• অভিনেত্রী সঞ্চিতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, বিচার চাইলেন বাবা

    জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘কুমকুম ভাগ্য’–এর অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের নালাসোপারায় নিজ বাসভবন থেকে ২২ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তাঁর মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবার বা সহকর্মীদের নয়, পুরো বিনোদন অঙ্গনকেই শোকাহত করেছে। এরই মধ্যে তাঁর বাবা মচ্ছিন্দ্র উগালে মেয়ের মানসিক অবস্থা ও জীবনের শেষ কয়েক মাসের কিছু অজানা দিক সামনে এনেছেন।

    ‘হাসিখুশি থাকলেও হঠাৎ ভেঙে পড়ত’
    এক সাক্ষাৎকারে সঞ্চিতার বাবা জানান, মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। বাইরে থেকে স্বাভাবিক বা হাসিখুশি মনে হলেও হঠাৎ করেই গভীর বিষণ্নতায় ডুবে যেতেন তিনি।

    পরিবার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল বলেই তাঁকে একা না রাখার চেষ্টা করত। প্রায় সব সময় পরিবারের কেউ না কেউ তাঁর সঙ্গে থাকতেন। কিন্তু সেদিন অল্প সময়ের জন্য একা থাকার সুযোগেই ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

    বাবার ভাষায়, ‘তাঁরা কখনো কল্পনাও করেননি যে পরিস্থিতি এতটা গুরুতর হয়ে উঠেছে। একজন সন্তানের ভেতরের যন্ত্রণা অনেক সময় পরিবারের কাছেও পুরোপুরি ধরা পড়ে না—সঞ্চিতার ঘটনা যেন সেই কঠিন বাস্তবতাই সামনে এনে দিয়েছে।’

    চাপ ও হয়রানির অভিযোগ
    সঞ্চিতার মৃত্যুর পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে তাঁর বাবার আনা অভিযোগ। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে ছিলেন।

    যদিও সঞ্চিতার বাবা নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে বলেছেন, অর্থসংক্রান্ত ও অন্যান্য কিছু দাবি নিয়ে তাঁকে নিয়মিত বিরক্ত করা হতো। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে পরিবারের ধারণা।
    তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করেনি এবং এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সম্ভব নয়। ফলে অভিযোগগুলোকে আপাতত পরিবারের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    ‘আমার মেয়ের বিচার চাই’
    মেয়েকে হারানোর শোকের মধ্যেও বিচার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন সঞ্চিতার বাবা। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, যদি কোনো ধরনের অন্যায় বা অনৈতিক চাপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    সঞ্চিতা উগলে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সঞ্চিতা উগলে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    একজন শোকাহত পিতার এই আবেদন কেবল নিজের মেয়ের জন্য নয়; তিনি বলেছেন, দেশের সব মেয়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

    তদন্তে কী জানা গেছে
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চিতার মরদেহ যে কক্ষে পাওয়া যায়, সেটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক কোনো আলামতও মেলেনি।

    তদন্তকারীরা একটি আকস্মিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এদিকে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অভিনেত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

    ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায়
    সঞ্চিতা উগালের ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ না হলেও সম্ভাবনাময় ছিল। ‘কুমকুম ভাগ্য’ তাঁকে পরিচিতি এনে দিলেও তিনি শুধু টেলিভিশনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’ ও ‘দিলওয়ালি দুলহা লে জায়েগি’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি

    ওয়েব কনটেন্ট ও চলচ্চিত্রেও কাজ শুরু করেছিলেন।
    ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘ছাবা’তে তারাবাই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া ‘সাইলেন্স ২: দ্য নাইট আউল বার শুটআউট’ ছবিতেও দেখা গেছে তাঁকে। অল্প বয়সেই অভিনয়ের বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন এই তরুণ শিল্পী।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি উদ্ধার, মামলা ১২৪৪

    জ্বালানির কোনো সংকট নেই দাবি করে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, আজ পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন ডিজেল, ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন এবং ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রোল মজুদ আছে। এছাড়াও জেট ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। বিভিন্ন অভিযানে এখন পর্যন্ত জ্বালানি উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন। পাশাপাশি ১২শ' ৪৪টি  মামলা হয়েছে এবং কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে ৪৪ জনকে।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ দুপুরে সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    গত বছর ডিপোগুলোতে যে পরিমাণ জ্বালানি দেয়া হয়েছিল, এ বছরও সেই পরিমাণ দেয়া হচ্ছে বলে এ সময় উল্লেখ করেন মনির হোসেন চৌধুরী। তার মতে, মজুদ করে রাখার জন্যই কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। ডিপো থেকে জ্বালানি না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে নির্দিষ্ট যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের। তবে, এ কার্ড বিতরণ জটিল হওয়ায় অল্প সময়ে সব গাড়িকে দেয়া সম্ভব নয়।

     
  • অভিষেকে জোড়া গোল হলান্ডের, ইরাক গোল পেল ৪০ বছর পর

    নরওয়ে ৪–১ ইরাক

    ম্যাচের তখন ৮৩ মিনিট। ইরাকের গোলকিপার জালাল হাসানকে ডান প্রান্তে একা পেয়ে যান আর্লিং হলান্ড। বেশ জোরে শটও নেন। কিন্তু জালালের পায়ে লেগে বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় হলান্ডের হ্যাটট্রিকটা আর হলো না। শেষ বাঁশি বাজার পর নরওয়ের স্ট্রাইকারকে তাই বিশ্বকাপ অভিষেকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো জোড়া গোলে।

    তবে বোস্টন স্টেডিয়ামে ইরাকের বিপক্ষে নরওয়ের ৪-১ গোলে জয়ের এ ম্যাচে এমন কিছুই প্রত্যাশিত ছিল। ম্যাচটা হবে ‘হলান্ড শো’—হ্যাটট্রিক পেতে পারেন কিংবা নিদেনপক্ষে জোড়া গোল করবেন, এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। পৃথিবীর উত্তর প্রান্তের এই ‘গোলমেশিন’ বিশ্বকাপ অভিষেকে সেটা করলেন ম্যাচের ৪৩ মিনিটের মধ্যে। প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মাঝখানে ব্যবধান ছিল মাত্র ১৪ মিনিট।

    কিন্তু এ ম্যাচকে পুরোপুরি হলান্ডের বলা যাচ্ছে না। কারণ, পার্শ্বচরিত্ররাও আছেন। ২৯ ও ৪৩ মিনিটে হলান্ডের জোড়া গোলের পর ৭৬ মিনিটে নরওয়ের হয়ে আরও একটি গোল করেন স্কিরি অস্টিগার্ড। যোগ করা সময়ে ৬ মিনিটে নরওয়ে শেষ গোলটি পেয়েছে ইরাকের তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইনের কাছ থেকে! হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, আত্মঘাতী গোল।

    ম্যাচে ইরাকের হয়ে একমাত্র গোলটিও আইমেন হুসেইনের। সেটা সমতাসূচক গোল। ২৯ মিনিটে হলান্ড নরওয়েকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৩৯ মিনিটে হেডে গোল করেন আইমেন। পরে আত্মঘাতী গোল করায় বিশ্বকাপে বিরল এক তালিকায়ও নাম লেখান তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোলও করলেন আইমেন।

    আইমেনের গোল উদ্‌যাপন
    আইমেনের গোল উদ্‌যাপন, এএফপি
     

    বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয় গোল পেল ইরাক। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল পেয়েছিল ইরাক। ৪০ বছর ৯ দিন পর আইমেনের কল্যাণে আরেকটি গোলের দেখা পেল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরাক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো জাতীয় দলের প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মাঝখানে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়ের ব্যবধান। এ ম্যাচেরই জয়ী দল নরওয়ে তালিকায় শীর্ষে।

    ১৯৩৮ বিশ্বকাপের পর ৫৬ বছর ২৮ দিনের বিরতি নিয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই দ্বিতীয় গোল পেয়েছিল নরওয়ে।

    সেই নরওয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার প্রথম ম্যাচেই পেল চার গোলের দেখা। বিশ্বকাপে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় জয়। আর সেই জয়ে যে হলান্ডের অবদানই বেশি, তা না বললেও চলে।

    ‘আই’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচ জিতেই শীর্ষে নরওয়ে। দ্বিতীয় ফ্রান্সের সংগ্রহও সমান ৩ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে নরওয়ের সঙ্গে পিছিয়ে দিদিয়ের দেশমের দল। পয়েন্ট না পাওয়া সেনেগাল তিনে ও ইরাক চারে।

  • অর্থ আত্মসাতের মামলায় বাবার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে চিত্রনায়িকা পূজা চেরীর বক্তব্য

    চলচ্চিত্র নির্মাণের নামে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পূজা চেরীর বাবা দেব প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই এই নায়িকা সম্পৃক্ত নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

    পূজা ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সম্প্রতি আমার বাবা দেব প্রসাদ রায়ের গ্রেপ্তার এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ফোন এবং বার্তায় জানতে চাইছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি এড়াতে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।’

    পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক থেকে
    পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক থেকে
     

    দীর্ঘ প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ার পূজার। এই সময়ে তিনি কখনোই এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আমি মিডিয়াতে কাজ করছি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনযাপনের খরচ সম্পূর্ণভাবে নিজেই নির্বাহ করে আসছি।’

    নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এই নায়িকা আরও লিখেছেন, ‘আমার বাবার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। এমনকি আমি বর্তমানে কোনো প্রোডাকশন হাউস বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গেও যুক্ত নই।’

    পূজা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শিল্পী হিসেবে তিনি সব সময় দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন এবং সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। কিন্তু পরিবারের এমন ঘটনা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘পরিবারের সদস্য হওয়ার সূত্রে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি আমার জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক, তবে এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত আইনি বিষয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সত্য উদ্‌ঘাটিত হবে।’

    এমন ঘটনায় অনেকেই এই অভিনেত্রীকে জড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে পূজা লিখেছেন, ‘এই স্পর্শকাতর সময়ে অহেতুক আমাকে বা আমার কাজকে এই ঘটনার সঙ্গে না জড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমি আমার দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশে চাই।’

    মামলাটি নিয়ে সবশেষে পূজা চেরীর মন্তব্য, ‘মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে, বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন।’

  • অর্থনীতিবিদদের আভাস স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

    অর্থনীতিবিদদের টেবিলজুড়ে সব সময়ই থাকে যুদ্ধবিগ্রহের আঁচ, মূল্যস্ফীতির খতিয়ান কিংবা সামষ্টিক অর্থনীতির একঘেয়ে মারপ্যাঁচ। এই রুক্ষ হিসাব-নিকাশের খাতা থেকে একটু মুক্তি পেতে কে না চায়! চার বছর পরপর তাই তাঁরাও মেতে ওঠেন এক অদ্ভুত স্বস্তির খেলায়।

    আগামী বিশ্বকাপ সামনে রেখে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তেমনি এক জরিপ চালিয়েছিল। যেখানে অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বের নামীদামি ১৬০ জন অর্থনীতিবিদ। তবে জটিল সব তত্ত্ব দেওয়া এই পণ্ডিতেরা এবার অকপটে স্বীকার করেছেন এক মধুর সত্য—মূল্যস্ফীতির কঠিন হিসাব কষা যত না কঠিন, তার চেয়েও ঢের কঠিন বিশ্বকাপের সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম বলা!

    সে যাক, অর্থনীতিবিদদের সেই জটিল সব গাণিতিক মডেল আর মনের সহজাত অনুভূতি এবার এক সুরে গান গাইছে ফরাসিদের পক্ষে। তাঁদের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে ফ্রান্স।

    ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম
    ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম, এএফপি
     

    অর্থনীতিবিদদের এই ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যি হয়, তবে দিদিয়ের দেশম ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব পেয়ে যাবেন। ইতালির ভিত্তোরিও পোজ্জোর পর দ্বিতীয় কোচ হিসেবে গড়বেন দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি। একই সঙ্গে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার পর আবারও কোচ হিসেবে ট্রফি ছোঁয়ার অনন্য এক রেকর্ডও হয়ে যাবে। জরিপে ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ফরাসিরা যেখানে শীর্ষে, ৩১ শতাংশ ভোট নিয়ে স্প্যানিশরা ঠিক তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। শীর্ষ পাঁচের বাকি তিনটি নামও বেশ চেনা—বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় থাকা আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড।

    ব্রাজিলের সমর্থকেরা এই জরিপ দেখে নির্ঘাত চোখ ফিরিয়ে নেবেন। কার্লো আনচেলত্তির মতো হাইপ্রোফাইল চাণক্য ডাগআউটে থাকার পরও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না বিশ্লেষকেরা। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে সেই যে বুক ভেঙেছিল সেলেসাওদের, সেই ক্ষতের দাগ এখনো দগদগে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থনীতিবিদের চোখে এবার ব্রাজিলের কপালে জুটছে ‘সবচেয়ে বড় হতাশাজনক পরাশক্তি’র তকমা। ব্রাজিলের পেছনেই আছে ইংল্যান্ড ও জার্মানি।
    অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস বলছে, বিশ্বকাপে রানার্স আপ হবে স্পেন।
    অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস বলছে, বিশ্বকাপে রানার্স আপ হবে স্পেন। এএফপি

    লন্ডনভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘আরবিসি’র জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাথাল কেনেডি ফরাসিদের এই রাজত্ব ফিরে পাওয়ার পেছনে দেখিয়েছেন নিরেট যুক্তি। তাঁর মতে, ২০২২ ফাইনালের সেই লুসাইল ট্র্যাজেডির ক্ষত ভুলে ফ্রান্স এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দলটিতে আছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে থাকা একঝাঁক অভিজ্ঞ ফুটবলার। পিএসজি থেকে উঠে আসা কিছু তরুণ ফুটবলার দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছেন। আর সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড? কেনেডি মনে করিয়ে দিলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, তারা একদম ফুরফুরে মেজাজে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পাচ্ছে।’

    কিলিয়ান এমবাপ্পেই এবার ‘গোল্ডেন বল’ আর ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে। বিশ্লেষকদের চোখে তাঁর ঠিক পেছনেই হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এই মৌসুমে ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ৬১ গোল করে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জেতা কেইন এবার ইংলিশদের স্বপ্নসারথি। এই দুই মহাতারকার সামনেই নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল ১২টি, কেইনের ৮টি। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে লিওনেল মেসির (১৩ গোল) সঙ্গে আছেন তাঁরাও।

    কিলিয়ান এমবাপ্পে
    কিলিয়ান এমবাপ্পে, ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

    অর্থনীতিবিদদের এই অনুমানের পেছনে কি শুধুই খাতা-কলমের হিসাব, নাকি মনের ভেতরের লুকানো কোনো টানও আছে? জরিপে অংশ নেওয়া ৮ শতাংশ অর্থনীতিবিদ অকপটে স্বীকার করেছেন, দেশের প্রতি অন্ধ ভালোবাসাই তাঁদের দিয়ে দল পছন্দ করিয়েছে। যেমন দুজনের চোখে চ্যাম্পিয়ন জাপান, একজন মেক্সিকো আর একজনের ভোট পড়েছে মরক্কোর বাক্সে। এসবের যেকোনো একটা সত্যি হলে এবারের বিশ্বকাপ সব রূপকথাকে ছাড়িয়ে যাবে! তবে ৭৩ শতাংশ অর্থনীতিবিদই জানিয়েছেন, কোনো যুক্তি নয়, তাঁরা মনের সহজাত অনুভূতি থেকেই এই অনুমান করেছেন।

    বাকি প্রায় ২০ শতাংশ অর্থনীতিবিদ অবশ্য খাঁটি পেশাদার। তাঁরা কঠিন সব ডেটা ও বিশেষ গাণিতিক মডেলের ওপর নির্ভর করেছেন।

    ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে ৪৮টি দলের, ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি। আয়োজক হিসেবে থাকছে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এত বড় মহাযজ্ঞে আন্ডারডগ বা কালো ঘোড়া হিসেবে ২১ শতাংশ ভোট নিয়ে সবার আগে আছে আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। ১৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তাদের পেছনে জাপান।

    স্পেনের জার্সিতে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস
    স্পেনের জার্সিতে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস, এএফপি
     

    ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে ৪৮টি দলের, ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি। আয়োজক হিসেবে থাকছে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এত বড় মহাযজ্ঞে আন্ডারডগ বা কালো ঘোড়া হিসেবে ২১ শতাংশ ভোট নিয়ে সবার আগে আছে আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। ১৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তাদের পেছনে জাপান।

    আর উদীয়মান তারকার ক্যাটাগরিতে যে মোট ৪৬ জন ফুটবলারের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালের বাক্সে। গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী বা ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ জয়ের লড়াইয়ে ফেবারিটের তালিকায় আছেন ফ্রান্সের মাইক মাইনিয়, আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও স্পেনের উনাই সিমন।

     

    অর্থনীতির গ্রাফের ওঠানামা হয়তো পৃথিবীর ভাগ্য বদলায়, তবে দিন শেষে মনে রাখতে হবে, ফুটবলের সবুজ মাঠে কোনো অর্থনৈতিক মডেল কাজ করে না। সেখানে শেষ কথা বলে জাদুকরের পায়ের জাদু। সব সমীকরণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে হয়তো ফুটবল তার নিজের পাণ্ডুলিপি নিজেই লিখবে।

    তবে আপাতত অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যদ্বাণী মেনে নিয়ে ফরাসিরা বলতেই পারেন, ‘লা ভি এন রোজ’—জীবন আসলেই চমৎকার!

  • অলিম্পিকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ‘জিন টেস্ট’: মেয়েদের ইভেন্টে খেলতে লাগবে প্রমাণ

    আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) জানিয়েছে, এখন থেকে শুধু জন্মগতভাবে নারী ক্রীড়াবিদেরাই অলিম্পিক গেমসের মেয়েদের ইভেন্টগুলোতে অংশ নিতে পারবেন। জন্মগতভাবে নারী কি না, তা পরীক্ষা করা হবে জিন-স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে।

    আইওসির এই নিয়মের ফলে এখন থেকে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের তাঁদের পরিবর্তিত পরিচয়ে বিবেচনা করা হবে না। সবাইকে জন্মগত লিঙ্গ অনুসারে দেখা হবে। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিযোগিতায় এ নিয়ম কার্যকর থাকবে।

    আইওসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আইওসি বিবেচনা করে যে এসআরওয়াই জিনের উপস্থিতি সারা জীবনের জন্য অপরিবর্তিত থাকে এবং এটি একজন ক্রীড়াবিদের পুরুষ যৌন বিকাশ অনুভব করার একটি অত্যন্ত নির্ভুল প্রমাণ।’ আইওসি দীর্ঘদিন ধরে অলিম্পিকে ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো সর্বজনীন নিয়ম প্রয়োগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। ২০২১ সালে সংস্থাটি বিভিন্ন খেলার আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোকে তাদের নিজস্ব নির্দেশিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী চলার নির্দেশ দিয়েছিল।

    তবে গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আইওসির নতুন প্রেসিডেন্ট কির্স্টি কভেন্ট্রি ভিন্ন অবস্থান নেন। তিনি জানান, একটি অভিন্ন পদ্ধতিই সব খেলায় প্রয়োগ করা হবে। আজ আইওসির বিবৃতিতে কভেন্ট্রি বলেন, ‘অলিম্পিক গেমসে সামান্যতম ব্যবধানও জয় এবং পরাজয়ের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তাই এটি একেবারে পরিষ্কার যে জন্মগত পুরুষদের নারী ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ন্যায্য হবে না। এ ছাড়া কিছু খেলাধুলার ক্ষেত্রে এটি মোটেও নিরাপদ হবে না।’

    অবশ্য আগের কোনো ঘটনা এবং তৃণমূল বা অপেশাদার খেলাধুলার ওপর আইওসির নতুন নীতিমালার কোনো প্রভাব থাকবে না। আইওসি জানিয়েছে, লিঙ্গ বিকাশের বিরল ক্ষেত্রগুলোর জন্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

    ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে নারী ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুজন বক্সারকে নিয়ে লিঙ্গ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দুজনই নিজ নিজ ওজন শ্রেণিতে সোনা জিতেছিলেন। তার এক বছর আগে লিঙ্গযোগ্যতা পরীক্ষার জেরে তাঁদের আন্তর্জাতিক ফেডারেশন কর্তৃক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

    ফেডারেশনগুলোতে কী নিয়ম

    আজকের আগপর্যন্ত ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের নিজ নিজ ফেডারেশন থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর অলিম্পিকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হতো। অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, রাগবি ইউনিয়নসহ কিছু ফেডারেশন এরই মধ্যে নিজস্ব নিয়ম তৈরি করেছে, যেখানে পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া অ্যাথলেটদের নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিষিদ্ধ।

    এখন পর্যন্ত মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন প্রকাশ্যে আসা ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদ অলিম্পিক গেমসে অংশ নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের লরেল হাবার্ড ২০২১ সালে টোকিও অলিম্পিকে ভারোত্তোলক হিসেবে অংশ নিয়ে প্রথম প্রকাশ্যে আসা ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেট হিসেবে জন্মগতভাবে নির্ধারিত লিঙ্গের বাইরে অন্য লিঙ্গ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

    রয়টার্স

  • অশালীন উপস্থাপনা থেকে বেফাঁস মন্তব্য, বারবার বিতর্কে জাহ্নবী

    বলিউডে জাহ্নবী কাপুরের যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘স্টার কিড’ পরিচয় নিয়ে। অভিনেত্রী শ্রীদেবী ও প্রযোজক বনি কাপুরের মেয়ে হওয়ায় ক্যামেরার আলো তাঁর ওপর ছিল জন্ম থেকেই। কিন্তু গত আট বছরে জাহ্নবী শুধু অভিনয় নয়, নানা বিতর্কের কারণেও নিয়মিত শিরোনামে উঠে এসেছেন। কখনো নেপোটিজম–বিতর্ক, কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহসী উপস্থিতি, আবার সম্প্রতি ‘পেড্ডি’ সিনেমায় তাঁর চরিত্র ও উপস্থাপনাকে ঘিরে নতুন সমালোচনা—সব মিলিয়ে তিনি আজ বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ অভিনেত্রীদের একজন।

    ‘পেড্ডি’–বিতর্ক: নারী চরিত্র নাকি ‘গ্ল্যামার অবজেক্ট’
    সম্প্রতি ‘পেড্ডি’ ছবির প্রচারণা ঘিরে নতুন বিতর্কের মুখে পড়েন জাহ্নবী। ছবিতে তাঁর চরিত্রের কিছু পোস্টার, গান ও প্রচারণামূলক দৃশ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের একটি অংশ অভিযোগ তোলে যে তাঁকে অতিরিক্ত ‘গ্ল্যামারাইজ’ করা হয়েছে। অনেকের মতে, চরিত্রটির গভীরতার চেয়ে তাঁর শারীরিক আবেদনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতীয় বাণিজ্যিক ছবিতে নারী চরিত্রের উপস্থাপনাকে ঘিরে যে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, ‘পেড্ডি’ সেই আলোচনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন ছিল, একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রীকে কেন এখনো অনেক ক্ষেত্রে ‘সাজসজ্জার উপাদান’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে?
    যদিও ছবির নির্মাতারা দাবি করেছেন, পুরো সিনেমা না দেখে এমন মন্তব্য করা ঠিক নয় এবং চরিত্রটির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরে নির্মাতা ক্ষমা চেয়েছেন। জানিয়েছেন, বিতর্কিত দৃশ্যগুলো সম্পাদনা করা হবে।

    নেপোটিজম: ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ছায়াসঙ্গী
    জাহ্নবীর সবচেয়ে বড় বিতর্ক নিঃসন্দেহে নেপোটিজম। ২০১৮ সালে ‘ধড়ক’ দিয়ে তাঁর অভিষেকের পর থেকেই অভিযোগ ওঠে যে সাধারণ শিল্পীদের তুলনায় তিনি অনেক বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে করণ জোহরের সমর্থন পাওয়ায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়।

    ২০২০ সালে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর বলিউডে স্বজনপ্রীতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে জাহ্নবীও সমালোচনার মুখে পড়েন। যদিও তিনি সরাসরি কোনো বিতর্কে জড়াননি, তবু ‘স্টার কিড’ পরিচয়ের কারণে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রলের শিকার হতে হয়।
    পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী বলেন, সুযোগ পাওয়া আর সেই সুযোগ ধরে রাখা এক বিষয় নয়। দর্শক গ্রহণ না করলে কোনো তারকাসন্তানই টিকে থাকতে পারে না।

    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে চর্চা
    জাহ্নবীর ব্যক্তিগত জীবনও প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের আলোচনার বিষয় হয়েছে। ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য শিখর পাহাড়িয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে বহু বছর ধরে গুঞ্জন চলছে। কখনো তাঁদের একসঙ্গে ছুটি কাটাতে দেখা গেছে, কখনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

    যদিও দীর্ঘ সময় তাঁরা সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করে।
    বলিউডে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। কিন্তু জাহ্নবীর ক্ষেত্রে এটি প্রায়ই তাঁর কাজের চেয়ে বেশি সংবাদ শিরোনাম হয়েছে।

    অ্যালকোহলে আসক্তি নিয়ে কথা বলে বিপাকে
    এই বিতর্কের সূত্রপাত রাজ সামানির পডকাস্টে দেওয়া জাহ্নবীর এক মন্তব্য থেকে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, জীবনের এক কঠিন অভিজ্ঞতার পর তিনি কিছু সময় নিয়মিত মদ্যপান করতেন। তবে জাহ্নবী পরিষ্কার করেন, ‘আমি বলব না যে আমি আসক্ত ছিলাম বা অ্যালকোহলের অপব্যবহার করতাম, কিন্তু তখন আমি প্রায়ই মদ্যপান করতাম।’

    বিষয়টি বুঝে উঠতে সময় লেগেছিল অভিনেত্রীর। ক্রমে বুঝতে পারছিলেন, মদ্যপান তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। সকালবেলায়ও অস্বস্তি হতো তাঁর।
    জাহ্নবীর কথায়, ‘আমার স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছিল, সেটা আমার ভালো লাগছিল না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে অনুভূতি হতো, তা মোটেই সুখকর ছিল না। নিজের শরীর থেকেই এক অদ্ভুত গন্ধ বেরোত। এই গন্ধ আমার খুব পরিচিত ছিল। আমারই এক চেনা ব্যক্তি, যিনি নেশাগ্রস্ত থাকতেন, তাঁর শরীর থেকে এমন গন্ধ বেরোত।’ এভাবেই ক্রমে বুঝলেন, মদ্যপান মোটেই ঠিক নয় স্বাস্থ্যের জন্য। ক্রমে সেই অভ্যাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী।

    এ বক্তব্য প্রকাশের পর ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েন জাহ্নবী। পরে বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থান স্পস্ট করেন। বলেন, মাদকাসক্তি নিয়ে নিজের মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    পোশাক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিতর্ক
    জাহ্নবী কাপুরের ফ্যাশন সেন্স নিয়ে যেমন প্রশংসা হয়, তেমনি সমালোচনাও কম নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন ফটোশুট, জিম লুক কিংবা গ্ল্যামারাস উপস্থিতি নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক তৈরি হয়। রক্ষণশীল দর্শকদের একটি অংশ তাঁকে ‘অতিরিক্ত সাহসী’ বলে সমালোচনা করে।

    অন্যদিকে সমর্থকদের যুক্তি, একজন অভিনেত্রীর পোশাক বা ব্যক্তিগত স্টাইলকে কেন্দ্র করে বিচার করা অনুচিত। তাঁদের মতে, জাহ্নবী কেবল আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ট্রেন্ড অনুসরণ করছেন।

    এই বিতর্ক বহুবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্কের জন্ম দিয়েছে।

    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    ‘মিলি’থেকে ‘উলাজ’: অভিনয় বনাম ইমেজ

    ক্যারিয়ারের শুরুতে সমালোচকেরা অভিযোগ করতেন, জাহ্নবী অভিনয়ের চেয়ে নিজের তারকা পরিচয়ের ওপর বেশি নির্ভর করছেন।
    তবে ‘গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কারগিল গার্ল’, ‘মিলি’ ও ‘উলজ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাহ্নবী প্রশংসাও পেয়েছেন।
    তবু অনেক সময় দেখা গেছে, তাঁর অভিনয় নিয়ে আলোচনা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পোশাক, সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়।
    এটিও জাহ্নবীর ক্যারিয়ারের একটি বড় বাস্তবতা।

    দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় প্রবেশ ও নতুন বিতর্ক
    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাহ্নবী দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। ‘দেবারা: পার্ট ১’ ও ‘পেড্ডি’র মতো বড় বাজেটের ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নতুন দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছেন।

    কিন্তু এখানেও সমালোচনা জাহ্নবীকে ছাড়েনি। কিছু সমালোচক অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণ ভারতীয় বাণিজ্যিক ছবিতে তাঁকে অনেক সময় চরিত্রের চেয়ে তারকা আকর্ষণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে ভক্তদের মতে, জাহ্নবী ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন এবং বড় বাণিজ্যিক ছবির অংশ হওয়াও একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক ধাপ।

    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    শ্রীদেবীর মেয়ে হওয়ার চাপ
    জাহ্নবীকে ঘিরে প্রায় সব বিতর্কের পেছনে আরেকটি বিষয় কাজ করে—তিনি শ্রীদেবীর মেয়ে।

    ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে শ্রীদেবীর মতো জনপ্রিয়তা খুব কম অভিনেত্রী পেয়েছেন। ফলে জাহ্নবীর প্রতিটি কাজই মায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

    অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই তুলনা যেমন তাঁকে বাড়তি সুযোগ দিয়েছে, তেমনি বাড়তি চাপও তৈরি করেছে। একজন নতুন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার আগেই তাঁকে কিংবদন্তি মায়ের উত্তরসূরি হিসেবে বিচার করা হয়েছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • অস্কারের ৯৮তম আসরে পুরস্কার পেলেন যারা

    বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অস্কার বা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৮তম আসর জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডলবি থিয়েটারে। স্থানীয় সময় রোববার (১৫ মার্চ) রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের এই বিখ্যাত ভেন্যুতে বসে বিশ্ব তারকাদের বহুল প্রতীক্ষিত এই অনুষ্ঠান।

    এ বছরের আসরে বিভিন্ন শাখায় সেরা শিল্পী, নির্মাতা ও চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণা করা শুরু হয়েছে। উপস্থাপক হিসেবে মঞ্চে রয়েছেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব কোনান ও’ব্রায়েন, যিনি একে একে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করছেন।

    চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকা, নির্মাতা ও অতিথিদের উপস্থিতিতে জমকালো পরিবেশে শুরু হয় অস্কারের এই আয়োজন। লাল গালিচায় বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

    ৯৮তম অস্কারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীসহ অন্যান্য ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শক টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই আয়োজন সরাসরি উপভোগ করছেন।

    এক নজরে জেনে নেয়া যাক, উল্লেখযোগ্য বিভাগে কাদের হাতে উঠলো এবারের পুরস্কারঃ

    সেরা অভিনেতা: মাইকেল বি জর্ডান (সিনার্স)

    সেরা অভিনেত্রী: জেসি বাকলি

    সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: শন পেন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)

    সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: অ্যামি ম্যাডিগান (ওয়েপনস)

    সেরা পরিচালক: পল টমাস অ্যান্ডারসন

    সেরা সিনেমা: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

    সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য: সিনার্স

    সেরা চিত্রনাট্য (অ্যাডাপ্টেড): ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

    সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম: কেপপ ডেমন হান্টার্স

    সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড: দ্য গার্ল হু ক্রাইড পার্লস

    সেরা কস্টিউম ডিজাইন: ফ্রাঙ্কেনস্টাইন

    সেরা মেকাপ ও হেয়ারস্টাইলিং: ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন

    সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন: ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন

    সেরা সম্পাদনা: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

    সেরা ভিজুয়াল ইফেক্টস: অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ

    সেরা মৌলিক গান: গোল্ডেন (কেপপ ডেমন হান্টার্স)

    সেরা মৌলিক সংগীত: সিনার্স

    সেরা সাউন্ড: এফ১

    সেরা ডকুমেন্টারি ফিচার ফিল্ম: মিস্টার নোবডি এগেনস্ট পুতিন

    সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম: সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু

    সেরা সিনেমাটোগ্রাফি: সিনার্স।

     

  • অস্ট্রেলিয়াকে যেভাবে লজ্জা দিল বাংলাদেশ

    এমন দিন কি আর প্রতিদিন আসে! অস্ট্রেলিয়া কোনো রান তোলার আগেই বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে ৩ উইকেট। মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যেভাবে বিব্রত করেছে বাংলাদেশ,  সে সব দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে—
     

    ওয়ানডেতে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার শূন্য রানে তিন উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া।

    ওয়ানডেতে কোনো রান তোলার আগেই প্রথম তিন উইকেট হারানো মাত্র চতুর্থ দল অস্ট্রেলিয়া। আগের তিনটি দলের মধ্যে সর্বশেষ দলটি ছিল বাংলাদেশ; ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম তিন বলেই এমন দশা হয়েছিল খালেদ মাসুদের দলের, হ্যাটট্রিক করেছিলেন চামিন্ডা ভাস।

    ওয়ানডেতে তৃতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারই শূন্য রানে ফিরেছেন। প্রথমটি ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, পরেরটি ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

    এখন পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ
    এখন পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ
     

    ওয়ানডেতে উদ্বোধনী জুটিতে কোনো রান যোগ না করেই টানা চার ইনিংসে উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে এই ক্লাবে ছিল শুধু পাপুয়া নিউগিনি।

    আজও শূন্য রানে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ম্যাথু শর্ট। এ নিয়ে সর্বশেষ ৩ ওয়ানডেতেই শূন্য রানে ফিরেছেন তিনি।

  • অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারানোয় ক্রিকেটারদের ২ কোটি টাকা বোনাস দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

    প্রথম দুটি ম্যাচ জিতেই সিরিজটা নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। আগামীকাল তৃতীয় ওয়ানডেতে তারা মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাইয়ের হাতছানি নিয়ে। এর আগে বড় এক সুখবরই পেয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতায় ক্রিকেটারদের ২ কোটি টাকা বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ তাঁর প্রেস সচিব আশরাফুল আলম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

    ১৬ বছর পর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ডিএলএসে ৮৬ রানে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় তারা। ২০০৫ সালে কার্ডিফে সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর এবারই প্রথম ওয়ানডেতে অজিদের হারিয়েছে বাংলাদেশ।

    দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডিএলএসে তাদের ৫ উইকেটে হারায় অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচ জিতে সিরিজটাও নিশ্চিত করে নেয় বাংলাদেশ। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এখন শুধু ইংল্যান্ডকেই সিরিজ হারানো বাকি আছে বাংলাদেশের।

    আগামীকাল তৃতীয় ওয়ানডে খেলার পর দুই দল চট্টগ্রামে যাবে টি–টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে। ১৭, ১৯ ও ২১ জুন হবে তিনটি টি–টুয়েন্টি ম্যাচ।

  • অস্বস্তি থেকে উপভোগের মন্ত্র খুঁজে পেয়েছেন কিয়ারা

    মাতৃত্বকালীন বিরতির পর নতুন উদ্যমে কাজে ফিরছেন কিয়ারা আদভানি। শিগগিরই মুক্তি পাবে অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। এই ছবিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। কারণ, ‘কেজিএফ ২’-এর ব্লকবাস্টার সাফল্যের পর দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন যশ। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো যশ ও কিয়ারাকে একসঙ্গে দেখতে মুখিয়ে আছেন দর্শকেরা।
    ভারতীয় গণমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ঘোষণার পর থেকেই।

    অ্যাকশন, আবেগ আর গাঢ় নাটকীয়তার মিশেলে নির্মিত এই ছবির পরিচালক জাতীয় পুরস্কারজয়ী নির্মাতা গীতু মোহনদাস। এর আগে তাঁর নির্মাণশৈলী ও চরিত্রনির্ভর গল্প বলার ধরন প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ফলে যশের মতো বড় তারকা ও গীতুর মতো নির্মাতার সমন্বয় শুরু থেকেই কৌতূহল তৈরি করেছে।

    সম্প্রতি বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘টক্সিক’–এ কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কিয়ারা। তিনি জানান, এই ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অন্য রকম ছিল। বিশেষ করে পরিচালক গীতু মোহনদাসের কাজের ধরন তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। ‘গীতু আমাকে আগেই বলে দিয়েছিলেন, ‘তুমি যখন সেটে আসবে, আমি চাই তুমি পুরোপুরি তোমার চরিত্রের মধ্যে থাকো।’ বললেন কিয়ারা। এ তারকা জানালেন, তিনি সাধারণত সেটে গিয়ে সবার সঙ্গে ‘হাই’, ‘হ্যালো, ‘গুড মর্নিং’ বলেন। কিন্তু পরিচালক স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কোনো আনুষ্ঠানিকতা চাই না। সরাসরি চরিত্রের জোনে চলে যেতে। কারও সঙ্গে হাই-হ্যালো নয়, এমনকি নিজের টিমের সঙ্গেও নয়। শুরুতে বিষয়টি কিয়ারার কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। কারণ, তিনি বরাবরই প্রাণবন্ত পরিবেশে কাজ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, পরিচালক আসলে চরিত্রের আবেগ ও মানসিক অবস্থাকে বাস্তবভাবে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘ধীরে ধীরে আমি বিষয়টা উপভোগ করতে শুরু করি। এতে চরিত্রের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা সহজ হয়েছে।’

    ‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে
    ‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে

    শুধু মানসিক প্রস্তুতিই নয়, ভাষাগত দিক থেকেও ‘টক্সিক’ কিয়ারার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এই ছবির অনেক দৃশ্য তাঁকে কন্নড় ভাষায় অভিনয় করতে হয়েছে। কিয়ারা বলেন, ‘এটাই প্রথমবার, যখন আমরা একই দৃশ্য ইংরেজি ও কন্নড়—দুই ভাষায় শুট করেছি। প্রথমে ইংরেজিতে দৃশ্যটি করা হতো। নিখুঁত টেক পাওয়ার পর আবার কন্নড়ে একই দৃশ্য ধারণ করা হতো। কন্নড় তো আমার ভাষা নয়। ফলে প্রতিদিন শুটিংয়ের আগে আমাকে আগের রাতেই সংলাপ মুখস্থ করতে হতো। শুধু উচ্চারণ ঠিক করাই নয়, আবেগটাও একইভাবে ধরে রাখতে হতো। এটা সত্যিই কঠিন ছিল।’
    বলিউডে বহু অভিনেতা দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে কাজ করলেও ভাষাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে খুব কম তারকাই এত খোলামেলা কথা বলেন। কিয়ারার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, চরিত্রের জন্য তাঁর এই প্রস্তুতি ছবিটির প্রতি তাঁর আন্তরিকতারই প্রমাণ।

    টক্সিক ছবিটি নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ যশ। ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের পর তিনি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন। বিশেষ করে ‘কেজিএফ ২’ বিশ্বজুড়ে বিপুল ব্যবসা করার পর দর্শকেরা অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর নতুন ছবির ঘোষণার জন্য। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসে টক্সিক। শুরু থেকেই ছবিটিকে প্যান ইন্ডিয়া পরিসরে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ভারতজুড়ে ছবিটির বাজার ও প্রত্যাশা দুটোই বড়।

    ছবিটিতে যশ ও কিয়ারা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। বড় তারকাবহুল এই কাস্ট ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নয়নতারার যুক্ত হওয়াকে অনেকেই ছবির বড় চমক হিসেবে দেখছেন।

    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের ব্যানারে নির্মিত ‘টক্সিক’ প্রথমে ৪ জুন মুক্তির কথা ছিল। তবে পরে নির্মাতারা মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেন। এখনো নতুন মুক্তির দিন ঘোষণা করা হয়নি। যদিও দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির আপডেট, পোস্টার ও তারকাদের মন্তব্য ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ছে।

  • অস্বস্তি থেকে উপভোগের মন্ত্র খুঁজে পেয়েছেন কিয়ারা

    মাতৃত্বকালীন বিরতির পর নতুন উদ্যমে কাজে ফিরছেন কিয়ারা আদভানি। শিগগিরই মুক্তি পাবে অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। এই ছবিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। কারণ, ‘কেজিএফ ২’-এর ব্লকবাস্টার সাফল্যের পর দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন যশ। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো যশ ও কিয়ারাকে একসঙ্গে দেখতে মুখিয়ে আছেন দর্শকেরা।
    ভারতীয় গণমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ঘোষণার পর থেকেই।

    অ্যাকশন, আবেগ আর গাঢ় নাটকীয়তার মিশেলে নির্মিত এই ছবির পরিচালক জাতীয় পুরস্কারজয়ী নির্মাতা গীতু মোহনদাস। এর আগে তাঁর নির্মাণশৈলী ও চরিত্রনির্ভর গল্প বলার ধরন প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ফলে যশের মতো বড় তারকা ও গীতুর মতো নির্মাতার সমন্বয় শুরু থেকেই কৌতূহল তৈরি করেছে।

    সম্প্রতি বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘টক্সিক’–এ কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কিয়ারা। তিনি জানান, এই ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অন্য রকম ছিল। বিশেষ করে পরিচালক গীতু মোহনদাসের কাজের ধরন তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। ‘গীতু আমাকে আগেই বলে দিয়েছিলেন, ‘তুমি যখন সেটে আসবে, আমি চাই তুমি পুরোপুরি তোমার চরিত্রের মধ্যে থাকো।’ বললেন কিয়ারা। এ তারকা জানালেন, তিনি সাধারণত সেটে গিয়ে সবার সঙ্গে ‘হাই’, ‘হ্যালো, ‘গুড মর্নিং’ বলেন। কিন্তু পরিচালক স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কোনো আনুষ্ঠানিকতা চাই না। সরাসরি চরিত্রের জোনে চলে যেতে। কারও সঙ্গে হাই-হ্যালো নয়, এমনকি নিজের টিমের সঙ্গেও নয়। শুরুতে বিষয়টি কিয়ারার কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। কারণ, তিনি বরাবরই প্রাণবন্ত পরিবেশে কাজ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, পরিচালক আসলে চরিত্রের আবেগ ও মানসিক অবস্থাকে বাস্তবভাবে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘ধীরে ধীরে আমি বিষয়টা উপভোগ করতে শুরু করি। এতে চরিত্রের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা সহজ হয়েছে।’

    ‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে
    ‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে

    শুধু মানসিক প্রস্তুতিই নয়, ভাষাগত দিক থেকেও ‘টক্সিক’ কিয়ারার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এই ছবির অনেক দৃশ্য তাঁকে কন্নড় ভাষায় অভিনয় করতে হয়েছে। কিয়ারা বলেন, ‘এটাই প্রথমবার, যখন আমরা একই দৃশ্য ইংরেজি ও কন্নড়—দুই ভাষায় শুট করেছি। প্রথমে ইংরেজিতে দৃশ্যটি করা হতো। নিখুঁত টেক পাওয়ার পর আবার কন্নড়ে একই দৃশ্য ধারণ করা হতো। কন্নড় তো আমার ভাষা নয়। ফলে প্রতিদিন শুটিংয়ের আগে আমাকে আগের রাতেই সংলাপ মুখস্থ করতে হতো। শুধু উচ্চারণ ঠিক করাই নয়, আবেগটাও একইভাবে ধরে রাখতে হতো। এটা সত্যিই কঠিন ছিল।’
    বলিউডে বহু অভিনেতা দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে কাজ করলেও ভাষাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে খুব কম তারকাই এত খোলামেলা কথা বলেন। কিয়ারার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, চরিত্রের জন্য তাঁর এই প্রস্তুতি ছবিটির প্রতি তাঁর আন্তরিকতারই প্রমাণ।

    টক্সিক ছবিটি নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ যশ। ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের পর তিনি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন। বিশেষ করে ‘কেজিএফ ২’ বিশ্বজুড়ে বিপুল ব্যবসা করার পর দর্শকেরা অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর নতুন ছবির ঘোষণার জন্য। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসে টক্সিক। শুরু থেকেই ছবিটিকে প্যান ইন্ডিয়া পরিসরে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ভারতজুড়ে ছবিটির বাজার ও প্রত্যাশা দুটোই বড়।

    ছবিটিতে যশ ও কিয়ারা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। বড় তারকাবহুল এই কাস্ট ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নয়নতারার যুক্ত হওয়াকে অনেকেই ছবির বড় চমক হিসেবে দেখছেন।

    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের ব্যানারে নির্মিত ‘টক্সিক’ প্রথমে ৪ জুন মুক্তির কথা ছিল। তবে পরে নির্মাতারা মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেন। এখনো নতুন মুক্তির দিন ঘোষণা করা হয়নি। যদিও দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির আপডেট, পোস্টার ও তারকাদের মন্তব্য ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ছে।

  • অ্যালকোহলে আসক্তি নিয়ে কথা বলে বিপাকে জাহ্নবী

    মাদকাসক্তি নিয়ে নিজের মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিষয়টি পরিষ্কার করলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। তাঁর সঙ্গে যুক্ত অ্যালকোহল-আসক্তি সচেতনতা উদ্যোগ ‘অব দ্য রকস অ্যান্ড আমাহা’ এক বিবৃতিতে জানায়, গণমাধ্যমের একটি অংশ তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

    ‘ভুল ব্যাখ্যা উদ্বেগজনক’
    গতকাল রাতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এই উদ্যোগের সঙ্গে জাহ্নবীর সম্পৃক্ততা ও তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’। বিবৃতিটি জাহ্নবী নিজেও তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন।
    বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘জাহ্নবী কাপুর এই আলোচনায় যুক্ত একজন সহমর্মী ও সহযোগী হিসেবে; তিনি নিজে কখনো আসক্তি বা অ্যালকোহল–নির্ভরতার অভিজ্ঞতার মধ্যে ছিলেন না।’ এ ধরনের ভুল ব্যাখ্যা তাঁর ভূমিকাকে খাটো করে এবং আসক্তির সঙ্গে লড়াই করা মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে অসম্মান করে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ক্লিকবেটের বিরুদ্ধে সতর্কতা
    বিবৃতিতে গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তিদের প্রতি দায়িত্বশীলভাবে খবর প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়, আসক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো শুধু ক্ষতিকরই নয়, এটি সংশ্লিষ্ট মানুষদের প্রতি অসম্মানজনকও।

    কী বলেছিলেন জাহ্নবী
    এই বিতর্কের সূত্রপাত রাজ সামানির পডকাস্টে দেওয়া জাহ্নবীর এক মন্তব্য থেকে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, জীবনের এক কঠিন অভিজ্ঞতার পর তিনি কিছু সময় নিয়মিত মদ্যপান করতেন।

    জাহ্নবী কাপুর
    জাহ্নবী কাপুর, জাহ্নবী কাপুরের ইনস্টাগ্রাম থেকে

    তবে জাহ্নবী পরিষ্কার করেন, ‘আমি বলব না যে আমি আসক্ত ছিলাম বা অ্যালকোহলের অপব্যবহার করতাম, কিন্তু তখন আমি প্রায়ই মদ্যপান করতাম।’
    বিষয়টি বুঝে উঠতে সময় লেগেছিল অভিনেত্রীর। ক্রমে বুঝতে পারছিলেন, মদ্যপান তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। সকালবেলায়ও অস্বস্তি হতো তাঁর।

    জাহ্নবীর কথায়, ‘আমার স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছিল, সেটা আমার ভালো লাগছিল না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে অনুভূতি হতো, তা মোটেই সুখকর ছিল না। নিজের শরীর থেকেই এক অদ্ভুত গন্ধ বেরোত। এই গন্ধ আমার খুব পরিচিত ছিল। আমারই এক চেনা ব্যক্তি, যিনি নেশাগ্রস্ত থাকতেন, তাঁর শরীর থেকে এমন গন্ধ বেরোত।’ এভাবেই ক্রমে বুঝলেন, মদ্যপান মোটেই ঠিক নয় স্বাস্থ্যের জন্য। ক্রমে সেই অভ্যাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী।

    সামনে কী কাজ
    কাজের দিক থেকে জাহ্নবী কাপুরকে পরবর্তী সময়ে দেখা যাবে ‘পেড্ডি’ ছবিতে, যেখানে তাঁর সহ-অভিনেতা রামচরণ। ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ৬ জুন।

  • আইপিএল এবার ৩৬ বলে সেঞ্চুরি সূর্যবংশীর, টি–টুয়েন্টির নতুন বিশ্ব রেকর্ড

    বৈভব সূর্যবংশী ব্যাট করতে নামবেন আর চার-ছক্কার বৃষ্টি ঝরিয়ে রেকর্ড বইয়ে ওলট-পালট করবেন—এমন দৃশ্য এখন নতুন কিছু নয়। তবে আজ হায়দরাবাদের বিপক্ষে রাজস্থানের ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান যা করেছেন, তা রেকর্ড ছাড়িয়েও যেন বেশি কিছু।

    সূর্যবংশী আজ ৩৭ বলে করেছেন ১০৩ রান। টি-টুয়েন্টিতে এটি তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি। ছেলেদের টি-টুয়েন্টিতে সবচেয়ে কম ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরির নতুন বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে তাতে। আর রেকর্ডগড়া ইনিংসটিই সূর্যবংশী খেলেছেন অনেকটা ‘প্রতিশোধের’ আবহে।

    এবারের আইপিএলে গত ১৩ এপ্রিল প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান-হায়দরাবাদ। সে দিন প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন সূর্যবংশী। সেই দলের বিপক্ষে জয়পুরে আজ ১০৩—প্রতিশোধের কথা বলা হচ্ছে এ কারণেই। তবে এটুকুতেই আটকে থাকেননি বিহারের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

    সেঞ্চুরির পথে ১২ ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী
    সেঞ্চুরির পথে ১২ ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী, এএফপি
     

    সূর্যবংশী সে দিন শূন্য রানে ক্যাচ তুলে আউট হয়েছিলেন প্রফুল হিঞ্জের বলে। আজ সেই একই বোলারকে প্রথম ওভারে সামনে পেয়ে টানা চারটি ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী। শুরুতেই অমন ঝড় তোলা এই বাঁহাতি পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ১৫তম বলে। পরের পঞ্চাশে পৌঁছাতে অবশ্য একটু বেশি বলই লেগেছে। তবে ৩৬তম বলে সেই তিন অঙ্কও ছুঁয়েছেন দাপটের সঙ্গে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে। আইপিএলে এটি তাঁর দ্বিতীয় আর সব মিলিয়ে চতুর্থ টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরি।

    পরিসংখ্যান বলছে, সূর্যবংশী চারটি সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন মাত্র ২৬ ইনিংসে। টি-টুয়েন্টিতে এর আগে সর্বনিম্ন ৩৩ ম্যাচে চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের উসমান খান। তার চেয়ে ৭ ইনিংস কম খেলেই রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন সূর্যবংশী।

    ৫ ছক্কা ১২ ছক্কায় করা তাঁর ১০৩ রানের ইনিংসটি থেমেছে সেঞ্চুরির পরের বলেই, সাকিব হুসাইনের বলে এলবিডব্লু হয়ে। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা সূর্যবংশীর দল ২০ ওভারে করে ৬ উইকেটে ২২৮ রান।

  • আইপিএল কাঁপিয়ে কান্নায় বিদায় সূর্যবংশীর

    ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর কাঁদছে। এই বয়সী কারও কান্নার নানা কারণ থাকতে পারে। কেউ পরীক্ষায় অঙ্কে কম নম্বর পেয়ে কাঁদতে পারে, কেউ কাঁদতে পারে প্রথমবারের মতো কাউকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে কিংবা কেউ বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া করেও কাঁদতে পারে। গতকাল রাতেও এক কিশোর কেঁদেছে। যদিও বাকিদের কান্নার চেয়ে এই কিশোরের কান্নার পার্থক্যটা বিশাল। তাঁর কান্না গতকাল রাতে ছুঁয়ে গেছে লাখো ক্রিকেটপ্রেমীর মন।

    সেই কান্নার দৃশ্য টেলিভিশন পর্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানোর পরপর ভাইরাল হয়েছে। অনেককে আফসোসও করতে দেখা গেছে। ব্যাট হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করা ছেলেটির হাতে এবারের আইপিএল ট্রফিটা উঠতে পারত। শিরোপা জিততে না পারার আফসোস থাকবে, কিন্তু এই কান্নার দৃশ্য জন্ম দেওয়ার আগে বৈভব সূর্যবংশী নামের এই কিশোর যা করেছেন, তা অবিশ্বাস্য।

    ব্যাট হাতে তাঁকে তাণ্ডব করতে দেখে বারবার প্রশ্ন জেগেছে, এটা কি সত্যিকারের খেলা নাকি কোনো ভিডিও গেম।  ক্রিকেটে ব্যাটিং কি তবে এতই যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও এমন বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন!

    ব্যাটিং মোটেই সহজ কোনো কাজ নয়। কিন্তু সূর্যবংশীর মতো অমিত প্রতিভাধর কেউ এসে হুটহাট ব্যাট করাকে এমন ডাল-ভাত বানিয়ে ফেলেন। গতকাল রাতেও বেঞ্চে বসে কান্নার আগে রাজস্থান রয়্যালসের সূর্যবংশী করেছেন ৪৭ বলে ৯৭ রান। এমন ইনিংস খেলে যেকোনো ব্যাটসম্যান যেভাবে খুশিতে উৎফুল্ল হবেন।

    তবে সূর্যবংশীর ক্ষেত্রে মনে হবে, বল বোধ হয় একটু বেশিই খেলেছেন! অবশ্য আর কিবা করার ছিল। একে তো মন্থর উইকেট, তারওপর সঙ্গীরা যখন ক্রিজে আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন, তখন স্বভাববিরুদ্ধভাবে একটু ‘দেখেশুনে’ খেলতে হয়েছে তাঁকে। ম্যাচ হারার পাশাপাশি অবশ্য সেঞ্চুরির আক্ষেপও থাকবে তাঁর। শেষ চার ইনিংসের তিনটিতেই যে ‘নার্ভাস নাইন্টিজে’ ফিরেছেন তিনি।

    সূর্যবংশীর দল রাজস্থান রয়্যালস শেষ পর্যন্ত ফাইনালে যেতে পারেনি। গুজরাট টাইটানসের কাছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরেছে ৭ উইকেটে। সূর্যবংশীও কাছাকাছি গিয়েও সেঞ্চুরি পাননি। কিন্তু তাঁকে দেখতে আসার দর্শকদের মনোরঞ্জন তিনি ঠিকই করেছেন। নিউ চণ্ডীগড়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত মহারাজা যাদবীন্দ্র সিং স্টেডিয়ামে তখন আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার শুরুর আরও প্রায় তিন ঘণ্টা বাকি।

    নিরাপত্তাকর্মীর পাশ কাটিয়ে গ্যালারিতে ঢোকার সময় গর্বভরে সূর্যবংশীর গোলাপি রঙের ০৩ নম্বর জার্সি দেখিয়ে এক কিশোর বলে উঠল, ‘আমরা এসেছি বৈভবকে দেখতে।’ আসলে স্টেডিয়ামে উপস্থিত অসংখ্য দর্শকের মনের কথাই যেন বলছিল সে।

    গতকালের আগে এই বিস্ময়বালক গ্রুপ পর্বে এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি অসাধারণ ইনিংস খেলে আলোচনায় এসেছিলেন। প্লে-অফে এসে সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এক ধাপ ওপরে নিয়ে গেছেন। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে খেলেছেন আরও দুটি দুর্দান্ত ইনিংস। বুধবার তিনি একাই প্যাট কামিন্সদের সব পরিকল্পনা তছনছ করে দিয়েছিলেন। এমন সহজতায় ব্যাট চালিয়েছিলেন, যেন টেলিভিশনে নিজের প্রিয় কার্টুনের চ্যানেল বদলাচ্ছেন।

    তবে শুক্রবারের ইনিংসটি ছিল ভিন্ন মাত্রার। সেটি শুধু আরেকটি ঝোড়ো ইনিংসই নয়, বৈভবের প্রতিভার নতুন একটি দিকও সামনে নিয়ে এসেছে। এলিমিনেটর ম্যাচে ব্যবহৃত ৪ নম্বর পিচেই শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হয়। বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় উইকেটটি ছিল মন্থর এবং অসম বাউন্সের, বিশেষ করে ইনিংসের শুরুর দিকে। গুজরাট টাইটানসের লম্বা গড়নের পেসাররা সেটির পুরো সুবিধা নেন। তারা ধারাবাহিকভাবে বল ছোট লেংথে ফেলে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখেন।

    অন্য প্রান্ত থেকে সূর্যবংশী দেখেছেন, মাত্র দুই ওভারের মধ্যে ফিরে গেছেন যশ্বসী জয়সওয়াল ও ধ্রুব জুরেল। এরপর চোটের কারণে রবীন্দ্র জাদেজার অনুপস্থিতিতে দুর্বল হয়ে পড়া মিডল-অর্ডারের দায়িত্বও অনেকটা কাঁধে তুলে নিতে হয় তাঁকে।

    এর মধ্যেই হেলমেটে বলের আঘাতও সহ্য করতে হয়েছে। স্বভাবতই আক্রমণাত্মক ও নির্ভার ক্রিকেট খেলেন বৈভব। কিন্তু চারপাশে এত প্রতিকূলতা তৈরি হওয়ায় সেদিন নিজের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন, ধৈর্য দেখিয়েছেন এবং সমাধান খুঁজেছেন প্রতিটি চ্যালেঞ্জের।

    ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন সূর্যবংশী
    ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন সূর্যবংশী, এএফপি

    প্রথম ছক্কা মারতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৪ বল পর্যন্ত। আইপিএলে এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে ধীরগতির ফিফটি, যদিও সেটিও এসেছে মাত্র ৩১ বলে। প্রায় ১৮ ওভার ক্রিজে ছিলেন তিনি, টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে যা তাঁর দীর্ঘতম ইনিংস। ম্যাচ শেষে রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা বলেন, ‘আজ ও অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। চারপাশে উইকেট পড়ছিল, ফলে এটি অনেক কঠিন একটি ইনিংস ছিল। কিন্তু ও স্নায়ুর দৃঢ়তা ধরে রেখেছে। আমাদের লড়াই করার মতো স্কোর এনে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ওর।’

    সাঙ্গাকারা আরও বলেন, ‘মাত্র ১৫ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটারের জন্য ও অবিশ্বাস্য রকম পরিণত। খেলার পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে, ম্যাচও দারুণ পড়ে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ওর মধ্যে কোনো ভয় নেই।’

    বৈভব সূর্যবংশী কতটা পরিণত ক্রিকেট খেলেন, তা বোঝা যায় তাঁর ব্যাটিংয়ে। তিনি এমনকি টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিলের ফিল্ড সাজানোর পরিকল্পনাও ভেস্তে দিতে পারেন, বদলে দিতে পারেন মোহাম্মদ সিরাজের বোলিং পরিকল্পনা।

    রাজস্থানের বিদায়ে হতাশ সূর্যবংশী
    রাজস্থানের বিদায়ে হতাশ সূর্যবংশী, রয়টার্স
     

    ইনিংসের তৃতীয় ওভারে গিল শর্ট ফাইন লেগ থেকে একজন ফিল্ডারকে কভার-পয়েন্টে সরিয়ে এনে অফ সাইডের ভেতরের বৃত্ত আরও শক্ত করেছিলেন। তখন লেগ সাইডের সীমানায় একমাত্র ফিল্ডার ছিলেন ডিপ স্কয়ার লেগে, যেখানে এর আগে আউট হয়েছিলেন জয়সওয়াল। সূর্যবংশী সেই ফাঁকটাই কাজে লাগান। ব্যাক অব আ লেংথ ডেলিভারিকে দুর্দান্ত এক সুইপ করে ফাইন লেগ অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন, যে শট ওই দৈর্ঘ্যের বলে খুব কম ব্যাটসম্যানই খেলতে পারেন।

    পরের বলেও একই কৌশল। প্রায় দাঁড়িয়ে থেকেই তিনি বলটিকে একই ফাঁক গলে গুজরাট টাইটানসের ডাগআউটের দিকে পাঠান। শটটি দেখে গুজরাটের কোচ আশিস নেহরাও নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। আর গ্যালারিতে থাকা ২৫ হাজারের বেশি দর্শকও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

    এরপরও দর্শকদের রোমাঞ্চে ভাসিয়ে যেতে থাকেন বৈভব। পরের ওভারে কাগিসো রাবাদা নিজের পরিচিত হার্ড লেংথ থেকে সরে আসতেই ১৫২ কিলোমিটার গতির বল মিড-অফের ওপর দিয়ে চার মেরে দেন তিনি। প্রেস বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোর তখন বৈভবের ০৩ নম্বর জার্সি উঁচিয়ে ধরে জোরে জোরে নাড়াচ্ছিল। তার সঙ্গে থাকা বড়রাও উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দিচ্ছিলেন প্রাণভরে। শেষ পর্যন্ত তাঁর আনন্দময় ইনিংসটা থেমেছে ৯৭ রানে।

    দর্শকদের এমন আনন্দ অবশ্য পুরো আইপিএল মৌসুমজুড়ে দিয়েছেন সূর্যবংশী। একের পর এক চার-ছক্কায় এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান তাঁর। ১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেট ও ৪৮.৫০ গড়ে এই রান করেছেন তিনি। ৭২২ রান করে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গিল ফাইনাল নিশ্চিত করায় তাঁর সামনে সুযোগ আছে সূর্যবংশীকে টপকে যাওয়ার। যদিও এখনো ৫৫ রানে পিছিয়ে আছেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। সেই কোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’টা সূর্যবংশীর কাছেই থেকে যাবে।

    এবারের আসরে গেইলের ছক্কার রেকর্ডসহ অসংখ্য রেকর্ড ভেঙেছেন সূর্যবংশী। গতকাল রাতের ৭ ছক্কাসহ তাঁর মোট ৭২টি। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে এটিই কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০১২ আইপিএলে ৫৯টি ছক্কা মেরে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ক্রিস গেইল।

    সূর্যবংশীর এসব রেকর্ড কে ভাঙবেন?

    হয়তো বৈভব সূর্যবংশী নিজেই! বয়সটা মনে আছে তো?

  • আইপিএলে আবারও চ্যাম্পিয়ন কোহলির বেঙ্গালুরু

    আইপিএলের প্রথম ১৭ মৌসুমে একবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দুই মৌসুম পর সেই দলটির নামের আগে দুবারের চ্যাম্পিয়ন লিখতে হচ্ছে। গতবারের মতো এবারও যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টুয়েন্টি লিগ আইপিএল জিতেছে বেঙ্গালুরু।

    আহমেদাবাদে আজ স্বাগতিক গুজরাট টাইটানসকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বেঙ্গালুরু। টসে হেরে ফিল্ডিং নিয়ে গুজরাটকে ১৫৫ রানে আটকে রাখেন কোহলিরা। রানটা ৫ উইকেট ও ১২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে শিরোপা ধরে রাখে বেঙ্গালুরু।

    গতবারের মতো এবারও ব্যাট হাতে বেঙ্গালুরুর হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেছেন বিরাট কোহলি। ব্যাটিং উদ্বোধন করা ভারতীয় তারকা ৪২ বলে ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। ভেঙ্কটেশ আইয়ারের সঙ্গে তাঁর ২৭ বলের ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটিই জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

    ফিফটির পর বিরাট কোহলি
    ফিফটির পর বিরাট কোহলি, এএফপি
     

    আইয়ার ১৬ বলে ৩২ রান করে ফিরে যাওয়ার পর দেবদূত পাড়িক্কাল (১), অধিনায়ক রজত পাতিদার (১৫) ও ক্রুনাল পান্ডিয়া (১) অল্পতে ফিরে গেলেও কোহলি কারণেই ম্যাচের লাগাম ধরে রাখে বেঙ্গালুরু।

    ৩ উইকেট নিয়েছেন বেঙ্গালুরু পেসার রাসিখ সালাম (মাঝে)
    ৩ উইকেট নিয়েছেন বেঙ্গালুরু পেসার রাসিখ সালাম (মাঝে), এএফপি
     

    বেঙ্গালুরু ১০ম ওভারে ৯১ রানে চতুর্থ উইকেট খোয়ানোর পর টিম ডেভিডকে নিয়ে ৪১ রান যোগ করেন কোহলি। ডেভিড করেছেন ১৭ বলে ২৪। এরপর জিতেশ শর্মাকে নিয়ে বাকি কাজটা সম্পন্ন করেন ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা মারা কোহলি।

    এর আগে গুজরাটের ৮ উইকেটে ১৫৫ রানের ইনিংসে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫০ রান (৩৭ বল) করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। বেঙ্গালুুরুর ভারতীয় পেসার রাসিখ সালাম ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

  • আইপিএলে ছক্কার রাজা গেইল, কোহলি তাহলে কী

    ‘দ্য চেজ মাস্টার।’

    বিরাট কোহলি কালও আইপিএলে নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর লক্ষ্য ছিল ২০৬। রান তাড়ায় কোহলি খেলেছেন ৪৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস, হয়েছেন ম্যাচসেরা। এমন ইনিংস খেলার পথে নতুন এক মাইলফলকও ছুঁয়েছেন কোহলি।

    ৮১ রানের ইনিংসে কোহলি ছক্কা মেরেছেন ৪টি। তাতে আইপিএলে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩০০ ছক্কার ক্লাবে ঢুকেছেন বেঙ্গালুরুর সাবেক এই অধিনায়ক। ২৬৬ ইনিংসে কোহলির ছক্কা ৩০৩টি। আগে থেকেই এই ক্লাবের সদস্য ক্রিস গেইল ও রোহিত শর্মা।

    গেইলের নামটাই সবার ওপরে। আইপিএলে মাত্র ১৪১ ইনিংসে ৩৫৭টি ছক্কা মেরেছেন গেইল। ৩১০ ছক্কা নিয়ে দ্বিতীয় রোহিত শর্মা, খেলেছেন ২৭১ ইনিংস। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, আইপিএলে ছক্কার রাজা গেইলই। রোহিত-কোহলিরা গেইলের ৩৫৭ ছক্কা ছাড়াতে পারবেন কি না, সেটাও দেখার বিষয়।

    সে ক্ষেত্রে এখনো তাঁদের কয়েক মৌসুম খেলতে হবে। ৩৫৭ ছক্কার মাইলফলক তাঁরা ছাড়িয়ে গেলেও ছক্কাবাজ হিসেবে গেইলের নামটা ওপরের দিকেই থাকবে। কোহলির প্রশংসাও আলাদা করে করতে হয়। ইনিংস ধরে খেলতে অভ্যস্ত কোহলি প্রয়োজনে যে ছক্কাও মারতে পারেন—এই ক্লাবে নাম লেখানোই তো তার প্রমাণ।

    কাল ফিফটির পর কোহলি
    কাল ফিফটির পর কোহলি, বিসিসিআই

    এবারের টুর্নামেন্টে অবশ্য কোহলি ছক্কার তালিকায় খুব একটা ওপরের দিকে নেই। আইপিএলে এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছক্কা অভিষেক শর্মার, ২৭টি। কোহলির ছক্কা ১২টি। অবশ্য সর্বোচ্চ রানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ওপেনার অভিষেককে ছাড়িয়ে গেছেন কোহলি।

    ৩২৩ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন অভিষেক। কাল ৮১ রানের ইনিংসের পর কোহলির রান দাঁড়াল ৩২৮। ৩২০ রান নিয়ে তালিকায় তৃতীয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হাইনরিখ ক্লাসেন। ৩ জনই খেলেছেন ৭টি করে ম্যাচ।

    স্ট্রাইক রেটে অবশ্য কোহলি ও ক্লাসেনের চেয়ে অনেক এগিয়ে অভিষেক। কোহলির স্ট্রাইক রেট ১৬৩.১৮, ক্লাসেনের ১৫৩.১১। অন্যদিকে অভিষেকের স্ট্রাইক রেট ২১৫.৩৩।

  • আইপিএলে ‘অফিশিয়াল গার্লফ্রেন্ড’, নড়েচড়ে বসেছে বিসিসিআই

    ভারতীয় ক্রিকেটে দলের সঙ্গে খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও প্রেমিকাদের সফর নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। যার জেরে বিরাট কোহলিদের বিদেশ সফরে পরিবারের সদস্যদের জন্য দিন সংখ্যা নির্দিষ্টও করে দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের আইপিএলে সামনে এল নতুন একটি বিষয় ‘অফিশিয়াল গার্লফ্রেন্ড’।

    বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্রিকেটারকে তাঁদের প্রেমিকাদের নিয়ে দলীয় বাসে যাতায়াত ও টিম হোটেলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। দলের বাইরের কারও সঙ্গে খেলোয়াড়দের যোগাযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন ইউনিটের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, অফিশিয়াল গার্লফ্রেন্ড বলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ভারতের দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়, হার্দিক পান্ডিয়া, অর্শদীপ সিং, যশস্বী জয়সোয়াল ও ঈশান কিশানদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রেমিকাদের প্রায়ই দেখা যায়। কেউ কেউ খেলোয়াড়দের টিম বাসে হোটেলেও যান।

    এসব বিষয়ে বিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। পরবর্তী বোর্ড সভায় এটি তোলা হবে। খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের হোটেলে থাকার বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে প্রেমিকাদের ব্যাপারে আমাদের আরও একটু সিরিয়াস হতে হবে।’

    হার্দিক পান্ডিয়া ও অর্শদীপ সিংদের নিয়মিতই খেলার মাঠে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা যায়
    হার্দিক পান্ডিয়া ও অর্শদীপ সিংদের নিয়মিতই খেলার মাঠে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা যায়, এক্স
     

    ভারতের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিবারের থাকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে বিসিসিআই একটি নীতিমালা তৈরি করে। যাতে বলা হয়, বিদেশ সফর ৪৫ দিনের বেশি হলে পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সঙ্গে থাকতে পারবেন। তবে আইপিএলে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। এ বিষয়ে আইপিএলে নতুন নিয়মের আভাস দেন তিনি, ‘আগে আইপিএলে খেলোয়াড়দের হোটেলে প্রেমিকাদের থাকার অনুমতি ছিল না, কিন্তু এখন এটি একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

    শুধু পরিচিত তারকারাই নন, অনেক কম পরিচিত খেলোয়াড়ও প্রেমিকাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন। কেউ সরাসরি টিম হোটেলে থাকছেন, আবার কেউ ম্যাচের শহরে অবস্থান করে সুযোগমতো দেখা করছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, যাঁদের কেউ কেউ আগে বেটিং ওয়েবসাইটের প্রচারণায় সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    এ বিষয়ে আইপিএলের অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের (এসিইউ) একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে নতুন এক বিতর্কিত ধারণা উঠে আসে। বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘আমি এসিইউর একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে তাঁদের স্ত্রী এবং “অফিশিয়ালি অ্যানাউন্সড গার্লফ্রেন্ডদের” একসঙ্গে থাকার অনুমতি দিতে বলা হয়েছে।’

    বিসিসিআই কর্মকর্তা এতে বিস্ময় প্রকাশ করে এসিইউ কর্মকর্তার কাছে জানতে চান যে এই ‘অফিশিয়ালি অ্যানাউন্সড গার্লফ্রেন্ড’ নিয়মটি কোথা থেকে এল। এসিইউ কর্মকর্তা উত্তর দেন, ‘স্যার, আমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই কাজ করছি।’

    আন্তর্জাতিক সফরে দল ব্যবস্থাপনা করে বিসিসিআই, কিন্তু আইপিএলে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের মতো করে চলে। যে কারণে নিয়ন্ত্রণ কম। কিছু ক্ষেত্রে এমন অভিযোগও উঠেছে যে টিম বাস খেলোয়াড়দের প্রেমিকাদের জন্য অপেক্ষা করে।

    সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, এমন শঙ্কায় প্রেমিকাদের বিষয়ে জাতীয় দল ও আইপিএল মিলিয়ে অভিন্ন নীতিমালা তৈরি হতে পারে ইঙ্গিত দেন বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা।

  • আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর

    চুরি বা হারিয়ে যাওয়া আইফোনের তথ্য সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নিরাপত্তা–সুবিধা দিয়ে আসছে অ্যাপল। তবে আইফোন আনলক অবস্থায় চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েই যায়। এ সমস্যা সমাধানে নতুন একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে অ্যাপল। ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কেউ গোপনে ব্যবহার করলে বা আইফোনের অবস্থান হঠাৎ পরিবর্তন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইফোন লক করে দেবে প্রযুক্তিটি।

    প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট নাইন টু ফাইভ ম্যাকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি বা ছিনতাই হওয়া আইফোনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নতুন একটি প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল। বর্তমানে আইফোনে ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রোটেকশন’সহ বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা–সুবিধা রয়েছে। নতুন প্রযুক্তিটি বিভিন্ন সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আইফোন স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, নাকি চুরি বা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে। বিশেষ করে অ্যাকসেলেরোমিটার সেন্সরের মাধ্যমে আইফোনের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত করে সম্ভাব্য চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা চিহ্নিত করে লক করে দেবে প্রযুক্তিটি। ফলে চোর বা ছিনতাইকারী আইফোনটি ব্যবহার, রিসেট বা এর ভেতরে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্য দেখার সুযোগ পাবে না।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের মধ্যকার দূরত্ব হঠাৎ বেড়ে গেলে সেটিকে সন্দেহজনক পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি কমাতে একাধিক তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করবে প্রযুক্তিটি। আইফোন যদি হঠাৎ পরিচিত ও বিশ্বস্ত কোনো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতা ছেড়ে অপরিচিত নেটওয়ার্কে চলে যায়, সেটিও সম্ভাব্য চুরির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও ডিভাইসটির সুরক্ষাব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হতে পারে।

    নতুন এ সুবিধা কবে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি অ্যাপল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনে থাকা থেফট প্রটেকশন নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবেই প্রযুক্তিটি যুক্ত করা হবে।

    সূত্র: নিউজ ১৮

  • আইসিসি র‍্যাঙ্কিং অলরাউন্ডারদের ‘সিংহাসন’ ফিরে পেলেন রাজা

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জিম্বাবুয়েকে সুপার এইটে তোলার পুরস্কার পেলেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। আইসিসির সাপ্তাহিক হালনাগাদ র‌্যাঙ্কিং তালিকায় টি-টুয়েন্টিতে অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন রাজা।

    গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন রাজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবকে দুইয়ে ঠেলে শীর্ষস্থানে উঠে এলেন রাজা। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ২৯৪। সাইম আইয়ুবের রেটিং পয়েন্ট ২৮১। এই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার অলরাউন্ডারদের শীর্ষস্থান হাতবদল হয়েছে। দুই ধাপ এগিয়ে ভারতের শিবম দুবে উঠে এসেছেন সাতে। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী তিন ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন আটে।

    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা
    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা, এএফপি
     

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বড় ইনিংসের দেখা পাননি ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হন। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ রানে আউট হন। অভিষেক বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গেলেও এ সংস্করণে ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন। ৮১৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের সঙ্গে তাঁর ৬১ পয়েন্টের ব্যবধান।

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এ পথ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন তৃতীয় অবস্থানে। তিন ধাপ এগিয়ে ভারতের ঈশান কিষান উঠে এসেছেন পাঁচে, ১০ ধাপ উন্নতি করে নয়ে উঠে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভাল্দ ব্রেভিস। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার এইটে সেঞ্চুরি করে জেতানো ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ১০ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন ১৮তম অবস্থানে।

    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনে উঠে এসেছেন সাহিবজাদা ফারহান
    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনে উঠে এসেছেন সাহিবজাদা ফারহান, এএফপি
     

    টি-টুয়েন্টি বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের স্পিনার বরুন চক্রবর্তী। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়া পেসার করবিন বশ ২১ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন তৃতীয় স্থানে। সাতে উঠে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার ম্যাথু ফোর্ড উন্নতি করেছেন ২৩ ধাপ। ৭ ধাপ উন্নতি করে আটে ভারতের পেসার যশপ্রীত বুমরা। যৌথভাবে ২১তম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার গুড়াকেশ মোতি উন্নতি করেছেন ১৭ ধাপ।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব