• চার বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ

    দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমান উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ মূল পদে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

    পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য মো. শহিদুল ইসলামকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ মূল কর্মস্থলে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

    রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার। একইসঙ্গে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এস এম হাসান তালুকদারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ মূল পদে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ হানিফ। তিনি নবপ্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চার উপাচার্যের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

     

  • চার ম্যাচ হাতে রেখেই আবারও চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন

    বুন্দেসলিগা বড্ড একঘেয়ে!

    বারবার যে বায়ার্ন মিউনিখই চ্যাম্পিয়ন হয়। এবারও যেমন হলো। আজ ঘরের মাঠে ভিএফবি স্টুটগার্টকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ৩৫তম বারের মতো লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাভারিয়ান পরাশক্তিরা। সর্বশেষ ১৪ মৌসুমেই ১৩ বার বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নের নাম বায়ার্ন। ব্যতিক্রম শুধু ২০২৩-২৪ মৌসুমটা, সবাইকে চমকে দিয়ে সেই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জাবি আলোনসোর বায়ার লেভারকুসেন।

    সমতা ফেরানো গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে রাফায়েল গেরেইরোর (বাঁয়ে) গোল উদ্‌যাপন
    সমতা ফেরানো গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে রাফায়েল গেরেইরোর (বাঁয়ে) গোল উদ্‌যাপন, এএফপি
     

    বায়ার্ন এবারের লিগটা জিতল চার ম্যাচ হাতে রেখেই। শনিবার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী বরুসিয়া ডর্টমুন্ড হেরে যায়। তাতে বায়ার্ন ও বুন্দেসলিগা শিরোপার দূরত্ব হয়ে যায় মাত্র ১ পয়েন্টের। আজ প্রথম সুযোগেই সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলে চ্যাম্পিয়ন ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। ৩০ ম্যাচে বায়ার্নের পয়েন্ট ৭৯, সমান ম্যাচে দুইয়ে থাকা ডর্টমুন্ডের পয়েন্ট ৬৪।

    আজ শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না বায়ার্নের। পয়েন্ট তালিকার চারে থাকা স্টুটগার্ট ২১ মিনিটেই এগিয়ে যায় ক্রিস ফুয়েরিখের গোলে। গোলটা করে অবশ্য ভুলই করেছে স্টুটগার্ট। এরপর যে তাদের ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলেছে বায়ার্ন। এক মৌসুমে বুন্দেসলিগায় সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়া দলটি ৩১ থেকে ৩৭ মিনিটের মধ্যেই ৩ গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে। রাফায়েল গেরেইরো, নিকোলাস জ্যাকসন ও আলফোন্সো ডেভিস করেন গোল তিনটি।

    আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার লাল সমুদ্র
    আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার লাল সমুদ্র, এএফপি
     

    ৫২ মিনিটে হ্যারি কেইনের গোলে জয় পুরোপুরিই নিশ্চিত করে ফেলে বায়ার্ন। এরপর ৮৮ মিনিটে চেমা আন্দ্রেসের গোলে ব্যবধান কমায় স্টুটগার্ট।

  • চীন ও ভারত থেকে এলো আরও ৫৩ হাজার টন ডিজেল

    দেশের জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চীন ও ভারত থেকে আরও ৫৩ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে। 

    শনিবার (২ মে) জাহাজগুলোর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘লিলা কিংস্টন’ চীন থেকে ১৯ হাজার টন ডিজেল নিয়ে শুক্রবার বিকেলে বন্দরে এসে পৌঁছায়। অন্যদিকে, শনিবার ভোরে ভারত থেকে ৩৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘প্রাইভেট সোলানা’ কুতুবদিয়া এঙ্করেজে নোঙর করেছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১২ হাজার ৫০০ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। সেই হিসেবে নতুন আসা এই জ্বালানি দিয়ে প্রায় চার দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

    প্রাইড শিপিং লাইনের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। এর মধ্যে ডলফিন জেটিতে দুটি জাহাজ অবস্থান করছে এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ আছে আরও চারটি। একটি জাহাজ থেকে ইতিমধ্যে ছোট জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাস বা লাইটারিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত আমদানির অংশ হিসেবে এই চালানগুলো আসছে। গত এপ্রিল মাসে ২০টি জাহাজে করে মোট ৬ লাখ টনের বেশি জ্বালানি আমদানি করা হয়েছিল। মে মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে বিপিসি, যার মধ্যে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলও রয়েছে। 

     

  • চীনের সঙ্গে দারুণ লড়ে হারল বাংলাদেশ

    সিডনি থেকে

  • চুম্বনের দৃশ্য করতে রাজি হননি, দূরে থাকার কারণ জানালেন নায়িকা

    বলিউডের ঝলমলে পর্দার আড়ালে যে বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে, সেটাই খোলাখুলি তুলে ধরলেন অভিনেত্রী নওহিদ সাইরুসি। দীর্ঘদিন বড় পর্দায় অনুপস্থিত থাকার পর অবশেষে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন তিনি।

    অনুপস্থিতির আড়ালের গল্প
    ‘আনওয়ার’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীকে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পর্দায় খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। ভক্তদের কাছ থেকে বারবার একই প্রশ্ন—নতুন কোনো সিনেমা বা শো কবে আসছে? সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই নিজের অভিজ্ঞতার কথা খুলে বললেন তিনি।

    ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে নওহিদ সাইরুসি জানান, অভিনয়জীবনের নানা অঘোষিত শর্তই তাঁকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি থেকে।

    ‘অপ্রয়োজনীয়’ অন্তরঙ্গ দৃশ্যের চাপ
    নওহিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এখন অনেক ক্ষেত্রেই অভিনয়ের চুক্তি মানেই ধরে নেওয়া হয়—অভিনেত্রীকে চুম্বন বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে স্বচ্ছন্দ থাকতে হবে। তাঁর মতে, এই দৃশ্যগুলো অনেক সময় গল্পের প্রয়োজন ছাড়াই জোর করে ঢোকানো হয়।
    নওহিদের কথায়, ‘এখন তো প্রায় অকারণেই চুম্বনের দৃশ্য ঢোকানো হয়। আমি এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। এমনকি না বলার আগেই অনেক কাজ থেকে বাদ পড়তে হয়েছে।’
    এ অবস্থান তাঁর ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছে বলেও জানান নওহিদ।

    নওহিদ সাইরুসি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    নওহিদ সাইরুসি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    পারিশ্রমিক নিয়েও অভিযোগ
    শুধু অভিনয়ের শর্তই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, অনেক প্রযোজক চুক্তি অনুযায়ী পুরো পারিশ্রমিক পরিশোধ করেন না।

    নওহিদের ভাষায়, ‘শুটিং শেষ হওয়ার পর প্রায় ২৫ শতাংশ টাকা আটকে রাখা হয়, যা অনেক সময় আর পাওয়া যায় না। নানা অজুহাতে সেই অর্থ আটকে রাখা হয়, যেমন সিনেমা ভালো ব্যবসা করেনি ইত্যাদি।’
    নওহিদ সাইরুসি বলেন, ‘আমি আমার কাজ করেছি, কিন্তু টাকা না পেলে কার কাছে বিচার চাইব?’

    ‘ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের দুনিয়া’ থেকে দূরে
    নওহিদ আরও জানান, তিনি কখনোই ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত ‘ইনার সার্কেল’-এর অংশ ছিলেন না। প্রযোজক-অভিনেতাদের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে মেলামেশা না করায় অনেক সময় ভালো সুযোগ পাননি। ফলে তাঁকে প্রায়ই ছোটখাটো চরিত্র—কারও বোন, কারও ভাবি—এই ধরনের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখা হতো, যা করতে তিনি আগ্রহী ছিলেন না।

    ইনস্টাগ্রামেই নতুন ঠিকানা
    অভিনয়ের বাইরে এসে নওহিদ খুঁজে পেয়েছেন নতুন এক পরিচয়—সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ইনস্টাগ্রামে তাঁর জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেড়েছে, আর সেটাকেই তিনি নিজের ‘আসল জায়গা’ বলে মনে করছেন।

    নওহিদের কথায়, ‘আমি বুঝেছি, ইনস্টাগ্রামই আমার জন্য ঠিক জায়গা। এখানে আমি নিজেকে নিজের মতো করে প্রকাশ করতে পারি।’

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • চেক প্রজাতন্ত্রকে ২–১ গোলে হারাল দক্ষিণ কোরিয়া

    গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ‘এ’ গ্রুপের দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচ বিরতির পর যেন হয়ে উঠল রণক্ষেত্র। একের পর এক আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণের ম্যাচে হচ্ছিল না শুধু কাঙ্ক্ষিত সেই গোল।

    শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়াই জিতল। ৫৯ মিনিটে ১–০ গোলে পিছিয়ে গিয়েছিল তারা। তবে ৬৭তম মিনিটে হোয়াং ইন–বম ও ৮০তম মিনিটে ওহ হিউয়ান–গিউের গোলে ২–১ চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

    জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার
    জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার, এএফপি

    এবার এগিয়েও গেল দক্ষিণ কোরিয়া

    প্রথমে গোল হজম করা দক্ষিণ কোরিয়া টানা দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে এগিয়ে গেছে। ৮০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ওহ হিউয়ান–গিউ।

  • চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ জয় ম্যানসিটির

    আঁতোয়ান সেমেনিয়োর জাদুকরী এক গোলে চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপের শিরোপা ঘরে তুলল ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার (১৬ মে) লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে ব্লুজদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ঘরোয়া কাপ ডাবল পূর্ণ করল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। গত মার্চে লিগ কাপ জয়ের পর এটি সিটির চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় ট্রফি।

    টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ডেডলক ভাঙেন ঘানার ফরোয়ার্ড সেমেনিয়ো। গত জানুয়ারিতে ম্যান সিটিতে যোগ দেওয়া এই তারকা ম্যাচের ৭২তম মিনিটে আর্লিং হালান্ডের ক্রস থেকে নিখুঁত ব্যাক-হিলে চেলসির গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে পরাস্ত করেন। গোলটি উদযাপনে ফেটে পড়ে পুরো ওয়েম্বলি। চেলসির হয়ে এনজো ফার্নান্দেজ, জোয়াও পেদ্রো এবং লিয়াম ডেলাপ বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। 

    ম্যানসিটিতে এটিই শেষ মৌসুম হতে যাচ্ছে অধিনায়ক বার্নার্ডো সিলভা ও ডিফেন্ডার জন স্টোনসের। প্রিন্স উইলিয়ামের হাত থেকে ট্রফি নেওয়ার পর এই দুই তারকা একসঙ্গেই তা উঁচিয়ে ধরেন। এই জয়কে অত্যন্ত স্পেশাল বলে উল্লেখ করেন এবং প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে বলে জানান বিদায়ী অধিনায়ক সিলভা। লিগ টেবিলে আর্সেনালের চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা সিটি আগামী মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে বোর্নমাউথের। 

    এদিকে, চেলসির জন্য এটি ছিল টানা সপ্তম ঘরোয়া কাপ ফাইনালের পরাজয়। ব্লুজদের আমেরিকান মালিকপক্ষ ‘ব্লুকো’ যখন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফার্লেনের জায়গায় নতুন ফুল-টাইম ম্যানেজার খুঁজছে, ঠিক তখন এই হার তাদের আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলার আশাকে আরও ক্ষীণ করে দিল।

    অন্যদিকে, ১০ বছরে সিটিকে অষ্টম এফএ কাপ এনে দিয়ে পেপ গার্দিওলা হয়তো ক্লাব ছাড়ার সেরা মঞ্চটি তৈরি করে নিলেন, আর চেলসিকে ডুবালেন আরেক মৌসুমের হতাশায়।

     

  • চেলসিতে জাইমা রহমানের সুযোগ পাওয়া নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলেন আমিনুল হক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের ফুটবল প্যাশন এবং চেলসির বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আলোচনা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দেওয়া বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে উল্লেখ করেছেন তিনি।

    আমিনুল হক জানান, জাইমা রহমান লন্ডনে স্কুল পর্যায়ে থাকাকালীন ফুটবল খেলতেন। সেই সূত্র ধরেই চেলসির বয়সভিত্তিক দলে গোলরক্ষক হিসেবে তার খেলার সুযোগ এসেছিল। দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক বলেন, জাইমা রহমানের স্কুলে গোলকিপিং করার কথা তিনি খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেই শুনেছিলেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, স্কুলে থাকাকালীন চেলসির বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ এলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মেয়েকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে বলেছিলেন।

    নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাইমা রহমান যখন মিরপুরে ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়েছিলেন, তখন গোলকিপিং নিয়ে তাদের মধ্যে স্মৃতিচারণমূলক কথা হয়।

    সেদিনের স্মৃতি টেনে আমিনুল হক বলেন, জাইমা রহমান তাকে বলেছিলেন, ‘আঙ্কেল, আমি কিন্তু স্কুলে আপনার মতো গোলরক্ষক ছিলাম।’ মূলত জাইমা স্কুল পর্যায়ে কিপিং করতেন এবং লম্বা হওয়ায় এই পজিশনে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল।

    তিনি বলেন, ইউরোপে স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার অংশ। জাইমা রহমানেরও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ছিল, তবে পরিবারের ইচ্ছায় তিনি শেষ পর্যন্ত শিক্ষাজীবনকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্যটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।

     

  • চোখের সামনেই মায়ের হাতে বাবা খুন, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেত্রী

    অস্কারজয়ী হলিউড তারকা শার্লিজ থেরন সম্প্রতি তাঁর জীবনের এক গভীর ও মর্মান্তিক অধ্যায় নিয়ে নতুন করে মুখ খুলেছেন। একটি ঘটনা, যা তাঁর কৈশোরকে বদলে দিয়েছিল চিরতরে। তবে বিস্ময়করভাবে সেই ভয়াবহ স্মৃতির মধ্যেও তিনি আজ নিজেকে ‘আতঙ্কিত’ মনে করেন না; বরং তিনি বিশ্বাস করেন, এ ধরনের গল্প বলা জরুরি, যাতে অন্যরা নিজেদের একা মনে না করে।

    ১৯৯১ সাল, তখন থেরনের বয়স মাত্র ১৫। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁদের বাড়িতে এক রাতে ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। তাঁর বাবা চার্লস থেরন মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে এসে চরম উত্তেজিত ও সহিংস আচরণ করতে থাকেন। পারিবারিক অশান্তি তাঁর জীবনে নতুন ছিল না, কিন্তু সেদিনের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন—অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক।
    থেরন স্মৃতিচারণা করে বলেন, সেই রাতে আগেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। বাবার আচরণ, গাড়ি চালানোর ভঙ্গি—সবকিছুতেই ছিল একধরনের অস্থিরতা ও হুমকির ইঙ্গিত। তিনি নিজের ঘরে আলো নিভিয়ে ভয়ে অপেক্ষা করছিলেন।একপর্যায়ে তাঁর বাবা অস্ত্র হাতে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি দরজায় গুলি চালান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন সহিংস বাস্তবতারই প্রতিফলন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে প্রাণনাশের আশঙ্কাও তৈরি হয়।

    শার্লিজ থেরন। রয়টার্স
    শার্লিজ থেরন। রয়টার্স

    এই অবস্থায় থেরন ও তাঁর মা গেরদা মরিৎজ আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র হাতে নেন। তিনি মেয়েকে নিয়ে একটি ঘরে আশ্রয় নেন এবং দরজা ধরে রাখেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার জন্য তিনি গুলি চালান—যাতে চার্লস থেরন নিহত হন।

    এ ঘটনার ভয়াবহতা সত্ত্বেও শার্লিজ থেরন বলেন, তিনি এটিকে এমনভাবে দেখেন না যে এটি তাঁকে সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে; বরং তিনি মনে করেন, এটি এমন একটি বাস্তবতা, যা অনেক পরিবারেই ঘটে, কিন্তু খুব কমই প্রকাশ্যে আসে।

    থেরনের ভাষায়, ‘এ ধরনের ঘটনা নিয়ে কথা বলা উচিত। কারণ, এতে অন্যরা বুঝতে পারে যে তারা একা নয়।’ তিনি মনে করেন, পারিবারিক সহিংসতা একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যা প্রায়ই গুরুত্ব পায় না—বিশেষ করে নারীদের অভিজ্ঞতা অনেক সময় উপেক্ষিত হয়।

    এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই থেরনকে পরবর্তী সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করেছে। জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে কাজ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হয়ে তিনি এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

    পিপলডটকম অবলম্বনে

  • চ্যাটজিপিটি থেকে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা বা সংরক্ষণের উপায়

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা অজান্তেই বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে ফেলেন। ই–মেইল ঠিকানা, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত অভ্যাস এ ধরনের নানা তথ্য কথোপকথনের মধ্যেই চলে যেতে পারে। তবে প্রয়োজনে এসব তথ্য মুছে ফেলা, নিজের তথ্যের কপি ডাউনলোড করা কিংবা পুরো অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে অপসারণের সুযোগ রেখেছে ওপেনএআই। এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে একটি আলাদা প্রাইভেসি পোর্টাল।

    প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণসুবিধা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য অপসারণের অনুরোধ না করা হলে ওপেনএআই ব্যবহারকারীর কিছু ব্যক্তিগত তথ্য ও কথোপকথনের ইতিহাস সংরক্ষণ করতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহারকারী আলাদাভাবে নিষ্ক্রিয় না করলে তাদের দেওয়া নির্দেশনা বা ‘প্রম্পট’ ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রশিক্ষণের কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে।

    দেখে নেওয়া যাক চ্যাটজিপিটি থেকে কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা করা যায়।

    প্রাইভেসি পোর্টাল থেকে তথ্য মুছে ফেলা

    ওপেনএআইয়ের প্রাইভেসি পোর্টাল (প্রাইভেসি.ওপেনএআই.কম) ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনার একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকে ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা, নিজস্ব জিপিটি (কাস্টম জিপিটি) অপসারণ করা কিংবা নিজের কনটেন্টকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানাতে পারেন। এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মটিতে নিজের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংরক্ষিত আছে, সেটিও জানা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগত তথ্যের একটি কপি ডাউনলোডের অনুরোধ করতে পারেন। সাধারণত এতে অ্যাকাউন্ট–সংক্রান্ত তথ্য, কথোপকথনের ইতিহাস এবং আপলোড করা ফাইলের তথ্য থাকে। প্রাইভেসি পোর্টাল ব্যবহারের জন্য প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘মেক আ প্রাইভেসি রিকোয়েস্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হয়। কম্পিউটার থেকে ব্যবহার করলে অপশনটি পেজের ডান পাশে ওপরে থাকে; আর মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত পেজের নিচের দিকে দেখা যায়। এরপর ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা হয়। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সরকারি পরিচয়পত্র অথবা বহুমাত্রিক যাচাইকরণ–পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। পরবর্তী ধাপে কয়েকটি বিকল্পের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি নির্বাচন করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে নিজের তথ্য ডাউনলোড করা, নিজের কনটেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার না করার অনুরোধ, চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা, নিজস্ব জিপিটি অপসারণ কিংবা চ্যাটজিপিটির উত্তরে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে নেওয়ার আবেদন। প্রয়োজনীয় অপশন নির্বাচন করার পর বসবাসের দেশ উল্লেখ করে ‘সাবমিট রিকোয়েস্ট’ বাটনে ক্লিক করলেই অনুরোধটি জমা দেওয়া যায়।

    ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় করণীয়

    অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি মুছে না ফেলেও কিছু সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের গোপনীয়তা আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। চ্যাটজিপিটির সেটিংসে গিয়ে ডেটা কন্ট্রোল এ যেতে হবে। এরপর সেখানে থাকা ‘ইমপ্রুভ দ্য মডেল ফর এভরিওয়ান’ অপশনটি বন্ধ করলে ব্যবহারকারীর কথোপকথন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হবে না। একইভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ–সংক্রান্ত মেমোরি–সুবিধাটিও প্রয়োজনে বন্ধ রাখা যায়। মেমোরি অপশনটি সেটিংসের অ্যাপ অপশনে পাওয়া যাবে। সংবেদনশীল আলোচনার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা টেম্পোরারি চ্যাট–সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। টেম্পোরারি চ্যাট চালু করতে নতুন চ্যাটে গিয়ে ওপরে ডান দিকে থাকা টেম্পোরারি আইকনে ক্লিক করতে হবে। এই সুবিধায় করা কথোপকথন সাধারণত স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় না এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজেও ব্যবহার করা হয় না। তবে কিছু তথ্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে। এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে আগের চ্যাটগুলো আলাদাভাবে মুছে ফেলতে পারেন। এ জন্য চ্যাট তালিকায় গিয়ে কম্পিউটার থেকে চ্যাটটির ডান পাশে পাশে থাকা তিনটি আইকন এবং স্মার্টফোন থেকে চ্যাটটি প্রেস করে ধরে রেখে ট্র্যাশ আইকনে ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট চ্যাট মুছে যায়। সাধারণত এ ধরনের তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে সিস্টেম থেকে সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়।

    সূত্র: বিজিআর ডটকম

  • চ্যাম্পিয়নস লিগ আর্সেনালের প্রথম নাকি পিএসজির টানা দুই

    ঢাকা

  • চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতলেই ইউরোপীয় পরাশক্তির কাতারে আর্সেনাল

    ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সফল ক্লাব আর্সেনাল। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের আসরে এখনও পুরোপুরি ‘মহাশক্তি’ হয়ে উঠতে পারেনি তারা। কারণ, ক্লাবটির ঝুলিতে এখনও নেই কোনো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মর্যাদার এই পুরস্কারটি ছাড়া কোনো ক্লাবই ইউরোপীয় ফুটবলের এলিট কাতারে জায়গা করে নিতে পারে না।

    আগামীকাল শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় সময় রাত ১০টায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর বিপক্ষে মাঠে নামবে গানাররা।  

    ম্যাচটি শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং এটি আর্সেনালের ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ। কোচ মিকেল আর্তেতার দল জিততে পারলে সেটিই হবে ক্লাবটির প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

    আর্সেনালের ইতিহাসে দেশীয় সাফল্যের অভাব নেই। ১৯৭১ সালের ডাবল জয়, ২০০৪ সালে টানা ৪৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ‘ইনভিনসিবলস’ খেতাব এসব মুহূর্ত ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। কিন্তু ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান, লিভারপুল, বার্সেলোনা  কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের  পাশে আর্সেনালকে বসাতে গেলে বড় ঘাটতি হয়ে দাঁড়ায় ইউরোপিয়ান কাপের অনুপস্থিতি। 

    বিশ্লেষকদের মতে, ঘরোয়া সাফল্য যত বড়ই হোক, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ছাড়া বৈশ্বিক মর্যাদা পূর্ণতা পায় না। যেমন এসি মিলান কিংবা আয়াক্স এখন আগের মতো প্রভাবশালী না হলেও, ইউরোপিয়ান সাফল্যের কারণে আজও তাদের আলাদা মর্যাদা রয়েছে।

    গত বছর, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর পিএসজির অবস্থানও বদলে গেছে। আগে শুধুমাত্র ফরাসি লিগে আধিপত্যের জন্য সমালোচিত হলেও, এখন কোচ লুইস এনরিকের দলকে ইউরোপের অন্যতম সেরা দল হিসেবে দেখা হয়।

    গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে  পিএসজি'র বিপক্ষে আর্সেনালের একটি আক্রমণ

    ফাইনালে পিএসজি ফেভারিট হলেও আর্সেনালকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। চলতি মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় এখনো অপরাজিত আর্তেতার দল। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও সেট-পিস থেকে গোল করার দক্ষতা তাদের বড় শক্তি।

    বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচে আর্সেনাল যদি প্রথম গোল করতে পারে, তাহলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম গোল করা প্রতিটি ম্যাচেই জিতেছে গানাররা।

    ফুটবলবিশ্বে ভালোবাসা পাওয়ার চেয়ে সম্মান অর্জনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই মনে করেন অনেকে। আর সেই সম্মানকে স্থায়ী রূপ দিতে আর্সেনালের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়।

    (সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ) 

  • চড় খেয়ে সেট থেকে বের হওয়া সেই তারকা আজ ৪০০ কোটি টাকার মালিক

    টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই হালকা মেজাজ, রসিকতা আর অনায়াস বিনোদন। ‘মানুষ হাসানো’ পেশা বানিয়ে যিনি গড়ে তুলেছেন নিজের আলাদা সাম্রাজ্য, তিনি কপিল শর্মা। অথচ এই জায়গায় পৌঁছানোর পথটা একেবারেই সহজ ছিল  না। মাত্র ৫০০ টাকা আয় দিয়ে শুরু করা এই কমেডিয়ান এখন প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। উপার্জনের দিক থেকেও তিনি ভারতীয় ছোট পর্দার সবচেয়ে এগিয়ে থাকা তারকাদের একজন। আজ তাঁর জন্মদিন।

    ১৯৮১ সালের ২ এপ্রিল ভারতের অমৃতসরে জন্ম কপিল শর্মার। বাবা ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল, মা গৃহিণী। সীমিত আয়ের সংসারে বড় হওয়া কপিল ছোটবেলা থেকেই গান, অভিনয় আর মঞ্চের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁর এই আগ্রহকে নিরুৎসাহিত করা হয়নি, বরং উৎসাহই পেয়েছেন বেশি।

    ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে একটি অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। ২০০১ সালে ‘গদর: এক প্রেম কথা’ ছবির শুটিং অমৃতসরে হলে সেটে গিয়ে ছোট একটি দৃশ্যে অভিনয়ের সুযোগ পান। কিন্তু শুটিংয়ের সময় নির্দেশনা ঠিকভাবে অনুসরণ করতে না পারায় অ্যাকশন পরিচালক তিনু বর্মার বকুনি তো খেয়েছিলেনই, এমনকি চড় দিয়ে সেট থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁকে। ঘটনাটি কপিল পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করে বলেছেন, সেটাই তাঁকে নিজের দক্ষতা প্রমাণের জন্য আরও দৃঢ় করে তোলে।

    ব্যর্থতাই তাঁকে শক্তি দিয়েছিল। তিনি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফার চ্যালেঞ্জে’ দিল্লি থেকে অংশ নেন। জয়ী হয়ে ফেরেন কপিল শর্মা
    ব্যর্থতাই তাঁকে শক্তি দিয়েছিল। তিনি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফার চ্যালেঞ্জে’ দিল্লি থেকে অংশ নেন। জয়ী হয়ে ফেরেন কপিল শর্মা, ফেসবুক থেকে
     

    প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে টেলিভিশনের শীর্ষে
    ২০০৭ সালে তাঁর জীবনের বড় বাঁক আসে। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তিনি। পুরস্কার হিসেবে পান ১০ লাখ টাকা, যা তাঁর জীবনের প্রথম বড় সাফল্য। এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান কপিল। এরপর ‘কমেডি সার্কাস’-এর একাধিক আসরে অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন দক্ষ কমেডিয়ান হিসেবে। তাঁর তাৎক্ষণিক সংলাপ বলার ক্ষমতা, সাধারণ বিষয়কে হাস্যরসে রূপ দেওয়ার দক্ষতা তাঁকে দ্রুত দর্শকের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।

    স্ত্রী গিনি ছত্রাতের সঙ্গে কপিল শর্মা
    স্ত্রী গিনি ছত্রাতের সঙ্গে কপিল শর্মা

    বিতর্ক, বিরতি ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
    তবে সাফল্যের ধারাবাহিকতা সব সময় একই রকম থাকে না। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে এসে কপিল শর্মাকে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। সহশিল্পী সুনীল গ্রোভার ও আলী আসগরের সঙ্গে বিরোধ, শোর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে সমালোচনা—সব মিলিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুটিং সেটে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে আসে, যা তাঁর মানসিক চাপের ইঙ্গিত দেয়। একসময় এমন অবস্থাও তৈরি হয়, যখন তাঁর অনুষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

    এই কঠিন সময় থেকেই আবার ঘুরে দাঁড়ান কপিল। কিছু সময় বিরতি নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে ফেরেন তিনি। নতুনভাবে শুরু হওয়া ‘দ্য কপিল শর্মা শো’ আবারও দর্শকদের মন জয় করে নেয়। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও পরিণতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি।

    টেলিভিশনের বাইরে বড় পর্দায়ও কাজ করেছেন কপিল শর্মা। ২০১৫ সালে ‘কিস কিস কো প্যার করু’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘ফিরঙ্গি’, ‘জুইগ্যাটো’ এবং সাম্প্রতিক ‘ক্রু’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন—‘দ্য অ্যাংরি বার্ডস মুভি টু’ ছবিতে একটি চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

    ‘দ্য কপিল শর্মা শো’তে কপিল শর্মা
    ‘দ্য কপিল শর্মা শো’তে কপিল শর্মা, ভিডিও থেকে
     

    অর্থনৈতিক সাফল্যের দিক থেকেও কপিল শর্মা এখন শীর্ষে। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। মুম্বাইয়ের অন্ধেরিতে রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি দেশের শীর্ষ তারকাদের মধ্যে অন্যতম, প্রায় ৩০ কোটি টাকা কর দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
    টেলিভিশনের পর্দায় হাসির মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে নিজের অবস্থান পোক্ত করা কপিল শর্মা এখনো বিনোদন অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। জন্মদিন উপলক্ষে আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ভক্তরা তাঁর জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোর স্মরণীয় মুহূর্ত, পুরোনো ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সহশিল্পী ও তারকারাও বিভিন্ন পোস্টে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানাচ্ছেন।

  • ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়ে হাসপাতালে মিরাজ

    রাইলি মেরেডিথকে ছক্কা মারলেন মেহেদী হাসান মিরাজ—বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ম্যাচটা জিতল তখনই, নিশ্চিত হলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জেতাও। অনেকেই স্বস্তিও তাতে পেলেন, মিরাজ তাহলে সুস্থই আছেন!

    ম্যাচ জেতানো ওই ছক্কার আগের ওভারেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মেহেদী হাসান। নাথান এলিসের বল হেলমেটে লাগার পর মাঠেই শুয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে বমি করতেও দেখা যায় তখন। মাঠে আনা হয় স্ট্রেচার, তৈরি করা হয় অ্যাম্বুলেন্স।

    তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি সুস্থ হয়ে উঠে দাঁড়ান। বাকি সময়টা ব্যাটিং করে দলকে ম্যাচও জেতান। তবে ম্যাচশেষেই তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজীদুল ইসলাম।

    বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচে মিরাজের একটা কনকাশনের মতো হয়েছিল। আমরা সেখানে অ্যাসেস করার পর সে খেলা চালিয়ে যায়। ম্যাচের পর আমরা ওকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়েছি পর্যবেক্ষণ ও স্ক্যানগুলো করার জন্য। ও এখন ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকবে।’

    ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়েছেন মিরাজ
    ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়েছেন মিরাজ
     

    ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে তাসকিন অবশ্য জানিয়েছিলেন, তাঁকে ভালোই দেখেছেন। মিরাজকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করার মতো তেমন কিছু নেই বলেও বিশ্বাস ছিল তাঁর।

    তিনি বলেন, ‘মাথায় লাগার পরও চিন্তা করেছে ও যদি ওই সময়ে এসে পড়ত, নতুন একটা ব্যাটসম্যান গিয়ে আরও চাপে ভুল করতে পারত; কিন্তু হৃদয় আর মিরাজ শেষের দিকে ভালো ফিনিশ করছে।’

  • ছক্কা, সেঞ্চুরি আর ৯৮৬ রান—আইপিএলে রেকর্ড ভাঙার দিন

    এমন দিন কি আইপিএলে আগে এসেছে কখনো?

    না। আসেনি। শনিবার আইপিএলের ২ ম্যাচে ৭৭.২ ওভারে উঠেছে ৯৮৬ রান। দিল্লিতে দিল্লি–পাঞ্জাব ম্যাচে ৫২৯, জয়পুরে রাজস্থান–হায়দরাবাদ ম্যাচে ৪৫৭। আইপিএলের ইতিহাসে এক দিনে এত রান কখনোই ওঠেনি। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ৮৯৯ রান, ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিলের দুই ম্যাচে।

    গতকালের দুই ম্যাচে ছক্কা হয়েছে ৫৯টি। এটিও আইপিএলের এক দিনে সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ ৫৩টি, যা দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের ৪ মে ও ২৫ মে।

    এখানেই শেষ নয়!

    জয়পুরে হায়দরাবাদ পেসার প্রফুল হিঞ্জের করা ইনিংসের প্রথম ওভারে ৪টি ছক্কা মেরেছেন রাজস্থানের ১৫ বছর বয়সী ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। প্রথম ওভারে ৪ ছক্কা এর আগে আইপিএলে কখনোই হয়নি। হায়দরাবাদ রান তাড়াতে আবার মেরেছে প্রথম ওভারে ২ ছক্কা। মানে এক ম্যাচের প্রথম ওভারে ছক্কা হয়েছে ৬টি, স্বীকৃত টি-টুয়েন্টিতেই এমন কিছু এই প্রথম।

    তবে বোলারদের ওপর ‘সুনামি’ কত তীব্র গতিতে আঘাত হেনেছে, তা বুঝতে নজর দিতে হবে আরও কিছু পরিসংখ্যানে।

    ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছেন রাহুল, আইপিএলে তাঁর দ্রুততম
    ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছেন রাহুল, আইপিএলে তাঁর দ্রুততম, বিসিসিআই
     

    এই ধরুন দিল্লির ওপেনার লোকেশ রাহুলের কথা। দিল্লি ক্যাপিটালসের এই ব্যাটসম্যান পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলেছেন ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের ইনিংস। আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ, সব মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

    এমনকি টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয়দের মধ্যে এর চেয়ে বড় ইনিংস আর কারও নেই। ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করা রাহুল যে ম্যাচসেরা হবেন, সেটা তো জানা কথাই। তবু ম্যাচ শেষে তাঁর মুখে ছিল না জয়ের হাসি।

    রাহুলের মতো খারাপ লাগার কথা সূর্যবংশীরও! কী না করেছেন রাতের ম্যাচে!হায়দরাবাদের বিপক্ষে আগের ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। যে বোলারের বলে ‘ডাক’ মেরেছিলেন, কাল সেই প্রফুল হিঞ্জকে প্রথম ওভারেই মেরেছেন চারটি ছক্কা।

    ছক্কা না চার? কী হলাে এই শটে
    ছক্কা না চার? কী হলাে এই শটে, এএফপি
     

    ১৫ বলে ফিফটি। ৩৬ বলে সেঞ্চুরি। সেই সঙ্গে টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম (৪৭৩ বলে) ১০০০ রানের রেকর্ড। সবচেয়ে কম বয়সে ১০০০ রানের মালিক। এ ছাড়া মাত্র ১৫টি আইপিএল ইনিংসেই দুই সেঞ্চুরি।

    সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ২৬ ইনিংসে ৪টি সেঞ্চুরি—দুটিই দ্রুততার রেকর্ড। গত বছর ৩৫ বলে সেঞ্চুরির পর এবার ৩৬ বলে—একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলে ৪০ বলের কমে দুটি সেঞ্চুরিও।

    এত সব রেকর্ড গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হেরেছেন সূর্যবংশী। রাজস্থানের দেওয়া ২২৯ রানের লক্ষ্য হায়দরাবাদ ছুঁয়ে ফেলেছে ৯ বল বাকি থাকতেই।

    নাহ! শনিবারের আইপিএলে বোলারদের ওপর যেন নেমে এসেছিল ‘শনির’ দুর্ভাগ্য।

  • ছেলে জিবরানকে ড্রাম শেখাচ্ছেন জেমস, ভিডিও ভাইরাল

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে নগরবাউল জেমসের একটি ভিডিও। প্র্যাকটিস প্যাডে ধারণ করা ওই ভিডিওতে ছোট্ট পুত্র সন্তান জিবরান আনামকে ড্রামসের খুঁটিনাটি দেখাচ্ছিলেন জেমস। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

    জেমস এর কোলে পুত্র জিবরান আনাম
    জেমস এর কোলে পুত্র জিবরান আনাম,ছবি: জেমস এর সৌজন্যে
     

    ভিডিওতে দেখা যায়, জেমস ছেলেকে ড্রাম স্টিক ধরা শেখাচ্ছেন। স্টিক দিয়ে ড্রাম বাজানোর টেকনিকও দেখিয়েছেন তিনি।

    ছোট্ট জিবরানও আগ্রহ নিয়ে সেগুলো অনুসরণ করেছে এবং ড্রামসকে যেন খেলনার মতোই উপভোগ করছে। রকস্টারের ছেলের খেলনা তো ড্রামস–গিটারই হবে!
    ভিডিওটি দেখে নেটিজেনরা বলছেন, ‘এ তো রক্তের সাথে রক্তের টান’, কেউ লিখেছেন, ‘রকের উত্তরাধিকার যেন আগেই তৈরি হয়ে গেছে।’ কেউ কেউ লিখেছেন, ‘রকস্টারের ছেলে, খেলনার মতোই দেখছে ড্রামসকে।’

    নামিয়া আমিন ও জেমস
    নামিয়া আমিন ও জেমস, শিল্পীর সৌজন্যে
     

    গত বছরের ২২ অক্টোবর প্রথম আলোর মাধ্যমে বিয়ে ও বাবা হওয়ার খবর দেন জেমস। বাবা হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘বাবা হওয়ার অনুভূতি অসাধারণ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে সুস্থ সন্তান দান করেছেন।’

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিনকে বিয়ে করেন জেমস। বিয়ের পর নামের সঙ্গে আনাম নাম যুক্ত করেছেন নামিয়া। ২০২৫ সালের ৮ জুন নিউইয়র্কের হান্টিংটন হাসপাতালে জেমস-নামিয়া দম্পতির কোলজুড়ে আসে পুত্রসন্তান জিবরান আনাম।

    ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে দেখা হয় নামিয়ার সঙ্গে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি অনুষ্ঠানে দুজনের পরিচয় হয়, আর এই পরিচয় থেকে প্রণয় ও বিয়ে। তবে এটি কোনো কনসার্ট ছিল না, এমনকি জেমস সম্পর্কে আগে থেকে তেমন কিছু জানতেনও না নামিয়া!

    পরিচয়ের এক বছর পর ২০২৪ সালের ১২ জুন পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ঢাকায় তাঁদের বিয়ে হয়।

  • ছেলে–মেয়েদের ফাইনালে প্রাথমিক চার স্কুলই ঢাকার বাইরের

    ২০ জুন ঢাকায় বালক ও বালিকা বিভাগের ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। 

    ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা সদরের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে ফুটবলারদের জন্য এবারের যাত্রা যেন স্বপ্নপূরণের গল্প। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বাধা পেরিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে।

    ২০ জুন ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক ও বালিকা) ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই নির্ধারিত হবে দেশের সেরা দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল দল। ফাইনাল খেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    শুধু ত্রিশালের ছেলেদের ওই দলই নয়, দেশের বালক ও বালিকা—দুই বিভাগে ফাইনালে ওঠা চারটি বিদ্যালয়ের সব কটিই ঢাকার বাইরের।

    দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩৭৬ জন এবং শিক্ষক ১১ জন। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, আগে তাঁদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খেলেছে। এবার ফাইনালে খেলবে, এটা তাঁদের জন্য আনন্দের ও গর্বের।

    শুধু ত্রিশালের ছেলেদের ওই দলই নয়, দেশের বালক ও বালিকা—দুই বিভাগে ফাইনালে ওঠা চারটি বিদ্যালয়ের সব কটিই ঢাকার বাইরের।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুন অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে বালিকা বিভাগের এক ম্যাচে ঢাকার ধামরাইয়ের নিকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্য সেমিফাইনালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার খিরাইকান্দি ইমাম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

    ফলে বালিকা বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই হবে আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে। 

    অন্যদিকে বালক বিভাগের একটি সেমিফাইনালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার লংলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্য সেমিফাইনালে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে ফাইনাল নিশ্চিত করে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    অর্থাৎ বালক বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

    ৪ জুন জাতীয় পর্যায়ের খেলা শুরু হয়, যেখানে দেশের আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন আটটি বালক ও আটটি বালিকা দল অংশ নেয়। 

    ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ

    দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাকে  উৎসাহিত করতে প্রাথমিকে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী ও ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন।

    এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাফ নারী চ্যাম্পিয়ানশিপের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ফুটবল দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়েরও পথচলা হয়েছিল এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। তাই বিজয়ী খেলোয়াড়েরা পরবর্তী স্তরে যেন ঝরে না পড়ে, সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

    এ বছরের ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে টুর্নামেন্ট শুরু হয়। দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি দলের ১১ লাখ ১০ হাজার ৮১৪ জন এবং বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দলের ১১ লাখ ৩ হাজার ২৯১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ দুই বিভাগ মিলিয়ে অংশ নেয় ২২ লাখের বেশি শিশু।

    ইউনিয়ন বা পৌরসভা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা বা থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে গত ২৩ মে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়। এরপর ৪ জুন জাতীয় পর্যায়ের খেলা শুরু হয়, যেখানে দেশের আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন আটটি বালক ও আটটি বালিকা দল অংশ নেয়। 

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি খেলা এক ঘণ্টার, মাঝে ১০ মিনিট বিরতি। প্রতিটি দলে ১৭ জন খেলোয়াড় থাকে।

    এক লাখের বেশি ম্যাচ

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এর মধ্যে ছাত্রী সাড়ে ৫২ লাখের বেশি এবং ছাত্র প্রায় ৪৭ লাখ।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি খেলা এক ঘণ্টার, মাঝে ১০ মিনিট বিরতি। প্রতিটি দলে ১৭ জন খেলোয়াড় থাকে।

    ইতিমধ্যে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বালিকা বিভাগে তৃতীয় হয়েছে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার খিরাইকান্দি ইমাম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালক বিভাগে তৃতীয় হয়েছে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় পাবে ১৫ হাজার টাকা, রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়েরা ১০ হাজার টাকা করে এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের খেলোয়াড়েরা পাবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে।

    বিজয়ীরা যা পাবে

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন দল পাবে তিন লাখ টাকা ও গোল্ডেন কাপ (রেপ্লিকা)। রানার্সআপ দল পাবে দুই লাখ টাকা ও সিলভার কাপ। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে এক লাখ টাকা ও ব্রোঞ্জ কাপ।

    এ ছাড়া সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতাদের জন্য বিশেষ পুরস্কার থাকবে। খেলোয়াড়দের জন্যও রয়েছে নগদ প্রণোদনা। চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় পাবে ১৫ হাজার টাকা, রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়েরা ১০ হাজার টাকা করে এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের খেলোয়াড়েরা পাবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে।

    আমরা এমনভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে চাই, যেখানে আগামীর তরুণ প্রজন্ম যেন সুদক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে এবং বাস্তব জীবনে আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা কিংবা অন্য চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করবে।প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা সনদভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্বারোপ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে চাই, যেখানে আগামীর তরুণ প্রজন্ম যেন সুদক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে এবং বাস্তব জীবনে আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা কিংবা অন্য চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করবে।’ 

    উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরও চান, শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই দেশপ্রেম, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, টিমওয়ার্ক, শৃঙ্খলা শিখে বড় হোক। এ লক্ষ্যে সারা বছরই শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তৃণমূল থেকে শুরু করে দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

  • ছয় গোল, হ্যাটট্রিক, দুই লাল কার্ড, ভাঙা পা ও কানাডার প্রথম জয়

    কানাডা ৬–০ কাতার

    ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে কানাডা ২৮তম। কাতার ৫৮তম। তার ওপর ম্যাচটি ছিল কানাডার ঘরের মাঠ ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে। খেলা শুরুর বাঁশি বাজার আগেই এ ম্যাচের ফল অনেকে আন্দাজ করে নিয়েছিলেন।

    সেই আন্দাজমতোই ঘুরেছে স্কোরবোর্ডে গোলের চাকা। কেউ কেউ রসিকতা করে বলতে পারেন, কানাডা বেশি গোল করে ফেলেছে! কাতার সমর্থকেরাও অনুযোগ করতে পারেন, দলের কাছ থেকে আরেকটু ভালো পারফরম্যান্সের আশা ছিল তাঁদের। তবে কেউ–ই হয়তো আশা করেননি, বিশ্বকাপের এ ম্যাচে কারও পা ভাঙবে!

    কিন্তু কানাডার ৬–০ গোলের বড় জয়ের পাশাপাশি ঘটেছে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও। ৫২ মিনিটে কানাডা মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের কাছ থেকে বল কাড়তে গিয়ে পেছন থেকে মারাত্মক ট্যাকল করেন কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো। পড়ে গিয়ে কাতরাতে থাকা কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে ঝুলতে দেখা যায়। মাঠেই কিছুক্ষণ তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন কোনেকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন কানাডা কোচ জেসে মার্চ।

    মারাত্মক এ ফাউল করে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন মাদিবো। ভিএআরের হস্তক্ষেপে পরে তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়। তবে মাদিবোকেও অনুশোচনায় ভুগতে দেখা যায় মাঠে। সতীর্থরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট বন্ধ ছিল খেলা। কাতার ততক্ষণে পরিণত হয় ৯ জনের দলে। স্কোরবোর্ডে পিছিয়ে ৩–০ গোলে। মধ্যপ্রাচ্যের দলটির ম্যাচে ফেরার আশা ততক্ষণে প্রায় শেষ।

    চোট পাওয়া কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নে্ওয়া হয়
    চোট পাওয়া কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নে্ওয়া হয়, এএফপি
     

    তারপর যেটা ঘটার সেটাই ঘটেছে। কাতারের দুজন খেলোয়াড় কম থাকার সুযোগে কানাডা আরও তিন গোল করেছে। কোনের বদলি নামা মিডফিল্ডার নাথান সালিবা ৬৪ মিনিটে ফ্রি–কিক থেকে গোল করে তাঁর সতীর্থের জার্সি উঁচিয়ে ধরেন স্বাগতিক দর্শকদের প্রতি। মাঠে তখন আবেগময় মুহূর্ত তৈরি হয়।

    ওই সময়টুকু ও কোনের চোট পাওয়ার মুহূর্ত বাদে পুরো ম্যাচেই কাতারের ওপর নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ চালায় কানাডা। যার শেষটা হয় ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোল এবং যোগ করা সময়ে কানাডার জোনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকসূচক গোলের মাধ্যমে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে স্বাগতিক দেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করলেন কানাডা ফরোয়ার্ড। সেটাও দীর্ঘ ৬০ বছর পর—সর্বশেষ ১৯৬৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড কিংবদন্তি জিওফ হার্স্ট।

    প্রথমার্ধে কানাডার তিন গোলের দুটি ডেভিডের, অন্যটি কাইল লারিনের। ১৬ মিনিটে লারিনের গোলের পর বেশ বোঝা যাচ্ছিল, এ ম্যাচে কানাডা বড় ব্যবধানে জিততে যাচ্ছে। প্রথমত, কাতারের রক্ষণকে সব সময় চাপে রেখে গোল আদায় করা। দ্বিতীয়ত, লারিন গোল করলে কানাডা কখনো হারেনি। ২৯ মিনিট ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুটি গোল করেন ডেভিড।

    হ্যাটট্রিক করেন কানাডার জোনাথন ডেভিড
    হ্যাটট্রিক করেন কানাডার জোনাথন ডেভিড, এএফপি
     

    কাতার ১০ জনের দলে পরিণত হয় ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর। ৩৩ মিনিটে কানাডা ফরোয়ার্ড তেজন বুকানানকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ।

    বিশ্বকাপে এটা প্রথম জয় কানাডার। বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসাল তারা। এর আগের তিনটি নজির—১৯৩৪ বিশ্বকাপে ইতালি ৭–১ যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৭–১ সুইডেন ও ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ৬–০ পেরু। ১৯৩৪ বিশ্বকাপে ইতালি ও ১৯৫৪ বিশ্বকাপে তুরস্কের পর বিশ্বকাপে ন্যূনতম ছয় গোলের ব্যবধানে প্রথম জয় পেল কানাডা।

    বিশ্বকাপে কাতার প্রথম দল, যারা একই ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করেছে এবং দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন। ‘বি’ গ্রুপে সুইজারল্যান্ডকে পেছনে ঠেলে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠল কানাডা। আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়া সুইজারল্যান্ড কানাডার সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে নেমে যায়।

  • ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত জুলাই-ডিসেম্বর শেষে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংকঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তার অর্ধেকের বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকঋণসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার রাতে সরকারের ব্যাংকঋণের সর্বশেষ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণও প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। এই খাত থেকে পুরো অর্থবছরে ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস সরকারের দায়িত্বে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে এই ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে নেওয়া ঋণের পুরোটাই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে। ওই সময় সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি মন্থর ছিল। ফলে উন্নয়নের চেয়ে ঋণের বড় অংশই খরচ হয়েছে সরকারের পরিচালন ব্যয় বাবদ।

    * সরকারের ব্যাংকঋণ আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়ে আট গুণ হয়েছে। * ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণ কমেছে সরকারের। * ব্যাংক ও আর্থিক খাত মিলিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার ব্যাংক থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তা আগের অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় প্রায় আট গুণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যা আট গুণ বেড়ে অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ আট গুণ বাড়লেও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আর্থিক খাত থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা কমেছে।

    অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ এখন মূলত ব্যাংকনির্ভর। একসময় সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিত। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। এ কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে খুব বেশি ঋণ নিতে পারছে না সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্রের বদলে উচ্চ সুদে বিভিন্ন ধরনের বিল-বন্ড বিক্রি করে ঋণ নিচ্ছে সরকার। ভালো সুদ পাওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ মানুষও সরকারি-বিল বন্ডে বিনিয়োগ করছেন।

    অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগে একধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। এ কারণে সরকারি ব্যাংকঋণ বাড়লেও তাতে বেসরকারি খাত খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। কিন্তু বিনিয়োগে গতি ফিরলে সরকারের ব্যাংকঋণ বেসরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করবে। কারণ, বেসরকারি খাত তখন চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকঋণ পাবে না।

    চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে মোট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত মিলিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

  • ছয় মাসে ১৫৬ কোটি টাকা মুনাফা রেনাটার

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় দেশীয় কোম্পানি রেনাটা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ১৩৭ কোটি টাকার বা সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি। কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে গতকাল রোববার কোম্পানিটি তাদের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।

    আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রেনাটা ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে সম্মিলিতভাবে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। কোম্পানিটির দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি রেনাটা (ইউকে) লিমিটেড, অন্যটি রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস (আয়ারল্যান্ড) লিমিটেড। রেনাটা (ইউকে) লিমিটেডের আওতায় যুক্তরাজ্যের বাজারে আর রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস (আয়ারল্যান্ড) লিমিটেডের আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে ওষুধ রপ্তানি করা হয়। আর মূল কোম্পানি রেনাটা দেশের বাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ বাজারজাত করা হয়।

    আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বাজার ও রপ্তানি বাজার মিলিয়ে রেনাটা ২ হাজার ২০৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। আর রেনাটা আয়ারল্যান্ড এই সময়ে ব্যবসা করেছে ১৯ কোটি টাকা। রেনাটা ইউকে ব্যবসা করেছে ১৬ লাখ টাকার। সব মিলিয়ে এই তিন কোম্পানি মিলিয়ে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করে। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ রেনাটার তিন কোম্পানি মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মুনাফা করেছে প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১২৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা ৩১ কোটি টাকা বা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

    আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানিটির ব্যবসা যতটা বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুনাফায়। যার বড় কারণ উৎপাদন ও সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ কমে যাওয়া। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে কোম্পানিটির পণ্য উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা, যা মোট ব্যবসার ৫৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ২০১ কোটি টাকা, যা মোট ব্যবসার ৫৮ শতাংশ। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির উৎপাদন খরচ ৩ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচও। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে কোম্পানিটির খরচ ছিল ৭৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৭৩ কোটি টাকায়। একদিকে ব্যবসা বেড়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন খাতে খরচ কমেছে। তাতে কোম্পানিটির মুনাফার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়।

    জানতে চাইলে রেনাটার কোম্পানি সচিব জোবায়ের আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানির সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ আগের অর্থবছরের চেয়ে সোয়া ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। এ ছাড়া উৎপাদন খরচসহ অন্যান্য কিছু খরচও কমেছে। যার ফলে ব্যবসার প্রবৃদ্ধির চেয়ে মুনাফা প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব