ভব, যদি খেলোয়াড়দের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন আনা যায়।

    ‎দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও খেলার ধরন পুরোপুরি বদলে ফেলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন হামজা-শমিতদের এই কোচ, ‘আমাদের চিন্তাভাবনা বদলাতে হবে, তারপর আমাদের অনুশীলনের ধরন বদলাতে হবে এবং সবশেষে আমাদের খেলার শৈলী পরিবর্তন করতে হবে। আর এটা পুরোপুরি সম্ভব।’

  • ইতালির ফুটবলপ্রধানের পদত্যাগ, স্টেডিয়াম নিয়ে উয়েফা দিল হুঁশিয়ারি

    টানা তৃতীয়বার ইতালি বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর পদত্যাগ করলেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। পদত্যাগের চাপের মধ্যে শুরুতে ‘না’ করে দিলেও বৃহস্পতিবার তিনি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ২০১৮ সালে গ্রাভিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করতে পারেনি ইতালি। তার আগের সভাপতি পদত্যাগ করেছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপে জায়গা করতে না পারার জেরে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে এবারের আসরে উঠতে ব্যর্থ হয়।

    এদিকে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন আজ ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটির স্টেডিয়ামগুলো উন্নত না করলে ২০৩২ ইউরো আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে। তিনি এসব স্টেডিয়ামকে ‘ইউরোপের অন্যতম বাজে’ বলে অভিহিত করেছেন।

    ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়ার কাছে হারের পর ইতালির ফুটবল-কর্তারা দেশের অভ্যন্তরে তীব্র চাপে পড়েন। রোমে এফআইজিসি ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ডিম ছুড়ে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এফআইজিসি–প্রধান গ্রাভিনার পদত্যাগ দাবি করে বিবৃতিতে বলেন, ‘ইতালিয়ান ফুটবলকে একদম গোড়া থেকে নতুন করে গড়তে হবে। আর সেই সংস্কার শুরু হতে হবে ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন গ্রাভিনা।

    চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত বদলেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রোমে এফআইজিসির প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠকের পর পদত্যাগের কথা সিদ্ধান্ত জানান গ্রাভিনা।

    ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ২২ জুন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার ‘গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উয়েফা সভাপতি বলেন, ‘২০৩২ ইউরো যেভাবে নির্ধারণ করা আছে, সেভাবেই হবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি শুধু আশা করি যে (ইতালির) অবকাঠামো প্রস্তুত থাকবে। যদি তা না হয়, তবে টুর্নামেন্টটি ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে না। ইতালির রাজনীতিবিদদের হয়তো নিজেদের জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেন ফুটবল অবকাঠামো ইউরোপের মধ্যে অন্যতম নিকৃষ্ট পর্যায়ে রয়েছে।’

    সেফেরিনের মতে, ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘ফুটবল কর্তৃপক্ষ এবং রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক’।

    ২০৩২ সালে তুরস্ক ও ইতালির যৌথভাবে ইউরো আয়োজন করার কথা। আগামী অক্টোবরে ইতালিকে ম্যাচ আয়োজনের জন্য পাঁচটি স্টেডিয়ামের নাম ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে ১১টি শহর ইউরো আয়োজনে আগ্রহী। তবে এর মধ্যে একমাত্র জুভেন্টাস অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামটি টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে।

  • ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে সুইফট

    টপ চার্টের শীর্ষে ওঠাটাকে একরকম অভ্যাসে পরিণত করেছেন টেইলর সুইফট। তাঁর গান ‘ওপালাইট’ মুক্তির ২০তম সপ্তাহ পর বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে উঠেছে। এটি এ তালিকার শীর্ষে জায়গা পাওয়া সুইফটের ১৪তম সিঙ্গেল। হট ১০০-এর শীর্ষে যেসব শিল্পীর গান সবচেয়ে বেশি জায়গা পেয়েছে, তাতে রিয়ানার সঙ্গে এখন যৌথভাবে তৃতীয় সুইফট। তাঁর সামনে আছে কেবল দ্য বিটলস (২০টি) ও মারায়া ক্যারি (১৯টি)।

    সুইফটের ধারাবাহিক সাফল্য দেখে অনেকেই বলছেন, শীর্ষে পৌঁছানো তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। বিশেষ করে এখন তিনি প্রায় প্রতিবছরই নতুন অ্যালবাম মুক্তি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরই বিটলসকে সরিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে যাবেন তিনি।

    টেইলর সুইফট
    টেইলর সুইফট, রয়টার্স

    ‘ওপালাইট’ সুইফটের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’-এর গান। এর আগে একই অ্যালবামের ‘দ্য ফেইট অব ওফেলিয়া’ টানা ১০ সপ্তাহ হট ১০০-এর ১ নম্বরে ছিল। গত বছর অ্যালবামটি মুক্তির সময় ‘ওপালাইট’ দুইয়ে থাকলেও পরে ১০ নম্বরে নেমে যায়। দীর্ঘদিন টপ টেনের বিভিন্ন অবস্থানে থেকে এবার শীর্ষ স্থান দখল করেছে।

    ৬ ফেব্রুয়ারি গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশের পর এটি নতুন গতি পায়। তখনই হয়তো এটি শীর্ষে পৌঁছাত, কিন্তু সুপার বোল-পরবর্তী সময়ে ব্যাড বানি নতুন করে আলোচনায় আসায় হট ১০০-এর টপ চার্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়।
    চলতি সপ্তাহে ‘ওপালাইট’ গানটির ১ লাখ ৬৮ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় যা ২ হাজার ২৯০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ছিল ভিনাইল ও সিডি সংস্করণ। স্ট্রিমিং হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • ইনফান্তিনোর ‘আমেরিকান ড্রিম’: ২০৩৮ বিশ্বকাপও কি যুক্তরাষ্ট্রেই হবে

    টাকার পেছনে ছোটো। যাঁর মুখ থেকে কথাটা প্রথম বের হয়েছিল, তিনি যেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফার জন্যই পথ দেখিয়ে গেছেন।

    এই বছর ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, তিন দেশের আয়োজন—বিশাল কলেবর দেখে এখনই যাঁদের নানা শঙ্কা কাজ করছে, তাঁরা হয়তো এখনো জানেন না, সামনে আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছে। বিশ্বকাপ যত দ্রুত সম্ভব আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারে। মানে, ২০৩৮ সালে।

    শুনতে খটকা লাগতে পারে, কিন্তু ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর দাবার চালগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সব সমীকরণই গিয়ে মিলছে স্ট্যাচু অব লিবার্টির দেশে।

    ইনফান্তিনোকে নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাঁর অতিরিক্ত অনুরাগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা আছে। তবে একজন ফিফা বসের জন্য আয়োজক দেশের সরকারপ্রধানকে তুষ্ট রাখাটা পুরোনো রেওয়াজ। কিন্তু ইনফান্তিনোর লক্ষ্য আরও গভীরে। ২০২৬ থেকে ২০৩৮—মাঝের এই ১২ বছরে তিনি ফিফাকে এমন এক আর্থিক পাহাড়ের চূড়ায় বসাতে চান, যেখানে ট্রাম্পরা আসবেন-যাবেন, কিন্তু তাঁর সিংহাসন থাকবে অটল।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো,ফিফা
     

    ২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের চার বছরের মেয়াদ শেষ করতে নির্বাচিত হয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তাই ২০১৯ সালের নির্বাচন ছিল তাঁর প্রথম পূর্ণ মেয়াদ। ফিফার এখনকার নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ সভাপতি হিসেবে থাকা যায়। সামনে কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২০২৩ সালে ইনফান্তিনো আবার জিতেছেন, ২০২৭ সালেও জেতার পথ মসৃণ। আর ঠিক সেই বছরই ২০৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন হবে।

    ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো
    ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোইনস্টাগ্রাম/ইনফান্তিনো
     

    মাথায় রাখুন আরও একটা তথ্য। ইনফান্তিনো ফিফার আইন বিভাগ সরিয়ে নিয়ে গেছেন ফ্লোরিডার কোরাল গেবলসে। ফিফা+ ডিজিটাল স্ট্রিমিং ও ই-স্পোর্টসের কাজও সেখান থেকেই চলে। জুরিখ এখনো সদর দপ্তর হিসেবে আছে বটে, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্র সরে যাচ্ছে পশ্চিমে। মনে হতে পারে, ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকত আর রোদের হাতছানি কি তবে ফুটবলকে চিরতরে জুরিখের ঠান্ডা থেকে সরিয়ে নিচ্ছে?

    কারণটা কেবল আবহাওয়া নয়, কারণটা ওয়াল স্ট্রিট। জুরিখ যা দিতে পারে না, সিলিকন ভ্যালি আর মার্কিন মিডিয়া মোগলরা তা অনায়াসেই দেয়। বিপুল বিনিয়োগ ও মিডিয়া বাজার মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটা বাণিজ্যিক পরিবেশ দিতে পারে, যার ধারেকাছেও নেই জুরিখ। স্টেডিয়ামের অভাব নেই, আতিথেয়তার ক্ষুধাও অসীম।
    কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ফিফা আয় করেছিল ৭৫০ কোটি ডলার।
    কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ফিফা আয় করেছিল ৭৫০ কোটি ডলার। রয়টার্স
     

    ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা আনুমানিক ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার আয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে এসেছিল ৭৫০ কোটি ডলার। ইনফান্তিনো ডেভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে ৮ হাজার ১০ কোটি ডলারের মোট উৎপাদন তৈরি করতে পারে, যোগ করতে পারে ৪ হাজার ৯০ কোটি ডলারের জিডিপি এবং সৃষ্টি করতে পারে ৮ লাখ ২৪ হাজার কর্মসংস্থান।

    কেকের আকার বাড়াও—এটাই ইনফান্তিনোর মন্ত্র। আর সেই কেক বাড়ানোর জায়গা একটাই—আমেরিকা।

    জোয়াও আভেলাঞ্জে ফিফার রাজনৈতিক ও আর্থিক বিস্তার ঘটিয়েছিলেন, ব্ল্যাটার মানচিত্র বড় করেছিলেন। ইনফান্তিনো চাইছেন নিজের উত্তরাধিকার। তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান এমন একজন সভাপতি হিসেবে, যিনি ফিফাকে আর্থিকভাবে অস্পৃশ্য করে দিয়েছেন। একটা অলাভজনক সংস্থাকে পরিণত করেছেন বৈশ্বিক বাণিজ্যিক দানবে। তাঁর কাছে যুক্তরাষ্ট্র কেবল দক্ষ আয়োজক নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই যুগে একটা নিরাপত্তাবলয়ও।
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোএএফপি

    এতে সমস্যা কী? অনেক কিছু। বিশ্বকাপের এই বিশাল ফোলা–ফাঁপা রূপের কারণে আয়োজনের সুযোগ এখন ফিফার বেশির ভাগ সদস্যের নাগালের বাইরে। তাদের ভাগ্যে জুটছে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট আর আঞ্চলিক ক্লাব প্রতিযোগিতার টুকরা। তবে এটা নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে সদস্য সংস্থাগুলো মাথা নত করেছে, বিনিময়ে পেয়েছে বিশ্বকাপের আয় থেকে চুইয়ে আসা বার্ষিক অনুদান।

    একমাত্র যে সংগঠন নিজের পথে হাঁটতে পারে, সে হলো উয়েফা। ধারণা করা হয়, বিশ্ব ফুটবলের মোট সম্পদের ৯০ শতাংশ ইউরোপে। চ্যাম্পিয়নস লিগ আগামী চার বছরে দুই হাজার কোটি ডলারের বেশি আয় করবে বলে পূর্বাভাস, যা বিশ্বকাপের অনেক বেশি।

    ২০৩৮-এ আবার আমেরিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
    ২০৩৮-এ আবার আমেরিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।রয়টার্স
     

    কিন্তু যখন ২০২৬-এর আয় ভাগ হবে, ইংল্যান্ড এফএ থেকে জার্মানির ডিএফবি—সবার অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি ডলার ঢুকবে, তখন তাদের সব সংশয় কর্পূরের মতো উড়ে যাবে। ইনফান্তিনো যদি প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন ২০৩৮-এ আমেরিকান বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আয় দ্বিগুণ করবে, তাহলে দূরত্ব আর টাইম জোনের বিষয়ে কিছু বিড়বিড়ানো ছাড়া ইউরোপীয় বিরোধিতা বলতে আর কিছু থাকবে না। সেটাও মিলিয়ে যাবে অদৃশ্য ক্যাশ রেজিস্ট্রারের শব্দে।

    ইনফান্তিনো জানেন, তাঁর পুরোনো ইউরোপীয় নিয়োগকর্তারা হয়তো তাঁকে পছন্দ করেন না, তাঁর ক্ষমতার চালকে অবিশ্বাস করেন। কিন্তু তাঁর দেওয়া ডলারকে ঠিকই ভালোবাসেন। তাই ১২ বছরের মধ্যে দুইবার আটলান্টিক পেরোনোর মূল্য হিসেবে তাঁর দেওয়া দামটা সবাই সানন্দে মেনে নেবেন।

    শেষমেশ সব পথ আসলে এক জায়গায় গিয়েই মেলে।

    টাকার কাছে।

  • ইফতারের আগেই জিতে গেল বাংলাদেশ

    সাইফ হাসানের আউটটা ভুলে যান। ১১৪ রান তাড়া করে জেতার ম্যাচে একটা উইকেট হারানো বিচলিত হওয়ার মতো কিছু নয়। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান আর তিনে নামা নাজমুল হোসেন মিলে কী করলেন দেখলেন তো! ৫০ ওভারের ক্রিকেটকেই যেন বানিয়ে ফেললেন টি–টোয়েন্টি!

    জয় যখন দৃষ্টিসীমায়, তখন এমন সাহসী হয়ে ওঠার জন্য বাড়তি কোনো প্রেরণা লাগে না। তবে ইফতারের আগে খেলা শেষ করতেই জয়ের সময়টাকে কমিয়ে আনতে তাড়িত হলেন কি না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, সেই খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।

    শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। তানজিদ–নাজমুলের চার–ছক্কাগুলো ইফতার বিরতির আগেই শেষ করে দিয়েছে খেলা। পাকিস্তানের ৩০.৪ ওভারে করা মাত্র ১১৪ রান বাংলাদেশ টপকে গেছে ১৫.১ ওভারেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে এত বেশি ওভার হাতে রেখে জয় এটাই প্রথম বাংলাদেশের। ৮ উইকেটের জয়ও উইকেটের ব্যবধানে সর্বোচ্চ, তবে পাকিস্তানকে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে হারিয়েছে আগেও।

     

    ১০ ওভার একসঙ্গে থেকে দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি হয়েছে তানজিদ–নাজমুলের। ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ বলে ২৭ রান করে নাজমুল আউট হয়ে গেলেও পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে। দলের ১০৯ রানে নাজমুল আউট হয়ে গেলে শেষাংশে তানজিদকে সঙ্গ দেন লিটন দাস। দুজন মিলে ঠিক ইফতারের মুহুর্তে জয় নিশ্চিত করে শেষ করে দেন খেলা। যদিও জয়সূচক রানটা এসেছে মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওয়াইড বল থেকে।

     পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে।
    পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে।
     

    খেলার শেষটা দিয়ে লেখার শুরু হলো বটে, তবে আসলে খেলার শুরুটাই দিয়েছিল দ্রুত ম্যাচ শেষের বার্তা। শুরু বলতে অবশ্য পাকিস্তান ইনিংসের প্রথম ৯ ওভার নয়। ওই পর্যন্ত কোনো উইকেট হারায়নি শাহীন আফ্রিদির দল, করেছিল ৩৫ রান। নতুন বলে বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান পারেননি পাকিস্তানের ওপেনিং জুটিতে ভাঙন ধরাতে।
    কিন্তু দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে ইনিংসের ১৮তম ওভার পর্যন্ত আরেক পেসার নাহিদ রানা যে আগুনের গোলা ছুঁড়ে গেলেন মিরপুরের উইকেটে, সেটাই যথেষ্ট হলো পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দিতে।

    নিজের প্রথম পাঁচ ওভারের প্রত্যেক ওভারেই একটি করে উইকেট নিয়ে নাহিদ নিয়েছেন ৫ উইকেট। শেষ দুই ওভারে উইকেট পাননি, যদিও সপ্তম ওভারে পেতে পারতেন ফাহিম আশরাফের উইকেটও। তাঁর এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার, অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও নেননি রিভিউ। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে পরে গেছে, রিভিউ নিলে নাহিদের নামের পাশে যোগ হতে পারত আরও একটি উইকেট।

     

    টসে জিতে বোলিং নিয়ে মিরাজ বলেছিলেন, বোলিংই তাঁর মূল শক্তি। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে কিছু উইকেট ফেলে দিতে পারলে ভালো হয়। বোঝাই যাচ্ছে, অধিনায়ক নিজেও তখন কল্পনা করেননি আসলে কী হতে যাচ্ছে।

    প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের উইকেট পড়েনি একটিও। তবে এরপরই শুরু ওই ‘নাহিদ শো’র। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মিরাজ বল দেন নাহিদের হাতে। ওভারের শেষ বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাহিবজাদা ফারহানের আউটে প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ১২তম ওভারে নাহিদের দ্বিতীয় শিকার শামিল হোসেন। অভিষিক্ত শামিল অবশ্য আগের ওভারেই জীবন পেয়েছিলেন। নাহিদের শর্ট লেংথের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তিনি।

    আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাত থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন অন্যপ্রান্তে। নাহিদ সুযোগ দেননি তাঁকেও। ১৪তম ওভারে শর্ট বলে মাজ সাদাকাত পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাইফ হাসানের হাতে।

    ৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ
    ৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ
     

    ৫৫ রানে ৩ উইকেট নেই, বাংলাদেশের হাতে চলে আসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। নাহিদ তাঁর পরের দুই ওভারেও মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আগাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ছিটকে দেন ম্যাচ থেকেই। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়াটা হয়ে দাঁড়ায় তখন কেবলই সময়ের ব্যাপার।

    নাহিদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেলেও অধিনায়ক মিরাজও ৩ উইকেট নিয়েছেন ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে। অন্য দুটি উইকেট দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের।

  • ইবোলা আতঙ্কে স্পেনে ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল

    বিশ্বকাপের আগে চিলির বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর একটি প্রীতি ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। আফ্রিকার দেশটিতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় ম্যাচটি আয়োজনের অনুমতি দেননি স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লা লিনিয়ার মেয়র হুয়ান ফ্রাঙ্কো। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ৯ জুন।

    সংবাদমাধ্যমকে ফ্রাঙ্কো জানান, এটি ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ’। আন্দালুসিয়া অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিভাগের সুপারিশ মেনেই তিনি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। জিব্রাল্টার সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ৬৫ হাজার জনসংখ্যার শহর লা লিনিয়ার এই মেয়র আরও বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে পৌরসভার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও ম্যাচটি আয়োজন না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    ১৯৭৪ বিশ্বকাপে জায়ারে নামে অংশ নেওয়ার পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ডিআর কঙ্গো। বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ রাতে দলটির আরেকটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। বেলজিয়ামের লিয়েজে সেই ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর প্রতিপক্ষ ডেনমার্ক।

    গত মাসে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে দেশে পরিকল্পিত অনুশীলন ক্যাম্প বাতিল করে ডিআর কঙ্গো ফুটবল দল। তারা বেলজিয়ামেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। অত্যন্ত সংক্রামক রক্তক্ষরণজনিত জ্বর ইবোলার প্রাদুর্ভাব গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশটিতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

    গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়ায় অবস্থিত বুনিয়া জেনারেল রেফারেল হাসপাতালে ইবোলা আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১৬ মে, ২০২৬
    গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়ায় অবস্থিত বুনিয়া জেনারেল রেফারেল হাসপাতালে ইবোলা আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১৬ মে, ২০২৬, ছবি: রয়টার্স

    এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে কঙ্গোর খেলোয়াড়দের আগে ২১ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। এই সময় পার হওয়ার পরই তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধিনিষেধের কারণে ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া খেলোয়াড়দের অবশ্য বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। খেলোয়াড়দের সবাই দেশের বাইরে বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। দলের মুখপাত্র জেরি কালেমো জানিয়েছেন, স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড়ই ক্লাব ফুটবলের মৌসুম শেষে আর দেশে ফেরেননি।

    বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে ডিআর কঙ্গোর প্রথম ম্যাচ ১৭ জুন, প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, ম্যাচটি হবে হিউস্টনে। এরপর ২৩ জুন গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে এবং ২৭ জুন আটলান্টায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে তারা।

    ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।

  • ইবোলা প্রাদুর্ভাব: ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল, বাড়ছে অন্য উদ্বেগও

    বিশ্বকাপের আগে ইবোলা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে বড় ধাক্কা খেল ডিআর কঙ্গো। দেশটিতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বকাপের আগে রাজধানী কিনশাসায় নির্ধারিত প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পরিস্থিতিটিকে ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত রোগটিতে ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে।

    ডিআর কঙ্গো জানিয়েছে, তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প এখন হবে বেলজিয়ামে। সেখানে ৩ জুন ডেনমার্কের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আফ্রিকার দলটি। এরপর ৯ জুন স্পেনে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে তাদের। বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপ থেকে পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো। বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন।

    ডিআর কঙ্গো দলের মুখপাত্র জেরি কালেমো সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিককে বলেন, ‘কিনশাসায় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল করা হয়েছে। এখন ক্যাম্প হবে বেলজিয়ামে।’ ফিফার এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে ফিফা অবগত এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ডিআর কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে দলটি প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নির্দেশনা পায়।’

    ইবোলা সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি জনস্বাস্থ্যবিধি জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, সর্বশেষ ২১ দিনের মধ্যে ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদান সফর করেছেন—এমন কেউ আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানেও ইবোলা সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

    এই নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটি বাড়ানো হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর থাকে, তাহলে ডিআর কঙ্গো তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও সমর্থকদের বড় অংশের উপস্থিতি ছাড়াই খেলতে বাধ্য হতে পারে।

    গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়ায় অবস্থিত বুনিয়া জেনারেল রেফারেল হাসপাতালে ইবোলা আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১৬ মে, ২০২৬
    গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়ায় অবস্থিত বুনিয়া জেনারেল রেফারেল হাসপাতালে ইবোলা আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১৬ মে, ২০২৬, রয়টার্স

    যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্র (সিডিসি) প্রকাশিত আদেশে বলা হয়েছে, ‘ইবোলা রোগ যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার যে গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে, তা থেকে দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে এই নির্দেশনা প্রয়োজনীয়।’

    বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর প্রথম ম্যাচ ১৭ জুন, প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, ম্যাচটি হবে হিউস্টনে। এরপর ২৩ জুন গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে এবং ২৭ জুন আটলান্টায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে তারা।

    ফিফা জানিয়েছে, তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে, যাতে ‘নিরাপদ ও সুরক্ষিত’ভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করা যায়। সংস্থাটি বলেছে, ‘এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে জড়িত সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষাই ফিফার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

    কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ডিআর কঙ্গো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর আগে থেকেই নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জাতীয় দলের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। ডিআর কঙ্গোর ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল এই সপ্তাহেই ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের সবাই দেশের বাইরে বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। দলের মুখপাত্র জেরি কালেমো জানিয়েছেন, স্কোয়াডের কোনো খেলোয়াড়ই দেশে ফেরেননি।

    ডিআর কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দল ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে (তৎকালীন নাম ছিল জায়ারে) প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ৫২ বছর পর এবার বিশ্বকাপে ফিরেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরটি হবে তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।

  • ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করল গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিটের পরামর্শই সঠিক ছিল

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ এখন এক চরম পর্যায়ে রয়েছে। এক মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে আকাশপথে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে স্বল্পমূল্যের ড্রোন প্রযুক্তি। ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে। এসব ড্রোনের উৎপাদন খরচ ২০ হাজার ডলারের কাছাকাছি হলেও এগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কয়েক মিলিয়ন ডলারের দামি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে চলেছে ইরান।

    যুদ্ধে ইরানের তৈরি সস্তা ড্রোনের ব্যাপক সাফল্য গুগলের সাবেক প্রবান নির্বাহী কর্মকর্তা(সিইও) এরিক শ্মিটের দেওয়া পুরোনো পরামর্শকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর শ্মিট বলেছিলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী ট্যাংক বা বিমানবাহী রণতরির মতো বিশাল ও ব্যয়বহুল প্রচলিত যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করছে। এর বদলে ড্রোন কেনায় মনোযোগ দেওয়া উচিত। শ্মিট তখন স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অতি ব্যয়বহুল অস্ত্রের মধ্যে নয়, গণহারে উৎপাদিত সস্তা ড্রোনের মধ্যে নিহিত। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে তাদের অগ্রাধিকারগুলো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি পড়েছি, যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার ট্যাংক কোথাও জমা করা আছে। সেগুলো বিলিয়ে দিন। তার বদলে ড্রোন কিনুন।’

    শ্মিট নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সফল ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এ বিষয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে কীভাবে মাত্র ৫ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ৫০ লাখ ডলার মূল্যের একটি ট্যাংক ধ্বংস করতে পারে।

    ইরান যুদ্ধে আধুনিক চালকবিহীন আকাশযান বা ইউএভির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সস্তা ড্রোনকে ভূপাতিত করতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করতে হয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে প্রতিপক্ষের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া আধুনিক ড্রোন যখন ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ করে, তখন বিদ্যমান অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাগুলো পুরোপুরি সেগুলো ধ্বংস করতে পারে না। সর্বশেষ সক্ষমতা হচ্ছে, প্রথাগত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার আগেই ড্রোন বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত হানতে পারে।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ইরান যুদ্ধে আরব আমিরাতের শেয়ারবাজারে মূলধন কমেছে ১২০ বিলিয়ন ডলার

    কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে দেশটির অর্থনীতির মূল খাতগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যেমন বিমান চলাচল, পর্যটন, আবাসন ইত্যাদি। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে যে অর্থনৈতিক মডেল গড়ে উঠেছিল, তার দুর্বলতা ফুটে উঠছে।

    গত এক মাসে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য কমেছে ১২০ বিলিয়ন বা ১২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। একই সময়ে বাতিল হয়েছে ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি উড়ান। যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বেশি চাপে আছে দুবাইয়ের শেয়ারবাজার। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বাজারের সূচক কমেছে ১৬ শতাংশ, আবুধাবির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

    এ অবস্থায় আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও দুবাইয়ের উত্তরাধিকারী যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এমন উদ্যোগে অর্থনীতির আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

    গত এক মাসে আরব আমিরাতে ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি উড়ান বাতিল হয়েছে।

    তেলের দাম বাড়ায় সৌদি আরব ও ওমান কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু আরব আমিরাতের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। আরব আমিরাতের অর্থনীতি নিছক তেলনির্ভর ছিল না। পর্যটন, আবাসন, লজিস্টিকস, আর্থিক সেবা—এমন বহুধা ধারায় বিভক্ত তাদের অর্থনীতি। স্বাভাবিকভাবে এই যুদ্ধে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের অর্থনীতি।

    বাস্তবতা হলো, মার্চ মাস পর্যন্ত ইরান আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ৩৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজার ৮৭২টি ড্রোন ও ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর বেশির ভাগ প্রতিহত করা হলেও আবুধাবি ও দুবাইয়ের বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুর্জ আল আরব, পাম জুমেইরাহ, দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহর তেল শিল্পাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    চাপে আবাসন খাত

    দুবাইয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের একটি হচ্ছে এর আবাসন খাত। স্বাভাবিকভাবে এ খাতেই প্রভাব পড়েছে বেশি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে যে বাজারের লেনদেন ১৪৭ বিলিয়ন বা ১৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল, সেই বাজার এখন দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।

    মার্চের শেষে রিয়েল এস্টেট সূচক কমেছে অন্তত ১৬ শতাংশ। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব, এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৩৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় বিক্রি অর্ধেকের বেশি কমেছে। দ্রুত বিক্রির জন্য অনেক সম্পত্তি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম দামে ছাড়তে হচ্ছে। বুর্জ খলিফার নির্মাতা এমার প্রপার্টিজের শেয়ারের দাম ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

    একই সঙ্গে দুবাই শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সিটি ব্যাংকের হিসাব, চলতি বছর প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই বৃদ্ধির হার ২ শতাংশে থাকবে। যদিও যুদ্ধের আগে এই হার ছিল ৪ শতাংশ। অর্থাৎ দুবাই শহরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষের আসার হার কমে যাবে।

    পর্যটন ও প্রবাসীনির্ভরতা

    মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসপণ্যের বাজারে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বিশেষ করে দুবাই এখন বড় নাম। মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসপণ্যের বাজারের প্রায় অর্ধেকই এখানে। তবে এই চাহিদা নির্ভর করে পর্যটনের ওপর। ২০২৫ সালে দুবাইয়ে ২ কোটির বেশি বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন।

    দুই দশক ধরে দুবাই ও আবুধাবি এই অস্থির অঞ্চলে নিজেদের ‘স্থিতিশীল দেশ’ হিসেবে ধরে রেখেছিল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই ভাবমূর্তি এখন ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    এর মধ্যে বিদেশি বাসিন্দাদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে, এমন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। ইরানি হামলার ভিডিও ধারণের অভিযোগে অন্তত ৭০ ব্রিটিশ নাগরিককে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। এমন ভিডিও শেয়ার করলে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। এ পর্যন্ত ইরানের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ২৯টির বেশি দেশের ১৭৯ জনের বেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

    থমকে গেছে বিমান খাত

    ইউএইর অর্থনীতির আরেকটি স্তম্ভ হচ্ছে বিমান পরিবহন। দুবাই বিমানবন্দর ও এমিরেটস এয়ারলাইনস বিমান পরিবহন খাতে নির্ভরযোগ্য নাম। বছরে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ যাত্রী দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। কিন্তু ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১ মার্চ এই বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

    এক দিনেই দুবাই, আল মাকতুম, আবুধাবি ও শারজার ৩ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বা উড়ান বাতিল হয়। এমিরেটস ও ইতিহাদ এয়ারলাইনস কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এতে কয়েক বিলিয়ন বা কয়েক শ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    হোটেলের কক্ষ আগাম সংরক্ষণের হার কমে গেছে। এর পরিণতি হলো, হোটেলগুলো কক্ষভাড়া কমাতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে ধনী প্রবাসীদের কেউ কেউ আরব আমিরাত ছাড়তে ব্যক্তিগত বিমানের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করেছেন।

    বাস্তবতা হলো, দুবাই এখনো ইউরোপীয় পর্যটকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল—মোট পর্যটকের ২০ শতাংশের বেশি ইউরোপীয়। এখন যে পরিস্থিতি, তাতে এই পর্যটকেরা যে শিগগিরই দুবাইমুখী হবেন, তেমন সম্ভাবনা কম।

  • ইরানকে কাঁপিয়ে দিল নিউজিল্যান্ড

    ইরান ২:২ নিউজিল্যান্ড

    ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ইরানের অবস্থান ২৩-এ, নিউজিল্যান্ড ৮২-তে।

    তবে বিশ্বকাপে আজ দুই দলের ম্যাচে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেই ব্যবধান টেরই পাওয়া যায়নি। বরং দুই দফায় ম্যাচে এগিয়ে গিয়ে নিউজিল্যান্ডই জয়ের সম্ভাবনা বেশি জাগিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইরানের মুহুর্মুহু আক্রমণের মুখে নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়।

    এবারের আগে ১৯৮২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে খেলেছিল নিউজিল্যান্ড। প্রথমবার তিন ম্যাচে হারলেও পরেরবার তিনটিতেই ড্র করেছিল দলটি। এক যুগ পর বিশ্বমঞ্চে আবারও মাঠ ছাড়ল প্রথম জয়ের অপেক্ষা নিয়েই।

    লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে প্রায় সব আলোচনা ছিল ইরান দলকে নিয়েই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, ফেডারেশন সভাপতিসহ কয়েকজনের ভিসা না পাওয়া, বেজক্যাম্প মেক্সিকোয় সরিয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচের আগের দিন পা রাখাসহ প্রায় সব আলোচনাই ছিল ফুটবলের বাইরের।

    আজ ম্যাচের দিনও সোফাই স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন একদল ইরানি প্রবাসী, যাঁরা দেশটির বর্তমান শাসনকাঠামোর বিরোধী। এমনকি খেলা শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে ইরানের জাতীয় সংগীতের সময় দুয়োও দিয়েছে গ্যালারির একাংশ।
    সব ছাপিয়ে খেলা যখন শুরু হলো, তখন ইরানের খেলোয়াড়দের চ্যালেঞ্জ ছিল পারফরম্যান্স দিয়ে বাকি সবকিছুকে ভুলিয়ে দেওয়ার। তবে সেখানেও তাদের চাপেই রেখেছে র‍্যাঙ্কিংয়ে ৫৯ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড।

    ওশেনিয়া থেকে উঠে আসা দলটি ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায়। ক্রিস উডের বাড়ানো বল জোরালো হাফ ভলিতে জালে পাঠান এলিজা জাস্ট। ইরান ম্যাচে গতি খুঁজে পায় ডিহাইড্রেশন বিরতির পর। ৩২ মিনিটে দলটিকে সমতায় ফেরান রামিন রেজাইয়ান।

    এর আগে মেহদি তারেমির বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
    দ্বিতীয়ার্ধেও প্রথম গোলটি নিউজিল্যান্ডই করে। এবারও উডের কাছ থেকে পাওয়া ইরানের গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে তুলে জালে পাঠান জাস্ট।

    ৫৪ মিনিটে ২-১ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার ১০ মিনিট পর আবারও সমতায় ফেরে ইরান। এবার রেজাইয়ানের ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান মোহাম্মদ মোহেবি।

    কোনাকুনি হেডে বল পোস্টের ভেতরের অংশে লেগে জালে ঢোকে। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-২ সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
    গ্রুপ পর্বে ইরানের পরের ম্যাচ ২১ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে। পরদিন নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ মিসর।

  • ইরানি নারী ফুটবল দলের অধিনায়কের সম্পদ ফেরত দিচ্ছে সরকার

    প্যারিস

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব